Home Blog Page 614

ডলার সংকটে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্র : যেমন প্রভাব পড়তে পারে

ডলার সংকটের কারণে কয়লার দাম দিতে না পারায় সাময়িকভাবে বন্ধ হতে যাচ্ছে দেশের বৃহত্তম বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র- পায়রা বিদ্যুৎ কেন্দ্র। কয়লা না থাকায় এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দু’টি ইউনিটের একটিতে গত বৃহস্পতিবার থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে।

পূর্ণ সক্ষমতায় চললে এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দুটি ইউনিট চালাতে প্রতিদিন প্রায় ১৩ হাজার টন কয়লা প্রয়োজন হয়। আর বর্তমানে কর্তৃপক্ষের কাছে ৫০ হাজার টনের মতো কয়লা রয়েছে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রটির ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ-চীন পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের (বিসিপিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ এম খোরশেদুল আলম।

বিবিসি বাংলাকে তিনি বলেন, ‘বিদ্যুৎ কেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে গেছে। আরেকটি ইউনিট হয়তো তিন বা চার তারিখের দিকে বন্ধ হয়ে যাবে কয়লা স্বল্পতার জন্য।’

এরপর জুন মাসে অন্তত তিন সপ্তাহ বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির কার্যক্রম বন্ধ থাকতে পারে বলে অনুমান করেন খোরশেদুল আলম।

এই সময়ে দেশের দক্ষিণাঞ্চলসহ অন্যান্য এলাকাতেও লোডশেডিংয়ের মাত্রা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

কিভাবে তৈরি হলো কয়লার সংকট?
পায়রা বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় কয়লা কিনতে ঋণ দেয় বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির চীনা অংশীদার চায়না ন্যাশনাল মেশিনারি ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট কোম্পানি (সিএমসি)। চীনের রাষ্ট্রায়ত্ব এই সংস্থা আর বাংলাদেশের নর্থওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি লিমিটেডের যৌথ বিনিয়োগে এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু হয় ২০২০ সালে।

আর বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নির্মাণের কাজ করে বাংলাদেশ-চায়না পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড। কেন্দ্রের পরিচালনার দায়িত্বও বিসিপিসিএলের ওপরই।

শুরু থেকেই এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য কয়লা কেনার দায়িত্ব সিএমসির ওপর ছিল বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক খোরশেদুল আলম। তারা কয়লা কেনার জন্য অর্থ দিয়ে থাকে এবং প্রতি ছয় মাস পরপর কয়লার টাকা আদায় করে।

খোরশেদুল আলম বলেন, কয়লা আমদানির বকেয়া বিল না দিতে পারার কারণে নতুন করে কয়লা কেনা যাচ্ছে না।

‘এপ্রিল মাস পর্যন্ত প্রায় ৩৯০ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা) বকেয়া হয়েছে। গত বছরের নভেম্বরে তারা যে পেমেন্ট করেছে, সেটি শোধ করার কথা ছিল এই এপ্রিলে। এপ্রিলে আমরা এই টাকা দিতে পারিনি।’

এই বকেয়া বিল পরিশোধ না করা হলে সিএমসি আর কয়লা কেনার জন্য টাকা দেবে না। ফলে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য কয়লাও কেনা সম্ভব হবে না।

ডলার সংকটের কারণে কয়লার বকেয়া বিল দেয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে জানান খোরশেদুল আলম। সপ্তাহ দুয়েক আগে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদও সাংবাদিকদের বলেছিলেন যে ডলারের কিছুটা সংকট থাকায় কয়লার টাকা পরিশোধ করা সম্ভব হচ্ছে না।

সেসময় তিনি আশা প্রকাশ করেছিলেন যে ‘সপ্তাহ খানেকের মধ্যেই’ এই সমস্যার সমাধান হবে বলে।

সংকটের সমাধানে কী করা হচ্ছে?
চীনা প্রতিষ্ঠান সিএমসিকে এরই মধ্যে ৬০ মিলিয়ন ডলার ফেরত দেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিসিপিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক খোরশেদুল আলম।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক, সরকার ও আমরা এ মাসের ৩১ তারিখের মধ্যে ১০০ মিলিয়ন ডলার তাদের ফেরত দেয়ার ব্যবস্থা করেছি। এরই মধ্যে ৬০ মিলিয়ন ডলার পেমেন্ট করা হয়েছে।’

‘আমরা আশা করছি এর মাধ্যমে আমরা কয়েকদিনের মধ্যেই তাদের কয়লা কেনার অর্থ দিতে রাজি করতে পারবো।’

সিএমসির সাথে এই বিষয়ে আলোচনা শেষে কয়েক দিনের মধ্যেই তারা এলসি খুলতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেন খোরশেদুল আলম।

‘এলসি খোলার পর জাহাজ যাবে, কয়লা লোড হবে, তারপর আসবে, আনলোড হবে – সব মিলিয়ে কমপক্ষে ২৫ দিন লাগবে,’ বলেন তিনি।

লোডশেডিংয়ে কতটা প্রভাব পড়বে
বর্তমানে দেশে প্রতিদিন গড় বিদ্যুতের চাহিদা ১৩ থেকে সাড়ে ১৩ হাজার মেগাওয়াট। এর বিপরীতে গড়ে প্রতিদিন ১২ থেকে সাড়ে ১২ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়।

তবে কখনো কখনো দৈনিক চাহিদার চেয়ে বেশি বিদ্যুৎও উৎপাদন হয়। যেমন এবছরের ২৯ এপ্রিল সাড়ে ১৫ হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছিল। সেদিন দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১১ হাজার ৫৫৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ।

কিন্তু পিডিবির হিসাবে, চাহিদার চেয়ে তিন হাজার মেগাওয়াট বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন হলেও ওইদিন বাংলাদেশে বিদ্যুতের যোগান ছিল মোট চাহিদার চেয়ে ৯০ মেগাওয়াট কম।

কারণ বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষমতা থাকলেও সঞ্চালন ও সরবরাহ লাইনের অভাব থাকায় গ্রাহকদের কাছে ঠিকমতো বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যায় না। তাই অনেক এলাকাতেই গ্রাহকরা বিদ্যুৎ সেবা ঠিকমতো পান না।

চালু হওয়ার পর থেকে পায়রা বিদ্যুৎ কেন্দ্র গত তিন বছরে প্রতিদিনই এর পূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছে। তাই এই কেন্দ্রটি বন্ধ থাকলে লোডশেডিংয়ের মাত্রা কিছুটা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করেন পিডিবির একজন পরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা শামীম হাসান।

তিনি বলেন, ‘এই সময়ের মধ্যে যদি বৃষ্টি হয় তাহলে হয়তো বিদ্যুতের ওপর তেমন চাপ পড়বে না, কারণ বৃষ্টির সময় চাহিদা কম থাকে। কিন্তু যদি আবহাওয়া পরিষ্কার থাকে আর তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রির ওপর থাকে, তাহলে লোডশেডিংয়ের মাত্রা কিছুটা বাড়বে।’

সেক্ষেত্রে পায়রা বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে যেসব অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়, সেসব এলাকায় অপেক্ষাকৃত বেশি চাপ পড়তে পারে। আবার ভারসাম্য রক্ষা করতে সারা দেশেও লোডশেডিংয়ের মাত্রা কিছুটা বাড়তে পারে বলে জানান শামীম হাসান।

সূত্র : বিবিসি

আবারো তুরস্কের প্রেসিডেন্ট হলেন এরদোগান

রজব তাইয়্যেব এরদোগান আবারো তুরস্কের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।

রাষ্ট্র পরিচালিত বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি জানিয়েছে, ৯৭ শতাংশ ব্যালট বাক্সের গণণা শেষ হয়েছে। এতে এরদোগান পেয়েছেন ৫২.১ শতাংশ ভোট এবং তার প্রতিদ্বন্দ্বী কামাল কিলিচদারোগ্লু পেয়েছেন ৪৭.৯ শতাংশ ভোট।

রোববার (২৮ মে) দ্বিতীয় দফায় এ ভোটগ্রহণ হয়।

প্রথম দফায় কেউ নিয়ম অনুসারে ৫০ শতাংশ ভোট না পাওয়ায় দ্বিতীয় দফায় ভোট গ্রহণ করতে হয়।

ইতোমধ্যে কাতারের আমির, হাঙ্গেরির ও লিবিয়ার প্রধানমন্ত্রী, ভেনিজুয়েলার, ইরান, আজারবাইজান ও সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট এরদোগানকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

গত ১৪ মে অনুষ্ঠিত হওয়া প্রথম দফার ভোটে এরদোগান পান ৪৯.৫২ শতাংশ ভোট আর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী কিলিচদারোগ্লু পান ৪৪.৮৮ শতাংশ ভোট।

ওই ধাপে তৃতীয় হয়েছিলেন সিনান ওগান। তিনি পান ৫.১৭ শতাংশ ভোট। এ ধাপে অবশ্য তিনি এরদোগানকে সমর্থন জানিয়েছে।

আনাদোলু এজেন্সির তথ্যমতে, দেশটির ৬ কোটি ৪০ লাখ বৈধ ভোটারের মধ্যে প্রথম ধাপে ৪৪.৮৪ শতাংশ ভোটার ভোট দিয়েছিলেন।

২০১৪ সাল থেকে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন এরদোগান। এর আগে ২০০৩ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত দেশটির প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। আর ইস্তাম্বুলের মেয়র ছিলেন ১৯৯৪ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত।

সূত্র : আলজাজিরা, আনাদোলু এজেন্সি, ডেইলি সাবাহ

যে সিনেমা টানা ২৭ বছর ধরে হলে চলছে

ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে যে ছবিটি সিনেমা হলে একটানা প্রদর্শিত হয়েছে তার নাম দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে, সিনেমা-প্রেমীদের কাছে যা সংক্ষেপে ডিডিএলজে নামে পরিচিত।

বলিউড কাঁপানো এই ছবি মুক্তি পাওয়ার পর ২৭ বছর ধরে মুম্বাইয়ের একটি সিনেমা হলে প্রতিদিন সকালে প্রদর্শিত হয়েছে।

এই ছবিতে অভিনয় করে রাতারাতি সুপারস্টার হয়েছেন শাহরুখ খান, কাজল এবং পরিচালক আদিত্য চোপড়া।

হাসতে হাসতে কাজল বিবিসিকে বলেছেন, এই ছবি যে একদিন এত বড় ঘটনা হয়ে উঠবে এবং দর্শকদের কাছে এত বছর ধরে আদৃত হবে সে বিষয়ে তাদের কোনো ধারণা ছিল না।

‘আমরা কয়েকজন তরুণ-তরুণী মিলে শুধু একটা জনপ্রিয় ছবি তৈরি করতে চেয়েছিলাম। এটাই ছিল আমাদের জীবনের প্রধান লক্ষ্য। তবে ছবিটি নিয়ে পরে যা হয়েছে তা এক বিশাল ঘটনা! আমরা যা করেছি সেটা সত্যিই যাদুকরী এবং এর পুনরাবৃত্ত সম্ভব নয়,’ বলেন তিনি।

হিন্দি সিনেমার জগতে কাজল অত্যন্ত জনপ্রিয় এক তারকা। দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গের সাফল্যের পেছনেও তিনি ছিলেন অন্যতম।

ছবিতে ভারতের কিং খান শাহরুখের নায়িকা হিসেবে অভিনয় করেছেন কাজল।

‘কখনো বুঝতে পারিনি’

ডিডিএলজে মুক্তি পায় ১৯৯৫ সালের অক্টোবর মাসে।

এই সিনেমার প্রিমিয়ার হয়েছিল মুম্বায়ের মারাঠা মন্দির সিনেমা হলে। তার পর থেকেই ছবিটি সেখানে ২৭ বছর ধরে প্রতিদিন দেখানো হয়েছে। শুধু কোভিড মহামারির সময় এর প্রদর্শনী অল্প কিছু সময়ের জন্যে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।

এখনো সেই এতিহ্য অব্যাহত রয়েছে।

কাজল বলছেন, ‘ছবিটির জন্য আমরা যখন শুটিং করতে শুরু করলাম তারপরে কোনো একদিন এবং পরে যখন মুক্তি দেয়া হলো, আমরা কখনো ভাবিনি যে এটি এত বড় ঘটনা হয়ে উঠবে।’

‘ছবিটি তৈরির জন্য আমরা কৃতিত্ব দাবি করতে পারি। কিন্তু পরে এত জনপ্রিয় হয়ে ওঠা এবং এত দীর্ঘ সময় ধরে হলে দেখানো- আমি মনে করি এটা তাদের কারণেই সম্ভব হয়েছে যারা ছবিটিকে গ্রহণ করেছে, তাদের পরিবারের ঐতিহ্যের অংশ করে নিয়েছে, নিজেদের ছেলে-মেয়ে ও নাতি পুতিদের সিনেমাটি দেখিয়েছে, এমনকি বিয়ের প্রস্তাব দিতেও ছবিটিকে ব্যবহার করছে।’

ছবির কাহিনী

দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে ছবিতে দেখা যায়, ভারতীয় একদল তরুণ তরুণী ছুটিতে ইউরোপে বেড়াতে আসে। এসময় অপূর্ব এক নৈসর্গিক পরিবেশে সিমরান ও রাজ পরস্পরের প্রেমে পড়ে যায়।

সিমরান চরিত্রে কাজল এবং রাজের চরিত্রে অভিনয় করেছেন শাহরুখ খান।

সিমরানের বাবা যখন বুঝতে পারেন যে তার মেয়ে রাজের প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছে তখন তিনি তার পুরো পরিবার নিয়ে লন্ডন থেকে ভারতে চলে যান তার পছন্দের এক পাত্রের সাথে কন্যার বিয়ে দেয়ার জন্যে।

কিন্তু রাজ সিমরানকে এতটাই ভালোবেসে ফেলে যে সেও ভারতে চলে যায়।

পরে সিমরানকে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে নায়ক রাজ সিমরানের বাবা মায়ের মন জয় করার চেষ্টা করে।

‘দিন শেষে প্রত্যেক সন্তানই চায় তাদের পিতামাতা তাদের দিকে তাকিয়ে বলুক, তুমি বেশ ভালো করেছ, আমি তোমার সাথেই আছি। আমার মনে হয় এই বিষয়টাই সবাইকে নাড়া দিয়েছে এবং সবাই এর মধ্যে নিজেকে খুঁজে পেয়েছে,’ বলেন কাজল।

প্রতিদিন সকালে

ডিডিএলজে মুক্তি পাওয়ার পর প্রতিদিন সকাল সাড়ে ১১টায় মারাঠা মন্দির সিনেমা হলে ছবিটি দেখানো হতো। টিকেটের দাম ছিল মাত্র ৩০ রুপি।

সিনেমা হলের বাইরের দেয়াল ছিল উজ্জ্বল কমলা রঙের। সেখানে টাঙ্গানো বিশাল এক বিলবোর্ড যাতে শাহরুখ খান ও কাজলের ছবি।

এসআরকের পরনে সেই হার্লি ডেভিডসন চামড়ার জ্যাকেট। সিমরানকে সে তার কাঁধের উপরে তুলে নিয়েছে। বিলবোর্ডে লেখা- ‘আসুন, আবার প্রেমে পড়ুন।’

দর্শকরা যখন থিয়েটারের ভেতরে প্রবেশ করে, স্পিকার থেকে তাদের কানে ভেসে আসে এই ছবির জনপ্রিয় সব গান। হলের মাঝখানে একটি হিন্দু মন্দির। তার চারপাশ ঘিরে উজ্জ্বল হয়ে জ্বলছে লাল সবুজ বাতি।

‘সেখানে গেলে মনে হবে যে আপনি অতীতে ফিরে গেছেন। আসনগুলো একই রঙের। মঞ্চটাও একই ধরনের। সিনেমাটি মুক্তি পাওয়ার কুড়িতম বার্ষিকীতে আমরা দুজনেই মারাঠা মন্দিরে গিয়েছিলাম।’

‘ওই থিয়েটারে ফিরে যাওয়া দারুণ এক অনুভূতির জন্ম দিয়েছিল। সেখানে আমরা প্রথমবারের মতো সিনেমাটি দেখি এবং দেখতে দেখতে আমরা আমাদের অভিনয়ের সমালোচনা করি- এই কাজটা আমরা আরো ভালো করতে পারতাম, ওই কাজটা আরো ভালো হতে পারতো,’ বলেন কাজল।

কাজল বলেন, লোকজন এখনো সিনেমাটি দেখতে যাচ্ছে। দিনের পর দিন। বিশেষ করে মারাঠা মন্দিরে। সারা দেশ থেকেই লোকজন এখানে আসছে হলে বসে এই সিনেমা দেখতে।

এক দম্পতি দর্শকের কথা

এই ছবি দেখতে যেমন এসেছিলেন ভিজে এবং তার স্ত্রী প্রীতি।

তারা ৫৬০ কিলোমিটার দূর থেকে এসেছেন এই সিনেমা দেখতে। তাদের বিয়ের সপ্তম বার্ষিকী উপলক্ষে। একটা রোমান্টিক ছবি দেখার মাধ্যমে তারা তাদের বিবাহ বার্ষিকী উদযাপন করতে চেয়েছেন।

প্রীতি এই ছবিতে তার সবচেয়ে প্রিয় দৃশ্যটির কথা বর্ণনা করছিলেন। সেটি হচ্ছে বিখ্যাত সেই ট্রেনের দৃশ্য যখন সিমরানের পিতা তার মেয়েকে উদ্দেশ্য করে বলতে থাকেন- ‘সিমরান যাও, সিমরান যাও।’

কাজল একটা মজার ঘটনার কথা উল্লেখ করেন। তারা তখন জয়পুরে শুটিং করছিলেন।

‘আমরা যে হোটেলে উঠেছি তার একজন শেফ আমার কাছে এসে বললো- ম্যাম, আপনাকে একটা কথা আমার বলতেই হবে- আমি আমার স্ত্রীকে ডিডিএলজে দেখাতে ২৩বার সিনেমা হলে নিয়ে গেছি। এবং তার পরেই তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেই।’

‘আমার তখন মনে হলো, ও মাই গড, এটা তো একটা দারুণ ঘটনা। এই সিনেমা দেখতে যাওয়া নিয়ে লোকজনের নানা ধরনের গল্প আছে। এটা তাদের জীবনের অংশ হয়ে গেছে। মারাঠা মন্দিরে সিনেমাটি দেখতে গেলে দারুণ অনুভূতি হবে, মনে হবে আরে…আমি তো এটা দেখেছি, এটা তো সেই একই পপকর্ন, একই পোশাক এবং এটা তো গরুর সেই ঘণ্টাটা।’

গরুর এই ঘণ্টা সিমরান সুইজারল্যান্ড থেকে সুভ্যেনির হিসেবে সংগ্রহ করেছিল। মারাঠা মন্দিরে একটি কাঁচের বাক্সর ভেতরে ঘণ্টাটা রাখা এবং তার পাশেই রাখা সোনার এক ট্রফি।

আদিত্য চোপরার অভিষেক

বলিউড জগতে পরিচালক আদিত্য চোপরার অভিষেক হয় এই দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে ছবি নির্মাণের মধ্য দিয়ে। সে সময় তার বয়স ছিল মাত্র ২৩ বছর। এর আগে ১৮ বছর বয়স থেকেই তিনি তার বাবা বিখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা ইয়াশ চোপরার সহকারী হিসেবে কাজ করছিলেন।

কাজল বলেন, ‘নতুন পরিচালক আদির সাথে কাজ করা আমার জন্য খুব সহজ ছিল। কারণ তাকে আমি অনেক আগে থেকেই চিনতাম। আমরা আসলেই খুব ভালো বন্ধু। ফলে আমরা যখন কাজ শুরু করি কাজটা খুব স্বাভাবিকভাবেই এগিয়েছে।’

‘আমরা সবাই খুব আনন্দ করেছি। একজন আরেকজনকে নিয়ে মজা করেছি। আমার জন্য সবচেয়ে মজার ছিল ইউরো রেলে চড়া। আমরা সবাই বাসে করে সারা সুইজারল্যান্ডে ঘুরে বেড়িয়েছি। এই ছবির শুটিং করতে গিয়ে আমরা সবাই দারুণ সময় কাটিয়েছি,’ বলেন তিনি।

মজার অভিজ্ঞতা

‘কাপড় বদলাতে হবে। কৃষকের একটি গরুর শেডে গিয়ে আমাকে শাড়ি পরতে হয়েছিল। আমার পাশেই ছিল একটি গরু। আমি বিশ্বাস করতে পারছিলাম না যে আমি আসলেই সেখানে কাপড় বদলাচ্ছি। খুব দ্রুত শাড়ি পরে ফেললাম। বললাম আমি রেডি, শট দেয়ার জন্য আমি রেডি।’

এই ছবিতে কাজলসহ আরো অনেকেরেই বয়স ছিল কুড়ির ঘরে।

কাজল জানান, ইয়াশ চোপড়া এবং তার স্ত্রী শুটিংয়ের সময় তাদের ওপর সবসময় কড়া নজর রাখছিলেন। কারণ এই ছবির জন্য তিনি তার ছেলেকে সব অর্থ দিয়েছিলেন।

ডিডিএলজে ছবির গান, যেগুলোতে কাজল ঠোঁট মিলিয়েছেন, তাতে কণ্ঠ দিয়েছেন প্লে ব্যাক কুইন হিসেবে পরিচিত প্রয়াত লতা মঙ্গেশকার।

“এই ছবির সবগুলো গান আমার খুব প্রিয়। এই গানগুলো সর্বকালের। আজকের দিনেও এগুলো আমার প্রিয় গান। তার পরেও আমি বলব ‘মেন্দি লাগাকে রাখ না’ আমার সবচেয়ে প্রিয়।”

গানটি পরে ভারতে বিয়ের অনুষ্ঠানে খুবই পরিচিত একটি গান হয়ে উঠেছে।

ডিডিএলজে ১০টি ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ড জয় করেছে। এই ছবি দিয়েই রাতারাতি সুপারস্টার হয়ে ওঠেন কাজল, এসআরকে এবং আদিত্য চোপরা।

কাজল বলেন, ‘আমি আশা করব লোকজন এখনো এই ছবি উপভোগ করুক, দেখুক এবং তাদের পারিবারিক ঐতিহ্যের অংশ করে তুলুক। ছবিটির প্রতি তাদের ভালোবাসা অব্যাহত থাকুক।’

সারা বিশ্বে মুক্তিপ্রাপ্ত ডিডিএলজে সে সময় প্রায় দুই কোটি ডলার আয় করেছে, যা ছিল ১৯৯৫ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ছবিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ব্যবসা-সফল সিনেমা।

সূত্র : বিবিসি

রাশিয়ার ‘ব্যাপক’ ড্রোন হামলায় কিয়েভে একজন নিহত

ইউক্রেনের রাজধানীতে ‘ব্যাপক’ রাশিয়ান ড্রোন হামলার পর কিয়েভে একজন বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। শহরের মেয়র ভিটালি ক্লিটসকো রোববার এ কথা বলেছেন।

মেয়র এবং সাবেক বক্সার টেলিগ্রামে বলেছেন, ‘৩৫ বছর বয়সী এক মহিলাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং ৪১ বছর বয়সী এক লোক মারা গেছে।’ একটি পেট্রোল স্টেশনের কাছে ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ বিধ্বস্ত হয়েছে।

তিনি বলেন, কিয়েভের বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী শহরের দিকে যাওয়া ‘২০টিরও বেশি ড্রোন’ গুলি করে ভূপাতিত করেছে এবং শহরের বাসিন্দাদের অনুরোধ জানিয়ে বলেছেন, ‘আশ্রয়স্থলে থাকুন। আক্রমণটি ব্যাপক!’

তিনি বলেন, হলোসিভস্কি জেলার একটি কোম্পানির চত্বরেও আগুন লেগেছে। রুশ বাহিনী মে মাসজুড়ে কিয়েভকে টার্গেট করেছে।

স্থানীয় বেসামরিক ও সামরিক প্রশাসনের প্রধান সের্হি পপকো শুক্রবার বলেছেন, চলতি মাসে ১৩টি হামলা হয়েছে।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে, ইউক্রেন সীমান্তবর্তী অঞ্চলে রাশিয়ার ড্রোন হামলার রিপোর্টও বহুগুণ বেড়েছে।

শনিবার ওইসব এলাকায় গোলাবর্ষণে দু’জন নিহত হয়েছে বলে আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
ক্রেমলিনসহ ক্রমবর্ধমান সংখ্যক হামলা ও নাশকতা অভিযানের জন্য মস্কো কিয়েভ এবং তার পশ্চিমা সমর্থকদের দায়ী করেছে, তবে ইউক্রেন এ সব হামলায় জড়িত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেছে।
সূত্র : বাসস

ট্রেইলারেই বিতর্কের জন্ম দিলো ‘দ্য ডায়েরি অব ওয়েস্ট বেঙ্গল’

ভারতে ‘দ্য ডায়েরি অফ ওয়েস্ট বেঙ্গল’ নামে একটি হিন্দি সিনেমার ট্রেলার নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। কারণ সেখানে বলা হয়েছে, ‘অসংগঠিত হিন্দুদের কাছে পশ্চিমবঙ্গ এখন দ্বিতীয় কাশ্মীর হয়ে গেছে!’ আরো বলা হয়েছে, ‘সরকারি মদদে সেখানে রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশীদের বসবাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে।’

পশ্চিমবঙ্গের ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য এই সিনেমা তৈরি করা হয়েছে বলে ইতোমধ্যে কলকাতা পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ৩০ মে’র মধ্যে পরিচালক সানোজ মিশ্রকে কলকাতার আমহার্স্ট স্ট্রিট থানায় হাজির হতে বলা হয়েছে।

তবে ওই পরিচালকের দাবি, তিনি সত্য ঘটনা অবলম্বনে যথেষ্ট গবেষণা করেই সিনেমাটি বানাচ্ছেন।

ছবিটি প্রযোজনা করেছেন জিতেন্দ্র নারায়ণ সিং ত্যাগী, যিনি ২০২১ সালের ৬ ডিসেম্বর খুব ধূমধাম করে ইসলাম ধর্ম পরিবর্তন করে হিন্দু হয়েছেন।

তার ইসলামি নাম ছিল ওয়াসিম রিজভি। দীর্ঘ সময় তিনি উত্তরপ্রদেশের শিয়া সেন্ট্রাল ওয়াকফ বোর্ডের চেয়ারম্যান ছিলেন।

এক সময়ে তিনি সমাজবাদী পার্টির নেতা ছিলেন। তবে দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর থেকে তিনি বিজেপি ঘনিষ্ঠ।

সিনেমার ট্রেলারের শুরুর দিকে বলা হয়েছে, ‘গণতন্ত্রের অর্থ হলো জনগণের দ্বারা নির্বাচিত সরকার। কিন্তু এর একটা দ্বিতীয় দিকও আছে: জনমত যদি মুসলমানদের হয়, তাহলে সেখানে শরিয়তি আইন চলে।’

এর কিছুটা পরেই বলা হয়েছে, ‘একসময়ে যে পশ্চিমবঙ্গকে ভারতের ম্যাঞ্চেস্টার বলা হত, তা এখন গণতন্ত্রের ওই দ্বিতীয় পথেই হাঁটছে।’ যার অর্থ করা যেতেই পারে যে পশ্চিমবঙ্গে শরিয়তি আইন চলে।

‘সীমান্তবর্তী এলাকাগুলো পুরোপুরি হিন্দুহীন হয়ে গেছে এবং সেখান দিয়ে লাখ লাখ রোহিঙ্গা আর কট্টরপন্থী বাংলাদেশীরা ভারতে প্রবেশ করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ছে’, এমনটা বলা হয়েছে ওই সিনেমাটির ট্রেলারের নেপথ্য ভাষণে।

আবার আরেকটি দৃশ্যে দেখানো হয়েছে, এক অভিনেতাকে যিনি কোনো এক গুরুত্বপূর্ণ হিন্দুত্ববাদী নেতার চরিত্রে অভিনয় করছেন বলে স্পষ্টই মনে হচ্ছে। তার মুখ দিয়ে এরকম সংলাপ বলানো হয়েছে, ‘মমতার এই রোহিঙ্গাদের প্রতি প্রেম হিন্দুদের বাধ্য করছে ঘর ছেড়ে চলে যেতে।’

যদিও ছবিটির পরিচালক সানোজ মিশ্র সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে বলেছেন যে ছবিটি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর সম্বন্ধে নয়।

ওই একই অভিনেতার আরেকটি দৃশ্যে তাকে এক নারীর সামনে বসে থাকতে দেখা যাচ্ছে আর তাকে দিয়ে এরকম সংলাপ বলানো হয়েছে যে ‘আপনি মেয়েকে নিয়ে দ্রুত ওখান থেকে বেরিয়ে যান। পশ্চিমবঙ্গে এখন কাশ্মীরের থেকেও খারাপ পরিস্থিতি।’

ট্রেলার শুরুর আগে লেখা হয়েছে যে সিনেমাটিতে দেখানো প্রতিটা ঘটনা এবং তথ্য সত্য ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত।

পুলিশের তলব পরিচালককে
দুই মিনিট ১২ সেকেন্ড দীর্ঘ ট্রেলারটি মাসখানেক আগে ইউটিউবে দেয়া হয়েছে। কিন্তু কলকাতা পুলিশের কাছে এক ব্যক্তি ওই সিনেমার পরিচালক-প্রযোজকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করায় বিষয়টি জানাজানি হয়েছে।

ছবিটির পরিচালক সানোজ মিশ্র বলিউডে খুব পরিচিত নাম নয়।

তিনি সংবাদ সংস্থা এএনআইকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে বলেছেন, ‘আমাদের ছবিটার ভিত্তিই হলো তোষণের রাজনীতি। যে রাজনীতির ফলে ভোট ব্যাঙ্কের জন্য যা কিছু দরকার সেসবই করা হয় ওখানে। প্রতিটা ঘটনাই সত্য, গবেষণা করেই ছবিটা বানিয়েছি আমি। সব তথ্য আমার কাছে রাখা আছে।’

‘১১ মে আমার বিরুদ্ধে এফআইআর করা হয়। এরকম সব ধারা দেয়া হয়েছে, যেন আমি একজন বড় ক্রিমিনাল।’

কলকাতায় পুলিশের সামনে এলে তাকে গ্রেফতার করে জেলে পাঠানো হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন মিশ্র।

জেলে গেলে সেখান থেকে হয়তো তিনি নাও ফিরে আসতে পারেন, এমন মন্তব্যও করেছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তিনি।

হিন্দুরা কি সত্যিই পশ্চিমবঙ্গ ছেড়ে পালাচ্ছে?
সিনেমার ট্রেলারে যেমনভাবে বলা হয়েছে যে পশ্চিমবঙ্গ দ্বিতীয় কাশ্মীর হয়ে গেছে, সেখান থেকে হিন্দুরা পালিয়ে যাচ্ছে, রোহিঙ্গা আর ‘কট্টরপন্থী বাংলাদেশী’দের সরকারী সহায়তায় বসবাসের ব্যবস্থা করা হচ্ছে, সীমান্ত অঞ্চল পুরোপুরি হিন্দু শূন্য হয়ে গেছে বা হিন্দু উৎসব বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে– এর সঙ্গে বাস্তবের কোনো মিল খুঁজে পাওয়া যায় না।

লেখক ও প্রাবন্ধিক রন্তিদেব সেনগুপ্ত বলছিলেন, এটা সম্পূর্ণভাবেই একটা প্রচারমূলক ছবি।

তার কথায়, ‘হিন্দুরা যদি পশ্চিমবঙ্গে এতটাই অসুরক্ষিত থাকত, তাদের এখান থেকে বিতারণ করা হয়, তাহলে প্রতিবছর হাজার হাজার রামনবমীর মিছিল কী করে করছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ বা বজরং দল? কিভাবে হিন্দুরা তলোয়ারসহ নানা অস্ত্র নিয়ে মিছিল করছে এই রাজ্যে?

‘ওই উদগ্র মিছিলগুলো দেখলেই বোঝা যায় যে হিন্দুরা এখানে অসুরক্ষিত নয়, যেমনটা ওই সিনেমার ট্রেলারে বলা হয়েছে,’ বলেন সেনগুপ্ত।

তিনি আরো বলেন, ‘ট্রেলারে দেখলাম বলা হয়েছে যে এখানে নাকি দুর্গা পুজাঢ বাধা দেয়া হচ্ছে। সারা রাজ্যে যত দুর্গা পুজা হয়, তত সংখ্যায় উত্তরপ্রদেশ বা গুজরাত বা মহারাষ্ট্রে কোনো ধর্মীয় উৎসব হয় না। এখানকার দুর্গা পুজো ইউনেস্কোর হেরিটেজ তকমা পেয়েছে। এধরনের ছবি সামাজিক হিংসা ছড়াতে পারে। নিষিদ্ধ করা উচিত এসব সিনেমা। মতপ্রকাশের স্বাধীনতার নাম করে জাতিগত দাঙ্গা বাধিয়ে দেয়ার অধিকার কারো নেই।’

সিনেমার ছাড়পত্র এখনো নেই, তবুও বিদ্বেষমূলক ট্রেলার?
সিনেমাটির পরিচালক সানোজ মিশ্র বলছেন যে তার ছবির ৬০ শতাংশ শুটিংয়ের কাজ শেষ হয়েছে। তাই সেটি এখনো কেন্দ্রীয় ফিল্ম সেন্সর বোর্ডের ছাড়পত্র পাওয়ার পর্যায়ে যায়নি।

সবকিছু ঠিকঠাক চললে আগামী মাসে সেন্সর বোর্ডে ছবিটি যেতে পারে বলে তার আশা।

তবে সিনেমার ট্রেলারের জন্য তিনি বেছে নিয়েছেন একটি ওটিটি প্ল্যাটফর্ম। পুলিশ ওই প্ল্যাটফর্মের মালিককেও ডেকে পাঠিয়েছে।

সানোজ মিশ্র বলছেন, ‘ওটিটি প্ল্যাটফর্মে ট্রেলার প্রকাশের জন্য কোনো অনুমতির প্রয়োজন হয় না। কত মৌলানাদের উস্কানিমূলক ভাষণের ভিডিও-তো পাওয়া যায় অনলাইনে। কই তাদের বিরুদ্ধে তো এই পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেয় না!’

২০২৪ এর নির্বাচনকে মাথায় রেখেই এই ছবির পরিকল্পনা?
তৃণমূল কংগ্রেস ছবিটি নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছে।

দলের অন্যতম মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী বলছেন, ‘ছবির পরিচালক গবেষণা করে পাওয়া তথ্যের কথা বলছেন। কিন্তু এখন তো হোয়াটসঅ্যাপ ইউনিভার্সিটির গবেষণাটাই বেশি চলে!’

ভারতে হিন্দুত্ববাদী ‘ইকো সিস্টেম’ হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে বিকৃত তথ্য ছড়িয়ে দেয়, এই অভিযোগ করে সেই ব্যবস্থাকেই ‘হোয়াটস্অ্যাপ ইউনিভার্সিটির তথ্য’ বলে ব্যঙ্গ করে থাকে বিরোধীরা।

অরূপ চক্রবর্তী আরো বলছিলেন, ‘একটা জনপ্রিয় বাংলা কবিতার লাইন মনে পড়ছে, যখনই জনতা চায় বস্ত্র ও খাদ্য, সীমান্তে বেজে ওঠে যুদ্ধের বাদ্য। আসলে ভারতের মানুষ সিনেমা তো দেখছেন সেই ২০১৪ সাল থেকেই।
সবথেকে প্রান্তিক মানুষরা, যাদের ভরসা কেরোসিন তেল, তার দাম ১৪ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১০০ টাকারও বেশি। প্রান্তিক মানুষের না আছে খাদ্য, না আছে বস্ত্র, না আছে কর্মসংস্থান। তাই যত লোকসভা নির্বাচন এগিয়ে আসবে, ততই মানুষের দৃষ্টি অর্থনৈতিক বিষয়গুলো থেকে ঘুরিয়ে দেয়ার চেষ্টা হবে।’

বিজেপি যদিও বলছে যে তারা এই ছবির নির্মাণের সাথে কোনোভাবেই যুক্ত নয়। তবে দলের পক্ষ থেকে মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্য এটাও বলছেন যে বিভিন্ন সন্ত্রাসী কাজের সাথে পশ্চিমবঙ্গের নাম জড়িয়ে গেছে।

এখান থেকে জঙ্গি ধরা পড়েছে। সেটা কতটা সত্য, কতটা আংশিক সত্য, তা নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে। কিন্তু সিনেমাটিকে নিষিদ্ধ করে দেয়ার প্রসঙ্গ চরম অগণতান্ত্রিক এবং স্বৈরতান্ত্রিক মানসিকতার প্রকাশ।

বিজেপি একথা বললেও ইউটিউব এবং টুইটারে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, তাহলে গুজরাত দাঙ্গা নিয়ে বিবিসির তথ্যচিত্রটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল কেন?

সূত্র : বিবিসি

ভারতের নতুন সংসদ ভবনের আকৃতিকে কফিনের সাথে তুলনা

ভারতে আজ নতুন সংসদ ভবনের উদ্বোধন করেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এরই মধ্যে একটি ছবির ডান দিকে নতুন সংসদ ভবন, বাঁ দিকে একটি কফিনের ছবি দিয়ে বিতর্ক উস্কে দিয়েছে ভারতের লালুপ্রসাদ যাদবের দল আরজেডি (ন্যাশনাল পিপলস পার্টি)।

ভারতের নতুন সংসদ ভবনের উদ্বোধন নিয়ে বিতর্ক চলছিলই, তার মধ্যেই সংসদ ভবনকে কফিনের সাথে তুলনা করে সেই বিতর্কে ঘি ঢাললেন আরজেডি নেতা লালুপ্রসাদ। ঘটনাচক্রে, নতুন সংসদ ভবনের উদ্বোধন বয়কট করেছে ২০টি দল। তাদের মধ্যে রয়েছে আরজেডিও। দলগুলোর প্রশ্ন, কেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নতুন সংসদ ভবন উদ্বোধন করবেন?

বোরবার সকালেই আরজেডির পক্ষে একটি টুইট করা হয়। ওই টুইটের সাথে ছবিটি জুড়ে দেয়া হয়েছে। ছবির ক্যাপশনে লেখা হয়েছে, এটা কি?’

এদিকে আরজেডিওর আরেক নেতা শক্তি সিংহ বলেন, গণতন্ত্রকে কবর দেয়া হচ্ছে সেটা বুঝাতেই টুইটে কফিনের ছবি দেয়া হয়েছে। দেশ এই সংসদ ভবনকে মেনে নেবে না। সংসদ হলো গণতন্ত্রের প্রতীক এবং আলোচনার কেন্দ্রস্থান। সেই সংসদ ভবনকে এমন আদল দেয়া হয়েছে, তা দেখতে ঠিক কফিনের মতোই লাগছে।

আরজেডির এই টুইটের পরই কড়া জবাব দিয়েছে বিজেপিও। সুশিল মোদি পাল্টা টুইট করে হুঁশিয়ারি দেন, যারা নতুন সংসদ ভবনকে কফিনের সাথে তুলনা করছেন, তাদের বিরুদ্ধে বিশ্বাসঘাতকতার মামলা দায়ের করা হবে। কফিন প্রসঙ্গে বিজেপি মুখপাত্র গৌরব ভাটিয়া আবার এক ধাপ এগিয়ে বলেন, ’২০২৪ সালে দেশের মানুষ আপনাদের ওই কফিনেই কবর দেবে।’
সূত্র : আনন্দবাজার

সরকারের পতন না হওয়া পর্যন্ত লড়াই চলবে : মান্না

সরকারের পতন না হওয়া পর্যন্ত লড়াই চলবে জানিয়ে গণতন্ত্র মঞ্চের নেতা ও নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, যতদিন পর্যন্ত আমাদের যে দাবি- এই নির্বাচন ব্যবস্থা, গণতন্ত্রের ব্যবস্থা, রাষ্ট্র ব্যবস্থা, সংবিধান পরিবর্তন করে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে না পারবো ততদিন পর্যন্ত আমাদের লড়াই অব্যাহত থাকবে। আমরা অন্য কারো সাথে হাত মিলিয়ে আপস করে সমঝোতা করার চেষ্টা করছি না। আমরা এই লড়াই চালাবো এবং বিশ্বাস করি, এই লড়াইয়ে আমরা জিতব।

রোববার (২৮ মে) দুপুরে রাজধানীর মালিবাগ রেলগেটে গণতন্ত্র মঞ্চের ঢাকা উত্তরের পদযাত্রা পূর্ব বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সংক্ষিপ্ত সমাবেশের পর পদযাত্রাটি মালিবাগ থেকে শুরু হয়ে বাড্ডা গিয়ে শেষ হয়।

মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, বুঝা যাচ্ছে আজকে বাংলাদেশের মান বিশ্বের বুকে লুণ্ঠিত। আমেরিকা আমাদের স্যাংশন দেয়নি, কিন্তু বলেছে তোমরা ভোট চুরি করো। তোমরা মানুষকে কথা বলতে দাও না, মত প্রকাশ করতে দাও না, নির্যাতন করো। এই সমস্ত কাজ সামনে নির্বাচনে যদি করা হয় তাহলে তাদেরকে আমরা আর ভিসা দেবো না। এটা শুধু রাজনৈতিক নেতাদের জন্য নয়। পুলিশ বলেন, র‌্যাব বলেন, আর্মি বলেন সকলের ব্যাপারে এই কথা বলা হয়েছে।

সরকারের উদ্দেশে গণতন্ত্র মঞ্চের এই নেতা বলেন, আপনি বিদ্যুৎ উৎসব করেছেন, উন্নয়নের কথা বলেন অথচ পায়রা কেন্দ্র বন্ধ হতে চলেছে। একটি-দুটি লাইন বন্ধ, কয়লা নেই, কয়লা আনতে পারেন না, কয়লার টাকা দিতে পারেন না। টাকা নেই, ডলার নেই জিনিসপত্রের দাম বাড়ে, কিন্তু দাম কমাতে পারেন না। সারা দুনিয়াতে দাম কমে কিন্তু বাংলাদেশ সরকার দাম কমাতে পারে না। এরকম ব্যর্থ, লুটেরা সরকারকে আমরা চাই না।

মান্না বলেন, আমরা আন্দোলন শুরু করেছি আন্দোলন থামাচ্ছি না। আমরা বহুবার বলেছি, কোনো ভয়ের কাছে মাথানত করবো না। কোনো লোভের কাছে আত্মসমর্পণ করি না। কোনো জেল-জুলুমকে ভয় পাই না। যদি ভয় পেতাম তাহলে আজকে এই নেতা এভাবে আপনাদের সামনে দাঁড়াতেন না।

বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হকের সভাপতিত্বে এ সময় জেএসডির সহ-সভাপতি তানিয়া রব, ভাসানী অনুসারী পরিষদের সভাপতি শেখ রফিকুল ইসলাম, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের হাসনাত কাউয়ুম, নাগরিক ঐক্যের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল্লাহ্ কায়সার প্রমুখ বক্তব্য দেন।

এরদোগানের আরো ৫ বছর, না কি ক্ষমতার বদল

তুরস্কে রজব তাইয়েব এরদোগানের ২০ বছরের ক্ষমতার দৌড় আরো দীর্ঘায়িত হবে কি না, তা নির্ধারিত হবে আজ দ্বিতীয় দফা ভোটে।

তার প্রতিদ্বন্দ্বী কেমাল কিলিচদারুলু, যিনি বেশ কয়েকটি বিরোধী দলের জোটের সমর্থনপুষ্ট, এই ভোটকে তুরস্কের ভবিষ্যতের নির্ধারক বলে মন্তব্য করেছেন।

এখনো পর্যন্ত এই নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট এরদোগানই ফেভারিট, মানে এগিয়ে আছেন বলে মনে হচ্ছে। তার সমর্থকদের ‘নতুন যুগ’এর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ২০ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা বতর্মান প্রেসিডেন্ট।

তবে এ দফায়ও নির্বাচনের আগে সবচেয়ে বেশি আলোচনার বিষয় মূল্যস্ফীতি ও জীবন যাপনের ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টি।

রোববার স্থানীয় সময় সকাল ৮টা (বাংলাদেশ সময় সকাল ১০টা) থেকে ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে, যা চলবে স্থানীয় সময় বিকাল ৫টা পর্যন্ত। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থাকা তুর্কি নাগরিকদের ভোট নেয়া এরই মধ্যে শেষ হয়েছে।

নির্বাচনের প্রথম ধাপে বিপুল সংখ্যক ভোটার ভোট দিয়েছিলেন, যা শতকরা হিসেবে মোট ভোটারের ৮৮.৮ শতাংশ।

দুই প্রার্থীর নজরই এবার ৮০ লাখ ভোটারের দিকে, যারা আগেরবার ভোট দেননি কিন্তু এবার ভোট দিতে পারেন।

দ্বিতীয় ধাপের ভোটের আগে কিলিচদারুলু তার প্রতিদ্বন্দ্বীর বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ এনেছেন।

তার অভিযোগ, ভোটারদের কাছে তার পাঠানো টেক্সট মেসেজ ব্লক করা হয়েছে আর এরদোগানের পাঠানো টেক্সট মেসেজ স্বাভাবিকভাবেই পৌঁছেছে।

কোনো জায়গায় যেন ভোট জালিয়াতি না হয়, তা নিশ্চিত করতে বিরোধী জোট রীতিমতো স্বেচ্ছাসেবকদের বাহিনী মাঠে নামিয়েছে।

আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, প্রথম ধাপের নির্বাচনে এরদোগান তার প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে বেশি সুবিধা পেয়েছেন।

তবে কিছুটা সুবিধা পেলেও তা ভোটিংয়ের ফলাফল পরিবর্তনে কোনো ভূমিকা রেখেছে বলে তারা দাবি করছেন না।

প্রচারণার শেষ দিনে বিরোধী জোটের নেতা কিলিচদারুলু বেশ অভিনব ধরনের প্রেসিডেন্সির প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

তিনি বলেন, আমার প্রাসাদে থাকার কোনো ইচ্ছা নেই। আমি আপনাদের মতো সাধারণভাবে থাকতে চাই…আর আপনাদের সমস্যা সমাধান করতে চাই।

এই মন্তব্য আসলে এরদোগানের বর্তমান বাসভবনকে কটাক্ষ করেই করা হয়েছে।

২০১৪ সালে এরদোগান যখন প্রধানমন্ত্রী থেকে প্রেসিডেন্ট হন, তখন আঙ্কারার ঠিক বাইরে বিশাল এক প্রাসাদে তার বাসভবন স্থানান্তর করেন।

তুরস্কের মানুষের মতামত এই মুহূর্তে দুই মেরুতে রয়েছে। প্রেসিডেন্ট এরদোগান তার ধর্মীয়ভাবে রক্ষণশীল ও জাতীয়তাবাদী সমর্থকদের ওপর নির্ভরশীল।

অন্যদিকে, বিরোধী নেতা কিলিচদারুলুর সমর্থকরা মূলত ধর্ম নিরপেক্ষ- তবে তাদের মধ্যে অনেক জাতীয়তাবাদী মনোভাবের সমর্থকও রয়েছেন।

দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনের আগে টানা কয়েক দিন ধরে দুই ব্যক্তিই একে অপরকে খোঁচা দিয়ে মন্তব্য করেছেন।

কিলিচদারুলু প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন যে তিনি ভীতু, তাই নিরপেক্ষ নির্বাচন থেকে দূরে পালাচ্ছেন।

অন্যদিকে, এরদোগান তার প্রতিদ্বন্দ্বীর সাথে কুর্দি বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সম্পর্ক রয়েছে উল্লেখ করে তাকে ‘সন্ত্রাসবাদী’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।

তবে এমন অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ থাকলেও শেষ পর্যন্ত নির্বাচনকে ঘিরে প্রধান ইস্যু ছিল জিনিসপত্রের লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধি। তুরস্কে মূল্যস্ফীতির হার উঠেছে ৪৪ শতাংশে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এরদোগানের সুদের হার কমানোর নীতি পরিস্থিতিকে আরো খারাপ করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে তুরস্কের মুদ্রা লিরার দর ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি পরিমাণ কমেছে এবং বিদেশী মুদ্রার চাহিদা বেড়েছে।

সেই সাথে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিদেশী মুদ্রার রিজার্ভ ২০০২ সালের পর থেকে প্রথমবার নেতিবাচক হয়েছে। এরদোগানের সময়কালে অর্থনীতির এই অবস্থা হওয়ার কারণে অনেকেই তার প্রশাসনের ওপর ক্ষুব্ধ।

কিন্তু এই জনসংখ্যারই একটা বড় অংশ আবার এরদোগানের ওপরই আস্থা রাখছেন। অনেকেই মনে করেন বিরোধী জোটের সাথে সন্ত্রাসবাদীদের সম্পর্ক রয়েছে, যেমনটা এরদোগান অভিযোগ করেছেন।

তবে তুরস্কের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিরোধী দল এইচডিডি পার্টি সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠী পিকেকে’র সাথে কোনো ধরনের সম্পর্ক থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেছে।

এই বিরোধী জোটেরই প্রধান দলের সাথে সন্ত্রাসবাদীদের সম্পর্ক রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

তবে, রোববারের নির্বাচনে যে দল বা জোটই জিতুক, তুরস্কের সংসদের দখল এরই মধ্যে এরদোগানের ইসলামপন্থী একে পার্টি এবং দক্ষিণপন্থী এমএইচপি পার্টির কাছে রয়েছে।

প্রথম ধাপের ভোটে এরদোগানের জোট ৪৯ দিশমিক ৫ শতাংশ ভোট পেয়েছিল। যদিও বিরোধী জোটের সাথে তার ভোটের ব্যবধান ছিল খুবই কম।

কিলিচদারুলু প্রথম ধাপে ভোট পেয়েছিলেন ৪৪ দশমিক ৯ শতাংশ, অর্থাৎ এরদোগানের সাথে তার ব্যবধান ছিল খুবই কম।

কিলিচদারুলুর প্রতি সমর্থন রয়েছে ছয়-দলীয় বিরোধী জোটের। তুর্কি জনগণকে তিনি আশার বাণী শুনিয়েছেন এবং স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

এরদোগান আবার নির্বাচিত হলে একটি নতুন ‘তুর্কি শতকের’ প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। তার সমর্থকরা বলছেন, তিনি আরো উন্নয়ন, আরো শক্তিশালী এক তুরস্ক উপহার দেবেন।
সূত্র : বিবিসি

Престижное онлайн-казино Вавада найдет чем вас удивить!

Обладая достаточным числом игр, Vavada предоставляет огромную базу игрушек, включающую более 1200 видеослотов от различных поставщиков программного обеспечения. Этот известный клуб принимает криптовалюты, а специализированная служба поддержки клиентов доступна в любое время. Казино Vavada, имеющее лицензию Кюрасао, гарантирует стабильную игру и честный на сайте в игре процесс.

Каков процесс разработки профиля и входа в интернет-казино Vavada?

Вот действия для регистрации и перехода в Вавада, престижное игровое заведение:

  • Перейдите на официальный ресурс онлайн-казино Vavada;
  • Нажмите кнопку «Регистрация» в правом верхнем углу основной страницы;
  • Внимательно заполните регистрационную форму;
  • Согласиться с условиями сайта;
  • Установите флажок, чтобы получать рекламные предложения по e-mail или SMS;
  • Кликаем «Зарегистрироваться», чтобы подтвердить свою учетную запись.

Сделав эти изящные шаги, вы станете пользователем казино и сможете насладиться изысканными играми, предлагаемыми на этом сайте.

Площадка отличается щедростью по отношению к своим азартным участникам, предоставляя им множество бонусных начислений и заманчивые акции. Среди этих предложений особого внимания заслуживает приветственный бонус казино. Этот бонус предоставляет недавно зарегистрировавшимся выгодный бонус в размере 100% до 500 $ и 200 вращений. К этому добавляется регулярный бонус, который награждает пользователей, внесших ставку на сумму не меньше 20 долларов в период с понедельника по четверг, 35 бесплатными вращениями. Их разрешено активировать в течение 10 рабочих дней.

Для VIP-игроков игровой клуб предоставляет регулярно кэшбэк, который возмещает 10% убытков, понесенных в течение недели.

image

Игровой каталог веб-казино Вавада

Интернет-казино Вавада предлагает уйму развлечений, насчитывая более 1500 штук. Эти игривые жемчужины поставляются престижными поставщиками программного обеспечения, гарантирующими беспрецедентное качество HD, аудио и игрового качества. Среди операторов есть следующие:

  • Microgaming;
  • Play n’Go;
  • Evolution;
  • Anakatech;
  • Iron Dog Studio.

Другими словами, казино представляет собой настоящую панораму реально классных и разнообразных вендеров на любой вкус.

У игрового сервиса нет загружаемого мобильного приложения, однако пользователи легко и просто могут использовать персональные мобильные устройства для игры. Все что надо, так это открыть страницу сайта казино в браузере и начать играть. Мобильная версия казино ничем не отличается от настольной версии и предоставляет те же услуги.

Игровое заведение позиционирует себя как виртуальное игорное учреждение, предлагающее своим азартным клиентам огромное количество способов оплаты. Будь то депозит или вывод денег, игроки имеют шанс выбирать из определённых вариантов, а именно:

  • PaySafeCard;
  • MasterCard;
  • Revolut;
  • EcoPayz;
  • Payoneer;

Казино Вавада отличается прекрасным качеством обслуживания пользователей. Эта специально подготовленная команда, доступная круглые сутки и без выходных, отвечает на все вопросы и запросы клиентов. Предлагаются два канала связи. Это чат для моментальной поддержки и электронная почта для более сложных запросов.

Казино также отличается своей порядочностью и беспрецедентной безопасностью в онлайн-играх. Азартное учреждение Vavada, аккредитованное регулятором азартных развлечений Curacao, строго соблюдает отраслевые параметры качества. Кроме того, он защищает от любого неприятного вторжения благодаря сертификату безопасности. Последний обеспечивает шифрование личных и банковских данных азартных лиц. Азартное интернет-заведение Вавада выделяется как игровая онлайн-платформа с безупречной безопасностью, развивающаяся в полном соответствии с нормативными требованиями.

নির্বাচনে যারা বাধা দেবে তাদের প্রতিহত করব : কাদের

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতির বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, তারা বলেছে নির্বাচনে বাধা দিলে ভিসা নয়। আমাদেরও কথা এটা, এই নির্বাচনে যারা বাধা দেবে তাদের অবশ্যই প্রতিহত করব।

বৃহস্পতিবার (২৫ মে) জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৪তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে তার সমাধিতে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, স্পষ্ট করে আমরা একটা বলতে চাই, যারা আন্দোলনের নামে নির্বাচনকে সামনে রেখে বাসে আগুন দেয়, বাস ভাঙচুর করে, তারা পলিটিক্যাল ভায়োলেন্সে আছে। কাজেই তাদের খবর আছে।

তিনি বলেন, আমরা একটা কথা বারবার বলে আসছি। আমরা আগামী জাতীয় নির্বাচন শান্তিপূর্ণ পরিবেশে, অবাধ সুষ্ঠুভাবে করব। একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনে নির্বাচন কমিশনকে আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করব।

কবি নজরুলের চেতনা সম্পর্কে সেতুমন্ত্রী বলেন, কবি কাজী নজরুল ইসলামের অসাম্প্রদায়িক মানবতাবাদী চেতনায় আমরা উজ্জীবিত হতে চাই। আজ অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশে গড়ে তোলার পথে অন্তরায় সৃষ্টিকারী সাম্প্রদায়িক বিশ্বাস, সাম্প্রদায়িকতার বিষবৃক্ষ এখনো বাংলাদেশে শাখা প্রশাখা বিস্তার করে আছে। আজকের এই দিনে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গঠন করব।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, এস এম কামাল হোসেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সবুর, দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়াসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।