সারা মুসলিম জাহান রাতভর ইবাদত বন্দেগির মাধ্যমে শবেকদরের রজনী অতিক্রম করেছে। যে রজনী হাজার রজনীর চাইতে উত্তম। আল্লাহতায়ালা শবেকদরে এত ফজিলত দান করেছেন, যা হাজার রজনীর ফজিলতকেও অতিক্রম করে। জানি না পরের রমজান পাব কি না, আবার শবেকদরের রহমতের বরকতের ফজিলতের রাত জীবনে আসবে কি না। তবে অশান্ত পৃথিবীর এই কোলাহলে বড় কষ্টে মন ভরে যায়। গত কয়েক মাস ফিলিস্তিনের ওপর ইসরায়েলের বর্বরোচিত আক্রমণ, যাতে শত শত বেসামরিক লোক জীবন হারাচ্ছে, শিশুরা খাদ্যের অভাবে, পুষ্টির অভাবে মারা যাচ্ছে। সভ্যসমাজ অসভ্যতার পরাকাষ্ঠা দেখিয়ে এই ধ্বংসযজ্ঞের প্রকাশ্যে-অপ্রকাশ্যে ইসরায়েলের সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধেছে। জানি না ইসরায়েলের নেতানিয়াহু কোন ধাতুতে গড়া। আল্লাহর দুনিয়ায় নেতানিয়াহুর মতো মানুষ জন্মায় ভাবতেও কেমন অবাক লাগে। পৃথিবীর বহু দেশে যুদ্ধ হয়েছে, যুদ্ধ হচ্ছে এবং যুদ্ধ হবে। কিন্তু সেখানে কখনো শুধু বেসামরিক লোক নিহত হয় না, হবে না। কিন্তু গাজা এক ব্যতিক্রমী স্থান। যেখানে ইসরায়েলরা একজন হামাস যোদ্ধাকে আহত করতে পেরেছে কি না কোনো খবর নেই। কিন্তু শত শত বেসামরিক লোক নারী-পুরুষ, বৃদ্ধ-শিশু অকাতরে প্রাণ হারাচ্ছে, সভ্য দুনিয়া চেয়ে চেয়ে দেখছে। কোনো প্রতিকার, কোনো প্রতিরোধের সর্বোপরি শান্তি স্থাপনে ক্ষমতাবানদের কারও কোনো আগ্রহ নেই। এরকম অবস্থায় রমজান শেষে পবিত্র ঈদ। আমরা কতটা কী আনন্দ উপভোগ করতে পারব কিছুই বুঝতে পারছি না। গাজাতে যেমন ইসরায়েলি আক্রমণে প্রতিদিন শত শত মানুষ জীবন হারাচ্ছে, আমাদের দেশেও তেমনি বিশৃঙ্খল সড়ক দুর্ঘটনা, কল-কারখানায় একের পর এক আগুন ও নানা দুর্যোগ-দুর্বিপাকে প্রতিদিন কত সম্ভাবনাময় সংসার জ্বলে-পুড়ে ছারখার হয়ে যাচ্ছে। কারও কোনো মাথাব্যথা নেই সড়কে যে প্রতিদিন প্রতি মুহূর্তে লোক মারা যাচ্ছে। সেতুমন্ত্রীকে একসময় খুবই দায়িত্বশীল মনে করতাম। কিন্তু কই তার মধ্যে কোনো আকার-বিকার দেখছি না। রেলগাড়ি লাইনচ্যুত হচ্ছে, দুর্ঘটনায় প্রতিনিয়ত পতিত হচ্ছে, প্রতিকারের কোনো ব্যবস্থা নেই। আগে মাননীয় রেলমন্ত্রী ছিলেন একসময় দিনাজপুর পরে ঠাকুরগাঁও জেলার সিরাজ ভাইর ছোটভাই আমাদেরও ছোটভাই নুরুল ইসলাম সুজন। এখন মন্ত্রী হয়েছেন রাজবাড়ী পাংশার মো. জিল্লুল হাকিম। জিল্লুল হাকিম আমাদের বহুদিনের পরিচিত কর্মী নেতা। তার উপজেলার মাছপাড়া, মৃগী আরও অনেক জায়গায় গেছি। একবার সাজেদা চৌধুরীর সঙ্গে জিল্লুল হাকিমের পাংশার বাড়িতে গিয়েছিলাম। বহুদিন বহু বছর যাবৎ জিল্লুল হাকিমকে চিনি জানি। তার আন্তরিকতায় কখনো কোনো খাদ দেখিনি। রেল মন্ত্রণালয়ের যদি গতি আনতে পারেন, উন্নতি করতে পারেন তাহলে সেটা হবে তার জন্য সর্বোপরি দেশের জন্য এক পরম সাফল্য।
একসময় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বোন শেখ হাসিনা পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি আনার জন্য এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তির স্বাক্ষর করেছিলেন চিফ হুইপ আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর হাত দিয়ে। এজন্য একসময় অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম কদিন চিৎকার-চেঁচামেচি করছিলেন, নোবেল শান্তি পুরস্কার অধ্যাপক ইউনূসকে নয়, নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়া উচিত ছিল যৌথভাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সন্তু লারমাকে। যার যেমন চিন্তা-চেতনা সে তেমনই বলে। সরকার তাকে অ্যাটর্নি জেনারেল বানিয়েছিল। কী যোগ্যতা দক্ষতার কারণে বানিয়েছিল তা সরকারই জানে। কিন্তু তাকে নানা সময় কোর্টে বিচারপতিদের সামনে সওয়াল জবাব করতে দেখে তেমন যোগ্য মনে হয়নি। সে যাক, শান্তিচুক্তি সম্পাদিত হওয়ায় পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলায় অনেক রাস্তাঘাট হয়েছে, উন্নতিরও কিছুটা ছোঁয়া লেগেছে। তবে পাহাড়ি দরিদ্র জাতিগোষ্ঠীর কতটা কি একেবারে গোড়ার দিকে উন্নতি হয়েছে স্বস্তি এসেছে সেটা বলতে পারব না। সন্তু লারমা কখন কীভাবে পার্বত্য চট্টগ্রামের নেতা হয়ে ওঠেন জানতাম না। তবে মানবেন্দ্র লারমা ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রামের মূল নেতা। তিনি পিছিয়ে পড়া জাতিগোষ্ঠীর জন্য আন্দোলন করেছিলেন, কথা বলেছিলেন। তাকে একসময় হত্যা করা হয়েছে। সব সময় এমনই হয়। মূল নেতাকে পাতিনেতারা হত্যা করে অথবা হত্যার মতোই কিছু একটা করে। পার্বত্য চট্টগ্রাম আগাগোড়াই অবহেলিত এবং দ্বিধাদ্ব›েদ্ব দোদুল্যমান। ’৪৭-এ স্বাধীনতা বলব না, ভারত বিভক্তি বলব। কোনটা বলা ঠিক এখনো আমি পুরোপুরি নিশ্চিত হতে পারিনি। পাকিস্তান-ভারত যেভাবে ব্রিটিশের হাত থেকে অব্যাহতি পেয়েছে বা মুক্তি পেয়েছে তাকে স্বাধীনতা বলে না, মুক্তি বলে না। সে সময় পার্বত্য চট্টগ্রামে ভারতের পতাকা তোলা হয়েছিল। যা ছিল তিন দিন। ’৬৫ সালে আমি যখন বেঙ্গল রেজিমেন্টে ছিলাম তখন শীতকালীন মহড়ায় হায়াকু, করেরহাট এসব এলাকায় পায়ে হেঁটেছি। অন্যদিকে ’৬২ সালে বাড়ি পালিয়ে কাপ্তাই গিয়েছিলাম। সেই আমার প্রথম কাপ্তাই দেখা, কাপ্তাই হ্রদ দেখা। বড় সুন্দর ঐশ^রিক দৃশ্যপট। পৃথিবীর স্বর্গরাজ্য ভারতের কাশ্মীর। কাশ্মীরে আমি যাইনি। কিন্তু এখন নানা ধরনের ইলেকট্র্রনিক মিডিয়ার মাধ্যমে কাশ্মীরের যেসব ছায়াছবি দেখি তাতে আমার পার্বত্য চট্টগ্রামকে কখনো কাশ্মীরের চাইতে কম মনে হয়নি। এক হৃদয়কাড়া মনোমুগ্ধকর ভূস্বর্গের নাম খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান। যারা চোখে না দেখেছে তারা সেই প্রাকৃতিক দৃশ্য কোনো ছায়াছবি দেখে অনুভব করতে পারবে না। পার্বত্য চট্টগ্রাম আমার চোখে ভূস্বর্গ। সেখানকার স্থায়ী বাসিন্দারা যদি কষ্টে থাকে অস্তিত্ব নিয়ে, তাদের কৃষ্টি-সভ্যতা নিয়ে শঙ্কায় থাকে তাহলে তো এ দুনিয়ায় স্বর্গের কোনো মানে হয় না। তাই সবকিছু তলিয়ে দেখা দরকার। শান্তিচুক্তির মাধ্যমে যতটা শান্তি-স্বস্তি উন্নতি হওয়ার কথা ছিল সত্যিই কি তা হয়েছে? আমার তো তেমন মনে হয় না। আবুল হাসানাত আবদুল্লাহরা যেমন অবহেলিত তেমনি তার হাতে সম্পাদিত চুক্তি অনেক ক্ষেত্রেই অবহেলিত। আগেই বলেছি, রাস্তাঘাট হয়েছে, দালানকোঠাও হয়েছে। কিন্তু মানুষ যদি স্বস্তিতে না থাকে তাহলে এসবের কোনো মানে হয় না। একসময় বীরউত্তম জিয়াউর রহমান পার্বত্য চট্টগ্রামে হাজার হাজার বাঙালি বসতি স্থাপন করেছিলেন। হয়তো তিনি একটি জাতীয় ভারসাম্য আনতে চেয়েছিলেন। ব্যাপারটা ঠিক হয়নি, ভালো হয়নি। অমন হওয়া ভালো না। একদিকে আদিবাসী পাহাড়ি, অন্যদিকে বাঙালি এ তো সংঘাতের নামান্তর মাত্র। কোনো জায়গায় শান্তি স্থাপন করতে চাইলে হয় তাদের ধ্বংস করে ফেলতে হয়, না হয় তাদের শিক্ষা সাংস্কৃতি সামাজিক ন্যায়বিচারে সর্বতো সহযোগিতা করতে হয়। বাধানিষেধে কোনো শান্তি নয়। শান্তির নামে অশান্তির নামান্তর। রাষ্ট্র পরিচালনায় কিছু দিলাম কিছু নিলাম এরকম না করে দিলে পুরোটাই দিতে হয় আর নিলে সবকিছুই নিতে হয়। পৃথিবীতে যারা দিতে শিখেছে তারাই বেশি ক্ষেত্রে জয়ী হয়েছে। সত্যকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা অন্যের অস্তিত্বকে বিলুপ্ত করার চেষ্টা একেবারেই মূর্খতা। কোনকালে কেউ কোনো জাতিকে নিশ্চিহ্ন করতে পারেনি। কেউ হয়তো শত বছরে কেউ হয়তো হাজার বছরে তাদের চাওয়া-পাওয়া তাদের অধিকার অর্জন করেছে। যেমনি আমরা করেছি। আমাদের পূর্বপুরুষ কতজন কতভাবে জীবন দিয়েছে, প্রাণ দিয়েছে।
স্বাধীনতা বা আত্মমর্যাদা অর্জনের লড়াই আজকের নয়, হাজার বছর আগে থেকেই আমরা লড়ে চলেছি। সে চেঙ্গিস খাঁর সময়ের আগে থেকে, হালাকু খাঁর সময় থেকে, সুলতানি আমল, মুঘল, ব্রিটিশ কারও বিরুদ্ধে আমাদের কম লড়াই করতে হয়নি, জীবন দিতে হয়নি। ’৪৭ সালে ব্রিটিশের কাছ থেকে ভারতবর্ষ খন্ডিত হয়ে তথাকথিত স্বাধীনতা অর্জন করে। তারপরও মাকে মা ডাকতে আমরা রক্ত দিয়েছি। আমাদের যে কোনো অধিকারের জন্য সংগ্রাম করতে হয়েছে, রক্ত দিতে হয়েছে, জীবন দিতে হয়েছে। ’৭১-এর স্বাধীনতার পরও আমরা ভালো থাকতে পারিনি। মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় আমরা আমাদের নেতাকে পিতাকে হারিয়েছি। তাই কখনো কোথাও কারও অধিকার ক্ষুণ্ণ হলে কারও প্রতি কোনো জুলুম হলে বড় বেশি বুকে বাধে। সে জাতি ধর্মে যাই হোক, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান মুসলমান আমার কাছে বিবেচ্য নয়, আমার কাছে বিবেচ্য তারা মানুষ। গা এলিয়ে দেওয়ার মতো গদাই লস্করির চালে রাষ্ট্র চলছে। সবকিছুতে বোন হাসিনা। সরকারি বড় বড় পদে থেকে রাষ্ট্রীয় সব সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে কেউ কোনো দায়িত্ব ঘাড়ে নিতে চায় না। এর চাইতে বড় অবক্ষয় আর কিছুই হতে পারে না। সেদিন মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পার্বত্য চট্টগ্রামের ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়েছিলেন। অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। কতটা কী করতে পারবেন জানি না। তবে লোকটিকে আমি ভীষণ ভালোবাসি, পছন্দ করি। তিনি একটি সত্য কথা বলেছেন, উপযুক্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মতো বলেছেন। তা হলো, ‘ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের আমরা খুঁজে বের করব এবং যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেব। অন্যদিকে পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তি ও সুস্থিতির জন্য এরপরও আলোচনার দরজা সবার জন্য খোলা।’ এটি একটি সত্যিই মূল্যবান কথা, রাষ্ট্রের নেতার মতো কথা। তবে দিনের পর দিন একের পর এক যা ঘটছে জিনিসগুলোর ওপর নজর দেওয়া উচিত। পার্বত্য চট্টগ্রামের এই ঘটনা বাতাসে উড়ে আসার মতো নয়। নিশ্চয়ই এখানে কারও না কারও স্বার্থ আছে, কারও না কারও ইন্ধন আছে। সেসব খতিয়ে দেখা উচিত। সময় থাকতে আমরা যদি সঠিক জিনিস খুঁজে বের করতে না পারি, পরে বিপদে পড়তে হতে পারে। মনে হয় সরকার এবং সরকারি যন্ত্র নিশ্চয়ই গা ভাসিয়ে দেবেন না। তারা যথাযথ ব্যবস্থা নেবেন। লাইলাতুল কদরের রাত খুব যে খারাপ গেছে তা যেমন বলা ঠিক হবে না, তেমনি তেমন ভালো যায়নি। তবে সুরা তওবা আর সুরা ইউনুস পাঠ করেছি। এ নিয়ে কতবার হলো বলতে পারব না। তবে মুক্তিযুদ্ধের আগ পর্যন্ত আমার কোরআন সম্পর্কে কোনো অভিজ্ঞতা ছিল না। এর ওর কাছ থেকে যা শুনেছি তাই ছিল মূল সম্বল। তবে একটা কথা বলতেই হবে, মুক্তিযুদ্ধ আমাকে অনেক কিছু দিয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের এক পর্যায়ে জুলাই মাসে হতেয়ায় শাহ সুফি হজরত সামান উল্যাহকে পেয়েছিলাম। লাল গেরুয়া পরে উদাম পেট ভাসিয়ে চলতেন। হাতে থাকত খমক। তাতে টুংটাং করতেন, ইচ্ছেমতো গান গাইতেন, মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রাণিত করতেন। শুনেছি, তিনি মাটি খুঁড়ে ১২ বছর গর্তে বাস করেছেন। গোসল-আসল, পেশাব-পায়খানা ছাড়া একমুহূর্তের জন্য বাইরে বের হতেন না। লোকজন যা দিত তাই খেতেন, না দিলে না খেয়ে থাকতেন। সেই সামান ফকির মুক্তিযুদ্ধ এবং যুদ্ধ-পরবর্তী আমাকে দিনের পর দিন কোরআনের বয়ান শুনিয়েছেন। সে এক অসাধারণ বাচনভঙ্গি এবং তার বয়ান পদ্ধতি। পরে যখন যেখানে কোরআন পড়েছি, এখনো পড়ি মনে হয় এসব যেন আমার আগে থেকেই জানা। যদি বয়স থাকত আগের মতো মনে রাখার ক্ষমতা থাকত তাহলে সামান্য চেষ্টা করলেই কোরআনে হাফেজ হয়ে যেতে পারতাম। এখন আগের মতো মনে থাকে না। সুরা তওবা কোরআনের নবম সুরা, ১৬ রুকু, আয়াত ১২৯। শুরুটা এভাবে “(হে বিশ্বাসীগণ!) তোমরা শরিককারীদের সঙ্গে যে চুক্তিতে আবদ্ধ হয়েছিলে, আল্লাহ ও তাঁর রসুলের তরফ থেকে তা বাতিল করা হলো। ২. অতএব (হে শরিককারীরা!) তোমরা আল্লাহর জমিনে চার মাস ইচ্ছেমতো ঘোরাফেরা কর, কিন্তু জেনে রাখ, তোমরা কখনো আল্লাহর আওতার বাইরে যেতে পারবে না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সত্য অস্বীকারকারীদের লাঞ্ছিত করবেন। ৩. হজের বড় দিনে আল্লাহ ও তাঁর রসুলের পক্ষ থেকে সমগ্র মানবজাতির জন্য সুস্পষ্ট ঘোষণা দেওয়া হচ্ছে যে, আল্লাহর সঙ্গে যারা শরিক করে, তাদের ব্যাপারে আল্লাহ ও তাঁর রসুল পুরোপুরি দায়মুক্ত। তোমরা যদি তওবা কর, তবে তা তোমাদের জন্যই কল্যাণ বয়ে আনবে। আর তোমরা যদি সত্যবিমুখ হও, তবে জেনে রাখ, আল্লাহর আওতা থেকে তোমাদের পালানোর কোনো পথ নেই। তাই (হে নবী!) সত্য অস্বীকারকারীদের নিদারুণ শাস্তির সংবাদ দাও। ৪. তবে শরিককারীদের মধ্যে যারা তোমাদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ এবং চুক্তির শর্তাবলি মেনে চলেছে এবং তোমাদের বিরুদ্ধে কাউকে সাহায্য করেনি, তাদের সঙ্গে মেয়াদ পুরো না হওয়া পর্যন্ত চুক্তি মেনে চলবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ-সচেতন মানুষকেই আল্লাহ পছন্দ করেন। ৫. (প্রচলিত রীতি অনুযায়ী) সংঘাত নিষিদ্ধ মাসসমূহ পার হওয়ার পর (বিবদমান) শরিককারীদের যেখানে পাও, সেখানে ওদের বিনাশ কর। সম্ভাব্য প্রতিটি স্থানে ওত পেতে থেকে (বিবদমান) শরিককারীদের পাকড়াও কর, অবরুদ্ধ কর। কিন্তু যদি তারা তওবা করে, নামাজ কায়েম করে এবং জাকাত আদায় করে, তবে তাদের মুক্ত করে দাও। মনে রেখ, আল্লাহ অতীব ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। ২৪. হে নবী! বলো, ‘তোমাদের পিতা, সন্তান, ভাই, স্ত্রী, আত্মীয়স্বজন, সগোত্র, অর্জিত ধনসম্পত্তি, ব্যবসা-বাণিজ্য, যার মন্দার আশঙ্কা কর আর তোমাদের পছন্দের বাড়িঘর যদি আল্লাহ, তাঁর রসুল এবং আল্লাহর পথে প্রাণান্ত সংগ্রাম করার চেয়ে বেশি প্রিয় হয়, তবে অপেক্ষা কর (সেদিন পর্যন্ত) যখন আল্লাহর চূড়ান্ত ফয়সালা তোমাদের সামনে উপস্থিত হবে। (জেনে রাখো) আল্লাহ সত্যত্যাগীদের কখনো সৎপথ প্রদর্শন করেন না।’ ৩৭. মাস পিছিয়ে দেওয়া ওদের দিক থেকে সত্য অস্বীকার করার আরেকটি উদাহরণ। এ প্রক্রিয়ায় সত্য অস্বীকারকারীরা আরও বিভ্রান্তিতে নিমজ্জিত হয়। ওরা এক বছর একটি মাসকে নিষিদ্ধ করে আবার আরেক বছর একে বৈধ করে। ওদের উদ্দেশ্য একটাই। তা হচ্ছে, আল্লাহ যা নিষিদ্ধ করেছেন, তাকে যেন ওরা বৈধ করতে পারে। এভাবে মাস গণনা হলো আবার নিষিদ্ধ মাস বৈধও হলো। ওদের মন্দ কাজগুলোও ওদের কাছে আকর্ষণীয় ও চাকচিক্যময় হয়ে ওঠে। আসলে আল্লাহ সত্য অস্বীকারকারীদের সৎপথ প্রদর্শন করেন না। ৯৪. (অভিযান শেষে) তুমি যখন ফিরে যাবে, তখন ওরা তোমার কাছে নানা ধরনের অজুহাত পেশ করবে। (হে নবী!) তখন ওদের স্পষ্ট করে বলো, ‘অজুহাত পেশ করে কোনো লাভ নেই। আমি তোমাদের কোনো কথাই বিশ^াস করি না। কারণ তোমাদের আসল অবস্থান আল্লাহ আমাকে জানিয়ে দিয়েছেন। এখন আল্লাহ ও তাঁর রসুল তোমাদের তৎপরতা লক্ষ্য করবেন। তারপর তোমরা আল্লাহর কাছেই ফিরে যাবে, যিনি দৃশ্যমান ও অদৃশ্য, প্রকাশ্য ও গোপন সবকিছুরই জ্ঞান রাখেন। তখন তোমরা সারা জীবন যা করেছিলে, সে রেকর্ড তোমাদের দেখাবেন।’
অন্যদিকে কোরআনের দশম সুরা ইউনুস। রুকু ১১ আয়াত ১০৯। ‘১১. পার্থিব ভালো জিনিস পাওয়ার জন্য মানুষ যেভাবে তাড়াহুড়া করে, আল্লাহ যদি মানুষের পাপের শাস্তিদানে সে-রকম তাড়াহুড়া করতেন, তবে সহসাই তারা শেষ হয়ে যেত। তাই যারা বিশ্বাস করে না যে, পরকালে আমার সামনে হাজির হতে হবে, তাদেরও আমি কিছু সময়ের জন্য ছেড়ে দিয়ে রেখেছি, অবাধ্যতা ও সীমা লঙ্ঘনের মধ্যে উদ্ভ্রান্তের ন্যায় ঘুরপাক খাওয়ার জন্য। ১২. মানুষ যখন কষ্ট ও বিপদে পড়ে তখন শুয়ে, বসে বা দাঁড়িয়ে আমাকে ডাকে। তারপর আমি যখন তার কষ্ট ও বিপদ দূর করে দিই, তখন সে এমনভাবে চলাফেরা করে যেন তার বিপদের সময় সে কখনো আমাকে ডাকেনি! আসলে যারা নিজেদের বিনষ্ট করে, তাদের কাছে তাদের কাজকর্মই মনপছন্দ হয়ে ওঠে।’
লেখক : বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম, রাজনীতিক
ঈদ মুবারক, মুবারক ঈদ
হেলেনা জাহাঙ্গীরকে এক হাত নিলেন ডিপজল
ঢাকা ডেস্ক : চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন জয়াযাত্রা আইপি টিভির সত্ত¡াধিকারী হেলেনা জাহাঙ্গীর। তিনি আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত নেত্রী। ক্যাসিনোয় অভিযানের সময় তিনি গ্রেফতার হন। প্রতারণা ও চাঁদাবাজির গুরুতর অভিযোগে জেল ফেরত হেলেনা জাহাঙ্গীর নির্বাচনে আসায় প্রশ্ন তুলেছেন চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা।
তিনি অভিনয়ের সঙ্গে কবে থেকে জড়িত সেই প্রশ্ন তুলেছেন তারা।
হেলেনা জাহাঙ্গীর মাহমুদ কলি ও নিপুণ পরিষদ থেকে ভোট করছেন। ভোট করার কারণ হিসেবে তিনি বলেছেন,‘আমার গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রি আছে। এ অঙ্গনের যাদের চাকরি লাগবে তাদের আমি চাকরি দিতে পারব। এজন্য কলি-নিপুণ পরিষদে যে, অফার ছিল তা লুফে নিয়েছি।’
হেলেনার এই বক্তব্যে ভালোভাবে নেননি চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা। বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন খল অভিনেতা মনোয়ার হোসেন ডিপজল।
ডিপজল এবার নিপুণের সঙ্গে সম্পাদক পদে প্রতিদ্ব›িদ্বতা করছেন।হেলেনা জাহাঙ্গীরকে চেনেন না দাবি করে ডিপজল বলেন, প্রথমত তাকে (হেলেনা জাহাঙ্গীর) আমি চিনি না। তিনি সিনেমা করেছেন বলে আমার জানা নেই, চলচ্চিত্রে কোনোদিন দেখিনি। তিনি যদি শিল্পীদের গার্মেন্টসে চাকরি দেওয়ার কথা বলে থাকেন, তা কোনোভাবেই একজন শিল্পীর কথা হতে পারে না। কারণ, যিনি শিল্পী হয়েছেন, তিনি অভিনয়ের জন্যই শিল্পী হয়েছেন। এটা তার পেশা-নেশা। একজন শিল্পী না খেয়ে থাকলেও সে শিল্পী। এখানেই তার রিজিক।
ডিপজল আরও বলেন, আল্লাহ যাকে যেখানে রিজিক দিয়েছেন, সে সেখান থেকেই রিজিক পাবে। যিনি গার্মেন্টসে কাজ করেন, রিকশা চালান, ব্যবসা করেন, চাকরি করেন, তার সেখানেই রিজিক। শিল্পীরও অভিনয়ের মাধ্যমে রিজিক আসে। তবে শিল্পীদের পেশাটা অন্যদের চেয়ে আলাদা। শিল্পী কাজ না করলেও সে শিল্পী। এর বাইরে তার যাওয়ার সুযোগ খুব কম।
হেলেনার কড়া সমালোচনায় এই অভিনেতা আরও বলেন, হেলেনা জাহাঙ্গীর যে কথা বলেছেন, তা শিল্পীদের জন্য অবমাননাকর। আমি বলছি না, গার্মেন্টসে কাজ করা খারাপ। অবশ্যই সেটা ভালো। তবে যার যেটা পেশা নয়, সে অন্য পেশায় গিয়ে তা করতে পারবে না। হেলেনা জাহাঙ্গীর কি অভিনয় করতে পারবে? পারবে না। আর শিল্পী সমিতি তো আর গার্মেন্টস শ্রমিকদের সংগঠন নয় যে, সদস্যদের গার্মেন্টসে চাকরি দেবে।
ডিপজল বলেন, এটা কেমন কথা! কোথায় সিনেমা নির্মাণ করে শিল্পীদের কাজে লাগাবে, তা না, অন্য পেশায় শিল্পীদের কাজে লাগাতে চায়। তাহলে, শিল্পী সমিতি ও শিল্পীদের কাজ কি? কলি-নিপুণ পরিষদ এমন অফার হেলেনা জাহাঙ্গীরকে দেয় কী করে! তারা যদি তাকে সিনেমা বানানোর অফার দিয়ে শিল্পীদের কাজের ব্যবস্থার কথা বলত, তাহলে একটা কথা হতো। আমি তাদের অভিনন্দন জানাতাম।
এসময় গতবারের কথা উল্লেখ করে ডিপজল বলেন, যদিও গতবার ইলিয়াস কাঞ্চন-নিপুণ প্যানেল ছয়টি সিনেমা বানাবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, নির্বাচিত হওয়ার পর সেই প্রতিশ্রুতি তারা পালন করেনি। এবার শিল্পীদের গার্মেন্টসে চাকরি দেওয়ার কথা বলছে! হেলেনা জাহাঙ্গীরের কথা শুনে প্রশ্ন জেগেছে, কলি-নিপুণ পরিষদ কি শিল্পী সমিতিকে গার্মেন্টস সমিতি বানাতে চায়? আমি গার্মেন্টস শিল্পের প্রতি সম্মান রেখে বলছি, একজন শিল্পী হিসেবে এমন কথায় আমি লজ্জিত। যারা শিল্পী তারা যদি গার্মেন্টসে চাকরি করতে চাইত, তাহলে সিনেমায় আসত না। গার্মেন্টস বা অন্য পেশায় কাজ করত।
সিঙ্গেল থাকার রহস্য ফাঁস করলেন পায়েল
ঢাকা ডেস্ক : একটা সময় পরিচালক রাজ চক্রবর্তীর সঙ্গে পায়েলের প্রেম ছিল ওপেন সিক্রেট। সেই প্রেম ভাঙার পর এক দশক কেটেছে, তবু এখন বিয়ের পিঁড়িতে বসলেন না পায়েল?
সদ্য মুক্তি পেয়েছে পায়েল অভিনীত ‘আবার অরণ্যের দিনরাত্রি’। ছবি মুক্তির সপ্তাহেই দাদাগিরির মঞ্চে দেখা মিলেছে নায়িকার।
সৌরভের মুখোমুখি হয়েই নিজের সিঙ্গেল থাকার কারণ ফাঁস করলেন পায়েল।
দাদাগিরি-র মঞ্চে এসে পায়েল অকপটে বলেন, বাঙালি পরিবারে যেমন মনের মতো ছেলে খুঁজে পাওয়া কঠিন, সমান কঠিন বাবা-মায়ের মনের মতো ছেলে খুঁজে পাওয়াও। আমি কেবল নিজের কেন, বাবা-মায়ের মনের মতো ছেলেও খুঁজে এনে দিচ্ছি না। কারণ যে কোনো ছেলে খুঁজে আনলেই তার জন্য প্রচুর প্রশ্ন সাজাচ্ছেন বাবা-মা।
প্রেম করতে চাইলেও কেন প্রেমটা হচ্ছে না পায়েলের! নায়িকার জবাব শুনে হাঁ হয়ে যান সৌরভ। নিজের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে খোলামেলা উত্তর দিলেন নায়িকা।
দাদাগিরি-র মঞ্চে এসে পায়েল জানান, ‘অনেকেই আমাকে জিজ্ঞেস করেন আমি এখনও কেন সিঙ্গেল। আসলে বাঙালি পরিবারে মেয়ের বাবারা এত পজেসিভৃ.।
পায়েলকে মাঝখানে থামিয়ে সৌরভ জানতে চান, ‘তাহলে বলছো তুমি সিঙ্গেল বাবা-মায়ের জন্য’।
সম্মতি জানিয়ে অভিনেত্রী যোগ করেন,যেমন মনের মতো ছেলে খুঁজে পাওয়া কঠিন, তার চেয়েও বেশি কঠিন বাবা-মায়ের মনের মতো ছেলে খুঁজে পাওয়া। আমার কথা তো ছেড়ে দাও, বাবা-মায়ের মনের মতো ছেলেও খুঁজে পাচ্ছি না।
সেইসঙ্গে পায়েল সৌরভকে যোগ করেন, ধরো, সানা বড় হচ্ছে। ও যদি তোমার সামনে এসে বলে ও কাউকে ভালোবাসে, দেখবে তোমার পৃথিবী উল্টোপাল্টা হয়ে যাবে।
উত্তরে সৌরভ বলেন, নাহ সেটা হবে না। হ্যাঁ আমিও তার জন্য কিছু প্রশ্ন সাজাব বটে, কিন্তু পৃথিবী এদিক ওদিক হবে না মোটেই।
উত্তর শুনে পায়েল অবাক হয়ে বলেন, অদ্ভুত.. তাহলে তো বলতেই হয় সানা ভীষণ লাকি।
ঈদের ৪টি স্পেশাল রেসিপি
গরুর রেজালা
যা লাগেব : গরুর মাংস ২ কেজি, আস্ত ধনিয়া ১ চা চামচ, আস্ত জিরা ১ চা চামচ, ধনিয়া গুঁড়া ১/২ চা চামচ, জিরা গুঁড়া ১/২ চা চামচ, পেঁয়াজ কুচি ১ কাপ, আদা বাটা ১ টেবিল চামচ, রসুন বাটা ১ টেবিল চামচ, গরম মসলা ১/২ চা চামচ, লালমরিচ ৫-৬টি, তেজপাতা ২-৩টি, হলুদ গুঁড়া ১/২ চা চামচ, তেল ১ কাপ, টকদই ১ কাপ, লবণ স্বাদমতো।
যেভাবে করবেন: প্রথমেই মাংস ধুয়ে লবণ দিয়ে ১৫-২০ মিনিট ভিজিয়ে পানি ঝরিয়ে রেখে দিন। আস্ত ধনিয়া এবং জিরা ভেজে গুঁড়া করে নিন। এবার একটি হাঁড়িতে তেল দিয়ে এতে এক এক করে পেঁয়াজ কুচি, আদা বাটা, রসুন বাটা, লালমরিচ, তেজপাতা, হলুদ গুঁড়া ও লবণ দিয়ে মাখিয়ে চড়িয়ে দিন এবং পানি শুকিয়ে না আসা পর্যন্ত মাঝারি আঁচে রান্না করুন। কষানো হলে ৩-৪ কাপ পানি দিয়ে মাঝারি আঁচে ঝোল ঘন হয়ে আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। ঝোল ঘন হয়ে এলে ভাজা ধনিয়া এবং জিরা গুঁড়া দিয়ে নেড়ে আরও ৪-৫ মিনিট রান্না করে নিন। নামিয়ে পরিবেশন করুন মজাদার বিয়ে বাড়ির স্বাদে গরু মাংসের রেজালা।
কাটা মাসালা মাংস
যা লাগবে: এক কেজি মাংস টুকরা করা, দুই কাপ পেঁয়াজ কুচি, এক টেবিল চামচ রসুন কুচি, এক টেবিল চামচ আদা কুচি, এক চা চামচ ধনিয়া গুঁড়া, আধা চা চামচ মরিচ গুঁড়া, ছয়-সাতটি শুকনামরিচ, এক চা চামচ হলুদ গুঁড়া, এক চা চামচ জিরা গুঁড়া, লবণ পরিমাণমতো, এক কাপ সয়াবিন তেল, চার-পাঁচটি এলাচ, দারুচিনি, লবঙ্গ, দুই-তিনটি তেজপাতা, আধা কাপ টকদই, আধা চা চামচ চিনি।
যেভাবে করবেন: চিনি বাদ দিয়ে সব উপকরণ মিশাতে হবে। এখন ৩০ মিনিট মেরিনেট করে একটি গরম সসপ্যানে মিশ্রণটি ঢেলে দিন এবং উচ্চ তাপে ২০ মিনিট রান্না করুন। রান্নার সময় বারবার নাড়তে হবে। যখন পানি শুকিয়ে যাবে এবং তেল ওপরে উঠে আসবে তখন আরও দুই কাপ পানি যোগ করুন। এবার চুলা থেকে নামিয়ে ওপরে চিনি ছিটিয়ে পরিবেশন করুন।
কাচ্চি বিরিয়ানি
যা লাগবে: বাসমতী চাল এক কেজি, খাসির মাংস দুই কেজি (মাঝারি টুকরা, হাড়সহ) আদা বাটা দুই টেবিল চামচ, রসুন বাটা এক টেবিল চামচ, দারুচিনি তিন-চারটি, সবুজ এলাচ আট-দশটি, কালো এলাচ চার-পাঁচটি, লবঙ্গ ১/২ চা চামচ, জয়ত্রী গুঁড়া এক চা চামচ, জায়ফল ১/২ চা চামচ, টকদই এক কাপ, ঘি তিন-চার কাপ, শাহি জিরা ১/২ চা চামচ, আলু (মাঝারি) চার-পাঁচটি, পেঁয়াজ কুচি এক কাপ, পানি ছয় কাপ, লবণ স্বাদমতো, গুঁড়াদুধ দুই টেবিল চামচ, জাফরান এক চিমটি, আলুবোখারা ১০-১২টি, ময়দা দুই কাপ।
যেভাবে করবেন: প্রথমেই চাল ধুয়ে পানি ঝরিয়ে নিন। এবার মাংস ধুয়ে লবণ দিয়ে ১৫-২০ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন। ২০ মিনিট পর ধুয়ে পানি ঝরিয়ে নিন। এবার শুকনো মরিচ, দারুচিনি, এলাচ, জিরা, লবঙ্গ, জয়ত্রি, জায়ফল, কাবাব চিনি এবং শাহি জিরাসহ সব মসলা গুঁড়া করে নিন।
এবার একটি হাঁড়িতে মাংস, গুঁড়া করে রাখা মসলা এবং দই মাখিয়ে ৩০ মিনিট রেখে দিন। এবার অন্য একটি হাঁড়িতে ৬ কাপ পানি ফুটিয়ে নিন। পানি ফুটে ওঠামাত্র চাল দিন। চাল একটু ফুটে এলেই পানি ঝরিয়ে একটি পাত্রে সংরক্ষণ করুন। জাফরান কুসুম গরম পানিতে গুলিয়ে নিতে হবে। চাল ঝরানো গরম পানিতে ঘি মিশিয়ে নিতে হবে। মাংসের হাঁড়িতে এবার এক এক করে ভাজা আলু, পেঁয়াজ বেরেস্তা, আলুবোখারা এবং ঘিমিশ্রিত গরম পানি দিতে হবে। এবার ওপরে চাল দিয়ে জাফরানের মিশ্রণ ঢেলে দিন এবং বাকি ঘিমিশ্রিত গরম পানি দিন। মনে রাখতে হবে, পানি যেন চালের ওপরে না আসে। এবার ময়দা গুলিয়ে হাঁড়ির ঢাকনা দিয়ে ভালোমতো সিল করে চুলায় চড়িয়ে দিন। কোনো ফাঁকা যেন না থাকে ময়দার গোলা একটু নরম করে নিয়ে তবেই ঢাকনা সিল করতে হবে। এক থেকে দেড় ঘণ্টা মাঝারি আঁচে রান্না করুন। ব্যাস তৈরি হয়ে গেল বিয়ে বাড়ির কাচ্চি বিরিয়ানি। কাবাব এবং চাটনির সঙ্গে পরিবেশন করুন মজাদার কাচ্চি বিরিয়ানি।
গোলাপজাম
যা লাগবে: গুঁড়াদুধ ১ কাপ, ঘি ২ টেবিল চামচ, তরল দুধ ১/২ কাপ, ময়দা ৪ টেবিল চামচ, বেকিং সোডা ১ চা চামচ, এলাচ গুঁড়া ১/৪ চা চামচ, তরল দুধ ১ কাপ (মাখানোর জন্য)।
সিরার জন্য
চিনি ২ কাপ, পানি ১ কাপ, আস্ত এলাচ ৩-৪টি।
যেভাবে করবেন: একটি ফ্রাইপ্যানে ঘি দিয়ে গরম করে নিতে হবে। এবার তরল দুধ দিয়ে ভালো করে নেড়ে আরও কিছুক্ষণ রাখতে হবে। এবার গুঁড়াদুধ একটু একটু করে দিতে হবে যেন দানা দানা না হয়, নাড়া থামানো যাবে না। হালকা আঁচে নাড়তে হবে। এক সময় প্যান থেকে নরম হয়ে উঠে আসবে, সঙ্গে সঙ্গে নামিয়ে ঠান্ডা করে নিতে হবে। এবার অন্য একটি হাঁড়িতে চিনি এবং পানি দিয়ে সিরা তৈরি করে নিতে হবে। সিরা হালকা আঁচে চুলায় রেখে দিতে হবে। এবার ঠান্ডা করে রাখা মিশ্রণটিতে ময়দা ও দুধ দিয়ে ছেনে নিতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে যেন দানা দানা না হয়ে থাকে। ছানা হয়ে গেলে গোল গোল মিষ্টি আকারে বানিয়ে গরম ঘিয়ে ভেজে, সরাসরি মিষ্টির সিরায় দিয়ে দিতে হবে এবং ঢেকে রাখতে হবে। ৩-৪ ঘণ্টা পর পরিবেশন করুন মজাদার ঘিয়ে ভাজা নরম নরম গোলাপজাম।
মুস্তাফিজে ভর করে হেসেখেলে জয় পেল চেন্নাই
ঢাকা ডেস্ক: মুস্তাফিজের চূড়ায় ওঠার দিনে হেসেখেলে জয় পেল চেন্নাই। অন্যদিকে জয়ের হ্যাটট্রিকে আসর শুরুর পর প্রথম হারের মুখ দেখল কলকাতা নাইট রাইডার্স।
যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার ভিসার কাজ সারতে জরুরি ভিত্তিতে দেশে ফেরায় চেন্নাই সুপার কিংসের হয়ে একটি ম্যাচ খেলতে পারেননি মোস্তাফিজুর রহমান। এর মধ্যে আইপিএলের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি বোলারদের তালিকায় মোস্তাফিজকে ছাড়িয়ে যান রাজস্থান রয়্যালসের যুজবেন্দ্র চাহাল।
তবে চেন্নাই সুপার কিংস একাদশে ফিরেই আলো ছড়ান মোস্তাফিজুর রহমান। দুর্দান্ত বোলিংয়ে কলকাতা নাইট রাইডার্সের আন্দ্রে রাসেলের মতো ব্যাটারকেও নাকানি চুবানি খাওয়ালেন, আউট করলেন কলকাতার অধিনায়ক শ্রেয়াস আয়ারকেও।
মোস্তাফিজ আর রবীন্দ্র জাদেজার দারুণ বোলিংয়েই ৯ উইকেটে ১৩৭ রানেই আটকে যায় কলকাতা।
সোমবার এম চিদাম্বরম স্টেডিয়ামে টস হেরে শুরুতে ব্যাট করতে নেমে শুরু ও মাঝে জাদেজা ও তুষার দেশপান্ডের দারুণ বোলিংয়ের পর শেষটা রাঙান মুস্তাফিজ। জাদেজা ও তুষার তিনটি করে উইকেট পেয়েছেন। এ ছাড়া দুটি উইকেট পেয়েছেন মুস্তাফিজ।
কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিপক্ষে চেন্নাইয়ের ঘরের মাঠ এম চিদাম্বরম স্টেডিয়ামে ৪ ওভারে ২২ রান দিয়ে মোস্তাফিজ নিয়েছেন ২টি উইকেট, ইকোনমি ৫.৫০। ৪ ম্যাচে খেলে ৯ উইকেট নিয়ে এবার আইপিএলে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি বোলার এখন মোস্তাফিজ।
সোমবার কলকাতার ইনিংসের শেষ ওভারে মোস্তাফিজের বলে ছক্কা মারতে গিয়ে আউট হয়েছেন কলকাতার অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ার ও মিচেল স্টার্ক। আন্দ্রে রাসেলের উইকেটও নিতে পারতেন মোস্তাফিজ। ১৮তম ওভারে মোস্তাফিজের কাটারে পুল করতে গিয়ে বল রাসেলের ব্যাট ছুঁয়ে যায় উইকেটের পেছনে। চেন্নাইয়ের উইকেটকিপার এম এস ধোনি বলটি গøাভসবন্দী করতে পারেননি।
হাতের নাগালে থাকা টার্গেট তাড়ায় খুব একটা বেগ পেতে হলোনা স্বাগতিক চেন্নাইকে। রুতুরাজ গায়কোয়াড়ের দারুণ ফিফটিতে ১৪ বল হাতে রেখেই ৭ উইকেটের বড় জয় পেয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।
৫ ম্যাচে তৃতীয় জয়ে মোট ৬ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলে চতুর্থ চেন্নাই। ৪ ম্যাচে ৩ জয় ও ১ হারে ৬ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় কলকাতা। চেন্নাইয়ের (০.৬৬৬) সঙ্গে রানরেটে এগিয়ে কলকাতা (১.৫২৮)।
রাতের পার্টিতে আরিয়ান-লারিসা
বলিউডের ‘বাদশা’ শাহরুখ খানের পুত্র আরিয়ান খানের পেশাগত জীবনের থেকে ব্যক্তিগত জীবন সব সময়ই থাকে আতশকাচের তলায়। বড় পর্দায় অভিনয় করে যিনি দর্শকদের ‘রোম্যান্স’-এর শিক্ষা দিয়েছেন, তার ছেলে কাকে মন দিয়েছেন, তা নিয়ে কৌতূহল সবারই। তবে বলিপাড়ার কোনো অভিনেত্রী নন, এক মডেলকেই নাকি মন দিয়ে ফেলেছেন শাহরুখ-পুত্র। বলিপাড়ার অন্দরমহলের খবর, আরিয়ান খানের নতুন বান্ধবী ভারতীয় নন। ব্রাজিলের নাগরিক তিনি। নাম লারিসা বনেসি। এবার এক রাতের পার্টিতে ধরা পড়লেন আরিয়ান-লারিসা। খবর আনন্দবাজার অনলাইনের।
আরিয়ান ও লারিসার প্রেমের খবর পাঁচকান হতে না হতেই একটি ভিডিও প্রকাশ্যে এসেছে। সেখানেই একেবারে অন্য মেজাজে ধরা দিলেন বাদশা-পুত্র। মার্টিন গ্যারিক্সের পাশে আরিয়ান, আর ঠিক পেছনেই লারিসা। গানের তালে নাচছেন লারিসা। ঘন ঘন উড়ন্ত চুমু ছুড়ছেন আরিয়ানকে। এমন কাণ্ড দেখে হাসি আরিয়ানের ঠোঁটে। যদিও ক্যামেরা দেখতেই সাবধান হয়ে যান তিনি।
স¤প্রতি আরিয়ানের ইনস্টাগ্রামের পাতায় লক্ষ্য করে দেখা গিয়েছে, তিনি লারিসাকে অনুসরণ করেন। শুধুমাত্র লারিসাকেই নন, তার গোটা পরিবারকেই সামাজিক মাধ্যমে অনুসরণ করেন বাদশা-পুত্র। লারিসার সামাজিক মাধ্যমের পাতাতেও উঁকি দিয়েছেন বলিপাড়ার একাংশ। আরিয়ানকে তো বটেই, তার পাশাপাশি শাহরুখ, শাহরুখ-পতœী গৌরী খান এবং শাহরুখ-কন্যা সুহানাকেও ইনস্টাগ্রাম অনুসরণ করেন লারিসা।
আরিয়ানের পুরো পরিবারের সঙ্গে ইনস্টাগ্রামে যোগসূত্র রাখলেও শাহরুখ এবং গৌরীÑ দুজনের কেউই লারিসাকে অনুসরণ করেন না। শুধুমাত্র আরিয়ানের বোন সুহানা সামাজিক মাধ্যমে অনুসরণ করেন লারিসাকে। শাহরুখ-পুত্রের সঙ্গে ব্রাজিলের এই মডেলের সম্পর্কের গুঞ্জন শুধুই গুজব, নাকি রয়েছে কোনো ভিত্তি, তা সময়ই বলবে।
আবাসিক হোটেল থেকে পরিচালক সোহানুর রহমানের মেয়ের লাশ উদ্ধার
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় একটি আবাসিক হোটেল থেকে চলচ্চিত্র পরিচালক সোহানুর রহমান সোহানের মেয়ের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তার নাম সামিয়া রহমান সৃষ্টি (৩০)।
রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে দক্ষিণ যাত্রাবাড়ী এলাকার রংধনু আবাসিক হোটেলের ২১০ নম্বর কক্ষ থেকে লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন যাত্রাবাড়ী জোনের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মধুসূদন দাস।
তিনি জানান, সন্ধ্যার পর হোটেল কর্তৃপক্ষের খবর পেয়ে ওই হোটেলের দ্বিতীয় তলার ২১০ নম্বর কক্ষ থেকে ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। রুমের জানালার গ্রিলের সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ফাঁস লাগানো অবস্থায় ঝুলছিলেন তিনি। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এএসপি মধুসূদন দাস জানান, সামিয়া রহমান উত্তরা ৩ নম্বর সেক্টরের ২ নম্বর রোডে স্বামী তানিমের সঙ্গে থাকতেন। তার বাবা চলচ্চিত্র পরিচালক সোহানুর রহমান সোহান। রোববার দুপুরে ওই আবাসিক হোটেলে উঠেন সামিয়া। ইফতারের আগে হোটেল বয়কে টাকা দিয়ে ইফতারি আনতে বলেন। পরে তিনি ইফতার নিয়ে এসে ডাকাডাকি করে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে দরজার ফাঁক দিয়ে দেখেন তার লাশ ঝুলে আছে। পরে পুলিশ গিয়ে দরজা ভেঙে মরদেহ উদ্ধার করে।
গত বছরের ১২ সেপ্টেম্বর সোহানুর রহমানের স্ত্রী প্রিয়া রহমান মারা যান। স্ত্রীর মৃত্যুর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সোহানকেও মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।
আজ সেই বিরল পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ, দিন হবে রাতের মতো
ঢাকা ডেস্ক : আজ ৮ এপ্রিল সূর্যগ্রহণ। এটি হবে পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ। বছরের প্রথম সূর্যগ্রহণের সাক্ষী থাকবেন অনেকে। মূলত মেক্সিকো, আমেরিকা ও কানাডায় দেখা যাবে সূর্যগ্রহণ। ইতোমধ্যে বিরল এ সূর্যগ্রহণ দেখতে প্রস্তুত এসব দেশের কোটি মানুষ। তবে আশঙ্কা রয়েছেÑ বিরল এই সূর্যগ্রহণটি মেঘ ও বজ্রঝড়ে ঢাকা পড়তে পারে। উত্তর আমেরিকার স্থানীয় সময় আজ দুপুর বেলাতেই আকাশে নজর টানবে দুই গ্রহ, শুক্র ও বৃহস্পতি। সব মিলিয়ে জ্যোতির্বিজ্ঞানের জন্য এই দিনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। তবে সূর্যগ্রহণের এই সময় বাংলাদেশে রাত হওয়ায় বাংলাদেশ বা এশিয়ার অন্য জায়গা থেকে এটি দেখা যাবে না।
বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, সোমবারের গ্রহণের বিশেষত্ব হলো এর স্থায়িত্ব। এ ধরনের গ্রহণ সচরাচর দেখা যায় না। অপেক্ষাকৃত বেশি সময় ধরে এই গ্রহণ স্থায়ী হবে। টানা চার মিনিট চাঁদের ছায়ায় সম্পূর্ণ ঢেকে থাকবে সূর্য, যা গত ৫০ বছরে কখনো কোনো গ্রহণেই হয়নি। গ্রহণের সময়ে ওই চার মিনিট ধরে সূর্যের বাহ্যিক স্তর করোনার আভা স্পষ্ট দেখা যাবে বলে জানাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা।
এই পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে মেক্সিকো, আমেরিকার কয়েকটি রাজ্য ও কানাডার নির্দিষ্ট কিছু স্থান থেকে। এ ছাড়া স্পেন, যুক্তরাজ্য, পর্তুগালসহ কয়েকটি দেশ থেকে আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে।
মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার তথ্যমতে, মেক্সিকো, আমেরিকার ১৫টি রাজ্য ও কানাডার নির্দিষ্ট স্থান থেকে পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে। এর মধ্যে টেক্সাসে সবচেয়ে দীর্ঘ ৪ মিনিট ২৩ সেকেন্ড পর্যন্ত দেখা যাবে এটি।
সোমবার সকালে প্রশান্ত মহাসাগর থেকে সূর্যগ্রহণ শুরু হবে। এর পর মেক্সিকো ও আমেরিকার পর বিকালে কানাডা ও উত্তর আটলান্টিক অতিক্রম করবে। এদিন ক্যারিবীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের পাশাপাশি কলম্বিয়া, ভেনিজুয়েলা, স্পেন, যুক্তরাজ্য, আয়ারল্যান্ড, পর্তুগাল ও আইসল্যান্ডের নির্দিষ্ট স্থান থেকে আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে। এ সময় খালি চোখে সূর্যের দিকে তাকানোর বিষয়ে সতর্ক করেছেন জ্যোর্তিবিজ্ঞানীরা।
রয়্যাল অবজারভেটরি গ্রিনউইচের জ্যোতির্বিজ্ঞানী জেক ফস্টার বলেন, সূর্যগ্রহণের সময় খালি চোখে সূর্যের দিকে তাকানো অনেক বিপজ্জনক। সূর্যের অতি বেগুনি রশ্মির বিকিরণে চোখের কোমল টিস্যু নষ্ট হয়ে স্থায়ীভাবে দৃষ্টিশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই এটি দেখতে হলে বিশেষ সানগøাস পরা উচিত।
লেবানন সীমান্তে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরাইল
ঢাকা ডেস্ক : ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, দেশটির উত্তর ফ্রন্ট, লেবানন সীমান্তে সম্ভাব্য যুদ্ধের প্রস্তুতির আরেকটি ধাপ সম্পন্ন হয়েছে। রোববার ইসরাইলি সেনাবাহিনীর এক বিবৃতিতে এ কথা বলা হয়েছে।
প্রতিরক্ষা থেকে আক্রমণে স্থানান্তরের প্রস্তুতি শিরোনামের এক বিবৃতিতে ইসরাইলি সেনাবাহিনী বলেছে, ইসরাইলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)-এর বৃহত্তর সেনা সমাবেশের সরঞ্জামকেন্দ্রিক প্রস্তুতি পর্ব সম্পন্ন হয়েছে। খবর রয়টার্সের।
গত বছরের ৮ অক্টোবর থেকে লেবাননের দক্ষিণ সীমান্তে ইসরাইলের সঙ্গে গোলা বিনিময় করে আসছে লেবাননের হিজবুল্লাহ গোষ্ঠী। গাজায় হামাসের বিরুদ্ধে ইসরাইলের যুদ্ধের প্রতিবাদে ও ফিলিস্তিনিদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে ইসরাইলি ভূখণ্ডে নিয়মিত রকেট হামলা চালাচ্ছে গোষ্ঠীটি। ইসরাইলও লেবাননে গোষ্ঠীটির অবস্থানে পাল্টা হামলা চালিয়ে আসছে।
ইসরাইলি বাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নিয়মিত ও রিজার্ভ ইউনিটের সেনারা যেকোনও ডাকে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সাড়া ও সজ্জিত হতে এবং প্রতিরক্ষা ও আক্রমণ অভিযানে সম্মুখভাগে মোতায়েনে প্রস্তুত থাকবে।
গত ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হয়েছে ইসরাইল-হামাসের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ। ওইদিন সকালে আচমকাই সীমানা পেরিয়ে ইসরাইলে ঢুকে পড়ে হামাসের যোদ্ধারা। অন্তত ১১৭০ জন ইসরাইলির মৃত্যু হয় এই হামলায়। শতাধিক ইসরাইলিকে পণবন্দি করে হামাস।
এ ঘটনার পরে হামাসকে নিঃশেষ করতে বিশেষ অভিযান শুরু করেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। হাজারো বিরোধিতা, নিন্দার ঝড় সত্তে¡ও নিজের অবস্থানে অনড় তিনি।
ছয় মাস ধরে চলতে থাকা এ সংঘর্ষে অন্তত ৩৩ হাজার ১৭৫ জন ফিলিস্তিনির মৃত্যু হয়েছে। ইসরাইলের দাবি, ১২ হাজার হামাস যোদ্ধাকে হত্যা করেছে তাদের সেনা। যদিও হামাসের পক্ষ থেকে এ সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি। অন্যদিকে ২৬০ জন ইসরাইলি সেনার মৃত্যু হয়েছে। ইসরাইলি পণবন্দিদের মধ্যে ৩৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। তার মধ্যে ১২ জনের দেহ ফেরত পাঠিয়েছে হামাস।
কেজরিওয়ালকে গ্রেফতারে ভারতে ব্যাপক বিক্ষোভ
ঢাকা ডেস্ক : আবগারি নীতি দুর্নীতি মামলায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) হাতে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী ও ক্ষমতাসীন দল ‘আম আদমি পার্টি’র (আপ) জাতীয় কনভেনার অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে দিল্লিতে দিনব্যাপী অনশন করেছেন আপের কর্মী, সমর্থকরা। এই অনশনের নাম দেওয়া হয়েছে ‘সামুহিক উপবাস’।
গতকাল সকাল ১০টা থেকে দিল্লির যন্তরমন্তরে উপবাসে বসেন আপের কর্মী, সমর্থকরা। এ ছাড়া ভারতের ২৫টি রাজ্যের পাশাপাশি নিউইয়র্ক, বস্টন, লসঅ্যাঞ্জেলেস, ওয়াশিংটন ডিসি, টরন্টো, মেলবোর্ন এবং লন্ডনেও আপের উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
আবগারি নীতি মামলায় গত অক্টোবরে গ্রেফতার আপ নেতা সঞ্জয় সিং ৪ এপ্রিল কারাগার থেকে মুক্তি পান। তিনি গতকাল দিল্লির অনশন মঞ্চ থেকে বলেন, ‘অরবিন্দ কেজরিওয়াল মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন, আছেন এবং আগামী দিনেও থাকবেন। আপনারা কি আমাকে দেখাতে পারবেন যে, কোথায় একজন সৎ মুখ্যমন্ত্রীকে মিথ্যে মামলা দিয়ে কারাগারে বন্দি করে রাখা হয়েছে? এরকম একটি উদাহরণ থাকলে তিনি অবশ্যই মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে অবসর নেবেন।’ বিভিন্ন মামলায় গ্রেফতার হওয়া আপের নেতা রাগ্রত এক বছর ধরে জামিন পাচ্ছেন না বলেও তিনি অভিযোগ করেন। দিল্লির ক্যাবিনেট মন্ত্রী অতিশী বলেন, ‘কেজরিওয়ালের গ্রেফতারের ঘটনায় গোটা দেশের মানুষ ক্ষুব্ধ। যদি দিল্লির কথা বলেন, সেখানকার মানুষ জানতে চান, কবে কেজরিওয়াল জেল থেকে মুক্তি পাবেন? আসলে তারা কেজরিওয়ালকে ভালোবাসেন, তারা তাকে শুধু মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ভাবেন না। তারা তাদের ভাই বা ছেলে হিসেবে ভাবেন কেজরিওয়ালকে। কারণ এই মুখ্যমন্ত্রী বিদ্যুৎ দিয়েছেন, ভালো স্কুল দিয়েছেন, স্বাস্থ্যপরিষেবা দিয়েছেন। দেশের সবাই চাইছেন কেজরিওয়াল মুক্তি পান।’


