ঢাকা : পার্বত্য চট্টগ্রামে সাম্প্রতিক ঘটনায় দেশের নিরাপত্তাব্যবস্থা কতটা ভঙ্গুর তা প্রকাশ পেয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
গতকাল রোববার গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, আজকে বাংলাদেশ সীমান্ত ভয়াবহভাবে আক্রান্ত। দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব বিপন্ন হয়ে পড়েছে। গত দুই-তিন দিনে পার্বত্য চট্টগ্রামে ব্যাংক লুট হয়েছে, থানা আক্রমণ হয়েছে। কী দুর্ভাগ্য আমাদের! এখন পর্যন্ত আমাদের সরকার বলতে পারছে না যে, কারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে। অনেকে বলেছেন যে, মিয়ানমারের কট্টর সংগঠন, কেউ কেউ বিরোধী দলের দিকে ইঙ্গিত করে বলছে যে জঙ্গিরা এর সঙ্গে জড়িত। যখন কোনো কিছু করতে পারে না, বের করতে পারে না তখন অন্যের ঘাড়ে দোষ চাপাতে হয়। তখন জঙ্গি খুঁজে বের করা হয়। এই ঘটনা প্রমাণ করেছে, বাংলাদেশের নিরাপত্তাব্যবস্থা কত ভঙ্গুর।
সরকার ভারতের সাথে পানি সমস্যার সমাধান করতে পারেনি, সীমান্ত হত্যা বন্ধ করতে পারেনি, মানুষের কর্মসংস্থান করতে পারেনি উল্লেখ করে সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন বিএনপি মহাসচিব।
রাষ্ট্র পরিচালনায় সরকার ব্যর্থ : মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগী বলেন, এরা (সরকার) সব দিক দিয়ে ব্যর্থ। এরা রাষ্ট্র পরিচালনায় ব্যর্থ হয়েছে, এরা জনগণকে পথ দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে। স্বাস্থ্যব্যবস্থা আজ চরমভাবে ভেঙে পড়েছে, শিক্ষাব্যবস্থাকে তারা পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করে দিয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠনের সন্ত্রাসের কবলে উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আজকে এমন কোনো বিশ্ববিদ্যালয় নেই, যে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী দ্বারা নিয়ন্ত্রিত নয়। একটা মাত্র বাকি আছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়-বুয়েট। সেটির ওপরেও তারা হিংস্ররূপ ধারণ করেছে।
তিনি বলেন, আমরা ছাত্ররাজনীতির বিরোধী নই। আমরা ছাত্ররাজনীতি করে এসেছি। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে, তার আগে ভাষা আন্দোলনে সবকিছুই ছাত্ররা করেছে। কিন্তু আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকে ভয়াবহ সন্ত্রাসের রাজত্ব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সৃষ্টি করেছে । ছাত্র লীগ হত্যা-খুন সবকিছু চালিয়ে যাচ্ছে।
দেশের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে এই অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে তরুণ-য্ ুসমাজকে জেগে ওঠার আহŸানও জানান বিএনপি মহাসচিব।
তিনি বলেন, তরুণসমাজকে বলব, আর কতকাল তোমরা এভাবে নির্যাতিত হবে। কতদিন আর আমাদের এই দৃশ্য দেখতে হবে যে, মা তার ছেলের জন্য কাঁদছে, ছোট্ট শিশু তার বাবাকে দেখতে চায়। আমাদের তো বয়স শেষ দিকে, এখন তো আমাদের রাস্তায় নেমে কাজ করা সম্ভব নয়। এখন যুবকদের-তরুণদের প্রতিজ্ঞা নিয়ে আসতে হবে যে, আমরা দেশমাতৃকাকে মুক্ত করব, আমরা মানুষের অধিকার ফিরিয়ে আনব।
তিনি বলেন, আমরা নিজেরা ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য আন্দোলন করছি না। আমরা মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলন করছি, গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার জন্য আন্দোলন করছি। আমরা সবাই দুঃখ-কষ্টের মধ্যে আছি; কিন্তু এই দুঃখ-কষ্টকে আমাদেরকে শক্তিতে রূপান্তরিত করতে হবে। মানুষের জন্য আমরা সংগ্রাম করব, আন্দোলন করব, বিজয়কে ছিনিয়ে আনব ইনশাআল্লাহ।
গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে অ্যাসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ(এ্যাব)-এর উদ্যোগে চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সুস্বাস্থ্য কামনায় দোয়া মাহফিল এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলন নিহত নেতাকর্মীদের পরিবারের ঈদ উপহার প্রদান উপলক্ষে এই অনুষ্ঠান হয়।
লন্ডন থেকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এতে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য রাখেন।
এ্যাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আশরাফ উদ্দিন বকুলের সভাপতিত্বে ইফতারপূর্ব আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, সেলিমা রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আ ন হ আখতার হোসেন এবং এ্যাবের মহাসচিব প্রকৌশলী হাছিন আহমেদ, এ্যাবের কেন্দ্রীয় নেতা মোস্তফা জামাল সেলিম, আসাদুজ্জামান চুন্ন, নূরে আলম ভূঁইয়া, শামীমুর রহমান শামীম, আবদুল মতিন খান, মো: হানিফ, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা শাম্মী আখতার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের বিভিন্ন সময়ে নিহত ৪০ নেতাকর্মী পরিবারের সদস্যদের হাতে তারেক রহমানের ঈদ উপহার তুলে দেন বিএনপি মহাসচিব।
দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিপন্ন হয়ে পড়েছে : ফখরুল
ঈদের আগেই গ্রেফতার নেতাকর্মীদের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি বিএনপির
ঢাকা : মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতরের আগে দলের আটক নেতাকর্মীদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
গতকাল রোববার দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি জানান।
রিজভী বলেন, আইনের প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়ে বিএনপি নেতারা জামিনের জন্য আদালতে হাজির হন। এরপর সরকারের ‘আজ্ঞাবহ আদালত’ তাদের কারাগারে পাঠান।
তিনি বলেন, ‘বাকশাল-২ (বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ) সরকারের জুলুম-নির্যাতনে জনগণ কষ্ট পাচ্ছে। দেশে সভা-সমাবেশ করার সব সুযোগ-সুবিধা শুধু ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগই ভোগ করছে। এখানে অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর এটা করার অধিকার নেই।’ তারা নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে কলুষিত করে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেছে অভিযোগ করে রিজভী বলেন, আওয়ামী সন্ত্রাস তার সীমা ছাড়িয়ে গেছে। রিজভী বলেন, গণতন্ত্রের মূলনীতিকে কবর দিয়ে আওয়ামী লীগ দেশকে একটি সর্বগ্রাসী রাষ্ট্রে পরিণত করেছে। এ অবস্থায় মানুষের মন থেকে ঈদের আনন্দের অনুভূতি উধাও হয়ে গেছে।
তিনি আরো বলেন, বিশেষ করে এবারের ঈদ মধ্য ও নি¤œ আয়ের মানুষের জন্য নিরানন্দের।
তিনি বলেন, দেশের সর্বত্র নির্যাতন, ডাকাতি হচ্ছে। রাষ্ট্রক্ষমতা ব্যবহার করে আওয়ামী লীগ জুলুম-নির্যাতন, গুম, হত্যা, বিরোধী দলের বিরুদ্ধে গায়েবি ও মিথ্যা মামলা দায়ের অব্যাহত রেখেছে।
বিএনপির এই নেতা আরো বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার গত ১৬ বছরে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ ৫০ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে দেড় লাখ মিথ্যা মামলা দিয়েছে। সূত্র : ইউএনবি।
বাংলাদেশ সীমান্ত আজ ভয়াবহভাবে আক্রান্ত:মির্জা ফখরুল
ঢাকা : ‘বাংলাদেশ সীমান্ত আজ ভয়াবহভাবে আক্রান্ত, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব বিপন্ন হয়ে পড়েছে’Ñএ মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, ‘গত কয়েক দিনে পার্বত্য চট্টগ্রামে ব্যাংক লুট হয়েছে, থানা আক্রান্ত হয়েছে। কী দুর্ভাগ্য আমাদের, এখন পর্যন্ত সরকার বলতে পারছে না যে কারা এটার সঙ্গে জড়িত।’
রোববার বিকেলে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক ইফতার মাহফিলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বান্দরবানে সশস্ত্র হামলা ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন।
ইফতার মাহফিলের আগে বর্তমান সরকারের আমলে নির্যাতনের শিকার বিএনপির নেতা-কর্মীদের পরিবারের হাতে ঈদ উপহার তুলে দেওয়া হয়। এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে অ্যাসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (এ্যাব)।
পার্বত্য চট্টগ্রামে হামলাকারীদের প্রসঙ্গে অনুষ্ঠানে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, অনেকে বলছেন মিয়ানমারের ভেতরের বড় কোনো সংগঠন, অনেকে ইঙ্গিত করে বলছেন জঙ্গিরা এর সঙ্গে জড়িত। সরকার যখন কোনো কিছু করতে পারে না, বের করতে পারে না, যখন দোষ চাপাতে হয়, তখন জঙ্গি খুঁজে বের করে। এ ঘটনা প্রমাণ করেছে যে বাংলাদেশে নিরাপত্তাব্যবস্থা কতটা ভঙ্গুর। আওয়ামী লীগ সরকার সীমান্তে হত্যা বন্ধ করতে পারেনি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘সন্ত্রাসী রাজত্ব’
দেশে এমন একটা বিশ্ববিদ্যালয় খুঁজে পাওয়া যাবে না, যেখানে ছাত্রলীগের সন্ত্রাস নেইÑএ অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ভয়াবহ একটি সন্ত্রাসী রাজত্ব তারা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সৃষ্টি করেছে। সেখানে একটি প্রতিষ্ঠান আছে বুয়েট, যেখানে কিছুটা জ্ঞানের চর্চা হচ্ছে। এখন তারা সেটাকেও গ্রাস করতে চায়।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আর কতকাল আমাদের এ দৃশ্য দেখতে হবে যে মা তার ছেলের জন্য কাঁদছেন। ছোট্ট শিশু তার বাবাকে দেখতে চায়, যেতে চায় বাবার কাছে।’
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সাধারণ মানুষের মধ্যে আশা জেগে উঠেছিল যে বোধ হয় পরিবর্তন হবেÑএ মন্তব্যও করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, ‘হয়তো কিছু সময়ের জন্য হলেও আমরা একটু থেমে গেছি। কিন্তু আমরা জানি আমাদের ভেতরে আগুন জ্বলছে। আমাদের অধিকার ফিরিয়ে আনব। সব অন্যায়কে দূর করব।’
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ইফতার মাহফিল ও ঈদ উপহার বিতরণ অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ প্রমুখ। এ্যাবের সভাপতি আশরাফ উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সংগঠনটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব আসাদুজ্জামান চুন্নু।
গোটা পাহাড় অশান্ত হওয়ার কোনো কারণ নেই: ওবায়দুল কাদের
ঢাকা : গত বছরের মতো এবারের ঈদযাত্রাও স্বস্তিদায়ক বলে মন্তব্য করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, ‘সড়কে গাড়ির চাপ আছে, তবে যানজট থাকবে না।’
এদিকে পাহাড়ে সশস্ত্র তৎপরতা চলা নিয়ে সেতুমন্ত্রী বলেছেন, গোটা পাহাড় অশান্ত হওয়ার কোনো কারণ নেই।
আজ শনিবার সকালে সচিবালয় থেকে সাসেক দুই প্রকল্পের আওতায় টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা-হাটিকুমরুল-রংপুর মহাসড়কে নির্মিত একটি রেলওভারপাস, সাতটি ওভারপাস ও একটি সেতু যান চলাচলের জন্য উন্মুক্তকরণ অনুষ্ঠানে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে এসব কথা বলেন ওবায়দুল কাদের।
এদিন একই সঙ্গে ঢাকা-চট্টগ্রাম জাতীয় মহাসড়কের টোল প্লাজার সব লেনে ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন (ইটিসি) কার্যক্রম চালুসহ মেঘনা সেতু টোল প্লাজা-২-এর উদ্বোধন করেন সেতুমন্ত্রী।
এ সময় পাহাড়ে সশস্ত্র তৎপরতা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘পাহাড়ে যৌথ অভিযান চলছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। বিক্ষিপ্ত কিছু ঘটনা। গোটা পাহাড় অশান্ত হওয়ার কোনো কারণ নেই।’
একই প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘চীন ও ভারত সীমান্তের কাছে চিন স্টেট নামে একটা স্টেট আছে। ওখানে কেএনএফের একটি ঘাঁটি আছে বলে মনে করা হয়। তাদের সঙ্গে আগে আলোচনা হলেও কেন তারা বিদ্রোহ করল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’
ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, ‘সেখানে (পাহাড়ে) যৌথ অভিযান চলছে। যদি বাইরের কারও সাপোর্ট থাকে, ইউপিডিএফ, সন্তু লারমার জনসংহতি সমিতি বললে আলাদা কথা। এই ক্ষুদ্র বিচ্ছিন্ন গোষ্ঠীকে কে সমর্থন দেবে? সংক্ষুব্ধ হয়ে তারা এটি করতে পারে।’
ভারতের মিজোরামে বম জনগোষ্ঠী থাকার প্রসঙ্গ সাংবাদিকেরা তুললে সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘মিজোরামের সঙ্গে সম্পর্ক আছেÑঠিক জানি না। সীমান্ত থেকে কোনো বিচ্ছিন্নতাবাদী সন্ত্রাসী সংগঠন থেকে মদদ দেওয়া হতে পারে। এখন তদন্ত চলছে। সব সত্যই বেরিয়ে আসবে।’
ঘরমুখো মানুষের উপচেপড়া ভিড় পাটুরিয়া ঘাটে
ঢাকা: ঈদে ঘরমুখো মানুষের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে পাটুরিয়া ঘাটে। রোববার থেকে ভিড় বেড়েছে। সোমবার সকালেও অনেক ভিড় দেখা গেছে। ঘাট এলাকার কোথাও পা রাখার ঠাঁই নেই। যাত্রীরা লঞ্চে ওঠতে না পেরে ফেরিতে পদ্মা ও যমুনা নদী পার হতে বাধ্য হচ্ছেন।
অনেক যাত্রী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গাদাগাদি করে লঞ্চেই যাচ্ছেন। ভিড়ের কারণে ফেরিতে কাটা লাইন (ঘাট পর্যন্ত চলাচল) বাসের যাত্রীদেরই বেশি পারাপার করছে কর্তৃপক্ষ। ঘাট এলাকাকে যানজট মুক্ত রাখতে যাত্রীদের লঞ্চ ঘাট থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে বাস থেকে নামিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ফলে যাত্রীদের প্রায় আধা কিলোমিটার পায়ে হেঁটে লঞ্চ ও ফেরিতে ওঠতে হচ্ছে।
আজ সোমবার সকালে পাটুরিয়া ঘাট এলাকা ঘুরে ফেরি পারাপারের যানবাহনের চেয়ে কাটা লাইনের বাসের যাত্রী বেশি দেখা গেছে। ফেরি পারাপারের যানবাহনগুলো ঘাটে এসেই সরাসরি ফেরিতে ওঠে পারাপার হচ্ছে। তবে লঞ্চের যাত্রীদের ভিড় বেশি দেখা গেছে।
ঘাট কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রতি বছর যাত্রীদের ঘাটে এসে ফেরি পারাপার হওয়ার জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষায় থাকতে হয়। এতে তাদের দুর্ভোগ হয়। এ কারণে এবার ঈদে যাত্রীরা ফেরি পারাপারের বাসে কম এসে লঞ্চ পারাপার (কাটা লাইন) বাসে বেশি যাচ্ছেন। আর এ সুযোগে দুর্নীতিবাজ লঞ্চ মালিক শ্রমিকরা লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী পারাপার করছেন বলে যাত্রীরা অভিযোগ করেছেন। যদিও এ অভিযোগ লঞ্চ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল রহিম খান অস্বীকার করেন।
বিআইডবিøউটিসির আরিচা অফিসের খালেদ নেওয়াজ জানান, পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌ-রুটে ১৫টি ফেরি, ২২টি লঞ্চ ও আরিচা-কাজীর হাট নৌ-রুটে ৫টি ফেরি ও ১০টি লঞ্চ দিয়ে যাত্রী ও যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে। এ কারণে ঘাট এলাকায় এবার যানজট হয়নি। লঞ্চ পারাপারে যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড়ের কারণে তাদের ফেরিতে পারাপার করা হচ্ছে।
শিবালয় থানার ওসি আব্দুর রউফ সরকার বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য নবীনগর থেকে পাটুরিয়া ও আরিচা ঘাট পর্যন্ত প্রায় এক হাজার পুলিশ, র্যাব, আনসারসহ বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার লোকজন নিয়োজিত আছে। ঘাটে এসে যাত্রীরা নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন।
ফের আলোচনায় নাথান বম
ঢাকা : ফের আলোচনায় নাথান বম। পাহাড়ে ভয়ংকর জঙ্গি সংগঠন হিন্দাল শারক্বীয়ার জামাতুল আনসার আল ফিল হিন্দাল শারক্বীয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের বিষয়টি আলোচনায় আসে গত দুই বছর আগে। হিন্দাল শারক্বীয়ার সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেয় ‘কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট’ বা ‘কেএনএফ’। এই ‘কেএনএফ’-এর প্রতিষ্ঠাতা নাথান বম। গোয়েন্দারা বলছেন, সীমান্তের ওপারে একটি গ্রামে অবস্থান করেই কেএনএফের সবকিছু সমন্বয় করছে নাথান বম। দেশের বম স¤প্রদায়ের অনেক সদস্যকেই নাথান কেএনএফ-এ ভিড়িয়েছে। মাঝে মাঝেই নাথান মিয়ানমার এবং নেদারল্যান্ডসে যাতায়াত করেন বলে খবর পেয়েছেন তারা। সা¤প্রতিক কুকি-চিন এর ভয়ংকর তৎপরতার পেছনে আন্তর্জাতিক কোনো ষড়যন্ত্র আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার একাধিক শীর্ষ ব্যক্তি।
র্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপস) কর্নেল মাহবুব আলম বলেন, নাথানের অবস্থান শনাক্ত করতে আমরা সব ধরনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আজ কেএনএফ-এর প্রধান সমন্বয়ক চেওসিম বমকে গ্রেফতার করা হচ্ছে। দেখা যাক তার কাছ থেকে কোনো তথ্য পাওয়া যায় কি না! তবে এর জন্য আমরা ইন্টারপোলের সহায়তাও নিব।
একাধিক সূত্র বলছে, কেএনএফ-এর প্রতিষ্ঠাতা নাথান বমের সঙ্গে ২০২০ সালের শেষের দিকে জামাতুল আনসারের তৎকালীন আমির মো. আনিসুর রহমান ওরফে মাহমুদের সঙ্গে চুক্তি হয়। চুক্তি অনুযায়ী পার্বত্য অঞ্চলে ‘জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়া’র সদস্যদের ২০২১ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত কেএনএফ প্রশিক্ষণ দেবে। চুক্তি অনুযায়ী প্রতি মাসে ৩ লাখ টাকা করে দেওয়া হয় কেএনএফকে। এমনকি প্রশিক্ষণার্থী এবং কেএনএফ-এর প্রশিক্ষকদের খাবার খরচ বহন করে ‘জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়া’। যে চুক্তির মাধ্যমে এই নব্য জঙ্গি সংগঠনকে প্রশিক্ষণ প্রদান এবং আশ্রয় দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। যেখানে তাদের বিপুল পরিমাণ অর্থ দেওয়ার কথাও ওই চুক্তিতে বলা হয়। ওই অর্থের বিনিময়ে নব্য জঙ্গি সংগঠনটির সদস্যরা সেখানে অবস্থান করছিল, প্রশিক্ষণ নিচ্ছিল। তারা সেখানে খাবারসহ সব ধরনের সাপোর্টও পেয়ে আসছিল।
যেখান থেকে উত্থান : পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে বম স¤প্রদায়ের লোকসংখ্যা সাকুল্যে ৫-৬ হাজার। পার্বত্য এলাকার বান্দরবান জেলায় মূলত এই স¤প্রদায়ের মানুষের বাস। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী স¤প্রদায়ের মধ্যে যারা পিছিয়ে পড়া, বমরা তাদের মধ্যে অন্যতম। এই বমদের মধ্যে এক ছেলে ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে। সেটা ১৯৯৬ সালের কথা। পড়াও শেষ করেন। কিন্তু পড়াশোনা শেষ করে নিজের জন্য নিজের গোষ্ঠীর জন্য যখন কিছু করার কথা, তা না করে তিনি পাহাড়ে গড়ে তুললেন এক সন্ত্রাসী সংগঠন কেএনএফ। পাহাড় বা সমতল সব মানুষের কাছেই এই সন্ত্রাসী সংগঠনটি ভয়ের-আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স¤প্রতি থানচি ও রুমায় দুটি ব্যাংকের তিনটি শাখায় অভিযান চালিয়ে নিজেদের শক্তির জানান দিয়েছে কুকি-চিন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে ব্যাংক লুটে কুকি-চিন জড়িত এ ব্যাপারে তারা নিশ্চিত। তবে থানচি থানায় গোলাগুলির ঘটনায় কুকি-চিন জড়িত কি না সে ব্যাপারে নিশ্চিত নয় বিজিবি।
অভিযোগ রয়েছে, ২০১৭ সালের দিকে বম স¤প্রদায়ের ৪০ সদস্যকে মিয়ানমারের কোচিন রাজ্যে প্রশিক্ষণের জন্য পাঠান নাথান। তারা ফেরত আসার পরপরই নাথান গোপন তৎপরতা শুরু করেন। তিনি ২০১৮ সালে সংসদ নির্বাচনের জন্য মনোনয়নপত্র জমাও দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই মনোনয়নপত্র বৈধ হয়নি। নাথানের আর নির্বাচনও করা হয়নি। ২০২২ সালের দিকে ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে একটি আলাদা রাজ্য গঠনের ঘোষণা দেন তিনি। এরপর কেএনএফের কর্মকান্ডের নানা ছবিও পোস্ট করতে থাকেন। বম স¤প্রদায়ের বেশির ভাগই খুব দরিদ্র। এই জাতিগোষ্ঠীর প্রায় সবাই খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বী। নাথান বমের বেড়ে ওঠাও এমন একটি দরিদ্র পরিবারে। তারা পাঁচ ভাই, এক বোন। নাথান সবচেয়ে ছোট। নাথান বম ছাত্রজীবনে পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সঙ্গে যুক্ত হন। জেএসএসের এই ছাত্র সংগঠনের স্থানীয় পর্যায়ের নেতাও ছিলেন। তার স্ত্রী লেলসমকিন বম চাকরিজীবী ও দুটি সন্তান আছে। স্ত্রী বান্দরবানের রুমা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নার্স হিসেবে কর্মরত। তবে নাথানের সঙ্গে তার ছাড়াছাড়ি হয়ে গেছে- এমন আলোচনা এলাকায় রয়েছে। বান্দরবানে এইচএসসি পর্যন্ত পড়াশোনা শেষে নাথান ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলায়। সেখান থেকে স্নাতক করেন। যুক্তরাজ্যে পড়াশোনা করেছেন বলেও নিজে দাবি করতেন। স্থানীয়রা মনে করেন এনজিও গড়ে তোলার সময় নাথান কিছু টাকা পেয়েছিল। যদিও তার উৎস সম্পর্কে কেউই কিছু জানে না। সে সময় থেকে নাথান বম এলাকার মানুষকে বিশেষ করে যুবকদের একত্রিত করা শুরু করেন। প্রথম দিকে এলাকার মানুষ এটাতে খুব একটা পাত্তা দেননি। কিন্তু একপর্যায়ে তারাও কিছুটা সন্দেহ করতে শুরু করেন। কেউ কেউ নাথানকে সতর্কও করেন। অনেকেরই ধারণা এই এনজিওর আড়ালে সশস্ত্র সংগঠন গড়ে তোলার কাজ করতেন নাথান। বাংলাদেশে কাজ করে এমন একটি আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থায় চাকরির জন্য আবেদন করেন নাথান। কিন্তু সেটি পাননি তিনি। এরপর নিজ এলাকায় রিসোর্টও করেন। কিন্তু সেখানেও সফল হতে পারেননি। ব্যবসাও বন্ধ হয়ে যায়। এরপর একটি এনজিও গড়ে তোলেন। কুকি-চিন ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (কেএনডিও) নামে সেই এনজিও দাঁড় করাতে না পারার পর নাথান কীভাবে একটি সশস্ত্র সন্ত্রাসী সংগঠন গড়ে তুললেন সে বিষয়ে পরিষ্কার কোনো ধারণা পাওয়া যায় না। নাথানের সন্ত্রাসী হয়ে ওঠা নিয়ে তাই এলাকায় আছে নানা আলোচনা। তবে নিশ্চিত করে কেউ কিছুই বলতে পারেন না। স্থানীয় ও তার স্বজনরা শুধু এটুকুই বলতে পারেন ২০১৮ সাল থেকে নাথান বমের মধ্যে কিছু অস্বাভাবিক আচরণ তারা দেখতে পান।
এমপিও হতে চেয়েছিলেন নাথান : ২০১৮ সালের সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। যদিও সেটি বাতিল হয়ে যায়। তবে ওই বছর নাথান ও আরও কয়েকজন যুবক পার্শ্ববর্তী মিয়ানমানের চিন রাজ্যে গিয়েছিলেন বলে জনশ্রুতি আছে এবং এরপর সে প্রায়ই ভারতের মিজোরাম ও মিয়ানমারের চিন রাজ্যে যাতায়াত করতেন বলে জানা যায়। ২০২২ সালের ফেব্রæয়ারি মাসের দিকে নাথান স্থানীয় একজনকে নিজের এনজিওর অফিসে তুলে মারধর করেন। আহত অবস্থায় তাকে ফেলে দেওয়া হয়। এর পরপরই নাথান এলাকা ত্যাগ করেন। স্থানীয় ও নাথানের স্বজনদের ধারণা মিজোরাম ও চিনের কোনো গোষ্ঠী এবং দেশের ভিতরে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী চাকমাদের ওপর বিদ্বেষ আছে এমন কোনো সংস্থা বা ব্যক্তি নাথানকে সহযোগিতা করেছে।
চলছে চিরুনি অভিযান: কেএনএফের প্রধান সমন্বয়কসহ পাঁচজন গ্রেফতার
ঢাকা: বান্দরবানের রুমা ও থানচিতে তিনটি সরকারি ব্যাংকে ডাকাতি, অস্ত্র লুট, গোলাগুলি এবং ব্যাংক ম্যানেজার অপহরণের ঘটনায় জড়িত সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের ধরতে যৌথ বাহিনীর চিরুনি অভিযান শুরু হয়েছে। বর্তমানে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে সম্ভাব্য এলাকাগুলোতে সাঁড়াশি অভিযান চালানো হচ্ছে। এদিকে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে র্যাব-১৫ সদস্যরা গতকাল ভোর রাতে বান্দরবান সদর উপজেলার সুয়ালক ইউনিয়নের শ্যারনপাড়ায় এক বিশেষ অভিযান চালিয়ে চেওসিম বম (৫৫) নামে কেএনএফের প্রধান সমন্বয়কসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে। এদিকে ব্যাংকের শাখা বন্ধ থাকায় ঈদের আগে গ্রাহকদের ভোগান্তি বেড়েছে।
থানচি ও রুমায় কয়েক দফা সন্ত্রাসী হামলার পর সেখানে কেএনএফের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের দমনে যৌথ বাহিনী চিরুনি অভিযান শুরু করেছে। গতকাল সকালে বান্দরবানে গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান সেনাপ্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ। এ সময় তিনি বলেন, ইতোমধ্যে চিরুনি অভিযান শুরু হয়েছে। বিভিন্ন বাহিনী যৌথভাবে এ কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
এদিকে ব্যাংকে হামলার পর পাহাড়ে অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজন পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে র্যাব; যাদের মধ্যে একজন কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের (কেএনএফ) কেন্দ্রীয় কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী বলে দাবি করেছে র্যাব। গ্রেফতার কেএনএফ নেতার নাম চেওসিম বম। তিনি বান্দরবান সুয়ালক ইউনিয়ন পরিষদের চার নম্বর ওয়ার্ডের শ্যারনপাড়ার বাসিন্দা। গতকাল বিকালে বান্দরবান জেলা পরিষদ অডিটরিয়ামে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-১৫ এর ক্যাম্প কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল এইচ এম সাজ্জাদ হোসেন এসব তথ্য জানান। হামলার ঘটনায় সন্দেহভাজন আরও যে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তাদের পরিচয় জানায়নি র্যাব। এইচ এম সাজ্জাদ হোসেন জানান, চেওসিম বম কেএনএফের প্রধান নাথান বমের আত্মীয়। নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়ার নেতা শামীম মাহফুজ ও নাথান বমের মধ্যে অর্থের বিনিময়ে প্রশিক্ষণের চুক্তি শ্যারনপাড়ার চেওসিম বমের বাড়িতেই হয়েছিল। সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সুয়ালক ইউনিয়নের শ্যারনপাড়ায় চেওসিম বমের বাড়িতে অভিযান চালানো হয় জানিয়ে র্যাবের ক্যাম্প কমান্ডার বলেন, ঘরের মধ্যে একটি লোহার লকারের ভিতর তাকে পাওয়া যায়। তিনি সেখানে লুকিয়ে ছিলেন। লকারটি বাইরে থেকে তালা দেওয়া ছিল। তালা ভেঙে তাকে বের করে গ্রেফতার করা হয়।
পরে বান্দরবান সদর উপজেলার পার্বত্য অঞ্চলে অভিযান চালিয়ে র্যাব দুটি আগ্নেয়াস্ত্রও উদ্ধার করে। তবে এগুলো গত ২ এপ্রিল রুমা উপজেলায় সোনালী ব্যাংকের শাখায় ডাকাতির সময় সেখানকার পুলিশ ও আনসার সদস্যদের থেকে ছিনিয়ে নেওয়া আগ্নেয়াস্ত্র কি না- তা এখনো জানা যায়নি।
বান্দরবানে পুলিশ ও আনসার সদস্যদের কাছ থেকে লুট হওয়া ১৪টি অস্ত্র ও ৪১৫টি গুলির হদিস পাঁচ দিনেও মেলেনি।
এদিকে থানচি, রোয়াংছড়ি ও রুমা উপজেলায় সোনালী ব্যাংক ও কৃষি ব্যাংকের তিনটি করে ছয়টি শাখার কার্যক্রম গত বুধবার থেকে নিরাপত্তার কারণে বন্ধ রয়েছে। এ কারণে তিনটি উপজেলার বাসিন্দারা লেনদেন করতে না পারায় আর্থিক কষ্টে রয়েছেন। তিনটি উপজেলায় দুটি ব্যাংকের এ ছয়টি শাখা ছাড়া আর অন্য কোনো ব্যাংকের শাখা নেই। রুমায় সোনালী ব্যাংকের শাখায় গত মঙ্গলবার রাত সোয়া ৮টার দিকে হামলা করে অস্ত্রধারীরা ভল্টে থাকা ১ কোটি ৫৯ লাখ টাকা নিতে পারেনি। তবে ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক (ম্যানেজার) নিজাম উদ্দিনকে জিম্মি করে নিয়ে যায়। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রুমা থেকে তাকে উদ্ধার করে র্যাব। ওইদিন পুলিশ ও আনসার সদস্যদের ১৪টি অস্ত্র ও ৪১৫টি গুলি লুট করে অস্ত্রধারীরা। এলাকাবাসীর মুঠোফোনও নিয়ে গেছে তারা। পরদিন বুধবার থানচি থানার দুটি ব্যাংকের শাখা থেকে সাড়ে ১৭ লাখ টাকা লুট করে অস্ত্রধারীরা। এ ঘটনায় রুমা ও থানচি থানায় পৃথক ছয়টি মামলা হয়।
এদিকে গত মঙ্গল ও বুধবার ব্যাংকে সন্ত্রাসী হামলা ও ব্যাংক ম্যানেজারকে অপহরণ ঘটনার পর থেকে রুমা উপজেলার জনজীবন থমকে আছে। হাটবাজারের দোকানপাট তেমন একটা খুলছে না। খুব প্রয়োজন না হলে বাড়ি থেকে বের হচ্ছে না কেউ। এর ফলে বিকালের পর থেকেই উপজেলাজুড়ে সুনসান নীরবতা বিরাজ করছে। এমন অবস্থায় অভ্যন্তরীণ রুটগুলোতে যানবাহন চলছে না।
অন্যদিকে শনিবার থেকে রুমা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় র্যাবের দুটি ইউনিট তল্লাশি চালাচ্ছে। এতে বম অধ্যুষিত গ্রামগুলোতে শঙ্কা ছড়িয়ে পড়ছে। তবে র্যাব বলেছে, এই তল্লাশি অভিযানে নির্দোষ কোনো ব্যক্তিকে হয়রানি করা হচ্ছে না।
বান্দরবানের জেলা প্রশাসক শাহ মোজাহিদ উদ্দিন বলেন, ব্যাংকে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনার পর রুমা, রোয়াংছড়ি ও থানচি উপজেলায় বাড়তি নিরাপত্তাব্যবস্থা আরোপ করা হয়েছে। বাড়ানো হয়েছে পুলিশের সংখ্যা। এর ফলে জনজীবন ক্রমশ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসছে। বান্দরবানের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রায়হান কাজেমী জানান, লুট হয়ে যাওয়া অস্ত্রগুলো উদ্ধারের জন্য আমরা চেষ্টা করছি। বিভিন্ন সোর্সের মাধ্যমে এসব অস্ত্র কোথায় রয়েছে তার অনুসন্ধান চালাচ্ছি। আশা করছি, চলমান বিশেষ অভিযানে এসব অস্ত্র উদ্ধার করা যাবে।
মসজিদ মিশন সেন্টারের কমিউনিটি ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত
নিউইয়র্ক (ইউএনএ): নিউইয়র্কের হাজী ক্যাম্প মসজিদ হিসেবে পরিচিত জ্যামাইকার মসজিদ মিশন সেন্টারের উদ্যোগে কমিউনিটি ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

প্রতি বছরের মতো এবছরও গত ৫ এপ্রিল শুক্রবার সেন্টারে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও নিয়মিত মুসল্লী সহ সর্বস্তরের সাড়ে চার শতাধিক ধর্মপ্রাণ নারী-পূরুষ অংশ নেন। অনেকে পরিবার-পরিজন নিয়েও এতে অংশ নেন। নিউইয়র্ক সিটি ছাড়াও লং আইল্যান্ড থেকেই অনেকে যোগ দেন এই মাহফিলে।

মাহফিলে মানব জাতির কল্যানে পবিত্র রমজানের গুরুত্ব ও তাৎপর্য নিয়ে বক্তব্য রাখেন মসজিদ মিশন সেন্টারের ইমাম মঞ্জুরুল করীম ও মুফতি আব্দুল মালেক। এছাড়াও বিশেষ মুনাজাত পরিচালনা করেন সেন্টারের পেশ ইমাম ও খতিব হাফেজ রফিকুল ইসলাম।

মাহফিলে বক্তারা রমজানের শিক্ষা নিয়ে জীবন অতিবাহিত করার উপর গুরুত্বারোপ করেন এবং পবিত্র আল কোরআনের আলোকে জীবন গড়ার জন্য মুসল্লীদের প্রতি আহ্ববান জানান।
নারায়ণগঞ্জে ধর্ষণ মামলায় মাওলানা মামুনুল হকের জামিন
ঢাকা: নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ থানায় দায়ের করা ধর্ষণ মামলায় হেফাজতে ইসলামের বিলুপ্ত কমিটির যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হকের জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত। গতকাল দুপুরে নারায়ণগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতের বিচারক নাজমুল হক শ্যামলের আদালত এ জামিন মঞ্জুর করেন। এদিন আসামিপক্ষে এডভোকেট একেএম ওমর ফারুক নয়নসহ অন্য আইনজীবীরা মামুনুল হকের জামিনের শুনানি করলে আদালত শুনানি শেষে জামিন মঞ্জুর করেন। তবে জামিন শুনানির সময়ে মামুনুল হক আদালতে উপস্থিত ছিলেন না।
এ বিষয়ে এডভোকেট একেএম ওমর ফারুক নয়ন বলেন, আমরা জামিনের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেছি। মেডিকেল বোর্ডের রিপোর্ট তুলে ধরেছি। রিপোর্টে বাদী বলেছেন স্বেচ্ছায় শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেছেন। মামুনুল হকের সঙ্গে আমার বিবাহের সম্পর্ক চলমান। এছাড়া বাদীর ছেলে আদালতে সাক্ষী দিয়েছেন তার মায়ের সঙ্গে মামুনুল হকের বিবাহ হয়েছে। আদালত আমাদের বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে জামিন মঞ্জুর করেছেন। এদিকে মামুনুল হকের বিরুদ্ধে করা ধর্ষণ মামলায় সাক্ষী ও জেরা চলমান রয়েছে।
১৯শে মার্চ নারায়ণগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতের বিচারক নাজমুল হক শ্যামলের আদালতে মামলায় তদন্তকারী কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর এসএম শফিকুল ইসলামকে তৃতীয় দফায় জেরা করা হয়। জেরা শেষে আসামি পক্ষের আইনজীবীরা আরও একদিন জেরার জন্য সময় চাইলে আদালত ২৩শে এপ্রিল পরবর্তী জেরার দিন ধার্য করেন।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ৩রা এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে রয়েল রিসোর্টে এক নারীর সঙ্গে অবস্থান করছিলেন মামুনুল হক। ওই সময় স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এসে তাকে ঘেরাও করেন। পরে স্থানীয় হেফাজতের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা এসে রিসোর্টে ব্যাপক ভাঙচুর করেন এবং তাকে ছিনিয়ে নিয়ে যান। ঘটনার পর থেকেই মামুনুল হক মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহ্মানিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসায় অবস্থান করে আসছিলেন। এরপর ২০২১ সালের ১৮ই এপ্রিল মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহ্মানিয়া আরাবিয়া মাদরাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় মামুনুলকে। পরে ৩০শে এপ্রিল সোনারগাঁ থানায় মামুনুল হকের বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ মামলা করেন ওই নারী। তবে ওই নারীকে তার দ্বিতীয় স্ত্রী দাবি করে আসছিলেন মামুনুল হক।
জমজমাট ঈদ কেনাকাটা
ঢাকা: ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে ক্রেতাদের ভিড়ে জমজমাট হয়ে উঠেছে রাজধানীর বাজারগুলো। নামিদামি শপিং মল থেকে শুরু করে মাঝারি এবং ছোট পরিসরের দোকানেও জমে উঠেছে কেনাকাটা। গতকাল রাজধানীর নিউমার্কেট, গাউসিয়া, বসুন্ধরা সিটি শপিং মল, মৌচাক মার্কেটের বিপণিবিতানগুলো ক্রেতাদের উপস্থিতিতে ছিল সরগরম।
এবার ঈদের আমেজের মধ্যেই আসছে পয়লা বৈশাখ। চাঁদ দেখা যাওয়া সাপেক্ষে ঈদের দুই দিন বাদেই বাংলা নববর্ষ আসছে। যে কারণে এবার ঈদ ও বৈশাখের কেনাকাটা একসঙ্গে কিনছেন অনেকেই। গরম এবং উৎসবের কথা মাথায় রেখে পাতলা নরম কাপড়ের মধ্যে বাহারি রঙের পোশাক কিনছেন অধিকাংশ ক্রেতা। পরিবারের পাশাপাশি আত্মীয়স্বজনকে উপহার দিতে চলছে কেনাকাটা।
ঈদ কেনাকাটায় রাজধানীবাসীর আস্থার জায়গা বসুন্ধরা সিটি শপিং মল। গতকাল শপিং মল ঘুরে দেখা যায়, আট তলা মার্কেটের প্রতিটি তলাই লোকে লোকারণ্য। সবচেয়ে বেশি ভিড় পোশাকের দোকানগুলোতে। শপিং মলে পরিবার নিয়ে কেনাকাটা করতে এসেছিলেন মাজহারুল ইসলাম। তিনি বলেন, ঈদ উপলক্ষে আজই প্রথম কেনাকাটা করতে এলাম পরিবার নিয়ে। সব বয়সী মানুষের বিভিন্ন দামের পোশাক থেকে শুরু করে চাহিদামতো সব সামগ্রীই এখানে পাওয়া যায়।
ঈদ বাজারের বিক্রির বিষয়ে ফ্যাশন হাউস দর্জিবাড়ির বিক্রয়কর্মী জাহিদুল ইসলাম বলেন, এবার রোজার শুরু থেকেই বেশ ভালো বিক্রি হচ্ছে। আমরা যতটা আশা করছি তার চেয়ে বেশি ক্রেতাদের সাড়া পাচ্ছি। আমাদের আরও আউটলেট রয়েছে সারা দেশে তবে বসুন্ধরা সিটিতেই সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়। আমাদের এখানে পাঞ্জাবি সবচেয়ে বেশি চলছে। পাশাপাশি ক্যাজুয়াল শার্টও বিক্রি হচ্ছে।
জ্যোতি ফ্যাশনের ম্যানেজার আরিফ হোসেন বলেন, গত বছর থেকে এই বছর ঈদ উপলক্ষে বসুন্ধরা সিটিতে কেনাবেচা বেশি হচ্ছে। শুক্র-শনিবার বা ছুটির দিনগুলোতে ভালো বেচাকেনা হয়। এ বছর অরগাঞ্জা, মসলিনের ওপর শাড়িগুলো অনেক বেশি চলছে। পাশাপাশি গাদওয়াল, কাঞ্জিপুরাম শাড়িগুলো ক্রেতারা খুব পছন্দ করছে। পার্টি লেহেঙ্গা, গাউনও বেশ ভালো বিক্রি হচ্ছে। তিনি আরও জানান, কাপল ড্রেস ৬ হাজার থেকে ১২ হাজার, গাউন ১০ হাজার থেকে ৩০ হাজার, সারারা বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকায়।
বসুন্ধরা সিটিতে জুতার দোকানগুলোতেও ছিল নানান বয়সী মানুষের ভিড়। বাটার বিক্রয়কর্মী জমসেদ মজুমদার জানান, রমজানের শুরু থেকেই তাদের কেনাবেচা একেবারে খারাপ ছিল না। তবে এখন ঈদের সময় যত ঘনিয়ে আসছে বিক্রি তত বাড়ছে। সামনে বিক্রি আরও বাড়বে বলে জানান তিনি।
নিউমার্কেট ঘুরে দেখা যায়, ক্রেতাদের ভিড়ে ব্যবসায়ীদের যেন দম ফেলার ফুসরত নেই। নিউমার্কেট থেকে মেয়ের জন্য থ্রিপিস কিনেছেন হাবিবুর রহমান। তিনি বলেন, ‘গত বছরের তুলনায় দাম কমপক্ষে ১৫ শতাংশ বেশি মনে হয়েছে পোশাকের। তবে কষ্ট করে হলেও ঈদের সময় পরিবারের সদস্যদের জন্য নতুন পোশাক কিনতে হবে।’


