Home Blog Page 623

গ্রেফতারি পরোয়ানাকে চ্যালেঞ্জ? ক্রিমিয়া গেলেন পুতিন

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন অঘোষিত সফরে ক্রিমিয়া পৌঁছেছেন। ইউক্রেনের কাছ থেকে উপদ্বীপটি কেড়ে নেয়ার নবম বার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে পুতিন এই সফর করছেন বলে জানানো হয়েছে।

পুতিনকে শনিবার সেখানে স্বাগত জানান রুশ-সমর্থিত সভাস্তুপোলের গভর্নর মিখাইল রাজভোঝাইয়েভ। পরে তাকে শিশুদের একটি নতুন সেন্টার এবং আর্ট স্কুলে নিয়ে যাওয়া হয়। সফরটিকে অপ্রত্যাশিত হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।

রাজভোঝাইয়েভ মেজেঞ্জিং অ্যাপ টেলিগ্রামে বলেন, ‘আমাদের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির ভ্লাদিমিরোভিচ পুতিন জানেন কিভাবে অবাক করে দিতে হয়। ভালো ব্যবস্থা।’

রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় মিডিয়ায় পুতিনের কোনো মন্তব্য প্রকাশ করেনি। এর এক দিন আগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) পুতিনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিল। ইউক্রেন থেকে শত শত শিশুকে রাশিয়ায় অবৈধভাবে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে এই পরোয়ানা জারি করে।

পুতিন এখনো এই পরোয়ানার ব্যাপারে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি। তবে ক্রেমলিনের মুখপাত্র বলেছেন, এটির কোনো মূল্য নেই। এটি অগ্রহণযোগ্য।

রাশিয়া ২০১৪ সালে ক্রিমিয়া দখল করে নেয়। এরপর গত বছর ইউক্রেনে পূর্ণ মাত্রায় আক্রমণ চালায়। ইউক্রেন বলছে, তারা রাশিয়াকে ক্রিমিয়া ও অন্যান্য দখল করা এলাকা থেকে বহিষ্কার করতে যুদ্ধ করে যাবে।

সূত্র : আল জাজিরা

আত্মশুদ্ধির মাহে রমজান

রমজান এলে মুসলমানদের হৃদয়ে জাগে পবিত্র শিহরণ। চার দিকে সৃষ্টি হয় স্বর্গীয় আবহ। পবিত্র রমজানে একজন রোজাদার শুধু পানাহার বর্জনেই সন্তুষ্ট থাকেন না; বরং সবরকম কটু কথা, মন্দ কাজ ও যাবতীয় অনাচার থেকে নিজেকে বিরত রাখেন। এর মধ্য দিয়ে তিনি সারা বছরের জন্য এক সুশৃঙ্খল প্রশিক্ষণ নিয়ে থাকেন এবং রোজার সেই অনুপম শিক্ষা পুরো বছরে তার জীবনমানে প্রতিভাত করতে উদ্যমী হন। দাঙ্গা-হাঙ্গামা, বিবাদ-বিশৃঙ্খলা ও সবধরনের ঝগড়া-ফাসাদ থেকেও নিজেদের দূরে রাখার প্রয়াস চালান। কেউ শৃঙ্খলা বিনষ্ট করতে এলে রোজাদার বলে ওঠেন, ‘আমি কোনোমতেই তোমার সাথে বিবাদে যাবো না। কেননা, আমি আল্লাহর নামে রোজা রেখেছি।’ রোজাদারের চিন্তাচেতনা, মন-মানসে আসে বৈপ্লবিক পরিবর্তন; ক্ষুধা-তৃষ্ণার যাতনায় নিজেকে জর্জরিত করে সে অভুক্ত মানুষের কষ্ট বা আহাজারি অনুভবের এক সুবর্ণ সুযোগ লাভ করে। ফলে সে অভাবী ও প্রার্থীদের যথাসাধ্য সহযোগিতায় মনোনিবেশ করে এবং আর্তমানবতার খেদমতে নিজেকে উৎসর্গ করার মহান শিক্ষা লাভ করে। এভাবে রমজান প্রকৃত অর্থেই বান্দার অপরাধ ও পাপাচারকে জ্বালিয়ে দেয় এবং মহান প্রভুর ক্ষমা ও রহমতের চাদরে নিজেকে আবৃত করতে পারার সৌভাগ্য লাভ করে।

রমজান হলো, নিজেকে আত্মশুদ্ধির চর্চায় উজ্জীবিত করার মাস। এ মাস হলো, সাধনার মাধ্যমে একজন সফল মু’মিন হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলার। সব অনৈতিকতাকে দূরে ঠেলে দিয়ে পরিশুদ্ধি ও আত্মগঠনের প্রশিক্ষণ নেয়ার মাস রমজান। জীবনের সব ধরনের অনিয়মকে বিতাড়িত করে নিয়মতান্ত্রিকতার অনুশীলনের অনন্য মাস এটি। সেই প্রশিক্ষণ ও অনুশীলনকে কাজে লাগাতে হয় সারা বছর। ইসলামে শরিয়ত নির্দেশিত বিধানগুলো কোনো আনুষ্ঠানিকতা নয়। ইবাদত করার পাশাপাশি, তার দর্শন ও অন্তর্নিহিত শিক্ষানুযায়ী জীবনযাপনের মধ্যেই রয়েছে ইবাদত পালনের সার্থকতা। আর রোজার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো তাকওয়া অর্জন। রোজার মূল উদ্দেশ্য হলো সিয়াম সাধনার মাধ্যমে তাকওয়াভিত্তিক জীবনাচরণে অভ্যস্ত হওয়া, আল্লাহর মহত্ত্ব ঘোষণা করা এবং তাঁর সব নিয়ামতের জন্য পূর্ণ কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে নিজেকে পরিপূর্ণভাবে মহান রবের কাছে সমর্পণ করা।
ইরশাদ হয়েছে- ‘হে ঈমানদাররা! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ তথা আবশ্যক করা হয়েছে, যেরূপ ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তী মানুষের ওপর, যেন তোমরা তাকওয়া বা পরহেজগারি অর্জন করতে পারো।’ (সূরা বাকারা-১৮৩)

রমজান মু’মিন-মুসলমানের জীবনে পরিবর্তন আনার মোক্ষম সুযোগ। তাই রমজানের পর পরিবর্তিত জীবনে ফিরে যাওয়াই রমজানের দাবি। কেননা, রোজা নিছকই উপবাস থাকা, পানাহার ও কামাচার বর্জনের নাম নয়। এর বিশেষ তাৎপর্য ও দর্শন রয়েছে। রয়েছে এর দৈহিক, আত্মিক, নৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক উপকারিতা।
সারা দিন উপবাস থাকার ফলে শরীর ও আত্মাকে নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হয় এবং পাশবিকতার প্রাবল্য হ্রাস পায়। মনুষ্যত্ব জাগ্রত হয়, অন্তর বিগলিত হয় মহান প্রভুর কৃতজ্ঞতায়। মাহে রমজান হলো মানবিক কল্যাণবোধে উজ্জীবিত হওয়ার এক রাজপথ।

হাকিমুল উম্মাহ খ্যাত আল্লামা আশরাফ আলী থানভি রহ: বলেন, ‘মানুষের কুপ্রবৃত্তি ও আবেগের ওপর বিবেকের সর্বদা প্রভাব বিস্তার করা উচিত। কিন্তু মানবীয় দুর্বলতার কারণে অনেকসময় বিবেকের ওপর মানুষের আবেগ প্রাধান্য লাভ করে। তাই আত্মশুদ্ধি ও আত্মজাগৃতির জন্য ইসলাম রোজাকে মৌলিক ইবাদতগুলোর অন্তর্ভুক্ত করেছে। রোজা রাখার দ্বারা মানুষের কুপ্রবৃত্তি ও আবেগের ওপর বিবেক পরিপূর্ণভাবে বিজয়ী হয়। এতে তাকওয়ার গুণাবলি অর্জিত হয়। রোজা রাখার মাধ্যমে মানুষের নিজের অক্ষমতা ও অপারগতা এবং আল্লাহ তায়ালার বড়ত্ব ও কুদরতের ওপর দৃষ্টি নিবদ্ধ হয়। রোজার মাধ্যমে অন্তর্দৃষ্টি খুলে যায়, দূরদর্শনের ধারণা প্রবল হয়। আসবাব ও উপকরণের হাকিকত খুলে যায়। পাশবিকতা ও পশুত্ব অবদমিত হয়। আল্লাহর নৈকট্য লাভ হয়। আল্লাহর কৃতজ্ঞতা আদায়ের সুযোগ হয়। অন্তরে মানবিকতা ও সহমর্মিতার বন্যা বয়ে যায়।

রোজা দেহ-আত্মার সুস্থতার কারণ। রোজা মানুষের জন্য এক রুহানি খাদ্য, যা পরকালে মানুষের জন্য খাদ্যের কাজ দেবে। সর্বোপরি রোজা আল্লাহর ভালোবাসার অন্যতম নিদর্শন।
পবিত্র রমজান মানুষকে আত্মশুদ্ধি ও পুণ্য অর্জনের এক অবারিত সুযোগ এনে দেয়; যেখানে একটি নফল ইবাদত অন্য মাসের ফরজ ইবাদতের এবং রমজানের একটি ফরজ ইবাদত অন্য মাসের ৭০টি ফরজ ইবাদতের সমপর্যায়ের গুরুত্ব বহন করে থাকে। তাই স্বাভাবিকভাবেই পবিত্র রমজান মাস মানুষের জীবনে সংশোধন লাভ ও অগণিত সওয়াবের বার্তা নিয়ে তার শুভাগমন ঘটায়। মানুষের উচিত হলো এমন পুণ্যময় ও বরকতের মাসকে সর্বোচ্চ মূল্যায়ন করা এবং বৈচিত্র্যপূর্ণ ইবাদতের মাধ্যমে ইহকালীন কল্যাণ অর্জন ও পারলৌকিক প্রত্যাশিত সাফল্যের সবটুকু লাভে আত্মনিয়োগ করা।

লেখক :আহসানুল ইসলাম রাকিব, শিক্ষার্থী,

জামিয়া হোসাইনিয়া ইসলামিয়া, আরজাবাদ

ইউক্রেনে চীনের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবের বিরোধিতা যুক্তরাষ্ট্রের

আগামী সপ্তাহে মস্কোতে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাথে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠক এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেন্সকির সাথে ফোনালাপের আগে হোয়াইট হাউজ ইউক্রেনে যুদ্ধবিরতির পক্ষে বেইজিংয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে।

রোববার ভয়েস অফ আমেরিকায় প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে বলা হয়, জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের কৌশলগত যোগাযোগ বিষয়ক সমন্বয়ক জন কার্বি বলেন, আমরা উদ্বিগ্ন হব যদি এই বৈঠক থেকে বেরিয়ে এসে কোনো ধরনের যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানানো হয়। যুদ্ধবিরতি ভালো শোনালেও এটি প্রকৃতপক্ষে রাশিয়ার অর্জনকে সমর্থন করে।

পুতিনের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা ইউরি উশাকভ শুক্রবার বলেন, শি’র সাথে আলোচনা ইউক্রেনের যুদ্ধ নিয়ে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আসতে পারে।

কার্বি আশংকা প্রকাশ করে বলেন, যুদ্ধবিরতি মস্কোকে ভবিষ্যতে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে আরো কার্যকর আক্রমণের জন্য প্রস্তুত হওয়ার সুযোগ দিতে পারে।

তিনি আরো বলেন, এই মুহূর্তে যুদ্ধবিরতি ‘ইউক্রেনের স্বার্থ রক্ষা করবে না; এবং তা ‘জাতিসঙ্ঘ সনদের লঙ্ঘন হবে’। কারণ তা রাশিয়াকে অবৈধভাবে ইউক্রেনের অভ্যন্তরে থাকার স্বীকৃতি কেড়ে নেবে।

বেইজিংয়ের সম্পৃক্ততাকে সতর্কতার সাথে স্বাগত জানিয়ে জেলেন্সকি বলেন, সাফল্য নির্ভর করবে কথার ওপর নয়, কর্মের ওপর।

গত মাসে বেইজিং ইউক্রেনে একটি রাজনৈতিক নিষ্পত্তির জন্য তার ১২-দফা পরিকাঠামো প্রকাশ করে এবং ‘বিস্তৃত যুদ্ধবিরতিতে’ পৌঁছানোর জন্য ‘যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সরাসরি সংলাপের’ আহ্বান জানায়।

যদিও এই মুহূর্তে যুদ্ধরত পক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্য যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ।
সূত্র : ভয়েস অফ আমেরিকা

যেই জয় শুধুই মানজারুল ইসলাম রানার

১৬ মার্চ ২০০৭। ক্যারিবীয় দ্বীপে চলছে বিশ্বকাপ, কুইন্স পার্কে পরের দিন নিজেদের প্রথম ম্যাচে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ, স্বপ্ন বুনছে ভারত বধের। এমন সময় একটা ফোন কল এলো, আর তাতেই যেন পুরো পৃথিবী এলোমেলো হয়ে গেল মাশরাফি-সুমনদের। রাসেল, রাজ্জাক চিৎকার করে উঠলেন, মাশরাফি এক দৌড়ে বিছানায়। বাশার শুধু স্ফুটস্বরে বলে উঠলেন, ‘একি করলি রানা?’

মানজারুল ইসলাম রানা, জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার। খুব সম্ভাবনাময় স্পিন অলরাউন্ডার ছিলেন, জাতীয় দলের হয়ে খেলেছেন ৬টি টেস্ট এবং ২৫টি ওয়ানডে ম্যাচ। ছিলেন মাশরাফি- রাজ্জাক, রফিকদের খুব কাছের বন্ধু। তবে জায়গা হয়নি ২০০৭ বিশ্বকাপের দলে, যা কাল হয়ে দাঁড়ায় তার জীবনে। বন্ধুরা ক্যারিবীয় দ্বীপে ভারত বধের পরিকল্পনায় ব্যস্ত, তখন রানা সময় কাটাচ্ছিলেন মোটরসাইকেল নিয়ে।

যে মোটরসাইকেল কেড়ে নেয় তার প্রাণ, বাংলাদেশ যেদিন বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলবে, তার আগের দিনই পৃথিবীকে বিদায় জানান তিনি। মর্মান্তিক এক সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়ে বিধাতার ডাকে সাড়া দেন রানা। মাত্র ২২ বছর ৩১৬ দিন সর্বকনিষ্ঠ টেস্ট ক্রিকেটার হয়ে পাড়ি জমান পরপারে।

রানা আকস্মিক মৃত্যুর খবরে পুরো দলে তখন শোকের ছায়া। বিষয়টা যেন মানতেই পারছিলেন না রফিক-রাজ্জাকরা। তরুণ সাকিব-তামিমরাও তখন মর্মাহত, কী করবেন বুঝে উঠতে পারছিলেন না। ভাইসম বন্ধুকে হারিয়ে তখন শোকবিহ্বল মাশরাফি, গায়ে তখন তার প্রচণ্ড জ্বর। এদিকে ঠিক পরদিন বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচ, এমতাবস্থায় মাশরাফিকে বাশারের প্রশ্ন, ‘খেলতি পারবি?’ মাশরাফির উত্তর ‘রানার জন্যি খেলতি হবি।’

যা নিয়ে পরে এক আলাপকালে মাশরাফি বলেছিলেন, ‘ম্যাচের আগের দিন রানা মারা গেলো। আমরা তো দূরে, ওর জানাজাও পড়তে পারছিলাম না। ওর জন্য কিছু একটা করতে চেয়েছিলাম। খুব স্বাভাবিকভাবেই আমরা সবাই আলোচনা করছিলাম এবং এক হয়ে বলেছিলাম আমাদের ম্যাচটা জিততে হবে।’ অর্থাৎ সবাই চেয়েছিল সেদিন শোককে শক্তিতে পরিণত করতে, ম্যাচটি জয় করে রানাকে উৎসর্গ করতে।

পরদিন ভারতের বিপক্ষে মাঠেও দেখা মেলে সেই প্রতিচ্ছবি। ভারতের বিরুদ্ধে টসে হেরে ফিল্ডিং করতে নামা বাংলাদেশ হঠাৎই হয়ে উঠে আগ্রাসী। মাশরাফির নেতৃত্বে বোলিং ইউনিট যেন ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের বেশ শক্তভাবেই চেপে ধরে। ম্যাচের তৃতীয় ওভারেই বীরেন্দর শেবাগের স্ট্যাম্প ভেঙে দেন মাশরাফি। আর দলীয় ২১ রানে সাজঘরে ফেরেন রবিন উথাপ্পা।

উথাপ্পা বিদায়ের পর চার রান যোগ হতেই শচীন টেন্ডুলকারকে ফেরান আব্দুর রাজ্জাক। সেখান থেকে ভারত ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে, তবে তবে দলীয় ৭২ রানে ‘দ্যা ওয়াল’ খ্যাত দ্রাবিডের প্রাচীর ভেঙ্গে দেন মোহাম্মদ রফিক। যুবরাজ সিং ও সৌরভ গাংগুলী দলকে সসম্মানজনক স্কোর এনে দেয়ার চেষ্টা করেন, তবে সফল হতে পারেননি।

নিজের ৬৬ রানে সৌরভ আউট হলে শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ৩ বল বাকি থাকতেই অলআউট হয় ভারত। মাত্র ১৯১ রানেই ঘুটিয়ে যায় তারা। মাশরাফি একাই ৪টি, রফিক ও রাজ্জাক শিকার করেন ৩টি করে উইকেট।

বোলারদের গড়ে দেয়া ভিতের উপর দাঁড়িয়ে তিন তরুণ; তামিম ইকবাল, সাকিব আল হাসান আর মুশফিকুর রহিমের ব্যাটে জয় আসে অনায়াসে। তামিম-সাকিব আউট হলেও মুশফিক আর আশরাফুল মিলে জয় নিশ্চিত করেই মাঠ ছাড়েন। বাংলাদেশ লক্ষ্য পেরিয়ে যায় ৪৮.৩ ওভারে ৫ উইকেট হাতে রেখেই। ম্যাচ সেরা নির্বাচিত হন মাশরাফি বিন মর্তুজা।

তরুণ তামিমের ব্যাট সেদিন হয়ে উঠে খাপছাড়া তলোয়াড়। আগ্রাসী তামিম খেলেন ৫৩ বলে ৫১ রানের ইনিংস! তবে আরেক ওপেনার শাহরিয়ার নাফিসকে দ্রুত হারায় বাংলাদেশ, তবে মুশফিকুর রহিম খেলতে থাকেন একপ্রান্ত আগলে রেখেই। তাকে সঙ্গ দেন আরেক তরুণ সাকিব আল হাসান। মাঝে অবশ্য আফতাব আহমেদের উইকেটও হারিয়ে ফেলে টাইগাররা।

তবে মুশফিক-সাকিবের ৮৪ রানের জুটিতে জয়ের দিকে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। দলীয় ১৬৩ রানে ৫৩ রান করে আউট হন সাকিব। অধিনায়ক হাবিবুল বাশার দ্রুত ফিরলেও বাকি পথটা আশরাফুলকে সঙ্গে নিয়ে সামলে দেন মুশফিক, তিনি অপরাজিত থাকেন ৫৬ রানে। সেই সাথে রচিত হয় বাংলার ক্রিকেটের এক মহাকাব্য।

তারিখটা মনে আছে তো? হ্যাঁ, আজই সেই দিন। ১৬ বছর আগে আজকের এই দিনেই অভিজ্ঞ মাশরাফি আর তরুণ তামিম, সাকিব আর মুশফিকের হাত ধরে প্রথমবার ভারত বধ করে টাইগাররা! যেই জয় কেবল মানজারুল ইসলাম রানার, না থেকেও যেই জয়ের নায়ক তিনি।

টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর প্রতি রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

রাষ্ট্রপতি মো: আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০৩তম জন্মবার্ষিকী ও ‘জাতীয় শিশু দিবস’-২০২৩-উপলক্ষে জাতির পিতার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন।

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী সশরীরে উপস্থিত থেকে শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান।

প্রথমে রাষ্ট্রপতি হামিদ বঙ্গবন্ধুর মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন এবং এর পর পরই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

পুষ্পস্তবক অর্পণের পর তারা বঙ্গবন্ধুর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে সেখানে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌ ও বিমান বাহিনীর একটি সুসজ্জিত চৌকস দল গার্ড অব অনার প্রদান করে। পরে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা দলীয় সিনিয়র নেতাদের সাথে নিয়ে দলের পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধুর মাজারে আরেকটি পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

রাষ্ট্রপতির পত্নী রাশিদা খানম তার ছেলে রেজওয়ান আহম্মদ তৌফিক, এমপি এবং প্রধানমন্ত্রী ও তার পরিবারের সদস্যদের সাথে নিয়ে পৃথকভাবে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে বঙ্গবন্ধুর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

আবদুল হামিদ ও শেখ হাসিনা ফাতেহা পাঠ করেন এবং বঙ্গবন্ধুসহ ১৫ আগস্টের নির্মম হত্যাকাণ্ডে শিকার অন্যান্য বীর শহীদদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে মোনাজাতে যোগ দেন।

মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, সংসদ সদস্য এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

রাষ্ট্রপতি জাতির পিতার সমাধি সৌধ প্রাঙ্গণে রাখা দর্শনার্থী বাইয়েও স্বাক্ষর করেন।

রাষ্ট্রপতি হামিদ সমাধি প্রাঙ্গণে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে স্বাগত জানান।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বর সড়কে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরের সামনে রক্ষিত জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে সড়ক পথে সকাল ১০টায় টুঙ্গিপাড়া পৌঁছান।

বেশ কয়েক বছর ধরে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনটি ‘জাতীয় শিশু দিবস’ হিসেবে সারাদেশে পালিত হয়ে আসছে।

১৯২০ সালের এই দিনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তৎকালিন মহকুমা এবং বর্তমানে গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়া গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
সূত্র : বাসস

সাম্প্রদায়িক শক্তির বিষবৃক্ষ উপড়ে ফেলা হবে : সেতুমন্ত্রী

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণের পথের বাধা সাম্প্রদায়িক অপশক্তির বিষবৃক্ষ উপড়ে ফেলা হবে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

শুক্রবার সকালে ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মৃতি জাদুঘর প্রাঙ্গণে জাতির পিতার ১০৩তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, সংবিধান অবিকৃত রেখে সংবিধানে যেভাবে আছে সেভাবেই নির্বাচনে যেতে চায় আওয়ামী লীগ। বিএনপি সরকার বারবার সংবিধানের ওপর আঘাত এনে কলঙ্কিত করেছে। আওয়ামী লীগ সংবিধানের মর্যাদা রক্ষা করে সেই আলোকে আগামী নির্বাচন করবে।
সূত্র : বাসস

উত্তরপ্রদেশে ৬ বছরে ১০০০০ ‘এনকাউন্টার’, নিহতের সংখ্যা কত?

গত ৬ বছরে ১০ হাজার ‘এনকাউন্টার’ হয়েছে ভারতের উত্তরপ্রদেশে। ওই ঘটনায় ৬৩ জন দুষ্কৃতিকারীর মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার এমনই দাবি করা হয়েছে উত্তরপ্রদেশের দেয়া সরকারি তথ্যে।

উত্তরপ্রদেশের ক্ষমতায় আসার পরই মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের লক্ষ্য ছিল তার সরকার অপরাধমূলক কাজ এবং দুষ্কৃতিকারীদের বিষয়ে কোনোরকম আপস করবে না। রাজ্যকে অপরাধমুক্ত করতে তাই ঢালাও ক্ষমতা দিয়ে দেয়া হয় পুলিশ-প্রশাসনকে।

রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে যোগীর সরকার মাফিয়া, দুষ্কৃতিকারীদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নেয়। রাজ্যকে অপরাধমুক্ত করতে দুষ্কৃতিকারীদের কড়া হাতে দমনের পথে হাঁটেন যোগী। তার পর থেকে একের পর এক ‘এনকাউন্টার’-এর ঘটনা ঘটতে থাকছে ওই রাজ্যে। সেই ‘এনকাউন্টারে’ কোনো দুষ্কৃতিকারীর মৃত্যু হয়েছে, কেউ আহত অবস্থায় ধরা পড়েছেন।

সম্প্রতি উত্তরপ্রদেশ সরকার অপরাধ সম্পর্কিত একটি তথ্য প্রকাশ করেছে। সেই তথ্য উদ্ধৃত করে এনডি টিভি জানিয়েছে, গত ৬ বছরে ১০ হাজার ‘এনকাউন্টার’ হয়েছে। সেই ঘটনায় ৬৩ জন দুষ্কৃতিকারীর মৃত্যু হয়েছে। এমনই দাবি করা হয়েছে ওই সরকারি তথ্যে।

যদিও সম্প্রতি লখনউ-এর এডিজি (আইনশৃঙ্খলা) প্রশান্ত কুমার একটি সংবাদ সম্মেলন করে দাবি করেছিলেন, ‘পুলিশের সাথে সংঘর্ষে এ পর্যন্ত ১৭৮ জন অভিযুক্ত মারা গেছেন। এই এনকাউন্টারে আমাদের যে বাহাদুর সঙ্গীরা নিহত হয়েছেন, তাদের সংখ্যা ১৫। ১ হাজার ৪২৫ জন পুলিশ কর্মী আহত হয়েছেন। এই সব এনকাউন্টার সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা মেনেই করা হয়েছে।’

প্রয়াগরাজে উমেশ পাল হত্যাকাণ্ড নিয়ে গোটা উত্তরপ্রদেশে সরগরম। শুধু তাই-ই নয়, এই ঘটনায় পুলিশের ‘এনকাউন্টার’ দুই দুষ্কৃতিকারীর মৃত্যু পরিস্থিতিতে আরো সরগরম করেছে। দুষ্কৃতিকারীরা যে গাড়িতে এসে উমেশের উপর আক্রমণ করে, তার চালক আরবাজকে প্রয়াগরাজে ‘এনকাউন্টার’-এ মেরে ফেলা হয়। তার পর পরই পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হয় আর এক দুষ্কৃতিকারী বিজয় কুমার ওরফে ওসমান চৌধুরীর। শুধু উমেশ হত্যাকাণ্ডই নয়, দুষ্কৃতিকারী দমনে উত্তরপ্রদেশে মাঝেমধ্যেই এমন ‘এনকাউন্টার’-এর খবর পাওয়া যায়। যদিও বিরোধীরা যোগী সরকারের পুলিশের এই ‘এনকাউন্টার’ নিয়ে বার বার প্রশ্ন তুলেছে, আপত্তিও জানিয়েছে। কিন্তু দুষ্কৃতিকারী দমনে যোগীর ‘এনকাউন্টাররাজ’ কায়েম রয়েছে গোটা উত্তরপ্রদেশে।

উত্তরপ্রদেশের পুলিশের একটি হিসাব বলছে, ৬ বছরে ১০ হাজর ৫০০ ‘এনকাউন্টার’ হয়েছে! শুধুমাত্র ২০২২-এর এপ্রিল থেকে ২০২৩ সালের মার্চের মধ্যেই ১ হাজার ৬৬টি ‘এনকাউন্টার’ ঘটেছে। আর ২০১৭-র মার্চ থেকে ২০২২-এর এপ্রিল, এই সময়ের মধ্যে ‘এনকাউন্টার’ হয়েছে ৯ হাজার ৪৩৪টি। আর এই ৬ বছরের মধ্যে পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হয়েছে ১৭৮ জন দুষ্কৃতিকারীর। সংঘর্ষে মারা গেছেন ১৫ পুলিশকর্মীও। এই পরিসংখ্যান তুলে ধরে এমনই দাবি করা হয়েছে ‘দৈনিক ভাস্কর’-এর এক প্রতিবেদনে।

যোগী আদিত্যনাথের ‘ঠোক দো’ শব্দবন্ধ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল বহু আগে। অখিলেশ যাদবও যে সময় অভিযোগ করে বলেছিলেন, ‘যোগী কথায় কথায় বলেন, গুলি চালিয়ে দাও। পুলিশও তার ‘ঠোক দো’ নীতি মেনে চলছে। তার জন্যই এ ধরনের ঘটনা ঘটছে।’ প্রশ্ন উঠেছিল, এই সব ‘এনকাউন্টার’ ‘এক তরফা হত্যা’ নয় তো?

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী বিরাগ গুপ্ত ‘এনকাউন্টার’ প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, ভারতের আইনব্যবস্থায় ‘এনকাউন্টারকে’ আইনগত বৈধতা দেয়া হয়নি। সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২১ অনুযায়ী, জীবনের অধিকার হলো মৌলিক অধিকার। আইনে বলা হয়েছে, সরকার কোনো ব্যক্তির জীবনযাপনের অধিকার একমাত্র আইনিপথেই হরণ করতে পারে। ‘এনকাউন্টার’ একটি নেতিবাচক বিষয়। সংবিধানে আইনের শাসনের কথাই বলা হয়েছে। অর্থাৎ, কোনো দোষী ব্যক্তিকে আদালতের রায়ের পরই দোষী সাব্যস্ত করা যায়। আদালতেই তার মৃত্যুদণ্ড দিতে পারে। যতক্ষণ আদালতে কেউ দোষী সাব্যস্ত না হন, ততক্ষণ তিনি নির্দোষ।

যদিও বৃহস্পতিবার রাতে উত্তরপ্রদেশ সরকার যে তথ্য প্রকাশ করেছে, তার হিসাবের সাথে উত্তরপ্রদেশ পুলিশের দেয়া তথ্য মিলছে না। ফলে প্রশ্ন উঠছে, কোন তথ্য বেশি নির্ভরযোগ্য, তা নিয়ে।
সূত্র : আনন্দবাজার

ইউক্রেনে গণহত্যার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি : জাতিসঙ্ঘ

রাশিয়ার ইউক্রেন আগ্রাসনের পর থেকে মানবাধিকার লঙ্ঘন বিষয়ে জাতিসঙ্ঘের একটি তদন্ত দল ইউক্রেনে গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে এমন কোনো তথ্য পায়নি। বৃহস্পতিবার ওই দলের প্রধান এ কথা বলেছেন।

তদন্ত দলের প্রধান নরওয়ের বিচারক এরিক মোসে জেনেভায় এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আমরা ইউক্রেনে গণহত্যার কোনো ঘটনা খুঁজে পায়নি।

তবে তিনি আরো বলেন, ‘সেখানে আমরা লক্ষ্য করেছি যে, দেশটি এ সংঘাতের এমন কিছু দিক আছে যা এ ধরনের অপরাধের ব্যাপারে প্রশ্ন তুলতে পারে। কিন্তু আমরা এখনো এখানে এমন ঘটনার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারিনি।’
সূত্র : বাসস

বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০৩তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

শুক্রবার (১৭ মার্চ) সকাল ৭টায় ৫ মিনিটে ধানমণ্ডি ৩২ বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরের সামনে প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রথমে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বঙ্গবন্ধু প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তিনি। পরে আওয়ামী লীগ সভাপতি হিসেবে দলের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে আবারো বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানান শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের পর আওয়ামী লীগের সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানানো হচ্ছে।

এর আগে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন উপলক্ষে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু ভবন এবং দেশব্যাপী দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করে।

আ’লীগ বিচার বিভাগকে করায়ত্ত করতে চায় : মির্জা ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সকল মানুষের রাষ্ট্রকে মেনে নেয়ার যে আস্থা থাকে, সেই আস্থাটা হচ্ছে বিচার বিভাগ ওপরে আস্থা। সেই বিচার বিভাগ যখন আক্রান্ত হয়, যখন কলঙ্কিত হয়, যখন তার কার্যকারিতা প্রায় বিনষ্ট হয়ে যায়। তখন সেই রাষ্ট্রের রূপে জনগণের আস্থা কমে যাওয়ার শঙ্কা থাকে। আওয়ামী লীগ বিচার বিভাগকে করায়ত্ত (হাতের মুঠোয়) করতে চায়। দুর্ভাগ্যজনকভাবে এখন বাংলাদেশে তাই চলছে।

শুক্রবার সকালে নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ফখরুল বলেন, আমরা বারবার বলে এসেছি বাংলাদেশ আর গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র নেই। বাংলাদেশ এখন আর সত্যিকারের অর্থে কার্যকরী গণতন্ত্র রাষ্ট্র নয়। বাংলাদেশের যতগুলো গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান আছে, সেই প্রতিষ্ঠানগুলো অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে এই আওয়ামী লীগ সরকার ধ্বংস করে দিয়েছে। তার সর্বোচ্চ ন্যাক্কারজনক ও জঘন্যতম উদাহরণ আমরা গতকাল দেখেছি। আমরা দেখলাম, সুপ্রিম কোর্টের বার অ্যাসোসিয়েশনের যে নির্বাচন। আওয়ামী লীগ অত্যন্ত ভয়াবহভাবে পুলিশ বাহিনীকে ব্যবহার করে সেখানকার নির্বাচন ব্যবস্থাটাও ধ্বংস করে দিয়েছে। দেশের মানুষের আস্থা ছিল সুপ্রিম কোর্টের নির্বাচন কখনো জবরদখল ও কারচুপি হবে না। কিন্তু আওয়ামী লীগ সেটা ধ্বংস করে দিয়েছে। বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্রতে পরিণত করতে বড় পদক্ষেপ নিল তারা।

তিনি বলেন, এই কথাগুলো অত্যন্ত ক্ষোভ ও দুঃখের সাথে বলতে হচ্ছে। বলতে হচ্ছে এই জন্যই, আমরা ১৯৭১ সালের যুদ্ধের কথা বারবার বলি। আমরা যে মানসিকভাবে তৈরি হয়েছি। বাংলাদেশ একটি সংসদীয় গণতন্ত্রের দেশ হবে। সেখানে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সম্পূর্ণভাবে থাকবে। মানুষ তার ন্যায়বিচার পাবে। যখন প্রশাসন দ্বারা আক্রান্ত হবে সে কোথায় যাবে? সে তখন যায় বিচার বিভাগে। সে বিচার বিভাগে গিয়ে যদি দেখে বিচার বিভাগ সম্পূর্ণভাবে করায়ত্ত হয়েছে, তাহলে সে আর বিচার পাবে না। আজকের সেই জায়গায় আমরা এসে পৌঁছেছি।

সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করে মহাসচিব বলেন, জানি না আজকে আপনারা কতটুকু গুরুত্বের সাথে চিন্তা করছেন। কতটুকু আপনার উদ্বিগ্ন হচ্ছেন। এ দেশের যারা সিনিয়র আইনজীবী আছেন, যারা সাবেক বিচারপতি প্রধান বিচারপতি আছেন, যারা রাষ্ট্রকে নিয়ে চিন্তা করেন, যারা এ রাষ্ট্রের জন্ম দিয়েছেন -মুক্তিযোদ্ধারা, তারা কিভাবে এই ধরনের ঘটনাকে মেনে নিতে পারে?

তিনি বলেন, ’গণমাধ্যমকে আমরা রাষ্ট্রের গণতন্ত্রের স্তম্ভ বলি, সেখানেও কিন্তু একই ঘটনা ঘটছে। সেখানেও প্রেসক্লাবকে দখল করা হচ্ছে বিভিন্নভাবে। অদৃশ্য শক্তি দিয়ে চাপ সৃষ্টি করে সব দখল করা হচ্ছে। তাদেরকে চাপ দিয়ে বাধ্য করা হচ্ছে, যাতে তারা জনগণের দাবিগুলো সামনে তুলে না আনতে পারে।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, গত ১৫ ও ১৬ মার্চ বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা ছিল। এ নির্বাচনকে ঘিরে বিজ্ঞ আইনজীবীদের পাশাপাশি দেশের সাধারণ মানুষেরও ব্যাপক আগ্রহ ছিল। কিন্তু আমরা দুর্ভাগ্যজনকভাবে লক্ষ্য করেছি যে- দেশের অন্য সকল নির্বাচনের মতো দেশের সর্বোচ্চ আদালতের আইনজীবীদের সমিতির নির্বাচনেও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের যে রাজনৈতিক চরিত্র তার নগ্ন বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। আইনগতভাবে কোনো নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হলেও নির্বাচনের নাটক সাজিয়ে একতরফাভাবে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীদের অবৈধভাবে নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা সবসময় বলে আসছি যে- ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও তাদের ছত্র-ছায়ায় দেশের কোথাও কোনো অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব নয়। তারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না, জনগণের ভোটারাধিকারে বিশ্বাসী নয়, বিগত ২০১৪ এবং ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও বিভিন্ন স্তরের স্থানীয় নির্বাচনে ইতোপূর্বে বারবার প্রমাণিত হয়েছে। সর্বশেষ প্রমাণ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচন। এর আগে ঢাকা আইনজীবী সমিতি নির্বাচনেও একই ধরনের প্রহসনের নির্বাচন করা হয়েছে। আমাদের প্রত্যাশা ছিল, দেশের সাধারণ মানুষের আইনের আশ্রয় নেয়ার শেষ ভরসাস্থল, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীদের সমিতিতে তারা নগ্ন হস্তক্ষেপ থেকে বিরত থাকবে।

ফখরুল ইসলাম বলেন, আমরা লক্ষ্য করেছি যে- এই সমিতি নির্বাচনের জন্য বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ সমর্থিত সমিতির কার্যকরী কমিটির সভাপতি ও অবৈধ সম্পাদক, যিনি গতবছর সমিতির নির্বাচিত সম্পাদক ব্যারিস্টার মো: রুহুল কুদ্দুসকে (কাজল) নির্বাচিত হওয়ার ৪২ দিন পর পুলিশ ও বহিরাগতদের সহায়তায় সম্পাদকের দফতর জবর-দখল করে নেন, ভোট কারচুপির মাধ্যমে একতরফাভাবে বিজয়ী হওয়ার জন্য প্রথমে একতরফাভাবে একটি পরিকল্পিতভাবে নির্বাচন সাব-কমিটি গঠন করে। অথচ সংগঠনের গঠনতন্ত্র মোতাবেক কার্যকরি কমিটির সংখ্যাগরিষ্টের মতামতের ভিত্তিতে নির্বাচন সাব-কমিটি গঠনের বিধান রয়েছে। বর্তমান কার্যকরি কমিটিতে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম সমর্থিতরা সংখ্যাগরিষ্ট। একপর্যায়ে সাধারণ আইনজীবীদের তীব্র প্রতিবাদের মুখে ইতোপূর্বে দলীয় অনুগত নির্বাচন সাব-কমিটির আহ্বায়ককে পরিবর্তন করে সর্বসম্মতিক্রমে সাবেক বিচারপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো: মুনসুরুল হক চৌধুরীকে আহ্বায়ক হিসেবে মনোনীত করা হয়। যদিও তিনি একজন আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতা ও আওয়ামী লীগ সমর্থিত সভাপতি পদপ্রার্থী ছিলেন তথাপিও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেলের সদস্যরা তার প্রতি আস্থা স্থাপন করেছিলেন। তিনি একজন সৎ, সজ্জন ও দৃঢ়চেতা মানুষ হিসেবে পরিচিত। তিনি নির্বাচনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্নও করেছিলেন। কিন্তু নির্বাচনের দুই দিন আগে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ সমর্থিত সভাপতি ও সম্পাদক পদপ্রার্থী তাকে দিয়ে তাদের অনৈতিক ভোট ডাকাতির নির্বাচনে সম্মত করতে না পারলে তাকে পদত্যাগে বাধ্য করেন এবং তাদের একান্ত অনুগত একজন দলীয় আইনজীবীকে দিয়ে নির্বাচনী নাটক মঞ্চস্থ করার আয়োজন করে।

তিনি আরো বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির গঠনতন্ত্র মোতাবেক নির্বাচন সাব-কমিটি পুনর্গঠন না করা পর্যন্ত নির্বাচন অনুষ্ঠান না করার জন্য জাতীয়তাবাদী আইনজী ঐক্য প্যানেলের প্রার্থীরা যখন দাবি জানান। তখনই আওয়ামী সমর্থিত সভাপতি শতশত পুলিশ নিয়ে গত ১৫ মার্চ, ২০২৩ সমিতির অডিটরিয়ামে প্রবেশ করে এক বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি করে। তারা আইনজীবীদের উপর আক্রমণ করে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেলের প্রার্থী ও তাদের এজেন্টদের জোরপূর্বক বের করে দেয়। পুলিশি আক্রমণে সমিতির সভাপতি পদপ্রার্থী ও সমিতির সাবেক সাতবারের সম্পাদক ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, সম্পাদক পদপ্রার্থী ও সমিতির তিনবারের সম্পাদক ব্যারিস্টার মো: রুহুল কুদ্দুসসহ (কাজল) শতাধিক আইনজীবী আহত হন। নারী আইনজীবীরাও পুলিশি আক্রমণ ও নির্যাতন থেকে রেহাই পাননি। পেশাগত দায়িত্ব পালনরত বেশ কয়েকজন সাংবাদিককে বেদম প্রহার করে গুরুতর আহত করা হয়। উল্টো ঐক্য প্যানেলের সভাপতি ও সম্পাদক পদপ্রার্থী, বর্তমান কার্যকরী কমিটির ৬ জন সদস্য, সর্বসম্মত নির্বাচন সাব-কমিটির দু’জন সদস্যসহ ১২ জন বিজ্ঞ আইনজীবীর বিরুদ্ধে দু’টি মিথ্যা ও বানোয়াট মামলা দায়ের করা হয়েছে। একজন আইনজীবীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এসবই তাদের ফ্যাসিস্ট চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ। এ পরিস্থিতিতে আওয়ামী আইনজীবী ও পুলিশি তাণ্ডবে পরে আর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। তা সত্ত্বেও নির্বাচনের নামে প্রহসন করা হয়েছে। এটা শুধুমাত্র আইনজীবী সমাজেরই নয়, পুরো জাতীর জন্যই কলঙ্কজনক।’

তিনি বলেন, আমরা মনে করি, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভোট ডাকাতিতে সিদ্ধহস্ত আওয়ামী লীগের মুখোশ আরেকবার উন্মোচিত হলো। দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থার কফিনে শেষ পেরেকটি ঠোকানো হয়েছে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতিতে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির সহ দফতর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু, চেয়ারপাসনের প্রেস উইং কর্মকর্তা শামসুদ্দিন দিদার।