Home Blog Page 613

ই-সিগারেট কি ক্ষতিকারক নয়

অনেকে সিগারেটের বিকল্প হিসাবে ই-সিগারেট বা ‘ইলেকট্রনিক সিগারেট’ ব্যবহার করেন। তারা মনে করেন ই-সিগারেট ধূমপানের অভ্যাস ত্যাগ করতে সাহায্য করে। ক্যানসার বিশেষজ্ঞদের মতে, ই-সিগারেট ধূমপান ছাড়তে সাহায্য করে এর কোনো প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। বরং কোনো কোনো ক্ষেত্রে এর প্রভাব সাধারণ সিগারেটের চেয়েও ক্ষতিকারক।
ই-সিগারেটের তরল মিশ্রণের (ই-লিকুইড) মধ্যে থাকে প্রপেলিন গøাইসল, গিøসারিন, পলিইথিলিন গøাইসল, নানাবিধ ফ্লেভার এবং নিকোটিন। গরম হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এ রাসায়নিকগুলো থেকে সাধারণ সিগারেটের ধোঁয়ার সমপরিমাণ ফরমালডিহাইড উৎপন্ন হয়। এ ছাড়া ই-সিগারেটের ধোঁয়ায় থাকে অতিসূ² রাসায়নিক কণা যা ভীষণ ক্ষতিকারক। এর থেকে গলা-মুখ জ্বালা, বমিভাব এবং কাশি দেখা দিতে পারে।
এছাড়া ই-সিগারেটের প্রধান উপকরণ নিকোটিন থেকে দ্রæত আসক্তি তৈরি হয়। যা থেকে ফুসফুসের বিভিন্ন অসুখ হতে পারে। এর মধ্যে যেভাবে রাসায়নিক নিকোটিন ব্যবহার করা হয়; এর অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারে মৃত্যুও হতে পারে।এর ধোঁয়ায় এমন কিছু উপাদান আছে যেগুলো থেকে ক্যানসার হওয়ার যথেষ্ট আশঙ্কা রয়েছে। এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, সাধারণ সিগারেটের চেয়ে ই-সিগারেট দশগুন বেশি ক্ষতিকারক। সবচেয়ে বড় কথা, ই-সিগারেট দিয়ে ধুমপান কখনো ছাড়া যায় না।

অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আজিজুর রহমান

পুঁজিবাজারে অবৈধ নজরদারি ,তথ্য ভান্ডারের নিরাপত্তায় পদক্ষেপ কাম্য

দেশের পুঁজিবাজারে যে দুষ্টচক্রের নজর পড়েছে, নানা কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ক্রমেই তা প্রকাশ্য হচ্ছে। স¤প্রতি শেয়ারবাজারের সবচেয়ে স্পর্শকাতর এবং অত্যন্ত গোপনীয় তথ্যভান্ডারে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সার্ভিল্যান্সে (নজরদারি সফটওয়্যার) অবৈধ সংযোগের তথ্য মিলেছে। রোববার যুগান্তরের খবরে প্রকাশ, বিএসইসির ভেতরের একটি চক্র টানা ৭ বছর ধরে এ কাজ করে আসছে। নিয়ম লঙ্ঘন করে সার্ভিল্যান্স এরিয়ার বাইরে সফটওয়্যারের সংযোগ স্থাপন করে কাজ করছে তারা। এর সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালকসহ কয়েকজন কর্মকর্তার একটি চক্র জড়িত আছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, গত বছরের ৪ সেপ্টেম্বর বিষয়টি প্রথম কমিশনের নজরে আসে। তৎকালীন সার্ভিল্যান্সের দায়িত্বে থাকা কমিশনার ওইদিনই তার স্বাক্ষরিত একটি রিপোর্ট কমিশনে জমা দেন। সেই রিপোর্টে নির্ধারিত রুমের বাইরে অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গোপনীয় এ সার্ভিল্যান্স সফটওয়্যার যে বিএসইসির পরিচালকের কক্ষে স্থাপিত থাকা উদ্বেগজনক, তা স্পষ্ট করা হয়েছিল। তবে বিষয়টি কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে দিলেও রহস্যজনক কারণে তারা নীরব রয়েছে। ব্যবস্থা নেওয়া তো দূরের কথা, এখনো সংযোগই বন্ধ হয়নি।
বলা বাহুল্য, এ ধরনের ঘটনা উদ্বেগজনক। শেয়ারবাজারের সবচেয়ে স্পর্শকাতর সার্ভিল্যান্স সফটওয়্যার বাজারের লেনদেন, নজরদারি এবং গোয়েন্দা কার্যক্রম পরিচালনার গোপন তথ্যভান্ডার। এখানে দৈনন্দিন লেনদেন, কারা কীভাবে লেনদেন করছে, কে কোন শেয়ার কিনছে-সে তথ্য থাকে। দেশে চারটি প্রতিষ্ঠানের সার্ভিল্যান্স রয়েছে। এগুলো হলো-বিএসইসি, ডিএসই, সিএসই এবং ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে শেয়ার সংরক্ষণকারী কোম্পানি সিডিবিএল। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সফটওয়্যার বিএসইসির। এই সফটওয়্যারের মাধ্যমে লেনদেন মনিটরিং করা হয়। এছাড়া সার্ভিল্যান্সের মাধ্যমে গোয়েন্দা কার্যক্রম পরিচালনা করে বিএসইসি। ফলে এর সঙ্গে জড়িতদের অবশ্যই জিজ্ঞাসাবাদ করে শাস্তির আওতায় আনা দরকার। এছাড়া তথ্য পাচারের কারণে বড় অঙ্কের টাকা আয় হয়। এ অর্থ কোথায় ও কাদের কাছে যাচ্ছে, দেশে থাকছে, নাকি দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে, সেটিও খতিয়ে দেখা দরকার।
কিছুদিন আগেই ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) তথ্যপ্রযুক্তিতে (আইটি) ঘটে গেছে স্মরণকালের সর্বোচ্চ বিপর্যয়। এর ফলে দেশের পুরো শেয়ারবাজার একদিনেই যেন অস্তিত্বহীন হয়ে পড়ে। নজিরবিহীন এ কাণ্ডে স্বাভাবিকভাবেই পুরো বাজারে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে আলাদা দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করে বিএসইসি ও ডিএসই। ভুলে গেলে চলবে না, দেশের অর্থনীতিতে পুঁজিবাজারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। দেশের সব মাপের শিল্পপ্রতিষ্ঠান এর তালিকাভুক্ত। শুধু তাই নয়, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের অনেকেই তাদের কষ্টার্জিত অর্থ এখানে লগ্নি করেন। স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেনের প্রভাব জাতীয় অর্থনীতিতেও পড়ে। এ কথা মাথায় রেখেই দেশের স্টক এক্সচেঞ্জগুলোর অবকাঠামো উন্নয়ন ও নিরাপত্তায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন। এর মধ্যে তথ্যপ্রযুক্তির দিকটিও রয়েছে। যারা তথ্যপ্রযুক্তির বিষয়টি দেখভাল করেন, তাদের দক্ষতা প্রদর্শনের পাশাপাশি সর্বোচ্চ সতর্কতা ও আন্তরিকতার পরিচয় দিতে হবে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড শুধু পুঁজিবাজারে থাকা প্রতিষ্ঠান ও বিনিয়োগকারীদেরই উদ্বেগ ও ক্ষতির মধ্যে ফেলে না, এর বিরূপ প্রভাব সার্বিকভাবে দেশের অর্থনীতির ওপরও পড়ে। তাই যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন ও দায়ীদের বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবে, এটাই প্রত্যাশা।

কালো বিড়ালের থাবা, বনভূমি সুরক্ষায় ওদের থামাতে হবে

বন বিভাগ যেন ঘুষ-দুর্নীতির কালো বিড়ালের অভয়ারণ্য হয়ে উঠেছে। বছর যায় যুগ যায় কিন্তু কালো বিড়ালের দৌরাত্ম্য শেষ হয় না। পুরো বন বিভাগ কালো বিড়াল নামের দুর্নীতির কুশীলবদের কাছে জিম্মি। বন বিভাগের সৃষ্টি দেশের বনভূমি রক্ষার জন্য। যারা চাকরি করেন বন বিভাগে তাদের বেতন-ভাতা আসে দেশের ১৭ কোটি মানুষের ট্যাক্সের টাকা থেকে। দেশের প্রতি তাদের আনুগত্য থাকবে, দেশের সম্পদ বনভূমি রক্ষায় তারা অবদান রাখবেন এমনটিই ভাবা হয়। কিন্তু দেশবাসীর বদলে চোর-মহাচোরদের প্রতিই বন বিভাগের দু-একজন বাদে সিংহভাগের আনুগত্য। আর সে কারণে দেশের বনভূমি বাড়ার বদলে কমছে। সাধারণ কর্মচারী থেকে শীর্ষ কর্মকর্তা লুটেরা গোষ্ঠীর দুর্নীতি, অনিয়মে উজাড় হচ্ছে বন। নিয়োগ ও বদলি-বাণিজ্যের সিন্ডিকেট গড়েও চলছে লুটপাট। দুর্নীতি দমন কমিশনের হুঁশিয়ারি, নোটিসেও বন্ধ হচ্ছে না বন বিভাগের দুর্নীতি। ওয়ান-ইলেভেনের আলোচিত ‘বনের রাজা’ ওসমান গনির উত্তরসূরিরাই এখন বনের শীর্ষ কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করছেন। তাদের ভয়াবহ অনিয়মে দেশের বনভূমি দিন দিন উজাড় হচ্ছে। লুটপাটের স্বার্থেই বনের বিভিন্ন পদ নিলামে ওঠে। সুন্দরবন, পার্বত্য এলাকার বড় পদগুলো নিয়ে চলে দরকষাকষিও। কোটি কোটি টাকার নিয়োগ ও বদলি-বাণিজ্যে শীর্ষ কর্মকর্তারা জড়িত থাকায় বন বিভাগে কায়েম হয়েছে লুটের রাজত্ব। বলা হয়ে থাকে, মহাখালীর বন ভবন আগাগোড়া এক দুর্নীতির আখড়া। ডিএফও থেকে বিট কর্মকর্তা পর্যন্ত সর্বস্তরে চলে ভয়াবহ বদলি-বাণিজ্য। বন রক্ষার নামে বিভিন্ন প্রকল্প তৈরি করে টাকা লুটপাটে ব্যস্ত থাকেন দুর্নীতির বরাহ সন্তানরা। ফলে এ বিভাগে কয়েক বছর চাকরি করেই অনেকে বাড়ি-গাড়ির মালিক বনে যাচ্ছেন। বাড়ি কিনছেন বিদেশেও। পাচার করছেন অবৈধ অর্থ। বলা হয়ে থাকে ওসমান গনির নাম সাধারণ্যে পরিচিতি লাভ করলেও এমন দুর্জনের সংখ্যা বন বিভাগে অসংখ্য বললেও খুব বেশি বলা হবে না। বন বাঁচলে দেশ বাঁচবে, বন বাঁচলে মানুষ বাঁচবে। পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রাখতে যেভাবেই হোক বনভূমি টিকিয়ে রাখতে হবে। বন বিভাগে ঠাঁই পাওয়া দুর্নীতিগ্রস্ত ইতরদের বিরুদ্ধে কঠোর হওয়ার সক্ষমতা অর্জন করতে হবে সরকারকে।

কলকাতায় কোন খাবার ভালো লাগল পরীমনির

ঢাকা ডেস্কঃ ঢালিউড অভিনেত্রী পরীমনি বর্তমানে কলকাতার নতুন একটি সিনেমা ফেলুবকশির শুটিং করছেন। এটি পরীর প্রথম কলকাতার সিনেমা। পরীমনির নায়ক কলকাতার জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সোহাম। এতে মধুমিতা সরকারকেও দেখা যাবে। বৃহস্পতিবার ছবির লুক টেস্টে ছেলে রাজ্যকে নিয়ে হাজির হয়েছিলেন ‘পরী’।
পরিচালক দেবরাজ সিনহা বলেন, ফেলুবকশি একটা থ্রিলার, এখানে প্রোটাগনিস্ট সোহম। এই চরিত্রটা মজাদার, টেক স্যাভি, বিশ্বের নিত্যনতুন টেকনোলজির বিষয়ে নিজেকে আপডেট রাখে। এমনিতেই বাঙালির প্যাশান খাওয়া-দাওয়া আর রহস্য সমাধান জমিয়ে রেসিপি পড়ার মতো করে রহস্যের কিনারা করে সে। ফেলুবকশি নামটা শুনে নিশ্চয়ই দর্শকরা বুঝতে পারছেন বাংলা সাহিত্যের কিংবদন্তি চরিত্রের প্রভাব রয়েছেন তার মধ্যে। তবে আবার নাম শুনেই সিদ্ধান্তে পৌঁছতে বারণ করব। কারণ চিত্রনাট্যের মজা নিতে ছবিটা দেখতে হবে।
বেশকিছুদিন কলকাতাতেই থাকতে হবে পরীকে; তাই পুরো বিষয়টা নিয়ে বেশ উৎসাহী অভিনেত্রী। এ শহরের কোন খাবার সব থেকে ভালো লাগছে? এ প্রশ্নে পরীমনি জানান, ‘রসগোল্লা’।
আর পরীর ছেলে রাজ্য কতটা উপভোগ করছে? এ বিষয়ে অভিনেত্রী জানান, রাজ্যও খুব উপভোগ করছে, কারণ ও নতুন নতুন বন্ধু পেয়েছে, সবার সঙ্গে খেলা করছে।
ভারত-বাংলাদেশ যৌথ প্রযোজনাতেও বেশকিছু ছবি হচ্ছে। এক দেশের ছবি অপর দেশে মুক্তি পাচ্ছে। তবে সেসব ছবি সেভাবে বøকবাস্টার হচ্ছে না, এ বিষয়ে পরীমনি জানান, কমিউনিকেশনের অভাব রয়েছে।
একটা ভালো প্রোডাক্ট তৈরি করে সেটা ঠিকমতো বাজারে না পৌঁছে দিতে পারার ব্যর্থতা সবার বলে মনে করেন অভিনেত্রী। তবে ‘ফেলুবকশি’ ছবিটার জন্য তিনি নিজের সাধ্যমতো চেষ্টা করবেন বলেও জানান।

হিরো আলমের ফেসবুক উগান্ডা সাইবার টিমের হাতে

ঢাকা ডেস্ক: আলোচিত ইউটিউবার আশরাফুল হোসেন আলম ওরফে হিরো আলমের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজটি এখন উগান্ডা সাইবার টিমের হাতে। শনিবার গভীর রাতে পেজটি হ্যাক করার পর সেখানে অশ্লীল ছবি পোস্ট ও বিভিন্ন কথা শেয়ার দেওয়া হয়। লেখা হয়েছে- উগান্ডা সাইবার টিম পেজটি হ্যাক করেছে।
বর্তমানে কলকাতায় অবস্থানকারী হিরো আলম রোববার বিকালে হোয়াটসঅ্যাপ মেসেঞ্জারে বলেন, তিনি দুটি ছবির কাজ নিয়ে ব্যস্ত আছেন। ঢাকায় ফিরে ডিবিতে অভিযোগ দেবেন।
তিনি বলেন, শনিবার রাত আড়াইটার পর তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজটি (ঐবৎড় অষড়স) হ্যাক করা হয়েছে। উগান্ডা সাইবার টিম পেজটি হ্যাক করে। এরপর প্রোফাইল ছবি পরিবর্তন করে সেখানে কাশ্মীরের সাবেক স্বাধীনতাকামী নেতা বুরহান ওয়ানীর ছবি দেওয়া হয়েছে। কভার পেজে অশ্লীল ছবি দিয়েছে। যদিও ফেসবুক কর্তৃপক্ষ ওই সব ছবি সরিয়ে নিয়েছে।

সিলেটে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার বিরুদ্ধে কিশোরী ধর্ষণ মামলা

সিলেটে এক স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার বিরুদ্ধে ২২ দিন জোরপূর্বক আটকে রেখে কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নির্যাতনের শিকার ওই কিশোরীর মা শুক্রবার রাতে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেছেন। মামলায় প্রধান অভিযুক্ত করা হয়েছে- সিলেট মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের ১১নং ওয়ার্ড সভাপতি আব্দুস সালামকে। তার বাড়ি নগরের লালাদিঘীর পাড় এলাকায়। মামলার অপর আসামি আব্দুল মনাফ একই এলাকার ইশাদ মিয়ার পুত্র। আব্দুল মনাফ সিলেট মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য। ওই কিশোরী অভিযোগ করেন, নির্যাতিতা ওই তরুণী নগরীর শেখঘাটের একটি বোতল ফ্যাক্টরিতে কাজ করতো। পরিবারের সদস্যরা ওই তরুণীকে সিলেট শহরের বাসায় রেখে গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে যান। এই সুযোগে একই কলোনির বাসিন্দা রেখা বেগম লালদিঘীর পাড়ের আবদুস সালামের সঙ্গে তরুণীকে পরিচয় করিয়ে দেয়। গত ৭ই জানুয়ারি রেখা বেগম কাজের কথা বলে তরুণীটিকে আবদুস সালামের লালদিঘীর পাড়স্থ বাসায় নিয়ে যায়।
পরে বাসার একটি রুমে ২২ দিন আটকে রেখে আবদুস সালাম তাকে ধর্ষণ করে। পরিবারের সদস্যরা সিলেট নগরীস্থ বাসায় ফিরে তরুণীকে না পেয়ে সম্ভাব্য সকল স্থানে খোঁজ নেন। কিন্তু কোথাও না পেয়ে থানায় জিডি করতে চাইলে রেখা বেগম বাধা দিয়ে তাদেরকে আবদুস সালামের কাছে নিয়ে যায়। আবদুস সালাম তরুণীটিকে উদ্ধারের ব্যাপারে আশ্বাস দেয়। কয়েকদিন পর পরিবারের সদস্যরা আবারো আবদুস সালামের কাছে গেলে সে জানায় লন্ডন প্রবাসী একটি পরিবারের কাছ থেকে তরুণীটিকে উদ্ধার করা হয়েছে। ওই সময় লন্ডন প্রবাসী পরিবারের পরিচয় জানতে চাইলে আবদুস সালাম ক্ষেপে যায়। কিন্তু নির্যাতিতা তরুণী ২২ দিনের বন্দিদশা থেকে মুক্ত হওয়ার পর আবদুস সালাম কর্তৃক ধর্ষিত হওয়ার ঘটনা অভিভাবকদের কাছে খুলে বললে সালাম তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। একপর্যায়ে বিয়ে করার প্রতিশ্রæতিও দেয়। এদিকে তরুণীর খোঁজ মেলার তিনদিন পর ওই তরুণীকে মামলার আসামি আবদুল মনাফের মাধ্যমে তাকে হবিগঞ্জে পাঠিয়ে দেয়া হয়। সেখানে আটকে রেখে তাকে আবদুস সালাম ও আবদুল মনাফসহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজন তরুণীটিকে ধর্ষণ করে।
সেখান থেকে গত ২৬শে মার্চ এক আত্মীয়ের মাধ্যমে কৌশলে তরুণীকে উদ্ধার করে আনা হয়। তরুণীর মা জানিয়েছেন, মেয়েকে ফিরে পাওয়ার পর তিনি সম্পূর্ণ ঘটনা জেনে থানায় অভিযোগ দিয়েছেন। এ ব্যাপারে তিনি ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করেন বলে জানান।
কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি সুমন চৌধুরী জানিয়েছেন, নির্যাতিত কিশোরী আদালতে জবানবন্দি দিয়ে তার উপর ঘটে যাওয়া ঘটনা বলেছে। ঘটনাটির তদন্ত চলছে। একই সঙ্গে আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ সচেষ্ট রয়েছে বলে জানান তিনি।

ছাত্রলীগ জোর করে বিশ্ববিদ্যালয় দখলের চেষ্টা করছেঃমির্জা ফখরুল

ঢাকা ডেস্কঃ বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতির দিকে ইঙ্গিত করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা জোর করে বিশ্ববিদ্যালয় দখলের চেষ্টা করছে। এই সরকারের আমলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো। রোববার রাজধানীর কাকরাইলে হোটেল রাজমণি ঈশা খাঁয় গণফোরামের উদ্যোগে আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে এসব কথা বলেন তিনি। ইফতারে বুয়েটের সা¤প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন বিএনপি মহাসচিব। সেখানে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, তারা জোর করে ক্যাম্পাস দখলের চেষ্টা করছে।
এদিকে গতকাল রাজধানীর লেডিস ক্লাবে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের (জেডআরএফ) ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেডআরএফ’র প্রেসিডেন্ট ও বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ভার্চ্যুয়ালি বক্তব্য দেন।
জেডআরএফ’র ইফতারে মির্জা ফখরুল বলেন, আজকে সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নাম মুছে ফেলতে ষড়যন্ত্র চলছে। শুধু তাই নয়, জিয়াউর রহমানের বিষয়ে ভুল তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। এটার বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে। জিয়াউর রহমানের অবদান তুলে ধরে তা প্রচার করতে হবে। তার সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য সংবলিত পুস্তক নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে হবে।
তিনি বলেন, দেশে উন্নয়নের গান গায় সরকার।
এই উন্নয়ন তো শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান শুরু করেছিলেন। তিনি তো স্বল্প সময়ে বিপ্লব ঘটিয়েছিলেন।
বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, এসব অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আমাদেরকে শক্তিশালী হতে হবে। আরও তীব্রতর আন্দোলন করতে হবে, যতদিন পর্যন্ত না লক্ষ্য আদায় হয়। খালেদা জিয়া সুচিকিৎসা থেকে বঞ্চিত। সেবা পাওয়ার মৌলিক অধিকার থেকে তিনি বঞ্চিত। যিনি গণতন্ত্র রক্ষায় আজীবন লড়াই করছেন।
তিনি আরও বলেন, আমরা ভোট বর্জন করেছি। এবার ভারতীয় পণ্য বর্জন করতে হবে। আসুন ভারতের নিকৃষ্টতম পণ্য আওয়ামী লীগকে বর্জন করি।
জেডআরএফ’র নির্বাহী পরিচালক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ইফতার মাহফিল উদ্যাপন কমিটির আহŸায়ক অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান। জেডআরএফ’র ইফতার মাহফিল উদ্যাপন কমিটির সদস্য সচিব ব্যারিস্টার মীর হেলালের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক ড. সদরুল আমিন, বিএফইউজের কাদের গনি চৌধুরী, ড্যাবের সভাপতি ডা. হারুন আল রশিদ প্রমুখ।
রাজনৈতিক নেতা, বিশিষ্টজন ও পেশাজীবীদের মধ্যে ইফতারে উপস্থিত ছিলেন এএসএম আবদুল হালিম, কবি আবদুল হাই শিকদার, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া, শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী, প্রকৌশলী আশরাফ উদ্দিন বকুল, শহীদুল ইসলাম বাবুল, ডা. পারভেজ রেজা কাকন, হেলেন জেরিন খান, আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, আতিকুর রহমান রুমন, শায়রুল কবির খান, রাকিবুল ইসলাম রাকিব, নাছির উদ্দিন নাছির প্রমুখ।

বুয়েটে জঙ্গিবাদের কারখানা হলে অ্যাকশনে যাবে সরকার: ওবায়দুল কাদের

ঢাকা ডেস্কঃ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আমি রাজনীতি করি-এজন্য বুয়েটে যেতে পারব না? এটা কোন ধরনের আইন? এটা কোন ধরনের নিয়ম? তিনি বলেন, ছাত্ররাজনীতি বন্ধ করার নামে বুয়েটকে অপরাজনীতি ও জঙ্গিবাদের কারখানায় পরিণত করা হলে সরকার অ্যাকশনে যাবে। রোববার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে চট্টগ্রাম বিভাগের দলীয় নেতাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সব অপকর্ম, অন্যায় ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছেন। সেই নীতিতে আমরা এগিয়ে চলছি। বিশ্বজিৎ হত্যার বিচার করতে গিয়ে আমাদের অনেক কর্মী দণ্ডিত হয়েছে। বুয়েটে আবরার হত্যাকাণ্ডে আমরা কাউকে ছাড় দিইনি। শেখ হাসিনা কাউকে ছাড় দেন না। তিনি বলেন, বিএনপি নেতারা বিভিন্ন জন, কেউ গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের কথা বলেন আবার কেউ বলেন ভারতীয় পণ্য বর্জন করতে। সেই পাকিস্তানি আমলের প্রচারণা, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আইয়ুব খান যে ভাষায় কথা বলতেন, সে ভাষায়। নতুন করে বিএনপি সেই ভাষায় কথা বলছেন। তাদের কোনো ইস্যু নেই। সব ইস্যু মার খেয়েছে। ভোট ও আন্দোলনে পরাজিত হয়েছে। এখন তাদের ইস্যু ভারতবিরোধিতা। এন্টি ইন্ডিয়া ফোবিয়া।
ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি যখন ক্ষমতা ছেড়ে যায়, তখন বাংলাদেশের রিজার্ভ ছিল সাড়ে তিন বিলিয়ন ডলার। আর তারা এখন আমাদের রিজার্ভ নিয়ে কটাক্ষ করে। রিজার্ভ বেড়ে ২১ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছে। ঈদ উপলক্ষ্যে রেমিট্যান্স বাড়ছে, রিজার্ভও বাড়বে-এটাই স্বাভাবিক। না জেনেই তারা মিথ্যাচার করছে, অপপ্রচার করছে। তাদের আমাদের জবাব দিতে হবে।
সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, জীবন দিয়ে বাঙালির বীর সন্তানরা দেশের স্বাধীনতা এনেছেন। অথচ ৫৩ বছর পরও বিতর্ক চলছে-কে স্বাধীনতার ঘোষক। এত বছরেও এ সমস্যার সমাধান হলো না। স্বাধীনতার জন্য বঙ্গবন্ধু ১২টা বছর কারাগার থেকে কারাগারে থেকেছেন, নিপীড়ন, ফাঁসির মঞ্চে স্বাধীনতার জয়গান গেয়েছেন। পাকিস্তানের কারাগারে বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুদণ্ড হয়ে গিয়েছিল-জেলখানার মধ্যেই কবর তৈরি করা হয়েছিল। নিজের জীবন দিয়ে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ সৃষ্টি করেছেন। তিনি স্ত্রী-পুত্রের খোঁজ নেননি, কারণ তার হৃদয়ে ছিল বাংলাদেশ, চেতনায় ছিল বাংলাদেশ। অথচ তাকে নিয়ে ৫৩ বছর পরও বিতর্ক, স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে বিতর্ক। এ বিতর্কের বিষয়ে জবাবটা মোটা দাগে আমরা অনেক সময় বলার চেষ্টা করেছি। এখন আমরা বলি-ঘোষণার পাঠক কখনোই ঘোষক হতে পারেন না। পারলে তো এমএ হান্নান, আবুল কাসেমরাও তো স্বাধীনতার ঘোষক। পাঠক তো ঘোষক নন। তার চেয়ে বড় কথা ঘোষণার অধিকার কার ছিল? সত্তরের নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু জনগণের ম্যান্ডেট পেয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধু ছাড়া স্বাধীনতা ঘোষণা দেওয়ার অধিকার আর কারও ছিল না। তিনি বলেন, একাত্তরের পর পঁচাত্তরের হত্যাকাণ্ড কারা ঘটিয়েছিল? যারা ঘটিয়েছিলেন, তাদের অনুসারীরা আজ ঘোষক নিয়ে বিতর্কের জন্ম দিচ্ছেন। তাদের টার্গেট যে কোনোভাবে বঙ্গবন্ধুকে দৃশ্যপট থেকে সরিয়ে দেওয়া।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, সামনে উপজেলা নির্বাচন। কেউ ক্ষমতার দাপট ও ক্ষমতার অপব্যবহার করবেন না। যার নির্বাচন করার ইচ্ছা তিনি করবেন। নির্বাচন করার স্বাধীনতা সবারই আছে। এমপি, মন্ত্রীরা হস্তক্ষেপ থেকে বিরত থাকলে দলীয় প্রতীক ছাড়া নির্বাচন করার যে উদ্দেশ্য, তা সার্থক হবে। তিনি বলেন, নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে। জনগণ যাকে ইচ্ছা তাকে নির্বাচিত করবে। নির্বাচন কমিশনও স্বাধীন। অনিয়ম হলে তারা ব্যবস্থা নেবে। তিনি বলেন, চায়ের দোকানে বসে নেতারা দলের বিরুদ্ধে কথা বলেন। কিন্তু এ ধরনের আচরণ নেতাদের পরিহার করতে হবে। সবাইকে খুব দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। একেকজনের একেক রকম দায়িত্বজ্ঞানহীন কথাবার্তা দলকে সংকটের দিকে নিয়ে যায়। আওয়ামী লীগে গঠনতন্ত্র আছে, নিয়মনীতি আছে, নেতৃত্ব আছে, আমরা কেন আদর্শচ্যুত হব?
দলের চট্টগ্রাম বিভাগের মতবিনিময় সভায় আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ সভাপতিত্ব করেন। এতে উপস্থিত ছিলেন প্রেসিডিয়াম সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম, যুগ্মসাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, মাহবুব-উল আলম হানিফ, ডা. দীপু মনি, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, সুজিত রায় নন্দী, ত্রাণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, অর্থ ও পরিকল্পনা সম্পাদক ওয়াসিকা আয়েশা খান, ধর্মবিষয়ক সম্পাদক সিরাজুল মোস্তফা, কৃষি ও সমবায় সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ড. সেলিম মাহমুদ, উপদপ্তর সম্পাদক সায়েম খান, সদস্য আনিসুর রহমান প্রমুখ। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগের সব জেলা-মহানগরের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক, দলীয় ও স্বতন্ত্র এমপিরা উপস্থিত ছিলেন।
বেলা ১১টায় শুরু হওয়া চট্টগ্রাম বিভাগীয় বৈঠক চলে দুপুর ২টা পর্যন্ত। বৈঠকে থাকা একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তৃণমূল থেকে আসা অধিকাংশ নেতা স্থানীয় রাজনীতির সমস্যা নিয়ে কথা বলেন। দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের সামনে স্ব স্ব এলাকার বাস্তব চিত্র তুলে ধরেন। বৈঠকে চট্টগ্রাম মহানগর কমিটি দ্রæত করার নির্দেশনা দেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম মহানগর অনেকটাই অগোছালো। এখান থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। সম্মেলনের মাধ্যমে সংগঠনকে চাঙা করতে হবে।
চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক নিজ জেলার রাজনৈতিক সমস্যা তুলে ধরেন। কুমিল্লার কোন্দল সামনে আনেন কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রুহুল আমিন।

বিক্ষোভ সমাবেশ ছাত্রলীগের, ক্লাস পরীক্ষা বর্জনে শিক্ষার্থীরাছাত্ররাজনীতি বিতর্কে বুয়েট

ঢাকা ডেস্কঃ আবারও ছাত্ররাজনীতি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে দেশের শীর্ষস্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ প্রকৌশল ও কারিগরি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট)। ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সে সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে কর্মসূচি পালন করছে সরকারি দল আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনৈতিক কর্মকান্ডের বিরোধিতা করে ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করছে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে আন্দোলনকারীরা। গতকাল তারা রাজনৈতিক কর্মকান্ডের পাশাপাশি নিষিদ্ধ সংগঠন থেকে বুয়েট মুক্ত রাখার দাবিও করেছে।

বুয়েটে এবারের আন্দোলনের গতকাল ছিল তৃতীয় দিন। বিকালে সংবাদ সম্মেলন ছাড়া প্রকাশ্য কোনো কর্মসূচিতে ছিল না সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তবে পূর্বনির্ধারিত টার্মফাইনাল পরীক্ষায় অংশ নেয়নি কোনো শিক্ষার্থী। বিপরীতে ছাত্রলীগ গতকাল সকাল থেকে ছিল সক্রিয়। মিছিল নিয়ে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বুয়েটে প্রবেশ করে। পরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সমাবেশ করে ছাত্রলীগ। সমাবেশে বুয়েট ক্যাম্পাসে রাজনীতি নিষিদ্ধ করাকে অসাংবিধানিক, মৌলিক অধিকার পরিপন্থি ও শিক্ষাবিরোধী সিদ্ধান্ত বলে আখ্যা দেওয়া হয়। জঙ্গি সংগঠনগুলোর অন্ধকার রাজনীতির জন্য আবরার ফাহাদের বিষয়কে সামনে এনে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে নামানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন ছাত্রলীগ নেতারা।

সমাবেশে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ইমতিয়াজ হোসেন রাহিম (ইমতিয়াজ রাব্বি), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মাজহারুল কবির শয়ন, সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকত, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার সভাপতি রাজীবুল ইসলাম বাপ্পি, সাধারণ সম্পাদক সজল কুন্ডু, ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি রিয়াজ মাহমদ, সাধারণ সম্পাদক সাগর আহমেদ শামীম। এ সময় গত ২৮ মার্চ মধ্যরাতে ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেনের বুয়েটে প্রবেশের পরিপ্রেক্ষিতে ছাত্ররাজনীতি প্রতিরোধের আন্দোলন ও ঢুকতে সহযোগিতা করা কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সদস্য ইমতিয়াজ রাহিম রাব্বির সিট বাতিল করার প্রতিবাদ করেন তারা। রাব্বির সিট ফিরিয়ে না দিলে বুয়েটে কমিটি দেওয়ার প্রতিও আহŸান জানান নেতা-কর্মীরা।

প্রতিবাদ সমাবেশ শেষে বুয়েটের শহীদ মিনারে ফুল দেন ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ শতাধিক নেতা-কর্মী। ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন বলেন, বুয়েট কি পাকিস্তান, ভিসা পাসপোর্ট নিয়ে যেতে হবে! বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে যে কোনো জায়গায় প্রবেশের অধিকার আমার রয়েছে। অনতিবিলম্বে বুয়েটে নিয়মতান্ত্রিক ছাত্ররাজনীতি চালু করতে হবে। দাবি মানা না হলে ছাত্রলীগ জানে, কীভাবে দাবি আদায় করতে হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি মাজহারুল কবীর শয়ন বলেন, ইমতিয়াজের অপরাধ সে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে ইফতার বিতরণ করেছে। স্বাধীনতা দিবসে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেছে। নাগরিক হিসেবে রাজনীতি করার অধিকার সবার রয়েছে, কার অনুমতি নিতে হবে? টাঙ্গুয়ার হাওড়ে যারা গ্রেফতার হয়েছে, জামিনে এসে তারা নির্ধারণ করছে কে ক্লাস করতে পারবে, কে পারবে না। শিক্ষার্থীদের স্বাধীন মত প্রকাশের স্বাধীনতা বুয়েটই বন্ধ রেখেছে। সেখানে নিষিদ্ধ রাজনীতির চাষাবাদ হচ্ছে। বুয়েট ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ হিযবুত তাহরীর, জেএমবি ও ছাত্র শিবিরের প্রশিক্ষিত ক্যাডাররা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। দেয়ালে পোস্টার লাগাচ্ছে, শিক্ষার্থীদের ই-মেইলে দাওয়াত দিচ্ছে, টাঙ্গুয়ার হাওরে শিবির দেশ বিরোধী মিটিং করেছে। তাই বুয়েটে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত একটি নাটক। ইমতিয়াজ হোসেন রাব্বি বলেন, বুয়েটে সুদীর্ঘ রাজনীতির গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস রয়েছে। কোনো অনাকাক্সিক্ষত ঘটনার কারণে তা বন্ধ হতে পারে না। বরং যারা জাতীয় দিবস পালনে বাধা দিয়েছে, বুয়েট প্রশাসনের উচিত তাদের বিচারের আওতায় আনা। ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা তার পাশে দাঁড়ানোর জন্য ধন্যবাদ জানান ইমতিয়াজ। রাজনৈতিক কর্মকান্ড পরিচালনার বিষয়ে বুয়েটের উপাচার্য সত্য প্রসাদ মজুমদার তাঁর নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের জানান, রাজনীতি না করলে শিক্ষার্থীদের চোখ খুলবে না, দেশের প্রতি তাদের প্রেম আসবে না। ছাত্ররাজনীতি ছাত্রদের গড়ে ওঠার জন্যই দরকার। শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা চাইলে বুয়েটে আবার ছাত্র রাজনীতি চালু হতে পারে। তিনি বলেন, তখন যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল, সেই পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তা যদি পরিবর্তন করতে হয়, তাহলে তাদের আবার উদ্যোগী হতে হবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমরা রাজনীতি করতেই হবে- এমন তো কাউকে জোর করতে পারব না। তারা যদি নিজ থেকে উদ্যোগ নেয়- আমরা শিখতে চাই, করতে চাই, প্র্যাকটিস করতে চাই, অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে আছে; আমরাও করতে চাই। তাদের যদি সিদ্ধান্ত হয় তাহলে তারা চালু করতে পারে, এটা তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার। মিডিয়ায় বুয়েটের আন্দোলনরত বিপুল সংখ্যক সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে অভিযোগ করে বুয়েটের ড. এম এ রশীদ প্রশাসনিক ভবনের সামনে সংবাদ সম্মেলন করেন শিক্ষার্থীরা। লিখিত বক্তব্যে তারা জানান, বুয়েটের শিক্ষার্থীরা মুক্তিযুদ্ধের এবং স্বাধীনতার চেতনায় দৃঢ়ভাবে বিশ্বাসী এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ে তোলার ব্যাপারে দৃঢ় প্রত্যয়ী।

ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি না চাওয়া মানেই মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মতাদর্শ থেকে দূরে সরে যাওয়া নয়। আমরা শুধু চাই না, ক্ষমতার লোভ এবং অপচর্চা আবারও এসে আমাদের সংখ্যাগরিষ্ঠ শিক্ষার্থীদের জিম্মি করে না ফেলুক। হিজবুত তাহরীর ও শিবিরের প্রসঙ্গে তারা বলেন, হিজবুত তাহরীর কোনো রাজনৈতিক দল না বরং নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন। আমরা হিজবুত তাহরীরের নিঃসন্দেহে সম্পূর্ণ বিপক্ষে এবং এ জাতীয় অপশক্তির উত্থান যেন বুয়েটে না হয় এ জন্য আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তবে যেসব শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে শিবিরের কার্যক্রমে যুক্ত থাকার অভিযোগ আসছে তাদের ঘটনাটি বুয়েটের বাইরে হয়েছে এবং এর সুস্পষ্ট কোনো প্রমাণ নেই। তবে অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা তাদের সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়ার লিখিত আহŸান জানাই এবং এটি আমাদের পূর্বের একটি আন্দোলনের অন্যতম দাবি হিসেবে ছিল। আন্দোলন স্থগিত করার বিষয়ে তারা বলেন, নিরাপত্তাজনিত শঙ্কার কারণে কেউ কোনোরূপ সমাগম করেনি। শিক্ষার্থীদের ফোন কলে হুমকি-ধমকি প্রদান করা, সোশ্যাল মিডিয়ায় নানারকম গুজব, বুয়েট শিক্ষার্থীদের মিথ্যা ট্যাগ দেওয়া, শিক্ষার্থীদের ছবি নাম পরিচয়সহ পোস্ট করে তাদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা গুরুতরভাবে বিঘ্নিত হয়- এমন সব অপপ্রচার চালানো হয়েছে। এমতাবস্থায় বুয়েট ক্যাম্পাস এবং আশপাশের এলাকা বুয়েটের শিক্ষার্থীদের জন্য অনিরাপদ হয়ে পড়েছে।

বাফেলো শহরে অর্ধশতাধিক গাড়ীর বহর চালিয়ে পালন হলো “বাংলাদেশ ডে প্যারেড”

পিবিসি নিউজ: মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের দ্বিতীয় বৃহত্তম নগরী বাফেলো শহরে অর্ধশতাধিক গাড়ীর বহর নিয়ে, লাউড স্পিকারে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা বাজিয়ে, রং বেরংয়ের সাজানো গাড়ীর বহর নিয়ে উদযাপন করা হলো “বাংলাদেশ ডে প্যারেড”

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) বাফেলো সিটি শাখা ও নিউইয়র্ক স্টেট্ বিএনপি শাখার স্থানীয় নেতৃবৃন্দের অয়োজনে এই ঐতিহাসিক ঘটনাটি ঘটেছে ৩০শে মার্চ রোজ শনিবার, দুপুর ১২:০০ ঘটিকা স্থানীয় সময়ে। সিটি রাস্তার মোড়ে মোড়ে বাফেলো পুলিশ প্রহরায় “বাংলাদেশ ডে প্যারেড” হয়ে উঠেছিল অত্যন্ত উপভোগ্য। রাস্তার দুই ধারে দাঁড়িয়ে থাকা হাজার হাজার উৎসুক জনতা হাত নেড়ে গাড়ী বহর ও স্বাধীনতা দিবস উদযাপনকারীদের শুভেচ্ছা জানাচ্ছিলেন।

কয়েক সপ্তাহের গোপনীয় প্রস্তুতির মাধ্যমে বাফেলো সিটি মেয়র অফিস থেকে পারমিশন সংগ্রহ করে অত্যন্ত সুশৃঙ্খভাবে বাফেলো শহরে ঐতিহাসিকভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে এই অনুষ্ঠান। সিটি হলে কর্মরত বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত জাভেদ মোস্তফার সহযোগীতায় পারমিশন প্রাপ্তিটা ত্বরান্বিত হওয়ায় আয়োজকদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করা হয়েছে। এছাড়া বাফেলো পুলিশ ও মিডিয়াকর্মীদের জানানো হয়েছে অফুরন্ত ভালোবাসা।

গাড়ীর বহর বাফেলো মেয়র অফিস মেইন গেইট নায়াগারা স্কয়ারে এসে থামলে সেখানে একটি পথসভার আয়োজন করা হয়। সভার প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন নিউইয়র্ক স্টেট্ বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক, জিয়া লাইব্রেরি ডটকমের প্রেসিডেন্ট, পিবিসি টুয়েন্টিফোর টেলিভিশনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান লিটু।

সভায় সভাপতিত্ব করেন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক প্রচার সম্পাদক নাজমুল আলম। উপস্থাপনায় ছিলেন বাফেলো বিএনপি নেতা ও অবিভক্ত ঢাকা মহানগরীর তাঁতীদলের সাবেক সদস্য সচিব আব্দুর রহিম এবং নিউইয়র্ক মহানগর বিএনপি উত্তর শাখার সদস্য আবু জাফর ফরাজী। বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন
নিউইয়র্ক মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য ও সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির উপদেষ্টা ইমতিয়াজ আহমেদ বেলাল, নিউইয়র্ক মহানগর (দক্ষিণ) বিএনপির সদস্য তারিকুল ইসলাম প্রিন্স মৃধা।

আয়োজকদের সার্বিক সহযোগিতা ও অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে যারা অনুষ্ঠানটি সাফল্যমন্ডিত করেছেন তারা হলেন: নিউইয়র্ক মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য আমিনুল ইসলাম, সাবেক ছাত্রনেতা ও বরিশাল ডিভিশনাল সোসাইটি অফ বাফেলো ইনকের সভাপতি সৈয়দ ঝিলু, বরিশাল বিএম কলেজের সাবেক ছাত্রনেতা ও বরিশাল ডিভিশনাল সোসাইটি অফ বাফেলো ইনকের সাধারণ সম্পাদক মাসুম বিল্লাহ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা মনিরুজ্জামান মিয়া, গাউসুল আনোয়ার রাহিন, তোফাজ্জেল হোসেন, দাউদকান্দি উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের সাবেক সভাপতি বাবুল তালুকদার, সাবেক সিলেট জেলা ছাত্রদল নেতা ফকর উদ্দিন, জায়েদ বিশ্বাস, মনিরুল আহসান, ফেন্সুগঞ্জ ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ছায়াদুর রহমান, মিলাদুল ইসলাম, কাজী কবির, বশির উদ্দিন, মাকসুদুর রহমান টিটু, সুমন আহমেদ, মোহাম্মদ শহীদ খান, মোহাম্মদ পুনম প্রমুখ।

শুরুতে বেইলি এভিনিউ এবং ব্রডওয়েতে সকল গাড়ি গুলিকে লাইন আপ করিয়ে রাখা হয়, সেখান থেকে পুলিশের প্রহরায় ব্রডওয়ে হয়ে শহর প্রদক্ষিণ করে নিয়ে যাওয়া হয় বাফেলো মেয়র অফিস সিটি হলের সামনে, সেখানে নায়াগারা স্কয়ারের কয়েকবার ঘূর্ণায়নের পরে রাস্তার পাশে সকলের গাড়ি দাঁড় করিয়ে পথসভাটি অনুষ্ঠিত হয়। নিউইয়র্কের বাফেলো শহরে ইতিহাসের এই প্রথম এমন ব্যতিক্রমী আয়োজনে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন করা হলো। যারা আজকের বাংলাদেশ ডে উদযাপনের সাক্ষী হয়েছেন তারাই যেন আমেরিকার এক নতুন ইতিহাস হয়ে রইলেন।