Home Blog Page 600

নুরপন্থী গণঅধিকার পরিষদের সাথে বিএনপির বৈঠক

সরকারের পদত্যাগ, সংসদ ভেঙে দেয়া, নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারসহ কয়েকটি দাবিতে যুগপৎ আন্দোলনের অংশ হিসেবে গণঅধিকার পরিষদের একাংশের (নুরুল হক নুর পন্থিদের) সাথে বৈঠক করেছে বিএনপি।

আজ মঙ্গলবার সকালে গুলশান বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠক শেষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সরকার বিরোধী আন্দোলনে নতুন ডাক দেয়া হবে। এর মাধ্যমে সমস্ত জাতিকে একসাথে করে যুগপৎ আন্দোলনকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে এগিয়ে নেয়া হবে। সেজন্য ১২ জুলাই যৌথ ঘোষণা দেয়া হবে। দলগুলো স্ব স্ব জায়গা থেকে এই ঘোষণা দেবেন। এর মাধ্যমে দাবি আদায়ে সফল হব।

তিনি বলেন, জনগণের সমর্থন নিয়ে বিএনপি এগিয়ে যাচ্ছে। বিএনপির সহিংসতার পথে হাঁটার প্রয়োজন নেই, জনগণ বিএনপির সাথে আছে। সরকার জনবিচ্ছিন্ন হয়ে নিজেরাই সহিংসতার পথে হাঁটছে।

গণঅধিকার পরিষদের সদ্য সভাপতি নুরুল হক নুর বলেন, আন্দোলনকে এগিয়ে নেয়া হবে। আমরাও কর্মসূচি ঘোষণা করব। আওয়ামী লীগ শান্তি সমাবেশের নামে সহিংসতায় উস্কানি দিচ্ছে।

বিরোধীদলের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির দিন পাল্টা কর্মসূচি থেকে সরে আসার আহ্বান জানান তিনি ।

এ সময় বিএনপির পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন দলটির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। এবং গণঅধিকার পরিষদের পক্ষ থেকে দলটির সভাপতি সাধারণ সম্পাদক মোঃ রাশেদ খাঁনসহ উচ্চতর পরিষদের সদস্যবৃন্দ।

যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতায় তৃতীয় বাংলাদেশী হাফেজ মুহান্নাদ

ফের বিদেশের মাটিতে দেশের নাম উজ্জ্বল করলো এক ক্ষুদে হাফেজ। যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতায় তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে সে।

স্থানীয় সময় গত রোববার (৯ জুলাই) সন্ধ্যায় মিনেসোটার এডিনা হাই স্কুল প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের পুরস্কৃত করা হয়। সেখানেই হিফজুল কুরআন বিভাগে ছেলেদের মধ্যে তৃতীয় স্থান অর্জনকারী হিসেবে পুরস্কার গ্রহণ করে ওই ক্ষুদে হাফেজ।

দেশের নাম উজ্জ্বলকারী ওই হাফেজের নাম মুহান্নাদ বিন মোহাম্মদ। তার বাবার নাম মোহাম্মাদুল্লাহ বিন হাফিজ। মুহান্নাদের বাড়ি নরসিংদীতে।

জানা গেছে, মিনেসোটাভিত্তিক কুরআন শিক্ষাকেন্দ্র তিবয়ান সেন্টার ফর কুরানিক সায়েন্স তিনব্যাপী আন্তর্জাতিক এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। প্রতিযোগিতা শেষে রোববারের অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কারের অর্থ ও সম্মাননা সনদ তুলে দেন মিনেসোটা ইসলামিক ইউনিভার্সিটির প্রধান শায়খ ড. ওয়ালিদ ইদরিস আল-মানিসি।

এ প্রতিযোগিতা দুইটি বিভাগে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে ৩০টি দেশ থেকে অন্তত ৪২ জন প্রতিযোগী অংশ নেয়। মুহান্নাদ বিন মোহাম্মদ এতে অংশ নিতে গত ৭ জুলাই বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে যাত্রা করে। মুহান্নাদের সফরসঙ্গী হিসেবে ছিলেন তার চাচা কারি নুর মোহাম্মদ বিন হুসাইন।

আন্তর্জাতিক এ প্রতিযোগিতায় পুর্ণ কুরআন হিফজ বিভাগে ছেলেদের মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করে ফ্রান্সের ওমর আফুফ। সে ১৫ হাজার ডলার পুরস্কার লাভ করেছে। দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে ৭ হাজার ডলার পুরস্কার পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সরওয়ার জামালুদ্দিন আর তৃতীয় স্থান অধিকার করে পাঁচ হাজার ডলার পুরস্কার পেয়েছে বাংলাদেশের মুহান্নাদ।

এর পাশাপাশি ১০ কিরাতে কুরআন হিফজ বিভাগে একমাত্র পুরস্কার লাভ করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিযোগী ঈদিন শাহারজাদ। সে পুরস্কার ২০ হাজার মার্কিন ডলার পেয়েছেন।

এদিকে, পুরো কুরআন হিফজ বিভাগে মেয়েদের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করে কেনিয়ার মুনা ইদি ফারেহ। সে ১৫ হাজার ডলার পুরস্কার লাভ করেছে। দ্বিতীয় স্থান করে সাত হাজার ডলার পুরস্কার পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নুরা আহমদ। তৃতীয় স্থান অধিকার করে পাঁচ হাজার ডলার জিতেছে মিসরের নাদা মোহাম্মদ ফাতহি।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটায় তরুণ মুসলিমদের মধ্যে কুরআনভিত্তিক শিক্ষা-কার্যক্রম প্রসারে কাজ করছে তিবয়ান সেন্টার ফর কুরানিক সায়েন্স। শায়খ কারি আবদুর নাসের ফারেহ প্রতিষ্ঠিত এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে ২০২২ সালে প্রথম আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতা শুরু হয়। গত বছর ল্যানহামে অনুষ্ঠিত এ প্রতিযোগিতায় ১৮টি দেশের প্রতিযোগীরা অংশ নেয়।

ক্ষমতায় যে দলই থাকুক রাষ্ট্রকে এগিয়ে নিতে হবে : প্রধান বিচারপতি

রাষ্ট্র ও বিচার বিভাগের ক্ষতি হয় এমন সংবাদ পরিবেশন থেকে সাংবাদিকদের বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী। তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্র আমাদের সবার। ক্ষমতায় যে দলই থাকুক সবাই মিলে রাষ্ট্রপক্ষে এগিয়ে নিতে হবে। সাংবাদিকদের এক্ষেত্রে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।’

মঙ্গলবার (১১ জুলাই) দুপুরে প্রধান বিচারপতির সাথে ল’ রিপোর্টার্স ফোরামের নবনির্বাচিত কমিটি সৌজন্য সাক্ষাত করতে গেলে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধান বিচারপতি ল’ রিপোর্টার্স ফোরামের নেতৃবৃন্দের বক্তব্য মনোযোগ সহকারে শোনেন এবং সাংবাদিকদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন।

এ সময় ল’ রিপোর্টার্স ফোরামের নবনির্বাচিত সভাপতি শামীমা আক্তার, সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান, সহ-সভাপতি প্রশান্ত কুমার কর্মকার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরাফাত মুন্না, সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান ডালিম, দফতর সম্পাদক মাহমুদুল আলম, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক বাহাউদ্দিন আল ইমরান, প্রশিক্ষণ ও কল্যাণ সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদাউস তানভী, কার্যনির্বাহী সদস্য শেখ জামাল হোসাইন, মোহাম্মদ আবু নাছের, মার্জিয়া হাশমী উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘রক্ত দিয়ে এদেশের স্বাধীনতা কেনা। দেশ স্বাধীন হয়েছে বলে আমরা স্বাধীন বিচার বিভাগ পেয়েছি। কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান হয়েও এ পর্যায়ে এসেছি। তাই স্বাধীনতাকে অর্থবহ করতে সবাইকে দেশের কল্যাণে কাজ করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণের পর থেকে মামলাজট নিরসনে সর্বাত্মক উদ্যোগ নিয়েছি। সারাদেশ সফর করে বিচারকদের মামলাজট নিরসনে ভূমিকা পালন ও দেশপ্রেম নিয়ে বিচারকাজ পরিচালনা করার নির্দেশ দিয়েছি।’

বিচারপ্রার্থীদের কষ্ট লাগবে সারাদেশে আদালত অঙ্গনে ন্যায়কুঞ্জ স্থাপন কাজ চলমান রয়েছে বলেও জানান তিনি।

আ’লীগ গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না : মির্জা ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমি বারবারই বলি আওয়ামী লীগের একটি সমস্যা আছে, এটি হচ্ছে চরিত্রগত বৈশিষ্ট্য। বরাবরই তারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না।

মঙ্গলবার বিএনপি প্রশিক্ষণ সেল -এর উদ্যোগে নারী নেতৃত্ব অগ্রগতি বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ১৯৪৭ সালের পর থেকে পাকিস্তান তারপর বাংলাদেশ। এদেশে বারবার গণতন্ত্রের চর্চা ব্যর্থ হয়েছিল। অত্যন্ত দুঃখজনক ব্যাপার, যে জন্য ১৯৭১ সালে আমরা যুদ্ধ করেছিলাম। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করার জন্য। সেই গণতন্ত্র চর্চা ধ্বংস করেছে তখন ক্ষমতায় ছিল আওয়ামী লীগ। এটা পরিষ্কার কথা এবং তারা একের পর এক আইন তৈরি করেছিল ক্ষমতায় থাকার জন্য যখন জনগণ তাদের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছিল।

আওয়ামী লীগ বরাবরই গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না অভিযোগ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, তারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না। ওরা একনায়কতন্ত্র বিশ্বাসী। ওরাভাবে আর কেউ নেই। ১৯৭৪ সালের তারা সকল দলকে নিষিদ্ধ করে একটি মাত্র দল রেখেছিল। তারা প্রচার মাধ্যম বন্ধ করে রেখেছিল। মানুষের মানবিক অধিকার কেড়ে নিয়েছিল।

তিনি বলেন, ‘আমাদের মন মানসিকতায় যদি ডেমোক্রেসি না থাকে তাহলে আমরা কেউ ডেমোক্রেসি প্রতিষ্ঠা করতে পারবো না। এটি হচ্ছে মন মানসিকতার বিষয়। এক্ষেত্রে আমাদেরকে সহনশীল হতে হবে। সকলের মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা দিতে হবে। দুর্ভাগ্য আমাদের সেই জাতি হিসেবে, যখন আমি আপনাদের সাথে কথা বলছি সেই মুহূর্তে এদেশে গণতন্ত্র নেই। একইভাবে এই দেশে যতগুলো রাজনৈতিক দল আছে তাদের যে গণতান্ত্রিকি স্পেস সেগুলো ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে।

অনলাইন প্ল্যাটফর্মে জুয়ার বিজ্ঞাপন বন্ধে হাইকোর্টের নির্দেশ

অনলাইন প্ল্যাটফর্মে জুয়ার বিজ্ঞাপন প্রচার করা ওয়েবসাইট বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ সংক্রান্ত রিট পিটিশনে আনা আবেদনে বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের ও বিচারপতি মোহাম্মদ শওকত আলী চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত একটি হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ আজ এই নির্দেশ দেন।

আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী কামাল হোসেন মিয়াজী। তিনি আদেশের বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করে জানান, বিটিআরসিকে এই বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। একইসাথে বিকাশ, নগদ, রকেট, এমক্যাশসহ মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবহার করে যাতে জুয়া খেলার অর্থ পরিশোধ করতে না পারে, বাংলাদেশ ব্যাংককে বিষয়টি নিয়ে নির্দেশনা জারি করতে বলা হয়েছে।

এর আগে এ সংক্রান্ত রিটের পরিপ্রেক্ষিতে টিভি চ্যানেল ও সব অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে জুয়ার বিজ্ঞাপন অপসারণ ও প্রচার বন্ধে ব্যর্থতা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না-তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর ওই রুল জারি করা হয়, যা এখনো বিচারাধীন। সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী মিফতাউল আল ও সুমিত কুমার সরকার রিটটি দায়ের করেন।

বেসরকারি একটি টিভি চ্যানেলে সব ধরনের জুয়ার সাইটের বিজ্ঞাপন প্রচার বন্ধ করতে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছিলেন সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী খন্দকার হাসান শাহরিয়ার এবং ঢাকা জজকোর্টের আইনজীবী ইসমাতুল্লাহ লাকী তালুকদার। গত বছরের ১১ ডিসেম্বর ওই নোটিশ পাঠানো হয়। সূত্র : বাসস

ডিএমপি থেকে সমাবেশ করার মৌখিক আশ্বাস পেয়েছে বিএনপি

রাজধানীর নয়াপল্টনে আগামী বুধবার (১২ জুলাই) সমাবেশ করতে আবেদন করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনারের কাছ থেকে মৌখিক আশ্বাস পেয়েছে বিএনপি।

সোমবার (১০ জুলাই) দুপুর ২টার দিকে ডিএমপির প্রধান কার্যালয়ে কমিশনারের সাথে দেখা করে বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল।

প্রতিনিধি দলে ছিলেন বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য সচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভুঁইয়া। তারা ডিএমপি কমিশনারের কাছে সমাবেশের জন্য লিখিত আবেদন দেন। তখন কমিশনার সমাবেশ করতে তাদের মৌখিক আশ্বাস দেন।

ডিএমপির প্রধান কার্যালয় থেকে বের হয়ে শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, সরকারের পদত্যাগ ও নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের দাবিতে আগামী বুধবার বিএনপির নয়াপল্টন কার্যালয়ের সামনে আমরা সমাবেশের আহ্বান জানিয়েছি। এ প্রসঙ্গে বিএনপি কমিশনারের সাথে আমাদের কথা হয়েছে। আমরা সহযোগিতা চেয়েছি। আমরা আশাবাদী, পুলিশ আমাদের সহযোগিতা করবে।

শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, আমরা আশা করছি, এ দেশের জনগণকে সম্পৃক্ত করে এ সমাবেশকে আমরা সফল করতে পারব।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সমাবেশের অনুমতি চেয়ে আমরা লিখিত আবেদন দিয়েছি, কমিশনার আমাদের মৌখিকভাবে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।

সমাবেশের অনুমতি না পেলে কি করবেন জানতে চাইলে এ্যানি বলেন, এটা আমাদের রাজনৈতিক সমাবেশ। এখানে অনুমতি নেয়ার কোনো বিষয় নেই। আমরা সহযোগিতা চাইতে এসেছিলাম, তারা আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন।

এক কাঁঠালের নিলাম নিয়ে সংঘর্ষে নিহত ৩, আহত ৪০

সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার জয়কল ইউনিয়নের হাসনাবাজ গ্রামে মসজিদে দানকৃত ১টি কাঠাল নিলামে তোলা এবং দাম হাকাঁনো নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে দু’পক্ষের সংঘর্ষে তিনজন নিহত এবং উভয়পক্ষের ৪০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

সোমবার (১০ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে হাসনাবাজ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত ব্যক্তিরা হলেন হাসনাবাজ গ্রামের মৃত ছুফি মিয়ার ছেলে মো: বাবুল মিয়া (৫৮), একই গ্রামের নুরুল ইসলাম (৪২) ও আব্দুল বাছিতের ছেলে মো: শাহজাহান(৩৬)। তাৎক্ষণিক আহতদের নাম ও পরিচয় জানা যায়নি। খবর পেয়ে শান্তিগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, হাসনাবাজ গ্রামের মসজিদে এক ব্যক্তি একটি কাঠাল দান করেন। মসজিদে গ্রামবাসীর উপস্থিতিতে এই কাঠালটি নিলামে তোলা হয় এবং দাম হাকাঁনো হয়। এতে গ্রামের দ্বীন ইসলামের পক্ষের লোকজন দামের কথা শুনা যাচ্ছে না বলে আওয়াজ তুললে প্রতিপক্ষ একই গ্রামের সুনু মিয়া ও জুনাব আলী গংরা বলে উঠেন মসজিদের ভেতরে অবস্থানকারী সবাই শুনলেও তোমরা কেন শুনতে পাওনি এ নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকটি হয়। এরই জের ধরে সকালে দ্বীন ইসলামের লোকজনের সাথে প্রতিপক্ষ সুনু মিয়া ও জুনাব আলীর লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হন। এতে দ্বীন ইসলামের পক্ষের বাবুল মিয়া ও নুরুল ইসলাম ঘটনাস্থলেই নিহত হন এবং সুনু মিয়া জুনাব আলীদের পক্ষে মো: শাহজাহান মিয়াকে গুরুতর আহত অবস্থায় সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে আসার পথে রাস্তায় তিনি মারা যান। এ নিয়ে নিহতের সংখ্যা দাড়াঁয় তিনজনে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ৪০ জন আহত হন। তবে তাৎক্ষণিক আহতের নাম ও পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি।

এ ব্যাপারে জয়কলস ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো: আব্দুল বাছিত সুজন জানান, গতকাল রোববার রাতে এবং আজকে ভোরে-হাসনাবাজ গ্রামে গিয়ে উভয় পক্ষের লোকজনের সাথে আলাদাভাবে বৈঠক করে কথা বলেছি। উভয় পক্ষের লোকজন আমাকে আশ্বস্ত করেছিলেন কোনো পক্ষই মারামারিতে যাবেন না। এমন আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের শান্ত করে উপজেলা পরিষদের মিটিংয়ে আমি চলে আসার পর শুনতে পাই উভয়পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। একটি কাঠাল নিয়ে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক।

এ ব্যাপারে শান্তিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ খালেদ চৌধুরী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনা হয়। এ ঘটনায় পুলিশ সন্দেহজনক তিনজনকে আটক করেছে।

নির্বাচন নিয়ে কোনো উদ্বেগের কথা বলেনি ইইউ : কাদের

ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) নির্বাচন নিয়ে কোনো উদ্বেগের কথা বলেনি বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, কোনো উদ্বেগের কথা তারা বলেননি। তারা ভালোটা আশা করছেন। খারাপ কিছু নিয়ে কোনো কথা বলেননি। বাংলাদেশে একটি শান্তিপূর্ণ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন হোক, এটাই তারা চেয়েছেন। বাংলাদেশের গণতন্ত্র আরো শক্তিশালী ও পরিপক্কতা অর্জন করুক, এটি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

সোমবার সচিবালয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত চার্লস হোয়াইটলির সাথে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

ওবায়দুল কাদের বলেন, আগামী জাতীয় নির্বাচন হবে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য। শেখ হাসিনার সরকার নির্বাচনকালীন রুটিন দায়িত্ব পালন করবে। পৃথিবীর অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশের মতোই বাংলাদেশের নির্বাচন হবে।

সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। ইইউ দেশের ছয়জনের প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে এসেছে। তারা খুঁটিনাটি সব বিষয়ে আলোচনা করবেন। ইইউ নির্বাচন অবজার্ভ করবে, ক্লোজলি মনিটরিং করবে। সরকার সবসময়ই নির্বাচনী পর্যবেক্ষাদের স্বাগত জানায়।’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘৪১ ভিয়েনা কনভেনশনের নীতিমালা অনুযায়ী কূটনীতিকরা দায়িত্ব পালন করবেন আমাদের আপত্তি নেই। নির্বাচন নিয়ে অনেক কথা হয়। সেজন্য নির্বাচনে পর্যবেক্ষক থাকলে ভালো হয়। তারা সরেজমিনে দেখতে পারবেন নির্বাচন কেমন হয়। পর্যবেক্ষকরা নিজেরাই দেখবেন।’

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘রাজপথে আওয়ামী লীগও আছে। বিএনপি বিক্ষোভে আছে, আওয়ামী লীগ শান্তি সমাবেশ করছে।’

গণতন্ত্র মঞ্চের সাথে বৈঠক শেষে যা বললেন আমীর খসরু

বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, চলমান আন্দোলন এমন একটি পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে যে এখন একটা বার্তা দেয়ার সময় হয়েছে।

সোমবার (১০ জুলাই) বিকেলে বিএনপির চেয়ারপারসনের গুলশান রাজনৈতিক কার্যালয়ে গণতন্ত্র মঞ্চের লিয়াজোঁ কমিটির সাথে এক বৈঠক শেষে তিনি একথা বলেন।

আমীর হোসেন মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘গণতন্ত্র মন্ত্রের সাথে আলোচনা করেছি। এর আগেও একাধিকবার বিভিন্ন দলের সাথে আলোচনা হয়েছে। আন্দোলন চলমান আছে, চলমান আন্দোলন এমন একটি পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে যে এখন একটা বার্তা দেয়ার সময় হয়েছে। আজ আন্দোলনের ব্যাপারে একটা যৌথ ঘোষণা দেয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। আগামী ১২ তারিখ একটা যৌথ ঘোষণা দেব। সেই ঘোষণা দেয়ার জন্য আমরা আলোচনা করেছি, একমত হয়েছি, ঐক্যমত হয়েছি। যুগপৎ আন্দোলনের সাথে যারা আছেন তাদের সবাইকে নিয়ে যৌথ ঘোষণা দেয়া হবে।’

গণতন্ত্র মঞ্চের সমন্বয়ক সাইফুল হক বলেন, ‘গত ৩১ ডিসেম্বর থেকে আমরা যুগপৎ আন্দোলন করছি। আন্দোলনের যৌথ ঘোষণা জন্য কয়েক মাস কাজ করেছি। সেই যৌথ ঘোষণা এখন আমরা চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে এসেছি। আমরা বিশ্বাস করছি। আশাও রাখতে চাই এই যৌথ ঘোষণার মধ্যে দিয়ে আন্দোলনের প্রতি মানুষের আস্থার জায়গা বাড়িয়ে তুলবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন একটি পরিবর্তনের সম্মুখে দাঁড়িয়ে আছে। অনতিবিলম্বে এই সরকারকে মানুষ আর দেখতে চায় না। ফলে মানুষের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা দেশবাসী দেখতে চায়। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো রাজপথে একটি কার্যকারী ঐক্য গড়ে তুলবে এবং এই দুঃশাসন থেকে দেশবাসীকে মুক্ত করবে।’

বিএনপির পক্ষ থেকে বৈঠকে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও ভাইস-চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু উপস্থিত ছিলেন।

গণতন্ত্র মঞ্চের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে জেএসডি সভাপতি আ স ম রব, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, ভাসানী অনুসারী পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ রফিকুল ইসলাম বাবুল, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন সমন্বয়ক হাসনাত কাইয়ুম বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

উত্তর ভারতে আকস্মিক বন্যায় নিহত বেড়ে ২৮

উত্তর ভারতে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে দেশের বিভিন্ন অংশে বন্যা ও ভূমিধস দেখা দিয়েছে, এই পরিস্থিতিতে গত তিন দিনে সেখানে কমপক্ষে ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের বেশিরভাগই হিমাচল প্রদেশের বাসিন্দা।

সোমবার (১০ জুলাই) মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এই তথ্য জানিয়েছে। তবে ভারতের সংবাদ সংস্থা প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়া ১০ জনের মৃত্যুর কথা বলছে।

সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে হিমাচল প্রদেশ। এছাড়াও উত্তরাখণ্ড, পাঞ্জাব, হরিয়ানা, জম্মু ও কাশ্মির, রাজস্থান, দিল্লি এবং এর আশেপাশের অঞ্চলগুলোতে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আরো বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়েছে ভারতের আবহাওয়া দফতর।

ভারতের আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, রোববার নয়াদিল্লিতে ১৫৩ মিলিমিটার (৬ ইঞ্চি) বৃষ্টি হয়েছে। শুধু জুলাই মাসের হিসেবে এটি ১৯৮২ সালের পর সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের নতুন রেকর্ড। দিনটিকে ‘জুলাই’র আদ্রতম দিন’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।

ভারতে বর্ষা মৌসুমে নিয়মিত মারাত্মক বন্যা দেখা যায়, যা জুন থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে হয়ে থাকে এবং দক্ষিণ এশিয়ার বার্ষিক বৃষ্টিপাতের বেশিরভাগ অংশ এই এলাকাতে হয়। মৌসুমে রোপণ করা বৃষ্টি-নির্ভর ফসলের জন্য বৃষ্টিপাত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তবে প্রায়শই এর কারণে বেশ ক্ষতি হয়।

প্রতিবেশি পাকিস্তানও মৌসুমি বৃষ্টিপাতের কবলে পড়েছে। ভারত থেকে পাকিস্তানে প্রবাহিত রবি নদীতে ভারত বাঁধের পানি সরিয়ে নেয়ার পরে কর্তৃপক্ষ মৌসুমের প্রথম বন্যার জন্য সতর্ক ছিল।

পাকিস্তানের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা জানিয়েছে, পূর্ব পাঞ্জাব প্রদেশের নিম্নাঞ্চল থেকে লোকজনকে সরিয়ে নেয়ার কাজ চলছে। নারওয়াল ও শিয়ালকোটের গ্রামগুলো থেকে রাতারাতি ১৫০ জনেরও বেশি মানুষকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।

গত ২৫ জুন থেকে পাকিস্তানে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে হাজার হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় আবহাওয়াজনিত বিভিন্ন ঘটনায় অন্তত ৭৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।