Home Blog Page 612

সোনাক্ষীর বিয়ে নিয়ে খুশি নন শত্রুঘ্ন

বলিউডের দাবাং গার্ল সোনাক্ষী সিনহা আগামী ২৩ জুন বিয়ের পিঁড়িতে বসছেন। ভোটের ফল বেরোতে না বেরোতেই তৃণমূলের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য শত্রুঘ্ন সিনহার বাড়িতে নাকি বিয়ের সানাই! খবর, ‘ডবল এক্স এল’ কো-স্টার জাহির ইকবারের গলায় মালা দেবেন অভিনেত্রী। দু-বছর ধরে চুটিয়ে প্রেম করার পর এবার চার হাত এক হওয়ার পালা। আরও পড়ুন-খেলনা বাড়ির পর জি বাংলাতেই ফিরছেন বিশ্বজিৎ, বিপরীতে জলসার জনপ্রিয় নায়িকা!
বিয়ে নিয়ে এখনও মুখে কুলুপ সোনাক্ষী-জাহিরের। তবে মেয়ের বিয়ে নিয়ে মুখ খুলেছেন ‘খামোশ’ তারকা। শত্রুঘ্নর জবাব সোনাক্ষীর বিয়ে নিয়ে রহস্য আরও বাড়িয়ে দিল। তারকা সংসদ সদস্য জানান, তার কোনো ধারণাই নেই মেয়ের বিয়ে নিয়ে। মিডিয়া সোনাক্ষীর বিয়ে নিয়ে যতটুকু জানেন, কনের বাবা হিসেবে তার কাছেও নাকি সেই তথ্যই রয়েছে।
শত্রুঘ্ন বলেন, ‘আমি এই মুহূর্তে দিল্লিতে রয়েছি। ভোটের ফল বেরানোর পর এখানে উড়ে এসেছি। আমি কারুর সঙ্গে কথা বলিনি মেয়ের বিয়ের পরিকল্পনা নিয়ে। তাহলে যদি প্রশ্ন হয়, সোনাক্ষী কি বিয়ে করছে? বলব, আমাকে সে এখনও কিছু জানায়নি। মিডিয়াতে যেটুকু পড়েছি সেইটুকুই জানি। যদি এবং যখন সে আমাকে এবং আমার স্ত্রীকে সবটা জানাবে তখন আমি নিঃসন্দেহে দম্পতিকে আমার আর্শীবাদ দেব। চাই মেয়ে সবসময় খুশি থাকুক’।
শত্রুঘ্ন সিনহা আরও বলেন, মেয়ের সিদ্ধান্তে পূর্ণ আস্থা রয়েছে তার। তিনি জানান, মেয়ে বড় হয়েছে, জীবন নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো পরিণতি এসেছে তার মধ্যে। তবে খানিক আক্ষেপের সুরেই বলেন, আজকালকার প্রজন্ম বাবা-মার থেকে বিয়ের জন্য অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজনবোধ করে না, শুধুমাত্র নিজেদের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দেয়। ভিনধর্মে বিয়ে করছে বিহারীবাবুর মেয়ে। তাই কি সোনাক্ষীর বিয়েতে আপত্তি তার? প্রশ্ন নিন্দকদের।
তিনি আরও বলেন, ‘কাছের মানুষরা প্রশ্ন করছ কেন মিডিয়া এই বিয়ের ব্যাপারে জানে, আর আমি জানি না। এইটুকুই বলব, আজকালকার বাচ্চারা বাপ-মার অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন মনে করে না, শুধু জানিয়ে দেয়। আমরাও অপেক্ষা করছি, ওদের সিদ্ধান্তটা জানবার’।
মেয়ের সিদ্ধান্তে পূর্ণ আস্থা রয়েছে এমনটা বলে তিনি জানান, মেয়ে কোনওদিন কোনো অসাংবিধানিক কিংবা বেআইনি সিদ্ধান্ত নেবে না। প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে সোনাক্ষীর পূর্ণ স্বাধীনতা রয়েছে বিয়ে নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার। মেয়ের বিয়ের খবর সত্যি হলে প্রথম সারিতে দাঁড়িয়ে নাচবেন বলেও জানান শত্রুঘ্ন সিনহা।

ভাইরাল সেই বিজ্ঞাপন নিয়ে মুখ খুললেন জীবন ও শিমুল

প্রকাশিত একটি কোমল পানীয়ের বিজ্ঞাপন নিয়ে দেশে ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে। এই বিজ্ঞাপনটির মডেল হয়েছেন শরাফ আহমেদ জীবন, শিমুল শর্মাসহ বেশ কয়েকজন।
সোমবার সকাল থেকেই বিজ্ঞাপনটি নিয়ে তুমুল আলোচনা সমালোচনা হচ্ছে সামাজিক মাধ্যমে। বিজ্ঞাপন প্রচারের পর থেকে এটির অভিনয়শিল্পীদেরও বয়কটের হুমকি দিয়েছেন নেটিজেনরা।
এবার তোপের মুখে পড়ে ওই বিজ্ঞাপনে মডেল হিসেবে কাজ করার বিষয়ে মুখ খুললেন অভিনেতা শরাফ আহমেদ জীবন এবং শিমুল শর্মা।
সোমবার রাতে অভিনেতা শরাফ আহমেদ জীবন তার ফেসবুক আইডিতে এক পোস্ট করে দাবি করেছেন যে তিনি ইসরাইলের পক্ষে কোন কাজ করেননি।
পোস্টে শরাফ আহমেদ জীবন বলেন, ‘আমি একজন নির্মাতা এবং অভিনেতা হিসেবে সবার কাছে পরিচিত। বিগত দুই দশক ধরে আমি নির্মাণ ও অভিনয়ের সাথে জড়িত। স¤প্রতি কোকা-কোলা বাংলাদেশ আমার সাথে তাদের একটি বিজ্ঞাপন নির্মাণ এবং অভিনয় করার জন্য নিয়োগ করেছিলো। আমি শুধুমাত্র তাদের দেয়া তথ্য ও উপাত্তই কাজটিতে তুলে ধরেছি।
বিজ্ঞাপনটি প্রচার হবার পর থেকে আমি আপনাদের অনেক মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করছি এবং আপনাদের প্রতি সম্মান জানিয়ে আমি আবারো বলতে চাই কাজটি শুধুই আমার পেশাগত জীবনের একটি অংশমাত্র। ব্যক্তিগত জীবনে আমি সবসময় মানবাধিকার বিরোধী যেকোনো আগ্রাসনের বিপক্ষে দাঁড়িয়েছি এবং আপনাদের অনুভূতি ও মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকেছি। এখানে আমি কোথাও ইসরাইলের পক্ষ নেইনি এবং আমি কখনোই ইসরাইলের পক্ষে নই। আমার হৃদয় সবসময় ন্যায়ের পক্ষে এবং মানবতার পাশে আছে, থাকবে।’
এদিকে মঙ্গলবার সকালে অভিনেতা শিমুল শর্মা তার ফেসবুক আইডিতে এক পোস্ট করে ক্ষমা চেয়েছেন। পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘আমি শিমুল শর্মা। যদি ও পরিচয় দেবার মত একজন অভিনেতা এখনো হয়ে উঠতে পারিনি কারণ একজন অভিনেতা হবার জন্য যে অধ্যাবসায় এবং দূরদর্শিতা দরকার সেটা এখনো আমার হয়ে উঠেনি, আমি চেষ্টা করছি মাত্র। তাই হয়তো না বুঝে করা আমার কাজ আজ আমার দর্শক, তথা আমার পরিবার ও দেশের মানুষকে কষ্ট দিয়েছে।
আর আমি ভবিষ্যতে কোন কাজে অভিনয় করতে গেলে অবশ্যই আমাদের দেশের মূল্যবোধ, মানবাধিকার, মানুষের মনোভাবকে যথেষ্ট সম্মান দিয়ে বিবেচনা করে তারপর কাজ করবো। আমি মাত্র আমার জীবনের পথচলা শুরু করেছি, আমার এই পথচলায় ভুল ত্রুটি ক্ষমা সুলভ দৃষ্টিতে দেখবেন এবং আমাকে ভবিষ্যতে একজন বিবেকবান শিল্পী হয়ে ওঠার জন্য শুভ কামনায় রাখবেন ।
ধন্যবাদ সবাইকে।’

মোদির শপথ অনুষ্ঠানে শাহরুখ-আম্বানির খাওয়া নিয়ে ট্রল

রোববার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির শপথগ্রহণ করেছেন। রাষ্ট্রপতি ভবনে এ শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে অথিতি হিসেবে বিভিন্ন দেশের প্রধানমন্ত্রীরাও উপস্থিত ছিলেন। সেই সঙ্গে ছিল তারকাদেরও মেলা। রাষ্ট্রপতি ভবনে ভিআইপি অতিথিদের মধ্যে ছিলেন দেশের অন্যতম ধনকুবের মুকেশ আম্বানি এবং বলিউডের কিং শাহরুখ খান।
অনুষ্ঠানের ফাঁকে ৩১ রূপির ওআরএসের টেট্রা প্যাকেট নিয়ে বিজনেস টাইকুন এবং বলিউড সুপারস্টারের খোশগল্পে মজে থাকার দৃশ্য দেখা গেছে নেটপাড়ায়। ওআরএসের এই প্যাকেটের দাম সুইগি ইন্সটামার্টে ৩১ রূপি এবং বিগবাস্কেটে ৩১.৫ রূপি। এত স্বস্তার জিনিস যে কয়েক হাজার কোটি টাকার এই দুই মালিক খেতে পারেন তাই যেন বিশ্বাসই হচ্ছে না অনেকের। এ নিয়ে নেটাপাড়ায় তুলকালাম।
ছবিতে কালোরঙা বন্ধগলায় দেখা মিলল শাহরুখের। চোখে সানগøাস, ওদিকে সাদা শার্টে হাসিমুখে মুকেশ আম্বানি। যিনি ছোট ছেলের বিয়ের অনুষ্ঠান নিয়ে বেজায় ব্যস্ত।
এক্স ব্যবহারকারী রোহিত লেখেন, ‘আমি এই ওআরএস খাওয়ার মতো ধনী হতে চাই জীবনে ব্যাস, আর কিছু না’। মুহূর্তটি একটি রেডিট থ্রেডও ছড়িয়ে পড়েছিল, ব্যবহারকারীরা আম্বানি এবং শাহরুখ খানকে ওআরএস প্যাকেটের সঙ্গে দেখে নানারকম মজার মন্তব্য করেছেন।
একজন লেখেন,‘এটি সোডা পানীয়ের চেয়ে ভালো। এই গরম আবহাওয়ার জন্য উপযুক্ত। এছাড়া স¤প্রতি শাহরুখের হিট স্ট্রোক হয়েছিল, সাবধানতা অবলম্বন করা ভালো’।
প্রসঙ্গত, গত মাসে হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে আহমেদাবাদের একটি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ৫৮ বছর বয়সি শাহরুখ খান।
রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান মুকেশ আম্বানি ছেলে অনন্ত আম্বানি এবং জামাই আনন্দ পিরামলকে নিয়ে মোদির শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে ছিলেন। গৌতম আদানিও তার স্ত্রী প্রীতি এবং ভাই রাজেশ আদানির সঙ্গে শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন।
শাহরুখ খান, তার ম্যানেজার পূজা দাদলানির সঙ্গে শফথ অনুষ্ঠানে ছিলেন। সেখানে হাজির অক্ষয় কুমারকে আলিঙ্গনের একটি মুহূর্ত সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। রাষ্ট্রপতি ভবনে উপস্থিত ছিলেন মেগাস্টার রজনীকান্ত, অনুপম খের, অনিল কাপুর, রবিনা ট্যান্ডন, বিক্রান্ত ম্যাসি এবং রাজকুমার হিরানিও।
প্রসঙ্গত, শাহরুখ খানের সঙ্গে আম্বানিদের সখ্যতা কারুর অজানা নয়। অনন্ত-রাধিকার দুটো প্রি-ওয়েডিং অনুষ্ঠানেই সপরিবারে সামিল হয়েছিলেন শাহরুখ। বিয়েতেও হাজির থাকবেন তিনি, তা স্পষ্ট।

মোদির শপথে হাজির শাহরুখ

প্রধানমন্ত্রী পদে হ্যাট্রিক! তৃতীয়বারের জন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন নরেন্দ্র মোদি। নিয়ম ও শুভ তিথি মেনে রোববার সন্ধ্যা ৭.১৫ মিনিটে শপথ গ্রহণ করেন নরেন্দ্র মোদি। সেই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে দিল্লির রাষ্ট্রপতি ভবনে হাজির হন দেশের বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট তারকা ব্যক্তিত্বরা।
সংবাদ সংস্থা এএনআইয়ের ভিডিওতে দেখা যায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মোদির শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত ছিলেন কিং খান শাহরুখ খান। তিনি ম্যানেজার পূজা দাদলানিকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে পৌঁছান। শাহরুখের সঙ্গেই ছিলেন রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান মুকেশ আম্বানিও।
এদিকে কিং খানকে দেখা গেলেও এদিনের অনুষ্ঠানে বলিউডের বাকি দুই খান সালমান কিংবা আমিরকে অবশ্য দেখা যায় নি। তারা আমন্ত্রিত কিনা সে বিষয়টিও স্পষ্ট নয়।
এদিন অনুষ্ঠানে শাহরুখের সঙ্গে দেখা হতেই তাকে জড়িয়ে ধরতে দেখা যায় অক্ষয়কে। অনুষ্ঠানে ছিলেন বলিউড সুপারস্টার অক্ষয় কুমার, পরিচালক রাজকুমার হিরানি, ‘টুয়েলভ ফেল’-তারকা বিক্রান্ত মাসে।
এদিকে শনিবারই দক্ষিণী মেগাস্টার রজনীকান্তকে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য চেন্নাই থেকে দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা হতে দেখা যায়।
সাংবাদিকদের রজনীকান্ত বলেছিলেন, ‘আমি শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে যাচ্ছি… এটা একটা ঐতিহাসিক ঘটনা… তৃতীয়বারের জন্য প্রধানমন্ত্রী পদে বসছেন নরেন্দ্র মোদি, এটা একটা বড় বিষয়। আমি তাকে আমার আন্তরিকভাবে শুভেচ্ছা জানাতে চাই। জনগণ একটা শক্তিশালী বিরোধী দলকে নির্বাচিত করেছে যা গণতন্ত্রের জন্য সুস্থতা লক্ষণ।’ আগামী ৫ বছরে তার কী প্রত্যাশা রয়েছে? এ প্রশ্নে রজনীকান্ত বলেছিলেন, ‘দেশের শাসনব্যবস্থা ভালো হবে, এটাই প্রত্যাশা।’
এদিন অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন হিমাচল প্রদেশের মান্ডির নব-নির্বাচিত সংসদ সদস্য, অভিনেত্রী কঙ্গনা রনৌত। প্রসঙ্গত, মান্ডিতে কঙ্গনার হয়ে প্রচারেও গিয়েছিলেন মোদি।
প্রধানমন্ত্রী শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে ছিলেন- অনুপম খের, অনিল কাপুরসহ আরও বেশ কয়েকজন তারকা। এছাড়াও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তৃতীয়বারের জন্য শপথ নেওয়ার আগে মোদিকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাজকুমার রাও, অজয় দেবগনসহ বহু বলি তারকা।

এই ঈদেও গান গাইবেন ড. মাহফুজুর রহমান, থাকছে হিন্দি ডুয়েট গান

বেশ কয়েক বছর ধরে এটিএন বাংলা চ্যানেলের ঈদ আয়োজনে কণ্ঠশিল্পী ও এটিএন বাংলা ও এটিএন নিউজের চেয়ারম্যান ড. মাহফুজুর রহমানের একক গানের অনুষ্ঠান হয়ে আসছে। ঈদে তার গান মানেই শ্রোতাদের বাড়তি আগ্রহ। প্রতিবছরের মতো এবারও এককভাবে দুটি সংগীতানুষ্ঠান নিয়ে দর্শকদের মাঝে হাজির হচ্ছেন তিনি।
এটিএন বাংলায় ঈদের দিন রাত ১০টা ৩০ মিনিটে প্রচার হবে একক সঙ্গীতানুষ্ঠান ‘আমার চোখের আলো’। অনুষ্ঠানে রয়েছে মোট ১০টি গান। গানগুলোতে সুরারোপ করেছেন মান্নান মোহাম্মদ ও রাজেশ ঘোষ।
এবারের আয়োজনে থাকছে বাংলা গানের পাশাপাশি জনপ্রিয় কয়েকটি হিন্দি গানও। গানগুলো হলো- আমার চোখের আলো, তুমি তো জানো না প্রিয়, তোমার নিঃশ্বাসে বিষ ছিল, চুপ কেন তুমি চুপ কেন এবং প্রথম প্রেম। এছাড়া হিন্দি গান নীলে নীলে আম্বার, দিল দে দিয়া হ্যায়, হামে অর জিনে কি, জিনা ইয়াহান মারনা ইয়াহান- এই শিরোনামের গানগুলো গাইবেন ড. মাহফুজুর রহমান।
এছাড়া ঈদের পরদিন রাত ১০টা ৩০ মিনিটে প্রচার হবে দ্বৈত গানের সঙ্গীতানুষ্ঠান ‘ওয়াদা করো’। অনুষ্ঠানে থাকছে কেহেদু তুমছে, তুঝে দেখা তু ইয়ে, মুঝে দিলসে ভুলানা, মেরা দিল ভি কিতনা পাগল, ঢোলনা, তু চিজ বাড়ি হ্যায় মাস্ত মাস্ত, ওয়াদা কারো, সাস মে তেরি, তু তু হ্যায় ওয়াহি দিলনে এবং কিতনি বেচেইন হোকে শিরোনামের গান। ডুয়েট গানগুলোতে ড. মাহফুজুর রহমানের সহশিল্পী হিসেবে রয়েছেন নীলিমা, ভাবনা আহমেদ ও তাহমিনা।
এটিএন বাংলার পাশাপাশি এটিএন নিউজে প্রচার হবে ড. মাহফুজুর রহমানের একক সঙ্গীতানুষ্ঠান ‘জড়িয়ে আছি তোমায়’। এই অনুষ্ঠানটিও বাংলা এবং হিন্দি গান দিয়ে সাজানো হয়েছে।

৪ রান না পাওয়ায় যার ওপর ক্ষোভ ঝাড়লেন তামিম

নিউইয়র্কের মন্থর উইকেটে প্রতিটি রান ছিল গুরুত্বপূর্ণ। এমন ম্যাচেই আম্পায়ারের ‘ভুল সিদ্ধান্তে’ বাংলাদেশ হারাল ৪ রান। পরে ম্যাচে বাংলাদেশের হারের ব্যবধানও ছিল সেই ৪ রানেরই। এ বিষয়ে এবার ক্ষোভ ঝাড়লেন ক্রিকেটার তামিম ইকবাল
ঘটনাটা ঘটেছিল বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের ১৭তম ওভারে। পেসার ওটনিল বার্টম্যানের বল মাহমুদউল্লাহর পায়ে লেগে চলে যায় বাউন্ডারির বাইরে। বার্টম্যানের আবেদনে সাড়া দিয়ে আম্পায়ার মাহমুদউল্লাহকে এলবিডবøু দেন। কিন্তু মাহমুদউল্লাহ রিভিউ নেন। টিভি রিপ্লেতে দেখা যায় বল ছিল স্টাম্পের বাইরে। আম্পায়ার সিদ্ধান্ত পাল্টিয়ে মাহমুদউল্লাহকে নটআউট ঘোষণা করেন। কিন্তু নিয়ম অনুযায়ী, আম্পায়ার আউট দেওয়ার পর বল ডেড হয়ে যাওয়ায় লেগ বাই হিসেবে ৪ রান পায়নি বাংলাদেশ। অথচ সেই চার রান স্কোরবোর্ডে যোগ হলে বদলে যেতে পারত ম্যাচের ফলও।
এটা নিয়ে ম্যাচ শেষে সামাজিক যোগোযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে সমালোচনার ঝড়। কেউ আম্পায়ারকে দুষছেন, কেউ আবার দায় দেখছেন আইসিসির। ম্যাচের পর ইএসপিএনক্রিকইনফোর এক আলোচনাতেও গুরুত্ব পেয়েছে বিষয়টি। যেখানে ভারতের সাবেক ক্রিকেটার সঞ্জয় মাঞ্জরেকার, বাংলাদেশের তামিম ইকবাল ও দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক ক্রিকেটার মরনে মরকেল বিষয়টি নিয়ে আলাপ করেছেন। তারা প্রত্যেকেই মনে করেন, আইসিসির উচিত এই নিয়ম বদলানো। তামিম বলেছেন, এই ৪ রান পেলে বাংলাদেশের ভাগ্য বদলে যেতে পারত।
আলাপের শুরুতে মাঞ্জরেকার বলেছেন, ‘এটা নিয়ে সমর্থকেরা অনেক কথা বলছেন। আমরাও এটা নিয়ে আলাপ করতে পারি। আম্পায়ার কি সবকিছু শেষ হয়ে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে পারেন না? আম্পায়ার চাইলে বলটা বাউন্ডারি লাইন অতিক্রম করা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে পারেন এবং তারপর তার আঙুল তুলতে পারেন বা বলতে পারেন যে আউট হয়নি। এরপর সেটা আপনি রেকর্ড করলেন এবং রিভিউর পর যা হওয়ার তা হবে।’
মাঞ্জরেকারের সঙ্গে একমত তামিম। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, আপনার কাছে যখন সময় আছে, আপনি কয়েক সেকেন্ড অপেক্ষা করে দেখতে পারেন, বল কোথায় গেল। সেটা কি বাউন্ডারি হলো, নাকি হলো না! এরপর আপনি আপনার সিদ্ধান্ত জানান। যদি ব্যাটসম্যান আউট না হয়, আর বল যদি তার থাইপ্যাডে বা অন্য কোথাও লেগে বাউন্ডারির বাইরে চলে যায়, তবে সে ক্ষেত্রে রান দেওয়া উচিত। যদি সে আউট না হয় আর কি। এটা আমি কঠিনভাবে বিশ্বাস করি।’
এই ৪ রান বাংলাদেশের ভাগ্য বদলে দিতে পারত উল্লেখ করে তামিম আরও বলেছেন, ‘এই ৪ রান বাংলাদেশের ভাগ্য বদলে দিতে পারত। এটা হতে পারত। আমি হয়তো সমর্থকদের মতো কথা বলছি। কিন্তু আপনি যদি ভাবেন, এই ৪ রান বাংলাদেশের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ধারাভাষ্যকক্ষেও সবাইকে এটা নিয়ে কথা বলতে শুনেছি। এটা এমন কিছু, যেখানে আইসিসি গুরুত্বের সঙ্গে মনোযোগ দিতে পারে। কারণ, এটা এমন কিছু নয় যে তাদের বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে হবে।’
তামিমের সঙ্গে একমত দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক পেসার মরকেলও, ‘আমি একমত। কোনো সন্দেহ নেই। এটা বদলানো জরুরি। আশা করি, বিশ্বকাপের পর তেমন কিছু হবে।’

মেসি ফেরার ম্যাচে ডি মারিয়ার গোলে আর্জেন্টিনার জয়

কোপা আমেরিকা সামনে রেখে প্রস্তুতি সারছে আর্জেন্টিনা। তারই ধারাবাহিকতায় ইকুয়েডরের বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচ খেলেছে আলবিসেলেস্তেরা। সেই ম্যাচ দিয়ে ফের দলে ফিরেছেন লিওনেল মেসি। যদিও এ ম্যাচে তিনি কোনো গোল করতে পারেননি। তবে তাতে দলের জয় আটকে থাকেনি। ডি মারিয়ার গোলে ১-০ ব্যবধানে জয় পেয়েছে আর্জেন্টিনা।
এদিন অবশ্য প্রথমার্ধে মাঠে দেখা যায়নি মেসিকে। দ্বিতীয়ার্ধের ৫৬ মিনিটে মাঠে নামেন মেসি। এরপর যদিও কোনো গোল হয়নি। তবে কোপার আগে মেসির এই ফেরা আর্জেন্টিনার জন্য স্বস্তির। দলের জয়সূচক গোলটি করেন অভিজ্ঞ উইঙ্গার আনহেল ডি মারিয়া। ম্যাচের ৪০ মিনিটে করা তাঁর গোলটিই ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দিয়েছে।
এদিন ম্যাচের প্রথম মিনিট থেকেই আক্রমণ চালিয়েছে ডি মারিয়া এবং হুলিয়ান আলভারেজরা। যদিও সেই আক্রমণ বেশ দক্ষতার সঙ্গেই প্রতিহত করছিল ইকুয়েডরের রক্ষণ। তবে খুব বেশি সময় আটকে রাখা যায়নি আর্জেন্টিনাকে। ম্যাচের ৪০ মিনিটে ঠিকই গোল আদায় করে নিয়েছে দলটি। বিরতিতে গেছে স্বস্তি নিয়েই। দ্বিতীয়ার্ধেও বেশ কিছু সুযোগ তৈরি হয়েছিল গোলের। যদিও ইকুয়েডর রক্ষণে জমাট বেধে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে গোল হজম করা থেকে বিরত থেকেছে। তাতে করেই জয়ের ব্যবধানটা বাড়েনি আর্জেন্টিনার।
কোপা আমেরিকার মূল মিশনে নামার আগে আর্জেন্টিনার পরের ম্যাচ আগামী ১৫ জুন গুয়েতেমালার বিপক্ষে। এরপর ২১ জুন কানাডার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে কোপা অভিযান শুরু করবে আর্জেন্টিনা। ২৬ জুন চিলির বিপক্ষে এবং ৩০ জুন পেরুর বিপক্ষে গ্রæপ পর্বের বাকি ম্যাচ দুটি খেলবে কোপার বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।

পাকিস্তানকে হারিয়ে বুমরাহ বন্দনায় রোহিত

বিশ্বকাপের হাই ভোল্টেজ ম্যাচে ভারতকে মাত্র ১১৯ রানেই আটকে দেয় পাকিস্তান। লক্ষ্যটা অতি মামুলি। সেই লক্ষ্যে কতক্ষণ লড়াই করতে পারে ভারতীয় বোলাররা; সেটাই ছিল দেখার। অথচ, কেবল লড়াই করেনি ভারতীয় বোলাররা ম্যাচটাই নিজেদের করে নিয়েছে তারা। এমন জয়ে তাই প্রশংসা পাচ্ছে ভারতীয় বোলাররা। যার মধ্যে বিশেষভাবে নাম এসেছে জাসপ্রিত বুমরাহর। কেননা, তার ৪ ওভারের স্পেলেই যে ম্যাচটা হাতছাড়া হয়ে গেছে পাকিস্তানের। এমন জয়ের পর তাই রোহিতের কণ্ঠেও শোনা গিয়েছে বুমরাহ বন্দনা।
ম্যাচে ৪ ওভার হাত ঘুরিয়ে মাত্র ১৪ রান খরচায় ৩ উইকেট নিয়েছেন বুমরাহ। মোহাম্মদ রিজওয়ান ও বাবর আজমের গুরুত্বপূর্ণ দুটি উইকেটই তুলেছেন বুমরাহ। পাকিস্তানের শেষ স্বীকৃত ব্যাটার ইফতেখার আহমেদকেও গুঁড়িয়ে দিয়েছেন তিনিই। আর ওখানেই শেষ হয়ে যায় ভারতের জয়ের স্বপ্ন। এমন অল্প পুঁজি নিয়েও জয় পাওয়ায় বেশ খুশিই রোহিত। জয়ের কৃতিত্বটা বোলারদের দিতে ভুলেননি তিনি। আলাদা করে প্রশংসা করেছেন বুমরাহরও।
ম্যাচ নিয়ে রোহিত বলেন, ‘আমরা যথেষ্ট ভালো ব্যাটিং করিনি। আমরা ১৫-২০ রানে পিছিয়ে পড়েছিলাম। তবে বোলারদের জানিয়েছিলাম এই পিচে প্রতিটি রান কতটা গুরুত্বপূর্ণ। তাই আমার মনে হয়েছে বোলাররা আমাদের জন্য কাজটি করতে পারে এবং শেষ পর্যন্ত সেটি তারা করেছেও।’
এক পাশ থেকে উইকেট পড়লেও রিজওয়ান দলকে জয়ের পথেই রাখছিলেন। একটা সময় ৩৬ বলে ৪০ রান প্রয়োজন ছিল পাকিস্তানের। তখনও উইকেটে রিজওয়ান। এরপর বুমরাহ এসে দারুণ সুইংয়ে রিজওয়ানের স্টাম্প ভাঙেন। এরপরই ম্যাচটা হাতছাড়া হয়ে যায় পাকিস্তানের। স্বাভাবিকভাবেই কৃতিত্বটা তাই বুমরাহর। যার প্রশংসা করেছেন অধিনায়ক রোহিতও।
বুমরাহকে নিয়ে তিনি বলেন, ‘বলতে গেলে আমাদের সবার কথা বলতে হবে। কেননা, এই সামান্য অবদানগুলি একটি বিশাল পার্থক্য তৈরি করে। যার হাতে বল ছিল সেই দলের জন্য অবদান রাখতে চেয়েছে। বুমরাহ আরও শক্তিশালী হচ্ছে। আমরা তাকে বছরের পর বছর ধরে দেখেছি সে কী করতে পারে, আমি তার সম্পর্কে খুব বেশি কথা বলতে চাচ্ছি না। আমরা চাই সে টুর্নামেন্টের শেষ অবধি একইরকম মানসিকতায় থাকুক। সে দারুণ প্রতিভা, আমরা এটা জানি, কিন্তু অন্য ছেলেদেরকেও হ্যাটস অফ।’

সরকার দেশ, মানুষ ও প্রকৃতিকে রক্ষা করতে চায়

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে দেশ, দেশের জনগণ ও প্রকৃতিকে রক্ষা করাই তার সরকারের লক্ষ্য উল্লেখ করে পরিবেশ রক্ষায় বাসাবাড়ি, চারপাশ ও অফিসের ফাঁকা জায়গায় গাছের চারা রোপণের আহŸান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে, প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে দেশ, দেশের জনগণ এবং প্রকৃতিকে সুরক্ষিত রাখা।
প্রধানমন্ত্রী গতকাল সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘বিশ^ পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা-২০২৪’ এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এ কথা বলেন।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ‘জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৪’ এর ও উদ্বোধন করেন। তিনি বলেন, আমাদের সুন্দর জীবন ও সুস্বাস্থ্যের জন্য সুন্দর পরিবেশ দরকার। কাজেই সেদিকে সবাই সচেতন হোন সেটাই আমি চাই। তিনি বলেন, আমার লক্ষ্যই হচ্ছে প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে দেশ, দেশের মানুষ এবং প্রকৃতিকে সুরক্ষিত রাখা।
সরকার প্রধান এই সময় দেশবাসীর প্রতি বৃক্ষরোপণের আহŸান পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, যারা এখানে উপস্থিত আছেন এবং এর বাইরেও সবাইকে অনুরোধ করব প্রত্যেকে যেখানেই পারেন অন্তত তিনটি করে গাছ লাগান। একটি ফলজ, একটি বনজ এবং একটি ওষুধি গাছ। ফলের গাছ লাগালে ফল খেতে পারবেন, আর বনজ গাছ লাগালে সেটা বড় হলে বিক্রি করে টাকা পাবেন। ভালো টাকা পাওয়া যায় এখন। আর ওষুধি গাছ সেটা ওষুধ তৈরি বা বিভিন্ন কাজে লাগে। তিনি বলেন, সকলে যদি গাছ লাগায়, শুধু আমাদের বাড়ি ঘর না, কর্মস্থল, অফিস আদালত স্কুল কলেজ মসজিদ মাদরাসার প্রাঙ্গণে যেখানেই খালি জায়গা আছে, সেখানে গাছ লাগান। আপনারা যদি গাছ লাগান এত গরমে গাছের নিচে গিয়ে বসলে বেশ ঠাণ্ডাএবং আরামদায়ক ছায়া পাবেন।
ছাদ বাগান করাসহ গাছ লাগানোর পরামর্শ দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, নিজের হাতে গাছ লাগানোর তৃপ্তিটাই আলাদা। তার সংগঠন থেকে সেই ’৮৪-৮৫ সাল থেকেই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সরকার প্রধান বলেন, বৃক্ষরোপণ, বন স¤প্রসারণ ও বন সংরক্ষণের বিষয়টি অতীতে উপেক্ষিত থাকায় অতীতে দেশে বৃক্ষ আচ্ছাদনের পরিমাণ যেখানে ছিল ১৭ ভাগ এখন তা ২৫ ভাগের কাছাকাছিতে উন্নীত হয়েছে। বিভিন্ন নার্সারিতে ১১ কোটি ২১ লাখ চারা বিক্রয়-বিতরণ, ২ লাখ ১৭ হাজার ৪০২ হেক্টরে ব্লক বাগান তৈরি, ৩০ হাজার ২৫২ কিমি. সরু বাগান সৃজনের কাজ ইতোমধ্যে তার সরকার করে যাচ্ছে। তা ছাড়া শুধু বনেই বনায়ন নয়, যখনই তার সরকার রাস্তাঘাট তৈরি করছে বা স্থাপনা নির্মাণ করছে সেখানে একটি সুনির্দিষ্ট নির্দেশ থাকে যে কী পরিমাণ বৃক্ষ রোপণ করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেকোনো উন্নয়ন পরিকল্পনা যখন আমরা নিই সেখানে অবশ্যই আমাদের পরিবেশ রক্ষার বিষয়টি এবং যদি কোথাও আমাদের জায়গার জন্য গাছ কাটা পড়ে তাহলে যে পরিমাণ গাছ কাটা হবে তার তিনগুণ গাছ লাগানোর শর্তটি আমরা জুড়ে দেই। তিনি বলেন, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের স্লোগান হোক ‘সুস্থ পরিবেশ স্মার্ট বাংলাদেশ’।
প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মাঝে ‘বঙ্গবন্ধু অ্যাওয়ার্ড ফর ওয়াইল্ড লাইফ কনজারভেশন’ (২০২৩-২৪), ‘জাতীয় পরিবেশ পদক’ (২০২৩), ‘বৃক্ষরোপণে প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় পুরস্কার’ ২০২২-২৩) এবং উপকারভোগীদের মাঝে ‘সামাজিক বনায়নের লভ্যাংশ’-এর চেক প্রদান করেন।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি দীপংকর তালুকদার এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।
অনুষ্ঠানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সার্বিক কার্যক্রমের ওপর একটি ভিডিও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রকৃতি আপন খেয়ালে চলে। এবারের ঘূর্ণিঝড় রিমেলের মতো এত দীর্ঘস্থায়ী ঘূর্ণিঝড় এবং জলোচ্ছ¡াস অতীতে আর কখনো দেখি নাই। তিনবার জলোচ্ছ¡াসের ধাক্কা দিয়েছে এবং দীর্ঘসময় অবস্থান করছিল। এক দিকে পূর্ণিমা আর এক দিকে জোয়ারের সংমিশ্রণে এটি ভয়ঙ্কর রূপ নেয়। কিন্তু আল্লাহর রহমতে আমাদের মানুষদের আমরা বাঁচানোর জন্য ৮ লাখ মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে আনতে সক্ষম হয়েছি।
শেখ হাসিনা বলেন, তার সরকার গৃহহীনদের মধ্যে বিনামূল্যে ঘর বিতরণের অংশ হিসেবে উপকূলীয় এলাকায় দুর্যোগ সহনশীল ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। যেগুলো ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। এমনকী ভাষানচরে রোহিঙ্গাদের জন্য যে ঘর করে দিয়েছে সেগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, অ্যাডাপটেশন অ্যান্ড মিটিগেশন প্লান’ করে এবং কারো মুখাপেক্ষী না হয়ে নিজস্ব অর্থায়নে জলবায়ু ট্রাস্ট ফান্ড করে নিজেদের মতো করে তার সরকার মানুষকে রক্ষার উদ্যোগ নিয়েছে। যেটা আজকে বিশ্বের অনেক দেশ অনুসরণ করছে। তিনি অতিমাত্রায় রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার না করারও পরামর্শ দেন।
সরকার প্রধান বলেন, আমরা চাই এই প্রাকৃতিক বিপর্যয় থেকে আমাদের দেশ ও দেশের মানুষকে রক্ষা করতে এবং সাথে সাথে বৃক্ষায়ন এবং আমাদের খাদ্য উৎপাদন বাড়িয়ে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে। তা ছাড়া বিশাল সমুদ্র অঞ্চল অর্জন করায় তার সরকার উপকূলীয় এলাকাগুলোর উন্নয়নেও ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে।
প্রাকৃতিক দুর্যোগে আমাদের ন্যাচারাল ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন প্রকৃতির বিরুদ্ধে ঢালের কাজ করে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটা প্রকৃতিগত ভাবেই আমাদের ঝড়, ঝঞ্ঝা এবং জলোচ্ছ¡াস থেকে রক্ষা করে।
শেখ হাসিনা বলেন, কাজেই সুন্দরবনকে আরো সুরক্ষিত করা দরকার।

২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেট পেশ আজ

পৌনে পাঁচ লাখ কোটি টাকার বেশি কর আদায়ের লক্ষ্য নিয়ে আগামী অর্থবছরের বাজেট আজ জাতীয় সংসদে পেশ করবেন অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। তার প্রথম বাজেটেই সাধারণ মানুষের ওপর করের বোঝা বাড়বে। এদিকে টানা মূল্যস্ফীতির কারণে প্রকৃত আয় কমছে মানুষের। এর মধ্যে নতুন করে করের বোঝা যেন ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে দাঁড়াবে। নতুন বাজেটে প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসাবে দেখা হচ্ছে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ। এটি করতে গিয়ে প্রবৃদ্ধির পথ সংকুচিত করা হয়েছে। ফলে উচ্চ প্রবৃদ্ধির স্বপ্ন দেখছেন না তিনি। তাই প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৬ দশমিক ৭৫ শতাংশের ঘরে রাখা হচ্ছে। তবে চলতি বছরের মতো আগামী বাজেটেও থাকছে আইএমএফ’র শর্তের প্রতিফলন। চাপে থাকা সামষ্টিক অর্থনীতি ও বিদ্যমান চ্যালেঞ্জের পরও ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেটে ব্যয়ের সম্ভাব্য আকার ধরা হয়েছে ৭ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকা। এটি চলতি সংশোধিত বাজেটের তুলনায় ১১ দশমিক ৫৬ শতাংশ বেশি।
সূত্রমতে, আগামী বাজেটে মূল্যস্ফীতি ছাড়াও ‘সবার জন্য খাদ্য’, পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থা উন্নয়ন, প্রবৃদ্ধি অর্জন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা বৃদ্ধিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। অগ্রাধিকারের তালিকায় প্রতিটি গ্রামকে আধুনিকায়নকরণ, ডিজিটাল স্বাস্থ্য ও শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ, ফাস্ট ট্র্যাক অবকাঠামো প্রকল্প গুরুত্ব দেওয়া, জলবায়ু অভিঘাত মোকাবিলা এবং বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় পদক্ষেপ গ্রহণ। মূল্যস্ফীতিকে সহনীয় মাত্রায় রাখতে আগামী বাজেটে এর লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ। যদিও সর্বশেষ তথ্যমতে, মূল্যস্ফীতির হার ১০ শতাংশের কাছাকাছি চলে গেছে।
আজ বেলা তিনটায় জাতীয় সংসদে বাজেট পেশ করার আগে দিনের প্রথমার্ধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠেয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে তার অনুমোদন নেওয়া হবে। এটি হবে বর্তমান সরকারের টানা চতুর্থ মেয়াদের প্রথম বাজেট। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের ২১তম বাজেট।
বর্তমান উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ঋণের ঝুঁকি এবং মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির নিুগতি বিরাজ করছে। ফলে নানামুখী চ্যালেঞ্জ নিয়ে প্রথম বাজেট দিতে হচ্ছে অর্থমন্ত্রীকে। ডলার সংকট এখনো কাটেনি। রিজার্ভ অনেক নিচে নেমে এসেছে। লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী কাঙ্ক্ষিত হারে রাজস্ব আদায় হচ্ছে না। উন্নত বিশ্বে মূল্যস্ফীতি কমলেও দেশে উলটো চরিত্র বিরাজ করছে। মূল্যস্ফীতি ১০ অঙ্কের ঘর ছুঁইছুঁই। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার লাগামহীন। তবে খাদ্য উৎপাদন কিছুটা ভালো হবে-এমন আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অর্থমন্ত্রী হিসাবে অর্থনীতিকে আগের জায়গায় ফিরিয়ে আনা, নিত্যপণ্য মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখা এবং জীবনযাত্রার মান সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনাকে অগ্রাধিকার দেবেন। মূল্যস্ফীতির কশাঘাত থেকে রক্ষায় কিছু নতুন দরিদ্র মানুষকে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় আনার ঘোষণা দেবেন। প্রথম বাজেটে নতুন কিছু কর্মসূচি অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। তবে স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে দিকনির্দেশনা থাকবে। এছাড়া প্রতিফলন ঘটানো হবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্বাচনি ইশতেহারের। পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনার ব্যাপারে ঘোষণা থাকতে পারে। নতুন বাজেটে তিনটি বিষয় প্রত্যাশা রেখে অর্থনীতিবিদ এমকে মুজেরী বলেন, মূল্যস্ফীতিসহ সামষ্টিক অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় রাজস্বনীতির সঙ্গে মুদ্রানীতি সমন্বয় করতে হবে। মূল্যস্ফীতির কারণে অনেক মানুষ দরিদ্র হয়ে গেছে, বাজেটে এই শ্রেণির মানুষকে সুবিধা দেওয়ার উদ্যোগ থাকতে হবে। আর ভিশন ২০৩১ লক্ষ্য অর্জনের জন্য যে হারে প্রবৃদ্ধি হওয়ার কথা সেভাবে হচ্ছে না, সেটি নজর দিতে হবে। আসন্ন বাজেটে বিদেশি ঋণ, সুদ ও ভর্তুকি মতো ব্যয় মেটাতে রাজস্ব খাতের চাপ কাটছে না এমনিতে। ব্যয় আরও বৃদ্ধির কারণে চাপ আগামী অর্থবছরে অব্যাহত থাকছে। মোট বাজেটের ২০ শতাংশই চলে যাবে সুদ পরিশোধে। টাকার অঙ্কে এক লাখ ১৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে দেশের অভ্যন্তরীণ ঋণের সুদ ৯৩ হাজার কোটি টাকা এবং বিদেশি ঋণের সুদে ব্যয় হবে ২০ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগামী অর্থবছরে বড় ধরনের করজালের আওতা বাড়ানো হচ্ছে। করজাল স¤প্রসারণ করে রাজস্ব আদায় বাড়াতে জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী বেশ কিছু প্রস্তাব দিতে পারেন। সে ধারাবাহিকতায় আগামী অর্থবছরে শুল্ক বাড়তে পারে মুঠোফোনের রিচার্জের ওপর। এতে ফোনে কথার খরচ বাড়বে। এছাড়া মধ্যবিত্ত পরিবারের ব্যবহৃত পণ্য পানিশোধন যন্ত্র, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র বা এসি, ফ্রিজসহ বিভিন্ন ধরনের গৃহস্থালি সামগ্রীর ওপর শুল্ককর বাড়তে পারে। ব্যাংকে গচ্ছিত টাকার ওপর আবগারি শুল্কও বাড়বে।
এছাড়া প্রায় অর্ধশত পণ্যের উৎপাদন, সরবরাহ পর্যায়ে ভ্যাট হার এবং সম্পূরক শুল্ক বাড়ানো হচ্ছে। এ তালিকায় আছে-মোবাইল ফোন, আমসত্ত¡, ফলের জুস, কোমল পানীয়, কার্বোনেটেড বেভারেজ, এনার্জি ড্রিংকস, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী বাল্ব ইত্যাদি। এতে ভোক্তা পর্যায়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় ও নিত্যব্যবহার্য পণ্যের দাম বাড়তে পারে। এছাড়া অর্ধশত মূলধনি যন্ত্র ও যন্ত্রাংশের রেয়াতি সুবিধা (শূন্য শুল্কে আমদানি) প্রত্যাহার করা হচ্ছে। কালোটাকা সাদা করার সুযোগ থাকছে। নগদ টাকার ওপর ১৫ শতাংশ কর দিয়ে বিনাপ্রশ্নে যে কেউ এই সুযোগ নিতে পারবেন। একইভাবে জমি, ফ্ল্যাট, অ্যাপার্টমেন্ট কিনেও নির্দিষ্ট হারে কর দিয়ে টাকা সাদা করা যাবে।
এদিকে সিগারেট উৎপাদন পর্যায়ে সম্পূরক শুল্ক ও মূল্য স্তর বাড়ানোর ঘোষণা আসতে পারে। দেশে উৎপাদিত কাজুবাদাম চাষকে সুরক্ষার আওতায় আনতে আমদানিকৃত কাজুবাদামের শুল্ক ৫ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ, এসি উৎপাদনে ব্যবহৃত ক¤েপ্রসার ও সব ধরনের উপকরণের শুল্ক বৃদ্ধি, পানির ফিল্টার আমদানিতে শুল্ক ১০ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করা হতে পারে। সিএনজি-এলপিজিতে কনভার্সনের ব্যবহৃত কিট, সিলিন্ডার ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ আমদানিতে শুল্ক ৩ থেকে বাড়িয়ে ৫ শতাংশ করা হতে পারে। পাশাপাশি বাসাবাড়ি বা শিল্পে জেনারেটর সংযোজন ও উৎপাদনে ব্যবহৃত উপকরণ বা যন্ত্রাংশ আমদানিতে এক শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হচ্ছে। স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণ-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও দেশে উৎপাদনের স্বার্থে বেশকিছু পণ্যে শুল্ক কমানোর ঘোষণা আসতে পারে। এর মধ্যে ২৮২টি পণ্যের ন্যূনতম মূল্য প্রত্যাহার-হ্রাস, সম্পূরক শুল্ক (এসডি) ও সংরক্ষণমূলক শুল্ক (আরডি) কমানো হতে পারে। এর মধ্যে প্যাকেটজাত গুঁড়োদুধ আমদানিতে ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার, চকোলেট আমদানিতে সম্পূরক শুল্ক ৪৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশ, ল্যাপটপ আমদানিতে ভ্যাট ৩১ শতাংশের পরিবর্তে ২০.৫০ শতাংশ করা হবে।
পাশাপাশি রড, বার ও এঙ্গেল তৈরির কাঁচামাল ম্যাঙ্গানিজ আমদানিতে শুল্ক ১০ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ, দেশে তৈরি মোটরসাইকেলের সিকেডি ইঞ্জিনের পার্টস আমদানির শুল্ক কমানো হচ্ছে। কিডনি ডায়ালাইসিসে ব্যবহৃত ফিল্টার ও সার্কিট আমদানির শুল্ক ১০ থেকে কমিয়ে ১ শতাংশ করা হচ্ছে। এ কারণে ডায়ালাইসিস খরচ কমতে পারে।
যদিও শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে এক শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হচ্ছে। এ কারণে দেশে ব্যবহার্য অনেক পণ্যের দাম বাড়তে পারে।
সাধারণত বিয়ে, বিবাহবার্ষিকী, জন্মদিন, গায়েহলুদ, সুন্নতে খাতনাসহ বিভিন্ন ধরনের সামাজিক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি সভা, সেমিনার, পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান করতে কমিউনিটি সেন্টার ও মিলনায়তন ভাড়া করা হয়। এখন থেকে বার্ষিক আয়কর রিটার্ন জমার রসিদ ছাড়া মিলনায়তন ভাড়া করা যাবে না। বর্তমানে ৪৩ ধরনের সেবা পেতে রিটার্ন জমার কপি লাগে। এই তালিকায় মিলনায়তন ভাড়া, হোটেল, মোটেল, রেস্টুরেন্ট, হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টারের লাইসেন্স নিবন্ধন ও নবায়নে রিটার্ন জমার এই বাধ্যবাধকতা যুক্ত হতে পারে। আগামী অর্থবছরে করমুক্ত আয়সীমা বাড়ছে না। এখনকার মতো বার্ষিক করমুক্ত সীমা সাড়ে তিন লাখ টাকাই থাকছে। তবে করহার পুনর্বিন্যাস হচ্ছে। এখন ৫, ১০, ১৫, ২০ ও ২৫ শতাংশ করহারের সঙ্গে ৩০ শতাংশের আরেকটি স্তর আসছে। বছরে আয় সাড়ে ৩৮ লাখ টাকার বেশি হলে করদাতাকে বাকি অর্থের ওপর ৩০ শতাংশ হারে কর দিতে হবে।
সংসদ সদস্যদের আমদানি করা গাড়ির ওপর ২৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক বসতে পারে। শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত নয় এমন প্রতিষ্ঠানের করহার আড়াই শতাংশ কমিয়ে ২৫ শতাংশ করা হতে পারে। শর্ত হলো ৫ লাখ টাকার একক লেনদেন এবং বার্ষিক লেনদেন ৩৬ লাখ টাকার বেশি হলে তা ব্যাংকের মাধ্যমে হতে হবে। তবে সমবায় সমিতির করহার ১৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২০ শতাংশ করা হতে পারে। ব্যবসায়ীরা কিছু পণ্য আমদানিতে শুল্ক সুবিধা পান। সেই সুবিধা সীমিত করা হচ্ছে। খাদ্যপণ্য, কৃষি উপকরণ, ওষুধসহ অত্যাবশ্যকীয় ও জীবন রক্ষাকারী পণ্যসহ ৩২৯টি পণ্য আমদানি করতে আমদানিকারককে কোনো আমদানি শুল্ক ও সম্পূরক শুল্ক দিতে হয় না। আগামী বাজেটে ওই তালিকার অন্তত ১০-১৫ শতাংশ পণ্যের ওপর ১ শতাংশ হারে আমদানি শুল্ক আরোপ করা হতে পারে। সেই হিসাবে অর্ধশতাধিক পণ্যের ওপর এই শুল্ক বসতে পারে। প্রাথমিক তালিকায় আছে গম, ভুট্টা, শর্ষের বীজ, তুলার বীজ, বিভিন্ন শাকসবজির বীজ, বিটুমিন, কয়লা, জিপসাম, ভিটামিন, পেনিসিলিন, ইনসুলিন, বিভিন্ন ধরনের দরকারি রাসায়নিক, প্লাস্টিক কয়েল, পেপার বোর্ড, বিভিন্ন স্টিলজাতীয় পণ্য, শিল্পের কাঁচামাল, যন্ত্রপাতি, যন্ত্রাংশ ইত্যাদি।
এছাড়া বর্তমানে ২৭টি তথ্যপ্রযুক্তি সেবা খাতে বিনিয়োগ করলে কর অবকাশ সুবিধা পাওয়া যায়। আগামী বাজেটে এই কর অবকাশ সুবিধাপ্রাপ্ত খাতের সংখ্যা ১৯-এ নামিয়ে আনা হচ্ছে।
এছাড়া হাইটেক পার্ক ও অর্থনৈতিক অঞ্চলের শিল্পকারখানার মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানিতে ১ শতাংশ আমদানি শুল্ক বসতে পারে। এই দুটি অঞ্চলের শিল্পমালিকরা আর শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুযোগ পাবেন না। এক্ষেত্রে ২৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক বসতে পারে।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আয় বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ করা হয়। সেই মুনাফার ওপর এখন ১০ শতাংশ উৎসে কর কেটে রাখা হয়। এটি বাড়িয়ে ২০ শতাংশ করা হতে পারে।
আয়-ব্যয় ও ঘাটতি : মোট ব্যয়ের আকার ৭ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে পরিচালন ব্যয় ৫ লাখ ৬ হাজার ৯৭১ কোটি টাকা। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আকার ২ লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকা, মূলধনি ব্যয় ৩৭ হাজার ৯৮৯ কোটি টাকা, ঋণ ও অগ্রিম ৮ হাজার ৪৫৭ কোটি টাকা, অভ্যন্তরীণ ঋণের সুদ ৯৩ হাজার কোটি টাকা এবং বৈদেশিক ঋণের সুদ ২০ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।
আগামী অর্থবছরে মোট আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫ লাখ ৪৫ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে অনুদান আছে ৪ হাজার ৪শ কোটি টাকা। এছাড়া জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) কর ৪ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা, যার মধ্যে শুধু এনবিআর নিয়ন্ত্রণ কর ৪ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা এবং এনবিআরবহির্ভূত কর ১৫ হাজার কোটি টাকা। এছাড়া কর ছাড়া প্রাপ্তি ৪৬ হাজার কোটি টাকা। ঘাটতি (অনুদানসহ) রাখা হয়েছে ২ লাখ ৫১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। আর অনুদান ছাড়া ঘাটতির অঙ্ক হচ্ছে ২ লাখ ৫৬ হাজার কোটি টাকা। এই ঘাটতি পূরণে বিদেশ থেকে ঋণ নিট ৯০ হাজার ৭০০ কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ ঋণ ১ লাখ ৬০ হাজার ৯০০ কোটি টাকা। অভ্যন্তরীণ ঋণের মধ্যে ব্যাংক খাত থেকে আসবে ১ লাখ ৩৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, সঞ্চয়পত্র থেকে ১৫ হাজার ৪০০ কোটি টাকা এবং অন্যান্য খাত থেকে ৮ হাজার কোটি টাকা। মূল্যস্ফীতির কশাঘাত মোকাবিলায় ২০ লাখ ২৬ হাজার দরিদ্র মানুষকে নতুন করে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় আনা হচ্ছে। এর মধ্যে বিভিন্ন ভাতার আওতায় আসবেন ১০ লাখ ২৬ হাজার জন। এরা সবাই অতিদরিদ্র। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির মুখে ওএমএসসহ খাদ্য সহায়তা কর্মসূচিতে যুক্ত করা হবে বাকি ১০ লাখ। পাশাপাশি দেশের সব প্রতিবন্ধীকে ভাতার আওতায় আনা হবে।