Home Blog Page 615

ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস ঘেরাওয়ে বাধা, বিক্ষোভ

ফিলিস্তিনে ইসরায়েলি বর্বর হামলার প্রতিবাদে গতকাল রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ হয়েছে। বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ছাত্র-জনতার ব্যানারে ঢাকার মার্কিন দূতাবাস ঘেরাও করতে গেলে পুলিশি বাধায় তা প- হয়ে যায়। পরে শাহজাদপুরে রাস্তায় অবস্থান নেন বিক্ষোভকারীরা। সেখানে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের দাবি তোলেন তারা। এ সময় অংশগ্রহণকারীরা ইসরায়েলের গণহত্যায় মদদ দেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের নিন্দা জানিয়ে সারা বিশ্বকে ফিলিস্তিনের পক্ষে সোচ্চার হওয়ার আহŸান জানান। এর আগে স্লোগানে স্লোগানে নির্যাতিত ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি জানিয়ে গণহত্যা বন্ধের দাবি নিয়ে গতকাল দুপুর ১২টায় উত্তর বাড্ডার সুবাস্তু টাওয়ারের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের করা হয়। এরপর মার্কিন দূতাবাস অভিমুখে অগ্রসর হতে থাকেন বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। এতে রাস্তায় থাকা সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এরপরই তাদের কর্মসূচিতে বাধা দেয় পুলিশ। পরে বিক্ষোভকারীরা উত্তর বাড্ডার প্রগতি সরণির জামালপুর টুইন টাওয়ারের বিপরীতে রাস্তায় সমাবেশ করেন। মিছিল ও বিক্ষোভ সমাবেশের কারণে প্রায় এক ঘণ্টা সড়কের এক পাশের যান চলাচল বন্ধ থাকে। সমাবেশে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, ফিলিস্তিনের গাজায় যে গণহত্যা চলছে, তা চলতে দেওয়া হলে পুরো মানবসভ্যতা ধূলিসাৎ হয়ে যাবে। যুক্তরাষ্ট্রকে বলতে চাই, ইসরায়েলকে গণহত্যার জন্য সহায়তা বন্ধ করুন। ফিলিস্তিনকে মুক্ত করুন। সমাবেশে উপস্থিত থেকে সংহতি জানান সংগীতশিল্পী সায়ান, গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতির সভাপ্রধান তাসলিমা আক্তার, ছাত্রলীগ জেএসডির সভাপতি তৌফিকুজ্জামান, বাসদ মার্কসবাদীর কেন্দ্রীয় সদস্য জয়দেব ভট্টাচার্যসহ বামপন্থি বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের প্রতিনিধিরা।

সংঘর্ষে রণক্ষেত্র হবিগঞ্জ নিহত ৩, আহত ৫০

হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার আগুয়া গ্রামে সিএনজিচালিত অটোরিকশার স্ট্যান্ড দখল নিয়ে দুই পক্ষে ভয়াবহ সংঘর্ষ ঘটেছে। এতে তিনজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক। গুরুতর অবস্থায় তাদের হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গতকাল দুপুর ১টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত এ সংঘর্ষ চলে। পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। নিহতরা হলেন বানিয়াচং উপজেলার আগুয়া গ্রামের শুকুর মিয়ার ছেলে সিএনজিচালক কাদির মিয়া (৩৫), বজলু মিয়ার ছেলে সিরাজ মিয়া (৩৬) ও আলী রাজার ছেলে লিলু মিয়া (৩৭)।
পুলিশ জানায়, আগুয়া বাজারের সিএনজিস্ট্যান্ড নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে স্ট্যান্ডের ম্যানেজার বদির মিয়ার সঙ্গে একই গ্রামের সোহেল মেম্বারসহ তার লোকজনের বিরোধ চলে আসছিল। এরই জেরে দুপুর ১২টার দিকে ওই স্ট্যান্ডে গাড়ির সিরিয়াল নিয়ে বদির মিয়ার সঙ্গে সিএনজিচালক কাদির মিয়ার কথা কাটাকাটি হয়। বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনা বাড়তে থাকে দুই পক্ষে। একপর্যায়ে উভয় পক্ষ দেশি অস্ত্রশস্ত্রসহ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। দুই ঘণ্টাব্যাপী তুমুল সংঘর্ষে বল্লম ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ঘটনাস্থলেই কাদির মিয়া ও সিরাজ মিয়ার মৃত্যু হয়। এ ছাড়া লিলু মিয়া ও আনু মিয়াকে উদ্ধার করে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে চিকিৎসক লিলু মিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন। এদিকে সংঘর্ষে নিহতের ঘটনায় বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। বর্তমানে আগুয়া গ্রামে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বানিয়াচং থানার (ওসি) দেলোয়ার হোসেন জানান, ফের সংঘর্ষসহ অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। জড়িতদের ধরতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।

২৫ বছর পর নায়ক সোহেল চৌধুরী হত্যা মামলার রায়

নব্বই দশকের চিত্রনায়ক সোহেল চৌধুরী হত্যা মামলায় ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই ওরফে আব্দুল আজিজসহ তিনজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। এছাড়া অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় শীর্ষ সন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলাম ইমনসহ ছয়জনকে খালাস দেওয়া হয়েছে। ২৫ বছর পর বৃহস্পতিবার এ মামলার রায় দেওয়া হয়েছে। ঢাকার দ্রæত বিচার ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক অরুণাভ চক্রবর্তী এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেছেন, সাক্ষীরা গা বাঁচিয়ে সাক্ষ্য দিয়েছেন। তাদের মধ্যে পক্ষপাতদুষ্টতা ছিল। অনেক সাক্ষী মারাও গেছেন। দীর্ঘকাল একটা মামলার বিচার চলতে পারে না। প্রতিটি মৃত আত্মাই তার বিচার চায়। আদালত আরও বলেন, আজিজ মোহাম্মদের সঙ্গে চিত্রনায়ক সোহেল চৌধুরীর পূর্বশত্রুতা ছিল। বান্টি ঘটনাস্থলে ছিলেন, এটা প্রমাণিত। সোহেল চৌধুরী কোনো অপরিচিত ব্যক্তি নন।
যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পাওয়া অপর দুই আসামি হলেন-ট্রাম্পস ক্লাবের মালিক আফাকুল ইসলাম ওরফে বান্টি ইসলাম ও আদনান সিদ্দিকী। যাবজ্জীবনের পাশাপাশি তাদের দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ডের আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাদের আরও ১ মাসের কারাভোগ করতে হবে। খালাস পাওয়া অপর আসামিরা হলেন-তারেক সাঈদ মামুন, সেলিম খান, হারুন অর রশীদ ওরফে লেদার লিটন, ফারুক আব্বাসী ও শীর্ষ সন্ত্রাসী আশিষ রায় চৌধুরী ওরফে বোতল চৌধুরী।
রায় ঘোষণার আগে ইমনকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। আসামি আশিষ রায় জামিনে থেকে হাজিরা প্রদান করেন। অপর আসামিরা পলাতক ছিলেন।
রায় ঘোষণার পর ইমন বলেন, রায়ে আমি সন্তুষ্ট। আমি সঠিক বিচার পেয়েছি। এর আগে ২৯ এপ্রিল ঢাকার দ্রæত বিচার ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক অরুণাভ চক্রবর্তী রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে রায় ঘোষণার জন্য বৃহস্পতিবার ধার্য করেন।
১৯৯৮ সালের ১৭ ডিসেম্বর রাজধানীর বনানীতে ট্রাম্পস ক্লাবের নিচে সোহেল চৌধুরীকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় তার ভাই তৌহিদুল ইসলাম চৌধুরী গুলশান থানায় মামলা করেন। সোহেল চৌধুরী নিহত হওয়ার পরপরই এ হত্যাকাণ্ডে চলচ্চিত্র প্রযোজক ও ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাইয়ের সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠে।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, হত্যাকাণ্ডের কয়েক মাস আগে আজিজ মোহাম্মদ ভাইয়ের সঙ্গে সোহেল চৌধুরীর কথা কাটাকাটি হয়। এর প্রতিশোধ নিতে সোহেল চৌধুরীকে হত্যা করা হয়। ঘটনার রাতে সোহেল তার বন্ধুদের নিয়ে ট্রাম্পস ক্লাবে ঢোকার চেষ্টা করেন। তাকে ভেতরে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়। রাত আড়াইটার দিকে আবারও তিনি ঢোকার চেষ্টা করেন। তখন সোহেলকে লক্ষ্য করে ইমন, মামুন, লিটন, ফারুক ও আদনান গুলি চালায়।
মামলার তদন্ত শেষে ১৯৯৯ সালের ৩০ জুলাই গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার আবুল কাশেম ব্যাপারী ৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল করেন। ২০০১ সালের ৩০ অক্টোবর ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। এর ২ বছর পর মামলাটির বিচার দ্রæত নিষ্পত্তির জন্য ঢাকার দুই নম্বর দ্রæত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়।
মামলা দ্রæত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আসামি আদনান সিদ্দিকী ২০০৩ সালের ১৯ নভেম্বর হাইকোর্টে রিট করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট ২০০৪ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি মামলার কার্যক্রম স্থগিত করে রুলসহ আদেশ দেন।
বিচারপতি মো. রূহুল কুদ্দুস ও বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তীর তৎকালীন ডিভিশন বেঞ্চ শুনানি শেষে ২০১৫ সালের ৫ আগস্ট রায় দেন। রায়ে রুলটি খারিজ করে দেওয়া হয় এবং হাইকোর্টের দেওয়া স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করা হয়। মামলায় ১০ জনের সাক্ষ্য শেষ হয়েছে।

একটি মহল উন্নয়ন কাজকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বলেছেন, একটি মহল সরকারের উন্নয়ন কাজকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছে। জাতির পিতার বেলায়ও এমন অপপ্রচার চালানো হয়েছে। তার কর্মকাণ্ডকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা চালানো হয়েছে। এখন আমার বেলায়ও তাই হচ্ছে। যতই প্রশ্নবিদ্ধ করা হোক না কেন, জনগণের কাছ থেকে আমাকে দূরে সরানো যাবে না। আমার ক্ষমতার মূল শক্তি এ দেশের জনগণ।
বৃহস্পতিবার দ্বাদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। টানা চার বারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমরা দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করি। যে কাজগুলো আমরা করেছি, তার সুফলটা দেশবাসী পাচ্ছে, সেটাকে স্বীকার করেন। কিন্তু প্রত্যেকটা কাজকে যদি প্রশ্নবিদ্ধ করার উদ্দেশ্যে করা হয়, হ্যাঁ তাতে কী করতে পারেন, জনগণের কাছ থেকে তো আমাকে দূরে সরাতে পারবেন না।
তিনি আরও বলেন, আমার একটাই শক্তি, আর তা হচ্ছে জনগণ। তাদের শক্তি নিয়েই আমি চলি। সেখানে একটা আস্থা সৃষ্টি হয়েছে জনগণের মাঝে যে, আমি তাদের জন্য কাজ করি। কাজেই ওই আস্থা-বিশ্বাসটাই হচ্ছে আমার একমাত্র সম্বল। আর এই সম্বল নিয়েই আমি চলি, এজন্য আমি কাউকে পরোয়া করি না। যতক্ষণ আমার দেশবাসী আমার পাশে আছে, আমি কাউকে পরোয়া করি না।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সময়কার চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, হ্যাঁ আমি জানি, আমার বাবার সঙ্গেও একই জিনিস হয়েছে। যতগুলো কাজ তিনি করে গেছেন মাত্র সাড়ে তিন বছরের মধ্যে; সংবিধান দেওয়া থেকে শুরু করে এমন কোনো সেক্টর নাই যার ভিত্তিটা তিনি তৈরি করে দেন নাই। তারপরও তার সমালোচনা, তার বিরুদ্ধে নানা কথা লেখা, অনেক কিছু করে তাকে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে। যখন পারেনি তাকে হত্যা করা হয়েছে। আমাকেও হত্যার জন্য বারবার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু আমি তো বেঁচে গেছি, সেটাও আমার জনগণ এবং দলের লোকেরা সব সময় আমাকে ঘিরে রেখেছে। নিজেরা জীবন দিয়ে আমার জীবন বাঁচিয়েছে। আমি এখন জনগণের জন্য কাজ করে যেতে চাচ্ছি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার বিগত ১৫ বছরে যে পরিমাণ কাজ করেছে অন্যরা ২৯ বছরেও সে কাজ করতে পারে নাই। পারবেও না, কারণ প্রকল্প দিয়েই তো আগে টাকা খাওয়া। আর আমরা প্রকল্প শেষ করেই ছাড়ি, টাকা খাওয়ার কোনো সুযোগ নাই। এটা হলো বাস্তবতা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, কেউ কেউ মেট্রোরেল নিয়েও প্রশ্ন তোলেন? এর কী প্রয়োজন ছিল। আজকে প্রতি ঘণ্টায় ৬০ হাজার মানুষ মেট্রোরেল দিয়ে চলতে পারে, ৬ থেকে ৭ লাখ মানুষ চলাচল করতে পারবে দিনে। এটায় যারা চড়ছে তারা সুফল পাচ্ছে। যারা এটা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল, তারা লজ্জা পাচ্ছে কি না জানি না। কেউ কেউ আবার পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে যদিও এখান থেকে সবচেয়ে ভালো বিদ্যুৎ আমরা পাব। এজন্য সেখানে আমরা আরও একটা বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করব। শেখ হাসিনা বলেন, যেখানে ১৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ছিল, আজকে ১৬ হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ আমরা উৎপাদন করতে পারি।
সরকারের সমালোচকদের উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, মানুষের কল্যাণে কী করণীয় সেদিকে লক্ষ্য রেখেই আমরা কাজ করি। ভোগ করবেন সবাই আর কথায় কথায় ব্যঙ্গ করবেন আর প্রশ্ন তুলবেন। প্রশ্ন তোলার আগে নিজেরা কী করেছেন? কোন দল করেন, সেই দলের বৃত্তান্ত থেকে শুরু করে অপকর্মগুলো একটু চিন্তা করে নেবেন। আয়নায় নিজেদের চেহারাটা আগে দেখেন।
অতিমারির পর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং স্যাংশন-পালটা স্যাংশনে বিশ্বমন্দা ছোঁয়ায় দেশের মূল্যস্ফীতি বেড়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাধারণ বিশেষ করে সীমিত আয়ের মানুষদের কিছুটা কষ্ট হচ্ছে। সেক্ষেত্রে তার সরকার প্রায় এক কোটি মানুষকে পারিবারিক কার্ডের মাধ্যমে ভর্তুকি দিয়ে চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য স্বল্পমূল্যে সরবরাহ করার ব্যবস্থা নিয়েছে। তার সরকারের বিভিন্ন কার্যকরী পদক্ষেপের ফলে অতি দরিদ্রের হার আজকে কমে ২৫ দশমিক ১ ভাগ থেকে ৫ দশমিক ৬ ভাগে এসেছে।
তিনি এ সময় দেশের প্রতি ইঞ্চি অনাবাদি জমি চাষের আওতায় আনার ওপর পুনরায় গুরুত্বারোপ করেন।
কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ নিয়ে সমালোচনার জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশেষ আইনে কাউকে কিন্তু দায়মুক্তি দেওয়া হয়নি। বরং বেসরকারি খাতে প্রথম বিদ্যুৎকেন্দ্র করেছিল সামিট গ্রæপ খুলনায়। তারা ঐ বিদ্যুৎকেন্দ্র সম্পন্ন করতে দেরি করেছিল, যে কয়দিন দেরি করেছিল প্রতিদিন ১০ হাজার ডলার করে তাদের জরিমানা দিতে হয়েছে। আর সেই জরিমানা আমি আদায় করেছি।
তিনি বলেন, আজকে অনেকে গণতন্ত্রের কথা বলে। গণতন্ত্রের প্রবক্তা হয়ে গেছে কেউ কেউ। আমার প্রশ্ন যারা এখন গণতন্ত্র গণতন্ত্র বলে চিৎকার করছে তাদের জন্মটা কি গণতন্ত্রের মধ্যদিয়ে হয়েছে? না ঐ রক্তাক্ত হাতে যারা অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করেছিল সেই সেনা কর্মকর্তার পকেট থেকে বের হওয়া রাজনৈতিক দল তারা? যারা বাংলাদেশের মানুষের ভোটের অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছিল।
সরকারি প্রতিষ্ঠান শেয়ারবাজারে আনার নির্দেশ : সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে পর্যায়ক্রমে শেয়ারবাজারে নিয়ে আসার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, ছাতক সিমেন্ট কারখানাসহ সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে শেয়ারবাজারে অন্তর্ভুক্ত করা যায় কি না সে বিষয়ে অর্থ বিভাগ ব্যবস্থা নেবে। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এ নির্দেশনা দেন তিনি।
একনেক বৈঠকে খুলনা মেডিকেল কলেজ প্রকল্প থেকে ‘শেখ হাসিনা’ নামটি বাদ দেওয়ার নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। পরবর্তীতে উপস্থিত সবার অনুরোধে এই প্রকল্পে তার নামটি থাকলেও আগামীতে কোনো প্রকল্পে নিজের নাম না দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন শেখ হাসিনা। সেই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শেখ হাসিনার ম্যুরাল না করে ওই টাকা অন্য কোনো স্থানে ব্যয় করতেও বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া আগামীতে যেকোনো ব্রিজ নির্মাণে বিশেষ সতর্ক হওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, নদীর পানিপ্রবাহ যাতে নষ্ট না হয় এবং ব্রিজের উচ্চতা ঠিক রাখতে হবে।
‘বিএফডিসি রেডি টু কুক ফিশ’ ও মিল্কিং মেশিন হস্তান্তর : বাসস জানায়, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মো. আব্দুর রহমান এমপির নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল বৃহস্পতিবার সকালে গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে ‘বিএফডিসি রেডি-টু-কুক ফিশ’ সামগ্রী হস্তান্তর করেছে। একই সঙ্গে গরুর দুধ আহরণের কাজে ব্যবহৃত একটি মিল্কিং মেশিনও এ সময় প্রধানমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, রেডি টু কুক ফিস কার্যক্রমের ফলে কর্মজীবী মহিলারা অনেক উপকৃত হবেন। তিনি কর্মজীবী মহিলাদের রান্না সহজীকরণে রেডি-টু-কুক ফিশ প্রস্তুতকরণ, বাজারজাতকরণ ও বাজার স¤প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং সংশ্লিষ্টদের প্রতি দিকনির্দেশনা দেন।

আমি আছি, অথচ ছেলে নাই, জাওয়াদের মায়ের আর্তনাদ

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীতে বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে নিহত পাইলট স্কোয়াড্রন লিডার আসিম জাওয়াদের পরিবারে শোকের মাতম চলছে। মানিকগঞ্জ শহরের পশ্চিম দাশড়া এলাকার পৌরভূমি অফিসের সামনের গোল্ডেন টাওয়ারের সাততলায় জাওয়াদের মা নিলুফা আক্তার খানমের গগন বিদারী কান্নার পাশাপাশি এলাকার মানুষও কাঁদছে। নিলুফা আক্তার বিলাপ করছেন আর বলছেন, ‘আমি আছি অথচ আমার ছেলে নাই এ কেমন কথা! আমারে মাটি দিব আমার ছেলে, আর এখন আমাকে দিতে হইব তাকে মাটি!’
তিনি আরও বলেন, ‘ছেলে প্রতিদিন সকালে ফোন করে। কিন্তু আজ এখন পর্যন্ত ফোন দেয়নি। কখন আসবে জাওয়াদের ফোন!’-তার এই আহাজারি কোনোভাবে সামাল দিতে পারছেন না স্বজন ও পাড়া-প্রতিবেশীরা।
নিলুফা আক্তারের একমাত্র সন্তান ছিলেন আসিম জাওয়াদ। বাবা ডাক্তার আমানুল্লাহ নবীনগর এলাকায় একটি বেসরকারি কারখানায় কর্মরত। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে তিনিও পাগলপ্রায়।
জাওয়াদের খালাতো ভাই রাজিব হোসেন জানান, জাওয়াদের ছয় বছরের এক কন্যা সন্তান ও ছয় মাসের এক পুত্র সন্তান রয়েছে। স্ত্রী রিফাত ও সন্তানদের নিয়ে চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় থাকতেন জাওয়াদ।
জাওয়াদের বড় মামা সাংবাদিক সুরুয খান জানান, অত্যন্ত মেধাবী ছিল জাওয়াদ। স্কুল ও কলেজজীবনে সব সময় প্রথম হয়েছে। ছোটবেলা থেকে জাওয়াদের স্বপ্ন ছিল পাইলট হবে। আর বাবা-মায়ের ইচ্ছা ছিল ডাক্তার কিংবা প্রকৌশলী হবে। পরে পরিবার জাওয়াদের ইচ্ছাকে সমর্থন জানায়। স্বপ্নপূরণ হয়ে পাইলটও হয়েছিল জাওয়াদ। কিন্তু সেই ছেলে আজ সবাইকে ফাঁকি দিয়ে চলে গেল। আজ শুক্রবার জাওয়াদের লাশ মানিকগঞ্জে পৌঁছবে বলে জানান তিনি।

বাইডেনকে হুমকি দিলেন নেতানিয়াহু

গাজার রাফাহয় সেনা অভিযান চালালে ইসরাইলকে অস্ত্র দেবে না যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন এমন ঘোষণা দেওয়ার পর আরও বেঁকে বসেছেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনঞ্জামিন নেতানিয়াহু। এরইমধ্যে ইসরাইলকে বোমা সরবরাহ করা বন্ধ রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র।
বৃহস্পতিবার নেতানিয়াহু ঘোষণা দিয়েছেন, ইসরাইল একাই লড়বে।
তিনি বলেন, ‘যদি আমাদের দরকার পড়ে… আমরা একাই লড়ব। আমি বলছি যদি প্রয়োজন হয় আমরা আমাদের হাতের আঙুলের (অস্ত্রের বদলে) নখ দিয়েই লড়াই করব।’
নেতানিয়াহু ১৯৪৮ সালের প্রসঙ্গ টেনে মার্কিন চোখ রাঙানি গায়েই মাখেননি। তিনি বলেন, ‘৭৬ বছর আগের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় আমরা ছিলাম কয়েকজন, বিপক্ষে ছিল অনেকেই। আমাদের অস্ত্র ছিলে না। ইসরাইলের ওপর অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা ছিল। তবে আমাদের মধ্যে চরম উদ্যম, নায়কত্ব ও একতা ছিলো। আমরা জয়ী হয়েছিলাম।’
তিনি আরও বলেন, মার্কিন অস্ত্রের চেয়েও বেশি কিছু করার ক্ষমতা ইসরাইলিদের নখের আছে।

পশ্চিমারা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শিক্ষাটা ভুলে গেছে: পুতিন

এবার পশ্চিমাদের বিরুদ্ধে বৈশ্বিক সংঘাতের ঝুঁকি তৈরির অভিযোগ আনলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। সেই সঙ্গে জানালেন, পশ্চিমাদের যে কোনো উসকানির যোগ্য জবাব দিতে প্রস্তুত থাকতে সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
এই রুশ নেতা সতর্ক করে বলেছেন, বিশ্বের সবচেয়ে বড় পারমাণবিক শক্তিধর দেশ (রাশিয়া) কারও হুমকি বরদাশত করবে না।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মানির নাৎসি বাহিনীর বিরুদ্ধে সোভিয়েত বাহিনীর বিজয় উদযাপনের এক অনুষ্ঠানে পুতিন এ হুঁশিয়ারি দেন।
পুতিন দাবি করেছেন, পশ্চিমারা আবারও বিশ্বজুড়ে সংঘাত ছড়িয়ে দেওয়ার উসকানি দিচ্ছে।
মস্কোর রেড স্কয়ারে সেনা সমাবেশের ওই অনুষ্ঠানে পুতিন আরও বলেছেন, ‘এ উচ্চাভিলাষের পরিণতির সম্পর্কে সবাই জানে। এ সময় রাশিয়া সব ধরনের বৈশ্বিক সংঘাত প্রতিরোধ করবে বলেও ঘোষণা দেন তিনি। জানিয়েছেন, রাশিয়ার স্ট্র্যাটেজিক (পরমাণু) ফোর্স সব সময় যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত।
ইউক্রেন যুদ্ধকে পুতিন দেখছেন পশ্চিমাদের বিপক্ষে লড়াইয়ের অংশ হিসেবে। ১৯৮৯ সালে বার্লিন দেয়ালের পতনের পর এ ঘটনা রাশিয়াকে অবমাননার মুখে ফেলেছে বলে মনে করেন তিনি।
নাৎসি বাহিনীকে পরাজিত করতে যেসব মিত্র দেশ যুক্ত ছিল, তাদের সবাইকে রাশিয়া সম্মান করে উল্লেখ করে পুতিন বলেন, ‘পশ্চিমা নেতারা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শিক্ষাটা ভুলে গেছে।’

এবার পুলিশের দারস্থ হলেন অপু বিশ্বাস

অরুচিকর, মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন তথ্য প্রচারের অভিযোগ নিয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন ঢাকাই সিনেমার নায়িকা অপু বিশ্বাস। বৃহস্পতিবার রাজধানীর ভাটারা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তিনি।
জিডিতে অপু বলেছেন, ‘বেশ কিছু দিন ধরে ৩৪ ব্যক্তি ও ব্লগার তাদের নিজস্ব ফেসবুক এবং ইউটিউব চ্যানেলে আমার নামে বিভিন্ন অরুচিকর, মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য প্রচার করছে। এমন অবস্থায় বিষয়টি সাধারণ ডায়েরিভুক্ত করে রাখার প্রয়োজন বলে মনে করেছি।’
ডিএমপির গুলশান বাড্ডা জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) রাজন কুমার সাহা অপুর জিডির বিষয়টি নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে বলেন, এ বিষয়টি তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ‘বুবলী ফ্যান, সীমান্ত, ভাইরাল নিউজ বাই তোমা, ফাইভ টিভি বাংলা ও রাইদ রবিসহ ৩৪টি ফেসবুক পেজ-ইউটিউব চ্যানেলের নাম উল্লেখ করেছেন অপু।
এ বিষয়ে মোবাইলে অপুর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।

সালমানের নায়িকা হতে পেরে যা বললেন উচ্ছসিত রাশমিকা

বলিউডে ‘সিকান্দার’ সিনেমা নিয়ে হাজির হচ্ছেন বলিউড ভাইজান সালমান খান। এই সিনেমায় প্রথমবারের মতো তার বিপরীতে কাজ করবেন দক্ষিণী ইন্ডাস্ট্রির জনপ্রিয় নায়িকা রাশমিকা মান্দানা। ২০২৫ সালের ঈদে মুক্তি পাবে সিনেমাটি। সালমানের সঙ্গে জুটি বাঁধার সুযোগ পেয়ে দারুণ খুশি এই নায়িকা।
বৃহস্পতিবার সকালে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান নাদিয়াদওয়ালা গ্র্যান্ডসন ‘সিকান্দার’ সিনেমার নায়িকা হিসেবে রাশমিকার নাম ঘোষণা দিয়েছে। সামাজিকমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বিষয়টি নিশ্চিত করেন তারা।
এই খুশির সংবাদটি ভক্তদের সঙ্গে শেয়ার করেছেন অভিনেত্রী। এক্সে (টুইটার) রাশ্মিকা মান্দানা সালমান খান অভিনীত সিকান্দার-এ যোগ দেওয়ার বিষয়ে নিজের উচ্ছাস প্রকাশ করেছেন। তিনি নাদিয়াদওয়ালার পোস্টটি পুনরায় শেয়ার করে লিখেছেন, আপনারা অনেক দিন ধরে আমাকে পরবর্তী আপডেটের জন্য জিজ্ঞাসা করছেন এবং এখানে এটি। সারপ্রাইজ!’
প্রযোজক সাজিদ নাদিয়াদওয়ালা সালমানের দীর্ঘদিনের বন্ধু। এ প্রযোজকের ‘জুড়ওয়া’, ‘হার দিল জো পেয়ার করেগা’, ‘মুঝসে শাদি করোগি’, ‘জানেমান’ ও ‘কিক’-এর মতো আলোচিত সিনেমায় অভিনয় করেছেন সালমান। কিক মুক্তির প্রায় এক দশক পর আবার এক হলেন এ অভিনেতা-প্রযোজক জুটি।
অন্যদিকে ‘গুডবাই’ সিনেমা দিয়ে বলিউডে পা রেখেছিলেন রাশমিকা। এরপর তাকে দেখা গেছে ‘মিশন মজনু’-তে। তবে সবশেষ ‘অ্যানিমেল’ সিনেমা সব রেকর্ড ভেঙ্গে দিয়েছে। বলিউডেও তাকে জনপ্রিয়তা এনে দিয়েছে।
২০২৫ সালের ঈদে মুক্তি পাবে সিকান্দার। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম বলিউড হাঙ্গামা জানিয়েছে, এ সিনেমা হতে যাচ্ছে সাজিদ নাদিয়াদওয়ালার প্রতিষ্ঠানের সবচেয়ে বড় বাজেটের সিনেমা। শুধু তাই নয়, বলিউডের অন্যতম বড় বাজেটের সিনেমার তালিকায় থাকবে এটি।

বিশ্বকাপ দলে জায়গা না পাওয়ায় অবসরের ঘোষণা দিলেন কলিন মুনরো

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন নিউজিল্যান্ডের ওপেনার কলিন মুনরো। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তিন হাজারের বেশি রান করা নিউজিল্যান্ডের এই আগ্রাসী ব্যাটার গত ২০২০ সালের পর নিউজিল্যান্ডের হয়ে কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেননি।
আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য ইতোমধ্যেই দল ঘোষণা করেছে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট। ১৫ সদ্যসের সেই স্কোয়াডে জায়গা হয়নি মুনরোর। তাতে খানিকটা অভিমানেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন এই কিউই ওপেনার।
মুনরো বলেন, ‘বø্যাক ক্যাপসের হয়ে খেলা সবসময়ই আমার ক্যারিয়ারে সবচেয়ে বড় অর্জন। আমি সেই জার্সিটি পরার চেয়ে অন্য কোনো কিছুতে বেশি গর্বিত বোধ করিনি। এটি সত্য যে, আমি সব ফরম্যাটে ১২৩ বার এটি করতে পেরেছি। তা নিয়ে আমি সর্বদা অবিশ্বাস্যভাবে গর্বিত হব।’
তিনি বলেন, ‘যদিও আমার শেষ ম্যাচের পর বেশ অনেকটা সময় চলে গেছে। তবে আমি কখনোই আশা ছাড়িনি। আমি মনে করেছি, ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টি ফর্মে এসে জাতীয় ফিরতে পারবো। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য বø্যাক ক্যাপস স্কোয়াড ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে সেই দরজা আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ করার উপযুক্ত সময় এসেছে।’
বাঁ-হাতি এই ব্যাটসম্যান ২০১২ সালের ডিসেম্বরে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে অভিষেক করেছিলেন।নিউজিল্যান্ডের হয়ে তিন ফরম্যাট মিলিয়ে ১২৩টি ম্যাচ খেলেছেন মুনরো। যেখানে একটি টেস্ট, ৫৭টি ওয়ানডে ও ৬৫ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ ছিল। সাদা বলের ক্রিকেটে লম্বা সময় দলের নিয়মিত সদস্য ছিলেন এই ওপেনার।