Home Blog Page 614

রাশিয়ায় নিহত বেড়ে ১৪৩, সন্দেহভাজন চারজনই বিদেশি

মস্কো ডেস্কঃ রাশিয়ার রাজধানী মস্কোয় কনসার্ট হলে বন্দুকধারীদের হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৪৩ জনে পৌঁছেছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রধান সন্দেহভাজন চারজনই বিদেশি নাগরিক বলে দাবি করেছে রুশ প্রশাসন।

ক্রেমলিনের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর দিয়েছে।

রয়টার্স জানিয়েছে, শুক্রবারের ওই হামলার দায় স্বীকার করেছে জঙ্গি গোষ্ঠী দায়েশ বা আইএস। রাশিয়ায় বিগত ২০ বছরের মধ্যে এটি সবচেয়ে মারাত্মক হামলার ঘটনা। কিন্তু ক্রেমলিন এ ঘটনার জন্য ইউক্রেনকে দায়ী করেছে।

যদিও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা মাইখাইলো পোডোলিয়াক এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, এই হামলার সঙ্গে তাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।

শনিবার ক্রেমলিনের জারি করা একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে এফএসবি নিরাপত্তা পরিষেবার প্রধান আলেকজান্ডার বোর্টনিকভ অবহিত করেছেন যে, আটক সন্দেহভাজনদের মধ্যে ‘চার সন্ত্রাসী’ রয়েছে।

অপরদিকে রাশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়, মস্কোর কাছের একটি কনসার্ট হলে শুক্রবারের হামলায় জড়িত সন্দেহে গ্রেফতার চারজনের কেউ রাশিয়ার নাগরিক নয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘গ্রেফতার চারজনের সবাই বিদেশি নাগরিক।’

এর আগে রাশিয়ার আইনপ্রণেতা আলেকসান্দার কাইনেস্তিন জানিয়েছিলেন, হামলাকারীরা একটি রেনো গাড়িতে করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়, পরে শুক্রবার রাতে মস্কো থেকে ৩৪০ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে ব্রাইয়ানস্ক অঞ্চলে গাড়িটিকে দেখতে পায় পুলিশ। তাদের থামার সঙ্কেত দিলে তা না মেনে এগিয়ে যায় তারা।

গাড়ি নিয়ে তাদের পিছু ধাওয়া করে দুইজনকে আটক ও গ্রেফতার করে পুলিশ। আরও দুইজন পাশের বনে পালিয়ে যায়। পরে তাদেরও আটক করা হয় বলে জানায় ক্রেমলিন।

গাড়িটিতে তাজিকিস্তানের কয়েকটি পাসপোর্ট, পিস্তল ও স্বয়ংক্রিয় রাইফেলের ম্যাগাজিন পাওয়া গেছে। মধ্য এশিয়ার মুসলিম প্রধান দেশ তাজিকিস্তান আগে সোভিয়েত ইউনিয়নের অংশ ছিল।

এদিকে মস্কোর হামলায় দায় স্বীকার করার পর এবার প্রমাণ হিসেবে চার হামলাকারীর মুখোশ পরা ছবি প্রকাশ করেছে জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট। হামলার পরপরই দায় স্বীকার করে নিজেদের মুখপত্র ‘আমাক’ থেকে টেলিগ্রামে একটি পোস্ট দেয় আইএস। পরদিন শনিবার দেওয়া আরেক পোস্টে সন্দেহভাজন চার হামলাকারীর একটি ছবি প্রকাশ করে আইএস।

সেখানে লেখা হয়েছে, ‘ইসলামিক স্টেট এবং ইসলামের বিরুদ্ধে লড়াইরত দেশগুলির মধ্যে তুমুল যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এই হামলাটি হয়েছে।’

তবে আইএস দায় স্বীকার করলেও রাশিয়া এ হামলার পেছনে ইউক্রেনের যোগসূত্র খোঁজার চেষ্টা করে যাচ্ছে।

নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেলকে ‘কদর্য, কুৎসিত’ বললেন ট্রাম্প

নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেতিতিয়া জেমসকে ‘কদর্য’ ও ‘কুৎসিত’ বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালের একটি পোস্টে, ট্রাম্প জেমসকে ‘ব্যর্থ ও  ঘৃণ্য’ এবং ‘বিশাল, কদর্য ও কুৎসিত মুখের’ নারী হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।ব্যাংক ও ইন্স্যুরেন্সের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগের পর স¤প্রতি বিপুল পরিমাণের অর্থ পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে।

তিনি এ বছর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান দলের প্রার্থী। কিন্তু আদালত তাকে এক সপ্তাহের মধ্যে ৪৫ কোটি ৪০ লাখ ডলার পরিশোধের নির্দেশ দেওয়ার পর নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেতিতিয়া জেমসের এমন কঠোর সমালোচনা করলেন ট্রাম্প।যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক এই প্রেসিডেন্ট একই সঙ্গে নিউইয়র্কের বিচারক আর্থার ইঙ্গোরনেরও সমালোচনা করেন।

বিচারক আর্থার ইঙ্গোরনকে একজন ‘দুর্বৃত্ত বিচারক’ বলে অভিহিত করেছেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, ‘লেতিতিয়া জেমসের বিশাল, কদর্য ও কুৎসিত মুখ দেখে ভয়ে ভীত হয়েছেন এ বিচারক। ‘তিনি আরও বলেন, ‘জেমস এবং তার পাপেট ইঙ্গোরন আমার মারে লাগোর মূল্য নির্ধারণ করেছেন এক কোটি ৮০ লাখ ডলার। কিন্তু এর দাম তখন ৫০ থেকে ১০০ গুণ বেশি। এতে নিউইয়র্ক রাজ্যে সব ব্যবসা ধ্বংস করে দিয়েছে। ‘

এই ব্যবসা ইতোমধ্যে ধ্বংস হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।  ট্রাম্প বলেন, ‘ভয়ের কিছু নেই। আমি যখন ৪৭তম প্রেসিডেন্ট হব, তখন আমরা আবারও নিউইয়র্ককে গ্রেট হিসেবে গড়ে তুলব। ‘শক্তিধর ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই করে নিজের বিজয় অর্জনের মাধ্যমে লেতিতিয়া জেমস সুনাম কুড়িয়েছেন। স¤প্রতি সাবেক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তার ছেলেদের বিরুদ্ধে ৩৫ কোটি ৫০ লাখ ডলারের জালিয়াতির মামলায় তিনি জয় পেয়েছেন। যদিও কোনো কোনো ক্ষেত্রে তার বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগও আছে।

কেজরিওয়াল গ্রেফতারে ভারতে বিক্ষোভ

লোকসভা নির্বাচনের আগে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী ও আম আদমি পার্টির (আপ) প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে গ্রেফতারের ঘটনায় ভারতের রাজনীতি চাঙা হয়ে উঠেছে। এ ঘটনায় বিক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে দিল্লিসহ বিভিন্ন অঞ্চল। এদিকে ভোট থেকে সরিয়ে রাখার আশঙ্কায় কেজরিওয়ালের স্ত্রী সুনীতা কেজরিওয়াল গতকাল ঘোষণা দিয়েছেন, ষড়যন্ত্র করে তার স্বামীকে নির্বাচন থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হলে দিল্লির আসন থেকে তিনি (সুনীতা) কেজরিওয়ালের হয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়বেন।

প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার রাতে গ্রেফতারের পর অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে ইডি হেফাজতে তিহার জেলে রাখা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আনার পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে সরাতে দিল্লি হাই কোর্টে মামলা দায়েরও করা হয়েছে। এদিকে কেজরিওয়াল গ্রেফতার হওয়ার পর থেকেই সারা দেশে বিক্ষোভ করছেন আপ সমর্থকরা। এরকম এক বিক্ষোভ সমাবেশে গতকাল অরবিন্দ কেজরিওয়ালের স্ত্রী সুনীতা কেজরিওয়াল জেল থেকে পাঠানো কেজরিওয়ালের একটি চিঠি পড়ে শুনিয়েছেন। সুনীতা জানান, ‘চিঠিতে তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন, জেল থেকেই কেজরিওয়াল সরকার পরিচালনা করবেন।’ সুনীতা আবেগাপ্লুত হয়ে দলীয় লোকদের বলেন, ‘আমি আমার পূর্ববর্তী জীবনে অবশ্যই কিছু ভালো কাজ করেছিলাম, তাই ভারতের মতো একটি মহান দেশে জন্মগ্রহণ করেছি। আমাদের একসঙ্গে ভারতকে আবার মহান করতে হবে। বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ও এক নম্বর দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে ভারতকে। ভারতের ভিতরে ও বাইরে অনেক শত্রু রয়েছে, যারা ভারতকে দুর্বল করে দিচ্ছে। আমাদের সচেতন হতে হবে। এ শত্রুদের চিনতে হবে। তাদের পরাজিত করতে হবে।’ এ সময় তিনি উল্লেখ করেন, ভোটের লড়াইয়ে যদি কেজরিওয়ালকে থাকতে না দেওয়া হয় তাহলে তার জায়গায় তিনি (সুনীতা) লড়বেন। আপের দলীয় সূত্র এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, এতদিন সক্রিয় রাজনীতি থেকে নিজের স্ত্রী ও পরিবারকে দূরে রেখেছেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল। কারণ কেজরিওয়ালের মূল হাতিয়ারই ছিল পরিবারতন্ত্র এবং দুর্নীতির বিরোধিতা করা। অথচ কেজরিওয়াল নিজেই এবার সেই অভিযোগে বিদ্ধ হয়েছেন। এমন অবস্থায় দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা এখন কেজরিওয়ালের জন্য কঠিন হয়ে যাবে। এমনকি পরিবারতন্ত্রের বিরোধিতার জায়গাও এখন কাজে লাগবে না।

বিদেশ নীতিতেও প্রভাব : লোকসভা নির্বাচনের মুখে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে গ্রেফতারের ঘটনায় শুধু জাতীয় রাজনীতিতেই তোলপাড় অবস্থা তৈরি করেনি, বিদেশেও প্রভাব ফেলেছে। যেমন কেজরিওয়ালের গ্রেফতারে মুখ খুলেছে জার্মানি। গণতান্ত্রিক নীতি এবং বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতার প্রসঙ্গ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে দেশটি। যদিও জার্মানির কথায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে দিল্লি। একই সঙ্গে দেশটিকে ‘বাইরের রাষ্ট্রের অযাচিত হস্তক্ষেপ’ উল্লেখ ‘একে বরদাশত করা হবে না’ বলে জানিয়েছে মোদি সরকার। পাশাপাশি এজন্য ভারতে থাকা জার্মান রাষ্ট্রদূতকে তলবও করা হয়েছে। ফলে বিষয়টি এখন দেশ ছাড়িয়ে বিদেশ পর্যন্ত আলোচনার বিষয়বস্তু হয়ে উঠেছে।

মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে সরাতে মামলা : আবগারি দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার হলেও এখনো মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেননি অরবিন্দ কেজরিওয়াল। বরং আপের তরফে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রয়োজনে জেলে থেকেই সরকার চালাবেন তিনি। এহেন পরিস্থিতির মাঝেই দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে কেজরিওয়ালকে সরাতে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হয়েছে দিল্লি হাই কোর্টে। মামলায় আবেদনকারী জানতে চেয়েছেন, কোন আইনে গ্রেফতারের পরও মুখ্যমন্ত্রী পদে রাখা হবে তাকে? মামলাকারী দাবি করেছেন, আর্থিক দুর্নীতিতে অভিযুক্ত এমন একজন ব্যক্তিকে মুখ্যমন্ত্রী পদে রাখা কোনোভাবেই উচিত নয়।’

বিধ্বস্ত বাংলাদেশ, আশা যাওয়ার মিছিলে নেই ৫ উইকেট

রেকর্ড রান তাড়া করতে নেমে অবিশ্বাস্য কিছুই করতে হতো বাংলাদেশকে। তবে যেভাবে এগোচ্ছে বাংলাদেশের ইনিংস, তাতে জয় এখন নিছক কল্পনা বাদে আর কিছুই নয়! ৪৭ রানেই নেই বাংলাদেশের ৫ উইকেট। ফলে ৫১১ রানের পাহাড় টপকানো প্রায় অসম্ভব ।

সিলেট টেস্টে প্রথম ইনিংসে ধনঞ্জয়া ডি সিলভা ও কামিন্দু মেন্ডিস শতক হাঁকালেও ২৮০ রানের বেশি করতে পারেনি শ্রীলঙ্কা। তবে নিজেদের প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ গুটিয়ে যায় ১৮৮ রানেই। ৯২ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করে লঙ্কানরা।

দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুটা ভালো না হলেও শেষটা রাঙান সেই ধনঞ্জয়া ও কামিন্দু। যেন প্রথম ইনিংসেরই পুনরাবৃত্তি করেন, দুজনে ফের হাঁকান শতক। সুবাদে দ্বিতীয় ইনিংসে ৪১৮ রান তুলে শ্রীলঙ্কা। লিড বেড়ে দাঁড়ায় ৫১০ রান।

৫১১ রানের রেকর্ড সংগ্রহ তাড়া করতে নেমে যেমন শুরু প্রয়োজন ছিল, তা পারেনি বাংলাদেশ। ৯ ওভারে মাত্র ৩৭ রানে হারায় ৫ উইকেট। দিনশেষ করে ৫ উইকেটে ৪৭ রানে। এখনো জয়ের জন্য প্রয়োজন ৪৬৪ রান। হাতে ৫ উইকেট।

রোববার সকালে ৫ উইকেটে ১১৯ রান নিয়ে তৃতীয় দিনের খেলা শুরু করেছিল শ্রীলঙ্কা। দিনের শুরুতেই হারায় বিশ্ব ফার্নান্দোর উইকেটও। ১২৬ রানে তখন শ্রীলঙ্কার ৬ উইকেট। ম্যাচে টিকে থাকতে হলে বাংলাদেশ দলের দ্রুত উইকেট নিতে হতো, সেই চেষ্টাতেই ছিল বোলাররা।

তবে সেই চেষ্টার ফল যখন এলো, শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ তখন তিন শ’ ছুঁই ছুঁই। ২৯৯ রানের মাথায় ধনঞ্জয়া ডি সিলভা ফেরেন মেহেদী মিরাজের শিকার হয়ে। আউট হবার আগে তুলে নেন ক্যারিয়ারে নিজের ১৩তম টেস্ট শতক। করেন ১৭৯ বলে ১০৮ রান। ভাঙে কামিন্দু মেন্ডিসের সাথে তার ১৭৩ রানের যুগলবন্দী।

প্রথম ইনিংসে টেস্টে প্রথম শতকের দেখা পাওয়া কামিন্দু দ্বিতীয় শতক পেয়ে যান দ্বিতীয় ইনিংসেই। প্রতাভ জয়সুরিয়ার সাথে ৬৭ রান যোগ করার পথে গড়েন এই কীর্তি। তবে এখানেই থামেননি, শেষ পর্যন্ত ইনিংসটাকে রূপ দেন ক্যারিয়ার সেরা ১৬৪ রানে। মেহেদী মিরাজ নেন ৪ উইকেট।

বিশাল লক্ষ্য তাড়ায় শুরুতেই হোঁচট খায় বাংলাদেশ। কোনো রান যোগ হবার আগেই ফেরেন মাহমুদুল হাসান জয়। ৪ বলে করেন ০। দলীয় সংগ্রহ দুই অংক ছোঁয়ার আগে ফেরেন নাজমুল হোসেন শান্ত। বাংলাদেশ অধিনায়ক ৫ বলে ৬ করে ক্যাচ দেন করুনারত্নেকে।

জাকির হাসান চেষ্টা করেছিলেন পাল্টা আক্রমণের। তবে তাকে ১৯ রানেই থামিয়ে দেন লাহিরু কুমারা। ৩৬ রানে ৩ উইকেট হারানো বাংলাদেশ পরের ১ রান তুলতেই হারায় আরো ২ উইকেট। শাহাদাত দিপু ৩ বলে ০ ও লিটন দাস ফেরেন গোল্ডেন ডাক মেরে। দুজনকেই ফেরান বিশ্ব।

দিনশেষে তাইজুল ইসলাম ৬ ও মুমিনুল হক ব্যাট করছেন ৭ রানে।

অবসর ভেঙে ফিরলেন মোহাম্মদ আমিরও

ইমাদ ওয়াসিমের পর এবার অবসর ভেঙে ফের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরলেন পাকিস্তানি পেসার মোহাম্মদ আমির।

রোববার (২৪ মার্চ) একটি এক্স বার্তায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। তার আগে গতকাল শনিবারই অবসর ভেঙে ফের জাতীয় দলে ফিরেছেন দেশটির অলরাউন্ডার ইমাদ ওয়াসিম।

২০২০ সালে হুট করেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন আমির। মূলত কোচ ও টিম ম্যানেজমেন্টের প্রতি অভিযোগ তুলে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছিলেন এই পেসার। এবার টিম ম্যানেজমেন্ট ও পিসিবিতে পরিবর্তন আসায় আবারো পাকিস্তানের জার্সিতে ফিরছেন আমির।

এক্সে আমির লিখেছেন, আমি এখনো পাকিস্তানের হয়ে খেলার স্বপ্ন দেখি। জীবন কখনো কখনো এমন এক জায়গায় নিয়ে দাঁড় করায় যখন আপনাকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে হয়। পিসিবি এবং আমার মাঝে বেশ কিছু ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। যেখানে তারা আমাকে বুঝতে পেরেছে এবং এটা অনুভব করিয়েছে যে আমি পাকিস্তান দলের জন্য প্রয়োজনীয়।

আগামী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের জার্সিতে খেলার ইচ্ছা আমিরের। তিনি লিখেছেন, আমার পরিবার এবং শুভাকাঙ্খীদের সাথে আলোচনা করে এটা ঘোষণা করতে চাই যে আসন্ন বিশ্বকাপের জন্য আমি প্রস্তুত আছি। ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের আগে আমি দেশের হয়ে কিছু করতে চাই। সবুজ জার্সি পরা এবং দেশের সেবা করা সবসময়ই আমার সবচেয়ে বড় আকাঙ্খা ছিল এবং থাকবে।

সূত্র : ডেইলি জংগ ও জিও নিউজ

টানা ১২ আসরে উদ্বোধনী ম্যাচে হার মুম্বাইয়ের

এবারো গেরো কেটে বের হতে পারল না মু্ম্বাই। আরো একবার সেই একই চিত্র, একই গল্প। আরো একবার হার দিয়ে আইপিএল আসর শুরু সর্বোচ্চ সংখ্যক শিরোপাজয়ী দলটার। এই নিয়ে টানা ১২ বার! উদ্বোধনী ম্যাচে হার যেন অমোঘ নীতিতে পরিণত হয়েছে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের।

মুম্বাই আইপিএলের এবারের শুরু করল গুজরাটের কাছে হেরে। আহমেদাবাদে রোববার রাতে টসে হেরে আগে ব্যাট করে গুজরাট টাইটান্স। যেখানে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারালেও ৬ উইকেটে ১৬৮ রান তুলে তারা। জবাবে ভালো শুরুর পরও মুম্বাই আটকে যায় ১৬২ রানে। ৬ রানে জয় পেয়েছে গুজরাট।

অথচ জয়ের পথেই ছিল মুম্বাই। এই ম্যাচ হেরে যাবে তারা তা কস্মিনকালেও ভাবেনি কেউ। ১৫ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়েই তুলে ফেলে ১২৬ রান। জয়ের জন্য প্রয়োজন তখন ৩০ বলে প্রয়োজন মাত্র ৪৩ রান, হাতে ৭ উইকেট। তবে এই সহজ সমীকরণও মেলাতে পারেনি হার্দিক পান্ডিয়ার দল।

শেষ ১৩ বলে ৬ উইকেট হারিয়েও মুম্বাই পারেনি লক্ষ্যে পৌঁছাতে। ফলে টানা ১২ মৌসুম নিজেদের উদ্বোধনী ম্যাচে হারলো মুম্বাই। সর্বশেষ নিজেদের খেলা প্রথম ম্যাচে জিতেছিল ২০১২ সালে।

গুজরাটের হয়ে এদিন রানের দেখা পান সকলেই, তবে ইনিংস বড় হয়নি কারো। সর্বোচ্চ ৩৯ বলে ৪৫ রান আসে সাই সুদর্শনের ব্যাটে। শুভমান গিল করেন ২২ বলে ৩১ রান। রাহুল তিওয়াতিয়া ১৫ বলে ২২ ও ঋদ্ধিমান সাহা করেন ১৯ রান।

গুজরাটি ব্যাটারদের থিতু হননি জাসপ্রিত বুমরাহ। মাত্র ১৪ রানে ৩ উইকেট তুলেন তিনি। দুটো উইকেট নেন জেরাল্ড কোয়েটজে।

জবাব দিতে নেমে ইশান কিষানকে শুরুতেই (০) হারালেও রোহিত শর্মা জ্বলে উঠেন। তিনে নামা নামান ধির ১০ বলে ২০ করে আউট হলেও ব্রেভিসকে নিয়ে ১২ ওভারে ১০৭ রান তুলেন রোহিত। রোহিত আউট হন ২৯ বলে ৪৩ রানে।

তবে এরপরই পথ হারায় মুম্বাই। ১৫.৫ ওভারে ব্রেভিস ৩৮ বলে ৪৬ করে আউট হন। এরপর তিলক ভার্মা ১৯ বলে ২৫ ও টিম ডেভিড আর হার্দিক পান্ডিয়া সমান ১১ রান করলেও তা জেতাতে পারেনি মুম্বাইকে। দুটি করে উইকেট নেন মোহিত শর্মা, উমেশ যাদব, ওমরজাই ও স্পেনসার জনসন।

হঠাৎ ‘ভারত ইস্যু’তে কেন মুখোমুখি বিএনপি-আওয়ামী লীগ

বাংলাদেশে রাজনীতিতে ইদানীং বেশ জমে উঠেছে ‘ভারত ইস্যু’, বিশেষ করে বিরোধী দল বিএনপি ও সরকারি দল আওয়ামী লীগের নেতাদের মধ্যে এ নিয়ে অনেক রাজনৈতিক তর্ক-বিতর্ক চলছে। ভারত নিয়ে প্রকাশ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের রেশ ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও।

পাশাপাশি নির্বাচনের পর থেকেই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ-বিরোধী কয়েকটি দলের তৎপরতায় শুরু হওয়া ‘ইন্ডিয়া আউট’ বা ভারতীয় পণ্য বর্জনের যে ক্যাম্পেইন, সেটিও সামাজিক মাধ্যমে আরো ডালপালা মেলেছে।

আবার ভারতবিরোধী এই প্রচারণা নিয়ে পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে অনেকে একে ‘ট্র্যাডিশনাল ভারত বিরোধী রাজনীতি’ হিসেবেও আখ্যায়িত করেছেন।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ রোববার (২৪ মার্চ) এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেছেন, ভারতীয় পণ্য বয়কটের ডাক দেয়ার উদ্দেশ্য হচ্ছে ‘বাজারকে অস্থিতিশীল করে পণ্যের দাম বাড়ানো’।

‘সব ভারতীয় পণ্য বাদ দিয়ে বাংলাদেশের বাজার ব্যবস্থা কখনো ঠিক রাখা যাবে?’, প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় আবার বলেছেন, ভারত নিয়ে ‘জনমনে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে বলেই’ এটি রাজনৈতিক আলোচনায় এসেছে।

‘নির্বাচন এলেই ভারত কোনো রাখঢাক না করেই সক্রিয় হয় বলেই মানুষ ভোট দিতে পারেনি বা বঞ্চিত হয়েছে। সে বঞ্চনা থেকেই ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। মানুষের ক্ষোভ কমানোর কাজ তো বিএনপির না,’ বিবিসি বাংলাকে বলেন তিনি।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী আব্দুর রহমান বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, এটি বিএনপির ‘আজন্ম ভারতবিরোধী রাজনীতির ধারাবাহিকতা’।

‘তারা এটি করছে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার জন্য কিন্তু মানুষ তা প্রত্যাখ্যান করছে,’ মন্তব্য করেন তিনি।

ভারত নিয়ে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের কারণ সম্পর্কে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক জোবাইদা নাসরীন বলেন, ‘বিএনপি বা সমমনা দল বা দলের নেতারা কেউ কেউ যখন ভারতীয় পণ্য বর্জন বা ভারত বিরোধিতাকে মাঠে নিয়ে আসেন তখন রাজনৈতিক কারণেই আওয়ামী লীগ তার কাউন্টার দিয়ে ভারতের ভূমিকার যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করতে চাইছে।’

বিএনপি-ভারত সম্পর্ক
বাংলাদেশের বিরোধী দল বিএনপির রাজনীতিতে ভারতবিরোধিতার ইতিহাস রয়েছে।

তবে বিগত ১০-১৫ বছরে দলটির মধ্যে একটি অংশ বিভিন্ন সময়ে ভারতের সাথে সুসম্পর্ক তৈরির চেষ্টাও করেছে।

আবার কখনো দলের মধ্যেই ভারতবিরোধী গ্রুপ শক্তিশালী হয়ে সে চেষ্টাকে ব্যাহতও করেছে।

২০১৩ সালে ভারতের তখনকার রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জীর ঢাকা সফর কালে সে সময়কার বিরোধী দলীয় নেত্রী হিসেবে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাক্ষাৎ বাতিলের সিদ্ধান্তকে তারই একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচনা করেন অনেকে।

পরে অবশ্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরের সময় হোটেলে গিয়ে তার সাথে সাক্ষাৎ করেছিলেন বেগম জিয়া।

২০১৪ সালে বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল বিএনপির বর্জন সত্ত্বেও এবং সে নির্বাচনের আগে ভারতীয় কূটনীতিকদের দৌড়ঝাঁপ দেখেও বিএনপি এ নিয়ে তখন খুব একটা উচ্চবাচ্য করেনি।

তবে ২০১৮ সালের নির্বাচনের পর বিএনপিকে ভারত ইস্যুতে সরব হতে দেখা যায়। ২০১৯ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরকালে দুই দেশের চুক্তি সম্পাদনের প্রতিবাদে মাঠে নেমেছিল বিএনপি।

সর্বশেষ বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে ২০২১ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরের প্রতিবাদে বাংলাদেশে যে সহিংস বিক্ষোভ হয়েছিল সেটিও বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলোর সাথে দিল্লির দূরত্ব বাড়িয়েছে বলে মনে করেন অনেকে।

এবার দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে থেকেই ভারতের ভূমিকায় ক্ষোভ প্রকাশ করে আসছিল বিএনপি।

দলটির নেতারা মনে করেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমারা আওয়ামী লীগ সরকারের ওপর যে চাপ তৈরি করেছিল সেটি ভণ্ডুল হয়ে গেছে মূলত ভারতের অনড় ভূমিকার কারণে।

‘নির্বাচন এলেই ভারতীয় নেতারা সক্রিয় হন। চারটি নির্বাচনে মানুষ ভোট দিতে পারেনি বলেই ক্ষোভ তৈরি হয়েছে জনমনে। জনগণের আন্দোলন থামানো তো বিএনপির কাজ না,’ বিবিসি বাংলাকে বলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

নির্বাচনের কিছু দিন পরেই ভারতকে প্রত্যাখ্যানের আওয়াজ তোলেন বিএনপির সাথে যুগপৎ আন্দোলনে থাকা গণ অধিকার পরিষদের নেতা ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর।

এরপরেই ‘ইন্ডিয়া আউট’ বা ভারতীয় পণ্য বর্জনের আন্দোলন শুরু হয় এবং একটা পর্যায়ে গত ২১ মার্চ বিএনপির মুখপাত্র ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী নিজেও এই আন্দোলনে সংহতি জানান।

এরপরে প্রতিক্রিয়া আসে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে। দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এক অনুষ্ঠানে বলেন, রাজনৈতিক কোনো ইস্যু না পেয়ে বিএনপি ভারতবিরোধিতা শুরু করেছে।

তিনি বলেন, ‘পাকিস্তান আমল থেকে যে অপপ্রচার শুনেছি, কোনো রাজনৈতিক ইস্যু যখন থাকে না, তখন একটাই ইস্যু আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে নিয়ে আসে। আগে বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে আনত আর এখন শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আনে। সেটা হচ্ছে ভারত বিরোধিতার ইস্যু।’

এর আগে ১৬ মার্চ সামাজিক মাধ্যমে ‘ইন্ডিয়া আউট’ ক্যাম্পেইনের সমালোচনা করেন ওবায়দুল কাদের।

তখন তিনি বলেন, ‘ভারতবিরোধী মনোভাব কেন জাগ্রত করার চেষ্টা করা হচ্ছে? যারা নির্বাচনে আসেনি, এটি তাদের অপপ্রচারের একটা ঢাল। আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতায় থাকে, তখন ভারতবিরোধিতায় লিপ্ত হয় একটি মহল। এখনো তারা সেটি করছে।’

এরপর ২২ মার্চ দলের ধানমন্ডির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি আবার এ নিয়ে কথা বলেন। সে সময় তিনি বলেন, ‘ভারতীয় পণ্য বয়কটের নামে বিএনপি দেশের বাজারব্যবস্থাকে অস্থির করার গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। বিএনপির ডাকে জনগণ সাড়া দেবে না।’

অন্যদিকে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অবসরপ্রাপ্ত) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ মন্তব্য করেন, ‘একটি রাষ্ট্রের প্রতি নতজানু পররাষ্ট্রনীতি বর্তমান শাসক দলের অভ্যাস। দিল্লি আছে, তারা আছে … এ ধরনের কথা বলতে আওয়ামী লীগের লজ্জাবোধ হয় না।’

বিবিসি বাংলাকে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘বিএনপি কোনো দেশের বিরুদ্ধে নয়। তবে জাতীয়তাবাদী রাজনীতির জন্য যা করা দরকার বিএনপি সেটিই করবে।’

‘বারবার আমাদের দেশের নির্বাচনে সক্রিয় হয়ে ভারত মানুষকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে বলেই তারা এখন আন্দোলন করছে। আমরা কেন তাতে বাধা দিব?,’ বলেন তিনি।

অন্যদিকে মন্ত্রী আব্দুর রহমান বলেন, ‘ভারতবিরোধী বক্তব্য হঠাৎ করে রাজনীতিতে এনে অস্থিরতা তৈরি করে একটি অশুভ শক্তি রাজনৈতিক ফায়দা লোটার অপচেষ্টায় লিপ্ত। তাদের জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছে।’

তিনি বলেন, ভারতসহ প্রতিটি উন্নয়ন সহযোগী দেশ দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে আয়োজনে সহায়তা করেছে ‘গণতন্ত্রের স্বার্থেই’।

কেন এই তর্ক-বিতর্ক?
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক জোবাইদা নাসরীন বলেছেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে ভারত সবসময় গুরুত্বপূর্ণ এবং বর্তমান বাস্তবতাতেও তাদের ভূমিকা আছে।

‘ফলে বিএনপি বা তাদের সমমনা কেউ যখন ভারতীয় পণ্য বর্জনের ডাক দেয় কিংবা ভারতবিরোধিতা করে কথা বলতে থাকে তখন রাজনৈতিক কারণেই আওয়ামী লীগকে তার কাউন্টার বা পাল্টা জবাব দিতে হয়,’ বিবিসি বাংলাকে বলেন তিনি।

তার মতে, দল দুটির রাজনীতিতেও ভারতের প্রভাব আছে।

‘যেহেতু বিএনপি মানুষের সেন্টিমেন্টকে উস্কে দিচ্ছে সে কারণে আওয়ামী লীগকে তার যে ভারতের সাথে সুসম্পর্ক আছে, সে জায়গা থেকে কথা বলতে হচ্ছে।’

‘বিএনপি চায় মানুষকে উস্কে দিয়ে ভারতবিরোধিতার নামে আওয়ামী লীগকে কোণঠাসা করতে। সে কারণেই আওয়ামী লীগের দিক থেকেও পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে,’ বলেন তিনি।

জোবাইদা নাসরীন অবশ্য মনে করেন সামনে যেহেতু ভারতের নির্বাচন, বিরোধী দলগুলোর ভারতবিরোধিতায় জোর দেয়ার সেটিও একটি কারণ হতে পারে।

‘ভারতের নির্বাচনে বাংলাদেশের সেই অর্থে প্রভাব নেই। বিএনপি ও আওয়ামী লীগের বাতচিতও তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ না।’

‘কিন্তু বিএনপির মধ্যে নরেন্দ্র মোদিবিরোধী ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তাই ভারতের নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশে মোদিবিরোধী মনোভাব আরো উস্কে দেয়ার সুযোগটা হয়তো বিরোধীরা নিতে চাইছে। এসব কারণে ভারত ইস্যু রাজনীতির মাঠে সামনে চলে এসেছে,’ বিবিসি বাংলাকে বলেন তিনি।

এদিকে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের পাল্টাপাল্টি অবস্থানের মধ্যেই ‘বয়কট ইন্ডিয়ান প্রোডাক্টস’ নামে ফেসবুক গ্রুপ খুলে ক্যাম্পেইন শুরু করেছেন এই প্রচারণার সমর্থকদের একটি অংশ। সেখানে নানা পোস্টে মতামত দিচ্ছেন অসংখ্য মানুষ।

সেখানেই ইরফান আহমেদ নামে একজন লিখেছেন, ‘দেশি পণ্য ক্রয় করে নিয়ে আসলাম। আমি আমার জায়গা থেকে ভারতীয় পণ্য বয়কট করেছি।’

আবার আহমেদ ইমরান নামে আরেকজন লিখেছেন, ‘মানুষ কই ঘুরবে, কই খাবে, কই চিকিৎসা নিবে এইটা নিয়েও এত যন্ত্রণা?’

‘পৃথিবীর নৈসর্গিক সৌন্দর্যের দেশ ভারত। প্রতিবেশী দেশ হিসেবে খুব অল্প খরচেই সেখানে ভ্রমণ করতে পারি। মানুষের সব কিছুতে নাক গলানো বাদ দেন।’

সূত্র : বিবিসি

গভীর সঙ্কটের সম্মুখীন দেশ : মির্জা ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বাংলাদেশ গভীর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সঙ্কটের সম্মুখীন। আমরা এমন এক সময়ে ইফতারের জন্য একত্রিত হয়েছি যখন দেশ আবার চলমান ফ্যাসিবাদী শাসনের কবলে পড়েছে। বিশ্ব জানে, বাংলাদেশে ৭ জানুয়ারি যা ঘটেছিল তা কোনো নির্বাচন নয় বরং জাতির গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার জন্য তা অপমানজনক।

রোববার গুলশান হোটেল ওয়েস্টিনে এক ইফতার পূর্ব বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতি বছরের ন্যায় এবারো কূটনৈতিকদের সম্মানে ইফতার মাহফিল করে বিএনপি। কূটনৈতিকদের সাথে দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের সুশীল সমাজ, বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন দেশের দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত ও কর্মকর্তারাও এ ইফতার মাহফিলে অংশ নেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, শাসকগোষ্ঠীর দ্বারা সংগঠিত নির্লজ্জ কারচুপি, অনিয়ম ও সহিংসতা গণমাধ্যমের প্রতিবেদন, ছবি, ঘটনাস্থলে ধারণ করা রিয়েল টাইম ভিডিও এবং সারাদেশের নির্বাচনী কৌশল প্রতিবেদন থেকে স্পষ্ট হয়েছে এই নির্বাচনের চিত্র। এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও এই ডামি নির্বাচনকে প্রত্যাখ্যান করেছে।

তিনি বলেন, এ নির্বাচন একটি অত্যন্ত মেরুকৃত রাজনৈতিক পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচন হয়েছে প্রহসনমূলক যেখানে প্রকৃত প্রতিযোগিতার অভাব ছিল। এ কারণে এ নির্বাচন মূল আন্তর্জাতিক মান পূরণ করে না। এদিকে সরকারের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যসহ হাজার হাজার রাজনৈতিক নেতা-কর্মীকে কারারুদ্ধ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ইসরাইলি বাহিনী কর্তৃক নিরীহ বেসামরিক জনগণের ওপর পরিচালিত অমানবিক হত্যাকাণ্ডে আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং জাতিসঙ্ঘকে এই গণহত্যা বন্ধে অবিলম্বে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানাই। আমরা বিশ্বাস করি দুই রাষ্ট্রীয় নীতিই এর সঠিক সমাধান।

তিনি আরো বলেন, মানুষে মানুষে সম্পর্ক হলো সেই ভিত্তি যার উপর স্থায়ী সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সংস্কৃতি, ধারণা এবং অভিজ্ঞতার আদান-প্রদানের মাধ্যমেই আমরা সীমানা অতিক্রম করতে পারি এবং শ্রদ্ধা ও সংহতির মূলে থাকা একটি বিশ্ব সম্প্রদায়কে গড়ে তুলতে পারি।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- কানাডার হাই কমিশনার মিসেস লিলি নিকোলস, ব্রিটিশ হাই কমিশনার মিসেস সারা কুক, আমেরিকার দ্যা চার্জ আফেয়ার্স হেলেন লাফাভ, পাকিস্তান দূতাবাসের সৈয়দ আহমদ মারুফ, অস্ট্রেলিয়ার ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার নারদির সিম্পসন, জার্মানির রাষ্ট্রদূত আচিম ট্রাকস্টার, ভারতীয় ডেপুটি হাইকমিশন ড. বিনয় জর্জ, ইউরোপীয় ইউনিয়নের চার্জ দ্যা আফেয়ার্স ড. ব্রেন্ড স্প্যানিয়ার, চীনের ডেপুটি অ্যাম্বাসেডর ইয়ান হুয়ালং, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য জমির উদ্দিন সরকার, ড. আব্দুল মঈন খান, মির্জা আব্বাস, গয়েস্বর চন্দ্র রায় আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী প্রমুখ।

এছাড়া জাতিসঙ্ঘ, এনডিআই, আইআরআইসহ ৩৮টি দেশের প্রতিনিধি অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

ডিপফেক পর্নোগ্রাফির শিকার ৪ হাজার তারকা

ডিপফেক যে ক্রমশ আতঙ্কের জন্ম দিচ্ছে, তা নানা মহলেই আলোচিত হচ্ছিল। এবার তার বড় প্রমাণ মিলল। জানা গেল, বিশ্ব জুড়ে ৪ হাজার তারকা ও বিখ্যাত ব্যক্তি ডিপফেক পর্নোগ্রাফির শিকার হয়েছেন। এই চমকে দেওয়া খবরটি একটি গবেষণায় দাবি করা হয়েছে। এক ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের বিশ্লেষণ বলছে, এঁদের মধ্যে ২৫০ জনের বেশি শুধু ব্রিটিশ তারকাই আছেন!

অন্য এক প্রখ্যাত ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডিপফেক ওয়েবসাইটগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত পাঁচটির তথ্য বিশ্লেষণ করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম। তারা বলছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে প্রায় চার হাজার তারকা ও বিখ্যাত ব্যক্তির মুখ এই পর্নোগ্রাফিক ইমেজে জুড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে একটাই বাঁচোয়া, এইসব ব্যক্তির নাম প্রকাশ করা হয়নি।

যে সংবাদমাধ্যম এই কাণ্ডটি করেছে তারা আহ্লাদিত হয়ে বলেছে, ওই পাঁচটি ডিপফেক ওয়েবসাইটের ভিডিয়োগুলি মাত্র ৩ মাসের মধ্যে ১০ কোটি ভিউ এনে দিয়েছে!

গবেষকেরা কাজটি করতে গিয়ে একটা আশ্চর্য জিনিস খেয়াল করেছেন। ২০১৬ সাল অনলাইনে মাত্র একটি ডিপফেক পর্নোগ্রাফি ভিডিয়ো শনাক্ত করতে পেরেছেন তাঁরা। অথচ, ২০২৩ সালের প্রথম কয়েক মাসেই ৪০ টির বেশি ডিপফেক পর্নোগ্রাফি ওয়েবসাইটে ১ লাখ ৪৩ হাজার ৭৩৩টি ভিডিয়ো আপলোড করার তথ্য পেয়ে মাথা ঘুরে যায় তাঁদের। তাঁরা বলছেন, গত কয়েক বছরের মধ্যে এটা সবচেয়ে বেশি!

অনলাইন নিরাপত্তা আইন বিষয়ে পরামর্শ দেয় এমন এক সংস্থার এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, অবৈধ ডিপফেক বিরক্তিকর ও ক্ষতিকারক। এ ধরনের জিনিস কী ভাবে নির্বিবাদে ও নির্বিচারে প্রচার পেয়ে যাচ্ছে, সেটা দেখতে হবে। অনলাইন নিরাপত্তা আইন নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে। পাশাপাশি তিনি এই প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কনটেন্টের প্রদর্শন বন্ধের কথাও বলেন।
সূত্র : জি নিউজ

বাপ্পা মজুমদারের কণ্ঠে সায়ীদ আবদুল মালিকের ‘ব্যস্ত শহর’

সাংবাদিক ও গীতিকার সায়ীদ আবদুল মালিকের লেখা ‘ব্যস্ত শহর’ গানে কণ্ঠ দিলেন প্রজন্মের হার্টথ্রুব গায়ক বাপ্পা মজুমদার। রেকর্ডিং, মিক্সিং ও মাস্টারিং শেষে বর্তমানে গানটির মিউজিক ভিডিওর কাজ চলছে। খুব শিগগিরই বাপ্পা মজুমদারের নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেলে গানটি মুক্তি পাবে বলে জানিয়েছেন গায়ক নিজেই।

কথা ও সুরের বৈচিত্রে গানটি শ্রোতাপ্রিয়তা পাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংগীতশিল্পী বাপ্পা। গানটির মধ্য দিয়ে শ্রোতারা ভিন্নধারার কথা ও বৈচিত্র্যময় সুরের স্বাদ পাবে বলেও জানান তিনি।

গানটির গীতিকার হিসেবে সায়ীদ আবদুল মালিককে অনন্য উচ্চতায় আসীন করবে বলেও ধারণা করেছেন জনপ্রিয় এই শিল্পী।

তিনি বলেন, ‘এটি আমার গাওয়া সায়ীদ আবদুল মালিকের লেখা দ্বিতীয় গান। এর আগে ভাষা শহীদদের নিয়ে তার লেখা প্রাণের বর্ণমালা শিরোনামের একটি ভাষার গান সুর, সঙ্গীত আয়োজন ও কণ্ঠ দিয়েছিলাম আমি।’

গানটি নিয়ে গীতিকার সায়ীদ আবদুল মালিক বলেন, ‘ব্যস্ত শহরের নানা যান্ত্রিক জটিলতা, একাকিত্বতা ও মানুষে মানুষে সম্পর্কের টানাপোড়েন নিয়েই গানটি লেখা। এই গানটি গীতিকার হিসেবে আমার ক্যারিয়ার আরো একধাপ এগিয়ে যাবে বলে আমার বিশ্বাস।’