Home Blog Page 614

আগামী নির্বাচন একটি চ্যালেঞ্জ : প্রধানমন্ত্রী

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার দলের নেতাকর্মীদের আগামী জাতীয় নির্বাচনের জন্য যথাযথ প্রস্তুতি নেয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, বহুমুখী ষড়যন্ত্রের কারণে নির্বাচনটি একটি চ্যালেঞ্জ হবে।

তিনি সোমবার (৫ জুন) গণভবনে আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সাথে মতবিনিময়কালে বলেন, ‘আগামী নির্বাচন একটি চ্যালেঞ্জ, কারণ বিভিন্ন মহলের ষড়যন্ত্র রয়েছে।’

শেখ হাসিনা বলেন, যখনই দেশের মানুষের জীবনযাত্রার কিছুটা উন্নতি হয়, তখনই বাংলাদেশে কিছু কুলাঙ্গার আছে, যারা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কথা বলে এবং সর্বত্র মিথ্যাচার করে।

তিনি বলেন, কিছু মানুষ আন্তর্জাতিক অনুদান পাওয়ার জন্য বিদেশীদের সামনে বাংলাদেশ সম্পর্কে ভুল ধারণা তৈরি করে।

তিনি আরো বলেন, যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না, মুক্তিযুদ্ধের সময় লুণ্ঠন, ধর্ষণ ও দমন-পীড়নসহ গণহত্যা ও অন্যান্য অপরাধ করেছে এবং এখন তাদের প্রজন্ম নিরলসভাবে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অপগ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে।

ভোট কারচুপি বিএনপির অভ্যাস উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভোট কারচুপি ও গণতন্ত্র ছিনতাইয়ের রেকর্ড তাদের আছে। ‘তবে, আমরা এখন তাদের কাছ থেকে গণতন্ত্রের ছবক শুনছি।’

তিনি বলেন, ‘এখন সামরিক স্বৈরশাসকের হাতে গঠিত দলের কাছ থেকে আমাদের গণতন্ত্রের ছবক শুনতে হয়। ভোট চুরি করা তাদের অভ্যাস। তাহলে চোরদের কাছ থেকে বাংলাদেশের মানুষ কি শিখবে?’

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী তার দলের নেতাকর্মীদের দলকে আরো শক্তিশালী করতে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আমাদের দল যথেষ্ট শক্তিশালী। দল যেন আরও শক্তিশালী হয়, আমাদের সেই পদক্ষেপ নিতে হবে।’

বাংলাদেশের উন্নয়নের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ২০০৮ সালের সাধারণ নির্বাচনের পর তার দল টানা ১৪ বছর ক্ষমতায় থাকায় এবং দেশে স্থিতিশীল গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখায় এই উন্নয়ন সম্ভব হয়েছে।

বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশকে বদলে দিতে চেয়েছিলাম। আজ আমরা সফলভাবে পরিবর্তন করতে পেরেছি।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের সবচেয়ে বড় অর্জন গ্রামীণ এলাকায় দারিদ্র্যের হার কমেছে। ঢাকা শহরে দারিদ্র্যের হার বেশি হলেও গ্রামাঞ্চলে কম। কেউ অতীতে এটি ভাবতে পারেনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার প্রতিটি ঘরে বিদ্যুৎ দেয়ার অঙ্গীকার রক্ষা করেছে, কিন্তু ইউক্রেন যুদ্ধের পর বিশ্বব্যাপী পণ্যের দাম, পরিবহন খরচ, গ্যাস, জ্বালানি ও কয়লার দাম বেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশকে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।

তিনি বলেন, বৈদেশিক ঋণের সুদের হার বাড়ানো হয়েছে, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্র্রার রিজার্ভের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে।’ তবে, এখনো পাঁচ মাসের জন্য খাদ্য সংগ্রহের জন্য যথেষ্ট রিজার্ভ মজুদ রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি রফতানির জন্য কৃষি উৎপাদন বাড়াতে দেশের কোনো জমি অনাবাদি না রেখে সর্বত্র আবাদ করার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, সারা বিশ্বে এবং বাংলাদেশেও খাদ্যের দাম বেড়েছে। প্রকৃতপক্ষে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কারণে জনগণের কষ্ট হচ্ছে। তবে, পণ্য পাওয়া যাচ্ছে (বাজারে) এবং কোনো জিনিসেরই অভাব নেই বলে উল্লেখ করেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশে এবারো ধান ও অন্যান্য ফসলের ফলন ভালো হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার সম্প্রতি ৭৬১,৭৮৫ কোটি টাকার বৃহত্তম জাতীয় বাজেটের রেকর্ড করেছে। তিনি বলেন, অতীতে এত বড় বাজেট কেউ দিতে পারেনি এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এই কঠিন সময়ে সরকার এত বড় বাজেট দিতে পেরেছে।

তিনি বলেন, বাজেটে বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় সুবিধাভোগীর সংখ্যা এবং ভাতার আকার উভয়ই বাড়ানো হয়েছে।

তিনি বলেন, এছাড়া সরকার একটি কার্ড সিস্টেমের ব্যবস্থা করেছে যাতে নিম্ন আয়ের লোকেরা তাদের ভোগান্তি লাঘব করতে ভর্তুকি মূল্যে চাল, ডাল ও ভোজ্যতেলসহ কিছু প্রয়োজনীয় পণ্য ক্রয় করতে পারে।

সূত্র : বাসস

পুরো বাজেটই গরিবের জন্য উপহার : অর্থমন্ত্রী

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, পুরো বাজেটই গরিব মানুষের জন্য উপহার। এ দেশে অনেক মধ্য আয়ের মানুষ আছে, সময় এসেছে তাদের ট্যাক্স পেমেন্ট করতে হবে। যারা আয় করেন ট্যাক্স দেয়ার সক্ষমতা আছে তাদের ট্যাক্স দিতে হবে।

শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, বাজেটে যেসব কমিটমেন্ট বা অঙ্গীকার দিয়েছি, সবগুলো পূরণ করেছি। দুই কোটি ৪৫ লাখ চাকরির ব্যবস্থা করেছি। ধীরে ধীরে কর্মসংস্থান বাড়ছে। কর্মসংস্থানের জন্য নানা ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছি।

অর্থমন্ত্রী এ সময় বলেন, আমরা এখানে যারা উপস্থিত হয়েছি প্রত্যেকের দেশপ্রেম আছে। দেশপ্রেম আছে বলেই আমরা বারবার বিজয়ী হয়েছি। আমরা ফেল করি না।

তিনি বলেন, এ দেশের সব কিছুর মূলে হলো মানুষ।

তাদের কর্মদক্ষতা, দেশের প্রতি তাদের মায়া-মমতা, দায়বদ্ধতা অসাধারণ এক উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। আমার বিশ্বাস আমরা পরাজিত হব না, বিজয়ী হবোই হব।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত আছেন কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক, পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলাম, শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি, শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন, প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা মসিউর রহমান, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী শামসুল আলম, মন্ত্রিপরিষদসচিব মো: মাহবুব হোসেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার, অর্থ বিভাগের সচিব ফাতিমা ইয়াসমিন এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব শরিফা প্রমুখ।

নিউইয়র্কে বইমেলা সাকার্সের নতুন কমিটি

অনিন্দ ইসলাম : নিউইয়র্কে কথিত বইমেলার এবার ৩২ বছর। ঢাকার মুক্তধারার আপত্তির পর নিউইয়র্কে কর্ণধার বিশ্বজিৎ সাহা নাম পরিবর্তন করে মুক্তধারা ফাউন্ডেশন বানায় মামলা মকদ্দমার পর। নিউ ইয়র্কের মুক্তধারা নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ পাল্টা অভিযোগ নতুন নয়। একাধিক মামলায় বিশ্বজিৎ সাহাকে হিমশিম খেতে হয়েছে।
এ সপ্তাহেই আগামী ১৪ থেকে ১৭ জুলাই অনুষ্ঠিতব্য বইমেলার নতুন কমিটির ঘোষণা এলো। ৩২ বছর ধরে নিউইয়র্ক বাংলাদেশী কমিউনিটি দেখছে একটি ১০/১৫ জনের সিন্ডিকেট এই কথিত বইমেলা নিয়ন্ত্রণ করছে। প্রতি বছরের কমিটিতে চক্রাকারে নাম আসে শুধু সন তারিখ ভিন্ন। এই চক্র মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ধারক-বাহক বলে খ্যাত। প্রবাসে বাঙলা সাহিত্য সংস্কৃতি ও দেশের একুশের পদক-বাংলা একাডেমি,স্বাধীনতা পুরস্কার এসব যোগ্যব্যক্তিরা নিয়ন্ত্রণ করে বলে জনশ্রæতি মেলে।
সম্প্রতি প্রকাশিত মুক্তধারা বইমেলার ৩১ সদস্যের নতুন কার্যকরী কমিটির চেয়ারপার্সন ড. নূরুন নবী, আহŸায়ক ড. আবদুর নূর, কো-চেয়ারপার্সন নিনি ওয়াহেদ, হাসান ফেরদৌস, ড. নজরুল ইসলাম, সউদ চৌধুরী এবং সহ সাধারণ সম্পাদক ফাহিম রেজা নূর, কোষাধ্যক্ষ সাবিনা হাই উরবি, প্রকাশনা সম্পাদক আদনান সৈয়দ। প্রচার সম্পাদক তোফাজ্জল লিটন এবং প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক মুরাদ আকাশ।
হায়রে কপাল! নিউইয়র্ক প্রবাসী বাংলাদেশী ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নছিব খারাপ। উপরে নামের তালিকায় একজন ধর্মীয় সংখ্যালগুর নাম নেই। মুক্তধারা কর্তৃপক্ষ একজন হিন্দু যোগ্যব্যক্তিও খোঁজে পেলেন না ?
পরিসংখ্যান বলে এই নিউইয়র্কে বাংলাদেশী প্রবাসীদের সংখ্যা প্রায় হাফ মিলিয়ন। হিন্দু বৌদ্ধ খৃষ্টান মিলে ৩০ হাজারের উপর। জ্ঞান, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও মেধায় অগ্রগামী অনেক পেশাদার হিন্দু সম্প্রদায়ের বসবাস এই শহরে। আর বই মেলার মুক্তধারা সিন্ডিকেট কাউকে খোঁজে পায়নি!
প্রতিবছর বই মেলায় গিয়ে দেখা যায়Ñ দর্শকের অধিকাংশ ধর্মীয় সংখ্যালগুদের! দেশে কমতে কমতে ধর্মীয় সংখ্যালগু সম্প্রদায় ৯% এ ঠেকলেও মুক্তধারার বই মেলায় এই সংখ্যা ৬০% ভাগের বেশি। কিন্তু কর্তৃপক্ষের লিষ্ট-এ ওরা হিসেবেই নেই!
বিষয়টি আরও খোলে বললে দাঁড়ায় আজকাল শাড়ী পরে বঙ্গললনার পদচারণা কম, কপালের টিপ তো দৌড়ে পালাচ্ছে, হিজাবের প্রতিযোগিতায় শাড়ী টিপ বিলুপ্তির পথে। হিজাব, হালাল আর শরীয়ত আমাদের সংস্কৃতিকে গ্রাস করছে। শাড়ী আর টিপ কেবল ধর্মীয় সংখ্যালগু রমণীদেরই দেখা যায়। এক দু’জন মুসলিম রমণীর শাড়ী পড়া আর কপালে টিপে কিছু আসে যায় না।
নিউইয়র্কের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে চোখ মেলে তাকালে বিষয় আরও স্পষ্ট হবে। সম্প্রতি ঘটনাই বলি বাংলা নববর্ষ নিয়ে কত লঙ্কাকাÐ ঘটে গেলো। যেখানেও হিন্দুদের ভিড়, রবীন্দ্র উৎসব, বাউল উৎসব, আনন্দ ধ্বনি, প্রকৃতি সব মঞ্চে ও দর্শকসারিতে সেই হিন্দু সম্প্রদায়।
নিউইয়র্কে সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান বিপা থেকে শুরু করে উদীচী, সবখানে মুসলিম সঙ্গীত ও নৃত্য শিল্পী কমছে এর কারণ কী? উদীচীতো প্রায় গুটিয়ে গেছে। প্রবাসে ধর্মীয় সংখ্যালগু সম্প্রদায় বাংলা সংস্কৃতি বাঁচিয়ে রাখছে বল্লে কী ভুল হবে?
মুক্তধারার এই নতুন কমিটিতে এমন সব কথিত মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ধারক বাহক আছে যাঁরা দিনে মুক্তিযুদ্ধ আর রাতে ধর্মযুদ্ধ নিয়ে ব্যস্ত। ওদের ক’জন আবার পবিত্র হজ্বব্রত পালন করে এসে হাজী হয়েছেন। ওরাই আবার অসাম্প্রদায়িক এবং ধর্মকর্ম করি না বলে হিন্দু বন্ধুদের কাছে দাবি করে! আসলে ওরা ভÐ ও ধান্দাবাজ। মুখোশ পরা এসব ধান্ধাবাজরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার লিজ নিয়েছে এটাই জাতির বড় দুর্ভাগ্য। ওদের আরও একটি বড় হাতিয়ার কথায় কথায় বিএনপি-জামাত বলে যতদোষ নন্দঘোষ-এর উপর চাপানো।
এসব তথাকথিত সুশীলসমাজ মাঝে মধ্যে নিউইয়র্কে ডাইবারসিটি প্লাজায় গলায় প্লেকার্ড লাগিয়ে দাঁড়িয়ে তামাশা করে। ওদের অনেক পদবী, প্রবীণ-নবীন আরও কত কি!
মুক্তধারার বইমেলাকে আজকাল প্রবাসীরা শাড়ীর মেলা, গহনার মেলা, চটপটি খাওয়ার মেলা বা প্রকাশনা সংস্থার নামে আদম আনার মেলা বলে কটাক্ষ্য করে। মেলার অন্তরালে অনেক অনিয়ম, বাণিজ্য, তোষামোদ, সরকারী অনুদান বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে অর্থ যোগানোই এই ৩২ বছরের খেলা।
কলকাতা থেকে শিল্প সংস্কৃতি ও সাহিত্যের বিশারদ বলে কতিপয় তথাকথিত ভারতীয় সুশীলসমাজ ও বুদ্ধিজীবীদের এই মেলায় এনে মেলাকে হালাল করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় ঢাকার ধান্দাবাজ শিল্পসংস্কৃতির কথিত চেতনার সুশীলসমাজ ও বুদ্ধিজীবীরা পথপানে বসে থাকে নিউইয়র্কের মেলার দিকেÑ কবে যাবে , মিলবে গ্রীনকার্ড ! আহা কী দেখেছি মধুর হাসি!

সুনেরাহকে নিয়ে পরীমনির অভিযোগ : যা বললেন পরীর স্বামী রাজ

সম্প্রতি চিত্রনায়ক শরীফুল রাজের ফেসবুক আইডি থেকে একটি ভিডিও পোস্ট হয়। যেখানে তার সাথে দেখা যায় অভিনেত্রী সুনেরাহ বিনতে কামালকে। যাদেরকে একসাথে ‘ন ডরাই’ সিনেমায় দেখা গিয়েছিল। আর তখন থেকে তাদের বন্ধুত্বের কথাও সবার জানা।

কিন্তু রাজের আইডি থেকে দুইজনের যেই ভিডিও পোস্ট হয় সেখানে তাদের অসংলগ্ন কথোকপথনও ছিল। যা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়।

এই ঘটনার পর সুনেরাহ তার প্রোফাইলে একটি স্ট্যাটাস দেন। যেখানে রাজের স্ত্রী চিত্রনায়িকা পরীমনির বিরুদ্ধে তিনি ইঙ্গিতপূর্বক অভিযোগ লেখেন।

এই ঘটনার শুরুতে রাজ চুপ থাকলেও অবশেষে বিষয়টি নিয়ে তিনি সামনে আসেন। এই নায়ক তার ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘মানুষ প্রতি মুহূর্তে একটু একটু করে পরিণত হয়। জন্মের পর নিজের পায়ে চলতে শিখতেও কয়েক বছর লেগে যায়। আর ঠিকঠাক কথা বলা শিখতে লেগে যায় আরো কিছু বছর। কিন্তু এই বলা আর চলার যাত্রা কখনো শেষ হয় না। তবে এ যাত্রায় আমরা কিছু মানুষের সাথে পরিচিত হই, যাদের সাথে সুখ-দুঃখ, কাজের আলাপ কিংবা কাজহীন দিনের আলাপ, সুস্থতা ও পাগলামী সবকিছুই ভাগ করে নেয়া যায়। যাদের সাথে চলার বা কথা বলার বিশেষ কোনো শর্ত থাকে না। শর্ত থাকে কেবল একটাই, সেটার নাম বন্ধুত্ব।

তার নিজের সমস্যায় পড়ার কথা উল্লেখ করে লিখেন, ‘নিশ্চয়ই আপনাদের প্রত্যেকেরই এমন অনেক বন্ধু রয়েছে- যাদের সাথে আপনারা আভিধানিক শব্দে কথা বলেন না। একসাথে পথ চলার সময় ভবিষ্যৎ ভাবনা নিয়ে পথ চলেন না। যাদের সাথে অনেক বেফাঁস কথা বলেন। কারণ বন্ধুত্ব তো এমনই। লিঙ্গ, বর্ণ, বয়সসহ সব সীমারেখার ওপরে মানুষের বন্ধুত্ব। কিন্তু সমস্যা হয়, যখন কেউ অসৎ উদ্দেশে বন্ধুত্বের মতো সম্পর্কের মাঝখানে লৈঙ্গিক পরিচয়ের সীমারেখা টেনে ব্যাপারটাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে চায়। যখন কেউ বন্ধুদের মধ্যকার দ্বিধাহীন আড্ডার আলাপ টক অব দ্য টাউনে পরিণত করে। আমিও তেমনই এক সমস্যায় পড়েছি।’

রাজ আরো লিখেন ‘আমি গত কয়েকদিন ধরে সিনেমার ডাবিং নিয়ে ব্যস্ত। আমার সিনেমার কিছু গল্পের স্ক্রিপ্ট রিডিং করার কথা, এগুলো নিয়েই আমি ঠিকমতো সময় দিতে পারছি না। যখনই সময় পাচ্ছি গল্পের ভেতরে ঢুকে যাচ্ছি, তার মধ্যে হঠাৎ করে কে বা কারা এসব করে আমাকে হেনস্তার শিকার করছে, যা ভাবতেই আমি হতবাক হয়ে গেলাম। আমাকে নিয়ে শেষ যতদিন থেকে নানাবিধ সত্য-মিথ্যার মিশ্রণে ঘটনার চাউর করছে আমি তার শুরু থেকেই নীরব ছিলাম। কিন্তু নীরবতা মানেই দুর্বলতা না।’

নিজের ফেসবুক প্রোফাইল হ্যাক হওয়া প্রসঙ্গে টেনে রাজ লিখেছেন, ‘আমার ফেসবুক প্রোফাইলের পাসওয়ার্ড বা অ্যাকসেস এমন কারো কাছে আছে অথবা হ্যাক করে কেউ আমার দীর্ঘকালের বন্ধু ও সহকর্মীদের সাথের নিতান্ত বন্ধুত্বের আড্ডার ঘটনা লিক করে দেয়। যে বা যারা এ কাজ করেছে, তাদের উদ্দেশ্য ছিল আমাদের হেনস্তা করা। হয়তো তারা সফলও হয়েছে। আমি আমার তিন বন্ধু ও সহকর্মীর কাছে শর্তহীন দুঃখ প্রকাশ করছি; যারা আমার খুব ভালো বন্ধু দীর্ঘদিনের। সেই বন্ধুত্বের কোনো লিঙ্গ নেই। আমার কারণে তাদের হেনস্তার শিকার হতে হলো বলে। আমার সব শুভাকাঙ্ক্ষী, সমর্থক ও সমালোচকদের কাছেও আমি দুঃখ প্রকাশ করছি। বন্ধুদের আড্ডার ঘটনা নোংরা উদ্দেশে স্প্রেড করে মিসলিড করা হয়েছে বলে।’

শেষে তিনি লিখেন, ‘বহুবার হোঁচট খেয়েই তো হাঁটতে শিখেছি! আবারো হোঁচট খেলাম। আপনাদের দোয়া ও ভালোবাসা সাথে থাকলে নিশ্চয় আরো পরিণত হবো, শিখবো অতীতের ভুল থেকে। আমাকে আপনাদের দোয়া ও ভালোবাসায় রাখবেন। কারণ আপনাদের সমর্থন ছাড়া একজন শরিফুল রাজ কিছুই নয়। জগতের সব প্রাণি সুখী হোক। সবাইকে ভালোবাসা ও শুভকামনা।’

বর্ণবাদের বিষ বাংলাদেশ ক্রিকেটে, ব্যবস্থা নিয়েছে বিসিবি

এবার বর্ণবাদের কালো ছোঁয়া লেগেছে বাংলাদেশ ক্রিকেটে। বর্ণবিদ্বেষী ঘটনা ঘটেছে সিলেটে। গ্যালারি থেকে ভেসে আসে বর্ণবিদ্বেষী মন্তব্য। তবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডও (বিসিবি) ছেড়ে কথা বলেনি, দেখা গেছে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে।

বুধবার সিলেটে বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ ‘এ’ দলের খেলার সময় এক ঘটনা ঘটে।

সিরিজের তৃতীয় ও শেষ চার দিনের ম্যাচে বুধবার চলছিল দ্বিতীয় দিনের খেলা। প্রথম ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ‘এ’ দলের করা ৪৪৫ রানের বিপরীতে প্রথম ইনিংসে তখন ব্যাট করছিল বাংলাদেশ। এমন সময় গ্যালারি থেকে একাধিকবার উড়ে আসে বর্ণবিদ্বেষী মন্তব্য।

মন্তব্যকারীকে খুঁজে পেতে অবশ্য বেগ পেতে হয়নি। সাধারণত টেস্ট ম্যাচে এমনিতেই দর্শক থাকে সীমিত। ‘এ’ দলের খেলায় তা হয়ে থাকে আরো কম। তার ওপর তপ্ত রোদ আর ব্যাট হাতে টাইগারদের বেহাল দশা, স্টেডিয়ামে তাই দর্শক সংখ্যা হাতেগোনা।

বাজে মন্তব্য প্রথমবার এড়িয়ে গেলেও দ্বিতীয়বার ম্যাচ আম্পায়ারের কাছে অভিযোগ করেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ ‘এ’ দলের অধিনায়ক। আম্পায়ারও দ্রুত খবর পাঠায় ম্যাচ রেফারির কাছে। সেখান থেকে নিরাপত্তা কর্মীদের জানানো হলে দ্রুত খুঁজে বের করা হয় মন্তব্যকারীকে।

অপরাধীকে নিরাপত্তা কর্মীরা নিজেদের জিম্মায় নিয়ে নেয়। এর পরের কথা অবশ্য আর জানা যায়নি। এ ঘটনা বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য কলঙ্কজনক।

তবে দ্রুত অপরাধীকে শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেয়ায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ধন্যবাদ প্রাপ্য।

মির্জা ফখরুলের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ ওবায়দুল কাদেরের

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, দেশের সর্বোচ্চ আদালতের রায়কে ফরমায়েশি বলে বিএনপি মহাসচিবের বক্তব্য দেশের আইন ও পবিত্র আদালত অবমাননার শামিল।

বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি একথা বলেন। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের দায়িত্বহীন বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদে এই বিবৃতি দেয়া হয়।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘দুর্নীতির মামলায় ইতোপূর্বে বিএনপির দুই নেতাকে নিম্ন আদালতের দেয়া সাজা বহাল রেখে দেশের উচ্চ আদালত যে রায় দিয়েছে, সে সম্পর্কে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য দেশবাসীকে হতাশ করেছে।’

তিনি বলেন, ‘দেশের সর্বোচ্চ আদালতের রায়কে ‘ফরমায়েশি রায়’ বলে মির্জা ফখরুল যে বক্তব্য দিয়েছেন তা দেশের আইন ও পবিত্র আদালত অবমাননার শামিল। বিএনপির এই দুই নেতার আজকের পরিণতি তাদের ধারাবাহিক অপরাজনীতিরই ফসল।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোট শাসনমালে হাওয়া ভবন খুলে তারা দুর্নীতি ও লুটপাটের মহোৎসবে মেতে উঠেছিল, যার পরিণতিতে বাংলাদেশ দুর্নীতিতে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। সে সময় হাওয়া ভবনের কর্ণধার জিয়াপুত্র তারেক রহমানের দুর্নীতির খতিয়ান বিশ্বগণমাধ্যম ও বিশ্বখ্যাত গোপন নথি প্রকাশকারী সংস্থা উইকিলিকস-এ বিস্তারিত প্রকাশিত হয়েছে।

তিনি বলেন, সাজাপ্রাপ্ত বিএনপির দুই নেতার দুর্নীতির মামলার সাথে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের কোনো যোগসূত্র নেই। ২০০৭ সালে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে এবং তাদের অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ার পর নিম্ন আদালত শাস্তিমূলক রায় দেয়। প্রায় ১৬ বছর বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ করে আদালত তাদের সাজা দিয়েছে।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, দেশের পবিত্র সংবিধান অনুযায়ী সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। যার কারণে আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রী, এমপি ও গুরুত্বপূর্ণ নেতারাও আইন ও বিচারের মুখোমুখি হয়েছেন। এমনকি বিশ্বজিৎ হত্যাকাণ্ড এবং বুয়েটের শিক্ষার্থী আবরার হত্যা মামলায়ও ছাত্রলীগের নেতারা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ভোগ করছেন।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার বিচারব্যবস্থাকে স্বাধীন করেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় দেশের বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে আলাদা করে স্বাধীন বিচারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। বিএনপিই বিচারব্যবস্থাকে দলীয়করণ করেছিল।

ওবায়দুল কাদের বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা খুনি জিয়াউর রহমান ইনডেমনিটি অধ্যাদেশকে আইনে পরিণত করার মধ্য দিয়ে পবিত্র সংবিধানকে কলঙ্কিত করেন। মূলত জিয়াউর রহমান বাংলাদেশে বিচারহীনতার অপসংস্কৃতি চালু করে। অন্যদিকে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বিচারহীনতার সংস্কৃতির পরিবর্তে দেশে আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়।

তিনি বলেন, বিএনপি দুর্নীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে তাদের দলীয় গঠনতন্ত্র পরিবর্তন করেছে এবং দলের চিহ্নিত শীর্ষ দুর্নীতিবাজদের সুরক্ষা দিয়েছে। অনুরূপভাবে তারা বিজ্ঞ আদালতের রায়কে ‘ফরমায়েশি রায়’ বলে দেশের উচ্চ আদালত এবং পবিত্র সংবিধানকে অবমাননা করেছে।

তিনি বলেন, মার্কিন নতুন ভিসানীতি ঘোষণা করার পর বিএনপি তাদের বিদেশী প্রভুদের কাছ থেকে করুণা প্রাপ্তির আশায় সরকারের বিরুদ্ধে নানা ধরনের অপপ্রচারে লিপ্ত রয়েছে। উচ্চ আদালতের রায়কে ফরমায়েশি বলা তাদের সেই চলমান ষড়যন্ত্রেরই অংশ। এই ধরনের অপরাধের জন্য বাংলাদেশের জনগণের কাছে তাদেরকে অচিরেই জবাবদিহি করতে হবে। সূত্র : বাসস

‘কাঁটাতারের বেড়া টপকে আসা হিন্দু-মুসলিম সবাইকে ফিরে যেতে হবে’

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলের নেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, ‘যে কাঁটাতারের বেড়া ডিঙ্গিয়ে ঢুকেছ, তাকে কাঁটাতারের বেড়ার ওপারে যেতে হবে। সে হিন্দু হোক আর মুসলমান হোক।’ যদিও শুভেন্দু অধিকারী বাংলাদেশের নাম করেননি, তবে মালদা জেলার ওই জনসভায় দেয়া বক্তৃতা শুনে মনে করা হচ্ছে, তিনি বাংলাদেশ থেকে ভারতে আসা মানুষদের কথাই বোঝাচ্ছেন।

ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) এত দিন বলে এসেছে, বাংলাদেশ থেকে ভারতে আসা হিন্দুদের ‘উদ্বাস্তু’ আর মুসলমানদের ‘অনুপ্রবেশকারী’ হিসেবে চিহ্নিত করা হবে।

শুভেন্দু অধিকারীর ভাষণের পরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে যে বাংলাদেশ থেকে যেসব হিন্দুরা ভারতে গেছে, তাদেরও কি ফেরত পাঠানো হবে?

এ প্রশ্নও উঠছে যে বিজেপি কি তাহলে তাদের দীর্ঘ দিনের নীতি পরিবর্তন করল?

হিন্দুদের মনে আশঙ্কা
শুভেন্দু অধিকারীর ভাষণের ভিডিও ক্লিপটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পরে তা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে এমন এলাকায়, যেখানে বাংলাদেশ থেকে ভারতে যাওয়া অনেক মানুষ বসবাস করে।

কলকাতার কাছে এমনই একটা এলাকা যাত্রাগাছি। যেখানে ৮০-এর দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে বাংলাদেশ থেকে যাওয়া মানুষরা বাস করছে। তাদের মধ্যে হিন্দুরা বড় সংখ্যা হলেও মুসলমানরাও রয়েছে। তাদের বেশিরভাগই এখন ভারতের নাগরিকত্ব পেয়েছে এবং বিজেপি ওই অঞ্চলে যথেষ্ট সংখ্যক ভোট পায়। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও গিয়েছিলেন ওই এলাকার এক বাড়িতে দুপুরের খাবার খেতে।

ওই পাড়াতে এখন শুভেন্দু অধিকারীর ভাষণ নিয়েই আলোচনা চলছে।

বাংলাদেশের সাতক্ষীরা থেকে ১৯৮৬ সালে ওই এলাকায় যাওয়া এক বাসিন্দা নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন, ‘আমরা তো এটা নিয়েই আলোচনা করছি। সবাই দেখেছি শুভেন্দু অধিকারীর ভাষণটা। আমাদের মধ্যে একটা আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, ভাষণটা শোনার পরে যে এত বছর পরে তিল তিল করে এখানে সব গড়ে তোলার পরে যদি বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়, তাহলে আমরা কোথায় দাঁড়াব।’

তিনি আরো বলেন, কেন্দ্রের ক্ষমতাসীন দলের বড় নেতা শুভেন্দু অধিকারীর মুখ থেকে যখন এমন কথা শোনা যায়, তাহলে তো চিন্তা হয়ই।

আবার ভারত বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী এলাকার এক বাসিন্দা যিনি ৯০-এর দশকে বাংলাদেশ থেকে ভারতে গিয়ে নাগরিক হয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমার তো কোনো আশঙ্কা হচ্ছে না ওই ভাষণ দেখার পরে।’

প্রথম ব্যক্তি সরাসরি রাজনীতি না করলেও দ্বিতীয় ব্যক্তি বিজেপির সমর্থক।

তার কথায়, ‘আমার মনে হয় যে শুভেন্দু অধিকারী হয়ত আবেগের বশে বলে ফেলেছেন। কিন্তু হিন্দুদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠিয়ে দিবে, এটা হতে পারে না। বিশ্বের সব হিন্দুদের আশ্রয়স্থল এই দেশ। নাগরিকত্ব আইন বদল করেছে যারা, তাদের তাড়ানো হবে না।’

‘নীতিতে বদল হয়নি’
শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি জনসঙ্ঘ প্রতিষ্ঠা করার সময় থেকেই তাদের নীতি ছিল বাংলাদেশ, পাকিস্তান বা আফগানিস্তান থেকে যেসব হিন্দু, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ, শিখ, জৈনরা ভারতে গিয়েছে বা যেতে চায় ‘ধর্মীয় অত্যাচার’-এর কারণে, তাদের ভারতে উদ্বাস্তু বলে চিহ্নিত করা হবে এবং তাদের নাগরিকত্ব দেয়া হবে।

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির প্রধান মুখপাত্র শমিক ভট্টাচার্য বলেছেন, ‘জনসঙ্ঘের সময় থেকে এ নিয়ে আমাদের যে নীতি তাতে কোনো বদল হয়নি। যারা নিজেদের ধর্ম রক্ষার তাগিদে, সম্ভ্রম রক্ষার তাগিদে, জীবন রক্ষার তাগিদে আসতে বাধ্য হচ্ছেন, আমাদের দেশে এলে তারা নাগরিকত্ব পাবেন এবং উদ্বাস্তু হিসেবে তাদের দেখা হবে। তাদের অনুপ্রবেশকারী হিসেবে দেখা হবে না। এটা জনসঙ্ঘের সময় থেকেই নীতি ছিল, পরে যখন বিজেপি গঠিত হল, ওই মূল নীতিতে কোনো পরিবর্তন হয়নি।’

তার কথায়, ‘আমরা এই মতাদর্শগত নীতিকে কখনোই লঘু করতে দিব না। এই কারণেই সিএএ, এনআরসির কথা বলা হয়েছে। যারা একদিন ভারতকে নাপাক বলে দেশ ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন পাকিস্তান নামক একটা রাজনৈতিক মস্তিষ্ক-প্রসূত রাষ্ট্রের দাবি করে, যার জন্য মৃত্যু হয়েছিল লাখ লাখ মানুষের, তারা ভারতে এলে তো অনুপ্রবেশকারীই বলতে হবে। কারণ তাদের মসজিদে তো কেউ আগুন লাগিয়ে দেয়নি, তাদের বাড়ির মেয়েকে তুলে নিয়ে কেউ বিয়ে করছে না বা ধর্মান্তরিত করছে না।’

শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য নিয়ে শমিক ভট্টাচার্যের ব্যাখ্যা, ‘বক্তব্যটা একটু ভুলভাবে উপস্থাপিত হয়েছে বলে মনে হচ্ছে।’

‘উদ্বাস্তুরা নাগরিক নয়’
উদ্বাস্তু নেতারা বলছেন এখনো যে লাখ লাখ মানুষ, যারা ১৯৪৭ থেকে অনেক দশক ধরে ভারতে গেছেন, তাদের নাগরিকত্ব দেয়ার ব্যাপারে কেন বিজেপি কোনো স্পষ্ট নীতি নিচ্ছে না?

উদ্বাস্তু নেতা সুকৃতি রঞ্জন বিশ্বাস বলছিলেন, ‘উদ্বাস্তু প্রশ্নে বিজেপি একেক সময়ে একেকটা কথা বলে। যখন যেখানে ভোটের জন্য যেমন প্রয়োজন সেভাবেই কথা বলেন তারা। শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্যকে সেভাবেই দেখছি আমরা।’

তিনি বলেন, ‘১৯৪৭ সাল থেকে গত সাড়ে সাত দশক ধরে যারা এসে পড়েছে ভারতে, তাদের একটা বিরাট অংশ এখনো নাগরিকত্ব পায়নি। বাংলাদেশ থেকে মূলত সেদেশের সংখ্যালঘুরাই তো এসেছে, তাদের ফিরে যাওয়া সম্ভবও না। তাই আমাদের দাবি, যারা এসে গেছে তাদের সবাইকে নাগরিকত্ব দেয়া হোক। এরা বলছে সিএএ করে নাগরিকত্ব বিবে, কিন্তু সেটা যে সম্ভব নয়, তা আমরা বারবার বলেছি। তাই শুভেন্দু অধিকারীর এমন কথার বিরোধিতাই করছি আমরা।’

তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশভাগের পর থেকে প্রায় দুই কোটি মানুষ ভারতে গিয়েছে, যাদের প্রায় ৯০ ভাগ মানুষ এখনো ‘আইনত অনাগরিক’।

যদিও পূর্ব পাকিস্তান এবং বাংলাদেশ থেকে ভারতে যাওয়া উদ্বাস্তুরা নিজেরাই স্বীকার করে, তাদের প্রায় সবাই কোনো না কোনো পথে ভারতের নাগরিকত্ব ‘সংগ্রহ’ করে নিয়েছে। সূত্র : বিবিসি

নরসিংদীতে বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিবের বাড়িতে আগুন

বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব ও নরসিংদী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সাবেক সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকনের বাসভবনে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা।

বুধবার বিকেলে শহরের চিনিশপুরস্থ বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত খায়রুল কবির খোকনের বাড়িটিতে এ অগ্নিসন্ত্রাসের হয়।

জানা গেছে, বিকেল ৫টার দিকে একদল যুবক ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে খোকনের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং কেউ কিছু বুঝার আগেই হামলাকারীরা চলে যায়। স্থানীয়রা নরসিংদী ফায়ার সার্ভিসে খবর দিলে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা প্রায় ২০ মিনিট চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুনে খায়রুল কবির খোকনের দোতলা বাড়িটির দ্বিতীয় তলার আংশিক পুড়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে খোকনের বাড়ির সামনে অবস্থান নিয়েছে।

নরসিংদী সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কাশেম ভূইয়ার সাথে মোবাইল ফোনে বার বার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

উল্লেখ্য, নরসিংদী জেলা ছাত্রদলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে ২৫ মে মোটরসাইকেল শোডাউনে গুলিবিদ্ধ হয়ে পদবঞ্চিত দুই ছাত্রদল কর্মী নিহত হয়। এ ঘটনায় খোকন ও তার স্ত্রীসহ ৩০ জনের নাম উল্লেখ্য করে নরসিংদী সদর মডেল থানায় মামলা করেন নিহত ছাত্রদল নেতা সাদেকুর রহমানের বড় ভাই মো: আলতাফ হোসেন। এছাড়াও খোকন বিরোধী পদবঞ্চিত নেতাকর্মী ও হাজীপুর এলাকাবাসী রোববার সকালে খোকন ও তার স্ত্রীসহ হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে নরসিংদী প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করে এবং এছাড়া শহরের মোড়ে মোড়ে ফাঁসির দাবি জানিয়ে পোস্টার লাগানো হয়।

বিদেশীরা আমাদের প্রভু নয়, নিষেধাজ্ঞা নিয়ে আমাদের কোনো মাথাব্যথা নেই : কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, কোনো নিষেধাজ্ঞায় নির্বাচন বন্ধ হবে না। নিষেধাজ্ঞা নিয়ে আমাদের কোনো মাথাব্যথা নেই। বিদেশীরা আমাদের বন্ধু, প্রভু নয়। বিএনপি অসুস্থ রাজনীতি করে। আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধ থাকলে বিএনপির পরাজয় হবে।

আজ রোববার বিকেলে বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত দলের এক যৌথ সভায় তিনি এ কথা বলেন। আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর সাথে ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনসমূহের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের সাথে এই যৌথসভা অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় বিএনপি দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে চাইছে বলে অভিযোগ করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, বিএনপি বাংলাদেশের বারবার ক্ষতি করেছে। আর তা মেরামত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে তারা সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের ক্ষতি করতে চাইছে।’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, কেরানীগঞ্জ ও খাগড়াছড়িসহ বিভিন্ন স্থানে বিএনপি অস্থিতিশীল অবস্থা সৃষ্টি করে আওয়ামী লীগের ওপর দোষ চাপানোর নাটক করেছে। এসবের মধ্য দিয়ে তারা ভুল বার্তা দিচ্ছে। তবে নেতাকর্মীদের বলব, আপনারা শান্তভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করুন। আমরা আগ বাড়িয়ে কিছু করব না। তবে কোনো হামলা হলে ছাড় দেয়া হবে না।

ওবায়দুল বলেন, দেশের সংবিধানে যেহেতু তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ব্যাপার উল্লেখ নেই। তাই এ বিষয়ে কথা বললে বিএনপি ভিসা নীতিতে আক্রান্ত হবে। এখন যারা অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচনে বাধা হয়ে দাঁড়াবে, তাদের ব্যাপারে আমেরিকার পদক্ষেপ কী হবে, সেটা দেখার বিষয়। আওয়ামী লীগ অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন চায়। কিন্তু নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র করছে বিএনপি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, নোংরা ও নষ্ট রাজনীতি করে বিএনপি। এদের কাছে বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ নিরাপদ নয়। তাই শপথ নিতে হবে জঙ্গিবাদ, সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসের পৃষ্ঠপোষক এই অপশক্তি বিএনপিকে প্রতিহত করতে হবে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীন করেছেন শেখ হাসিনা। আমরা সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের প্রক্রিয়াতে আছি। আর বাধা দিচ্ছে বিএনপি। সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের বিপরীত পথে হাঁটছে বিএনপি। তাই ভিসা নীতির কারণে তারাই চাপে রয়েছে। বিএনপির বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে আমাদের শান্তি সমাবেশ শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজন পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।

দেশ এগিয়ে যাচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, এসবের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়ার গল্প সারা দুনিয়া থেকেই আমরা শুনছি। ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন যে আমি ও আমার পরিবার শেখ হাসিনাকে অনুসরণ করি। তিনি আমাদের কাছে অনুপ্রেরণা।

ওবায়দুল কাদেরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম ও ডা. দীপু মনি, সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, এস এম কামাল হোসেন, মির্জা আজম ও সুজিত রায় নন্দী, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক আবদুস সবুর, উপ-প্রচার সম্পাদক সৈয়দ আবদুল আউয়াল শামীম, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান, দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। সূত্র : বাসস

ভারতে গণতন্ত্রের ‘মন্দির’ উদ্বোধন করলেন মোদিই

বিতর্কের মধ্যেই দিল্লিতে ভারতের নতুন পার্লামেন্ট ভবনের উদ্বোধন হলো। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে ‘বাদ দিয়ে’ই রোববার নতুন পার্লামেন্ট ভবনের উদ্বোধন করলেন নরেন্দ্র মোদি। প্রধানমন্ত্রীর পরনে ছিল সাদা কুর্তা, সোনালি জ্যাকেট এবং তার সঙ্গে সাযুজ্য রেখে উত্তরীয়। রোববার নতুন পার্লামেন্ট ভবন উদ্বোধনের আগে ঐতিহাসিক রাজদণ্ড ‘সেঙ্গোল’-এর সামনে উপুড় হয়ে শুয়ে সাষ্টাঙ্গ প্রণাম করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। ঘটনাচক্রে, ২০১৪ সালে লোকসভা নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রী হিসাবে প্রথমবার পার্লামেন্ট ভবনে প্রবেশের আগেও সাষ্টাঙ্গ প্রণাম করেছিলেন তিনি। পরে অযোধ্যায় রামমন্দিরের শিলান্যাসের সময়েও মোদিকে সাষ্টাঙ্গ প্রণাম করতে দেখা গিয়েছিল। ভারতের প্রধানমন্ত্রীর হাতে সংসদ ভবন উদ্বোধনের এই বহর দেখে কটাক্ষ করতে ছাড়ছেন না বিরোধীরা। এই অনুষ্ঠানকে মোদির ‘রাজ্যাভিষেক’ বলে কটাক্ষ করেছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। নতুন সংসদ ভবনের সাথে কফিনের তুলনা করে বিতর্ক উস্কে দিয়েছে লালুপ্রসাদ যাদবের দল আরজেডি। পাল্টা জবাব দিয়েছে বিজেপিও।

সংসদের নতুন ভবন উদ্বোধনে রাষ্ট্রপতিকে আমন্ত্রণ না করা নিয়ে গত কয়েক দিন ধরেই বিতর্ক চলছিল জাতীয় স্তরে। মোদির হাতে নতুন সংসদ ভবন উদ্বোধনের বিরোধিতা করে এই অনুষ্ঠান বয়কট করেছে ২০টি বিরোধী দল। গত মঙ্গলবার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্র হাতে পেতেই পশ্চিমবঙ্গের শাসকদল তৃণমূল প্রথম বয়কটের সিদ্ধান্ত নেয়। এর পর একে একে কংগ্রেস আম আদমি পার্টি, ডিএমকে, আরজেডি, সমাজবাদী পার্টি অনুষ্ঠান বয়কটের ডাক দেয়। তার মধ্যেই ‘সেঙ্গোল’ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এই রাজদণ্ডকে নতুন সংসদ ভবনে স্থাপন করার মধ্যে মোদীর রাজনৈতিক ফায়দা নেয়ার চেষ্টা দেখছেন অনেকে। প্রথমত, বার বার নেহরুর কথা তুলে এবং স্বাধীনতা প্রাপ্তির রাতের বর্ণনা দিয়ে কংগ্রেসকে চাপে ফেলার কৌশল। দ্বিতীয়ত, তামিলনাড়ুর ঐতিহ্য এই রাজদণ্ডকে অনুষ্ঠানের কেন্দ্রে এনে সেই রাজ্যের শাসকদল ডিএমকে-কে কোণঠাসা করার চেষ্টা।

উল্লেখ্য, গত বুধবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সংবাদ সম্মেলনে তামিলনাড়ুর ঐতিহ্য সংবলিত এই সেঙ্গোলের ইতিহাস বর্ণনা করেন। জানান, ব্রিটিশদের কাছ থেকে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রতীক হিসাবে দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু এই সেঙ্গোল গ্রহণ করেছিলেন। পাল্টা কংগ্রেসের রাজ্যসভা এমপি জয়রাম রমেশ বলেন, সেঙ্গোলের ইতিহাস নিয়ে কেন্দ্র যা বলছে, চেন্নাইয়ের এক ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের কল্পনাপ্রসূত। তার মতে, চেন্নাইয়ে তৈরি এই রাজদণ্ডটি ১৯৪৭ সালের অগস্টে জওহরলাল নেহরুকে উপহার দেয়া হয়েছিল। তার কথায়, ‘কিন্তু লর্ড মাউন্টব্যাটেন, রাজাজি এবং নেহরু এই রাজদণ্ডকে ক্ষমতা প্রতীক হিসাবে বর্ণনা করেছেন, এমন কোনো প্রমাণ নেই।’

নতুন সংসদ ভবনের উদ্বোধন

রোববার সকালেই নয়া সংসদভবন চত্বরে পৌঁছে যান মোদি। সেখানে তার সাথে ছিলেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। পাশাপাশি বসে পুজোয় অংশ নেন দু’জনে। পুজায় সংকল্প করেন মোদি। আরতিও করেন। এর পর সামনে রাখা ‘সেঙ্গোল’ দেখে সাষ্টাঙ্গে প্রণাম করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে তার হাতে ‘সেঙ্গোল’ তুলে নাম তামিল অধিনাম পুরোহিতেরা। এর পর পুরোহিতদের দ্বারা পরিবৃত হয়েই নয়া পার্লামেন্ট ভবনের অন্দরে প্রবেশ করেন মোদি। নতুন সংসদ ভবনে লোকসভার স্পিকারের আসনের কাছেই রাখা থাকবে ‘সেঙ্গল’। সেই মতো সেখানেই সোনার রাজদণ্ডটি স্থাপন করেন মোদী। তার পর পুরোহিতদের প্রণাম সেরে বিশেষ অনুষ্ঠানে অংশ নেন। সম্মান জানানো হয় সংসদ ভবনের নির্মাণে যুক্ত থাকা কর্মীদের। গলায় পরানো হয় উত্তরীয়। এর পর বেদমন্ত্র উচ্চারণ করে শুরু হয় বিশেষ সর্বধর্ম প্রার্থনাসভা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্ব শুরু হয় দুপুর ১২টা নাগাদ। জাতীয় সঙ্গীত দিয়ে শুরু হয় সেই পর্ব। অনুষ্ঠান শেষে ৭৫ রুপির মুদ্রা ও ডাকটিকিট প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং কয়েকটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে কী বললেন প্রধানমন্ত্রী

নতুন সংসদ ভবন উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজ ভারতের জন্য একটি ঐতিহাসিক দিন। নতুন সংসদ ভবন নতুন ভারতের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। এটি গণতন্ত্রের মন্দির। ভারতীয় গণতন্ত্রের এই সোনালি মুহূর্তের জন্য আমি সকল দেশবাসীকে অভিনন্দন জানাই। আগামী দিনে এই নতুন সংসদ স্বনির্ভর ভারতের উত্থানের সাক্ষী হয়ে উঠবে। ভারত যখন এগিয়ে যায়, তখন বিশ্ব এগিয়ে যায়। সংসদের এই নতুন ভবন ভারতের উন্নয়নের সাথে সাথে বিশ্বের উন্নয়নের আহ্বান জানাবে। ভারত গণতন্ত্রের জননী। পবিত্র সেঙ্গোল আজ সংসদে স্থাপিত হয়েছে। চোল রাজবংশের সেঙ্গোল ন্যায়বিচার, ন্যায়পরায়ণতা এবং সুশাসনের প্রতীক। যখনই এই সংসদ ভবনে কার্যক্রম শুরু হবে, সেঙ্গোল আমাদের সকলকে অনুপ্রাণিত করবে।’ বিরোধীদের প্রসঙ্গে মোদি বলেন, ‘আমি নিশ্চিত, যে জনপ্রতিনিধিরা নতুন অনুপ্রেরণা নিয়ে এই সংসদে বসবেন, তাঁরা গণতন্ত্রকে নতুন দিক নির্দেশনা দেওয়ার চেষ্টা করবেন।’

পুরনো সংসদ ভবনের পাশেই নতুন ভবন তৈরি করা হয়েছে। প্রায় সাড়ে ৬৪ হাজার বর্গ মিটার জায়গার উপর গড়ে উঠেছে ত্রিভুজাকৃতি চারতলা ভবনটি। মোট তিনটি দরজা রয়েছে। এগুলোর নাম— জ্ঞানদ্বার, শক্তিদ্বার ও কর্মদ্বার। নতুন ভবনে লোকসভা, রাজ্যসভা, সেন্ট্রাল লাউঞ্জ, সংসদীয় কর্তৃপক্ষের কার্যালয়, কনস্টিটিউশন হল, গ্রন্থাগার, ডাইনিং রুম এবং থাকছে পর্যাপ্ত গাড়ি রাখার ব্যবস্থা। ভারতের জাতীয় পাখি ময়ূরের আদলে তৈরি হয়েছে লোকসভা। রাজ্যসভা তৈরি হয়েছে জাতীয় ফুল পদ্মের আদলে। দুই কক্ষ মিলিয়ে মোট ৩৫ হাজার বর্গফুট মেঝেতে যে কার্পেট বিছানো হয়েছে, তা তৈরি করেছে দেশের ১০০ বছরের পুরনো কার্পেট প্রস্তুতকারী সংস্থা ‘ওবিতি কার্পেট’, যার বর্তমান কর্ণধার বঙ্গসন্তান রুদ্র চট্টোপাধ্যায়। সংস্থাটি জানিয়েছে, এই কার্পেট তৈরিতে কাজে লাগানো হয়েছিল উত্তরপ্রদেশের ভাদোহি এবং মির্জাপুর জেলার ৯০০ শিল্পীকে। দু’টি কক্ষের জন্য ১৫০টি করে কার্পেট বোনা হয়েছে। তার পর সেই কার্পেটগুলোকে জুড়ে একটি পূর্ণ কার্পেট বানানো হয়েছে।

রুদ্র বলেন, ‘রাজ্যসভার জন্য যে কার্পেট বানানো হয়েছে, তাতে লাল আভা দেয়া হয়েছে। আর ময়ূরপুচ্ছের রঙের বিষয়টি মাথায় রেখেই লোকসভার কার্পেটের রং করা হয়েছে সবুজ।’ এ ছাড়াও দেশের বিভিন্ন রাজ্যের বিখ্যাত উপকরণ নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন সংসদ ভবন। অন্দরসজ্জাতেও রয়েছে নানা চমক। তার মধ্যে রয়েছে নাগপুরের সেগুনকাঠ থেকে শুরু করে উত্তরপ্রদেশের মির্জাপুর থেকে আনা কার্পেট! এ ছাড়াও রাজস্থানের সরমথুরা থেকে লাল এবং সাদা বেলেপাথর এনে তৈরি হয়েছে সংসদ ভবনের একাংশ। রাজ্যসভা এবং লোকসভার ‘ফলস সিলিং’ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়েছে ইস্পাতের কাঠামো, যা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল দমন এবং দিউ থেকে আনানো।

কফিন বিতর্ক

নতুন সংসদ ভবনকে কফিনের সাথে তুলনা করেছে আরজেডি। রোববার টুইটারে একটি ছবি পোস্ট করা হয় লালুর দলের তরফে। দেখা যায়, ছবিটির বাঁ দিকে একটি কফিন, ডান দিকে নতুন সংসদ ভবন। বিবরণীতে লেখা, ‘এটা কী?’ দলের নেতা শক্তিসিংহ যাদব বলেন, ‘গণতন্ত্রকে কবর দেওয়া হচ্ছে, সেটা বোঝাতেই টুইটে কফিনের ছবি দেওয়া হয়েছে। দেশ এই সংসদ ভবনকে মেনে নেবে না। সংসদ হলো গণতন্ত্রের মন্দির এবং আলোচনার পীঠস্থান।’

পাল্টা জবাব দিয়েছে বিজেপিও। সুশীল মোদি পাল্টা টুইট করে হুঁশিয়ারি দেন, ‘যারা নতুন সংসদ ভবনকে কফিনের সাথে তুলনা করছেন, তাদের বিরুদ্ধে বিশ্বাসঘাতকতার মামলা দায়ের করা হবে।’ কফিন বিতর্কে বিজেপি মুখপাত্র গৌরব ভাটিয়া আবার এক ধাপ এগিয়ে বলেন, ‘২০২৪ সালে দেশের মানুষ আপনাদের সেই কফিনেই কবর দেবে।’

অনুষ্ঠান নিয়ে বিরোধীদের কটাক্ষ

নতুন সংসদ ভবনের উদ্বোধনের অনুষ্ঠানকে মোদির ‘রাজ্যাভিষেক’ বলে কটাক্ষ করেছেন রাহুল। সংসদ ভবনের উদ্বোধন নিয়ে একটি টুইটে কংগ্রেস নেতা লিখেছেন, ‘সংসদ আসলে দেশের মানুষের গলার স্বর। প্রধানমন্ত্রী সংসদ ভবনের উদ্বোধনকে রাজ্যাভিষেক ভেবেছেন!’ সংসদ ভবনের উদ্বোধনে পুজো, যজ্ঞ এবং প্রার্থনার আয়োজন দেখে কটাক্ষ করেছেন এনসিপি প্রধান শরদ পাওয়ার। তিনি বলেন, ‘সকালের অনুষ্ঠান আমি দেখেছি। আমি যে ওখানে যাইনি, তাতে আমি খুশি। ওখানে যা যা হয়েছে, দেখে আমি চিন্তিত। আমরা কি দেশটাকে আরো পিছিয়ে দিচ্ছি?’ পাওয়ারেরও প্রশ্ন, ‘এই অনুষ্ঠান কি শুধুমাত্র কয়েক জন মানুষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ হওয়ার কথা ছিল?’ তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী পাল্টানোর রাজনীতিতে বোধহয় বেশি বিশ্বাস করেন। সংসদ ভবন না পাল্টে প্রধানমন্ত্রী নিজের দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টালে দেশের উপকার হতো। রাষ্ট্রপতিকে আমন্ত্রণ না জানানোই প্রমাণ করে, প্রধানমন্ত্রী আদিবাসী ও নারীদের সম্মান করেন না।’
সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা