Home Blog Page 620

আমি বলদ কিংবা স্বশিক্ষিত নই : পুলিশের সাথে বিতণ্ডায় ফয়জুল করিম

আমি বলদ কিংবা স্বশিক্ষিত নই বলে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের এসআই অনিল সাহাকে হুঁশিয়ার করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকের মেয়র প্রার্থী মুফতি সৈয়দ ফয়জুল করীম।

গণসংযোগ চালানোর সময় উল্লেখ করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে মিছিল অবৈধ। কিন্তু গণসংযোগ অবৈধ না। সাড়ে ১১টা পর্যন্ত গণসংযোগ চলবে। আমি বলদ না, আমি স্ব-শিক্ষিত লোক না। শিক্ষিত লোক আমি।’

হাতপাখার প্রার্থীর গণসংযোগকালে নৌকার কর্মীদের আক্রমণাত্মকভাবে আচরণবিধি লঙ্ঘন করে মিছিল করার অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে পুলিশের সাথে খোদ ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকের মেয়র প্রার্থী মুফতি সৈয়দ ফয়জুল করীমের বাক-বিতণ্ডা হয়। সেটার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

আড়াই মিনিটের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের এসআই অনিল সাহাকে কিছু বোঝানোর চেষ্টা করছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মুফতী সৈয়দ ফয়জুল করীম। আর প্রার্থী বারবার ওই পুলিশ সদস্যকে জিজ্ঞাসা করছেন, আপনি মিছিল বন্ধ করতে পেরেছেন? তিনি এর কোনো সদুউত্তর দিতে পারেননি।

ভিডিওয়ের এক পর্যায়ে হাতপাখার প্রার্থী বলেন, নির্বাচনে মিছিল অবৈধ। কিন্তু গণসংযোগ অবৈধ না। সাড়ে ১১টা পর্যন্ত গণসংযোগ চলবে। আমি বলদ না, আমি স্ব-শিক্ষিত লোক না, শিক্ষিত লোক আমি।

ভিডিওটির শেষে প্রার্থী পুলিশের ওই কর্মকর্তাকে বলেন, আপনার নাম শুনছি আমি বারবার, দোআ কইরেন, লেভেল প্লেইং ফিল্ড ঠিক রাইখেন, আমি আইন জাইনা তারপর নির্বাচন করি।

এ সময় ওই পুলিশ কর্মকর্তাও প্রার্থীকে বলেন, আপনারাও দোআ কইরেন আমাদের জন্য এবং পুলিশের জন্য, আমরা পুলিশ সর্বোচ্চ পরিমাণে কাজ করছি।

এ বিষয়ে ইসলামী আন্দোলন মিডিয়া গ্রুপের সদস্য শহিদুল ইসলাম জানান, হাতপাখার মেয়র পদপ্রার্থী শায়খে চরমোনাইর গণসংযোগ চলাকালে ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের স্থানীয় নৌকার কর্মী কালাম মোল্লার নেতৃত্বে আক্রমণাত্মকভাবে আচরণবিধি লঙ্ঘন করে মিছিল করে। এসআই অনীলকে এ সময় নৌকার মিছিলের সামনে হেঁটে নিরাপত্তা দিতে দেখা যায়। কিন্তু পুলিশ এসে আমাদের গণসংযোগের বিষয়ে কথা তোলেন।

মিছিলের সামনে হেঁটে নিরাপত্তার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন থানা পুলিশ। এয়ারপোর্ট থানার পরিদর্শক (তদন্ত) লোকমান হোসেন জানান, ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী যখন গণসংযোগ করছিলেন, তখন স্থানীয় আওয়ামী লীগের লোকজনও সেখানে ছিল। তারা মিছিল করায় পরিস্থিতি অস্বাভাবিক হতে পারে বিধায় পুলিশ সেখানে গিয়েছিল।

ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী চলে যাওয়ার সময় এসআই অনীল সাহা তার কাছে যান। এ সময় অস্বাভাবিক কোনো কথোপকথন হয়নি বলেও জানান তিনি।

‘অখণ্ড ভারতের’ মানচিত্র : যা বললেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

‘অখণ্ড ভারতের’ মানচিত্র বিষয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, ভারতের সংসদ ভবনে ‘অখণ্ড ভারতের’ মানচিত্র স্থাপন বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা জানার জন্য দিল্লিতে বাংলাদেশ দূতাবাসকে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাথে যোগাযোগ করার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

সোমবার (৫ জুন) বিকেলে শাহরিয়ার আলম পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

ওই মানচিত্রে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও নেপালকে অখণ্ড ভারতের মানচিত্রে দেখানো হয়েছে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এটি নিয়ে সংশয় প্রকাশ করার কোনো কারণ নেই। তারপরও অধিক ব্যাখ্যার জন্য আমরা দিল্লির মিশনকে বলেছি ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাথে কথা বলতে, তাদের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা কী তা জানার জন্য।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যা জেনেছি তা হলো- ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেছেন যে এটি অশোকা সাম্রাজ্যের মানচিত্র, এটি যিশু খ্রিস্টের জন্মের ৩০০ বছর আগের। সেই সময়ের যে অঞ্চলটি ছিল, তার একটি মানচিত্র এবং এটি একটি ম্যুরাল। ওই ম্যুরালে বিভিন্ন অগ্রগতির যাত্রা চিত্রায়ণ করা হয়েছে। এখানে সাংস্কৃতিক মিল থাকতে পারে, কিন্তু এর সাথে রাজনীতির কোনো সম্পর্ক নেই।’

সূত্র : ইউএনবি

কংগ্রেসম্যানদের চিঠি দুর্বল ও সস্তা : শাহরিয়ার আলম

বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন যুক্তরাষ্ট্রের ছয় কংগ্রেসম্যান শেখ হাসিনা সরকারের কড়া সমালোচনা করে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের কাছে লেখা চিঠিকে দুর্বল ও সস্তা বলে আখ্যা দিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো: শাহরিয়ার আলম।

সোমবার (৫ জুন) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এমন মন্তব্য করেন প্রতিমন্ত্রী। এর আগে ২৫ মে বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকারের মানবাধিকার লঙ্ঘন বন্ধ এবং অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের সুযোগ তৈরিতে জরুরি পদক্ষেপ চেয়ে এ চিঠি দেয় মার্কিন ছয় কংগ্রেসম্যান।

এ চিঠি সরকার কীভাবে দেখছে প্রতিমন্ত্রীর কাছে জানতে চাওয়া হলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা চিঠিটা সংগ্রহ করেছি। অন্যান্য চিঠিপত্রের মতো এখানেও অসামঞ্জস্য আছে। অন্যান্য চিঠির মতো বাড়াবাড়ি আছে। তথ্যের একটা বড় ধরনের ঘাটতি আছে। কংগ্রেসম্যানদের প্রচেষ্টা দুর্বল ও সস্তা।

কংগ্রেসম্যানদের চিঠি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে ফাটল ধরাতে পারবে না বলে মনেও করেন শাহরিয়ার আলম।

প্রতিমন্ত্রী গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, আপনারা (গণমাধ্যমকর্মী) নিজেরাও লাইন বাই লাইন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখতে পারেন। আমাদের দেশের রাজনীতিবিদরা, সংসদ সদস্যরা বিশেষ করে অন্য দলের সংসদ সদস্যরা প্রধানমন্ত্রীকে অনেক কিছু বলেন, অনেকে হয়ত লেখেনও। হয়ত আমার বিরুদ্ধে লেখা হয়, যেটা আমি জানি না। তবে এটা নির্ভর করে সরকারপ্রধান বিষয়টিকে কীভাবে নেবেন।

নির্বাচন সামনে রেখে এ ধরনের আরো চিঠি আসতে পারে বলে মনে করে তিনি বলেন, এ রকম চিঠি অতীতেও এসেছে। ভবিষ্যতে আরও বেশি আকারে আসতে পারে। নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসবে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড আরও বাড়বে। তবে আপনাদের (গণমাধ্যমকে) এটা যাচাই করে নিতে হবে।

নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে লবিস্টদের তৎপরতা বাড়ার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে শাহরিয়ার আলম বলেন, তারা (লবিস্ট) তাদের কাজ করবে। আমরা আমাদের কাজ করব।

উল্লেখ্য, কংগ্রেসম্যান স্কট প্যারি, ব্যারি মুর, টিম বার্চেট, ওয়ারেন ডেভিডসন এবং কেইথ সেলফ চিঠিতে জানিয়েছিলেন, মার্কিন সরকার মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে বাংলাদেশের দায়িত্বরত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী একাধিক কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারির পরও দমন-পীড়ন অব্যাহত রেখেছে। সম্প্রতি তাদের সেই বক্তব্যের সাথে দেশটির আরেক কংগ্রেসম্যান বব গুড যোগ দিয়েছেন। ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের পঞ্চম কংগ্রেশনাল ডিসট্রিক্টের রিপাবলিকান এই কংগ্রেসম্যান তার ওয়েবসাইটে দেয়া এক বিবৃতিতে শেখ হাসিনা সরকারকে মানবাধিকার লঙ্ঘন বন্ধের পাশাপাশি অবাধ ও সুষ্ঠু সংসদ নির্বাচন নিশ্চিত করারও আহ্বান জানিয়েছিলেন।

আগামী নির্বাচন একটি চ্যালেঞ্জ : প্রধানমন্ত্রী

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার দলের নেতাকর্মীদের আগামী জাতীয় নির্বাচনের জন্য যথাযথ প্রস্তুতি নেয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, বহুমুখী ষড়যন্ত্রের কারণে নির্বাচনটি একটি চ্যালেঞ্জ হবে।

তিনি সোমবার (৫ জুন) গণভবনে আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সাথে মতবিনিময়কালে বলেন, ‘আগামী নির্বাচন একটি চ্যালেঞ্জ, কারণ বিভিন্ন মহলের ষড়যন্ত্র রয়েছে।’

শেখ হাসিনা বলেন, যখনই দেশের মানুষের জীবনযাত্রার কিছুটা উন্নতি হয়, তখনই বাংলাদেশে কিছু কুলাঙ্গার আছে, যারা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কথা বলে এবং সর্বত্র মিথ্যাচার করে।

তিনি বলেন, কিছু মানুষ আন্তর্জাতিক অনুদান পাওয়ার জন্য বিদেশীদের সামনে বাংলাদেশ সম্পর্কে ভুল ধারণা তৈরি করে।

তিনি আরো বলেন, যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না, মুক্তিযুদ্ধের সময় লুণ্ঠন, ধর্ষণ ও দমন-পীড়নসহ গণহত্যা ও অন্যান্য অপরাধ করেছে এবং এখন তাদের প্রজন্ম নিরলসভাবে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অপগ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে।

ভোট কারচুপি বিএনপির অভ্যাস উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভোট কারচুপি ও গণতন্ত্র ছিনতাইয়ের রেকর্ড তাদের আছে। ‘তবে, আমরা এখন তাদের কাছ থেকে গণতন্ত্রের ছবক শুনছি।’

তিনি বলেন, ‘এখন সামরিক স্বৈরশাসকের হাতে গঠিত দলের কাছ থেকে আমাদের গণতন্ত্রের ছবক শুনতে হয়। ভোট চুরি করা তাদের অভ্যাস। তাহলে চোরদের কাছ থেকে বাংলাদেশের মানুষ কি শিখবে?’

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী তার দলের নেতাকর্মীদের দলকে আরো শক্তিশালী করতে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আমাদের দল যথেষ্ট শক্তিশালী। দল যেন আরও শক্তিশালী হয়, আমাদের সেই পদক্ষেপ নিতে হবে।’

বাংলাদেশের উন্নয়নের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ২০০৮ সালের সাধারণ নির্বাচনের পর তার দল টানা ১৪ বছর ক্ষমতায় থাকায় এবং দেশে স্থিতিশীল গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখায় এই উন্নয়ন সম্ভব হয়েছে।

বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশকে বদলে দিতে চেয়েছিলাম। আজ আমরা সফলভাবে পরিবর্তন করতে পেরেছি।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের সবচেয়ে বড় অর্জন গ্রামীণ এলাকায় দারিদ্র্যের হার কমেছে। ঢাকা শহরে দারিদ্র্যের হার বেশি হলেও গ্রামাঞ্চলে কম। কেউ অতীতে এটি ভাবতে পারেনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার প্রতিটি ঘরে বিদ্যুৎ দেয়ার অঙ্গীকার রক্ষা করেছে, কিন্তু ইউক্রেন যুদ্ধের পর বিশ্বব্যাপী পণ্যের দাম, পরিবহন খরচ, গ্যাস, জ্বালানি ও কয়লার দাম বেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশকে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।

তিনি বলেন, বৈদেশিক ঋণের সুদের হার বাড়ানো হয়েছে, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্র্রার রিজার্ভের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে।’ তবে, এখনো পাঁচ মাসের জন্য খাদ্য সংগ্রহের জন্য যথেষ্ট রিজার্ভ মজুদ রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি রফতানির জন্য কৃষি উৎপাদন বাড়াতে দেশের কোনো জমি অনাবাদি না রেখে সর্বত্র আবাদ করার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, সারা বিশ্বে এবং বাংলাদেশেও খাদ্যের দাম বেড়েছে। প্রকৃতপক্ষে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কারণে জনগণের কষ্ট হচ্ছে। তবে, পণ্য পাওয়া যাচ্ছে (বাজারে) এবং কোনো জিনিসেরই অভাব নেই বলে উল্লেখ করেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশে এবারো ধান ও অন্যান্য ফসলের ফলন ভালো হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার সম্প্রতি ৭৬১,৭৮৫ কোটি টাকার বৃহত্তম জাতীয় বাজেটের রেকর্ড করেছে। তিনি বলেন, অতীতে এত বড় বাজেট কেউ দিতে পারেনি এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এই কঠিন সময়ে সরকার এত বড় বাজেট দিতে পেরেছে।

তিনি বলেন, বাজেটে বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় সুবিধাভোগীর সংখ্যা এবং ভাতার আকার উভয়ই বাড়ানো হয়েছে।

তিনি বলেন, এছাড়া সরকার একটি কার্ড সিস্টেমের ব্যবস্থা করেছে যাতে নিম্ন আয়ের লোকেরা তাদের ভোগান্তি লাঘব করতে ভর্তুকি মূল্যে চাল, ডাল ও ভোজ্যতেলসহ কিছু প্রয়োজনীয় পণ্য ক্রয় করতে পারে।

সূত্র : বাসস

পুরো বাজেটই গরিবের জন্য উপহার : অর্থমন্ত্রী

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, পুরো বাজেটই গরিব মানুষের জন্য উপহার। এ দেশে অনেক মধ্য আয়ের মানুষ আছে, সময় এসেছে তাদের ট্যাক্স পেমেন্ট করতে হবে। যারা আয় করেন ট্যাক্স দেয়ার সক্ষমতা আছে তাদের ট্যাক্স দিতে হবে।

শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, বাজেটে যেসব কমিটমেন্ট বা অঙ্গীকার দিয়েছি, সবগুলো পূরণ করেছি। দুই কোটি ৪৫ লাখ চাকরির ব্যবস্থা করেছি। ধীরে ধীরে কর্মসংস্থান বাড়ছে। কর্মসংস্থানের জন্য নানা ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছি।

অর্থমন্ত্রী এ সময় বলেন, আমরা এখানে যারা উপস্থিত হয়েছি প্রত্যেকের দেশপ্রেম আছে। দেশপ্রেম আছে বলেই আমরা বারবার বিজয়ী হয়েছি। আমরা ফেল করি না।

তিনি বলেন, এ দেশের সব কিছুর মূলে হলো মানুষ।

তাদের কর্মদক্ষতা, দেশের প্রতি তাদের মায়া-মমতা, দায়বদ্ধতা অসাধারণ এক উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। আমার বিশ্বাস আমরা পরাজিত হব না, বিজয়ী হবোই হব।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত আছেন কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক, পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলাম, শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি, শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন, প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা মসিউর রহমান, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী শামসুল আলম, মন্ত্রিপরিষদসচিব মো: মাহবুব হোসেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার, অর্থ বিভাগের সচিব ফাতিমা ইয়াসমিন এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব শরিফা প্রমুখ।

নিউইয়র্কে বইমেলা সাকার্সের নতুন কমিটি

অনিন্দ ইসলাম : নিউইয়র্কে কথিত বইমেলার এবার ৩২ বছর। ঢাকার মুক্তধারার আপত্তির পর নিউইয়র্কে কর্ণধার বিশ্বজিৎ সাহা নাম পরিবর্তন করে মুক্তধারা ফাউন্ডেশন বানায় মামলা মকদ্দমার পর। নিউ ইয়র্কের মুক্তধারা নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ পাল্টা অভিযোগ নতুন নয়। একাধিক মামলায় বিশ্বজিৎ সাহাকে হিমশিম খেতে হয়েছে।
এ সপ্তাহেই আগামী ১৪ থেকে ১৭ জুলাই অনুষ্ঠিতব্য বইমেলার নতুন কমিটির ঘোষণা এলো। ৩২ বছর ধরে নিউইয়র্ক বাংলাদেশী কমিউনিটি দেখছে একটি ১০/১৫ জনের সিন্ডিকেট এই কথিত বইমেলা নিয়ন্ত্রণ করছে। প্রতি বছরের কমিটিতে চক্রাকারে নাম আসে শুধু সন তারিখ ভিন্ন। এই চক্র মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ধারক-বাহক বলে খ্যাত। প্রবাসে বাঙলা সাহিত্য সংস্কৃতি ও দেশের একুশের পদক-বাংলা একাডেমি,স্বাধীনতা পুরস্কার এসব যোগ্যব্যক্তিরা নিয়ন্ত্রণ করে বলে জনশ্রæতি মেলে।
সম্প্রতি প্রকাশিত মুক্তধারা বইমেলার ৩১ সদস্যের নতুন কার্যকরী কমিটির চেয়ারপার্সন ড. নূরুন নবী, আহŸায়ক ড. আবদুর নূর, কো-চেয়ারপার্সন নিনি ওয়াহেদ, হাসান ফেরদৌস, ড. নজরুল ইসলাম, সউদ চৌধুরী এবং সহ সাধারণ সম্পাদক ফাহিম রেজা নূর, কোষাধ্যক্ষ সাবিনা হাই উরবি, প্রকাশনা সম্পাদক আদনান সৈয়দ। প্রচার সম্পাদক তোফাজ্জল লিটন এবং প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক মুরাদ আকাশ।
হায়রে কপাল! নিউইয়র্ক প্রবাসী বাংলাদেশী ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নছিব খারাপ। উপরে নামের তালিকায় একজন ধর্মীয় সংখ্যালগুর নাম নেই। মুক্তধারা কর্তৃপক্ষ একজন হিন্দু যোগ্যব্যক্তিও খোঁজে পেলেন না ?
পরিসংখ্যান বলে এই নিউইয়র্কে বাংলাদেশী প্রবাসীদের সংখ্যা প্রায় হাফ মিলিয়ন। হিন্দু বৌদ্ধ খৃষ্টান মিলে ৩০ হাজারের উপর। জ্ঞান, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও মেধায় অগ্রগামী অনেক পেশাদার হিন্দু সম্প্রদায়ের বসবাস এই শহরে। আর বই মেলার মুক্তধারা সিন্ডিকেট কাউকে খোঁজে পায়নি!
প্রতিবছর বই মেলায় গিয়ে দেখা যায়Ñ দর্শকের অধিকাংশ ধর্মীয় সংখ্যালগুদের! দেশে কমতে কমতে ধর্মীয় সংখ্যালগু সম্প্রদায় ৯% এ ঠেকলেও মুক্তধারার বই মেলায় এই সংখ্যা ৬০% ভাগের বেশি। কিন্তু কর্তৃপক্ষের লিষ্ট-এ ওরা হিসেবেই নেই!
বিষয়টি আরও খোলে বললে দাঁড়ায় আজকাল শাড়ী পরে বঙ্গললনার পদচারণা কম, কপালের টিপ তো দৌড়ে পালাচ্ছে, হিজাবের প্রতিযোগিতায় শাড়ী টিপ বিলুপ্তির পথে। হিজাব, হালাল আর শরীয়ত আমাদের সংস্কৃতিকে গ্রাস করছে। শাড়ী আর টিপ কেবল ধর্মীয় সংখ্যালগু রমণীদেরই দেখা যায়। এক দু’জন মুসলিম রমণীর শাড়ী পড়া আর কপালে টিপে কিছু আসে যায় না।
নিউইয়র্কের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে চোখ মেলে তাকালে বিষয় আরও স্পষ্ট হবে। সম্প্রতি ঘটনাই বলি বাংলা নববর্ষ নিয়ে কত লঙ্কাকাÐ ঘটে গেলো। যেখানেও হিন্দুদের ভিড়, রবীন্দ্র উৎসব, বাউল উৎসব, আনন্দ ধ্বনি, প্রকৃতি সব মঞ্চে ও দর্শকসারিতে সেই হিন্দু সম্প্রদায়।
নিউইয়র্কে সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান বিপা থেকে শুরু করে উদীচী, সবখানে মুসলিম সঙ্গীত ও নৃত্য শিল্পী কমছে এর কারণ কী? উদীচীতো প্রায় গুটিয়ে গেছে। প্রবাসে ধর্মীয় সংখ্যালগু সম্প্রদায় বাংলা সংস্কৃতি বাঁচিয়ে রাখছে বল্লে কী ভুল হবে?
মুক্তধারার এই নতুন কমিটিতে এমন সব কথিত মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ধারক বাহক আছে যাঁরা দিনে মুক্তিযুদ্ধ আর রাতে ধর্মযুদ্ধ নিয়ে ব্যস্ত। ওদের ক’জন আবার পবিত্র হজ্বব্রত পালন করে এসে হাজী হয়েছেন। ওরাই আবার অসাম্প্রদায়িক এবং ধর্মকর্ম করি না বলে হিন্দু বন্ধুদের কাছে দাবি করে! আসলে ওরা ভÐ ও ধান্দাবাজ। মুখোশ পরা এসব ধান্ধাবাজরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার লিজ নিয়েছে এটাই জাতির বড় দুর্ভাগ্য। ওদের আরও একটি বড় হাতিয়ার কথায় কথায় বিএনপি-জামাত বলে যতদোষ নন্দঘোষ-এর উপর চাপানো।
এসব তথাকথিত সুশীলসমাজ মাঝে মধ্যে নিউইয়র্কে ডাইবারসিটি প্লাজায় গলায় প্লেকার্ড লাগিয়ে দাঁড়িয়ে তামাশা করে। ওদের অনেক পদবী, প্রবীণ-নবীন আরও কত কি!
মুক্তধারার বইমেলাকে আজকাল প্রবাসীরা শাড়ীর মেলা, গহনার মেলা, চটপটি খাওয়ার মেলা বা প্রকাশনা সংস্থার নামে আদম আনার মেলা বলে কটাক্ষ্য করে। মেলার অন্তরালে অনেক অনিয়ম, বাণিজ্য, তোষামোদ, সরকারী অনুদান বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে অর্থ যোগানোই এই ৩২ বছরের খেলা।
কলকাতা থেকে শিল্প সংস্কৃতি ও সাহিত্যের বিশারদ বলে কতিপয় তথাকথিত ভারতীয় সুশীলসমাজ ও বুদ্ধিজীবীদের এই মেলায় এনে মেলাকে হালাল করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় ঢাকার ধান্দাবাজ শিল্পসংস্কৃতির কথিত চেতনার সুশীলসমাজ ও বুদ্ধিজীবীরা পথপানে বসে থাকে নিউইয়র্কের মেলার দিকেÑ কবে যাবে , মিলবে গ্রীনকার্ড ! আহা কী দেখেছি মধুর হাসি!

সুনেরাহকে নিয়ে পরীমনির অভিযোগ : যা বললেন পরীর স্বামী রাজ

সম্প্রতি চিত্রনায়ক শরীফুল রাজের ফেসবুক আইডি থেকে একটি ভিডিও পোস্ট হয়। যেখানে তার সাথে দেখা যায় অভিনেত্রী সুনেরাহ বিনতে কামালকে। যাদেরকে একসাথে ‘ন ডরাই’ সিনেমায় দেখা গিয়েছিল। আর তখন থেকে তাদের বন্ধুত্বের কথাও সবার জানা।

কিন্তু রাজের আইডি থেকে দুইজনের যেই ভিডিও পোস্ট হয় সেখানে তাদের অসংলগ্ন কথোকপথনও ছিল। যা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়।

এই ঘটনার পর সুনেরাহ তার প্রোফাইলে একটি স্ট্যাটাস দেন। যেখানে রাজের স্ত্রী চিত্রনায়িকা পরীমনির বিরুদ্ধে তিনি ইঙ্গিতপূর্বক অভিযোগ লেখেন।

এই ঘটনার শুরুতে রাজ চুপ থাকলেও অবশেষে বিষয়টি নিয়ে তিনি সামনে আসেন। এই নায়ক তার ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘মানুষ প্রতি মুহূর্তে একটু একটু করে পরিণত হয়। জন্মের পর নিজের পায়ে চলতে শিখতেও কয়েক বছর লেগে যায়। আর ঠিকঠাক কথা বলা শিখতে লেগে যায় আরো কিছু বছর। কিন্তু এই বলা আর চলার যাত্রা কখনো শেষ হয় না। তবে এ যাত্রায় আমরা কিছু মানুষের সাথে পরিচিত হই, যাদের সাথে সুখ-দুঃখ, কাজের আলাপ কিংবা কাজহীন দিনের আলাপ, সুস্থতা ও পাগলামী সবকিছুই ভাগ করে নেয়া যায়। যাদের সাথে চলার বা কথা বলার বিশেষ কোনো শর্ত থাকে না। শর্ত থাকে কেবল একটাই, সেটার নাম বন্ধুত্ব।

তার নিজের সমস্যায় পড়ার কথা উল্লেখ করে লিখেন, ‘নিশ্চয়ই আপনাদের প্রত্যেকেরই এমন অনেক বন্ধু রয়েছে- যাদের সাথে আপনারা আভিধানিক শব্দে কথা বলেন না। একসাথে পথ চলার সময় ভবিষ্যৎ ভাবনা নিয়ে পথ চলেন না। যাদের সাথে অনেক বেফাঁস কথা বলেন। কারণ বন্ধুত্ব তো এমনই। লিঙ্গ, বর্ণ, বয়সসহ সব সীমারেখার ওপরে মানুষের বন্ধুত্ব। কিন্তু সমস্যা হয়, যখন কেউ অসৎ উদ্দেশে বন্ধুত্বের মতো সম্পর্কের মাঝখানে লৈঙ্গিক পরিচয়ের সীমারেখা টেনে ব্যাপারটাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে চায়। যখন কেউ বন্ধুদের মধ্যকার দ্বিধাহীন আড্ডার আলাপ টক অব দ্য টাউনে পরিণত করে। আমিও তেমনই এক সমস্যায় পড়েছি।’

রাজ আরো লিখেন ‘আমি গত কয়েকদিন ধরে সিনেমার ডাবিং নিয়ে ব্যস্ত। আমার সিনেমার কিছু গল্পের স্ক্রিপ্ট রিডিং করার কথা, এগুলো নিয়েই আমি ঠিকমতো সময় দিতে পারছি না। যখনই সময় পাচ্ছি গল্পের ভেতরে ঢুকে যাচ্ছি, তার মধ্যে হঠাৎ করে কে বা কারা এসব করে আমাকে হেনস্তার শিকার করছে, যা ভাবতেই আমি হতবাক হয়ে গেলাম। আমাকে নিয়ে শেষ যতদিন থেকে নানাবিধ সত্য-মিথ্যার মিশ্রণে ঘটনার চাউর করছে আমি তার শুরু থেকেই নীরব ছিলাম। কিন্তু নীরবতা মানেই দুর্বলতা না।’

নিজের ফেসবুক প্রোফাইল হ্যাক হওয়া প্রসঙ্গে টেনে রাজ লিখেছেন, ‘আমার ফেসবুক প্রোফাইলের পাসওয়ার্ড বা অ্যাকসেস এমন কারো কাছে আছে অথবা হ্যাক করে কেউ আমার দীর্ঘকালের বন্ধু ও সহকর্মীদের সাথের নিতান্ত বন্ধুত্বের আড্ডার ঘটনা লিক করে দেয়। যে বা যারা এ কাজ করেছে, তাদের উদ্দেশ্য ছিল আমাদের হেনস্তা করা। হয়তো তারা সফলও হয়েছে। আমি আমার তিন বন্ধু ও সহকর্মীর কাছে শর্তহীন দুঃখ প্রকাশ করছি; যারা আমার খুব ভালো বন্ধু দীর্ঘদিনের। সেই বন্ধুত্বের কোনো লিঙ্গ নেই। আমার কারণে তাদের হেনস্তার শিকার হতে হলো বলে। আমার সব শুভাকাঙ্ক্ষী, সমর্থক ও সমালোচকদের কাছেও আমি দুঃখ প্রকাশ করছি। বন্ধুদের আড্ডার ঘটনা নোংরা উদ্দেশে স্প্রেড করে মিসলিড করা হয়েছে বলে।’

শেষে তিনি লিখেন, ‘বহুবার হোঁচট খেয়েই তো হাঁটতে শিখেছি! আবারো হোঁচট খেলাম। আপনাদের দোয়া ও ভালোবাসা সাথে থাকলে নিশ্চয় আরো পরিণত হবো, শিখবো অতীতের ভুল থেকে। আমাকে আপনাদের দোয়া ও ভালোবাসায় রাখবেন। কারণ আপনাদের সমর্থন ছাড়া একজন শরিফুল রাজ কিছুই নয়। জগতের সব প্রাণি সুখী হোক। সবাইকে ভালোবাসা ও শুভকামনা।’

বর্ণবাদের বিষ বাংলাদেশ ক্রিকেটে, ব্যবস্থা নিয়েছে বিসিবি

এবার বর্ণবাদের কালো ছোঁয়া লেগেছে বাংলাদেশ ক্রিকেটে। বর্ণবিদ্বেষী ঘটনা ঘটেছে সিলেটে। গ্যালারি থেকে ভেসে আসে বর্ণবিদ্বেষী মন্তব্য। তবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডও (বিসিবি) ছেড়ে কথা বলেনি, দেখা গেছে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে।

বুধবার সিলেটে বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ ‘এ’ দলের খেলার সময় এক ঘটনা ঘটে।

সিরিজের তৃতীয় ও শেষ চার দিনের ম্যাচে বুধবার চলছিল দ্বিতীয় দিনের খেলা। প্রথম ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ‘এ’ দলের করা ৪৪৫ রানের বিপরীতে প্রথম ইনিংসে তখন ব্যাট করছিল বাংলাদেশ। এমন সময় গ্যালারি থেকে একাধিকবার উড়ে আসে বর্ণবিদ্বেষী মন্তব্য।

মন্তব্যকারীকে খুঁজে পেতে অবশ্য বেগ পেতে হয়নি। সাধারণত টেস্ট ম্যাচে এমনিতেই দর্শক থাকে সীমিত। ‘এ’ দলের খেলায় তা হয়ে থাকে আরো কম। তার ওপর তপ্ত রোদ আর ব্যাট হাতে টাইগারদের বেহাল দশা, স্টেডিয়ামে তাই দর্শক সংখ্যা হাতেগোনা।

বাজে মন্তব্য প্রথমবার এড়িয়ে গেলেও দ্বিতীয়বার ম্যাচ আম্পায়ারের কাছে অভিযোগ করেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ ‘এ’ দলের অধিনায়ক। আম্পায়ারও দ্রুত খবর পাঠায় ম্যাচ রেফারির কাছে। সেখান থেকে নিরাপত্তা কর্মীদের জানানো হলে দ্রুত খুঁজে বের করা হয় মন্তব্যকারীকে।

অপরাধীকে নিরাপত্তা কর্মীরা নিজেদের জিম্মায় নিয়ে নেয়। এর পরের কথা অবশ্য আর জানা যায়নি। এ ঘটনা বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য কলঙ্কজনক।

তবে দ্রুত অপরাধীকে শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেয়ায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ধন্যবাদ প্রাপ্য।

মির্জা ফখরুলের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ ওবায়দুল কাদেরের

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, দেশের সর্বোচ্চ আদালতের রায়কে ফরমায়েশি বলে বিএনপি মহাসচিবের বক্তব্য দেশের আইন ও পবিত্র আদালত অবমাননার শামিল।

বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি একথা বলেন। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের দায়িত্বহীন বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদে এই বিবৃতি দেয়া হয়।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘দুর্নীতির মামলায় ইতোপূর্বে বিএনপির দুই নেতাকে নিম্ন আদালতের দেয়া সাজা বহাল রেখে দেশের উচ্চ আদালত যে রায় দিয়েছে, সে সম্পর্কে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য দেশবাসীকে হতাশ করেছে।’

তিনি বলেন, ‘দেশের সর্বোচ্চ আদালতের রায়কে ‘ফরমায়েশি রায়’ বলে মির্জা ফখরুল যে বক্তব্য দিয়েছেন তা দেশের আইন ও পবিত্র আদালত অবমাননার শামিল। বিএনপির এই দুই নেতার আজকের পরিণতি তাদের ধারাবাহিক অপরাজনীতিরই ফসল।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোট শাসনমালে হাওয়া ভবন খুলে তারা দুর্নীতি ও লুটপাটের মহোৎসবে মেতে উঠেছিল, যার পরিণতিতে বাংলাদেশ দুর্নীতিতে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। সে সময় হাওয়া ভবনের কর্ণধার জিয়াপুত্র তারেক রহমানের দুর্নীতির খতিয়ান বিশ্বগণমাধ্যম ও বিশ্বখ্যাত গোপন নথি প্রকাশকারী সংস্থা উইকিলিকস-এ বিস্তারিত প্রকাশিত হয়েছে।

তিনি বলেন, সাজাপ্রাপ্ত বিএনপির দুই নেতার দুর্নীতির মামলার সাথে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের কোনো যোগসূত্র নেই। ২০০৭ সালে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে এবং তাদের অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ার পর নিম্ন আদালত শাস্তিমূলক রায় দেয়। প্রায় ১৬ বছর বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ করে আদালত তাদের সাজা দিয়েছে।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, দেশের পবিত্র সংবিধান অনুযায়ী সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। যার কারণে আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রী, এমপি ও গুরুত্বপূর্ণ নেতারাও আইন ও বিচারের মুখোমুখি হয়েছেন। এমনকি বিশ্বজিৎ হত্যাকাণ্ড এবং বুয়েটের শিক্ষার্থী আবরার হত্যা মামলায়ও ছাত্রলীগের নেতারা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ভোগ করছেন।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার বিচারব্যবস্থাকে স্বাধীন করেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় দেশের বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে আলাদা করে স্বাধীন বিচারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। বিএনপিই বিচারব্যবস্থাকে দলীয়করণ করেছিল।

ওবায়দুল কাদের বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা খুনি জিয়াউর রহমান ইনডেমনিটি অধ্যাদেশকে আইনে পরিণত করার মধ্য দিয়ে পবিত্র সংবিধানকে কলঙ্কিত করেন। মূলত জিয়াউর রহমান বাংলাদেশে বিচারহীনতার অপসংস্কৃতি চালু করে। অন্যদিকে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বিচারহীনতার সংস্কৃতির পরিবর্তে দেশে আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়।

তিনি বলেন, বিএনপি দুর্নীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে তাদের দলীয় গঠনতন্ত্র পরিবর্তন করেছে এবং দলের চিহ্নিত শীর্ষ দুর্নীতিবাজদের সুরক্ষা দিয়েছে। অনুরূপভাবে তারা বিজ্ঞ আদালতের রায়কে ‘ফরমায়েশি রায়’ বলে দেশের উচ্চ আদালত এবং পবিত্র সংবিধানকে অবমাননা করেছে।

তিনি বলেন, মার্কিন নতুন ভিসানীতি ঘোষণা করার পর বিএনপি তাদের বিদেশী প্রভুদের কাছ থেকে করুণা প্রাপ্তির আশায় সরকারের বিরুদ্ধে নানা ধরনের অপপ্রচারে লিপ্ত রয়েছে। উচ্চ আদালতের রায়কে ফরমায়েশি বলা তাদের সেই চলমান ষড়যন্ত্রেরই অংশ। এই ধরনের অপরাধের জন্য বাংলাদেশের জনগণের কাছে তাদেরকে অচিরেই জবাবদিহি করতে হবে। সূত্র : বাসস

‘কাঁটাতারের বেড়া টপকে আসা হিন্দু-মুসলিম সবাইকে ফিরে যেতে হবে’

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলের নেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, ‘যে কাঁটাতারের বেড়া ডিঙ্গিয়ে ঢুকেছ, তাকে কাঁটাতারের বেড়ার ওপারে যেতে হবে। সে হিন্দু হোক আর মুসলমান হোক।’ যদিও শুভেন্দু অধিকারী বাংলাদেশের নাম করেননি, তবে মালদা জেলার ওই জনসভায় দেয়া বক্তৃতা শুনে মনে করা হচ্ছে, তিনি বাংলাদেশ থেকে ভারতে আসা মানুষদের কথাই বোঝাচ্ছেন।

ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) এত দিন বলে এসেছে, বাংলাদেশ থেকে ভারতে আসা হিন্দুদের ‘উদ্বাস্তু’ আর মুসলমানদের ‘অনুপ্রবেশকারী’ হিসেবে চিহ্নিত করা হবে।

শুভেন্দু অধিকারীর ভাষণের পরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে যে বাংলাদেশ থেকে যেসব হিন্দুরা ভারতে গেছে, তাদেরও কি ফেরত পাঠানো হবে?

এ প্রশ্নও উঠছে যে বিজেপি কি তাহলে তাদের দীর্ঘ দিনের নীতি পরিবর্তন করল?

হিন্দুদের মনে আশঙ্কা
শুভেন্দু অধিকারীর ভাষণের ভিডিও ক্লিপটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পরে তা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে এমন এলাকায়, যেখানে বাংলাদেশ থেকে ভারতে যাওয়া অনেক মানুষ বসবাস করে।

কলকাতার কাছে এমনই একটা এলাকা যাত্রাগাছি। যেখানে ৮০-এর দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে বাংলাদেশ থেকে যাওয়া মানুষরা বাস করছে। তাদের মধ্যে হিন্দুরা বড় সংখ্যা হলেও মুসলমানরাও রয়েছে। তাদের বেশিরভাগই এখন ভারতের নাগরিকত্ব পেয়েছে এবং বিজেপি ওই অঞ্চলে যথেষ্ট সংখ্যক ভোট পায়। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও গিয়েছিলেন ওই এলাকার এক বাড়িতে দুপুরের খাবার খেতে।

ওই পাড়াতে এখন শুভেন্দু অধিকারীর ভাষণ নিয়েই আলোচনা চলছে।

বাংলাদেশের সাতক্ষীরা থেকে ১৯৮৬ সালে ওই এলাকায় যাওয়া এক বাসিন্দা নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন, ‘আমরা তো এটা নিয়েই আলোচনা করছি। সবাই দেখেছি শুভেন্দু অধিকারীর ভাষণটা। আমাদের মধ্যে একটা আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, ভাষণটা শোনার পরে যে এত বছর পরে তিল তিল করে এখানে সব গড়ে তোলার পরে যদি বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়, তাহলে আমরা কোথায় দাঁড়াব।’

তিনি আরো বলেন, কেন্দ্রের ক্ষমতাসীন দলের বড় নেতা শুভেন্দু অধিকারীর মুখ থেকে যখন এমন কথা শোনা যায়, তাহলে তো চিন্তা হয়ই।

আবার ভারত বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী এলাকার এক বাসিন্দা যিনি ৯০-এর দশকে বাংলাদেশ থেকে ভারতে গিয়ে নাগরিক হয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমার তো কোনো আশঙ্কা হচ্ছে না ওই ভাষণ দেখার পরে।’

প্রথম ব্যক্তি সরাসরি রাজনীতি না করলেও দ্বিতীয় ব্যক্তি বিজেপির সমর্থক।

তার কথায়, ‘আমার মনে হয় যে শুভেন্দু অধিকারী হয়ত আবেগের বশে বলে ফেলেছেন। কিন্তু হিন্দুদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠিয়ে দিবে, এটা হতে পারে না। বিশ্বের সব হিন্দুদের আশ্রয়স্থল এই দেশ। নাগরিকত্ব আইন বদল করেছে যারা, তাদের তাড়ানো হবে না।’

‘নীতিতে বদল হয়নি’
শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি জনসঙ্ঘ প্রতিষ্ঠা করার সময় থেকেই তাদের নীতি ছিল বাংলাদেশ, পাকিস্তান বা আফগানিস্তান থেকে যেসব হিন্দু, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ, শিখ, জৈনরা ভারতে গিয়েছে বা যেতে চায় ‘ধর্মীয় অত্যাচার’-এর কারণে, তাদের ভারতে উদ্বাস্তু বলে চিহ্নিত করা হবে এবং তাদের নাগরিকত্ব দেয়া হবে।

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির প্রধান মুখপাত্র শমিক ভট্টাচার্য বলেছেন, ‘জনসঙ্ঘের সময় থেকে এ নিয়ে আমাদের যে নীতি তাতে কোনো বদল হয়নি। যারা নিজেদের ধর্ম রক্ষার তাগিদে, সম্ভ্রম রক্ষার তাগিদে, জীবন রক্ষার তাগিদে আসতে বাধ্য হচ্ছেন, আমাদের দেশে এলে তারা নাগরিকত্ব পাবেন এবং উদ্বাস্তু হিসেবে তাদের দেখা হবে। তাদের অনুপ্রবেশকারী হিসেবে দেখা হবে না। এটা জনসঙ্ঘের সময় থেকেই নীতি ছিল, পরে যখন বিজেপি গঠিত হল, ওই মূল নীতিতে কোনো পরিবর্তন হয়নি।’

তার কথায়, ‘আমরা এই মতাদর্শগত নীতিকে কখনোই লঘু করতে দিব না। এই কারণেই সিএএ, এনআরসির কথা বলা হয়েছে। যারা একদিন ভারতকে নাপাক বলে দেশ ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন পাকিস্তান নামক একটা রাজনৈতিক মস্তিষ্ক-প্রসূত রাষ্ট্রের দাবি করে, যার জন্য মৃত্যু হয়েছিল লাখ লাখ মানুষের, তারা ভারতে এলে তো অনুপ্রবেশকারীই বলতে হবে। কারণ তাদের মসজিদে তো কেউ আগুন লাগিয়ে দেয়নি, তাদের বাড়ির মেয়েকে তুলে নিয়ে কেউ বিয়ে করছে না বা ধর্মান্তরিত করছে না।’

শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য নিয়ে শমিক ভট্টাচার্যের ব্যাখ্যা, ‘বক্তব্যটা একটু ভুলভাবে উপস্থাপিত হয়েছে বলে মনে হচ্ছে।’

‘উদ্বাস্তুরা নাগরিক নয়’
উদ্বাস্তু নেতারা বলছেন এখনো যে লাখ লাখ মানুষ, যারা ১৯৪৭ থেকে অনেক দশক ধরে ভারতে গেছেন, তাদের নাগরিকত্ব দেয়ার ব্যাপারে কেন বিজেপি কোনো স্পষ্ট নীতি নিচ্ছে না?

উদ্বাস্তু নেতা সুকৃতি রঞ্জন বিশ্বাস বলছিলেন, ‘উদ্বাস্তু প্রশ্নে বিজেপি একেক সময়ে একেকটা কথা বলে। যখন যেখানে ভোটের জন্য যেমন প্রয়োজন সেভাবেই কথা বলেন তারা। শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্যকে সেভাবেই দেখছি আমরা।’

তিনি বলেন, ‘১৯৪৭ সাল থেকে গত সাড়ে সাত দশক ধরে যারা এসে পড়েছে ভারতে, তাদের একটা বিরাট অংশ এখনো নাগরিকত্ব পায়নি। বাংলাদেশ থেকে মূলত সেদেশের সংখ্যালঘুরাই তো এসেছে, তাদের ফিরে যাওয়া সম্ভবও না। তাই আমাদের দাবি, যারা এসে গেছে তাদের সবাইকে নাগরিকত্ব দেয়া হোক। এরা বলছে সিএএ করে নাগরিকত্ব বিবে, কিন্তু সেটা যে সম্ভব নয়, তা আমরা বারবার বলেছি। তাই শুভেন্দু অধিকারীর এমন কথার বিরোধিতাই করছি আমরা।’

তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশভাগের পর থেকে প্রায় দুই কোটি মানুষ ভারতে গিয়েছে, যাদের প্রায় ৯০ ভাগ মানুষ এখনো ‘আইনত অনাগরিক’।

যদিও পূর্ব পাকিস্তান এবং বাংলাদেশ থেকে ভারতে যাওয়া উদ্বাস্তুরা নিজেরাই স্বীকার করে, তাদের প্রায় সবাই কোনো না কোনো পথে ভারতের নাগরিকত্ব ‘সংগ্রহ’ করে নিয়েছে। সূত্র : বিবিসি