২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে কানাডাকে ৭ উইকেটে হারাল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। অর্থাৎ জয় দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করেছে স্বাগতিক দেশ আমেরিকা। বিশ্বকাপের নবম আসরের উদ্বোধনী ম্যাচ কানাডার দেওয়া বড় সংগ্রহকে মামুলি বানিয়ে জয় তুলে নিয়েছে তারা। ব্যাট হাতে অনেকটা তাণ্ডব চালিয়েছেন অ্যারন জোনস। তিনি ৪০ বলে ৯৪ রানের মাধ্যমে দলের জয় নিশ্চত করে মাঠ ছাড়েন।
রোববার নিউইয়র্কের ডালাসে বাংলাদেশ সময় ভোর সাড়ে ৬টায় ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়। টস হেরে আগে ব্যাট করে নাভনিত ধালিওয়াল ও নিকোলাস কিরটনের হাফ সেঞ্চুরিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামনে ১৯৫ রানের বিশাল সংগ্রহ দাঁড় করায় কানাডা।
লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা একেবারেই ভালো করেনি আমেরিকা। শূন্য রানে তারা তাদের প্রথম উইকেট হারায়। স্টিভেন টেলরকে সাজঘরে ফেরান কালিম সানা। এরপরে মোনাঙ্ক প্যাটেল ও আন্দ্রিস গাউস ইনিংসকে এগিয়ে নিয়ে যান। তবে মোনাঙ্ক ১৬ বলে ১৬ রান করে সাজঘরে ফিরে যান। এর পরে আন্দ্রিস গাউসের সঙ্গে ইনিংস সামলান অ্যারন জোন্স। ৪৬ বলে ৬৫ রানের ইনিংস খেলেন আন্দ্রিস গাউস। নিখীল দত্তের বলে অ্যারন জনসনের হাতে ক্যাচ দিয়ে গাউস সাজঘরে ফেরেন। তবে বাকি কাজটা অ্যারন জোন্সের সঙ্গে শেষ করেন কোরি অ্যান্ডারসন।
চতুর্থ উইকেটে কোরি অ্যান্ডারসনকে নিয়ে দলের জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়েন অ্যারন জোনস। ১৭.৪ ওভারেই লক্ষ্য অর্জন করেন তারা। অ্যারন জোন্স ৪০ বলে ১০ ছক্কা ও ৪ চারে ৯৪ রান করে অপরাজিত থাকেন। ম্যাচশেষে জোন্সের ৬ রানের আক্ষেপ থেকে গেল। কোরি অ্যান্ডারসন অপরাজিত থাকেন ৩ রানে।
বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে তাণ্ডব চালালেন অ্যারন জোনস
উদ্বোধনী ম্যাচে কানাডাকে হারাল যুক্তরাষ্ট্র
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের নবম আসরের উদ্বোধনী ম্যাচ কানাডার দেওয়া বড় সংগ্রহকে মামুলি বানিয়ে জয় তুলে নিয়েছে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র। ব্যাট হাতে তাণ্ডব চালিয়েছেন আন্দ্রেস গুস ও অ্যারন জোনস। গুস আউট হয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত দলের জয় নিশ্চত করে মাঠ ছাড়েন জোনস। এদিন টি-টোয়েন্টিতে নিজেদের সর্বোচ্চ রান তাড়া করার রেকর্ডও গড়ে যুক্তরাষ্ট্র। এর আগে সর্বোচ্চ ১৬৯ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড ছিল এই জুটির।
রোববার (২ জুন) নিউইয়র্কের ডালাসে বাংলাদেশ সময় ভোর সাড়ে ৬টায় ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়। টস হেরে আগে ব্যাট করে নাভনিত ধালিওয়াল ও নিকোলাস কিরটনের হাফসেঞ্চুরিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামনে ১৯৫ রানের বিশাল সংগ্রহ দাঁড় করায় কানাডা। জবাবে আন্দ্রেস গুস ও অ্যারন জোনসের তাণ্ডবে ১৪ বল ও ৭ উইকেট হাতে রেখেই জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে যুক্তরাষ্ট্র।
কানাডার দেওয়া টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে স্কোরবোর্ডে কোনো রান যোগ করার আগেই উইকেট হারায় যুক্তরাষ্ট্র। এরপর দলীয় ৪২ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারায় তারা। তৃতীয় উইকেটে গুস ও জোনস জুটি বেঁধে দলের সব শঙ্কা দূর করে দেন। ম্যাচের সময় যতই বাড়ছিল এ দুই ব্যাটার খোলস ছেড়ে প্রতিপক্ষ বোলারদের ওপর তাণ্ডব চালাচ্ছিলেন। শেষ পর্যন্ত দলীয় ১৭৩ রানে গুসকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন নিখিল দত্ত। তার আগে গুস ৪৬ বলে ৩ ছক্কা ও ৭ চারে ৬৫ রানের ঝকঝকে ইনিংস উপহার দেন।
চতুর্থ উইকেটে কোরি অ্যান্ডারসনকে নিয়ে দলের জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়েন অ্যারন জোনস। তিনি ৪০ বলে ১০ ছক্কা ও ৪ চারে ৯৪ রান করে অপরাজিত থাকেন। ম্যাচ শেষে জোনসের ৬ রানের আক্ষেপ থেকে গেল। কোরি অ্যান্ডারসন অপরাজিত থাকেন ৩ রানে।
এর আগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে উদ্বোধনী জুটিতে কানাডাতে দুর্দান্ত শুরু এনে দেন অ্যারন জোন্স ও নাভনিত ধালিওয়াল। এ দুজন প্রথম ৩২ বলেই স্কোরবোর্ডে জমা করেন ৪৩ রান। জোন্স ১৬ বলে ২৩ রান করে হারমিতের শিকার হলে ভাঙে জুটি। দ্বিতীয় উইকেটে নেমে পারগাত সিং বেশিক্ষণ ক্রিজে থাকতে পারেননি। দলীয় ৬৬ রানে ৫ রান করে রান আউটের ফাঁদে পড়েন তিনি।
তৃতীয় উইকেটে ধালিওয়াল ও নিকোলাস কিরটন ৬২ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন। দলীয় ১২৮ রানে ধালিওয়ালকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন কোরি অ্যান্ডারসন। অবশ্য তার আগে ধালিওয়াল ৪৪ বলে ৩ ছক্কা ও ৬ চারের সাহায্যে ৬১ রানের ঝকঝকে ইনিংস উপহার দেন। এটি ৯ম আসরের প্রথম অর্ধশতক। চতুর্থ উইকেটে কিরটন উইকেটরক্ষক ব্যাটার শ্রেয়াস মোভাকে সঙ্গে নিয়ে ৩১ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন। তবে দলীয় ১৫৯ রানে ব্যক্তিগত ৫১ রান করে আলী খানের শিকারে পরিণত হন তিনি। তার ইনিংসটি সাজানো ছিল ২ ছক্কা ও ৩ চারে।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে আম্পায়ার বাংলাদেশের সৈকত
উদ্বোধন অনুষ্ঠান ছাড়াই শুরু হলো আইসিসিরি টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট বিশ্বকাপ ২০২৪-এর নবম আসর। আজ উদ্বোধনী ম্যাচে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রের মুখোমুখি হয় কানাডা। বাংলাদেশ সময় ভোর সাড়ে ৬টায় ম্যাচটি শুরু হয়। এ ম্যাচ দিয়ে আবারও বিশ্বকাপের মঞ্চে আম্পায়ারিংয়ের সুযোগ পান শরফুদ্দৌলা ইবনে শহীদ সৈকত।
উদ্বোধনী ম্যাচেই অন-ফিল্ডে ইংল্যান্ডের আম্পায়ার রিচার্ড কিথ ইলিংয়োর্ডের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।
এর আগে ভারত বিশ্বকাপে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ম্যাচ পরিচালনার সুযোগ পেয়েছিলেন আম্পায়ার শরফুদ্দৌলা ইবনে শহীদ সৈকত। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিশ্বমঞ্চে নিজের সিদ্ধান্ত গ্রহণের দক্ষতার প্রমাণ দেন তিনি। সেই দক্ষতার প্রমাণস্বরূপ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মঞ্চে আবারও ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্ব পান তিনি।
শরফুদ্দৌলা সৈতক অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে গত ১৭ জানুয়ারি অস্ট্রেলিয়া-ওয়েস্ট ইন্ডিজ টেস্ট সিরিজের প্রথমটিতে থার্ড আম্পায়ারের দায়িত্ব পালন করেন। পরে ব্রিসবেনে দিবারাত্রির টেস্টে অন-ফিল্ড আম্পায়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। এ ছাড়া তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজেও ম্যাচ পরিচালনা করেন সৈকত।
গত বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড ম্যাচসহ মোট পাঁচটি ম্যাচে আম্পায়ারিংয়ের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। সেই সঙ্গে ইংল্যান্ড-নিউজিল্যান্ড উদ্বোধনী ম্যাচসহ তিন ম্যাচে চতুর্থ আম্পায়ার এবং তিন ম্যাচে টিভি আম্পায়ারের দায়িত্ব পালন করেন সৈকত।
গাজায় ২৪ ঘণ্টায় ইসরাইলি হামলায় নিহত ৯৫ ফিলিস্তিনি
ফিলিস্তিনের গাজাজুড়ে বর্বর হামলা চালিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী। এতে ৯৫ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অনেকেই।
শনিবার অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। খবর আনাদোলুর।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরাইলের হামলায় ৯৫ জন নিহত ও আরও ৩৫০ জন আহত হয়েছেন। অনেক মানুষ এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে, কেহ রাস্তায় আটকা পড়ে আছেন। উদ্ধারকারীরা তাদের কাছে পৌঁছাতে পারছেন না।
মূলত গাজায় অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির দাবি জানিয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব সত্তে¡ও ইসরাইল অবরুদ্ধ এই ভূখণ্ডে তার নৃশংস আক্রমণ অব্যাহত রেখেছে।
উল্লেখ্য, গত ৭ অক্টোবর হামাসের নজিরবিহীন আন্তঃসীমান্ত হামলার পর থেকে ইসরাইল গাজা উপত্যকায় অবিরাম বিমান ও স্থল হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। ইসরাইলি এই হামলায় হাসপাতাল, স্কুল, শরণার্থী শিবির, মসজিদ, গির্জাসহ হাজার হাজার ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে গেছে।
এতে করে উপত্যকাটিতে নিহতের মোট সংখ্যা পৌঁছেছে প্রায় ৩৬ হাজার ৪০০ জনে। এই হামলায় আহত হয়েছেন আরও ৮২ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি।
এছাড়া ইসরায়েলি আগ্রাসনের কারণে প্রায় ২০ লাখেরও বেশি বাসিন্দা তাদের বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।
মূলত ইসরাইলি আক্রমণ গাজাকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে। জাতিসংঘের মতে, ইসরাইলের বর্বর আক্রমণের কারণে গাজার প্রায় ৮৫ শতাংশ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। আর খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি এবং ওষুধের তীব্র সংকটের মধ্যে গাজার সকলেই এখন খাদ্য নিরাপত্তাহীন অবস্থার মধ্যে রয়েছেন।
এছাড়া অবরুদ্ধ এই ভূখণ্ডের ৬০ শতাংশ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে গেছে। ইসরাইল ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গণহত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছে।
সমাবেশের অনুমতি পেল ইমরান খানের দল
পাকিস্তানে সমাবেশের অনুমতি পেল দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)। আগামী ৮ জুন সমাবেশ করার অনুমতি দিয়েছে প্রশাসন। তবে এই সমাবেশ ইসলামাবাদের এফ-৯ পার্কের পরিবর্তে রাওয়াত এলাকায় আয়োজন করতে হবে। সেই সঙ্গে এর জন্য নির্দিষ্ট শর্ত ও বিধি মেনে চলতে হবে।
দেশটির প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পিটিআইয়ের পক্ষ থেকে ফাতিমা জিন্নাহ পার্ক (এফ-৯) এলাকায় সমাবেশের জন্য অনুমতি চেয়ে আবেদন করা হয়েছিল।
এর জন্য এসএসপি, গোয়েন্দা সংস্থা ও স্পেশাল ব্রাঞ্চের কাছ থেকে মতামত নেওয়া হয়। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্তৃপক্ষ বলেছে, পরিস্থিতি বিবেচনায় ইসলামাবাদে তাদের সমাবেশের অনুমতি দেওয়া সম্ভব নয়।
এর পরিবর্তে তাদের রাওয়াত এলাকায় সমাবেশ করতে বলা হয়। এর জন্য ৩৯টি শর্ত দেওয়া হয়েছে।
এর আগে সমাবেশের অনুমতি পেতে লাহোর হাইকোর্টে আবেদন করেন পিটিআই চেয়ারম্যান গোহর খান। পিটিশনে যুক্তি দেওয়া হয়েছে যে, পিটিআই একটি রাজনৈতিক দল এবং যখনই এটি একটি সমাবেশ বা সমাবেশের ঘোষণা দেয়, পুলিশ তাদের কর্মীদের গ্রেফতার এবং হয়রানি শুরু করে।
আবেদনে আরও বলা হয়, পিটিআই কেন্দ্রীয় সচিবালয়ও সরকার বেআইনিভাবে সিল করে দিয়েছে।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, পিটিআইকে প্রদেশজুড়ে জনসমাবেশ এবং সমাবেশ করার অনুমতি দেওয়া উচিত। সেই সঙ্গে এর কর্মীদের গ্রেফতার এবং তাদের বিরুদ্ধে মামলা নিবন্ধন বন্ধ করা উচিত।
পঞ্জাবের স্বরাষ্ট্র বিভাগ, পুলিশের মহাপরিদর্শক এবং অন্যান্য সরকারি কর্তৃপক্ষকে রিট পিটিশনে বিবাদী করা হয়।
কংগ্রেসের দাবি, ২৯৫ আসনে জিতবে ইন্ডিয়া জোট
ভারতের সদ্য সমাপ্ত লোকসভা নির্বাচনে ইন্ডিয়া জোট ২৯৫টির বেশি আসনে জিতবে বলে দাবি করেছেন কংগ্রেসের সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। শনিবার শেষ ধাপের ভোট গ্রহণ শেষে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইন্ডিয়া জোটের নেতারা বৈঠকে বসেছিলেন। সেই বৈঠক শেষে এসব কথা বলেন কংগ্রেস সভাপতি।
দিল্লিতে খাড়গের বাসভবনে ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ইন্ডিয়া জোট অন্তত ২৯৫ আসন পাবে। এর বেশিও হতে পারে; কিন্তু কম হবে না। আমরা সব নেতার সঙ্গে আলোচনা ও ভোট বিশ্লেষণ করে এমন সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি। ইন্ডিয়া জোট এবার যে এত আসন পাচ্ছে, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। এটা জনগণের জরিপ। মানুষ যেসব তথ্য দিয়েছেন, তার ভিত্তিতে এই জরিপ করা হয়েছে।
কংগ্রেস সভাপতি অভিযোগ করেন, লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে বিজেপি নিজেদের মতো একটি গল্প তৈরি করার চেষ্টা চালাচ্ছে। তাদের সেই চেষ্টার বিরুদ্ধে নির্বাচনি ফলাফল নিয়ে সত্যটা জনগণের কাছে তুলে ধরতে চায় ইন্ডিয়া জোট।
মল্লিকার্জুন খাড়গে বলেন, সরকারি জরিপ হয়। তাদের (বিজেপি) কাছে জরিপ তৈরির নানা উপায় আছে। এ ছাড়া তা প্রচারের জন্য সংবাদমাধ্যমও আছে।
বিজেপিবিরোধী জোট ইন্ডিয়া বুথফেরত জরিপ-সংক্রান্ত বিতর্কে অংশ নেবে বলে জানিয়েছেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। যদিও গতকাল শুক্রবার কংগ্রেস জানিয়েছিল, তারা বুথফেরত জরিপ বিতর্কে থাকবে না। কেননা সংবাদমাধ্যমগুলো বুথফেরত জরিপের নাম করে নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে গুজব ছড়ানোর চেষ্টা করছে। সংবাদমাধ্যমগুলো নিজেদের প্রচার বাড়ানোর জন্য এসব জরিপ করে থাকে।
ইন্ডিয়া জোট ঐক্যবদ্ধ রয়েছে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মল্লিকার্জুন খাড়গে বলেন, তারা (ইন্ডিয়া জোট) ঐক্যবদ্ধ আছে। তাদের এই ঐক্যে যেন কেউ ফাটল ধরানোর চেষ্টা না করে। ‘আমরা ঐক্যবদ্ধ আছি এবং ঐক্যবদ্ধ থাকব। আমাদের মধ্যে ফাটল ধরানোর চেষ্টা করবেন না।’
এদিন সাত রাজ্য ও একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের ৫৭ আসনে ভোট হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে লোকসভা নির্বাচনের ৫৪৩ আসনে ভোট গ্রহণ শেষ হয়েছে। আগামী মঙ্গলবার (৪ জুন) ফলাফল ঘোষণা করা হবে। ভোট গ্রহণ পুরোপুরি শেষ হওয়ার পর বুথফেরত জরিপের ফলাফল আসতে শুরু করেছে। বেশির ভাগ জরিপে পূর্বাভাস পাওয়া যাচ্ছে, আবারও ক্ষমতায় আসছে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট।
ট্রাম্প ইস্যুতে বিভক্ত মার্কিন রাজনীতি
নিউইয়র্কের আদালত ৩৪ দফা অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দোষী সাব্যস্ত করায় দেশটিতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। অনেকে বলছেন, নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ফায়দা হাসিলের জন্যই ট্রাম্পকে নিয়ে এসব কান্ড করা হচ্ছে। তবে এসব করে তাকে দমানো যাবে না, বরং নির্বাচনে তিনি আরও ভালো করবেন। অন্যদের ধারণা, এখন আর নির্বাচনে ট্রাম্পের জয়ের আশা নেই।
রায়ের পর ট্রাম্পের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী ও ডেমোক্র্যাটিক দল মনোনীত প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী জো বাইডেনের প্রচার বিভাগ বলেছে, ‘সাবেক প্রেসিডেন্টকে দোষী সাব্যস্ত করার সিদ্ধান্ত দেখিয়ে দিয়েছে যে, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নন।’ বাইডেন-কমলা হ্যারিসের নির্বাচনি প্রচার বিভাগ এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প সব সময় ভুলবশত বিশ্বাস করে এসেছেন যে, ‘ব্যক্তিগত লাভের জন্য আইন ভাঙলেও তাকে কোনো ফল ভোগ করতে হবে না। কিন্তু আদালতের রায় সে সত্যই অপরিবর্তিত রাখল যে, আমেরিকার জনগণ এখন এক সহজ বাস্তবতার মুখোমুখি। ওভাল অফিস থেকে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দূরে সরিয়ে রাখার এখনো একটাই মাত্র পথ রয়েছে। আর তা হলো, ব্যালট বাক্স।’ অন্যদিকে ট্রাম্প এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘এটি অপমানজনক। দুর্নীতিগ্রস্ত ও বিতর্কিত বিচারক দিয়ে এ বিচারে কারচুপি করা হয়েছে। এটা একটা কারচুপির বিচার, একটা অসম্মান। তারা আমাদের বিচারের স্থান পরিবর্তন করতে দেবে না। এ এলাকায়, আমাদের অনুপাত ৫ বা ৬ শতাংশ।’ যুক্তরাষ্ট্রের হাউস স্পিকার মাইক জনসন যিনি একজন শীর্ষ পদাধিকারী রিপাবলিকান, তিনি এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘আজকের দিনটা আমেরিকার ইতিহাসে একটা লজ্জার দিন। ডেমোক্র্যাটরা উল্লসিত, কেননা তারা একাধিক হাস্যকর অভিযোগে বিরোধী দলের নেতাকে দোষী সাব্যস্ত করেছে। এ বিচার একেবারেই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, আইনের সঙ্গে এর যোগ নেই।’
ভয়েস অব আমেরিকার প্রতিবেদন বলছে, এই প্রথম যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সাবেক প্রেসিডেন্ট অপরাধের জন্য দোষী সাব্যস্ত হলেন। সে অর্থে এ রায় নজিরবিহীন। তবে এ সিদ্ধান্ত ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট পদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে বাধা হবে না। এ রায় দীর্ঘমেয়াদি আপিল প্রক্রিয়ার সম্মুখীন হবে। ভার্জিনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মিলার সেন্টারের প্রেসিডেন্সিয়াল ওরাল হিস্টোরি কর্মসূচির সহসভাপতি বারবারা পেরি বলেন, ‘আপিল যদি ব্যর্থ হয় তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্প প্রথমবারের মতো আরেক ঐতিহাসিক নজির হয়ে থাকবেন।’ হোয়াইট হাউস কাউন্সেল মুখপাত্র ইয়ান স্যামস বলেন, ‘আমরা আইনের শাসনকে মর্যাদা দিই। এর বাইরে আমাদের কিছু বলার নেই।’ এ রায়ের পর তীব্র হুমকি ও ঝুঁকি সামলাতে তারা প্রস্তুত কি না, ভয়েস অব আমেরিকার এমন প্রশ্নের জবাব দেয়নি হোয়াইট হাউস। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বর্তমানে একটি নামের জন্য সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। আর সেই নামটি হলো স্টর্মি ড্যানিয়েলস। তার সঙ্গে করা যৌন সম্পর্কের খবর গোপন রাখতে গিয়েই বিপদে পড়েছেন ট্রাম্প। স্টর্মি ড্যানিয়েলস জানিয়েছিলেন, ২০০৬ সালে ট্রাম্প তাকে বলেছিলেন ‘ট্রেইলার পার্ক’ থেকে বেরোতে চাইলে তাঁর (ট্রাম্প) সঙ্গে যৌন সম্পর্ক করতেই হবে। সেই ঘটনার প্রায় দুই দশক পর তিনি ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। আর সেই সাক্ষ্যেই ফেঁসে গেছেন ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কের ম্যানহাটানের ডিস্ট্রিক্ট আদালতের বিচারকরা ট্রাম্পকে ব্যবসাসংক্রান্ত নথিতে মিথ্যা ঘোষণা দেওয়ার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করেন। ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে ট্রাম্প তাঁর সাবেক আইনজীবী মাইকেল কোহেনের মাধ্যমে স্টর্মি ড্যানিয়েলসকে ১ লাখ ৩০ হাজার ডলার দেন এক দশক আগের ওই যৌন সম্পর্কের বিষয়ে মুখ না খুলতে। সে তথ্য ট্রাম্প তাঁর ব্যবসায়িক নথিতে গোপন করেছেন।
কে এই স্টর্মি ড্যানিয়েলস : প্রকৃত নাম স্টেফানি ক্লিফোর্ড। লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যে মায়ের কাছেই বড় হয়েছেন তিনি। স্বল্প আয়েই মায়ের সংসারে তার শৈশব কেটেছে। ড্যানিয়েলস হাই স্কুল শেষ করার সময় সবচেয়ে ভালো ফল করা ১০ শতাংশ শিক্ষার্থীর মধ্যে ছিলেন। স্কুলের সংবাদপত্রও সম্পাদনা করেছেন। টেক্সাসের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পশুর ওষুধ নিয়ে পড়াশোনারও সুযোগ পেয়েছিলেন স্টর্মি। তবে পড়াশোনা তিনি চালিয়ে যাননি। স্টর্মি জানিয়েছেন, নিজের খরচ মেটাতে ১৭ বছর বয়সেই সাপ্তাহিক ছুটির দিনে বিভিন্ন জায়গায় নাচতেন তিনি। পরে নগ্ন মডেলিং ও পর্নো ছবিতে অভিনয় শুরু করেন। ড্যানিয়েলস বলেছেন, তিনি সবচেয়ে কম বয়সি পর্নো ছবির পরিচালকদের একজন ছিলেন। অনেক পুরস্কারও পেয়েছিলেন। টেলিভিশন শোতে বিভিন্ন চরিত্রে এবং ‘দ্য ফোরটি-ইয়ার-ওল্ড ভার্জিন’ এবং ‘নকড আপ’-এর মতো ছবিতে অভিনয় করেছেন। পর্নো দুনিয়া ছেড়ে স্টর্মি বেশ কয়েকটি সফল সিনেমার স্ক্রিপ্ট লিখেছেন এবং পরিচালনা করেছেন। অবসরে ঘোড়ায় চড়ে সময় কাটাতেন। মেয়েকে বড় করেছেন। ২০১৮ সালে তাকে নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল। স্টর্মির দাবি, এ প্রতিবেদনই ফের তার জীবন ওলটপালট করে দেয়, শুরু হয় ‘বিশৃঙ্খলা’। তার অভিযোগ, ওই প্রতিবেদন তার ব্যক্তিগত অনেক বিষয় সামনে নিয়ে আসে। এ প্রতিবেদনেই ট্রাম্পের সঙ্গে ড্যানিয়েলসের সাক্ষাতের বিষয়টি প্রথমবারের মতো জনসমক্ষে আসে। ট্রাম্পের আইনজীবীদের অভিযোগ, ড্যানিয়েলস ওয়ালস্ট্রিটের প্রতিবেদনটি থেকে লাভবান হয়েছেন। এটা তার প্রচারের কাজ করেছে। ট্রাম্পের সঙ্গে ড্যানিয়েলসের সাক্ষাতের বিষয়টি বানানো। ওয়ালস্ট্রিটের ওই গল্পটিকে ড্যানিয়েলস অর্থ উপার্জনের উপায় হিসেবে ব্যবহার করেছেন।
আবারো মোদিই থাকছেন গদিতে
বিক্ষিপ্ত কিছু সহিংসতা ও গন্ডগোল হলেও গতকাল মোটামুটি শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে লোকসভার সপ্তম ও শেষ দফার ভোট। এদিন ৮টি রাজ্য ও কেন্দ্রীয় শাসিত অঞ্চলের ৫৭টি আসনে ভোট নেওয়া হয়। এর মধ্যে ছিল পশ্চিমবঙ্গের ৯টি আসন। ভারতের লোকসভার মোট আসন ৫৪৩টি। ভোট শেষ হওয়ার পর এখন আলোচনা নরেন্দ্র মোদিই কি ক্ষমতায় থাকছেন। নাকি দিল্লির গদিতে বসবেন অন্য কেউ? বুথফেরত জরিপ বলছে, তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় থাকছেন মোদিই।
ভোট শুরুর পর থেকে পশ্চিমবঙ্গের একাধিক জায়গা থেকে সহিংসতার খবর আসে। যাদবপুরে দুই দলের লোকদের সংঘর্ষ থামাতে পুলিশকে লাঠিচার্জ করতে হয়েছে। কোথাও ইভিএম পানিতে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ, বিরোধী দলের প্রার্থীদের ঘিরে বিক্ষোভ, ‘ফিরে যাও’ স্লোগান, বিরোধীদলের কর্মী-সমর্থকদের মেরে মাথা ফাটিয়ে দেওয়া, আবার কোথাও ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের সঙ্গে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়লেন বিরোধী দলের প্রার্থী। এরকম নানা ঘটনায় দিনভর উত্তপ্ত ছিল পশ্চিমবঙ্গের ভোটের ময়দান।
এদিকে নিজের এক্স হ্যান্ডেলে ভোট গণনার দিন মঙ্গলবার ভারতে নতুন সূর্য উদয়ের ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। তিনি লেখেন, ‘কেন্দ্রের সরকার অহংকার এবং অত্যাচারের প্রতীক হয়ে উঠেছে। তাই, আগামী ৪ জুন মঙ্গলবার সূর্য দেশের জন্য নতুন ভোর বয়ে আনবে।’ বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা শনিবার ভোট দিয়ে তার দল নির্বাচনে জিতে তৃতীয়বারের জন্য বিজেপি সরকার গঠন করবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গে ৪২ আসনের মধ্যে ৩০টা বিজেপি দখল করবে, ওড়িশায় ২১টার মধ্যে ১৮টা দখল করবে। ঠিক একইভাবে তেলেঙ্গানা, তামিলনাড়ুতেও আমাদের খুব ভালো ফল হবে। কেরালায় আমরা বেশ কিছু আসনে জয় পাব। প্রত্যেকটা জায়গায় আমাদের প্রাপ্ত ভোটের শতকরা হার বাড়বে।’ শনিবার দিল্লিতে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসেন বিরোধী দল ‘ইন্ডিয়া’ জোটের নেতারা। মূলত ৪ জুন নির্বাচনি ফলাফলে পর জোটের রণকৌশল স্থির করতেই এই বৈঠক। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের বাসভবনে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে কংগ্রেস, সিপিআইএম, সমাজবাদী পার্টি, সিপিআই, ডিএমকে, জেএমএম, আম আদমি পার্টি, এনসিপিসহ জোটের শরিক দলগুলোর নেতা-নেত্রীরা উপস্থিত থাকলেও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা ব্যানার্জি এবং পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট নেত্রী মেহেবুবা মুফতি অনুপস্থিত ছিলেন।
জরিপে তৃতীয় দফায় ক্ষমতায় আসছে বিজেপির জোট : ভারতীয় সংসদের নিম্নকক্ষ লোকসভা নির্বাচনের শেষ দফা ভোট গ্রহণের পরপরই চালানো হয় এক্সিট পোল এক্সিট পোল (বুথ ফেরত জরিপ)। সর্বভারতীয় গণমাধ্যমগুলোর পাশাপাশি একাধিক বেসরকারি সংস্থাও এই এক্সিট পোল চালায়। একাধিক জরিপে দেখা যায়, আবারও ক্ষমতায় আসতে চলেছে বিজেপি নেতৃত্বাধীন ‘জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট’ (এনডিএ)। লোকসভার আসন ৫৪৩টি। ম্যাজিক ফিগার অর্থাৎ সরকার গড়তে গেলে প্রয়োজন ২৭২টি আসন।
রিপাবলিক টিভি-পি মার্ক-এর এক্সিট পোল অনুসারে এনডিএ পেতে চলেছে ৩৫৯ আসন, বিরোধী দলের জোট ‘ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্টাল ইনক্লুসিভ অ্যালায়েন্স’ (ইন্ডিয়া) জয় পেতে পারে ১৫৪ আসনে, অন্যরা ৩০ আসনে জয় পেতে পারে। তাদের জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৭২ শতাংশ মুসলিম ভোট গেছে কংগ্রেসের পক্ষে, ৪৯ শতাংশ নারী ভোট গেছে বিজেপির পক্ষে। নিউজ নেশন-এর জরিপ অনুযায়ী এনডিএ পেতে পারে ৩৪২-৩৭৮ আসন, ইন্ডিয়া পেতে পারে ১৫৩-১৬৯ আসন এবং অন্যরা পেতে পারে ২১-২৩ আসন। ইন্ডিয়া নিউজ-ডি ডাইনামিক্স যৌথ জরিপ অনুযায়ী এনডিএ পেতে পারে ৩৭১ আসন, ইন্ডিয়া পেতে পারে ১২৫ আসন, অন্যরা পেতে পারে ৪৭ আসন।
রিপাবলিক ভারত-ম্যাট্রিজ যৌথ জরিপ অনুযায়ী এনডিএ জোট পেতে পারে এনডিএ জোট পেতে চলেছে ৩৫৩-৩৬৮ আসন, বিরোধী দলের জোট ইন্ডিয়া জয় পেতে পারে ১১৮-১৩৩ আসন, অন্যরা ৪৩-৪৮ আসনে জয় পেতে পারে। জন কি বাত-এর জরিপ অনুযায়ী এনডিএ পেতে পারে ৩৬২-৩৯২ আসন, ইন্ডিয়া জোট পেতে পারে ১৪১-১৬১ আসন, অন্যরা পেতে পারে ১০-২০ আসন। দৈনিক ভাস্কর-এর জরিপ অনুযায়ী এনডিএ পেতে পারে ২৮১-৩৫০ আসন, ইন্ডিয়া পেতে পারে ১৪৫-২০১ আসন, অন্যরা পেতে পারে ৩৩-৩৯ আসন। এনডিটিভি-এর ‘পোল অব পোলস’ অনুযায়ী এনডিএ পেতে পারে ৩৫৮ আসন, ইন্ডিয়া পেতে পারে ১৪৮ আসন, অন্যরা পেতে পারে ৩৭ আসন। শেষবার ২০১৯ সালের নির্বাচনে ৩৫৩ আসনে জয় পায় এনডিএ জোট, এর মধ্যে বিজেপি একাই ৩০৩ আসনে জয় পায়। কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ‘সংযুক্ত প্রগতিশীল জোট’ (ইউপিএ) ৯১ আসনে জয় পায়। এর মধ্যে কংগ্রেস এককভাবে ৫২টি আসনে জয় পায়। বিভিন্ন সংস্থার জরিপে দেখা গেছে, গত নির্বাচনের মতো এবারও কর্ণাটক (মোট আসন ২৮), উত্তরপ্রদেশ (৮০), বিহার (৪০), হরিয়ানা (১০), মধ্যপ্রদেশ (২৯), অসম (১৪), রাজস্থানে (২৫), গুজরাট (২৬), অন্ধ্রপ্রদেশ (২৫), ঝাড়খন্ড (১৪), ছত্তিশগড় (১১), ওড়িশা (২১), হিমাচল প্রদেশ (৪), মহারাষ্ট্র (৪৮) এর মতো একাধিক রাজ্যে ভালো ফল করতে চলেছে এনডিএ। ভারতের রাজ্যগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি লোকসভার আসন উত্তরপ্রদেশে। দেশটির রাজনীতিতে কথিত আছে, উত্তরপ্রদেশ যার, ভারতের কেন্দ্রের ক্ষমতাও তার। এই রাজ্যে মোট লোকসভার আসন ৮০টি। রিপাবলিক টিভির এক্সিট পোল অনুযায়ী এনডিএ পেতে পারে ৬৯ আসন, বিরোধী জোট ইন্ডিয়া পেতে পারে ১১টি আসন।
অন্যদিকে একাধিক সংস্থার জরিপে দেখা গেছে, বিরোধী দলের জোট ‘ইন্ডিয়া’ ভালো ফল করতে পারে তামিলনাড়ু (৩৯), কেরালা (২০), তেলেঙ্গানার (২৮) মতো রাজ্যগুলোতে। বিভিন্ন সংস্থার এক্সিট পোল অনুযায়ী দিল্লিতে এবারও ভালো ফল করতে চলেছে এনডিএ। জি নিউজের এক্সিট পোল অনুযায়ী লোকসভার সাতটি আসনের মধ্যে প্রতিটিতে জয় পেতে চলেছে বিজেপি। ইন্ডিয়া টিভি-সি ভোটারের এক্সিট পোল অনুযায়ী বিজেপি পেতে পারে ৬-৭ আসন, কংগ্রেস পেতে পারে ১টি আসন। পশ্চিমবঙ্গে এবার শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়তে হতে পারে রাজ্যটির ক্ষমতাসীন দল মমতা ব্যানার্জির দল তৃণমূল কংগ্রেস। কারণ আসন ভাগাভাগি নিয়ে মতানৈক্য থাকায় এই নির্বাচনে আলাদাভাবে লড়েছে ইন্ডিয়া জোটের প্রধান দুই শরিক দল কংগ্রেস ও তৃণমূল। এ রাজ্যে ৪২টি লোকসভার আসন রয়েছে। বিভিন্ন সংস্থার এক্সিট পোল অনুযায়ী এই নির্বাচনে ভালো ফল করতে চলেছে বিজেপি। সর্বভারতীয় টিভি চ্যানেল জি নিউজ-সি এনএক্স-এর এক্সিট পোল অনুযায়ী বিজেপি পেতে পারে ২১-২৫ আসন, তৃণমূল পেতে পারে ১৬-২০ আসন। রিপাবলিক টিভি-পি মার্ক-এর জরিপ অনুযায়ী ২২ আসনে জয় পেতে পারে বিজেপি, ২০ আসনে জয় পেতে পারে তৃণমূল কংগ্রেস, সেক্ষেত্রে কংগ্রেস এবং সিপিআইএমকে খালি হাতেই ফিরতে হতে পারে। রিপাবলিক ভারত-ম্যাট্রিজ যৌথ জরিপ অনুযায়ী বিজেপি জয় পেতে পারে ২১-২৫ আসনে, তৃণমূল কংগ্রেস পেতে পারে ১৬-২১ আসন। উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে এ রাজ্যে তৃণমূল জয় পায় ২২টি আসনে, বিজেপি পায় ১৮টি আসনে। কংগ্রেস ২টি আসনে জয়লাভ করে।
বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর ২৭ দফা নির্দেশনা
খাদ্যে ভেজাল ও মজুদদারি রোধ, নিত্যপণ্য সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানোসহ বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের ২৭ দফা নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। স¤প্রতি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাধ্যমে লিখিত এই নির্দেশনা মাঠ প্রশাসনে দেয়া হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
মাঠ প্রশাসনে পাঠানো এই নির্দেশনায় বলা হয়, খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধ করাসহ ভোক্তাদের যাতে কোনো রকম হয়রানি না হয় সে দিকে দৃষ্টি দিতে হবে; গ্রামপর্যায়ে সবাইকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে উৎপাদন বহুমুখী করার লক্ষ্যে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। আমাদের দেশীয় উৎপাদন বাড়াতে হবে, পরনির্ভরশীলতা কমাতে হবে; খাদ্য মজুদের মাধ্যমে মজুদদাররা যাতে কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি করতে না পারে সে বিষয়ে বিশেষ দৃষ্টি দেয়াসহ প্রয়োজনে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সাধারণ মানুষের কাছে যথাযথভাবে পৌঁছানোর লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে; স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় বা অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রছাত্রীরা নিয়মিত যায় কি না, কেউ জঙ্গিবাদ বা সন্ত্রাস, মাদক অথবা কিশোর গ্যাংয়ের সাথে সম্পৃক্ত হচ্ছে কি না সে বিষয়ে নজরদারি বৃদ্ধির জন্য অভিভাবকদের সচেতন করতে হবে।
পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে যেন কোনো রকম অশান্ত পরিবেশ সৃষ্টি না হয় এবং সেখানে যাতে সবাই শান্তি ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে বসবাস করতে পারে সে দিকে সার্বিক দৃষ্টি রাখতে হবে; সর্বজনীন পেনশন স্কিমে সর্বস্তরের মানুষকে যুক্ত করার লক্ষ্যে সবাইকে সচেতন করে তুলতে হবে। ইনকাম ট্যাক্স প্রদানের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সচেতন ও উদ্বুদ্ধ করতে হবে; এলাকাভিত্তিক উৎপাদিত পণ্যের গুণগত মান বৃদ্ধির মাধ্যমে উৎপাদন বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে এবং উৎপাদিত পণ্য বাজারজাতকরণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির জন্য বিশেষভাবে দৃষ্টি দিতে হবে; নদীগুলো ড্রেজিং করা, নাব্যতা বাড়ানো, জলাধারগুলো সংস্কার করা, বর্ষাকালীন বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ বা বর্ষার পানি ধরে রাখা এবং সেগুলোকে শুকনা মৌসুমে চাষে এবং সুপেয় পানি ব্যবহার করার লক্ষ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। ভূগর্ভের পানি কম ব্যবহার করে ভূ-উপরিস্থ পানি যথাসম্ভব বেশি ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে; শহরগুলোতে বর্জ্য-ব্যবস্থাপনা সমস্যা প্রকট হয়ে দেখা দিয়েছে এবং বর্জ্য থেকেই নদী, খাল-বিলের পানি দূষিত হচ্ছে। কাজেই জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন এবং ওয়ার্ড পর্যায় পর্যন্ত বর্জ্য-ব্যবস্থাপনার বিষয়ে জনগণকে সচেতন করতে হবে।
আশ্রয়ণ প্রকল্পভুক্ত এলাকার মানুষের সুবিধা-অসুবিধা, জীবনমান, কর্মসংস্থান এবং আশ্রয়ণের ঘরগুলো উপকারভোগী কর্তৃক রক্ষণাবেক্ষণ ঠিকমতো হচ্ছে কি না, এই বিষয়গুলোয় নজরদারি অব্যাহত রাখতে হবে; শিক্ষিত যুবসমাজকে উৎপাদন এবং শিল্পায়নের সাথে সম্পৃক্ত হওয়ার বিষয়ে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। দক্ষ ও কর্মক্ষম জনশক্তি তৈরির নিমিত্ত কারিগরি বা ভোকেশনাল ট্রেনিংয়ের প্রতি গুরুত্বারোপ করতে হবে; শিশু-কিশোর ও যুবসমাজকে ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা এবং বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রমের সাথে সম্পৃক্ত করতে হবে।
প্রতি উপজেলায় একটি করে মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ অর্থাৎ একটি খেলার মাঠ দ্রুত প্রস্তুতের উদ্যোগ নিতে হবে; মুক্তিযুদ্ধের সময় যেখানে যুদ্ধ হয়েছে বা গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে, গণকবর রয়েছে, সেগুলো যথাযথভাবে সংরক্ষণ করে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মানুষের সামনে তুলে ধরতে হবে। দেশের লবণাক্ত এলাকাগুলোতে সুপেয় পানির ব্যবস্থাকরণের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে; তিন ফসলি জমি এবং চাষ উপযোগী জমি আবশ্যিকভাবে সংরক্ষণ করতে হবে। প্রকল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে তিন ফসলি জমি যেন নষ্ট না হয় সে দিকে লক্ষ রাখতে হবে। দালান-কোঠা নির্মাণের ক্ষেত্রে যেন যথাযথভাবে বিল্ডিং কোড মেনে নির্মাণ করাহয় সেই দিকে দৃষ্টি দিতে হবে। সেচকাজে যথাসম্ভব সোলার প্যানেল ব্যবহার করার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে; প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, ২৬ শে মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস এবং ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস সম্পর্কিত জ্ঞান অর্জনের বিষয়ে সচেতন করতে হবে। বাস্তবায়নাধীন উন্নয়ন প্রকল্পের কার্যক্রম মনিটরিং করতে হবে এবং যথাযথ কর্তৃপক্ষকে প্রকল্পের অগ্রগতি জানাতে হবে; চর এলাকার অনাবাদি জমি আবাদের আওতায় আনতে হবে। সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে সচেষ্ট হতে হবে; সর্বক্ষেত্রে ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ বিনির্মাণ করতে হবে।
বেনজীর আহমেদের সম্পত্তি ক্রোক লোকদেখানো : ফখরুল
সাবেক পুলিশ প্রধান বেনজীর আহমেদের সম্পত্তি-ক্রোক নিয়ে সরকারের বক্তব্য লোকদেখানো বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
গতকাল দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের উদ্যোগে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৩তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, পত্রিকায় এসেছে বেনজীর চলে গেছে। সপরিবারে দেশত্যাগ করেছে মে মাসের ৪ তারিখে । যাওয়ার আগে তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টগুলো খালি করে গেছে, সেখানে ৬০ কোটি টাকার মতো ছিল বলে পত্রিকায় এসেছে। আমার প্রশ্ন সে কিভাবে গেল? এই যে তারা (সরকার) বলল যে, তার সম্পত্তি আমরা ক্রোক করছি। আদালত থেকে বলা হলো, দুদক মামলা করেছে, তাকে কোথাও যেতে দেয়া হবে না। তাহলে ৪ তারিখ সপরিবারে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সে করে কিভাবে চলে গেল সরকারের নাকের ওপর দিয়ে।
ফখরুল বলেন, এই যে আপনারা বলছেন যে, কেউ ছাড় পাবে না, আমরা সবার বিচার করি। আপনারা কি বাংলাদেশের মানুষ সবাইকে আহম্মক মনে করেছেন? বাংলাদেশের মানুষ তো আহম্মক না। সবাই বুঝে, এগুলো সব আপনাদের লোকদেখানো, প্রতারণা। এখন পর্যন্ত এই প্রতারণা করে আপনারা দেশ শাসন করেছেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, শুধু বেনজীর নয়, এক আজিজ (আজিজ আহমেদ) নয়, অসংখ্য আজিজ আর বেনজীর তারা তৈরি করেছে। এরা বাংলাদেশটাকে একটা লুটের সামাজ্যে পরিণত করেছে। বর্গীর দেশে পরিণত করেছে। এখান থেকে দেশটাকে রক্ষা করতে হবে। আমরা বিশ্বাস করি, বাংলাদেশের মানুষ লড়াই-সংগ্রামের মধ্য্ দিয়ে এই দানব সরকারকে পরাজিত করে সত্যিকার অর্থে একটা জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হবে ।
এই আন্দোলনে সাফল্য আনতেই হবে : মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, গণতন্ত্রের জন্য আমরা লড়াই-সংগ্রাম করছি। বিজয় আমাদের অর্জন করতেই হবে, সাফল্য আমাদের আনতেই হবে। আজকে এই পেশাজীবীদের আলোচনার মধ্য দিয়ে আমরা পরিষ্কার করে বলতে চাই, বাংলাদেশে বিএনপি কখনোই তার অভিষ্ট লক্ষ্য থেকে সরে দাঁড়াবে না। তার লক্ষ্য অটুট আছে। কৌশল অনেক সময় পরিবর্তন হতে পারে। বিএনপি মহাসচিব বলেন, যখন সাফল্য আসে তখন সবাই দাবি করে যে আমার জন্য হয়েছে। ফেইলিউর হ্যাজ নান। আমরা মনে করি, আমরা ব্যর্থ নই। আমরা নতুন করে উজ্জীবিত হয়েছি, আমরা নতুন করে আবার কাজ শুরু করেছি। ইনশা আল্লাহ জয় আমাদের হবেই। কারণ আমরা সত্যের পথে ন্যায়ের পথে লড়াই করছি।
সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে ও সদস্যসচিব কাদের গণি চৌধুরীর সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী, রুহুল আমিন গাজী, অধ্যাপক আ ফ ম ইউসুফ হায়দার, অধ্যাপক তাজমেরী এস এ ইসলাম, অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুস, অ্যাডভোকেট মাসুম আহমেদ তালুকদার, অধ্যাপক গোলাম হাফিজ কেনেডী, অধ্যাপক লুৎফুর রহমান, অধ্যাপক এবিএম ওবায়দুল ইসলাম, অধ্যাপক অধ্যাপক কামরুল আহসান, অধ্যাপক শামসুল আলম সেলিম, রিয়াজুল ইসলাম রিজু, মোস্তাফিজুর রহমান, শহীদুল ইসলাম, সৈয়দ আবদাল আহমেদ, ডা: রফিকুল ইসলাম, শামীমুর রহমান শামীম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
এই সরকার হচ্ছে চোরের রাজা
গাজীপুর প্রতিনিধি জানান, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এই সরকার হাজার হাজার আজিজ-বেনজীর তৈরি করেছে। আজকে খবরের কাগজ খুললেই কী দেখেন আপনারা? দেখবেন সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ তার হাজার হাজার কোটি টাকার সম্পত্তি। কখন করেছেন, যখন তিনি র্যা বের ডিজি ছিলেন, পুলিশে আইজি ছিলেন; তখন করেছেন। যার বেতন সব মিলিয়ে কয়েক কোটি টাকার বেশি হয় না, সেই লোকের এখন দেখা যাচ্ছে হাজার হাজার কোটি টাকার সম্পদ।
তিনি গতকাল বিকেলে নগরীর চান্দনা চৌরাস্তাসংলগ্ন একটি কমিউনিটি সেন্টারে গাজীপুর মহানগর বিএনপি আয়োজিত দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৪৩তম শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
সেনাবাহিনীর সাবেক প্রধান জেনারেল আবদুল আজিজ সম্পর্কে মির্জা ফখরুল বলেন, এটি গেল একজনের কথা, আরেকজনের কথা বাইরে বেরিয়ে এসেছে। হঠাৎ করে আমরা দেখলাম সেনাবাহিনীর সাবেক প্রধান জেনারেল আজিজ। যার একটা ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছিল আলজাজিরাতে। তিনি কিভাবে তার ভাইদেরকে রক্ষা করার জন্য প্রভাব খাটিয়ে তাদেরকে মুক্ত করে পাসপোর্ট দিয়ে বিদেশে পাঠিয়ে দিয়েছিল। তার বিরুদ্ধে আমেরিকা স্যাংশন দেয়ার পরে এখন তাদের টনক নড়েছে। এখন বলছে আমরা এখন তদন্ত করব।


