Home Blog Page 61

বাংলাদেশে পৌঁছালেন ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী

বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী দেশে পৌঁছেছেন।

শুক্রবার সকালে বেনাপোল-পেট্রাপোল সীমান্ত দিয়ে সড়কপথে বাংলাদেশে পৌঁছান তিনি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

বাংলাদেশে ভারতীয় মিশনে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর থেকে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন পেশাদার কূটনীতিক প্রণয় ভার্মা। তাকে এরই মধ্যে বেলজিয়াম ও ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) ভারতের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তার জায়গায় দায়িত্ব নিচ্ছেন ৭৫ বছর বয়সী এই প্রবীণ রাজনীতিক।

গুজরাটি ব্যবসায়ী পরিবারের সদস্য হলেও ঝরঝরে বাংলা বলতে পারেন দীনেশ ত্রিবেদী। দলীয় সূত্রের খবর, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সুসম্পর্ক, দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, বাঙালি ও বাংলার সংস্কৃতি সম্পর্ক স্পষ্ট ধারণা থাকায় তাকে বাংলাদেশে পাঠানো হচ্ছে।

ভারতের কূটনৈতিক প্রথায় সাধারণত অভিজ্ঞ ইন্ডিয়ান ফরেন সার্ভিস (আইএফএস) কর্মকর্তাদের এমন পদে নিয়োগ করা হয়। দীনেশ ত্রিবেদীর ক্ষেত্রে তার ব্যতিক্রম ঘটছে।

একটা সময় সর্বভারতীয় রাজনীতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দূত ছিলেন দীনেশ। ২০১৬ সালের পর তাদের সম্পর্কে অবনতি ঘটতে শুরু করে। শেষমেষ ২০২১ সালে বিধানসভা ভোটের আগে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন দীনেশ।

দীনেশের রাজনৈতিক যাত্রার শুরু অবশ্য আশির দশকে। সে সময় তিনি কংগ্রেসে ছিলেন। পরে যোগ দেন জনতা দলে। ১৯৯০ সালে রাজ্যসভার সংসদ সদস্য হন প্রথমবার। এর পর তিনি যোগ দেন তৃণমূলে। আবারও রাজ্যসভার সংসদ সদস্য পদ পান তিনি। প্রথমবার ভোটে লড়েন ২০০৯ সালে।

দ্বিতীয় দফায় ইউপিএ সরকারের সময় তৃণমূল কংগ্রেসের সদস্য হিসেবে তিনি কেন্দ্রের রেলমন্ত্রী ছিলেন। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বও সামলান। ২০১৯ সালে বারাকপুরে তৃণমূলের প্রার্থী হিসেবে বিজেপির অর্জুন সিংয়ের কাছে হেরে যান তিনি। এরপর তৃণমূল তাকে রাজ্যসভায় পাঠায়। ২০২১ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে দেন দীনেশ ত্রিবেদী। ওই বছরের ৬ মার্চ যোগ দেন বিজেপিতে।

বিজিবি-বিএসএফ সীমান্ত সম্মেলনে ১১ সিদ্ধান্ত

ভারতের নয়াদিল্লিতে বিজিবি-বিএসএফ সীমান্ত সম্মেলনে ১১টি বিষয়ে সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। আগামী নভেম্বর মাসে ঢাকায় পরবর্তী মহাপরিচালক পর্যায়ের সম্মেলন আয়োজনের বিষয়েও দুই দেশ সম্মত হয় বলে জানানো হয়েছে। বিজিবি ও বিএসএফের যৌথ বিবৃতিতে এসব সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।

বিজিবি থেকে শুক্রবার পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিজিবি ও ভারতের বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের (বিএসএফ) মধ্যে ৫৭তম সীমান্ত সম্মেলন ৮ থেকে ১১ জুন ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হয়। বিজিবির ১৪ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী। বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলে বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ছাড়াও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, ভূমি জরিপ অধিদপ্তর, যৌথ নদী কমিশন ও অন্যান্য সংস্থার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রতিনিধিত্ব করেন। অপরদিকে, ভারতের ১২ সদস্যের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন বিএসএফের মহাপরিচালক শ্রী প্রবীন কুমার। উভয় প্রতিনিধিদল আগামী নভেম্বর মাসে বাংলাদেশে (ঢাকা) পরবর্তী মহাপরিচালক পর্যায়ের সম্মেলন আয়োজনের বিষয়ে সম্মত হয়। সম্মেলনে যেসব সিদ্ধান্ত হয়েছে সেগুলো হলো-

সীমান্তে হত্যা ও সহিংসতা প্রতিরোধ
সম্মেলন চলাকালে বিজিবির মহাপরিচালক সীমান্তে বিএসএফ সদস্য ও ভারতীয় নাগরিকদের দ্বারা প্রাণঘাতী ও অপ্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের ফলে নিরস্ত্র ও নিরীহ বাংলাদেশি নাগরিকদের মৃত্যুর ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি মানবাধিকার লঙ্ঘনের উদাহরণ উল্লেখ করে সীমান্ত এলাকায় হত্যা শূন্যে নামিয়ে আনার জন্য বিএসএফ মহাপরিচালককে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান। তিনি সীমান্তে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও স্বাভাবিক অবস্থা নিশ্চিত করতে ধারাবাহিক প্রচেষ্টা এবং কঠোর জবাবদিহিতার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। উভয় পক্ষই সম্মত হয় যে, এসব বিষয় আন্তরিক, সৎ ও সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে প্রচলিত আইন অনুসরণ এবং মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি দ্বারা পরিচালিত হয়ে সমাধান করা যেতে পারে। উভয় পক্ষ সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার, যৌথ টহল বৃদ্ধি, সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বৃদ্ধি এবং অবৈধভাবে আন্তর্জাতিক সীমান্ত অতিক্রম প্রতিরোধে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম গ্রহণের বিষয়ে সম্মত হয়- যাতে অনুপ্রবেশ, সীমান্ত হত্যা ও হামলার ঘটনা শূন্যে নামিয়ে আনা যায়। তারা আরও সম্মত হয় যে, নিজ নিজ দেশের নাগরিকদের ওপর সংঘটিত হত্যা ও হামলার ঘটনাগুলোর তদন্ত করা হবে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পুশ-ইন ঘটনা
বিজিবির মহাপরিচালক বিএসএফ কর্তৃক রোহিঙ্গা ও মিয়ানমার নাগরিকসহ ভারতীয় নাগরিকদের বাংলাদেশে সাম্প্রতিক পুশ-ইনের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন, যা সীমান্ত বিষয়ক যৌথ নির্দেশিকা, সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা, পূর্ববর্তী মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠকে গৃহীত পারস্পরিক সিদ্ধান্ত এবং বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক নীতি ও প্রটোকলের পরিপন্থী। তিনি উল্লেখ করেন, সীমান্তে এসব ‘পুশ ইন’ হওয়া ব্যক্তিদের দুর্ভোগ অত্যন্ত ব্যাপক। তাদের অনেকেই চরম দুর্দশায় রয়েছেন; কেউ কেউ ক্ষুধা ও রোগে আক্রান্ত। প্রবীণ ব্যক্তিদের জরুরি চিকিৎসা সেবার প্রয়োজন। বিজিবির মহাপরিচালক পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, যেকোনো ব্যক্তি যদি বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে যাচাইকৃত হন, তবে তাকে প্রচলিত দ্বিপাক্ষিক প্রত্যাবাসন ব্যবস্থার মাধ্যমে দ্রুত গ্রহণ করা হবে, প্রচলিত আইন ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে। তিনি বিএসএফ মহাপরিচালককে এ ধরনের কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধ এবং বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে শনাক্ত ব্যক্তিদের প্রত্যাবাসনের জন্য বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক প্রক্রিয়া ও প্রটোকল অনুসরণের আহ্বান জানান। অন্যদিকে, বিএসএফ মহাপরিচালক বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে সকল অনিষ্পন্ন জাতীয়তা যাচাইকরণ বিষয় দ্রুত সম্পন্ন এবং তাদের প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। উভয় পক্ষই সম্মত হয়, দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে গৃহীত পদ্ধতি ও বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক ব্যবস্থার ভিত্তিতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার প্রদান করা উচিত। তারা পারস্পরিক আস্থা, সহযোগিতা এবং সুপ্রতিবেশীসুলভ সম্পর্কের চেতনায় এসব প্রক্রিয়ার কার্যকর বাস্তবায়নে তাদের অভিন্ন অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

সীমান্ত নিরাপত্তা, মাদক ও চোরাচালান
বিজিবির মহাপরিচালক ভারত থেকে বাংলাদেশে হেরোইন, ফেনসিডিল, ইয়াবা, গাজা এবং অন্যান্য বিভিন্ন ধরনের মাদক ও নেশাজাতীয় দ্রব্যের চোরাচালান বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং মাদক বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির উল্লেখ করে এটিকে উভয় দেশের তরুণ প্রজন্মের জন্য গুরুতর হুমকি হিসেবে ব্যক্ত করেন। তিনি সীমান্ত দিয়ে আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ এবং অন্যান্য অবৈধ পণ্যের ক্রমবর্ধমান চোরাচালানের বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, এসব কার্যক্রম আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। বিজিবির মহাপরিচালক মাদক পাচার রোধে উভয় দেশের মাদক নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক মহাপরিচালকদের নিয়মিত দ্বিপাক্ষিক বৈঠক আয়োজনের প্রস্তাব দেন। বিএসএফ মহাপরিচালক জানান, ভারত সরকার মাদক, নেশাজাতীয় দ্রব্য এবং আন্তঃসীমান্ত অপরাধের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করে এবং সব ধরনের চোরাচালান রোধে অঙ্গীকারবদ্ধ। উভয় পক্ষই মাদকবিরোধী কঠোর ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির প্রতি অঙ্গীকার ব্যক্ত করে এবং গবাদিপশু চোরাচালান প্রতিরোধের বিষয়েও একমত হয়। তারা সমন্বিত সিমালটেনিয়াস কো-অর্ডিনেটেড পেট্রোল জোরদার এবং ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে বাস্তবসম্মত তথ্য আদান-প্রদান বৃদ্ধির বিষয়ে সম্মত হয়।

অবৈধ অভিবাসন, মানবপাচার ও রোহিঙ্গা বিষয়
বিএসএফ মহাপরিচালক কর্তৃক বাংলাদেশি নাগরিকদের অবৈধ অভিবাসন এবং রোহিঙ্গা অবৈধ অভিবাসীদের ভারতে প্রবেশ সংক্রান্ত উদ্বেগের জবাবে বিজিবির মহাপরিচালক বলেন, রোহিঙ্গা সংকট আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে সুপরিচিত এবং এটি বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মানবিক উদ্বেগের বিষয়। তিনি দৃঢ়ভাবে উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশ রোহিঙ্গা ও মিয়ানমারের নাগরিকদের তার ভূখণ্ড ব্যবহার করে ভারতে অবৈধভাবে চলাচলের অনুমতি দেয় না। কিছু ক্ষেত্রে ভারত থেকে বাংলাদেশে অবৈধভাবে প্রবেশের চেষ্টা করা রোহিঙ্গাদের বিজিবি সীমান্ত বাহিনী আটক করেছে। রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের নাগরিক এবং বাংলাদেশ কেবল মানবিক কারণে কঠোর তত্ত্বাবধানে তাদের আশ্রয় প্রদান করেছে। উভয় পক্ষই অবৈধ আন্তঃসীমান্ত চলাচল প্রতিরোধে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণে সম্মত হয়। তারা মানবপাচার চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভুক্তভোগীদের সময়মতো উদ্ধার, পুনর্বাসন ও আইনগত সহায়তা নিশ্চিত করার বিষয়ে একমত হয়।

সীমান্ত বেড়া ও অবকাঠামো
বিএসএফ মহাপরিচালকের সীমান্ত বেড়া ও সিকিউরিটি রিলেটেড ওয়ার্কস (এসআরএফ) সংক্রান্ত বিষয়ে জবাব দিতে গিয়ে বিজিবির মহাপরিচালক বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশনে প্রেরিত নোট ভারবালের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, নির্মিত SRF প্যাচগুলো বেশ কিছু বিচ্যুতি লক্ষ্য করা হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, মহাপরিচালক পর্যায়ের আলোচনার (ডিজিএলটি) সময় ৩৯টি ক্ষেত্রে বিএসএফ ও ভারতীয় নাগরিকরা ১৫০ গজ আন্তর্জাতিক সীমার মধ্যে অননুমোদিতভাবে এসআরএফ/গবাদিপশু বেড়া নির্মাণের চেষ্টা করেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, আন্তর্জাতিক সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে ভারতের পক্ষ থেকে কোনো এসআরএফ বা উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি গ্রহণ দরকার। বিজিবির মহাপরিচালক সংশ্লিষ্ট নোট ভারবালে উল্লিখিত বিচ্যুতিগুলো সমাধান ও সংশোধনের আহ্বান জানান। তিনি ৮ জুন ২০২৬ তারিখে ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশনে পাঠানো পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ নোট ভারবালের কথাও উল্লেখ করেন এবং এতে উল্লিখিত নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণের অনুরোধ জানান। তিনি আরও প্রস্তাব করেন যে, এসআরএফ সংক্রান্ত ভবিষ্যৎ সকল নির্মাণ কার্যক্রম কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে আলোচনা করা উচিত।

জাল মুদ্রা ও স্বর্ণ চোরাচালান
বিএসএফ মহাপরিচালকের সীমান্ত পারাপারে জাল ভারতীয় মুদ্রা ও স্বর্ণ চোরাচালান সংক্রান্ত উদ্বেগের জবাবে বিজিবির মহাপরিচালক বলেন, জাল ভারতীয় মুদ্রা ও স্বর্ণ চোরাচালান উভয় দেশের অর্থনীতির ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে। তিনি জানান, বিজিবি এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থা ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন ইন্টিগ্রেটেড চেক পোস্ট (ICP) ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে জাল মুদ্রা শনাক্তকরণ যন্ত্র স্থাপন করেছে এবং এ ধরনের অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত রেখেছে। উভয় পক্ষই আন্তঃসীমান্ত অপরাধী চক্র সম্পর্কিত গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান জোরদার করা এবং এ ধরনের আন্তঃসীমান্ত অপরাধে জড়িত কার্টেল ও সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে সমন্বিত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে সম্মত হয়।

পার্বত্য অঞ্চলে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর কার্যক্রম
বিজিবি মহাপরিচালক ভারতের মিজোরাম রাজ্যে পার্বত্য অঞ্চলের সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সম্ভাব্য অবস্থান ও বাংলাদেশবিরোধী কার্যক্রমের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি এসব সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে ভারতের সহযোগিতা কামনা করেন। জবাবে বিএসএফ মহাপরিচালক জানান, ভারত সরকার জাতীয়তা নির্বিশেষে সকল সশস্ত্র বিদ্রোহী ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে এবং নিজেদের ভূখণ্ড এ ধরনের কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের অনুমতি দেয় না। উভয় পক্ষ সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে নিজ নিজ ভূখণ্ডে কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে স্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করতে না দেওয়া, সতর্কতা বৃদ্ধি এবং নির্ভরযোগ্য তথ্য বিনিময়ের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সম্মত হয়।

সীমান্ত নির্ধারণ ও সীমান্ত পিলার সংক্রান্ত সহযোগিতা
বিজিবির মহাপরিচালক মুহুরী চর এলাকায় স্থায়ী সীমান্ত পিলার নির্মাণের বিষয়টি উত্থাপন করেন এবং উল্লেখ করেন যে যৌথ জরিপ ও পরিদর্শনের মাধ্যমে সীমান্ত নির্ধারণ ইতোমধ্যে পারস্পরিকভাবে সম্মত ও চূড়ান্ত করা হয়েছে। তিনি অনিশ্চয়তা এড়ানো এবং কার্যকর সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার জন্য বিদ্যমান অস্থায়ী চিহ্নগুলোকে যত দ্রুত সম্ভব স্থায়ী সীমান্ত পিলার দ্বারা প্রতিস্থাপনের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বিজিবির মহাপরিচালক কুষ্টিয়াসহ অন্যান্য সেক্টরে অনুপস্থিত সীমান্ত পিলার নির্মাণ ও পুনঃস্থাপনের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেন এবং বিশেষ করে নদীভিত্তিক এলাকায় আন্তর্জাতিক সীমান্তের অবশিষ্ট অনির্ধারিত অংশগুলোর দ্রুত নির্ধারণের আহ্বান জানান। এ বিষয়ে তিনি দুই দেশের ভূমি জরিপ কর্তৃপক্ষের মধ্যে বর্ধিত সহযোগিতার প্রস্তাব দেন, যাতে বকেয়া সীমান্ত নির্ধারণ বিষয়গুলো সমাধান করা যায় এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনা আরও শক্তিশালী হয়। উভয় পক্ষই সম্মত হয় যে সীমান্ত নির্ধারণ ও সীমান্ত পিলার সংক্রান্ত বিষয়সমূহ যৌথ সীমান্ত সম্মেলন এবং অন্যান্য প্রযোজ্য দ্বিপাক্ষিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অব্যাহতভাবে সমাধান করা হবে। তারা আরও সম্মত হয় যে নদীভিত্তিক ও অন্যান্য সংবেদনশীল এলাকা-সহ বকেয়া সীমান্ত নির্ধারণ সংক্রান্ত বিষয়সমূহ বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক বোঝাপড়ার ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমিক ও সহযোগিতামূলকভাবে সমাধান করা উচিত।

সীমান্তবর্তী নদীর পানি ব্যবহার ও তীর সংরক্ষণ
বিজিবির মহাপরিচালক বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ২০২২ সালের সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী উভয় দেশ শুষ্ক মৌসুমে কুশিয়ারা নদীর অভিন্ন অংশ থেকে প্রতিটি পক্ষ সর্বোচ্চ ১৫৩ কিউসেক পানি উত্তোলনে সম্মত হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, পানি গ্রহণের ইনটেক চ্যানেল (রহিমপুর খাল) খননের জন্য সম্মতি প্রদানে বিলম্বের কারণে বাংলাদেশের ন্যায্য পানি প্রাপ্তি ব্যাহত হচ্ছে। তিনি আরও বলেন যে, একাধিক পাম্পের মাধ্যমে একতরফা পানি উত্তোলন সংক্রান্ত উদ্বেগ বিদ্যমান, যা জরুরি ভিত্তিতে সমাধান প্রয়োজন। তিনি যৌথ নদী কমিশনের আওতায় পূর্ববর্তী প্রযুক্তিগত পর্যায়ের আলোচনা এবং যৌথ মনিটরিং টিমের পরিদর্শনের কথা উল্লেখ করেন এবং জানান যে প্রায় ৫,০০০ হেক্টর জমির সেচ কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি রহিমপুর খালের অবশিষ্ট খনন কাজ দ্রুত সম্পন্নের জন্য সম্মতি প্রদানের আহ্বান জানান এবং অননুমোদিত পানি উত্তোলনের বিষয়টি সমাধানের অনুরোধ করেন। নদীতীর সংরক্ষণ কার্যক্রম প্রসঙ্গে বিজিবির মহাপরিচালক বলেন, কুশিয়ারা ও কুলিক নদীসহ কয়েকটি অনুমোদিত প্রকল্প পূর্ববর্তী প্রযুক্তিগত পর্যায়ের সমঝোতা থাকা সত্ত্বেও আপত্তির কারণে বিলম্বিত হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বিভিন্ন সীমান্ত জেলায় বন্যা ও ভাঙন প্রতিরোধে ১৭টি জরুরি নদীতীর সংরক্ষণ প্রকল্পের সম্মতির বিষয়টি এখনো বাকি রয়েছে এবং দ্রুত সহযোগিতার মাধ্যমে এগুলো বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। উভয় পক্ষই সম্মত হয় যে কুশিয়ারা নদী থেকে পানি উত্তোলন ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো সংক্রান্ত বিষয়সমূহ ৬ সেপ্টেম্বর ২০২২ তারিখের সমঝোতা স্মারকের আওতায় গঠিত যৌথ মনিটরিং টিমের মাধ্যমে সমাধান করা উচিত। তারা আরও একমত হয় যে নদীতীর সংরক্ষণ সংক্রান্ত বিষয়সমূহ যৌথ নদী কমিশনের পর্যায়ে উপযুক্ত ফোরামে আলোচনা করা হবে।

অননুমোদিত নির্মাণ ও সীমান্ত অবকাঠামো সংক্রান্ত বিধি-নিষেধ
বিজিবির মহাপরিচালক পূর্ববর্তী আশ্বাস সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট বেড়া (SRF), গবাদিপশুর বেড়া এবং অন্যান্য কাঠামোর নির্মাণ অব্যাহত থাকার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি সীমান্ত রেখার নিকটবর্তী এলাকায় বিদ্যুতের খুঁটি, স্ট্রিট লাইট, সিসিটিভি ক্যামেরা এবং অন্যান্য অবকাঠামো স্থাপন সম্পর্কেও উদ্বেগ জানান, যা বিদ্যমান সীমান্ত ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করছে বলে উল্লেখ করেন। তিনি অননুমোদিতভাবে চলমান ডিউটি পোস্ট, ধাতব সড়ক ও কংক্রিট কাঠামো নির্মাণের ঘটনাও তুলে ধরেন এবং ১৯৭৫ সালের ভারত–বাংলাদেশ সীমান্ত কর্তৃপক্ষ সংক্রান্ত নির্দেশিকা কঠোরভাবে অনুসরণের আহ্বান জানান। জবাবে বিএসএফ মহাপরিচালক বলেন, বিদ্যুৎ সংক্রান্ত কাজ মূলত সীমান্তবর্তী ভারতীয় জনগণের নাগরিক সুবিধার জন্য এবং তা বাংলাদেশের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে নয়। তিনি আরও বলেন, নজরদারি সংক্রান্ত সরঞ্জাম আন্তঃসীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধের জন্য স্থাপন করা হয়। উভয় পক্ষই সম্মত হয় যে আন্তর্জাতিক সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে কোনো অননুমোদিত নির্মাণ কার্যক্রম থেকে তাদের নিজ নিজ মাঠ পর্যায়ের ইউনিটগুলোকে বিরত রাখতে নির্দেশ প্রদান করা হবে এবং শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বিদ্যমান নিয়ম ও প্রটোকল কঠোরভাবে অনুসরণ করা হবে। উভয় পক্ষ সীমান্ত নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলোতে সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা (CBMP)-এর গুরুত্ব স্বীকার করে এবং বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় রাতের সময় যৌথ সমন্বিত টহল (SCP) জোরদার করার বিষয়ে সম্মত হয়। এছাড়া অপরাধের ধরণ পরিবর্তনের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা নিয়মিত (প্রতি ছয় মাসে) পর্যালোচনার বিষয়েও একমত হয়।

গণমাধ্যম প্রতিবেদন ও বিভ্রান্তিমূলক তথ্য সংক্রান্ত উদ্বেগ
বিজিবির মহাপরিচালক বাংলাদেশ ও ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়াবলি, ধর্মীয় বর্ণনা, রাজনৈতিক বিষয় এবং সীমান্ত-সম্পর্কিত বিষয়সহ বিভিন্ন বিষয়ে কিছু নির্দিষ্ট প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা ও বিকৃত সংবাদ, গুজব এবং বিভ্রান্তিমূলক তথ্য প্রচারের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এ ধরনের অপপ্রচার বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এবং এ ধরনের তথ্যের বিস্তার রোধে সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার জন্য বিএসএফকে অনুরোধ জানান। তিনি সীমান্ত-সম্পর্কিত ঘটনার সময়োপযোগী ব্যাখ্যা প্রদান করারও অনুরোধ জানান, যাতে বিভ্রান্তিকর বর্ণনার সৃষ্টি না হয়। উভয় পক্ষই তাদের নিজ নিজ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে উভয় দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অপপ্রচার বা গুজব ছড়ানো থেকে বিরত রাখার জন্য নির্দেশনা প্রদানে সম্মত হয়। সম্মেলন শেষে উভয় মহাপরিচালক বাংলাদেশ–ভারত সীমান্তে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে যৌথভাবে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

বিশ্বজুড়ে রেকর্ড তাপমাত্রা বাড়ার সতর্কবার্তা বিজ্ঞানীদের

পৃথিবীর উষ্ণতা রেকর্ড বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং জলবায়ু-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সূচকগুলোর অবস্থা ক্রমেই খারাপ হচ্ছে। গতকাল বৃহস্পতিবার শীর্ষস্থানীয় বিজ্ঞানীরা এ সতর্কবার্তা দিয়েছেন। একই সঙ্গে তারা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে পৃথিবী পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার অর্থায়নে কাটছাঁটের কারণে বৈশ্বিক উষ্ণতা পর্যবেক্ষণের প্রচেষ্টা হুমকির মুখে পড়তে পারে।

জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক প্যানেলের (আইপিসিসি) সদস্যসহ বিশ্বের ৭০ জনের বেশি বিজ্ঞানী গতকাল প্রকাশিত এক বার্ষিক যৌথ গবেষণায় এমনটি বলেছেন। তারা মানবসৃষ্ট রেকর্ড উষ্ণতা ও সমুদ্রে তাপপ্রবাহ বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

গবেষণার সহলেখক ও আয়ারল্যান্ডের মেয়নুথ ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক পিটার থর্ন বলেন, এসব সূচক মূলত একজন গুরুতর অসুস্থ রোগীর শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণের মতো, যার উপসর্গ দিন দিন আরও উদ্বেগজনক মাত্রায় বাড়ছে। জাতিসংঘ-সমর্থিত পৃথিবী পর্যবেক্ষণ কর্মসূচি গ্লোবাল ক্লাইমেট অবজারভিং সিস্টেমের (জিসিওএস) ডেপুটি চেয়ার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন থর্ন। তিনি বলেন, আমার জীবনে এই প্রথম দেখছি, বৈশ্বিক পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থাগুলো হয় পরিকল্পিতভাবে দুর্বল করে দেওয়া হচ্ছে, নয়তো সেগুলো ঝুঁকির মুখে পড়ছে।

আর্থ সিস্টেম সায়েন্স ডেটা সাময়িকীতে প্রকাশিত এই গবেষণায় দেখা গেছে, ২০২৫ সালে বৈশ্বিক তাপমাত্রা প্রাক-শিল্পায়ন যুগের চেয়ে ১ দশমিক ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল, যার মধ্যে ১ দশমিক ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের জন্যই দায়ী মানুষের নানা কর্মকাণ্ড। বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন, ২০৩০ সালের মধ্যেই মানবসৃষ্ট এই উষ্ণতা ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের সীমা ছুঁয়ে ফেলবে। গবেষণায় বলা হয়েছে, বিশ্ব অত্যন্ত দ্রুতগতিতে তাপ সঞ্চয় করছে। এর ফলে ‘পৃথিবীর শক্তির ভারসাম্যহীনতা’ আরও বাড়ছে। এএফপি।

তথ্যযুদ্ধ তিনপক্ষের কাছে গুরুত্ব পায় ট্রাম্পের হুমকি ও চুক্তির দাবি

ইরানে হামলার হুমকি বা পরিকল্পনা স্থগিত করে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ‘কয়েকদিনের মধ্যেই একটি চুক্তি ঘোষণা করা হবে’। যুদ্ধ শুরু কিংবা অস্ত্রবিরতির পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট অসংখ্যবার এমন দাবি করেছেন। কিন্তু কোনোবারই তাঁর দেওয়া সময়সীমার মধ্যে চুক্তি হয়নি।

এমন অবস্থায় খোদ মার্কিন ও ইরানি গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে ট্রাম্পের এসব মন্তব্যে ভরসা না করার কথা উঠে এসেছে। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও অস্ট্রিয়ার সাবেক সামরিক কর্মকর্তা উলফগ্যাং পুসতাই-ও মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবিগুলোকে উড়িয়ে দিয়েছেন।

পুসতাই বলছেন, ‘মার্কিন প্রেসিডেন্টের সব বক্তব্যকে আক্ষরিক অর্থে নেওয়া যাবে না। তাঁর এসব মন্তব্য মূলত তথ্যযুদ্ধের অংশ।’ আলজাজিরাকে তিনি আরও বলেন, ট্রাম্পের এসব মন্তব্যের মূল লক্ষ্য তিনটি শ্রোতাগোষ্ঠী। তারা হলেন- রিপাবলিকান সমর্থক, আন্তর্জাতিক শেয়ার ও তেলের বাজার এবং ইরানের সরকার।

পুসতাইয়ের মতে, সামরিক পদক্ষেপের হুমকি এবং অবরোধ অব্যাহত রাখার কথা বলে ট্রাম্প ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে চাইছেন।

ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম তাদের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, গত দুই মাসে ট্রাম্প ৩৮ বার একটি চুক্তির কাছাকাছি থাকার দাবি করেছেন। সম্ভাব্য কোনো সমঝোতা নিয়ে ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু না বলা পর্যন্ত ট্রাম্পের বক্তব্যকে গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন নেই।

বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্পের সবশেষ মন্তব্যের পর শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বগতির পাশাপাশি অপরিশোধিত তেলের দাম কমে যায়। তিনি দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনার বিষয়টি দেশটির সর্বোচ্চ নেতৃত্বের পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং অনুমোদনও পেয়েছে। চুক্তি স্বাক্ষরের সময় ও স্থান শিগগিরই ঘোষণা করা হবে।

তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই শুক্রবার বলেছেন, তেহরান চুক্তি নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি। চুক্তির অধিকাংশ খসড়া চূড়ান্ত হয়েছিল। কিন্তু পরে যুক্তরাষ্ট্র নতুন দাবি তুলে তাদের অবস্থান পরিবর্তন করে। তখনই সমস্যার শুরু হয়।

সম্প্রতি ইরান ও ইসরায়েল পাল্টাপাল্টি হামলা চালায়। তখনও ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তির বিষয়ে মধ্যস্থতাকারীরা চূড়ান্ত পর্যায়ে আছেন।’ চুক্তি হতে কতদিন লাগতে পারে- এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেছিলেন, দুই বা তিনদিন সময় লাগবে।

সিএনএন বলছে, গত এপ্রিলে যখন যুদ্ধবিরতি শুরু হয় তখনও ট্রাম্প বলেছিলেন, তারা চুক্তির বিষয়ে অনেক দূর এগিয়ে গেছেন। চূড়ান্ত হতে দুই সপ্তাহ সময় লাগবে। তিনি আরও উল্লেখ করেছিলেন, দীর্ঘমেয়াদী সমস্যা সমাধানের কাছাকাছি যেতে পারাটাও সম্মানের বিষয়।

ট্রাম্প চুক্তির কাছাকাছি থাকা সংক্রান্ত মন্তব্যগুলো সাধারণত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পোস্ট, ভাষণ ও গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপের সময় করেন। সিএনএন বলছে, অনবরত এমন দাবি করার পেছনে তিনটি কারণ থাকতে পারে। তিনি নিজে বিভ্রান্তির মধ্যে আছেন, আর্থিক বাজারকে শান্ত রাখার চেষ্টা করছেন কিংবা অবাস্তব কিছুকে শুধু কথার জোরে বাস্তবে রূপ দিতে চাইছেন।

ঘরের ছেলে ঘরে ফিরে আসা উচিত?

শিতাংশু গুহ, নিউইয়র্ক।। বাংলাদেশী মুসলমানরা যে ভারতে অনুপ্রবেশ করেছে এর একটি হিসাব দেই? ১৯৭০ সালে পাকিস্তানে জনসংখ্যা ছিলো ১২৩ মিলিয়ন, অর্থাৎ ১২কোটি ৩০লক্ষ। তন্মধ্যে পূর্ব-পাকিস্তানে ৬৫মিলিয়ন, পশ্চিম পাকিস্তানে ৫৮ মিলিয়ন। ১৯৬১ সালে পাকিস্তানের জরিপে মোট জনসংখ্যা ছিলো ৯৩মিলিয়ন, তন্মধ্যে পশ্চিম পাকিস্তানে ৪২.৮মিলিয়ন, এবং পূর্ব-পাকিস্তানে ৫০মিলিয়ন। ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেছিলেন, সাড়ে ৭কোটি বাঙ্গালীকে দাবায়ে রাখতে পারবা না! সোজা অংকের খাতিরে ধরে নেয়া যাক ১৯৭১ সালে পাকিস্তানে জনসংখ্যা ছিলো ১৩কোটি, তন্মধ্যে পূর্ব-পাকিস্তানে সাড়ে ৭কোটি, পশ্চিম-পাকিস্তানে সাড়ে ৫কোটি।

 

বাংলাদেশে ২০২২ সালের জনসংখ্যা জরীপ অনুযায়ী মোট জনসংখ্যা প্রায় ১৭কোটি (১৬কোটি ৯৮লক্ষ ২৮হাজার ৯২১জন)। পক্ষান্তরে পাকিস্তানে ২০২৩ সালের জনসংখ্যা জরিপ অনুযায়ী মোট জনসংখ্যা হচ্ছে প্রায় ২৫কোটি (২৪কোটি ১৪লক্ষ ৯৯হাজার ৪৩১জন + কাশ্মীর ও গিলগিট-বাল্টিস্তান, আদম শুমারীতে এটি ধরা হয়নি)। অর্থাৎ ১৯৭১-২০২৩ পর্যন্ত পাকিস্তানের জনসংখ্যা  সাড়ে ৫কোটি থেকে বেড়ে ২৫কোটি হলে, একই সময়ে (১৯৭১-২০২২) বাংলাদেশের জনসংখ্যা সাড়ে ৭কোটি থেকে বেড়ে মাত্র ১৭কোটি হয় কি করে? সাধারণ গণিতের হিসাবমতে বাংলাদেশের জনসংখ্যা হওয়া উচিত ৩৪কোটি (২৫ x ৭.৫/৫.৫)। আরো সহজভাবে দেখলে দেখা যাবে পাকিস্তানে জনসংখ্যা প্রায় ৫গুন্ বেড়েছে, বাংলাদেশে ৫গুন্ বাড়লে সংখ্যাটি ৩৪কোটি’র বেশি দাঁড়ায়।

 

পাকিস্তানে জন্মহার সামান্য বেশি, বাংলাদেশে মৃত্যুহার কম। ফ্যামিলি প্ল্যানিংয়ে বাংলাদেশে ভাল, বহুবিবাহ প্রায় একই, এরপরও জনসংখ্যা বৈষম্য এতটা প্রকট হতে পারে? প্রশ্ন হলো বাংলাদেশে জনসংখ্যা ১৭কোটি, থাকার কথা ৩৪ কোটি, তাহলে বাকি ১৭ কোটি কোথায় গেলো? হিন্দুরা বলছে প্রায় ৫কোটি হিন্দুকে বিতাড়িত করা হয়েছে? (হিসাবটি এরকম: ১৯৭১ সালে ১কোটি হিন্দু ভারতে গেছে, দেশে বা এদিক-ওদিক হিসাবের বাইরে প্রায় ৫০লক্ষ হিন্দু, অর্থাৎ মোট দেড় কোটি হিন্দু ছিলো, ৫গুন্ বাড়লে তা দাঁড়াতো সাড়ে ৭কোটি, আছে ২কোটি (সরকারি হিসাবে ১কোটি ৪০লক্ষ), বাকিরা ভারতে। এছাড়া দেশের প্রায় ২কোটি মানুষ প্রবাসী, বিদেশে থাকেন।

 

তাহলে দাঁড়াল ১৭+৫+২=২৪কোটি। ৩৪-২৪=১০কোটি মানুষ গেলো কোথায়? সংখ্যাটি যদি আরো কমিয়ে ধরা হয়, অর্ধেক হলেও ৫/৬কোটি মানুষের হদিস নাই? এঁরা সবাই ভারতে গেছে? বা নেপালে? বাংলাদেশে মানুষ হারিয়ে গেছে, ভারতে মুসলমান হুহু করে বেড়েছে, এর মধ্যে যোগসূত্র আছে বটে? এ সময়ে ভারত বেশকিছু সংখ্যক বাংলাদেশীকে পুশব্যাক করেছে, বাংলাদেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক বলেছে, এনিয়ে তাদের কিছু করার নেই? টিভিতে এসব ফিরে আসা মানুষগুলো সবিস্তারে জানাচ্ছেন বাংলাদেশে কোথায় তাদের বাড়ীঘর, কখন তাঁরা ভারতে যান, কেন থেকে গেছেন ইত্যাদি। কেউ কেউ বলতে চাইছেন, বাংলাদেশের জনসংখ্যা আসলে ১৭কোটির বেশি, প্রায় ২০কোটি। তাও যদি হয়, তবুও তো ৪/৫কোটি মানুষের খবর নাই, কেন? কারণ এঁরা সবাই ভারতে।

 

এ সময়ে এসআইআর বা এনআরসি’র ভয়ে কিছু অনুপ্রবেশকারী ফেরত গেছে, পশ্চিমবঙ্গের মিডিয়া, রাজনীতিকরা এতে বেজায় খুশি। কত মানুষ ফেরত গেছে এর কি কোন হিসাব আছে? ৫হাজার, ১০হাজার? শুনুন, প্রতিদিন ৫হাজার মানুষ ফেরত গেলে মাসে মাত্র দেড়লক্ষ, বছরে ১৮লক্ষ, ১০বছরে ১কোটি ৮০লক্ষ। সুতারং ভারত থেকে ৫/৬কোটি অনুপ্রবেশকারী ফেরত পাঠাতে কত সময় লাগবে? এটি কি সম্ভব? নিউটাউন বা কসবায় বস্তি উঠে গেছে দেখে ভাববেন না যে, ওরা ফেরত গেছে? ওরা ফেরত যায়নি, স্থানান্তর করেছে, কিছু অন্য রাজ্যে গেছে, কিছু নেপালে গেছে। এদের ফেরত পাঠানোর কাজটি এতটা সোজা নয়, এঁরা যাতে স্বেচ্ছায় ফেরত যায় সেই ব্যবস্থা করা উচিত এবং সেটি মানবিক হবে।

 

বৃটেন থেকে ৯০লক্ষ মুসলমান ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, পুরো ইউরোপে সেটি হবে, কারণ সবাই জেনে গেছে, ওঁরা শরণার্থী নয়, ওঁরা ‘শরিয়া’ কায়েম করতে এসেছে। এ সময়ে বিশ্বে ৩০% শরণার্থী মুসলমান, এঁরা সভ্য দেশে গিয়ে গণতন্ত্রের সুযোগ অপব্যবহার করে ঐসব দেশকে তাদের ফেলে যাওয়া ‘অসভ্য’ দেশে পরিণত করতে কাজে লেগে যায়। পশ্চিমবঙ্গ বা ভারতে এদের লক্ষ্য একই, এবং ‘গাজোয়াতুল হিন্দ’ এখন আর গোপন কিছু নয়। সেই লক্ষ্যে জনবিস্ফোরণ ঘটিয়ে, গণতন্ত্রের সুযোগ নিয়ে ওঁরা প্রথমে পশ্চিমবঙ্গ, এরপর আসাম, সেভেন-সিষ্টারের জনবিন্যাস পাল্টে, বা ভারত থেকে বিচ্ছিন্ন করে, বৃহত্তর ইসলামী খিলাফত কায়েমের লক্ষ্যে প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও বিজেপি এখন বিরাট বাঁধা, এবং এজন্যেই এঁরা ভারত ও বিজেপি বিরোধী।

৬/৭/২৬

বাংলাদেশের ম্যাচ, বিশ্বকাপসহ আজ আরও যা দেখবেন

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে আজ বৃহস্পতিবার মাঠে নামছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। অন্যদিকে আজ রাতেই ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ এর পর্দা উঠতে যাচ্ছে। উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হবে মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকা। আসরের দ্বিতীয় ম্যাচে মুখোমুখি হবে দক্ষিণ কোরিয়া ও চেক প্রজাতন্ত্র।

এক নজরে দেখে নিন আজকের খেলার সময়সূচি-

  • ২য় ওয়ানডে

বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া
বেলা ১১টা, টি স্পোর্টস ও নাগরিক

  • বিশ্বকাপ ফুটবল

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান
রাত ১১টা ৩০ মিনিট, বিটিভি, টি স্পোর্টস ও সময়

মেক্সিকো-দক্ষিণ আফ্রিকা
রাত ১টা, বিটিভি, টি স্পোর্টস ও সময়

দক্ষিণ কোরিয়া-চেক প্রজাতন্ত্র
আগামীকাল সকাল ৮টা, বিটিভি, টি স্পোর্টস ও সময়

বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিন দেশের বর্ণাঢ্য আয়োজন

আর মাত্র কয়েক মুহূর্তের অপেক্ষা। শুরু হতে যাচ্ছে ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় আসর ফিফা বিশ্বকাপের নতুন আসর। এবারের প্রতিযোগিতা ইতিহাসের সবচেয়ে বৃহৎ ও ব্যতিক্রমী আয়োজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রথমবারের মতো তিনটি স্বাগতিক দেশে পৃথক তিনটি উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। আর এসব অনুষ্ঠানের প্রতিটিতেই উত্তর আমেরিকার বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি, সংগীত ও ঐতিহ্য তুলে ধরা হবে।

প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক সূচনা হবে মেক্সিকোর স্থানীয় সময় ১১ জুন (বৃহস্পতিবার) বেলা সাড়ে ১১টায়। প্রথম উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়ামে। উদ্বোধনী ম্যাচের ৯০ মিনিট আগে শুরু হবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে নাচে-গানে সুরে-তালে তুলে ধরা হবে মেক্সিকোর সংস্কৃতি, সংগীত এবং ঐতিহ্যের নানা দিক। এরপর স্বাগতিক মেক্সিকো মুখোমুখি হবে দক্ষিণ আফ্রিকার।

দ্বিতীয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে ১২ জুন (শুক্রবার) ক্যালিফোর্নিয়ার ইঙ্গলউডে অবস্থিত সোফাই স্টেডিয়ামে। এই বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিশ্বের জনপ্রিয় তারকা শিল্পী কেটি পেরি, ফিউচার, অনিতা, লিসা, রেমা ও টাইলা পরিবেশনা করবেন। বর্ণাঢ্য এই আয়োজনের পর নিজেদের প্রথম ম্যাচে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে মাঠে নামবে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র।

আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বিশ্বকাপের ব্যাপ্তি ও মহিমার প্রতিফলন। শিল্পীদের বৈচিত্র্যময় উপস্থিতি দেশটির সাংস্কৃতিক বৈচিত্রকে তুলে ধরবে, যা মানুষকে একত্রিত করার অসাধারণ ক্ষমতা রাখে।

তিনটি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের ধারাবাহিকতা সম্পূর্ণ করবে কানাডা। ১২ জুন (শুক্রবার) টরন্টোর বিএমও ফিল্ডে অনুষ্ঠিত হবে দেশটির উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, যেখানে কানাডার প্রতিভাবান শিল্পীদের পরিবেশনা তুলে ধরা হবে। কানাডার প্রথম ম্যাচে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার মুখোমুখি হওয়ার আগে অ্যালানিস মরিসেট, আলেসিয়া কারা, এলিয়ানা, জেসি রেয়েজ, মাইকেল বুবলে, নোরা ফাতেহি, সানজয়, ভেজিড্রিম এবং উইলিয়াম প্রিন্স মঞ্চে পরিবেশনা করবেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সময়সূচি:

মেক্সিকোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান

তারিখ: ১১ জুন, বৃহস্পতিবার

সময়: বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে এগারোটা

যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান

তারিখ: ১২ জুন, শুক্রবার

সময়: বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে পাঁচটা (শনিবার)

কানাডার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান

তারিখ: ১২ জুন, শুক্রবার

সময়: বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে এগারোটা

তিন দেশ, তিন সংস্কৃতি এবং এক বিশ্বমঞ্চ- এই ব্যতিক্রমী আয়োজনের মধ্য দিয়েই শুরু হতে যাচ্ছে ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত উৎসব।

সীমান্তবর্তী সব জেলায় কাল ১১ দলের সমাবেশ

বাংলাদেশে পুশইন ও সীমান্ত হত্যার প্রতিবাদে আগামীকাল শুক্রবার দেশের সীমান্তবর্তী সব জেলায় এবং পয়েন্টে প্রতিবাদ সমাবেশ করবে ১১ দলীয় ঐক্য। একই সঙ্গে সারাদেশে খুন ও ধর্ষণ এবং আইনশৃঙ্খলা অবনতির প্রতিবাদে আগামী ১৫ জুন রাজধানীর শাহবাগে বিক্ষোভ করবে তারা।

গতকাল বুধবার মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ১১ দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির সমন্বয়ক ও জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আজাদ এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন। হামিদুর রহমান আজাদ বলেন, সীমান্ত হত্যা দেশের স্বাধীনতা ও

সার্বভৌমত্বের জন্য ভয়াবহ হুমকি। গত তিন মাসে সীমান্তে ৫০টির বেশি পুশইনের চেষ্টা হয়েছে এবং গত ১০০ দিনে ভারতীয় বাহিনীর গুলিতে ১৯ জন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। সরকার এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে এবং সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে উদাসীনতা দেখাচ্ছে। একই সঙ্গে সীমান্ত হত্যা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাম্প্রতিক মন্তব্যকে জাতীয় নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেন তিনি।

১১ দলীয় জোটের লিয়াজোঁ কমিটির সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ সরকারকে নতজানু পররাষ্ট্রনীতি পরিহার করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বিরোধী দলগুলো সবসময় সজাগ থাকবে। সরকার যাতে জাতীয় স্বার্থে কোনো ধরনের উদাসীনতা দেখাতে না পারে, সেজন্য সাধারণ জনগণকেও সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসির উদ্দীন পাটোয়ারী তার সীমান্ত এলাকা পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা ব্যক্ত করে বলেন, সীমান্ত অঞ্চলের মানুষেরা অত্যন্ত মানবেতর ও ঝুঁকিপূর্ণ জীবনযাপন করছেন। সীমান্তে সরকারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও ভূমিকা অত্যন্ত অপ্রতুল উল্লেখ করে তিনি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশকে (বিজিবি) আরও শক্তিশালী ও আধুনিক করার তাগিদ দেন।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন ট্রাইব্যুনালে অভিযুক্ত ও পলাতকরা ভোটে অযোগ্যই থাকছেন

জাতীয় সংসদের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন বা সন্ত্রাসবিরোধী আইনে অভিযুক্ত ব্যক্তি ও পলাতক আসামিরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন না। অনলাইনে মনোনয়নপত্র দাখিলের সুযোগও বন্ধ রাখা হচ্ছে।

এমন সব বিধান যুক্ত করে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনী আচরণবিধি সংশোধনীর খসড়া চূড়ান্ত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামী সপ্তাহে জনমতের জন্য খসড়াটি ইসির ওয়েবসাইটে উন্মুক্ত করা হবে। স্থানীয় সরকারের অন্য চারটি প্রতিষ্ঠানের জন্য আলাদাভাবে প্রণয়নের অপেক্ষায় থাকা নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা ও আচরণ বিধিমালার খসড়ায়ও একই ধরনের বিধান যুক্ত করার প্রস্তাব রয়েছে বলে ইসি সূত্র জানিয়েছে।

ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ সমকালকে বলেছেন, আগামী সপ্তাহের শুরুতে কমিশন সভা হবে বলে আশা করছি। সেখানেই ইউপি নির্বাচনী আচরণবিধির খসড়া নিয়ে আলোচনার পর সবার মতামতের জন্য এটি ওয়েবসাইটে দেওয়া হবে।

আচরণবিধিতে আনা অন্যান্য পরিবর্তন সম্পর্কে তিনি বলেন, নির্বাচন নির্দলীয় হবে। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর সংগ্রহের প্রয়োজন হবে না। নির্বাচনের জামানত বাড়বে। আর নির্বাচনী প্রচারে পোস্টারের ব্যবহার ও ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট গ্রহণ এবং পোস্টাল ব্যালটের ব্যবহার বাদ দেওয়া হবে।
এর আগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে (আরপিও) সংশোধনী এনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন বা সন্ত্রাসবিরোধী আইনে অভিযুক্ত ব্যক্তি ও পলাতক আসামিদের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। অনলাইনে মনোনয়নপত্র দাখিলের সুযোগও বন্ধ রাখা হয়। সেটা আচরণ বিধিমালায়ও যুক্ত করা হয়।

ইসি সূত্র জানিয়েছে, ইউপি নির্বাচন আচরণ বিধিমালার খসড়া ইসির ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে অংশীজন ও নাগরিকদের মতামত দেওয়ার জন্য ১৫ দিন সময় বেঁধে দেওয়া হবে। নির্দলীয় ভিত্তিতে নির্বাচন হলেও এটি মতামতের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর কাছেও পাঠানো হবে। এ ছাড়া এ বিষয়ে সংবাদপত্রে সার্কুলার জারি ও গণমাধ্যমের সঙ্গে মতবিনিময় করবে ইসি। এরপর খসড়াটি সংযোজন-বিয়োজন ও কমিশনের চূড়ান্ত অনুমোদন শেষে যাচাই-বাছাইয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। ভেটিং শেষে আচরণ বিধিমালা গেজেট আকারে প্রকাশ করবে ইসি।
দেশে বর্তমানে স্থানীয় সরকারের চার হাজার ৫৮১টি ইউনিয়ন পরিষদ, ৬১টি জেলা পরিষদ, ৪৯৫টি উপজেলা পরিষদ, ৩৩০টি পৌরসভা এবং ১৩টি সিটি করপোরেশন রয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদগুলোর মধ্যে তিন হাজার ৬৩২টি আগামী আগস্টের শেষ নাগাদ এবং আরও ৩৪৩টি ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচনের জন্য যোগ্য হবে। বিভিন্ন জটিলতার কারণে ১০৪টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের জন্য অনুপযুক্ত। যার মধ্যে ৭৯টি আইনি বিরোধ, ১৮টি সীমানা-সংক্রান্ত সমস্যা এবং সাতটি ভোটার তালিকা-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে স্থগিত রয়েছে।

১২ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপে ৩ মার্কিন যুদ্ধবিমান ধ্বংসের দাবি ইরানের

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা জর্ডানের আল-আজরাক বিমানঘাঁটিতে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে ১২টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।

আইআরজিসির ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার লক্ষ্য ছিল মার্কিন বাহিনীর ব্যবহৃত এফ-৩৫, এফ-১৫ ও এফ-১৬ যুদ্ধবিমানের হ্যাঙ্গার, কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা। তাদের দাবি, দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ঘাঁটির একাধিক স্থাপনায় সফল আঘাত হানা হয়েছে।

এই হামলার দাবি আসে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক ইরানবিরোধী সামরিক অভিযানের পরপরই। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা, রাডার ও বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় হামলা চালিয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এর জবাবে ইরান জর্ডান, কুয়েত ও বাহরাইনে থাকা মার্কিন স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি করে।

তবে ইরানের এই দাবির স্বাধীন কোনো যাচাই এখনো পাওয়া যায়নি। জর্ডানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, আল-আজরাক এলাকায় ছোড়া কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র তারা ভূপাতিত করেছে এবং এতে কোনো হতাহত বা উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির তথ্য নেই। একইভাবে মার্কিন কর্মকর্তারাও অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করার দাবি করেছেন।