Home Blog Page 625

ইউক্রেনে গণহত্যার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি : জাতিসঙ্ঘ

রাশিয়ার ইউক্রেন আগ্রাসনের পর থেকে মানবাধিকার লঙ্ঘন বিষয়ে জাতিসঙ্ঘের একটি তদন্ত দল ইউক্রেনে গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে এমন কোনো তথ্য পায়নি। বৃহস্পতিবার ওই দলের প্রধান এ কথা বলেছেন।

তদন্ত দলের প্রধান নরওয়ের বিচারক এরিক মোসে জেনেভায় এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আমরা ইউক্রেনে গণহত্যার কোনো ঘটনা খুঁজে পায়নি।

তবে তিনি আরো বলেন, ‘সেখানে আমরা লক্ষ্য করেছি যে, দেশটি এ সংঘাতের এমন কিছু দিক আছে যা এ ধরনের অপরাধের ব্যাপারে প্রশ্ন তুলতে পারে। কিন্তু আমরা এখনো এখানে এমন ঘটনার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারিনি।’
সূত্র : বাসস

বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০৩তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

শুক্রবার (১৭ মার্চ) সকাল ৭টায় ৫ মিনিটে ধানমণ্ডি ৩২ বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরের সামনে প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রথমে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বঙ্গবন্ধু প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তিনি। পরে আওয়ামী লীগ সভাপতি হিসেবে দলের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে আবারো বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানান শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের পর আওয়ামী লীগের সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানানো হচ্ছে।

এর আগে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন উপলক্ষে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু ভবন এবং দেশব্যাপী দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করে।

আ’লীগ বিচার বিভাগকে করায়ত্ত করতে চায় : মির্জা ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সকল মানুষের রাষ্ট্রকে মেনে নেয়ার যে আস্থা থাকে, সেই আস্থাটা হচ্ছে বিচার বিভাগ ওপরে আস্থা। সেই বিচার বিভাগ যখন আক্রান্ত হয়, যখন কলঙ্কিত হয়, যখন তার কার্যকারিতা প্রায় বিনষ্ট হয়ে যায়। তখন সেই রাষ্ট্রের রূপে জনগণের আস্থা কমে যাওয়ার শঙ্কা থাকে। আওয়ামী লীগ বিচার বিভাগকে করায়ত্ত (হাতের মুঠোয়) করতে চায়। দুর্ভাগ্যজনকভাবে এখন বাংলাদেশে তাই চলছে।

শুক্রবার সকালে নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ফখরুল বলেন, আমরা বারবার বলে এসেছি বাংলাদেশ আর গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র নেই। বাংলাদেশ এখন আর সত্যিকারের অর্থে কার্যকরী গণতন্ত্র রাষ্ট্র নয়। বাংলাদেশের যতগুলো গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান আছে, সেই প্রতিষ্ঠানগুলো অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে এই আওয়ামী লীগ সরকার ধ্বংস করে দিয়েছে। তার সর্বোচ্চ ন্যাক্কারজনক ও জঘন্যতম উদাহরণ আমরা গতকাল দেখেছি। আমরা দেখলাম, সুপ্রিম কোর্টের বার অ্যাসোসিয়েশনের যে নির্বাচন। আওয়ামী লীগ অত্যন্ত ভয়াবহভাবে পুলিশ বাহিনীকে ব্যবহার করে সেখানকার নির্বাচন ব্যবস্থাটাও ধ্বংস করে দিয়েছে। দেশের মানুষের আস্থা ছিল সুপ্রিম কোর্টের নির্বাচন কখনো জবরদখল ও কারচুপি হবে না। কিন্তু আওয়ামী লীগ সেটা ধ্বংস করে দিয়েছে। বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্রতে পরিণত করতে বড় পদক্ষেপ নিল তারা।

তিনি বলেন, এই কথাগুলো অত্যন্ত ক্ষোভ ও দুঃখের সাথে বলতে হচ্ছে। বলতে হচ্ছে এই জন্যই, আমরা ১৯৭১ সালের যুদ্ধের কথা বারবার বলি। আমরা যে মানসিকভাবে তৈরি হয়েছি। বাংলাদেশ একটি সংসদীয় গণতন্ত্রের দেশ হবে। সেখানে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সম্পূর্ণভাবে থাকবে। মানুষ তার ন্যায়বিচার পাবে। যখন প্রশাসন দ্বারা আক্রান্ত হবে সে কোথায় যাবে? সে তখন যায় বিচার বিভাগে। সে বিচার বিভাগে গিয়ে যদি দেখে বিচার বিভাগ সম্পূর্ণভাবে করায়ত্ত হয়েছে, তাহলে সে আর বিচার পাবে না। আজকের সেই জায়গায় আমরা এসে পৌঁছেছি।

সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করে মহাসচিব বলেন, জানি না আজকে আপনারা কতটুকু গুরুত্বের সাথে চিন্তা করছেন। কতটুকু আপনার উদ্বিগ্ন হচ্ছেন। এ দেশের যারা সিনিয়র আইনজীবী আছেন, যারা সাবেক বিচারপতি প্রধান বিচারপতি আছেন, যারা রাষ্ট্রকে নিয়ে চিন্তা করেন, যারা এ রাষ্ট্রের জন্ম দিয়েছেন -মুক্তিযোদ্ধারা, তারা কিভাবে এই ধরনের ঘটনাকে মেনে নিতে পারে?

তিনি বলেন, ’গণমাধ্যমকে আমরা রাষ্ট্রের গণতন্ত্রের স্তম্ভ বলি, সেখানেও কিন্তু একই ঘটনা ঘটছে। সেখানেও প্রেসক্লাবকে দখল করা হচ্ছে বিভিন্নভাবে। অদৃশ্য শক্তি দিয়ে চাপ সৃষ্টি করে সব দখল করা হচ্ছে। তাদেরকে চাপ দিয়ে বাধ্য করা হচ্ছে, যাতে তারা জনগণের দাবিগুলো সামনে তুলে না আনতে পারে।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, গত ১৫ ও ১৬ মার্চ বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা ছিল। এ নির্বাচনকে ঘিরে বিজ্ঞ আইনজীবীদের পাশাপাশি দেশের সাধারণ মানুষেরও ব্যাপক আগ্রহ ছিল। কিন্তু আমরা দুর্ভাগ্যজনকভাবে লক্ষ্য করেছি যে- দেশের অন্য সকল নির্বাচনের মতো দেশের সর্বোচ্চ আদালতের আইনজীবীদের সমিতির নির্বাচনেও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের যে রাজনৈতিক চরিত্র তার নগ্ন বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। আইনগতভাবে কোনো নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হলেও নির্বাচনের নাটক সাজিয়ে একতরফাভাবে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীদের অবৈধভাবে নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা সবসময় বলে আসছি যে- ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও তাদের ছত্র-ছায়ায় দেশের কোথাও কোনো অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব নয়। তারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না, জনগণের ভোটারাধিকারে বিশ্বাসী নয়, বিগত ২০১৪ এবং ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও বিভিন্ন স্তরের স্থানীয় নির্বাচনে ইতোপূর্বে বারবার প্রমাণিত হয়েছে। সর্বশেষ প্রমাণ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচন। এর আগে ঢাকা আইনজীবী সমিতি নির্বাচনেও একই ধরনের প্রহসনের নির্বাচন করা হয়েছে। আমাদের প্রত্যাশা ছিল, দেশের সাধারণ মানুষের আইনের আশ্রয় নেয়ার শেষ ভরসাস্থল, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীদের সমিতিতে তারা নগ্ন হস্তক্ষেপ থেকে বিরত থাকবে।

ফখরুল ইসলাম বলেন, আমরা লক্ষ্য করেছি যে- এই সমিতি নির্বাচনের জন্য বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ সমর্থিত সমিতির কার্যকরী কমিটির সভাপতি ও অবৈধ সম্পাদক, যিনি গতবছর সমিতির নির্বাচিত সম্পাদক ব্যারিস্টার মো: রুহুল কুদ্দুসকে (কাজল) নির্বাচিত হওয়ার ৪২ দিন পর পুলিশ ও বহিরাগতদের সহায়তায় সম্পাদকের দফতর জবর-দখল করে নেন, ভোট কারচুপির মাধ্যমে একতরফাভাবে বিজয়ী হওয়ার জন্য প্রথমে একতরফাভাবে একটি পরিকল্পিতভাবে নির্বাচন সাব-কমিটি গঠন করে। অথচ সংগঠনের গঠনতন্ত্র মোতাবেক কার্যকরি কমিটির সংখ্যাগরিষ্টের মতামতের ভিত্তিতে নির্বাচন সাব-কমিটি গঠনের বিধান রয়েছে। বর্তমান কার্যকরি কমিটিতে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম সমর্থিতরা সংখ্যাগরিষ্ট। একপর্যায়ে সাধারণ আইনজীবীদের তীব্র প্রতিবাদের মুখে ইতোপূর্বে দলীয় অনুগত নির্বাচন সাব-কমিটির আহ্বায়ককে পরিবর্তন করে সর্বসম্মতিক্রমে সাবেক বিচারপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো: মুনসুরুল হক চৌধুরীকে আহ্বায়ক হিসেবে মনোনীত করা হয়। যদিও তিনি একজন আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতা ও আওয়ামী লীগ সমর্থিত সভাপতি পদপ্রার্থী ছিলেন তথাপিও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেলের সদস্যরা তার প্রতি আস্থা স্থাপন করেছিলেন। তিনি একজন সৎ, সজ্জন ও দৃঢ়চেতা মানুষ হিসেবে পরিচিত। তিনি নির্বাচনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্নও করেছিলেন। কিন্তু নির্বাচনের দুই দিন আগে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ সমর্থিত সভাপতি ও সম্পাদক পদপ্রার্থী তাকে দিয়ে তাদের অনৈতিক ভোট ডাকাতির নির্বাচনে সম্মত করতে না পারলে তাকে পদত্যাগে বাধ্য করেন এবং তাদের একান্ত অনুগত একজন দলীয় আইনজীবীকে দিয়ে নির্বাচনী নাটক মঞ্চস্থ করার আয়োজন করে।

তিনি আরো বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির গঠনতন্ত্র মোতাবেক নির্বাচন সাব-কমিটি পুনর্গঠন না করা পর্যন্ত নির্বাচন অনুষ্ঠান না করার জন্য জাতীয়তাবাদী আইনজী ঐক্য প্যানেলের প্রার্থীরা যখন দাবি জানান। তখনই আওয়ামী সমর্থিত সভাপতি শতশত পুলিশ নিয়ে গত ১৫ মার্চ, ২০২৩ সমিতির অডিটরিয়ামে প্রবেশ করে এক বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি করে। তারা আইনজীবীদের উপর আক্রমণ করে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেলের প্রার্থী ও তাদের এজেন্টদের জোরপূর্বক বের করে দেয়। পুলিশি আক্রমণে সমিতির সভাপতি পদপ্রার্থী ও সমিতির সাবেক সাতবারের সম্পাদক ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, সম্পাদক পদপ্রার্থী ও সমিতির তিনবারের সম্পাদক ব্যারিস্টার মো: রুহুল কুদ্দুসসহ (কাজল) শতাধিক আইনজীবী আহত হন। নারী আইনজীবীরাও পুলিশি আক্রমণ ও নির্যাতন থেকে রেহাই পাননি। পেশাগত দায়িত্ব পালনরত বেশ কয়েকজন সাংবাদিককে বেদম প্রহার করে গুরুতর আহত করা হয়। উল্টো ঐক্য প্যানেলের সভাপতি ও সম্পাদক পদপ্রার্থী, বর্তমান কার্যকরী কমিটির ৬ জন সদস্য, সর্বসম্মত নির্বাচন সাব-কমিটির দু’জন সদস্যসহ ১২ জন বিজ্ঞ আইনজীবীর বিরুদ্ধে দু’টি মিথ্যা ও বানোয়াট মামলা দায়ের করা হয়েছে। একজন আইনজীবীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এসবই তাদের ফ্যাসিস্ট চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ। এ পরিস্থিতিতে আওয়ামী আইনজীবী ও পুলিশি তাণ্ডবে পরে আর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। তা সত্ত্বেও নির্বাচনের নামে প্রহসন করা হয়েছে। এটা শুধুমাত্র আইনজীবী সমাজেরই নয়, পুরো জাতীর জন্যই কলঙ্কজনক।’

তিনি বলেন, আমরা মনে করি, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভোট ডাকাতিতে সিদ্ধহস্ত আওয়ামী লীগের মুখোশ আরেকবার উন্মোচিত হলো। দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থার কফিনে শেষ পেরেকটি ঠোকানো হয়েছে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতিতে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির সহ দফতর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু, চেয়ারপাসনের প্রেস উইং কর্মকর্তা শামসুদ্দিন দিদার।

জাতিসংঘে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত আবদুল মুহিত ও সমুদ্রতল দপ্তরের মহাসচিব মাইকেল ডব্লিউ লজের বৈঠক

জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ আবদুল মুহিত আন্তর্জাতিক সমুদ্রতল দপ্তরের মহাসচিব মাইকেল ডব্লিউ লজের কাছে তার পরিচয়পত্র পেশ করেছেন। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১৬ মার্চ) জ্যামাইকার রাজধানী কিংস্টনে অবস্থিত আন্তর্জাতিক সমুদ্রতল কর্তৃপক্ষের সদরদপ্তরে এই অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়।

পরিচয়পত্র পেশ করার পর রাষ্ট্রদূত মুহিত এবং মহাসচিব লজ একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হন। উক্ত বৈঠকে তারা বাংলাদেশ এবং আন্তর্জাতিক সমুদ্রতল কর্তৃপক্ষের মধ্যে পারস্পরিক স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন। ২০১৬ সালে অথরিটির অ্যাসেম্বলিতে বাংলাদেশের প্রেসিডেন্সি এবং ২০২০ সালে কাউন্সিলে প্রেসিডেন্সির কথা উল্লেখ করে মহাসচিব ইন্টারন্যাশনাল সিবেড অথরিটির কাজে বাংলাদেশের অমূল্য অবদানের গভীর প্রশংসা করেন।

সুনীল অর্থনীতিকে বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের এক নতুন দিগন্ত হিসেবে উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত মুহিত আমাদের সামুদ্রিক সম্পদের সংরক্ষণ, বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনা এবং যথাযথ ব্যবহারের নিমিত্ত প্রয়োজনীয় সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক সমুদ্রতল কর্তৃপক্ষের মধ্যে বর্ধিত সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এ প্রেক্ষিতে মহাসচিব আগামী দিনগুলোতে বাংলাদেশের সঙ্গে আরো ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

বাংলাদেশসহ ১৬৭টি রাষ্ট্র নিয়ে আন্তর্জাতিক সমুদ্রতল কর্তৃপক্ষ গঠিত। সংস্থাটি সমগ্র মানব জাতির কল্যাণে আন্তর্জাতিক গভীর সমুদ্র তলদেশে খনিজ সম্পদ সংক্রান্ত সকল কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।

জীবনের রানী চক্রের এলোমেলো গল্প

জীবনের এমন একটা সময় ছিল যখন বসন্তের বাতাস, কোকিলের ডাক, চাঁদের আলো কিংবা বৃষ্টির টাপুর টুপুর শব্দে মাতোয়ারা হয়ে যেতাম। গল্প-উপন্যাস কবিতার বই কিংবা দেশী-বিদেশী ম্যাগাজিন নিয়মিত পড়া এবং সেগুলোকে নিত্যসঙ্গী করা জীবনের জন্য অপরিহার্য হয়ে পড়েছিল। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে নতুন কিছু অধ্যয়ন- শিয়রে বই পুস্তক রাখা অথবা ভ্রমণে বিদ্যাসামগ্রীকে সঙ্গী করা দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিণত হয়েছিল। শরীরচর্চা-খেলাধুলা-সঙ্গীত-নাট্যকলা, সিনেমা-থিয়েটার ছাড়াও আবহমান বাংলার জারি সারি-নৌকা বাইচ প্রভৃতি ক্রীড়া-কর্মের নিয়মিত কর্মী হিসেবে যে সময় পার করেছি তা ২০২৩ সালে এসে স্মরণ করতেও ভয় লাগে।

আমার মতো যারা ষাটের দশকের মাঝামাঝিতে অজো পাড়াগাঁয়ে জন্মেছিলেন এবং জীবনের বহু ধাপ পেরিয়ে লন্ডন আমেরিকা ঘুরে এসে ঢাকাতে বসতি স্থাপন করে দেশপ্রেমের মহান সৈনিক হিসেবে তৃপ্তির ঢেকুর তুলেছিলেন তারা তখন জীবন-জীবিকার জাঁতাকলে পড়ে কতটা আর্তচিৎকার করতে পারেন সেই প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হয়েছেন। পেটের চিন্তা-মস্তিষ্কের চিন্তা, শরীর ও মনের চিন্তার জটিল রসায়ন এবং অশান্ত সময়ের সব বিরূপ পরিস্থিতি মানুষকে কিভাবে অমানুষ বানিয়ে ফেলছে অথবা জীবিত মানুষকে কিভাবে অনুভূতিহীন মৃত মানুষে রূপান্তরিত করে ফেলছে সেই কাহিনী ফুটিয়ে তোলার সাধ্য আমার নেই। স্বৈরাচারীদের কপাল ভালো যে, বর্তমান জমানায় কোনো শরৎচন্দ্র-সুকান্ত কিংবা কাজী নজরুল নেই। অথবা শিল্পাচার্য জয়নুলের মতো বা পটুয়া কামরুল হাসানের মতো কেউ নেই যারা তুলির আঁচড়ে জীবন-ইতিহাস রচনা করার সক্ষমতা রাখেন।

বাজারে দ্রব্যমূল্যের আগুন মাছ- গোশতের দামের কাহিনী রোজ যেভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে তাতে আমি যদি বলি এরশাদ জমানায় ১৯৮৬ সালে গরুর গোশতের কেজি ২০ থেকে ২৫ টাকা ছিল। তবে কয়জন আমার কথা বিশ্বাস করবেন। ঢাকা শহরে সেই জমানায় এক হাজার টাকা রোজগার করতে পারলে তিন-চারজনের একটি সংসার দিব্যি আরাম-আয়েসে চলতে পারত। আমি যখন ঢাকাতে প্রথম সংসার শুরু করেছিলাম তখন জীবনযাত্রার যে ডাটফাট ছিল তা হাল আমলে কল্পনাও করা যায় না। প্রতি বেলা খাবারে আট-দশ প্রকারের ভাজি-ভর্তা-তরিতরকারি না হলে আমার চলত না। কাটারিভোগ চালের সুবাসিত ভাত, খাঁটি গরুর দুধের সরসহ ঘন ও গাঢ় করে পাকানো দুধের সাথে দেশী-সবরী কলা দিয়ে দুধ-ভাত দিয়ে খাদ্য শেষ করে তৃপ্তির ঢেকুর তুলে বিছানায় শরীর এলিয়ে দেয়ার সেই স্মৃতি আর কতদিন স্মরণে রাখতে পারব তা বলতে পারব না।

কয়েক দিন আগে সাভারের একটি গ্রামে কয়েক দিন থেকে এলাম। গ্রামের সাদামাটা যে সেলুনটিতে চুল কাটালাম সেখানে কর্মরত একমাত্র নরসুন্দরের করুণ কাহিনী শুনে জীবনের হিসাব মিলাতে পারলাম না। তার স্ত্রী একটি গার্মেন্ট কোম্পানিতে চাকরি করেন। প্রতিষ্ঠানটিতে গত এক বছর ধরে কাজকর্ম তেমন একটা নেই। ছয় হাজার লোকবলের বিশাল কারখানাটির বেশির ভাগ শ্রমিক সারাদিন কর্মহীন বসে থাকেন। কর্তৃপক্ষ দুই-তিন মাস পর একবার বেতন দেন। কর্মীরা ছুটিছাঁটার দরখাস্ত করলে মালিক পক্ষ সাথে সাথে মঞ্জুর করেন এবং একদিনের স্থানে দশ দিন ছুটি দিয়ে দেন। অন্য দিকে নরসুন্দর নিজে সাকুল্যে আট দশ হাজার টাকার বেশি উপার্জন করতে পারেন না। এই অবস্থায় চার সদস্যের পরিবার নিয়ে তিনি কিভাবে চলেন তা আর জিজ্ঞাসা করার সাহস পেলাম না।

নরসুন্দরের কথা শুনে মন ভারী হয়ে উঠল। প্রথমত. তার স্ত্রী যে প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন সেটির মালিক পক্ষ আমার পরিচিত। বাংলাদেশের প্রাচীনতম এবং বৃহত্তম গার্মেন্ট ব্যবসায়ী। সাভারে বেড়াতে যাওয়ার কিছুদিন আগে সেই গার্মেন্ট মালিকের মেয়ের বিয়েতে সপরিবারে নিমন্ত্রিত ছিলাম। বিয়ে বাড়ির সাজসজ্জা আদর আপ্যায়নের বিলাসিতায় আশ্চর্য হয়ে ভাবছিলাম এমন একটি অনুষ্ঠানে কত টাকা খরচ হতে পারে- দশ কোটি কিংবা পনেরো কোটি! অনুষ্ঠানের জাঁকজমক এবং শিল্পপতির উচ্ছ্বাস দেখে আমার মনে হয়েছিল, পুরো গার্মেন্ট সেক্টরে ব্যবসার মন্দা চললেও ভদ্রলোকের ব্যবসা হয়তো ভালো। আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম সময় সুযোগ করে ভদ্রলোকের সাথে ব্যবসাবাণিজ্য নিয়ে আলোচনা করব এবং বিরূপ সময়ে তার সফলতার নেপথ্য কারণগুলো শুনব। কিন্তু সাভারের নরসুন্দরের কথা শোনার পর আমার মনটা ভদ্রলোকের জন্য হু হু করে কেঁদে উঠল। নিজের শত অভাব আড়াল করে কেবল চল্লিশ বছরের সফলতাকে যেন কেউ তাচ্ছিল্য করতে না পারে সেজন্য ঋণ করে জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানস্থলে তিনি এক বুক কান্না নিয়ে আমাদের সামনে অনবরত হেসেই চলেছিলেন।
উপরিউক্ত ঘটনার মতো প্রায় হুবহু আরেক ঘটনার কথা না বললে আমাদের ধনিক শ্রেণীর বেদনা অনুভব করতে পারবেন না। আমার ঘনিষ্ঠ এক বন্ধুর মেয়ের বিয়ে হলো মাস তিনেক আগে। আকদ, গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান হলো যথাক্রমে র‌্যাডিসন ও শেরাটনে। বিয়ের অনুষ্ঠান হলো সেনাকুঞ্জে। বন্ধুর ফ্যাক্টরিতে আরেকটি অনুষ্ঠান হলো যেখানে পাঁচ হাজার শ্রমিক-কর্মচারীকে বিয়ের খাবার খাওয়ানো হলো। চারটি অনুষ্ঠানে কম করে হলেও দশ কোটি টাকার মতো খরচ হয়ে গেল। আমি বন্ধুটিকে জিজ্ঞাসা করলাম কেন তিনি দুঃসময়ে এত বিশাল ব্যয়ের ঝক্কিঝামেলা করতে গেলেন, যেখানে গত এক বছর ধরে তিনি ক্রমাগত ঋণগ্রস্ত হচ্ছেন এবং ব্যবসায় লোকসান দিয়ে যাচ্ছেন।

আমার কথা শুনে বন্ধুটি কষ্টে হাসি দিলেন এবং নিজের জীবনের নির্মম বাস্তবতার কথা শোনালেন। তার মতে, আমাদের সমাজ দারিদ্র্যকে সহ্য করে না। দুর্বলের স্থান সর্বদা পায়ের তলায়। কেউ যদি টের পায় যে, ধনী ব্যক্তির ধন সঙ্কট চলছে ওমনি সবাই মিলে তাকে দরিদ্র বানানোর জন্য চেষ্টা-তদবির শুরু করবে। অন্য দিকে ব্যবসাবাণিজ্যের ক্ষেত্রে নিজ অফিসের কর্মচারী থেকে শুরু করে কাস্টমার, এজেন্ট, ব্যাংক, বীমা সরকারের রাজস্ব বিভাগ অথবা গুণ্ডা-মাস্তানরা যদি টের পায় যে, কোনো প্রতিষ্ঠানের মালিকের আর্থিক দুরবস্থা শুরু হয়েছে তবে সবাই সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে দুর্দশাগ্রস্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেবে। ফলে সব বড় ব্যবসায়ীকে কৌশলে সারাক্ষণ গাল ফুলিয়ে রাখতে হয়, অর্থাৎ গাড়ি-বাড়ি, জামা-কাপড় ইত্যাদিতে ফুটানি প্রদর্শন করে নিজের অস্তিত্ব জানান দিতে হয়।

আমি জানি না, এই মুহূর্তে সারা বাংলাদেশে ঠিক কতজন শিল্পপতি আমার বন্ধুর মতো গাল ফুলিয়ে শেষ রক্ষার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন! তবে পত্রপত্রিকার খবর অনুযায়ী দেশের পুরো আর্থিক খাতে যে মন্দা চলছে তাতে দেশের করপোরেট জগৎ জ্বলেপুড়ে ছারখার হতে চলেছে। বৃহত্তম শিল্প প্রতিষ্ঠান-ব্যাংক বীমা থেকে শুরু করে- পাড়া মহল্লার খুদে ব্যবসায়ী, রিকশাওয়ালা, ধোপা-নাপিত, দিনমজুর থেকে শুরু করে চাঁদাবাজ-ঘুষখোর-ছিনতাইকারী সবার হিসাবের খাতায় টান পড়েছে। যাদের সঞ্চয় ছিল তারা সেগুলো ভাঙ্গিয়ে খাচ্ছেন আর যাদের সম্পদ রয়েছে তারাও বিক্রি বাট্টা করে দিনকে দিন দরিদ্র থেকে দরিদ্রতর হওয়ার পথে অবিরত ছুটে চলেছেন।

দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী প্রতিদিন অন্ন-বস্ত্র-বাসস্থানের চাহিদা সীমিত করে চলেছেন। ফলে ছিন্নবস্ত্রের হাড় জিরজিরে দুর্বল লোকের সংখ্যা ক্রমেই বেড়েই চলেছে। শ্রমজীবীর শ্রম দেয়ার ক্ষমতা কমে যাচ্ছে। বুদ্ধিজীবী ক্রমেই বেআক্কল হয়ে যাচ্ছেন। লোভী ও সুবিধাভোগীরা নির্মম ও হিংস্র হয়ে পড়েছেন। ক্ষমতাধররা অধৈর্য ও অত্যাচারী গোষ্ঠীতে রূপান্তরিত হয়ে পড়েছেন। মানুষের মেধা ও মননশীলতায় মড়ক লেগেছে। ফলে চার দিকে, হৈ হুল্লোড়, অস্থিরতা, হাঁকডাক ও মারামারি-কাটাকাটি বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিছু লোকের জবান বন্ধ হয়ে গিয়েছে আর অন্য দিকে কিছু লোকের জবান লাগামহীন হয়ে পড়েছে।

উল্লেখিত অবস্থায় আমার শৈশব-কৈশোরের আবহমান বাংলার প্রকৃতি ও পরিবেশ মাঝেমধ্যে আমার মনে এক ধরনের নস্টালজিয়া সৃষ্টি করে। অতীতের সুন্দর দিনগুলোতে দেহ-মনে যে প্রশান্তি ছিল কিংবা মস্তিষ্কের জ্ঞানভাণ্ডার সমৃদ্ধ করার যে আয়োজন ছিল তা হাল আমলে সমাজ-সংসার রাষ্ট্র থেকে রীতিমতো উঠে গেছে। ফলে আকাশে আগের মতোই চাঁদ আছে কিন্তু জোৎস্না দেখার লোক নেই। কোকিলেরা আগের মতোই গান গায় কিন্তু কোকিলের সাথে কণ্ঠ মিলিয়ে কোনো শিশু টুটু শব্দে গলায় সুর তোলে না। নদীতে জোয়ার আসে- নৌযান চলে কিন্তু কোনো মাঝি আগের মতো গান গেয়ে ওঠে না।

লেখক : সাবেক সংসদ সদস্য

বিএনপি জানে কি,পাকিস্তান ছাড়া আর কোনো দেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকার নেই ? কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, পাকিস্তান ছাড়া বিশ্বের কোনো দেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকার নেই।

তিনি বলেন, বিশ্বের কোনো দেশ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কথা বলে না, যা বিএনপিই নির্লজ্জভাবে বলে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে খাদ্য বিতরণ ও আলোচনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, বিএনপি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কথা বলছে। এতে তাদের লজ্জিত হওয়া উচিত।

কাদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে লালন করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন এবং বিশ্বের কাছে রোল মডেলে পরিণত করছেন।

ড. ইউনূসকে নিয়ে ৪০ জন বিশ্বনেতার চিঠি প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, যারা বাংলাদেশের কথা ভাবে না, তাদের নিয়ে আমাদের ভাবার দরকার নেই। তিনি নিজেই আইন লঙ্ঘন করেন।

সূত্র : ইউএনবি

সাকিবের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক মন্তব্য ব্যারিস্টার সুমনের

সাকিব আল হাসানের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন ব্যারিস্টার সুমন, বললেন তাকে মারার জন্য তেড়েফুঁড়ে এসেছিলেন সাকিব।

বৃহস্পতিবার (১৬ মার্চ) নিজের ফেসবুক পেজে এক ভিডিও বার্তায় এমন দাবি করেন স্বয়ং সুমন। শুধু তাই নয়, দুবাইয়ের স্বর্ণ ব্যবসায়ী আরাভ খানের স্বর্ণের দোকান উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সাকিবের অংশ গ্রহণ নিয়েও সমালোচনা করেন তিনি।

সাকিব আল হাসান বরাবরই থাকেন শিরোনামে, মাঠে কিংবা মাঠের বাইরে সর্বাবস্থায় আলোচনায় থাকেন তিনি। ইংল্যান্ডের বিপক্ষের দারুণ সিরিজ কাটানোর পর এবার সাকিব আলোচনায় দুবাইয়ে এক স্বর্ণের দোকান উদ্বোধন করতে গিয়ে। যে দোকানের মালিকদের একজন আরাভ খান পুলিশ খুনের মামলার পলাতক আসামি।

যাহোক সাকিব আল হাসান কেন গেলেন, কি কারণে গেলেন; কিংবা কার আমন্ত্রণ গেলেন তা আড়ালেই রয়ে গেছে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। যার সাথে এবার তাল মেলালেন আলোচিত ইউটিউবার ব্যারিস্টার সুমন। সেই সমালোচনা করতে গিয়েই সুমন তোলে ধরলেন তাকে দেখে সাকিবের মারতে আসার বিষয়টি।

সুমন বলেন, ‘বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সিরিজ চলাকালীন সময়ে হোটেল সোনারগাঁওয়ে সাকিবের সাথে আমার দেখা হয়েছিল। ওই সময় আমাকে দেখে সে পুলিশ এবং বিসিবি কর্মকতার্দের সামনে আমাকে মারতে এসেছিল। সেখানে কিছু আমেরিকান লোকজন ছিল, যাদের সাথে আমি দেখা করতে গিয়েছিলাম। তাদের সামনে সবাইকে অগ্রাহ্য করে আমাকে মারতে আসছিলেন। আমি কিছু বলিনি।’ এমনকি পুলিশের অনুরোধে নাকি তিনি বিষয়টা চেপে গিয়েছিলেন বলেও দাবি করেন সুমন।

কেন সাকিব তাকে মারতে গেলেন, সেটাও পরিষ্কার করে দেন ব্যারিস্টার সুমন। তিনি বলেন, ‘কিছুদিন আগে একটা ভিডিওতে তাকে বলেছিলাম যেন জুয়ার সাথে সে সম্পৃক্ত (বিজ্ঞাপনে) না হয়। প্রয়োজনে তিন লাখ টাকা লাগলে আমি তাও দিতে রাজি।’ অতঃপর তিনি বলেন, ‘সাকিব আল হাসান এমন একজন মানুষ, যিনি কোনো ধরনের সমালোচনা সহ্য করতে পারেন না।’

এর আগে দুবাইয়ের সেই দোকান উদ্বোধন নিয়ে তিনি বলেন, ‘যার দোকান উদ্বোধন করতে যাচ্ছেন তিনি একজন পুলিশ হত্যা মামলার পলাতক আসামি। ইন্টারপোলের সাহায্যে আমরা তাকে ধরে আনা চেষ্টা করছি। তারপরও সাকিব আল হাসান তার দোকান উদ্বোধন করতে গেছেন। আমার কাছে মনে হয়েছে, এটা যে একটা অপরাধ, সেটা তিনি জানেন কিনা! সেলিব্রেটি হলে কি তার কোনো অপরাধের বিচার হবে না।’

ইসলামী ব্যাংকের জমি কিনে নিল বাংলাদেশ ব্যাংক

মতিঝিল এলাকায় সেনা কল্যাণ ভবনের পাশে কিনে রাখা বেসরকারি খাতের ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের জমি কিনে নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ২০ বছর আগে প্রধান কার্যালয়ের জন্য জমিটি কিনেছিল ইসলামী ব্যাংক। ওই জমি ১১০ কোটি টাকায় কিনে নিল বাংলাদেশ ব্যাংক।

বৃহস্পতিবার (১৬ মার্চ) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র মেজবাউল হক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংক এমন এক সময়ে এই জমি কিনল, যখন সঙ্কটে পড়ে প্রতিনিয়ত ইসলামী ব্যাংককে তারল্য সহায়তা নিতে হচ্ছে। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে নীতি ছাড়ও পেয়েছে ব্যাংকটি। বিশেষ সুবিধার আওতায় তারল্য জোগানও দেয়া হয়েছে।

জানা গেছে, গভর্নর আতিউর রহমান থাকাকালেই এ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। তখনই এক প্রকার দামদরও ঠিক করা হয়েছিল। নানা সময়ে আলোচনা করার পরেও ইসলামী ব্যাংক জমিটি ছাড়তে রাজি হয়নি।

সূত্রগুলো জানায়, আব্দুর রউফ তালুকদার গভর্নর পদে যোগ দেয়ার পর এ নিয়ে তৎপরতা বাড়ান। এ সময় ব্যাংকটিও নানা সমস্যার মধ্যে পড়ে। ফলে ব্যাংকটির মালিকপক্ষ জমিটি ছেড়ে দিতে বলে। এর পরিপ্রেক্ষিতেই সম্প্রতি জমির দলিল সম্পন্ন হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যে জমির দাম ব্যাংকটিকে পরিশোধ করে দিয়েছে।

সরজমিনে দেখা গেছে, জমি কেনার পর ভাঙা হচ্ছে ওই স্থাপনা। ইতোমধ্যে ইসলামী ব্যাংক সেনাকল্যাণ ভবন সংলগ্ন জমি থেকে তাদের বিভাগগুলো সরিয়ে ফেলেছে।

জমি ক্রয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহাম্মদ মুনিরুল মওলা বলেন, ‘প্রধান কার্যালয়ের ভবন তৈরির জন্য আমরা জায়গাটি কিনেছিলাম। সেটা প্রায় ২০ বছর আগে। জায়গাটি বাংলাদেশ ব্যাংক-সংলগ্ন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আগ্রহ প্রকাশ করায় তা বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে বিক্রি করা হয়েছে।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরিকল্পনা রয়েছে ওই জমিতে দ্রুততম সময়ে সর্বাধুনিক সুবিধা ও নিরাপত্তাসংবলিত একটি ভবন তৈরির কাজ শুরু করা। কারণ বর্তমানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিজস্ব যে দুটি ভবন রয়েছে, তাতে জায়গা সংকুলান হচ্ছে না। এজন্য সেনা কল্যাণ ভবনের বেশির ভাগ তলা ভাড়া নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

তদন্তের স্বার্থে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে সাকিব-হিরো আলমকে

দুবাইয়ে স্বর্ণের দোকান ‘আরাভ জুয়েলার্স’ করেছেন পুলিশ হত্যা মামলার আসামি আরাভ খান। ওই ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের উদ্বোধনে গেছেন ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান ও কন্টেন্ট ক্রিয়েটর হিরো আলম। ওই মামলার তদন্তের স্বার্থে তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন ডিবি প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মাদ হারুন অর রশীদ।

বৃহস্পতিবার (১৬ মার্চ) দুপুরে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

ডিবি প্রধান জানান, আরাভ জুয়েলার্সের মালিক পুলিশের বিশেষ শাখার পরিদর্শক মামুন এমরান খানের খুনের আসামি। বিষয়টি জানানো হয়েছিল সাকিবকে। তবুও তিনি সেখানে গেলেন। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক।

তিনি বলেন, ‘তারা পুলিশ কর্মকর্তা মামুনকে কেবল হত্যাই করেনি। তার লাশটাও যেন না পাওয়া যায়, সেজন্য কালীগঞ্জের জঙ্গলে ফেলে এসেছে। আমরা এ হত্যা মামলার তদন্ত করে চার্জশিটও দিয়েছি। ইন্টারপোলের মাধ্যমে আসামি আরাভ খানকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্যও আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলেছি। এছাড়া সাকিবরা বিষয়টি জানার পরও একজন হত্যা মামলার আসামির ডাকে কেন সেখানে গেলেন, তদন্তের জন্য প্রয়োজনে দেশে ফেরার পর তাদেরও ডেকে জানতে চাওয়া হবে।’

নৈশভোজের আমন্ত্রণে ভারতীয় হাইকমিশনে বিএনপির ৫ নেতা

নৈশভোজের আমন্ত্রণে ভারতীয় হাইকমিশনে পৌঁছেছেন বিএনপির পাঁচ নেতা।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে তারা সেখানে পৌঁছান।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইং সদস্য শায়রুল কবির খান নয়া দিগন্তকে বলেন, ভারতীয় হাই কমিশনের আমন্ত্রণে বিএনপির পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল নৈশভোজনে গেছে। প্রতিনিধি দলে রয়েছেন, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মোশাররফ হোসেন, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু ও সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ।