Home Blog Page 604

নির্বাচনে পুলিশের শতভাগ নিরপেক্ষতা না থাকলে নাকে খত দিয়ে চলে যাব

ঢাকা-১৭ আসনের উপ-নির্বাচন নিয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুক বলেছেন, এই নির্বাচনে পুলিশের শতভাগ নিরপেক্ষতা না থাকলে ডিএমপি কমিশনার হিসেবে নাকে খত দিয়ে চলে যাব।

তিনি বলেন, আমরা আইনশৃঙ্খলা দেখি। সব এলাকার জন্য সমান গুরুত্ব দেয়া হবে। আমরা বিবেচনা করব- কোথায় ঝুঁকি বেশি, কোথায় ঝুঁকি কম। সে হিসেবে ফোর্স মোতায়েন কোথাও কম-বেশি হবে। ঢাকার উপ-নির্বাচন নিয়ে কমিশন যে নির্দেশনা দিয়েছে, সুষ্ঠু ভোটে যা যা করণীয় সব ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

সভায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল সভাপতিত্ব করেন। সভায় অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার ও ইসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

খন্দকার গোলাম ফারুক বলেন, ডিএমপির সক্ষমতা রয়েছে। এই ছোট একটি উপ-নির্বাচনে মোতায়েনের জন্য যথেষ্ট ফোর্স রয়েছে। ইসির চাহিদা মোতাবেক অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে যা যা করণীয়, সব ব্যবস্থা নেয়া হবে। ইসি যে ধরনের সুষ্ঠু, স্বচ্ছ নির্বাচন করতে চাচ্ছে, সে ধরনের সহযোগিতা পুলিশের তরফ থেকে সব সময় থাকবে।

তিনি বলেন, আমরা আইনশৃঙ্খলা দেখি। ভোট নির্ভর করে জনগণের ওপর, প্রিজাইডিং কর্মকর্তা পোলিং অফিসারের ওপরে। আমাদের কাজ হলো কেন্দ্রের পুরো আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা। যাতে ভোটারারা নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন। নিরপেক্ষতা প্রমাণে পুলিশের শতভাগ উদ্যোগ থাকবে।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, আমাদের নিরপেক্ষতা প্রমাণের জায়গা শতভাগ থাকবে। কারা বিশ্বাস করে না? আমি এক শ’ ভাগ গ্যারান্টি দিলাম। ১৭ জুলাইয়ের নির্বাচন দেখেন, আমাদের নিরপেক্ষতার প্রমাণ পান কি না। যদি না পান তখন বলবেন। আমি ডিএমপি কমিশনার হিসেবে নাকে খত দিয়ে চলে যাব।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন রাষ্ট্রদূতের সাথে বৈঠকে বসেছে বিএনপি

ইউরোপীয় ইউনিয়ন রাষ্ট্রদূত চার্লস হোয়াইটলির সাথে বৈঠকে বসেছে বিএনপি। আজ মঙ্গলবার বেলা ৩টার দিকে গুলশান চেয়ারপার্সনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে বিএনপির পক্ষ থেকে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও মানবাধিকারবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান আসাদ উপস্থিত আছেন।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন রাষ্ট্রদূত চার্লস হোয়াইটলি ডিসিএম এর সাথে আছেন স্প্যানিয়ার বার্ন্ড ও রাজনৈতিক কর্মকর্তা সেবাস্টিয়ান।

হাজতিকে নির্যাতন : পাপিয়াকে কাশিমপুর থেকে কুমিল্লা কারাগারে স্থানান্তর

গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারে এ নারী হাজতিকে নির্যাতনের অভিযোগে যুব মহিলা লীগের বহিষ্কৃত নেত্রী শামীমা নূর পাপিয়াকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগার স্থানান্তর করা হয়েছে।

সোমবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে একটি প্রিজন ভ্যানে তাকে কুমিল্লা পাঠানো হয়।

কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার (ভারপ্রাপ্ত) ওবায়দুর রহমান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, সাম্প্রতিক কিছু ঘটনার কারণে কারাগার অভ্যন্তরে শৃঙ্খলা রক্ষা ও নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে এ কারাগারে বন্দি শামীমা নুর পাপিয়াকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তর করা হয়েছে।

কারাসূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৪০ মাস ধরে বন্দি আছেন পাপিয়া। ২৭ বছরের সাজাপ্রাপ্ত কয়েদি হিসেবে জেলবিধি অনুযায়ী পাপিয়াকে ‘রাইটার’ হিসেবে নিযুক্ত করা হয়। তিনি রুনা লায়লা নামে এক হাজতিকে সম্প্রতি নির্যাতন করে তার কাছ থেকে টাকা-পয়সা লুট করে নেন। এমন অভিযোগে রুনার ছোট ভাই জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগও করেছেন। পরে দু’টি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তার পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার বিকেলে একটি প্রিজন ভ্যানে করে পাপিয়াকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

নির্যাতনের শিকার রুনা লায়লা গাজীপুরের কাপাসিয়া থানার কড়িহাতা গ্রামের আব্দুল হাইয়ের মেয়ে এবং মৃত একেএম মাহমুদুল হকের স্ত্রী। তিনি গত ১৬ জুন থেকে ২৭ জুন পর্যন্ত গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি ছিলেন। জামিনে মুক্তি পেয়ে বর্তমানে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

জানা গেছে, নথি চুরির একটি মামলায় শিক্ষানবিশ আইনজীবী রুনা লায়লাকে ১৬ জুন কাশিমপুর মহিলা কারাগারে আনা হয়। কারাগারের সাধারণ ওয়ার্ডে নেয়ার পর রুনার দেহ তল্লাশি করে কর্তব্যরত মেট্রন সাত হাজার চার শ’ টাকা পান। ওই টাকা ছিনিয়ে নেয়ার জন্য পাপিয়া ও তার সহযোগী কয়েদিরা ১৯ জুন রুনার ওপর অমানবিক নির্যাতন করেন। বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি আছেন রুনা।

নির্যাতনের শিকার এই নারী অভিযোগ করেন, ‘কারগারের ভেতরে রাতে তারা লাঠি ও কম্বল চাপা দিয়ে আমাকে মারতে চেয়েছিল। পরে তারা জেলহাজতের আসামিদের দিয়ে গণপিটুনি দেয়। একপর্যায়ে আমি প্রস্রাব-পায়খানা করে দিই। পরে পাপিয়া এসে আমাকে মারতে মারতে উলঙ্গ করে দেয়। আমার প্রস্রাব-পায়খানার দুর্গন্ধ বের হলে পাপিয়া ধুপখানায় নিয়ে সকাল থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত মারধর করে। কিছুক্ষণ পর আবার কিছু জামা-কাপড় দেয়। এরপর ফাতেমা ও পাপিয়া আমার হাত-পা বেঁধে লাঠিচার্জ করে। পানি খেতে চাইলে আমাকে নর্দমার পানি খেতে দেয়। আমাকে মহিলা পুলিশও মারধর করে। মহিলা পুলিশের মুখে মুখোশ ছিল।’

শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক রফিকুল ইসলাম বলেন, রুনার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তার প্রয়োজনীয় চিকিৎসা চলছে।

ঢাকাকে ছিনতাইকারীমুক্ত না করা পর্যন্ত পুলিশের অভিযান চলবে

রাজধানী ঢাকাকে ছিনতাইকারীমুক্ত না করা পর্যন্ত পুলিশের বিশেষ অভিযান চলমান থাকবে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুক এই কথা বলেছেন।

মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগর এলাকার পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিনতাইকারীর হামলায় আহত ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের সহকারী প্রযোজক রাকিবুল হাসানকে দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি একথা বলেন।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, ঈদের বন্ধে রাজধানীতে বিচ্ছিন্নভাবে কয়েকটি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। আমরা ঈদের আগেই অনেক ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করছিলাম। কিন্তু এরপরও দুঃখজনকভাবে বিষয়গুলো ঘটেছে। পুলিশ এসব বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক আছে।

তিনি বলেন, ছিনতাইকারীদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান চলছে। রাজধানীকে ছিনতাইকারীমুক্ত না করা পর্যন্ত এই অভিযান চলবে। এর জন্য আমাদের যা করা লাগে, যতো পরিশ্রম করা লাগে আমরা করব।

তিনি আরো বলেন, পুলিশ কনস্টেবলকে হত্যার ঘটনায় আমরা সবাইকে গ্রেফতার করেছি। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের পর আদালতে নেয়া হয়েছে। সাংবাদিক রাকিবুল হাসানকে কুপিয়ে আহত করার ঘটনায় দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহৃত ছুরি, মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে। আরেক আসামি নজরদারিতে আছে, তাকেও যে কোনো সময় গ্রেফতার করা হবে।

সাংবাদিক রাকিবুল হাসানের ওপর হামলকারী গ্রেফতার দু’জনের মধ্যে একজন পাঠাও চালক ও আরেকজন ইলেক্ট্রেশিয়ান। তারা নিজেদের পেশার পাশাপাশি ছিনতাইয়ে জড়িত।

ছাত্রীকে বিয়ে করা আইডিয়ালের দাতা সদস্য মুশতাকের জামিন

অপহরণের অভিযোগের মামলায় রাজধানীর আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের পরিচালনা পর্ষদের অন্যতম দাতা সদস্য খন্দকার মুশতাক আহমেদকে আগাম জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট।

মঙ্গলবার বিচারপতি খোন্দকার দিলীরুজ্জামান ও বিচারপতি মো: আমিনুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ তাকে ছয় সপ্তাহের আগাম জামিন দেন।

আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী সোহরাব হোসেন পলাশ। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শাহিন আহমেদ খান।

সোহরাব হোসেন জানান, গত ২২ জুন এই আসামির নামে একটি অপহরণের মামলা করা হয়। সে মামলায় তিনি হাইকোর্টে আত্মসমর্পণ করে জামিন নেন। তবে জামিনের এই সময় পর তাকে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করতে হবে।

এর আগে গত ৭ জুন মুশতাকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যমে নিউজ প্রকাশিত হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাকে নিয়ে একাধিক ভিডিও ক্লিপ ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে কথোপকথন শোনা যায়, প্রাইভেট গাড়িতে বসে অঝরে কাঁদছেন এক নারী। তাকে নামিয়ে দেয়ার আকুতি জানিয়ে বারবার বলছেন, ‘আমার ক্লাস আছে একটু পর, প্লিজ যেতে দেন। আমাকে নামিয়ে দিন এখানে। প্লিজ আমি ক্লাসটা মিস দিতে পারব না। প্লিজ।’ কান্নাজড়িত কণ্ঠে এভাবে আর্তনাদ আর আকুতি জানালেও মন গলেনি ওই ব্যক্তির (একজন পুরুষ)। উত্তরে তিনি (পুরুষ) ওই শিক্ষার্থীকে শাসাতে থাকেন। এ সময় তাকে বলতে শোনা যায়, ‘আমার সঙ্গে ঠিক মতো কথা বলতে হবে। ঠিকমতো পড়ালেখা করো; লাইফ নষ্ট করতেছ।’ভিডিওতে পুরুষ কণ্ঠ শোনা গেলেও তাকে দেখা যাচ্ছে না।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ভিডিও’র ওই নারী রাজধানীর মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী। আর পুরুষ কণ্ঠের ওই ব্যক্তি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির দাতা সদস্য খন্দকার মুশতাক আহমেদ। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির ছাত্রীর সঙ্গে পরিচালনা পর্ষদের একজন সদস্যের এমন আচরণের বিষয়টি ফাঁস হওয়ায় ফুঁসে ওঠেন অভিভাবকরা। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।

এদিকে ছাত্রীর সঙ্গে এমন ঘটনার জেরে ৩১ মে পরিচালনা পর্ষদের সভায় ঢাকার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মমতাজ বেগমকে দিয়ে এক সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

গভর্নিং বডির এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, খন্দকার মুশতাক আহমেদের বাসায় ‘পিকনিকের’ আয়োজন করেন অধ্যক্ষ ফাওজিয়া রাশেদী। সেখানে কয়েকজন ছাত্রীকে খন্দকার মুশতাককে পরিচয় করিয়ে দেন। এই পরিচয়ের সূত্র ধরে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে ওই ছাত্রীকে যৌন নিপীড়ন করেন তিনি। বিষয়টি শিক্ষক ও অন্য ছাত্রীদের নজরে আসে। এরপর ভিডিও ভাইরাল হয়। অভিযুক্ত সদস্যকে দুই মাসের জন্য ‘নিষিদ্ধ’ করেছে প্রতিষ্ঠানটির গভর্নিং বডি।

এদিকে ১ জুন অভিভাবক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক রোস্তম আলী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের পরিচালনা পর্ষদের দাতা সদস্য ষাটোর্ধ্ব খন্দকার মুশতাক আহমেদ প্রতিষ্ঠানটির কলেজ শাখার ১৭ বছর বয়সী ছাত্রীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক রেখেছেন। একপর্যায়ে অভিভাবকদের চাপে সম্প্রতি মেয়েটিকে বিয়ে করতে বাধ্য হয়েছেন মুশতাক। এটি তার তৃতীয় বিয়ে।

বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে বিশ্ব অঙ্গনে তুলে ধরতে কাজ করছে সরকার : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তার সরকার বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে বিশ্ব পরিমণ্ডলে প্রতিষ্ঠিত করতে পদক্ষেপ নেবে। পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের চিন্তাধারার সাথে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশের সংস্কৃতির বিকাশে জোরালো উদ্যোগ নেবে, যাতে এই নতুন প্রজন্ম তাদের সংস্কৃতির স্বাতন্ত্র্য ভুলে না যায়।

ছয়টি উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং আরেকটি উদ্বোধনের সময় শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা যেমন আর্থ-সামাজিক অগ্রগতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছি, তেমনি আমাদের সাংস্কৃতিকভাবেও এগিয়ে যেতে হবে। আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব যাতে আমাদের সংস্কৃতি বিশ্ব অঙ্গনে একটি শক্তিশালী অবস্থান নিতে পারে।’

সরকার প্রধান আজ মঙ্গলবার তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রাজধানীর শাহবাগে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় আয়োজিত অনুষ্ঠানে যুক্ত হন।

শেখ হাসিনা বলেন, তার সরকার সংস্কৃতির আরো উন্নতির জন্য প্রযুক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করতে কাজ করছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নতুন প্রযুক্তির আবির্ভাবে আমাদের বাচ্চাদের চিন্তাভাবনা এবং বিশ্বাসগুলো সর্বদা পরিবর্তিত হচ্ছে। তাদের চিন্তাধারা অনুযায়ী আমাদের সংস্কৃতিকে উন্নত করতে হবে যাতে তারা কখনই বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে ভুলে না যায়।’

শেখ হাসিনা বাংলাদেশের সংস্কৃতির উন্নতি ও বিকাশের জন্য অতীতের ন্যায় প্রয়োজনীয় যা যা কিছু করা দরকার সে ব্যাপারে তার সরকারের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার ইতোমধ্যে ১৮৬২ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪১টি উন্নয়ন প্রকল্প সম্পন্ন করেছে এবং বাংলাদেশী সংস্কৃতির উন্নয়নে গত সাড়ে ১৪ বছরে আরো ১৪টি প্রকল্প বাস্তবায়নের পাশাপাশি অপর ৪১টি প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

কেউ যদি কোনো দেশকে ধ্বংস করতে চায় তাহলে সংস্কৃতির ওপর আক্রমণ করবে, এ কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী বাংলাদেশকে সাংস্কৃতিকভাবে ধ্বংস করার চেষ্টা করেছিল। কারণ তাদের নিশ্চিত পরাজয় জেনেও তারা মুক্তিযুদ্ধের শেষের দিকে বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করেছিল।

সরকার প্রধান বলেন, ‘আমরা সবসময় আমাদের সংস্কৃতিকে ধারণ করার পাশাপাশি এটিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছি এবং এইভাবে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার ২০০৯ সাল থেকে বাঙালি জাতির ইতিহাস ও সংস্কৃতি, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, সাহিত্য ও গবেষণামূলক কাজকে রক্ষা ও সংরক্ষণ করে প্রযুক্তিগত জ্ঞানসম্পন্ন একটি শিক্ষিত জাতি গঠনে কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘বিশ্ব প্রযুক্তি দ্বারা আঁকড়ে আছে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম জাতিকে আধুনিক ও জ্ঞানভিত্তিক গড়ে তুলতে আমাদের সংস্কৃতির সাথে প্রযুক্তিকে যুক্ত করতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী যে ছয়টি উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন সেগুলো হলো গণগ্রন্থাগার অধিদফতরের জন্য নতুন বহুতল ভবন, পুরান ঢাকা শহরের রোজ গার্ডেন, ঢাকায় কবি নজরুল ইনস্টিটিউট ভবন, কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে রাষ্ট্রপতি মো: আবদুল হামিদ শিল্পকলা অ্যাকাডেমী এবং আঞ্চলিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা সাংস্কৃতিক কেন্দ্র এবং জাতীয় জাদুঘরে শিশু গ্রন্থাগার।

তিনি কপিরাইট ভবনের একটি নবনির্মিত ১২তলা ভবনও উদ্বোধন করেন।

অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ এমপি এবং সংস্কৃতি মন্ত্রনালয়ের সচিব খলিল আহমদ।

সূত্র : বাসস

২০০ টাকায় দেখা যাবে বাংলাদেশ-আফগানিস্তান ওয়ানডে সিরিজ

বাংলাদেশ-আফগানিস্তানের মধ্যকার তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের টিকিটের মূল্য ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।

চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে আগামী ৫, ৮ ও ১১ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে সিরিজের তিনটি ওয়ানডে।

টিকিটের সর্বনিম্ন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২০০ টাকা। সর্বোচ্চ মূল্য ঠিক করা হয়েছে ১ হাজার ৫০০ টাকা।

সাগরিকা টিকিট কাউন্টার (বিআইটিএসি সার্কেলের কাছে) এবং এমএ আজিজ স্টেডিয়ামে টিকিট কাউন্টার থেকে সকাল ৯টা ৩০মিনিট থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত টিকিট কিনতে পারবেন ক্রিকেটপ্রেমিরা।

বিসিবির পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ম্যাচের দিন এবং ম্যাচের দু’দিন আগে টিকিট পাওয়া যাবে।

আগামীকাল থেকে অনলাইনের মাধ্যমেও (http://ticket.tigercricket.com.bd/registration) টিকিট ক্রয় করতে পারবেন ক্রিকেটপ্রেমিরা।

  • বাংলাদেশ-আফগানিস্তান ওয়ানডে সিরিজের টিকিটের মূল্য
  • গ্র্যান্ড স্ট্যান্ড : ১ হাজার ৫০০ টাকা।
  • রুফটপ হসপিটালিটি : ১ হাজার ৫০০ টাকা।
  • আন্তর্জাতিক স্ট্যান্ড : ১ হাজার টাকা।
  • ক্লাব হাউস : ৫০০ টাকা।
  • ইস্টার্ন স্ট্যান্ড : ৩০০ টাকা।
  • ওয়েস্টার্ন স্ট্যান্ড : ২০০ টাকা।
  • সূত্র : বাসস

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর থেকে দেশে সারের দাম ১০৫ শতাংশ বেড়েছে

আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থা একশনএইড -এর পরিচালিত একটি নতুন সমীক্ষা অনুসারে, ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণের ফলে বিশ্বের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে খাদ্য, জ্বালানি এবং সারের দাম অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এর ফলে খাদ্য ও জ্বালানি সঙ্কট দেয়া দিয়েছে।

সমীক্ষায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশে জীবনযাত্রার ব্যয় অনেকগুলো প্যারামিটারে বেড়েছে, যা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

সমীক্ষায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে সারের দাম বেড়েছে ১০৫ শতাংশ, চিনির দাম ৬০ শতাংশ, পেট্রোলের দাম ৪৭ শতাংশ এবং স্যানিটারি প্যাডের দাম ২৩ শতাংশ।

ফলস্বরূপ, দেশের জনগণ একাধিক চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছে। বিশেষ করে নারী, মেয়ে ও শিশুরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে তাদের শিক্ষা, পুষ্টি এবং স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ে আপস করতে হচ্ছে।

এশিয়া, আফ্রিকা এবং ক্যারিবিয়ান জুড়ে মোট ১৪টি দেশে এক হাজারের বেশি মানুষের ওপর পরিচালিত এই সমীক্ষায় দেখা গেছে যে- নিরীক্ষণের সময় সারের দাম ১১৫ শতাংশ -এর বেশি বেড়েছে, পেট্রোল ও স্যানিটারি প্যাডের দাম ৮০ শতাংশ বা তার বেশি বেড়েছে।

একই সাথে বাল্যবিবাহের হার বৃদ্ধি, নারী স্বাস্থ্যের অবনতি এবং মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটেছে।

একশনএইড-এর গ্লোবাল পলিসি অ্যানালিস্ট আলবার্টা গুয়েরা বলেন, ‘এই সমীক্ষা থেকে দেখায় যে- ইউক্রেনে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে, বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে প্রান্তিক মানুষরা আকাশ ছোঁয়া খাদ্য, জ্বালানি ও সারের দামের কারণে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। বিশেষ করে নারী ও কন্যাশিশুরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তারা এই সময়ে নানান সঙ্কট দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে যা তাদের খাদ্যগ্রহণ, শিক্ষা, বাল্যবিবাহ থেকে মুক্ত থাকার অধিকার এবং তাদের মানসিক স্বাস্থ্য ও সুস্থতাকে প্রভাবিত করেছে।’

বাংলাদেশসহ ১৪টি দেশের মধ্যে ১০টি দেশে মেয়ে ও ছেলে উভয়ের ক্ষেত্রে বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়ার হার বেড়েছে। মূল্যবৃদ্ধির ফলে সৃষ্ট অর্থনৈতিক চাপও বাল্যবিবাহের হার বাড়িয়ে দিয়েছে।

১৪টি দেশের মোট ১০১০ জন মানুষের মধ্যে ১ মার্চ থেকে ২৩ এপ্রিলের মধ্যে এই সমীক্ষা পরিচালিত হয়। উত্তরদাতাদের ৬৩ শতাংশ ছিলেন নারী। অংশগ্রহণকারীদের জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে- সমীক্ষার দিনে গমের পণ্য, রান্নার তেল, পেট্রোল, রান্নার জন্য গ্যাস, সার ও স্যানিটারি প্যাডের দাম কত ছিল এবং এই পণ্যগুলো মূল্য ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের আগের মূল্যের সাথে তুলনা করা হয়েছিল (যখন রাশিয়া ইউক্রেন আক্রমণ করেছিল)।

অংশগ্রহণকারীদের তাদের জীবন জীবিকার ওপর এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব সম্পর্কেও প্রশ্ন করা হয়েছিল এবং সম্ভাব্য উত্তরগুলোর একটি সিরিজ থেকে কমপক্ষে একটি প্রতিক্রিয়া নির্বাচন করতে উৎসাহিত করা হয়।

জরিপে অংশ নেওয়া ১৪টি দেশ হলো- আফগানিস্তান, বাংলাদেশ, কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র (ডিআরসি), ইথিওপিয়া, হাইতি, কেনিয়া, মালাউই, মিয়ানমার, নেপাল, নাইজেরিয়া, সিয়েরা লিওন, সোমালিল্যান্ড, জাম্বিয়া ও জিম্বাবুয়ে।
সূত্র : ইউএনবি

কারো প্রেসক্রিপশনে নির্বাচন হবে না : কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, কারো প্রেসক্রিপশনে বাংলাদেশে নির্বাচন হবে না। নির্বাচন হবে সংবিধান অনুযায়ী।

তিনি বলেন, অন্য দেশের মতো বাংলাদেশেও নির্বাচনকালীন সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে। কথা শুনব, কথা বিনিময় হবে। কিন্তু নির্বাচন হবে সংবিধান অনুযায়ী।

রোববার বেলা সাড়ে ১১টায় সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে কর্মকর্তাদের সাথে ঈদ পরবর্তী শুভেচ্ছা বিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

নির্বাচন নিয়ে বিদেশীদের বক্তব্যের বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, কেউ হস্তক্ষেপ তো করছে না। তারা পরামর্শ তো দিচ্ছে না। যার যার চিন্তা ভাবনা জানাচ্ছে। সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে অনেকে কথা বলছেন। আমরা কথা শুনছি, কথা আমরা শুনব এবং পরামর্শও নেব। কিন্তু আমরা কারো নির্দেশ বা নিয়ন্ত্রণে থাকব, সেটি ভাবার কারণ নেই।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, মির্জা ফখরুলের কণ্ঠ বিরোধী কণ্ঠ। বাংলাদেশে বিরোধীদলের ব্যর্থতার সীমা নেই। তারা নির্বাচনে যেমন ব্যর্থ, আন্দোলনেও তেমন। ১০ ডিসেম্বর তো দখল করে ফেলেছিল যে ১১ তারিখ থেকে খালেদা জিয়ার হাতে দেশ থাকবে- এমন অনেক লাগামছাড়া কথা তারা অনেকবার বলেছেন। এটিই হলো বাস্তবতা।

তিনি বলেন, শুনেছি তারা ৩৬ দলের রূপরেখা একদফা আন্দোলন করবে। সেটি এখনো শুরু হয়নি। শুরু হতে কত দল এখান থেকে কেটে পড়ে সেটা দেখার বিষয়। কত দল শেষ পর্যন্ত থাকে সেটি দেখার বিষয়। আমরা খবর পেয়েছি, ৩৬ পার্টির মধ্যে দরকষাকষি চলছে ক্ষমতার ভাগাভাগিতে কে কী পাবে।

আমার লক্ষ্য দেশবাসীর ভাগ্য পরিবর্তন করা : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আমার লক্ষ্য বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করা।

ঈদুল আজহা উপলক্ষে রোববার টুঙ্গিপাড়ার সর্বস্তরের মানুষের সাথে শুভেচ্ছা ও মতবিনিময়কালে সূচনা বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে দেশের স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে। বঙ্গবন্ধু দেশবাসীর মুখে হাসি ফোটাতে চেয়েছিলেন যার জন্য তিনি দ্বিতীয় বিপ্লবের কর্মসূচি ঘোষণা করেছিলেন।’

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে তার পরিবারের বেশিরভাগ সদস্যসহ হত্যা এবং একই বছরের ৩ নভেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতরে জাতীয় চার নেতাকে হত্যার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, দেশের অগ্রগতি থামিয়ে দেয়ার জন্যই এই হত্যাকাণ্ড চালানো হয়।

তিনি আরো বলেন, বঙ্গবন্ধুকে এমন সময় হত্যা করা হয়েছিল যখন দেশ অর্থনৈতিক মুক্তির দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার ‘মাই হাউস, মাই ফার্ম’, কমিউনিটি ক্লিনিক, ডিজিটাল বাংলাদেশ, ‘মাই ভিলেজ, মাই টাউন’ বাস্তবায়ন এবং শতভাগ বিদ্যুৎ দিয়ে দেশের ব্যাপক উন্নয়ন করেছে।

টুঙ্গিপাড়া-কোটালীপাড়া আসনের সংসদ সদস্য শেখ হাসিনা তার নির্বাচনী এলাকার জনগণকে কৃতিত্ব দিয়ে বলেন, তারা তার দায়িত্ব কাঁধে নিয়েছেন। বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে তাকে আরো সময় দিতে হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘সাধারণত, অন্যান্য নির্বাচনী এলাকার সংসদ সদস্যরা শুধুমাত্র তাদের নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকার দেখাশোনা করেন। আমাকে ৩০০টি নির্বাচনী এলাকায় উন্নয়নের জন্য কাজ করতে হয়। কোটালীপাড়া ও টুঙ্গিপাড়ার বাসিন্দারা তার নির্বাচনী এলাকার দায়িত্ব নেয়ায় আমি তা করতে পেরেছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশবাসীর ভাগ্য পরিবর্তনে ছয় বছরের নির্বাসন থেকে দেশে ফেরার পর তিনি দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘুরেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশের এমন কোনো অঞ্চল নেই যেখানে আমি যাইনি। আমি নৌকা, সাম্পান, লঞ্চ ও রিকশা-ভ্যানে চড়ে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে গিয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘আমি এমনভাবে দেশ ভ্রমণ করেছি এবং সারাদেশে ঘুরে বেড়ানোর অভিজ্ঞতা ব্যবহার করে বাংলাদেশকে এমন একটি মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে এসেছি।’

মতবিনিময়কালে প্রধানমন্ত্রী টুঙ্গিপাড়ার উন্নয়ন নিয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী ও জনপ্রতিনিধিদের অভিজ্ঞতা শুনতে চান।

শেখ হাসিনা বার্ধক্যজনিত কারণে অবসরে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলে স্থানীয় জনগণ তাকে দেশ ও জনগণের কল্যাণে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে থাকার অনুরোধ জানান।

তারা শেখ হাসিনাকে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখার আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেন। শেখ হাসিনাই দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হবেন এ লক্ষ্যে কাজ করার এবং আগামী সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে সাহায্য করার দৃঢ়অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

মতবিনিময় সভায় অন্যান্যদের মধ্যে সংসদ সদস্য শেখ হেলাল উদ্দিন ও শেখ সালাউদ্দিন জুয়েল উপস্থিত ছিলেন। টুঙ্গিপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল খায়ের মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন এবং অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মোঃ বাবুল শেখ।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী দুই দিনের কোটালীপাড়া ও টুঙ্গিপাড়া সফরের অংশ হিসেবে তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে গাড়িতে করে তিন ঘণ্টায় পদ্মা সেতু পার হয়ে গতকাল সকাল ১১টা ২৭ মিনিটের দিকে কোটালীপাড়ায় পৌঁছান।

প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা ও একমাত্র ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় তার সঙ্গে রয়েছেন।

টুঙ্গিপাড়ায় প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে স্থানীয় জনগণের মধ্যে বাড়তি বিপুল উদ্দীপনা ও উৎসবের আমেজ যোগ করেছে। প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে পুরো গোপালগঞ্জকে রঙিন পোস্টার, ব্যানার ও প্ল্যাকার্ডে সাজানো হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী গতকাল কোটালীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয় প্রাঙ্গনে নিম, বকুল এবং আমের চারা রোপণ করেন। এছাড়াও নবনির্মিত কোটালীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয় উদ্বোধন করেন তিনি।

আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা পরে কোটালীপাড়া উপজেলার স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও কোটালীপাড়া উপজেলার জনসাধারণের সঙ্গে পবিত্র ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী শনিবার বিকেলে টুঙ্গিপাড়ায় গিয়ে ফুল দিয়ে বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং ফাতেহা পাঠ করেন। তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে মোনাজাতে যোগ দেন। শনিবার রাত টুঙ্গিপাড়ায় কাটান প্রধানমন্ত্রী। আজ বিকেলে তার টুঙ্গিপাড়া থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে।

সূত্র : বাসস