Home Blog Page 624

জাতিসংঘে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত আবদুল মুহিত ও সমুদ্রতল দপ্তরের মহাসচিব মাইকেল ডব্লিউ লজের বৈঠক

জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ আবদুল মুহিত আন্তর্জাতিক সমুদ্রতল দপ্তরের মহাসচিব মাইকেল ডব্লিউ লজের কাছে তার পরিচয়পত্র পেশ করেছেন। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১৬ মার্চ) জ্যামাইকার রাজধানী কিংস্টনে অবস্থিত আন্তর্জাতিক সমুদ্রতল কর্তৃপক্ষের সদরদপ্তরে এই অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়।

পরিচয়পত্র পেশ করার পর রাষ্ট্রদূত মুহিত এবং মহাসচিব লজ একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হন। উক্ত বৈঠকে তারা বাংলাদেশ এবং আন্তর্জাতিক সমুদ্রতল কর্তৃপক্ষের মধ্যে পারস্পরিক স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন। ২০১৬ সালে অথরিটির অ্যাসেম্বলিতে বাংলাদেশের প্রেসিডেন্সি এবং ২০২০ সালে কাউন্সিলে প্রেসিডেন্সির কথা উল্লেখ করে মহাসচিব ইন্টারন্যাশনাল সিবেড অথরিটির কাজে বাংলাদেশের অমূল্য অবদানের গভীর প্রশংসা করেন।

সুনীল অর্থনীতিকে বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের এক নতুন দিগন্ত হিসেবে উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত মুহিত আমাদের সামুদ্রিক সম্পদের সংরক্ষণ, বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনা এবং যথাযথ ব্যবহারের নিমিত্ত প্রয়োজনীয় সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক সমুদ্রতল কর্তৃপক্ষের মধ্যে বর্ধিত সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এ প্রেক্ষিতে মহাসচিব আগামী দিনগুলোতে বাংলাদেশের সঙ্গে আরো ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

বাংলাদেশসহ ১৬৭টি রাষ্ট্র নিয়ে আন্তর্জাতিক সমুদ্রতল কর্তৃপক্ষ গঠিত। সংস্থাটি সমগ্র মানব জাতির কল্যাণে আন্তর্জাতিক গভীর সমুদ্র তলদেশে খনিজ সম্পদ সংক্রান্ত সকল কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।

জীবনের রানী চক্রের এলোমেলো গল্প

জীবনের এমন একটা সময় ছিল যখন বসন্তের বাতাস, কোকিলের ডাক, চাঁদের আলো কিংবা বৃষ্টির টাপুর টুপুর শব্দে মাতোয়ারা হয়ে যেতাম। গল্প-উপন্যাস কবিতার বই কিংবা দেশী-বিদেশী ম্যাগাজিন নিয়মিত পড়া এবং সেগুলোকে নিত্যসঙ্গী করা জীবনের জন্য অপরিহার্য হয়ে পড়েছিল। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে নতুন কিছু অধ্যয়ন- শিয়রে বই পুস্তক রাখা অথবা ভ্রমণে বিদ্যাসামগ্রীকে সঙ্গী করা দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিণত হয়েছিল। শরীরচর্চা-খেলাধুলা-সঙ্গীত-নাট্যকলা, সিনেমা-থিয়েটার ছাড়াও আবহমান বাংলার জারি সারি-নৌকা বাইচ প্রভৃতি ক্রীড়া-কর্মের নিয়মিত কর্মী হিসেবে যে সময় পার করেছি তা ২০২৩ সালে এসে স্মরণ করতেও ভয় লাগে।

আমার মতো যারা ষাটের দশকের মাঝামাঝিতে অজো পাড়াগাঁয়ে জন্মেছিলেন এবং জীবনের বহু ধাপ পেরিয়ে লন্ডন আমেরিকা ঘুরে এসে ঢাকাতে বসতি স্থাপন করে দেশপ্রেমের মহান সৈনিক হিসেবে তৃপ্তির ঢেকুর তুলেছিলেন তারা তখন জীবন-জীবিকার জাঁতাকলে পড়ে কতটা আর্তচিৎকার করতে পারেন সেই প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হয়েছেন। পেটের চিন্তা-মস্তিষ্কের চিন্তা, শরীর ও মনের চিন্তার জটিল রসায়ন এবং অশান্ত সময়ের সব বিরূপ পরিস্থিতি মানুষকে কিভাবে অমানুষ বানিয়ে ফেলছে অথবা জীবিত মানুষকে কিভাবে অনুভূতিহীন মৃত মানুষে রূপান্তরিত করে ফেলছে সেই কাহিনী ফুটিয়ে তোলার সাধ্য আমার নেই। স্বৈরাচারীদের কপাল ভালো যে, বর্তমান জমানায় কোনো শরৎচন্দ্র-সুকান্ত কিংবা কাজী নজরুল নেই। অথবা শিল্পাচার্য জয়নুলের মতো বা পটুয়া কামরুল হাসানের মতো কেউ নেই যারা তুলির আঁচড়ে জীবন-ইতিহাস রচনা করার সক্ষমতা রাখেন।

বাজারে দ্রব্যমূল্যের আগুন মাছ- গোশতের দামের কাহিনী রোজ যেভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে তাতে আমি যদি বলি এরশাদ জমানায় ১৯৮৬ সালে গরুর গোশতের কেজি ২০ থেকে ২৫ টাকা ছিল। তবে কয়জন আমার কথা বিশ্বাস করবেন। ঢাকা শহরে সেই জমানায় এক হাজার টাকা রোজগার করতে পারলে তিন-চারজনের একটি সংসার দিব্যি আরাম-আয়েসে চলতে পারত। আমি যখন ঢাকাতে প্রথম সংসার শুরু করেছিলাম তখন জীবনযাত্রার যে ডাটফাট ছিল তা হাল আমলে কল্পনাও করা যায় না। প্রতি বেলা খাবারে আট-দশ প্রকারের ভাজি-ভর্তা-তরিতরকারি না হলে আমার চলত না। কাটারিভোগ চালের সুবাসিত ভাত, খাঁটি গরুর দুধের সরসহ ঘন ও গাঢ় করে পাকানো দুধের সাথে দেশী-সবরী কলা দিয়ে দুধ-ভাত দিয়ে খাদ্য শেষ করে তৃপ্তির ঢেকুর তুলে বিছানায় শরীর এলিয়ে দেয়ার সেই স্মৃতি আর কতদিন স্মরণে রাখতে পারব তা বলতে পারব না।

কয়েক দিন আগে সাভারের একটি গ্রামে কয়েক দিন থেকে এলাম। গ্রামের সাদামাটা যে সেলুনটিতে চুল কাটালাম সেখানে কর্মরত একমাত্র নরসুন্দরের করুণ কাহিনী শুনে জীবনের হিসাব মিলাতে পারলাম না। তার স্ত্রী একটি গার্মেন্ট কোম্পানিতে চাকরি করেন। প্রতিষ্ঠানটিতে গত এক বছর ধরে কাজকর্ম তেমন একটা নেই। ছয় হাজার লোকবলের বিশাল কারখানাটির বেশির ভাগ শ্রমিক সারাদিন কর্মহীন বসে থাকেন। কর্তৃপক্ষ দুই-তিন মাস পর একবার বেতন দেন। কর্মীরা ছুটিছাঁটার দরখাস্ত করলে মালিক পক্ষ সাথে সাথে মঞ্জুর করেন এবং একদিনের স্থানে দশ দিন ছুটি দিয়ে দেন। অন্য দিকে নরসুন্দর নিজে সাকুল্যে আট দশ হাজার টাকার বেশি উপার্জন করতে পারেন না। এই অবস্থায় চার সদস্যের পরিবার নিয়ে তিনি কিভাবে চলেন তা আর জিজ্ঞাসা করার সাহস পেলাম না।

নরসুন্দরের কথা শুনে মন ভারী হয়ে উঠল। প্রথমত. তার স্ত্রী যে প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন সেটির মালিক পক্ষ আমার পরিচিত। বাংলাদেশের প্রাচীনতম এবং বৃহত্তম গার্মেন্ট ব্যবসায়ী। সাভারে বেড়াতে যাওয়ার কিছুদিন আগে সেই গার্মেন্ট মালিকের মেয়ের বিয়েতে সপরিবারে নিমন্ত্রিত ছিলাম। বিয়ে বাড়ির সাজসজ্জা আদর আপ্যায়নের বিলাসিতায় আশ্চর্য হয়ে ভাবছিলাম এমন একটি অনুষ্ঠানে কত টাকা খরচ হতে পারে- দশ কোটি কিংবা পনেরো কোটি! অনুষ্ঠানের জাঁকজমক এবং শিল্পপতির উচ্ছ্বাস দেখে আমার মনে হয়েছিল, পুরো গার্মেন্ট সেক্টরে ব্যবসার মন্দা চললেও ভদ্রলোকের ব্যবসা হয়তো ভালো। আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম সময় সুযোগ করে ভদ্রলোকের সাথে ব্যবসাবাণিজ্য নিয়ে আলোচনা করব এবং বিরূপ সময়ে তার সফলতার নেপথ্য কারণগুলো শুনব। কিন্তু সাভারের নরসুন্দরের কথা শোনার পর আমার মনটা ভদ্রলোকের জন্য হু হু করে কেঁদে উঠল। নিজের শত অভাব আড়াল করে কেবল চল্লিশ বছরের সফলতাকে যেন কেউ তাচ্ছিল্য করতে না পারে সেজন্য ঋণ করে জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানস্থলে তিনি এক বুক কান্না নিয়ে আমাদের সামনে অনবরত হেসেই চলেছিলেন।
উপরিউক্ত ঘটনার মতো প্রায় হুবহু আরেক ঘটনার কথা না বললে আমাদের ধনিক শ্রেণীর বেদনা অনুভব করতে পারবেন না। আমার ঘনিষ্ঠ এক বন্ধুর মেয়ের বিয়ে হলো মাস তিনেক আগে। আকদ, গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান হলো যথাক্রমে র‌্যাডিসন ও শেরাটনে। বিয়ের অনুষ্ঠান হলো সেনাকুঞ্জে। বন্ধুর ফ্যাক্টরিতে আরেকটি অনুষ্ঠান হলো যেখানে পাঁচ হাজার শ্রমিক-কর্মচারীকে বিয়ের খাবার খাওয়ানো হলো। চারটি অনুষ্ঠানে কম করে হলেও দশ কোটি টাকার মতো খরচ হয়ে গেল। আমি বন্ধুটিকে জিজ্ঞাসা করলাম কেন তিনি দুঃসময়ে এত বিশাল ব্যয়ের ঝক্কিঝামেলা করতে গেলেন, যেখানে গত এক বছর ধরে তিনি ক্রমাগত ঋণগ্রস্ত হচ্ছেন এবং ব্যবসায় লোকসান দিয়ে যাচ্ছেন।

আমার কথা শুনে বন্ধুটি কষ্টে হাসি দিলেন এবং নিজের জীবনের নির্মম বাস্তবতার কথা শোনালেন। তার মতে, আমাদের সমাজ দারিদ্র্যকে সহ্য করে না। দুর্বলের স্থান সর্বদা পায়ের তলায়। কেউ যদি টের পায় যে, ধনী ব্যক্তির ধন সঙ্কট চলছে ওমনি সবাই মিলে তাকে দরিদ্র বানানোর জন্য চেষ্টা-তদবির শুরু করবে। অন্য দিকে ব্যবসাবাণিজ্যের ক্ষেত্রে নিজ অফিসের কর্মচারী থেকে শুরু করে কাস্টমার, এজেন্ট, ব্যাংক, বীমা সরকারের রাজস্ব বিভাগ অথবা গুণ্ডা-মাস্তানরা যদি টের পায় যে, কোনো প্রতিষ্ঠানের মালিকের আর্থিক দুরবস্থা শুরু হয়েছে তবে সবাই সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে দুর্দশাগ্রস্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেবে। ফলে সব বড় ব্যবসায়ীকে কৌশলে সারাক্ষণ গাল ফুলিয়ে রাখতে হয়, অর্থাৎ গাড়ি-বাড়ি, জামা-কাপড় ইত্যাদিতে ফুটানি প্রদর্শন করে নিজের অস্তিত্ব জানান দিতে হয়।

আমি জানি না, এই মুহূর্তে সারা বাংলাদেশে ঠিক কতজন শিল্পপতি আমার বন্ধুর মতো গাল ফুলিয়ে শেষ রক্ষার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন! তবে পত্রপত্রিকার খবর অনুযায়ী দেশের পুরো আর্থিক খাতে যে মন্দা চলছে তাতে দেশের করপোরেট জগৎ জ্বলেপুড়ে ছারখার হতে চলেছে। বৃহত্তম শিল্প প্রতিষ্ঠান-ব্যাংক বীমা থেকে শুরু করে- পাড়া মহল্লার খুদে ব্যবসায়ী, রিকশাওয়ালা, ধোপা-নাপিত, দিনমজুর থেকে শুরু করে চাঁদাবাজ-ঘুষখোর-ছিনতাইকারী সবার হিসাবের খাতায় টান পড়েছে। যাদের সঞ্চয় ছিল তারা সেগুলো ভাঙ্গিয়ে খাচ্ছেন আর যাদের সম্পদ রয়েছে তারাও বিক্রি বাট্টা করে দিনকে দিন দরিদ্র থেকে দরিদ্রতর হওয়ার পথে অবিরত ছুটে চলেছেন।

দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী প্রতিদিন অন্ন-বস্ত্র-বাসস্থানের চাহিদা সীমিত করে চলেছেন। ফলে ছিন্নবস্ত্রের হাড় জিরজিরে দুর্বল লোকের সংখ্যা ক্রমেই বেড়েই চলেছে। শ্রমজীবীর শ্রম দেয়ার ক্ষমতা কমে যাচ্ছে। বুদ্ধিজীবী ক্রমেই বেআক্কল হয়ে যাচ্ছেন। লোভী ও সুবিধাভোগীরা নির্মম ও হিংস্র হয়ে পড়েছেন। ক্ষমতাধররা অধৈর্য ও অত্যাচারী গোষ্ঠীতে রূপান্তরিত হয়ে পড়েছেন। মানুষের মেধা ও মননশীলতায় মড়ক লেগেছে। ফলে চার দিকে, হৈ হুল্লোড়, অস্থিরতা, হাঁকডাক ও মারামারি-কাটাকাটি বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিছু লোকের জবান বন্ধ হয়ে গিয়েছে আর অন্য দিকে কিছু লোকের জবান লাগামহীন হয়ে পড়েছে।

উল্লেখিত অবস্থায় আমার শৈশব-কৈশোরের আবহমান বাংলার প্রকৃতি ও পরিবেশ মাঝেমধ্যে আমার মনে এক ধরনের নস্টালজিয়া সৃষ্টি করে। অতীতের সুন্দর দিনগুলোতে দেহ-মনে যে প্রশান্তি ছিল কিংবা মস্তিষ্কের জ্ঞানভাণ্ডার সমৃদ্ধ করার যে আয়োজন ছিল তা হাল আমলে সমাজ-সংসার রাষ্ট্র থেকে রীতিমতো উঠে গেছে। ফলে আকাশে আগের মতোই চাঁদ আছে কিন্তু জোৎস্না দেখার লোক নেই। কোকিলেরা আগের মতোই গান গায় কিন্তু কোকিলের সাথে কণ্ঠ মিলিয়ে কোনো শিশু টুটু শব্দে গলায় সুর তোলে না। নদীতে জোয়ার আসে- নৌযান চলে কিন্তু কোনো মাঝি আগের মতো গান গেয়ে ওঠে না।

লেখক : সাবেক সংসদ সদস্য

বিএনপি জানে কি,পাকিস্তান ছাড়া আর কোনো দেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকার নেই ? কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, পাকিস্তান ছাড়া বিশ্বের কোনো দেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকার নেই।

তিনি বলেন, বিশ্বের কোনো দেশ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কথা বলে না, যা বিএনপিই নির্লজ্জভাবে বলে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে খাদ্য বিতরণ ও আলোচনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, বিএনপি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কথা বলছে। এতে তাদের লজ্জিত হওয়া উচিত।

কাদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে লালন করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন এবং বিশ্বের কাছে রোল মডেলে পরিণত করছেন।

ড. ইউনূসকে নিয়ে ৪০ জন বিশ্বনেতার চিঠি প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, যারা বাংলাদেশের কথা ভাবে না, তাদের নিয়ে আমাদের ভাবার দরকার নেই। তিনি নিজেই আইন লঙ্ঘন করেন।

সূত্র : ইউএনবি

সাকিবের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক মন্তব্য ব্যারিস্টার সুমনের

সাকিব আল হাসানের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন ব্যারিস্টার সুমন, বললেন তাকে মারার জন্য তেড়েফুঁড়ে এসেছিলেন সাকিব।

বৃহস্পতিবার (১৬ মার্চ) নিজের ফেসবুক পেজে এক ভিডিও বার্তায় এমন দাবি করেন স্বয়ং সুমন। শুধু তাই নয়, দুবাইয়ের স্বর্ণ ব্যবসায়ী আরাভ খানের স্বর্ণের দোকান উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সাকিবের অংশ গ্রহণ নিয়েও সমালোচনা করেন তিনি।

সাকিব আল হাসান বরাবরই থাকেন শিরোনামে, মাঠে কিংবা মাঠের বাইরে সর্বাবস্থায় আলোচনায় থাকেন তিনি। ইংল্যান্ডের বিপক্ষের দারুণ সিরিজ কাটানোর পর এবার সাকিব আলোচনায় দুবাইয়ে এক স্বর্ণের দোকান উদ্বোধন করতে গিয়ে। যে দোকানের মালিকদের একজন আরাভ খান পুলিশ খুনের মামলার পলাতক আসামি।

যাহোক সাকিব আল হাসান কেন গেলেন, কি কারণে গেলেন; কিংবা কার আমন্ত্রণ গেলেন তা আড়ালেই রয়ে গেছে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। যার সাথে এবার তাল মেলালেন আলোচিত ইউটিউবার ব্যারিস্টার সুমন। সেই সমালোচনা করতে গিয়েই সুমন তোলে ধরলেন তাকে দেখে সাকিবের মারতে আসার বিষয়টি।

সুমন বলেন, ‘বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সিরিজ চলাকালীন সময়ে হোটেল সোনারগাঁওয়ে সাকিবের সাথে আমার দেখা হয়েছিল। ওই সময় আমাকে দেখে সে পুলিশ এবং বিসিবি কর্মকতার্দের সামনে আমাকে মারতে এসেছিল। সেখানে কিছু আমেরিকান লোকজন ছিল, যাদের সাথে আমি দেখা করতে গিয়েছিলাম। তাদের সামনে সবাইকে অগ্রাহ্য করে আমাকে মারতে আসছিলেন। আমি কিছু বলিনি।’ এমনকি পুলিশের অনুরোধে নাকি তিনি বিষয়টা চেপে গিয়েছিলেন বলেও দাবি করেন সুমন।

কেন সাকিব তাকে মারতে গেলেন, সেটাও পরিষ্কার করে দেন ব্যারিস্টার সুমন। তিনি বলেন, ‘কিছুদিন আগে একটা ভিডিওতে তাকে বলেছিলাম যেন জুয়ার সাথে সে সম্পৃক্ত (বিজ্ঞাপনে) না হয়। প্রয়োজনে তিন লাখ টাকা লাগলে আমি তাও দিতে রাজি।’ অতঃপর তিনি বলেন, ‘সাকিব আল হাসান এমন একজন মানুষ, যিনি কোনো ধরনের সমালোচনা সহ্য করতে পারেন না।’

এর আগে দুবাইয়ের সেই দোকান উদ্বোধন নিয়ে তিনি বলেন, ‘যার দোকান উদ্বোধন করতে যাচ্ছেন তিনি একজন পুলিশ হত্যা মামলার পলাতক আসামি। ইন্টারপোলের সাহায্যে আমরা তাকে ধরে আনা চেষ্টা করছি। তারপরও সাকিব আল হাসান তার দোকান উদ্বোধন করতে গেছেন। আমার কাছে মনে হয়েছে, এটা যে একটা অপরাধ, সেটা তিনি জানেন কিনা! সেলিব্রেটি হলে কি তার কোনো অপরাধের বিচার হবে না।’

ইসলামী ব্যাংকের জমি কিনে নিল বাংলাদেশ ব্যাংক

মতিঝিল এলাকায় সেনা কল্যাণ ভবনের পাশে কিনে রাখা বেসরকারি খাতের ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের জমি কিনে নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ২০ বছর আগে প্রধান কার্যালয়ের জন্য জমিটি কিনেছিল ইসলামী ব্যাংক। ওই জমি ১১০ কোটি টাকায় কিনে নিল বাংলাদেশ ব্যাংক।

বৃহস্পতিবার (১৬ মার্চ) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র মেজবাউল হক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংক এমন এক সময়ে এই জমি কিনল, যখন সঙ্কটে পড়ে প্রতিনিয়ত ইসলামী ব্যাংককে তারল্য সহায়তা নিতে হচ্ছে। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে নীতি ছাড়ও পেয়েছে ব্যাংকটি। বিশেষ সুবিধার আওতায় তারল্য জোগানও দেয়া হয়েছে।

জানা গেছে, গভর্নর আতিউর রহমান থাকাকালেই এ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। তখনই এক প্রকার দামদরও ঠিক করা হয়েছিল। নানা সময়ে আলোচনা করার পরেও ইসলামী ব্যাংক জমিটি ছাড়তে রাজি হয়নি।

সূত্রগুলো জানায়, আব্দুর রউফ তালুকদার গভর্নর পদে যোগ দেয়ার পর এ নিয়ে তৎপরতা বাড়ান। এ সময় ব্যাংকটিও নানা সমস্যার মধ্যে পড়ে। ফলে ব্যাংকটির মালিকপক্ষ জমিটি ছেড়ে দিতে বলে। এর পরিপ্রেক্ষিতেই সম্প্রতি জমির দলিল সম্পন্ন হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যে জমির দাম ব্যাংকটিকে পরিশোধ করে দিয়েছে।

সরজমিনে দেখা গেছে, জমি কেনার পর ভাঙা হচ্ছে ওই স্থাপনা। ইতোমধ্যে ইসলামী ব্যাংক সেনাকল্যাণ ভবন সংলগ্ন জমি থেকে তাদের বিভাগগুলো সরিয়ে ফেলেছে।

জমি ক্রয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহাম্মদ মুনিরুল মওলা বলেন, ‘প্রধান কার্যালয়ের ভবন তৈরির জন্য আমরা জায়গাটি কিনেছিলাম। সেটা প্রায় ২০ বছর আগে। জায়গাটি বাংলাদেশ ব্যাংক-সংলগ্ন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আগ্রহ প্রকাশ করায় তা বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে বিক্রি করা হয়েছে।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরিকল্পনা রয়েছে ওই জমিতে দ্রুততম সময়ে সর্বাধুনিক সুবিধা ও নিরাপত্তাসংবলিত একটি ভবন তৈরির কাজ শুরু করা। কারণ বর্তমানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিজস্ব যে দুটি ভবন রয়েছে, তাতে জায়গা সংকুলান হচ্ছে না। এজন্য সেনা কল্যাণ ভবনের বেশির ভাগ তলা ভাড়া নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

তদন্তের স্বার্থে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে সাকিব-হিরো আলমকে

দুবাইয়ে স্বর্ণের দোকান ‘আরাভ জুয়েলার্স’ করেছেন পুলিশ হত্যা মামলার আসামি আরাভ খান। ওই ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের উদ্বোধনে গেছেন ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান ও কন্টেন্ট ক্রিয়েটর হিরো আলম। ওই মামলার তদন্তের স্বার্থে তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন ডিবি প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মাদ হারুন অর রশীদ।

বৃহস্পতিবার (১৬ মার্চ) দুপুরে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

ডিবি প্রধান জানান, আরাভ জুয়েলার্সের মালিক পুলিশের বিশেষ শাখার পরিদর্শক মামুন এমরান খানের খুনের আসামি। বিষয়টি জানানো হয়েছিল সাকিবকে। তবুও তিনি সেখানে গেলেন। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক।

তিনি বলেন, ‘তারা পুলিশ কর্মকর্তা মামুনকে কেবল হত্যাই করেনি। তার লাশটাও যেন না পাওয়া যায়, সেজন্য কালীগঞ্জের জঙ্গলে ফেলে এসেছে। আমরা এ হত্যা মামলার তদন্ত করে চার্জশিটও দিয়েছি। ইন্টারপোলের মাধ্যমে আসামি আরাভ খানকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্যও আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলেছি। এছাড়া সাকিবরা বিষয়টি জানার পরও একজন হত্যা মামলার আসামির ডাকে কেন সেখানে গেলেন, তদন্তের জন্য প্রয়োজনে দেশে ফেরার পর তাদেরও ডেকে জানতে চাওয়া হবে।’

নৈশভোজের আমন্ত্রণে ভারতীয় হাইকমিশনে বিএনপির ৫ নেতা

নৈশভোজের আমন্ত্রণে ভারতীয় হাইকমিশনে পৌঁছেছেন বিএনপির পাঁচ নেতা।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে তারা সেখানে পৌঁছান।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইং সদস্য শায়রুল কবির খান নয়া দিগন্তকে বলেন, ভারতীয় হাই কমিশনের আমন্ত্রণে বিএনপির পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল নৈশভোজনে গেছে। প্রতিনিধি দলে রয়েছেন, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মোশাররফ হোসেন, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু ও সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ।

বিশ্বে গম-চালের দাম চড়াই থাকছে, নতুন ধাক্কায় আরো বাড়ার শঙ্কা

বিশ্বব্যাংক বলছে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর বিশ্বব্যাপী খাদ্যদ্রব্যের দামে যে ঊর্ধ্বগতির সূচনা হয়েছিল, এক বছরে তা কিছুটা কমে এলেও, দাম বাড়তির দিকে থাকা এবং নতুন কোনো ধাক্কায় তা আবারো বেড়ে যাওয়ার মতো শঙ্কার কারণ রয়ে গেছে।

বিশ্বব্যাংক আরো বলেছে, ‘রুশ বাহিনী ইউক্রেনের কৃষ্ণ সাগর বন্দর অবরোধ করে বিশ্বের বৃহত্তম রফতানিকারক দেশগুলোর অন্যতম ইউক্রেনের গমের চালান বন্ধ করে দেয়। তখন খাদ্যের দাম বেড়ে যায়। উদ্ভুত পরিস্থিতিতে অনেক দেশ অভ্যন্তরীণ খাদ্য সরবরাহ অব্যহত রাখার জন্য খাদ্য বা সার রফতানি বন্ধ করে দেয়। এসব পদক্ষেপে হিতে বিপরীত হয় এবং কেবল খাদ্যের দামই বাড়িয়ে দেয়। খাদ্য আমদানির ওপর নির্ভরশীল উন্নয়নশীল দেশগুলোতে স্বল্প সময়ের জন্য খাদ্য সংকটের হুমকি দেখা দেয়।’

বিশ্বব্যাংক বলছে, এখন অবশ্য সেই পদক্ষেপের অনেকগুলোই আর কার্যকর নেই। এই উচ্চমূল্য মূলত বিস্তৃত বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতির প্রতিফলন। চলতি বছরের জানুয়ারিতে ভুট্টার গড় মূল্য ২০২১ সালের জানুয়ারির তুলনায় ৩১ শতাংশ বেশি ছিল এবং গমের মূল্য ছিল ১৪ শতাংশ বেশি। চালের মূল্য ছিল দুই শতাংশ কম। তারপরও অবশিষ্ট বিধিনিষেধগুলোও সংকট সৃষ্টি করছে। গত বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার এক বছর পর- কোটা, লাইসেন্স এবং সরাসরি নিষেধাজ্ঞাসহ ১০১টি রফতানি নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে। বিশ্বব্যাংকের মতে, এগুলো ডব্লিউটিও নীতির পরিপন্থী। আর এর সবগুলোর মেয়াদও অস্থায়ী নয়। অর্থাৎ এগুলো সাময়িক নিষেধাজ্ঞা নয়। এই নিষেধাজ্ঞাগুলো ২০২২ সালের খাদ্য বাণিজ্যের ১১ শতাংশেরও বেশির ওপর প্রভাব ফেলে। শুধুমাত্র রফতানি নিষেধাজ্ঞাগুলোই বিশ্বব্যাপী খাদ্য বাণিজ্যে ৩.৮ শতাংশ পর্যন্ত প্রভাব ফেলে।

বিশ্বব্যাংক জানায়, এই যুদ্ধের ফলে খাদ্যমূল্য ৫২.৭ শতাংশ বেড়ে যায় এবং ২০২২ সালের প্রথমার্ধে রাশিয়ার নিষেধাজ্ঞা এই মূল্যবৃদ্ধির এক চতুর্থাংশের জন্য দায়ী। দেশটি বিশ্বের এক তৃতীয়াংশ গমের সরবরাহ করে এবং অন্যান্য রফতানিকারকরা বৈশ্বিক গমের ৩৪.৫ শতাংশ চালান দেয়। বৈশ্বিক গম রফতানির ৫.২ শতাংশ চালানের ওপর নিষেধাজ্ঞা সার্বিক গমের ১৬.৭ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধির তিন চতুর্থাংশেরও বেশির জন্য দায়ী।

তবে গত বছরের মাঝামাঝি থেকে পরিস্থিতির উন্নতি হতে শুরু করে উল্লেখ করে বিশ্বব্যাংক বলছে, ওই বছরের ২২ জুলাই ইউক্রেন, রাশিয়া, তুরস্ক ও জাতিসংঘের মধ্যে একটি চুক্তির পরিপ্রেক্ষিতে ইউক্রেনের তিনটি বন্দর থেকে খাদ্য রফতানি পুনরায় শুরু হয়। চুক্তিটির আওতায় রাশিয়া ও অন্য প্রধান তিন গম উৎপাদনকারী দেশ রফতানি নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে এবং এর পাশাপাশি গ্রীষ্ম মৌসুমে শস্যের আবাদ ভাল হওয়ায় বিশ্ব বাজারে খাদ্যের মূল্য হ্রাসে সহায়ক হয়। ওই সময়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও অস্ট্রেলিয়া রফতানি বাড়ায়- যার ফলে কানাডার রফতানি হ্রাস পায়।

মার্কিন কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, ৩০ জুন ২০২২ পর্যন্ত ১২ মাসে বিশ্ব খাদ্য বাণিজ্য ৫ শতাংশ বেড়েছে। অন্যদিকে এই সময়ে ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রের চাল রফতানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বিশ্বের অপর এই প্রধান খাদ্যটির রফতানি ৪.৫ শতাংশ বেড়েছে। অধিকন্তু ভারতও চাল রফতানি বাড়িয়ে দেয়।

বিশ্বব্যাংক আশঙ্কা করছে যে, এরপর যদি বাণিজ্যের ক্ষেত্রে নতুন করে কোন নিষেধাজ্ঞা আরোপ হয়, তবে বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধি হয়ে নিত্যপণ্যে বাজার অস্থিতিশীল হতে পারে। রুশ-উইক্রেন যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে উদ্ভুত বিশ্ব বাজার পরিস্থিতিতে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ভারত ক্ষুদ রপ্তানি নিষিদ্ধ করে- যা মূলত পশুখাদ্য। এছাড়াও ধান উৎপাদনকারী অঞ্চলগুলোতে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ গড়ের চেয়ে কম হওয়ায় ভারত অভ্যন্তরীণ বাজারে সরবরাহ বাড়াতে ও স্থানীয় খাদ্যমূল্য স্থিতিশীল রাখতে অন্যান্য জাতের চাল রফতানির ওপর ২০ শতাংশ শুল্ক বাড়িয়ে দেয়।

বিশ্বব্যাংক জানায়, ‘ভারতের নিষেধাজ্ঞার কারণে বৈশ্বিক চালের বাজারে ৫ শতাংশ চালান হ্রাস পায় এবং বিশ্ববাজারে চালের মূল্য ২ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়া আশঙ্কা দেখা দেয়। আর অন্যান্য রফতানিকারকরা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে চালের দাম আরো ২.৩ শতাংশ বেড়ে যেতে পারে। আর এরপর ভারত চাল রফতানির ওপর আবারো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে বিশ্ববাজারে চালের দাম ৪.৩ শতাংশ থেকে ১২.১ শতাংশ বেড়ে যেতে পারে। আর থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামও যদি এই নিষেধাজ্ঞায় যোগ দেয়- তবে বিশ্ববাজারে চালের দাম ২০ শতাংশ বেড়ে যাবার আশঙ্কা রয়েছে।’

বিশ্বব্যাংক বলছে যে, অনুরূপভাবে ভুট্টা অথবা গম রফতানিকারক শীর্ষ তিন দেশ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে বিশ্ববাজারে ভুট্টার দাম ৪৪ শতাংশ ও গমের দাম ৮ শতাংশ বেড়ে যেতে পারে। এভাবে খাদ্যমূল্যে আরো বৃদ্ধি পেলে, নিম্ন ও নিম্নমধ্য আয়ের দেশগুলো সংকটে পড়বে- যারা রফতানির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।

সূত্র : বাসস

যৌনতায় মত্ত দম্পতির কার্যকলাপ দেখতে যানজট বেধে গেল রাস্তায়

জন্মভূমি ডেস্কঃ হোটেলর ঘরে যৌনতায় মত্ত এক দম্পতি। আর তাঁদের চিৎকার শুনে হোটেলের সামনেই জমে গেল ভিড়। সম্পর্কের ভিত দৃঢ় ও মজবুত করতে শরীরী মিলন জরুরি। প্রিয়জনকে এত নিবিড় ভাবে স্পর্শের মুহূর্তে একটা বাড়তি উত্তেজনা ও উন্মাদনা স্বাভাবিক ভাবেই কাজ করে। কিন্তু এই একান্ত ব‍্যক্তিগত মুহূর্তের আবেগ যদি বাইরের লোকেও কানেও পৌঁছে যায়, তখনই ঘটে বিপত্তি! যৌনতা চলাকালীন শীৎকার খুবই সাধারণ মনে হতে পারে অনেকের কাছেই। কিন্তু সেই শব্দে যদি রাস্তায় লোক জমে যায়, তাহলে বোধ হয় অনুভূতি আর ব্যক্তিগত থাকে না। ওই দম্পতির পরিচয় এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। জানা গিয়েছে, রিয়াল মাদ্রিদের একটি হোটেলে উঠেছিলেন তাঁরা। হোটেলের নীচের একটি ঘরে ছিলেন তাঁরা।

এক দিন সকাল থেকে হোটেলের ওই ঘরের সামনে এক জন-দু’জন করে লোক জমতে শুরু করে। লোক জড়ো হওয়ার কারণ খুঁজতে এসে চক্ষু চড়কগাছ হয়ে যায় এক হোটেলকর্মীর। জানলার পর্দা তোলা। অথচ সে দিকে কোনও ভ্রুক্ষেপ নেই দম্পতির। নিজেদের মতো যৌনতায় মগ্ন তাঁরা। সেই সময় তাঁদের ঘরে ফোন করে সচেতন করা হয় হোটেলের তরফে। কিন্তু তাতে লাভ হয়নি কিছুই। ঘর থেকে পাশের স্নানঘরে চলে যান তাঁরা। পাতলা কাচের আড়াল থেকেও দম্পতির সঙ্গমরত ভঙ্গি চোখে পড়ে অনেকের। এবং স্নানঘরের ঘুলঘুলি থেকে সেই আবেগ মিশ্রিত শীৎকার শুনতে দাঁড়িয়ে পড়েন পথচারীরা। গোটা রাস্তা জুড়ে যানজট হয়ে যায়। সেই দৃশ্য শুনে এবং দেখেই ক্ষান্ত হননি কেউই। অনেকেই নাকি সেই শীৎকারে শব্দ ফোনে রেকর্ডও করেছেন।

বাইরে তাঁদের ঘিরে এত কিছু হয়ে যাচ্ছে, অথচ সে দিকে কোনও হুঁশ নেই দম্পতির। অনেকেরই মনে, শারীরিক ঘনিষ্ঠতার সময় অন্য কোনও দিকে মন দিতে ইচ্ছে করে না ঠিকই। কিন্তু তাই বলে চোখ, কান খোলা না রেখে শরীরী উদ্‌যাপনে মগ্ন হয়ে যাওয়া বাড়াবাড়ি।

ফুরফুরে মেজাজে জ্যাকুলিন

বিনোদন ডেস্ক : গত বছর থেকেই ব্যক্তিজীবন নিয়ে বেশ ঝামেলার মধ্যে আছেন জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজ। ২০০ কোটি রুপির আর্থিক জালিয়াতি মামলায় গত বছর গ্রেপ্তার হন তাঁর প্রেমিক সুকেশ চন্দ্রশেখর। সুকেশ চন্দ্রশেখরের সঙ্গে ২০০ কোটি রুপির আর্থিক জালিয়াতির মামলার চার্জশিটেও নাম উঠেছে তাঁর। প্রেমিক সুকেশ চন্দ্রশেখর বর্তমানে আছেন দিল্লির মান্ডোলি জেলে।

ব্যক্তিজীবন নিয়ে ঝামেলার মধ্যে থাকলেও অভিনয়ে অনেকটা নিয়মিত জ্যাকুলিন। এবছর তিনি ব্যস্ত আছেন ‘ক্রাক, ও ‘ফাতেহ’ সিনেমার শুটিংয়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মীতই ফ্যাশনেবল লুকে দেখা যায় জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজকে।

11 1 3
বলিউড অভিনেত্রী জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজ।

সুকেশের সঙ্গে আর্থিক জালিয়াতির মামলায় গত বছরজুড়েই আদালতে দৌড়ঝাঁপ করতে হয়েছে জ্যাকুলিনকে। এই ধারা অব্যাহত রয়েছে চলতি বছরও।

সম্প্রতি অভিযুক্ত সুকেশ চন্দ্রশেখর একটি বিবৃতি পাঠিয়েছেন। বিবৃতিতে সুকেশ বলেন, ‘আমি আর জ্যাকুলিন গভীর সম্পর্কে ছিলাম। তাই নোরাকে সব সময়ই এড়িয়ে চলার চেষ্টা করতাম। কিন্তু ও আমাকে বারবার ফোন করে বিরক্ত করত। বিভিন্ন ধরনের সাহায্যও চাইত আমার কাছে।’

বলিউড অভিনেত্রী জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজ যেখানে এই মামলা থেকে নিষ্কৃতি পেতে চাচ্ছেন, সেখানে একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য সামনে এনে পরিস্থিতি আরও জটিল করে যাচ্ছেন সুকেশ।

11 4
বলিউড অভিনেত্রী জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজ। ছবি: ইনস্টাগ্রাম

জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজ মডেল হিসাবে ক্যারিয়ার শুরু করে ২০০৬ সালে মিস ইউনিভার্স শ্রীলঙ্কার মুকুট জেতেন। ২০০৯ সালে ‘আলাদিন’ সিনেমার মাধ্যমে তিনি বলিউডে আত্মপ্রকাশ করেন।

সূত্র : আজকের পত্রিকা