Home Blog Page 624

বিএনপি ক্ষমতায় গেলে দেশ দেউলিয়া হয়ে যাবে : কাদের

বিএনপি আবারো রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় গেলে দেশ দেউলিয়া হয়ে যাবে বলে মনে করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, দুর্নীতিবাজ বিএনপি নেতাদের মুখে দুর্নীতির কথা মানায় না। শেখ হাসিনা চুরি থেকে দেশকে বাঁচিয়েছেন। রাজনীতিকে দুর্নীতিমুক্ত ও গণতান্ত্রিক করেছেন। আর আপনারা ক্ষমতায় গেলে দেশকে আবারো দেউলিয়া করবেন, আমরা সেটা হতে দেবো না। তারেক রহমান কোটি কোটি টাকা পাচার করবে। বিএনপি সাম্প্রদায়িকতার পৃষ্ঠপোষক। তারা ক্ষমতায় গেলে জঙ্গিদের হাতে যাবে দেশ।
গতকাল বিকেলে রাজধানীর ওয়ারিতে ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০৩ তম জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, মির্জা ফখরুল দেখতে ভদ্রলোক, কিন্তু অন্তরে বিষ আর বিষ। তিনি এতো মিথ্যাচার করতে পারেন, সেরা প্যাথলজিক্যাল লায়ার, সেরা মিথ্যাবাদী। তিনি আরো বলেন, দুর্নীতিতে বিএনপি পর পর ৫ বার চ্যাম্পিয়ন। এরা দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বললে মানুষ হাসে। তাদের লজ্জা শরম নেই। ভোট চুরি করে বিশ্ব রেকর্ড করেছে বিএনপি। রাজনৈতিক দলের নেতা কেমন করে এমন মিথ্যাচার করতে পারে? ফখরুল সাহেব আপনাদের মতো শেখ হাসিনা চুরির চিন্তা করেন না, জনগণের কল্যাণে কাজ করেন তিনি। শেখ হাসিনা চুরি করলে পদ্মা সেতু হতো না, মেট্রোরেল হতো না। চুরির চিন্তা করলে হাওয়া ভবন হতো। প্রধানমন্ত্রীর সন্তানরা কোনো দুর্নীতির সাথে জড়িত না।
ওবায়দুল কাদের বলেন, বেপরোয়া গাড়ি, বেপরোয়া চালক কোথায় চলছে। খাদে পড়ে গেছে বিএনপি। মরা গাঙে আর জোয়ার আসবে না। বিএনপির আন্দোলনের সাথে দেশের জনগণ নেই। তিনি বলেন, সঙ্কটে কষ্ট পাচ্ছে জনগণ, তাই শেখ হাসিনা বেশি দামে কিনে কম দামে পণ্য দিচ্ছেন। রোজায় যাতে কষ্ট না হয় সে জন্য খাদ্য নিরাপত্তা বলয় বর্ধিত করেছেন। একজন মানুষও গৃহহীন থাকবে না। পরমাণু বোমা ছাড়া পাকিস্তানের সব দিক থেকে আমরা এগিয়ে।
বিএনপিকে আগামী নির্বাচনে অংশ নেয়ার আহ্বান জানিয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, পায়ের তলায় মাটি থাকলে নির্বাচনে এসে প্রমাণ করেন। ফাঁকা আওয়াজ দিয়ে জনপ্রিয়তা প্রমাণ করতে পারবেন না। প্রমাণ করতে নির্বাচনে আসুন।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, ডা: মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদ মো: হুমায়ুন কবির প্রমুখ।
এ দিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০৩তম জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে গতকাল বিকেলে রাজধানীর মিরপুরের ভাষানটেকে আলোচনা সভা করেছে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগ। উত্তরের সভাপতি শেখ বজলুর রহমানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও জাতীয় সংসদ উপনেতা মতিয়া চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম মান্নান কচি প্রমুখ। বক্তারা দেশকে স্বাধীন করতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সংগ্রাম, ত্যাগ ও তার আদর্শকে জানতে বঙ্গবন্ধু রচিত অসমাপ্ত আত্মজীবনী বই পাঠে সন্তানদের আগ্রহী করে তুলতে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান। পরে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের নির্মম ঘটনায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ নিহত সবার রূহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মুনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

মৈত্রী পাইপলাইন চালু একটি মাইলফলক অর্জন : প্রধানমন্ত্রী

ভারত থেকে জ্বালানি আনতে ‘ভারত-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনকে’ দুই দেশের জন্য একটি মাইলফলক অর্জন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
গতকাল শনিবার বিকেলে ভিডিও কনফারেন্সে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাথে যৌথভাবে এ পাইপলাইনের উদ্বোধন শেষে তিনি এ কথা বলেন। বাংলা নিউজ।
পাইপলাইনটি উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে ভারত থেকে পাইপলাইনে বাংলাদেশে তেল আসা শুরু হলো। আগে রেল ওয়াগনে ভারত থেকে তেল আসত বাংলাদেশে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইন আমাদের দুই বন্ধুপ্রতিম দেশের মধ্যে সহযোগিতা উন্নয়নের একটি মাইলফলক অর্জন। এটি বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তার পাশাপাশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করবে।
আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ভারত-বাংলাদেশ পাইপলাইনের মতো আগামী দিনে আরো সফলতা বাংলাদেশ-ভারত উদযাপন করবে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে আমরা একই সাথে কাজ করব।
এই পাইপলাইনের সুফলের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ভারত-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইন চালুর ফলে দুই দেশের জনগণ নানাভাবে উপকৃত হবে। রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে যখন বিশ্বের অনেক দেশ জ্বালানি সঙ্কটের মুখোমুখি তখন এই পাইপলাইনটি আমাদের জনগণের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি বলেন, এই পাইপলাইনে ভারত থেকে ডিজেল আমদানিতে ব্যয় ও সময় উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে এবং উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলায় ডিজেলের স্থিতিশীল সরবরাহ নিশ্চিত হবে।
শেখ হাসিনা বলেন, ২০১৮ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং আমি, ভার্চুয়ালি এই প্রকল্পের কাজ শুরু করি। ১৩১ দশমিক ৫৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পাইপলাইন নির্মাণ করা হয়েছে। বাংলাদেশের অংশে পড়েছে ১২৬ দশমিক ৫৭ কিলোমিটার, ভারতের অংশে ৫ কিলোমিটার।
প্রতিবেশী ভারতের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ভারত আমাদের অকৃত্রিম বন্ধু, ভ্রাতৃপ্রতিম প্রতিবেশী রাষ্ট্র। আমাদের হাজার বছরের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের অবাধ প্রবাহ। ঐতিহাসিক ও ভৌগোলিক সেতুবন্ধ দুই দেশের সম্পর্ককে ঘনিষ্ঠ থেকে ঘনিষ্ঠতর করেছে।
ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার সহযোগিতা আরো গভীর হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, বিগত বছরগুলোতে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে অনেক সম্ভাবনাকে আমরা বাস্তবে রূপদান করেছি। আমাদের দুই দেশের মধ্যে সমস্যাগুলো একে একে আমরা সমাধান করেছি। যোগাযোগ স্থাপন করেছি, ব্যবসাবাণিজ্যের প্রসার আমরা ঘটিয়েছি।
শেখ হাসিনা বলেন, আমরা উন্নয়নে একসাথে কাজ করে যাচ্ছি এবং ভারতের কাছ থেকে বিভিন্ন সহযোগিতা পাচ্ছি। সেই সাথে সাংস্কৃতিক সহযোগিতা ও উভয় দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ এবং দুই দেশের জনগণের কল্যাণে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে পারস্পরিক সহযোগিতাও বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের দুই দেশের বন্ধুত্ব অটুট থাকুক সেটিই আমরা চাই। বাংলাদেশ এখন উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছে সেটিকে আমরা কার্যকর করতে চাই।
ভারতীয় ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা বাংলাদেশে একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলছি। আমি চাই ভারতের বিনিয়োগকারীরাও এখানে বিনিয়োগ করুক। আমরা দুই দেশই তাতে লাভবান হবো। ভারত থেকে বাংলাদেশের এক হাজার ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, বিদ্যুৎক্ষেত্রে উপ আঞ্চলিক পর্যায়সহ দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার আরো কয়েকটি উদ্যোগ বর্তমানে বাস্তবায়নাধীন রয়েছে।
যৌথ এ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ভারত প্রান্ত থেকে ভিডিও কনফারেন্সে সে দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও বক্তব্য রাখেন।

আমাকে মঙ্গলবার গ্রেফতার করা হবে : ট্রাম্প

আমাকে মঙ্গলবার গ্রেফতার করা হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার (১৮ মার্চ) তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টের মাধ্যমে তিনি এ আশঙ্কা ব্যক্ত করেন।

তিনি লেখেন, রিপাবলিকান নেতা ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্টকে মঙ্গলবার গ্রেফতার করা হতে পারে। সুতরাং এর বিরুদ্ধে আপনারা আওয়াজ তুলুন, আন্দোলন করুন।

গ্রেফতারের কারণ উল্লেখ করে ট্রাম্প লেখেন, তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়েছে, পর্নস্টার স্টর্মি ড্যানিয়েলকে তিনি কথিত সম্পর্কের বিষয়টি গোপন রাখার জন্য মোটা অঙ্কের অর্থ দিয়েছেন।

তিনি এ অভিযোগকে ভিত্তিহীন উল্লেখ করে বলেন, যারা আমাকে গ্রেফতারের চেষ্টা করছে, তারা চরম দুষ্কৃতিকারী। তারা নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে আমার বিরুদ্ধে এমন অমূলক অভিযোগ উত্থাপন করেছে।

সূত্র : আলজাজিরা নেট ও অন্যান্য

গ্রেফতারি পরোয়ানাকে চ্যালেঞ্জ? ক্রিমিয়া গেলেন পুতিন

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন অঘোষিত সফরে ক্রিমিয়া পৌঁছেছেন। ইউক্রেনের কাছ থেকে উপদ্বীপটি কেড়ে নেয়ার নবম বার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে পুতিন এই সফর করছেন বলে জানানো হয়েছে।

পুতিনকে শনিবার সেখানে স্বাগত জানান রুশ-সমর্থিত সভাস্তুপোলের গভর্নর মিখাইল রাজভোঝাইয়েভ। পরে তাকে শিশুদের একটি নতুন সেন্টার এবং আর্ট স্কুলে নিয়ে যাওয়া হয়। সফরটিকে অপ্রত্যাশিত হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।

রাজভোঝাইয়েভ মেজেঞ্জিং অ্যাপ টেলিগ্রামে বলেন, ‘আমাদের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির ভ্লাদিমিরোভিচ পুতিন জানেন কিভাবে অবাক করে দিতে হয়। ভালো ব্যবস্থা।’

রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় মিডিয়ায় পুতিনের কোনো মন্তব্য প্রকাশ করেনি। এর এক দিন আগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) পুতিনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিল। ইউক্রেন থেকে শত শত শিশুকে রাশিয়ায় অবৈধভাবে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে এই পরোয়ানা জারি করে।

পুতিন এখনো এই পরোয়ানার ব্যাপারে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি। তবে ক্রেমলিনের মুখপাত্র বলেছেন, এটির কোনো মূল্য নেই। এটি অগ্রহণযোগ্য।

রাশিয়া ২০১৪ সালে ক্রিমিয়া দখল করে নেয়। এরপর গত বছর ইউক্রেনে পূর্ণ মাত্রায় আক্রমণ চালায়। ইউক্রেন বলছে, তারা রাশিয়াকে ক্রিমিয়া ও অন্যান্য দখল করা এলাকা থেকে বহিষ্কার করতে যুদ্ধ করে যাবে।

সূত্র : আল জাজিরা

আত্মশুদ্ধির মাহে রমজান

রমজান এলে মুসলমানদের হৃদয়ে জাগে পবিত্র শিহরণ। চার দিকে সৃষ্টি হয় স্বর্গীয় আবহ। পবিত্র রমজানে একজন রোজাদার শুধু পানাহার বর্জনেই সন্তুষ্ট থাকেন না; বরং সবরকম কটু কথা, মন্দ কাজ ও যাবতীয় অনাচার থেকে নিজেকে বিরত রাখেন। এর মধ্য দিয়ে তিনি সারা বছরের জন্য এক সুশৃঙ্খল প্রশিক্ষণ নিয়ে থাকেন এবং রোজার সেই অনুপম শিক্ষা পুরো বছরে তার জীবনমানে প্রতিভাত করতে উদ্যমী হন। দাঙ্গা-হাঙ্গামা, বিবাদ-বিশৃঙ্খলা ও সবধরনের ঝগড়া-ফাসাদ থেকেও নিজেদের দূরে রাখার প্রয়াস চালান। কেউ শৃঙ্খলা বিনষ্ট করতে এলে রোজাদার বলে ওঠেন, ‘আমি কোনোমতেই তোমার সাথে বিবাদে যাবো না। কেননা, আমি আল্লাহর নামে রোজা রেখেছি।’ রোজাদারের চিন্তাচেতনা, মন-মানসে আসে বৈপ্লবিক পরিবর্তন; ক্ষুধা-তৃষ্ণার যাতনায় নিজেকে জর্জরিত করে সে অভুক্ত মানুষের কষ্ট বা আহাজারি অনুভবের এক সুবর্ণ সুযোগ লাভ করে। ফলে সে অভাবী ও প্রার্থীদের যথাসাধ্য সহযোগিতায় মনোনিবেশ করে এবং আর্তমানবতার খেদমতে নিজেকে উৎসর্গ করার মহান শিক্ষা লাভ করে। এভাবে রমজান প্রকৃত অর্থেই বান্দার অপরাধ ও পাপাচারকে জ্বালিয়ে দেয় এবং মহান প্রভুর ক্ষমা ও রহমতের চাদরে নিজেকে আবৃত করতে পারার সৌভাগ্য লাভ করে।

রমজান হলো, নিজেকে আত্মশুদ্ধির চর্চায় উজ্জীবিত করার মাস। এ মাস হলো, সাধনার মাধ্যমে একজন সফল মু’মিন হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলার। সব অনৈতিকতাকে দূরে ঠেলে দিয়ে পরিশুদ্ধি ও আত্মগঠনের প্রশিক্ষণ নেয়ার মাস রমজান। জীবনের সব ধরনের অনিয়মকে বিতাড়িত করে নিয়মতান্ত্রিকতার অনুশীলনের অনন্য মাস এটি। সেই প্রশিক্ষণ ও অনুশীলনকে কাজে লাগাতে হয় সারা বছর। ইসলামে শরিয়ত নির্দেশিত বিধানগুলো কোনো আনুষ্ঠানিকতা নয়। ইবাদত করার পাশাপাশি, তার দর্শন ও অন্তর্নিহিত শিক্ষানুযায়ী জীবনযাপনের মধ্যেই রয়েছে ইবাদত পালনের সার্থকতা। আর রোজার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো তাকওয়া অর্জন। রোজার মূল উদ্দেশ্য হলো সিয়াম সাধনার মাধ্যমে তাকওয়াভিত্তিক জীবনাচরণে অভ্যস্ত হওয়া, আল্লাহর মহত্ত্ব ঘোষণা করা এবং তাঁর সব নিয়ামতের জন্য পূর্ণ কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে নিজেকে পরিপূর্ণভাবে মহান রবের কাছে সমর্পণ করা।
ইরশাদ হয়েছে- ‘হে ঈমানদাররা! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ তথা আবশ্যক করা হয়েছে, যেরূপ ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তী মানুষের ওপর, যেন তোমরা তাকওয়া বা পরহেজগারি অর্জন করতে পারো।’ (সূরা বাকারা-১৮৩)

রমজান মু’মিন-মুসলমানের জীবনে পরিবর্তন আনার মোক্ষম সুযোগ। তাই রমজানের পর পরিবর্তিত জীবনে ফিরে যাওয়াই রমজানের দাবি। কেননা, রোজা নিছকই উপবাস থাকা, পানাহার ও কামাচার বর্জনের নাম নয়। এর বিশেষ তাৎপর্য ও দর্শন রয়েছে। রয়েছে এর দৈহিক, আত্মিক, নৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক উপকারিতা।
সারা দিন উপবাস থাকার ফলে শরীর ও আত্মাকে নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হয় এবং পাশবিকতার প্রাবল্য হ্রাস পায়। মনুষ্যত্ব জাগ্রত হয়, অন্তর বিগলিত হয় মহান প্রভুর কৃতজ্ঞতায়। মাহে রমজান হলো মানবিক কল্যাণবোধে উজ্জীবিত হওয়ার এক রাজপথ।

হাকিমুল উম্মাহ খ্যাত আল্লামা আশরাফ আলী থানভি রহ: বলেন, ‘মানুষের কুপ্রবৃত্তি ও আবেগের ওপর বিবেকের সর্বদা প্রভাব বিস্তার করা উচিত। কিন্তু মানবীয় দুর্বলতার কারণে অনেকসময় বিবেকের ওপর মানুষের আবেগ প্রাধান্য লাভ করে। তাই আত্মশুদ্ধি ও আত্মজাগৃতির জন্য ইসলাম রোজাকে মৌলিক ইবাদতগুলোর অন্তর্ভুক্ত করেছে। রোজা রাখার দ্বারা মানুষের কুপ্রবৃত্তি ও আবেগের ওপর বিবেক পরিপূর্ণভাবে বিজয়ী হয়। এতে তাকওয়ার গুণাবলি অর্জিত হয়। রোজা রাখার মাধ্যমে মানুষের নিজের অক্ষমতা ও অপারগতা এবং আল্লাহ তায়ালার বড়ত্ব ও কুদরতের ওপর দৃষ্টি নিবদ্ধ হয়। রোজার মাধ্যমে অন্তর্দৃষ্টি খুলে যায়, দূরদর্শনের ধারণা প্রবল হয়। আসবাব ও উপকরণের হাকিকত খুলে যায়। পাশবিকতা ও পশুত্ব অবদমিত হয়। আল্লাহর নৈকট্য লাভ হয়। আল্লাহর কৃতজ্ঞতা আদায়ের সুযোগ হয়। অন্তরে মানবিকতা ও সহমর্মিতার বন্যা বয়ে যায়।

রোজা দেহ-আত্মার সুস্থতার কারণ। রোজা মানুষের জন্য এক রুহানি খাদ্য, যা পরকালে মানুষের জন্য খাদ্যের কাজ দেবে। সর্বোপরি রোজা আল্লাহর ভালোবাসার অন্যতম নিদর্শন।
পবিত্র রমজান মানুষকে আত্মশুদ্ধি ও পুণ্য অর্জনের এক অবারিত সুযোগ এনে দেয়; যেখানে একটি নফল ইবাদত অন্য মাসের ফরজ ইবাদতের এবং রমজানের একটি ফরজ ইবাদত অন্য মাসের ৭০টি ফরজ ইবাদতের সমপর্যায়ের গুরুত্ব বহন করে থাকে। তাই স্বাভাবিকভাবেই পবিত্র রমজান মাস মানুষের জীবনে সংশোধন লাভ ও অগণিত সওয়াবের বার্তা নিয়ে তার শুভাগমন ঘটায়। মানুষের উচিত হলো এমন পুণ্যময় ও বরকতের মাসকে সর্বোচ্চ মূল্যায়ন করা এবং বৈচিত্র্যপূর্ণ ইবাদতের মাধ্যমে ইহকালীন কল্যাণ অর্জন ও পারলৌকিক প্রত্যাশিত সাফল্যের সবটুকু লাভে আত্মনিয়োগ করা।

লেখক :আহসানুল ইসলাম রাকিব, শিক্ষার্থী,

জামিয়া হোসাইনিয়া ইসলামিয়া, আরজাবাদ

ইউক্রেনে চীনের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবের বিরোধিতা যুক্তরাষ্ট্রের

আগামী সপ্তাহে মস্কোতে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাথে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠক এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেন্সকির সাথে ফোনালাপের আগে হোয়াইট হাউজ ইউক্রেনে যুদ্ধবিরতির পক্ষে বেইজিংয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে।

রোববার ভয়েস অফ আমেরিকায় প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে বলা হয়, জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের কৌশলগত যোগাযোগ বিষয়ক সমন্বয়ক জন কার্বি বলেন, আমরা উদ্বিগ্ন হব যদি এই বৈঠক থেকে বেরিয়ে এসে কোনো ধরনের যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানানো হয়। যুদ্ধবিরতি ভালো শোনালেও এটি প্রকৃতপক্ষে রাশিয়ার অর্জনকে সমর্থন করে।

পুতিনের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা ইউরি উশাকভ শুক্রবার বলেন, শি’র সাথে আলোচনা ইউক্রেনের যুদ্ধ নিয়ে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আসতে পারে।

কার্বি আশংকা প্রকাশ করে বলেন, যুদ্ধবিরতি মস্কোকে ভবিষ্যতে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে আরো কার্যকর আক্রমণের জন্য প্রস্তুত হওয়ার সুযোগ দিতে পারে।

তিনি আরো বলেন, এই মুহূর্তে যুদ্ধবিরতি ‘ইউক্রেনের স্বার্থ রক্ষা করবে না; এবং তা ‘জাতিসঙ্ঘ সনদের লঙ্ঘন হবে’। কারণ তা রাশিয়াকে অবৈধভাবে ইউক্রেনের অভ্যন্তরে থাকার স্বীকৃতি কেড়ে নেবে।

বেইজিংয়ের সম্পৃক্ততাকে সতর্কতার সাথে স্বাগত জানিয়ে জেলেন্সকি বলেন, সাফল্য নির্ভর করবে কথার ওপর নয়, কর্মের ওপর।

গত মাসে বেইজিং ইউক্রেনে একটি রাজনৈতিক নিষ্পত্তির জন্য তার ১২-দফা পরিকাঠামো প্রকাশ করে এবং ‘বিস্তৃত যুদ্ধবিরতিতে’ পৌঁছানোর জন্য ‘যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সরাসরি সংলাপের’ আহ্বান জানায়।

যদিও এই মুহূর্তে যুদ্ধরত পক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্য যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ।
সূত্র : ভয়েস অফ আমেরিকা

যেই জয় শুধুই মানজারুল ইসলাম রানার

১৬ মার্চ ২০০৭। ক্যারিবীয় দ্বীপে চলছে বিশ্বকাপ, কুইন্স পার্কে পরের দিন নিজেদের প্রথম ম্যাচে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ, স্বপ্ন বুনছে ভারত বধের। এমন সময় একটা ফোন কল এলো, আর তাতেই যেন পুরো পৃথিবী এলোমেলো হয়ে গেল মাশরাফি-সুমনদের। রাসেল, রাজ্জাক চিৎকার করে উঠলেন, মাশরাফি এক দৌড়ে বিছানায়। বাশার শুধু স্ফুটস্বরে বলে উঠলেন, ‘একি করলি রানা?’

মানজারুল ইসলাম রানা, জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার। খুব সম্ভাবনাময় স্পিন অলরাউন্ডার ছিলেন, জাতীয় দলের হয়ে খেলেছেন ৬টি টেস্ট এবং ২৫টি ওয়ানডে ম্যাচ। ছিলেন মাশরাফি- রাজ্জাক, রফিকদের খুব কাছের বন্ধু। তবে জায়গা হয়নি ২০০৭ বিশ্বকাপের দলে, যা কাল হয়ে দাঁড়ায় তার জীবনে। বন্ধুরা ক্যারিবীয় দ্বীপে ভারত বধের পরিকল্পনায় ব্যস্ত, তখন রানা সময় কাটাচ্ছিলেন মোটরসাইকেল নিয়ে।

যে মোটরসাইকেল কেড়ে নেয় তার প্রাণ, বাংলাদেশ যেদিন বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলবে, তার আগের দিনই পৃথিবীকে বিদায় জানান তিনি। মর্মান্তিক এক সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়ে বিধাতার ডাকে সাড়া দেন রানা। মাত্র ২২ বছর ৩১৬ দিন সর্বকনিষ্ঠ টেস্ট ক্রিকেটার হয়ে পাড়ি জমান পরপারে।

রানা আকস্মিক মৃত্যুর খবরে পুরো দলে তখন শোকের ছায়া। বিষয়টা যেন মানতেই পারছিলেন না রফিক-রাজ্জাকরা। তরুণ সাকিব-তামিমরাও তখন মর্মাহত, কী করবেন বুঝে উঠতে পারছিলেন না। ভাইসম বন্ধুকে হারিয়ে তখন শোকবিহ্বল মাশরাফি, গায়ে তখন তার প্রচণ্ড জ্বর। এদিকে ঠিক পরদিন বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচ, এমতাবস্থায় মাশরাফিকে বাশারের প্রশ্ন, ‘খেলতি পারবি?’ মাশরাফির উত্তর ‘রানার জন্যি খেলতি হবি।’

যা নিয়ে পরে এক আলাপকালে মাশরাফি বলেছিলেন, ‘ম্যাচের আগের দিন রানা মারা গেলো। আমরা তো দূরে, ওর জানাজাও পড়তে পারছিলাম না। ওর জন্য কিছু একটা করতে চেয়েছিলাম। খুব স্বাভাবিকভাবেই আমরা সবাই আলোচনা করছিলাম এবং এক হয়ে বলেছিলাম আমাদের ম্যাচটা জিততে হবে।’ অর্থাৎ সবাই চেয়েছিল সেদিন শোককে শক্তিতে পরিণত করতে, ম্যাচটি জয় করে রানাকে উৎসর্গ করতে।

পরদিন ভারতের বিপক্ষে মাঠেও দেখা মেলে সেই প্রতিচ্ছবি। ভারতের বিরুদ্ধে টসে হেরে ফিল্ডিং করতে নামা বাংলাদেশ হঠাৎই হয়ে উঠে আগ্রাসী। মাশরাফির নেতৃত্বে বোলিং ইউনিট যেন ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের বেশ শক্তভাবেই চেপে ধরে। ম্যাচের তৃতীয় ওভারেই বীরেন্দর শেবাগের স্ট্যাম্প ভেঙে দেন মাশরাফি। আর দলীয় ২১ রানে সাজঘরে ফেরেন রবিন উথাপ্পা।

উথাপ্পা বিদায়ের পর চার রান যোগ হতেই শচীন টেন্ডুলকারকে ফেরান আব্দুর রাজ্জাক। সেখান থেকে ভারত ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে, তবে তবে দলীয় ৭২ রানে ‘দ্যা ওয়াল’ খ্যাত দ্রাবিডের প্রাচীর ভেঙ্গে দেন মোহাম্মদ রফিক। যুবরাজ সিং ও সৌরভ গাংগুলী দলকে সসম্মানজনক স্কোর এনে দেয়ার চেষ্টা করেন, তবে সফল হতে পারেননি।

নিজের ৬৬ রানে সৌরভ আউট হলে শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ৩ বল বাকি থাকতেই অলআউট হয় ভারত। মাত্র ১৯১ রানেই ঘুটিয়ে যায় তারা। মাশরাফি একাই ৪টি, রফিক ও রাজ্জাক শিকার করেন ৩টি করে উইকেট।

বোলারদের গড়ে দেয়া ভিতের উপর দাঁড়িয়ে তিন তরুণ; তামিম ইকবাল, সাকিব আল হাসান আর মুশফিকুর রহিমের ব্যাটে জয় আসে অনায়াসে। তামিম-সাকিব আউট হলেও মুশফিক আর আশরাফুল মিলে জয় নিশ্চিত করেই মাঠ ছাড়েন। বাংলাদেশ লক্ষ্য পেরিয়ে যায় ৪৮.৩ ওভারে ৫ উইকেট হাতে রেখেই। ম্যাচ সেরা নির্বাচিত হন মাশরাফি বিন মর্তুজা।

তরুণ তামিমের ব্যাট সেদিন হয়ে উঠে খাপছাড়া তলোয়াড়। আগ্রাসী তামিম খেলেন ৫৩ বলে ৫১ রানের ইনিংস! তবে আরেক ওপেনার শাহরিয়ার নাফিসকে দ্রুত হারায় বাংলাদেশ, তবে মুশফিকুর রহিম খেলতে থাকেন একপ্রান্ত আগলে রেখেই। তাকে সঙ্গ দেন আরেক তরুণ সাকিব আল হাসান। মাঝে অবশ্য আফতাব আহমেদের উইকেটও হারিয়ে ফেলে টাইগাররা।

তবে মুশফিক-সাকিবের ৮৪ রানের জুটিতে জয়ের দিকে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। দলীয় ১৬৩ রানে ৫৩ রান করে আউট হন সাকিব। অধিনায়ক হাবিবুল বাশার দ্রুত ফিরলেও বাকি পথটা আশরাফুলকে সঙ্গে নিয়ে সামলে দেন মুশফিক, তিনি অপরাজিত থাকেন ৫৬ রানে। সেই সাথে রচিত হয় বাংলার ক্রিকেটের এক মহাকাব্য।

তারিখটা মনে আছে তো? হ্যাঁ, আজই সেই দিন। ১৬ বছর আগে আজকের এই দিনেই অভিজ্ঞ মাশরাফি আর তরুণ তামিম, সাকিব আর মুশফিকের হাত ধরে প্রথমবার ভারত বধ করে টাইগাররা! যেই জয় কেবল মানজারুল ইসলাম রানার, না থেকেও যেই জয়ের নায়ক তিনি।

টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর প্রতি রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

রাষ্ট্রপতি মো: আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০৩তম জন্মবার্ষিকী ও ‘জাতীয় শিশু দিবস’-২০২৩-উপলক্ষে জাতির পিতার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন।

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী সশরীরে উপস্থিত থেকে শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান।

প্রথমে রাষ্ট্রপতি হামিদ বঙ্গবন্ধুর মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন এবং এর পর পরই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

পুষ্পস্তবক অর্পণের পর তারা বঙ্গবন্ধুর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে সেখানে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌ ও বিমান বাহিনীর একটি সুসজ্জিত চৌকস দল গার্ড অব অনার প্রদান করে। পরে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা দলীয় সিনিয়র নেতাদের সাথে নিয়ে দলের পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধুর মাজারে আরেকটি পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

রাষ্ট্রপতির পত্নী রাশিদা খানম তার ছেলে রেজওয়ান আহম্মদ তৌফিক, এমপি এবং প্রধানমন্ত্রী ও তার পরিবারের সদস্যদের সাথে নিয়ে পৃথকভাবে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে বঙ্গবন্ধুর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

আবদুল হামিদ ও শেখ হাসিনা ফাতেহা পাঠ করেন এবং বঙ্গবন্ধুসহ ১৫ আগস্টের নির্মম হত্যাকাণ্ডে শিকার অন্যান্য বীর শহীদদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে মোনাজাতে যোগ দেন।

মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, সংসদ সদস্য এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

রাষ্ট্রপতি জাতির পিতার সমাধি সৌধ প্রাঙ্গণে রাখা দর্শনার্থী বাইয়েও স্বাক্ষর করেন।

রাষ্ট্রপতি হামিদ সমাধি প্রাঙ্গণে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে স্বাগত জানান।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বর সড়কে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরের সামনে রক্ষিত জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে সড়ক পথে সকাল ১০টায় টুঙ্গিপাড়া পৌঁছান।

বেশ কয়েক বছর ধরে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনটি ‘জাতীয় শিশু দিবস’ হিসেবে সারাদেশে পালিত হয়ে আসছে।

১৯২০ সালের এই দিনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তৎকালিন মহকুমা এবং বর্তমানে গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়া গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
সূত্র : বাসস

সাম্প্রদায়িক শক্তির বিষবৃক্ষ উপড়ে ফেলা হবে : সেতুমন্ত্রী

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণের পথের বাধা সাম্প্রদায়িক অপশক্তির বিষবৃক্ষ উপড়ে ফেলা হবে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

শুক্রবার সকালে ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মৃতি জাদুঘর প্রাঙ্গণে জাতির পিতার ১০৩তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, সংবিধান অবিকৃত রেখে সংবিধানে যেভাবে আছে সেভাবেই নির্বাচনে যেতে চায় আওয়ামী লীগ। বিএনপি সরকার বারবার সংবিধানের ওপর আঘাত এনে কলঙ্কিত করেছে। আওয়ামী লীগ সংবিধানের মর্যাদা রক্ষা করে সেই আলোকে আগামী নির্বাচন করবে।
সূত্র : বাসস

উত্তরপ্রদেশে ৬ বছরে ১০০০০ ‘এনকাউন্টার’, নিহতের সংখ্যা কত?

গত ৬ বছরে ১০ হাজার ‘এনকাউন্টার’ হয়েছে ভারতের উত্তরপ্রদেশে। ওই ঘটনায় ৬৩ জন দুষ্কৃতিকারীর মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার এমনই দাবি করা হয়েছে উত্তরপ্রদেশের দেয়া সরকারি তথ্যে।

উত্তরপ্রদেশের ক্ষমতায় আসার পরই মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের লক্ষ্য ছিল তার সরকার অপরাধমূলক কাজ এবং দুষ্কৃতিকারীদের বিষয়ে কোনোরকম আপস করবে না। রাজ্যকে অপরাধমুক্ত করতে তাই ঢালাও ক্ষমতা দিয়ে দেয়া হয় পুলিশ-প্রশাসনকে।

রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে যোগীর সরকার মাফিয়া, দুষ্কৃতিকারীদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নেয়। রাজ্যকে অপরাধমুক্ত করতে দুষ্কৃতিকারীদের কড়া হাতে দমনের পথে হাঁটেন যোগী। তার পর থেকে একের পর এক ‘এনকাউন্টার’-এর ঘটনা ঘটতে থাকছে ওই রাজ্যে। সেই ‘এনকাউন্টারে’ কোনো দুষ্কৃতিকারীর মৃত্যু হয়েছে, কেউ আহত অবস্থায় ধরা পড়েছেন।

সম্প্রতি উত্তরপ্রদেশ সরকার অপরাধ সম্পর্কিত একটি তথ্য প্রকাশ করেছে। সেই তথ্য উদ্ধৃত করে এনডি টিভি জানিয়েছে, গত ৬ বছরে ১০ হাজার ‘এনকাউন্টার’ হয়েছে। সেই ঘটনায় ৬৩ জন দুষ্কৃতিকারীর মৃত্যু হয়েছে। এমনই দাবি করা হয়েছে ওই সরকারি তথ্যে।

যদিও সম্প্রতি লখনউ-এর এডিজি (আইনশৃঙ্খলা) প্রশান্ত কুমার একটি সংবাদ সম্মেলন করে দাবি করেছিলেন, ‘পুলিশের সাথে সংঘর্ষে এ পর্যন্ত ১৭৮ জন অভিযুক্ত মারা গেছেন। এই এনকাউন্টারে আমাদের যে বাহাদুর সঙ্গীরা নিহত হয়েছেন, তাদের সংখ্যা ১৫। ১ হাজার ৪২৫ জন পুলিশ কর্মী আহত হয়েছেন। এই সব এনকাউন্টার সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা মেনেই করা হয়েছে।’

প্রয়াগরাজে উমেশ পাল হত্যাকাণ্ড নিয়ে গোটা উত্তরপ্রদেশে সরগরম। শুধু তাই-ই নয়, এই ঘটনায় পুলিশের ‘এনকাউন্টার’ দুই দুষ্কৃতিকারীর মৃত্যু পরিস্থিতিতে আরো সরগরম করেছে। দুষ্কৃতিকারীরা যে গাড়িতে এসে উমেশের উপর আক্রমণ করে, তার চালক আরবাজকে প্রয়াগরাজে ‘এনকাউন্টার’-এ মেরে ফেলা হয়। তার পর পরই পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হয় আর এক দুষ্কৃতিকারী বিজয় কুমার ওরফে ওসমান চৌধুরীর। শুধু উমেশ হত্যাকাণ্ডই নয়, দুষ্কৃতিকারী দমনে উত্তরপ্রদেশে মাঝেমধ্যেই এমন ‘এনকাউন্টার’-এর খবর পাওয়া যায়। যদিও বিরোধীরা যোগী সরকারের পুলিশের এই ‘এনকাউন্টার’ নিয়ে বার বার প্রশ্ন তুলেছে, আপত্তিও জানিয়েছে। কিন্তু দুষ্কৃতিকারী দমনে যোগীর ‘এনকাউন্টাররাজ’ কায়েম রয়েছে গোটা উত্তরপ্রদেশে।

উত্তরপ্রদেশের পুলিশের একটি হিসাব বলছে, ৬ বছরে ১০ হাজর ৫০০ ‘এনকাউন্টার’ হয়েছে! শুধুমাত্র ২০২২-এর এপ্রিল থেকে ২০২৩ সালের মার্চের মধ্যেই ১ হাজার ৬৬টি ‘এনকাউন্টার’ ঘটেছে। আর ২০১৭-র মার্চ থেকে ২০২২-এর এপ্রিল, এই সময়ের মধ্যে ‘এনকাউন্টার’ হয়েছে ৯ হাজার ৪৩৪টি। আর এই ৬ বছরের মধ্যে পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হয়েছে ১৭৮ জন দুষ্কৃতিকারীর। সংঘর্ষে মারা গেছেন ১৫ পুলিশকর্মীও। এই পরিসংখ্যান তুলে ধরে এমনই দাবি করা হয়েছে ‘দৈনিক ভাস্কর’-এর এক প্রতিবেদনে।

যোগী আদিত্যনাথের ‘ঠোক দো’ শব্দবন্ধ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল বহু আগে। অখিলেশ যাদবও যে সময় অভিযোগ করে বলেছিলেন, ‘যোগী কথায় কথায় বলেন, গুলি চালিয়ে দাও। পুলিশও তার ‘ঠোক দো’ নীতি মেনে চলছে। তার জন্যই এ ধরনের ঘটনা ঘটছে।’ প্রশ্ন উঠেছিল, এই সব ‘এনকাউন্টার’ ‘এক তরফা হত্যা’ নয় তো?

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী বিরাগ গুপ্ত ‘এনকাউন্টার’ প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, ভারতের আইনব্যবস্থায় ‘এনকাউন্টারকে’ আইনগত বৈধতা দেয়া হয়নি। সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২১ অনুযায়ী, জীবনের অধিকার হলো মৌলিক অধিকার। আইনে বলা হয়েছে, সরকার কোনো ব্যক্তির জীবনযাপনের অধিকার একমাত্র আইনিপথেই হরণ করতে পারে। ‘এনকাউন্টার’ একটি নেতিবাচক বিষয়। সংবিধানে আইনের শাসনের কথাই বলা হয়েছে। অর্থাৎ, কোনো দোষী ব্যক্তিকে আদালতের রায়ের পরই দোষী সাব্যস্ত করা যায়। আদালতেই তার মৃত্যুদণ্ড দিতে পারে। যতক্ষণ আদালতে কেউ দোষী সাব্যস্ত না হন, ততক্ষণ তিনি নির্দোষ।

যদিও বৃহস্পতিবার রাতে উত্তরপ্রদেশ সরকার যে তথ্য প্রকাশ করেছে, তার হিসাবের সাথে উত্তরপ্রদেশ পুলিশের দেয়া তথ্য মিলছে না। ফলে প্রশ্ন উঠছে, কোন তথ্য বেশি নির্ভরযোগ্য, তা নিয়ে।
সূত্র : আনন্দবাজার