Home Blog Page 617

আ’লীগ চাইলে তত্ত্বাবধায়কের বিষয়টি নিষ্পত্তি হবে : মির্জা ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আওয়ামী লীগ যদি সিদ্ধান্ত নেয় সংঘাত এড়িয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিষয়টি নিষ্পত্তি হবে।

তিনি বলেন, আমরা পরিষ্কার করে বলেছি, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া বা নিরপেক্ষ সরকার ছাড়া কোনো নির্বাচন হবে না। সেই নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে না। শুধু আমরা নই, বহির বিশ্ব- যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে তারাও বলছে, বাংলাদেশের একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন খুব জরুরি। বাংলাদেশের জন্য, এ দেশের মানুষের জন্য, ভবিষ্যতে এর অগ্রগতি-উন্নয়ন সবকিছুর জন্য। কিন্তু এ বিষয়ে তারা আগ্রহী নয়। আবারো আগের মতো ক্ষমতায় থাকার জন্য এককভাবে নির্বাচন করতে চায়। এজন্য সব রকম প্রস্তুতি গ্রহণ করছে। সেক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির দিকে জনগণের প্রত্যাশা থাকে।

সোমবার (২৪ এপ্রিল) বিকেলে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক যে সঙ্কট তৈরি হয়েছে, এই রাজনৈতিক সঙ্কটকে খাটো করে দেখার কোনো কারণ নেই।

নতুন রাষ্ট্রপতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমানে যে রাষ্ট্রপতি শপথ নিয়েছেন জনগণের কাছে তার নামটা একেবারে পরিচিত ছিল না। বর্তমান সঙ্কট কাটিয়ে ওঠার ব্যাপারে মানুষের মাঝে একটি সন্দিহান রয়েছে। যে তিনি কি ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবেন?

ফখরুল বলেন, নতুন রাষ্ট্রপতির ব্যাপারে আমাদের আগ্রহটা কম। কারণ আমরা মূল জায়গাতে যেতে চেয়েছি। আজকে নির্বাচন প্রক্রিয়া গণতান্ত্রিক নয়, নির্বাচন যদি গ্রহণযোগ্য না হয়, আমরা অংশগ্রহণ করতে না পারি, বিরোধী দল অংশগ্রহণ করতে না পারে, একটি নিরপেক্ষ সরকার যদি না হয়, তাহলে সবকিছুই অর্থহীন হয়ে যায়। সে কারণে আমরা তার প্রতি জোর দিচ্ছি বেশি।

তিনি বলেন, সরকারের উদ্দেশ্য হচ্ছে তারা এক দলীয় সরকারের দিকে যাচ্ছে। ইতোপূর্বে গেছে আবারো তারা একইভাবে আগের মতোই, ১৪ সালের মতো, ১৮ সালের মতো নির্বাচন করতে চায়। তাদের লক্ষ্য সেটাই দেখাচ্ছে। পরিষ্কার করে বলছে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিষয়ে কোনো আলাপ হবে না। বিরোধী দলের সাথে কোনো আলোচনা হতে পারে না।

সরকারের উদ্দেশে‌ বিএনপি মহাসচিব বলেন, সমস্ত রাষ্ট্রকে নিয়ন্ত্রণ করে তারা আবারো আগামী নির্বাচন পার হতে চায়। রাষ্ট্র ক্ষমতা তারা দখলে আনতে চায়।

আপনারা নতুন রাষ্ট্রপতি থেকে এরকম আশা করেন কিনা প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘আমরা হতাশ হয়েছি। আমরা যাকে চিনি না, যাকে জানি না, যার সম্পর্কে বেশি কিছু বলতেও পারি না; এমন একজন ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি করে নিয়ে আসা। আমরা তার কাছে আশা করি না। কারণ দলকে আগে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, আওয়ামী লীগকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। শুধু তার (মো: সাহাবুদ্দিন) থেকে আশা করার প্রশ্ন উঠতে পারে না।’

শুভ জন্মদিন শচীন টেন্ডুলকার

শেন ওয়ার্ন-মুশতাক-ম্যাগগিল-মুরালির ঘূর্ণি মায়াজালে বিস্মিত হয়েছেন? আকরাম-আখতার-ওয়াকারের ধেয়ে আসা অগ্নিগোলা দেখেছেন? ব্রেট লি-স্টেইন জনসন-মালিঙ্গার-নিখুঁত ইয়ার্কার চোখে ভাসে? এমব্রোস-ওয়ালশ-আন্দ্রে-নেলরা কি ভয় ধরা বাউন্সারে কল্পনায় আসে? ম্যাকগ্রা-পোলক-ডোনাল্ডের মহা প্রলয়ে কি কম্পিত হয়েছেন? ভাস-বিপস-এডামসের বিষাক্ত স্পেল অবাক অবলোকন করেছেন?

তবে তাদের প্রতিরোধে আপনার ভাবনায় ব্যাট হাতে কে আসবে? কে রুখবে তাদের অপ্রতিরোধ্যতা? স্মৃতি মন্থন করে ফিরে আসবেন আপনি একটি নামে, শত কোটি ভারতবাসীর প্রত্যাশার পাহাড় নিয়ে শতকের শতক মাইলফলক উন্মোচন করা, ভারতীয় ক্রিকেটের ‘ঈশ্বরে’! হ্যাঁ শচীন রমেশ টেন্ডুলকার। মাত্র ১৬ বছর বয়সে সর্বকনিষ্ঠ ক্রিকেটার হয়ে পাকিস্তানের মাটিতে ব্যাট হাতে। ওয়াকারের বলে স্বীয় নাক রঞ্জিত করে যার উত্থান। কাদিরের ওভারে চার ছক্কা হাঁকিয়ে যেনো রাজার আত্মপ্রকাশ। ক্রিকেটের ডন ডনের প্রশংসা- ‘ছেলেটা তো আমার মতো!’

‘মহারাজা, তোমারে সেলাম
সেলাম, সেলাম…’

শচীন টেন্ডুলকার নামটা স্মরণে শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় কুর্নিশ জানাতে সত্যজিৎ রায়ের ‘গুপী গাইন বাঘা বাইন’ সিনেমার এই বিখ্যাত গানটার এই লাইন অপেক্ষা ভালো আর কিইবা হতে পারে! তিনি তো সত্যিই মহারাজা। তিনি ক্রিকেটের মহারাজা। তিনি বাইশগজের মহাপরাক্রমশালী মহারাজা। যে রাজার প্রভাব-প্রতিপত্তি গোটা বিশ্বজুড়ে। এমন একজন রাজার তরে কুর্ণিশ জানাতে দ্বিধার কি কোনো সুযোগ আছে?

যতদিন ব্যাটটা তার খাপখোলা ছিলো, ততদিন তিনি ক্রিকেটের বাইশ গজের রাজ্যটাকে শাসন করেছেন নিজের মতো করে। অভিজ্ঞ শিল্পীর ন্যায় ওই সবুজ ক্যানভাসে একেঁছেন ব্যাটের আল্পনায় মুগ্ধতা ছড়ানো সুন্দর সব চিত্র। বাইশ গজে হাজারও স্মৃতি, গল্প, বা উপন্যাসের রচিয়তা তিনি। তিনি কীর্তিগাঁথার পাহাড়ের অধিপতি। হয়তো পূর্বের কীর্তিতে নতুনত্ব এনেছেন, নয়তো নিজেই নতুন কীর্তির সূচনা গড়েছেন।

তার নামটাই যেন একটা আবেগ, একটা মোহ। শচীন একটা বিস্ময়, একটা বিলাসিতা। শতকোটি ভারতবাসীর প্রত্যাশার চাপ কাঁধে নিয়েও সগৌরবে উঁচু শিরে ছুটে চলা এক আভিজাত্যের নাম শচীন। যার নাম মানেই ইতিহাস, যার নামেই অসংখ্য সব রেকর্ডের ঝড়োচ্ছ্বাস। পরিসংখ্যানেই তার পরিচয় ফোঁটে, আবার পরিসংখ্যান তার জন্য শুধুই সংখ্যা বটে।

তবুও পরিসংখ্যান বিবেচনায় অসংখ্য রেকর্ডের মাঝে শচীনের অনবদ্য ১০টি রেকর্ড হলো—

-আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক তিনি। তিন ফরম্যাট মিলিয়ে শচীনেরর রান সংখ্যা ৩৪,৩৫৭। ওয়ানডে ও টেস্ট ক্রিকেটের সর্বোচ্চ রানও তার দখলে।

-আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সর্বোচ্চ শতক হাঁকানো ক্রিকেটার তিনি। বিশ্বের একমাত্র ক্রিকেটার হিসেবে শতকের শতক হাঁকিয়েছেন তিনি। তিন ফরম্যাট মিলিয়ে শচীনের সেঞ্চুরি আছে ১০০টি।

-একদিনের ক্রিকেটে ১০ হাজারের অধিক রান (১৮,৪২৬) আর শতাধিক (১৫৪টি) উইকেট শিকারী একমাত্র ক্রিকেটার তিনি।

-বিশ্বের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে ওয়ানডে ক্রিকেটে দ্বিশতক হাঁকান শচীন। (২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে)

-ভারতের হয়ে সবথেকে কম বয়সে (১৭ বছর ৩ মাস ১৭ দিন) টেস্ট ম্যাচে সেঞ্চুরি করেন শচীন।

-ক্রিকেটের ইতিহাসে একমাত্র তিনি ২০০টির বেশি টেস্ট ম্যাচ খেলেছেন।

-একমাত্র ক্রিকেটার হিসেবে ২০০ টেস্ট ম্যাচ খেলার রেকর্ড তার৷ একই রেকর্ড আছে ওয়ানডেতেও। এই ফরম্যাটেও সর্বোচ্চ ৪৬৩ ম্যাচ খেলেছেন তিনি।

-বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক তিনি (২,২৭৮)। এক আসরের সর্বোচ ৬৭৩ রানও তার দখলে।

-একদিনের ক্রিকেটের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ১৪ বার ‘ম্যান অফ দ্য সিরিজ’ও হয়েছেন শচীন।

-একদিনের ক্রিকেটের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৬২ বার ‘ম্যান অফ দ্য ম্যাচ’ হবার রেকর্ডও শচীনের দখলে।

শচীন এমন আরো হাজারো রেকর্ড গড়েছেন, ক্রিকেটে যা সবার কাছে স্বপ্ন! তাকে নিয়ে বলতে গেলে ফুরিয়ে যাবে বিশেষণ-উপমা। চায়ের কাপে ঝড় ওঠবে, হয়তো সুর তুলবে কলম। একদিন সব থেমেও যাবে। কিন্ত থামানো যাবে না তাকে নিয়ে লিখতে থাকা সেই কলম, লেখা হতেই থাকবে তার কীর্তময় সব গল্প।

দীর্ঘ ২৪ বছরের ঘূর্ণাবতে দিশেহারা করেছেন ঘূর্ণির মায়াজাল, অগ্নিগোলাগুলো সামলে করেছেন পগারপার। মরন ছোবল ইয়ার্কার রুখে দিয়েছেন অবিশ্বাস্য ক্ষিপ্ততায়। ১৫ নভেম্বর ২০১৩ যবে এই ঝড় থামে কালের স্রোতে বাস্তবতা মেনে ততদিন ইতিহাসের প্রতিটি অধ্যায়ে, প্রতিটি পাতায় ঠায় নিয়েছেন স্বর্ণাক্ষরে ‘গড অফ ক্রিকেট’ খেতাবে।

১৯৭৩ সালের ২৪ এপ্রিল ঔপন্যাসিক বাবার ঘরে, মহাউপন্যাস আর মহাকাব্যের উপমার আতুঘর হয়ে প্রস্ফুটিত হয়েছিলেন, ক্রিকেটে ‘বিধাতা’র দেয়া সেরা উপহার শচীন রমেশ টেন্ডুলকার।

শুভ জন্মদিন শচীন! শুভ জন্মদিন মাস্টার!!

১০ বছর পর বঙ্গভবন ছাড়লেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ

দুই মেয়াদে টানা ১০ বছর রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনের পর আজ বঙ্গভবন থেকে বিদায় নিয়েছেন মো: আবদুল হামিদ। বিদায়ী রাষ্ট্রপতিকে বঙ্গভবনের সর্বোচ্চ সম্মান দিয়ে বিদায় জানানো হয়েছে। গতকাল রোববার বঙ্গভবনে আবদুল হামিদের শেষ কার্যদিবস ছিল।

শপথ অনুষ্ঠান শেষে অতিথিদের বিদায় দেয়ার পর বঙ্গভবনের ক্রেডেনশিয়াল গ্রাউন্ডে আবদুল হামিদকে গার্ড অব অনার দেয় প্রেসিডেন্সিয়াল গার্ড রেজিমেন্ট। সেখান থেকে বিশেষভাবে সাজানো একটি খোলা জিপ সদ্যসাবেক রাষ্ট্রপতিকে বহন করে। এই গাড়ির সামনে দু’পাশে দু’টি রশি বাঁধা ছিল। বঙ্গভবনের সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তারা দু’ভাগ হয়ে গাড়ির সামনে রশি ধরে দাঁড়ান। এরপর সদ্যসাবেক রাষ্ট্রপতিকে নিয়ে গাড়ি চলতে শুরু করে। খোলা জিপটি সদ্যসাবেক রাষ্ট্রপতিকে নিয়ে ক্রেডেনশিয়াল গ্রাউন্ড থেকে বঙ্গভবনে প্রধান ফটকের দিকে যাওয়ার সময় সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তারা গাড়ির রশি টেনে নিয়ে যান এবং ফুলের পাপড়ি ছিটিয়ে বিদায় জানান।

বঙ্গভবনের প্রধান গেটে প্রেসিডেন্সিয়াল গার্ড রেজিমেন্ট স্যালুট গার্ড দিয়ে বিদায় জানায় সদ্যসাবেক রাষ্ট্রপতিকে। ওই খোলা জিপে করেই তিনি বঙ্গভবনের প্রধান গেট থেকে বের হন।

মূল আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পর আবদুল হামিদ বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনীর (এসএসএফ) তত্ত্বাবধানে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের প্রধান ফটক থেকে ভিভিআইপি মোটর শোভাযাত্রায় রওনা করেন নতুন ঠিকানায়। এরপর বঙ্গভবন ছেড়ে রাজধানীর নিকুঞ্জে নিজ বাড়িতে উঠবেন আবদুল হামিদ। সর্বোচ্চ সম্মান ও রাষ্ট্রীয় প্রটোকল অনুযায়ী আবদুল হামিদকে নিকুঞ্জের বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। এরই মধ্যে ওই এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার আর বাইরের মানুষের প্রবেশাধিকার সীমিত করা হয়েছে।

২০১৩ সালের মার্চ মাসে অস্থায়ী এবং ২৪ এপ্রিল প্রথম দফায় দেশের ২০তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন কিশোরগঞ্জের সন্তান আবদুল হামিদ। এর পর ২০১৮ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে ২১তম রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন তিনি।

রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিলেন মো: সাহাবুদ্দিন

বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছেন মো: সাহাবুদ্দিন। আজ সোমবার বেলা ১১টায় বঙ্গভবনের দরবার হলে এ শপথ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী তাকে (সাহাবুদ্দিন) রাষ্ট্রপতির পদে শপথ পাঠ করান। শপথ গ্রহণের পরপরই কার্যভার গ্রহণ-সংক্রান্ত দু’টি প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, মন্ত্রিপরিষদ সদস্যসহ কয়েক শ’ বিশিষ্ট অতিথি এ অনুষ্ঠানে যোগ দেন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো: মাহবুব হোসেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, প্রধান বিচারপতি, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সংসদ সদস্য, সামরিক-বেসামরিক আমলারা এ অনুষ্ঠানে যোগ দেন। এছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা এবং বিভিন্ন পেশার প্রতিনিধি ও বিশিষ্ট নাগরিকরা উপস্থিত ছিলেন।

মুক্তিযোদ্ধা ও মাঠপর্যায়ের রাজনীতিবিদ মো: সাহাবুদ্দিন ২১তম রাষ্ট্রপতি মো: আবদুল হামিদের স্থলাভিষিক্ত হলেন। রাষ্ট্রপতি হামিদ সাবেক রাষ্ট্রপতি মো: জিল্লুর রহমানের মৃত্যুর পর ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে ৪১ দিনসহ টানা দুই মেয়াদে রাষ্ট্রপতি হিসেবে ১০ বছর ৪১ দিন অতিবাহিত করেন।

স্বাধীনতার পর থেকে ১৭ জন ব্যক্তি রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে এর মধ্যে মো: আবদুল হামিদই প্রথম ব্যক্তি, যিনি পরপর দু’বার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেছেন।

গত ১৩ ফেব্রুয়ারি মো: সাহাবুদ্দিনকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করার প্রজ্ঞাপন জারি করে নির্বাচন কমিশন।

মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন ব্যক্তিগত জীবনে এক পুত্রসন্তানের জনক এবং তার স্ত্রী প্রফেসর ড. রেবেকা সুলতানা সরকারের সাবেক যুগ্ম সচিব ছিলেন।

মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন পেশায় একজন আইনজীবী এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য। তিনি ১৯৪৯ সালে পাবনায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ইতোপূর্বে জেলা ও দায়রা জজ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের একজন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

তিনি ১৯৭১ সালে পাবনা জেলার স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ছিলেন এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৮২ সালে বিসিএস (বিচার) বিভাগে যোগদান করেন এবং ১৯৯৫ সালে জুডিসিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব হিসেবে নির্বাচিত হন।

তিনি বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় আইন মন্ত্রণালয় নিযুক্ত সমন্বয়কারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ২০০১ সালের সাধারণ নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে বিএনপি-জামায়াত জোটের নেতা-কর্মীদের দ্বারা সংঘটিত হত্যা, ধর্ষণ ও লুণ্ঠন এবং মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ডের অনুসন্ধানে গঠিত বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি ছাত্রজীবনে পাবনা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এবং ১৯৭৪ সালে পাবনা জেলা যুবলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর তিনি কারাবরণ করেন।

তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সর্বশেষ জাতীয় কাউন্সিলে নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

প্রধানমন্ত্রীর টোকিও সফর : প্রতিরক্ষা সহযোগিতাসহ ৮টি চুক্তি সইয়ের সম্ভাবনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আসন্ন জাপান সফরে টোকিওতে দেশটির প্রধানমন্ত্রী কিশিদা ফুমিওর সাথে তার বৈঠককালে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে আটটি চুক্তি বা সহযোগিতা স্মারক (এমওসি) সইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।

সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো: শাহরিয়ার আলম এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সেহেলী সাবরিন উপস্থিত ছিলেন।

সম্মেলনে জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রী মঙ্গলবার (২৫ এপ্রিল) সকাল ৭টা ৪৫ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ ফ্লাইটে টোকিওর উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবেন এবং ওইদিন বিকেল ৫টায় (স্থানীয় সময়) টোকিওতে অবতরণ করবেন।

ওইদিন সন্ধ্যায় জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দুই দেশের সরকারপ্রধানদের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠকের পর তাদের উপস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যে কৃষি, মেট্রোরেল, শিল্পোন্নয়ন, শিপ রিসাইক্লিং, কাস্টমস ম্যাটারস, ইন্টেলেকচুয়াল প্রোপার্টি, ডিফেন্স কো-অপারেশন, আইসিটি এবং সাইবার সিকিউরিটি কো-অপারেশন ইত্যাদি খাতে দুই দেশের মধ্যে আটটি চুক্তি বা এমওসি সই হতে পারে।

মোমেন মিডিয়া ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘জাপানের সাথে আমাদের খুব ভালো সম্পর্ক রয়েছে। তারা এখানে বিনিয়োগ করছে এবং অবকাঠামো উন্নয়নসহ নানাভাবে সাহায্য করছে। আমাদের সম্পর্ক দৃঢ় হয়েছে। আমরা আশা করছি প্রধানমন্ত্রীর সফর অত্যন্ত ফলপ্রসূ ও সফল হবে। আমরা এই সফরের জন্য অপেক্ষা করছি। তারাও আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে।’

জাপানের সাথে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মোমেন বলেন, বাংলাদেশ সুনীল অর্থনীতির সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে এবং এক্ষেত্রে অবৈধ মাছ ধরা একটি প্রধান বিষয়। জাপান বাংলাদেশকে এ বিষয়ে সুরক্ষায় সহযোগিতা করতে পারে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন আরো বলেন, ‘এই সফর দুদেশের সম্পর্ককে কৌশলগত অংশীদারিত্বে উন্নীত হওয়ার বিষয়টি অধিকতর গুরুত্ব সহকারে আলোচনার সুযোগ সৃষ্টি করবে।’

প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেন, বাংলাদেশ ও জাপান সরকারের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা সংক্রান্ত প্রস্তাবিত স্মারকলিপির উদ্দেশ্য প্রতিরক্ষা সংলাপ, সফর বিনিময়, শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, কোর্স, সেমিনার, ওয়ার্কশপ, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং অন্য যেকোনো ক্ষেত্রে সহযোগিতার প্রচার ও জোরদার করা।

প্রধানমন্ত্রী ২৬ এপ্রিল জাপানের সম্রাট নারুহিতোর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন এবং সেখানে তাকে গার্ড অব অনার দেয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্মানে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে নৈশভোজের মাধ্যমে শীর্ষ বৈঠকের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাপানের প্রধানমন্ত্রী কিশিদা ফুমিওর আমন্ত্রণে ২৫ থেকে ২৮ এপ্রিল জাপানে সরকারি সফরে যাবেন।

ঢাকা ও টোকিও উভয়ই আশা করছে, এই সফর দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরো জোরদার করবে।

এটি হবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ষষ্ঠ জাপান সফর। এর আগে প্রধানমন্ত্রী ১৯৯৭, ২০১০, ২০১৪, ২০১৬ ও ২০১৯ সালে জাপান সফর করেন।

সফরকালে, প্রধানমন্ত্রী কয়েকটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পাশাপাশি একটি বিনিয়োগ শীর্ষ সম্মেলন এবং প্রবাসী বাংলাদেশের নাগরিকদের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক নাগরিক সংবর্ধনায় যোগ দেয়ার কথা রয়েছে।

এছাড়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২৭ এপ্রিল টোকিওর একটি হোটেলে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি), বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) এবং জেট্রোর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত বাংলাদেশ বিনিয়োগ সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেবেন।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদানের জন্য ২৭ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী চার জাপানি নাগরিককে ‘ফ্রেন্ডস অব লিবারেশন ওয়ার অনার’ প্রদান করবেন।

২৭ এপ্রিল সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী জাপানে বসবাসরত বাংলাদেশী নাগরিকদের আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনায় যোগ দেবেন।

এ সফরে প্রধানমন্ত্রী আরো কিছু দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশগ্রহণ করবেন। এর মধ্যে রয়েছে- জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োশিমাসা হায়াশি, জাইকা, জেটরো, জেবিক, জেবিপিএফএল, জেবিসিসিইসি-এর নেতৃবৃন্দ, জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের স্ত্রী আকিয়ে আবে এবং জাপানের একজন স্থপতি তাদাও আন্দোর সাথে সাক্ষাৎ।

এছাড়াও, প্রধানমন্ত্রীর একটি সাক্ষাৎকার জাপানের রাষ্ট্রীয় টিভি চ্যানেল এনএইচকেতে প্রচার করা হবে।

প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরকালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছোট মেয়ে শেখ রেহানা, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. আব্দুল মোমেন, কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো: শাহরিয়ার আলম, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকসহ- উচ্চপর্যায়ের সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তারা তার সফরসঙ্গী হবেন।

টোকিও থেকে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন কর্মসূচিতে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য সফর করবেন।
সূত্র : ইউএনবি

কবিতা/ শুষ্ক হৃদ ভিটা

///শুষ্ক হৃদ ভিটা

——-✍️ মমতা মজুমদার 

এখন আমি তপ্ত রোদে পুড়ছি দিবারত

চৈত্র বৈশাখ পিঠে চেপে বসছে অবিরত।

খরায় ভীষণ পুড়ছে হিয়া শুষ্ক হৃদ ভিটা

একটুখানি প্রশান্তি পেলে মনটা হত মিঠা।

এখন শুধুই দাবানলে পুড়ছে কতক কায়া

পৃথিবীটা পুড়ে পুড়ে রেখে গেছে তার মায়া।

অধির হয়ে দেখি কোথাও নেই যে কোন ক্ষণ

দুঃখ স্রোতের বারিধায়ায় বসুধার শান্ত মন।

এখন সময় আঁধার ভীষণ দগ্ধতায় চারপাশ

তৃপ্তি ভরে এ ধরার বুকে পাইনা নিতে শ্বাস।

কোথায় আছে শান্তি খুঁজি পাখির মত ঘুরে

অবিশ্বাস্য হলেও যদি নিতাম খানিক কুঁড়ে।

কার বুকেতে দুঃখ খেলে কার হৃদয়ের দহন

সময় করে দেখতাম শুধু, নিরব সাগর বহন।

কবিতা/ খাণ্ডব দাহনে 

খাণ্ডব দাহনে 

এস ডি সুব্রত

বিষাদ বিস্বাদের অনুভূতিগুলো

মননে মগজে সেঁটে থাকে শুধু

তৃষ্ণায় কাতর মন বৃষ্টির অপেক্ষাতে

শান্তির জলে হৃদয় ভেজাতে

ভালবেসে তবু হই অপরাধী 

নিরবে নিভৃতে ভাঙ্গে অশ্রুনদী ,

বিধির বিধানে  ঘুরেফিরে  শোকের সঙ্গী

স্মৃতির পায়রারা  যায় যেন উড়ে

দূর থেকে দূরে  এক ধূসর  জগতে 

কষ্টে ভরা এক মায়া  নদী

খাণ্ডব দাহনে  পোড়ে  এই  মনোভূমি।

বীর মুক্তিযোদ্ধা ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী মারা গেছেন।

বীর মুক্তিযোদ্ধা ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী মারা গেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন। মঙ্গলবার (১১ এপ্রিল) রাত ১১টা ১৫ মিনিটে ধানমন্ডির গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে তিনি ইন্তেকাল করেন।

গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালের প্রধান কিডনি বিশেষজ্ঞ ও ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর প্রধান চিকিৎসক অধ্যাপক মামুন মোস্তাফী রাত ১১টা ৩৫ মিনিটে জাফরুল্লাহ চৌধুরীর মৃত্যুর খবর আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন ।একইসাথে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর জন্য গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের সদস্য অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ।

এদিকে, ৮১ বছর বয়সী ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী দীর্ঘদিন কিডনি জটিলতায় ভুগছিলেন। কিছু দিন ধরে তিনি বার্ধক্যজনিত রোগেও ভুগছিলেন। গত বুধবার তাকে গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।

উল্লেখ্য, ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী ১৯৪১ সালের ২৭ ডিসেম্বর চট্টগ্রামের রাউজানে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার শিক্ষক ছিলেন বিপ্লবী মাস্টারদা সূর্যসেন। পিতামাতার ১০ জন সন্তানের মধ্যে তিনি সবার বড়।

তিনি বকশীবাজারের নবকুমার স্কুল থেকে মেট্রিকুলেশন এবং ঢাকা কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট উত্তীর্ণের পর তিনি ১৯৬৪ সালে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ থেকে এমবিবিএস এবং ১৯৬৭ সালে বিলেতের রয়্যাল কলেজ অব সার্জনস থেকে এফআরসিএস প্রাইমারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।

জাফরুল্লাহ চৌধুরী বিলেতের রয়্যাল কলেজ অব সার্জনসে এফআরসিএস পড়াকালীন বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হলে তিনি চূড়ান্ত পর্ব শেষ না-করে লন্ডন থেকে ভারতে ফিরে এসে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়ার নিমিত্তে আগরতলার মেলাঘরে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে গেরিলা প্রশিক্ষণ নেন এবং এরপরে ডা. এম এ মবিনের সাথে মিলে সেখানেই ৪৮০ শয্যাবিশিষ্ট ‘বাংলাদেশ ফিল্ড হাসপাতাল’ প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনা করেন।

তিনি সেই স্বল্প সময়ের মধ্যে অনেক নারীকে প্রাথমিক স্বাস্থ্যজ্ঞান দান করেন, যা দিয়ে তারা রোগীদের সেবা করতেন এবং তার এই অভূতপূর্ব সেবাপদ্ধতি পরে বিশ্ববিখ্যাত জার্নাল পেপার ‘ল্যানসেট’-এ প্রকাশিত হয়।

জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৭ সালে স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেন এই বীর মুক্তিযোদ্ধা। এছাড়াও তিনি ফিলিপাইন থেকে রামন ম্যাগসাইসাই (১৯৮৫) এবং সুইডেন থেকে বিকল্প নোবেল হিসেবে পরিচিত রাইট লাভলিহুড (১৯৯২), মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বার্কলি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘ইন্টারন্যাশনাল হেলথ হিরো’ (২০০২) এবং মানবতার সেবার জন্য কানাডা থেকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি পেয়েছেন। ২০২১ সালে আহমদ শরীফ স্মারক পুরস্কার পান।

কবিতা/এলো রে বৈশাখ

এলো রে বৈশাখ

-বিচিত্র কুমার 

এলো রে বৈশাখ –

বাজে ঢোল বাজে ঢাক

নতুনত্বের দিয়ে ডাক, 

মন নাচে প্রাণ নাচে

এলো ফিরে পহেলা বৈশাখ। 

এলো রে বৈশাখ –

শুভ দিন কাটে উল্লাসে 

খুকুর পায়ে নূপুর বাজে, 

শাড়ি পড়ে কানে দুল

নিত্য নতুন কত্ত সাজে।

কবিতা/ বৈশাখী মেলা

বৈশাখী মেলা

আতিকুর রহমান

চলরে সবাই বটের ছায়ায় 

বসলো বোশেক মেলা

কিনবো লাঠিম কিনবো গাড়ি 

করবো, দারুন খেলা।

বোনের জন্য কিনবো চুড়ি 

লেইস ফিতা আর শাড়ি 

বাংলা সাজে সাজবে বোন 

মাতিয়ে রাখবে বাড়ি।

ঢোলের শব্দে বাঁশির সুরে 

বৈশাখী গান তুলে

নতুন দিনের আনন্দেতে 

নাচবো হেলে দুলে।