Home Blog Page 608

আ’লীগকে ভোট চুরি করে জিততে হয় না : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জনগণের আস্থা থাকায় আওয়ামী লীগের কোনো নির্বাচনে জেতার জন্য ভোট চুরির প্রয়োজন নেই। বরং আওয়ামী লীগ জনগণের জন্য কাজ করে, দেশবাসীর আস্থা ও বিশ্বাস অর্জনের মাধ্যমে জনগণের ভোট পায়।’

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন যে যখনই তার দল কোনো নির্বাচনে হেরেছে, তখনই তা ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তার সরকারি বাসভবন গণভবনে বৃহস্পতিবার আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় সূচনা বক্তব্যে এ কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘ভোট ডাকাতির মাধ্যমে (ষড়যন্ত্রকারীরা) আওয়ামী লীগকে তার প্রকৃত ভোট বা আসন পেতে বঞ্চিত করেছে অথবা আওয়ামী লীগকে পরাজিত করার চেষ্টা করেছে।’

তিনি বলেন, দেশের মানুষ যখনই অবাধে ভোট দেয়ার সুযোগ পেয়েছে, তখনই তারা আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়েছে।

এ প্রসঙ্গে তিনি ২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের কথা উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটকে পরাজিত করে জয়লাভ করেছিল।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘তারা মাত্র ২৯টি আসন পেয়েছিল এবং একটি উপ-নির্বাচন থেকে আরেকটি আসন পেয়েছিল অর্থাৎ মোট ৩০টি আসন। সবাইকে মনে রাখতে হবে যে জনগণ সন্ত্রাসী দল বিএনপিকে ভোট দেয়নি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, হতাশাজনক ফলাফলের কারণে বিএনপি ২০১৪ সালের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেনি।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার দীর্ঘ সংগ্রামের মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করেছে।

সূত্র : ইউএনবি

‘যুক্তরাষ্ট্র স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করবে না’

যুক্তরাষ্ট্র তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় ও ক্ষেত্রসমূহে যুক্ত হতে ও পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করবে না বলে জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের মুখ্য উপমুখপাত্র বেদান্ত প্যাটেল।

গতকাল বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতরের নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্যাটেল এ কথা বলেন।

প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রশ্ন করা হয়, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এখন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে আছেন। তার যুক্তরাষ্ট্র সফরের আগে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাক সুলিভানের বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে অজিত দোভাল বলেছিলেন, প্রতিবেশীদের ব্যাপারে অন্য দেশের এমন কোনো উদ্যোগ নেয়া উচিত হবে না, যা ভারতের জাতীয় স্বার্থে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

শীর্ষস্থানীয় ভারতীয় দৈনিক তাকে উদ্ধৃত করে বলেছে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলে ভারসাম্য ও স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত করে, এমন কিছু করা যুক্তরাষ্ট্রের উচিত নয়। উদাহরণস্বরূপ, বাংলাদেশে খালেদা জিয়ার শাসনামল, তখন ১০ ট্রাক অস্ত্র ভারতের আসামের সন্ত্রাসী সংগঠন উলফার কাছে পাচার হওয়ার পথে ছিল। এটা ছিল নিরাপত্তা নিয়ে মুখ্য বিষয়। এ ব্যাপারে প্যাটেলের মন্তব্য জানতে চাওয়া হয়।

জবাবে প্যাটেল বলেন, এ বিষয়ে তিনি দুটি কথা বলবেন। প্রথমত, যুক্তরাষ্ট্র তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় ও ক্ষেত্রসমূহে যুক্ত হতে এবং পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করবে না। তবে তিনি এ কথাও বলেন যে বিষয়টি যেহেতু ওই অঞ্চলের সাথে সম্পর্কিত, সেক্ষেত্রে ভারত যুক্তরাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। একটি উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক এলাকা বজায় রাখতে ভারতীয় অংশীদারদের সাথে যুক্তরাষ্ট্র সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করে।

এ প্রসঙ্গে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখ্য উপমুখপাত্র আরো বলেন, ‘আমরা সম্মিলিতভাবে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করি এবং উন্মুক্ত, সমৃদ্ধ, নিরাপদ, স্থিতিশীল ও অভিঘাত সহনশীল বিশ্ব ও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল (দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াসহ) প্রতিষ্ঠায় কার্যক্রম অব্যাহত রাখার জন্য আমাদের ভারতীয় অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করতে চাই আমরা।’

প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রশ্ন করা হয়, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মানবাধিকার লঙ্ঘন বিষয়ে ৭৫ কংগ্রেস সদস্য প্রেসিডেন্ট বাইডেনের কাছে একটি চিঠি লিখেছেন। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী মোদির বিষয়ে এই মার্কিন আইনপ্রণেতারা চিঠি লিখেছেন। তারা মানবাধিকার লঙ্ঘন বিষয়ে লিখেছেন। তিনি (মোদি) মুসলমানদের সাথে যে আচরণ করেন, বিশেষ করে সাংবাদিকদের সাথে যে আচরণ করেন, সে বিষয়ে তারা লিখেছেন। কিন্তু মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরকে এ নিয়ে কখনো নিন্দা জানাতে তিনি (প্রশ্নকারী) শোনেননি।

জবাবে প্যাটেল বলেন, তারা বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশের মানবাধিকার নিয়ে কথা বলে আসছেন। তারা বিশ্বের অন্যান্য দেশের সাথেও এ নিয়ে কথা বলেন। তারা নিয়মিতভাবে ধর্মীয় স্বাধীনতা, বিশ্বাসের স্বাধীনতাসহ যুক্তরাষ্ট্রের মানবাধিকার-সংক্রান্ত উদ্বেগের বিষয়ে উচ্চপর্যায়ে কথা বলে থাকেন। তারা যুক্তরাষ্ট্রের স্বাভাবিক অংশীদার হিসেবে একটি সুরক্ষিত, সমৃদ্ধ, গণতান্ত্রিক ও বহুত্ববাদী ভারতের কথা ভাবনায় রাখেন। ভারতীয় অংশীদারদের দৃষ্টিভঙ্গিও এমনটাই বলে মনে করে যুক্তরাষ্ট্র।

মোসাদের সাথে ৩ দফা বৈঠক করেছেন নুর : দাবি ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রদূতের

ইসরাইলের গুপ্তচর সংস্থা মোসাদের স‌াথে গণঅধিকার পরিষদ নেতা নুরুল হক নুর তিন দেশে তিন দফা বৈঠক করেছেন বলে দাবি করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত ইউসুফ এস ওয়াই রামাদান।

বৃহস্প‌তিবার (২২ জুন) ঢাকার ফিলিস্তিনি দূতাবাসে সাংবা‌দিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ দা‌বি করেন তিনি।

রাষ্ট্রদূত জানান, নুরের সাথে কাতার, দুবাই ও ভারতে তিন দফা বৈঠক হয়েছে মোসাদের। আমাদের গোয়েন্দা সংস্থা থে‌কে আমরা বৈঠ‌কের ছ‌বি পে‌য়ে‌ছি। কাতার বিশ্বকাপের সময় (২০২২ সালের নভেম্বর-ডিসেম্বর) বিষয়‌টি আমাদের নজরে আসে।

রাষ্ট্রদূত ইউসুফ রামাদান বলেন, মোসাদের সাথে তার (নুর) বৈঠকের বিষয়ে তি‌নি য‌দি অস্বীকার করে থাকেন, তা ফিলিস্তিনের জন্য ভালো। ত‌বে বিষয়‌টি সত্য হ‌লে এটি বাংলা‌দে‌শের নিরাপত্তার জন্য হুম‌কি।

রাষ্ট্রদূত বলেন, ইসরাইল থেকে টাকা নেয়া মানুষ কখনো নেতা হতে পারে না। এ ধরনের নেতা দে‌শের জন্য কল্যাণ বয়ে আনতে পারে না।

সেন্টমার্টিন দ্বীপ বিক্রি করে ক্ষমতায় যাবো না : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সেন্ট মার্টিন দ্বীপ কাউকে লিজ দিলে ক্ষমতায় থাকতে কোনো অসুবিধা নেই। কিন্তু সেটা আমার দ্বারা হবে না। এ দেশের কোনো সম্পদ কারো কাছে বিক্রি করে আমি ক্ষমতায় আসতে চাই না।
গতকাল বুধবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। সুইজারল্যান্ড ও কাতার সফর নিয়ে সরকারি বাসভবন গণভবনে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় এসেছিল, কীভাবে? তখন তো গ্যাস বিক্রি করার মুচলেকা দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল। তাহলে এখন তারা দেশ বিক্রি করবে, নাকি সেন্টমার্টিন বিক্রি করার মুচলেকা দিয়ে আসতে চায়? তিনি বলেন, ‘আমি এতটুকু বলতে পারি, আমি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের কন্যা, আমার হাত থেকে এই দেশের কোনো সম্পদ কারো কাছে বিক্রি করে ক্ষমতায় আসতে চাই না। ওই গ্যাস বিক্রির মুচলেকা দিলে আমিও ক্ষমতায় থাকতে পারতাম। আর এখনো যদি আমি বলি, ওই সেন্টমার্টিন দ্বীপ বা আমাদের দেশ কাউকে লিজ দেব, তাহলে আমাদের ক্ষমতায় থাকতে কোনো অসুবিধা নেই। আমি জানি সেটা। কিন্তু আমার দ্বারা সেটি হবে না।’

কাকে লিজ দিলে ক্ষমতায় থাকতে অসুবিধা নেই, সে বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত কিছু বলেননি প্রধানমন্ত্রী। তবে তিনি এও বলেছেন, ‘আমাদের দেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে আমি কাউকে খেলতে দেব না, আমার দেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলার অধিকার কারো নেই। আমার দেশের মাটি ব্যবহার করে কোনো জায়গায় কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাবে, কাউকে অ্যাটাক করবে বা এই ধরনের কাজ আমরা হতে দেব না। আমরা শান্তিতে বিশ্বাস করি, শান্তিপূর্ণ সহযোগিতায় বিশ্বাস করি।’ বাসস জানায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংবিধান অনুযায়ী যথাসময়ে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে পুনর্ব্যক্ত করে বলেছেন, ‘অনির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের কোনো সুযোগ নেই। তাহলে তারা কেন সাংবিধানিক সঙ্কট সৃষ্টির চেষ্টা করছে?’ তিনি আরো বলেন, ‘সবাই এটা জানে (উচ্চ আদালতের রায় এবং সংবিধান সংশোধন)। এটা জানার পরও তারা কেন সাংবিধানিক সঙ্কট তৈরির চেষ্টা করছে? এর উদ্দেশ্যটা কী? এর অর্থ গণতান্ত্রিক ধারাকে ধ্বংস করা।’ শেখ হাসিনা বলেন, কোনো অনির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের কোনো সুযোগ নেই। উচ্চ আদালতের একটি রায় আছে যে- একজন নির্বাচিত সরকার প্রধানের স্থলাভিষিক্ত হবেন অন্য নির্বাচিত সরকারপ্রধান এবং সেই অনুযায়ী সংবিধানও সংশোধন করা হয়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, গত সাড়ে ১৪ বছর ধরে চলমান গণতান্ত্রিক ধারা ও আর্থ-সামাজিক অগ্রগতিকে ধ্বংস করে সাংবিধানিক সঙ্কট সৃষ্টি করাই এদের উদ্দেশ্য। তিনি বলেন, এখন এটা দেশের জনগণের ওপর নির্ভর করছে যে- তারা গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখতে, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণ চায়, নাকি বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে বাংলাদেশ যে পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিল- আবার তা চায়।

বিএনপিসহ আরো কয়েকটি দল রাজপথে নেমেছে- উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন যে, তাদের সমস্যা কী ও তাদের অর্থের উৎস কোথায়? তিনি আরো বলেন, সংবিধান ও নির্বাচনী আইন অনুযায়ী আগামী সাধারণ নির্বাচন যথাসময়েই অনুষ্ঠিত হবে। এ সময় সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সংসদ উপনেতা ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পদক হাছান মাহমুদ, আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী ড. আনিসুল হক এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বেগম মুন্নুজান সুফিয়ান মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলন সঞ্চালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘তারা আমাকে ভোট না দিলে আমি এখানে (ক্ষমতায়) থাকব না, কিন্তু কখনোই ভোট কারচুপি করব না।’ তিনি বলেন, যারা ভোট ডাকাত এবং যারা খুন ও কারচুপির মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছে, তারাই এখন আওয়ামী লীগকে ভোট কারচুপির অপবাদ দিচ্ছে। তিনি বলেন, সরকার নির্বাচন কমিশন আইন প্রণয়ন করেছে এবং সেই আইন অনুযায়ী কমিশন গঠন করেছে। ছবি, স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স ও ইভিএমসহ ভোটার তালিকা তৈরি করেছে ইসি তাই নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই। তিনি বলেন, যারা জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন পছন্দ করে না, তারাই নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। এক প্রশ্নের জবাবে সরকার প্রধান বলেন, তিনি (সবাইকে) বারবার বলেছেন যে নির্বাচন কমিশন যখন ঘোষণা করবে, নির্বাচন সেই নির্ধারিত সময়েই হবে। প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন ঘোষণা দেবে এবং নির্বাচন হবে, জনগণ তাদের ভোট দেবে। তারা যদি আমাকে ভোট দেয়, তবে আমি এখানে থাকব, অন্যথায় নয়।’

ফের রাজশাহী সিটির মেয়র লিটন

রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) নির্বাচনে আবারো মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন আ’লীগ মনোনীত প্রার্থী ও দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। এ নিয়ে টানা দ্বিতীয়বার ও এবার দিয়ে তৃতীয়বারের মতো মেয়র নির্বাচিত হলেন তিনি।

বুধবার (২১ জুন) রাতে রিটার্নিং কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন এ ফলাফল ঘোষণা করেন। এ দিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ইভিএমে ভোটগ্রহণের পর জেলা শিল্পকলা অ্যাকাডেমি মিলনায়তন থেকে ফল ঘোষণা করা হয়।

রাজশাহী সিটিতে মোট ভোটার ৩ লাখ ৫১ হাজার ৯৮২ জন। এদের মধ্যে ১ লাখ ৭১ হাজার ১৬৭ জন পুরুষ ভোটার। নারী ভোটার ১ লাখ ৮০ হাজার ৮০৯ জন। আর ছয়জন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন।

নির্বাচনে মেয়র পদে চারজন, ৩০টি সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে ১১১ জন এবং ১০টি সংরক্ষিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে ৪৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

নগরীর ১৫৫টির মধ্যে সবকটি কেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত ফলাফলে ১ লাখ ৬০ হাজার ২৯০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। আর নির্বাচন বয়কট করা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মুরশিদ আলমের হাতপাখা প্রতীকে পড়েছে ১৩ হাজার ৪৮৩ ভোট। জাকের পার্টির মেয়রপ্রার্থী লতিফ আনোয়ার গোলাপ ফুল প্রতীকে ১১ হাজার ৭১৩ ভোট পেয়েছেন। এছাড়া জাতীয় পার্টির প্রার্থী সাইফুল ইসলাম স্বপন লাঙ্গল প্রতীকে পেয়েছেন ১০ হাজার ২৭২ভোট।

উল্লেখ্য, বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনের পর রাজশাহী সিটিতে ইসলামী আন্দোলনের মেয়র প্রার্থী মুরশিদ আলম (হাতপাখা) নির্বাচন বয়কটের ঘোষণা দেন।

এর আগে ২০০৮ সালের নির্বাচনে প্রথমবারের মতো রাসিকের মেয়র নির্বাচিত হন আ’লীগের প্রার্থী খায়রুজ্জামান লিটন। এরপর ২০১৩ সালে রাসিকের মেয়র নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের কাছে পরাজিত হন লিটন। তবে ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী বুলবুলকে পরাজিত করে আবারো লিটন মেয়র নির্বাচিত হন।

তবে এবার রাসিক নির্বাচনে এমনিতেই কোনো শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল না। তার ওপর মাঠের প্রধান বিরোধী দল বিএনপিসহ বেশ কিছু রাজনৈতিক দল অংশ নেয়নি। এ অবস্থায় লিটন আবারো মেয়র নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন, আগে থেকে এমনটিই ধারণা করা হচ্ছিল।

পাকিস্তানকে হারিয়ে ইমার্জিং এশিয়া কাপের ফাইনালে বাংলাদেশ

ইমার্জিং এশিয়া কাপের ফাইনালে বাংলাদেশ নারী দল। সেমিফাইনালে পাকিস্তানের বিপক্ষে রোমাঞ্চকর এক জয় পেয়েছে টাইগ্রিসরা। বৃষ্টি বিঘ্নিত ম্যাচে বাংলাদেশের জয় ৬ রানে।

বৃষ্টিতে আগেরদিন খেলা মাঠে গড়ায়নি। আজ মঙ্গলবার রিজার্ভ ডেতেও যথা সময়ে খেলা শুরু করা যায়নি। আজও ছিল খেলা মাঠে না গড়ানোর শঙ্কা। শেষ পর্যন্ত খেলা মাঠে গড়ায়, তবে তা নেমে আসে ৯ ওভারে।

হংকংয়ের মিশন রোড গ্রাউন্ডে আগে ব্যাট করে যেখানে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৭ উইকেটে ৫৯ রান। ইনিংসের শুরুটা একেবারেই ভালো ছিল না টাইগ্রিসদের, মোটে ১৬ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে বসে তারা। তাদের কেউই দুই অঙ্ক ছুঁতে পারেননি।

সাথী রানি, দিলারা আক্তার ও স্বর্না আক্তার আউট হন সমান ৪ রান করেন। সোবহানা মোস্তারি ও অধিনায়ক লতা মন্ডল ফিরেছেন রানের খাতা খোলার আগেই। আর ১ রানেই থামতে হয় মুর্শিদা খাতুনকে।

এরপর দলের হাল ধরেন নাহিদা আক্তার ও রাবেয়া খান। দুজনে মিলে ৭ম উইকেট জুটিতে যোগ করেন ৩৭ রান। ১৬ বলে সর্বোচ্চ ২১ রান আসে নাহিদার ব্যাটে। রাবেয়া অপরাজিত ছিলেন ১০ রানে। সালমা খাতুনকে নিয়ে বাকি রান যোগ করেন রাবেয়া। ফাতিমা সানা ২ ওভারে ১০ রান খরচায় নেন ৩ উইকেট।

রান তাড়া করতে নেমে দারুণ শুরু পায় পাকিস্তানের মেয়েরা। প্রথম ৪ ওভারে বিনা উইকেটে আসে ২৬ রান। কিন্তু এরপরই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়া বোলিং নাহিদা আক্তার ও রাবেয়া খানের। দুই ওপেনার শাওয়াল জুলফিকার (১১) ও এইমান ফাতিমার (১৮) সাথে সাদাফ শামাসও (৮) ফিরে যান।

৩৯ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলা পাকিস্তানের শেষ ২ ওভারে প্রয়োজন পড়ে ২০ রান। মারুফা আক্তারের করা ৮ম ওভারে আসে ৭ রান। এই সময়ে ফেরান ০ রানে ফেরান আরেক পাকিস্তানি ব্যাটাট নাতালিয়া পারভেজকে (০)।

ফলে শেষ ওভারে পাকিস্তানের সমীকরণ দাঁড়ায় ১৩ রান, হাতে ৬ উইকেট। কিন্তু এই সমীকরণ মেলাতে দেননি বাঁহাতি স্পিনার সানজিদা আক্তার মেঘলা। দারুণ বোলিংয়ে আটকে দেন পাক কন্যাদের। খরচ করেন মোটে ৬ রান। ফলে ৬ রানের জয় পায় বাংলাদেশ ইমার্জিং নারী দল।

পাকিস্তান ইনিংসের সর্বোচ্চ রান করেন ওপেনার ফাতিমা। ১৫ বলে ১৮ রান করেন তিনি। বাংলাদেশের হয়ে দুটি উইকেট শিকার করেন রাবেয়া খান, একটি করে উইকেট নেন পেসার মারুফা আক্তার ও নাহিদা আক্তার।

প্রতারণার মামলায় ফেঁসে যাচ্ছেন আমিশা প্যাটেল!

‘গদর ২’ মুক্তির আগে নতুন বিতর্কে আমিশা প্যাটেল। তিন কোটি রুপির চেক বাউন্সের মামলায় শনিবার আদালতে আত্মসমর্পণ করলেন বলি নায়িকা। তার বিরুদ্ধে আড়াই কোটি রুপি জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে। জালিয়াতি ও চেক বাউন্সের মামলায় (২০১৮) আমিশা প্যাটেল ও তার বিজনেস পার্টনার ক্রুনালের বিরুদ্ধে গত এপ্রিল মাসেই গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিল রাঁচির সিভিল কোর্ট, সেইমতো এদিন আত্মসমর্পণ অভিনেত্রী।

ওড়না দিয়ে মুখ ঢেকে এদিন আদালত চত্বরে পৌঁছান আমিশা। আদালতে আত্মসমপর্ণের পর অভিনেত্রীর শর্তসাপেক্ষ জামিন মঞ্জুর করে আদালত, জানিয়েছে সংবাদ সংস্থা এএনআই। আগামী ২১ জুন মামলার শুনানিতে আমিশাকে সশরীরে কোর্টে হাজির থাকার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। আপতত রুপোলি পর্দায় কামব্যাকের অপেক্ষায় আমিশা, তার মাঝেই কোর্টের চক্কর কাটছেন অভিনেত্রী।

এদিন গোলাপি রঙের কামিজ এবং প্রিন্টেট সালোয়ারে দেখা মিলল আমিশার, প্রচণ্ড গরমেও গায়ে জড়ানো নীল রঙা চাদর আর গোটা মুখ ওড়না দিয়ে ঢেকে রেখেছিলেন নায়িকা।

চেক বাউন্স ও প্রতারণার মামলা
আমিশা ও সহকর্মী কুণালের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন প্রযোজক অজয় কুমার সিং। তার অভিযোগ ২০১৮ সালে আমিশার সাথে আলাপ তার, তখন একটি ছবি তৈরির ব্যপারে আলোচনা হয় তাদের। অভিনেত্রীকে ২.৫ কোটি রুপিও দেন প্রযোজক। তবে সময় পার হলেও ওই প্রোজেক্টের কোনও কাজ এগোয়নি। এরপর টাকা ফেরত চান অজয় কুমার সিং। তখন আড়াই কোটির বদলে অভিনেত্রী প্রযোজককে তিন কোটির একটি চেক লিখে দেন, যদিও সেই চেক বাউন্স করে। এরপরই পুলিশের দ্বারস্থ হন প্রযোজক। আমিশা ও ক্রুনালের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪২০ এবং ১২০ ধারায় মামলা দায়ের করেন। এর আগে ২০২১ সালে আমিশা প্যাটেল সংবাদ শিরোনামে এসেছিলেন ৩২.২৫ লক্ষ রুপর একটি চেক বাউন্সের মামলায়।

গত ৯ জুন ৪৭-এ পা দিয়েছেন ‘কহো না প্যায়ার হ্যায়’ খ্যাত নায়িকা। আইনি ঝামেলা ভুলে পুরোদমে জন্মদিনের জশন-এ মেতে থাকতে দেখা গিয়েছে আমিশাকে।

আগামী ১১ অগস্ট মুক্তি পেতে চলেছে ‘গদর ২’। এই ছবির সাথে প্রায় পাঁচ বছর পর রুপালি পর্দায় ফিরছেন আমিশা। ‘গদর’ ছবির এই সিকুয়েলে ফের একসাথে দেখা যাবে সানি দেওল ও আমিশাকে। শাকিনার অবতারে আমিশাকে দেখতে মুখিয়ে রয়েছে তার অনুরাগীরা।
সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস

যে কারণে ভারতীয় হিন্দুত্ববাদীরা ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’টি পালন করছে?

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের ‘প্রতিষ্ঠা দিবস’ হিসেবে ২০ জুন তারিখটিকে তুলে ধরা হচ্ছে। ১৯৪৭ সালের এই দিনে বঙ্গীয় প্রাদেশিক আইনসভায় এক ভোটাভুটির মাধ্যমে অবিভক্ত বাংলা প্রদেশকে ভাগ করার সিদ্ধান্তে সিলমোহর পড়েছিল।

ইতিহাসবিদদের একটা অংশ মনে করেন ২০ জুন বাংলার মানুষের কাছে গৌরবের দিন নয়, এটা ‘লজ্জার দিন’।

আবার আরেকটি অংশ, যারা হিন্দু পুণরুত্থানবাদী আরএসএসের ঘনিষ্ঠ, তারা মনে করেন ৪৬-এর কলকাতার দাঙ্গা বা নোয়াখালীর দাঙ্গা থেকে পরিত্রাণ পেতেই ‘পশ্চিমবঙ্গ সৃষ্টির’ এবং পশ্চিমবঙ্গের ভারত-ভুক্তির সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তখনকার রাজনীতিবিদরা।

সেই দিনটিকেই পশ্চিমবঙ্গ দিবস হিসেবে পালন করার জন্য কেন্দ্রীয় সরকার দেশের সব রাজ্যকে নির্দেশ দিয়েছে। উদযাপনের ছবিসহ রাষ্ট্রপতির কাছে বিস্তারিত জানাতে বলা হয়েছে ওই নির্দেশে। বিজেপি এবং হিন্দুত্ববাদী নেতানেত্রীরা ব্যাপক হারে পশ্চিমবঙ্গ দিবসের শুভেচ্ছা পোস্ট করছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

কলকাতায় রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধান, গভর্নর সিভি আনন্দ বোস রাজভবনে এই দিনটি উদযাপনের আয়োজন করেছিলেন।

তবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী ২০জুন তারিখে পশ্চিমবঙ্গ প্রতিষ্ঠা দিবস পালনের বিরোধিতা করেছেন।

তার যুক্তি, এই দিনটি উদযাপনের নয়, ১৯৪৭ সালে বেদনাদায়ক পরিস্থিতিতে অবিভক্ত বাংলাকে টুকরো করে পশ্চিমবঙ্গ তৈরি হয়েছিল।

‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ পালনের বিরোধিতা মমতা ব্যানার্জীর
রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসকে পাঠানো এক দীর্ঘ চিঠিতে মিজ ব্যানার্জী লিখেছেন, “আমি হতবাক ও বিস্মিত হয়েছি এটা জেনে যে আপনি ২০ জুন রাজভবনে ‘পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য প্রতিষ্ঠা দিবস’-এর মতো একটা অদ্ভুত দিবস উদযাপন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।“

“অথচ দুপুরেই যখন আপনার সাথে টেলিফোনে কথা হয়েছিল, তখন আপনিও মেনে নিয়েছিলেন যে একতরফাভাবে পশ্চিমবঙ্গের প্রতিষ্ঠা দিবস ঘোষণা করার সিদ্ধান্তটা অনভিপ্রেত ছিল। অনুষ্ঠানটি না করার কথাও বলেছিলেন আপনি,” লিখেছেন মমতা ব্যানার্জী।

ব্যানার্জী এও লিখেছেন যে পশ্চিমবঙ্গ কোনো একটা বিশেষ দিনে প্রতিষ্ঠিত হয়নি, বিশেষ করে ২০ জুন তো নয়ই। স্বাধীনতার পর থেকে কোনও দিন উৎসাহ-উদ্দীপনার সাথে এরকম কোনো দিবস পালন করা হয়নি।

মমতা ব্যানার্জীর কথায় বাংলাভাগ করা হয়েছিল সেই সময়ের একটা ঐতিহাসিক প্রয়োজনে, একইসাথে সেটি ছিল বাংলার মানুষের কাছে এক দুঃখজনক নিয়তি।

বস্তুতঃ, সাম্প্রদায়িক শক্তির উত্থানকে সেই সময়ে প্রতিরোধ করতে না পারার কারণেই দেশভাগ হয়েছিল, মন্তব্য করেছেন মমতা ব্যানার্জী।

‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ পালনের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের যে নির্দেশ এসেছে, সেটির কোনও ঐতিহাসিক ভিত্তি নেই বলেও লিখেছেন মমতা ব্যানার্জী।

কী হয়েছিল ২০ জুন?
১৯৪৭ সালের ২০ জুন বঙ্গীয় প্রাদেশিক আইনসভায় বাংলা ভাগ করা হবে কিনা- সেই সিদ্ধান্তের ওপরে ভোটাভুটি হয়।

মুসলমান সংখ্যাগুরু পূর্ব বঙ্গ অঞ্চলের জনপ্রতিনিধিদের ভোটে বাংলা ভাগ করার বিপক্ষে রায় যায়। ১০৬টি ভোট বাংলা ভাগের বিপক্ষে আর মাত্র ৩৫টি ভোট পড়েছিল বাংলা ভাগ করার পক্ষে।

আর হিন্দু সংখ্যাগুরু পশ্চিমবাংলা অংশের জনপ্রতিনিধিদের ভোটে ৫৮-২১ ভোটে বাংলা ভাগ করার পক্ষে রায় যায়।

ঐতিহাসিক ও হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিহাসের গার্ডিনার অধ্যাপক সুগত বসু বলছেন, প্রাদেশিক আইনসভার বেশিরভাগ সদস্য দেশভাগ না চাইলেও মাউন্টব্যাটেন পরিকল্পনার মাধ্যমে ৩ জুনই ঘোষণা হয়ে গিয়েছিল যে পাঞ্জাব আর বাংলা ভাগ করা হবে।

তার কথায়, ২০ জুনের ভোটাভুটির মাধ্যমে দেশভাগের সিদ্ধান্তে সিলমোহর পড়েছিল মাত্র।

“তাই এটা কোনো গুরুত্বপূর্ণ একটা দিন নয় যে আলাদা করে উদযাপন করতে হবে। এটা গৌরবেরও দিন নয়। এটা আত্মঘাতী বাঙালির লজ্জার দিন,” বলছিলেন অধ্যাপক বসু।

২০ জুন ভোটের পরে সোহরাওয়ার্দীর মন্তব্য
প্রাদেশিক আইনসভা বাংলা ভাগের সিদ্ধান্তে সিলমোহর দেয়ার পরে সেদিনই বাংলার তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী সংবাদমাধ্যমে একটি বিবৃতি দিয়েছিলেন।

সোহরাওয়ার্দী গবেষক আলিমুজ্জামান জানাচ্ছেন, “সেই বিবৃতিতে সোহরাওর্দী সাহেব বলেছিলেন যে আশা-নিরাশার যন্ত্রণার ইতি হলো অবশেষে। স্বাধীন সার্বভৌম বাংলা রাষ্ট্রের আদর্শের পৃষ্ঠে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। বাংলাকে দ্বিধাবিভক্ত করা হবে অচিরেই, মুসলিম বাংলার ক্ষোভের বিশেষ কারণ নেই। “

“ওই বিবৃতিতেই সোহরাওয়ার্দী সাহেব আরো বলেছিলেন যে আমাদের পথ আলাদা হয়ে গেছে। চলুন আমরা পরস্পরের প্রতি বন্ধুত্বের ভাব বজায় রেখেই পৃথক পথে এগিয়ে যাই,” বলেন আলিমুজ্জামান।

‘এইদিনে পশ্চিমবঙ্গ সৃষ্টি হয়েছিল’
আরএসএসের ইতিহাসবিদদের সংগঠন, ভারতীয় ইতিহাস সংকলন সমিতির পশ্চিমবঙ্গ শাখার সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক রবি রঞ্জন সেন বলছেন, “এটাকে আমরা যদি বাংলা ভাগের সিদ্ধান্ত হওয়ার দিন হিসাবে না দেখে যদি বিপরীতভাবে দেখি যে এই দিনে পশ্চিমবঙ্গ সৃষ্টির এবং তার ভারত-ভুক্তির সিদ্ধান্ত হয়েছিল?”

তার কথায়, “সেদিন যদি দেশভাগের সিদ্ধান্ত না নেয়া হত, তাহলে তো পুরো বাংলাটাই ভারত থেকে বেরিয়ে যেত।“

সেন বলছিলেন, “যে ২০ জুন বা দেশভাগকে অন্ধকার সময়কাল বলে বর্ণনা করছেন মুখ্যমন্ত্রী, সেই অন্ধকার সময়টা শুরু হয়েছিল আরো আগে থেকে। ৪০-এর দশকের প্রথম থেকে যে দাঙ্গা পরিস্থিতি এবং হিন্দুদের ওপরে অত্যাচার চলেছিল, ১৬ অগাস্ট ১৯৪৬ সালে যে ডিরেক্ট অ্যাকশন ডে-র পরে দ্যা গ্রেট ক্যালকাটা কিলিংস চলেছিল, বা নোয়াখালির দাঙ্গায় তা চূড়ান্ত রূপ পেয়েছিল। সেই অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতেই মানুষ বাংলা ভাগ মেনে নেয় এবং পশ্চিমবঙ্গের সৃষ্টি হয়।“

হিন্দু মহাসভার নেতা শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীকে আরএসএস এবং হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো পশ্চিমবঙ্গের জনক হিসাবে সম্মান দেখিয়ে থাকে।

“শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী উদ্যোগটা নিয়েছিলেন ঠিকই কিন্তু তিনি একা ছিলেন না। দলমত নির্বিশেষে, পশ্চিমবাংলার বুদ্ধিজীবী সবাই বাংলাভাগকে সমর্থন করেছিলেন। এমনকি কংগ্রেসও সমর্থন করেছিল, কেবলমাত্র শরৎ চন্দ্র বসু ও কিরণ শঙ্কর রায় সোহরাবর্দীর যুক্তবঙ্গ পরিকল্পনার ফাঁদে পা দিয়েছিলেন,” বলছিলেন অধ্যাপক রবি রঞ্জন সেন।

কী ছিল যুক্ত বঙ্গ পরিকল্পনা?
ভারতের স্বাধীনতার বেশ কয়েক মাস আগে বাংলার তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওর্দী, আবুল হাশিমদের মতো বেশ কয়েকজন মুসলিম লিগ নেতা এবং কংগ্রেস নেতা ও সুভাষ চন্দ্র বসুর দাদা শরৎ চন্দ্র বসু ও কিরণ শঙ্কর রায়রা বাংলাকে ভাগ না করে একটি যুক্ত বঙ্গ প্রদেশের পরিকল্পনা করেছিলেন। সেই পরিকল্পনাকে ‘ইউনাইটেড বেঙ্গল প্ল্যান’ বলা হয়।

ওই পরিকল্পনা একটা সময়ে মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী এবং মুহম্মদ আলি জিন্নারও সমর্থন পেয়েছিল।

কলকাতা লাগোয়া সোদপুরের খাদি আশ্রমে বেশ কয়েক দফায় গান্ধী এসে যুক্ত বঙ্গ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেছিলেন।

যুক্তবঙ্গ প্রস্তাবের প্রবল বিরোধিতা হিন্দু মহাসভার
পরিকল্পনাটির ঘোর বিরোধিতা করেছিলেন হিন্দু মহাসভা নেতা শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি এবং কংগ্রেস হাইকমাণ্ডের জওহরলাল নেহরু ও বল্লভভাই প্যাটেল।

হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো পশ্চিমবঙ্গের সৃষ্টিকর্তা বলে যে শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীকে সম্মান জানিয়ে থাকে, দেশভাগ নিয়ে তার যুক্তি ছিল, যদি বাংলাকে ভাগ না করা হয় এবং যদি ‘যুক্তবঙ্গ’ নামে একটি তৃতীয় সার্বভৌম রাষ্ট্র গঠিত হয়, তাহলে সেই যুক্তবঙ্গ একসময়ে পাকিস্তানে চলে যাবে।

অধ্যাপক সুগত বসুর কথায়, “লর্ড মাউন্টব্যাটেন ৩ জুন, ১৯৪৭, যে পরিকল্পনা ঘোষণা করেন রেডিওতে, তার দুটো ভার্সান লণ্ডনে গিয়ে রেকর্ড করে এসেছিলেন। ‘ব্রডকাস্ট এ’ – তে ছিল পাঞ্জাব ও বাংলাকে ভাগ করে ভারতের স্বাধীনতা দেয়ার ঘোষণা আর ‘ব্রডকাস্ট বি’-তে ছিল যে বাংলার হিন্দু এবং মুসলমান নেতারা একটা রফা করেছেন এবং তারা অবিভক্ত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন,” বলছিলেন অধ্যাপক সুগত বসু।

সেক্ষেত্রে ভারত ভাগ হয়ে তিনটি সার্বভৌম রাষ্ট্র গড়ার পরিকল্পনা ছিল যুক্ত বঙ্গ পরিকল্পনায় : একটি ভারত, অন্যটি পাকিস্তান এবং তৃতীয়টি যুক্ত বঙ্গ প্রদেশ।

অধ্যাপক বসুর কথায়, “লণ্ডন থেকে ফিরে আসার পরে কংগ্রেস হাইকমাণ্ড, অর্থাৎ জওহরলাল নেহরু এবং বল্লভভাই প্যাটেল যুক্তবঙ্গ পরিকল্পনাকে নস্যাৎ করে দিলেন। সেখানেই শেষ হয়ে যায় ওই পরিকল্পনা।“

“শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী ১৯৪৭ সালে ঠিক যেভাবে হিন্দু মুসলমান ভেদাভেদ ঘটিয়ে বাংলা ভাগ করেছিলেন, এখনো আবার সেই একই উদ্দেশ্য নিয়ে একটি দিন বেছে নিয়ে উদযাপন করা হচ্ছে,” বলছিলেন অধ্যাপক সুগত বসু। সূত্র : বিবিসি

মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দেয়াই বিএনপির লক্ষ্য : মির্জা ফখরুল

দেশে ভয়াবহ এক পরিস্থিতি চলছে উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করে দেশের মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দেয়াই বিএনপির লক্ষ্য।

মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর গুলশানে একটি হোটেলে বিএনপির মিডিয়া সেলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, দেশের প্রধান সঙ্কট হলো গণতন্ত্র না থাকা। এই সরকার সব প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে দিয়েছে। একদলীয় শাসন কায়েম করেছে। ফের তারা ভোট চুরির নির্বাচন করার পাঁয়তারা করছে।

তিনি বলেন, জনগণ ভোট দিয়ে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করতে চায়। আমরা দেখেছি বিশেষ করে বর্তমান শাসকগোষ্ঠী আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে এটা সম্ভব নয়। সে কারণে আমরা পরিষ্কার করে বলেছি একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন চাই। যেন সেই নির্বাচনে জনগণ তাদের ভোট দিতে পারে এবং প্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারে। এ কথাগুলো আমাদের দলের পক্ষ থেকে খুব পরিষ্কার করে বলা হয়েছে।

ফখরুল বলেন, আমাদের সহস্রাধিক নেতাকর্মীকে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যা করা হয়েছে। ৬ শ’র অধিক নেতাকর্মীকে গুম করা হয়েছে। ৪০ লাখ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেয়া হয়েছে। অর্থাৎ একটি ভয়াবহ অবস্থা, ভিন্নমত পোষণ করার কোনো সুযোগ নেই। এই অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা খুব পরিষ্কার করে বলেছি একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন চাই। সে কারণে আমাদের দলের পক্ষ থেকে ১০ দফা দাবি জানিয়েছি।

তিনি বলেন, যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে বিশ্বাস করে, বাংলাদেশকে সত্যিকার অর্থে যারা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে চায়। সেই সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলো আজকে একসাথে হয়ে যুগপৎ আন্দোলন করছি। আমাদের লক্ষ্য গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা। এখানে বিএনপিকে ক্ষমতায় নিতে চাই- এ কথাটি মুখ্য নয়, মুখ্য হচ্ছে মানুষের অধিকারকে আমরা প্রতিষ্ঠা করতে চাই। যে স্বপ্ন নিয়ে ১৯৭১ সালে আমরা যুদ্ধ করেছিলাম। যে প্রতিশ্রুতি আমরা দিয়েছিলাম জনগণের সামনে।

বিএনপি মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন স্বপনের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এনীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মিডিয়া সেলের সদস্য শাম্মী আক্তার, অধ্যাপক মোর্শেদ হাসান খান, রুমিন ফারহানা, কাদের গণি চৌধুরী, শায়রুল কবির খান, ওলামা দলের আহ্বায়ক অধ্যক্ষ মাওলানা শাহ মো: নেছারুল হক প্রমুখ।

ভারত সময়ের পরীক্ষিত বন্ধু : ওবায়দুল কাদের

ভারতকে সময়ের পরীক্ষিত বন্ধু উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র সফরের সাথে বাংলাদেশের রাজনীতির কোনো সম্পর্ক নেই।

এ সময় তিনি বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে দেশের সংবিধান অনুযায়ী, কোনো বহিঃশক্তির পরামর্শে নয়।

ওবায়দুল কাদের মঙ্গলবার (২০ জুন) বিকেলে রাজধানীর স্বামীবাগে শ্রী শ্রী জগন্নাথদেবের রথযাত্রা মহোৎসব উপলক্ষে ইসকন স্বামীবাগ আশ্রমে আয়োজিত আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপির কাছে সুষ্ঠু নির্বাচন মানে হচ্ছে আওয়ামী লীগ পরাজিত হলে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে। নির্বাচনে হেরে আওয়ামী লীগকে প্রমাণ দিতে হবে নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হয়েছে। যত সংশয় থাকুক না কেন, এদেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হবে। কারো কথায়, দেখানো রূপরেখা ও অন্য কোনো শক্তি নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে পারবে না। নির্বাচন হবে সংবিধান ও সময় অনুযায়ী।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, আগামী জাতীয় নির্বাচন সংবিধান অনুযায়ী হবে। কাজেই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কারো কারো মধ্যে আশঙ্কা কাজ করে। আমি একটা কথা বলতে চাই… আমাদের দেশে নির্বাচন অতীতে দেখেছি, যতবারই নির্বাচনকে সামনে রেখে আশঙ্কা ছিল, ততোই আলো ঝলমল সকাল ঘনিয়ে এসেছে।
তিনি বলেন, আমরা কারো ভিসানীতি, নিষেধাজ্ঞা এসব বিবেচনা করে নির্বাচনে যাচ্ছি না। আমাদের নজর সংবিধানের দিকে, দেশের জনগণের দিকে।

ভারতকে সময়ের পরীক্ষিত বন্ধু উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন। এর সাথে বাংলাদেশের রাজনীতির কোনো সম্পর্ক নেই। আজকে বিশ্বে অনেক বিষয় যুদ্ধ, মুদ্রাস্ফীতি, জ্বালানি সংকট। এখানে বাংলাদেশ বিষয়ে কোনো কথা হবে কিনা, এটা নিয়ে তো ভারতের সাথে আমাদের আলোচনা হয়নি। কিংবা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আমরা কোনো প্রস্তাব পাঠাইনি, আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে বোঝানোর জন্য।

তিনি বলেন, আজকে বাংলাদেশে নির্বাচন অবাধ সুষ্ঠু করতে ভিসানীতি প্রয়োগ করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর কিছু করণীয় আছে কিনা, সেটা তার দৃষ্টিকোণ থেকে তার নিজস্ব ব্যাপার। বাংলাদেশের কোনো নির্বাচন নিয়ে ভারত কোনো প্রশ্ন বা হস্তক্ষেপ করেছে- এমন জানা নেই।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক জানান, শ্রী শ্রী জগন্নাথদেবের রথযাত্রা উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সনাতন ধর্মালম্বীদের শুভেচ্ছা ও শুভ কামনা জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, দুঃসময়ে, দুঃখ-কষ্টে, দুর্যোগে আওয়ামী লীগ সনাতন ধর্মালম্বীদের পাশে ছিল, ভবিষ্যতেও থাকবে।

সনাতন ধর্মালম্বীদের উদ্দশ্য করে ওবায়দুল কাদের বলেন, আপনাদের নিজেদের কখনো সংখ্যালঘু মনে করা উচিত না। অন্যান্য ধর্মের মতো আপনারাও দেশের প্রথম শ্রেণির নাগরিক। আপনাদের আর মুসলিম ভোটারের অধিকার সমান। বাংলাদেশের সব মানুষই প্রথম শ্রেণির নাগরিক। সবাই মিলে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে দেশ স্বাধীন করেছি।

ইসকন বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক চারু চন্দ্র দাস ব্রহ্মচারীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য নির্মল চ্যাটার্জি, বাংলাদেশে ভারতের ইন্দিরা গান্ধী কালচারাল সেন্টারের পরিচালক মৃন্ময় চক্রবর্তী, মহানগর পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি মনিন্দ্র কুমার নাথ প্রমুখ।

আলোচনা সভা শেষে রথযাত্রা উপলক্ষে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় কুমার ভার্মা শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন। পরে সেখান থেকে বর্ণাঢ্য সাজে তিনটি বিশাল রথে জগন্নাথ দেব, শুভদ্রা ও বলরামের প্রতিকৃতিসহ শোভাযাত্রা বের হয়।

শোভাযাত্রাটি জয়কালি মন্দির, মতিঝিল শাপলা চত্বর, দৈনিক বাংলার মোড়, বঙ্গভবন মোড়, গুলিস্থান, জিপিও, সচিবালয়ের সামনে দিয়ে হাইকোর্ট মোড়, দোয়েল চত্বর, জগন্নাথ হল ও পলাশী হয়ে ঢাকেশ্বরী মন্দিরে গিয়ে শেষ হয়।

সূত্র : বাসস