ভারতের লোকসভা নির্বাচনে এবার মোট ৭৮ জন মুসলিম প্রার্থী প্রতিদ্ব›িদ্বতা করেছিলেন। তাদের মধ্যে ১৫ জন ভোটে জয়ী হয়েছেন। জয়ী মুসলিম প্রার্থীদের মধ্যে ভারতের জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার ইউসুফ পাঠানও রয়েছেন।
বিশ্বকাপজয়ী সাবেক ক্রিকেটার ইউসুফ পাঠান পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদের বহরমপুর আসনে হারিয়েছেন কংগ্রসের রাজ্য সভাপতি ছয়বারের সংসদ সদস্য অধীর রঞ্জন চৌধুরীকে। জয়ের ব্যবধান ৮৫ হাজার ভোট।
মুসলিম প্রার্থীদের মধ্যে আরও যারা জিতেছেন তাদের মধ্যে আছেন কংগ্রেস প্রার্থী ইমরান মাসুদ। তিনি উত্তর প্রদেশের সাহারানপুর আসনে ৬৪ হাজারের বেশি ভোটের ব্যবধানে জয় পান।
সমাজবাদী পার্টির তরুণ নেতা ২৯ বছর বয়সি ইকরা চৌধুরী উত্তর প্রদেশের কাইরানা আসনে বিজেপি নেতা প্রদীপ কুমারকে ৬৯ হাজারের বেশি ভোটের ব্যবধানে হারান।
একই রাজ্যের আরেক আসন গাজিপুরে জিতেছেন সমাজবাদী পার্টির মুসলিম প্রার্থী আফজাল আনসারি।
এআইএমআইএম সভাপতি আসাদুদ্দিন ওয়াইসি হায়দরাবাদে নিজের আসনটি ধরে রেখেছেন। তিনি বিজেপির মাধবী লতা কম্পেলাকে হারান।
লাদাখে স্বতন্ত্র মুসলিম প্রার্থী মোহাম্মদ হানাফি এবং জম্মু ও কাশ্মীরের বারামুল্লা আসনে আরেক স্বতন্ত্র মুসলিম প্রার্থী আবদুল রশিদ শেখ ৪ লাখ ৭০ হাজার ভোটে জয়ী হয়েছেন।
উত্তর প্রদেশে সমাজবাদী পার্টির প্রার্থী মহিবুল্লাহ রামপুর আসনে ৪ লাখ ৮১ হাজারের বেশি ভোট পেয়ে জয়লাভ করেন। সাম্ভাল আসনে জেতেন জিয়াউর রেহমান।
ন্যাশনাল কনফারেন্স প্রার্থী মিয়া আলতাফ আহমদ জম্মু ও কাশ্মীরের অনন্তনাগ-রাজৌরি আসনে জম্মু ও কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতিকে হারিয়ে দেন। শ্রীনগরে এনসি প্রার্থী আগা সৈয়দ রুহুল্লাহ মেহদি জয়ী হয়েছেন।
দেড় মাস ধরে সাত দফায় ভোট গ্রহণ শেষে মঙ্গলবার লোকসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণা করা হয়। চূড়ান্ত ফলাফলে বিজেপি ২৪০ ও কংগ্রেস ৯৯টি আসনে জয়ী হয়। এককভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ২৭২ আসন পেতে বিজেপির আরও ৩২টি আসনের প্রয়োজন ছিল। তবে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট ২৯৩ আসন পেয়েছে। কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইন্ডিয়া জোট পেয়েছে ২৩৩ আসন।
লোকসভা ভোটে কতজন মুসলিম প্রার্থী জিতলেন
মেক্সিকোতে নারী প্রেসিডেন্ট হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে নারী মেয়র হত্যা
মেক্সিকোর পশ্চিমাঞ্চলীয় মিচোয়াকান প্রদেশের কোটিজা শহরের মেয়র ইয়োলান্দা সানচেজ ফিগুয়েরাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। মেক্সিকান কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে বুধবার সিএনএন জানিয়েছে, গত শনিবার দেশটিতে প্রথমবারের মতো কোনো নারী প্রেসিডেন্ট বিজয়ী হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
মিচোয়াকান রাজ্যে অ্যাটর্নি জেনারেল এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ঘটনার দিন একটি জিম থেকে বাসায় ফিরছিলেন ফিগুয়েরা। এ সময় তার সঙ্গে একজন দেহরক্ষীও ছিলেন। রাস্তায় একটি সাদা ভ্যানে চড়ে আসা কয়েক ব্যক্তি তাদের ওপর গুলিবর্ষণ করেন। এ ঘটনায় পরে ফিগুয়েরা ও তার দেহরক্ষী দুজনই হাসপাতালে মারা যান। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে।
২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে মেক্সিকোর জাপোপান শহরে একবার অপহৃত হয়েছিলেন ফিগুয়েরা। যদিও তিন দিন পর তাকে ছেড়ে দিয়েছিল অপহরণকারীরা। এ ঘটনায় পরে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে অপহরণের অভিযোগ আনা হয়েছিল।
মিচোয়াকানের প্রাদেশিক সরকার ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ফিগুয়েরা ও তার দেহরক্ষীকে হত্যার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে। প্রদেশের জননিরাপত্তা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ীদের খুঁজে বের করতে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোর সঙ্গে একটি যৌথ নিরাপত্তা অভিযান চালু করা হয়েছে।
ফিগুয়েরাকে হত্যার কয়েক ঘণ্টা আগেই মেক্সিকোতে প্রথমবারের মতো একজন নারী হিসেবে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন ক্লাউদিয়া শিনবাউম। নারী নির্যাতন ও পুরুষতান্ত্রিক মেক্সিকান সমাজে ক্লাউদিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়াকে একটি বিশেষ অর্জন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে এবারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মেক্সিকোতে নজিরবিহীন সহিংসতার ঘটনাও ঘটেছে। মেক্সিকোর ইতিহাসে সবচেয়ে রক্তাক্ত নির্বাচন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে এবারের নির্বাচনকে। ভোটকে প্রভাবিত করার জন্য দেশটির সন্ত্রাসী সংগঠনগুলো নির্বাচনি প্রচারণার সময় কয়েক ডজন রজনীতিবিদকে হত্যা করেছে।
আগামী ১ অক্টোবর থেকে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন শুরু করবেন ক্লাউদিয়া। বিদায় নেবেন দেশটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট আন্দ্রেস ম্যানুয়েল লোপেজ। তারা দুজনই মোরেনা দলের এবং মিত্র হিসেবে পরিচিত। লোপেজের সামাজিক কল্যাণমূলক নানা কর্মসূচি অনেক মেক্সিকানকে দারিদ্র্য থেকে বের করে এনেছে। এর ফলে মোরেনা দলের জনপ্রিয়তা আরও অনেক বেড়েছে। সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে এই জনপ্রিয়তার প্রতিফলন দেখা গেছে।
নতুন প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শিনবাউম দেশের মধ্যে গ্যাং নেতৃত্বাধীন সহিংসতা এবং গুমের মহামারিকে উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছেন। মেক্সিকোতে হত্যার হার বিশ্বের মধ্যে সর্বোচ্চ এবং এ দেশটি নারীদের জন্য একটি বিপজ্জনক স্থান হিসেবে রয়ে গেছে। পরিসংখ্যান বলছে, দেশটিতে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১০ জন নারী হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। পাশাপাশি বর্তমানে মেক্সিকোতে ১ লাখের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। তারা কোথায় আছেন, কেমন আছেন কেউ জানে না।
নরেন্দ্র মোদিকে শেখ হাসিনার ফোন
টানা তৃতীয়বার বিজেপির নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্সের (এনডিএ) বিজয়ী হওয়ায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে বাংলাদেশের জনগণ, সরকার, প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত ও পরিবারের পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বুধবার সন্ধ্যায় দুই নেতার মধ্যে ফোনালাপ অনুষ্ঠিত হয়।
এসময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ভারতের নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আমন্ত্রণ জানান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার এ আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন।
ফোনালাপে শেখ হাসিনা বলেন, আপনার (নরেন্দ্র মোদি) শক্তিশালী নেতৃত্বের কারণে এনডিএর এই বিজয় সম্ভব হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আশা প্রকাশ করেন, এই বিজয়ের মধ্য দিয়ে ভারত ও তার জনগণ বিশ্ব অঙ্গনে আরও এগিয়ে যাবে। বাংলাদেশ এবং ভারতের মধ্যেকার সৌহার্দ্যপূর্ণ, বন্ধুত্বপূর্ণ ও সুপ্রতিবেশি সুলভ সম্পর্কের কথাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
এর আগে নরেন্দ্র মোদিকে এক চিঠি পাঠিয়ে অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
মোদির উদ্দেশে শেখ হাসিনা লেখেন, ১৮তম লোকসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নেতৃত্বে জাতীয় গণতান্ত্রিক জোটের (এনডিএ) জয়ে বাংলাদেশের জনগণ এবং আমার পক্ষ থেকে আপনাকে আন্তরিক অভিনন্দন।
ভারতীয় নির্বাচন কমিশনের ফলাফল বলছে, এবারের নির্বাচনে বিজেপি এককভাবে জয়ী হয়েছে ২৪০টি আসনে। তাতে অবশ্য সরকার গঠনে সমস্যা হবে না দলটির।
কারণ, বিজেপির নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্সভুক্ত (এনডিএ) দলগুলো সম্মিলিতভাবে জয়ী হয়েছে মোট ৫৩টি আসনে। ফলে দল এবং জোটের মোট ২৯৩ জন এমপি নিয়ে অনায়াসেই সরকার গঠন করতে পারবে বিজেপি।
নব্বই-এর গণ আন্দোলনের সাহসী ছাত্রনেতা শফি আহমেদ আর নেই
জন্মভূমি ডেস্কঃ নব্বই-এর গণ আন্দোলনের অন্যতম সাহসী ছাত্রনেতা শফি আহমেদ পৃথিবীর মায়া ছেড়ে অনন্তে পাড়ি দিয়ে়ছেন ৩ জুন বিকেল সাড়ে চারটায়।নব্বই-এর গণ আন্দোলনের অন্যতম সাহসী ছাত্রনেতা শফি আহমেদ পৃথিবীর মায়া ছেড়ে অনন্তেপাড়ি দিয়েছেন ৩ জুন । শফী আহমেদ মারা গেছেন আওয়ামী লীগার হিসেবে। কিন্তু দেশজুড়ে তার পরিচিতি আসলে জাসদ ছাত্রলীগের নেতা হিসেবে। স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের সময় ‘ছাত্রলীগ’ নামে একাধিক সংগঠন ছিল। আওয়ামী লীগ সমর্থিত ছাত্রলীগের পাশাপাশি জাসদ সমর্থিত ছাত্রলীগও বেশ জনপ্রিয় ছিল। তাই আলাদা করতে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের নামের আদ্যাক্ষর দিয়ে ব্র্যাকেটবন্দী করা হতো। যেমন ছাত্রলীগ (সু-র) মানে সুলতান-রহমান বা ছাত্রলীগ (হা-অ) মানে হাবিব-অসীম আওয়ামী লীগ সমর্থিত। আবার ছাত্রলীগ (শি-মু) মানে শিরিন-মুশতাক, ছাত্রলীগ (না-শ) মানে নাজমুল-শফী; ছিল জাসদ সমর্থিত। এরশাদ আমলে একবার দুই ছাত্রলীগ, ছাত্র ইউনিয়ন মিলে ডাকসুতে প্যানেল জয় পেয়েছিল। ভিপি হয়েছিলেন আওয়ামী ছাত্রলীগের সুলতান মনসুর, জিএস জাসদ ছাত্রলীগের মুশতাক আহমেদ, এজিএস ছাত্র ইউনিয়নের নাসিরউদ দোজা। তখন মাঠ ছিল উত্তাল, আন্দোলনমুখর। এটা মানতেই হবে এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের মূল নেতৃত্বটা ছিল ছাত্রদের হাতে। ৮৩এর মধ্য ফ্রেুয়ারি থেকে শুরু করে ৯০এর ডিসেম্বর পর্যন্ত নানা ধাপে ছাত্ররাই সামনে থেকে লড়াই করেছে। ৯০এর ১০ অক্টোবর শহীদ জিহাদের লাশ সামনে রেখে গড়ে ওঠা সর্বদলীয় ছাত্রঐক্যের ইস্পাতকঠিন দৃঢ়তায় এরশাদের পতন নিশ্চিত হয়েছিল।

এই সর্বদলীয় ছাত্রঐক্যের অন্যতম কারিগর ছিলেন শফী আহমেদ। ছোটখাটো গড়নের হলেও মিছিলে, মিটিঙে, স্লোগানে, লড়াইয়ে শফী আহমেদ সবসময় সামনের কাতারেই থাকতেন। তবে শফী আহমেদের আসল কৃতিত্ব ছিল কৌশল প্রণয়নে। ছাত্রঐক্যের বৈঠকে আন্দোলনের কৌশল ও কর্মসূচি নির্ধারণ, দ্রত সির্দ্ধান্ত নিতে দারুণ পারঙ্গম ছিলেন তিনি। আন্দোলন নস্যাৎ করতে স্বৈরাচারের দোসরদের নানা কৌশলও নস্যাৎ হয়ে যেতো শফী আহমেদের পাল্টা চালে।ছাত্র রাজনীতির উজ্জ্বল অধ্যায় শেষে জাতীয় রাজনীতিতে পা রাখেন শফী আহমেদ। জাসদ হয়ে যোগ দেন আওয়ামী লীগে। তবে আওয়ামী লীগ থেকে কিছু পাননি তিনি। ছাত্রলীগের কমিটিতে তার সভাপতি নাজমুল হক প্রধান জাসদে থেকেই এমপি হয়েছেন। কিন্তু শফী আহমেদ আওয়ামী লীগে এসে মনোনয়নই পাননি। একেবারে পাননি বললে ভুল হবে। ২০০৭ সালের নির্বাচনে তিনি মনোনয়ন পেয়েছিলেন। তবে সেবার নির্বাচনই হয়নি। এরপর ৪টি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ টানা জয় পেয়েছে, কিন্তু শফী আহমেদের কপালে আর মনোনয়ন জোটেনি। মনোনয়ন না পেলেও রাজনীতি ছাড়েননি তিনি, ছাড়েননি এলাকার জনগণকেও। নেত্রকোণার হাওরের মানুষ তাকে প্রাণ দিয়ে ভালোবাসতো। মনোনয়ন না পেয়ে শফী আহমেদ যতটা বঞ্চিত হয়েছেন, তার মত তীক্ষ্ণ মেধার একজন মানুষকে কাজে লাগাতে না পারায় আওয়ামী লীগের ক্ষতিও কম নয়। অবশ্য আওয়ামী লীগে এখন স্মার্ট হাইব্রিড নেতাদের দাপটে শফী আহমেদের মত মাটি-মানুষের নেতা বড্ড বেমানান। শফী আহমেদ থাকা না থাকায় কিচ্ছু যায় আসে না। শফী আহমেদের বুক ভরা অভিমান ছিল; কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রশ্নে, অসাম্প্রদায়িকতার প্রশ্নে কখনো আপস করেননি। বুক ভরা অভিমান নিয়েই দুপুরে ঘুমের মধ্যে মাত্র ৬৩ বছর বয়সে চির ঘুমের দেশে চলে গেলেন শফী আহমেদ।
এদিকে নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক জন্মভূমির সম্পাদক রতন তালুকদার সাহসী ছাত্রনেতা শফি আহমেদ-এর আকস্মিক মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং তার শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেন।
নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে মামুন’স টিউটোরিয়ালের বর্ণিল অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠান
নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে একঝাঁক মেধাবী শিক্ষার্থীদের নিয়ে মামুন’স টিউটোরিয়ালের ২০২৪ সালের অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠিত হয়েছে। মামুন’স টিউটোরিয়েল থেকে প্রাইভেট শিক্ষা নিয়ে বিশেষায়িত স্কুল ও কলেজে ভর্তির সুযোগ পাওয়া শিক্ষার্থীদের পদক ও সনদ দিয়ে সম্মাননা জানিয়েছে মামুন’স টিউটোরিয়াল।
২ জুন রোববার ব্রঙ্কসের গোল্ডেন প্যালেস মিলনায়তনে আয়োজিত বর্ণিল এ অনুষ্ঠানে শুর“তেই সবাইকে স্বাগত জানান মামুন’স টিউটোরিয়েলের কর্ণধার শেখ আল মামুন এবং ডাঃ নাহিদ খান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপ¯ি’ত ছিলেন ডা. অগাস্টিন ওগারেলো। বিশেষ অতিথি ছিলেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র অফিসের প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা মীর বাশার, সিপিএ জাকির চৌধুরী, ব্রঙ্কস কমিউনিটি বোর্ড -৯ এর চেয়ারম্যান মোহাম্মদ এন মজুমদার, ডিটেকটিভ মাসুদুর রহমান, শাহ খালেদ আলী প্রমুখ।
উপ¯’াপিকা দিমা নেফারতিতি’র পরিচালনায় অনুষ্ঠানের শুর“তেই কোরআন ও গীতা থেকে পাঠ করা হয়। বাজানো হয় বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সংগীত। শেখ আল মামুন তাঁর বক্তৃতায় বলেছেন, দেশ থেকে প্রথম আসা অভিবাসীরা সন্তানদের সাফল্যের জন্য যে ত্যাগ স্বীকার করেন এ জন্যই সন্তানদের সাফল্য অর্জন সহজ হয়। পাশাপাশি মেধাবী এসব শিশু কিশোরদের অনেকেই বাংলাদেশ থেকে এসে ইংরেজি ভালো করে না জানা সত্তে¡ও দ্র“তই তারা নিজ মেধায় এগিয়ে গিয়েছে। এসব সাফল্যের পেছনে সফল শিক্ষার্থীদের বাবা মা বিরাট ভূমিকা পালন করেছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ফার্মাস্টি মিঃ জি, কমিউনিটি এক্টিভিস্ট শাখাওয়াত আলী, প্রথম আলো উত্তর আমেরিকার সম্পাদক ইব্রাহীম চৌধুরী, বাংলা পত্রিকা সম্পাদক এবং টাইম টিভির সিইও আবু তাহের, সুবর্না কামাল, অনিকা তাকমি, মিঃ স্কট, শুভ জ্যোতি রয়, অভীক বড়ুয়া, মুশফিকা মিশি, নাজমুল ইসলাম, ইহান বিন মামুন, লাবিবা চৌধুরী, ফারিয়া আলম, মাসুদ রহমান, জামাল মাহমুদ প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা মামুন’স টিউটোরিয়েলে তাদের শিক্ষা অর্জনের ব্যক্তগত অভিজ্ঞতা ও সাফল্যের কথা তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে ‘বাঙ্গালী’ পত্রিকার সম্পাদক কৌশিক আহমেদ, ইউএসএ নিউজ অনলাইনের সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন সেলিম, আবু সাইদসহ মেধাবী শিক্ষার্থীরা তাদের পরিবার নয়ে অনুষ্ঠানে উপ¯ি’ত ছিলেন।
অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, মা বাবার চাপে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার নয় নিজে যা হতে চাও তাই হও। সাফল্যের কোন শেষ নেই। যে জীবন সাফল্য দিয়ে শুর“ হয়, তাও থমকে যাতে পারে। আবার থমকে যাওয়া জীবন সাফল্যের মোড় নেবে যদি প্রচেষ্টা চলমান থাকে।
পরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশন করেন শিল্পী আফজাল। নজর“লের কবিতা আবৃত্তি করেন ডাঃ নাহিদ খান।
ক্যারিয়ার বাঁচাতে গাজা যুদ্ধ টেনে নিয়ে যাচ্ছেন নেতানিয়াহু : বাইডেন
মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ফিলিস্তিনিদের মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ার সাথে সাথে গাজায় ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস বিরুদ্ধে ইসরাইলের যুদ্ধ পরিচালনার ক্রমাগত সমালোচনা করছেন। নতুন এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু রাজনৈতিকভাবে নিজেকে বাঁচাতে সংঘাত দীর্ঘ করছেন বলে মনে করার ‘যথেষ্ট কারণ’ রয়েছে।
যুদ্ধের আট মাস পূর্তির কাছাকাছি সময়ে ইসরাইলি নেতা সংঘাতের অবসান ঘটাতে বাইডেন এবং অন্যান্য বিশ্ব নেতার কাছ থেকে পরস্পরবিরোধী দাবির মুখোমুখি হয়েছেন। অন্যদিকে ইসরাইলি পার্লামেন্টের ডানপন্থী আইনপ্রণেতারা বলেন, গাজায় হামাসের নিয়ন্ত্রণের শেষ অবশিষ্টাংশ মুছে না ফেলে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলে তারা নেতানিয়াহুর প্রতি সমর্থন উঠিয়ে নেবেন এবং তার সরকারকে উৎখাত করবেন।
গত সপ্তাহে বাইডেন গাজায় যুদ্ধবিরতির জন্য ইসরাইলি একটি প্রস্তাব ঘোষণা করেন এবং এর প্রতি বিশ্বসমর্থনের আহŸান জানান। কয়েক দিন আগে টাইম ম্যাগাজিন এক সাক্ষাৎকারে বাইডেনকে প্রশ্ন করেছিল, নেতানিয়াহু রাজনৈতিকভাবে আত্মরক্ষার জন্য যুদ্ধ প্রলম্বিত করছেন- এমনটা তিনি মনে করেন কি না।
বাইডেন স্বীকার করেন যে, তার এবং নেতানিয়াহুর মধ্যে উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্ক বিদ্যমান। কারণ গাজায় মৃতের সংখ্যা ৩৬ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। এর মধ্যে বেসামরিক নাগরিক এবং যোদ্ধারাও রয়েছে। যুদ্ধের পরে একটি পুনরুজ্জীবিত ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের গাজা শাসন করা উচিত কি না তা নিয়ে তাদের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এমন পরিকল্পনা সমর্থন করে। অন্যদিকে নেতানিয়াহু তার নিজস্ব বিশদ পরিকল্পনা না বলেই এটি প্রত্যাখ্যান করেন।
বাইডেন জানতে চান , ‘নেতেনিয়াহুর সঙ্গে আমার প্রধান মতবিরোধ হচ্ছে এর পর কি হবে…গাজার পর? এটি কোথায় ফিরে যাবে? ইসরাইলিরা আবার কি ভেতরে প্রবেশ করবে?’
ভারতের লোকসভা নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল ঘোষণা, বিজেপি ২৪০, কংগ্রেস ৯৯
ভারতের লোকসভা নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল ঘোষণা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে ৫৪৩টি আসনের ফলাফল ঘোষণা করেছে।
এতে দেখা গেছে, বিজেপি একা পেয়েছে ২৪০টি আসন। কংগ্রেস পেয়েছে ৯৯টি আসন। সমাজবাদী দল পেয়েছে ৩৭টি আসন। পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছে ২৯টি আসন। আর বাকি আসনগুলো পেয়েছে অন্যান্য দলগুলো।
এবার এককভাবে কোনো দলই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। তবে ২০১৯ সালের নির্বাচনে বিজেপি একাই ৩০২টি আসনে জিতেছিল। এর মাধ্যমে তারা দেশটিকে এককভাবে সরকার গঠনের যোগ্যতা অর্জন করেছিল। তবে এবার আর এমন ম্যাজিক দেখাতে পারেনি হিন্দুত্ববাদী দলটি।
বিজেপির নেতৃত্বাধীন জোট ‘এনডিএ’ ২৯৩টি আসন পেয়েছে। অপরদিকে কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন জোট ‘ইনডিয়া’ পেয়েছে ২৩৩টি আসন। অন্যান্য দলগুলো পেয়েছে বাকি ১৭টি আসন। ‘এনডিএ’ জোটে থাকা দলগুলোকে নিয়ে মোদি সরকার গঠন করতে পারবে। তবে এদিকে চন্দ্রবাবু নাইড়ু ও নীতীশ কুমারের সঙ্গে কংগ্রেসের যোগাযোগের খবর পাওয়া গেছে। তারা যদি বিজেপির সঙ্গে জোট ভেঙে কংগ্রেসে যোগ দেয় তাহলে কংগ্রেসও সরকার গঠন করতে পারবে।
কোনো দল যদি এককভাবে সরকার গঠন করতে হলে লোকসভার ৫৪৩ আসনের মধ্যে ২৭২টি আসনে জয় পেতে হয়। এ সংখ্যা কোনো দলই পায়নি। তাই এবার জোট সরকার গঠিত হবে।
সরকার গঠন করতে চায় কংগ্রেস
ভারতের ১৮তম সাধারণ লোকসভা নির্বাচনের ৫৪৩টি আসনের চূড়ান্ত ও আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণা করেছে দেশটির নির্বাচন কমিশন। এতে দেখা যাচ্ছে, গত দুইবারের মতো এবারও ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) সবচেয়ে বেশি ২৪০টি আসন পেয়েছে। তবে তারা নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। অপরদিকে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৯৯টি আসন পেয়েছে ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেস।
সব আসনের ফলাফল ঘোষণা শেষে দেখা যাচ্ছে এবারের নির্বাচনে কোনো দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি।
তবে মোদির বিজেপির নেতৃত্বাধীন জোট ‘এনডিএ’ ২৯৩টি আসন পেয়েছে। অপরদিকে কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন জোট ‘ইনডিয়া’ পেয়েছে ২৩৩টি আসন।
এদিকে ৯৯ আসন পেয়ে সরকার গঠন করতে চায় কংগ্রেস। সরকার গঠন করতে দরকার মূলত ২৭২ আসন। তাদের জোট ‘ইন্ডিয়া’ পেয়েছে ২৩৩টি আসন। যেহেতু কোনো দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। তাই এবার সরকার গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হয়ে উঠেছে নিতীশ কুমার ও চন্দ্রবাবু নাইডুর দল।
তাদের সঙ্গে ইতোমধ্যে কংগ্রেসের যোগাযোগের খবর পাওয়া গেছে। যদি তারা বিজেপির সঙ্গে জোট ভেঙে কংগ্রেসে যোগ দেয় তাহলে কংগ্রেসও সরকার গঠন করতে পারবে।
পশ্চিমবঙ্গে আবারও মমতা ম্যাজিক
ভারতের অন্য রাজ্যগুলোর মতো পশ্চিমবঙ্গেও কার্যত বিপর্যস্ত বিজেপি। রাজ্যটির ৪২ লোকসভা আসনের মধ্যে মমতা ব্যানার্জির দল তৃণমূল কংগ্রেস ৩০ আসনে জয় পেয়েছে, বিজেপি ১১ আসনে, ১টি আসনে জয় পেয়েছে কংগ্রেস।
সা¤প্রতিক বুথফেরত জরিপে বলা হয়েছিল- শাসক দল তৃণমূলের চেয়ে বেশি আসন পেতে চলেছে বিজেপি। কিন্তু কার্যক্ষেত্র দেখা গেল গত ২০১৯ সালের নির্বাচনে যে ১৮টি আসনে বিজেপি জয়ী হয়েছিল, সেই আসনগুলোও এবার নিজেদের দখলে রাখতে পারল না তারা। অন্যদিকে গত নির্বাচনে এ রাজ্য থেকে ২২ আসনে জয় পেয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস, সেখান থেকে তাদের আসন সংখ্যা এক লাফে অনেকটাই বেড়ে গেল। সেই সঙ্গে বেড়েছে প্রাপ্ত ভোটের শতকরা হার।
এবারের নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে জয়ী প্রার্থীদের মধ্যে অন্যতম তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও মমতা ব্যানার্জির ভাতিজা অভিষেক ব্যানার্জি। ডায়মন্ড হারবার আসনে সর্বাধিক ৭ লাখেরও বেশি ভোটে বিজেপি প্রার্থী অভিজিৎ দাসকে হারিয়েছেন অভিষেক। এ আসনে ভোট ১০ লাখ ৪৮ হাজার ২৩০, অভিজিতের প্রাপ্ত ভোট ৩ লাখ ৩৭ হাজার ৩০০। এ ছাড়াও জয়ী প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন তৃণমূলের দীপক অধিকারী ওরফে দেব (ঘাটাল), শতাব্দী রায় (বীরভূম), শত্রুঘ্ন সিনহা (আসানসোল), অভিনেত্রী রচনা ব্যানার্জি (হুগলি), অভিনেত্রী সায়নী ঘোষ (যাদবপুর) ও মহুয়া মৈত্র (কৃষ্ণনগর)। বিজেপি প্রার্থী শান্তনু ঠাকুর (বনগাঁ), কলকাতা হাই কোর্টের সাবেক বিচারপতি অভিজিৎ গাঙ্গুলী (তমলুক)। ভারতের দুই সাবেক ক্রিকেটার তৃণমূল প্রার্থী ইউসুফ পাঠান (বহরমপুর) এবং কীর্তি আজাদ (বর্ধমান-দুর্গাপুর) উভয়েই জয়ী হয়েছেন। কলকাতার দুটি আসনেও জয় পেয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা। কলকাতা উত্তর আসনে জয়ী হয়েছেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা দক্ষিণ আসনে জয়ী হয়েছেন তৃণমূলের প্রার্থী মালা রায়।
তবে কঠিন লড়াইয়ের পরও হারতে হলো কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও বিজেপি প্রার্থী নিশীথ প্রামাণিক (কোচবিহার), বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার (বালুরঘাট), বিজেপি প্রার্থী এস এস আলুওয়ালিয়া (আসানসোল), বিজেপির লকেট চট্টোপাধ্যায় (হুগলি), বিজেপির দিলীপ ঘোষ (বর্ধমান-দুর্গাপুর), রাজ্যটির কংগ্রেস সভাপতি ও সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কংগ্রেসের প্রার্থী অধীর রঞ্জন চৌধুরীর (বহরমপুর) মতো হেভিওয়েট প্রার্থীদের। দলের এই সাফল্যের রাজ্যজুড়ে জয়ের উৎসবে মেতে ওঠে তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা। সবুজ আবির নিয়ে খেলার পাশাপাশি চলে মিষ্টিমুখ। কালীঘাটে দলের প্রধান মমতা ব্যানার্জির বাড়ির সামনে উচ্ছ¡াসে মেতে ওঠেন দলের কর্মী-সমর্থকরা। এ রাজ্যে নিজের দল তৃণমূল কংগ্রেস এবং গোটা ভারতে ইন্ডিয়া জোটের এ সাফল্যে সন্তোষ প্রকাশ করেন তৃণমূল প্রধান মমতা ব্যানার্জি। সন্ধ্যায় কালীঘাটে সংবাদ সম্মেলনে বিজেপি ও এনডিএ জোটের তীব্র সমালোচনা করেন মমতা। তিনি বলেন, ‘আমি খুব খুশি যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। মোদি তোমার ভোট অন্য কোথাও যায়নি। তোমার ম্যাজিক শেষ। তোমাকে পদত্যাগ করতে হবে।’
মমতার বক্তব্য, ‘উনি (নরেন্দ্র মোদি) বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছেন ওনার অবিলম্বে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেওয়া উচিত, কারণ উনি বলেছিলেন এবার ৪০০ পার। কিন্তু আমি বলেছিলাম ২০০ পার হবে কি না দেখে রাখুন। কারণ কিছুটা হাতে রাখতে হয়। সেসময় অনেকেই আমার কথা বিশ্বাস করেননি। এখন তাদের তেলেগু দেশম পার্টি (টিডিপি) আর জনতা দল ইউনাইটেড (জেডিইউ) এর পায়ে ধরতে হচ্ছে। এরা ইন্ডিয়া জোটকে ভাঙন ধরাতে পারবে না।’ নৈতিক দায় মাথায় নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ইস্তফা ও দাবি করেছেন মমতা। তার অভিমত, ‘যদি বিজেপি সরকারে না থাকত তাহলে আরও কম আসন পেত।’
মমতা এও স্মরণ করিয়ে দেন, ‘এনডিএ জোটের দুই- তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই, তাই সংসদে যে কোনো আইন পাস করাতে পারবে না। ইডি, সিবিআই অত্যাচার করলে আমরা টিম ইন্ডিয়া পুরোপুরি চেপে ধরব।’
এদিন সন্ধ্যায় ভাতিজা অভিষেক ব্যানার্জিকে পাশে বসিয়ে মমতার অভিযোগ, ‘এখনো চার-পাঁচ জায়গায় তৃণমূল প্রার্থীরা জেতার পরও বিজেপির অবজারভাররা জয়ের সনদ দিচ্ছে না। বিজেপিকে জয়ী ঘোষণা করার জন্য কাঁথিতে জেতার পরও বিজেপির অবজারভার জয়ের সনদ আটকে রেখে দিয়েছে।’
বিজেপির এ ভরাডুবিতে প্রশ্ন উঠেছে কী কারণে বাংলায় মোদি ম্যাজিক কাজ করল না? কেন বেশিরভাগ এক্সিট পোলের হিসাব-নিকাশই উল্টেপাল্টে গেল? বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বাংলায় তৃণমূলের জয়ের মূল কারণ ল²ীর ভান্ডার প্রকল্পের রুপি দ্বিগুণ করে দেওয়া। লোকসভা ভোটের ঠিক আগে গত ৮ ফেব্রæয়ারি এ বছরের রাজ্য বাজেটে ল²ীর ভান্ডারের অনুদান ৫০০ থেকে বাড়িয়ে ১০০০ রুপি করা হয়। তফসিলি জাতি ও উপজাতিদের ক্ষেত্রে ১০০০ রুপি বাড়িয়ে হয় ১২০০ রুপি। এর প্রভাব সরাসরি ভোট বাক্সে পড়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। এ ছাড়াও মমতাসহ দলের শীর্ষ নেতাদের অভিযোগ ছিল কেন্দ্রের বঞ্চনা। একশ দিনের কাজের রুপি আটকে রাখা, বকেয়া প্রাপ্য আটকে রাখা, সিবিআই, ইডি, ইনকাম ট্যাক্সের মতো কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে অপব্যবহার করার ইস্যুগুলোও ভোটাররা ভালোভাবে নেয়নি। তাছাড়াও সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন, জম্মু-কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা প্রত্যাহার, রাম মন্দিরের উদ্বোধন, তিন তালাক প্রথা প্রত্যাহারের মতো কেন্দ্রীয় সরকারের যে সব কর্মকান্ড তাও ভোটারদের প্রভাবিত করতে পারেনি। এ ছাড়াও প্রার্থীদের ঘন ঘন দল পরিবর্তন, জয়ী আসনের বদলে প্রার্থীকে অন্য আসনে দাঁড় করানোর মতো বিষয়গুলোও বিজেপির হারের ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলেছে।
দিল্লির মসনদ আবারও কি মোদির
টানটান উত্তেজনায় গতকাল ভারতের লোকসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশ হয়েছে। তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠনের ইঙ্গিত দিয়েছে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন জোট এনডিএ। তবে ভারতীয় জনতা পার্টি-বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় সরকার গঠনের জন্য নির্ভর করতে হচ্ছে জোটের ওপর। এতেই ডালপালা মেলতে শুরু করেছে ভাঙাগড়ার সমীকরণ নিয়ে নানা আলোচনা।
চমক দেখিয়ে এককভাবে ১০০ আসনে বিজয়ী হয়েছে কংগ্রেস। ভারতের লোকসভা নির্বাচনে উত্তর থেকে দক্ষিণ, রায়বেরেলি থেকে ওয়েনাডেতে একসঙ্গে দুটি কেন্দ্র থেকেই বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে নজির গড়েছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী।
অন্য বিরোধী দলগুলোরও গত নির্বাচনের চেয়ে এবার জয়ের পরিসংখ্যান ঊর্ধ্বমুখী। তাই এবার সরকার গঠনের জন্য এনডিএ’র শরিক চন্দ্রবাবু নাইডুর টিডিপি ও নীতীশ কুমারের জেডিইউর সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে থাকতে হচ্ছে নরেন্দ্র মোদির দল বিজেপিকে। ২০১৪ ও ২০১৯ সালের ফলের বিপরীতে এবার বিজেপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে বেশ কিছুটা পিছিয়ে রয়েছে। জোট হিসেবে ২৯৩-এর কিছু বেশি আসনে বিজয়ী হয়েছে এনডিএ। গতকাল রাত পর্যন্ত পাওয়া খবরে বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। বিজয়ী হয়েছে ২৪২ আসনে। ২০১৯ সালের নির্বাচনে বিজেপি পেয়েছিল একাই ৩০৩ আসন। এ কারণে এবার নির্ভর করতে হবে জোটের শরিক বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার এবং অন্ধ্রপ্রদেশের তেলেগু দেশম দলের চন্দ্রবাবু নাইডুর ওপর। আজ বিজেপি নেতৃত্বের এনডিএ’র বৈঠকে সিদ্ধান্ত হবে মোদির প্রধানমন্ত্রিত্ব নিয়ে। কংগ্রেসও ‘ইন্ডিয়া’র বৈঠক ডেকেছে আজ। রাহুল গান্ধী বলেছেন, তারাও বিবেচনা করবেন সরকার গঠন করা যায় কি না। ইন্ডিয়ার আসন সংখ্যা এখন পর্যন্ত ২৩৩। তবে প্রধানমন্ত্রী মোদি টুইট করে বলেছেন, তিনি তৃতীয়বারের জন্য সরকার গঠন করবেন।
এবার লোকসভা ভোটের চমক হলো আমেথি কেন্দ্র থেকে মন্ত্রী স্মৃতি ইরানির পরাজয়। খোদ রামমন্দির যে শহরে সেই ফৈজাবাদ কেন্দ্রে হেরেছে বিজেপি। ফলাফলের এ সমীকরণ দেখে বিজেপির হিন্দুত্ব রাজনীতি কোনো প্রভাব ফেলেনি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী, এনডিএ সম্মিলিতভাবে জয়ী হয়েছে ২৯৩ আসনে, যা সংখ্যাগরিষ্ঠতার থেকে বেশি। এ আসনসংখ্যা ধরে রাখতে পারলে তৃতীয়বার মোদির পক্ষে প্রধানমন্ত্রী হতে বাধা থাকার কথা নয়। কিন্তু এখানেই কাহিনিতে বেধেছে প্যাঁচ। এখন পর্যন্ত যা প্রবণতা, তাতে এনডিএ’র ঝুলিতে ২৯৩ আসনের মধ্যে দুই ‘এন’ যথাক্রমে নাইডু ও নীতীশের দখলে যেতে চলেছে অন্তত ৩০ আসন। এনডিএ’র ঝুলি থেকে সেই ৩০ আসন কমে গেলে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারাবেন মোদি। তাই রাতারাতি দর বেড়ে গেছে নাইডুর। নির্বাচন কমিশনের দেওয়া শেষ তথ্য বলছে, অন্ধ্রপ্রদেশে এ মুহূর্তে মোট ২৫ আসনের মধ্যে নাইডুর তেলেগু দেশম পার্টি (টিডিপি) এগিয়ে রয়েছে ১৬টিতে। নীতীশের জেডি (ইউ) এগিয়ে রয়েছে ১২ আসনে। দুই ‘এন’-এর দুই দল মিলিয়ে প্রায় ৩০ আসন। দিনের শেষে এ অঙ্কেই থমকে রয়েছে এনডিএ’র জয়ের পাটিগণিত।
লোকসভার সঙ্গেই অন্ধ্রে হয়েছিল বিধানসভা ভোটও। সে ভোটেও বাজিমাত করেছেন নাইডু। পরিস্থিতি এমন যে, দুপুরের আগেই হার স্বীকার করে রাজ্যপালের কাছে দেখা করার সময় চেয়ে বসেছেন সে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ওয়াই এস জগন্মোহন রেড্ডি। শোনা যাচ্ছে, তিনি ইস্তফা দিতে চলেছেন। এ পরিস্থিতিতে রাতারাতিই চন্দ্রবাবু শিরোনামে চলে এলেন। এখন প্রশ্ন হলো-নাইডু এনডিএতেই থেকে যাবেন, নাকি অতীতের মতোই শিবির বদলে আবার ‘ইন্ডিয়া’র মঞ্চে দেখা যাবে তাকে?
ফলাফল স্পষ্ট হতেই গতকাল প্রধানমন্ত্রী মোদি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ফোন করেছিলেন নাইডুকে। সূত্রের খবর, সেখানে বিজেপির শীর্ষ দুই নেতার সঙ্গে কথা হয় নাইডুর। লোকসভা ভোটে এনডিএ’র ভালো ফলের জন্য নাইডু মোদিকে অভিনন্দনও জানান। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একটি অংশ মনে করছে, এ ফোনের মধ্য দিয়েই হয়তো জাতীয় রাজনীতিতে আবার শুরু হলো জোট-দৌত্য। অতীতে এ দুই দলের নেতাদেরই একাধিকবার এনডিএ ত্যাগ এবং ফিরে আসার ইতিহাস রয়েছে। এবার তাঁরা কী করেন সেদিকেই নজর সবার।
এবারের নির্বাচনে ১০০ আসন ছুঁইছুঁই কংগ্রেসের। গত দুটি লোকসভা নির্বাচনের তুলনায় এবার যথেষ্ট ভালো ফল করতে চলেছে শতাব্দীপ্রাচীন এ দলটি। ২০১৪ সালের নির্বাচনে কংগ্রেসের দখলে ছিল ৪৪ আসন, ২০১৯ সালে ৫২ আসনে জয় পায় তারা। দেশজুড়েই গতকাল সকাল ৮টায় কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে শুরু হয় লোকসভা নির্বাচনের ভোট গণনা। শুরুতে পোস্টাল ব্যালটের গণনা, এরপর ইভিএম গণনা। কিন্তু গণনা শুরুর পর থেকে শেষ পর্যন্ত জোর টক্কর ছিল এনডিএ ও ইন্ডিয়ার মধ্যে। দেশটির ১৮তম লোকসভা নির্বাচনে মোট সাত দফায় এ ভোট গ্রহণ পর্ব চলে। ১৯ এপ্রিল প্রথম দফার ভোট হয়, শেষ দফার ভোট হয় ১ জুন।
নরেন্দ্র মোদি যদি সরকার গঠন করতে পারেন তাহলে লেখা হবে নতুন ইতিহাস। এর আগে এ কৃতিত্বের অধিকারী ছিলেন দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী কংগ্রেস নেতা প্রয়াত জওহরলাল নেহরু। তবে নেহরুকন্যা ইন্দিরা গান্ধী তিন দফায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জয় পেলেও একটানা তিনবার দলকে লোকসভার নির্বাচনে জেতাতে পারেননি। সরকারি ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সবচেয়ে বেশি মেয়াদের জন্য দায়িত্বে ছিলেন জওহরলাল নেহরু। ১৯৪৭ থেকে ১৯৬৪ পর্যন্ত টানা ১৭ বছর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন নেহরু। ১৯৫৭ সালে নেহরুর নেতৃত্বে ৩৭১ আসনে জয় পেয়েছিল কংগ্রেস। দেশটির নির্বাচনি ইতিহাসে সেবারই প্রথম কোনো একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে এত বেশিসংখ্যক আসনে জয় পেয়েছিল কংগ্রেস। ২০১৪ সালের পর ২০১৯ সালের নির্বাচনেও মোদি ম্যাজিকের ওপর ভর করে বিজেপি একাই ২৭২-এর ম্যাজিক ফিগার ছুঁয়েছিল। কিন্তু এবার কালঘাম ছুটিয়েও সেই টার্গেট ছুঁতে পারল না। ইভিএম খুলতেই এক্সিট পোল ভুল প্রমাণিত হলো। অবশ্য বিরোধী দলের নেতানেত্রীদের কেউই এক্সিট পোলের এ ভবিষ্যদ্বাণী মানতে রাজি হননি। রাহুল গান্ধী, মমতা ব্যানার্জি, অরবিন্দ কেজরিওয়াল প্রত্যেকেই একে ‘ভুয়া’ বলে উল্লেখ করেছিলেন।


