জব্দ করা রাশিয়ার সম্পদ থেকে ইউক্রেনকে ৫০ বিলিয়ন ডলার ব্যবহার করতে দিতে সম্মত হয়েছে শিল্পোন্নত দেশগুলোর জোট জি-৭। এটি দেওয়া হবে ইউক্রেনকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে সহায়তার জন্য।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন এটা রাশিয়াকে আরেকবার মনে করিয়ে দেয়া যে ‘আমরা পিছিয়ে যাচ্ছি না’, তবে মস্কো এর পাল্টা হিসেবে ‘সর্বোচ্চ বেদনাদায়ক’ পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি দিয়েছে।
এই অর্থ চলতি বছর শেষ হওয়ার আগে পৌঁছানোর সম্ভাবনা কম কিন্তু এটিকে দেখা হচ্ছে ইউক্রেনকে যুদ্ধ ও দেশটির অর্থনীতির জন্য দীর্ঘমেয়াদী সহায়তা হিসেবে।
ইতালিতে জি-৭ সামিটে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এবং বাইডেন দশ বছর মেয়াদী একটি দ্বিপাক্ষিক নিরাপত্তা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন। চুক্তিটিকে কিয়েভ ‘ঐতিহাসিক’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।
এই চুক্তি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে সামরিক ও প্রশিক্ষণ সহায়তা দেবে কিন্তু এখানে ওয়াশিংটন সৈন্য পাঠিয়ে সহায়তা করবে এমন কোন প্রতিশ্রুতি নেই।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি জি-৭ ভুক্ত দেশগুলোতে রাশিয়ার প্রায় ৩২৫ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ ফ্রিজ বা জব্দ করা আছে। ২০২২ সালে রাশিয়া ইউক্রেনের পূর্ণ মাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর এসব জব্দ করা হয়।
এসব সম্পদ থেকে বছরে প্রায় তিন বিলিয়ন ডলার সুদ আসে।
জি-৭ এর পরিকল্পনা অনুযায়ী এই তিন বিলিয়ন ডলার আন্তর্জাতিক বাজার থেকে সরিয়ে ইউক্রেনের ৫০ বিলিয়ন ডলারের ঋণের বার্ষিক সুদ হিসেবে পরিশোধ করা হবে।
ইতালির পুগলিয়াতে এবারের জি-৭ সামিট হচ্ছে। সেখানেই এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট বাইডেন বলেন এই ৫০ বিলিয়ন ডলার ইউক্রেনের জন্য ব্যবহার করা হবে এবং রাশিয়াকে আরেকবার বার্তা দেয়া হচ্ছে যে ‘আমরা পিছপা হচ্ছি না’।
তিনি বলেন পুতিন ‘আমাদের অপেক্ষা করিয়ে রাখতে পারবে না, তিনি আমাদের মধ্যে বিভক্তি তৈরি করতে পারবেন না এবং আমরা যুদ্ধে জয় না হওয়া পর্যন্ত আমরা ইউক্রেনের পাশে আছি’।
প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি আমেরিকা ও অন্য সহযোগী দেশগুলোকে তাদের সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
নতুন নিরাপত্তা চুক্তির বিষয়ে তিনি বলেন, এটা সত্যিকার অর্থেই ঐতিহাসিক দিন এবং আমাদের স্বাধীনতার পর (১৯৯১) এটাই ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী চুক্তি।
জি-৭ ভুক্ত দেশগুলো হলো কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, ইটালি, জাপান, যুক্তরাজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্র। রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে এসব দেশ ইউক্রেনকে গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক ও সামরিক সহায়তা দিয়ে আসছে।
চুক্তিটির প্রশংসা করে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক একে ‘গেম চেঞ্জিং’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
মে মাসে ইউক্রেনকে ৬১ বিলিয়ন ডলারের যে সামরিক সহায়তার কথা বলেছিলো যুক্তরাষ্ট্র তার তুলনায় এই ৫০ বিলিয়ন ডলারকে বড় সহায়তা হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে।
তবে কিয়েভে কেউ কেউ নগদ অর্থ সহায়তার জন্য চেষ্টা করছিলো। তারা চেয়েছিলো শুধু সুদ নয়, বরং জি-৭ দেশগুলোতে আটকে থাকা তিনশ বিলিয়ন ডলারের পুরোটাই ছাড়া দেওয়া হোক। কিন্তু ইউরোপিয়ান কেন্দ্রীয় ব্যাংক সেটি নাকচ করে দিয়েছে।
তবে যেহেতু এই অর্থ চলতি বছর শেষ হওয়ার আগে পৌঁছাবে না সে কারণে চলমান যুদ্ধে এর প্রভাব পড়বে সামান্যই।
রাশিয়ার জব্দ করা সম্পদ থেকে ইউক্রেনকে ৫০ বিলিয়ন ডলার দেবে জি-৭
হিজবুল্লাহর মুহুর্মুহু রকেট হামলায় কাঁপছে ইসরাইল
ইসরাইলে মুহুর্মুহু রকেট হামলা চালিয়েছে লেবাননের ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। ইসরাইলি হামলায় গোষ্ঠীটির সিনিয়র ফিল্ড কমান্ডার নিহতের প্রতিবাদে এ হামলা চালানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) মিডল ইস্ট মনিটরের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরাইলের উত্তরাঞ্চলে ফের দেড় শতাধিক রকেট হামলা করেছে হিজবুল্লাহ। সিরিয়ার অধিকৃত গোলান মালভূমি ও আপার গ্যালিলিও এলাকায় এ হামলা করা হয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার ইসরাইলের উত্তরাঞ্চলের শহরে বিমান হামলার সাইরেন বেজেছে। বিকালের দিকে লেবানন থেকে প্রায় ৪০টি বেশি রকেট ছোড়া হয়েছে। ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম কানের প্রচারিত ফুটেজে দেখা গেছে, লেবাননের সীমান্ত থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার দূরে সাফেদসহ বিভিন্ন শহরে অসংখ্য রকেট প্রতিহত করা হয়েছে।
ইসরাইলের জাতীয় অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রের শার্পনেলের আঘাতে দুজন হয়েছেন। লেবানন থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র খোলা মাঠে পড়েছে। এতে বেশ কয়েকটি এলাকায় দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে।
এর আগে বুধবার ইসরাইলকে লক্ষ্য করে একই দিনে ১৭০টির বেশি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহ। সকাল থেকে দফায় দফায় এসব ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়।
ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরাইল জানিয়েছে, গত ৮ মাস ধরে চলা এ যুদ্ধে এটি ইসরাইলকে লক্ষ্য করে হিজবুল্লাহর চালানো অন্যতম বড় রকেট হামলা।
সংবাদমাধ্যমটি জানায়, লেবানিজ গোষ্ঠীটির এবারের হামলায় লক্ষ্য করা হয়েছে তাইবেরিয়াসকে। চলমান যুদ্ধে এর আগে এই অঞ্চলে কোনো রকেট ছোড়েনি হিজবুল্লাহ। রকেট হামলায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি বলেও জানিয়েছে টাইমস অব ইসরাইল।
এর আগে বুধবার রাতে লেবাননে বিমান হামলা চালিয়ে দখলদার ইসরাইল হিজবুল্লাহর এক জ্যেষ্ঠ নেতাকে হত্যা করে। ধারণা করা হচ্ছে, ওই হামলার প্রতিবাদেই একসঙ্গে এত রকেট ছোড়া হয়েছে।
হিজবুল্লাহর রকেট হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ইসরাইল প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। তারা জানিয়েছে, লেবানন থেকে অন্তত ৯০টি রকেট উত্তর ইসরাইল প্রবেশ করেছে। এর মধ্যে কিছু রকেট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে ধ্বংস করা হয়েছে। আর কিছু রকেট কয়েক জায়গায় আঘাত হেনেছে।
কাশ্মীর নিয়ে চীন-পাকিস্তানের বিবৃতি, যা বলল ভারত
জম্মু ও কাশ্মীর নিয়ে যৌথ বিবৃতি দিয়েছে চীন ও পাকিস্তান। এ নিয়ে এবার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে জম্মু ও কাশ্মীরকে যুক্ত করা ‘অযৌক্তিক উল্লেখ’ বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৪ থেকে ৮ জুন চীন সফর করেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। এ সময় চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি। এরপর দুই দেশের পক্ষে যৌথ বিবৃতি দেওয়া হয়।
এতে বলা হয়, দুই দেশের শীর্ষ নেতা চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর সিপেক নিয়ে আলোচনা করেন। এই করিডোর পাকিস্তান অধ্যুষিত কাশ্মীরে অবস্থিত। জম্মু ও কাশ্মীরের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে চীনকে বিস্তারিত জানিয়েছে পাকিস্তান। জবাবে চীন এই সংকট সমাধানের তাগিদ দেয়।
বৃহস্পতিবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘৭ জুন ২০২৪-এ চিন ও পাকিস্তানের যৌথ বিবৃতিতে জম্মু ও কাশ্মীর কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের অযৌক্তিক উল্লেখ করেছে। আমরা স্পষ্টভাবে এই ধরনের উল্লেখ প্রত্যাখ্যান করি।’
তিনি বলেন, ‘এই ইস্যুতে আমাদের অবস্থান সংশ্লিষ্ট পক্ষের কাছে সামঞ্জস্যপূর্ণ ও সুপরিচিত। জম্মু ও কাশ্মীরের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল ও লাদাখ কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল, আছে এবং থাকবে। সেখানে অন্য কোনো দেশের অবস্থান নেই।’
পাকিস্তানের চরম অর্থনৈতিক সংকটের জন্য আংশিকভাবে দায়ী করা হয় ‘চীনা ঋণের ফাঁদকে’। শ্রীলংকাও এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ইউক্রেন যুদ্ধে জিতবে না রাশিয়া: জার্মান চ্যান্সেলর
ইতালির পুগলিতে শুরু হয়েছে পশ্চিমা শক্তিশালী সাতটি দেশের রাজনৈতিক জোট জি-৭-এর ৫০ তম সম্মেলন। সম্মেলনের প্রথম দিন স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শোলৎজ বলেছেন, ইউক্রেনের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে রাশিয়া বিজয়ী হবে না।
ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ নিয়ে জি-৭ দেশগুলোর পরিকল্পনার বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন শোলৎজ। তিনি বলেন, ‘এটি একটি অত্যন্ত দৃঢ় প্রতিশ্রুতি। এই প্রতিশ্রুতি ইউক্রেনের জনগণকে তাদের স্বাধীনতা এবং তাদের সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য এখন যা প্রয়োজন তা করার সাহস যোগায়।’
জার্মান চ্যান্সেলর আরও বলেন, ‘এটি রাশিয়ান প্রেসিডেন্টের কাছেও একটি স্পষ্ট বার্তা যে, ইউক্রেনকে সমর্থন করা কিছু দেশের আর্থিক সমস্যার সুযোগ নিয়ে একদিন এই যুদ্ধে জয়ী হওয়ার চিন্তা থেকে তাকে সরে আসতে হবে। তিনি জিতবেন না।’
একই দিনে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি জানিয়েছেন, জি-৭ দেশগুলো ইউক্রেনকে তহবিল দেওয়ার জন্য ৫০ বিলিয়ন ডলারের চুক্তিতে সম্মত হয়েছে।
সম্মেলন কাভার করা বিবিসির লাইভ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়ার জব্দ করা সম্পদের মাধ্যমেই ইউক্রেনকে অর্থ প্রদান করা হবে। এ বিষয়ে সংবাদ সংস্থা এএফপিকে ইতালিয়ান প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি নিশ্চিত করছি, আমরা বছরের শেষ নাগাদ ইউক্রেনকে প্রায় ৫০ বিলিয়ন ডলারের অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তা প্রদানের জন্য রাজনৈতিক চুক্তিতে পৌঁছেছি।’
রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁও চুক্তিটি এগিয়ে নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জি-৭ দেশগুলো ইতিমধ্যে ইঙ্গিত দিয়েছে, ইউক্রেনকে অর্থায়নের জন্য রাশিয়ার আটকে থাকা সম্পদ থেকে ৫০ বিলিয়ন ডলার অবমুক্ত করা হবে।
এই অর্থ ইউক্রেনকে দ্রæত অস্ত্র প্রদান থেকে শুরু করে দেশটির শক্তি অবকাঠামো পুনর্গঠনে সহায়তা করতে ব্যবহার করা হবে।
হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু
মিনায় মুসল্লিদের জড়ো হওয়ার মধ্য দিয়ে পবিত্র হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। ৮ জিলহজ শুক্রবার সকাল থেকে মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হলেও বৃহস্পতিবার রাতেই হাজিরা মিনার তাঁবুতে পৌঁছে যান।
হজযাত্রীর সংখ্যা বিবেচনায় সৌদি মুয়াল্লিমরা আগের রাত থেকেই হজযাত্রীদের তাঁবুর শহর মিনায় নেওয়া শুরু করেন। হজযাত্রীরা বৃহস্পতিবার এশার পর থেকে মক্কার নিজ নিজ আবাসন থেকে ইহরাম বেঁধে মিনায় রওয়ানা হন।
মিনায় যাত্রার মধ্য দিয়ে হজ পালনের সূচনা হয়, যা শেষ হবে ১২ জিলহজ শয়তানকে পাথর নিক্ষেপের মধ্য দিয়ে। অন্যান্য দেশের হাজিদের সঙ্গে এবার বাংলাদেশের ৮২ হাজার ৭৭২ হাজিও রওয়ানা হন মিনার পথে। এ সময় গুঞ্জরিত হয় তালবিয়া-‘লাব্বাইকা আল্লাহুম্মা লাব্বাইক। লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক। ইন্নালহামদা ওয়াননি’মাতা লাকা ওয়াল মূলক, লা শারিকা লাক।’
মিনায় পৌঁছে হজযাত্রীরা ফজর থেকে শুরু করে এশা অর্থাৎ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করবেন নিজ নিজ তাঁবুতে। তবে খায়েফ ও কুয়েতি মসজিদের কাছাকাছি তাঁবু থাকলে মসজিদে গিয়েও নামাজ আদায় করতে পারেন হজযাত্রীরা।
৯ জিলহজ (শনিবার) সূর্যোদয়ের পর হজযাত্রীদের আরাফাতের ময়দানের উদ্দেশে যাত্রা করার কথা থাকলেও আজ রাতেই নিয়ে যাবেন মুয়াল্লিমের দায়িত্বশীলরা। সেখানে আগে পৌঁছে গেলে ফজর এবং জোহর-আসর আদায় করবেন আরাফাতের ময়দানে।
এখানে মসজিদে নামিরা থেকে হজের খুতবা দেবেন খতিব। চলতি বছর আরাফাতের ময়দানে হজের খুতবা দেবেন মসজিদুল হারামের জনপ্রিয় ইমাম ও খতিব শায়খ ড. মাহের বিন হামাদ বিন মুয়াক্বল আল মুয়াইকিলি। একইসঙ্গে মসজিদে নামিরাতে নামাজও পড়াবেন তিনি। তবে বাংলাদেশের হজযাত্রীদের তাঁবু বেশ খানিকটা দূরে থাকায় তাদের পক্ষে মসজিদে নামিরায় যাওয়া সম্ভব হয় না। এক্ষেত্রে নিজ নিজ তাঁবুতেই তারা নামাজ আদায় করে নেন।
মূলত ৯ জিলহজ আরাফাতের ময়দানে অবস্থানের দিনকেই হজের দিন বলা হয়। এ দিনের নাম ইয়াইমুল আরাফা।
ইসলামের বিধান মোতাবেক, ১০ জিলহজ মিনায় প্রত্যাবর্তনের পর হাজিদের পর্যায়ক্রমে চারটি কাজ সম্পন্ন করতে হয়। শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ, আল্লাহর উদ্দেশে পশু কুরবানি, মাথা মুণ্ডন করা এবং তাওয়াফে জিয়ারত। এরপর ১১ ও ১২ জিলহজ অবস্থান করে প্রতিদিন তিনটি শয়তানকে প্রতীকী পাথর নিক্ষেপ করবেন হাজিরা। সবশেষে কাবা শরিফকে বিদায়ি তাওয়াফের মধ্য দিয়ে শেষ হবে হজের আনুষ্ঠানিকতা।
চলতি বছর মক্কায় প্রবেশের তাসরিহ বা নুসুক কার্ড ছাড়া কাউকে পাওয়া গেলে ১০ হাজার সৌদি রিয়াল অর্থদণ্ড ও কারাদণ্ডের বিধান করা হয়েছে। ডিজিটাল এ নুসুক কার্ডে সংশ্লিষ্ট হজযাত্রীর প্রয়োজনীয় সব তথ্য থাকে। হজের জন্য মিনা, আরাফাত, মুজদালিফা, মসজিদুল হারামে প্রবেশ করতে চাইলে এ কার্ড অবশ্যই দেখাতে হবে।
গতবারের মতো এবারও প্রচণ্ড গরমের ভোগান্তি সঙ্গী হচ্ছে হজযাত্রীদের। হজের সময় তাপমাত্রা ৪৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসেও পৌঁছাতে পারে বলে হজযাত্রীদের সতর্ক করেছে মক্কার আবহাওয়া দপ্তর। বলা হয়েছে, এ বছর হজযাত্রীরা কয়েকটি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে পারেন। এর মধ্যে তাপমাত্রার উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি অন্যতম। সৌদি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মুহাম্মদ আল-আব্দুল্লাহিল বলেছেন, উচ্চ তাপমাত্রা হজযাত্রীদের স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। এ কারণে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
মোদির নতুন মন্ত্রিসভায় নেই কোন মুসলিম সদস্য
ভারতে এই প্রথম কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা গঠিত হয়েছে কোনো মুসলিম প্রতিনিধি ছাড়াই। রোববার দেশটির রাষ্ট্রপতি ভবনে প্রধানমন্ত্রী পদে শপথ নেন নরেন্দ্র মোদি। তার সঙ্গেই শপথ নেন আরও ৭১ জন মন্ত্রী। যে তালিকায় একাধিক রাজ্য, জাতির প্রতিনিধিরা থাকলেও দেশের ২০ কোটি মুসলিম জনসংখ্যার কারও ঠাঁই হয়নি।
২০২১ সালে মোদি প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সময় মুসলিম সদস্য হিসেবে নাজমা হেপতুল্লাহ শপথ নেন এবং সংখ্যালঘুবিষয়ক মন্ত্রী হন। ২০১৯ সালে মোদির দ্বিতীয় মেয়াদে নকভি সংখ্যালঘুবিষয়ক মন্ত্রী হন। এবারের লোকসভা নির্বাচনে নির্বাচিত ২৪ জন মুসলিম সংসদ-সদস্যের মধ্যে ২১ জনই ইন্ডিয়া জোটের। বাকিদের মধ্যে দুজন আসাদুদ্দিন ওয়াইসির অল ইন্ডিয়া মজলিশ-ই-ইত্তেহাদুল মুসলেমিনের এবং দুজন স্বতন্ত্র।
এর আগে, ২০০৪ ও ২০০৯ সালের মন্ত্রিপরিষদে যথাক্রমে চার এবং পাঁচজন মুসলিম সদস্য ছিলেন। এমনকি ১৯৯৯ সালের অটল বিহারি বাজপেয়ি সরকারের মন্ত্রিপরিষদেও দুজন মুসলিম ছিলেন। তারা হলেন- শাহনওয়াজ হুসেন ও ওমর আবদুল্লাহ। তার আগে, ১৯৯৮ সালে বাজপেয়ির নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভার প্রতিমন্ত্রীও ছিলেন নকভি।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ ও বিরোধী দলের নেতারা মনে করেন, দেশের রাজনীতিতে মুসলমানদের অংশগ্রহণ কমে যাওয়ার এই প্রবণতা কিন্তু উদ্বেগজনক। যদিও এই অভিযোগ মানতে নারাজ বিজেপি। তাদের দাবি, বিজেপি ধর্ম বা বর্ণের ভিত্তিতে ভোটের টিকিট দেয় না এবং তাদের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা পটভূমি নির্বিশেষে আপামর জনসাধারণের স্বার্থে কাজ করে থাকেন। তবে কেন মোদির নতুন মন্ত্রিসভায় মুসলিম সদস্য নেই তার বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেছে বিবিসি।
মন্ত্রিপরিষদ কাঠামো: অষ্টাদশ লোকসভায় বিজেপির ঝুলিতে এসেছে ২৪০টি আসন। আর তাদের এনডিএ জোটের শরিকদের কাছে রয়েছে ২৯৩টি আসন।
গত রোববার প্রধানমন্ত্রীসহ মোট ৭২ জন মন্ত্রিসভার সদস্য শপথ নিয়েছেন। এর মধ্যে ৬১ জন সদস্য বিজেপির এবং ১১জন সদস্য এনডিএ-র শরিক দলের।
২০১৪ সালে প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদি। সেই বছর মন্ত্রিসভায় ২৪ জন ক্যাবিনেট পদমর্যাদাসহ মোট ৪৬ জন সদস্য ছিলেন।
মোদির দ্বিতীয় দফায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন ২০১৯ সালে। সেই দফায় মন্ত্রীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৫৭।
এইবার ওই সংখ্যা আরও বেড়ে দাঁড়িয়েছে মোট ৭২ জন। তবে নতুন সরকারের মন্ত্রিসভায় স্থান পায়নি কোনও মুসলিম সদস্য। ভারতের ইতিহাসে এই প্রথম এমন ঘটনা ঘটেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
নরেন্দ্র মোদির তৃতীয় দফায় ক্ষমতায় আসার পর কিরেন রিজিজুকে কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী।
কিরেন রিজিজুর পাশাপাশি জর্জ কুরিয়েনকেও তার দপ্তরে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কেরালার বিজেপি নেতা জর্জ কুরিয়ান খ্রিস্টান।
২০১৪ সালে ড. নাজমা হেপতুল্লা কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। রাজ্যসভার এই সাবেক সংসদ সদস্য বর্তমানে মণিপুরের রাজ্যপাল।
২০১৯ সালে, প্রধানমন্ত্রী মোদি দলের রাজ্যসভার সাংসদ মুখতার আব্বাস নকভিকে সংখ্যালঘু বিষয়ক বিভাগের দায়িত্ব দিয়েছিলেন, যদিও তিনি ২০২২ সালে পদত্যাগ করেন। এরপর বিজেপির স্মৃতি ইরানিকে সংখ্যালঘু বিষয়ক দপ্তরের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়।
কাজেই সেদিক থেকে দেখতে গেলে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের অনেক আগে থেকেই (২০২২ সাল থেকে) বিজেপি সরকারের মন্ত্রীপরিষদে কোনো মুসলিম মন্ত্রী ছিলেন না, সংসদের কোনো কক্ষেই কোনো মুসলিম সংসদ সদস্যও নেই।
তা ছাড়া তথ্য বলছে, গোটা দেশে বিভিন্ন বিধানসভায় বিজেপির এক হাজারের বেশি বিধায়ক থাকলেও মুসলিম বিধায়ক রয়েছেন মাত্র একজনই।
২০১১ সালের জনগণনা অনুযায়ী, দেশের মোট জনসংখ্যার ১৭.২২ কোটি মানুষ মুসলমান স¤প্রদায়ের এবং এই অঙ্কটা মোট জনসংখ্যার ১৪.২ শতাংশ।
অষ্টাদশ লোকসভা নির্বাচনে ২৪ জন মুসলিম সাংসদ নির্বাচিত হয়েছেন, যার মধ্যে ২১ জন বিরোধী জোট ইন্ডিয়ার শরিক দলের।
রাজনৈতিক দলের বক্তব্য: ভারতীয় জনতা পার্টিতে মুসলিমদের প্রতিনিধিত্ব হ্রাসের বিষয় নিয়ে সমালোচনায় মুখর হয়েছে বিরোধী দল এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
গত ৩ মে কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুর বলেন, ‘সা¤প্রতিক বছরগুলোতে মুসলিমদের অভিজ্ঞতা ভালো নয়। দেশে এই প্রথম লোকসভা ও রাজ্যসভায় একজনও মুসলিম সাংসদ নেই।’
‘মন্ত্রিসভাতেও কোনো মুসলিম মন্ত্রী নেই। বিজেপি যা করেছে সেটা ভুল।’
তিনি আরও বলেন, পূর্ববর্তী কংগ্রেস সরকারের আমলে দেশের জনসংখ্যার ভিন্ন ভিন্ন স্তরের মানুষের প্রতিনিধিত্ব করার বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল।
যদিও বিজেপির পক্ষ থেকে বারবার বলা হয়েছে প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে যে বিষয়টিকে নজরে রাখা হয়েছে তা হল প্রার্থীর ‘জেতার ক্ষমতা’ আছে কি না।
একইসঙ্গে বিজেপি এই অভিযোগও অস্বীকার করেছে যে তারা মুসলিমদের ভোটের টিকিট দিতে চায় না।
অমিত শাহ ২০২২ সালে এক ভাষণে এই অভিযোগ খারিজ করে দিয়ে বলেছিলেন, তার দলে নির্বাচনি টিকিট দেওয়ার ভিত্তি হলো প্রার্থীর ভোটে জেতার ক্ষমতা। সেই সময় দেশের বিভিন্ন বিধানসভায়, বিশেষত উত্তরপ্রদেশে একজনও মুসলিম প্রার্থীকে টিকিট না দেওয়ার যে প্রশ্ন উঠেছিল, তার প্রেক্ষিতে তিনি তার দলের হয়ে কথা বলতে গিয়ে এই ব্যাখ্যা করেছিলেন।
উত্তরপ্রদেশে চার কোটি মুসলিম রয়েছে এবং তারা রাজ্যের মোট জনসংখ্যার ১৯ শতাংশ।
বিষয়টা এমন নয় যে বিজেপি এর অতীতে কখনও মুসলিম প্রার্থীদের ভোটের টিকিট দেয়নি। কিন্তু গেরুয়া শিবিরে নির্বাচনি টিকিট পাওয়া মুসলিম প্রার্থীর সংখ্যা ক্রমশ কমতে কমতে শূন্যতে গিয়ে ঠেকেছে।
২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি সাতজন মুসলিম প্রার্থী দাঁড় করিয়েছিল। ২০১৯ সালে ছয়জন মুসলিম প্রার্থীকে টিকিট দিয়েছিল বিজেপি।
তবে ২০১৪ ও ২০১৯ সালে বিজেপির একজন মুসলিম প্রার্থীও নির্বাচনে জয়ী হতে পারেননি। এবারের লোকসভা ভোটে বিজেপি একজন মুসলিম প্রার্থীকেই টিকিট দিয়েছিল।
বিজেপির টিকিটে ভোটেব লড়ে লোকসভায় পৌঁছানো শেষ মুসলিম সাংসদ ছিলেন শাহনওয়াজ হুসেন। ২০০৯ সালে ভোটে জিতেছিলেন তিনি।
শাহনওয়াজ হুসেন মনে করেন হাতে গোনা কয়েকজন মুসলিম প্রার্থীকে ভোটে টিকিট দেওয়া হলেও যারা নির্বাচনে জিতেছেন তাদের নিশ্চিত করা উচিত যে সমস্ত স¤প্রদায়ের উন্নয়নের ক্ষেত্রে যেন কোনোভাবেই বৈষম্য মূলক পদক্ষেপ না নেওয়া হয়।
বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিজেপি মুখপাত্র ও রাজ্যসভার সাবেক সংসদ সদস্য জাফর ইসলাম বলেন, ‘কংগ্রেস ও অন্যান্য বিরোধী দলগুলো বিজেপিকে হারাতে এবং তাদের উদ্দেশ্য হাসিল করার জন্য মুসলিমদের ব্যবহার করছে।’
এই প্রসঙ্গে তার পালটা যুক্তি, ‘কোনো দল যদি কোনো মুসলিম প্রার্থীকে টিকিট দেয় এবং মুসলিমরা যদি তাকে ভোট না দেন, তাহলে কোনো দল তাদের টিকিট দেবে?’
ভারতের ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যাবে মুসলিম জনসংখ্যার নিরিখে সংসদে কিন্তু মুসলমানদের প্রতিনিধিত্ব ছিল না। নির্বাচনে মুসলিম প্রার্থীর সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে হ্রাস পেলেও সংসদে মুসলিম প্রতিনিধিত্ব পাঁচ শতাংশের আশেপাশে ঘোরাফেরা করছে।
পরিসংখ্যান বলছে ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে মুসলিম প্রার্থী ছিলেন ১১৫ জন, ২০২৪ সালে সেই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৭৮।
অন্যান্য সংখ্যালঘু: শুধু মুসলমানরাই নয়, এনডিএ জোটের ২৯৩ জন সাংসদের মধ্যে একজনও শিখ বা খ্রিস্টান সাংসদ নেই, যারা এবার লোকসভা ভোটে জিতেছেন।
তবে মোদি সরকার তাদের মন্ত্রিসভায় একজন খ্রিস্টান মন্ত্রী এবং দুজন শিখ মন্ত্রীকে জায়গা দিয়েছে।
সাংসদ জর্জ কুরিয়েন নবনির্বাচিত মন্ত্রিপরিষদের খ্রিস্টান মন্ত্রী। হরদীপ সিং পুরী এবং রভনীত সিং বিট্টু শিখ স¤প্রদায়ের।
প্রসঙ্গত, রভনীত সিং বিট্টু কিন্তু বর্তমানে লোকসভা বা রাজ্যসভার সদস্য নন। এবার লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি বিট্টুকে টিকিট দিলেও তিনি ভোটে হেরে যান।
এবারের মন্ত্রিসভায় সমাজের অন্যান্য বঞ্চিত গোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের সামিল করা হয়েছে। ইংরেজি সংবাদমাধ্যম দ্য প্রিন্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মোদি সরকারের তৃতীয় দফায় মন্ত্রিসভায় ১০ জন দলিত, ২৭ জন অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি এবং পাঁচজন ধর্মীয় সংখ্যালঘু সাংসদ রয়েছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতামত: জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর পলিটিক্যাল স্টাডিজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক জোয়া হাসান বলেন, ‘মন্ত্রিসভায় মুসলিম না থাকাটা আশ্চর্যের কিছু নয়।’
তিনি বলেন, ‘মন্ত্রিসভা যখন জাতি ও স¤প্রদায়ের ব্যাপক প্রতিনিধিত্ব দাবি করে, তখন বিজেপির পক্ষ থেকে একজন মুসলিম মন্ত্রীকেও অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে অনীহা তাদের (বিজেপির) কোনো একটি স¤প্রদায়কে ক্ষমতার বাইরে রাখার রাজনীতিকে প্রতিফলিত করে।’
তার মতে, ‘মুসলমানদের নামমাত্র প্রতিনিধিত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসা মুসলমানদের প্রান্তিককরণের বৃহত্তর প্যাটার্নকে ইঙ্গিত করে।’
জোয়া হাসান বলেন, ‘এটা কিন্তু গণতান্ত্রিক প্রতিনিধিত্বের নীতিকে দুর্বল করে তোলে যে নীতির আওতায় যার অধীনে সমস্ত স¤প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হয়ে থাকে তা তারা যাকেই ভোট দিয়ে থাকুন না কেন। সংসদ ও আইনসভায় প্রত্যেকটা স¤প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা গণতন্ত্রের জন্য অপরিহার্য। সর্বোচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া থেকে কোনো স¤প্রদায়কে বাদ দেওয়াটা অগণতান্ত্রিক।’
জোয়া হাসান বলছেন, ‘এটা আগামী দিনে গণতন্ত্রকে দুর্বল করবে।’
বিজেপির ইস্তাহারে বেশ কিছু বিষয়ে নীতি পরিবর্তনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। যেমন অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা ইউনিফর্ম সিভিল কোড যা মুসলিম স¤প্রদায়ের উপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের আমহার্স্ট কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ভিজিটিং অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর এবং দিল্লির সেন্টার ফর পলিসি রিসার্চের সিনিয়র ফেলো গিলেস ভার্নিয়ার্স বলছেন, ‘মুসলিমদের বাদ দেওয়ার ব্যাপারে বিজেপির মনোভাব বদলায়নি। এনডিএ শরিকদের মধ্যে মুসলিমদের অনুপস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে মুসলিমদের বাদ দেওয়াটা এখন দলের সর্বত্র একটা গ্রহণযোগ্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
এ প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে অন্য একটি বিষয়েও উল্লেখ করেছেন তিনি।
গিলেস ভার্নিয়ার্স বলেন, ‘এমনকি কংগ্রেসও খুব বেশি মুসলিম প্রার্থী টিকিট দেয়নি। ২০১৪ সালে দলে মুসলমানদের প্রতিনিধিত্বও হ্রাস পেয়েছে। এর ফলে জনজীবনে মুসলমানদের ভূমিকা হ্রাস করার প্রক্রিয়া আরও দ্রæততা পেয়েছে।’
‘ইন্ডিয়া জোটের তুলনামূলক সাফল্যও অন্তর্ভুক্তিমূলক রণকৌশলের একটা ঝুঁকির সৃষ্টি করে যেখানে হিন্দুদের অগ্রাধিকার দেওয়া এবং মুসলমানদের প্রান্তিক করা হয়।’
ইংরেজি সংবাদপত্র হিন্দুস্তান টাইমসের একটি প্রতিবেদন অনুসারে, এনডিএ-র প্রায় ৩৩ শতাংশ সংসদ সদস্য অগ্রসর জাতির, ১৬ শতাংশ সংসদ সদস্য জাঠ ও মারাঠার মতো মধ্যম বর্ণের এবং প্রায় ২৬ শতাংশ সংসদ সদস্য অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। এনডিএ সংসদ সদস্যদের প্রায় ১৩ শতাংশ তফসিলি জাতি থেকে এবং প্রায় ১১ শতাংশ তফসিলি উপজাতির অন্তর্গত।
তুলনামূলকভাবে, বিরোধী জোট ইন্ডিয়ার প্রায় ১২-১২ শতাংশ সংসদ সদস্য অগ্রসর ও মধ্যম বর্ণের, প্রায় ৩০ শতাংশ অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি, প্রায় ১৭ শতাংশ তফসিলি জাতি থেকে এবং প্রায় ১০ শতাংশ তফসিলি উপজাতির অন্তর্ভুক্ত।
বাংলাদেশের বিপক্ষে হেরে যা বললেন ডাচ অধিনায়ক
এই ম্যাচ আগেও বাংলাদেশের সমান অবস্থানে ছিল নেদারল্যান্ডস। সুপার এইটের দৌড়ে দাঁড়িয়েছিল পাশাপাশি। তবে শেষ পর্যন্ত সেই দৌড়ে ডাচদের পেছনে ফেলে এগিয়ে গেছে বাংলাদেশ। ২৫ রানের জয় তুলেছে নাজমুল শান্তর দল। তাতে অনিশ্চয়তায় পড়ে গেছে স্কট এডওয়ার্ডসের দলের সুপার এইটে খেলা। কেননা, সেটি করতে এখন শ্রীলংকাকে হারাতে হবে তাদের। সঙ্গে তাকিয়ে থাকতে হবে বাংলাদেশের হারের। সেই সঙ্গে মেলাতে হবে নেট রান রেটের জটিল অংক। এতকিছু পক্ষে আসা যা বেশ কঠিনই বলা যায়। ডাচ অধিনায়কও জানালেন সে কথায়। বুঝিয়ে দিলেন তাদের স্বপ্নটা শেষ এখানেই।
বাংলাদেশের সঙ্গে ঠিক কোথায় হেরে গেল ডাচরা। বা কোথায় এগিয়ে ছিল বাংলাদেশ। এমন প্রশ্নে ম্যাচ শেষে এডওয়ার্ডস জানান, ‘আমরা তিনটি বিভাগেই তাদের কাছে হেরে গেছি। কৃতিত্বটা বাংলাদেশের, তারা দুর্দান্ত ক্রিকেট খেলেছে। আমরা জয়ের যোগ্য ছিলাম না। তারা উইকেট হাতে রেখেছিল। কারণ তারা জানত বাতাসের বিপরীতে বাউন্ডারিতে বল করা কঠিন হবে। আমরা সেটাই করতে পারেনি।’
একটা সময় পর্যন্ত বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়েই ছিল ডাচরা। মনে হচ্ছিল সহজ জয়ের পথেই রয়েছে তারা। ম্যাচে বাংলাদেশ যেখানে দলীয় শত রান পেতে লাগিয়েছে ১৪ ওভার। সেখানে সেটা ৪ বল আগেই ছুঁয়েছে ডাচরা। এরপরও শেষ পর্যন্ত ২৫ রানের বড় ব্যবধানে হারতে হয়েছে তাদের। আর এর দায়টা যে ব্যাটারদের সেটা জানিয়েছেন এডওয়ার্ডস। তবে তাদের ভালোই জানা ছিল ডেথ বোলিংয়ে ভয়ঙ্কর হবে বাংলাদেশ।
পিএনজিকে হারিয়ে সুপার এইটে আফগানিস্তান, নিউজিল্যান্ডের বিদায়
গ্রুপ ‘সি’ থেকে সবশেষ ম্যাচেই সুপার এইট নিশ্চিত করে ফেলেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এবার এই গ্রুপ থেকে দ্বিতীয় দল হিসেবে সুপার এইট নিশ্চিত করে ফেলেছে আফগানিস্তানও। তাতে দুই ম্যাচ হাতে থাকলেও বিদায় নিশ্চিত হয়ে গেছে নিউজিল্যান্ডের। সুপার এইট নিশ্চিতের ম্যাচে পাপুয়া নিউ গিনির বিপক্ষে ৭ উইকেটে বড় জয় পেয়েছে আফগানিস্তান।
সুপার এইটের সমীকরণটা নিউজিল্যান্ডকে হারিয়েই সহজ করে ফেলেছিল আফগানরা। সেটা তৃতীয় ম্যাচেই এসে এবার সুপার এইটের টিকিট নিজেদের করে নিয়েছে রশিদ খানের দল। পিএনজিকে ৯৫ রানে আটকে দিয়ে আফগানরা ম্যাচে জয় তুলেছে হেসেখেলে।
যদিও এদিন শুরুতেই হোঁচট খেতে হয়েছে আফগানদের। দারুণ ছন্দে থাকা ইব্রাহিম জাদরান ৭ বল খেলেও শেষ পর্যন্ত ফিরেছেন কোনো রান না করেই। এরপর আরেক ওপেনার রহমানুল্লাহ গুরবাজ ফিরে যান ১১ রান করে। তাতে খানিকটা ধাক্কা খায় আফগানরা ঠিকই। তবে দলকে টেনে তুলেছেন গুলবাদিন নাইব। তাকে দারুণ সঙ্গ দিয়েছেন দু’দিন আগেই শীর্ষ অলরাউন্ডারের সুখবর পাওয়া মোহাম্মদ নবী। এই দু’জনের জুটিতেই সহজ জয় পায় আফগানরা। ম্যাচ জিতে ২৯ বল হাতে রেখে। নিশ্চিত করে সুপার এইট।
এর আগে, আফগান ব্যাটারদের কাজটা অবশ্য সহজ করে দিয়ে যান বোলাররই। টসে জিতে পিএনজিকে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়ে নিজেদের বোলিং শক্তি দেখানোটার সিদ্ধান্ত নেন আফগান অধিনায়ক রশিদ খান। হতাশ করেননি তার বোলাররা। দলীয় ১২ রানে অধিনায়ক আসাদ ভালা ফিরেছেন রান আউটের শিকার হয়ে।
এরপর তো নিয়মিত বিরতিতেই উইকেট পেয়েছে আফগানরা। ১২ রানে প্রথম উইকেট হারানো পিএনজি কোনো রান যোগ না করেই হারিয়েছে আরও দুই উইকেট। ফজলহক ফারুকী তোপে ইনিংসের তৃতীয় ওভারের প্রথম দুই বলে নেই দুই উইকেট।
সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেও কোনে লাভ হয়নি পিএনজির। টপ অর্ডাররা দায়িত্ব নিতে পারেনি। ৩০ রানে ৫ উইকেট নেই পিএনজির। শেষ দিকে উইকেটরক্ষক কিপলিন দরিগা ও এলেই নাও কিছুটা লড়াই করেছেন। আর তাতেই মান বেচেছে পিএনজির। আফগানদের বিপক্ষে পড়তে হয়নি লজ্জার মুখে। যদিও শেষ পর্যন্ত অলআউট হওয়া এড়াতে পারেনি পিএনজি। দরিগার ২৭ রানের সুবাদে পিএনজির ইনিংস থেমেছে ৯৫ রানে। আফগান বোলারদের মধ্যে ফজলহক ফারুকী শিকার করেছেন ৩ উইকেট। ২ উইকেট নিয়েছেন নাভীন-উল-হক।
শ্রীলংকাকে বিদায় করল বাংলাদেশ
সা¤প্রতিক সময়ে ক্রিকেটের এক অন্যতম দ্বৈরথে পরিণত হয়েছে বাংলাদেশ-শ্রীলংকা ম্যাচ। কখনো কখনো এই ম্যাচের উত্তেজনা ছাড়িয়ে যায় ভারত-পাকিস্তান ম্যাচকেও। দুই দলের ক্রিকেটারদের শরীরী ভাষা থেকে শুরু করে মাঠে একে অন্যকে এক চুল ছাড় না দেওয়ার মানসিকতা বেশ আলোড়ন ফেলে সমর্থকদের মধ্যে। সবশেষ ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি থেকে শ্রীলংকাকে বিদায় করেছিল বাংলাদেশ। সে সময় বেশ সারা ফেলেছিল টাইম আউট।
সেই লড়াইটা দেখা গেছে এই বিশ্বকাপেও। যেখানে গ্রæপপর্বে শ্রীলংকাকে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। শ্বাসরুদ্ধকর সেই ম্যাচে ১ ওভার হাতে রেখে জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। আর এবার তো ডাচদের হারিয়ে শ্রীলংকাকে বিশ্বকাপের গ্রæপপর্ব থেকেই বিদায়ই করে দিল বাংলাদেশ।
শ্রীলংকার বিদায় অবশ্য সবশেষ নেপালের বিপক্ষে ম্যাচটি পরিত্যক্ত হওয়ার পরই হয়ে গিয়েছিল। এরপরও একটা আশা ছিল যদি কোনো কারণে বাংলাদেশ-নেদারল্যান্ডস ম্যাচটিও পরিত্যক্ত হয়। আর বাংলাদেশ তাদের শেষ ম্যাচটি নেপালের বিপক্ষে হেরে বসে। সেক্ষেত্রে শেষ ম্যাচে ডাচদের হারাতে পারলেই সুপার এইটে যাওয়ার সুযোগ পেত শ্রীলংকা। তবে তাদের কল্পনায় দেখা সেই সমীকরণটা বাস্তবে মেলেনি।
ম্যাচের আগে হঠাৎ বৃষ্টিতে যেই আশার স্বপ্ন বুনেছিল শ্রীলংকা তা মিলিয়ে যেতে খুব বেশি সময় লাগেনি। এরপর তো পুরো ম্যাচটাই মাঠে গড়িয়েছে। আর তাতে ২৫ রানে জিতে বাংলাদেশ এক পা দিয়ে রেখেছে সুপার এইটে। যা শেষ পর্যন্ত শ্রীলংকার বিদায় নিশ্চিত করেছে এই টুর্নামেন্ট থেকে। কেননা, ৩ ম্যাচ শেষে এখন পর্যন্ত মাত্র ১ পয়েন্ট তাদের দখলে। শেষ ম্যাচে জিতলেও তাদের পয়েন্ট হবে ৩। আর বাংলাদেশ এরইমধ্যে ৪ পয়েন্ট অর্জন করে ফেলেছে। আর দক্ষিণ আফ্রিকা তো সুপার এইটেই চলে গেছে। কাজেই বাংলাদেশ-নেদারল্যান্ডস ম্যাচেই থেমে গেল সাবেক বিশ্বকাপ জয়ীদের বিশ্বকাপ যাত্রা।
যা নিয়ে এডওয়ার্ডস বলেন, ‘আমরা জানতাম ডেথে তাদের ভালো বোলার আছে। তাই মধ্যম ওভারগুলিকে সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে চেয়েছিলাম আমরা। তখন এঙ্গেলব্রেখটও উইকেটে ছিল। কিন্তু হঠাৎই দ্রæত উইকেট পড়ে গিয়েছিল। আরিয়ান গত কয়েক বছর ধরেই বেশ চমকপ্রদ ক্রিকেট খেলছে এবং কন্ডিশনকে ভালোভাবে ব্যবহার করেছে।’
সুপার এইটে খেলার স্বপ্ন এখনও দেখে কিনা ডাচরা এমন প্রশ্নে এডওয়ার্ডস বলেন, ‘এটা এখন আমাদের হাতের বাইরে চলে গেছে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আমরা ভাল খেলতে চাই। সেখান থেকে কীভাবে টুর্নামেন্ট সামনে আগায় সেটা দেখতে চাই।’
কেরালার বিশ্ববিদ্যালয়ে কনসার্টের অনুমতি মেলেনি সানি লিওনের
আগামী ৫ জুলাই তিরুবনন্তপুরমের ইউনিভার্সিটি কলেজ অফ ইঞ্জিনিয়ারিং ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণ পেয়েছিলেন আলোচিত বলিউড নায়িকা সানি লিওন। এই সংবাদ ছড়িয়ে যাওয়ার পর সেই অনুষ্ঠানে সানি লিওনকে অনুমতি দেবে না বলে জানিয়ে দিয়েছেন কেরালা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মোহানান কুন্নুম্মল। যার কারণে আপাতত অনুষ্ঠানটি বাতিল করা হয়েছে। খবর বলিউড বাবলের।
জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য রেজিস্ট্রারকে নির্দেশ দিয়েছেন যে, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে কখনই অনুষ্ঠানের তালিকায় সানি লিওনের শো রাখা যাবে না।
সূত্রের বরাতে জানা যায়, কলেজ ইউনিয়নও এর আগে উপাচার্যের কাছ থেকে অনুষ্ঠানের অনুমতি নিতে ব্যর্থ হয়েছিল।
গত বছর নভেম্বর মাসে কেরালার এর্নাকুলাম জেলায় ইউনিভার্সিটি অফ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিতে একটি কনসার্টে পদদলিত হয়ে ৬০ জনেরও বেশি শিক্ষার্থী আহত হয়। যার মধ্যে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে নিলে ৪ জনের মৃত্যু হয়।
কোচিনের এই ঘটনার পর থেকেই কেরালায় সরকারিভাবে বাইরে থেকে শিল্পী নিয়ে এসে ডিজে পার্টি, মিউজিক নাইট ইত্যাদি আয়োজন করা নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়েছে। সেবারে কোচিন বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষ্ঠানে গান গাইতে এসেছিলেন নিকিতা গান্ধী।
সূত্রের মাধ্যমে জানা যায়, যাদের কাছে অনুষ্ঠানে প্রবেশের টিকিট ছিল তাদেরকেও ভিতরে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে হঠাৎ করে বৃষ্টি চলে আসলে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় পরিস্থিতি। এসময় বাইরে অপেক্ষারত সবাই বাধা না মেলে অডিটোরিয়ামের ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করে আর তখনই পদপিষ্ট হয়ে মারা যান ৪ জন।
কুসাটের ইভেন্টে পদদলিতজনিত মৃত্যুর প্রতিক্রিয়া হিসাবে, রাজ্য সরকার ক্যাম্পাসে বহিরাগত ডিজে পার্টি এবং গাসেন অনুষ্ঠান নিষিদ্ধ করে।
উপচার্য ড. মোহানান কুন্নুম্মল জোর দিয়ে বলেন, এই নির্দেশ সত্তে¡ও বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ইউনিয়ন যথাযথ অনুমোদন ছাড়াই একটি নাচের অনুষ্ঠান আয়োজন করার চেষ্টা করেছিল। এ জাতীয় অনুষ্ঠানগুলো কোনো অবস্থাতেই ইউনিয়নের নামে ক্যাম্পাসের বাইরে বা বাইরে অনুমতি দেওয়া হবে না।
স¤প্রতি সানি লিওনি একটি মালয়ালম ছবির জন্য শ্যুটিং শুরু করেছেন। নিজের ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইলে এই ছবির শ্যুটিং শুরুর শুভ মহরতের ছবিও শেয়ার করেছিলেন সানি লিওন। সেই ছবিতে দেখা যায় একটা অজানা জায়গায় অজানা নামের সেই মালয়ালম ছবির শুভ মহরতে পুজো করছেন সানি লিওনি। ‘কোটেশন গ্যাং’ নামের একটি ছবিতে সানি লিওন স¤প্রতি অভিনয় করছেন বলে জানা যায়।
বলিউডি চলচ্চিত্র দুনিয়ায় এর আগে ‘জিসম ২, জ্যাকপট, শুটআউট অ্যাট ওয়াডালা, রাগিণী এমএমএস ২ ইত্যাদি ছবিতে অভিনয় করতে দেখা গিয়েছে তাকে। স¤প্রতি গত বছর অনুরাগ কাশ্যপের পরিচালনায় ‘কেনেডি’ ছবিতে রাহুল ভট্ট এবং অভিলাষ থাপলিয়ালের বিপরীতে তাকে অভিনয় করতে দেখা যায়।


