Home Blog Page 613

নিরপেক্ষ সরকারের শর্তে বিএনপির সাথে কোনো আলোচনা হবে না : ওবায়দুল কাদের

নিরপেক্ষ সরকারের শর্ত নিয়ে বিএনপির সাথে কোনো আলোচনা হবে না বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘গতবারের নির্বাচনের আগের কথা আমাদের মনে আছে; একবার নয়, দুইবার তাদের সাথে সংলাপে বসেছি। রেজাল্ট কী? কোনো লাভ হয়নি। নিরপেক্ষ সরকারের শর্ত নিয়ে দলটির সাথে কোনো সংলাপ হবে না।’

বৃহস্পতিবার বিকেলে বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন। ঐতিহাসিক ছয় দফা দিবস উপলক্ষে এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞার জন্য নালিশ করতে করতে বিএনপি এখন নিজেরাই ফাঁদে পড়েছে। তারা নিজেরাই ‘ফাঁদে পড়ে কান্দে’। এখন তারা নালিশ করে নিষেধাজ্ঞার পরিবর্তে পেয়েছে ভিসানীতি।’

তিনি বলেন, এই ভিসানীতি নিয়ে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। কাকে ভিসা দেবে, কাকে দেবে না, সেটা সেই দেশের ব্যাপার। আমরাও আমাদের দেশে কাকে ভিসা দেব, কাকে দেব না, সেটাও আমাদের ব্যাপার। এ নিয়ে ভয় পাওয়ার কী আছে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, নির্বাচনে যারা বিশৃঙ্খলা করবে তাদের বিরুদ্ধে ভিসা নীতি প্রয়োগ হবে। বিশৃঙ্খলা করতে চায় কারা? তারা হলো বিএনপি। তাদের সাথে পূর্বে দুদফা সংলাপ হয়েছিল, কোনো লাভ হয়নি। নমিনেশন বাণিজ্য করার জন্যই কি তারা সংলাপ চায়? তাই তাদের সাথে সংলাপের কথা আমরা ভাবছি না।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমদ মন্নাফির সভাপতিত্বে সভায় আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীর বিক্রম ও অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সহসভাপতি নুরুল আমিন রুহুল, যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

বিএনপি মহাসচিব ফখরুল ইসলাম আলমগীগের উদ্দেশে ওবায়দুল কাদের বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা আওয়ামী লীগ নয়, তা বাতিল করেছে সর্বোচ্চ আদালত।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, সংবিধান আছে, স্বাধীন নির্বাচন কমিশন আছে, তাই নির্বাচন নিয়ে চিন্তার কারণ নেই। বিদেশি বন্ধুরা চায় সুষ্ঠু নির্বাচন, আমরা সেটাই করব। বিএনপি চায় সংসদ ভেঙে দিতে, পৃথিবীর কোথাও যা হয় না, তারা সেটাই চায়। তারা চায় সরকারের পতন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, আমাদের শপথ আবার নিতে হবে। বিএনপি ক্ষমতায় গিয়ে গণতন্ত্র গিলে খেয়েছে, নির্বাচন গিলে খেয়েছে, মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধ গিলে খেয়েছে। এদের হাতে দেশ নিরাপদ নয়। বিএনপি ক্ষমতা ফিরে পেলে গোটা দেশ গিলে খাবে।

মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেন, সুষ্ঠু অবাধ নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনে রক্ত দেব। এ দেশে সংবিধান মেনেই নির্বাচন হবে, কেউ তা বানচাল করতে পারবে না।

কামরুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের শিখরে। দেশের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্থ করতে চায় ৭১ এর ঘাতকরা। নির্বাচন বানচাল করতে চায় বিএনপি ও তার দোসররা। এই অপশক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। এরা গণতন্ত্রকে হত্যা করতে চায়।

মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, বিএনপির লজ্জা থাকলে তারা বিদ্যুতের জন্য ঘেরাও কর্মসূচি দিত না। তারা ক্ষমতায় থাকাকালে ৩০ শতাংশ মানুষকেও বিদ্যুৎ দিতে পারেনি। সাড়ে ৩ হাজার মেগাওয়াট উৎপাদন করতে পারত বিএনপি। সেখানে এখন ২৫ হাজার মেগাওয়াট উৎপাদনের সক্ষমতা আছে আমাদের। বৈশ্বিক কারণে এখন সমস্যা হচ্ছে। এটা সাময়িক সমস্যা। সমাধান হয়ে যাবে। সূত্র : বাসস

সমাবেশ ঠেকাতে গণগ্রেফতার শুরু করেছে সরকার : জামায়াত

নাগরিকদের গণতান্ত্রিক অধিকারকে পরিপূর্ণভাবে হরণে রাজধানীজুড়ে পুলিশের গণগ্রেফতারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ এবং অবিলম্বে গ্রেফতারদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

বুধবার গণমাধ্যমে প্রেরিত ওই বিবৃতিতে দলটির কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের ভারপ্রাপ্ত আমির আব্দুর রহমান মূসা এবং ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম বলেছেন, সরকার জামায়াতের জনপ্রিয়তায় ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে আগামী ১০ জুনের সমাবেশ ঠেকানোর জন্যই রাজধানীতে নতুন করে গণগ্রেফতার শুরু করেছে।

মহানগরীতে অন্যায়ভাবে গ্রেফতারের নিন্দা জানিয়ে নেতৃদ্বয় বলেন, গত রাত ৯টায় মহাখালী ওয়্যারলেস গেট কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ থেকে এশার নামাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে বনানী থানার সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুর রাফঈসহ ১০ জন এবং রাত ২টা ৩০ মিনিটে আদাবর থানার কর্মী তারিফ হাসানকে নিজ বাসা থেকে পুলিশ তুলে নেয়। যা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, আইনের শাসন ও রাষ্ট্রীয় সংবিধানের গুরুতর লঙ্ঘন।

বিবৃতিতে জামায়াত নেতৃদ্বয় বলেন, রাতের ভোটের সরকার অবৈধ ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করার জন্য জামায়াতসহ দেশপ্রেমী শক্তিকে বিশেষভাবে টার্গেট করেছে। দেশের প্রত্যেক নাগরিকের সভা-সমাবেশ করা ও রাজপথে যেকোনো কর্মসূচি পালন গণতান্ত্রিক এবং সাংবিধানিক অধিকারকে ক্ষুন্ন করেছে বাকশালী আওয়ামী লীগ। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৫ জুন জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী (উত্তর-দক্ষিণ) জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেইটে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনের অনুমতি চাইলে ডিএমপির পক্ষ থেকে ঠুনকো অজুহাতে সমাবেশের অনুমতি দেয়া হয়নি। জামায়াত একটি দেশপ্রেমী ও দায়িত্বশীল রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে তা স্থগিত করে ১০ জুন সে সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছে। আবারো কর্মসূচি পালনে পুলিশের সহযোগিতা চেয়ে ডিএমপি কমিশনার বরাবর পত্র পাঠিয়েছে।

তারা বলেন, আওয়ামী বাকশালীরা দেশের গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ধ্বংস করে দিয়েছে। তাদের অবৈধ ক্ষমতা লিপ্সার কারণে দেশ এখন মার্কিন ভিসা নিষেধাজ্ঞায় পড়েছে। বিষয়টি দেশ ও জাতির জন্য লজ্জাজনক। নেতৃবৃন্দ সরকারকে জনমতের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে অবিলম্বে পদত্যাগ ও কেয়ারটেকার সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তরের আহ্বান জানান।

উল্লেখ্য, কিছুদিন আগেই মাওলানা আব্দুর রাফঈকে তার কর্মস্থল থেকে তুলে নিয়ে ৫ দিন গুম করে রেখে তার বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন মামলা এবং আদালত থেকে জামিন লাভের পর জেল গেইট থেকে পুনরায় গ্রেফতার করা হয়েছিল।

সংলাপের কোনো বিকল্প নেই : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সংলাপের কোনো বিকল্প নেই বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

তিনি বলেছেন, সংলাপ চলমান থাকবে। সংলাপের বিকল্প নেই। আমরা মনে করি, সবকিছুই সংলাপ ও আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে।

বুধবার দুপুরে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতরের সদরদফতরে স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৩ উদযাপন অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

এর আগে গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে ১৪ দলের সমাবেশে গণতন্ত্রের স্বার্থে প্রয়োজনে জাতিসঙ্ঘের প্রতিনিধির মধ্যস্থতায় বিএনপির সঙ্গে আলোচনা হতে পারে বলে জানান আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এবং ১৪ দলের সমন্বয়ক আমির হোসেন আমু।

এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ একটি পপুলার পার্টি। আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন ক্ষমতায়। আওয়ামী লীগ বিশ্বাস করে জনগণের ক্ষমতায় চলতে হবে। জনগণের ক্ষমতা অব্যাহত রাখতে হলে সবার সাথে আলোচনা করতে হবে। তাই সংলাপ বা আলোচনার বিকল্প কিছু নেই।

জামায়াতে ইসলামীকে বিক্ষোভ সমাবেশের অনুমতি দেয়া হবে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যারা রাজনীতি করেন তাদের সভা-সমাবেশ করার রাজনৈতিক অধিকার রয়েছে। তারা তাদের মতামত প্রদর্শন করবে, জানাবে, এটাই তো স্বাভাবিক।

মন্ত্রী আরো বলেন, আমি যতদূর জানি, জামায়াতে ইসলামী এখন নির্বাচন কমিশনের স্বীকৃত রাজনৈতিক দল নয়। কাজেই এ বিষয়ে আমাদের ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার সিদ্ধান্ত জানাবেন। ঢাকায় (বায়তুল মোকাররম এলাকায়) সমাবেশ করতে দিলে কোনো নাশকতা বা বিশৃঙ্খলার সম্ভাবনা রয়েছে কি না, তা যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত দেয়া হবে।

বিএনপির সাথে আলোচনার ব্যাপারে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি : ওবায়দুল কাদের

বিএনপির সাথে আলোচনার ব্যাপারে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, ‘বিএনপির সাথে আলোচনার সিদ্ধান্ত এখনো নেই নাই। আমাদের দেশে এমন কোনো রাজনৈতিক সঙ্কট হয় নিয়ে জাতিসঙ্ঘের এখানে ইন্টারফেয়ার করতে হবে। জাতিসঙ্ঘ মধ্যস্থতা করবে এই রকম কোনো সঙ্কট স্বাধীন বাংলাদেশে হয়নি।’

বুধবার সকালে ঐতিহাসিক ৭ জুন উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে রক্ষিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিএনপির সাথে আমাদের আলোচনার বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেইনি। আমাদের দেশে আমরা আলোচনা করব, এটা নিজেদের সমস্যা, নিজেরাই সমাধান করব।

বিগত নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী সংলাপের আহ্বান করেছিলেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বাংলাদেশের গণতন্ত্র এখন অনেক পরিপূর্ণ হয়েছে জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিকভাবে এগিয়ে চলছে। কাজেই এখানে বাইরের কোনো মধ্যস্থতা, বাইরের কোনো হস্তক্ষেপের দরকার নেই। আমাদের নিজেদের সমস্যা নিজেরাই সমাধান করব। সময় বলে দেবে কখন কি হবে। আপাতত আলাপ-আলোচনার কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগে নির্বাচন কমিশন আরো গণতান্ত্রিক হয়েছে। নির্বাচন ব্যবস্থা আরো গণতান্ত্রিক হয়েছে। গণতন্ত্র হঠাৎ করে রাতারাতি প্রতিষ্ঠা পায় না। প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে সময় লাগে। একটা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়া হয়।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি নেতারা আমাদের নেত্রীকে হত্যার হুমকি দিচ্ছে। তাদের সাথে আমরা কি আলোচনা করব? তারা আজ নালিশের রাজনীতি করছে। কি পেয়েছে? তারা আমেরিকায় নালিশ করেছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে নালিশ করে তারা কি পেয়েছে? পেয়েছে ঘোড়ার ডিম। এখন তারা জাতিসঙ্ঘের তত্ত্বাবধান চায়। এই তত্ত্বাবধানে আবার নতুন সূত্র তুলে ধরছে।

তিনি বলেন, সঙ্কটে সমাধান হলো আমাদের সংবিধান। সঙ্কটে আর কোনো সমাধান নেই। সংবিধানই যদি কোনো দেশের সমাধান না দিতে পারে তাহলে সে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা পাবে কি করে?
সূত্র : বাসস

আমুর বক্তব্য ব্যক্তিগত : তথ্যমন্ত্রী

বিএনপির সাথে সংলাপ নিয়ে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও ১৪ দলের সমন্বয়ক আমির হোসেন আমুর বক্তব্যটি তার ব্যক্তিগত বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

তিনি বলেন, প্রথমত আমির হোসেন আমু আমাদের দলের অন্যতম জ্যেষ্ঠ নেতা। তিনি যে বক্তব্যটি দিয়েছেন, সেটি তার ব্যক্তিগত বক্তব্য। তার এই বক্তব্য নিয়ে আমাদের দলের ও সরকারের মধ্যে কোনো আলোচনা হয়নি। এমনকি ১৪ দলের মধ্যেও কোনো আলোচনা হয়নি।

বুধবার সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব তথ্য জানান।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, নির্বাচন পরিচালনা করবে নির্বাচন কমিশন। তারা নির্বাচনের রেফারি। তারা যদি সংলাপে ডাকে আমরা যাব।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, তার সাথে (আমু) যোগাযোগ করা হয়েছে। তিনি বলেছেন যে কাগজে বা গণমাধ্যমে যেভাবে এসেছে তিনি ঠিক সেভাবে বলেননি। যেভাবেই আসুক এটি তার ব্যক্তিগত অভিমত। দল, সরকার এমনকি ১৪ দল কোথাও এ নিয়ে আলোচনা হয়নি।

তিনি বলেন, আমরা চাই নির্বাচনে বিএনপিসহ সকল রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করুক এবং সবার অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশে একটি চমৎকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক। বিশ্বের কাছে উদাহরণ স্বরূপ একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক, সেটি আমরা চাই।

এটি ‘নজিরবিহীন লুটপাটের’ বাজেট : মির্জা ফখরুল

অর্থবছর ২০২৩-২৪ বাজেটকে ‘নজিরবিহীন লুটপাট ও অলীক কল্পনার অবাস্তবায়নযোগ্য গণবিরোধী বাজেট’ বলে মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এ বাজেট বাস্তবতা বিবর্জিত, প্রতারণামূলক, লোক দেখানো বাজেট। এটি জনকল্যাণের নয়।

বুধবার গুলশান বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। বাজেট প্রতিক্রিয়া জানাতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে বিএনপি।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, সরকার গত ১ জুন, ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জন্য ৭ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকার যে বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করেছে তা বর্তমান ফ্যাসিস্ট লুটেরা সরকারের অর্থনৈতিক দুর্নীতির ধারাবাহিকতা রক্ষার এক বার্ষিক ঘোষণাপত্র মাত্র। এই বাজেট কল্পনাবিলাসী বাস্তবায়ন অযোগ্য এক উচ্চাভিলাষী বাজেট। এটা স্রেফ দুর্নীতিবাজ বর্তমান সরকারের আশ্রয়ে-প্রশ্রয়ে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার লুটের লক্ষ্যে প্রণীত ‘অর্থ লুটেরাদের বাজেট’। বাজেটে চলমান অর্থনৈতিক সঙ্কট, ক্রমবর্ধমান আয়-বৈষম্য, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ তলানিতে যাওয়া, বেপরোয়া অর্থপাচার, জনগণের কাঁধে রাষ্ট্রীয় ঋণের বোঝা একেবারের জন্যেও স্বীকার করা হয়নি। পরিত্রাণের উপায়ও বলা হয়নি। তেমনিভাবে সম্পূর্ণভাবে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে সুশাসন ও ন্যায়বিচারের ধারণাকে।

তিনি বলেন, এই বাজেট পরিচালনা ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৩.৪ শতাংশ এবং উন্নয়ন ব্যয় ৩৬.৪ শতাংশ। বাজেটের এই অর্থের সংস্থান হবে ৫ লাখ ৩ হাজার ৯০০ কোটি টাকা আয় থেকে, আর ঘাটতি ২ লাখ ৫৭ হাজার ৮৮৫ কোটি টাকা ঋনের মাধ্যমে। রাজস্ব আয়ের ৩২.৮ শতাংশ পরোক্ষ কর (ভ্যাট) এবং ৩০.৭ শতাংশ প্রত্যক্ষ কর। এরই সাথে সরকার জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৭.৫ শতাংশ এবং মুদ্রাস্ফীতির হার ৬ শতাংশ প্রত্যাশা করছে!

তিনি আরো বলেন, বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধি, মুদ্রাস্ফীতি ও বিনিয়োগসহ সামষ্টিক অর্থনীতির যেসব প্রক্ষেপণ করা হয়েছে তা অর্জনযোগ্য নয়। জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭.৫ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করলেও তা কিভাবে অর্জন করা হবে তার কোনো সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা বাজেটে নেই। চলতি অর্থবছরেও ঢাকঢোল পিটিয়ে ঘোষণা করা হয়েছে প্রবৃদ্ধি হবে ৭.৫ শতাংশ। সংশোধনী বাজেটে তা পরে ৬.৩ শতাংশ পুনঃনির্ধারণ করা হয়। অর্থনীতিবিদরা বলেছেন এবারো ৭.৫ শতাংশ টার্গেট অর্জন সম্ভব হবে না। কেন না অর্থনীতি এমনিতেই চাপের মধ্যে রয়েছে।

মহাসচিব বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপ। এ চাপ মোকাবেলায় বাজেটে তেমন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেই। বিদ্যুৎ, জ্বালানি, পরিবহন এবং খাদ্যসহ তেল, চাল, আদা, চিনি, ডিম, মুরগিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের মূল্য অনেক আগেই মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। বিবিএসের সর্বশেষ হিসেব অনুযায়ী, গত মে মাসে মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৯.৯৪ শতাংশ, যা গত ১১ বছরে সর্বোচ্চ। বাস্তবে যা ১৮-২০ শতাংশ -এর উপরে হবে বলে অর্থনীতিবিদরা মনে করেন। অর্থমন্ত্রী বাজেট পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ‘মূল্যস্ফীতি নিয়ে আমরাও শঙ্কিত। সারা বিশ্বে এখন উচ্চ মূল্যস্ফীতি। তবে আমরা খাবার তো বন্ধ করতে পারব না। একটি নমনীয় পথে এগুচ্ছি।’ তার কথাটি সঠিক নয়। বাস্তবতা হচ্ছে চীন, আমেরিকা, ভারতসহ বিশ্বের নানা দেশে যথাযথ কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে। বিশেষভাবে খাদ্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, অর্থমন্ত্রী বাজেটে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের কোনো পথরেখা না দিয়েই কিভাবে মূল্যস্ফীতি টার্গেট ৬ শতাংশ ঘোষণা করেছে তা বোধগম্য নয়। বাজেটে একদিকে বিনিয়োগ ২৭.৪ শতাংশ -এ উন্নীত করার কথা বলা হয়েছে। অপরদিকে ঘাটতি মেটাতে ব্যাংক থেকে ১ লাখ ৩২ হাজার কোটি টাকারও বেশি ঋণ নেয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এত বিপুল পরিমাণ অংকের ঋণ যদি সরকার নিজেই নিয়েই নেয়, তবে বেসরকারি খাত নিঃসন্দেহে ঋণপ্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হবে। তাহলে বিনিয়োগ আসবে কোথেকে? এক বছরের ব্যবধানে বিনিয়োগ কিভাবে ২৭.৪ শতাংশ -এ উত্তীর্ণ হবে তার কোনো নির্দেশনা দেয়নি অর্থমন্ত্রী।

দেশের অর্থনীতি মহাবিপর্যয়ে রয়েছে। ডলারের সঙ্কট প্রকট মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, পণ্য আমদানির জন্য ঋণপত্র (এলসি) খুলতে গেলে প্রায় সকল ব্যাংক ফিরিয়ে দিচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ প্রায় তলানিতে এসে ঠেকেছে। সরকারি হিসাব মতে গত ৭ বছরে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণ ২৯ বিলিয়ন ডলারের ঘরে নেমে গেছে। আইএমএফ -এর হিসাব অনুযায়ী প্রকৃত রিজার্ভ দাঁড়ায় ২১ বিলিয়ন ডলারের ঘরে। বিশ্বস্ত সূত্র মতে, ইতোমধ্যে নতুন নোট ছাপিয়ে বাজারে ছাড়া হয়েছে ৫০ হাজার কোটি টাকার উপর। একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠীর কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

ফখরুল বলেন, অর্থ পাচার অব্যাহতভাবে বাড়ছে। জিএফআই বলছে, ২০০৯ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত বৈদেশিক বাণিজ্যের আড়ালে বাংলাদেশ থেকে ৪ হাজার ৯৬৫ কোটি ডলার পাচার হয়। সিআইডি বলছে, শুধু হুন্ডি প্রক্রিয়ায় দেশ থেকে গড়ে বছরে ৭৫ হাজার কোটি টাকা পাচার হয়ে যাচ্ছে। অন্যান্য মিলে প্রতিবছর কমপক্ষে দেড় লাখ কোটি টাকার সমপরিমাণের বৈদেশিক মুদ্রা বিদেশে পাচার হচ্ছে। বর্তমান বাংলাদেশে চারিদিকে শুধু হাহাকার। তবে এই হাহাকার সরকারের আশীর্বাদপুষ্ট ও সুবিধাভোগী নব্য ধনীদের জন্য নয়।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ব্যাংক ব্যবস্থায় নজিরবিহীন নৈরাজ্য চলছে। ব্যাংকের অতিরিক্ত ক্যাশ লিকিউডিটি কমেছে ৫৭ হাজার ৭০৭ কোটি টাকা (New Age : ২৪-১-২৩)। ২০০৯ সালে যেখানে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ২২ হাজার কোটি টাকা, এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩১ হাজার ৬২০ কোটি টাকা। তবে পুনঃতফসিলকৃত ঋণ যোগ করলে প্রকৃত খেলাপি ঋণ ৪ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদরা। গত বছরের প্রথম নয় মাসেই খেলাপি বেড়েছে ৩৩ হাজার কোটি টাকা। গত ৩ মাসেই খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১১ হাজার কোটি টাকা। বাংলাদেশে খেলাপি ঋণ বাড়ার প্রধান কারণ রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা।

তিনি আরো বলেন, এমনিতেই গত ৬ বছরে বিদেশী ঋণ পরিশোধের পরিমাণ বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। এক্ষণে চীন ও রাশিয়া থেকে নেয়া কঠিন শর্তের ঋণ পরিশোধের পরিমাণ ২০২৪ সন থেকেই বর্তমানের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যাবে অভিযোগ করে তিনি বলেন, সে সময় পরিস্থিতি সামাল দেয়া কঠিন হয়ে পড়বে। ২০২১-২২ অর্থবছরে মাথাপিছু বৈদেশিক ঋণের বোঝা ছিল ৩২৪ মার্কিন ডলার, টাকার অংকে যা প্রায় ৩২ হাজার ৭৪০ টাকা (প্রতি ডলার ১০১ টাকা দরে)। বর্তমানে আরো বেড়েছে। আইএমএফ চাচ্ছে সরকারি ব্যাংকগুলোতে ১০ শতাংশ এর নিচে ও বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে ৫ শতাংশ এর নিচে থাকুক খেলাপি ঋণের পরিমাণ। কিন্তু বর্তমানে কৌশলে এক ব্যাংকের আদায়যোগ্য খেলাপি ঋণ আরেক ব্যাংকে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

বিএনপির এই নেতা বলেন, দেশের এই চরম অর্থনৈতিক সঙ্কটের সময়ে প্রয়োজন ছিল দল, মত ও ব্যক্তি স্বার্থের ঊর্ধ্বে গিয়ে একটি সাহসি ও বাস্তবসম্মত বাজেট। কিন্তু মোটাদাগে এ বাজেট আইএমএফ -এর শর্ত বাস্তবায়ন এবং বিগত অর্থবছরের বাজেটের ১৪-১৫ শতাংশ বর্ধিত অবস্থা ছাড়া কিছুই না। অথচ আইএমএফ -এর সাথে ঋণচুক্তির কথা উল্লেখই করেননি অর্থমন্ত্রী। এদিকে আইএমএফ -এর শর্তপূরণে বাড়তি আদায় করতে হবে ৪৮ হাজার কোটি টাকা। কর ছাড় কমানোর বড় উদ্যোগ বাজেটে নেই।

তিনি বলেন, একদিকে মধ্যবিত্তের ওপর ন্যূনতম দুই হাজার টাকা কর আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে, অন্যদিকে চার কোটি টাকা পর্যন্ত মোট সম্পদের ওপর কোনো সারচার্জ দিতে হবে না। এ পর্যন্ত ক্যাপাসিটি চার্জের নামে ১ লাখ কোটি টাকার উপরে লুট করেছে তারা। বাড়তি বিদ্যুৎ ভর্তুকি কিভাবে ব্যবহার করা হবে, তা স্পষ্ট করা হয়নি। আগামী অর্থবছরে বিদ্যুৎ বিভাগের জন্য বরাদ্দ হয়েছে ৩৩ হাজার ৭৭৫ কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ বেশি। অনেকে বিশ্বাস করেন, বিদ্যুৎখাতে অতিরিক্ত বরাদ্দের মূল কারণ ক্যাপাসিটি চার্জ ও কুইক রেন্টালের নামে অর্থ লোপাটের আরো সুযোগ করে দেয়া। অথচ সারাদেশে মারাত্মক লোডশেডিং চলছেই। গ্রামে তো বিদ্যুৎ বলতে গেলে থাকেই না। রাজধানীতেই লোডশেডিংয়ে সকলের ত্রাহি অবস্থা। অথচ উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ ফেরি করে বিক্রি করতে হবে পার্লামেন্টে অহমিকা করেছে সরকার। এদিকে ডলারের অভাবে কয়লা কিনতে না পারায় পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ হয়ে গেছে। বিদ্যুৎ খাতের এই বিপর্যয়ের জন্য প্রধানত দায়ী এই অবৈধ সরকারের নজিরবিহীন দুর্নীতি। সরকার দেশীয় উৎস থেকে গ্যাসসহ অন্যান্য জ্বালানি আবিষ্কার ও উত্তোলনে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না নিয়ো বোধগম্য কারণে আমদানি নির্ভরশীলতা বাড়িয়েছে।

তিনি আরো বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে আয়-বৈষম্য নিরোধের কৌশল সম্পূর্ণই অনুপস্থিত। উপরন্ত পক্ষপাতমূলক নীতিকাঠামো আয় ও সম্পদের বৈষম্য বাড়াচ্ছে। গত ১২ বছর ধরে দেশের গিনি সহগ ঊর্ধ্বমুখী যা ২০২২ সালে শূন্য দশমিক ৪৯৯ এ পৌঁছেছে।

বাংলাদেশে চলমান অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সঙ্কট দেশের প্রধান জাতীয় সঙ্কটে পরিণত হয়েছে মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, গণতান্ত্রিক সরকার না থাকলে সরকারের জাবাবদিহিতা থাকে না। দেশের অর্থনীতির জন্য কল্যাণকর বাজেট প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। এই জাতীয় সঙ্কট থেকে মুক্তি পেতে জবাবদিহি ও দায়বদ্ধমূলক নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এটার একমাত্র পথ নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অবাধ, নিরপেক্ষ, অংশগ্রহণমূলক ও সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত করতে হবে।

সংলাপের লিখিত প্রস্তাব পেলে ভেবে দেখবে বিএনপি

নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে আওয়ামী লীগের নেতারা বিএনপির সাথে সংলাপ বিষয়ক যে বক্তব্য দিয়েছেন তা আপাতত আমলে নিচ্ছে না বিএনপি। তবে বিষয়টির আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পেলে জবাব দিতে ভাববে দলটি।

বুধবার গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী একথা জানান।

গতকাল ১৪ দলের এক সভায় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু বলেন, প্রয়োজনে জাতিসঙ্ঘের মধ্যস্থতায় আমরা তাদের সাথে মুখোমুখি সংলাপ করতে চাই। এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, সংলাপের মাধ্যমে সবকিছু সমাধান হতে পারে। আলোচনার কোনো বিকল্প নেই।

সাংবাদিকরা এ বিষয়টি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মহাসচিবের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তার ভাষ্য, ‘এতেই বোঝা যায় আওয়ামী লীগের কী অবস্থা।’

বিষয়টি নিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কোথায় কোন সমাবেশে কে কী বলছে সেটার জবাব দেয়া আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ না। আমরা রাজনীতি পরিবর্তন করছি। আমাদের কাছে কেউ লিখিত প্রস্তাব দিলে সেটার জবাব দেয়ার জন্য ভাববো।

আমি বলদ কিংবা স্বশিক্ষিত নই : পুলিশের সাথে বিতণ্ডায় ফয়জুল করিম

আমি বলদ কিংবা স্বশিক্ষিত নই বলে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের এসআই অনিল সাহাকে হুঁশিয়ার করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকের মেয়র প্রার্থী মুফতি সৈয়দ ফয়জুল করীম।

গণসংযোগ চালানোর সময় উল্লেখ করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে মিছিল অবৈধ। কিন্তু গণসংযোগ অবৈধ না। সাড়ে ১১টা পর্যন্ত গণসংযোগ চলবে। আমি বলদ না, আমি স্ব-শিক্ষিত লোক না। শিক্ষিত লোক আমি।’

হাতপাখার প্রার্থীর গণসংযোগকালে নৌকার কর্মীদের আক্রমণাত্মকভাবে আচরণবিধি লঙ্ঘন করে মিছিল করার অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে পুলিশের সাথে খোদ ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকের মেয়র প্রার্থী মুফতি সৈয়দ ফয়জুল করীমের বাক-বিতণ্ডা হয়। সেটার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

আড়াই মিনিটের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের এসআই অনিল সাহাকে কিছু বোঝানোর চেষ্টা করছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মুফতী সৈয়দ ফয়জুল করীম। আর প্রার্থী বারবার ওই পুলিশ সদস্যকে জিজ্ঞাসা করছেন, আপনি মিছিল বন্ধ করতে পেরেছেন? তিনি এর কোনো সদুউত্তর দিতে পারেননি।

ভিডিওয়ের এক পর্যায়ে হাতপাখার প্রার্থী বলেন, নির্বাচনে মিছিল অবৈধ। কিন্তু গণসংযোগ অবৈধ না। সাড়ে ১১টা পর্যন্ত গণসংযোগ চলবে। আমি বলদ না, আমি স্ব-শিক্ষিত লোক না, শিক্ষিত লোক আমি।

ভিডিওটির শেষে প্রার্থী পুলিশের ওই কর্মকর্তাকে বলেন, আপনার নাম শুনছি আমি বারবার, দোআ কইরেন, লেভেল প্লেইং ফিল্ড ঠিক রাইখেন, আমি আইন জাইনা তারপর নির্বাচন করি।

এ সময় ওই পুলিশ কর্মকর্তাও প্রার্থীকে বলেন, আপনারাও দোআ কইরেন আমাদের জন্য এবং পুলিশের জন্য, আমরা পুলিশ সর্বোচ্চ পরিমাণে কাজ করছি।

এ বিষয়ে ইসলামী আন্দোলন মিডিয়া গ্রুপের সদস্য শহিদুল ইসলাম জানান, হাতপাখার মেয়র পদপ্রার্থী শায়খে চরমোনাইর গণসংযোগ চলাকালে ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের স্থানীয় নৌকার কর্মী কালাম মোল্লার নেতৃত্বে আক্রমণাত্মকভাবে আচরণবিধি লঙ্ঘন করে মিছিল করে। এসআই অনীলকে এ সময় নৌকার মিছিলের সামনে হেঁটে নিরাপত্তা দিতে দেখা যায়। কিন্তু পুলিশ এসে আমাদের গণসংযোগের বিষয়ে কথা তোলেন।

মিছিলের সামনে হেঁটে নিরাপত্তার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন থানা পুলিশ। এয়ারপোর্ট থানার পরিদর্শক (তদন্ত) লোকমান হোসেন জানান, ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী যখন গণসংযোগ করছিলেন, তখন স্থানীয় আওয়ামী লীগের লোকজনও সেখানে ছিল। তারা মিছিল করায় পরিস্থিতি অস্বাভাবিক হতে পারে বিধায় পুলিশ সেখানে গিয়েছিল।

ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী চলে যাওয়ার সময় এসআই অনীল সাহা তার কাছে যান। এ সময় অস্বাভাবিক কোনো কথোপকথন হয়নি বলেও জানান তিনি।

‘অখণ্ড ভারতের’ মানচিত্র : যা বললেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

‘অখণ্ড ভারতের’ মানচিত্র বিষয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, ভারতের সংসদ ভবনে ‘অখণ্ড ভারতের’ মানচিত্র স্থাপন বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা জানার জন্য দিল্লিতে বাংলাদেশ দূতাবাসকে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাথে যোগাযোগ করার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

সোমবার (৫ জুন) বিকেলে শাহরিয়ার আলম পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

ওই মানচিত্রে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও নেপালকে অখণ্ড ভারতের মানচিত্রে দেখানো হয়েছে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এটি নিয়ে সংশয় প্রকাশ করার কোনো কারণ নেই। তারপরও অধিক ব্যাখ্যার জন্য আমরা দিল্লির মিশনকে বলেছি ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাথে কথা বলতে, তাদের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা কী তা জানার জন্য।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যা জেনেছি তা হলো- ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেছেন যে এটি অশোকা সাম্রাজ্যের মানচিত্র, এটি যিশু খ্রিস্টের জন্মের ৩০০ বছর আগের। সেই সময়ের যে অঞ্চলটি ছিল, তার একটি মানচিত্র এবং এটি একটি ম্যুরাল। ওই ম্যুরালে বিভিন্ন অগ্রগতির যাত্রা চিত্রায়ণ করা হয়েছে। এখানে সাংস্কৃতিক মিল থাকতে পারে, কিন্তু এর সাথে রাজনীতির কোনো সম্পর্ক নেই।’

সূত্র : ইউএনবি

কংগ্রেসম্যানদের চিঠি দুর্বল ও সস্তা : শাহরিয়ার আলম

বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন যুক্তরাষ্ট্রের ছয় কংগ্রেসম্যান শেখ হাসিনা সরকারের কড়া সমালোচনা করে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের কাছে লেখা চিঠিকে দুর্বল ও সস্তা বলে আখ্যা দিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো: শাহরিয়ার আলম।

সোমবার (৫ জুন) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এমন মন্তব্য করেন প্রতিমন্ত্রী। এর আগে ২৫ মে বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকারের মানবাধিকার লঙ্ঘন বন্ধ এবং অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের সুযোগ তৈরিতে জরুরি পদক্ষেপ চেয়ে এ চিঠি দেয় মার্কিন ছয় কংগ্রেসম্যান।

এ চিঠি সরকার কীভাবে দেখছে প্রতিমন্ত্রীর কাছে জানতে চাওয়া হলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা চিঠিটা সংগ্রহ করেছি। অন্যান্য চিঠিপত্রের মতো এখানেও অসামঞ্জস্য আছে। অন্যান্য চিঠির মতো বাড়াবাড়ি আছে। তথ্যের একটা বড় ধরনের ঘাটতি আছে। কংগ্রেসম্যানদের প্রচেষ্টা দুর্বল ও সস্তা।

কংগ্রেসম্যানদের চিঠি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে ফাটল ধরাতে পারবে না বলে মনেও করেন শাহরিয়ার আলম।

প্রতিমন্ত্রী গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, আপনারা (গণমাধ্যমকর্মী) নিজেরাও লাইন বাই লাইন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখতে পারেন। আমাদের দেশের রাজনীতিবিদরা, সংসদ সদস্যরা বিশেষ করে অন্য দলের সংসদ সদস্যরা প্রধানমন্ত্রীকে অনেক কিছু বলেন, অনেকে হয়ত লেখেনও। হয়ত আমার বিরুদ্ধে লেখা হয়, যেটা আমি জানি না। তবে এটা নির্ভর করে সরকারপ্রধান বিষয়টিকে কীভাবে নেবেন।

নির্বাচন সামনে রেখে এ ধরনের আরো চিঠি আসতে পারে বলে মনে করে তিনি বলেন, এ রকম চিঠি অতীতেও এসেছে। ভবিষ্যতে আরও বেশি আকারে আসতে পারে। নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসবে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড আরও বাড়বে। তবে আপনাদের (গণমাধ্যমকে) এটা যাচাই করে নিতে হবে।

নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে লবিস্টদের তৎপরতা বাড়ার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে শাহরিয়ার আলম বলেন, তারা (লবিস্ট) তাদের কাজ করবে। আমরা আমাদের কাজ করব।

উল্লেখ্য, কংগ্রেসম্যান স্কট প্যারি, ব্যারি মুর, টিম বার্চেট, ওয়ারেন ডেভিডসন এবং কেইথ সেলফ চিঠিতে জানিয়েছিলেন, মার্কিন সরকার মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে বাংলাদেশের দায়িত্বরত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী একাধিক কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারির পরও দমন-পীড়ন অব্যাহত রেখেছে। সম্প্রতি তাদের সেই বক্তব্যের সাথে দেশটির আরেক কংগ্রেসম্যান বব গুড যোগ দিয়েছেন। ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের পঞ্চম কংগ্রেশনাল ডিসট্রিক্টের রিপাবলিকান এই কংগ্রেসম্যান তার ওয়েবসাইটে দেয়া এক বিবৃতিতে শেখ হাসিনা সরকারকে মানবাধিকার লঙ্ঘন বন্ধের পাশাপাশি অবাধ ও সুষ্ঠু সংসদ নির্বাচন নিশ্চিত করারও আহ্বান জানিয়েছিলেন।