Home Blog Page 619

মুসলিম নিধনের যে নৃশংস দাঙ্গায় খালাস পেল হিন্দুরা

ভারতে উত্তরপ্রদেশ রাজ্যের এক বিচারিক আদালতের সাম্প্রতিক রায়ে ক্ষুব্ধ ও হতাশ ৩৬ বছর আগে মুসলিম গণহত্যার শিকার পরিবারগুলো। ওই গণহত্যার দায়ে অভিযুক্ত ৪১ জন হিন্দু পুরুষকে খালাস দিয়েছে আদালত।

নৃশংস ওই হত্যাকাণ্ড ঘটেছিল ১৯৮৭ সালের ২৩ মে মীরাট শহরের উপকণ্ঠে মালিয়ানা নামে এক গ্রামে। ওই দাঙ্গার ঘটনায় হত্যা করা হয় ৭২ জন মুসলিমকে। অভিযোগের তীর ছিল স্থানীয় হিন্দু এবং রাজ্যের সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর দিকে। ওই ঘটনাকে “ভারতীয় গণতন্ত্রের জন্য ন্যাক্কারজনক” বলে বর্ণনা করা হয়।

এখন সমালোচকরা বলছেন সেশন আদালতে শুক্রবারের এই রায় “বিচারের নামে প্রহসন”।

উত্তর প্রদেশ পুলিশের একজন সাবেক মহাপরিচালক বিভূতি নারায়ণ রাই একে ব্যাখ্যা করেছেন “রাজ্যের একটা চরম ব্যর্থতা” হিসেবে।

বিবিসিকে তিনি বলেছেন, “স্বার্থসংশ্লিষ্ট সবগুলো মহল, যেমন পুলিশ, রাজনৈতিক নেতৃত্ব, একপেশে সংবাদমাধ্যম এবং সবশেষে এখন আদালতও ক্ষতিগ্রস্তদের ন্যায়বিচার দিতে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে।”

‘ভুলে ভরা তদন্ত প্রক্রিয়া’
রাই, এবং তার সাথে ঊর্ধ্বতন একজন সাংবাদিক কুরবান আলি, যিনি ওই দাঙ্গার ঘটনা ব্যাপকভাবে রিপোর্ট করেছিলেন, এছাড়াও ওই গণহত্যা থেকে প্রাণে বেঁচে যাওয়া দুই ব্যক্তি এই মামলার যে মন্থর গতিতে চলছে তা নিয়ে অভিযোগ করে ২০২১ সালে এলাহাবাদ হাইকোর্টে একটি পিটিশন করেন।

“তদন্ত প্রক্রিয়া গোড়া থেকেই ছিল ভুলে ভরা। এই মামলাও গড়িয়ে গড়িয়ে চলছিল সাড়ে তিন দশক ধরে। কাজেই আমরা নতুন করে তদন্তের নির্দেশ দেবার জন্য আদালতের কাছে আবেদন করেছিলাম। আবেদন করেছিলাম একটা ন্যায়বিচারের জন্য, যাতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে ন্যায্য ক্ষতিপূরণ দেয়া হয়,” জানান রাই।

আলি বলেন, তাদের দাবিগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল ওই দাঙ্গায় পুলিশের ভূমিকা কী ছিল তা নতুন করে খতিয়ে দেখা। জীবিতদের অভিযোগ ছিল ওই সহিংসতা শুরু করেছিল প্রভিন্সিয়াল আমর্ড কন্সটাবুলারি (পিএসি) নামে রাজ্যের একটি বিশেষ পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা। ওই পুলিশ বাহিনী গঠন করা হয়েছিল বিদ্রোহ এবং ধর্মীয় ও জাতিগত বিরোধের ঘটনাগুলো মোকাবেলার লক্ষ্য নিয়ে।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশানাল সহ নাগরিক স্বাধীনতা বিষয়ক সংস্থাগুলো মালিয়ানার ওই দাঙ্গা বিষয়ে যেসব তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করেছিল তাতে পিএসির জড়িত থাকার প্রমাণ তারা পেয়েছিল।

আলি আরো বলছেন যে “অন্তত ৩৬টি লাশের ময়নাতদন্তের যেসব রিপোর্ট আদালতে পেশ করা হয়েছিল তাতে তাদের শরীরে বুলেটের আঘাতের চিহ্ণ আছে”- এই ঘটনা যে সময়কার, তখন ওই গ্রামবাসীদের কারোর কাছেই বন্দুক ছিল না।

মালিয়ানার দাঙ্গায় পিএসি-র সদস্যদের জড়িত থাকার অভিযোগ নিয়ে বাহিনীর প্রতিক্রিয়া জানতে বিবিসি পিএসির সাথে যোগাযোগ করলে বাহিনীর একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন তিনি “ওই ঘটনার বিষয়ে কথা বলার জন্য যথেষ্ট ওয়াকিবহাল নন”। বাহিনীর প্রধানের কাছে প্রতিক্রিয়ার জন্য ইমেলও পাঠানো হয়।

অভিযোগের তীর পুলিশের দিকে
হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশ যেসব অভিযোগ নথিভুক্ত করে তাতে শুধু ৯৩ জন স্থানীয় হিন্দুর নাম ছিল অভিযুক্ত হিসাবে– এদের মধ্যে ২৩ জন মামলা চলাকালীন সময়ে মারা গেছে এবং ৩১ জনের “খোঁজই পাওয়া যায়নি”।

মামলায় বিবাদী পক্ষের আইনজীবী ছোটে লাল বানসাল বিবিসিকে বলেন, বাদি পক্ষের মামলা টেকেনি কার কারণ প্রধান সাক্ষী বলেন যে তিনি “পুলিশের চাপের মুখে অভিযুক্তদের নাম দিয়েছিলেন” এবং “পুলিশ এমন চার ব্যক্তির নাম অভিযুক্তের তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করেছিল, যারা ওই দাঙ্গার ৭৮ বছর আগেই মারা গেছে এবং এক ব্যক্তি ওই ঘটনার সময় গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে ছিল”।

“মালিয়ানার মুসলমান জনগোষ্ঠির ওপর যা ঘটেছে তা দুঃখজনক এবং খুবই নিন্দনীয়। কিন্তু আমার মক্কেলরাও তো অন্যায়ভাবে অভিযুক্ত- ৩৬ বছর ধরে তাদের দোষী প্রমাণ করার জন্য তাদের মাথার ওপর মামলা ঝুলছে,” তিনি বলেন।

তিনি আরো যোগ করেন, “বাদী এবং বিবাদী দুই পক্ষই বারবার পুলিশ এবং পিএসি বাহিনীকে ওই গণহত্যার জন্য দায়ী করেছে, কিন্তু তাদের নাম কখনই অভিযুক্ত হিসাবে নথিভুক্ত হয়নি।”

আদালতে ওই দাঙ্গার যেসব ভয়াবহ ও হৃদয়বিদারক বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে তা রয়েছে ২৬ পৃষ্ঠার রায়ে। যেমন, এক যুবক কিভাবে গলায় বুলেটবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন, এক বাবাকে কিভাবে তলোয়ার দিয়ে খণ্ডবিখণ্ড করা হয়েছে, পাঁচ বছরের এক শিশুকে কিভাবে আগুনে ছুড়ে ফেলা হয়েছে।

ফলে আদালতের রায় ওই দাঙ্গা থেকে প্রাণে বেঁচে যাওয়াদের এবং নিহতদের পরিবারের সদস্যদের হতবাক করেছে।

মুসলিমদের মধ্যে ‘হতাশার কালো ছায়া’
দুদুটো বুলেটের ক্ষত নিয়ে বেঁচে আছেন ভাকিল আহমেদ সিদ্দিকি। তিনি বলেছেন “মালিয়ানার মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে আদালতের রায়ে ক্ষোভ আর হতাশার কালো ছায়া নেমে এসেছে।”

“যারা মারা গেছেন এবং যারা হত্যা করেছে তাদের সবাইকে আমি চিনি,” তিনি আমাকে বলেন। তিনি বলেন ১৯৮৭র ২৩শে মে-র ওই নৃশংসতার কথা তিনি যখনই বলেন, তার চোখে পানি চলে আসে।

তিনি বলেন ঘটনার আগে কয়েকদিন ধরেই তাদের গ্রামের আশপাশে মুসলিমদের বিরুদ্ধে গুজব ছড়ানো হচ্ছিল এবং দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে শত্রুতা তৈরি করার চেষ্টা হচ্ছিল।

“মীরাট বহু বছর ধরেই একটা বারুদের স্তুপের ওপর বসেছিল। পরিস্থিতি যেকোন সময়েই অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠার অপেক্ষায় ছিল। সেখানে দাঙ্গা আগেও হয়েছে। কিন্তু আমরা কখনো ভাবিনি যে আমাদের গ্রামে কোনোরকম সহিংসতা হবে। কিন্তু ঘটনার দিন তিনটি গাড়িতে করে পিএসি বাহিনীর সদস্যরা আসে এবং মুসলিম এলাকাগুলো ঘিরে ফেলে। বেরুনর সব পথ বন্ধ করে দেয়,” তিনি জানান।

“তাদের কেউ কেউ মুসলিমদের বাড়ির ভেতর ঢুকে পড়ে। অন্যরা হিন্দুদের বাড়ির ছাদে অবস্থান নেয়। এরপর চারদিক থেকে শুরু হয় বন্দুকের গুলিবর্ষণ,” বলেন ভাকিল আহমেদ সিদ্দিকি।

‘আমরা কোথায় ভুল করলাম!’
আদালতে সাক্ষী দিতে হাতে গোনা যে কয়জনকে ডাকা হয়েছিল তাদের মধ্যে ছিলেন সিদ্দিকি।

“আমি এক বছর ধরে সাক্ষ্যপ্রমাণ দিয়েছি। আমি আদালতকে পিএসির ভূমিকার কথা বলেছি, অভিযুক্তদের এবং তাদের হাতে থাকা অস্ত্রশস্ত্রও সনাক্ত করেছি।”

আদালতের রায়ে, তিনি বলেন, “মালিয়ানার প্রত্যেকে হতাশ”।

“আমি মনে করি অপরাধীদের দোষ প্রমাণের জন্য যথেষ্ট সাক্ষ্যপ্রমাণ ছিল। আমাদের জানতে হবে আমরা কোথায় ভুল করলাম! মালিয়ানায় যখন আগুন জ্বলছিল, গোটা বিশ্ব তখন সেই আগুনের ধোঁয়া দেখেছে। আদালত কেন তা দেখতে পেল না?” সিদ্দিকির প্রশ্ন।

মোহম্মদ ইসমাইলের পরিবারের ১১জন সদস্য ওই মুসলিম নিধনযজ্ঞে প্রাণ হারিয়েছে, যাদের মধ্যে রয়েছেন তার বাপমা, নানা, তার ছোট সাত ভাইবোন এবং একজন কাজিন। সবচেয়ে বয়স্ক ছিলেন তারা নানা- তার বয়স ছিল প্রায় ৮৫। সবেচয়ে কম বয়স ছিল তার ছোট বোনের- সে তখন কোলের শিশু। তিনি গ্রামের বাইরে ছিলেন বলে প্রাণে বেঁচে যান।

এই হত্যা যজ্ঞের খবর তার কাছে পৌঁছয় একদিন পর। কিন্তু তিনি নিজের গ্রামে ঢুকতে পেরেছিলেন “চার-পাঁচ দিন পর কারণ মীরাটে ঢোকার সব পথ বন্ধ করে দেয়া হয় এবং জারি করা হয় কারফিউ”।

গ্রামে ঢোকার পর তিনি যা দেখেছিলেন তা ভাবলে এখনো তিনি শিউরে ওঠেন- তিনি বলছিলেন।

“আমাদের বাসা আগুনে পুড়ে গেছে, দেওয়াল জুড়ে ছিটানো রক্তের দাগ। আমাদের মুসলিম কিছু প্রতিবেশি যারা প্রাণে বেঁচেছিলেন তারা কাছেই এক মাদরাসায় পালিয়ে গেছেন।”

মোহাম্মদ ইসমাইল বলছেন, যদিও মীরাটের অন্যান্য জায়গা থেকে দাঙ্গার খবর আসছিল, কিন্তু তার পরিবার কখনো ভাবেনি তাদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে। “কারো সাথে আমাদের শত্রুতা ছিল না, কাজেই আমাদের কখনো দুশ্চিন্তা হয়নি।”

‘মুসলিমরা নিশানা’
সাংবাদিক আলি আমাকে জানান তিনি যখন ওই গণহত্যার দুদিন পর গ্রামে ঢোকেন খবর সংগ্রহ করতে তিনি একটা জায়গা দেখেন যেটি একটা “ধ্বংসস্তুপ…সব শুনশান, ভূতুড়ে”।

“বেশিরভাগ মুসলমান বাসিন্দা হয় মৃত, নয় বুলেটের আঘাতে আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, নয় তারা পলাতক।”

গ্রীষ্ম মৌসুমে ওই সহিংসতার ঘটনা, তিনি জানান, কোনো বিচ্ছিন্ন একটা ঘটনা ছিল না।

মীরাটে এই হত্যা যজ্ঞের কয়েক সপ্তাহ আগে ১৪ই এপ্রিল এক ধর্মীয় মিছিলের সময় দাঙ্গা বাঁধলে তার থেকে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা শুরু হয়।

হিন্দু এবং মুসলিম দুই সম্প্রদায় মিলিয়ে জনা বারো মানুষ প্রাণ হারায়। কারফিউ জারি হয়। কিন্তু উত্তেজনা কমেনি। পরের বেশ কয়েক সপ্তাহে বিক্ষিপ্তভাবে বিভিন্ন জায়গায় দাঙ্গা হয়েছে।

সরকারি রেকর্ড অনুযায়ী, দাঙ্গায় নিহতের সংখ্যা ১৭৪। কিন্তু বেসরকারি খবরে বলা হয় দাঙ্গায় প্রাণ হারিয়েছে ৩৫০ জনের বেশি এবং কোটি কোটি রুপি জানমালের ক্ষতি হয়েছে।

রাই বলছেন, “প্রথম দিকে দু পক্ষেই হতাহতের ঘটনা ঘটেছিল। কিন্তু পরের দিকে এটা মুসলমানদের নিশানা করে পুলিশ এবং পিএসি বাহিনীর সংঘবদ্ধ আক্রমণে পরিণত হয়।”

হাশিমপুরা হত্যা-যজ্ঞ
মালিয়ানা হত্যাকাণ্ডের একদিন আগে ২২ মে, পিএসি বাহিনীর সদস্যরা কাছেই মাত্র ছয় কিলোমিটার দূরে মুসলিম অধ্যুষিত এলাকা হাশিমপুরায় চড়াও হয়।

তারা সেখান থেকে ৪৮ জনকে তুলে নিয়ে যায়। এদের মধ্যে ৪২ জনকে গুলি করে হত্যা করা হয় এবং তাদের লাশ একটা নদী আর একটা খালে ছুড়ে ফেলে দেয়া হয়। ছয় জন প্রাণে বেঁচে যায়, যাদের মুখ থেকে ওই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিবরণ জানা যায়।

আলোকচিত্র সাংবাদিক প্রাভিন জাইন যাকে পেটানো হয় এবং পুলিশ সেখান থেকে চলে যেতে বলে, তিনি একটি ঝোঁপের মধ্যে লুকিয়েছিলেন এবং সেখান থেকে তিনি মুসলিম পুরুষদের ওপর নির্যাতনের ছবি তোলেন। তাদের রাস্তা দিয়ে মিছিল করে নিয়ে যাওয়ার ছবিও তিনি তোলেন।

“আমি যখন সেখান থেকে চলে যাই, আমি জানতাম না তাদের হত্যা করার জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছে,” তিনি বিবিসিকে বলেন।

দিল্লি হাই কোর্ট ২০১৮ সালে হাশিমপুরা থেকে মুসলিমদের অপহরণ ও হত্যার দায়ে পিএসি-র ২৬জন সাবেক সদস্যকে দোষী সাব্যস্ত করে এবং তাদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়।

উত্তর প্রদেশের রাজধানী লখনৌর একজন ঊর্ধ্বতন সাংবাদিক শরত প্রধানের মনে আছে পিএসির বিরুদ্ধে “সাম্প্রদায়িক ও মুসলমান-বিরোধী” বলে ব্যাপক সমালোচনা ওঠার কথা।

“পিএসির বেশিরভাগ সদস্যই ছিল হিন্দু। সেনাবাহিনীতে যেমন ধর্ম নিরপেক্ষতার প্রশিক্ষণ দেয়া হয় তেমন কোন প্রশিক্ষণ তাদের কখনই দেয়া হয়নি।”

প্রধান বলেন, হাশিমপুরা হত্যা যজ্ঞের ঘটনায় ন্যায়বিচার যে হয়েছিল তার পেছনে ছিল মূলত রাই-এর প্রয়াস। ১৯৮৭ সালে তিনি ছিলেন গাজিয়াবাদের পুলিশ সুপারিনটেনডেন্ট। নিহতদের লাশ এবং একজন জীবিতকে তখন উদ্ধার করা হয়েছিল গাজিয়াবাদ থেকে।

আলি বলছেন মালিয়ানা হত্যাকাণ্ডেরও কোনো একদিন ন্যায়বিচার হবে বলে তিনি আশাবাদী।

“আমরা এই রায়কে হাই কোর্টে চ্যালেঞ্জ জানাব। আমরা হাল ছাড়ব না,” তিনি আমাকে বলেন। “এই মামলায় ন্যায়বিচার যে বিলম্বিত হয়েছে তাই নয়, ন্যায়বিচার প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।” সূত্র : বিবিসি

এ সরকারের অধীনে বিএনপি কোনো নির্বাচনে যাবে না : রুমিন ফারহানা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-আর্ন্তজাতিকবিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেছেন, এ সরকারের অধীনে বিএনপি কোনো নির্বাচনে যাবে না।

শনিবার (৮ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে সরাইল উপজেলার সদর ইউনিয়নের গরু বাজার মাঠে বিদ্যুৎ ও গ্যাসসহ দ্রব্যমূল্যেরে ঊর্ধ্বগতি, সরকারের দুর্নীতির প্রতিবাদসহ ১০ দফা দাবিতে উপজেলা বিএনপি আয়োজিত বিএনপির অবস্থান কর্মসূচিতে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, মানুষকে বোকা বানানোর চেষ্টা করবেন না। মানুষের অবস্থা খুবই খারাপ, এখন মানুষ জেগে উঠেছে। উন্নয়নের নামে দেশের হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে। জনগণের ভোটে যখন বিএনপি ক্ষমতায় আসবে, প্রত্যেকটি ঘটনার বিচার করা হবে।

তিনি আরো বলেন, বিএনপির এমন একজন কর্মী নেই, যার নামে মামলা হয়নি। আমিসহ সবার নামে মামলা। কয়েক মাসে হাজার হাজার নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছেন। আমাদের মহাসচিবকে দিনে গ্রেফতার করতে ভয়পান। রাতের বেলা অন্ধকারে গ্রেফতার করেছেন। মনে রাখবেন ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়। সরকার ১৫ বছরের দুঃশাসনের মাধ্যমে মানুষকে যে কষ্ট দিয়েছে, আগামী ১০০ বছরেও আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসতে পারবে না। ব্রয়লার মুরগিসহ দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে মানুষ এখন দিশেহারা। আপনারা লুটেরার দল, আপনারা কি বুঝবেন মানুষের কষ্ট।

সরাইল উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো: আনিসুল ইসলাম ঠাকুরের সভাপতিত্বে ও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নুরুজ্জামান লস্কর তপুর সঞ্চালনায় আরো বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা শেখ মোহাম্মদ শামীম, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক দুলাল মাহমুদ আলী, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান সিদ্দিকী, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব মো: নুর আলম, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জামাল হোসেন লস্কর, উপজেলা জাসাস নেতা সৈয়দ জাকিরসহ উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

সমাবেশ শেষে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা ব্যক্তিগত গাড়িযোগে ঢাকা যাওয়ার পথে সরাইল-নাসিরনগর-লাখাই আঞ্চলিক সড়কের উচালিয়াপাড়া মোড়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ প্রদর্শণ করে। এ সময় সেখানে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন থাকতে দেখা যায়।

কোনোভাবেই পতন ঠেকাতে পারবে না সরকার : মেয়র বাদশা

বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা বলেছেন, খুব শিগগিরই সরকারের পতন হবে। তাই সবাই একসাথে রাজপথে নামতে হবে। কোনোভাবেই পতন ঠেকাতে পারবে না সরকার।

শনিবার বিকেলে বগুড়া সদর উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে বাঘোপাড়া বন্দরে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য অস্বাভাবিক বৃদ্ধির প্রতিবাদ ও ১০ দফা দাবিতে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজিত অবস্থান কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বিএনপি নেতা জাহিদুল ইসলাম হেলাল, জিয়া পরিষদ নেতা অধ্যাপক ড. হাসানাত আলী, মহিলা দলের নাজমা আক্তার, শামসুল আলম মণ্ডল, শফিকুল ইসলাম মাস্টার, আব্দুল বাছেত, স্বেচ্ছাসেবকদলের রাকিবুল ইসলাম শুভ, হাজেরা বেগম, যুবদলের অতুল চন্দ্র , স্বেচ্ছাসেবকদলের মিজানুর রহমান প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাফতুন আহমেদ খান রুবেল। আর সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সৈয়দ জহুরুল আলম।

কবিতা/সবুজে আচ্ছাদিত প্রান্তর

সবুজে আচ্ছাদিত প্রান্তর

কনক কুমার প্রামানিক

দু’চোখ আমার জুড়ে যায়

প্রকৃতি রুপ দেখে,

মন বেজায় রঙিন হয়

সবুজ রঙ মেখে।

আচ্ছাদিত মাঠ এখন

সবুজে গেছে ছেঁয়ে,

শ্যামল বনানী হাসিখুশি

সবুজ ছোঁয়া পেয়ে।

বাংলা মায়ের রুপ সীমা

বেড়েছে বহুগুণ,

সবুজ ভরা মাঠ দেখলে

ভরে যায় এ মন।

স্যারে স্বস্তি জনাবে অস্বস্তি

আমাদের দেশের যেকোনো সরকারি বা বেসরকারি কার্যালয়ের পদস্থ কর্মকর্তাদের নিম্নস্থ কর্মকর্তা বা কর্মচারীরা স্যার (Sir) বলে সম্বোধন করে থাকেন। এ শব্দটি দ্বারা সম্বোধিত হলে যেকোনো পদস্থ কর্মকর্তা তার স্বীয় অবস্থান বিবেচনায় পুলকিত বোধ করেন। অব্যবহিত উপরস্থ যেকোনো কর্মকর্তাকে স্যার সম্বোধন নিম্নস্থ কর্মকর্তা কর্মচারীদের মধ্যে অনেকটা অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।

ইংরেজি (Sir) শব্দটি একজন ব্যক্তির প্রতি সম্মানসূচক সম্বোধন। স্যার সাধারণত উপরস্থ পুরুষ কর্মকর্তার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। Sir এর ইংরেজি সমার্থক শব্দ Mister যার সংক্ষিপ্ত রূপ Mr. Sir-এর বাংলা অর্থ জনাব, মহোদয়, মহাশয়, শ্রীযুক্ত, হুজুর প্রভৃতি। মুসলিম সম্ভ্রান্ত ও সম্মানিত ব্যক্তিকে লিখিতভাবে সম্বোধনে ইংরেজির ক্ষেত্রে Mr. এবং বাংলার ক্ষেত্রে জনাব শব্দটি ব্যবহৃত হয়। অনুরূপভাবে হিন্দু সম্ভ্রান্ত ও সম্মানিত ব্যক্তিকে লিখিতভাবে সম্বোধনে ইংরেজির ক্ষেত্রে Mr. এবং বাংলার ক্ষেত্রে শ্রীযুক্ত শব্দটি ব্যবহৃত হয়। মহোদয় ও মহাশয় শব্দ দু’টি বাংলায় আবেদন লিখার ক্ষেত্রে নাম ও পদবি উভয়ের আগে জাতি ধর্ম নির্বিশেষে ব্যবহৃত হয়। স্কুল ও কলেজের ইসলাম ধর্ম বা আরবি বিষয়ের শিক্ষক, মাদরাসার শিক্ষক, মসজিদের ইমাম, বিচারক ও ম্যাজিস্ট্রেটদের মৌখিক সম্বোধনের সময় হুজুর শব্দটির ব্যবহার সচরাচর দেখা যায়।

ইংরেজি Madam শব্দটি সম্ভ্রান্ত রমণী বা ভদ্র মহিলার প্রতি সম্মানসূচক সম্বোধন। যেকোনো সরকারি বা বেসরকারি কার্যালয়ের পদস্থ মহিলা কর্মকর্তাদের নিম্নস্থ কর্মকর্তা বা কর্মচারীরা ম্যাডাম বলে সম্বোধন করে থাকেন। সহশিক্ষা ব্যবস্থা সম্পন্ন কলেজে মহিলা শিক্ষিকাদের পুরুষ সহকর্মী ও ছাত্রছাত্রীরা ম্যাডাম সম্বোধন করে অভ্যস্ত।

বাংলা মাধ্যমের বালিকা বিদ্যালয়সমূহে প্রধান শিক্ষিকা ও অপরাপর শিক্ষিকাদের ছাত্রীরা বড় আপা ও আপা নাম ধরে সম্বোধন করে থাকে। অপর দিকে বাংলা মাধ্যমের বালক বিদ্যালয়সমূহের প্রধান শিক্ষক ও অপরাপর শিক্ষকদের হেড স্যার ও স্যার নাম ধরে সম্বোধন করে থাকে।

ইংরেজি মাধ্যমের বিদ্যালয়সমূহ বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সহশিক্ষা ব্যবস্থা সম্পন্ন হয়ে থাকে। এসব স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা মহিলা শিক্ষিকাদের Miss এবং পুরুষ শিক্ষকদের Teacher নামে সম্বোধন করে থাকে। Miss শব্দটি Mistress-এর সংক্ষিপ্ত রূপ।

অধস্তন আদালতের বিচারকদের মধ্যে জেলা জজ ব্যতীত ঐতিহ্যগতভাবে একে অপরকে Brother হিসেবে সম্বোধন করতেন। কিন্তু বর্তমানে আগের সেই ভ্রাতৃত্বসুলভ মনোভাব অনুপস্থিত। এখন অতিরিক্ত জেলা জজরা যেমন জেলা জজকে স্যার বলে সম্বোধন করেন, ঠিক তেমন সহকারী জজ ও যুগ্ম জেলা জজরাও অতিরিক্ত জেলা জজকে স্যার বলে সম্বোধন করে থাকেন।

উচ্চাদালতের বিচারকরা আগে একে অপরকে Brother নামে সম্বোধন করতেন কিন্তু বর্তমানে আগের ঐতিহ্য হারিয়ে যেতে বসেছে। এখন কনিষ্ঠ বিচারকরা জ্যেষ্ঠ বিচারকদের শুধু স্যার বলে সম্বোধন করে ক্ষান্ত হচ্ছে না; বরং বিচারকদের একটি বৃহৎ অংশ প্রকাশ্যেই জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের স্যার সম্বোধন করে থাকেন।

বাংলাদেশ ব্যতীত পৃথিবীর অপর কোনো দেশে মাতৃভাষাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে আন্দোলন, সংগ্রাম ও আত্মাহুতির মতো ঘটনা ঘটেনি। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারির ঘটনার মাধ্যমে আমাদের স্বাধীনতার বীজ বপিত হয়েছিল। অতঃপর দীর্ঘ ত্যাগ, জেল, জুলুম ও রক্তক্ষয়ী মুক্তি সংগ্রামের মাধ্যমে ১৯ বছর পর স্বাধীন রাষ্ট্ররূপে বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে।

স্বাধীন রাষ্ট্ররূপে বাংলাদেশের আত্মপ্রকাশের এক বছর পর বাংলাদেশের সংবিধান কার্যকর হয়। সংবিধান বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আইন। বাংলাদেশের সংবিধানের ৩ অনুচ্ছেদে যদিও বলা আছে প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রভাষা বাংলা, কিন্তু স্বাধীনতা পরবর্তী সুদীর্ঘ ১৫ বছরেরও অধিক সময় সরকারি অফিস আদালতে ইংরেজির প্রচলন অব্যাহত থাকে।

বাংলা ভাষা প্রচলন আইন, ১৯৮৭ কার্যকর হওয়ার পর অফিস আদালতের কাজকর্মে বাংলার ব্যবহার বাধ্যতামূলক হয়ে পড়লেও ঔপনিবেশিক মানসিকতাসম্পন্ন স্বল্পজ্ঞান সমৃদ্ধ কতিপয় কর্মকর্তা আইনটির প্রয়োগ ও বাস্তবায়নে কখনো আন্তরিক ছিলেন না।

বাংলা ভাষা প্রচলন আইন, ১৯৮৭ এর ৩(১) ধারায় বলা হয়েছে- এ আইন প্রবর্তনের পর বাংলাদেশের সর্বত্র তথা সরকারি অফিস আদালত, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান কর্তৃক বিদেশের সাথে যোগাযোগ ব্যতীত অন্যান্য সব ক্ষেত্রে নথি ও চিঠিপত্র আইন আদালতের সওয়াল জবাব ও অন্যান্য আইনানুগত কার্যাবলি অবশ্যই বাংলায় লিখতে হবে।

ওই আইনের উপধারা ৩(২) এ বলা হয়েছে উপধারা ৩(১) এ উল্লিখিত কোনো কর্মস্থলে যদি কোনো ব্যক্তি বাংলা ভাষা ব্যতীত অন্য কোনো ভাষায় আবেদন বা আপিল করেন তা হলে তা বেআইনি বা অকার্যকর বলে গণ্য হবে।

বর্তমানে সরকারি ও আধা-সরকারি অফিস এবং স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কাজকর্ম শতভাগ বাংলায় সম্পন্ন হওয়ার বিষয়ে কারো মধ্যে কোনো সংশয় নেই। কিন্তু এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম পরিলক্ষিত হয় নিম্ন ও উচ্চ আদালতে। নিম্ন আদালতের দাফতরিক কাজকর্ম বাংলায় সমাধা হলেও ৫-৬ শতাংশ বিচারক রায় ও সওয়াল জবাব লিখার ক্ষেত্রে ইংরেজি প্রচলন অব্যাহত রেখে চলেছেন। উচ্চাদালতের ক্ষেত্রেও দাফতরিক কাজ বহুলাংশে বাংলায় নিষ্পন্ন হচ্ছে। কিন্তু আদালতে দরখাস্ত দাখিল ও রায় লিখার কাজে এখনো ইংরেজির প্রাধান্য রয়েছে।

উচ্চাদালতে ইংরেজিতে দাখিলকৃত দরখাস্ত ও রায়সমূহ পর্যালোচনা করলে এর একটি উল্লেখযোগ্য অংশে বাক্যের গঠনশৈলী, শব্দের বিন্যাস, ভাষার প্রয়োগ ও ব্যাকরণের ব্যবহারে ত্রæটি পরিলক্ষিত হয়। তাই শুদ্ধ ও ত্রæটিমুক্তভাবে একটি ভাষায় ভাব প্রকাশ করতে অপরাঙ্গম হলে বিদ্যা জাহিরের মিথ্যা অহমিকায় ইংরেজিকে পরিহার করাই শ্রেয়। তাছাড়া বাংলা ভাষা প্রচলন আইন কার্যকর হওয়ার পর ইংরেজিতে দরখাস্ত দাখিল বা রায় লেখার অবকাশ কোথায়?

বাংলা ভাষা প্রচলন আইন, ১৯৮৭ কার্যকর হওয়ার পর আশির দশকের শেষার্ধে সরকারের একটি মন্ত্রণালয়ের মেধাবী, চৌকস ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ জনৈক সহকারী সচিব তার অব্যবহিত উপরস্থ প্রধানকে জনাব সম্বোধন করলে তিনি চেয়ার থেকে আস্ফালন সহকারে দাঁড়িয়ে রক্তিম বদনে দাঁত কিড়মিড়িয়ে বলে উঠলেন এভাবে সম্বোধন করে আপনি আমাকে অপদস্থ করতে এসেছেন? এর প্রতিউত্তরে সহজসরল কনিষ্ঠ কর্মকর্তা আত্মপক্ষ সমর্থন করে বাংলা ভাষা প্রচলন আইনের বাধ্যবাধকতা বিষয়ে কিছু বলতে উদ্যত হলে উপরস্থ কর্মকর্তা আরো উত্তেজিত হয়ে মুখায়বকে অদ্ভুত বিকৃত করে উচ্চস্বরে বললেন, আপনার আস্পর্ধা তো কম নয়, আপনার এ বেয়াদবির পরিণাম অচিরেই টের পাবেন। ঠিকই কনিষ্ঠ কর্মকর্তা সহকারী সচিব ঘটনার দু’মাস পর তার বার্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদনে দু’চারটি বিরূপ মন্তব্যসহ অপরাপর নিম্ন মেধার সহকর্মীর চেয়ে অবমূল্যায়িত হলেন।

উপরস্থ কর্মকর্তা উপসচিবের অতীত খুঁজতে গিয়ে জনা যায় ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন বেশির ভাগ কর্মকর্তা যখন চাকরি ছেড়ে দেশে অবস্থান ও দেশ ত্যাগ করে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন, তখন তিনি মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয়ের সন্ধিক্ষণের প্রায় মাস দেড়েক আগে একটি প্রথম শ্রেণীর চাকরিতে যোগদান করে মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধেই অবস্থান নিয়েছিলেন। তাছাড়া তার শিক্ষাগত যোগ্যতা অবলোকনে জানা যায় মাধ্যমিক থেকে স্নাতকোত্তর ও এলএলবি পর্যন্ত তার দু’-তিনটি তৃতীয় বিভাগ রয়েছে যা তিনি যে পদে প্রেষণে আসীন ছিলেন সে পদ সংশ্লেষে সাংবিধানিক পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে অন্তরায় হিসেবে বিবেচিত। তথ্যানুসন্ধানে আরো জানা যায় তার পিতা মহকুমা হাকিম কার্যালয়ের বিশেষ এক ধরনের করণিক পদে নিয়োজিত ছিলেন, যে পদে উৎকোচ বকশিস বিবেচনায় তৎকালীন সমাজের ঔদাসীন্যতায় কিছুটা সহনীয় ছিল। পরবর্তীতে তার চাকরিজীবনে তার চরিত্রে এ যোগ্যতাটির সরব উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। এরই প্রভাবে তার অধীন কর্মকর্তাদের সততা ও দক্ষতা গৌণ গণ্যে তাকে নগদ ও দ্রব্যসামগ্রী দ্বারা সন্তুষ্টির মধ্যে বার্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদনের মূল্যায়র নির্ভর করত। যে কারণে তার নামের আগে চোরা শব্দটির অলঙ্করণ স্থায়ীরূপ পেয়েছে। এখন উক্ত অলঙ্করণ ব্যতীত তার নামটি উচ্চারিত হতে শুনা যায় না।

একদা কোনো একটি জেলা শহরস্থ স্বনামধন্য বালিকা বিদ্যালয়ের নবাগত অযোগ্য ও অপদার্থ প্রধান শিক্ষিকাকে সহকর্মী ও ছাত্রীরা বড় আপা সম্বোধন করলে তিনি সাফ জানিয়ে দেন আমার আমলে এসব চলবে না। আমাকে আপনারা/তোমরা ম্যাডাম বলে সম্বোধন করবেন/করবা। এর অন্যথা যেন না হয়। এ বিষয়ে জনৈক বাংলার শিক্ষিকা বাংলা ভাষা প্রচলন আইন, ১৯৮৭ এর বরখেলাপ হচ্ছে উল্লেখ করলে প্রধান শিক্ষিকা অনুশাসনের সুরে বলে ওঠেন রাখেন আপনার বাংলা ভাষা প্রচলন আইন। এ বাংলা ভাষা করে করেই তো আজ আপনারা বিশ্বদরবারে নিজেদের সক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছেন।

ইংরেজি আন্তর্জাতিক ভাষা হলেও আত্মমর্যাদাসম্পন্ন এমন অনেক দেশ ও জাতি রয়েছে যেসব দেশ ও জাতির নেতৃস্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও কর্মকর্তা নিজ দেশ, জাতি ও ভাষার সম্মান রক্ষার্থে দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় ইংরেজি কথোপকথনে সক্ষমতা থাকলেও গ্লানিময় বিবেচনায় দোভাষীর মাধ্যমে মাতৃভাষায় কথোপকথনে স্বাচ্ছন্দ্য ও গর্ববোধ করেন। এ দেশসমূহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে রাশিয়া, চীন, জাপান, কোরিয়া, ইরান, জার্মানি প্রভৃতি। আমাদের দেশের ক্ষেত্রে এর উলটোটিই বেশি পরিলক্ষিত হয়। আমাদের নেতৃস্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও কর্মকর্তাদের শুদ্ধভাবে ইংরেজি বলতে না পারার বিষয়টিকে এক ধরনের ব্যর্থতা হিসেবে দেখা হয়। আর যেসব নেতা ও কর্মকর্তা শুদ্ধভাবে ইংরেজি বলতে পারেন তারা বিষয়টি নিয়ে গর্ববোধ করেন। আমরা নিজেদের আত্মমর্যাদাশীল জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইলে আমাদের অবশ্যই এ মানসিকতা পরিহার করতে হবে। আমাদের ভুলে গেলে চলবে না আমরা রক্ত দিয়ে বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছি এবং তারই ধারাবাহিকতায় ২১ ফেব্রæয়ারি আজ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। আমাদের যেকোনো নেতৃস্থানীয় নেতারা বা পদস্থ কর্মকর্তা ইংরেজি শুদ্ধভাবে বলতে বা লিখতে না পারুক তাতে দোষের কিছু নেই কিন্তু যখন এ ধরনের নেতারা বা কর্মকর্তা শুদ্ধভাবে বাংলা বলনে ও লিখনে ব্যর্থতার পরিচয় দেন এবং ক্ষেত্রবিশেষে বলনে বাধাগ্রস্ত করেন, তখন জাতি হিসেবে আক্ষেপ করা ছাড়া আমার আর কি-বা করার আছে।

লেখক : সাবেক জজ, সংবিধান, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষক
E-mail: iktederahmed@yahoo.com

পরমাণু অস্ত্র আত্মরক্ষামূলক তবে প্রয়োজনে ব্যবহার করা হবে : কিম জং উন

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন বলেছেন, শুধুমাত্র দেশরক্ষা এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষা করার স্বার্থে পিয়ংইয়ং পরমাণু অস্ত্রের বিস্তার ঘটাচ্ছে।

মঙ্গলবার রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ে পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচি পরিদর্শনের সময় তিনি এ মন্তব্য করেন বলে উত্তর কোরিয়ার সরকারি বার্তা সংস্থা কেসিএনএ জানিয়েছে।

কিম আজ তার দেশের পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচি এবং পাল্টা পারমাণবিক হামলা পরিকল্পনা ঠিকমতো কাজ করছে কিনা তা পরীক্ষা করে দেখেন। তিনি পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচি পরিদর্শনের সময় এই অস্ত্রের প্রয়োজনীয় উপাদানের সক্ষমতা বাড়ানোর নির্দেশ দেন যাতে আরো শক্তিশালী পরমাণু অস্ত্র তৈরি করা সম্ভব হয়।

উত্তর কোরিয়ার নেতা বলেন, তার দেশ এমনভাবে তার পরমাণু অস্ত্র ব্যবস্থা প্রস্তুত করছে যাতে শত্রুরা উত্তর কোরিয়ার সার্বভৌমত্ব, রাষ্ট্রব্যবস্থা ও জনগণের বিরুদ্ধে কোনো উস্কানিমূলক পদক্ষেপ নিতে না পারে।

কিম জং-উন সতর্ক করে দিয়ে একথাও বলেন, তার দেশের পরমাণু অস্ত্র আত্মরক্ষামূলক হলেও ‘যেকোনো স্থানে যেকোনো সময়’ ব্যবহার করার জন্য এসব অস্ত্র প্রস্তুত রাখা হবে।

কোরীয় উপদ্বীপে যখন আমেরিকা ও দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক মহড়া চলছে এবং আমেরিকার নৌবাহিনীর একটি স্ট্রাইক গ্রুপের দক্ষিণ কোরিয়ার বন্দরে আসার পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়েছে তখন কিম জং-উন এসব কথা বললেন।
সূত্র : পার্সটুডে

যে দেশে গণতন্ত্র নাই, সেখানে মানবাধিকার থাকতে পারে না : ড. মোশাররফ

যে দেশে গণতন্ত্র নাই, সে দেশে মানবাধিকার থাকতে পারে না বলে মন্তব্য করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মোশাররফ হোসেন বলেছেন, এই দেশে গণতন্ত্র নেই, এ দেশ হাইব্রিড সরকার দ্বারা পরিচালিত। শুধু আমরা বলছি না, আজকে সারা বিশ্ব বলছে।

মঙ্গলবার দুপুরে এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে জাতীয় প্রেসক্লাবের আব্দুস সালাম হলে ‘স্বাধীনতার ৫২ বছর ও বিপর্যস্ত স্বাস্থ্য ব্যবস্থা’ শীর্ষক এ আলোচনা সভার আয়োজন করে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)।

ড. মোশাররফ হোসেন বলেন, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ভয়াবহ বিপর্যয় হয়েছে গত ১৪ বছরে। এই মন্ত্রণালয়ে পাঁচ বছর মন্ত্রী থাকার কারণে আমি দেখেছি, এই সেক্টরে কী ছিল, কী হয়েছে।

তিনি বলেন, সরকারি হাসপাতালগুলোতে সাধারণ মানুষ চিকিৎসা পাচ্ছে না। কিসের জন্য স্বাস্থ্য ব্যবস্থা পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করা হয়েছে? সবকিছু দলীয়করণ করার কারণে। দক্ষ, মেধাবি চিকিৎসককে ভালো জায়গায় অবস্থান দেয় না। আর যাদের তেমন কোনো দক্ষতা নেই, তাদের ভালো জায়গায় দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। শুধুমাত্র একটি দলের কর্মী হওয়ার কারণে তাদের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় দায়িত্ব দিয়ে স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, এই সরকারের হাত থেকে দেশের মানুষকে যত দ্রুত মুক্ত করা যায়, ততই মঙ্গল। গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে এই সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরাতে হবে। কোনো অভ্যুত্থান তখনই সফল হয়, যখন সকল পেশাজীবী সংগঠন, জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে শরিক হয়। ইনশাল্লাহ সেই গণ-অভ্যুত্থান হবে।

ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমান বলেন, এই সরকারের পায়ের নিচে মাটি নেই। দেশের মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে। তারা কোনোভাবেই এই সরকারের অধীনে নির্বাচন হতে দেবে না। আন্দোলনের মধ্য দিয়ে এই সরকারের বিদায় হবে। রাজপথে ফয়সালা হবে, এর কোনো বিকল্প নেই।

সভাপতির বক্তব্যে ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ডা: হারুন আল রশিদ বলেন, আগামী দুই-তিন মাসের মধ্যে স্পেশালিস্ট যে চিকিৎসা সেগুলো বন্ধ হয়ে যাবে। ওষুধের দাম বেড়ে যাবে। এই ফ্যাসিস্ট সরকারকে যদি আমরা হটাতে না পারি, আমাদের আরো দুর্দশার মুখে পড়তে হবে।

ড্যাবের মহাসচিব আব্দুস সালাম বলেন, আজকে দুঃখ লাগে। আমি একজন সার্জন, আমাকে যন্ত্রপাতি দেয় না। যদি বলি যন্ত্রপাতি দেন, বলে এলসি করতে পারছি না। অনেক রোগী এখন চিকিৎসার অভাবে মারা যাবে।

হাসপাতালে বসে ডাক্তাররা প্রাইভেটভাবে ভিজিট নেয়ার প্রথার চালুর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে তা বাতিল করার দাবি জানান তিনি।

ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ডা: হারুন আল রশিদের সভাপতিত্বে ও মহাসচিব ডা: মো: আব্দুস সালামের সঞ্চালনায় সভায় আরো বক্তব্য দেন বিএনপির ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমান, পেশাজীবী পরিষদের সদস্য সচিব কাদের গণি চৌধুরী, ড্যাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি ডা: এম এ সেলিম, কোষাধ্যক্ষ ডা: জহিরুল ইসলাম শাকিল, সহ-সভাপতি মোস্তাক রহিম স্বপন, অধ্যাপক ডা: মো: মোসাদ্দেক হোসেন বিশ্বাস ডাম্বেল, সেলিম ভূঁইয়া, ড্যাবের সহ-সভাপতি ডা: শহীদ হাসান, ডা: মো: সিরাজুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় নেতা ডা: পারভেজ রেজা কাকন, ডা: মো: মেহেদী হাসান, ডা: সরকার মাহবুব আহমেদ শামীম, ডা: সায়ীদ মেহবুব উল কাদির, ডা: আদনান হাসান মাসুদ প্রমুখ।

কবিতা/ কবি ও প্রকৃতি

কবি ও প্রকৃতি

ফজিলা খাতুন

মাঠ আর গাছের মাঝে

কবি ঘুরে বেড়ায় সপ্ন দেখে।

হওয়ায় অনুপ্রেরণা খোঁজে 

আর মৃদু বয়ে চলা স্রোতে।

সবুজ পাতা ,মৌমাছির গুঞ্জনে

পাহাড় ,নদী ঝর্নার বুকে,

কান্না ,হাসি , আশা ,ভয়

কবির আত্মিক শান্তি খুঁজে।

অনুভূতি সদা সতেজ থাকে

প্রকৃতির মাঝে,মানুষের গল্পে।

সদাসর্বদা আকুল হৃদয় 

মন মাতানো প্রকৃতির খেলায়।

সবুজের সমারোহে সপ্ন বুনেন

হওয়ার মাঝে আনন্দের সন্ধানে।

প্রকৃতির শোভা ভাবনায় আঁকে

কবির কবিতা প্রকৃতির তরে।

কবিতা/ গরীব মরছে ধুকে

গরীব মরছে ধুকে

রাজীব হাসান

নিম্ন আয়ের মানুষ গুলো

মরছে ধুকে ধুকে

চড়া দামের জিনিস কেনে

পাথর চেপে বুকে।

ব্যবসায়ীরা খাচ্ছে চুষে

দিনমজুরের রক্ত

গরীব মরে ক্ষুধার জ্বালায়

পেটটা করে শক্ত।

সারাটা দিন খেটে পায় না

ন্যায্য আয়ের মূল্য

গরীব বলে কি মানুষ নয়

পশুর সমতূল্য।

ক্ষুধা পেটে সারাটা দিন

ঘুরছে দ্বারে দ্বারে 

গরীব বলে বাবু সাহেব

তাড়িয়ে দেয় তারে।

তাসকিন ঝড়ে দুর্দান্ত জয় বাংলাদেশের

আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম টি২০ ম্যাচে দুর্দান্ত জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। আজ সোমবার চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে বাংলাদেশ ২২ রানে পরাজিত করেছে আয়ারল্যান্ডকে। তাসকিন আহমেদের অবিশ্বাস্য বোলিং দলকে এই জয় এনে দিতে সহায়তা করেছে।

বৃষ্টি আইনে আয়ারল্যান্ডকে ২২ রানে হারালো বাংলাদেশ

ব্যাট হাতে লিটন দাস ও রনি তালুকদারের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের পর বল হাতে তাসকিন আহমেদ করলেন দুর্দান্ত বোলিং। আর এর ফলে সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে আয়ারল্যান্ডকে বৃষ্টি আইনে আজ সোমবার ২২ রানে হারালে বাংলাদেশ। সুবাদে ৩ ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল টাইগাররা।

চট্টগ্রামে উদ্বোধনী জুটিতে শুরুতে বাংলাদেশকে চমকে দিলেও সেই চমক বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি, বলা যায় হতে দেননি তাসকিন আহমেদ। দারুণ বল করেছেন এই পেসার। নিজের প্রথম ওভারে মাত্র ৭ রান দিয়ে ৩ উইকেট তোলে নেয়ার পর নিজের দ্বিতীয় ও দলের শেষ ওভারে ৯ রান দিয়ে তুলে নেন আরো ১ উইকেট। সব মিলিয়ে তার স্পেলটি ছিল ২-০-১৬-৪!

২.৪ ওভারে ৩২ রানের মাথায় আইরিশদের উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন হাসান মাহমুদ। মার্ক অ্যাডাইরের স্ট্যাম্প ভাঙেন তিনি। পরের ওভারেই তাসকিন ঝলক, প্রথম বলে লরকান টাকারের স্ট্যাম্প ভাঙার পর চতুর্থ বলে ভয়ঙ্কর হয়ে উঠা পল স্টার্লিংয়ের স্ট্যাম্পও ভাঙেন এই পেসার৷ পরের বলেই ফেরান জর্জে ডকরেলকে শামিমের ক্যাচ বানিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও জাগিয়ে তুলেন তাসকিন।

পরের ওভারে হাসান মাহমুদ ১৬ রান দিলেও তা বাংলাদেশের জয়ের জন্য বাঁধা হতে পারেনি। ষষ্ঠ ওভারে সাকিব আল হাসান মাত্র ৫ রান দিলে শেষ ২ ওভারে আইরিশদের প্রয়োজন ছিল ৩৯ রান। আর শেষ ওভারে প্রয়োজন হয় ৩২ রান। তবে সেই ওভারে মাত্র ৯ রানের বিনিময়ে হ্যারি টেক্টরের উইকেটটাও নিয়ে নেন ঝুলিতে৷ ২২ রানের জয় পায় বাংলাদেশ।

এর আগে চট্টগ্রামে দেখা মেলে নতুন এক বাংলাদেশের৷ যেই বাংলাদেশ বড্ড সাহসী, যেই বাংলাদেশ ভয়ঢরহীন, নির্দয়! শুর‍ু থেকে শেষ, সবার লক্ষ্য একটাই; আক্রমণ। সুবাদে দুইশো পেরিয়েছে বাংলাদেশের সংগ্রহ। তবে বৃষ্টি বাধায় ইনিংস শেষ করতে পারেনি টাইগাররা, চার বল বাকি থাকতেই মাঠ ছাড়তে হয়েছে সাকিব আল হাসানদের। বাংলাদেশের সংগ্রহ ১৯.২ ওভারে ৫ উইকেটে ২০৭ রান।

এইদিন টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই হাত খোলে খেলতে থাকেন লিটন দাস ও রনি তালুকদার। বিধ্বংসী হয়ে উঠেন দু’জনেই, ঝড়ো গতিতে ব্যাট করতে থাকেন তারা৷ পাওয়ার প্লেতে নিজেদের ইতিহাসের সর্বোচ্চ ৮১ রান তোলে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের প্রথম উইকেটের পতন হয় ৭.১ ওভারে দলীয় ৯১ রানে৷ ৪ চার আর ৩ ছক্কায় ২৩ বলে ৪৭ রান করে ফিরেন লিটন দাস। আউট হবার আগে অবশ্য বাংলাদেশের পঞ্চম ক্রিকেটার হিসেবে আন্তর্জাতিক টি-টুয়েন্টিতে ১৫০০ রানের গণ্ডি স্পর্শ করলেন লিটন দাস। মাত্র ৬৮ ইনিংসে এই মাইলফলক স্পর্শ করেন তিইনি, যা বাংলাদেশের হয়ে দ্রুততম।

লিটন অর্ধশতকের আক্ষেপে পুড়লেও এইদিন ক্যারিয়ারের প্রথম অর্ধশতক তোলে নেন রনি তালুকদার। মাত্র ২৪ বলে অর্ধশতক পূরণ করেন তিনি। তবে বড় হয়নি নাজমুল হোসেন শান্তর সাথে তার দ্বিতীয় উইকেট জুটি। ভয়ংকর হয়ে উঠার আগেই ফিরেন শান্ত স্ট্যাম্পিংয়ের ফাঁদে ফেলেন হ্যারি টেক্টর, ১৩ বলে ১৪ রান করেন তিনি।

এইদিন ব্যাটিং অর্ডারে প্রমোশন পেয়ে চার নাম্বারে নেমে আসেন শামিম পাটোয়ারী। হাত খুলে খেলতে থাকেন তিনিও। তবে তেকে রেখেই ১৪তম ওভারের শেষ বলে দলীয় ১৫৪ রানে ফিরেন লিটন। গ্রাহাম হিউমের বলে আউট হবার আগে খেলেছেন ৩৮ বলে ৬৭ রানের বিধ্বংসী এক ইনিংস। নিজের ক্যারিয়ার সেরা এই ইনিংসটা রনি সাজান ৭ চার আর ৩ ছক্কার মারে।

এরপর তাওহীদ হৃদয়ের সাথে জুটি গড়েন শামীম, ২ চার ১ ছক্কাউ ২০ বলে ৩০ রান করে আউট হন তিনি। ইনিংসটা বড় না হলেও শামীমের ইনিংসটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। হৃদয় আউট হন ৮ বলে ১৩ রানে। তবে শেষ দিকে নেমে ঝড় তোলেন অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। দলকে ২০০ রানের গণ্ডি অতিক্রম করান তিনি।

বৃষ্টি বাঁধায় খেলা বন্ধ হবার আগে ১৩ বলে ২০ রানে সাকিব আল হাসান ও ১ বলে ৪ রানে অপরাজিত মেহেদী মিরাজ। দলীয় সংগ্রহ এখন ১৯.২ ওভারে ৫ উইকেটে ২০৭ রান।