Home Blog

বাংলাদেশ-আফগানিস্তান টেস্ট পছন্দের টেস্টে সেঞ্চুরি উদযাপন লিটনের

০

এই তো তিন টেস্ট আগেই সেঞ্চুরি ও ফিফটি ছিল লিটন কুমার দাসের। সিলেটে পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলা ওই ইনিংস দুটি ছিল বিনোদনে ভরপুর। রীতিমতো ক্ল্যাসিক শটে আনন্দ বিলিয়েছেন তিনি। সেই লিটন পরের তিন ইনিংসে তিন শূন্য! অনেক স্বপ্ন নিয়ে অস্ট্রেলিয়া গিয়ে শূন্যহাতে ফেরার কষ্ট কুরে কুরে খেয়েছে তাকে। ম্যানেজার নাফিস ইকবাল বলেছিলেন, ব্যর্থ লিটন কেঁদে ছিলেন নীরবে। সেই লিটনের মুখে এক সিরিজ পরই হাসি ফুটেছে। খুশিতে দুই বাহু প্রসারিত করেছেন। আবুধাবি টেস্টে আফগানিস্তানের বিপক্ষে পেলেন সেঞ্চুরি ও হাফ সেঞ্চুরি। ম্যাচে ১৫৫ রান তাঁর। আফগানিস্তানের অধিনায়ক রহমত শাহ (১৫৬) ছাড়া লিটনের পেছনে বাকিরা। ছবির মতো ব্যাটিং দিয়ে সেঞ্চুরি করার আগে একটি মাইলফলকও ছুঁয়েছেন উইকেটরক্ষক এ ব্যাটার। এর মাধ্যমে মুশফিকুর রহিম, তামিম ইকবাল ও সাকিব আল হাসানের পর চতুর্থ বাংলাদেশি হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৯ হাজার রানের মালিক হলেন তিনি।

বাংলাদেশ তৃতীয় দিনের খেলা শেষ করেছিল ছয় উইকেটে ২২৩ রানে। লিটন দাস পাঁচ ও মেহেদী মিরাজ শূন্য রানে অপরাজিত ছিলেন। গতকাল সোমবার নতুন পরিকল্পনা নিয়ে ব্যাটিংয়ে নামেন দুজন। একটু একটু করে জুটি গড়েন। ইনিংসের ৭৭তম ওভারে কায়েসের বলে চার মেরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের তিন সংস্করণ মিলে ৯ হাজার রানে পৌঁছান লিটন। ব্যক্তিগত স্কোর হাফ সেঞ্চুরি ছুঁয়েছেন ৬১ বলে ৭টি চারে। পরের পঞ্চাশ রান করতে লেগেছে ৫৪ বল। এখানেও সাতটি বাউন্ডারি হাঁকিয়েছেন। ১১৫ বলে ১৪ চারে ১০০ রান তথা সপ্তম টেস্ট সেঞ্চুরি লিটনের। ১০২ রানে আউট হন তিনি। যদিও তাঁর এই সেঞ্চুরি নিখুঁত ছিল না, ১৪ রানে স্লিপে শাহিদউল্লাহ কামালের হাতে আর ২৬ রানে কায়েসের হাতে জীবন পান তিনি। দিনের খেলা শেষে লিটন জানান টেস্ট ক্রিকেটটা একটু বেশি উপভোগ করেন তিনি, ‘তিনটা ফরম্যাটই আমার ভালো লাগে। তবে টেস্ট ক্রিকেটের মর্যাদা একটু ওপরে। কারণ এই ম্যাচটিতে অনেক কিছু হয়। প্রথম দিন থেকে পঞ্চম দিন পর্যন্ত অনেক চ্যালেঞ্জ থাকে। উপভোগ করার মতো অনেক পরিস্থিতি থাকে। টেস্ট ক্রিকেট আমার পছন্দের।’ টেস্টে ভালো খেলার কারণ হিসেবে কিপিংয়ের ভূমিকা আছে বলে মনে করেন তিনি, ‘কিপিং আমার ব্যাটিং ভালো করতে সাহায্য করে। উইকেটের পেছনে থেকে অনেক কিছু বুঝতে পারি। পিচ সম্পর্কে একটা ধারণা চলে আসে। এটা আমার ব্যাটিংয়ে অনেক সাহায্য করে।’

লিটনের শতক ছোঁয়ার ঠিক আগে অর্ধশতক করেন মেহেদী মিরাজ। ৯২ বলে টেস্টে ১২তম হাফ সেঞ্চুরির পেলেন তিনি। ৯৭ বলে ৫২ রানে অপরাজিত মিরাজ। লিটনের আউটের পর সাত উইকেটে ৩৭২ রানে ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ। দুই ইনিংস মিলিয়ে ৪৭৮ রানের লিড নাজমুল হোসেন শান্তদের। আফগানিস্তান ৪৭৯ রানের লক্ষ্য নিয়ে খেলছে দ্বিতীয় ইনিংস। ২৮ রানে দুই উইকেট হারিয়ে ফেলা দল লড়াই করে তৃতীয় উইকেট জুটিতে। এবারও রহমত শাহ প্রতিরোধের দেয়াল তুলে দেন বোলারদের সামনে। সেদেকুল্লাহ আতালকে নিয়ে ২১৪ বলে ৮২ রানের জুটি গড়েন। ১২৬ বলে ৩৫ রানে অপরাজিত আতাল। ৫১ রানে এবাদত হোসেনের বলে আউট হন রহমত। তিন উইকেটে ১৩২ রানে দিন শেষ করেছে তারা। সাত উইকেটে শেষ দিন ৩৪৭ রান করতে পারলে বিশ্বরেকর্ড গড়ে ম্যাচ জিতবে আফগানিস্তান। এর আগে অলআউট হলে জয়ী হবে বাংলাদেশ।

টানা তৃতীয় দিন রিয়াদ লক্ষ্য করে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা টানা তৃতীয় দিনের মতো সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, তাদের বাহিনী রিয়াদ অভিমুখে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে।

জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানান।

তুর্কি আল-মালিকি বলেন, রিয়াদ লক্ষ্য করে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে হুতিরা। এ ছাড়া সৌদি আরবের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর খামিস মুশাইতের দিকে আরও দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে।

গত কয়েক দিনে রিয়াদে একের পর এক হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। হামলার ধাক্কা সামলে ওঠার চেষ্টা করছে সৌদি আরবের রাজধানী।

আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত কয়েক দিনের হামলার পর রিয়াদের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

দিল্লির যন্তর মন্তরে ঢোকার চেষ্টা, সিজেপির দুই নেতা আটক

ভারতের রাজধানী দিল্লির যন্তর মন্তরে নিরাপত্তাবেষ্টনী ভেঙে প্রবেশের চেষ্টার অভিযোগে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) দুই নেতাকে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার সকালে আটক ব্যক্তিরা হলেন দলটির প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস, জাতীয় মুখপাত্র অশুতোষ রাঙ্কা।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া ও এএনআইয়ের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, যন্তর মন্তরকে বিক্ষোভের নির্ধারিত স্থান হিসেবে বাতিল করার পর সেখানে জড়ো হন সিজেপির নেতাকর্মীরা। তারা নিরাপত্তাবেষ্টনী অতিক্রম করে সেখানে প্রবেশের চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের আটক করে। পরে তাদের ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।

সিজেপির নেতা অভিজিৎ দিপকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিন নেতাকে আটকের কথা জানান। তিনি লেখেন, জাতীয় পতাকা হাতে দলের নেতাকর্মীরা ভোরে যন্তর মন্তরে প্রবেশ করেছিলেন। পরে পুলিশ তাদের আটক করে। যন্তর মন্তরকে বিক্ষোভস্থলের তালিকা থেকে বাদ দিলেও প্রতিবাদের অধিকার কেড়ে নেওয়া যায় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এর আগে যন্তর মন্তরকে বিক্ষোভের নির্ধারিত স্থান হিসেবে বাতিল করার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন দিপকে। তার অভিযোগ, বিক্ষোভস্থল বাতিল করে প্রতিবাদ বন্ধ করা যাবে না।

কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশও সরকারের এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন। তার অভিযোগ, যন্তর মন্তরকে বিক্ষোভস্থলের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার মধ্য দিয়ে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের সুযোগ সীমিত করা হচ্ছে। গণতান্ত্রিক অধিকার ও ভিন্নমত প্রকাশের স্বাধীনতা নিয়েও উদ্বেগ জানান তিনি।

সোমবার জারি করা এক সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে যন্তর মন্তরকে দিল্লিতে বিক্ষোভ ও সমাবেশের নির্ধারিত স্থান হিসেবে বাতিল করার কথা জানানো হয়। এর পরিবর্তে তিনটি স্থানকে বিক্ষোভের জন্য নির্ধারণ করেছে দিল্লি পুলিশ। স্থানগুলো হলো রামলীলা ময়দান, বুরারি ময়দান ও পূর্ব দিল্লির সিবিডি ময়দান।

সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নাগরিকদের বিক্ষোভ ও সমাবেশের বিকল্প স্থান নির্ধারণে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি কমিটি গঠন করেছিল। ওই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে যন্তর মন্তরকে নির্ধারিত বিক্ষোভস্থলের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

ভিটামিন সি-র ঘাটতি পূরণে খাদ্যতালিকায় রাখুন ৬ খাবার

শরীর সুস্থ রাখতে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ভিটামিন সি’য়ের তুলনা নেই। প্রতিদিনের খাবার থেকেই শরীরে এই ভিটামিনের ঘাটতি পূরণ সম্ভব। যেমন-

পেয়ারা : পেয়ারায় পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন সি থাকে। প্রতি ১০০ গ্রাম পেয়ারা থেকে ২১৪ গ্রাম ভিটামিন সি পাওয়া যায়।

আমলকী: ভিটামিন-সিয়ের আরেকটি চমৎকার উৎস আমলকী। নিয়মিত এই ফল খেলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে।

পেঁপে : অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর পেঁপেতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি পাওয়া যায়। প্রতি ১০০ গ্রাম পেঁপেতে প্রায় ৬২ গ্রাম ভিটামিন সি পাওয়া যায়।
স্ট্রবেরি : এক কাপ স্ট্রবেরিতে প্রায় ৮০ গ্রাম ভিটামিন সি থাকে। ভিাটমিন সি’য়ের চাহিদা পূরণে এই ফলটি খেতে পারেন।

কিউই : একটি কিউই ফল থেকে প্রায় ৬৪ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি পাওয়া যায়।

আনারস : সুস্বাদু এই ফলে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি থাকে। এর পাশাপাশি এতে পর্যাপ্ত পরিমাণে ম্যাঙ্গানিজ থাকে। এই উপাদানটিও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়োতে সাহায্য করে।

কাচের মতো স্বচ্ছ ত্বক পেতে মেনে চলুন ৬ ধাপ

বিশ্বজুড়ে কোরিয়ান রূপচর্চা জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এখন সৌন্দর্যপ্রেমীদের অন্যতম আকাঙ্ক্ষা ‘গ্লাস স্কিন’; অর্থাৎ এমন ত্বক, যা দেখলে মনে হবে কাচের মতো স্বচ্ছ, মসৃণ, টানটান ও দীপ্তিময়। গ্লাস স্কিনের মূল দর্শন হলো স্তরে স্তরে ত্বকে আর্দ্রতা জোগানো এবং ত্বকের প্রাকৃতিক প্রতিরোধী স্তরকে সুস্থ রাখা। অর্থাৎ একসঙ্গে ভারী অনেক পণ্য ব্যবহারের বদলে ত্বকের প্রয়োজন অনুযায়ী একের পর এক হালকা পণ্য ব্যবহার করা।

শুরু হোক ডাবল ক্লিনজিং দিয়ে
গ্লাস স্কিনের রুটিনের ভিত্তি হলো ডাবল ক্লিনজিং। প্রথমে তেলভিত্তিক ক্লিনজার, এরপর পানি-ভিত্তিক ক্লিনজার দিয়ে মুখ পরিষ্কার করতে হবে। চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘাম-ধুলাবালি ও পরিবেশের নানা দূষিত কণা পানিতে দ্রবণীয়। তাই দিনের জমে থাকা সব ধরনের ময়লা ভালোভাবে দূর করতে দুই ধাপে মুখ পরিষ্কার করা কার্যকর। প্রথম ধাপে ক্লিনজিং অয়েল বা বাম ব্যবহার করে মেকআপ ও সানস্ক্রিন তুলে নিতে পারেন। এরপর মৃদু ফোম বা জেল ক্লিনজার দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন। এতে ত্বক পরিষ্কার হবে, আবার অতিরিক্ত শুষ্কও হবে না।

মরা কোষ দূর করতে এক্সফোলিয়েশন
মুখের মৃত কোষ দূর করে ত্বকের সৌন্দর্য বাড়াতে এক্সফোলিয়েশন গুরুত্বপূর্ণ। এতে ত্বকের ওপরের স্তর মসৃণ হয় এবং মুখে উজ্জ্বলতা আসে। তবে খুব  রুক্ষ স্ক্রাব ব্যবহার করা উচিত নয়। এতে ত্বকে জ্বালা, ব্রণ এমনকি প্রদাহের পর কালচে দাগ হতে পারে। তুলনামূলকভাবে মৃদু রাসায়নিক এক্সফোলিয়েন্ট বেছে নেওয়া ভালো।

টোনার ও এসেন্স
ডাবল ক্লিনজিংয়ের পর ত্বকে আর্দ্রতা ফেরাতে টোনার ও এসেন্স ব্যবহার করুন। টোনার ও এসেন্স ত্বকে আর্দ্রতা জোগানোর পাশাপাশি স্কিন ব্যারিয়ার পুনরুদ্ধারে সহায়তা করে। এগুলো ত্বকের পিএইচ ভারসাম্য বজায় রাখতে, আর্দ্রতা বাড়াতে সহায়ক। পরবর্তী সময়ে সিরাম ও ময়েশ্চারাইজার শোষণে  ত্বককে প্রস্তুত করতে সাহায্য করে টোনার ও এসেন্স। হালকা, পানি-জাতীয় টোনার থেকে শুরু করে তুলনামূলক ঘন এসেন্স-ত্বকের ধরন অনুযায়ী বেছে নিতে পারেন।

হালকা সিরাম
এরপর ব্যবহার করুন সিরাম বা অ্যাম্পুল। অ্যাম্পুল সাধারণত সিরামের তুলনায় বেশি ঘন। হায়ালুরোনিক অ্যাসিডযুক্ত হাইড্রেটিং সিরাম ত্বকে আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। নিয়মিত ব্যবহারে ত্বক তুলনামূলকভাবে নরম, মসৃণ ও টানটান দেখাতে পারে। গ্লাস স্কিনের মূল লক্ষ্য যেহেতু আর্দ্র ও উজ্জ্বল ত্বক, তাই সিরাম বাছাইয়ের সময় নিজের ত্বকের প্রয়োজনকে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। শুষ্ক ত্বকে বেশি হাইড্রেটিং ফর্মুলা, আর তৈলাক্ত বা ব্রণপ্রবণ ত্বকে হালকা, নন-কমেডোজেনিক ফর্মুলা বেছে নেওয়া ভালো।

ময়েশ্চারাইজার
এ পর্যায়ে ত্বকে ময়েশ্চারাইজার লাগান। চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, সিরামের পর ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করলে ত্বক দীর্ঘসময় আর্দ্রতা ধরে রাখতে পারে। ময়েশ্চারাইজার বাছাইয়ের সময় সেরামাইড, ফ্যাটি অ্যাসিড, সিকা ও এক্টোইন-এর মতো উপাদান দেখতে পারেন।

সবশেষে সানস্ক্রিন
গ্লাস স্কিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলোর একটি সানস্ক্রিন। কারণ ত্বক যতই উজ্জ্বল ও মসৃণ হোক, সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি থেকে সুরক্ষা না দিলে সেই উজ্জ্বলতা ধরে রাখা কঠিন। ত্বকের অসম রং, পিগমেন্টেশন, সূর্যের ক্ষতি ও অকাল বার্ধক্য প্রতিরোধে সানস্ক্রিন অপরিহার্য। তাই বাইরে বের না হলেও দিনের বেলায় সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন। দীর্ঘ সময় বাইরে থাকলে দুই ঘণ্টা পর পর পুনরায় সানস্ক্রিন ব্যবহার করা জরুরি।

সেমিনারে বক্তারা রাতারাতি ধনী হওয়ার ফাঁদ থেকে সতর্ক থাকতে হবে

০

প্রযুক্তির দ্রুত প্রসার ও সামাজিক মাধ্যমের অপব্যবহারকে পুঁজি করে ছড়িয়ে পড়া ডিজিটাল প্রতারণা, ভুয়া প্রচারণা ও গুজবের ফাঁদ থেকে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন পুঁজিবাজারের অংশীজন ও নীতিনির্ধারকরা। রাতারাতি বড়লোক হওয়ার অবাস্তব লোভ ও চটকদার প্রলোভনে না পড়ে কোম্পানির আর্থিক সক্ষমতা, প্রকৃত নগদ প্রবাহসহ মৌলভিত্তি যাচাই করে বিনিয়োগের পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

গতকাল সোমবার রাজধানীর নিকুঞ্জে ডিএসই ভবনে ‘ডিজিটাল প্রতারণা ও সতর্কতা’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এমন পরামর্শ দিয়েছেন। এই সেমিনারের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহের সমাপনী আয়োজন। সমাপনী অনুষ্ঠান যৌথভাবে আয়োজন করে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ এবং ডিএসইর ব্রোকারদের সংগঠন ডিবিএ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির চেয়ারম্যান মাসুদ খান বলেন, বিনিয়োগকারী সচেতনতা পুলিশের বিশেষ সপ্তাহের মতো কেবল এক সপ্তাহের বিষয় নয়; বছরব্যাপী বজায় রাখতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, ডিজিটাল মাধ্যমে প্রতারণার ঝুঁকি বাড়ার পেছনে মানুষের রাতারাতি ধনী হওয়ার লোভ কাজ করে।
কোম্পানিগুলোর আর্থিক বিবরণী পর্যালোচনার ক্ষেত্রে বিএসইসি চেয়ারম্যান সতর্ক করে বলেন, মুনাফা একটি ধারণা মাত্র, কিন্তু নগদ টাকাই হলো প্রকৃত সত্য। তাই নিছক হিসাবের খাতার মুনাফা না দেখে কোম্পানির পরিচালন নগদপ্রবাহ ইতিবাচক কিনা, তা দেখে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ঘোড়াকে টেনে পানির কাছে নেওয়া গেলেও জোর করে পানি খাওয়ানো যায় না– এমন প্রচলিত প্রবাদের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থা যত উদ্যোগই নিক না কেন, বিনিয়োগকারীদের নিজেদেরও জানার ও শেখার মানসিকতা তৈরি করা ছাড়া প্রতারণা কমিয়ে আনা সম্ভব নয়।
মাসুদ খান জানান, আগামী ৩০ নভেম্বর পুঁজিবাজারে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ তহবিলের মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে। তহবিলের মেয়াদ এবং আকার বাড়ানোর বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং এ বিষয়ে ইতিবাচক সমাধানের প্রত্যাশা রয়েছে।

আইপিও সংস্কার বিষয়ে বিএসইসি চেয়ারম্যান জানান, আইপিও বিধিমালা চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং তা জনমতের জন্য ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। অডিট প্রক্রিয়ায় বিশেষ স্ক্রিনিং বা নিরীক্ষকদের মাধ্যমে বাড়তি যাচাইয়ের ব্যবস্থা রেখে আইপিও অনুমোদনের সময়সীমা দুই মাসে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি অবকাঠামো ও ভারী শিল্পের ক্ষেত্রে পুঞ্জীভূত লোকসানের বিদ্যমান শর্ত শিথিল করা এবং আইপিওর অর্থ দিয়ে ঋণ পরিশোধের সীমা ৩০ শতাংশ থেকে বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ডিএসইর চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম বলেন, পুঁজিবাজারের মূল চালিকাশক্তি হলো সময়মতো, সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ তথ্যের অবাধ প্রবাহ। তবে বর্তমানে সামাজিক মাধ্যমের অপব্যবহারের ফলে ডিজিটাল প্রতারণা একটি বিরাট সংকট হিসেবে দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপ বা পেজে স্টক এক্সচেঞ্জ, বিএসইসি কিংবা ব্রোকারেজ হাউসের নকল লোগো ব্যবহার করে নিজেদের ভুয়া বিশেষজ্ঞ দাবি করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। দুই সপ্তাহে টাকা দ্বিগুণ করার চটকদার ফাঁদ পেতে মানুষের কষ্টার্জিত অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এই প্রতারণা রুখতে ডিএসই সার্ভেইল্যান্স অ্যান্ড মনিটরিং প্রযুক্তি আধুনিকায়নের উদ্যোগ নিয়েছে।

বিএসইসির কমিশনার নাফিজ আল তারিক বলেন, সাধারণ বিনিয়োগকারীদের দ্রুত মুনাফার লোভেই স্ক্যামারদের ফাঁদ সফল হয়। মার্কিন ইতিহাসের আলোচিত প্রতারক বার্নার্ড ম্যাডফের পঞ্জি স্কিমের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, চরম অস্থিতিশীল বাজারেও যদি কোনো ফান্ড অস্বাভাবিকভাবে ধারাবাহিক স্থিতিশীল মুনাফা দেখাতে থাকে, তবে সেটিই সবচেয়ে বড় বিপদের লক্ষণ। তিনি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিখ্যাত বিনিয়োগকারী ওয়ারেন বাফেটের দুটি মূল নীতি স্মরণ করিয়ে দেন– প্রথম নিয়ম কখনও পুঁজি হারানো যাবে না, দ্বিতীয় নিয়ম হলো কখনও প্রথম নিয়মটি ভুলে যাওয়া যাবে না।
বিএসইসির কমিশনার নাহিদ মাহতাব বলেন, ডিজিটাল প্রতারণা কেবল সাইবার অপরাধের বিষয় নয়; এটি সরাসরি বিনিয়োগকারী সুরক্ষা, বাজারের স্বচ্ছতা ও সামগ্রিক আস্থার ওপর আঘাত। কমিশনার হোসেন সাদাত বাজারসংশ্লিষ্ট পেশাদারদের দায়িত্বশীল ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, বাজারে সেবা দিতে হলে তিনটি বিষয় নিশ্চিত করতে হবে– প্রথমত জানতে হবে, দ্বিতীয়ত বুঝতে হবে এবং তৃতীয়ত নৈতিক দায়বদ্ধতা নিয়ে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। আরেক কমিশনার তানভীর হাবিব রহমান পুঁজিবাজারে আর্থিক সুশাসন, হিসাবের স্বচ্ছতা ও সঠিক প্রতিবেদনের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ধরে রাখার বিষয়ে গুরুত্ব দেন।
ডিবিএ সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, বাজারের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ব্রোকারদের যেমন নৈতিক দায়িত্ব রয়েছে, তেমনি বিনিয়োগকারীদেরও ন্যূনতম আর্থিক সাক্ষরতা অর্জন করে নিজস্ব বিচারবুদ্ধি প্রয়োগ করে বিনিয়োগ করতে হবে। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডিএসইর আইসিটি বিভাগের মহাব্যবস্থাপক আবু নূর মোহাম্মদ হাসানুল করিম।

বিশ্বব্যাংক থেকে সোয়া লাখ কোটি টাকা ঋণ চায় বাংলাদেশ

০

জ্বালানি খাতের বাড়তি ভর্তুকি ব্যয় মেটানোসহ সামগ্রিক অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলায় বিশ্বব্যাংকের নিয়মিত সহায়তার বাইরে আগামী তিন বছরে ১০ বিলিয়ন ডলার ঋণ নিতে চায় সরকার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় এক লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা।

থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে অনুষ্ঠিত আইএমএফ-বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সম্মেলনের প্রথম দিনে গতকাল সোমবার বিশ্বব্যাংকের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের আলাদা বৈঠকে ওই সহায়তার অনুরোধ করেছে বাংলাদেশ। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

জ্বালানি ভর্তুকি ও অর্থনৈতিক সংকট কাটাতে বিশ্বব্যাংক থেকে নিয়মিত সহায়তার বাইরে অতিরিক্ত ১০ বিলিয়ন ডলার ঋণ পেতে সংস্থাটির সঙ্গে তিন বছরের জন্য একটি বিশেষ কর্মসূচি চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছ থেকে প্রস্তাবিত ৪.৫ বিলিয়ন ডলার ঋণ সহায়তা পেতেও আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ।

গতকাল বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের বার্ষিক সভার প্রথম দিনে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের দেড় ঘণ্টার বৈঠক হয়। বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সরকারের এমন একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে সমকালকে বলেন, জ্বালানি ভর্তুকি মেটানো ও সামষ্টিক অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফেরাতে আগামী তিন বছরের জন্য বিশ্বব্যাংকের কাছে অতিরিক্ত ১০ বিলিয়ন ডলার ঋণ চাওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ থেকে বার্ষিক সভা কাভার করতে আসা সাংবাদিকদের অর্থমন্ত্রী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তেল ও গ্যাসের দাম বেড়েছে। এতে জ্বালানি খাতে সরকারের ভর্তুকি ব্যয়ও বাড়ছে। এই বাড়তি ব্যয় সামাল দিতে বিশ্বব্যাংক সহায়তা দিতে এগিয়ে আসার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমান অর্থনৈতিক চাপ কাটিয়ে উঠতে আগামী দুই থেকে তিন বছরের জন্য একটি সুরক্ষাবলয় তৈরিতে বিশ্বব্যাংক সহযোগিতা করবে। এ জন্য সংস্থাটির সঙ্গে কান্ট্রি পার্টনারশিপ ফ্রেমওয়ার্ক চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। এর মাধ্যমে আগামী দিনের সহযোগিতার সুনির্দিষ্ট রূপরেখা নির্ধারিত হবে।

বিশ্বব্যাংকের নিয়মিত সহায়তার বাইরে অতিরিক্ত ঋণ পাওয়ার বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে তেল ও গ্যাসের উচ্চমূল্যের কারণে জ্বালানি খাতে যে বাড়তি ব্যয় তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলায় আরও ঋণ সহায়তা পাওয়া যেতে পারে। খুব শিগগির বিশ্বব্যাংকের একটি প্রতিনিধি দল আলোচনা চূড়ান্ত করতে ঢাকা সফর করবে।

অন্যদিকে আইএমএফের কাছ থেকে সাড়ে চার বিলিয়ন ডলার ঋণ পাওয়ার শর্তগুলো একসঙ্গে বাস্তবায়নের পরিবর্তে পর্যায়ক্রমে এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সংস্থাটির সঙ্গে আলোচনা করছে সরকার। এ বিষয়ে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে শর্তগুলো পরিমার্জন করে বাংলাদেশের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।

আইএমএফের শর্তগুলো বাস্তবায়ন কঠিন হবে কিনা– এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, কিছু নির্দিষ্ট শর্ত নিয়ে আলোচনা চলছে। পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে সেগুলো পরিমার্জন করা সম্ভব। একসঙ্গে অনেক সংস্কার চাপিয়ে না দিয়ে পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ঋণের শর্ত নিয়ে আগামী দুদিন আইএমএফের সঙ্গে বৈঠক চলবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের সংস্কার কর্মসূচির সঙ্গে বাংলাদেশের নিজস্ব পরিকল্পনার বড় ধরনের কোনো মতপার্থক্য নেই। আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমেই বিষয়গুলোর সমাধান করা সম্ভব বলে সরকার আশাবাদী।

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল তিতুমীর সাংবাদিকদের বলেন, ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, কর-জিডিপি অনুপাত বাড়ানো এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে সরকারের সংস্কার কর্মসূচির সঙ্গে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের নীতিগত ঐকমত্য রয়েছে। তিনি বলেছেন, জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী অর্থনৈতিক সংস্কারের যে রূপরেখা সরকার নিয়েছে, বহুপক্ষীয় উন্নয়ন সহযোগীরাও তার মূল লক্ষ্যগুলোর সঙ্গে একমত।

বিনিয়োগ বাড়াতে চীন, জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশে উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বাড়াতে বহুমুখী উৎস থেকে অর্থায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বন্ধ কলকারখানা চালু করা, সামাজিক সুরক্ষা সম্প্রসারণ এবং জ্বালানি খাতের বাড়তি ব্যয় সামাল দেওয়াও সরকারের অগ্রাধিকারে রয়েছে।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে থাইল্যান্ডের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক বাড়ানোর বিষয়েও ইতিবাচক অগ্রগতির কথা জানান রাশেদ আল তিতুমীর। তিনি বলেন, থাই চেম্বারের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য কয়েকটি সম্ভাবনাময় খাত তুলে ধরা হয়েছে। এসব খাতে উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও মূল্য সংযোজনের সুযোগ রয়েছে।

বিশেষ করে কৃষিজাত পণ্য, ফল, দুগ্ধজাত পণ্য এবং হালাল খাদ্যপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণে থাই বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ দেখা গেছে বলে জানান তিনি। বাংলাদেশে মৌসুমে আম, কাঁঠাল ও লিচুর মতো ফলের সরবরাহ বেশি থাকলেও পর্যাপ্ত হিমাগার ও প্রক্রিয়াজাতকরণ সুবিধার অভাবে অনেক পণ্য নষ্ট হয়। কৃষকরাও অনেক সময় ন্যায্য দাম পান না। এসব পণ্য প্রক্রিয়াজাত করে হালাল বাজারসহ আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানির সুযোগ রয়েছে।

তিনি জানান, দুই দেশের মধ্যে এমন উৎপাদন নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার সম্ভাবনা রয়েছে, যেখানে কোনো পণ্যের প্রাথমিক উপকরণ বাংলাদেশে উৎপাদিত হবে, মধ্যবর্তী পণ্য থাইল্যান্ডে তৈরি হবে এবং পরে চূড়ান্ত পণ্য উৎপাদন ও রপ্তানি করা হবে। আবার কিছু পণ্যের ক্ষেত্রে এর বিপরীত ব্যবস্থাও গড়ে উঠতে পারে।

ব্যাংকের মূলধন পুনর্গঠনে আইএফসির আগ্রহ
দেশের ব্যাংকিং খাতের মূলধন পুনর্গঠনে আগামী পাঁচ থেকে আট বছর প্রতিবছর ৬০ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে– এমন প্রস্তাব সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, সরকার ইতোমধ্যে এ জন্য প্রয়োজনীয় তহবিল বরাদ্দ রেখেছে। তবে শুধু সরকারি অর্থায়নে এই চাহিদা পূরণ করা কঠিন। বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রতিষ্ঠান আইএফসি ব্যাংকের মূলধন পুনর্গঠনে সহায়তা দেওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছে। পাশাপাশি বেসরকারি ইকুইটি থেকেও ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে।

ব্যাংকিং খাতের পরিস্থিতি সম্পর্কে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমানতকারীদের মধ্যে যে ভীতি তৈরি হয়েছিল, তা এখন পুরোপুরি কেটে গেছে। ব্যাংকে আমানত ফিরছে এবং নিট আমানত বাড়ছে। পুঁজিবাজারেও ইতিবাচক ধারা ফিরছে এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আবার বিনিয়োগে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।

উন্নয়ন অর্থায়নে বিশ্বব্যাংকের নতুন উদ্যোগ
উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে দানশীল ব্যক্তি ও দাতব্য সংস্থাগুলোর অর্থ, জ্ঞান এবং বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক কাজে লাগাতে ‘ফিলানথ্রপি হাব’ নামে নতুন একটি প্ল্যাটফর্ম চালু করেছে বিশ্বব্যাংক গ্রুপ। বার্ষিক সভার উদ্বোধনী দিনে ফিলানথ্রপি ফোরামে এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।

এ উদ্যোগের মাধ্যমে উদ্ভাবনী ধারণা ও পরীক্ষামূলক প্রকল্পগুলোকে বৃহত্তর পরিসরে বাস্তবায়নের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক। পাশাপাশি টেকসই স্বাস্থ্যসেবাসহ বিভিন্ন অগ্রাধিকারমূলক উন্নয়ন প্রকল্পে সহযোগিতা বাড়াতে এশিয়ার শীর্ষস্থানীয় ফিলানথ্রপিক নেটওয়ার্ক এভিপিএন এবং টেমাসেক ট্রাস্টের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।
সরকারি সম্পদের সীমাবদ্ধতার মধ্যে বেসরকারি ও দাতব্য প্রতিষ্ঠানের অর্থায়ন, জ্ঞান ও নেটওয়ার্ক কাজে লাগিয়ে বিশ্বজুড়ে টেকসই উন্নয়ন ত্বরান্বিত করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

একক প্রার্থীর চ্যালেঞ্জে বিএনপি, ইসিতে আশ্বস্ত নয় জামায়াত

ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন অনুষ্ঠানের সময়সূচি ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এবারের নির্বাচন পাঁচটি ধাপে আয়োজন করা হবে। প্রথম ধাপের ভোট হবে আগামী বছরের ২১ জানুয়ারি।

গতকাল সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের সভাকক্ষে ইসির ১৩তম কমিশন সভায় সময়সূচি চূড়ান্ত করে কমিশন। পরে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ ভোটের রোডম্যাপ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে ২৭ মে পর্যন্ত পাঁচ ধাপে  ৪ হাজার ৩০০ ইউপির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

স্থানীয় নির্বাচনের এই সময়সূচি নিয়ে বিএনপি কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে চলতি বছরের নভেম্বর থেকে স্থানীয় নির্বাচন শুরুর ঘোষণা দিয়েও সরকারের প্রতিক্রিয়ার পর নির্বাচন কমিশন একবার পিছিয়ে যাওয়ায় ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী সাংবিধানিক সংস্থাটি নির্বাচন আয়োজন করতে পারবে কিনা– এ নিয়ে সন্দিহান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী।

জামায়াত বলছে, অভ্যন্তরীণ কোন্দলে হানাহানি হতে পারে এমন আশঙ্কায় সরকারি দল নির্বাচন চায় না। এ পরিস্থিতিতে নির্বাচন হবে কিনা, সন্দেহ রয়েছে। তবে জামায়াত নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত। এনসিপিও দ্রুত স্থানীয় নির্বাচন চায়।

জামায়াত ২০২৫ সালের শুরুতেই ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা, সিটি করপোরেশন এবং পৌরসভায় কারা দল সমর্থিত প্রার্থী হবেন, তা নির্ধারণ করেছে। তারা জনসংযোগও অব্যাহত রেখেছে। অন্যদিকে আসন্ন ইউপি নির্বাচনে কোন্দল মোকাবিলা করে চেয়ারম্যান পদে একক প্রার্থী বাছাই করা ক্ষমতাসীন বিএনপির জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।

২০১৬ সালের ২২ মার্চ থেকে ৪ জুন পর্যন্ত ছয়টি ধাপে প্রথমবারের মতো রাজনৈতিক দলভিত্তিকভাবে এবং দলীয় প্রতীকে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন হয়। সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) তথ্যানুযায়ী, ওই নির্বাচন ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম রক্তাক্ত ভোট; তখন ১০১ জন নিহত হন।

২০২১ সালের নভেম্বর থেকে সাত ধাপে হয়েছিল ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন। সেবার চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রতীকে এবং ৯টি সাধারণ ওয়ার্ডে ও তিনটি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে নির্দলীয় পদ্ধতিতে নির্বাচন হয়। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই নির্বাচনে ১১৩ জন নিহত এবং সাত হাজার ২০১ জন আহত হন।

আগের দুই নির্বাচনে সে সময়ের ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী এবং বিদ্রোহী স্বতন্ত্রদের সংঘর্ষে অধিকাংশ প্রাণহানি হয়েছিল। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার অধ্যাদশে জারি করে স্থানীয় নির্বাচনে দলীয় প্রতীক বাদ দেয়। বিএনপি সরকার তা আইনে পরিণত করেছে।

ক্ষমতাসীন দলের সাম্প্রতিক বৈঠকগুলোতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দল-সমর্থিত একক প্রার্থী বাছাইয়ের চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। দলের একাধিক প্রার্থী হলে সংঘাতের আশঙ্কা রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তা কতটা ঠেকাতে পারবে, এই শঙ্কার কথাও উঠেছে।

গত রোববার স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভার পর কমিটির সভাপতি এ কে এম সেলিম রেজা হাবিব বলেন, নির্বাচন পরিচালনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এখনও পুরোপুরি প্রস্তুত নয়। বাহিনীকে প্রস্তুতির সময় দিয়ে যেন নির্বাচনের তপশিল ঘোষণা করা হয়।

এ সময়ে তাঁর পাশে ছিলেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খান এবং স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তারা সভাপতির বক্তব্যে এ নিয়ে আপত্তি করেননি। যদিও সভায় বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা দ্রুত স্থানীয় নির্বাচনের দাবি করেছেন বলে সমকালকে জানিয়েছেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান। স্থানীয় সরকারের স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেছেন, জামায়াত আগেও বলেছে, এখনও বলছে– দ্রুত নির্বাচন হতে হবে।

কমিশন সভায় সময়সূচি চূড়ান্ত
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে গতকালের সভায় অন্য চার নির্বাচন কমিশনার এবং ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন। সভা শেষে ব্রিফিংয়ে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানান, চূড়ান্ত সময়সূচি অনুযায়ী ২১ জানুয়ারি, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২৯ এপ্রিল, ১৩ মে এবং ২৭ মে পাঁচ ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন হবে।

তিনি বলেন, আনুমানিক চার হাজার ৩০০-এর মতো ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ পূর্ণ হয়ে গেছে।

আইন অনুযায়ী এই ইউনিয়ন পরিষদগুলোর নির্বাচন ২০২৭ সালের ২৭ মের মধ্যে শেষ করা হবে।

এর আগে গত ১৩ সেপ্টেম্বর ইসির প্রাক-প্রস্তুতিমূলক সভা শেষে সাত ধাপে ইউপি নির্বাচনের খসড়া সময়সূচি ঘোষণা করা হয়েছিল। তখন প্রথম ধাপে আগামী ১২ নভেম্বর দেশের ৮০টি উপজেলার সব ইউনিয়ন পরিষদে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা জানানো হয়।

তবে এর এক দিন পরই মন্ত্রী, উপদেষ্টা ও প্রতিমন্ত্রীরা জানান, ইউপি নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার বিষয়ে সরকার কিছু জানে না। সরকারের সঙ্গে আলোচনাও করা হয়নি। আর স্থানীয় নির্বাচন আয়োজনের বিষয়টি ইসির একক এখতিয়ার নয় বলেও দাবি করেন তারা। অবশ্য একই দিন ইসির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ইউপি নির্বাচনের যে সম্ভাব্য সময়সূচি তারা ঘোষণা করেছিল, সেটি প্রাথমিক তারিখ ছিল।

এতে ইউপি নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা নিয়ে সরকারের সঙ্গে ইসির কিছুটা দূরত্ব ও টানাপোড়েন প্রকাশ্যে চলে আসে। পরে ১৭ সেপ্টেম্বর আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে ইউপি নির্বাচনের তারিখ নিয়ে আগের অবস্থান থেকে সরে আসে ইসি। বৈঠক শেষে কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বার্ষিক ও বিভিন্ন পরীক্ষার কারণে নভেম্বরে ইউপি নির্বাচন শুরু করা সম্ভব নয়। পরীক্ষা ছাড়াও রোজা, ঈদ ও পূজাকে বিবেচনায় নিয়েই পরবর্তী কমিশন সভায় নির্বাচনের তারিখ চূড়ান্ত করা হবে।

তপশিল কবে, আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন
গতকাল ব্রিফিংয়ে নির্বাচন কমিশনার মো. সানাউল্লাহ বলেন, ইসির ১৩ সেপ্টেম্বরের প্রাক-প্রস্তুতিমূলক সভা সাত ধাপে ইউপি নির্বাচন আয়োজনের কথা বলেছিল। তবে সময় স্বল্পতায় পাঁচ ধাপে নিয়ে এসেছি।

তিনি বলেন, প্রতিটি ধাপের নির্বাচনের আগে তপশিল ঘোষণা করবেন জেলা নির্বাচন কর্মকর্তারা। সাধারণত ৪২ দিন থেকে ৪৫ দিন সময় দিয়ে তপশিল ঘোষণা করা হয়। প্রথম ধাপে সব জেলায়ই নির্বাচন শুরু করা হবে। সদর উপজেলাগুলোকে অগ্রাধিকার দেব। যেসব ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ শেষ হয়েছে, সেগুলোও অগ্রাধিকার পাবে।

ইউপি নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, বাহিনীগুলোর সঙ্গে পৃথক সভা করব। এর আগে যে সভা করেছিলাম, সেখানে সব আইনশৃঙ্খলা বাহিনী  উপস্থিত ছিল। তারা জানিয়েছিল,  নভেম্বরের মধ্যে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শেষ করবেন।

নিবন্ধিত সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপে বসার বিষয়ে সানাউল্লাহ বলেন, এখন ধারাবাহিকভাবে বাকি যেসব কার্যক্রম আছে সেগুলো চলমান থাকবে। আশা করব, আমরা যে ভালো নির্বাচনের সংস্কৃতি শুরু করেছি, সেই সংস্কৃতি বলবৎ রাখতে পারব। এ জন্য সংশ্লিষ্ট সব স্টেকহোল্ডার আমাদের সহায়তা করবেন বলে প্রত্যাশা করব।

স্থানীয় কোন্দলে বিএনপি, কেন্দ্রের কড়া বার্তা
প্রত্যেক ইউনিয়নে চেয়ারম্যান এমনকি সদস্য পদেও একাধিক প্রার্থী বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী। দলের স্থানীয় রাজনীতিতে বিভিন্ন বলয়ে বিভক্তি থাকায় এ সংকট আরও বাড়তে পারে। এ সমস্যা কাটাতে দলের চেয়ারম্যান এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দফায় দফায় বার্তা দিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচন প্রস্তুতির কথা বলেছেন।

গত রোববার রাতে বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় দলের চেয়ারম্যান বার্তা দেন, স্থানীয় নির্বাচন সুষ্ঠু হবে। বিএনপি এমন কিছু চায় না, যাতে সরকার এবং দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়। দলীয় এমপিদের দল সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে থাকতে হবে।

তৃণমূল নেতাদের সরাসরি দিকনির্দেশনা দিতে মাঠপর্যায়ের সংগঠকদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করেন দলের চেয়ারম্যান। প্রত্যেক বিভাগীয় এবং বড় বড় জেলার নেতাদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করে একক প্রার্থী বাছাইয়ের পাশাপাশি ত্যাগী, যোগ্য আর জনপ্রিয় নেতাদের গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

সংসদ নির্বাচনে অন্তত ৭৮টি আসনে বিএনপি নেতারা ‘বিদ্রোহী প্রার্থী’ হিসেবে সক্রিয় ছিলেন। তাদের সবাই বহিষ্কার হয়েছেন। তারা এবং মনোনয়ন না পাওয়া নেতাদের সঙ্গে এমপিদের বিরোধ রয়েছে। এতে অনেক জায়গায় কোন্দল ও বিভক্তি তৈরি হয়েছে। তারেক রহমান দলের সাম্প্রতিক বৈঠকগুলোতে স্পষ্ট করেছেন, দলীয় প্রতীক না থাকলেও স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইয়ে দলের  সিদ্ধান্ত যেন সামষ্টিক হয়। একক প্রার্থীর পক্ষে সবাই একযোগে কাজ করেন।

দলের শীর্ষ নেতার এমন নির্দেশনার পর কেন্দ্র থেকে স্থানীয় নেতাদের একক ও যোগ্য প্রার্থী বাছাইয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দলের কেউ যেন ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী না হয় সেজন্য দলের দায়িত্বশীলরা কাজ করছে। কেউ ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হচ্ছে।

সূত্র জানায়, ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী বাছাইয়ে উপজেলার নেতাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী বাছাইয়ে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জেলার নেতাদের।

জানতে চাইলে বিএনপির রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ শাহীন শওকত সমকালকে বলেন, দলের চেয়ারম্যান সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার বার্তা দিয়েছেন। গ্রহণযোগ্য, সাংগঠনিক অবস্থান ভালো, বিগত আন্দোলনে সক্রিয় অবদান ছিল– এমন নেতাদের চেয়ারম্যান পদে দলীয় সমর্থন দেওয়া হবে। তা ঠিক করবেন জেলা ও উপজেলার দায়িত্বশীল নেতারা। একক প্রার্থী ঠিক করতে বিভাগীয় সাংগঠনিক নেতারা সমন্বয় করবেন। প্রয়োজনে কেন্দ্র হস্তক্ষেপ করবে।

জানা গেছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী ঘোষণা করবে না। শুধু সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থীদের আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয় করিয়ে দেবেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

নানা শঙ্কায় জামায়াত, জোট অনিশ্চিত
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ সমকালকে বলেন, দলের সব প্রস্তুতিই রয়েছে। কিন্তু নির্বাচন হবে কিনা, কে জানে। ইসি সময়সূচি ঘোষণা করেছে বটে, কিন্তু যদি মন্ত্রীরা না চান, তাহলে তো ইসি আবার পিছিয়ে যাবে। এতেই বোঝা যাচ্ছে, নির্বাচন হলেও তা কেমন হবে। এই নির্বাচন কমিশন আজ্ঞাবহ এবং মেরুদণ্ডহীন, যা সংসদ নির্বাচনে দেখা গেছে।

জামায়াত কী কী শঙ্কা করছে– প্রশ্নে তিনি বলেন, স্থায়ী কমিটির সভাপতি বলছেন ‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রস্তুত নয়’। যে বাহিনী আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন আয়োজনে সহায়তায় প্রস্তুত থাকে না, সেই বাহিনীর মন্ত্রী মানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কী করে পদে থাকেন?

হামিদুর রহমান আযাদের ভাষ্য, বিএনপি পরাজয়ের ভয়ে নির্বাচন পেছাতে চাইছে। দলটির সব জেলা, উপজেলায় কোন্দল রয়েছে। নির্বাচন হলে ভীষণ হানাহানি হবে। এ কারণে বিএনপি নির্বাচন চাইছে না। আবার নির্বাচন হলেও জনগণ ভোটাধিকার প্রয়োগ পারবে কিনা সন্দেহ রয়েছে।

এদিকে গত রোববার দলের সর্বোচ্চ নির্ধারণী ফোরাম রাজনৈতিক পর্ষদে এনসিপি সিদ্ধান্ত নিয়েছে এককভাবে স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নেবে। পর্ষদ সদস্য সালেদ উদ্দিন সিফাত বলেন, একক নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে এনসিপি। কারা দল সমর্থিত হবেন, তা বাছাই শুরু হবে শিগগির।

জামায়াতের জোট ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদও জানিয়েছেন, ইউপি নির্বাচনে জোট থাকবে না। তিনি বলেন, যদি জোটের শরিক দলগুলোর মধ্যে স্থানীয় পর্যায়ে কোনো সমঝোতা হয়, হতে পারে। কেন্দ্রীয়ভাবে জোট হবে না।

নদীতে গেছে ভিটা, দাদনে শৈশব

চৌদ্দ বছরের শরিফ (ছদ্মনাম)। তার বাড়ি ছিল শরীয়তপুরের জাজিরায়। গত বছর পদ্মার ভাঙনে তা বিলীন হয়ে গেছে। কৃষক বাবা এখন হোটেলে কাজ করেন, মা অন্যের বাসায়। সে নিজে টঙ্গীর এক প্লাস্টিক কারখানায় দিনে ১২-১৪ ঘণ্টা কাজ করে। তার ছয় মাসের শ্রম ৪০ হাজার টাকায় আগাম কিনে নিয়েছে কারখানা।

সেপ্টেম্বরের প্রথমার্ধে পরিবারটির সঙ্গে কথা হয়। শরিফের বাবা বলেন, ‘এক রাইতেই তো হগল শ্যাষ। আমাগো গেরামের বেবাক মানুষ ঢাহায় গ্যাছে কাম করতে।’ ছেলের সম্পর্কে বলেন, ‘হ্যার মেলা কষ্ট অয়।’

টাঙ্গাইলের মধুপুরের এক ইটভাটায় তেরো বছরের সেলিমের (ছদ্মনাম) ছয় মাসের শ্রমের দাম উঠেছে ৩০ হাজার টাকা। কাজ সকাল ৬টা থেকে রাত ৮টা। বাড়ি সাতক্ষীরার শ্যামনগরে। ভাটায় আসার আগে সেলিম পড়ত ষষ্ঠ শ্রেণিতে।

ভাটা থেকে আগাম টাকা নেওয়া হয়েছে জানিয়ে সেলিম বলে, ‘আমি যদি পলায়ে যাই, ওরা আমারে ধইরে আনবেনে। নালি আমার মার কাছতে টাকা আদায় কইরে নেবেনে।’
জলবায়ুর বিপর্যয়ের কারণে শরিফ, সেলিমের মতো অনেক শিশু শ্রমে যুক্ত হয়েছে। জাতীয় শিশুশ্রম জরিপ ২০২২ বলছে, শিশুশ্রমে আছে প্রায় ১৭ লাখ ৭৬ হাজার শিশু, এর ১০ লাখ ৬৮ হাজারই ঝুঁকিপূর্ণ কাজে। এক দশকে সংখ্যাটা সাড়ে ৪ শতাংশ বেড়েছে। আর ইউনিসেফের সাম্প্রতিক হিসাবে দেশের প্রায় ৫ কোটি ৮৮ লাখ শিশু অন্তত একটি জলবায়ু ঝুঁকির মধ্যে বড় হচ্ছে।
গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, জলবায়ুর আঘাত সবচেয়ে বেশি পড়ে জীবিকায়, আর তাতে সবার আগে বিঘ্নিত হয় লেখাপড়া। তাঁর ভাষায়, ‘পেটে ভাত না থাকলে তো কাজ করতেই হবে, তখন স্কুলে যাওয়ার সময় কোথায়!’

ইটের ভাটায় শিশুর সারি
সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে জামালপুর, মধুপুর ও ধনবাড়ীর পাঁচটি ইটভাটা ঘুরে দেখা যায়, শ্রমিকের ভিড়ে একদল শিশু, বয়স ৭ থেকে ১৬। কেউ এসেছে মা-বাবার সঙ্গে, কেউ সরদারের হাত
ধরে। অনেকেরই বাড়ি নদীভাঙন বা উপকূলের কোনো গ্রামে।
পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে ধনবাড়ীর এক ভাটামালিক বলেন, প্রায় সব ভাটাতে শিশু-কিশোরেরা কাজ করে। উপকূল আর নদীভাঙন এলাকার অনেকে পরিবার নিয়ে আসেন, পুরো মৌসুম সবাই মিলে খাটেন। শিশুদের অল্প মজুরিতে পাওয়া যায় বলে মালিকেরাও মানা করেন না।

দাদনের বেড়াজাল
মৌসুম শুরুর আগে সরদারের হাত দিয়ে পরিবারের কাছে অগ্রিম টাকা যায়। এর বিনিময়ে ছয় মাসের জন্য ভাটায় কাজে যুক্ত হয় শিশু। এ ব্যবস্থার নাম দাদন। দেনা থেকে গেলে পরের বছর আবার সেই ভাটায় কাজ করতে হয়। এ লেনদেন লেখা থাকে সরদারের খাতায়। এক ভাটার সরদারের খাতায় ২০ কিশোর-কিশোরীর নাম দেখেছেন এ প্রতিবেদক।
আরেক ভাটায় ঝোপ পরিষ্কার করছিল ১৭ বছরের আরমান (ছদ্মনাম)। বাড়ি খুলনার কয়রায়, আইলায় বিধ্বস্ত উপকূলে। তার এটা পঞ্চম মৌসুম। সে জানায়, আগে খুব কান্না পেত। এখন আর পায় না।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের অধ্যাপক কামাল চৌধুরী বলেন, বাস্তুচ্যুতিতে শিশু-কিশোরেরা মর্যাদা, পড়াশোনা, সচ্ছলতা, এমনকি মা-বাবার সঙ্গে কাটানো সময়টুকুও হারায়। সব হারানোর এই ট্রমা থেকে মাদক বা অপরাধী চক্রের খপ্পরে পড়ার ঝুঁকি বাড়ে।

মেয়ের বেলায় হিসাব আলাদা
সেপ্টেম্বরের প্রথমার্ধে ঢাকার বছিলা ও কোম্পানিঘাটের কয়েকটি কারখানায় দশ বছরের কম বয়সী বহু ছেলেমেয়েকে কাজ করতে দেখা গেছে। তাদের একজন ৯ বছরের সুমাইয়া (ছদ্মনাম)। বাড়ি সাতক্ষীরার আশাশুনিতে। গত বছরের শেষ দিকে ঢাকায় আসার পর সে একটি পোশাক কারখানায় কাজ করে। তার মা জানান, কারখানার লোকজন অগ্রিম দিয়েছে ১০ হাজার টাকা। মাসে দেওয়ার কথা তিন হাজার টাকা।

স্কুলে ফিরতে চায় কিনা জানতে চাইলে সুমাইয়া মাথা নেড়ে বলে, ‘পাল্লি এহনি চইলে যাতাম।’
সুমাইয়াদের কারখানার কাছাকাছি একটি কাগজের প্যাকেট তৈরির কারখানায় কাজ করে ১৫ বছরের শিউলি (ছদ্মনাম)। বাড়ি ছিল মুন্সীগঞ্জের নদীতীরের এক গ্রামে। গত বছর তার বিয়ের আয়োজন হয়। সে পালিয়ে আসে খালার কাছে। শিউলি বলে, ‘এইহানে দম বন্ধ লাগে। তয় এইডাই আমার বাঁচনের পথ। আমি জানি, এই বয়সে বিয়া করলে জীবন শ্যাষ। আমার বান্ধবীরা হগলতে দুই-একটা পোলাপানের মা।’ ভালো কাজ পেলে সে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে আবার পড়তে চায়।
রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, ‘প্রথম আঘাতটাই আসে মেয়েদের ওপর।’ পড়ার বেলায় পরিবার ছেলেকে আগে রাখে। ভাঙনে স্কুল হারালে দূরের স্কুলে যাওয়া মেয়েদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে।
ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটির (আইআরসি) গবেষণায় উপকূলের কিছু এলাকায় দুর্যোগের পর বাল্যবিবাহ ৩৯ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে দেখা গেছে। অথচ মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের ঠেকানো বাল্যবিবাহের সংখ্যা ২০২৩ সালের ১ হাজার ৮৪৬ থেকে ২০২৫ সালে নেমেছে ৯৬৮-তে।

আইন আছে, প্রয়োগ নেই
বাংলাদেশ শ্রম আইনের ৩৪ ধারায় ১৪ বছরের কম বয়সী কাউকে কাজে নেওয়া নিষিদ্ধ। ১৪ থেকে ১৮ বছরের কিশোরকে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে লাগানো যায় না, কারখানায় দিনে পাঁচ ঘণ্টার বেশি খাটানোও যায় না। ইট তৈরি ও বহন ২০২২ সাল থেকে ঝুঁকিপূর্ণ কাজের তালিকায়। ৩৫ ধারা বলছে, শিশুকে কাজে দেওয়ার অনুমতি দিয়ে মা-বাবা কারও সঙ্গে চুক্তি করতে পারেন না।
তবু শরিফ-সেলিমদের মতো শিশুরা কাজে আছে, চুক্তিও হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম দপ্তরের ২০২৪ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী দেশে শ্রম পরিদর্শক মাত্র ৪৪২ জন। শাস্তিও সামান্য। আইনের ২৮৪ ধারায় শিশু বা কিশোরকে বেআইনিভাবে কাজে লাগানোর দণ্ড ২০ থেকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা।
পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধন না দেখে তাদের সদস্য কোনো কারখানায় চাকরি দেওয়া হয় না, সেখানে শিশুশ্রম নেই।’ বিজিএমইএও একই কথা জানিয়েছে।

যা করা দরকার
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মৌসুম শুরুর আগেই ভাটায় পরিদর্শন করা দরকার। দাদনে শিশু নিয়োগের জন্য মালিক ও সরদারের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, নদীভাঙন আর লবণাক্ত এলাকার পরিবারে দুর্যোগের পরপরই নগদ সহায়তা পৌঁছাতে হবে, যার শর্ত হবে ছেলেমেয়ের স্কুলে থাকা। বাস্তুচ্যুত শিশু যেন কাগজ ছাড়াই শহরের স্কুলে ভর্তি হতে পারে। আর জলবায়ু বরাদ্দে শিশুর হিস্যা আলাদা করে দেখাতে হবে।

আইইডিসিআরের পর্যালোচনা ডেঙ্গুতে ৬২% মৃত্যু শক সিনড্রোমে

দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ ক্রমেই বাড়ছে। বছরের শুরু থেকে গতকাল সোমবার পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা লাখ ছাড়িয়েছে। একই সঙ্গে মৃত্যুও বাড়ছে। রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) এক পর্যালোচনায় দেখা গেছে, বেশির ভাগ মৃত্যুই শক সিনড্রোমে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল পর্যন্ত এ বছর ডেঙ্গুতে মারা গেছেন ৩০৭ জন। এর মধ্যে আইইডিসিআর ১১৯ জন মৃতের তথ্য পর্যালোচনা করেছে। এতে দেখা গেছে, মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ ডেঙ্গু শক সিনড্রোম। অধিকাংশ রোগী হাসপাতালে পৌঁছানোর সময়ই ছিলেন সংকটাপন্ন অবস্থায়। সময়মতো চিকিৎসা না নেওয়া, বিপৎসংকেত উপেক্ষা করা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ব্যথানাশক ওষুধ সেবনের মতো বিষয়গুলো মৃত্যুঝুঁকি বাড়িয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন দুই হাজার ১৬৭ জন। এ নিয়ে এ বছর হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক লাখ এক হাজার ৪৪২। সব শেষ ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন আরও চারজন। হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়েছেন ৯৫ হাজার ৩৩১ জন।

আইইডিসিআরের ডেঙ্গুতে মৃত্যুর কারণ পর্যালোচনায় দেখা গেছে, মৃতদের ৭৮ শতাংশের মধ্যে হাসপাতালে পৌঁছানোর সময় শকের লক্ষণ ছিল। ৬২ দশমিক ৫ শতাংশ ক্ষেত্রে ডেঙ্গু শক সিনড্রোম এবং ৩১ দশমিক ২ শতাংশ ক্ষেত্রে এক্সপ্যান্ডেড ডেঙ্গু সিনড্রোমের উল্লেখ রয়েছে। এ ছাড়া ১৬ দশমিক ১ শতাংশ ক্ষেত্রে রক্তক্ষরণসহ ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। অন্যান্য কারণের উল্লেখ রয়েছে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ ক্ষেত্রে।

পর্যালোচনায় আরও দেখা গেছে, যেসব রোগীর চিকিৎসা নেওয়ার সময় সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া গেছে, তাদের ৬৮ শতাংশ উপসর্গ শুরুর তিন দিনের বেশি সময় পর চিকিৎসা নিতে গেছেন। ৬৬ শতাংশ রোগী গুরুতর জটিলতা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই ৩৫ শতাংশ রোগী ব্যথানাশক ওষুধ সেবন করেছিলেন। আর হাসপাতালে ভর্তির এক দিনের মধ্যেই মারা গেছেন ৩৮ শতাংশ রোগী।

আইইডিসিআরের পরিচালক ডা. কাজী আহমেদ জাকী বলেন, ডেঙ্গু রোগীরা দেরিতে হাসপাতালে আসছেন। যখন হাসপাতালে আসছেন তখন পরিস্থিতি জটিল হয়ে পড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসা শুরুর আগেই মারা যাচ্ছেন। ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার পর অনেক রোগী হাসপাতালে না এসে কিংবা চিকিৎসকের পরামর্শ না নিয়ে ফার্মেসি থেকে বিভিন্ন ব্যথানাশক ওষুধ সেবন করেছেন। অনেকে ডেঙ্গু জটিল আকার ধারণ করার উপসর্গ বুঝতে পারেননি। উপসর্গ প্রকাশ পাওয়ার পরও রোগীদের বড় একটি অংশ হাসপাতালে আসতে দেরি করেছেন।

মৃত রোগীদের বয়সভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২১ থেকে ৫০ বছর বয়সীদের মধ্যে মৃত্যুর হার বেশি। মৃত ১১৯ জনের মধ্যে ২১ থেকে ৩০ বছর বয়সী ছিলেন ২৫ জন। ৩১ থেকে ৪০ বছর বয়সী ২০ জন এবং ৪১ থেকে ৫০ বছর বয়সী ছিলেন আরও ২০ জন। অর্থাৎ এই তিন বয়সসীমা মিলিয়ে মারা গেছেন ৬৫ জন, যা পর্যালোচনা করা মৃত্যুর প্রায় ৫৫ শতাংশ। লিঙ্গভিত্তিক তথ্য পাওয়া ১১৭ জনের মধ্যে ৫২ শতাংশ নারী। আর বসবাসের স্থান সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া ৮৯ জনের মধ্যে ৫৫ শতাংশ ছিলেন গ্রামীণ এলাকার বাসিন্দা।

গুরুতর অসুস্থ ১০৩ জন রোগীর তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, তাদের মধ্যে ৭২ জনের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসার প্রয়োজন হয়েছিল। অর্থাৎ তথ্য পাওয়া রোগীদের প্রায় ৭০ শতাংশের আইসিইউ সেবা দরকার হয়েছে। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার সময় অধিকাংশ রোগীর সংকটাপন্ন অবস্থায় থাকার বিষয়টিও এতে স্পষ্ট হয়েছে।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলছেন, ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার পর জ্বর কমে গেলেই বিপদ কেটে গেছে, এমনটি ভাবার সুযোগ নেই। বরং জ্বর কমার সময়েই রোগীর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে পারে। ডেঙ্গু ভাইরাসের প্রভাবে রক্তনালি থেকে রক্তরস বা প্লাজমা বের হয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জমতে পারে। এতে রক্তনালিতে রক্তের পরিমাণ কমে গিয়ে শক তৈরি হতে পারে।

ড্রিমার্স কনসালটেশন অ্যান্ড রিসার্চের পরিচালক মেডিকেল সার্ভিসেস (ডিএমএস) ও নিউরোমেডিসিন বিশেষজ্ঞ সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াস বলেন, শক সিনড্রোমে রক্তনালিতে রক্তের পরিমাণ কমে যায়। এ অবস্থায় নাড়ির স্পন্দন পাওয়া কঠিন হয়, রক্তচাপ নির্ণয় করাও দুরূহ হয়ে পড়ে। তিনি বলেন, পরিস্থিতি সংকটাপন্ন হওয়ার আগেই সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।

ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াস বলেন, জ্বর ভালো হওয়ার পরও কোনো ব্যক্তি অতিরিক্ত দুর্বলতা বা অসুস্থ বোধ করলে, তাঁর হাত-পা ঠান্ডা হয়ে এলে, অজ্ঞান হয়ে গেলে কিংবা নাড়ির স্পন্দন অনুভব করা না গেলে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে। এ ছাড়া চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ব্যথানাশক ওষুধ সেবন থেকে বিরত থাকতে হবে। জ্বর কমে যাওয়ার পরও রোগীর শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মাসভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, চলতি বছরের প্রথম দিকে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা তুলনামূলক কম থাকলেও জুনের পর পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে মারা যান। মার্চ ও এপ্রিলে কেউ মারা যাননি। মে মাসে একজন এবং জুনে ১৩ জনের মৃত্যু হয়। জুলাইয়ে ৩৬ জন, আগস্টে ৪৩ জন মারা যান। সেপ্টেম্বরে মৃত্যু বেড়ে দাঁড়ায় ১৪৮ জনে। গতকাল পর্যন্ত চলতি অক্টোবরে মারা গেছেন ৬২ জন।

হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যাও বেড়েছে ধারাবাহিকভাবে। জানুয়ারিতে এক হাজার ৮১ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৪০৯, মার্চে ৩৫৩, এপ্রিলে ৬৪০, মে মাসে ৭১৪, জুনে দুই হাজার ৯০৭, জুলাইয়ে ৯ হাজার ২০৬ এবং আগস্টে ২০ হাজার ৫৩৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হন। সেপ্টেম্বরে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ছিল ৪৩ হাজার ৭৭৪। অক্টোবরে গতকাল পর্যন্ত ভর্তি হয়েছেন ২১ হাজার ৮২২ জন।

বিভাগভিত্তিক হিসাবে চলতি বছর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালে ৮৪ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালে ৩৬ জন এবং দুই সিটি করপোরেশনের বাইরে ঢাকা বিভাগে ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া খুলনায় ৬৩, চট্টগ্রামে ২৭, বরিশালে ২৬, ময়মনসিংহে ২৩, রাজশাহীতে ২২, রংপুরে ছয় ও সিলেটে তিনজন মারা গেছেন।