Home Blog Page 600

আ’লীগ গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না : মির্জা ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমি বারবারই বলি আওয়ামী লীগের একটি সমস্যা আছে, এটি হচ্ছে চরিত্রগত বৈশিষ্ট্য। বরাবরই তারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না।

মঙ্গলবার বিএনপি প্রশিক্ষণ সেল -এর উদ্যোগে নারী নেতৃত্ব অগ্রগতি বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ১৯৪৭ সালের পর থেকে পাকিস্তান তারপর বাংলাদেশ। এদেশে বারবার গণতন্ত্রের চর্চা ব্যর্থ হয়েছিল। অত্যন্ত দুঃখজনক ব্যাপার, যে জন্য ১৯৭১ সালে আমরা যুদ্ধ করেছিলাম। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করার জন্য। সেই গণতন্ত্র চর্চা ধ্বংস করেছে তখন ক্ষমতায় ছিল আওয়ামী লীগ। এটা পরিষ্কার কথা এবং তারা একের পর এক আইন তৈরি করেছিল ক্ষমতায় থাকার জন্য যখন জনগণ তাদের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছিল।

আওয়ামী লীগ বরাবরই গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না অভিযোগ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, তারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না। ওরা একনায়কতন্ত্র বিশ্বাসী। ওরাভাবে আর কেউ নেই। ১৯৭৪ সালের তারা সকল দলকে নিষিদ্ধ করে একটি মাত্র দল রেখেছিল। তারা প্রচার মাধ্যম বন্ধ করে রেখেছিল। মানুষের মানবিক অধিকার কেড়ে নিয়েছিল।

তিনি বলেন, ‘আমাদের মন মানসিকতায় যদি ডেমোক্রেসি না থাকে তাহলে আমরা কেউ ডেমোক্রেসি প্রতিষ্ঠা করতে পারবো না। এটি হচ্ছে মন মানসিকতার বিষয়। এক্ষেত্রে আমাদেরকে সহনশীল হতে হবে। সকলের মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা দিতে হবে। দুর্ভাগ্য আমাদের সেই জাতি হিসেবে, যখন আমি আপনাদের সাথে কথা বলছি সেই মুহূর্তে এদেশে গণতন্ত্র নেই। একইভাবে এই দেশে যতগুলো রাজনৈতিক দল আছে তাদের যে গণতান্ত্রিকি স্পেস সেগুলো ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে।

অনলাইন প্ল্যাটফর্মে জুয়ার বিজ্ঞাপন বন্ধে হাইকোর্টের নির্দেশ

অনলাইন প্ল্যাটফর্মে জুয়ার বিজ্ঞাপন প্রচার করা ওয়েবসাইট বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ সংক্রান্ত রিট পিটিশনে আনা আবেদনে বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের ও বিচারপতি মোহাম্মদ শওকত আলী চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত একটি হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ আজ এই নির্দেশ দেন।

আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী কামাল হোসেন মিয়াজী। তিনি আদেশের বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করে জানান, বিটিআরসিকে এই বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। একইসাথে বিকাশ, নগদ, রকেট, এমক্যাশসহ মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবহার করে যাতে জুয়া খেলার অর্থ পরিশোধ করতে না পারে, বাংলাদেশ ব্যাংককে বিষয়টি নিয়ে নির্দেশনা জারি করতে বলা হয়েছে।

এর আগে এ সংক্রান্ত রিটের পরিপ্রেক্ষিতে টিভি চ্যানেল ও সব অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে জুয়ার বিজ্ঞাপন অপসারণ ও প্রচার বন্ধে ব্যর্থতা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না-তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর ওই রুল জারি করা হয়, যা এখনো বিচারাধীন। সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী মিফতাউল আল ও সুমিত কুমার সরকার রিটটি দায়ের করেন।

বেসরকারি একটি টিভি চ্যানেলে সব ধরনের জুয়ার সাইটের বিজ্ঞাপন প্রচার বন্ধ করতে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছিলেন সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী খন্দকার হাসান শাহরিয়ার এবং ঢাকা জজকোর্টের আইনজীবী ইসমাতুল্লাহ লাকী তালুকদার। গত বছরের ১১ ডিসেম্বর ওই নোটিশ পাঠানো হয়। সূত্র : বাসস

ডিএমপি থেকে সমাবেশ করার মৌখিক আশ্বাস পেয়েছে বিএনপি

রাজধানীর নয়াপল্টনে আগামী বুধবার (১২ জুলাই) সমাবেশ করতে আবেদন করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনারের কাছ থেকে মৌখিক আশ্বাস পেয়েছে বিএনপি।

সোমবার (১০ জুলাই) দুপুর ২টার দিকে ডিএমপির প্রধান কার্যালয়ে কমিশনারের সাথে দেখা করে বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল।

প্রতিনিধি দলে ছিলেন বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য সচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভুঁইয়া। তারা ডিএমপি কমিশনারের কাছে সমাবেশের জন্য লিখিত আবেদন দেন। তখন কমিশনার সমাবেশ করতে তাদের মৌখিক আশ্বাস দেন।

ডিএমপির প্রধান কার্যালয় থেকে বের হয়ে শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, সরকারের পদত্যাগ ও নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের দাবিতে আগামী বুধবার বিএনপির নয়াপল্টন কার্যালয়ের সামনে আমরা সমাবেশের আহ্বান জানিয়েছি। এ প্রসঙ্গে বিএনপি কমিশনারের সাথে আমাদের কথা হয়েছে। আমরা সহযোগিতা চেয়েছি। আমরা আশাবাদী, পুলিশ আমাদের সহযোগিতা করবে।

শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, আমরা আশা করছি, এ দেশের জনগণকে সম্পৃক্ত করে এ সমাবেশকে আমরা সফল করতে পারব।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সমাবেশের অনুমতি চেয়ে আমরা লিখিত আবেদন দিয়েছি, কমিশনার আমাদের মৌখিকভাবে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।

সমাবেশের অনুমতি না পেলে কি করবেন জানতে চাইলে এ্যানি বলেন, এটা আমাদের রাজনৈতিক সমাবেশ। এখানে অনুমতি নেয়ার কোনো বিষয় নেই। আমরা সহযোগিতা চাইতে এসেছিলাম, তারা আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন।

এক কাঁঠালের নিলাম নিয়ে সংঘর্ষে নিহত ৩, আহত ৪০

সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার জয়কল ইউনিয়নের হাসনাবাজ গ্রামে মসজিদে দানকৃত ১টি কাঠাল নিলামে তোলা এবং দাম হাকাঁনো নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে দু’পক্ষের সংঘর্ষে তিনজন নিহত এবং উভয়পক্ষের ৪০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

সোমবার (১০ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে হাসনাবাজ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত ব্যক্তিরা হলেন হাসনাবাজ গ্রামের মৃত ছুফি মিয়ার ছেলে মো: বাবুল মিয়া (৫৮), একই গ্রামের নুরুল ইসলাম (৪২) ও আব্দুল বাছিতের ছেলে মো: শাহজাহান(৩৬)। তাৎক্ষণিক আহতদের নাম ও পরিচয় জানা যায়নি। খবর পেয়ে শান্তিগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, হাসনাবাজ গ্রামের মসজিদে এক ব্যক্তি একটি কাঠাল দান করেন। মসজিদে গ্রামবাসীর উপস্থিতিতে এই কাঠালটি নিলামে তোলা হয় এবং দাম হাকাঁনো হয়। এতে গ্রামের দ্বীন ইসলামের পক্ষের লোকজন দামের কথা শুনা যাচ্ছে না বলে আওয়াজ তুললে প্রতিপক্ষ একই গ্রামের সুনু মিয়া ও জুনাব আলী গংরা বলে উঠেন মসজিদের ভেতরে অবস্থানকারী সবাই শুনলেও তোমরা কেন শুনতে পাওনি এ নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকটি হয়। এরই জের ধরে সকালে দ্বীন ইসলামের লোকজনের সাথে প্রতিপক্ষ সুনু মিয়া ও জুনাব আলীর লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হন। এতে দ্বীন ইসলামের পক্ষের বাবুল মিয়া ও নুরুল ইসলাম ঘটনাস্থলেই নিহত হন এবং সুনু মিয়া জুনাব আলীদের পক্ষে মো: শাহজাহান মিয়াকে গুরুতর আহত অবস্থায় সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে আসার পথে রাস্তায় তিনি মারা যান। এ নিয়ে নিহতের সংখ্যা দাড়াঁয় তিনজনে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ৪০ জন আহত হন। তবে তাৎক্ষণিক আহতের নাম ও পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি।

এ ব্যাপারে জয়কলস ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো: আব্দুল বাছিত সুজন জানান, গতকাল রোববার রাতে এবং আজকে ভোরে-হাসনাবাজ গ্রামে গিয়ে উভয় পক্ষের লোকজনের সাথে আলাদাভাবে বৈঠক করে কথা বলেছি। উভয় পক্ষের লোকজন আমাকে আশ্বস্ত করেছিলেন কোনো পক্ষই মারামারিতে যাবেন না। এমন আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের শান্ত করে উপজেলা পরিষদের মিটিংয়ে আমি চলে আসার পর শুনতে পাই উভয়পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। একটি কাঠাল নিয়ে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক।

এ ব্যাপারে শান্তিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ খালেদ চৌধুরী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনা হয়। এ ঘটনায় পুলিশ সন্দেহজনক তিনজনকে আটক করেছে।

নির্বাচন নিয়ে কোনো উদ্বেগের কথা বলেনি ইইউ : কাদের

ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) নির্বাচন নিয়ে কোনো উদ্বেগের কথা বলেনি বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, কোনো উদ্বেগের কথা তারা বলেননি। তারা ভালোটা আশা করছেন। খারাপ কিছু নিয়ে কোনো কথা বলেননি। বাংলাদেশে একটি শান্তিপূর্ণ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন হোক, এটাই তারা চেয়েছেন। বাংলাদেশের গণতন্ত্র আরো শক্তিশালী ও পরিপক্কতা অর্জন করুক, এটি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

সোমবার সচিবালয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত চার্লস হোয়াইটলির সাথে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

ওবায়দুল কাদের বলেন, আগামী জাতীয় নির্বাচন হবে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য। শেখ হাসিনার সরকার নির্বাচনকালীন রুটিন দায়িত্ব পালন করবে। পৃথিবীর অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশের মতোই বাংলাদেশের নির্বাচন হবে।

সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। ইইউ দেশের ছয়জনের প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে এসেছে। তারা খুঁটিনাটি সব বিষয়ে আলোচনা করবেন। ইইউ নির্বাচন অবজার্ভ করবে, ক্লোজলি মনিটরিং করবে। সরকার সবসময়ই নির্বাচনী পর্যবেক্ষাদের স্বাগত জানায়।’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘৪১ ভিয়েনা কনভেনশনের নীতিমালা অনুযায়ী কূটনীতিকরা দায়িত্ব পালন করবেন আমাদের আপত্তি নেই। নির্বাচন নিয়ে অনেক কথা হয়। সেজন্য নির্বাচনে পর্যবেক্ষক থাকলে ভালো হয়। তারা সরেজমিনে দেখতে পারবেন নির্বাচন কেমন হয়। পর্যবেক্ষকরা নিজেরাই দেখবেন।’

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘রাজপথে আওয়ামী লীগও আছে। বিএনপি বিক্ষোভে আছে, আওয়ামী লীগ শান্তি সমাবেশ করছে।’

গণতন্ত্র মঞ্চের সাথে বৈঠক শেষে যা বললেন আমীর খসরু

বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, চলমান আন্দোলন এমন একটি পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে যে এখন একটা বার্তা দেয়ার সময় হয়েছে।

সোমবার (১০ জুলাই) বিকেলে বিএনপির চেয়ারপারসনের গুলশান রাজনৈতিক কার্যালয়ে গণতন্ত্র মঞ্চের লিয়াজোঁ কমিটির সাথে এক বৈঠক শেষে তিনি একথা বলেন।

আমীর হোসেন মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘গণতন্ত্র মন্ত্রের সাথে আলোচনা করেছি। এর আগেও একাধিকবার বিভিন্ন দলের সাথে আলোচনা হয়েছে। আন্দোলন চলমান আছে, চলমান আন্দোলন এমন একটি পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে যে এখন একটা বার্তা দেয়ার সময় হয়েছে। আজ আন্দোলনের ব্যাপারে একটা যৌথ ঘোষণা দেয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। আগামী ১২ তারিখ একটা যৌথ ঘোষণা দেব। সেই ঘোষণা দেয়ার জন্য আমরা আলোচনা করেছি, একমত হয়েছি, ঐক্যমত হয়েছি। যুগপৎ আন্দোলনের সাথে যারা আছেন তাদের সবাইকে নিয়ে যৌথ ঘোষণা দেয়া হবে।’

গণতন্ত্র মঞ্চের সমন্বয়ক সাইফুল হক বলেন, ‘গত ৩১ ডিসেম্বর থেকে আমরা যুগপৎ আন্দোলন করছি। আন্দোলনের যৌথ ঘোষণা জন্য কয়েক মাস কাজ করেছি। সেই যৌথ ঘোষণা এখন আমরা চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে এসেছি। আমরা বিশ্বাস করছি। আশাও রাখতে চাই এই যৌথ ঘোষণার মধ্যে দিয়ে আন্দোলনের প্রতি মানুষের আস্থার জায়গা বাড়িয়ে তুলবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন একটি পরিবর্তনের সম্মুখে দাঁড়িয়ে আছে। অনতিবিলম্বে এই সরকারকে মানুষ আর দেখতে চায় না। ফলে মানুষের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা দেশবাসী দেখতে চায়। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো রাজপথে একটি কার্যকারী ঐক্য গড়ে তুলবে এবং এই দুঃশাসন থেকে দেশবাসীকে মুক্ত করবে।’

বিএনপির পক্ষ থেকে বৈঠকে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও ভাইস-চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু উপস্থিত ছিলেন।

গণতন্ত্র মঞ্চের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে জেএসডি সভাপতি আ স ম রব, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, ভাসানী অনুসারী পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ রফিকুল ইসলাম বাবুল, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন সমন্বয়ক হাসনাত কাইয়ুম বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

উত্তর ভারতে আকস্মিক বন্যায় নিহত বেড়ে ২৮

উত্তর ভারতে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে দেশের বিভিন্ন অংশে বন্যা ও ভূমিধস দেখা দিয়েছে, এই পরিস্থিতিতে গত তিন দিনে সেখানে কমপক্ষে ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের বেশিরভাগই হিমাচল প্রদেশের বাসিন্দা।

সোমবার (১০ জুলাই) মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এই তথ্য জানিয়েছে। তবে ভারতের সংবাদ সংস্থা প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়া ১০ জনের মৃত্যুর কথা বলছে।

সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে হিমাচল প্রদেশ। এছাড়াও উত্তরাখণ্ড, পাঞ্জাব, হরিয়ানা, জম্মু ও কাশ্মির, রাজস্থান, দিল্লি এবং এর আশেপাশের অঞ্চলগুলোতে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আরো বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়েছে ভারতের আবহাওয়া দফতর।

ভারতের আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, রোববার নয়াদিল্লিতে ১৫৩ মিলিমিটার (৬ ইঞ্চি) বৃষ্টি হয়েছে। শুধু জুলাই মাসের হিসেবে এটি ১৯৮২ সালের পর সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের নতুন রেকর্ড। দিনটিকে ‘জুলাই’র আদ্রতম দিন’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।

ভারতে বর্ষা মৌসুমে নিয়মিত মারাত্মক বন্যা দেখা যায়, যা জুন থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে হয়ে থাকে এবং দক্ষিণ এশিয়ার বার্ষিক বৃষ্টিপাতের বেশিরভাগ অংশ এই এলাকাতে হয়। মৌসুমে রোপণ করা বৃষ্টি-নির্ভর ফসলের জন্য বৃষ্টিপাত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তবে প্রায়শই এর কারণে বেশ ক্ষতি হয়।

প্রতিবেশি পাকিস্তানও মৌসুমি বৃষ্টিপাতের কবলে পড়েছে। ভারত থেকে পাকিস্তানে প্রবাহিত রবি নদীতে ভারত বাঁধের পানি সরিয়ে নেয়ার পরে কর্তৃপক্ষ মৌসুমের প্রথম বন্যার জন্য সতর্ক ছিল।

পাকিস্তানের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা জানিয়েছে, পূর্ব পাঞ্জাব প্রদেশের নিম্নাঞ্চল থেকে লোকজনকে সরিয়ে নেয়ার কাজ চলছে। নারওয়াল ও শিয়ালকোটের গ্রামগুলো থেকে রাতারাতি ১৫০ জনেরও বেশি মানুষকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।

গত ২৫ জুন থেকে পাকিস্তানে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে হাজার হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় আবহাওয়াজনিত বিভিন্ন ঘটনায় অন্তত ৭৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।

রাজশাহীতে দুই পক্ষের সংঘর্ষে নিহত ৩

রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরো সাতজন। তাদের উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সোমবার সকাল ৯টার দিকে উপজেলার পাকড়ি ইউনিয়নের মুসরাপাড়া ইয়াজপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন রাজশাহী নগরীর ভাটাপাড়া গ্রামের জিল্লুর রহমানের ছেলে ছোটন (৫০), গোদাগাড়ীর বড়গাছী কামারপাড়ার মৃত আলিম উদ্দীনের ছেলে মেহের আলী (৬৫) ও তার ভাই নাইমুল (৬৮)।

এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ইউনুস (২২), মো: সোলেমান (৫০), রজব (৩১), আমু (২২), রায়হান (৩৫) ও মনিরুল (৪৫)।

গোদাগাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ইসলাম এই ঘটনা নিশ্চিত করে বলেন, সকালে জমিজমা নিয়ে বিরোধের জের ধরে দুই পক্ষের কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে উভয়পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হন। এদের মধ্যে ১০ জনকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। এ সময় হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা তিনজনকে মৃত ঘোষণা করেন।

আমরা দয়া চাইনি, জাস্টিস চেয়েছি : মির্জা ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সরকার কথায় কথায় বলেন, খালেদা জিয়াকে দয়া দেখিয়ে বাসায় রেখেছি। আমরা দয়া চাইনি, জাস্টিস চেয়েছি। আমরা ন্যায়বিচার চেয়েছি, প্রাপ্যটা চেয়েছি।

সোমবার বেলা ১১টায় রাজধানীর নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে বিএনপি মহাসচিব এসব কথা বলেন। বিএনপি চেয়ারপারসন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, জাতীয় স্থায়ী কমিটি’র সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া’র শারীরিক সুস্থতা কামনায় দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে দলটি।

মহাসচিব বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে কারাগারে যে কক্ষে রাখা হয়েছিল, সেটি বসবাসের উপযোগী ছিল না। তিনি ওই সময় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। ওই সময় ডাক্তাররা একাধিকবার গণমাধ্যমে বলেছেন, খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসা জরুরি। কিন্তু সরকার তাতে কর্ণপাত করেনি। পরে করোনা শুরু হয়ে গেলে বাসায় পাঠিয়ে দেয় সরকার।

তিনি বলেন, তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া কারো দয়া চাননি। তাকে ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। চিকিৎসকরা বারবার তাকে বিদেশ নিয়ে চিকিৎসার কথা বলছেন। কিন্তু সরকার তাকে সেই অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে।

মির্জা ফখরুল অভিযোগ করে বলেন, একটি গণতান্ত্রিক দেশে ৩৫ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছে এই ফ্যাসিস্ট সরকার। এমন কোনো নেতাকর্মী নেই, যার বিরুদ্ধে মামলা দেয়নি তারা।

তিনি বলেন, এ দেশে আমরা কোনো রাজা-রানির রাজত্বে বাস করি না। আমরা একটা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের স্বপ্ন নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলাম। সেই গণতন্ত্রই আজ দেশে অনুপস্থিত।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন- সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী প্রমুখ।

রাশিয়াকে ঠেকাতে নতুন পরিকল্পনায় নেটো

আর কয়েক ঘণ্টা পরেই লিথুয়ানিয়ার রাজধানীতে শুরু হতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা দেশগুলোর প্রতিরক্ষা জোট নেটোর দু’দিনব্যাপী বার্ষিক সম্মেলন। যার ওপর সতর্ক নজর রাখছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন, ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রঁ, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক, জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ সোলৎজসহ এই জোটের ৩১টি সদস্য দেশের নেতারা এতে যোগ দিচ্ছেন। যারা দু’দিন ধরে প্রধানত ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়েই আলোচনা করবেন।

ইতোমধ্যে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযানের ৫০০ দিন পার হয়ে গেছে। এই আক্রমণ শুরু হওয়ার পর মস্কো ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে বহু শহর ও গ্রাম দখল করে নিয়েছে, বেসামরিক লোকজনের ওপর হামলা চালিয়ে তাদেরকে হত্যা করেছে।

প্রেসিডেন্ট পুতিনের নির্দেশে ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর মানবিক, আর্থিক ও সামরিক সাহায্য নিয়ে ইউক্রেনে ছুটে গেছে ইউরোপ এবং তাদের ঘনিষ্ঠ মিত্র যুক্তরাষ্ট্র। জার্মানি-ভিত্তিক অর্থনৈতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান কিল ইন্সটিটিউট ফর দ্যা গ্লোবাল ইকোনমির হিসেব অনুসারে এ বছরের মে মাসের মধ্যে এই সাহায্যের আর্থিক পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় সাড়ে ১৬ হাজার কোটি ডলার।

যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এই সঙ্কটের বিভিন্ন ইস্যুতে ইউরোপীয় দেশগুলোর একজোট হওয়া খুব একটা সহজ ছিল না। রাজনৈতিক, সামরিক ও অর্থনৈতিক কারণে দেশগুলোকে নানা সময়ে ভিন্ন রকমের সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে একটি কঠিন প্রশ্ন হচ্ছে পরমাণু শক্তিধর রাশিয়ার সাথে সরাসরি ও সর্বাত্মক যুদ্ধে না জড়িয়ে, নেটো ক্রেমলিনকে কেমন বার্তা পাঠাবে। যাতে তারা তাদের ইচ্ছে অনুসারে ইউক্রেন অথবা ইউরোপের অন্য কোনো দেশ দখল করে নিতে না পারে।

কূটনীতিকরা বলছেন, ১১ ও ১২ জুলাইয়ের আসন্ন এই সম্মেলনে রাশিয়ার আক্রমণ মোকাবেলার বিষয়ে বিস্তারিত এক পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হবে। বলা হচ্ছে শীতল যুদ্ধ অবসানের পর রাশিয়াকে মোকাবেলায় এটাই সবচেয়ে বড় পরিকল্পনা।

নেটো কী?
পশ্চিমা দেশগুলোর প্রতিরক্ষা জোট নর্থ আটলান্টিক ট্রিটি অর্গানাইজেশনকে সংক্ষেপে বলা হয় নেটো। ১২টি দেশ মিলে ১৯৪৯ সালে এই জোট গঠন করেছিল। তাদের মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, কানাডা এবং ফ্রান্স।

বর্তমান এই জোটের সদস্য সংখ্যা ৩১।

নেটো জোটের সংবিধানের পাঁচ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, কোনো একটি সদস্য দেশ আক্রান্ত হলে অন্য দেশগুলো এটিকে তাদের ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য করবে এবং আক্রান্ত দেশটিকে সাহায্য করতে তারা এগিয়ে আসবে।

এই জোটের আসল লক্ষ্য ছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অবসানের পর তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন যাতে ইউরোপে তাদের সম্প্রসারণ ঘটাতে না পারে। কিন্তু ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ার পর পূর্ব ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশ নেটোতে যোগ দেয়।

সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের অংশ রাশিয়ার পক্ষ থেকে এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয় যে পূর্ব ইউরোপের এসব দেশ নেটোতে যোগদানের ফলে তাদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে।

এই জোটে ইউক্রেনের যোগ দেওয়ার যে আগ্রহ তাতে তীব্র আপত্তি জানিয়ে আসছে রাশিয়া। তাদের আশঙ্কা এর ফলে নেটো তাদের নাকের ডগায় গিয়ে পড়বে।

ইউক্রেন এখনো এই জোটের সদস্য না হলেও নেটো অতিসম্প্রতি রুশ সীমান্তের কাছে পৌঁছে গেছে। কারণ এ বছরেই রাশিয়ার আরেক প্রতিবেশী দেশ ফিনল্যান্ড নেটোতে যোগ দিয়েছে।

রাশিয়াকে প্রতিরোধে নেটোর পরিকল্পনা
রাশিয়া যদি নেটোর কোনো সদস্য দেশের ওপর আক্রমণ চালায়, তাহলে তাকে মোকাবেলা করার জন্য এই জোটের নেতারা নতুন একটি পরিকল্পনা তৈরি করেছেন।

এই পরিকল্পনায় নিখুঁতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে রাশিয়া যদি আর্কটিক, উত্তর আটলান্টিক, মধ্য ইউরোপ এবং ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে আক্রমণ করে তাহলে জোটের সৈন্যরা কোথায় কোথায় যাবে এবং তারা কী কী করবে।

লন্ডন-ভিত্তিক প্রতিরক্ষা নিরাপত্তা-বিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইন্সটিটিউট বা রুসির উপ-পরিচালক ম্যালকম চামার্স বলেন, ১৯৯১ সালে শীতল যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর এটাই নেটোর সবচেয়ে সমন্বিত পরিকল্পনা।

তিনি বলেন, ‘সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ার পর বড় ধরনের যুদ্ধের আশঙ্কা পুরোপুরি উবে গিয়েছিল। কিন্তু ২০১৪ সালে রাশিয়ার ক্রাইমিয়া দখল এবং বর্তমান ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে বোঝা যায় যে এই হুমকি এখনো বাস্তব। বিশেষ করে বাল্টিক প্রজাতন্ত্রগুলোর জন্য।’

কিংস কলেজ লন্ডনের প্রতিরক্ষা বিষয়ক অধ্যাপক ট্রেসি জার্মান বলেন, ‘এগুলো সবই যুদ্ধকে নিরুৎসাহিত করা এবং আত্মরক্ষার প্রয়োজনের সাথে সম্পর্কিত। একইসাথে পূর্ব দিকে যেসব মিত্র দেশ আছে তাদেরকে আশ্বস্ত করারও ব্যাপার।’

ইউক্রেনকে কি নেটোতে নেয়া হচ্ছে?
নেটো জোটের পক্ষ থেকে ২০০৮ সালে বলা হয়েছিল যে দেশটি ভবিষ্যতের কোনো এক সময়ে তাদের সাথে যোগ দিতে পারে। কিন্তু তাদেরকে খুব দ্রুত সদস্য করে নেওয়ার ব্যাপারে তারা সম্প্রতি অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

কারণ ইউক্রেন নেটোতে যোগ দিলে নেটোর সংবিধান অনুসারে এই জোটের সদস্য দেশগুলোকে এখনই রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, ‘আমি মনে করি না যে এই মুহূর্তে, যুদ্ধের মাঝখানে, ইউক্রেনকে নেটোর সদস্য করা কিংবা না করার বিষয়ে নেটোর ভেতরে ঐকমত্য রয়েছে।’

তিনি বলছেন, ইউক্রেনের নেটোতে যোগ দেয়ার অর্থ হবে ‘যদি যুদ্ধ চলতেই থাকে, তাহলে আমরা সবাই এই যুদ্ধে নেমে গেছি। আমরা রাশিয়ার সাথে যুদ্ধ করছি, যদি এরকমটা হয়।’

যুদ্ধের ৫০০ দিন পরেও ইউক্রেনকে নেটোর সদস্য করা নিয়ে জোটের ভেতরে ভিন্নমত থাকলেও ইউক্রেনের অবস্থান পরিষ্কার। তারা নেটোর অন্য সদস্য দেশের সাথে একই টেবিলে বসতে চায়, চায় সব ধরনের নিরাপত্তা গ্যারান্টি এবং তারা এখনই সেটা চায়।

কিন্তু নেটো জোটের যে সংবিধান অনুসারে তারা ইউক্রেনকে এখনই সদস্য করতে পারবে না। কারণ সংবিধানে উল্লেখ আছে যে কোনো দেশ যুদ্ধে লিপ্ত থাকলে তাকে জোটের সদস্য করা যাবে না।

তবে ইউক্রেন এখনই সদস্য হতে না পারলেও তারা অন্তত এই নিশ্চয়তা চায় যে আগামীতে তাদেরকে নেটো জোটে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিও তার এই আকাঙ্ক্ষা মিডিয়ার কাছে স্পষ্ট করে দিয়েছেন।

এরকম প্রতিশ্রুতি না পেলে প্রেসিডেন্ট জেলনস্কি এই সম্মেলন পরিহারেরও হুমকি দিয়েছেন। যাতে যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানিসহ নেটোর কিছু দেশ বিরক্ত হয়েছে।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এই সম্মেলনে যদি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টকে দেখা না যায় তাহলে ইউক্রেন ইস্যুতে পশ্চিমা দেশগুলো যে ঐক্যবদ্ধ মস্কোকে সেই বার্তা দেয়া কঠিন হয়ে পড়বে।

কিন্তু প্রধান সমস্যা হচ্ছে, রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার অনেক আগেই নেটো ইউক্রেনকে বলেছে যে দেশটি তাদের জোটেই থাকবে। কিন্তু কিয়েভ এখন চাইছে তাদেরকে জোটে নেয়ার ব্যাপারে যেন উল্লেখযোগ্য ও সুনির্দিষ্ট কিছু প্রস্তাব করা হয়। কিন্তু সেটা কী?

বিবিসির ইউরোপ-বিষয়ক সম্পাদক কাটিয়া এডলার বলছেন, এ বিষয়ে তিনি নেটোর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি দেশের শীর্ষস্থানীয় কূটনীতিকদের সাথে কথা বলেছেন। তারা যাতে স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারেন সেকারণে তারা তাদের নাম উল্লেখ করতে চাননি।

তারা তাকে বলেছেন, ইউক্রেনকে নেটো পরিবারের সদস্য করে ব্যাপারে জোটের সদস্য দেশগুলো একতাবদ্ধ। তবে এর খুঁটিনাটি কিছু বিষয়ে তাদের মধ্যে মতভিন্নতা রয়েছে।

এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে লিথুয়ানিয়ার রাজধানী ভিলনিয়াসে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষের দিকে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন বাল্টিক সাগরের যে তিনটি ছোট্ট দেশ দখল করে নিয়েছিল তার একটি এই লিথুয়ানিয়া।

কাটিয়া আডলার বলছেন, লিথুয়ানিয়া, লাটভিয়া এবং এস্তোনিয়ার মানুষ ইউক্রেনের দুঃখ দুর্দশা বুঝতে পারে। তারাসহ পূর্ব ইউরোপের আরো একটি দেশ পোল্যান্ড, যারাও নিজেদেরকে রাশিয়ার আগ্রাসনের শিকার হিসেবে দেখে থাকে, মস্কোর সাথে যুদ্ধবিরতির সমঝোতা করে খুব দ্রুত গতিতে ইউক্রেনকে নেটোর সদস্য করে নেয়ার দাবি জানিয়েছে।

কিন্তু এই সিদ্ধান্ত নিতে হলে নেটোর সব সদস্য দেশকে একমত হতে হবে। যেসব দেশ এখনই ইউক্রেনকে সদস্য করে নেয়ার ব্যাপারে সতর্কতা প্রকাশ করেছে তাদের মধ্যে রয়েছে জার্মানি, যুক্তরাষ্ট্র এবং ব্রিটেন।

নেটোর কিছু কিছু সদস্য দেশ মনে করে রাশিয়ার সাথে যুদ্ধবিরতির সমঝোতা করা। তার পরপরই যদি ইউক্রেনকে নেটোর সদস্য করে নেয়ার ব্যাপারে চূড়ান্ত প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়, তাহলে মস্কো ইউক্রেনের ওপর আক্রমণকে আরো প্রলম্বিত করতে পারে।

ফিনল্যান্ড কেন নেটোতে গেল
বাল্টিক অঞ্চলের দেশ রাশিয়ার প্রতিবেশী ফিনল্যান্ড নেটো জোটে যোগ দিয়েছে ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে। এর আগে দেশটি ছিল নিরপেক্ষ অবস্থানে।

রাশিয়ার সাথে ফিনল্যান্ডের স্থল সীমান্ত রয়েছে এক হাজার ৩৪০ কিলোমিটার। ফিনল্যান্ডের যোগদানের ফলে নেটো বাহিনীতে এখন নিয়মিত ও রিজার্ভ সৈন্যের সংখ্যা আড়াই লাখেরও বেশি বেড়ে গেছে।

ফিনল্যান্ডের পাশাপাশি বাল্টিক অঞ্চলের আরো একটি দেশ সুইডেনও নেটোতে যোগ দেয়ার জন্য আবেদন করেছে। তুরস্ক এবং হাঙ্গেরি এখনো সুইডেনকে জোটে নিতে রাজি হয়নি। ফলে তাদের আবেদন ঝুলে রয়েছে।

তুরস্ক বলছে যে সু‌ইডেন তাদের কিছু শত্রুকে আশ্রয় দিয়েছে। তাদেরকে তুরস্কের হাতে তুলে দিতে হবে। এ ছাড়া সুইডেনের বিরুদ্ধে তুরস্কের অভিযোগ যে দেশটি রাস্তায় মুসলিম-বিরোধী বিক্ষোভের অনুমতি দিচ্ছে।

নেটো দেশগুলো ইউক্রেনকে কীভাবে সাহায্য করছে
যুক্তরাষ্ট্র বলছে, তাদের মিত্র দেশগুলো ইউক্রেনকে আমেরিকার তৈরি এফ-সিক্সটিনসহ অন্য যুদ্ধবিমান দিতে পারবে। এসব বিমান চালানোর জন্য ইউক্রেনীয় পাইলটদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনে ৩১টি এব্রামস ট্যাঙ্ক পাঠাচ্ছে। ব্রিটেন ইতোমধ্যে ১৪টি চ্যালেঞ্জার-২ ট্যাঙ্ক পাঠিয়েছে। জার্মানি পাঠিয়েছে ১৮টি লিওপার্ড-২ ট্যাঙ্ক। অন্য ইউরোপীয় দেশগুলোও কয়েক ডজন ট্যাঙ্ক পাঠাচ্ছে। স্ট্রাইকার ও ব্র্যাডলির মতো সামরিক যানও ইতোমধ্যে পাঠানো হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেন উভয়েই ইউক্রেনকে হাইমার্সের মতো মিসাইল-প্রতিরোধী ব্যবস্থা প্রেরণ করেছে যেগুলোর সাহায্যে রাশিয়ার ফ্রন্ট-লাইনের আরো ভেতরে হামলা চালানো সম্ভব হচ্ছে।

ইউক্রেনের আকাশে ক্রুজ মিসাইল ও ড্রোন ধ্বংস করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রসহ আরো কয়েকটি দেশ কিয়েভের কাছে বিমান প্রতিরোধী ব্যবস্থা সরবরাহ করেছে। এগুলো দিয়ে রাশিয়ার নিক্ষিপ্ত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আঘাত হানার আগেই ধ্বংস করে দেয়া হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেন জ্যাভলিন এবং এনলর মতো ট্যাঙ্ক-বিধ্বংসী যেসব অস্ত্র দিয়েছে। এসব অস্ত্র রুশ বাহিনীর অগ্রগতি ঠেকিয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এগুলো গত বছরের বসন্তে কিয়েভে গিয়ে পৌঁছেছে।

তবে রাশিয়ার ভেতরে হামলা চালানো হতে পারে এই আশঙ্কায় ইউক্রেনকে দীর্ঘ-পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও রকেট লঞ্চার সরবরাহ করা হয়নি। সেরকম কিছু হলে নেটোর সাথে রাশিয়ার সরাসরি যুদ্ধ বেঁধে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এই কারণে নেটো দেশগুলো ইউক্রেনে তাদের সৈন্য পাঠানো থেকে বিরত রয়েছে।

সূত্র : বিবিসি