Home Blog Page 604

জামায়াত নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন মঙ্গলবার প্রত্যাহার হচ্ছে

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবির নিষিদ্ধ করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যে প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল তা আগামীকাল (মঙ্গলবার) প্রত্যাহার হচ্ছে বলে জানিয়েছেন দলটির আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির।

সোমবার সুপ্রিম কোর্টের অ্যানেক্স ভবনের সামনে সংবাদ সম্মেলনে একথা জানান তিনি।

শিশির মনির বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেয়া তথ্য অনুযায়ী আগামীকাল মঙ্গলবার বা দ্রুততম সময়ের মধ্যে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হচ্ছে। একইসাথে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পর আপিল বিভাগে জামায়াতের নিবন্ধ সংক্রান্ত আপিলটি পুনরায় শুনানির জন্য আবেদন করা হবে বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, জামায়াত আইনি পদক্ষেপ অনুযায়ী পথ চলতে চায়। গত ৫ আগস্ট তৎকালীন ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন হয়। ওই দিনই সেনাপ্রধানের অফিস ও বঙ্গ ভবনে রাজনৈতিক দলের সভা অনুষ্ঠিত হয়। দেশের অন্যতম রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীকে সেখানে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়। অতঃপর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ গঠনের ক্ষেত্রেও জামায়াত তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। জামায়াত রাষ্ট্র সংস্কার প্রক্রিয়ায় ক্রমাগত অংশগ্রহণ করে যাচ্ছে। গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে আইন-শৃঙ্খলার উন্নতি, মন্দির পাহারা, শহীদ পরিবার ও আহত-পঙ্গুদের পাশে দাঁড়ানো ও বন্যা-দুর্গতের মানবিক সহায়তা প্রদান তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য।

শিশির মনির বলেন, ১২ আগস্ট মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার সাথে জামায়াতের আনুষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের আলোচনা অনুযায়ী এই বিষয়ে আইনগত দিক খতিয়ে দেখা হয় এবং আশু সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হয়। সরকারের সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গের সাথে একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। আইনি বিধানগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এরই প্রেক্ষিতে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে ১৯ ধারা অনুযায়ী আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হয়। অতঃপর আইন অনুযায়ী সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় কর্তৃক তিন সদস্য বিশিষ্ট প্যানেল গঠন করা হয়।

তিনি বলেন, আমাদের তথ্য অনুযায়ী ইতোমধ্যে এই সংক্রান্তে যথাযথ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। সরকারের সিদ্ধান্ত মোতাবেক দ্রুততম সময়ের মধ্যে নিষিদ্ধের আদেশ বাতিল করে নতুন গেজেট প্রকাশিত হবে।

জেলারের ‘ঘুষের’ টাকায় কোটিপতি গৃহিণী স্ত্রী

হোসনে আরা পপি নামের এক গৃহিণীর ব্যাংক হিসাবে পাওয়া গেছে ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্তে উঠে এসেছে, এই টাকা তাঁর স্বামী সোহেল রানা বিশ্বাসের। ‘ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে তিনি এই অর্থ সংগ্রহ করেছেন। সোহেল রানা চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সাময়িক বরখাস্ত হওয়া জেলার (কারাধ্যক্ষ)।

sohelranaghus

দুদক বলছে, হোসনে আরা নিজেকে মৎস্য চাষি দাবি করলেও এগুলোর কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। জেলার সোহেল রানা দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ জায়েজ করতে স্ত্রীকে মৎস্য খামারি সাজিয়েছেন।

সাড়ে পাঁচ বছর আগে সোহেল রানা টাকা ও মাদকসহ গ্রেপ্তার হওয়ার পর দুদক তাঁর সম্পদের খোঁজে তদন্ত শুরু করে। ২০২২ সালের ৩০ জুন তাঁর বিরুদ্ধে দুদক মামলা করে। দুই বছর তদন্ত শেষে স্ত্রী হোসনে আরার নামে এই নগদ টাকার সন্ধান পায় দুদক।

সর্বশেষ জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী ৬৪৫ জন নিহত। এখনো হাসপাতালে ৪৩৫।

মো. জাকির সিকদারের বাসা রাজধানীর মধ্য বাড্ডা এলাকায়। বয়স ৩৩ বছর। গুলশানের একটি পোশাকের দোকানে চাকরি করেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন। গত ১৮ জুলাই রাত ৯টার দিকে মেরুল বাড্ডা এলাকায় ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের রাস্তায় গুলিবিদ্ধ হন তিনি।

আহত জাকির সিকদারকে প্রথমে আফতাব নগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। জাকিরের আঘাত এতটাই গুরুতর ছিল যে হাসপাতালের চিকিৎসকেরা অস্ত্রোপচারে সাহস করেননি। এরপর জাকিরকে আনা হয় জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল)। সেখান থেকে নেওয়া হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। ঢাকা মেডিকেল থেকে আবার পঙ্গু হাসপাতালে। সেই থেকে জাকির পঙ্গু হাসপাতালে।

Screenshot 2

হাসপাতালের পরিচালকের দপ্তর থেকে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে ঘিরে সংঘর্ষ–সহিংসতায় আহত ১৪৪ জন এখনো হাসপাতালে আছেন। তাঁদের মধ্যে ১০ জনের একটি করে পা কেটে ফেলা হয়েছে। একজনের হাত কাটতে হয়েছে। এই ১১ জনকে বাকি জীবন প্রতিবন্ধী হয়ে কাটাতে হবে।
জাকিরের বাঁ হাঁটুর ওপর থেকে কেটে ফেলেছেন চিকিৎসকেরা। বুলেটে হাড় ভেঙেছে, রক্তনালিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চিকিৎসকেরা বলেন, জীবন বাঁচাতে পা কেটে ফেলা ছাড়া কোনো বিকল্প ছিল না। মোটা বড় ব্যান্ডেজ দিয়ে পা মুড়ে রাখা হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার সকালে পঙ্গু হাসপাতালে কথা হয় জাকির সিকদারের মা ও তাঁর ছোট ভাইয়ের সঙ্গে। তাঁরা জানান, ২১ জুলাই অস্ত্রোপচারে পা কেটে ফেলা হয়। এরপর আরও তিনবার অস্ত্রোপচার হয়েছে। তাঁরা ঠিক জানেন না, কবে হাসপাতাল থেকে জাকিরকে ছাড়া হবে।

হাসপাতালের পরিচালকের দপ্তর থেকে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে ঘিরে সংঘর্ষ–সহিংসতায় আহত ১৪৪ জন এখনো হাসপাতালে আছেন। তাঁদের মধ্যে ১০ জনের একটি করে পা কেটে ফেলা হয়েছে। একজনের হাত কাটতে হয়েছে। এই ১১ জনকে বাকি জীবন প্রতিবন্ধী হয়ে কাটাতে হবে।

জাকিরের বাঁ হাঁটুর ওপর থেকে কেটে ফেলেছেন চিকিৎসকেরা। বুলেটে হাড় ভেঙেছে, রক্তনালিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চিকিৎসকেরা বলেন, জীবন বাঁচাতে পা কেটে ফেলা ছাড়া কোনো বিকল্প ছিল না। মোটা বড় ব্যান্ডেজ দিয়ে পা মুড়ে রাখা হয়েছে।
হাসপাতালের অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম প্রথম আলোকে বলেন, ‘অনেক আহত ব্যক্তিকে একাধিকবার অস্ত্রোপচার করতে হয়েছে। অনেকের পা বা হাত শক্ত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা আছে। তাঁরাও অনেকটা প্রতিবন্ধিতার ঝুঁকিতে আছেন।’

পঙ্গু হাসপাতালের পাশে রাস্তার ওপারে জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল। এই হাসপাতালে গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ৩২ জন চোখে আঘাত পাওয়া রোগী ভর্তি ছিলেন। তাঁদের প্রত্যেকের চোখে পুলিশের ছোড়া ছররা গুলি লেগেছিল। প্রতিষ্ঠানের পরিচালক অধ্যাপক গোলাম মোস্তফা প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা আমাদের সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি, করছি। তার পরও দুই–তিনজনের ঝুঁকি অনেক বেশি। তাঁরা দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাবেন কি না, তা এখনো বলা যাচ্ছে না।’

পায়ে, হাতে, চোখে বা শরীরের অন্য কোনো স্থানে গুলি লেগে আহত অনেকেরই এখনো চিকিৎসা শেষ হয়নি। রাজধানীর সাতটি সরকারি হাসপাতালে এ রকম ৪৩৯ রোগীর চিকিৎসা চলছে। এর মধ্যে ঢাকা মেডিকেলে ১৭৫ জন, পঙ্গু হাসপাতালে ১৪৪ জন, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৪১ জন, চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে ৩২ জন, শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ৩০ জন, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫ জন এবং ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হসপিটালে ১২ জন আছেন। এর বাইরে বেশ কিছু আহত ব্যক্তি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

অনেক আহত ব্যক্তিকে একাধিকবার অস্ত্রোপচার করতে হয়েছে। অনেকের পা বা হাত শক্ত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা আছে। তাঁরাও অনেকটা প্রতিবন্ধিতার ঝুঁকিতে আছেন।
হাসপাতালের অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম
পঙ্গু হাসপাতালের চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, যাঁদের পা কাটা গেছে, তাঁদের কৃত্রিম পা দেওয়ার বিষয়টি আলোচনায় আছে। একাধিক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কৃত্রিম পা সংযোজনের বিষয়ে উদ্যোগী হয়েছে। এ ছাড়া বেশ কিছু বেসরকারি প্রতিষ্ঠান রোগীদের ওষুধ দেওয়ারও উদ্যোগ নিয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার অন্তর্বর্তী সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা নুরজাহান বেগম, পশুসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া পঙ্গু হাসপাতালে গিয়েছিলেন। হাসপাতাল ছেড়ে যাওয়ার আগে নুরজাহান বেগম সাংবাদিকদের বলেন, আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসার সব খরচ সরকার বহন করবে। আর ফরিদা আখতার বলেন, হাসপাতাল থেকে ছুটি নেওয়ার পরও কারও কারও চিকিৎসার প্রয়োজন হবে। সেই প্রয়োজন মেটাতে প্রত্যেক রোগীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বলা হয়েছে।

প্রতিনিধিরা ২৩ থেকে ২৭ জুলাই রাজধানীর মোট ৩৮টি সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে গিয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছিলেন। সংঘর্ষ ও সংঘাতের ঘটনায় তখন আহত ৬ হাজার ৭০৩ জনের কথা জানা গিয়েছিল। এসব রোগী ১৬ থেকে ২২ জুলাইয়ের মধ্যে হাসপাতালে এসেছেন। যদিও মোট কত মানুষ আহত হয়েছেন, তার সুনির্দিষ্ট সংখ্যা এখনো জানা যায়নি।

অবশেষে স্বৈরশাসকের অবসান বাংলাদেশে

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে দেশত্যাগ করেছেন স্বৈরশাসক শেখ হাসিনা।

সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেছেন, ‘দেশে একটা ক্রান্তিকাল চলছে। সব রাজনৈতিক দলের নেতাদের আমন্ত্রণ করেছিলাম। আমরা সুন্দর আলোচনা করেছি। সেখানে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা হবে। এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীন দেশের সব কার্যক্রম চলবে।’

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের গণভবন অভিমুখে যাত্রা কর্মসূচি ঘিরে উত্তেজনার মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে দেশ ছেড়েছেন শেখ হাসিনা। এ পরিস্থিতিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে আলোচনার পর বিকেল চারটায় জনগণের উদ্দেশে ভাষণ দেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।

সেনাপ্রধান বলেন, ‘আমরা মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে যাব। এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের বিষয়ে ওনার সঙ্গে কথা বলব। তাঁর সঙ্গে আলাপ–আলোচনা করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করে দেশ পরিচালনা করা হবে।’

সমস্ত হত্যা ও অন্যায়ের বিচার হবে উল্লেখ করে ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, ‘আপনারা সশস্ত্র বাহিনীর প্রতি আস্থা রাখেন। আমরা সমস্ত দায়দায়িত্ব নিচ্ছি। আপনাদের কথা দিচ্ছি, আশাহত হবেন না। যত দাবি আছে, সেগুলো আমরা পূরণ করব। দেশে শান্তিশৃঙ্খলা ফিরিয়ে নিয়ে আসব। আমাদের সহযোগিতা করেন। প্রতিটি হত্যার বিচার হবে।’

ভাঙচুর, হত্যা, সংঘর্ষ ও মারামারি থেকে জনগণকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে সেনাপ্রধান বলেন, ‘আপনারা যদি কথামতো চলেন, একসঙ্গে কাজ করি। নিঃসন্দেহে সুন্দর পরিণতির দিকে অগ্রসর হতে পারব। মারামারি ও সংঘাত করে আর কিছু পাব না। তাই দয়া করে ধ্বংসযজ্ঞ, অরাজকতা ও সংঘর্ষ থেকে বিরত হন। সবাই মিলে সুন্দর ভবিষ্যতের দিকে অগ্রসর হব।’

রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা ফলপ্রসূ হবে জানিয়ে ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, ‘তাদের সঙ্গে সুন্দর আলোচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন। আমরা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করে কাজ পরিচালনা করব। ধৈর্য ধরেন, সময় দেন। আমরা সবাই মিলে সব সমস্যা সমাধান করতে সক্ষম হব।’

সংঘাতে দেশের ক্ষতি হচ্ছে জানিয়ে সেনাপ্রধান বলেন, ‘অর্থসম্পদের ক্ষতি হচ্ছে। লোকজন মারা যাচ্ছে। সংঘাতের পথে যাবেন না। শান্তিশৃঙ্খলার পথে ফিরে আসেন।’

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কত সদস্য হবেন—এমন প্রশ্নের জবাবে সেনাপ্রধান বলেন, ‘এখনো খুব আর্লি স্টেজ। আমরা মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে যাব। আলাপ–আলোচনা করে ঠিক করা হবে। আজকেই রাষ্ট্রপতির কাছে যাব। রাতের মধ্যেই সমাধানে যাওয়ার চেষ্টা করব। দু–এক দিন আমাদের সময় দেওয়া লাগতে পারে।’

আলোচনায় কারা উপস্থিত ছিলেন—এমন প্রশ্নের জবাবে ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, ‘জামায়াতের আমির, বিএনপির শীর্ষ নেতা, জাতীয় পার্টির নেতা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ছিলেন। আওয়ামী লীগের কেউ ছিল না। সময় কম ছিল। যাদের পেয়েছি, তাদের বলেছি। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মামুনুল হক, জোনায়েদ সাকি ছিলেন। অধ্যাপক আসিফ নজরুল ছিলেন। তিনি কোটা সংস্কার আন্দোলনের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বার্তাও দিয়েছেন। এখন ছাত্রদের কাজ শান্ত হওয়া ও আমাদের সাহায্য করা।’

সেনাবাহিনী শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষার কাজ চালিয়ে যাবে উল্লেখ করে সেনাপ্রধান বলেন, ‘সবার দায়িত্ব সেনাবাহিনীকে সাহায্য করা। পরিস্থিতি শান্ত হলে কারফিউ বা জরুরি অবস্থার প্রয়োজন নেই। আমি আদেশ দিয়েছি, কোনো গোলাগুলি হবে না। সেনাবাহিনী, পুলিশ কোনো গুলি চালাবে না। আশা করছি, এই বক্তব্যের পর পরিস্থিতির উন্নতি হবে।’

সেনাপ্রধান আন্দোলনরত ছাত্র–জনতা সবাইকে ঘরে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান।

বিএনপিকে সমমনাদের রোডমার্চের প্রস্তাব

যুগপৎ আন্দোলনের কর্মসূচি পুনরায় শুরু করতে বিভিন্ন জোট ও শরিক দলগুলোর সাথে সিরিজ বৈঠক করছে বিএনপি। এ পর্যন্ত হওয়া বৈঠকে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি, দুর্নীতি ও ভারতের সাথে স্বার্থবিরোধী চুক্তির প্রতিবাদে রোডমার্চ ও লংমার্চসহ নানা কর্মসূচির প্রস্তাব দিয়েছে বিভিন্ন দল ও জোট। কোনো কোনো দল আগামী দিনের কর্মসূচিতে জামায়াতে ইসলামীকে যুগপৎ আন্দোলনের অংশীদার করারও পরামর্শ দিয়েছে।

জানা গেছে, বিএনপির লিয়াজোঁ কমিটির সাথে বৈঠকে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি, দুর্নীতি, লুটপাট ও ভারতের সাথে স্বার্থবিরোধী করিডোর চুক্তির প্রতিবাদে আগামী ২৮ জুলাইয়ের মধ্যে রংপুর, পঞ্চগড় অভিমুখে রোডমার্চ বা লংমার্চ করার সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দিয়েছে একাধিক দল ও জোট।
গত ১১ জুলাই থেকে আন্দোলনের শরিকদের সাথে বৈঠক করছে বিএনপি। প্রথম দিন গণতান্ত্রিক বাম মোর্চা, গণফোরাম ও এনডিএমের সাথে বৈঠক করেছে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিএনপির লিয়াজোঁ কমিটি। এরপর ১২ জুলাই বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য নজরুল ইসলাম খানের নেতৃত্বে লিয়জোঁ কমিটি বৈঠক করে সমমনা জোট, এলডিপি ও লেবার পার্টির সাথে।

গতকাল বৈঠক হয়েছে ভিপি নূরের নেতৃত্বাধীন গণঅধিকার পরিষদের সাথে। আজ ১৪ জুলাই ১২ দলীয় জোটের সাথে বৈঠকের কথা রয়েছে ।
এসব বৈঠকে অংশ নেয়া দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, আগামী দিনের আন্দোলনের কৌশল নিয়ে বৈঠকে মূলত আলোচনা হয়েছে। এই আলোচনায় রোডমার্চ ও লংমার্চের মতো কর্মসূচির প্রস্তাব উঠে আসে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে এলডিপি চেয়ারম্যান ড. কর্নেল অলি আহমেদ নয়া দিগন্তকে বলেন, বিএনপির সাথে আন্দোলনের অনেক দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তারা বিভিন্ন দলের মতামত নিচ্ছেন। কিন্তু এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

১২ দলীয় জোটের সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট সৈয়দ এহসানুল হুদা নয়া দিগন্তকে বলেন, বিএনপির লিয়াজোঁ কমিটির সাথে আমাদের বৈঠক আছে আজ। আমরা আন্দোলনের বিভিন্ন বিষয় সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দিবো। পাশাপাশি এর আগেও বিভিন্ন মিটিংয়ে আমি ও আমার জোটের একাধিক নেতা বলেছেন, বিএনপির পরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সাংগঠনিকভাবে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল। যুগপৎ আন্দোলনে থাকা দুই-একটা দল ছাড়া জামায়াতের বিষয় সবাই ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করে। তাই জামায়াতকে যুগপৎ আন্দোলনের অংশীদার হিসেবে রাজপথে পেতে তাদের সাথে সমন্বয় করা দরকার।

জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের প্রধান সমন্বয়ক ও এনপিপি চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ নয়া দিগন্তকে বলেন, বিএনপির সাথে আগামী দিনের সরকার বিরোধী আন্দোলনের পরিকল্পনা নিয়ে কথা হয়েছে। পাশাপাশি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি, দুর্নীতি, লুটপাট ও ভারতের সাথে স্বার্থবিরোধী করিডোর চুক্তির প্রতিবাদে একটি রোডমার্চ কর্মসূচি করার বিষয়ে মতামত দেয়া হয়েছে।

আমরা এ কর্মসূচিতে মতামত দিয়েছি। এ ছাড়া আওয়ামী নেতৃত্বাধীন ১৪ দল ব্যাতিত ডান-বাম-ইসলামী সকল দলগুলোকে একত্র করে আন্দোলন সক্রিয় করার পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানিয়েছি। লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেন, বিএনপির সাথে যুগপৎ আন্দোলনের নানা দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে। রোডমার্চ ও লংমার্চের মতো কর্মসূচিতে আমরা মতামত দিয়েছি। পাশাপাশি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ সকল রাজনৈতিক দলগুলোকে যুগপৎ আন্দোলনে সক্রিয় করতে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তাব দিয়েছি।

গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নূর বলেন, আন্দোলনের নানা কৌশল ও দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আমরা অতীতের মতো বিরোধীদলগুলোর সাথে সমন্বয়ের পরামর্শ দিয়েছি। সমন্বয়ের ঘাটতির কারণে যেন কোনো বড় শক্তি আন্দোলনের বাইরে না থাকে সে বিষয় সবাইকে সতর্ক থাকার অনুরোধ করছি। পাশাপাশি সব দলগুলোর সমন্বয়ে একটি সমন্বয় কমিটির বিষয়ও প্রস্তাব দিয়েছি।

নতুন আন্দোলন কর্মসূচির বিষয় জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান নয়া দিগন্তকে বলেন, চলমান সরকার বিরোধী আন্দোলনকে আরো বেশি শক্তিশালী করতে আমরা সমমনা বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে বৈঠক করছি। তাদের পক্ষ থেকে নানা প্রস্তাব এসেছে। এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

বাংলাদেশী পণ্যের নতুন বাজার অনুসন্ধান করতে আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

বাংলাদেশী পণ্যের নতুন বাজার অনুসন্ধান ও দেশের রফতানি খাত সম্প্রসারণের জন্য রফতানিকারকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রোববার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জাতীয় রফতানি ট্রফি প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, ‘আমাদের নতুন বাজার খুঁজতে হবে। আমাদের রফতানি খাত সম্প্রসারণ করতে হবে।’

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ২০২১-২০২২ অর্থবছরে দেশের রফতানি আয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২৮টি ক্যাটাগরিতে ৭৭ জন রফতানিকারককে জাতীয় রফতানি ট্রফি প্রদান করেন।

সর্বোচ্চ রফতানি আয় অর্জনকারী প্রতিষ্ঠানকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রফতানি ট্রফি শিরোনামে একটি বিশেষ ট্রফিসহ (স্বর্ণ) মোট ২৯টি স্বর্ণ, ২৭টি রৌপ্য ও ২১টি ব্রোঞ্জ ট্রফি প্রদান করা হয়েছে।

২০২১-২২ অর্থবছরে সর্বোচ্চ রফতানি আয়ের জন্য রিফাত গার্মেন্টস লিমিটেডকে সর্বোচ্চ স্বীকৃতি দেয়া হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রফতানি ট্রফি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধুমাত্র একটি রফতানি পণ্যের ওপর একটি দেশের নির্ভর করা উচিৎ নয়। কারণ একটি নির্দিষ্ট পণ্যের চাহিদা সবসময় একই রকম থাকবে না।

তিনি বলেন, ‘আমরা কেন শুধু গার্মেন্টস পণ্যের ওপর নির্ভরশীল হবো?’

দেশের জনগণের উৎপাদন, রফতানি আয় ও ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশকে অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা সীমিত পণ্যের ওপর নির্ভরশীল হতে চাই না।’

সূত্র : ইউএনবি

ট্রাম্পের ওপর হামলায় বাইডেনকে দায়ী করছেন রিপাবলিকানরা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী ও সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর হামলা হয়েছে। এ হামলার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো-বাইডেন ও ডেমোক্র্যাটদের দায়ী করেছেন শীর্ষস্থানীয় রিপাবলিকানরা।

রোববার কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ভাইস প্রেসিডেন্টের মনোনয়নপ্রত্যাশী সিনেটর জেডি ভ্যান্স ট্রাম্পের ‘হত্যার চেষ্টা’- এর জন্য বাইডেনের প্রচারণার ‘বাগাড়ম্বরপূর্ণ ভাষা’কে দায়ী করেছেন।

অন্যান্য নেতৃস্থানীয় রিপাবলিকানরাও বাইডেন ও ডেমোক্র্যাটদের দোষারোপ করেছেন।

কংগ্রেসওম্যান মার্জোরি টেলর গ্রিন যিনি সোচ্চার ট্রাম্প সমর্থক হিসেবে পরিচিত তিনিও ডেমোক্র্যাটদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন।

এদিকে রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান মাইক কলিন্স বলেছেন, ‘জো-বাইডেন আদেশ পাঠিয়েছেন।’

বাইডেন ও অন্যান্য নেতৃস্থানীয় ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্পের গুলি চালানোর ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন। তারা এই আশঙ্কা করেছেন যে- ক্রমবর্ধমান বক্তৃতা আরো অশান্তি সৃষ্টি করতে পারে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া রাজ্যের ২০ বছর বয়সী যুবক থমাস ম্যাথিউ ক্রুকস সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমাবেশে গুলি চালিয়েছেন বলে জানিয়েছে ফেডারেল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)।

এফবিআই বলছে, বন্দুকধারী এত গুলি চালাতে পেরেছে, যা বিস্ময়কর।

এফবিআই আরো বলছে, ট্রাম্পের ওপর হামলার উদ্দেশ্য শনাক্ত করতে পারেনি তদন্তকারীরা।

পেনসিলভানিয়ার বাটলারে এক নির্বাচনী প্রচারে হামলার ঘটনায় আহত সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন ‘ভালো আছেন’ বলে তার শিবির থেকে জানানো হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, তাকে যে গুলি করা হয়েছে তা তার ডান কানের ওপরের অংশে ভেদ করেছে।

হামলার ঘটনার পর দ্রুত সাবেক এই প্রেসিডেন্টকে সিক্রেট সার্ভিসের অ্যাজেন্টরা মঞ্চ থেকে সরিয়ে নেন। তখন দেখা যায় তার কান থেকে রক্ত পড়ছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো-বাইডেন ও সব শ্রেণীর রাজনৈতিক নেতারা এ হামলার নিন্দা জানিয়েছেন।
সূত্র : আল-জাজিরা

বঙ্গভবনে প্রবেশ করেছে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিদল

সরকারি চাকরিতে কোটার যৌক্তিক সংস্কারের এক দফা দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধি দল স্মারকলিপি নিয়ে বঙ্গভবন প্রবেশ করেছে।

রোববার দুপুর ২টা ২৫ মিনিটে ১২ সদস্য বিশিষ্ট শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধি দল রাষ্ট্রপতির কাছে স্মারকলিপি দিতে যায়।

প্রতিনিধি দলের সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন সারজিস আলম, নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদ, হাসিব আল ইসলাম, রিফাত রশিদ, হান্নান মাসুদ, সুমাইয়া আক্তার, আব্দুল কাদের, মেহেরুন্নেসা নিদ্রা, মো: মাহিন সরকার, আরিফ সোহেল ও আশিক।

এর আগে দুপুরে রাষ্ট্রপতিকে স্মারকলিপি দিতে যাওয়া শিক্ষার্থীদের গণপদযাত্রা জিরো পয়েন্টে আটকে দেয় পুলিশ। তবে সেই ব্যারিকেড ভেঙে বঙ্গভবনের দিকে চলে যান শিক্ষার্থীদের একাংশ। এরপর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে তাদের আটকে দেয় পুলিশ। সেখানে পুলিশ ও শিক্ষার্থীরা মুখোমুখি অবস্থান নেন।

শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদ, মামলা তুলে নেয়া ও কোটা সংস্কারের একদফা বাস্তবায়নের দাবিতে রাষ্ট্রপতিকে স্মারকলিপি দিতে দুপুর ১২টার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে থেকে গণপদযাত্রা শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। পদযাত্রায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজসহ রাজধানীর বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নিয়েছেন।

যেভাবে কোটা ব্যবস্থার পরিবর্তন হয়েছে

সরকারি চাকরিতে সকল গ্রেডে কোটা বাতিল করে কেবল ‘অনগ্রসর গোষ্ঠীর জন্য সর্বোচ্চ পাঁচ শতাংশ বরাদ্দ’ রেখে কোটা পদ্ধতি সংস্কারের দাবি জানিয়েছে আন্দোলনকারীরা।

২০১৮ সালে কোটা বাতিলের পরিপত্র জারির আগ পর্যন্ত সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা, জেলা, নারী, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী এবং প্রতিবন্ধী- এই পাঁচ ক্যাটাগরিতে মোট ৫৬ শতাংশ কোটা ছিল।

তবে স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে চালু হওয়া প্রথম কোটা ব্যবস্থায় এই পরিমাণ ছিল আরো বেশি।

কোটা কী?
কোটা বলতে কোনো কিছুর নির্দিষ্ট একটি অংশকে বোঝায় যা সাধারণত একটি গোষ্ঠীর জন্য বরাদ্দ থাকে। মূলত সমাজের পিছিয়ে পড়া বা অনগ্রসর মানুষগুলোকে মূলধারায় অন্তর্ভুক্ত করতে পড়াশোনা, চাকরিসহ নানা ক্ষেত্রে কোটার ব্যবস্থা থাকে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশেই কোটা পদ্ধতি চালু আছে।

ব্রিটিশ শাসনামলে সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে ভারতীয়দের জন্য কোটা ব্যবস্থা চালু ছিল।

পরবর্তী সময়ে পিছিয়ে পড়া মুসলিম জনগোষ্ঠীর জন্যও কোটা বরাদ্দ করা হয়।

দেশভাগের পর পাকিস্তান আমলেও প্রদেশভিত্তিক কোটা বরাদ্দ ছিল।

সাবেক সচিব আবু আলম মো: শহীদ খান বলেন, ‘কোটা দেয়া হয় যাতে পশ্চাৎপদ বা পিছিয়ে পড়া মানুষগুলো সমাজের যে কাজকর্ম হচ্ছে সেখানে অংশ নিতে পারে।’

১৯৭২ সাল থেকেই কোটা ব্যবস্থার শুরু
দেশে ১৯৭২ সাল থেকেই চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা, জেলা ও নারী কোটা ছিল।

সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও আধা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন করপোরেশন ও দফতরে নিয়োগ এবং কোটা বণ্টনের বিষয়ে ১৯৭২ সালের ৫ সেপ্টেম্বর তৎকালীন সরকার একটি নির্বাহী আদেশ জারি করে।

এতে এসব প্রতিষ্ঠানে প্রথম শ্রেণীর চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে ২০ শতাংশ মেধা এবং বাকি ৮০ শতাংশ জেলা কোটা রাখা হয়। এই ৮০ শতাংশ জেলা কোটার মধ্য থেকেই ৩০ শতাংশ কোটা মুক্তিযোদ্ধা এবং ১০ শতাংশ কোটা যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত নারীদের জন্য বরাদ্দের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

অর্থাৎ কোটার বড় একটি অংশই বরাদ্দ করা হয় মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য।

তিনি বলেন, ‘সত্যিকার মুক্তিযোদ্ধাদের বেশিভাগই ছিল- কৃষক, শ্রমিক, মজুর, তাঁতি। এরা কিন্তু সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষ ছিল। সেই কারণেই যখন দেশ স্বাধীন হলো তখন মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তা করার চিন্তা থেকেই বলা হলো যে তারা কোটা পেতে পারে এবং সেই কোটা ব্যবহার করে তাদের পরিবারের উন্নতি হতে পারে। সে কারণেই মুক্তিযোদ্ধা কোটা আসছে।’

এর চার বছর পর অর্থাৎ ১৯৭৬ সালে প্রথমবারের মতো কোটা বণ্টনে পরিবর্তন আনা হয়।

এ সময় মেধার ভিত্তিতে নিয়োগের পরিমাণ বাড়ানো হয় এবং শুধু নারীদের জন্য আলাদা করে কোটার ব্যবস্থা করা হয়।

অর্থাৎ মোট কোটার ৪০ শতাংশ মেধা, ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা, ১০ শতাংশ নারী, ১০ শতাংশ যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত নারী এবং বাকি ১০ শতাংশ কেবলই জেলার ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হয়।

ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষদের কোটায় অন্তর্ভুক্ত করে এবং মেধার ভিত্তিতে নিয়োগের পরিমাণ আরো বাড়িয়ে ১৯৮৫ সালে কোটা পদ্ধতির সংশোধন আনে তৎকালীন সংস্থাপন (বর্তমান জনপ্রশাসন) মন্ত্রণালয়।

এতে বলা হয়, ‘প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর পদসমূহের জন্য মেধাভিত্তিক কোটা হইবে ৪৫ শতাংশ এবং জেলাভিত্তিক কোটা হইবে ৫৫ শতাংশ। এই জেলাভিত্তিক কোটার মধ্য হইতে মুক্তিযোদ্ধাদের ৩০ শতাংশ, নারীদের ১০ শতাংশ এবং উপ-জাতীয়দের জন্য পাঁচ শতাংশ পদ সমন্বয় করিতে হইবে।’

১৯৯০ সালে নন-গেজেটেড পদগুলোর নিয়োগে কোটা পদ্ধতিতে আংশিক পরিবর্তন আনা হলেও প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর চাকরিতে তা অপরিবর্তিত থাকে।

কোটায় মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও নাতি-নাতনি
সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের অন্তর্ভুক্ত করা হয় ১৯৯৭ সালে।

১৯৮৫ সালের কোটা বণ্টন অপরিবর্তিত রেখে কেবল ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ‘উপযুক্ত মুক্তিযোদ্ধা প্রার্থী পাওয়া না গেলে মুক্তিযোদ্ধা/শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের পুত্র-কন্যার’ জন্য তা বরাদ্দের আদেশ জারি করা হয়।

এর কিছুদিন পর মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা কোটার পরিমাণ অনুযায়ী চাকরিতে নিয়োগ পাচ্ছেন না মর্মেও বেশ কয়েকটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

এ সময় নির্দেশনা না মানলে ‘সংশ্লিষ্ট নিয়োগকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে’ বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।

তবে ২০০২ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের সময়ে আরেকটি পরিপত্র জারি করে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বরাদ্দ কোটা বণ্টনের বিষয়ে আগের জারি করা পরিপত্রগুলো বাতিল করা হয়।

এতে বলা হয়, ‘মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য নির্ধারিত ৩০ শতাংশ কোটা অন্য প্রার্থী দ্বারা পূরণ না করে সংরক্ষণ করার যে নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল, তা সংশোধনক্রমে সরকার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন যে ২১তম বিসিএস পরীক্ষা থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য নির্ধারিত ৩০ শতাংশ কোটায় উপযুক্ত প্রার্থী পাওয়া না গেলে উক্ত কোটার শূন্যপদগুলো (ক্যাডার ও নন-ক্যাডার) মেধাভিত্তিক তালিকায় শীর্ষে অবস্থানকারী প্রার্থীদেরকে দিয়ে পূরণ করা যেতে পারে।’

অর্থাৎ মুক্তিযোদ্ধা কোটার ৩০ শতাংশে যোগ্য প্রার্থী পাওয়া না গেলে মেধা তালিকার প্রার্থী থেকে নিয়োগের নির্দেশ দেয়া হয়।

২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার গঠন করলে এই নির্দেশনাও বাতিল করা হয়।

একইসাথে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের জন্য নির্ধারিত কোটা পূরণ করা সম্ভব না হলে পদ খালি রাখার নির্দেশ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে সংস্থাপন মন্ত্রণালয়।

কোটায় পরবর্তী পরিবর্তন আসে ২০১১ সালে। এ সময় মুক্তিযোদ্ধার নাতি-নাতনিদেরও ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

সবশেষ ২০১২ সালে এক শতাংশ প্রতিবন্ধী কোটা যুক্ত করে প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার।

যেভাবে শুরু কোটা আন্দোলন
সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও আধা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধার চেয়ে কোটার পরিমাণ বেশি থাকায় এটি নিয়ে বরাবরই অসন্তোষ ছিল।

এমন প্রেক্ষাপটে বেশ কয়েকবারই কোটা আন্দোলন হয়। তবে তা ছিল খুবই সীমিত আকারে।

কোটা আন্দোলন প্রথমবারের মতো বড় আকারে রূপ নেয় ২০১৮ সালে।

ওই বছরের জানুয়ারি মাসের শেষের দিকে সরকারি চাকরিতে কোটা প্রথা বাতিল এবং এর পুর্নমূল্যায়ন চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্র ও দুই সাংবাদিক।

এতে কোটা পদ্ধতিকে সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক বলেও উল্লেখ করা হয়।

কিন্তু মার্চ মাসে এসে ওই রিটটি খারিজ করে দেন সর্বোচ্চ আদালত।

এদিকে আদালতে রিট করার পরপরই ফেব্রুয়ারি মাসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ‘কোটা সংস্কার চাই’ নামে একটি পেইজ খোলা হয় এবং শাহবাগকে কেন্দ্র করে তাতে মানবন্ধনসহ নানা কর্মসূচির ঘোষণা দেয়া শুরু হয়।

এর মাধ্যমেই মূলত কোটা সংস্কার আন্দোলন দানা বাঁধতে থাকে।

এ সময় কোটা সংস্কারের উদ্দেশ্যে ‘বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ’ নামে একটি প্ল্যাটফর্মও গঠন করা হয়।

রিট খারিজ হওয়ার পর কোটা পদ্ধতিতে কোনো পরিবর্তন করা হবে না মর্মে আদেশ জারি করা হয়। তবে কোটা কার্যকর করার ক্ষেত্রে কিছুটা শিথিলতা আনে সরকার।

জনপ্রশাসন থেকে জারি করা ওই আদেশে বলা হয়, ‘সব ধরনের সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে কোটায় যোগ্য প্রার্থী পাওয়া না গেলে মেধা তালিকার শীর্ষে অবস্থানকারী প্রার্থীদের দিয়ে সেসব পদ পূরণ করা হবে।’

অর্থাৎ আগের একটি আদেশের মাধ্যমে যেখানে মুক্তিযোদ্ধা কোটা পূরণ না হলে কোটা খালি রাখার কথা বলা হয়েছিল, সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে সরকার এবং মেধা তালিকা থেকে নিয়োগের কথা জানায়।

তবে দাবি আদায়ে অনড় থাকে শিক্ষার্থীরা।

এ সময় আন্দোলনকারীদের কর্মসূচিতে টিয়ারগ্যাস ও ফাঁকা গুলি চালানোসহ কয়েকজনকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

ওই বছর এপ্রিলে এই আন্দোলন সর্বব্যাপী রূপ লাভ করে। শাহবাগ থেকে ডাকা আন্দোলনে অংশ নিয়ে সারাদেশেই ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন শুরু করে শিক্ষার্থীরা।

টানা আন্দোলন কর্মসূচির মুখে ১১ এপ্রিল সংসদে দাঁড়িয়ে সব ধরনের কোটা বাতিলের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয় আরো পরে- অক্টোবর মাসে।

এ সময় নবম থেকে ১৩তম গ্রেড পর্যন্ত অর্থাৎ প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে কোটা বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার।

১৪তম থেকে ২০তম অর্থাৎ তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর পদগুলোতে কোটায় প্রার্থী পাওয়া না গেলে মেধা থেকেই নিয়োগের কথাও জানানো হয়।

তবে প্রধানমন্ত্রীর কোটা বাতিলের ঘোষণার পর থেকে পরিপত্র জারি করা পর্যন্ত সময়ের মধ্যে আন্দোলনের সমন্বয়কারীদের ওপর হামলা ও গ্রেফতারের বেশ কিছু ঘটনা গণমাধ্যমে আসে।

এদিকে কোটা বাতিলের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে ২০২১ সালে কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন।

গত ৫ জুন তাদের পক্ষে রায় আসে, অর্থাৎ আগের মতো কোটা বহাল হবে বলে জানান আদালত।

এদিকে হাইকোর্টের ওই রায় স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করে। সেই আবেদন গত ৪ জুলাই শুনানির জন্য এলে রাষ্ট্রপক্ষকে লিভ টু আপিল করতে নির্দেশ দেয় সর্বোচ্চ আদালত।

এরই মধ্যে ১ জুলাই থেকে কোটা বাতিলে আন্দোলনে নামে শিক্ষার্থীরা। ‘বৈষম্য-বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে’ এই আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে শিক্ষার্থীরা।

কোটা নিয়ে যা বলছেন বিশ্লেষকরা
১৯৭২ সালে কোটা ব্যবস্থা চালুর পর থেকেই মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ৩০ শতাংশ কোটা ছিল। পরবর্তী সময়ে একই কোটায় মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তান ও নাতি-নাতনিদের জন্য সেই কোটা বরাদ্দ করা হয়।

২০১৮ সালের কোটা আন্দোলনে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় ছিল মুক্তিযোদ্ধা কোটার পরিমাণ।

এবারের আন্দোলনেও বারবারই উঠে এসেছে মুক্তিযোদ্ধা কোটার বিষয়টিই।

সাবেক সচিব ও অর্থনীতিবিদ মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেন, ‘কোটার উদ্দেশ্য হচ্ছে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বা সমতল ক্ষেত্র তৈরির চেষ্টা করা। মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা অসম আছে কিনা এটা একটা বিষয়।’

এছাড়াও প্রতিবন্ধী বাদে অন্য কারো জন্য প্রয়োজন আছে কিনা- এমন প্রশ্নও তোলেন তিনি।

এ সময় কোটার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে নির্বাহী ক্ষমতার প্রসঙ্গও টানেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘এটা কি সরকারের নির্বাহী ক্ষমতার বিষয় না আদালতের বিষয়? ব্যক্তির অধিকার যদি ক্ষুণ্ন হয় কিংবা সংবিধানের ব্যত্যয় ঘটলে সেটা আদালতের বিষয়। কিন্তু এক্ষেত্রে তেমনটা হয়েছে বলে মনে হয় না। আগে তো নির্বাহী আদেশেই (কোটা) দেয়া হয়ছিল, আর নির্বাহী আদেশেই তা তুলে নেয়া হয়েছে।’

মোটাদাগে কোটা ব্যবস্থাকে সরলভাবে দেখার সুযোগ নেই বলেই মত বিশ্লেষকদের।

যেই পিছিয়ে পড়া মানুষদের জন্য কোটা রাখা হচ্ছে তা কিভাবে ব্যবহার হচ্ছে এবং কতটা কাজে লাগছে- সে বিষয়টাতেও নজর দেয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন সাবেক সচিব আবু আলম মো: শহীদ খান।

তিনি বলেন, ‘কোটা একটা পরিবার কয়বার ব্যবহার করতে পারবে? পশ্চাৎপদ কোনো পরিবারের একজন একবার চাকরি পেয়ে গেলে সে আর পশ্চাৎপদ থাকছে না। এছাড়াও পশ্চাৎপদতার আয়ের সিলিং থাকতে হবে। সব মিলিয়ে কোটা থাকবে, কিন্তু কিভাবে পরিচালিত হবে ওটা নিয়ে অনেক ভাবনার বিষয় আছে।’
সূত্র : বিবিসি

সরকারের সাথে আলোচনায় ৩ শর্ত ইমরান খানের

কারাবন্দী পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খান সরকারের সাথে আলোচনার জন্য তিনটি শর্ত পেশ করেছেন।

রোববার পাকিস্তানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্যা নিউজ ইন্টারন্যাশনালের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, শনিবার পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আনতে সরকারের সাথে আলোচনার জন্য তিনটি শর্ত পেশ করেছেন।

আদালতের কক্ষে সাংবাদিকদের সাথে অনানুষ্ঠানিক আলাপকালে ইমরান খান এই শর্তগুলো পেশ করেন।

ইমরান খানের প্রথম শর্ত হলো- আমার মামলাগুলো খারিজ করা উচিত, দ্বিতীয়টি হলো- আমাদের দলের সদস্যদের মুক্তি দেয়া এবং তৃতীয়টি- আমাদের ম্যান্ডেট ফিরিয়ে দেয়া।

এদিকে পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ও তার স্ত্রীর সাত বছরের কারাদণ্ড শনিবার (১৩ জুলাই) বাতিল করেছে দেশটির একটি আদালত।

রায়ের বিষয়ে খানের আইনজীবী বলেন, কথিত বেআইনিভাবে বিবাহের অভিযোগে ২০১৮ সালে দায়ের করা এক মামলায় পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ও তার স্ত্রীকে সাত বছরের কারাদণ্ড দিয়েছিলেন আদালত। তাকে কারাগারে পাঠানোর প্রায় এক বছর পর মুক্তির সর্বশেষ বাধাটি দূর হলো।

ইমরান খানের অন্যতম আইনজীবী নাঈম পাঞ্জুথা বলেন, আদালত রাওয়ালপিন্ডির গ্যারিসন শহরে এই রায় ঘোষণা করেন। আর এখানেই সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে আটক রাখা হয়েছে।

গত ৫ ফেব্রুয়ারি অন্য একটি আপিল আদালত ইমরান খান ও তার স্ত্রী বুশরা বিবির দোষী সাব্যস্ত হওয়া ও সাজা বহাল রাখার আদেশের দুই সপ্তাহ পর খালাস পেলেন তারা।

আদালত তার সংক্ষিপ্ত আদেশে বলেছে, যদি এই দম্পতিকে অন্য কোনো মামলায় অভিযুক্ত না করা হয় তবে তাদের মুক্তি দিতে হবে।

বুশরা বিবি হলেন ইমরান খানের তৃতীয় স্ত্রী এবং একজন আধ্যাত্মিক গুরু। ইমরান খানের সাথে বিয়ে হওয়ার মাত্র তিন মাসেরও কম সময় আগে ২০১৭ সালের নভেম্বরে পূর্বের স্বামীর সাথে বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছিল বুশরা বিবির। পাকিস্তানের ইসলামী আইন অনুযায়ী, বিবাহবিচ্ছেদ হওয়া নারীদের ক্ষেত্রে নতুন বিয়ের আগে তিন মাস অপেক্ষা করতে হয়।

বুশরা বিবি বলেছেন, ২০১৭ সালের আগস্টে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছিল। এই দম্পতি বিচারের সময় জোর দিয়েছিলেন তারা অপেক্ষার সময়সীমা লঙ্ঘন করেননি।

আদালতের আদেশে সরকার কিভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাবে তা স্পষ্ট নয়। ২০২২ সালে পার্লামেন্টে অনাস্থা ভোটে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে ইমরান খানের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করেছে কর্তৃপক্ষ।

ইমরান খানের দলকে অন্যায়ভাবে সংসদে কমপক্ষে ২০টি আসন থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে বলে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট রায় দেয়ার এক দিন পর এই আদেশটি আসলো। এটি দেশটির দুর্বল শাসক জোটের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য ধাক্কা।

ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ পার্টিকে এর আগে জাতীয় পরিষদ বা সংসদের নিম্নকক্ষে নারী ও সংখ্যালঘুদের জন্য সংরক্ষিত অতিরিক্ত আসন দেওয়ার ব্যবস্থা থেকে বাদ দেয়া হয়েছিল। যদিও এই রায় ইমরান খানের জন্য একটি বড় রাজনৈতিক বিজয় ছিল। তবে এটি তার দলকে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফের সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার মতো অবস্থানে রাখতে পারবে না। শাহবাজ গত ৮ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পরে ক্ষমতায় আসেন। তবে ভোটে কারচুপি হয়েছে বলে দাবি করে আসছেন খান মিত্ররা।

২০২৩ সালের মে মাসে গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে সহিংসতায় উস্কানিসহ দেড় শতাধিক মামলায় জড়ানো হয় ইমরান খানকে। এরপরে সারা দেশে দাঙ্গার সময় খানের সমর্থকরা সামরিক ও সরকারি ভবনগুলোতে আক্রমণ করে। উত্তর-পশ্চিমে রাষ্ট্রায়ত্ব রেডিও পাকিস্তান এর আবাসিক একটি ভবনে আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষুব্ধরা।

সুপ্রিম কোর্ট ইমরান খানকে মুক্তি দেয়ার পরেই সহিংসতা কমেছিল। দুর্নীতির দায়ে আদালত তাকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেয়ার পরে ২০২৩ সালের আগস্টের শুরুতে খানকে আবারো গ্রেফতার করা হয়।

এরপর থেকে যেসব মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন সেসব মামলায় বিভিন্ন আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন তিনি।
সূত্র : দ্যা নিউজ ইন্টারন্যাশনাল