Home Blog Page 624

বিধ্বস্ত বাংলাদেশ, আশা যাওয়ার মিছিলে নেই ৫ উইকেট

০

রেকর্ড রান তাড়া করতে নেমে অবিশ্বাস্য কিছুই করতে হতো বাংলাদেশকে। তবে যেভাবে এগোচ্ছে বাংলাদেশের ইনিংস, তাতে জয় এখন নিছক কল্পনা বাদে আর কিছুই নয়! ৪৭ রানেই নেই বাংলাদেশের ৫ উইকেট। ফলে ৫১১ রানের পাহাড় টপকানো প্রায় অসম্ভব ।

সিলেট টেস্টে প্রথম ইনিংসে ধনঞ্জয়া ডি সিলভা ও কামিন্দু মেন্ডিস শতক হাঁকালেও ২৮০ রানের বেশি করতে পারেনি শ্রীলঙ্কা। তবে নিজেদের প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ গুটিয়ে যায় ১৮৮ রানেই। ৯২ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করে লঙ্কানরা।

দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুটা ভালো না হলেও শেষটা রাঙান সেই ধনঞ্জয়া ও কামিন্দু। যেন প্রথম ইনিংসেরই পুনরাবৃত্তি করেন, দুজনে ফের হাঁকান শতক। সুবাদে দ্বিতীয় ইনিংসে ৪১৮ রান তুলে শ্রীলঙ্কা। লিড বেড়ে দাঁড়ায় ৫১০ রান।

৫১১ রানের রেকর্ড সংগ্রহ তাড়া করতে নেমে যেমন শুরু প্রয়োজন ছিল, তা পারেনি বাংলাদেশ। ৯ ওভারে মাত্র ৩৭ রানে হারায় ৫ উইকেট। দিনশেষ করে ৫ উইকেটে ৪৭ রানে। এখনো জয়ের জন্য প্রয়োজন ৪৬৪ রান। হাতে ৫ উইকেট।

রোববার সকালে ৫ উইকেটে ১১৯ রান নিয়ে তৃতীয় দিনের খেলা শুরু করেছিল শ্রীলঙ্কা। দিনের শুরুতেই হারায় বিশ্ব ফার্নান্দোর উইকেটও। ১২৬ রানে তখন শ্রীলঙ্কার ৬ উইকেট। ম্যাচে টিকে থাকতে হলে বাংলাদেশ দলের দ্রুত উইকেট নিতে হতো, সেই চেষ্টাতেই ছিল বোলাররা।

তবে সেই চেষ্টার ফল যখন এলো, শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ তখন তিন শ’ ছুঁই ছুঁই। ২৯৯ রানের মাথায় ধনঞ্জয়া ডি সিলভা ফেরেন মেহেদী মিরাজের শিকার হয়ে। আউট হবার আগে তুলে নেন ক্যারিয়ারে নিজের ১৩তম টেস্ট শতক। করেন ১৭৯ বলে ১০৮ রান। ভাঙে কামিন্দু মেন্ডিসের সাথে তার ১৭৩ রানের যুগলবন্দী।

প্রথম ইনিংসে টেস্টে প্রথম শতকের দেখা পাওয়া কামিন্দু দ্বিতীয় শতক পেয়ে যান দ্বিতীয় ইনিংসেই। প্রতাভ জয়সুরিয়ার সাথে ৬৭ রান যোগ করার পথে গড়েন এই কীর্তি। তবে এখানেই থামেননি, শেষ পর্যন্ত ইনিংসটাকে রূপ দেন ক্যারিয়ার সেরা ১৬৪ রানে। মেহেদী মিরাজ নেন ৪ উইকেট।

বিশাল লক্ষ্য তাড়ায় শুরুতেই হোঁচট খায় বাংলাদেশ। কোনো রান যোগ হবার আগেই ফেরেন মাহমুদুল হাসান জয়। ৪ বলে করেন ০। দলীয় সংগ্রহ দুই অংক ছোঁয়ার আগে ফেরেন নাজমুল হোসেন শান্ত। বাংলাদেশ অধিনায়ক ৫ বলে ৬ করে ক্যাচ দেন করুনারত্নেকে।

জাকির হাসান চেষ্টা করেছিলেন পাল্টা আক্রমণের। তবে তাকে ১৯ রানেই থামিয়ে দেন লাহিরু কুমারা। ৩৬ রানে ৩ উইকেট হারানো বাংলাদেশ পরের ১ রান তুলতেই হারায় আরো ২ উইকেট। শাহাদাত দিপু ৩ বলে ০ ও লিটন দাস ফেরেন গোল্ডেন ডাক মেরে। দুজনকেই ফেরান বিশ্ব।

দিনশেষে তাইজুল ইসলাম ৬ ও মুমিনুল হক ব্যাট করছেন ৭ রানে।

অবসর ভেঙে ফিরলেন মোহাম্মদ আমিরও

০

ইমাদ ওয়াসিমের পর এবার অবসর ভেঙে ফের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরলেন পাকিস্তানি পেসার মোহাম্মদ আমির।

রোববার (২৪ মার্চ) একটি এক্স বার্তায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। তার আগে গতকাল শনিবারই অবসর ভেঙে ফের জাতীয় দলে ফিরেছেন দেশটির অলরাউন্ডার ইমাদ ওয়াসিম।

২০২০ সালে হুট করেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন আমির। মূলত কোচ ও টিম ম্যানেজমেন্টের প্রতি অভিযোগ তুলে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছিলেন এই পেসার। এবার টিম ম্যানেজমেন্ট ও পিসিবিতে পরিবর্তন আসায় আবারো পাকিস্তানের জার্সিতে ফিরছেন আমির।

এক্সে আমির লিখেছেন, আমি এখনো পাকিস্তানের হয়ে খেলার স্বপ্ন দেখি। জীবন কখনো কখনো এমন এক জায়গায় নিয়ে দাঁড় করায় যখন আপনাকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে হয়। পিসিবি এবং আমার মাঝে বেশ কিছু ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। যেখানে তারা আমাকে বুঝতে পেরেছে এবং এটা অনুভব করিয়েছে যে আমি পাকিস্তান দলের জন্য প্রয়োজনীয়।

আগামী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের জার্সিতে খেলার ইচ্ছা আমিরের। তিনি লিখেছেন, আমার পরিবার এবং শুভাকাঙ্খীদের সাথে আলোচনা করে এটা ঘোষণা করতে চাই যে আসন্ন বিশ্বকাপের জন্য আমি প্রস্তুত আছি। ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের আগে আমি দেশের হয়ে কিছু করতে চাই। সবুজ জার্সি পরা এবং দেশের সেবা করা সবসময়ই আমার সবচেয়ে বড় আকাঙ্খা ছিল এবং থাকবে।

সূত্র : ডেইলি জংগ ও জিও নিউজ

টানা ১২ আসরে উদ্বোধনী ম্যাচে হার মুম্বাইয়ের

০

এবারো গেরো কেটে বের হতে পারল না মু্ম্বাই। আরো একবার সেই একই চিত্র, একই গল্প। আরো একবার হার দিয়ে আইপিএল আসর শুরু সর্বোচ্চ সংখ্যক শিরোপাজয়ী দলটার। এই নিয়ে টানা ১২ বার! উদ্বোধনী ম্যাচে হার যেন অমোঘ নীতিতে পরিণত হয়েছে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের।

মুম্বাই আইপিএলের এবারের শুরু করল গুজরাটের কাছে হেরে। আহমেদাবাদে রোববার রাতে টসে হেরে আগে ব্যাট করে গুজরাট টাইটান্স। যেখানে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারালেও ৬ উইকেটে ১৬৮ রান তুলে তারা। জবাবে ভালো শুরুর পরও মুম্বাই আটকে যায় ১৬২ রানে। ৬ রানে জয় পেয়েছে গুজরাট।

অথচ জয়ের পথেই ছিল মুম্বাই। এই ম্যাচ হেরে যাবে তারা তা কস্মিনকালেও ভাবেনি কেউ। ১৫ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়েই তুলে ফেলে ১২৬ রান। জয়ের জন্য প্রয়োজন তখন ৩০ বলে প্রয়োজন মাত্র ৪৩ রান, হাতে ৭ উইকেট। তবে এই সহজ সমীকরণও মেলাতে পারেনি হার্দিক পান্ডিয়ার দল।

শেষ ১৩ বলে ৬ উইকেট হারিয়েও মুম্বাই পারেনি লক্ষ্যে পৌঁছাতে। ফলে টানা ১২ মৌসুম নিজেদের উদ্বোধনী ম্যাচে হারলো মুম্বাই। সর্বশেষ নিজেদের খেলা প্রথম ম্যাচে জিতেছিল ২০১২ সালে।

গুজরাটের হয়ে এদিন রানের দেখা পান সকলেই, তবে ইনিংস বড় হয়নি কারো। সর্বোচ্চ ৩৯ বলে ৪৫ রান আসে সাই সুদর্শনের ব্যাটে। শুভমান গিল করেন ২২ বলে ৩১ রান। রাহুল তিওয়াতিয়া ১৫ বলে ২২ ও ঋদ্ধিমান সাহা করেন ১৯ রান।

গুজরাটি ব্যাটারদের থিতু হননি জাসপ্রিত বুমরাহ। মাত্র ১৪ রানে ৩ উইকেট তুলেন তিনি। দুটো উইকেট নেন জেরাল্ড কোয়েটজে।

জবাব দিতে নেমে ইশান কিষানকে শুরুতেই (০) হারালেও রোহিত শর্মা জ্বলে উঠেন। তিনে নামা নামান ধির ১০ বলে ২০ করে আউট হলেও ব্রেভিসকে নিয়ে ১২ ওভারে ১০৭ রান তুলেন রোহিত। রোহিত আউট হন ২৯ বলে ৪৩ রানে।

তবে এরপরই পথ হারায় মুম্বাই। ১৫.৫ ওভারে ব্রেভিস ৩৮ বলে ৪৬ করে আউট হন। এরপর তিলক ভার্মা ১৯ বলে ২৫ ও টিম ডেভিড আর হার্দিক পান্ডিয়া সমান ১১ রান করলেও তা জেতাতে পারেনি মুম্বাইকে। দুটি করে উইকেট নেন মোহিত শর্মা, উমেশ যাদব, ওমরজাই ও স্পেনসার জনসন।

হঠাৎ ‘ভারত ইস্যু’তে কেন মুখোমুখি বিএনপি-আওয়ামী লীগ

বাংলাদেশে রাজনীতিতে ইদানীং বেশ জমে উঠেছে ‘ভারত ইস্যু’, বিশেষ করে বিরোধী দল বিএনপি ও সরকারি দল আওয়ামী লীগের নেতাদের মধ্যে এ নিয়ে অনেক রাজনৈতিক তর্ক-বিতর্ক চলছে। ভারত নিয়ে প্রকাশ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের রেশ ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও।

পাশাপাশি নির্বাচনের পর থেকেই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ-বিরোধী কয়েকটি দলের তৎপরতায় শুরু হওয়া ‘ইন্ডিয়া আউট’ বা ভারতীয় পণ্য বর্জনের যে ক্যাম্পেইন, সেটিও সামাজিক মাধ্যমে আরো ডালপালা মেলেছে।

আবার ভারতবিরোধী এই প্রচারণা নিয়ে পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে অনেকে একে ‘ট্র্যাডিশনাল ভারত বিরোধী রাজনীতি’ হিসেবেও আখ্যায়িত করেছেন।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ রোববার (২৪ মার্চ) এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেছেন, ভারতীয় পণ্য বয়কটের ডাক দেয়ার উদ্দেশ্য হচ্ছে ‘বাজারকে অস্থিতিশীল করে পণ্যের দাম বাড়ানো’।

‘সব ভারতীয় পণ্য বাদ দিয়ে বাংলাদেশের বাজার ব্যবস্থা কখনো ঠিক রাখা যাবে?’, প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় আবার বলেছেন, ভারত নিয়ে ‘জনমনে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে বলেই’ এটি রাজনৈতিক আলোচনায় এসেছে।

‘নির্বাচন এলেই ভারত কোনো রাখঢাক না করেই সক্রিয় হয় বলেই মানুষ ভোট দিতে পারেনি বা বঞ্চিত হয়েছে। সে বঞ্চনা থেকেই ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। মানুষের ক্ষোভ কমানোর কাজ তো বিএনপির না,’ বিবিসি বাংলাকে বলেন তিনি।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী আব্দুর রহমান বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, এটি বিএনপির ‘আজন্ম ভারতবিরোধী রাজনীতির ধারাবাহিকতা’।

‘তারা এটি করছে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার জন্য কিন্তু মানুষ তা প্রত্যাখ্যান করছে,’ মন্তব্য করেন তিনি।

ভারত নিয়ে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের কারণ সম্পর্কে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক জোবাইদা নাসরীন বলেন, ‘বিএনপি বা সমমনা দল বা দলের নেতারা কেউ কেউ যখন ভারতীয় পণ্য বর্জন বা ভারত বিরোধিতাকে মাঠে নিয়ে আসেন তখন রাজনৈতিক কারণেই আওয়ামী লীগ তার কাউন্টার দিয়ে ভারতের ভূমিকার যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করতে চাইছে।’

বিএনপি-ভারত সম্পর্ক
বাংলাদেশের বিরোধী দল বিএনপির রাজনীতিতে ভারতবিরোধিতার ইতিহাস রয়েছে।

তবে বিগত ১০-১৫ বছরে দলটির মধ্যে একটি অংশ বিভিন্ন সময়ে ভারতের সাথে সুসম্পর্ক তৈরির চেষ্টাও করেছে।

আবার কখনো দলের মধ্যেই ভারতবিরোধী গ্রুপ শক্তিশালী হয়ে সে চেষ্টাকে ব্যাহতও করেছে।

২০১৩ সালে ভারতের তখনকার রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জীর ঢাকা সফর কালে সে সময়কার বিরোধী দলীয় নেত্রী হিসেবে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাক্ষাৎ বাতিলের সিদ্ধান্তকে তারই একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচনা করেন অনেকে।

পরে অবশ্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরের সময় হোটেলে গিয়ে তার সাথে সাক্ষাৎ করেছিলেন বেগম জিয়া।

২০১৪ সালে বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল বিএনপির বর্জন সত্ত্বেও এবং সে নির্বাচনের আগে ভারতীয় কূটনীতিকদের দৌড়ঝাঁপ দেখেও বিএনপি এ নিয়ে তখন খুব একটা উচ্চবাচ্য করেনি।

তবে ২০১৮ সালের নির্বাচনের পর বিএনপিকে ভারত ইস্যুতে সরব হতে দেখা যায়। ২০১৯ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরকালে দুই দেশের চুক্তি সম্পাদনের প্রতিবাদে মাঠে নেমেছিল বিএনপি।

সর্বশেষ বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে ২০২১ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরের প্রতিবাদে বাংলাদেশে যে সহিংস বিক্ষোভ হয়েছিল সেটিও বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলোর সাথে দিল্লির দূরত্ব বাড়িয়েছে বলে মনে করেন অনেকে।

এবার দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে থেকেই ভারতের ভূমিকায় ক্ষোভ প্রকাশ করে আসছিল বিএনপি।

দলটির নেতারা মনে করেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমারা আওয়ামী লীগ সরকারের ওপর যে চাপ তৈরি করেছিল সেটি ভণ্ডুল হয়ে গেছে মূলত ভারতের অনড় ভূমিকার কারণে।

‘নির্বাচন এলেই ভারতীয় নেতারা সক্রিয় হন। চারটি নির্বাচনে মানুষ ভোট দিতে পারেনি বলেই ক্ষোভ তৈরি হয়েছে জনমনে। জনগণের আন্দোলন থামানো তো বিএনপির কাজ না,’ বিবিসি বাংলাকে বলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

নির্বাচনের কিছু দিন পরেই ভারতকে প্রত্যাখ্যানের আওয়াজ তোলেন বিএনপির সাথে যুগপৎ আন্দোলনে থাকা গণ অধিকার পরিষদের নেতা ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর।

এরপরেই ‘ইন্ডিয়া আউট’ বা ভারতীয় পণ্য বর্জনের আন্দোলন শুরু হয় এবং একটা পর্যায়ে গত ২১ মার্চ বিএনপির মুখপাত্র ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী নিজেও এই আন্দোলনে সংহতি জানান।

এরপরে প্রতিক্রিয়া আসে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে। দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এক অনুষ্ঠানে বলেন, রাজনৈতিক কোনো ইস্যু না পেয়ে বিএনপি ভারতবিরোধিতা শুরু করেছে।

তিনি বলেন, ‘পাকিস্তান আমল থেকে যে অপপ্রচার শুনেছি, কোনো রাজনৈতিক ইস্যু যখন থাকে না, তখন একটাই ইস্যু আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে নিয়ে আসে। আগে বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে আনত আর এখন শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আনে। সেটা হচ্ছে ভারত বিরোধিতার ইস্যু।’

এর আগে ১৬ মার্চ সামাজিক মাধ্যমে ‘ইন্ডিয়া আউট’ ক্যাম্পেইনের সমালোচনা করেন ওবায়দুল কাদের।

তখন তিনি বলেন, ‘ভারতবিরোধী মনোভাব কেন জাগ্রত করার চেষ্টা করা হচ্ছে? যারা নির্বাচনে আসেনি, এটি তাদের অপপ্রচারের একটা ঢাল। আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতায় থাকে, তখন ভারতবিরোধিতায় লিপ্ত হয় একটি মহল। এখনো তারা সেটি করছে।’

এরপর ২২ মার্চ দলের ধানমন্ডির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি আবার এ নিয়ে কথা বলেন। সে সময় তিনি বলেন, ‘ভারতীয় পণ্য বয়কটের নামে বিএনপি দেশের বাজারব্যবস্থাকে অস্থির করার গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। বিএনপির ডাকে জনগণ সাড়া দেবে না।’

অন্যদিকে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অবসরপ্রাপ্ত) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ মন্তব্য করেন, ‘একটি রাষ্ট্রের প্রতি নতজানু পররাষ্ট্রনীতি বর্তমান শাসক দলের অভ্যাস। দিল্লি আছে, তারা আছে … এ ধরনের কথা বলতে আওয়ামী লীগের লজ্জাবোধ হয় না।’

বিবিসি বাংলাকে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘বিএনপি কোনো দেশের বিরুদ্ধে নয়। তবে জাতীয়তাবাদী রাজনীতির জন্য যা করা দরকার বিএনপি সেটিই করবে।’

‘বারবার আমাদের দেশের নির্বাচনে সক্রিয় হয়ে ভারত মানুষকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে বলেই তারা এখন আন্দোলন করছে। আমরা কেন তাতে বাধা দিব?,’ বলেন তিনি।

অন্যদিকে মন্ত্রী আব্দুর রহমান বলেন, ‘ভারতবিরোধী বক্তব্য হঠাৎ করে রাজনীতিতে এনে অস্থিরতা তৈরি করে একটি অশুভ শক্তি রাজনৈতিক ফায়দা লোটার অপচেষ্টায় লিপ্ত। তাদের জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছে।’

তিনি বলেন, ভারতসহ প্রতিটি উন্নয়ন সহযোগী দেশ দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে আয়োজনে সহায়তা করেছে ‘গণতন্ত্রের স্বার্থেই’।

কেন এই তর্ক-বিতর্ক?
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক জোবাইদা নাসরীন বলেছেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে ভারত সবসময় গুরুত্বপূর্ণ এবং বর্তমান বাস্তবতাতেও তাদের ভূমিকা আছে।

‘ফলে বিএনপি বা তাদের সমমনা কেউ যখন ভারতীয় পণ্য বর্জনের ডাক দেয় কিংবা ভারতবিরোধিতা করে কথা বলতে থাকে তখন রাজনৈতিক কারণেই আওয়ামী লীগকে তার কাউন্টার বা পাল্টা জবাব দিতে হয়,’ বিবিসি বাংলাকে বলেন তিনি।

তার মতে, দল দুটির রাজনীতিতেও ভারতের প্রভাব আছে।

‘যেহেতু বিএনপি মানুষের সেন্টিমেন্টকে উস্কে দিচ্ছে সে কারণে আওয়ামী লীগকে তার যে ভারতের সাথে সুসম্পর্ক আছে, সে জায়গা থেকে কথা বলতে হচ্ছে।’

‘বিএনপি চায় মানুষকে উস্কে দিয়ে ভারতবিরোধিতার নামে আওয়ামী লীগকে কোণঠাসা করতে। সে কারণেই আওয়ামী লীগের দিক থেকেও পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে,’ বলেন তিনি।

জোবাইদা নাসরীন অবশ্য মনে করেন সামনে যেহেতু ভারতের নির্বাচন, বিরোধী দলগুলোর ভারতবিরোধিতায় জোর দেয়ার সেটিও একটি কারণ হতে পারে।

‘ভারতের নির্বাচনে বাংলাদেশের সেই অর্থে প্রভাব নেই। বিএনপি ও আওয়ামী লীগের বাতচিতও তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ না।’

‘কিন্তু বিএনপির মধ্যে নরেন্দ্র মোদিবিরোধী ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তাই ভারতের নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশে মোদিবিরোধী মনোভাব আরো উস্কে দেয়ার সুযোগটা হয়তো বিরোধীরা নিতে চাইছে। এসব কারণে ভারত ইস্যু রাজনীতির মাঠে সামনে চলে এসেছে,’ বিবিসি বাংলাকে বলেন তিনি।

এদিকে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের পাল্টাপাল্টি অবস্থানের মধ্যেই ‘বয়কট ইন্ডিয়ান প্রোডাক্টস’ নামে ফেসবুক গ্রুপ খুলে ক্যাম্পেইন শুরু করেছেন এই প্রচারণার সমর্থকদের একটি অংশ। সেখানে নানা পোস্টে মতামত দিচ্ছেন অসংখ্য মানুষ।

সেখানেই ইরফান আহমেদ নামে একজন লিখেছেন, ‘দেশি পণ্য ক্রয় করে নিয়ে আসলাম। আমি আমার জায়গা থেকে ভারতীয় পণ্য বয়কট করেছি।’

আবার আহমেদ ইমরান নামে আরেকজন লিখেছেন, ‘মানুষ কই ঘুরবে, কই খাবে, কই চিকিৎসা নিবে এইটা নিয়েও এত যন্ত্রণা?’

‘পৃথিবীর নৈসর্গিক সৌন্দর্যের দেশ ভারত। প্রতিবেশী দেশ হিসেবে খুব অল্প খরচেই সেখানে ভ্রমণ করতে পারি। মানুষের সব কিছুতে নাক গলানো বাদ দেন।’

সূত্র : বিবিসি

গভীর সঙ্কটের সম্মুখীন দেশ : মির্জা ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বাংলাদেশ গভীর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সঙ্কটের সম্মুখীন। আমরা এমন এক সময়ে ইফতারের জন্য একত্রিত হয়েছি যখন দেশ আবার চলমান ফ্যাসিবাদী শাসনের কবলে পড়েছে। বিশ্ব জানে, বাংলাদেশে ৭ জানুয়ারি যা ঘটেছিল তা কোনো নির্বাচন নয় বরং জাতির গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার জন্য তা অপমানজনক।

রোববার গুলশান হোটেল ওয়েস্টিনে এক ইফতার পূর্ব বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতি বছরের ন্যায় এবারো কূটনৈতিকদের সম্মানে ইফতার মাহফিল করে বিএনপি। কূটনৈতিকদের সাথে দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের সুশীল সমাজ, বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন দেশের দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত ও কর্মকর্তারাও এ ইফতার মাহফিলে অংশ নেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, শাসকগোষ্ঠীর দ্বারা সংগঠিত নির্লজ্জ কারচুপি, অনিয়ম ও সহিংসতা গণমাধ্যমের প্রতিবেদন, ছবি, ঘটনাস্থলে ধারণ করা রিয়েল টাইম ভিডিও এবং সারাদেশের নির্বাচনী কৌশল প্রতিবেদন থেকে স্পষ্ট হয়েছে এই নির্বাচনের চিত্র। এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও এই ডামি নির্বাচনকে প্রত্যাখ্যান করেছে।

তিনি বলেন, এ নির্বাচন একটি অত্যন্ত মেরুকৃত রাজনৈতিক পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচন হয়েছে প্রহসনমূলক যেখানে প্রকৃত প্রতিযোগিতার অভাব ছিল। এ কারণে এ নির্বাচন মূল আন্তর্জাতিক মান পূরণ করে না। এদিকে সরকারের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যসহ হাজার হাজার রাজনৈতিক নেতা-কর্মীকে কারারুদ্ধ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ইসরাইলি বাহিনী কর্তৃক নিরীহ বেসামরিক জনগণের ওপর পরিচালিত অমানবিক হত্যাকাণ্ডে আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং জাতিসঙ্ঘকে এই গণহত্যা বন্ধে অবিলম্বে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানাই। আমরা বিশ্বাস করি দুই রাষ্ট্রীয় নীতিই এর সঠিক সমাধান।

তিনি আরো বলেন, মানুষে মানুষে সম্পর্ক হলো সেই ভিত্তি যার উপর স্থায়ী সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সংস্কৃতি, ধারণা এবং অভিজ্ঞতার আদান-প্রদানের মাধ্যমেই আমরা সীমানা অতিক্রম করতে পারি এবং শ্রদ্ধা ও সংহতির মূলে থাকা একটি বিশ্ব সম্প্রদায়কে গড়ে তুলতে পারি।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- কানাডার হাই কমিশনার মিসেস লিলি নিকোলস, ব্রিটিশ হাই কমিশনার মিসেস সারা কুক, আমেরিকার দ্যা চার্জ আফেয়ার্স হেলেন লাফাভ, পাকিস্তান দূতাবাসের সৈয়দ আহমদ মারুফ, অস্ট্রেলিয়ার ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার নারদির সিম্পসন, জার্মানির রাষ্ট্রদূত আচিম ট্রাকস্টার, ভারতীয় ডেপুটি হাইকমিশন ড. বিনয় জর্জ, ইউরোপীয় ইউনিয়নের চার্জ দ্যা আফেয়ার্স ড. ব্রেন্ড স্প্যানিয়ার, চীনের ডেপুটি অ্যাম্বাসেডর ইয়ান হুয়ালং, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য জমির উদ্দিন সরকার, ড. আব্দুল মঈন খান, মির্জা আব্বাস, গয়েস্বর চন্দ্র রায় আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী প্রমুখ।

এছাড়া জাতিসঙ্ঘ, এনডিআই, আইআরআইসহ ৩৮টি দেশের প্রতিনিধি অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

ডিপফেক পর্নোগ্রাফির শিকার ৪ হাজার তারকা

ডিপফেক যে ক্রমশ আতঙ্কের জন্ম দিচ্ছে, তা নানা মহলেই আলোচিত হচ্ছিল। এবার তার বড় প্রমাণ মিলল। জানা গেল, বিশ্ব জুড়ে ৪ হাজার তারকা ও বিখ্যাত ব্যক্তি ডিপফেক পর্নোগ্রাফির শিকার হয়েছেন। এই চমকে দেওয়া খবরটি একটি গবেষণায় দাবি করা হয়েছে। এক ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের বিশ্লেষণ বলছে, এঁদের মধ্যে ২৫০ জনের বেশি শুধু ব্রিটিশ তারকাই আছেন!

অন্য এক প্রখ্যাত ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডিপফেক ওয়েবসাইটগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত পাঁচটির তথ্য বিশ্লেষণ করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম। তারা বলছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে প্রায় চার হাজার তারকা ও বিখ্যাত ব্যক্তির মুখ এই পর্নোগ্রাফিক ইমেজে জুড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে একটাই বাঁচোয়া, এইসব ব্যক্তির নাম প্রকাশ করা হয়নি।

যে সংবাদমাধ্যম এই কাণ্ডটি করেছে তারা আহ্লাদিত হয়ে বলেছে, ওই পাঁচটি ডিপফেক ওয়েবসাইটের ভিডিয়োগুলি মাত্র ৩ মাসের মধ্যে ১০ কোটি ভিউ এনে দিয়েছে!

গবেষকেরা কাজটি করতে গিয়ে একটা আশ্চর্য জিনিস খেয়াল করেছেন। ২০১৬ সাল অনলাইনে মাত্র একটি ডিপফেক পর্নোগ্রাফি ভিডিয়ো শনাক্ত করতে পেরেছেন তাঁরা। অথচ, ২০২৩ সালের প্রথম কয়েক মাসেই ৪০ টির বেশি ডিপফেক পর্নোগ্রাফি ওয়েবসাইটে ১ লাখ ৪৩ হাজার ৭৩৩টি ভিডিয়ো আপলোড করার তথ্য পেয়ে মাথা ঘুরে যায় তাঁদের। তাঁরা বলছেন, গত কয়েক বছরের মধ্যে এটা সবচেয়ে বেশি!

অনলাইন নিরাপত্তা আইন বিষয়ে পরামর্শ দেয় এমন এক সংস্থার এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, অবৈধ ডিপফেক বিরক্তিকর ও ক্ষতিকারক। এ ধরনের জিনিস কী ভাবে নির্বিবাদে ও নির্বিচারে প্রচার পেয়ে যাচ্ছে, সেটা দেখতে হবে। অনলাইন নিরাপত্তা আইন নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে। পাশাপাশি তিনি এই প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কনটেন্টের প্রদর্শন বন্ধের কথাও বলেন।
সূত্র : জি নিউজ

বাপ্পা মজুমদারের কণ্ঠে সায়ীদ আবদুল মালিকের ‘ব্যস্ত শহর’

সাংবাদিক ও গীতিকার সায়ীদ আবদুল মালিকের লেখা ‘ব্যস্ত শহর’ গানে কণ্ঠ দিলেন প্রজন্মের হার্টথ্রুব গায়ক বাপ্পা মজুমদার। রেকর্ডিং, মিক্সিং ও মাস্টারিং শেষে বর্তমানে গানটির মিউজিক ভিডিওর কাজ চলছে। খুব শিগগিরই বাপ্পা মজুমদারের নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেলে গানটি মুক্তি পাবে বলে জানিয়েছেন গায়ক নিজেই।

কথা ও সুরের বৈচিত্রে গানটি শ্রোতাপ্রিয়তা পাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংগীতশিল্পী বাপ্পা। গানটির মধ্য দিয়ে শ্রোতারা ভিন্নধারার কথা ও বৈচিত্র্যময় সুরের স্বাদ পাবে বলেও জানান তিনি।

গানটির গীতিকার হিসেবে সায়ীদ আবদুল মালিককে অনন্য উচ্চতায় আসীন করবে বলেও ধারণা করেছেন জনপ্রিয় এই শিল্পী।

তিনি বলেন, ‘এটি আমার গাওয়া সায়ীদ আবদুল মালিকের লেখা দ্বিতীয় গান। এর আগে ভাষা শহীদদের নিয়ে তার লেখা প্রাণের বর্ণমালা শিরোনামের একটি ভাষার গান সুর, সঙ্গীত আয়োজন ও কণ্ঠ দিয়েছিলাম আমি।’

গানটি নিয়ে গীতিকার সায়ীদ আবদুল মালিক বলেন, ‘ব্যস্ত শহরের নানা যান্ত্রিক জটিলতা, একাকিত্বতা ও মানুষে মানুষে সম্পর্কের টানাপোড়েন নিয়েই গানটি লেখা। এই গানটি গীতিকার হিসেবে আমার ক্যারিয়ার আরো একধাপ এগিয়ে যাবে বলে আমার বিশ্বাস।’

বাংলাদেশকে লজ্জায় ডুবিয়ে অস্ট্রেলিয়ার সিরিজ জয়

০

শক্তিমত্তার পার্থক্য যেন চোখে আঙুল দিয়েই বোঝাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া। অজি নারীদের সামনে যেন দাঁড়াতেই পারছে না নিগার সুলতানারা। প্রথম ওয়ানডের পর দ্বিতীয় ওয়ানডেতেও সঙ্গী হয়েছে হার। নিছকই পরাজয় বললে ভুল হবে, বলা যায় রীতিমতো আত্মসমর্পণ। তাতে হাতছাড়া হয়েছে সিরিজও।

প্রথম ওয়ানডেতে হেরে যাওয়ায় আজকের (রোববার) ম্যাচটা ছিল বাংলাদেশের সিরিজে ফেরার শেষ সুযোগ। তবে মিরপুরে টাইগ্রিসদের সেই সুযোগ নিতে দেয়নি অজিরা। আগে ব্যাট করা বাংলাদেশকে ৪৪.১ ওভারে মাত্র ৯৭ রানে গুটিয়ে দেয়ার পর, সেই লক্ষ্য পাড়ি দিয়েছে ২৩.৫ ওভারে; ৬ উইকেট হাতে রেখেই।

আগের ম্যাচের ভুল শুধরে সিরিজে ফেরার আশার কথা শুনিয়েছিল বাংলাদেশ। তবে সেটি হয়ে থাকল শুধুই কথার কথা। প্রথম ওয়ানডে ৯৫ রানে অলআউট হওয়া বাংলাদেশ এই ম্যাচে করলো ২ রান বেশি। স্পর্শ করতে পারেনি তিন অংকের ঘর। নয় নম্বরে নামা নাহিদা আক্তার করেছেন ইনিংস সর্বোচ্চ ২২ রান।

যেই স্পিন বোলিংকে ধরা হয় বাংলাদেশের শক্তির জায়গা, সেই স্পিনেই এই সিরিজে ধরাশায়ী হলো বাংলাদেশ। আজও অজি স্পিনাররাই নেন ৯ উইকেট। ১০ ওভারে মাত্র ১০ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়েছেন সোফি মলিনিউ। করেছেন ৫টি মেডেন!

টসে জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে দুই উদ্বোধনী ব্যাটার ফারজানা হক পিংকি ও সোবহানা মোস্তারির জুটি ৮.৩ ওভার স্থায়ী হলেও এই সময়ে আসে মাত্র ১৭ রান! ২০ বল খেলে ৩ রান করে মেগান শাটের বলে আউট হন মোস্তারি। টেস্ট মেজাজে খেলে ফারজানা ৫২ বলে করেন ৭ রান।

তিনে নামা মুর্শিদা খাতুন ২৪ বলে ৫ রানের ইনিংস খেলে আউট হন অ্যাশলে গার্ডেনারের বলে। অধিনায়ক নিগার সুলতানাও পারেননি এদিন হাল ধরতে, আউট হন ৫ বলে ১ রানে। ২৭ রানে ৪ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। সেখান থেকে ২৫ রানের জুটি গড়ে ৫০ এর গন্ডি পার করান ফাহিমা খাতুন ও রিতু মনি।

তবে ৫ বলের ব্যবধানে এই দুজনও ফেরেন সাজঘরে। রিতু মনি ২৪ বলে ১০ ও ফাহিমা ১৯ বলে ১১ রান করেন। এর স্বর্না আক্তার ১৯ বলে ২, রাবেয়া খান ১৭ বলে ৩ করে আউট হন। নয়ে নামা নাহিদাই কেবল করেন ৪৭ বলে ২২ রান। তাতেও অবশ্য ১০০ রানের গন্ডি পার করা হয়নি বাংলাদেশের।

রান তাড়ায় নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারালেও এলিসা পেরি কখনো ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হাতছাড়া করেননি। এশলে গার্ডনারকে নিয়ে নিশ্চিত করেন জয়। দখলে নেন সিরিজও। পেরি ৫০ বলে ৩৫* ও গার্ডনার করেন ২৩ বলে ২০* রান।

তবে ওপেনার এলিসা হেলি ১৫ রান করে শিকার হন রাবেয়া খানের। এরপর বেথ মানিকে স্ট্যাম্পিংয়ের ফাঁদে ফেলেন স্বর্ণা খাতুন। বাকি দুটো উইকেট অবশ্য রান আউট।

প্রধানমন্ত্রীর সমরাস্ত্র প্রদর্শনী উদ্বোধন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজধানীর জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে স্বাধীনতা দিবস এবং জাতীয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সম্মিলিত সমরাস্ত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেছেন। রোববার (২৪ মার্চ) সকালে ফিতা কেটে বেলুন উড়িয়ে তিনি প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন।

আইএসপিআরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রদর্শনী ২৬ মার্চ থেকে ৩০ মার্চ সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সবার জন্য খোলা থাকবে। এতে বাংলাদেশ সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী তাদের সমরাস্ত্রসহ সরঞ্জাম প্রদর্শন করে।

এ উপলক্ষে বিমান বাহিনীর যুদ্ধ বিমানের ফ্লাই-পাস্ট এবং অনুষ্ঠানস্থলে হেলিকপ্টার থেকে সেনা বাহিনীর প্যারাট্রুপারদের সফল অবতরণ প্রত্যক্ষ করেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা তিন বাহিনীর বিভিন্ন স্টল ও প্যাভিলিয়ন ঘুরে দেখেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সমরাস্ত্র সম্পর্কে তাকে ব্রিফ করার সময় সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর সৈন্যদের ব্যবহৃত বিভিন্ন হালকা ও ভারী অস্ত্র প্রত্যক্ষ করেন।

প্রধানমন্ত্রী ও অতিথিরা স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পীদের পরিবেশিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন এবং পরে তাদের সাথে ফটোসেশনে যোগ দেন।

জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান, বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল শেখ আবদুল হান্নান।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, সংসদ সদস্য, সচিব, বিদেশি রাষ্ট্রদূত, ঊর্ধ্বতন বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র : বাসস

অপমান-লাঞ্ছনার কারণেই জনগণ ভারতীয় পণ্য বর্জনে সমর্থন দিয়েছে : রিজভী

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, আজকের রাজনীতিতে সবচেয়ে সমাদৃত শব্দ ‘ভারতীয় পণ্য বর্জন’। এই পণ্য বর্জন এক দিনে সৃষ্টি হয়নি। দীর্ঘদিনের অপমান, বঞ্চনা ও লাঞ্ছনার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের জনগণ ভারতীয় পণ্য বর্জনের সমর্থন দিয়েছে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী এ বর্জনের আহ্বান জানালেও আজ তা সর্বমহলে সমাদৃত।

রোববার (২৪ মার্চ) দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গণমাধ্যমের উদ্দেশে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ‘আজকে ভারত বন্ধুত্বের কথা বলে। অথচ পানির ন্যায্য হিস্যা দেয় না, বন্ধুত্বের কথা বলে প্রতিনিয়ত সীমান্তে বাংলাদেশী হত্যা করা হচ্ছে। এসব অন্যায় ও অবিচারের কারণে বাংলাদেশীদের প্রতিবাদী করে তুলেছে। বাংলাদেশের বাজার বাণিজ্যে তারা একতরফা আধিপত্য বজায় রেখেছে দীর্ঘদিন। তারা বাংলাদেশকে স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র মনে করলে ভারসাম্যমূলক বাণিজ্য বা অর্থনৈতিক অবকাঠামো গড়ে তুলতো। ভারত কখনোই ব্যবসায়িক নীতি মানেনি।’

তিনি বলেন, ‘ভারত বাংলাদেশের জনগণের সাথে বন্ধুত্ব না করে একটি রাজনৈতিক দলের সাথে বন্ধুত্ব করেছে। দেশ কিভাবে চলবে তা নির্ধারণ করবে জনগণ। দেশবাসীই ভোটের মাধ্যমে ঠিক করবে কে রাষ্ট্র পরিচালনা করবে। আওয়ামী লীগ জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছে। আর এই অবৈধ সরকারকে অকুণ্ঠ সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে ভারতের নীতিনির্ধারকেরা। এ কারণেই বাংলাদেশের জনগণের ভারতের বিরুদ্ধে বেশি ক্ষুদ্ধ হয়েছে।’

রিজভী বলেন, ‘৭২ সালে ভারত যখন ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণ করে তখন থেকেই মওলানা ভাসানী এর প্রতিবাদ করেন। সকল বাম রাজনৈতিক দলগুলোও এর বিরুদ্ধে ছিলেন সোচ্চার। তৎকালীন জাসদও সে সময় ভারতের এই নীতির জন্য প্রকাশ্যে রাজপথে ছিল। বড়ভাই সুলভ আচরণের জন্য ভারতকে আধিপত্যবাদী শক্তি বলে আখ্যা দিয়েছিল রাজনৈতিক দলগুলো।’