দীর্ঘ সাড়ে ৪ বছর পর অবসর ভেঙে ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ড সিরিজ দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরেছেন মোহাম্মদ আমির। প্রত্যাবর্তনটা মন্দ হয়নি তার। তবে মাঠের বাইরে সমস্যায় পড়েছিলেন তিনি।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে আয়ারল্যান্ড ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ খেলবে পাকিস্তান। দলে আছেন আমিরও। তবে ভিসা জটিলতায় দলের সঙ্গে আয়ারল্যান্ডের বিমানে চড়া হয়নি তার। তাতে সিরিজটি খেলা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। অবশেষে সে সমস্যার সমাধান হয়েছে। দল চলে যাওয়ার দুই দিন পর আয়ারল্যান্ডের ভিসা পেয়েছেন আমির।
আমির পাকিস্তান দলের অন্যদের সঙ্গে গত মাসেই আয়ারল্যান্ডের ভিসা পেতে আবেদন করেন। তবে খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফসহ দলের সবার ভিসা হলেও আমির পাননি। এরই মধ্যে মঙ্গলবার (৭ মে) আমিরকে দেশে রেখে আয়ারল্যান্ডে রওনা দেয় পাকিস্তান দল।
ক্রিকেট পাকিস্তান জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (৯ মে) আয়ারল্যান্ডের ভিসা পেয়েছেন আমির। তার ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি আয়ারল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে আইরিশ দূতাবাসে ভিসার জন্য আবারও কাগজপত্র জমা দেন আমির।
আসন্ন সিরিজের আগে ভিসা নিয়ে ঝামেলায় পড়েছিলেন ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ ইউসুফও। তবে শেষ পর্যন্ত ভিসা নিশ্চিত হয়ে যাওয়ায় দলের সঙ্গেই আয়ারল্যান্ডের উদ্দেশে উড়াল দিতে পেরেছেন তিনি।
অবশেষে বড় সুসংবাদ পেলেন আমির
যারা দলের শৃঙ্খলা ভাঙবে তাদের শাস্তি পেতেই হবে : ওবায়দুল কাদের
যারা দলের নিয়ম-শৃঙ্খলা ভঙ্গ করবে, সময়মতো তাদের শাস্তি পেতে হবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
সোমবার (৬ মে) বিকেলে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত দলের সম্পাদকমন্ডলীর সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
ওবায়দুল কাদের বলেন, উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থী হতে চাওয়া মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের পরিবারের সদস্যদের নিবৃত্ত করতে দলের সাংগঠনিক বিভাগীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা চেষ্টা চালিয়ে যাবেন। তারা সক্রিয় উদ্যোগে রয়েছেন।
দলের শৃঙ্খলা নিয়ে তিনি বলেন, যারা শৃঙ্খলা ভাঙবে, সময়মতো তাদের কোনো না কোনো শাস্তি পেতেই হবে। আমাদের অ্যাকশন কোনো না কোনোভাবে থাকেই। ৭০ জনের বেশি সংসদ সদস্যকে মনোনয়ন না দেয়া, আগের মন্ত্রিপরিষদের ২৫ জনকে নতুন কেবিনেটে না রাখা কি এর উদাহরণ নয়?
বিএনপিকে উদ্দেশ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে ১৯৭৫ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত ধ্বংস করেছে তারা। প্রহসনের নির্বাচন, এক কোটি ভুয়া ভোটার, হ্যাঁ-না ভোট তো তাদেরই সৃষ্টি।
ওবায়দুল কাদের বলেন, গণতন্ত্রকে শৃঙ্খলমুক্ত করার কাজ শেখ হাসিনাই করেছেন। বিএনপি মাগুরা-মার্কা আর ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন করেছে। বিএনপিরই গণতন্ত্রে কোনোদিন আগ্রহ ছিল না।
শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপজেলা পর্যন্ত পালন করা হবে জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, থানা, জেলা, উপজেলা পর্যন্ত এই কর্মসূচি পালন করা হবে। বিশেষ প্রার্থনা করা হবে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম, গির্জা ও জাতীয় মন্দিরে। বিকেলে আলোচনা সভা হবে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে।
এছাড়া ১৬ মে অসচ্ছল ও গরিব মানুষদের মধ্যে খাদ্য বিতরণ করা হবে। কোথায় কোথায় বিতরণ করা হবে সে স্থান পরে জানিয়ে দেয়া হবে।
আওয়ামী লীগের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর প্রস্তুতি নিয়ে দলের সাধারণ সম্পাদক বলেন, আমাদের সব অনুষ্ঠানে বিএনপিকে দাওয়াত দিয়েছি। এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতেও পাবে।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হবে জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, আমরা ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে দলের প্লাটিনাম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করব আগামী ২৩ জুন। আমরা ব্যাপকভাবে পালন করার চিন্তা-ভাবনা করছি। এটা থানা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আলোচনা সভা করা হবে সেদিন। সেখানে প্রধানমন্ত্রীসহ দলের নেতা, বুদ্ধিজীবীদের আমন্ত্রণ জানাবো। আলোচনা সভার আগে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ‘সবুজ ধরিত্রী’ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ওয়ার্ড পর্যায় পর্যন্ত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করা হবে। তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালায় আলোকসজ্জা বাদ দেয়া হয়েছে বিদ্যুৎ সংকটের কথা চিন্তা করে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আনন্দ র্যালি করবে ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ বিভিন্ন সহযোগী সংগঠন।
এছাড়া ১৬ মে অসচ্ছল ও গরিব মানুষদের মধ্যে খাবার বিতরণ করা হবে। কোথায় কোথায় বিতরণ করা হবে সে স্থান পরে জানিয়ে দেয়া হবে।
এ সময়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ ও ডা: দীপু মনি, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, এস এম কামাল হোসেন ও মির্জা আজম, সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক মৃনাল কান্তি দাশ, ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক আবদুস সবুর, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক মাশরাফি বিন মর্তুজা, উপ-দফতর সম্পাদক সায়েম খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র : বাসস
বিজয়ের সেঞ্চুরিতে ডিপিএলে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন আবাহনী
ঢাকার মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ব্যাটার এনামুল হক বিজয়ের সেঞ্চুরিতে সোমবার শাইনপুকুর ক্রিকেট ক্লাবকে ৪ উইকেটে হারিয়ে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন থেকেই ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ (ডিপিএল) শেষ করেছে আবাহনী লিমিটেড।
দুই ম্যাচ হাতে রেখে আগেই ডিপিএল শিরোপা নিশ্চিত করেছিল আবাহনী। শিরোপা নিশ্চিত হওয়ার পর লিগে অপরাজিত থাকাই মূল লক্ষ্য ছিল আবাহনীর। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজের জন্য আবাহনীর প্রথম সারির ১০ জন খেলোয়াড় জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়ায় শেষ দুই ম্যাচে জয় পাওয়া চ্যালেঞ্জিং ছিল ধানমন্ডির দলটির।
তবে শেষ পর্যন্ত দারুন পারফরমেন্সে বাকি দুই ম্যাচ জিতে অপরাজিত থেকেই এবারের লিগ শেষ করল আবাহনী। এবারের লিগের প্রথম পর্বে ১১টি ও সুপার লিগে পাঁচটিসহ মোট ১৬টি ম্যাচের সবগুলোতে জিতে পূর্ণ ৩২ পয়েন্ট পেয়েছে আবাহনী।
এ ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে ৮ উইকেটে ২৩৪ রান করে শাইন পুকুর। দলের পক্ষে অমিত হাসান সর্বোচ্চ ৭৭ রান করেন। এছাড়া ওপেনার খালিদ হাসন ৫৮ এবং ইরফান শুক্কুর ৩৩ রান করে আহত অবসর হন। আবাহনীর বাঁ-হাতি স্পিনার রাকিবুল হাসান ২৯ রানে ৩টি, নিয়মিত অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর অনুপস্থিতিতে নেতৃত্ব দেয়া মোসাদ্দেক হোসেন ও আব্দুল রওশন ২টি করে উইকেট নেন।
জবাবে অষ্টম ওভারের মধ্যে ৩০ রানে ২ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে আবাহনী। তিন নম্বরে ব্যাট করতে নেমে এক প্রান্ত আগলে রানের চাকা ঘুড়িয়ে আবাহনীকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন বিজয়। ৪৬.১ ওভারে ৬ উইকেটে ২৩৫ রান তুলে জয় নিশ্চিত করে আবাহনী।
আবাহনীর পক্ষে ব্যাট হাতে ১২০ বলে ৭টি চার ও ৪টি ছক্কায় অপরাজিত ১১০ রান করেন বিজয়। সৈকত ২৯ ও মাজরাহুল ইসলাম সাগর ২৩ রান করেন।
আবাহনীর অপরাজিত চ্যাম্পিয়নের মৌসুমে রানার্স-আপ হয়েছে মোহামেডান। লিগের প্রথম পর্ব ও সুপার লিগ মিলিয়ে ১৬ ম্যাচে ২৪ পয়েন্ট নিয়ে এবারের মৌসুম রানার্স-আপ হলো দলটি। সুপার লিগে ৫ ম্যাচের মধ্যে ১টিতে হেরেছে তারা। চ্যাম্পিয়ন আবাহনীর কাছে ৯ রানে হেরেছিল সাদা-কালো জার্সিধারীরা।
সূত্র : বাসস
বিদ্যুৎস্পৃষ্টে নয়, মা গলা টিপে হত্যা করেন শিশু মাইশাকে
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় শিশু মাইশা খাতুন (৭) বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মারা গেছে বলে আগে দাবি হলেও ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেয়ে পুলিশ বলছে, তাকে গলা টিপে হত্যা করা হয়েছে। শিশুটিকে অন্য কেউ নয়, হত্যা করেছেন তার আপন মা পপি খাতুন (২৫)। ঘাতক পপি খাতুনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ, আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন তিনি।
সোমবার বেলা ১১টায় চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার আর এম ফয়জুর রহমান এসব তথ্য জানান।
এর আগে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেয়ে এদিন ভোরে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে (পিও ভিজিট) যান পুলিশ সুপার। এরপর কৌশলে পপি খাতুনকে নিজের গাড়িতে করেই পুলিশ হেফাজত নেন তিনি।
পুলিশ সুপার আর এম ফয়জুর রহমান জানান, শিশু মাইশা তার মায়ের সাথে আলমডাঙ্গার ভোগাইলবগাদী গ্রামে বসবাস করত। ২৯ ফেব্রুয়ারি সকাল ৯টার দিকে মাইশার মা পপি খাতুনের চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে যায় বাড়িতে। ওই সময় মাইশার গলায় মোবাইলফোনের চার্জারের তার জড়ানো ছিল। পপির প্রতিবেশীদের জানান, তার মেয়ে মাইশা বিদ্যুৎস্পর্শে মারা গেছে। প্রতিবেশীরা মাইশাকে দ্রুত চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিলে চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মাইশাকে মৃত ঘোষণা করেন। একই সাথে মাইশার গলায় দাগ থাকার কথাও পুলিশকে জানান কর্তব্যরত চিকিৎসকরা।
তিনি বলেন, পুলিশ লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট থেকে জানা যায়, মাইশা খাতুন বিদ্যুৎস্পর্শে মারা যায়নি, তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। বিষয়টি পুলিশ শিশুটির পরিবারকে জানালে মাইশার নানা ভোগাইলবগাদী গ্রামের মরহুম নূর হোসেনের ছেলে শহিদুল ইসলাম অজ্ঞাতনামা আসামি উল্লেখ করে ৩ মে আলমডাঙ্গা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ সুপার আরো জানান, মাইশাকে তার মা পপি খাতুন গলা টিপে হত্যা করেন। ৫ মে আলমডাঙ্গার জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জহুরা বেগমের আদালতে হাজির হয়ে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন পপি। পরে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠায়।
তিনি জানান, পপি খাতুনের বিয়ে হয়েছিল কুষ্টিয়া জেলার মীরপুর থানার ঝুটিয়াডাঙ্গা গ্রামের সাইফুল ইসলামের সাথে। স্বামীর সাথে দাম্পত্য কলহের কারণে আগেই তাদের বৈবাহিক সম্পর্ক ছিন্ন হয়েছিল এবং পপি খাতুন তার মেয়ে মাইশাকে নিয়ে নিজের বাবার বাড়ি আলমডাঙ্গার ভোগাইলবগাদী গ্রামে বসবাস করছিলেন। পপি খাতুন পুলিশের কাছে মেয়েকে হত্যার কথা স্বীকার করে বলেন, মেয়ে মাইশা নাবালিকা। তার বাবা হয়তো আরেকটি বিয়ে করবেন। পপিরও অন্য জায়গায় বিয়ে হতে পারে। তখন মাইশাকে দেখার কেউ থাকবে না। মাইশার জীবন কাটবে কষ্টে। প্রতিবেশীদের একটি মেয়েকে এভাবে বড় হতে দেখেছেন পপি। এসব চিন্তাভাবনা থেকেই মাইশাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আনিসুজ্জামান লালন, ডিআই-১ ইন্সপেক্টর জিহাদ খান, পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) বিকাশ দাসসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ইসরাইলের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক না করে সৌদির সাথে প্রতিরক্ষা চুক্তি নয় : যুক্তরাষ্ট্র
ইসরাইলের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক না করা পর্যন্ত সৌদি আরবের সাথে প্রতিরক্ষা চুক্তি করবে না মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাক সুলিভান গণমাধ্যমকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এমন মন্তব্য করেন।
জ্যাক সুলিভান বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের মাঝে প্রতিরক্ষা চুক্তির জন্য আগে ইসরাইলের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে হবে। একইসাথে ফিলিস্তিনি জনগণের পক্ষে অর্থপূর্ণ পদক্ষেপও নিতে হবে। এসব বিষয় একইসাথে হতে হবে। একটিকে অন্যটি থেকে আলাদা করা যাবে না।
তিনি আরো বলেন, ‘আমি আশা করি সামনের মাসগুলোতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট এবং আমাদের অন্য কর্মকর্তাদের থেকে আরো অনেক কিছু শুনতে পাবেন। আমাদের বিশ্বাস, আমরা ইসরাইলসহ এই অঞ্চলকে আরো শান্তিপূর্ণ করে তুলতে পারব।
মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা বলেন, ‘এখন আমরা যা করতে পারি তা হলো আমাদের যে দৃষ্টিভঙ্গি তা নিয়ে কাজ করা। এই দৃষ্টিভঙ্গির সাথে এই অঞ্চলের যতগুলো দেশকে সম্ভব, সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করা। তারপর এটি উপস্থাপন করা। তবে শেষ পর্যন্ত এটি ইসরাইলি নেতৃত্বের উপর নির্ভর করবে। স্পষ্টতই শেষ পর্যন্ত ইসরাইলিরাই সিদ্ধান্ত নেবে যে তারা কোন পন্থায় সমাধান চায়।’
শুক্রবার মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরও ওইসব প্রতিবেদনকে অস্বীকার করেছে যেগুলোতে দাবি করা হয়েছে যে, ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিককরণের বিষয়টি উল্লেখ থাকুক বা না থাকুক, যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরবের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি করবে।
সূত্র : টাইমস অব ইসরাইল
যুক্তরাষ্ট্রে ইসরাইলবিরোধী সমাবেশ থেকে গ্রেফতার প্রায় ২৫০০
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসরাইলবিরোধী সমাবেশ থেকে প্রায় আড়াই হাজার বিক্ষোভকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
রোববার সিএনএন জানিয়েছে, গত ১৮ এপ্রিল থেকে গ্রেফতারের সংখ্যা ২ হাজার ২০০ ছাড়িয়ে গেছে। এদিকে, ফক্স নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্রেফতারের সংখ্যা ২ হাজার ৪০০ জনেরও বেশি।
ধারণা করা হচ্ছে, গ্র্যাজুয়েশন সমাপনী অনুষ্ঠানগুলো থেকে ইসরাইলবিরোধী বিক্ষোভ নতুন মাত্রা পেতে পারে। ফলে আগামীতে সংখ্যাটি আরো বাড়তে পারে। সেজন্য অব্যশ্য ক্যাম্পাসের কর্মকর্তারা অতিরিক্ত পুলিশ নিরাপত্তা যোগ করছেন। কোনো কোনো স্থানে সূচনা অনুষ্ঠানগুলোও সম্পূর্ণভাবে বাতিল করা হচ্ছে।
সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি
নুসরাতের বুকে ট্যাটু কার?
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হরহামেশাই বিতর্কের মুখে পড়েন টালিউড অভিনেত্রী নুসরাত জাহান। কয়েক দিন আগেই একটি শিম্পাজির সঙ্গে ছবি তুলে সংবাদের শিরোনাম হয়েছিলেন তিনি। সেই সময় অভিনেত্রীর ঠোঁট নিয়ে কটাক্ষ করতেও ছাড়েননি নেটিজেনরা।
আবার কখনো নিজের খোলামেলা ছবি প্রকাশ করে সংবাদ শিরোনামে থাকেন এই অভিনেত্রী। এরই মাঝে স¤প্রতি নায়িকার প্রকাশ করা বেশ কিছু ছবিতে দেখা মিলল ট্যাটুর।
সেসব ছবিতে দেখা যায়, পরনে সাদা শার্ট। ভেতরে আকাশি অন্তর্বাস। চোখে চশমা। ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে হাসিমুখে ‘ভিক্টরি’ সাইন দেখিয়ে পোজ দিচ্ছেন নুসরাত জাহান। ছুটির মেজাজে ছবি দিতেই ফের মন্তব্যের ভিড় অভিনেত্রীর পোস্টে। তবে নজর কাড়ল টালিউড নায়িকার শার্টের ফাঁক থেকে উঁকি দেওয়া ট্যাটু! কার নাম লেখা নুসরাতের বুকে?
যশ নয়, নিখিল জৈনও নয় টালিউডের ফিসফাস বলে, ওই ট্যাটু ঘিরে নাকি লুকিয়ে আছে নায়িকার কিশোরীবেলার গোপন অতীত! তাতে লেখা ‘ভিক্টরি’। কিন্তু আগে নাকি সেটা ছিল ভিক্টর।
কানাঘুষা শোনা যায়, নুসরাতের শৈশবের বিশেষ বন্ধু ভিক্টর ঘোষের নামই নাকি একদা জ্বলজ্বল করত তার বুকে। এও রটেছিল, ভিক্টরকে নাকি বিয়েও করেছিলেন তিনি। পরে ভিক্টরের সঙ্গে তিনি বাড়তি ‘ওয়াই’ যোগ করে নিয়ে ভিক্টরি করেছেন, শোনা যায় এমনটাই।
যদিও এসব বিষয় নিয়ে মাথা ঘামান না নুসরাত। রাজনীতি নিয়েও ভাবছেন না এই অভিনেত্রী। কারণ গত ৫ বছর সংসদ সদস্য থাকা অবস্থায় সুনামের চেয়ে দুর্নাম কামিয়েছেন বেশি। ধারণা করা হচ্ছে, দল থেকে মনোনয়ন পাবেন না জেনে রাজনীতি থেকেও নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছেন তিনি।
ইসরাইলের সাথে বাণিজ্য স্থগিত করলেন এরদোগান
গাজা উপত্যকায় ‘ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়’কে কারণ হিসেবে উল্লেখ করে ইসরাইলের সাথে সব ধরনের বাণিজ্য স্থগিত করেছে তুরস্ক।
দেশটির বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, ইসরাইল গাজায় ‘বাধাহীন ও যথেষ্ট পরিমাণ ত্রাণ প্রবাহ’ অনুমতি না দেয়া পর্যন্ত এ পদক্ষেপ বহাল থাকবে।
দেশ দু’টির মধ্যে বার্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় সাত বিলিয়ন ডলার।
ইসরাইলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগানকে ‘স্বৈরশাসক’-এর মতো আচরণের দায়ে অভিযুক্ত করেছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ইসরাইলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাৎয বলেন, এরদোগান তুরস্কের জনগণ ও ব্যবসায়ীদের স্বার্থকে অসম্মান করেছেন এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক সমঝোতাকে উপেক্ষা করেছেন।
তিনি জানান, তিনি মন্ত্রণালয়কে ইতোমধ্যেই নির্দেশ দিয়েছেন যে তুরস্কের সাথে বাণিজ্যের বিকল্প সন্ধান করতে যাতে স্থানীয় উৎপাদন এবং অন্য দেশ থেকে আমদানিতে জোর দেয়া হবে।
অন্যদিকে এক বিবৃতিতে তুরস্ক জানিয়েছে, এই বাণিজ্য স্থগিত করার সিদ্ধান্ত সব ধরনের পণ্যের ক্ষেত্রেই কার্যকর হবে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘তুরস্ক কঠোরভাবে ও সন্দেহাতীতভাবেই নতুন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করবে যতদিন পর্যন্ত ইসরাইল সরকার গাজায় বাধাহীন ও পর্যাপ্ত ত্রাণ প্রবাহের অনুমোদন না দেয়।’
১৯৪৯ সালে প্রথম মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ হিসেবে ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেয় তুরস্ক। তবে সাম্প্রতিক দশকগুলোতে দেশ দু’টির মধ্যকার সম্পর্কের অবনতি হয়েছে।
২০১০ সালে গাজায় তুরস্ক মালিকানাধীন জাহাজ ইসরাইলের সমুদ্রসীমা লঙ্ঘন করার সময় ইসরাইলি কমান্ডোদের সাথে সংঘর্ষে ১০ জন ফিলিস্তিনপন্থী তুর্কি কর্মকর্তা নিহত হওয়ার ঘটনায় তুরস্ক কূটনৈতিক সম্পর্কও ছিন্ন করেছিল।
পরে ২০১৬ সালে আবার দেশ দু’টির মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনস্থাপন হয়। কিন্তু এর দু’বছরের মাথায় উভয় দেশ একে অন্যের শীর্ষ কূটনীতিককে বহিষ্কার করে গাজা সীমান্তে ইসরাইল কর্তৃক ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার ঘটনায়।
এরদোগান গত ৭ অক্টোবর ইসরাইলে হামাসের হামলার পর ইসরাইলের তীব্র সমালোচনা করে আসছেন।
গত জানুয়ারিতে তিনি বলেন, ‘হামাসের হামলার জবাবে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যে সামরিক অভিযান চালিয়েছেন তা হিটলার যা করেছিল তার চেয়ে কোনো অংশে কম নয়।’
জবাবে নেতানিয়াহু বলেন, ‘এরদোগান, যিনি কুর্দিদের বিরুদ্ধে গণহত্যা সঙ্ঘটিত করেন এবং যিনি তার শাসনের বিরোধিতা করায় সাংবাদিক বন্দীর ক্ষেত্রে বিশ্বরেকর্ড করেন, তিনিই হলেন শেষ ব্যক্তি যিনি আমাদের নৈতিকতা শেখাচ্ছেন।’
গাজা উপত্যকার পরিস্থিতি নিয়ে ইসরাইলের বিরুদ্ধে সমালোচনা বাড়ছে। জাতিসঙ্ঘ সমর্থিত এক পর্যালোচনায় দেখা গেছে গত মাসে ১১ লাখ মানুষ তীব্র ক্ষুধায় জর্জরিত ছিল এবং এ মাসের মধ্যে গাজার উত্তরাঞ্চলে দুর্ভিক্ষের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউস বলেছে, গাজা উপকূলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী যে বন্দর নির্মাণ করেছে ত্রাণ প্রবাহ বাড়ানোর জন্য সেটি কয়েক দিনের মধ্যেই উন্মুক্ত করে দেয়া হবে।
ভাসমান ওই বন্দরে নৌযান ও লোকজনের কাজের ছবিও প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তার কাছেই নৌবাহিনীর জাহাজ ছিল।
যদিও জাতিসঙ্ঘ বলেন, সামুদ্রিক করিডোর কখনো স্থলপথে ত্রাণ সরবরাহের বিকল্প হতে পারে না। আর সড়কপথ হলো একমাত্র উপায় যেখানে একসাথে অনেক পরিমাণ ত্রাণ নেয়া যায়।
এর আগে, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর বারবার অনুরোধের প্রেক্ষাপটে চলতি সপ্তাহে গাজার উত্তরাঞ্চলে ত্রাণ সরবরাহের জন্য ইসরাইল ইরেয ক্রসিং আবার খুলে দিয়েছে।
তবে জর্ডান বলেছে, তাদের কিছু ত্রানবাহী লরি ওই ক্রসিং পার হওয়ার সময় ইসরাইলি বাহিনীর হামলার শিকার হয়েছে।
জাতিসঙ্ঘের রিপোর্ট বলছে, গাজার মানবিক বিপর্যয় একটি মানব সৃষ্ট দুর্ভিক্ষে রূপান্তরিত হতে যাচ্ছে।
জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকারবিষয়ক সিনিয়র কর্মকর্তা ভলকার তুর্ক বলেন, এটা এখন ‘বিশ্বাসযোগ্য’ যে ইসরাইল ক্ষুধাকে গাজা যুদ্ধে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে।
ইসরাইল ত্রাণ সরবরাহ সীমিত করার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। দেশটি গাজায় যাদের প্রয়োজন তাদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণে ব্যর্থতার অভিযোগ এনেছে জাতিসঙ্ঘের বিরুদ্ধে।
৭ অক্টোবরের হামলার প্রতিক্রিয়ায় হামাসকে ধ্বংস করতে গাজায় ইসরাইল যে সামরিক অভিযান চালিয়েছে তাতে ৩৪ হাজার ৫০০ মানুষের মৃত্যুর খবর দিয়েছে হামাস পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এর আগে, হামাসের হামলায় ইসরাইলে এক হাজার ২০০ মানুষ নিহত হয়েছিল এবং তারা আরো ২৫৩ জনকে পণবন্দী করেছিল।
মধ্যস্থতাকারীরা এখন যুদ্ধবিরতি নিয়ে সবশেষ আসা প্রস্তাবের বিষয়ে হামাসের প্রতিক্রিয়ার জন্য অপেক্ষা করছে।
খবর অনুযায়ী, এবারের প্রস্তাবে ৪০ দিনের যুদ্ধবিরতির কথা বলা হয়েছে এবং এর বিনিময়ে ইসরাইলি বন্দী ও ফিলিস্তিনি কিছু বন্দী মুক্তি পাবে।
সূত্র : বিবিসি
নানা নাটকীয়তার পর মুক্তি পেলেন মাওলানা মামুনুল হক
গতকাল দুপুর থেকে আজ সকাল পর্যন্ত নানা নাটকীয়তার পর অবশেষে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন মাওলানা মামুনুল হক।
শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে তিনি কারাগার থেকে বের হন। কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার সুব্রত কুমার বালা এ তথ্য জানিয়েছেন।
পাশাপাশি তার মুক্তির বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন তার ভাগিনা ও জামিয়া রাহমানিয়া আজিজিয়ার শিক্ষক মাওলানা ইহসানুল হক।
তিনি লিখেছেন, ‘ইবনে শাইখুল হাদীস মুক্ত পৃথিবীতে। আলহামদুলিল্লাহ।’
একইসাথে মাওলানা মামুনুল হকের ছেলে মাওলানা যিমামুল হকও তার বাবার মুক্তির বিষয়টি ফেসবুকে পোস্ট করে নিশ্চিত করেছেন। এই নিউজে ব্যবহৃত ছবিটি শেয়ার করে মাওলানা যিমাম লিখেছেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ’।
এর কিছুক্ষণ পর তিনি একটি ভিডিও-ও শেয়ার করেছেন। সেখানে দেখা যাচ্ছে- স্বজনদের সাথে কারাফটক থেকে বেরিয়ে আসছেন মাওলানা মামুনুল হক।
হেফাজতে ইসলামের বিলুপ্ত কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম-মহাসচিব এবং ঢাকা মহানগরীর সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মামুনুল হক কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে দীর্ঘ দিন যাবত বন্দী হিসেবে ছিলেন। অবশেষে শুক্রবার বেলা ১১টার কিছু্ক্ষণ আগে তার মুক্তি হলো।
এদিকে, গতরাত ১১টার দিকেই তার মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল কিন্তু কারাফটকে ভক্তদের অধিক ভীড় থাকার কারণে তার মুক্তি বিলম্বিত হয়।
আদমকে হত্যা : যুদ্ধাপরাধে ফেঁসে যাবে ইসরাইল!
গত বছরের ২৯ নভেম্বর বিকেলের দিকে অধিকৃত পশ্চিম তীরের কয়েকটি ফিলিস্তিনি বাচ্চা ছেলে তাদের সামনের রাস্তায় খেলতে নেমে এসেছিল। ওখানে তারা প্রায়ই একসাথে খেলত।
কয়েক মিনিট পরেই ওই বাচ্চাদের মধ্যে দুজন ইসরাইলি সেনাদের ছোঁড়া গুলিতে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। নিহত ওই দুজন ছিল ১৫ বছর বয়সী বাসিল ও ৮ বছরের আদম।
জর্ডান নদীর পশ্চিম তীর বা ‘ওয়েস্ট ব্যাংক’ সামরিক দখলদারির অধীনে আছে বিগত অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় ধরে। সেখানে ইসরাইলের নিরাপত্তা বাহিনী কী ধরনের আচরণ করে থাকে, তা নিয়ে বিবিসির করা একটি তদন্তের অংশ হিসেবে যে দিন ওই বাচ্চা দুটি মারা যায়, সে দিন ঠিক কী কী ঘটেছিল তার ঘটনাক্রমগুলো জোড়া দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।
ওই ঘটনাটি সংক্রান্ত যাবতীয় মোবাইল ফোন ও সিসিটিভি ফুটেজ, ইসরাইলের সেনাবাহিনীর গতিবিধি নিয়ে তথ্য, প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য ও ঘটনাস্থলের মাপজোখসহ বিস্তারিত পর্যবেক্ষণ – এগুলো সব একত্রিত করে যে সাক্ষ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে, তাতে ওই ঘটনায় গুরুতর মানবাধিকাল লঙ্ঘন হয়েছিল বলেই প্রতীয়মান হয়।
বিবিসি যে সব সাক্ষ্যপ্রমাণ পেয়েছে, তা দেখে জাতিসঙ্ঘ মানবাধিকার ও কাউন্টার-টেররিজম বিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি বেন সল পর্যন্ত বলেছেন, আদম নামে বাচ্চাটির মৃত্যু ‘যুদ্ধাপরাধ’ বলেই মনে হচ্ছে।
আরেকজন আইন বিশেষজ্ঞ ড: লরেন্স হিল-কওথর্ন বলেছেন, যেভাবে প্রাণঘাতী শক্তির প্রয়োগ করা হয়েছে তা ছিল ‘নির্বিচার’।
ইসরাইল ডিফেন্স ফোর্স বা আইডিএফ জানিয়েছে কোন পরিস্থিতিতে এই মৃত্যুগুলো ঘটেছে তা ‘পর্যালোচনা করা হচ্ছে’। তবে সেই সঙ্গেই তারা বলেছে, ‘লাইভ ফায়ার (আগ্নেয়াস্ত্র) তখনই ব্যবহার করা হয় যখন কোনো আশু বিপদের মোকাবেলা করতে হয়। এছাড়া কাউকে গ্রেফতার করার সময় অ্যারেস্ট প্রোটোকল অনুযায়ী বাকি সব উপায় বন্ধ হয়ে গেলে তখনো করা হয়।’
গত ৭ অক্টোবর গাজা থেকে ইসরাইলের বিরুদ্ধে হামাসের চালানো হামলার পর থেকে পশ্চিম তীরেও সহিংসতা তীব্র আকার নিয়েছে। সেখানে ফিলিস্তিনিদের বাড়িতে গ্রাফিতি এঁকে ভাঙচুর চালানো হচ্ছে, বেসামরিক ফিলিস্তিনিদের অস্ত্র দিয়ে ভয় দেখানো হচ্ছে আর ওই এলাকা ছেড়ে প্রতিবেশী জর্ডানে চলে যেতে বলা হচ্ছে এবং ফিলিস্তিনি একজন বন্দুকধারীর লাশ খুঁচিয়ে ক্ষতবিক্ষত করে দেয়া হয়েছে – বিবিসি এগুলোরও প্রমাণ পেয়েছে।
২৯ নভেম্বরের ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, বাসিল দাঁড়িয়ে ছিল একটি হার্ডওয়ার দোকানের সামনে, যেটির শাটার নামানো ও তালা বন্ধ করা ছিল। পশ্চিম তীরের জেনিন শহরে যখনই ইসরাইলি সেনাবাহিনী আসে, আশেপাশের দোকানগুলো হুড়মুড় করে বন্ধ হয়ে যায়। পশ্চিম তীর কিন্তু গাজার মতো হামাস নিয়ন্ত্রিত এলাকা নয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, কাছেই জেনিন শরণার্থী শিবিরে ইসরাইলি সেনাবাহিনীর চালানো অভিযান থেকে আসা গোলাগুলির শব্দ শোনা যাচ্ছিল।
লিওনেল মেসির বিরাট ভক্ত আর ফুটবল-পাগল আদম দাঁড়িয়ে ছিল তার বড় ভাই বাহার সাথে, যার বয়স ১৪। সে দিন রাস্তায় মোট ৯টির মতো ছেলে ছিল, যাদের সবাইকে সিসিটিভি ক্যামরার ফুটেজে দেখা গেছে। এরপর যা ঘটেছিল, ওই ক্যামেরাতে তার প্রায় ৩৬০-ডিগ্রি ভিউও ধরা পড়েছে।
কয়েক শ’ মিটার দূরে তখন গোটাছয়েক সশস্ত্র ইসরায়েলি সামরিক যানের একটি বহর ছিল। হঠাৎই অভিমুখ পাল্টে ওই সেনাবহরটি বাচ্চাগুলোর দিকে এগিয়ে আসতে থাকে। ওই বাচ্চারা স্পষ্টতই অস্বস্তিতে ভুগতে শুরু করে, কয়েকজন দূরেও সরে যেতে থাকে।
ঠিক এই মুহূর্তে তোলা মোবাইল ফোনের ফুটেজে পরে দেখা গেছে, একটি সশস্ত্র সেনা যানের সামনের দরজাটি খুলে যায়। ভেতরে যে সেনা সদস্য ছিল তার একেবারে চোখের সামনে চলে আসে বাচ্চাগুলো। বাসিল তখন রাস্তার একেবারে মাঝখানে, আর অ্যাডাম ওই সৈন্যদের থেকে মাত্র ১২ মিটার দূরে– দৌড়ে পালাচ্ছে।
এরপর কম করে হলেও পর পর ১১টা গুলির শব্দ পাওয়া যায়।
পরে ঘটনাস্থল পরীক্ষা করে বিবিসি দেখতে পেয়েছে, ওই বুলেটগুলো অনেকটা এলাকাজুড়ে আঘাত করে। চারটি বুলেট আঘাত করে একটি ধাতব পোলে, দুটি বুলেট হার্ডওয়ার স্টোরের শাটারে লাগে, পার্ক করা একটি গাড়ির বাম্পার ফুঁড়ে চলে যায় একটি বুলেট– এবং আরো একটি ছেদ করে দেয় একটি হ্যান্ডরেইল।
বিবিসির হাতে পরে যে মেডিক্যাল রিপোর্ট এসেছে তাতে দেখা গেছে, দুটি গুলি সোজা একদম বাসিলের বুক ভেদ করে দেয়।
আর একটি গুলি আট বছর বয়সী অ্যাডামের মাথার পেছন দিকে এসে লাগে, কারণ সে দৌড়ে পালাচ্ছিল। তার বড় ভাই বাহা মরিয়া হয়ে তাকে টেনে আড়াল করার চেষ্টা করেছিল … রাস্তায় রক্তের ধারা বয়ে যায়, বাহা চিৎকার করে একটা অ্যাম্বুলেন্স ডাকার চেষ্টা করে যায়।
কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। বাহা পরে বলেছে, আদম আর তার বন্ধু বাসিল তার চোখের সামনে মারা যায়।
‘আমি একদম হতবিহ্বল হয়ে পড়েছিলাম। নিজের কথা তখন আমার মনেই নেই, আমি শুধু তার সাথে কথা বলার চেষ্টা করে যাচ্ছি। ‘আদম, আদম’ বলে কত ডাকলাম– কিন্তু ওর প্রাণ ততক্ষণে শরীর ছেড়ে চলে গেছে, সে আর সাড়াই দিলো না!’, চোখের পানিতে ভাসতে ভাসতে বাহা পরে বিবিসিকে বলেছে।
গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঠিক আগে বাসিলের ছবিতে দেখা গেছে, সে কিছু একটা হাতে ধরে ছিল। জিনিসটা ঠিক কী তা অবশ্য স্পষ্ট নয়। আইডিএফ পরে ঘটনাস্থলে নেয়া একটি ছবি শেয়ার করেছে, এবং তারা বলেছে, ওই জিনিসটি ছিল বিস্ফোরক-ভরা বা এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস।
ঘটনাস্থল পরীক্ষা করে আমরা যে সব সাক্ষ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করেছি তা বেশ কয়েকজন স্বাধীন বিশেষজ্ঞকে দেখানো হয়েছে, যাদের মধ্যে মানবাধিকার আইনজীবীরা, যুদ্ধাপরাধের তদন্তকারী ও একজন কাউন্টার-টেররিজম বিশেষজ্ঞও ছিলেন। এছাড়া জাতিসঙ্ঘসহ বিভিন্ন নিরপেক্ষ সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গেও তা শেয়ার করা হয়েছে। অনেকে তাদের মতামত দিয়েছেন নিজের নাম প্রকাশ না-করার শর্তে।
এই বিশেষজ্ঞরা একমত হয়েছেন যে এই ঘটনার তদন্ত হওয়া উচিত। কয়েকজন আবার আরো এক ধাপ এগিয়ে বলেছেন, দেখে মনে হচ্ছে এখানে আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন ঘটেছে।
জাতিসঙ্ঘ মানবাধিকার ও কাউন্টার-টেররিজম বিষয়ক স্পেশাল র্যাপোর্টিয়র বেন সল বলেছেন, বাসিল যদি কোনো এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস হাতে ধরে থাকে, তাহলে তার ক্ষেত্রে আইনসম্মতভাবে প্রাণঘাতী শক্তির প্রয়োগ করা হয়েছে কি না সেটা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।
‘আদমের ক্ষেত্রে এটাকে আন্তর্জাতিক মানবিকতা আইনের লঙ্ঘন বলেই মনে হচ্ছে, কারণ ইচ্ছাকৃতভাবে, নির্বিচারে ও অসঙ্গতিপূর্ণভাবে বেসামরিক মানুষের ওপর আক্রমণ চালানো হয়েছে– যেটা একটা যুদ্ধপরাধ এবং মানুষের বেঁচে থাকার অধিকারের লঙ্ঘন’, বলেছেন সল।
ইউনিভার্সিটি অব ব্রিস্টলে সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল ল-র কো-ডিরেক্টর ড: লরেন্স হিল-কওথর্ন বলছেন, ‘ওই সৈন্যরা ছিল সশস্ত্র সামরিক যানে। যদি তাদের সামনে কোনও হুমকি থেকেও থাকে, তাদের উচিত ছিল সে দিকে ধাওয়া করে গিয়ে তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা করা। তার বদলে আপাতদৃষ্টিতে নির্বিচারে যদি প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগ হয় সেটা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন।’
আইডিএফ বলেছে, ওই সন্দেহভাজনরা তাদের সৈন্যদের লক্ষ্য করে বিস্ফোরক ছুঁড়তে যাচ্ছিল– যাতে তারা তক্ষুণি প্রবল বিপদের মুখে পড়ত। ‘আমাদের সৈন্যরা গুলিবর্ষণ করে তার জবাব দেয় এবং তাদের সেই ‘হিট’গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে’, বলেছে ইসরাইলের সামরিক বাহিনী।
কিন্তু আমরা বিবিসির পক্ষ থেকে পরে যে ভিডিও প্রমাণ খুঁটিয়ে দেখেছি এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য পেয়েছি, তা থেকে দেখা যাচ্ছে আদম মোটেও সশস্ত্র ছিল না এবং সে যখন দৌড়ে পালাচ্ছিল, তখন তার মাথার পেছন দিকে গুলি করা হয়।
আইডিএফ বলেছে, কী পরিস্থিতিতে আদম ও বাসিলের মৃত্যু হয়েছে তা ‘পর্যালোচনা করা হচ্ছে’। আইডিএফের কর্মকাণ্ডের ফলে পশ্চিম তীরে যদি কোনো শিশুর মৃত্যু হয় তাহলে সেরকম প্রতিটি ক্ষেত্রেই তারা রুটিনের মতো এই কাজটি করে থাকে।
তবে ইসরাইলি সেনাবাহিনীর অনেক সাবেক সদস্য– যারা বিবিসির সংগ্রহ করা ওইসব সাক্ষ্যপ্রমাণ দেখেছেন– তারা জানাচ্ছেন, ইসরাইলের আইনি ব্যবস্থা ওই সৈন্যদেরই রক্ষা করবে বলে তাদের বিশ্বাস, সে তাদের প্রাণঘাতী শক্তির প্রয়োগ সমীচিন হোক বা না হোক!
একজন সাবেক সার্জেন্ট, যিনি ২০১৮-২০২০ সালের মধ্যে পশ্চিম তীরে মোতায়েন ছিলেন, তিনি বলেন, “একজন ইসরাইলি সেনা সদস্য যদি একজন ফিলিস্তিনিকে জিরো রেঞ্জে গুলি করে মারেন, তবেই কেবল ইসরাইলে সেটা ‘হত্যা’ বলে গণ্য হবে।” সেই সাথেই তিনি বলেন, ‘যে ধরনের ঘটনায় অ্যাডামের মৃত্যু হয়েছে সেরকম ঘটনায় একজন সৈন্যের বিরুদ্ধে ফৌজদারি তদন্তের সম্ভাবনা কার্যত শূন্য শতাংশ!’
ইসরাইলি মানবাধিকার সংগঠন ‘ইয়েশ দিনে’র তথ্য থেকেও দেখা যায়, ইসরাইলের সৈন্যদের বিরুদ্ধে যে সব অভিযোগ ওঠে সেগুলোর ১ ভাগেরও কম ক্ষেত্রে বিচার হয়!
গত ৭ অক্টোবর হামাসের যে হামলায় প্রায় ১২০০ মানুষ নিহত হয়েছিলেন ও ২৫৩ জনকে পণবন্দী করা হয়েছিল, সেই ঘটনার ফুটেজ ইসরাইলের মানুষকে ক্রুদ্ধ করে তুলেছিল, স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিল সারা বিশ্বও। সেই তখন থেকেই বিশ্বের মনোযোগ গাজার যুদ্ধ ও সেখানকার মানবিক সঙ্কটের দিকেই কেন্দ্রীভূত। গাজা ভূখণ্ডে হামাস-নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেয়া হিসেব অনুযায়ী সেখানে এ পর্যন্ত ৩৪,০০০ লোক নিহত হয়েছেন।
এর পাশাপাশি ওই একই সময়ে অধিকৃত পশ্চিম তীরেও ইসরাইলের সামরিক অভিযান বৃদ্ধি পেয়েছে। যার ফলে সেখানকার শিশুদের জন্য গত বছরটি সবচেয়ে প্রাণঘাতী বছর হিসেবে প্রতিপন্ন হয়েছে।
ইউনিসেফের তথ্য অনুসারে, ২০২৩ সালে সেখানে মোট ১২৪ শিশু নিহত হয়েছে– যার মধ্যে ৮৫ জনই মারা গেছে ৭ অক্টোবরের পর।
আর ২০২৪ সালে ওই অঞ্চলে ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারী বা সেনাবাহিনীর হাতে মোট ৩৬ জন ফিলিস্তিনি শিশু নিহত হয়েছে।
পশ্চিম তীরকে যেহেতু ‘ওয়ার জোন’ বা যুদ্ধক্ষেত্র হিসেবে গণ্য করা হয় না, তাই আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী সেখানে বলপ্রয়োগের ক্ষেত্রে আরো বেশি সংযম দেখানোর কথা।
আইডিএফের ‘রুলস অব এনগেজমেন্ট’টা আসলে ঠিক কী, সেটা তারা কখনো প্রকাশ করে না। তবে ইসরাইলি সেনাবাহিনীর সাবেক ও কর্মরত সদস্যরা বিবিসিকে জানিয়েছেন, প্রাণঘাতী শক্তির ব্যবহারকে একটা ‘শেষ রাস্তা’ হিসেবেই দেখার কথা– যখন সৈন্যদের জীবনের ওপর সত্যিকারের ও আশু বিপদ থাকে। এক্ষেত্রে ‘অ্যাপ্রোচ’টা হওয়া উচিত পর্যায়ক্রমিক, বা ধাপে ধাপে।
তারা বলছেন, এটা শুরু হয় প্রথমে আরবি ও হিব্রু ভাষায় মৌখিকভাবে সতর্ক করার মধ্যে দিয়ে। তাতে না-হলে কাঁদানে গ্যাসের মতো প্রাণঘাতী নয়, এমন হাতিয়ার ব্যবহার করা হয়। তারপর পায়ে গুলি করা হয়, আর হত্যার জন্য গুলি চালানোটা একেবারে শেষ ধাপ।
পশ্চিম তীরে ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের জানুয়ারির মধ্যে ইসরাইলের গুলিতে মারা গেছে, ২ থেকে ১৭ বছর বয়সী এমন মোট ১১২টি বাচ্চার মেডিক্যাল রিপোর্ট প্যালেস্টিয়ান অথরিটি পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সুবাদে বিবিসি দেখতে পেয়েছে। এই সব গুলিচালনার ঘটনাগুলো ঠিক কী পরিস্থিতিতে ঘটেছে, তার সব আমরা জানতে না-পারলেও এটা খুবই সম্ভব যে কয়েকটি ক্ষেত্রে ইসরাইলি সৈন্যদের জীবনের ওপর সত্যিকারের হুমকি ছিল।
তবে আমাদের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এগুলোর মধ্যে ৯৮ ভাগ ক্ষেত্রেই আঘাত ছিল তাদের শরীরের উপরের অংশে, যেখানে গুলি লাগলে না বাঁচার সম্ভাবনাই বেশি। এর অর্থ হলো, এই ধরনের বেশির ভাগ ঘটনায় গুলিতে আহত করার বদলে প্রাণ কেড়ে নেয়াই ছিল সৈন্যদের উদ্দেশ্য।
ফলে পশ্চিম তীরে ইসরাইলি সৈন্যরা তাদের ‘রুলস অব এনগেজমেন্ট’ আদৌ অনুসরণ করছেন কি না এবং প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের ক্ষেত্রে কী ধরনের সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে, তা নিয়ে যথারীতি প্রশ্ন উঠছে।
পশ্চিম তীরে এই সামরিক অভিযানগুলোর কী প্রভাব পড়ছে, তা নিয়ে পাঁচ সপ্তাহ সময়কাল ধরে খতিয়ে দেখার পর আমরা এমন বহু ঘটনার প্রমাণ পেয়েছি, যা সেনাবাহিনীর আচরণ নিয়ে খুব গুরুতর প্রশ্ন তুলে দেয়।
২০২৪-এর জানুয়ারি মাসে তুলকার্ম শরণার্থী শিবিরে ইসরাইলের একটি ৪৫ ঘণ্টাব্যাপী সামরিক অভিযানও বিবিসি প্রত্যক্ষ করেছে, যেখানে তারা একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীকে আক্রমণের নিশানা করেছিল। স্থানীয়ভাবে ওই গোষ্ঠীটি ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স’ নামে পরিচিত।
ওই অভিযানের পর বহু ফিলিস্তিনি আমাদের বলেছেন, সৈন্যরা বন্দুকের নলের সামনে ধরে তাদের হুঁশিয়ারি দিয়েছে এবং পার্শ্ববর্তী জর্ডানে চলে যেতে বলেছে। আইডিএফ জানিয়েছে যে বেসামরিক লোকজনকে হুমকি দেয়া হয়েছে, এরকম কোনো অভিযোগ এলে তারা খতিয়ে দেখবে।
হেথাম নামে ১২ বছর বয়সী একটি কানাডিয়ান-ফিলিস্তিনি বাচ্চা ছেলে জানিয়েছে যে তাকে একজন ইসরায়েলি সৈন্য গলায় ছুরি ধরে হুঁশিয়ারি দিয়েছে। হেথামের বাবা ও ভাইও তার এই বক্তব্যকে সমর্থন করেছেন।
ওই ক্যাম্পে একটি পরিবারের বাসায় আমরা দেখেছি আল-আকসা মসজিদের একটি ম্যুরালকে ছিন্নভিন্ন করা হয়েছে– যেটি ইসরাইলি সৈন্যদেরই কাজ বলে তারা বলছেন। আল-আকসা মসজিদকে ইসলামের তৃতীয় পবিত্রতম তীর্থস্থান বলে গণ্য করা হয়।
পাশের একটি দেয়ালে স্প্রে-পেইন্ট করে আঁকা ছিল ‘স্টার অব ডেভিডে’র চিহ্ন। আরেকটিতে হিব্রু ভাষায় লেখা ছিল ‘৭ অক্টোবর’– স্পষ্টতই হামাসের হামলার প্রসঙ্গ টেনে আনতে।
ইসরাইলের সামরিক বাহিনী বলেছে যে এই ধরনের ভ্যান্ডালিজম ‘আইডিএফ মূল্যবোধের পরিপন্থী’ এবং তারা তাদের সৈন্যদের কাছ থেকে এরকম আচরণ প্রত্যাশা করে না।
১২ বছর বয়সী হেথাম বলে যে সৈন্যরা তাদের বাড়িতে ‘সব কিছু’ ভেঙে খানখান করে দিয়েছে এবং ওই সৈন্যদেরই একজন তার গলায় ছুরি ধরে হুমকি দিয়েছে।
তাদের বাড়ির দোতলায় সব ছত্রখান করা হয়েছে, কিচেন ক্যাবিনেটগুলো ভেঙে চুরমার করা হয়েছে, বাচ্চাদের খেলনাগুলো ছুঁড়ে নষ্ট করে ফেলা হয়েছে, টেলিভিশন সেটটাও আস্ত নেই। গোটা ক্যাম্প জুড়ে একটার পর একটা বাড়িতে হুবুহু এই একই দৃশ্য।
জেরুজালেমে ডায়াকোনিয়া ইন্টারন্যাশনাল হিউম্যানিটারিয়ান ল সেন্টারের সিনিয়র আইন বিশেষজ্ঞ ড: এইটান ডায়মন্ড বলছেন, ‘এই ধরনের ভ্যান্ডালিজম, যেমন দেয়ালে স্প্রে করে স্টার অব ডেভিড বা ‘৭ অক্টোবর’ আঁকা– এগুলো পরিষ্কার বেআইনি।’
তুলকার্ম ক্যাম্পে একটি শিশুর সামনে ছুরি ধরে, কিংবা আরো অনেককে বন্দুকের নলের সামনে যেভাবে হুমকি দেয়া হয়েছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে– সেটাও আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
আইডিএফের ওই একই অভিযানে সৈন্যরা একজন সন্দেহভাজন ফিলিস্তিানি যোদ্ধাকেও গুলি করে মারে, যে হয়তো নিজের শরীরে বিস্ফোরক বহন করছিল। প্রত্যক্ষদর্শীরা আমাদের বলেছেন, এরপর তার শরীরে মূত্রত্যাগ করা হয়, বারবার আঘাত করা হয় এবং শেষে বেঁধে ফেলে রাস্তা দিয়ে লাশটা টানতে টানতে নিয়ে যাওয়া হয়।
বিবিসিকে একটি বেঁধে ফেলা লাশের ছবিও দেখানো হয়েছিল। রক্তের দাগ লেগে থাকা ছবির ওই জায়গাটি ভালো করে খুঁটিয়ে দেখে আমরা দেখতে পাই কাপড়ের টুকরো আর তার তখনও সেখানেই পড়ে আছে। ছবিতে যে ধরনের জিনিস দিয়ে লাশটিকে বাঁধা হয়েছে, পড়ে থাকা জিনিসগুলোও তার সাথে মিলে যায়।
আমাদের এই সব সাক্ষ্যপ্রমাণও স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের কাছে পেশ করা হয়। ইউনিভার্সিটি অব জেনেভা-তে আন্তর্জাতিক আইনের একজন বিশেষজ্ঞ প্রফেসর মার্কো সাসোলি বলেন, ‘যদি ধরেও নিই একজনকে আইনসম্মতভাবেই হত্যা করা হয়েছে, তার পরেও নিহতের লাশকে অবশ্যই মর্যাদা দিতে হবে। আপনারা যা বলছেন সেটা আন্তর্জাতিক মানবিকতা আইনের লঙ্ঘন, এমন কী তা যুদ্ধাপরাধের পর্যায়েও পড়তে পারে।’
আইডিএফ বলেছে, ওই নিহত যোদ্ধার লাশ পরীক্ষা করে তাতে বিস্ফোরক পাওয়া যায় এবং রেড ক্রেসেন্টের কর্মীরাও ওই লাশটি ছুঁতে অস্বীকার করে। ‘এই কারণেই আইডিএফ সেনারা নিজেদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং তার শরীরের নিচে আরো কোনো অস্ত্রশস্ত্র রাখা আছে কি না তা দেখতে তার হাত ও পা-দুটো বেঁধে ফেলতে বাধ্য হয়’, জানিয়েছে তারা।
যে সাবেক ইসরাইলি সেনারা বিবিসির এই সব সাক্ষ্যপ্রমাণ পর্যালোচনা করেছেন তাদের মধ্যে কয়েকজন বলেছেন, তারা এটা ভেবে আতঙ্কিত যে পশ্চিম তীরে আইডিএফ অভিযানের এই ধরনের সংস্কৃতি ফিলিস্তিনিদের সশস্ত্র প্রতিরোধকে আরো উসকে দেবে।
এদেরই একজনের কথায়, ‘ফিলিস্তিনিদের রোজ যেভাবে সেনাবাহিনীর সঙ্গে মোকাবিলা করতে হয়, তারপরও তারা স্বাভাবিক জীবনযাপন করে যাবে যেন কিছুই হয়নি– এবং এই বাস্তবতার মধ্যে বাস করা লোকগুলো হাতে অস্ত্র তুলে নেবে না– এটা ধরে নেয়াটা আসলে খুবই বোকার মতো চিন্তাভাবনা, আর সেটা মানবিকতার ভাবনা বিবর্জিতও বটে!’
অবস্থা আসলে ক্রমশই আরো খারাপের দিকে যাচ্ছে!’
সূত্র : বিবিসি


