Home Blog Page 607

পদ্মা সেতুতে এক বছরে আয় ৭৯৮ কোটি ২৪ লাখ টাকা : কাদের

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, পদ্মা সেতুতে দৈনিক গড়ে সাড়ে ১৫ হাজার গাড়ি চলাচল করে। এতে প্রতিদিন গড়ে প্রায় দুই কোটি ১৮ লাখ টাকা আয় হয়।

এক বছরে গাড়ি চলাচল ও আয় সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘২০২২ সালের ২৫ জুন থেকে গতকাল ২৪ জুন পর্যন্ত ৫৬ লাখ ৭৫ হাজার যানবাহন চলাচল করে পদ্মা সেতুতে। এক বছরে প্রায় ৭৯৮ কোটি ২৩ লাখ ৯৬ হাজার টাকা আয় হয়েছে।’

রোববার সেতু ভবনের সম্মেলন কক্ষে পদ্মা সেতু উদ্বোধনের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘এক বছর আগে ঠিক এইদিনে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের রূপকার, সময়ের সাহসী নেতৃত্ব, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্মাণ কাজ শেষে পদ্মা সেতু যানবাহন চলাচলের জন্য আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।’

‘এর পরদিন ২৬ জুন সকাল থেকে যানবাহন চলাচল শুরু করে আমাদের স্বপ্ন ও সম্ভাবনার প্রতীক পদ্মাসেতুর ওপর দিয়ে। বাংলাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় উন্মোচিত হয় নবদিগন্ত। শেখ হাসিনা সরকারের সাফল্যের মুকুট যোগ হয় আরেকটি হিরন্ময় পালক’ বলেন তিনি।

সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘২৫ জুন ২০২২ থেকে গতকাল অর্থাৎ ২৪ জুন রাত ১২টা পর্যন্ত এ সেতু দিয়ে পারাপার হয়েছে সর্বমোট ৫৬ লাখ ৭৫ হাজার যানবাহন। দৈনিক গড়ে সাড়ে ১৫ হাজার যানবাহন পারাপার হচ্ছে এ সেতু দিয়ে, যা আমাদের পূর্বানুমানের চেয়েও বেশি। এ থেকে বোঝা যায়, পদ্মা সেতু যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে অসামান্য অবদান রেখে চলেছে। শেখ হাসিনা সরকারের উন্নয়ন জনগণের জন্য। এর সুফল ভোগ করছে।’

টোল বিষয়ক পরিসংখ্যান দিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রতিদিন গড়ে টোল আদায় হচ্ছে প্রায় দুই কোটি ১৮ লাখ টাকা করে। গতকাল রাত পর্যন্ত পদ্মা সেতুর টোল-রাজস্ব আদায় হয়েছে ৭৯৮ কোটি ২৩ লাখ ১৬ হাজার টাকা। যা আজ বিকাল নাগাদ ৮০০ কোটিতে উন্নীত হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘পদ্মা সেতুর টোল নিয়ে একটি বিষয় স্পষ্ট করতে চাই, পদ্মা সেতু পারাপারে একমাত্র রাষ্ট্রপতি ছাড়া রাষ্ট্রের সব নাগরিকের টোল প্রদানে বাধ্যবাধকতা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীও সেতু পারাপারে টোল প্রদান করেছেন। তিনি উদ্বোধনের দিনেই ৫৯ হাজার ৬০০ টাকা টোল দিয়েছেন। এছাড়া বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও অন্যান্য সংস্থা তাদের যানবাহনের বিপরীতে ৯১ লাখ ৭০ হাজার টাকা টোল দিয়েছে।’

সেতু নির্মাণ ব্যয়ের অর্থ বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ (বিবিএ) সরকারের কাছ হতে ঋণ হিসেবে নিয়েছে উল্লেখ করে সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘এ ঋণের টাকা ধাপে ধাপে সরকারি কোষাগারে ফেরত দেবে বিবিএ। এরই মধ্যে সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে চারটি কিস্তি পরিশোধ করা হয়েছে। প্রথম দুটি কিস্তি বাবদ প্রায় ৩১৬ কোটি ৯১ লাখ এবং তৃতীয় ও চতুর্থ কিস্তি বাবদ প্রায় ৩১৬ কোটি তিন লাখ টাকাসহ সর্বমোট প্রায় ৬৩২ কোটি ৯৪ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দিয়েছে।’

চুক্তি অনুযায়ী ৩৫ বছরের মধ্যেই বিবিএ সম্পূর্ণ অর্থ সরকারকে ফেরত দেয়ার কথা রয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন সেতু বিভাগের সচিব মো: মনজুর হোসেন এবং পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) প্রকৌশলী মো: শফিকুল ইসলাম।

নেইমার আসার পর থেকেই বার্সেলোনায় সব সমস্যা শুরু হয়েছে!

নেইমারকে ক্লাবে আনার পর থেকে সব ধরনের সমস্যা শুরু হয়েছে বলে দাবী করেছেন বার্সেলোনার অর্থনীতি বিষয়ক সহ-সভাপতি এডুয়ার্ড রোমেয়ু।

নেইমারকে চড়া মূলে কিনে নেবার পর থেকেই বার্সেলোনার আর্থিক দৈন্যদশা শুরু হয়েছে বলে রোমেয়ু জানিয়েছেন।

ব্রাজিলিয়ান এই সুপারস্টার ২০১৩ সালে সান্তোস থেকে কাতালান জায়ান্টে যোগ দেন। মাত্রই ইউরোপে পা রাখা একজন খেলোয়াড়ের জন্য ওই সময় যে বেতন বার্সেলোনা দিয়েছিল তা অনেকটাই বড় ছিল। যদিও ওই মুহূর্তে নেইমারকে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সম্ভাবনাময় খেলোয়াড় হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল। ২০১৭ সালে ২২২ মিলিয়ন রিলিজ ক্লজে বার্সেলোনা থেকে নেইমারকে কিনে নেয় পিএসজি। তার এই ক্লাব ছেড়ে যাওয়া আর্থিকভাবে বার্সেলোনাকে সহযোগিতা করার চেয়ে ক্ষতিই করেছে বেশি।

রোমেয়ু বলেন, ‘তিনি চলে যাবার পর আমরা পাগলামি শুরু করি। পথ হারিয়ে ফেলি।’
ওই সময় চড়া মূল্যে বার্সেলোনা ফিলিপ কুটিনহো ও ওসমানে ডেম্বেলেকে দলে ভেড়ালেও তারা তাদের নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেনি। আগামী মৌসুমের শুরুতে বার্সেলোনা সব কিছুকে পিছনে ফেলে আবারো আর্থিকভাবে নিজেদের সাবলম্বী করে তুলবে বলে আশা করছেন রোমেয়ু।

কোভিড পরবর্তী আর্থিক যে সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছিল বার্সেলোনাকে তা এখন অনেকটাই কাটিয়ে উঠেছে তারা।

সূত্র : বাসস

মোংলায় রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের কয়লাবাহী জাহাজ ভিড়বে আজ

রামপাল তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের কয়লা নিয়ে ইন্দোনেশিয়া থেকে আসা বাংলাদেশী পতাকাবাহী জাহাজ এম ভি বসুন্ধরা আজ রোববার বিকেলে মোংলা বন্দরের হাড়বাড়ীয়ার ১১ নম্বর এ্যাংকোরেজে ভিড়বে।

সন্ধ্যা ৬টা থেকে কয়লা খালাস ও পরিবহনের কাজ শুরু করা হবে।

গত ৩১ মে ইন্দোনেশিয়া থেকে ৩২ হাজার ১২১ টন কয়লা নিয়ে মোংলা বন্দরের উদ্দেশে নৌযানটি ছেড়ে আসে।

দেশীয় এ জাহাজের স্থানীয় শিপিং অ্যাজেন্ট টগি শিপিং অ্যান্ড লজিস্টিক লিমিটেডের খুলনার সহকারী ব্যবস্থাপক খন্দকার রিয়াজুল হক শনিবার (২৪ জুন) রাতে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, ‘কয়লাবাহী জাহাজটি রোববার বিকেল ৫টায় বন্দরের পশুর চ্যানেলের হাড়বাড়ীয়ার-১১ নম্বর এ্যাংকোরেজে ভিড়বে। এর ঘণ্টাখানেক পর জাহাজটি হতে কয়লা খালাসের কাজ শুরু হবে। পরে রামপাল তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিজস্ব জেটিতে নেয়া হবে। এরপর জেটির নিজস্ব গ্রাস্পের (কামরিকল) মাধ্যমে লাইটারেজের কয়লা উত্তোলন করে স্বয়ংক্রিয় বেল্টের মাধ্যমে তা সংরক্ষণ করা হবে কেন্দ্রটির কয়লার গোডাউনে।’

এর আগে চলতি মাসের ১০ জুন ইন্দোনেশিয়া থেকে রামপাল তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য ২৬ হাজার ৬২০ টন কয়লা নিয়ে মোংলা বন্দরে এসেছিল চীনের পতাকাবাহী জাহাজ এম ভি জে হ্যায়। আর গত ১৬ মে বাংলাদেশী পতাকাবাহী জাহাজ এম ভি বসুন্ধরা ইমপ্রেসে করে ৩০ হাজার টন ও ২৯ মে একই জাহাজে করে ৩০ হাজার ৫০০ টন কয়লা এসেছিল মোংলা বন্দরে।

সাগরতলে আবিষ্কারের অপেক্ষায় ৩০ লাখ জাহাজের ধ্বংসাবশেষ!

এলিয়াস স্টাডিয়াটিস যখন সাগরের বেগুনি-নীল পানির নিচে ডুব দিলেন, তখন ভাবছিলেন ডুবুরি হিসেবে হয়ত তাকে আরেকটি গড়পড়তা দিনের মতোই নানা কিছু খুঁজে ফিরতে হবে। তার পরনে ভারী ডাইভিং স্যুট, নিঃশ্বাস নেয়ার জন্য মুখে লাগানো রাবারের নল।

সাগরের তলায় এসে পৌঁছানোর পর চোখ মিট মিট করে তিনি যা দেখলেন, তাতে ভয়ে আঁতকে উঠলেন। তার চারপাশে মনে হচ্ছে ছড়িয়ে আছে বহু খণ্ড-বিখণ্ড মানবদেহ, পানির নিচে সেসবের ঝাপসা আকার বেশ বোঝা যাচ্ছে। এলিয়াস যখন বুদবুদ ছড়িয়ে পানির উপরে ভেসে উঠলেন। হন্তদন্ত হয়ে জাহাজের ক্যাপ্টেনকে জানালেন, সাগরের নিচে তিনি লাশের স্তূপ খুঁজে পেয়েছেন।

এটা ১৯০০ সালের বসন্তকালের ঘটনা। এলিয়াস আসলে সেদিন ঘটনাচক্রে আনটিকিথেরা জাহাজডুবির সন্ধান পেয়েছিলেন। এই মালবাহী রোমান জাহাজটি সাগরে ডুবে গিয়েছিল দুই হাজার বছরেরও বেশি আগে। তবে শিগগিরই বোঝা গেল, এ জাহাজটির ধ্বংসাবশেষে এলিয়াস লাশের স্তূপ বলে ভেবেছিলেন যেগুলোকে, সেগুলো আসলে শিল্পকর্ম। মার্বেল পাথর এবং ব্রোঞ্জের ভাস্কর্য। কিন্তু হাজার বছর ধরে সাগর তলে শ্যাওলা আর নানা সামুদ্রিক প্রাণীর মাঝখানে সেগুলোর ওপর এক অদ্ভুত প্রলেপ পড়েছে।

এজিয়ান সাগরে গ্রিসের একটি দ্বীপের উপকূলে আনিটিকিথেরা থেকে উদ্ধার করা সেসব ভাস্কর্য এক শ’ বছরেরও বেশি সময় পরে এখনো মানুষকে মুগ্ধ করে চলেছে। কিন্তু সাগরতলে এরকম বহু জাহাজে আরো অনেক বিস্ময়কর নিদর্শন এখনো আবিষ্কারের অপেক্ষায় পড়ে আছে।

ইউনেস্কোর একটি সাম্প্রতিক অভিযানের কথা ধরা যাক। এটি চালানো হয় স্কার্কি ব্যাংক বলে একটি জায়গায়। পূর্ব এবং পশ্চিম ভূমধ্যসাগরকে যুক্ত করেছে সাগরের এ অগভীর অংশটি, যেটি জাহাজ চলাচলের জন্য খুবই বিপদজনক। কারণ সেখানে পানির নিচে অনেক প্রবাল পাথর। হাজার হাজার বছর ধরে এই পথে বহু জাহাজ ডুবি হয়েছে।

শব্দতরঙ্গ ব্যবহার করে এবং পানির নিচে রোবট পাঠিয়ে এই এলাকার সাগরতলের একটি মানচিত্র তৈরির কাজ করেছিলেন আটটি দেশের একদল বিজ্ঞানী। এ সপ্তাহে তারা ঘোষণা করলেন, সেখানে তিনটি ডুবে যাওয়া জাহাজের সন্ধান পাওয়া গেছে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে খ্রিষ্টপূর্ব প্রথম শতাব্দীর, একটি দ্বিতীয় শতাব্দীর, আর শেষেরটি হয়তো উনিশ বা বিশ শতকের।

ইউনেস্কোর ধারণা, বিশ্বের সাগরগুলোর ঢেউয়ের নিচে হয়ত আর বহু ডুবে যাওয়া জাহাজ আবিষ্কার হওয়া বাকি।

চাপা পড়া ইতিহাস
বিশ্বে এযাবতকালের সবচেয়ে পুরনো নৌকাটি খুঁজে পাওয়া গিয়েছিল নেদারল্যান্ডসে একটি মহাসড়ক তৈরির সময় ঘটনাচক্রে। কাঠের নৌকাটি দশ হাজার বছরের পুরনো বলে ধারণা করা হয়। তবে এরকম অনেক প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে যে মানুষ হয়ত তারও বহু আগে সাগর পাড়ি দিতে শিখেছিল। হঠাৎ করেই মানুষের দেখা পাওয়া যেতে শুরু করেছিল বিশাল সাগরের অপর তীরে।

প্রায় ৫০ হাজার বছর আগে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একদল শিকারি মানব একের পর এক দ্বীপ ডিঙ্গিয়ে শত শত মাইল পথ পাড়ি দিয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। কারণ এরপরই অস্ট্রেলিয়ার আদিবাসীদের দেখা মিলেছিল নিউ সাউথ ওয়েলসের লেক মাঙ্গুতে।

আর যেখানেই এরকম সাগর পাড়ি দেয়ার ব্যাপার থাকবে, সেখানেই জাহাজডুবিও ঘটবে। বিশ্বে হাজার হাজার বছর ধরে যে বাণিজ্য হয়েছে, যুদ্ধ হয়েছে, নানা অভিযান চলেছে- বিশ্বের সাগরতলে আসলে সেসবের ধ্বংসাবশেষ লুকিয়ে আছে। সেখানে হয়ত আছে রূপা বোঝাই দস্যু জাহাজ, মালামাল বোঝাই নৌকা, বিলাসবহুল রাজকীয় তরী, যা হয়ত অদৃশ্য হয়ে গেছে কোনো ভবিষ্যতের রাজাকে নিয়ে। প্রাচীন মাছধরা নৌকা, আধুনিক যুদ্ধজাহাজ, সাবমেরিন, অথবা টাইটানিকের মতো বিশাল যাত্রীবাহী জাহাজ- কী নেই সাগরতলে।

এই ডুবে যাওয়া জাহাজগুলো যেন একেকটা টাইম-ক্যাপসুল। প্রত্নতত্ত্ববিদরা এগুলো খুঁজে পাওয়ার জন্য পাগল। এগুলোতে পাওয়া গেছে প্রাচীনকালের বিস্ময়কর যেসব নিদর্শন, সেগুলোতে ভর্তি বিশ্বের নামকরা মিউজিয়ামগুলো। যেমন আনটিকিথেরা থেকে পাওয়া গিয়েছিল এক রহস্যময় মহাজাগতিক ঘড়ি, যেটি কোনো কোনো বিশেষজ্ঞের মতে আসলে বিশ্বের প্রাচীনতম কম্পিউটার।

তাহলে এরকম কত জাহাজ পড়ে আছে সাগরের তলে- পানির গভীরে কত জাহাজ এখনো আবিষ্কারের অপেক্ষায়?

বিশ্বের জাহাজডুবির ঘটনাগুলোর বেশ কয়েকটি তথ্যপঞ্জি আছে। এ পর্যন্ত কত ডুবে যাওয়া জাহাজ খুঁজে পাওয়া গেছে, সেটির আনুমানিক হিসেব একেকটি তথ্যপঞ্জিতে একেক রকম।

একটি অনলাইন সাইট, রেক-সাইটে দুই লাখ নয় হাজার ৬৪০টি জাহাজডুবির তালিকা আছে। এর মধ্যে এক লাখ ৭৯ হাজার ১১০ টি জাহাজ কোথায় ডুবেছে, সেই স্থানের কথাও উল্লেখ আছে। অন্যদিকে গ্লোবাল মেরিটাইম রিক ডেটাবেজে (জিএমডাব্লিউডি) আছে আড়াই লাখের বেশি ডুবে যাওয়া জাহাজের তালিকা, যদিও এর মধ্যে অনেকগুলো এখনো খুঁজে পাওয়া যায়নি।

একটি আনুমানিক হিসেবে বলা হচ্ছে, কেবল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়েই ১৫ হাজার জাহাজ ডুবেছে- আটলান্টিক আর প্রশান্ত মহাসাগরের নানা জায়গায় অনেক যুদ্ধজাহাজ আর ট্যাংকার ডুবে আছে। এসব জাহাজ থেকে সাগরে নিঃসৃত হয়েছে তেল, রাসায়নিক থেকে শুরু করে ভারী ধাতু।

আসলে যত জাহাজডুবির ঘটনা এ পর্যন্ত জানা গেছে এবং তালিকাভুক্ত হয়েছে, তা বাস্তবে ঘটা জাহাজডুবির একেবারেই একটা ক্ষুদ্র অংশ বলে মনে করা হয়। ইউনেস্কোর একটি বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বিশ্বের সাগরতলে হয়ত ৩০ লাখের বেশি জাহাজডুবির ঘটনা আবিষ্কারের অপেক্ষায় আছে।

তবে এসবের ধ্বংসাবশেষ যে সাগরের সব জায়গায় সমানভাবে ছড়িয়ে আছে, ব্যাপারটা তা নয়। সাগরে এমন কিছু অঞ্চল আছে, সেখানে ঘন ঘন জাহাজডুবি হয়। বিশেষ করে সাগরের যেসব পথ দিয়ে বেশি জাহাজ চলাচল করে, বা যেই পথ বেশি বিপদসঙ্কুল। এরকম এলাকাগুলো অতীতে ডুবে যাওয়া জাহাজের সন্ধানের জন্য ভালো জায়গা বলে প্রমাণিত হয়েছে।

স্কার্কি ব্যাংক এরকম একটি জায়গা। কিংবা ভূমধ্যসাগরের ফোর্নি আর্কিপেলাগোর কথাও বলা যেতে পারে। এসব জায়গায় এ পর্যন্ত ৫৮টি ডুবে যাওয়া জাহাজ খুঁজে পাওয়া গেছে। এর মধ্যে কেবল ২০১৫ সালে মাত্র ২২ দিনেই খুঁজে পাওয়া যায় ২৩টি জাহাজ।

ফোর্নি আর্কিপেলাগো যদিও সেরকম বিপদজনক এলাকা নয়, সেখানে বহু জাহাজ আসতো নোঙর করতে। সেখানে যেহেতু অনেক বেশি জাহাজ আসা-যাওয়া করতো, সেকারণেই সেখানকার সাগরতলে এত বেশি জাহাজডুবির নিদর্শন পাওয়া গেছে বলে মনে করা হয়।

মূল্যবান নিদর্শন
আগের যুগে মানুষ কিভাবে জীবন-যাপন করতো, তার নানা চিত্তাকর্ষক নিদর্শন আছে সাগরের তলায় লুকিয়ে থাকা এই অনাবিস্কৃত ডুবে যাওয়া জাহাজগুলোতে। তবে এগুলোতে হয়ত মাথা ঘুরিয়ে দেয়ার মতো বিপুল মূল্যবান সম্পদও আছে। এটা আবার একটা সমস্যা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

১৭০৮ সালের ৮ জুন সন্ধ্যা ৭টার দিকে কলম্বিয়ার উপকূলে ক্যারিবীয় সাগরে এক বিকট বিস্ফোরণের প্রতিধ্বনি শোনা গিয়েছিল। এটি ছিল আসলে স্যান হোসে নামের এক স্প্যানিশ পালতোলা জাহাজে বিস্ফোরণের শব্দ। জাহাজটি স্পেন থেকে রওনা হয়েছিল দুই বছর আগে। এটি ছিল একটি স্প্যানিশ নৌবহরের অংশ। এই বহরে ছিল আরো অনেক জাহাজ এবং নৌকা। সেগুলোতে বোঝাই ছিল চিনি, মশলা, মূল্যবান ধাতু এবং অন্যান্য পণ্য। স্পেন এবং তার আমেরিকান উপনিবেশগুলোর মধ্যে এগুলোতে করে পণ্য পরিবহন করা হত।

এই নৌবহরের প্রধান জাহাজ ছিল স্যান হোসে। সেটিতে বোঝাই ছিল রূপা, পান্না, সোনা- এরকম সব মূল্যবান ধাতু। কিন্তু একটি ব্রিটিশ জাহাজের সঙ্গে সহিংস সঙ্ঘাতে জড়িয়ে পড়েছিল এটি। কয়েক ঘণ্টা ধরে লড়াইয়ের পর স্যান হোসে জাহাজের গান পাউডারের গুদাম বিস্ফোরিত হয় এবং সাথে সাথে জাহাজটি ডুবে যায়। ছয় শ’ নাবিক সহ জাহাজটি সাগরের পানির নিচে অদৃশ্য হয়ে যায়।

এর প্রায় তিন শ’ বছর পর ২০১৫ সালে কলম্বিয়ান নৌবাহিনী শেষ পর্যন্ত এই জাহাজের ধ্বংসাবশেষ খুঁজে বের করতে সক্ষম হয়। জাহাজের ধ্বংসাবশেষের মধ্যে কামান, সিরামিক, মূদ্রা এরকম অনেক কিছু পাওয়া গিয়েছিল। ধারণা করা হয়, এই জাহাজে ছিল প্রায় ১৭ বিলিয়ন ডলারের মালামাল। কিন্তু জাহাজটি আবিস্কৃত হওয়ার পরপরই এর মালিক কে তা নিয়ে তিক্ত বিবাদ শুরু হয়। এই প্রত্মতাত্ত্বিক স্থানটি থেকে এখন সম্পদ লুন্ঠন করা হবে বলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

স্যান হোসে আবিস্কৃত হওয়ার পর গবেষকরা আরো দু’টি শতাব্দী প্রাচীন ডুবে যাওয়া জাহাজ খুঁজে পেয়েছেন কলম্বিয়ার উপকূলে।

এক সোনালী যুগ
এ ধরণের বিতর্ক সামনের দিনগুলিতে বারে বারে সামনে আসবে।

অতীতে অনেক ডুবে যাওয়া জাহাজ খুঁজে পাওয়া যেত তুলনামূলকভাবে অগভীর পানিতে। জেলেরা, বিজ্ঞানীরা কিংবা যারা লুকায়িত সম্পদের খোঁজে থাকে- তারা হয়ত ঘটনাচক্রে সাগর উপকূলে এরকম জাহাজ খুঁজে পেত। কিন্তু এখন অত্যাধুনিক সাবমরিন, ক্যামেরা এবং শব্দতরঙ্গ প্রযুক্তির কল্যাণে গভীর সাগরের তলদেশেও ডুবে যাওয়া জাহাজের সন্ধান করা অনেক সহজ হয়ে গেছে।

সাগরের সবচেয়ে গভীর অংশের মানচিত্র তৈরি করাও এখন সম্ভব। ২০১৯ সালে গবেষকরা মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস জনস্টোন খুঁজে পান ফিলিপাইনের কাছে সাগরের ছয় কিলোমিটার গভীরে।

আর এবছরের শুরুতে বিজ্ঞানীরা টাইটানিক জাহাজের এক অবিকল ত্রিমাত্রিক ডিজিটাল প্রতিকৃতি তৈরি করেন আটলান্টিকের নিচে ডুবে থাকা জাহাজটি জরিপ করে।

প্রযুক্তির এই উন্নতির ফলে সাগরের নিচে লুকিয়ে থাকা অনেক কিছু এখন অভূতপূর্ব হারে প্রকাশ পাচ্ছে। যেভাবে শব্দতরঙ্গে এবং জিপিএস প্রযুক্তি মাছ ধরার ব্যাপারটি পুরো বদলে দিয়েছে। টিউনা মাছের ঝাঁককে এখন গভীর সমুদ্রে পর্যন্ত খুঁজে বের করা যাচ্ছে। সেই একই প্রযুক্তি ব্যবহার করে এখন যে কেউ অনেক ডুবে যাওয়া জাহাজ খুঁজে বের করতে পারবে, যেটা আগে সম্ভব ছিল না।

তবে এখনো অনেক ডুবে যাওয়া জাহাজ খুঁজে পাওয়ার অপেক্ষায়। এর মধ্যে অনেক বিখ্যাত জাহাজডুবির ঘটনা আছে। যেমন- ধরা যাক ওয়ারাটাহর কথা। এই বিশাল যাত্রীবাহী জাহাজটিকে টাইটানিকের সঙ্গে তুলনা করা হয়। এটি ১৯০৯ সালের ২৬ জুলাই ডারবান থেকে কেপটাউনের উদ্দেশে যাত্রা করেছিল। জাহাজটিতে ছিল ২১১ জন যাত্রী। কিন্তু তারপর এটি অদৃশ্য হয়ে যায়। আজ পর্যন্ত কেউ জানে না কী ঘটেছিল, কোথায় জাহাজটি ডুবে গিয়েছিল। এটি খুঁজে বের করার জন্য এ পর্যন্ত নয়টি অভিযান চালানো হয়েছে। কিন্তু কিছুই পাওয়া যায়নি।

কে জানে, এরপর আবার কী খুঁজে পাওয়া যাবে। একটা বিষয়েই কেবল সুনিশ্চিত, খুঁজে পাওয়ার জন্য আমাদের খুব বেশি সময় অপেক্ষা করতে হবে না।

সূত্র : বিবিসি

টাইটানের দুর্ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে কানাডা

কানাডিয়ান কর্তৃপক্ষ শনিবার টাইটান সাবমার্সিবলের বিস্ফোরণের বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে। টাইটানিকের ধ্বংসস্তুপের কাছে পাঁচজন লোক নিয়ে সাবমার্সিবলটি নিখোঁজ হওয়ার পর বহুজাতিক অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান চালানো হয়েছিল।

ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ডের (টিএসবি) সভাপতি ক্যাথি ফক্স বলেছেন, ‘আমাদের দায়িত্ব হলো কী ঘটেছে এবং কেন ঘটেছে এবং ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনার সম্ভাবনা বা ঝুঁকি কমাতে কী পরিবর্তন করতে হবে তা খুঁজে বের করা।’

তিনি নিউফাউন্ডল্যান্ডের সেন্ট জনস-এ সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা জানি সবাই উত্তর চায়, বিশেষ করে পরিবার এবং জনসাধারণ।’

সম্পূর্ণ তদন্তে ১৮ মাস থেকে দুই বছর সময় লাগতে পারে।

টিএসবি তদন্তকারীরা শনিবার কানাডিয়ান-পতাকাযুক্ত পোলার প্রাইস কার্গো জাহাজে উঠেছেন, যেটি উত্তর আটলান্টিকের দুর্ভাগ্যজনক টাইটান সাবমার্সিবলটি তার লঞ্চ পয়েন্টে নিয়ে আসার জন্য সেন্ট জন’স থেকে গত সপ্তাহান্তে যাত্রা করেছিল।

পরিবহন নিরাপত্তার উন্নতির লক্ষ্যে এই নিরাপত্তা বোর্ড নিয়মিতভাবে বিমান, রেল, সামুদ্রিক এবং পাইপলাইন দুর্ঘটনার তদন্ত করে আসছে। এটি দুর্ঘটনার ফৌজদারি দায় নির্ধারণ করে না।

ইউএস কোস্ট গার্ড বৃহস্পতিবার বলেছে, সাবমার্সিবলটির ‘বিপর্যয়কর বিস্ফোরণের’ পরে এতে থাকা পাঁচজনের সবাই মারা গেছে।

টাইটানিকের ধ্বংসাবশেষ থেকে ১৬০০ ফুট (৫০০ মিটার) দূরে সমুদ্রতলে সাবমার্সিবলটির ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেছে।

ইতোমধ্যে রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ (আরসিএমপি) টাইটানের দুঃসাহসিক যাত্রীদের মৃত্যুর ঘটনায় কোনো ফৌজদারি আইন ভঙ্গ হয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখছিল।

নিউফাউন্ডল্যান্ড এবং ল্যাব্রাডরের সুপারিনটেনডেন্ট কেন্ট ওসমন্ড বলেন, তদন্তকারীদের কাজ হলো ‘আরসিএমপি দ্বারা সম্পূর্ণ তদন্তের প্রয়োজন আছে কি না’ তা নির্ধারণ করা।

‘এই ধরনের তদন্ত কেবল তখনই এগিয়ে যাবে যখন আমাদের পরিস্থিতির পর্যবেক্ষণে এমন ইঙ্গিত দেয় যে, ফৌজদারি ফেডারেল বা প্রাদেশিক আইন সম্ভবত ভঙ্গ করা হয়েছে।’

আনকাট ছাড়পত্র পেল শাকিবের ‘প্রিয়তমা’

ঈদে সিনেমা মুক্তির সংখ্যা বেড়েছে। এ প্রতিযোগিতায় বরাবরই আলোচনার শীর্ষে থাকেন শাকিব খান। আর ধারাবাহিকতা থাকছে আসন্ন কুরবানির ঈদেও।

সবার জানা, ঈদুল আজহায় মুক্তি পেতে যাচ্ছে শাকিব খানের সিনেমা ‘প্রিয়তমা’। ইতোমধ্যে ঢালিউড কিংয়ের ফার্স্টলুক প্রকাশের পর ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

তবে এতদিন পর্যন্ত সেন্সরবোর্ডের কাছে জমা ছিল ‘প্রিয়তমা’। অবশেষে আনকাট ছাড়পত্র পেল সিনেমাটি।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিনেমার পরিচালক হিমেল আশরাফ।

প্রিয়তমার ফার্স্টলুক প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তা ভাইরাল হয়ে যায়। সিনেমা সংশ্লিষ্ট অনেকেই শাকিবের প্রশংসায় মেতে উঠে।

প্রশংসায় ছিলেন শাকিবের সাবেক স্ত্রী ও চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাস।

হিমেল আশরাফের পরিচালনায় আরশাদ আদনানের প্রযোজনায় নির্মিত ‘প্রিয়তমা’ রোমান্টিক অ্যাকশন ধাঁচের গল্প লিখেছেন পরলোকগত ফারুক হোসেন।

ঈদুল আজহায় মুক্তি পেতে যাওয়া ‘প্রিয়তমা’ সিনেমায় আরো অভিনয় করছেন ইধিকা পাল, কাজী হায়াত, শহীদুজ্জামান সেলিম, এলিনা শাম্মী, ডন, সহীদ নবী প্রমুখ।

প্রার্থিতা ফিরে পেলেন হিরো আলম

ঢাকা-১৭ আসনের উপনির্বাচনে প্রার্থিতা ফিরে পেলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলম।

আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে আপিল শুনানি শেষে এ তথ্য জানান ইসির অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ।

এর আগে গত রোববার বাছাইয়ে হিরো আলমের মনোনয়ন বাতিল করা হয়। পরে গত মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে নির্বাচন কমিশনে সশরীর হাজির হয়ে আপিল করেন তিনি। বৃহস্পতিবার (২২ জুন) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে এ নিয়ে শুনানি হয়। এতে প্রার্থিতা ফিরে পান হিরো আলম। আপিল শুনানিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিরো আলমের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়। ফলে ঢাকা-১৭ আসনের উপনির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন তিনি। আগামী রোববার এ নিয়ে আদেশ জারি হবে।

যেকোনো সংসদীয় আসনে নির্বাচন করতে হলে এক শতাংশ ভোটারের নাম ও স্বাক্ষর প্রয়োজন হয়। কিন্তু এই এক শতাংশ ভোটার ও তাদের স্বাক্ষর নিতে পারেননি । রিটার্নিং কর্মকর্তার প্রতিনিধি দল সরেজমিন ঘুরে হিরো আলমের দেয়া এক শতাংশ ভোটারের হদিস পায়নি। এজন্যই হিরো আলমের মনোনয়ন বাতিল হয়েছিল বলে গত রোববার আগারগাঁওয়ের নির্বাচনি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে (ইটিআই) মনোনয়ন বাছাই শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তা মো: মুনীর হোসাইন খান জানান।

তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ সময় ২৫ জুন। পরদিন হবে প্রতীক বরাদ্দ। ১৭ জুলাই সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ব্যালট পেপারে ভোট নেয়া হবে।

গত ১৫ মে এই আসনের সংসদ সদস্য চিত্রনায়ক আকবর হোসেন পাঠানের (ফারুক) মৃত্যু হলে আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়।

একে অপরকে কী উপহার দিলেন বাইডেন-মোদি

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র সফরে রয়েছেন। সেখানে তিনি প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সাথেও সাক্ষাৎ করেছেন। আর মার্কিন ফার্স্টলেডি জিল বাইডেনের জন্য ভারত থেকে নিয়ে গিয়েছেন বাছাই করা উপহার।

স্থানীয় সময় বুধবার (২১ জুন) ওয়াশিংটনে অতিথি মোদিকে নানা উপহার দিয়ে সম্মাননা জানিয়েছেন জো বাইডেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে ২০ শতকের গোড়ার দিকের একটি মার্কিন সাহিত্যের বইয়ের গ্যালারি উপহার দিয়েছেন তিনি।

এছাড়াও ব্যক্তিগতভাবে প্রধানমন্ত্রীকে একটি ভিনটেজ ক্যামেরা উপহার দিয়েছেন বাইডেন। যার সাথে রয়েছে জর্জ ইস্টম্যানের মুদ্রিত প্রথম কোডাক ক্যামেরার ফ্যাসিমাইল প্রিন্ট। তার সাথে মার্কিন বন্যপ্রাণবিষয়ক একটি বিশেষ বই।

নরেন্দ্র মোদিকে বিশেষ উপহার দিয়েছেন মার্কিন ফার্স্টলেডি জিল বাইডেনও। ইংরেজি সাহিত্যের কবি রবার্ট ফ্রস্টের সই করা কবিতার বই ‘কালেক্টেড পোয়েমস অব রবার্ট ফ্রস্ট’ এর প্রথম এডিশনের একটি বই।

অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এবং তার স্ত্রী জিল বাইডেনের জন্যও ভারত থেকে বাছাই করা উপহার নিয়ে গেছেন মোদি। তার মধ্যে প্রথমেই রয়েছে জিল বাইডেনের জন্য একটি সবুজ হিরা।

বিশেষ চন্দন বক্স- এই বিশেষ চন্দন কাঠের বক্সটি তৈরি করেছেন রাজস্থানের জয়পুরের এক দক্ষ কারিগর। কর্ণাটকের মহীশুরে চন্দনকাঠ দিয়ে তৈরি এই বক্সে সুনিপুণভাবে খোদাই করা রয়েছে ভারতীয় প্রাণী ও উদ্ভিদের বিভিন্ন প্রতিকৃতি।

এই চন্দনকাঠের বক্সের মধ্যে দেয়া হয়েছে, একটি রুপার গণেশ মূর্তি। বক্সে রাখা হয়েছে, একটি প্রদীপ, তামার পাত্র এবং হাতে তৈরি রুপার বাক্স, যাতে দেয়া হয়েছে ‘দশ দানম’।

বাক্সের মধ্যে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের শিল্পীর তৈরি জিনিসও। বাংলার শিল্পীর তৈরি রুপার ডাব। সাথে কর্ণাটকের মাইসুরুর সুগন্ধি চন্দনকাঠ। রাজস্থানের শিল্পীর তৈরি ২৪ ক্যারেট একটি স্বর্ণ মুদ্রা।

বাক্সে দেয়া হয়েছে পাঞ্জাবের তৈরি মাখন। ঝাড়খণ্ডের শিল্পীর হাতে বোনা তসর সিল্কের খণ্ড। উত্তরাখণ্ডের চাল। মহারাষ্ট্রের গুড়।

৫০০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে সিইসিকে ফয়জুল করিমের লিগ্যাল নোটিশ

৫০০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়ালকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেন মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করিম।

বৃহস্পতিবার তার পক্ষে সিইসিকে নোটিশটি পাঠান আইনজীবী মোহাম্মদ আব্দুল বাসেত।

নোটিশে বলা হয়, ভোট কারচুপিতে বাধা দেয়ার কারণে ফয়জুল করিমকে হত্যার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে হামলার বিষয়ে আপনার (সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়াল) বক্তব্য দায়িত্বজ্ঞানহীন। এর ফলে ফয়জুল করিমের মর্যাদা ও সুনামের অবর্ণনীয় ক্ষতি হয়েছে। তার আনুমানিক ক্ষতির পরিমাণ ৫০০ কোটি টাকা। সাত দিনের মধ্যে বক্তব্য প্রত্যাহার করে ক্ষমা প্রার্থনা না করলে ক্ষতিপূরণ বাবদ ৫০০ কোটি টাকা প্রদান করে আপনি পদত্যাগ করবেন। অন্যথায় দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী উপযুক্ত আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচন চলাকালে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মেয়র প্রার্থী মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করিমের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেছিলেন, ‘তিনি কি ইন্তেকাল করেছেন। আমরা দেখেছি- না? উনি কতটা রক্তাক্ত হয়েছেন। উনার রক্তক্ষরণটা দেখিনি। যতটা শুনেছি, উনাকে কেউ পেছন থেকে ঘুষি মেরেছে।’

ভারতের মণিপুরে হিন্দু-খ্রিস্টান দাঙ্গা থামেনি ৫০ দিনেও

ভারতের মণিপুর জ্বলছে ৫০ দিন ধরে। তার সাথেই জ্বলছে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের এই রাজ্যটির শত শত বছরের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য।

জ্বলে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে একটা স্বপ্ন, যেখানে মেইতেই, কুকি আর নাগা সম্প্রদায়ের মানুষরা পুরনো দ্বন্দ্ব মুছে ফেলে একসাথে থাকতে পারত।

পারস্পরিক বিশ্বাস ঠেকেছে একদম তলানিতে, বেড়েছে হতাশা।

তারই ফল হল মণিপুরে জাতিগত সহিংসতা শুরু হওয়ার দেড় মাসেরও বেশি সময় হয়ে গেছে, কিন্তু পরিস্থিতি এখনো উত্তেজনাপূর্ণ।

মেইতেই ও কুকি সম্প্রদায়ের মধ্যে চলমান এই সহিংসতায় এখন পর্যন্ত ১০০ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং ৩৯০ জন আহত হয়েছেন।

তবুও সহিংসতা থামছে না, বাঁধ ভাঙ্গছে স্থানীয় মানুষের ধৈর্যের।

‘সরকারের সাথে গৃহযুদ্ধ’
মণিপুরের মেইতেই সম্প্রদায় দীর্ঘদিন ধরেই তফসিলি উপজাতি হিসাবে স্বীকৃতি পাওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে।

আর এই দাবিটাই কুকি সম্প্রদায়ের সাথে তাদের চলমান বিবাদের মূল উৎস।

মে মাসের ৩ থেকে ৬ তারিখ পর্যন্ত পুরো রাজ্যে ভয়াবহ সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছিল, মেইতেই আর কুকি সম্প্রদায়ের মানুষ একে অপরকে টার্গেট করেছিল।

রাজধানী ইম্ফল থেকে ঘণ্টা দুয়েক দূরের পথ কুকি-অধ্যুষিত চুড়াচাঁদপুর জেলা। সেখানে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে যে সংঘর্ষ চলছিল সেই সময়ে, তখন সেখানেই ছিলেন ২৩ বছর বয়সী অ্যালেক্স জামকোথাং।

হঠাৎই ওপরের একটি ভবন থেকে একটি গুলি এসে তার বুক চিরে চলে যায়। সাথে সাথে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, কিন্তু ততক্ষণে তার মৃত্যু হয়েছে।

তখন থেকে অ্যালেক্স জামকোথাংয়ের মা ঘুমোতে পারছেন না, মাঝে মাঝেই কেঁদে উঠছেন।

অ্যালেক্সের বাবা সেনাবাহিনীতে ছিলেন এবং ভাই এখনো ভারত-তিব্বত সীমা পুলিশে কর্মরত।

বাড়ির ছেলের শেষকৃত্য এখনো করেননি জামকোথাং পরিবার।

অ্যালেক্সের ভাই বলছিলেন, ‘এখানে আমাদের জীবন বিপন্ন। কখন কি হবে, কে মরবে, কেউ জানে না। কেন্দ্রীয় সরকার যদি আদিবাসীদের জন্য সুযোগ-সুবিধা না দেয়, তাহলে যেমন আমরা মানব না, আবার মেইতেইরাও রাজি হবে না। এখন যা চলছে, তা সরকারের সাথে গৃহযুদ্ধ। সরকার আমাদের দাবি না মানলে মর্গ থেকে ভাইয়ের লাশ বের করব না আমরা।’

বিভাজন রেখাটা খুব স্পষ্ট
মণিপুর এখন আসলে দু’টুকরো হয়ে গেছে, যার একটা অংশে আছেন মেইতেই সম্প্রদায়ের মানুষ, অন্য অংশে রয়েছেন কুকিরা।

এই সহিংসতা এক, দুই বা চার দিনের নয়, টানা কয়েক সপ্তাহ ধরে চলছে। পরিবার ধ্বংস হয়েছে, বাড়িঘর জ্বলে পুড়ে গেছে, উজাড় হয়ে গেছে গ্রাম-গঞ্জ।

যে ধরনের ফাটল দেখা যাচ্ছে মণিপুরী সমাজে, তা দীর্ঘমেয়াদের জন্যই থেকে যাবে বলেই মনে হচ্ছে।

স্বাধীনতার পর থেকে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী কুকি সম্প্রদায় তফসিলি উপজাতির মর্যাদা পেয়েছে, অন্যদিকে মেইতেইরা হিন্দু ধর্মাবলম্বী। তাদের একটা অংশ যেমন সংরক্ষণের সুযোগ-সুবিধা পাননি, তেমনই আরেকটি অংশ আবার তফসিলি জাতিভুক্ত হয়েছেন কেউ আবার অন্যান্য পিছিয়েপড়া শ্রেণিতে নাম তুলেছেন।

মেইতেই সম্প্রদায়ের মানুষ কুকিদের এলাকায় জমি কিনতে পারেন না, তাই তারা উপজাতির মর্যাদা চাইছেন।

স্পষ্টতই, সমস্যাটা জমির অধিকারের।

২৮ লাখ জনসংখ্যার অধিকাংশই মেইতেই, যারা উপত্যকা অঞ্চলে বাস করেন। আর কুকি সম্প্রদায়ের আদি বাসস্থান ছিল চারটি পার্বত্য জেলায়।

আবার মেইতেদের মধ্যে কিছু মুসলমানও আছেন আর রয়েছেন নাগা সম্প্রদায়ের মানুষ, যাদের ওপরে অবশ্য এই চলমান সহিংসতার আঁচ লাগেনি।

ত্রাণ শিবিরে ৫০ হাজার মানুষ
মণিপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক প্রিয়রঞ্জন সিং বলেন, তাদের রাজ্যে এই ধরনের সহিংসতার ইতিহাস নেই।

তিনি বলেন, ‘ইতিহাস হলো মেইতেইরাই নাগা ও কুকি সম্প্রদায়কে রাজার প্রশাসনিক কাজে জায়গা করে দিয়েছিল। এখানকার মানুষের হিন্দু হওয়ার ইতিহাসটাও আলাদা।

‘মণিপুরের মানুষের মধ্যে কখনোই ধর্মীয় উগ্রতা ছিল না। তবে উনবিংশ শতকে যখন এখানে রাজার শাসন ছিল, সেইসময়ে হিন্দুধর্ম চাপিয়ে দেয়া হয়েছিল। কিন্তু সেটাও খুব বেশিদিন স্থায়ী হয়নি,’ বলেন তিনি।

কিন্তু বাস্তবতা হলো, সাম্প্রতিক এই সহিংসতায় দুই ধর্মাবলম্বীদেরই মৃত্যু আর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

এখনো ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ ঘর ছেড়ে পালিয়ে ত্রাণ শিবিরগুলোতে আশ্রয় নিয়েছেন। তাদের মধ্যেও কুকি আর মেইতেই- দুই সম্প্রদায়ের মানুষই আছেন।

রাজধানী ইম্ফলের স্টেডিয়ামের পাশে একটি যুব হোস্টেল রয়েছে, যা এখন ত্রাণশিবিরে রূপান্তরিত হয়েছে।

এই শিবিরে ৪০ জন এমন নারী আছেন, যারা সহিংসতা শুরু হওয়ার সময় গর্ভবতী ছিলেন।

গত এক মাসে এখানে চারটি শিশুর জন্ম হয়েছে এবং এই মায়েরা কখনো স্বপ্নেও ভাবেননি যে ‘কনফ্লিক্ট চিলড্রেন’ নামে একটি ত্রাণশিবিরে জন্ম হবে তাদের সন্তানদের।

এখানেই আমার সাথে কথা হয়েছিল ২৭ বছর বয়সী মেরিনা সোরামের, যিনি শিবিরেই কন্যাশিশুর জন্ম দিয়েছেন। তার স্বামীর কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছেন তিনি।

মেরিনা তার মেয়ের নাম রেখেছেন ‘জিত’।

কাংপোকপির বাসিন্দা মেরিনা সোরাম বলছিলেন, ‘গ্রামে যখন হামলা শুরু হলো, তখন আমরা রাতের খাবার খেতে শুরু করতে যাচ্ছিলাম। হামলা হতেই বাড়ি থেকে বেরিয়ে নদীর দিকে ছুটে যাই। সেখানে দেখি অনেকগুলো শিশু নদীর প্রবল স্রোতের সাথে লড়াই করছে। পরের দিন আমরা তাদের মৃতদেহ খুঁজে পাই।’

সাবেক মেইতেই হিন্দু রাজপরিবার
গত কয়েক বছর ধরেই রাজ্যের রাজনীতিতে সাবেক মেইতেই হিন্দু রাজপরিবারের সদস্যদের জনপ্রিয়তা বাড়ছে।

সাবেক রাজপরিবারের বর্তমান কর্ণধার, মহারাজা লিশেম্বা সানজাওবা বর্তমানে বিজেপির রাজ্যসভার সংসদ সদস্য।

অনেক চেষ্টা করেও বিবিসি তাকে সাক্ষাতকারের জন্য রাজি করাতে পারেনি।

তবে তিনি একটি বিবৃতি জারি করে বলেছিলেন যে, ‘সহিংসতা অত্যন্ত নিন্দনীয় এবং আলোচনাই প্রতিটি সমস্যার একমাত্র সমাধান।’

মণিপুরের ইতিহাসে এই প্রথম ধর্মীয় স্থানগুলো জাতিগত সহিংসতার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।

ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) রাজ্য সভাপতি শারদা দেবীও মেনে নিচ্ছেন যে মেইতেই ও কুকি সম্প্রদায়ের মধ্যে ব্যাপক সহিংসতায় চার্চ পুড়েছে, মন্দির ভাঙ্গা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘চার্চ আর মন্দির দুই-ই পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। কুকি সম্প্রদায়ের প্রার্থনা করার স্থল গির্জাঘর এবং মেইতেই সম্প্রদায়ের মানুষ তাদের বাড়িতে যে উপাসনাস্থল বানায়, উভয়েরই ক্ষতি করা হয়েছে। এটা আমাদের সকলের জন্যই দুঃখের বিষয়।’

বিবিসির হাতে থাকা সরকারি তথ্য অনুসারে, জুনের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত রাজ্যে ২৫০টিরও বেশি চার্চ এবং প্রায় ২০০০ কুকি সম্প্রদায়ের ঘরবাড়িতে হামলা হয়েছে।

‘সরকারের ওপরে আস্থা হারিয়ে ফেলেছি’
চুড়াচাঁদপুরে আমরা কুকি খ্রিস্টান লিডারস ফেলোশিপের প্রধান যাজক হাওকিপ থংখোসের সাথে দেখা করেছিলাম।

তিনি রাজ্যের গির্জাগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছিলেন।

হাওকিপ থংখোস বলেছিলেন, ‘কুকি সম্প্রদায় গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। গির্জাঘর, মানুষ এবং তাদের সম্পত্তিতে হামলাকারী জনতাকে থামায়নি সরকার, তাই এই সরকারের ওপরে আমরা আস্থা হারিয়ে ফেলেছি। খুবই কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যেতে হচ্ছে আমাদের।’

‘এটা জাতিগত সহিংসতা তো বটেই, একই সাথে ভারতীয় হিন্দুদের খুশি করার জন্য গির্জার ওপরে এই হামলাগুলো চালানো হয়েছে,’ বলেন তিনি।

ইম্ফলের গির্জাগুলোর ছবি তোলা বা সেগুলোর সামনে দাঁড়িয়ে কাজ করা সংবাদমাধ্যমকর্মীদের কাছে সবচেয়ে বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে।

স্থানীয় লোকেরা এসে বিভিন্ন ধরনের প্রশ্ন করতে থাকে সংবাদকর্মীদের।

যদি ভাঙ্গা গির্জা বা ধ্বংস হয়ে যাওয়া মন্দিরের ছবি তোলা হয়, তাহলে স্থানীয়রা বিরক্তি প্রকাশ করে।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১০০টি মন্দির আর হাজার দুয়েক মেইতেই বাড়িতে হামলা হয়েছে।

মেইতেই সম্প্রদায়ের একটি গোষ্ঠী ‘কোকোমি’র মুখপাত্র কে ওথাবে জোর দিয়ে বলেন, ‘মণিপুরের কোনো সমস্যাই ধর্মীয় রূপ নেয় না, এবারেও বিষয়টি আরো বড় হয়ে ওঠার আগেই আটকানো গেছে।’

তার মতে, ‘২০০টি চার্চ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কিন্তু আপনার জানা উচিত যে আরো ৪০০টি চার্চ এখনো অক্ষত রয়েছে। ধর্মীয় সহিংসতা হলে সেগুলো কি অক্ষত থাকত?’

‘কিন্তু পাহাড়ি এলাকায় একটাও মন্দির পাবেন না,’ বলেন তিনি।

এই সহিংসতার জন্য প্রতিবেশী মিয়ানমারের চিন প্রদেশ থেকে পালিয়ে আসা কুকি উগ্রবাদীদেরও দায়ী করা হচ্ছে, যাদের কাছে রয়েছে প্রচুর আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র।

অধিকারের লড়াই ধর্মীয় সহিংসতার রূপ নিয়েছে
কুকি স্টুডেন্টস অর্গানাইজেশনের হোম সেক্রেটারি মাং খনসাইয়ের ক্ষোভ যে, ‘কেন্দ্র বা রাজ্য সরকার, কেউই তাদের দাবিগুলো নিয়ে মাথা ঘামায়নি।’

তিনি বলেন, ‘সবাই তো কোথাও না কোথাও সংখ্যালঘু। আজ শুধুমাত্র মণিপুরে থাকার কারণে আপনি সংখ্যাগরিষ্ঠ হলে, আপনি কি শুধু মণিপুরেই সীমাবদ্ধ থাকবেন? আরো অনেক জায়গা আছে যেখানে তারাও আমাদের মতো একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে পারে।’

এই সহিংসতায় ধর্মীয় স্থানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে কুকি সম্প্রদায় বা তিনি অনুতপ্ত কিনা জানতে চাইলে মাং খনসাই বলেন, ‘আমাদের লড়াইটা আসলে কিসের জন্য, সেটা ভেবে আমি নিজেও মাঝে মাঝে বিভ্রান্ত হয়ে পড়ি। এই সহিংসতা শুরু হয়েছিল একটা অধিকারের আন্দোলন দিয়ে, কিন্তু তারপরে সেটা ধর্মীয় সহিংসতার রূপ নিয়ে নেয়।’

‘এখন কেন্দ্রীয় সরকারকে এর অবসান ঘটাতে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে, তা না হলে পরিস্থিতি আরো খারাপ হবে,’ বলেন তিনি।

পরিস্থিতি এখন এমনই যে রাজধানী ইম্ফল থেকে পাহাড়ী কুকি অধ্যুষিত এলাকায় যেতে প্রশাসনের নয়, কুকি রক্ষীদের কাছ থেকে অনুমতি নিতে হবে।

দিনের বেলা নারীরা সীমান্ত পাহারা দেয় এবং রাতে পুরুষরা।

দুই সম্প্রদায়ের গ্রামের মধ্যে পারস্পরিক আক্রমণও চলছে।

একটি কুকি গ্রামের বাসিন্দারা আরপিজি থেকে ছোঁড়া গ্রেনেড এবং গোলাবারুদ আমাদের দেখাচ্ছিলেন।

অনেক গ্রামের রক্ষীদের কাছে ওয়াকিটকি আছে, যার মাধ্যমে তারা একে অপরের সাথে কথা বলে।

কয়েকদিন আগে পর্যন্ত তাদের কাছে লাইসেন্সকৃত বন্দুকও ছিল, কিন্তু এখন ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী চারদিকে ঘাঁটি তৈরি করেছে এবং তারা গ্রামবাসীদের অস্ত্র ব্যবহার না করার জন্য কঠোরভাবে নির্দেশ দিয়েছে।

এই প্রথম ধর্মীয় সহিংসতা
আমরা রাজধানী ইম্ফলের বাইরে একটি গোপন ডেরায় দেখা করেছিলাম বিচ্ছিন্নতাবাদী উগ্রবাদী গোষ্ঠী ইউনাইটেড ন্যাশনাল লিবারেশন ফ্রন্ট বা ইউএনএলএফের সাবেক চেয়ারম্যান প্রিন্স মেগানের সাথে।

তিনি কয়েক দশক ধরে আন্ডারগ্রাউন্ড ছিলেন।

তিনি বলেন, ‘আমি মর্মাহত, দুঃখিত। অতীতে কখনো এরকম ঘটনা হয়নি। আমি গির্জা বা ধর্মীয় স্থান পোড়ানো কখনোই সমর্থন করি না। পক্ষপাতমূলক দলীয় রাজনীতির ফলেই মেইতেই ও কুকি সম্প্রদায়ের সাধারণ মানুষকে এই পরিস্থিতিতে পড়তে হলো।’

এত দীর্ঘ সময়ের সহিংসতার পরের দৃশ্যপট দেখে ভয়ই হয়।

যারা শত শত বছর ধরে একসাথে বসবাস করে আসছেন তাদের মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাসের ছিটেফোঁটাও আর অবশিষ্ট নেই।

মণিপুর কংগ্রেস পার্টির কার্যনির্বাহী সভাপতি দেবব্রত সিং পরিস্থিতির সারসংক্ষেপ করে বলেন, ‘এখানে কখনো ধর্মের নামে কোনো দাঙ্গা হয়নি। এই প্রথমবার সেটা দেখলাম আমরা। কোনো মহল থেকে বোধহয় এই সহিংসতাকে ধর্মীয় দাঙ্গার রূপ দেয়ার চেষ্টা হয়েছে।’

সূত্র : বিবিসি