Home Blog Page 602

বিজয় আমাদের হবেই, বিজয় অনেক দূরে নয় : মান্না

নাগ‌রিক ঐক‌্যর সভাপ‌তি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, সরকার মনে করছে এই বুঝি ক্ষমতা গেল, এই বুঝি ক্ষমতা গেল। এরা সব সময়ই ভয়-ভীতির মধ্যে আছে। বিদায়ের ভয়ে কাঁপছে। বিজয় আমাদের হবেই, বিজয় অনেক দূরে নয়।

শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের মাওলানা মোহাম্মদ আকরাম খাঁ হলে সমমনা পেশাজীবী গণতান্ত্রিক জোট আয়োজিত ‘গণতন্ত্র নির্বাচন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট শীর্ষক’ আলোচনা সভায় তিনি একথা বলেন।

মান্না ব‌লেন, এই সরকার খুবই দুর্বল সরকার। এরা সবসময়ই ভয়-ভীতির মধ্যে আছে। দেশের মানুষ বলে সরকার কবে যাবে। আমরা এই মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে সম্মিলিতভাবে সরকার পতনের এক দফা কর্মসূচি ঘোষণা করব। বিজয় আমাদের হবেই, বিজয় অনেক দূরে নয়।

শামসুজ্জামান দুদুর কথার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, এখানে ব্যানারে উল্লেখ আছে গুম, খুন, সীমান্ত হত্যা মুক্ত বাংলাদেশ চাই। এই জুলাই মাস হতে পারে স্বৈরতন্ত্র পতনের মাস। আমি বলতে চাই, জানি না হয়তো জুলাই মাসেও হতে পারে যেহেতু ১৪-১৫ বছর যাবত একই রকম অপরাধ করেই যাচ্ছে সরকার। অপরাধের সীমা দিনের পর দিন বেড়েই যাচ্ছে। তাই আমি বলব জুলাই মাসেও যদি না হয় আগস্টেই হোক, অথবা সেপ্টেম্বরে হোক, অথবা ডিসেম্বরের মধ্যেই হোক, যদি হয় দেশের জনগণ খুশি হবে।

তিনি আরো বলেন, শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে একটি অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন হয়। আমি মনে করি শেখ হাসিনার জন্য এটি কল্যাণকর। আপনারা জানেন শুধু বাংলাদেশী তার ওপর চাপ নেই। আমেরিকাসহ বিদেশের বিভিন্ন দেশ থেকে তার প্রতি চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এবং বলা হচ্ছে বাংলাদেশে একটি জাতীয় অবাধ নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হওয়া উচিত।

তিনি আরো বলেন, শেখ হাসিনাকে আমিও বলতে চাই, আপনি দয়া করে পদত্যাগ করুন এবং নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে একটি অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করুন।

আলোচনা সভায় বিএন‌পির ভাইস চেয়ারম‌্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, কোনো সরকার যদি কর্তৃত্ববাদী, স্বৈরাচারী, অনমনীয় হয়। জনগণ যদি শান্তিতে থাকতে না পারে তাহলে সেই সরকারের পতন অনিবার্য। যেমন এখন যেকোনো মুহূর্তে এ সরকারের পতন হতে পারে। মানুষ হাজারে হাজারে নয়, লাখে লাখে নয়, কোটিতে কোটিতে রাস্তায় নেমে আসতে পারে। সরকার বুঝতে পারছে না। স্বৈরাচারী এরশাদ ও বুঝতে পারে নাই। ৬৯ এর স্বৈরাচারী আইয়ুব খান ও বুঝতে পারে নাই। সরকার বুঝতে পারলে মানুষের কাছে গণতন্ত্রের কাছে মাথা নত করত।

দৈনিক নয়া দিগন্তের সম্পাদক আলমগীর মহিউদ্দিন বলেন, আপনারা জানেন গত ১৪ বছরে বিএনপি জামাতসহ বিরোধীদলের সকল রাজনৈতিক দলের ওপর নির্যাতন স্টিম রোলার চালিয়েছে। এই বর্তমান ফ্যাসিস্ট সরকার। শুধু রাজনৈতিক নির্যাতন নয় যারাই এই সরকারের বিরুদ্ধে ভালো কথা উপস্থাপন করেছে, গণতন্ত্র প্রক্রিয়া প্রতিষ্ঠা করার কথা বলেছে, তাদেরই গুম ও খুন করা হচ্ছে। তাই আমি আপনাদের সকল দলকে অনুরোধ করব, আপনারা ঐক্যবদ্ধ হয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নিজের জীবনকে বাজিয়ে রেখে হলেও শেখ হাসিনার পতন এই মাসের মধ্যেই নিশ্চিত করতে হবে। তাহলেই গুম-খুন-হত্যা-রাহাজানিমুক্ত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হবে।

সভায় আরো বক্তব্য রাখেন বিএন‌পির তথ‌্য ও গ‌বেষণা বিষয়ক সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন নসু, নির্বাহী ক‌মি‌টির সদস‌্য অধ‌্যক্ষ‌ আলমগীর হো‌সেন, সহকারী সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট মাইনুদ্দিন মজুমদার, সাবেক ছাত্রনেতা ও রাষ্ট্রচিন্ত্যক এম নাজমুল হাসান প্রমুখ।

ভিসা ছাড়াই দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে চলাচলের প্রস্তাব শ্রীলঙ্কার!

বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক সহযোগিতা বিষয়ক জোট বিমসটেকের সদস্য দেশগুলোর মধ্যে যাতায়াতের ক্ষেত্রে ভিসা বা অন্যান্য নিয়মকানুনের জটিলতা কমানোর কথা বললেন শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট রনিল বিক্রমাসিংহে।

তার মতে, বিমসটেকের সদস্যভুক্ত দেশগুলোকে (ভারত, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, নেপাল ও ভুটান) একটি পর্যটনক্ষেত্র হিসেবেই বিবেচনা করা উচিত। তাতে পর্যটকদের ঝামেলা কমবে। বিশেষত যারা এশিয়ার অন্যান্য অঞ্চল বা এশিয়ার বাইরে থেকে আসেন, তারা সহজেই বিমসটেকের সদস্যভুক্ত সাতটি দেশে ঘুরতে পারবেন।

তাতে সাতটি দেশের পর্যটন শিল্পে নতুন জোয়ার আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট।

শুক্রবার (৭ জুলাই) কলম্বোয় ভারতের অন্যতম পর্যটন সংক্রান্ত সমিতি ‘ট্রাভেল অ্যাজেন্টস অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়া’র ৬৭তম বার্ষিক সম্মেলনে শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট এ বিষয়টি তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, ‘আগামী ১০ বছরে মানুষের মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি পাবে। তাই মানুষ বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে যাবেন। সেই পরিস্থিতিতে কেন আমাদের পুরো বিমসটেক অঞ্চলকে সীমান্তহীন পর্যটন এলাকা হিসেবে গড়ে তোলা হবে না। সেটাই তো সকলে চান… (কোনোরকম ঝামেলা ছাড়াই সীমান্ত পেরিয়ে যেতে)।’

তিনি আরো বলেন, ‘শ্রীলঙ্কার মানুষ ভারতে যাচ্ছেন। ভারতীয়রা যাচ্ছেন বাংলাদেশে। কিন্তু বাইরে থেকে যারা আসছেন, তাদের কাছে এটি একটিই পর্যটনের জায়গা।’

শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট আরো বলেন, ‘আগামী ১০ বছরে আমাদের একটি নতুন শিল্প গড়ে উঠবে। তাই আমাদের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করে তুলতে হবে। আমার মতে, বিমস্টেককে একটি বৃহত্তর পর্যটন ক্ষেত্র হিসেবে গড়ে তোলা উচিত। আমরা কেন বিমসটেককে উন্মুক্ত করে দিচ্ছি না? কেন সবার জন্য খুলে দিচ্ছি না? কেন ক্রুজের জন্য আমরা বঙ্গোপসাগরকে ব্যবহার করছি না?’

তবে সেটা কিভাবে হবে, তা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেননি শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট।

সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট যে মডেলের কথা বলতে চেয়েছেন, যে মডেলের মাধ্যমে এশিয়ার অন্যান্য অঞ্চল বা এশিয়ার বাইরে থেকে যারা আসছেন, তারা একটি ভিসায় ওই সাতটি দেশে ঘুরতে পারবেন। যা ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সদস্যভুক্ত দেশগুলোতে হয়। ভারত থেকে যদি কোনো ব্যক্তি ইউরোপিয়ান ইউনিয়নভুক্ত কোনো দেশে যান, তাহলে একটি ভিসায় তিনি ওইসব দেশে ঘুরতে পারবেন।

কিন্তু যারা ওই সাতটি দেশে বাস করেন, তারাও একটি সাধারণ ভিসায় বাকি ছয়টি দেশে ঘুরতে পারবেন? সেই বিষয়টিও শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট স্পষ্টভাবে জানাননি।

সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, সেক্ষেত্রে হয়তো কোনো ভিসা লাগবে না। শুধু পাসপোর্ট থাকলেই হবে। এখন যেমন ভারত থেকে নেপাল বা ভুটান যাওয়ার ক্ষেত্রে ভিসা লাগে না। চেকিংয়ের পর সীমান্ত পার হওয়ার অনুমতি পাওয়া যায়। শ্রীলঙ্কার প্রস্তাবিত মডেল যদি কার্যকর হয়, তাহলে বিমসটেকের অন্যান্য দেশের ক্ষেত্রেও সেই বিষয়টি চালু করা হতে পারে।

তবে কেন সেই মডেল কার্যকর করার উপর জোর দিচ্ছেন অর্থমন্ত্রীরও দায়িত্বে থাকা শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট রনিল? কারণটি অবশ্য তিনি নিজেই কিছুটা স্পষ্ট করে দিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা পর্যটনকে নতুন রূপ দেয়ার চেষ্টা করছি এবং পর্যটনের ক্ষেত্রে যে সম্ভাবনা আছে, তার সদ্ব্যবহার করার চেষ্টা করছি। আমরা শ্রীলঙ্কায় ঋণখেলাপির মুখে পড়েছিলাম। সেই পরিস্থিতির মধ্যে থেকে আমরা বেরিয়ে আসছি। ঋণের বিভিন্ন শর্ত লাঘবের প্রক্রিয়া চলছে। তবে এটা মাথায় রাখতে হবে, যেভাবে বাণিজ্য চলছে, সেটা এখনো আমাদের পক্ষে নেই। তাই আগামী দিনে যাতে বাণিজ্যের ইতিবাচক ভারসাম্য (আমদানি ও রফতানির মধ্যে ভারসাম্য) বজায় রাখা যায়, সেই চেষ্টা করতে হবে।’

সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস

সরকার থাকবে, বিএনপির জগাখিচুড়ি ঐক্যের পতন অনিবার্য : ওবায়দুল কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপিসহ ৩২ দলের এই জগাখিচুড়ির ঐক্যের এক দফার আন্দোলনের পতন অনিবার্য। যে লক্ষ্য নিয়ে জগাখিচুড়ির এই ঐক্য তাতে ফল আসবে অসহনীয়।

ওবায়দুল কাদের বলেন, সরকার যেমন আছে তেমনই থাকবে। একটা ঢেউও তো জাগাতে পারেনি। তাদের আন্দোলনে নেতা কে? ক্যাপ্টেন ছাড়া কি জাহাজ চলবে? এই জগাখিচুড়ি ঐক্যে দফায় দফায় পরিবর্তন। এই ৩২ দল টিকবে কিনা তার গ্যারান্টি নেই। আগে তো ছিল ৫৪ দল। এই জগাখিচুড়ি ঐক্যের পতন অনিবার্য।

শনিবার (৮ জুলাই) সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সংলগ্ন কাওলা এলাকায় ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণ কাজ পরিদর্শন শেষে তিনি এ কথা বলেন।

এ সময় তিনি জানান, আগামী সেপ্টেম্বর মাসে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের বিমানবন্দর থেকে মতিঝিল হয়ে ফার্মগেট পর্যন্ত যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। এ অংশের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

মার্কিন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি দলের বাংলাদেশে আগমন নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে
ওবায়দুল কাদের বলেন, মার্কিন প্রতিনিধি দল আসছে নির্বাচন সম্পর্কিত বিষয় নিয়ে নয়। তারা রোহিঙ্গাদের পরিস্থিতি জানতে আসছেন। আর ইইউ প্রতিনিধি দল আসছে নির্বাচনে পর্যবেক্ষক দল কিভাবে পর্যবেক্ষণ করবে তা দেখতে।

সূত্র : বাসস

রেকর্ড গড়েই জিততে হবে বাংলাদেশকে, লক্ষ্য ৩৩২ রান

আফগানিস্তানকে বড় সংগ্রহ এনে দিলো উদ্বোধনী জুটি। প্রথমে রাহমানুল্লাহ গুরবাজ, এরপর ইবরাহীম জাদরান; উভয়ের জোড়া শতকে ভর দিয়ে বাংলাদেশের সামনে বড় লক্ষ্য ছুড়ে দিল তারা। ৯ উইকেট হারিয়ে স্কোরবোর্ডে তুলেছে ৩৩১ রান। সিরিজে সমতা ফেরাতে তাই কঠিন পরীক্ষাই দিতে হবে টাইগারদের। এর আগে কখনোই এত রান তাড়া করে জেতেনি বাংলাদেশ।

স্বাগতিকদের হতাশায় ডুবিয়ে দুর্দান্ত এক শতক তুলে নেন গুরবাজ। সর্বশেষ বাংলাদেশের বিপক্ষেই শতকের দেখা পেয়েছিলেন তিনি। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে এই মাঠেই করেন অপরাজিত ১০৬ রান। আজ খেলেন ১২৫ বলে ক্যারিয়ার সেরা ১৪৫ রানের ইনিংস। শতক তুলেন ইবরাহীম জাদরানও। যদিও এরপর ইনিংসটা টানতে পারেননি তিনি। ফেরেন ১১৯ বলে ১০০ করে।

চট্টগ্রামের এ ম্যাচে টস জিতে আফগানিস্তানকে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়ে প্রথম উইকেটের দেখা পেতে বাংলাদেশকে অপেক্ষা করতে হয় ৩৬ ওভার পর্যন্ত। অবশেষে ৩৬.১ ওভারে এসে প্রথম উইকেটের দেখা পায় বাংলাদেশ। বিধ্বংসী হয়ে উঠা গুরবাজকে ফিরিয়ে উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন সাকিব।

এর আগে ইবরাহীমকে নিয়ে তো ইতিহাস রচনা করে ফেলেন গুরবাজ। দুজনে মিলে ২৫৬ রান যোগ করে গড়েন আফগানিস্তান ক্রিকেট ইতিহাসের সর্বোচ্চ রানের জুটি। যা আবার বাংলাদেশের বিপক্ষে কোনো প্রতিপক্ষের করা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রানের জুটি।

পরের বলেই পড়তে পারতো দ্বিতীয় উইকেট। তবে মুশফিকের ভুলে অপেক্ষা বাড়ে। যদিও সেই অপেক্ষা বড় হয়নি, পরের ওভারেই রহমত শাহকে ফেরান এবাদত হোসেন। সদ্য নামা রহমতের ব্যাটে আসে ৫ বলে ২ রান। থিতু হতে পারেননি অধিনায়ক হাশমতুল্লাহ শাহিদিও, তার স্ট্যাম্প ভাঙেন মেহেদী মিরাজ। ৭ বলে ২ করেন তিনি।

পরের উইকেটও যায় মিরাজের ঝুলিতে। নাজিবুল্লাহ জাদরানকে (১০) ফেরান তিনি। আর ২৯৯ রানে ইবরাহীমের উইকেট নেন মোস্তাফিজ। ততক্ষণে শতক ছুঁয়ে ফেলেন তিনি। দলীয় রান তখন ২৯৯। এরপর ইনিংস টানেন মোহাম্মদ নাবি। ১৫ বল খেলে ২৫* রান যোগ করেন তিনি। রশিদ খান করেন ৬ রান।

দলের সেরা বোলার সাকিব আল হাসান, ৫০ রানে ২ উইকেট নেন তিনি। দুটো করে উইকেট পান মিরাজ, হাসান মাহমুদ ও মোস্তাফিজুর রহমান। অপরটি এবাদতের।

দুই ছবির দাপটে প্রাণ ফিরল সিনেমা হলে

আইসিইউতে থাকা সিনেমা হলে দীর্ঘদিন পর কিছুটা হলেও প্রাণ ফিরছে। এবারের ঈদে মুক্তিপ্রাপ্ত পাঁচ ছবির মধ্যে রায়হান রাফীর ‘সুড়ঙ্গ’ ও শাকিব খানের ‘প্রিয়তমা’ এই দুই ছবির দাপটেই হলে দর্শক ফিরেছে বলে জানিয়েছেন সিনেমা সংশ্লিষ্টরা।

সংশ্লিষ্টরা জানান, নতুন ছবি সঙ্কটে ধীরে ধীরে অন্ধকারে তলীয় গেছে দেশের সিনেমা শিল্প। এত দিনে ১২ শ’ সিনেমা হল থেকে বন্ধ হতে হতে বর্তমানে সচল হলের সংখ্যা এখন এক শ’র নিচে নেমে এসেছে।
নতুন সিনেমা তৈরীতে সরকার প্রায় হাজার কোটি টাকা অনুদান দিলেও তার এক টাকাও ফেরত আসেনি। অনুদানের টাকা দিয়ে নামমাত্র ছবি নির্মাণ করায় হলে দর্শক টানতে ব্যর্থ হয়। অনেক নির্মাতার বিরুদ্ধে ভালো ছবি নির্মাণের চেষ্টা না করে লোক দেখানো ছবি নির্মাণ করে বেশিরভাগ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠেছে। এতে সর্বশেষ হল রক্ষায় চেষ্টা করা হয় ভারতীয় সিনেমা আমদানি করে। কিন্তু তাতে দর্শক কিছুটা আগ্রহ দেখালেও স্বার্থ রক্ষা হয়নি। এমন অবস্থায় শেষ পর্যন্ত এবারের ঈদে মুক্তিপ্রাপ্ত ছবিগুলোর প্রতি দর্শকদের আগ্রহে নতুন করে ঝলকে ওঠে রূপালি পর্দা।

এবারের ঈদে দেশের প্রেক্ষাগৃহে পাঁচ ছবি মুক্তি পেলেও দাপদ দেখাচ্ছে রায়হান রাফীর সুড়ঙ্গ ও শাকিব খানের ‘প্রিয়তমা’। সুড়ঙ্গ ছবিতে অভিনয় করেছেন আফরান নিশো ও তমা মির্জা। মুক্তির আগে থেকেই আলোচনায় থাকা এই দুই ছবির সব শো টানা হাউজফুল যাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। অন্য তিন ছবি ‘লাল শাড়ি’ ‘প্রহেলিকা’ ও ‘ক্যাসিনো’ মুক্তি পেলেও তেমন দর্শক টানতে পারেনি।

জানাগেছে, ২৮টি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় আফরান নিশো ও তমা মির্জা অভিনীত ‘সুড়ঙ্গ’। ‘সুড়ঙ্গ’ ঈদের দিন থেকেই দাপটের সাথে চলছে। বিশেষ করে মাল্টিপ্লেক্সগুলোতে হাউজফুল যাচ্ছে রায়হান রাফীর এই ছবি! ছবি সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ‘সুড়ঙ্গ’ মুক্তির প্রথম তিন দিন স্টার সিনেপ্লেক্স থেকে শুরু করে সিঙ্গেল স্ক্রিনে সব শো ছিল হাউজফুল! ঈদের দিন স্টার সিনেপ্লেক্সের সাতটি শাখা মিলিয়ে মাত্র ৯টি শো পায় ‘সুড়ঙ্গ’। সেই সংখ্যা তৃতীয় দিনে বেড়ে দাঁড়ায় ৩৩টি শো!

অন্যদিকে ১০৭টি প্রেক্ষাগৃহে ‘প্রিয়তমা’র প্রতিদিন ৪৫০টির বেশি প্রদর্শনী চলছে। ছবিটির পরিচালক হিমেল আশরাফ ফেসবুকে জানিয়েছেন, শুক্রবার ছবিটির ৩৫০টি প্রদর্শনীই হাউসফুল গেছে। ঢাকার মাল্টিপ্লেক্সগুলোতে ছবিটির বেশির ভাগ শো হাউসফুল গেছে। অনুমিতভাবেই একক হলে ছবিটি আধিপত্য দেখাচ্ছে।
শনিবার দুপুরে ছবিটির পরিচালক ও প্রযোজক দুজনই তাঁদের ফেসবুক আইডিতে এ তথ্য জানিয়েছেন। পরিচালক রায়হান রাফী গতকাল জানান, ‘এর আগে পরাণ ও হাওয়া ছবি দুটিতে প্রতিদিন এখানে সর্বোচ্চ ২৩টি শো চলেছে। এই বর্ষার দিনেও সিনেমাটি দেখতে মানুষের ঢল নেমেছে।’

বন্ধন বিশ্বাসের ‘লাল শাড়ি’ ১২টি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে। অপু বিশ্বাস ও সাইমন সাদিক ছবিটির মূল পাত্র–পাত্রী। গত শুক্রবার নিজের ফেসবুক পেজ থেকে ছবিটির জন্য শুভকামনা জানান শাকিব খান, এতে তিনি বলেন, ‘এই ঈদে অপু-জয় প্রোডাকশন হাউসের প্রথম চলচ্চিত্র ‘লাল শাড়ি’ মুক্তি পেয়েছে। আমার সন্তান জয়ের নামের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের প্রথম চলচ্চিত্র এটি। বাবা হিসেবে সন্তানের নামের কারণে চলচ্চিত্রটির প্রতি আমার অন্য রকম এক আবেগ কাজ করছে। যত দূর শুনেছি, ‘লাল শাড়ি’র প্রেক্ষাপট আমাদের দেশের ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্পকে ঘিরে। বিলুপ্তপ্রায় এই শিল্প এবং এর সঙ্গে জড়িত প্রান্তিক মানুষদের জীবনযাপন, সুখ-দুঃখ এই চলচ্চিত্রের প্রাণ। তাই এই ঈদ উৎসবে পরিবার-পরিজন সবাইকে নিয়ে ‘প্রিয়তমা’র পাশাপাশি ‘লাল শাড়ি’ দেখার আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।’

শাকিবের এই পোস্টে অপু জানিয়েছেন ছবিটির পেছনে অভিনেতার অবদানের কথা। তিনি জানান, ছবির ২০ দিনের আউটডোর শুটিং ছিল। এর মধ্যে ১৮ দিনের মাথায় অর্থনৈতিক সঙ্কটে পড়েন তিনি। ওই সময় ছবিটির কাজ ঠিকঠাক করার জন্য শাকিব খান তাকে অর্থনৈতিকভাবেও সহযোগিতা করেছেন।

খুব বেশি প্রেক্ষাগৃহ পায়নি ‘প্রহেলিকা’, মাত্র আটটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে চয়নিকা চৌধুরীর ছবিটি। তবে যারা দেখেছেন, বেশির ভাগই ছবিটি নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। ‘প্রহেলিকা’ ছাড়াও ঈদের আরেক ছবি ‘ক্যাসিনো’তেও আছেন শবনম বুবলী। এতে তার জুটি হয়েছেন নিরব। ছবিটি বানিয়েছেন সৈকত নাসির। ১৬টি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়া পুরোপুরি অ্যাকশনধর্মী সিনেমাটিও দর্শকের প্রশংসা কুড়িয়েছে।

ইসলাম অমুসলিমদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্দেশ দিয়েছে : দেলাওয়ার

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি এবং ঠাকুরগাঁও-১ (সদর) সংসদীয় আসনের জামায়াত মনোনিত প্রার্থী জননেতা মো: দেলাওয়ার হোসেন হিন্দু ধর্মাবলম্বী ভাইদের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বলেছেন, ‘ইসলাম অমুসলিমদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্দেশ দিয়েছে।’

বৃহস্পতিবার (৬ জুলাই) তিনি গত বছর পঞ্চগড়ের করতোয়া নদীতে সনাতন ধর্মের হিমালয়ার অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়ে নৌকাডুবিতে হিন্দু ধর্মাবলম্বীর প্রায় ৮০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল, তাদের পরিবারের খোঁজখবর নেন।

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন ছাত্রশিবিরের ঠাকুরগাঁও শহর শাখার সভাপতি হুমায়ুন কবির, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা সেক্রেটারি মাওলানা মিজানুর রহমান, ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতিসহ হিন্দু ধর্মাবলম্বীর স্থানীয় বাসিন্দারা। হিন্দু ধর্মাবলম্বী সেসব পরিবারের সদস্যরা জননেতা দেলাওয়ার হোসেনকে কাছে পেয়ে অনেক বেশি খুশি হয়েছেন এবং জামায়াতে ইসলামীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।

দেলাওয়ার হোসেন বলেন, হিন্দু মুসলিম ভেদাভেদ নয় জনগণের সকল বিপদে পাশে থাকা ও তাদের কল্যাণে প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দেশজুড়ে সার্বিক সেবা কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। উল্লেখ্য যে, গতবছরের এই দুর্ঘটনার খবর শুনে আমিরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান তাৎক্ষণিক সেখানে ছুটে গিয়েছিলেন এবং স্বজন হারানোর ব্যথায় ব্যথাতুর পরিবারকে সান্তনা দেয়ার জন্য চেষ্টা করেন। একইসাথে সহযোগিতা হিসেবে প্রত্যেক পরিবারকে নগদ ৩০ হাজার টাকা করে দিয়েছিলেন। সেখানে ঠাকুরগাঁও সদরের দ্বেপীপুর ইউনিয়নের দুইটি পরিবারের ছয়জন সদস্য নিহত হয়েছিল। এই দুটো পরিবারও সেদিন সহযোগিতা পেয়েছিল।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্য এ উদ্যোগ জাতীয় এবং আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক প্রশংসা পেয়েছিল। এই কাজের মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামী প্রমাণ করেছিল ইসলাম সবার কল্যাণের জন্যই এসেছে। যেকোনো দুর্যোগ-দুর্ভোগে জামায়াত সবার আগে মানুষের পাশে ছুটে যায়। তাই জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বকে জনগণের সেবায় পাশে থাকার সুযোগ দিন।

তিনি আরো বলেন, আগামী নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ (সদর) সংসদীয় আসনে ভোট প্রদানের মাধ্যমে এলাকার জনগণ তাদের সঠিক নেতৃত্ব খুঁজে নিবে। ঠাকুরগাঁও-এ আমরা জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে জনগণের কল্যাণে নানামুখী কাজ করে যাচ্ছি। এ সময় তিনি হিন্দু মুসলিম সকল ধর্মের ভেদাভেদ ভুলে নিজেদের সামগ্রীক কল্যাণে সব জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এগিয়ে আসতে আহ্বান জানান।

প্রেস বিজ্ঞপ্তি

ভারতে অভিন্ন আইন : অবস্থান স্পষ্ট করলো মুসলিম ল বোর্ড

‘সংখ্যাগরিষ্ঠের বেঁধে দেয়া নৈতিকতার’ মাপকাঠিতে সংখ্যালঘুদের অধিকার কেড়ে নেয়া যায় না – এই যুক্তি দেখিয়ে ভারতে প্রস্তাবিত অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা ইউনিফর্ম সিভিল কোডের (ইউসিসি) তীব্র বিরোধিতা করল অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড।

ভারতীয় মুসলিম সমাজে সম্ভবত সবচেয়ে প্রভাবশালী সংগঠন এই ল বোর্ড – এবং সে দেশে মুসলিমদের ব্যক্তিগত আইনের (পার্সোনাল ল) ‘কাস্টডিয়ান’ বা হেফাজতকারী হিসেবেও তারা পরিচিত।

সারা দেশে সব ধর্মের সব নাগরিকের জন্য একই ধরনের দেওয়ানি আইন – যেটাকে ইউনিফর্ম সিভিল কোড বা ইউসিসি বলা হয়ে থাকে – তা চালু করার ব্যাপারে জনগণের মতামত জানতে চেয়ে ভারতের ‘ল কমিশন’ এর আগে ১৪ জুন বিজ্ঞপ্তি দিয়েছিল।

এর কয়েক দিন পরেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রকাশ্য জনসভা থেকে ইউসিসির পক্ষে বক্তব্য রাখেন এবং বলেন, একই পরিবারের সদস্যদের জন্য যেমন আলাদা আলাদা নিয়ম হতে পারে না, তেমনি একই দেশের নাগরিকদের জন্যও আলাদা আইন থাকা উচিত নয়।

এরপর প্রস্তাবিত এই ইউসিসির নানা দিক খতিয়ে দেখতে বিভিন্ন দলের এমপিদের নিয়ে একটি পার্লামেন্টারি প্যানেলও গঠন করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, জাতীয় সংসদের আসন্ন অধিবেশনেই ইউসিসি আনতে একটি বিল পেশ করা হবে।

আইনটিতে কী থাকবে তা এখনো পরিষ্কার নয়।

ইতোমধ্যে দেশের ছোট-বড় প্রায় সব রাজনৈতিক দলই ইউসিসি নিয়ে তাদের মতামত জানাতে শুরু করেছে। অনেকেই যেমন এই প্রস্তাবে সমর্থন জানাচ্ছেন, তেমনি আবার বহু দল পরিষ্কার করে দিয়েছে তারা এই পদক্ষেপের ঘোর বিরোধী।

এই পটভূমিতেই অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড আইন কমিশনের কাছে লিখিত আকারে তাদের মতামত পেশ করে ইউসিসি নিয়ে তাদের আনুষ্ঠানিক অবস্থান স্পষ্ট করে দিলো।

বুধবার (৫ জুলাই) ল বোর্ডের ওয়ার্কিং কমিটির সদস্যদের মধ্যে দীর্ঘ বৈঠকের পর এই মতামতের খসড়া চূড়ান্ত করা হয় এবং তারপর মোট ১০০ পৃষ্ঠার সেই ‘প্রেজেন্টেশন’ আইন কমিশনের কাছে পাঠিয়ে দেয়া হয়।

‘মুসলিম পরিচয় রক্ষাটা জরুরি’
অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ডের কেন্দ্রীয় মুখপাত্র এস কিউ আর ইলিয়াস বিবিসিকে বলেন, ‘ইউসিসিকে সমর্থন করে যেসব যুক্তি দেয়া হচ্ছে, সেগুলো যে কতটা অসার ও ভিত্তিহীন সেটাই আমরা আমাদের বক্তব্যে তুলে ধরেছি।’

তাদের ওই প্রেজেন্টেশনের মূল কথা হলো, রাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নথি যে সংবিধান – সেটাই ‘ইউনিফর্ম’ নয়, কারণ ভারতের সংবিধান বিশেষ বিশেষ গোষ্ঠীকে বিশেষ ধরনের বেশ কিছু অধিকার দিয়েছে।

“সমগ্র দেশ যাতে ঐক্যবদ্ধ থাকে, সেই লক্ষ্য নিয়েই কিন্তু দেশের সংবিধান-প্রণেতারা এটা করেছিলেন। ফলে নানা ধরনের ‘ট্রিটমেন্ট’, নানা রকমভাবে ‘অ্যাকোমোডেট’ বা ‘অ্যাডজাস্ট’ করা – এগুলো আমাদের সংবিধানের চরিত্রেই আছে”, বলছিলেন ইলিয়াস।

সংবিধানে ভারতের বিভিন্ন ভৌগোলিক এলাকাকে যেমন আলাদা মর্যাদা দেয়া হয়েছে, বিভিন্ন সম্প্রদায় তাদের নিজস্ব রীতিনীতি অনুযায়ী আলাদা আইন পেয়েছেন কিংবা নানা ধর্মের লোক নানা অধিকার ভোগ করছেন – এগুলোকেই নিজেদের বক্তব্যের সমর্থনে যুক্তি হিসেবে পেশ করেছে অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড।

দ্বিতীয় যে বিষয়টির ওপর তারা জোর দিয়েছেন সেটি হল মুসলিমদের ধর্মীয় ‘আইডেন্টিটি’ বা পরিচয় রক্ষা করা।

ল বোর্ডের প্রেজেন্টশনে বলা হয়েছে, ইসলামের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ কোরআন আর সুন্নাহ (ইসলামী আইনসমূহ) থেকেই সরাসরি মুসলিম পার্সোনাল ল উৎসারিত হয়েছে। ফলে এই আইন একজন মুসলিমের ধর্মীয় পরিচয়ের সাথে সংযুক্ত।

এস কিউ আর ইলিয়াস বিবিসিকে আরো জানান, ‘আমরা বলেছি, দেশের সাংবিধানিক কাঠামোতেও যেখানে এই ধর্মীয় পরিচয়টা রক্ষার কথা বলা হয়েছে, তখন ভারতের মুসলিমরা কিছুতেই মেনে নেবেন না যে সেই পরিচয়টা লুপ্ত হোক।’

অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড যুক্তি দিচ্ছে, দেশের ‘বৈচিত্র্য’ সঠিকভাবে রক্ষিত হলে তবেই জাতীয় সংহতি, সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব – আর দেশের সংখ্যালঘু ও আদিবাসীরা যদি তাদের নিজস্ব পার্সোনাল ল অনুসারে জীবনযাপন করতে পারেন তাহলেই ভারতের সেই বৈচিত্র্য বজায় থাকবে।

ভারতে অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ডের সমালোচকরা অবশ্য বলে থাকেন, ধর্মীয় যুক্তি দিয়ে তারা ভারতে চিরকাল মুসলিম পার্সোনাল ল’র সংস্কারে বাধা দিয়ে এসেছেন এবং সেই আইনকে কখনোই যুগোপযোগী করে তোলেননি।

সূত্র : বিবিসি

তামিমের অবসর নিয়ে মুখ খুললেন মাশরাফি

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বিদায় নিলেন তামিম ইকবাল। অবসর ঘোষণার পর এ বিষয়ে এক এক করে কথা বলছেন বিভিন্ন ক্রিকেট বোর্ড কর্মকর্তা, সাবেক ক্রিকেটার, ক্রীড়া বিশ্লেষকরা। এবার তামিমের অবদান ও স্মৃতি তুলে ধরে কথা বলেছেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা।

বৃহস্পতিবার (৬ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তামিমের অবসর নিয়ে একটা পোস্ট করেন মাশরাফি।

মাশরাফির ওই পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো।

‘তামিম, তোর সিদ্ধান্ত অবশ্যই একান্তই তোর। এটা কারও ভালো লাগলেও তোর, ভালো না লাগলেও তোর। পক্ষে-বিপক্ষে অনেক কথাই হবে। তবে সবচেয়ে ভালো কোনটা, সেটা তুই ছাড়া কেউই ভালো বুঝবে না। তাই তোর এই সিদ্ধান্তকে আমি ব্যক্তিগতভাবে শতভাগ সম্মান জানাই।

তবে কিছু কথা জানতে মন চায়, মাত্র ৩৪ বছর ১০৮ দিনেই বিদায় কেন! আসলেই কি চালিয়ে যেতে পারছিস না? না কি কোনও চাপ তোকে বাধ্য করেছে! তোর অনেক ভক্ত হয়তো খুঁজে ফিরবে এই প্রশ্নগুলোর উত্তর। আজ খুঁজবে, এমনকি ভবিষ্যতও আরও অনেকদিন খুঁজবে।

তোকে প্রথম দেখেছি চট্টগ্রামে তোদের বাসায়, হাফ প্যান্ট পরে খেলছিলি। তোর ভাই, আমার বন্ধু নাফিস ইকবাল তোকে আমার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিল। পরের বার দেখলাম জাতীয় লীগে ওপেন করতে, খুলনার মাঠে। তারপর ২০০৭ বিশ্বকাপ থেকে একসঙ্গে পথ চলতে চলতে তুই হয়ে গেলি বন্ধুর মতো। কত দিন কত রাত এক সঙ্গে সময় কাটিয়েছি, একসঙ্গে খেতে যাওয়া, ঘণ্টার পর ঘণ্টা আড্ডা, দুষ্টুমি, মজা, তর্ক, খেলা নিয়ে কত কত আলোচনা করেছি, সেসবের কোনও হদিস নেই।

যখন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অধিনায়ক ছিলাম, তখন তুই ছিল আমার অন্যতম ‘স্নাইপার।’ সেটা তুই নিজেও খুব ভালো করেই জানিস। যেদিন দল থেকে বের হয়ে এলাম, সেদিন তুই আমাকে কাঁধে তুলে নিয়েছিলি। পরে সারারাত একসঙ্গে আড্ডা দিয়েছিলাম। যে কোনও সিরিজ বা সফরে তুই ছিলি আমার রুমে আড্ডার অবধারিত সঙ্গী। আরও কত শত স্মৃতি এখন মনে পড়ছে!

তোকে যতটুকু চিনি, তাতে তোর এই সিদ্ধান্তকে আমি অনায়াসে পোস্টমর্টেম করতে পারতাম। কিন্তু তা করব না, কারণ ওই যে, তোর নিজস্ব সিদ্ধান্তকে অবশ্যই সম্মান জানানো উচিত। তোর মানসিক অবস্থা আমি বুঝতে পারছি, সেই সঙ্গে এটাও বলছি যে, তুই বাংলাদেশের ক্রিকেটকে যা কিছু দিয়েছিস, তা আমরা আজীবন মনে রাখব। একজন তামিম হয়ে উঠতে কতটা পরিশ্রম, কতটা সময়, কতটা মেধা আর কত ত্যাগ থাকতে হয়, তা সময় সব কিছু বুঝিয়ে দেবে।

তোর প্রতি রইল অফুরন্ত ভালোবাসা। পরবর্তী জীবন পরিবার নিয়ে দারুণ কাটাবি, সেই আশাই করছি।
আর একটা কথা, দলের ভেতর নানা পরিসংখ্যান নিয়ে বিশ্লেষণ নির্ভর আলোচনা এখন কে করবে, ঠিক জানি না। হয়তো কেউ করবে। তবে তুই এই জায়গায় সবসময়ই থাকবি সেরাদের সেরা।
গুড বাই মি. তামিম ইকবাল খান। একজন কিংবদন্তির বিদায়।

বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য শুভ কামনা, এগিয়ে চলুক দুর্বার গতিতে। আমাদের এখন সামনে এগিয়ে যাওয়ার সময়।’

বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামে সংবাদ সম্মেলন ডেকে আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন তামিম ইকবাল। তিনি বলেছেন, ‘আজ এই মুহূর্ত থেকে আমি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নিচ্ছি।’

দীর্ঘ ১৬ বছরের ক্রিকেট ক্যারিয়ার তামিম ইকবালের। ২০০৭ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি কেনিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে ম্যাচ দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয় তার। আফগানিস্তানের বিপক্ষে নিজের ঘরের মাঠে এই সংস্করণেই শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেললেন তিনি। ২৪১ ম্যাচের ওয়ানডে ক্যারিয়ারে ৩৬.৬২ গড়ে ৮৩১৩ রান করেছেন, সেঞ্চুরি ১৪টি, ফিফটি ৫৬টি। টেস্টে ৭০ ম্যাচে ৩৮.৮৯ গড়ে তার সংগ্রহ ৫১৩৪ রান। ৩১ ফিফটির সঙ্গে করেছেন ১০ সেঞ্চুরি। টি-টোয়েন্টিতে ৭৮ ম্যাচে করেছেন ১৭৫৮ রান। দেশের একমাত্র সেঞ্চুরির সাথে আছে ৭টি ফিফটিও।

মার্কিন প্রতিনিধি দল শুধু ভোটে ফোকাস করবে না : পররাষ্ট্র সচিব

পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন বলেছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলের আসন্ন উচ্চ পর্যায়ের সফর শুধুমাত্র বাংলাদেশের নির্বাচনকে কেন্দ্র্র করে নয়, বরং এটি ঢাকা ও ওয়াশিংটনের মধ্যে চলমান দ্বিপক্ষীয় সম্পৃক্ততার অংশ।

বৃহস্পতিবার (৬ জুলাই) তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের বলেন ‘এটা ভাবা বুদ্ধিমানের কাজ হবে না যে, এই সফরটি শুধু আমাদের নির্বাচনকে কেন্দ্র্র করে। তবে হ্যাঁ, নির্বাচন একটি বিষয় হিসাবে আলোচনায় আসতে পারে, আমরা ফ্যাক্টরটি উড়িয়ে দিচ্ছি না।’

বেসামরিক নিরাপত্তা, গণতন্ত্র ও মানবাধিকার বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি আজরা জেয়ার নেতৃত্বে মার্কিন প্রতিনিধি দল ১১ থেকে ১৪ জুলাই বাংলাদেশ সফর করবে।

মাসুদ বলেন,‘এই সফরটি বাংলাদেশ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান বিভিন্ন প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতা। মানবাধিকার, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন, বাণিজ্য, শ্রম এবং পারস্পরিক স্বার্থের অন্যান্য বিষয়াদিও আলোচনায় আসবে।

প্রতিনিধি দলে যুক্তরাষ্ট্র্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক ব্যুরোর সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লু এবং এশিয়া বিষয়ক ব্যুরোর উপ-সহকারী প্রশাসক ইউএসএআইডি অঞ্জলি কাউরও থাকবেন।

পররাষ্ট্র সচিব বলেন, জেয়া তুলনামূলকভাবে একজন সিনিয়র মার্কিন কর্মকর্তা এবং তার কার্যক্ষেত্র বেশ বিস্তৃত।’

সাম্প্রতিক সময়ে ওয়াশিংটন থেকে ঢাকায় একাধিক সফর হয়েছে। এর মধ্যে মার্চ মাসে আন্ডার সেক্রেটারি ফর পলিটিক্যাল অ্যাফেয়ার্স ভিক্টোরিয়া নুল্যান্ড এবং ডোনাল্ড লুও এ বছরের শুরুতে বাংলাদেশে সফর করেন।

এদিকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাবলিক ডিপ্লোম্যাসি উইংয়ের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মোহাম্মদ রফিকুল আলম মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আজরা জেয়ার নেতৃত্বে মার্কিন প্রতিনিধি দলের এ সফর মূলত দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এগিয়ে নেয়ার এবং দুই দেশের যোগাযোগ আরো জোরদার করার প্রচেষ্টা।

তিনি আরো বলেন, মার্কিন প্রতিনিধিদল ঢাকায় তাদের ব্যস্ততার পাশাপাশি রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করবে।

সূত্র : বাসস

ভোট কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা হলে তাৎক্ষণিক ভোট গ্রহণ বন্ধ : ইসি

নির্বাচন কমিশনার (ইসি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো: আহসান হাবিব খান বলেছেন, একটি অবাধ, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে যা যা দরকার, সেই কাজগুলোই আমরা পরিকল্পিতভাবে করব। কোনো কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা দেখা দিলে তাৎক্ষণিক ভোট গ্রহণ বন্ধ হয়ে যাবে। দরকার হলে একবারের নির্বাচন ১০ বার নেয়া হবে।

বৃহস্পতিবার (৬ জুলাই) তিনি পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলা পরিষদ হলরুমে আয়োজিত ভান্ডারিয়া পৌরসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের সকল নির্বাচন সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ হবে। নির্বাচন সুষ্ঠু করতে আমরা কঠোর অবস্থানে রয়েছি। বর্তমানে নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড ধরে রাখতে কমিশন বদ্ধপরিকর। প্রত্যেক প্রার্থীকে সমান সুযোগ দেয়া হচ্ছে। এছাড়া প্রশাসনসহ নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট সবাই সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিতে কাজ করছেন।

তিনি আরো বলেন,‘ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) হচ্ছে শতভাগ স্বচ্ছ ভোটিং ব্যবস্থা। ইভিএম পদ্ধতিতে পক্ষপাতিত্ব বা অনিয়ম করার কোনো সুযোগ নেই। নির্বাচনের সময় ইভিএমএ কারিগরি কোনো ত্রুটি থাকলে সাথে সাথে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে। ইভিএম নিয়ে কোনো দুশ্চিন্তার কারণ নেই।’

এ সময় ভোটকেন্দ্রে সংবাদকর্মীদের অবাধ বিচরণ নিশ্চিত করার কথা উল্লেখ করে আহসান হাবিব খান বলেন, ‘আমি সব সময় বলছি, মিডিয়া হলো চোখ ও কান। মিডিয়ার অবাধ বিচরণ নিশ্চিত করব। তবে ভোটকক্ষের মধ্যে লাইভ করা সমীচীন নয়। এক কক্ষে একাধিক সাংবাদকর্মী প্রবেশ করতে পারবে না।
পিরোজপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহেদুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় আরো বক্তব্য রাখেন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শফিউর রহমান, বরিশাল অঞ্চলের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো: আলাউদ্দিন, ভান্ডারিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার সীমা রাণী ধর, জেলা নির্বাচন অফিসার ও রিটার্নিং অফিসার জিয়াউর রহমান খলিফা, আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা মার্কার মেয়র প্রার্থী ফাইজুর রশিদ খসরু জোমাদ্দার, জাতীয় পার্টি জেপি মনোনীত সাইকেল মার্কার মেয়র প্রার্থী মাহিবুল ইসলামসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থীরা।

উল্লেখ্য, আগামী ১৭ জুলাই সোমবার ইভিএম পদ্ধতিতে ভান্ডারিয়া পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ২২ হাজার ৪১৫ জন। এদের মধ্যে পুরুষ ১১ হাজার ২৩৬ জন এবং নারী ভোটার ১১ হাজার ১৭৯ জন। মোট ৯টি কেন্দ্রের ৬৮টি বুথে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ২০১৫ সালে পৌরসভা গঠরে পর এই প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।