Home Blog Page 603

তামিমের অবসর নিয়ে মুখ খুললেন মাশরাফি

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বিদায় নিলেন তামিম ইকবাল। অবসর ঘোষণার পর এ বিষয়ে এক এক করে কথা বলছেন বিভিন্ন ক্রিকেট বোর্ড কর্মকর্তা, সাবেক ক্রিকেটার, ক্রীড়া বিশ্লেষকরা। এবার তামিমের অবদান ও স্মৃতি তুলে ধরে কথা বলেছেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা।

বৃহস্পতিবার (৬ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তামিমের অবসর নিয়ে একটা পোস্ট করেন মাশরাফি।

মাশরাফির ওই পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো।

‘তামিম, তোর সিদ্ধান্ত অবশ্যই একান্তই তোর। এটা কারও ভালো লাগলেও তোর, ভালো না লাগলেও তোর। পক্ষে-বিপক্ষে অনেক কথাই হবে। তবে সবচেয়ে ভালো কোনটা, সেটা তুই ছাড়া কেউই ভালো বুঝবে না। তাই তোর এই সিদ্ধান্তকে আমি ব্যক্তিগতভাবে শতভাগ সম্মান জানাই।

তবে কিছু কথা জানতে মন চায়, মাত্র ৩৪ বছর ১০৮ দিনেই বিদায় কেন! আসলেই কি চালিয়ে যেতে পারছিস না? না কি কোনও চাপ তোকে বাধ্য করেছে! তোর অনেক ভক্ত হয়তো খুঁজে ফিরবে এই প্রশ্নগুলোর উত্তর। আজ খুঁজবে, এমনকি ভবিষ্যতও আরও অনেকদিন খুঁজবে।

তোকে প্রথম দেখেছি চট্টগ্রামে তোদের বাসায়, হাফ প্যান্ট পরে খেলছিলি। তোর ভাই, আমার বন্ধু নাফিস ইকবাল তোকে আমার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিল। পরের বার দেখলাম জাতীয় লীগে ওপেন করতে, খুলনার মাঠে। তারপর ২০০৭ বিশ্বকাপ থেকে একসঙ্গে পথ চলতে চলতে তুই হয়ে গেলি বন্ধুর মতো। কত দিন কত রাত এক সঙ্গে সময় কাটিয়েছি, একসঙ্গে খেতে যাওয়া, ঘণ্টার পর ঘণ্টা আড্ডা, দুষ্টুমি, মজা, তর্ক, খেলা নিয়ে কত কত আলোচনা করেছি, সেসবের কোনও হদিস নেই।

যখন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অধিনায়ক ছিলাম, তখন তুই ছিল আমার অন্যতম ‘স্নাইপার।’ সেটা তুই নিজেও খুব ভালো করেই জানিস। যেদিন দল থেকে বের হয়ে এলাম, সেদিন তুই আমাকে কাঁধে তুলে নিয়েছিলি। পরে সারারাত একসঙ্গে আড্ডা দিয়েছিলাম। যে কোনও সিরিজ বা সফরে তুই ছিলি আমার রুমে আড্ডার অবধারিত সঙ্গী। আরও কত শত স্মৃতি এখন মনে পড়ছে!

তোকে যতটুকু চিনি, তাতে তোর এই সিদ্ধান্তকে আমি অনায়াসে পোস্টমর্টেম করতে পারতাম। কিন্তু তা করব না, কারণ ওই যে, তোর নিজস্ব সিদ্ধান্তকে অবশ্যই সম্মান জানানো উচিত। তোর মানসিক অবস্থা আমি বুঝতে পারছি, সেই সঙ্গে এটাও বলছি যে, তুই বাংলাদেশের ক্রিকেটকে যা কিছু দিয়েছিস, তা আমরা আজীবন মনে রাখব। একজন তামিম হয়ে উঠতে কতটা পরিশ্রম, কতটা সময়, কতটা মেধা আর কত ত্যাগ থাকতে হয়, তা সময় সব কিছু বুঝিয়ে দেবে।

তোর প্রতি রইল অফুরন্ত ভালোবাসা। পরবর্তী জীবন পরিবার নিয়ে দারুণ কাটাবি, সেই আশাই করছি।
আর একটা কথা, দলের ভেতর নানা পরিসংখ্যান নিয়ে বিশ্লেষণ নির্ভর আলোচনা এখন কে করবে, ঠিক জানি না। হয়তো কেউ করবে। তবে তুই এই জায়গায় সবসময়ই থাকবি সেরাদের সেরা।
গুড বাই মি. তামিম ইকবাল খান। একজন কিংবদন্তির বিদায়।

বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য শুভ কামনা, এগিয়ে চলুক দুর্বার গতিতে। আমাদের এখন সামনে এগিয়ে যাওয়ার সময়।’

বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামে সংবাদ সম্মেলন ডেকে আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন তামিম ইকবাল। তিনি বলেছেন, ‘আজ এই মুহূর্ত থেকে আমি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নিচ্ছি।’

দীর্ঘ ১৬ বছরের ক্রিকেট ক্যারিয়ার তামিম ইকবালের। ২০০৭ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি কেনিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে ম্যাচ দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয় তার। আফগানিস্তানের বিপক্ষে নিজের ঘরের মাঠে এই সংস্করণেই শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেললেন তিনি। ২৪১ ম্যাচের ওয়ানডে ক্যারিয়ারে ৩৬.৬২ গড়ে ৮৩১৩ রান করেছেন, সেঞ্চুরি ১৪টি, ফিফটি ৫৬টি। টেস্টে ৭০ ম্যাচে ৩৮.৮৯ গড়ে তার সংগ্রহ ৫১৩৪ রান। ৩১ ফিফটির সঙ্গে করেছেন ১০ সেঞ্চুরি। টি-টোয়েন্টিতে ৭৮ ম্যাচে করেছেন ১৭৫৮ রান। দেশের একমাত্র সেঞ্চুরির সাথে আছে ৭টি ফিফটিও।

মার্কিন প্রতিনিধি দল শুধু ভোটে ফোকাস করবে না : পররাষ্ট্র সচিব

পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন বলেছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলের আসন্ন উচ্চ পর্যায়ের সফর শুধুমাত্র বাংলাদেশের নির্বাচনকে কেন্দ্র্র করে নয়, বরং এটি ঢাকা ও ওয়াশিংটনের মধ্যে চলমান দ্বিপক্ষীয় সম্পৃক্ততার অংশ।

বৃহস্পতিবার (৬ জুলাই) তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের বলেন ‘এটা ভাবা বুদ্ধিমানের কাজ হবে না যে, এই সফরটি শুধু আমাদের নির্বাচনকে কেন্দ্র্র করে। তবে হ্যাঁ, নির্বাচন একটি বিষয় হিসাবে আলোচনায় আসতে পারে, আমরা ফ্যাক্টরটি উড়িয়ে দিচ্ছি না।’

বেসামরিক নিরাপত্তা, গণতন্ত্র ও মানবাধিকার বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি আজরা জেয়ার নেতৃত্বে মার্কিন প্রতিনিধি দল ১১ থেকে ১৪ জুলাই বাংলাদেশ সফর করবে।

মাসুদ বলেন,‘এই সফরটি বাংলাদেশ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান বিভিন্ন প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতা। মানবাধিকার, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন, বাণিজ্য, শ্রম এবং পারস্পরিক স্বার্থের অন্যান্য বিষয়াদিও আলোচনায় আসবে।

প্রতিনিধি দলে যুক্তরাষ্ট্র্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক ব্যুরোর সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লু এবং এশিয়া বিষয়ক ব্যুরোর উপ-সহকারী প্রশাসক ইউএসএআইডি অঞ্জলি কাউরও থাকবেন।

পররাষ্ট্র সচিব বলেন, জেয়া তুলনামূলকভাবে একজন সিনিয়র মার্কিন কর্মকর্তা এবং তার কার্যক্ষেত্র বেশ বিস্তৃত।’

সাম্প্রতিক সময়ে ওয়াশিংটন থেকে ঢাকায় একাধিক সফর হয়েছে। এর মধ্যে মার্চ মাসে আন্ডার সেক্রেটারি ফর পলিটিক্যাল অ্যাফেয়ার্স ভিক্টোরিয়া নুল্যান্ড এবং ডোনাল্ড লুও এ বছরের শুরুতে বাংলাদেশে সফর করেন।

এদিকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাবলিক ডিপ্লোম্যাসি উইংয়ের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মোহাম্মদ রফিকুল আলম মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আজরা জেয়ার নেতৃত্বে মার্কিন প্রতিনিধি দলের এ সফর মূলত দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এগিয়ে নেয়ার এবং দুই দেশের যোগাযোগ আরো জোরদার করার প্রচেষ্টা।

তিনি আরো বলেন, মার্কিন প্রতিনিধিদল ঢাকায় তাদের ব্যস্ততার পাশাপাশি রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করবে।

সূত্র : বাসস

ভোট কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা হলে তাৎক্ষণিক ভোট গ্রহণ বন্ধ : ইসি

নির্বাচন কমিশনার (ইসি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো: আহসান হাবিব খান বলেছেন, একটি অবাধ, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে যা যা দরকার, সেই কাজগুলোই আমরা পরিকল্পিতভাবে করব। কোনো কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা দেখা দিলে তাৎক্ষণিক ভোট গ্রহণ বন্ধ হয়ে যাবে। দরকার হলে একবারের নির্বাচন ১০ বার নেয়া হবে।

বৃহস্পতিবার (৬ জুলাই) তিনি পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলা পরিষদ হলরুমে আয়োজিত ভান্ডারিয়া পৌরসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের সকল নির্বাচন সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ হবে। নির্বাচন সুষ্ঠু করতে আমরা কঠোর অবস্থানে রয়েছি। বর্তমানে নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড ধরে রাখতে কমিশন বদ্ধপরিকর। প্রত্যেক প্রার্থীকে সমান সুযোগ দেয়া হচ্ছে। এছাড়া প্রশাসনসহ নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট সবাই সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিতে কাজ করছেন।

তিনি আরো বলেন,‘ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) হচ্ছে শতভাগ স্বচ্ছ ভোটিং ব্যবস্থা। ইভিএম পদ্ধতিতে পক্ষপাতিত্ব বা অনিয়ম করার কোনো সুযোগ নেই। নির্বাচনের সময় ইভিএমএ কারিগরি কোনো ত্রুটি থাকলে সাথে সাথে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে। ইভিএম নিয়ে কোনো দুশ্চিন্তার কারণ নেই।’

এ সময় ভোটকেন্দ্রে সংবাদকর্মীদের অবাধ বিচরণ নিশ্চিত করার কথা উল্লেখ করে আহসান হাবিব খান বলেন, ‘আমি সব সময় বলছি, মিডিয়া হলো চোখ ও কান। মিডিয়ার অবাধ বিচরণ নিশ্চিত করব। তবে ভোটকক্ষের মধ্যে লাইভ করা সমীচীন নয়। এক কক্ষে একাধিক সাংবাদকর্মী প্রবেশ করতে পারবে না।
পিরোজপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহেদুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় আরো বক্তব্য রাখেন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শফিউর রহমান, বরিশাল অঞ্চলের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো: আলাউদ্দিন, ভান্ডারিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার সীমা রাণী ধর, জেলা নির্বাচন অফিসার ও রিটার্নিং অফিসার জিয়াউর রহমান খলিফা, আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা মার্কার মেয়র প্রার্থী ফাইজুর রশিদ খসরু জোমাদ্দার, জাতীয় পার্টি জেপি মনোনীত সাইকেল মার্কার মেয়র প্রার্থী মাহিবুল ইসলামসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থীরা।

উল্লেখ্য, আগামী ১৭ জুলাই সোমবার ইভিএম পদ্ধতিতে ভান্ডারিয়া পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ২২ হাজার ৪১৫ জন। এদের মধ্যে পুরুষ ১১ হাজার ২৩৬ জন এবং নারী ভোটার ১১ হাজার ১৭৯ জন। মোট ৯টি কেন্দ্রের ৬৮টি বুথে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ২০১৫ সালে পৌরসভা গঠরে পর এই প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

মেন্দি এন সাফাদির সাথে আমার কোনো বৈঠক হয়নি : নুর

গণঅধিকার পরিষদের সদস্য সচিব ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর বলেছেন, ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের এজেন্ট মেন্দি এন সাফাদির সাথে আমার কোনো বৈঠক হয়নি।

বৃহস্পতিবার (৬ জুলাই) জাতীয় প্রেসক্লাবে জাতীয়তাবাদী নবীন দলের আলোচনা সভা শেষে বের হওয়ার সময় উপস্থিত সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে এসব কথা বলেন তিনি৷

নূর এক প্রশ্নে জবাবে বলেন, আগামী ১০ জুলাই কাউন্সিলের মধ্য দিয়ে গণঅধিকার পরিষদের নবজাগরণ ঘটবে। সেই কাউন্সিলের মাধ্যমে গণ অধিকার পরিষদের নেতৃত্ব আসবে। এখানে যারা আসবে না, যারা বেঈমানি-মীর জাফরী করবে তারা ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে হারিয়ে যাবে। কাউকে বহিষ্কার করলে তার খবর মিডিয়াতে আসবে। সে ভাইরাল হবে। এটা আমরা কেউ চাই না।

ডাকসুর সাবেক ভিপি বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকারের গোয়েন্দা সংস্থা নানা ধরনের খেলা খেলছে। বিভিন্ন দলকে ভাঙতে সেসব দলের দলছুট-পদবঞ্চিত নেতাদের কুরবানির পশুর মতো টাকা দিয়ে কিনছে নির্বাচনে নেয়ার জন্য বা সরকারের পক্ষে কাজ করার জন্য। গণঅধিকার পরিষদের একটি বড় কেন্দ্রীয় কার্যালয় আছে। আমরা সমস্ত সংবাদ সম্মেলন সেখানে করেছি। এখন পর্যন্ত আমরা কোনো সংবাদ সম্মেলন প্রেসক্লাবে করিনি। যারা কার্যালয়ে যেতে পারে না, নেতাকর্মীদের সাথে সংশ্লিষ্টতা নেই, তারাই গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মী দাবি করে প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছে। সংবাদ সম্মেলনে তারা কী বলেছে সেটা আমাদের কাছে মুখ্য বিষয় নয়।

তিনি আরো বলেন, শুরু থেকে আমরা একটি নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় গঠনতন্ত্র অনুসরণ করে দুই-তৃতীয়াংশের সমর্থনে প্রথমে দলের আহ্বায়ককে অপসারণের চিঠি দিয়েছি, সাত দিনের ব্যাখ্যার সময় দিয়েছি, তারপর অপসারণ করেছি। আগামী ১০ জুলাই গণঅধিকার পরিষদের কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এখন কিছু লোকজন বুঝতে পেরেছে, তারা সুবিধা করতে পারবে না। তারা ষড়যন্ত্র করে অপতৎপরতা চালিয়ে নেতাকর্মীদের কাছে প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। গণঅধিকার পরিষদে তাদের ভবিষ্যৎ নেই। তাই তারা গোয়েন্দা সংস্থার সাথে হাত মিলিয়ে টাকা-পয়সা নিয়ে গণঅধিকার পরিষদকে ভাঙার জন্য কাজ করছে। এটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত! এদের পেছনে গোয়েন্দা সংস্থা আছে।

গণঅধিকার পরিষদের ভেতরে দু’পক্ষ হওয়ার কারণ কী জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখানে অনেকে আছে যারা বিভিন্ন অপকর্মের কারণে দলে কোণঠাসা। তারা অনেকদিন ধরে বিভিন্ন ছোট ছোট দলের সাথে মিলে আরেকটি দল করা, অন্য দলে যোগ দেয়ার মতো কাজ করছে। সরকার যেহেতু বুঝতে পেরেছে, গণঅধিকার পরিষদ একটি তারুণ্যের শক্তি, তরুণদের দল, আগামীর আন্দোলনের একটি শক্তি হবে। কাজেই এদের বিভ্রান্ত করা, চরিত্র হরণ করা, ভাগ করার ফাঁদ পেতেছে। কিছু নেতাকর্মী সরকারের সেই ফাঁদে পা দিচ্ছে।

দেশের গণমাধ্যমের চেয়ে বড় কোনো গোয়েন্দা সংস্থা দেখি না এমন মন্তব্য করে ভিপি নুর বলেন, সাংবাদিকদের কাছে আমার আহ্বান আপনারাই এ বিষয়ে তদন্ত করেন। আপনারাই ভালো জানেন।

বিশ্বকাপের আগে তামিমের অবসর বাংলাদেশের জন্য বড় ধাক্কা : আইসিসি

আগামী অক্টোবরে ভারতের মাটিতে পর্দা উঠবে ওয়ানডে বিশ্বকাপের ১৩তম আসরের। তার আগে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বাংলাদেশের নিয়মিত অধিনায়ক তামিম ইকবালের অবসর জাতীয় দলের জন্য বড়সড় ধাক্কা বলে মনে করছে ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)।

সংস্থাটির ওয়েবসাইটে এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের মাটিতে আইসিসি ওয়ানডে বিশ্বকাপের মাত্র তিন মাস আগে ১৬ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানলেন তামিম।

আফগানিস্তানের বিপক্ষে চলমান তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে বাংলাদেশের হারের এক দিন পর চট্টগ্রামে এক সংবাদ সম্মেলনে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দেন তামিম।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে সংবাদমাধ্যমকে তামিম বলেন, ‘আমার জন্য এটাই শেষ। আমি আমার সেরাটা দিয়েছি। আমি আমার সেরাটা দেয়ার চেষ্টা করেছি। এই মুহূর্তে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নিচ্ছি আমি।’

সতীর্থ ও কোচিং স্টাফদের ধন্যবাদ জানিয়ে তামিম আরো বলেন, ‘আমি আমার সকল সতীর্থ, কোচ, বিসিবি কর্মকর্তা, আমার পরিবারের সদস্য এবং যারা আমার দীর্ঘ যাত্রায় সাথে ছিলেন তাদের ধন্যবাদ জানাতে চাই। আমার প্রতি আস্থা রেখেছেন তারা।’

ভক্তদের ধন্যবাদ জানিয়ে তামিম বলেন, ‘আমি ভক্তদেরও ধন্যবাদ জানাতে চাই। আমার প্রতি আপনাদের ভালোবাসা এবং বিশ্বাস আমাকে বাংলাদেশের জন্য সেরাটা দিতে অনুপ্রাণিত করেছে। আমি আমার জীবনের পরবর্তী অধ্যায়ের জন্য আপনাদের দোয়া চাই। অনুগ্রহ করে আপনাদের প্রার্থনায় রাখুন।’

২০০৭ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয় তামিমের। দেশের হয়ে ৭০টি টেস্ট, ২৪১টি ওয়ানডে এবং ৭৮টি টি-টোয়েন্টি খেলেছেন তিনি। ২৫টি সেঞ্চুরি এবং ৯৪টি হাফ সেঞ্চুরিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১৫ হাজারের বেশি রান করেছেন এই বাঁ-হাতি ওপেনার।

গত বছর টি-টোয়েন্টি থেকে অবসর নেন ৩৪ বছর বয়সী তামিম। গত এপ্রিলে মিরপুরে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্ট খেলেন তিনি।

এখনো ওয়ানডেতে তামিমের উত্তরসূরি ঘোষণা করেনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।

সূত্র : বাসস

সরকারের পদত্যাগের ঘোষণা ছাড়া সংলাপের প্রশ্নই আসে না : মির্জা ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সরকারের সরকারের পদত্যাগের ঘোষণা ছাড়া সংলাপের প্রশ্নই আসে না। তিনি আবারো নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৬ জুলাই) বিকেল বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ১২ দলীয় জোটের সাথে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘একটা তত্ত্বাবধায়ক বা নিরপেক্ষ যাই বলুক না কেন- নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে। তার আগে এই সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে। এই ঘোষণা সরকারকে সবার আগে দিতে হবে। এবং পদত্যাগ করে নির্বাচন দিতে হবে। এ ছাড়া সংলাপের কোনো প্রশ্ন আসে না।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘জনগণের অধিকার, কথা বলার বাকস্বাধীনতা- এগুলো পুনরুদ্ধার করার জন্য আমরা আন্দোলন করছি। বর্তমান অবৈধ সরকারের ক্ষমতা আসার পর থেকেই অত্যন্ত সচেতনভাবে বাংলাদেশের সকল অর্জনগুলোকে ধ্বংস করে দিয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যে আমাদের আন্দোলন একটা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। এই বছরটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ এই আওয়ামী লীগ সরকার এই বছরেই একটি পাতানো নির্বাচন করার জন্য এগিয়ে যাচ্ছে। পাতানো নির্বাচন এ দেশের মানুষ কখনো গ্রহণ করবে না। আমরা পরিষ্কারভাবে বলে দিতে চাই, এই অবৈধ আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না। এদেশে মানুষ মেনে নেবে না। আমাদের পক্ষ থেকে দাবি উত্থাপন হয়েছে, পরিষ্কারভাবে বলেছি, এই সরকারকে পদত্যাগ করে নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে।’

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আওয়ামী লীগ নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন করে যদি আবারো ক্ষমতায় আসে তাহলে আমরা তাদেরকে স্বাগত জানাবো।’

মিজা ফখরুল বলেন, ‘আগামী নির্বাচনে একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন। এই নির্বাচনের উপর নির্ভর করবে জাতির অস্তিত্ব থাকবে কি থাকবে না। জাতির স্বাধীনতা থাকবে কি থাকবে না। জাতি একটি কল্যাণকর রাষ্ট্র তৈরি করতে পারবে কি পারবে না। সেজন্য আমরা বলেছি, নির্বাচনটা অবশ্যই নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে হতে হবে। সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে।’

বৈঠকে বিএনপির পক্ষ থেকে আরো উপস্থিত ছিলেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান ও ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু।

১২ দলের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার, কল্যাণ পার্টির সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীর প্রতীক, জাতীয় দলের চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদা, এলডিপির মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম, জমিয়তে ওলামায় ইসলাম মহাসচিব মুফতি গোলাম মুহিউদ্দিন ইকরাম, ন্যাপ ভাসানী চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আজহারুল ইসলাম, জাগপার সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট রাশেদ প্রধান, ইসলামী ঐক্যজোট মহাসচিব আবদুল করিম, বাংলাদেশ জাস্টিস পার্টি সভাপতি ড. সৈয়দ জাভেদ মোহাম্মাদ সালেহ উদ্দিন, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ (বিএমএল) মহাসচিব মো: নজরুল ইসলাম, বাংলাদেশ ইসলামিক পার্টি মহাসচিব অ্যাড. আবুল কাশেম, জাতীয় পার্টির মহাসচিব আহসান হাবিব লিংকন।

কেবলমাত্র আ’লীগই পারে দেশে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন দিতে

আগামী দিনেও দেশের মানুষের জন্য কাজ করে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় সংসদে বলেছেন, কেবলমাত্র আওয়ামী লীগই পারে দেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন দিতে।

দেশে সাম্প্রতিক সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন এবং তার শাসনামলে অনুষ্ঠিত সংসদ উপ-নির্বাচনের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন,‘আমি দ্ব্যর্থহীনভাবে বলতে পারি কেবলমাত্র আওয়ামী লীগই এদেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন দিতে পারে।’

তিনি আরো বলেন,‘আমাদের লক্ষ্য জনগণের ভোটাধিকার রক্ষা এবং জনগণের অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জন। আমরা কাজ করে যাচ্ছি এবং এটি চালিয়ে যাব।’

বৃহস্পতিবার (৬ জুলাই) বর্তমান একাদশ জাতীয় সংসদের ২৩তম অধিবেশনের (২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেট অধিবেশন) সমাপনী ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বলেন, বরিশাল, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট ও গাজীপুরের সাম্প্রতিক সিটি নির্বাচন নিয়ে কেউ একটি প্রশ্নও তুলতে পারেনি। অতীতে বাংলাদেশে এত শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন হয়েছে কিনা প্রশ্ন করেন তিনি।

সংসদের বিভিন্ন উপ-নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রতিটি উপনির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

৩১ মে শুরু হওয়া অধিবেশন ২২ কার্য দিবস শেষে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী রাষ্ট্রপতির সমাপ্তির আদেশ পাঠ করেন।

সূত্র : বাসস

মস্কোর কাছে ২টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে রাশিয়া

রাশিয়ার বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী মঙ্গলবার মস্কো অঞ্চলে দু’টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, এতে হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি।

জরুরি পরিষেবাগুলো সংবাদ সংস্থা তাস’কে জানায়, নিউ মস্কো অঞ্চলে ‘ইলেকট্রনিক যুদ্ধ সরঞ্জামের মাধ্যমে দু’টি ড্রোনকে ভূপাতিত করা হয়েছে।’

তাস আরো জানায়, রাজধানী থেকে প্রায় ১৯০ কিলোমিটার দূরে কালুগা অঞ্চলে তৃতীয় একটি ড্রোনকে ‘গুলি করে নামানো হয়েছে।’

তাস বলেছে ‘প্রাথমিক প্রতিবেদন’ অনুসারে, তিনটি ড্রোন মস্কোর দিকে যাচ্ছিল।

সংস্থাটি অজ্ঞাত সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছে, তিনটি ড্রোনই ফিক্সড উইং। এতে আরো বলা হয়, কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

জরুরি পরিষেবার উদ্ধৃতি দিয়ে রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত সংস্থা আরআইএ নভোস্তিও জানিয়েছে, নিউ মস্কোর ভ্যালুয়েভো গ্রামের কাছে দু’টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। ড্রোনগুলো একটি ‘খোলা মাঠে’ পড়েছিল এবং এতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

প্রতিবেদনে ড্রোনের উড্ডয়ন স্থলের নাম উল্লেখ করা হয়নি।

২০ বছরের মধ্যে পশ্চিমতীরে সবচেয়ে বড় সামরিক অভিযান ইসরাইলের

ইসরাইলি বাহিনী ২০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় সামরিক অভিযান শুরু করেছে অধিকৃত পশ্চিম তীরের জেনিনে। ইতোমধ্যেই এই অভিযানে অন্তত আটজন নিহত এবং শতাধিক ফিলিস্তিনি আহত হয়েছে বলে ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এছাড়া রামাল্লার কাছে আরেকজন নিহত হয়েছে।

ইসরাইল ডিফেন্স ফোর্সেস (আইডিএফ) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘সন্ত্রাসীদের অবকাঠামোয়’ আঘাত হানতে জেনিন ও জেনিন ক্যাম্প এলাকায় ব্যাপক অভিযান চলছে।

আইডিএফ প্রায় ১০ বার ড্রোন দিয়ে হামলা চালিয়েছে। এছাড়া শত শত সৈন্য এতে অংশ নিচ্ছে। ইসরাইলিদের ভাষায় তাদের হামলার টার্গেট হলো ‘কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল’ সেন্ট্রার।

ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, জেনিনের ‘সন্ত্রাসী শিবিরে’ সামরিক অভিযান চলছে।

বাসিন্দারা সিএনএনকে বলেছেন, বিস্ফোরণ ও গুলির শব্দ শোনা যাচ্ছে। শত শত ফিলিস্তিনি পরিবার এলাকাটি থেকে পালিয়ে যাচ্ছে। জেনিনের ডেপুটি মেয়র মোহাম্মদ জারার বলেন, উদ্বাস্তু শিবিরের বাড়িঘর ও অবকাঠামো ধ্বংস করা হয়েছে, বিদ্যুৎ ও পানিসংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।

ইসরাইলি হামলায় নিহতদের পাঁচজন কিশোর বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। তবে ক্যাম্প এলাকায় ফিলিস্তিন রেড ক্রিসেন্টকে কাজ করতে দেয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন প্যালেস্টাইন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির পরিচালক মোহাম্মদ আল-সাদি।

সূত্র : সিএনএন

মানুষ গণতন্ত্র অর্জনের জন্য সকল প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে নামবে : রিজভী

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, এবার জনগণ অপশাসনের দিনের অবসান ঘটাবে। মানুষ গণতন্ত্র অর্জনের জন্য সকল প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে নামবে।

তিনি বলেছেন, ওবায়দুল কাদের সাহেব যাই বলুন না কেন, অবৈধভাবে সশস্ত্র শক্তি প্রয়োগ করে আর ক্ষমতায় যাওয়া যাবে না। দেশের জনগণ এবং বিশ্ববাসীর কাছে এটা স্বীকৃত যে অবৈধ সরকার গোটা দেশ অবৈধভাবে দখল করেছে। গত ১৪ বছর ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতের মৃত্যুর ঘটনা ছিল হাড়-হিম করা আতঙ্কের শিহরণ, জোরপূর্বক গুম, নারীর প্রতি সহিংসতা অতিমাত্রায় বৃদ্ধি, সাংবাদিক হত্যা, বেআইনী আটকের ও রহস্যজনক নিখোঁজের হিড়িকের মধ্য দিয়ে যেভাবে ওবায়দুল কাদের সাহেবরা দেশ চালিয়েছেন সেই প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী দেশ শাসনের অবসান ঘটাতে এবার জনগণ সর্বাত্মক প্রস্তুত আছে।

মঙ্গলবার দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, দেশটা আওয়ামী নেতাদের বাপ-দাদার জমিদারী নয়। এরা আক্রমণাত্মক ভাষায় শিষ্টাচার ও বিনয়কে বিদায় দিয়েছে। যখন যা ইচ্ছে সেটা করবেন এবং বলবেন সেই দিন শেষ হয়ে আসছে। দেশের জনগণকে আওয়ামী শাসকগোষ্ঠীর কাছে কৃপাপ্রার্থী বানানোর চেষ্টার অবসান ঘটিয়ে নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই নির্বাচন হবে।

ঈদের আগে ও পরে বিভিন্ন এলাকায় বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলার তথ্য তুলে ধরে রিজভী বলেন, আওয়ামী সন্ত্রাসীরা নিজ নিজ এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের জন্য সশস্ত্র সহিংসতায় এক বিভীষিকাময় পরিবেশ তৈরি করেছে। তাদের উগ্রতা, নিমর্মতা ও হিংস্রতার এক পৈশাচিক প্রকাশে ফলশ্রুতিতে রক্তাক্ত হয়েছে এলাকার পর এলাকা। বিরোধী দলের অস্তিত্ব মুছে দেয়ার জন্য মনে হয় তারা শপথ করে মাঠে নেমেছে। সন্ত্রাসকে তারা অমোঘ অস্ত্র হিসেবে বেছে নিয়েছে ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য। বহুদলীয় গণতন্ত্র যাতে ফিরে না আসে সেই জন্য সন্ত্রাস তাদের রাষ্ট্রীয় মূলনীতি হিসেবে গ্রহণ করেছে।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় অর্থনীতিকে লুটপাট করে বিদেশে সুখে-শান্তিতে থাকার জন্য আবাসস্থল বানিয়ে চিরদিন আরাম-আয়েশে থাকার জন্য গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করে গোটা জাতিকে বন্দি করেছে। গণতন্ত্র ও মানবাধিকার এখন চরম দুর্দশাগ্রস্থ যেহেতু তাদের আগ্রহ দুর্নীতি আর টাকা পাচার সে কারণে লুটপাট ও বেপরোয়া দুর্বিনীত কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখতেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গণতন্ত্রকামী রাজনৈতিক দল ও জনগণের ওপর আক্রমণ চালাচ্ছে। মানুষের সম্পদ ও সম্পত্তির নিরাপত্তা সম্পূর্ণরূপে আওয়ামী ক্যাডারদের ইচ্ছার উপর নির্ভর করছে। কায়েমি স্বার্থে আঘাত লেগেছে বলেই গত পরশু থেকে গতকাল পর্যন্ত কুষ্টিয়া, নড়াইল ও চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর সশন্ত্র আক্রমণ চালিয়ে রক্ত ঝরিয়েছে। এই সরকারি মদদপৃষ্ট সন্ত্রাসীদের হাতে এখন বৈধ-অবৈধ অস্ত্রের ছড়াছড়ি।

এসময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক অধ্যক্ষ সেলিম ভূইয়া, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আব্দুল কাদির ভূইয়া জুয়েল, আমিনুল ইসলাম, আব্দুস সাত্তার পাটোয়ারী, তারিকুল আলম তেনজিং প্রমুখ।