Home Blog Page 627

বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বাংলাওয়াস করলো বাংলাদেশ

বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের ধবলধোলাইয়ের তিক্ত লজ্জা দিল বাংলাদেশ। ধবলধোলাই এড়াতে ১৫৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করে জিততে হতো ইংলিশদের, তবে নির্ধারিত ওভার শেষে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৪২ রানেই থেমেছে থ্রি লায়ন্সদের ইনিংস। ১৬ রানের এই জয়ের মধ্য দিয়ে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো কোনো দলকে ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ (ধবলধোলাই) করলো বাংলাদেশ।

লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে প্রথম ওভারেই উইকেট হারায় ইংল্যান্ড। অভিষেক ওভারেই উইকেটের দেখা পেয়েছেন তানভীর ইসলাম, গোল্ডেন ডাক উপহার দিয়ে ফিরিয়েছেন ফিলিপ সল্টকে। তবে ইংল্যান্ড দলের হাল ধরেন আরেক ওপেনার ডেভিড মালান, তাকে সঙ্গ দেন অধিনায়ক জশ বাটলার। দু’জনে মিলে জয়ের লক্ষ্যে এগিয়ে নিয়ে যেতে থাকেন দলকে।

প্রথম ওভারেই প্রথম উইকেট তুলে নেয়ার পর বাংলাদেশ দ্বিতীয় উইকেটের দেখা পায় ১৩তম ওভারে। ততক্ষণে দলীয় রান তিন অংকে পৌঁছে দিয়েছেন বাটলার-মালান জুটি। সে ওভারেই পরপর ২ বলে ফেরেন দু’জনেই। প্রথমে মালানকে লিটনের ক্যাচ বানান মোস্তাফিজ, পরের বলে রান আউটের ফাঁদে পড়েন বাটলার। মালান ৪৭ বলে ৫৩ ও বাটলার ৩১ বলে করেন ৪০ রান।

শেষ ২৪ বলে ইংল্যান্ডের জয়ের জন্য প্রয়োজন যখন ৪০ রান, তখন ১০ বলে ৯ রান করে তাসকিন আহমেদের শিকার হন মইন আলি। তিন বল পর তাসকিনই ভাঙেন ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে থাকা বেন ডাকেটের উইকেট। মূলত সেখানেই রঙ বদলায় ম্যাচের, খেলার নিয়ন্ত্রণ চলে আসে টাইগারদের হাতে। ১৮তম ওভারে মোস্তাফিজ মাত্র ৪ রান দিলে শেষ ১২ বলে প্রয়োজন হয় ৩১ রান।

১৯তম ওভারে সাকিব আল হাসান মাত্র ৪ রান দিয়ে ক্রিস ওকসকে ফেরালে শেষ ওভারে জয়ের জন্য ২৭ রান নিতে হতো ইংল্যান্ডকে। প্রথম ২ বলে ২ চার হাঁকালেও শেষ পর্যন্ত মাত্র ১০ রান সংগ্রহ করতে পারে থ্রি লায়ন্সরা। ফলে ১৬ রানের জয় পায় বাংলাদেশ। টাইগাররা গড়ে তোলে ইংলিশদের ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইট ওয়াশ করার কীর্তি।

মঙ্গলবার মিরপুর স্টেডিয়ামে টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে এদিন ভালো শুরু পায় বাংলাদেশ। জমে উঠে উদ্বোধনী জুটি, দুই ওপেনার লিটন দাস ও রনি তালুকদার মিলে পাওয়ার প্লেতে যোগ করেন ৪৬ রান। অবশ্য পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে এসে ভেঙে যেতে পারতো এই জুটি, আউট হয়ে যেতে পারতেন রনি তালুকদার। তবে রেহান আহমেদ সহজ ক্যাচ মিস করায় পাওয়ার প্লে শেষেও উইকেটবিহীন থাকে বাংলাদেশ।

পাওয়ার প্লে শেষ হতেই ভেঙেছে উদ্বোধনী জুটি। জীবন পেয়েও ইনিংসটা বড় করতে পারেননি রনি তালুকদার। আদিল রাশিদের বলে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন তিনি। আউট হওয়া আগে খেলেছেন ২২ বলে ২৪ রানের ইনিংস। রনির বিদায়ে ভাঙে ৫৫ রানের উদ্বোধনী জুটি। তবে একপ্রান্ত আগলে রেখে দারুণ খেলতে থাকেন আরেক ওপেনার লিটন দাস।

পুরো সিরিজ নিষ্প্রভ থাকা লিটন দাস জ্বলে উঠেন স্বরূপে। রনি তালুকদারের পর নাজমুল হোসেন শান্তকে নিয়ে দলীয় শতক পূরণ করেন তিনি, একই সাথে তুলে নেন টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে নিজের নবম অর্ধশতক। লিটনকে যোগ্য সঙ্গ দিতে থাকেন নাজমুল শান্ত। সিরিজে বাংলাদেশের সেরা এই পারফর্মার এদিনও জ্বলে উঠেন ধারাবাহিকতা ধরে রেখে। ফলে ইংল্যান্ডের জন্যে ভয়ের কারণ হয়ে উঠতে থাকে লিটন-শান্ত জুটি।

এই জুটি ভাঙে ১৭তম ওভার শেষে দলীয় ১৩৯ রানে। ক্যারিয়ার সেরা ৭৩ রান করে আউট হন লিটন, ১০ চার আর ১ ছক্কায় ৫৭ বলে এ রান করেন তিনি। লিটন আউট হওয়ার আগের ওভার থেকেই অবশ্য কমে আসতে থাকে রানের গতি। ১৫৮ রানেই থামে বাংলাদেশের ইনিংস। ইংল্যান্ডের হয়ে একটা করে উইকেট নেন ক্রিস জর্ডান ও আদিল রাশিদ।

কৃষ্ণসাগর উপকূলে মার্কিন ড্রোন ধ্বংস করল রুশ যুদ্ধবিমান

ইউক্রেনের উপকূলে এবার রুশ হামলার শিকার হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। কৃষ্ণসাগরের আকাশে মঙ্গলবার আমেরিকার একটি নজরদারি ড্রোনকে গুলি চালিয়ে ভূপাতিত করেছে রুশ যুদ্ধবিমান।

কাশিত খবরে জানানো হয়েছে, কৃষ্ণসাগর উপকূলে এমকিউ-৯ র‌্যাপটর গোত্রের এ ড্রোনটি নজরদারি চালানোর সময় রুশ এসইউ-২৭ যুদ্ধবিমান সেটির প্রপেলারে আঘাত হানে। ফলে এটিকে আন্তর্জাতিক সাগরে নামিয়ে আনতে বাধ্য হতে হয়। এতে করে ড্রোনটি ধ্বংস হয়ে গেছে। রুশ বিমানবাহিনীর এই হামলাকে ‘বেপরোয়া আচরণ’ বলেছে পেন্টাগনের ইউরোপিয়ান কমান্ড। ঘটনাস্থলের অদূরেই দক্ষিণ ইউক্রেনের ক্রিমিয়া উপদ্বীপ। ২০১৪ সালে সামরিক অভিযান চালিয়ে ওই এলাকা দখল করেছিল রুশ বাহিনী। গত এক দশক ধরে ওই এলাকা তাদেরই নিয়ন্ত্রণে।

তবে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় রুশ যুদ্ধবিমান এবং মার্কিন ড্রোনের মোকাবেলার কথা অস্বীকার করে বলেছে, একটি ড্রোন অনিয়ন্ত্রিত ফ্লাইটে পানিতে বিধ্বস্ত হয়েছে।

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবার কৃষ্ণসাগরে উপকূলে পরমাণু বোমা পরীক্ষার আয়োজন করতে চলেছেন বলে কয়েক মাসে আগে অভিযোগ করেছিল ব্রিটেন। তার পর থেকেই ক্রিমিয়াসহ দক্ষিণ ইউরোপের রুশ অধিকৃত অঞ্চলজুড়ে আমেরিকার নেতৃত্বাধীন ন্যাটো জোটের নজরদারি বেড়েছে।

অন্য দিকে মস্কোর অভিযোগ, খেরসনের পর এ বার কৃষ্ণসাগর উপকূলের ক্রিমিয়া দখল করতে ইউক্রেন সক্রিয় হয়েছে। তাদের মদত দিচ্ছে আমেরিকা-সহ পশ্চিমী দেশগুলো।
সূত্র : আলজাজিরা, সিএনএন ও অন্যান্য

ইউক্রেন যুদ্ধে হেরে গেলে রাশিয়া কি ভেঙে যাবে?

ইউক্রেন যুদ্ধ এমন এক জটিল সময়ে প্রবেশ করেছে যে কোনোভাবেই এই যুদ্ধ বিজয় অর্জন করা ছাড়া বন্ধের কথা ভাবতে পারছেন না পুতিন। কিন্তু প্রশ্ন হলো, কেন তিনি এটা ভাবতে পারছেন না যেখানে এই যুদ্ধ থেকে রাশিয়ার যা অর্জিত হয়েছে তার চেয়ে ক্ষতির হিসাব দৃশ্যত অনেক বড়। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে ভ্লাদিমির পুতিন বলেছিলেন, রাশিয়া যদি এই যুদ্ধে হার মেনে নেয় তাহলে কেবল রাশিয়ান ফেডারেশনই নয় বরং রুশ জাতিই ভেঙে পড়তে পারে। তখন মস্কো এবং পশ্চিম উভয়পক্ষের ভাষ্যকাররাও ধারণা করেছিলেন যে, পুতিন নিজের কথা বলার পরিবর্তে একটি প্রচারণার অনুশীলনই আসলে করছিলেন। তারা মনে করেন না যে, ইউক্রেনে হেরে গেলেও রাশিয়া ভেঙে পড়বে এবং পুতিনও সেইভাবে চিন্তা করেন (Polit.ru, নভেম্বর ২৫, ২০২২)।

কিন্তু এখন বিষয়টি সেরকম মনে হচ্ছে না। পুতিন আসলেই বিশ্বাস করেন যে, রাশিয়ার এই যুদ্ধে জয় ছাড়া নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার বিকল্প কোনো সুযোগ নেই। আর রাশিয়ার বৃহত্তর জনগোষ্ঠীও সেই ধারণার সাথে দ্বিমত পোষণ করে না। সাম্প্রতিক জনমত জরিপে রুশ প্রেসিডেন্টের প্রতি নানা ধরনের দুর্ভোগের পরও ব্যাপক জনসমর্থন সেটিরই ইঙ্গিত দেয়। লেভান্ডা, রাশিয়ান ফিল্ডের প্রকাশ করা এই জনমত জরিপে দেখা যায়, ইউক্রেনে রাশিয়ার ‘বিশেষ অভিযান’কে সমর্থন করেন কি না মর্মে প্রশ্নের জবাবে ৮০ শতাংশ রাশিয়ান হ্যাঁ-সূচক জবাব দিয়েছেন। তাদের মধ্যে ৫৫ শতাংশের বেশি দৃঢ়তার সাথে এই সমর্থন জানিয়েছেন। অন্য দিকে যুদ্ধের বিরোধিতা করেছেন মাত্র ১৫ শতাংশ রাশিয়ান।

বিস্ময়কর বিষয় হলো, কিয়েভে আবার নতুন কোনো রাশিয়ার সামরিক অভিযানকে সমর্থন করেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে ৫৯ ভাগ জানিয়েছেন, হ্যাঁ। ২৬ শতাংশ রাশিয়ান নতুন করে হামলার বিরোধিতা করেছেন। পুতিনের শর্তে শান্তি চুক্তিতে সমর্থন জানিয়েছেন ৬৬ শতাংশ আর ২৪ শতাংশ এর বিরোধিতা করেছেন। (geopoliticalfutures.com/russians-attitudes-toward-the-war, ৩ মার্চ ২০২৩) জনমত জরিপের এই প্রবণতায় বয়স বা আয় নির্বিশেষে রাশিয়ানদের মধ্যে মনোভাবের বড় ধরনের কোনো পার্থক্য দেখা যায় না।

সাধারণভাবে দেখা যায়, শাসকদের ধরন যাই হোক না কেন অভ্যন্তরীণ জনমত যুদ্ধের মতো কোনো বিষয়ে জড়িত হওয়া বা তা বন্ধ করার ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। রাশিয়ায় পশ্চিমা বিশ্বের আরোপিত বিধিনিষেধের পরও যে পরিস্থিতি বিরাজ করছে তাতে পুতিনের প্রতি এই ব্যাপক সমর্থন রাশিয়াকে অদূরভবিষ্যতে এই যুদ্ধ বন্ধ করতে নেতিবাচক কোনো শর্ত মানতে বাধ্য করবে এমনটি মনে হয় না।

একসময় প্রচারণার স্বার্থে রাশিয়া ভেঙে যাবার কথা পুতিন বলছেন বলে বিশ্বাস করার নানা কারণ ছিল। এ ধরনের ধারণার অন্যতম কারণ হলো, ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের তুলনায় রাশিয়া এখন অনেক বেশি জাতিগতভাবে সম-মনোভাবাপন্ন এবং এখন যেকোনো বিচ্ছিন্নতার জন্য জাতিগত রাশিয়ানদের বিরুদ্ধে অ-রাশিয়ানদের পরিবর্তে রাশিয়ানদের সেট করতে হবে (Vz.ru, ১৩ জুলাই, ২০২২)। মিখাইল গর্বাচেভ শেষবার যখন দেশের ভবিষ্যতকে ঝুঁকির মধ্যে ঠেলে দেয় তখন ক্রেমলিন রাশিয়ান ফেডারেশনের সীমানার মধ্যে অ-রুশদের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর পদক্ষেপ নেয় (Holod.media, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩)। উপরন্তু, এমনকি বেশির ভাগ রাশিয়ান বিরোধী দলও দেশটির মধ্যে যেকোনো বিচ্ছিন্নতার বিরুদ্ধে রয়েছে আর তারা সতর্ক করে দেয় যে, এই ধরনের লক্ষ্য ঘোষণা করা হবে তাদের স্বার্থের সাথে সাংঘর্ষিক (Echofm.online, মার্চ ১, ২০২৩)। তদুপরি, রাশিয়ানদের মধ্যে যারা পুতিন এবং ইউক্রেনে তার যুদ্ধের বিরোধিতা করেন তাদের মধ্যেও দেশের সম্ভাব্য ভাঙনের আশঙ্কা রয়েছে (Business-gazeta.ru, জানুয়ারি ৩, ২০২৩)। প্রকৃতপক্ষে, তাদের মধ্যে অনেকেই এবং অন্যরাও দীর্ঘদিন ধরে পুতিনকে সমর্থন করেছেন কারণ তারা বিশ্বাস করেন যে, তিনি চেচনিয়ায় তার নৃশংস যুদ্ধের মাধ্যমে দেশের সম্ভাব্য ভাঙনের পথ বন্ধ করে দিয়েছেন (Graniru.org, এপ্রিল ১৫, ২০২২)।

এভাবে পুতিনের কাছে যথেষ্ট কারণ রয়েছে, রাশিয়া এবং রুশ জাতির বিচ্ছিন্নতার আভাসকে উত্থাপন করার ক্ষেত্রে এটিকে প্রচারের একটি হাতিয়ার হিসাবে নেয়ার যাতে তিনি নিজের প্রতি এবং তার নীতিগুলোর প্রতি জনগণের সমর্থন অর্জন করতে পারেন। বিশেষত যখন এ জাতীয় ধারণাগুলোকে পশ্চিমা নীতির লক্ষ্য হিসাবে উপস্থাপন করা হয় তখন তিনি এই কৌশল নিতে পারেন বলে মনে করা হয়। আর বাস্তবেও এটি নিশ্চিত যে, রুশ নেতা তার মন্তব্য করার সময় এসব বিবেচনা করেছিলেন।

তবে একই সময়ে, রাশিয়ান ভাষ্যকার আলেক্সান্ডার স্কোবভের মতে, বাস্তবতা হলো, পুতিন পূর্ববর্তী রাশিয়ান শাসকদের থেকেও বেশিভাবে আশঙ্কা করেন যে, ইউক্রেনে হার বা সেখান থেকে দূরে সরে আসা হবে ‘একটি অতল গহবর’ যা তার শাসনকে ছাপিয়ে যাবে এবং সাম্রাজ্যিক কাঠামো হঠাৎ এবং অপ্রত্যাশিতভাবে ভেঙে পড়তে পারে এতে।

স্কোবভের বিশ্লেষণে বলা হয় যে, অন্যান্য সাম্রাজ্যের মতো, রাশিয়ান সাম্রাজ্য সর্বদা বিভিন্ন অঞ্চল এবং জনগণের সংমিশ্রণ ছিল। বলপ্রয়োগের মাধ্যমে এটিকে একত্রিত রাখা হয়েছে। একটি ‘উল্লম্ব’ প্রশাসনের অধীনস্থ করার জন্য, এর শাসক শ্রেণী সরাসরি হস্তক্ষেপ করেছিল সাম্রাজ্যের বিভিন্ন অংশের মধ্যে আনুভূমিক সম্পর্কের স্বাভাবিক উত্থানে (Kasparov.ru, মার্চ ৬)। তবে একই সাথে রাশিয়ান জাতিকে অন্য সকলের চেয়ে শ্রেষ্ঠ বোধ করতে উৎসাহিত করা হয়েছে। রাশিয়ান রাষ্ট্রের এই সাম্রাজ্যবাদী চরিত্র এবং সামাজিক সম্পর্কের পুরো ব্যবস্থায় প্রসারিত কর্তৃত্ববাদী ঐতিহ্যের জৈব সংযোগ সুস্পষ্ট এবং এটি রাশিয়ান ব্যবস্থাকে ‘পশ্চিমাবাদ বিরোধী’ হিসাবে তৈরি করতে সহায়তা করে। পুতিনের মস্তিষ্ক হিসাবে খ্যাত আলেক্সান্ডার ডুগিন এটিকে একটি তাত্ত্বিক ভিত্তি দিয়েছেন তার ইউরেশিয়া মতবাদের ধারণায়। এখন রাশিয়ার তাত্ত্বিকরা ও নেতৃত্ব দু’পক্ষই মনে করে, রুশ রাষ্ট্র ও জাতি উভয়ের জন্য পশ্চিম হুমকিস্বরূপ।

এর ফলস্বরূপ, রাশিয়া অনায়াসে ‘অবরোধিত দুর্গ’ হওয়ার অবস্থা থেকে ‘একটি ক্রুসেড’-এর দিকে চলে যায় যাকে ‘পাপী ও মন্দ পশ্চিম’কে ধ্বংস করার লক্ষ্যে একটি নীড় হিসাবে দেখা হয় (কধংঢ়ধৎড়া.ৎঁ, মার্চ ৬, ২০২৩)। আর এইভাবে, রাশিয়ান অভিজাতরা স্বাভাবিকভাবেই একটি দুষ্ট বৃত্ত তৈরি করে সেই বিপদের মোকাবিলা করতে চায়, যেখানে বিচ্ছিন্ন হওয়ার ভয় কর্তৃত্ববাদ এবং পাশ্চাত্য-বিরোধিতা উভয়কেই শক্তিশালী করে। আর সেই ধরনটার অর্থ হলো : ‘একটি রাশিয়ান সাম্রাজ্য উদার হতে পারে না এবং এটি পশ্চিমা সভ্যতার বা সম্প্রদায়ের অংশ হতে পারে না।’ রাশিয়া ও রুশ জাতির ভেঙে পড়া সম্পর্কে পুতিনের ভয় এইভাবে পশ্চিমের প্রতি তার ঘৃণার অচ্ছেদ্য অংশ হয়ে যায়।

এর ফলে, পুতিন এই আশঙ্কাও করছেন যে, একটি কর্তৃত্ববাদী শক্তির সমর্থন ছাড়া তার রাষ্ট্রের সাম্রাজ্যিক পরিচয় সহজেই আঞ্চলিক পরিচয়ে বিভক্ত হবে। আর তারপর ‘অভিশপ্ত পশ্চিম’ অংশে অংশে রাশিয়াকে নিজের মধ্যে শুষে নেবে’ (Kasparov.ru, মার্চ ৬, ২০২৩)। রাশিয়ার ভেঙে যাওয়ার ভয়ের যে কথা পুতিন বলেছিলেন তা জনগণকে ভয় দেখানোর উদ্দেশ্যে বলা কোনো কিছু নয়। আসলে এটি পুতিনের নিজের মধ্যকার একটি প্রকৃত এবং গভীর উদ্বেগ। আর এখানে একটি সভ্যতা হিসাবে পশ্চিমের প্রতি তার ঘৃণা সৃষ্টি করে যে পশ্চিমারা রাশিয়ান রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার বাইরের অধিকার প্রত্যাখ্যান করে।

পুতিনের পশ্চিমের প্রতি শত্রুতা এবং গভীরভাবে আন্তঃসম্পর্কিত বিচ্ছিন্নতার ভয় স্কোবভ একা দেখেননি। তাতারস্তানের বিজনেস অনলাইন পোর্টালের রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক ভ্লাদিমির মারচেনকো বলেছেন যে, এই বিষয়টি যেভাবে সংযুক্ত করা হয়েছে সে সম্পর্কে পুতিনের উপলব্ধি ইভান ইলিনের প্রভাব থেকে এসেছে, যিনি ক্রেমলিন প্রধানের প্রিয় দার্শনিক হিসাবে চিহ্নিত। কাজান বিশ্লেষকের মতে, পুতিন ইলিনের প্রশংসা করার আসল কারণ, ফ্যাসিবাদের প্রতি ইলিনের প্রতিশ্রুতি নয়। বরং, এটি রাশিয়ার বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঝুঁকি নিয়ে তাদের ভাগ করা আবেশ এবং এটি প্রতিরোধ করার জন্য যা কিছু করা দরকার তা করার জন্য তাদের সাধারণ প্রতিশ্রুতি (Kasparov.ru, অক্টোবর ২, ২০২২)। স্কোবভের মতো মার্চেঙ্কোর জন্য পুতিনের কর্তৃত্ববাদ, তাই প্রাথমিক নয় বরং এই ভয়ের প্রতিফলন, যা উভয়কে অন্য রাশিয়ান চিন্তাবিদদের থেকে আলাদা করে যারা ফ্যাসিবাদের সাথে ফ্লার্ট করেছে। উপরন্তু, এতে এই ব্যাখ্যাও পাওয়া যায়, কেন পুতিন রাশিয়ায় বিভক্তি কাটিয়ে ওঠার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, এমনকি ভেঙে পড়া রোধ করার জন্য শক্তি ব্যবহার করতে দ্বিধা করছেন না।

আরেক রাশিয়ান বিশ্লেষক ভ্লাদিমির পাস্তুখভ পর্যবেক্ষণ করেছেন যে, এমনটি ইতিহাসে এর আগে কখনো হয়নি। সারা বিশ্বে এবং সেই সাথে রাশিয়াতেও এত বেশি মানুষ এই সম্ভাবনার প্রতি মনোযোগী হয়েছে যে, রাশিয়া ভেঙে যেতে পারে। এর আগের বছরগুলোর তুলনায় এটি তীব্রভাবে বৈসাদৃশ্যপূর্ণ। ১৯১৭ সালে রাশিয়ান সাম্রাজ্যের এবং ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন যখন হয় তখন খুব কমই আমূল পরিবর্তনের প্রত্যাশা করা হয়েছিল (Polit.ru, 3 Ryb, ৩ জুন, ২০২২)। এখন রাশিয়ার অস্তিত্বের ভয় পুতিনের নীতিগুলোকে চালিত করছে। এ কারণে বিচ্ছিন্নতা সম্পর্কে পুতিনের কথাগুলোকে অনেক বেশি গুরুত্বসহকারে নেয়া উচিত বলে মনে হয়।

একসময় কিছু পশ্চিমা বিশেষজ্ঞ ভবিষ্যদ্বাণী করেন যে, যুদ্ধের পরিণতিতে এক বা দুই বছরের মধ্যে রাশিয়ার পতন হবে। রাশিয়া এবং ইউরেশিয়া প্রোগ্রামের সহযোগী ফেলো টিমোথি অ্যাশ বলেছেন যে, সংস্কারমূলক শক্তির উদ্ভবের সাথে ইতিবাচক পরিবর্তনের সামান্য সম্ভাবনা থাকলেও, রাশিয়ান ফেডারেশনের অনেকগুলো নতুন রাজ্যে বিভক্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। অন্যরা রাশিয়ার যেকোনো আসন্ন শাসনের পতন সম্পর্কে কম আত্মবিশ্বাসী। রাশিয়া এবং ইউরেশিয়া প্রোগ্রামের সহযোগী ফেলো ড. জোয়ানা সজোস্টেক বলেছেন, রাশিয়ান কর্তৃপক্ষ প্রতিবাদ দমনে পারদর্শী এবং দমন-পীড়নের ব্যবস্থা বাড়িয়েছে। অভিজ্ঞতায় দেখা যায় যে, গণবিক্ষোভ সাধারণভাবে শুধুমাত্র অভিজাত শ্রেণীর মধ্যেও বিভাজন থাকলেই একটি আবদ্ধ কর্তৃত্ববাদী শাসনের জন্য একটি প্রকৃত হুমকি সৃষ্টি করে। ((Chathamhouse.org/2023/02/seven-ways-russias-war-ukraine-has-changed-world, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩)।

রাশিয়ার জনমতের যে উল্লেখ লেখার শুরুতে রয়েছে তাতে স্পষ্ট যে, জাতিগতভাবে দেশটির ভেঙে পড়ার জোরালো আশঙ্কা নেতৃত্ব ও জনগণ উভয় পর্যায়েই রয়েছে। চ্যাথাম হাউজের প্রতিবেদনে দেখা যায়, পশ্চিমের মধ্যে তেমন আকাঙ্ক্ষা যে রয়েছে তা নানা সময় প্রকাশও পেয়েছে। ফলে পুতিন সহজেই যুদ্ধ বন্ধ করবেন এমনটি প্রত্যাশা করা যায় না। প্রশ্ন হলো, তাহলে ইউক্রেন যুদ্ধের পরিণতি কোন দিকে অগ্রসর হচ্ছে? মধ্যপ্রাচ্যের দুই বিবদমান শক্তি ইরান ও সৌদি আরবের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কচ্ছেদের অবসান ঘটানোর ব্যাপারে বেইজিংয়ের সাফল্য দেশটির নেতা শি জিনপিংকে ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে মধ্যস্থতা করতে উৎসাহিত করতে পারে। তেমন ইঙ্গিত এর মধ্যে তিনি দিয়েছেন।

এ কথা ঠিক যে, রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণ থেকে স্বল্পমেয়াদে সবচেয়ে লাভবান রাষ্ট্রটির নাম চীন। কিন্তু এই লাভ মধ্য বা দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকিও নিয়ে আসতে পারে। ইউক্রেনে রাশিয়ার বিপর্যয় এড়ানোর জন্য মস্কোর জন্য চীনা সামরিক সহায়তা প্রয়োজন অনেক বেশিভাবে অনুভব করছে ক্রেমলিন। আর এই সামরিক সহায়তার অর্থ দাঁড়াবে, চীনের পশ্চিমের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়া। রুশ নিষেধাজ্ঞার মতো এই ধরনের নিষেধাজ্ঞায় চীনের পাশাপাশি পশ্চিমের অর্থনীতিও ক্ষতির মুখে পড়বে। কিন্তু এর পরও ভিন্ন কোন রাস্তা থাকবে না আমেরিকা ও তার মিত্রদের জন্য। বেইজিংয়ের জন্য বড় বিপদ হবে, এতে তার উত্থান পরিকল্পনায় বড় আকারের ব্যত্যয় সৃষ্টি হবে, যেটি কোনোভাবে সময় আসার আগে কামনা করবে না চীন। এ কারণে বেইজিং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের একটি উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে বলে মনে হয়।

প্রশ্ন হলো, কোন শর্তে এই যুদ্ধ বন্ধের চুক্তি হতে পারে? বলার অপেক্ষা রাখে না যে, কোনো পক্ষের এককভাবে শর্ত পূরণের মতো যুদ্ধ পরিস্থিতি এখনো তৈরি হয়নি। এই সময়ে যুদ্ধ বন্ধের চুক্তি হতে হলে তা হবে দু’পক্ষের মধ্যবর্তী একটি অবস্থান নেয়ার মধ্য দিয়ে। সেটি কি হবে, তা নিশ্চিত করে বলা মুশকিল। তবে এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপ চীন এবং রাশিয়া-ইউক্রেনকে সম্মত হতে হবে যার মধ্যে ইউক্রেনের ভূমি ছেড়ে দেয়া, দেশটির ন্যাটোভুক্ত না হওয়ার পাশাপাশি রাশিয়ার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ও স্থান পেতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে সহজ কোনো সমীকরণ কোনো পক্ষের সামনে দৃশ্যমান নেই।

মাসুম খলিলী, লেখক ও গবেষক

mrkmmb@gmail.com

শামিকে লক্ষ্য করে ‘জয় শ্রীরাম’ : কিছুই জানতেন না রোহিত!

আহমদাবাদে অনুষ্ঠিত ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার চতুর্থ ও শেষ টেস্টের ফলাফলকে ছাপিয়ে একটি বিতর্ক সামনে চলে এসেছে। ভারতের ফাস্ট বোলার মোহম্মদ শামিকে দেখে আহমদাবাদের গ্যালারি থেকে ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দেন দর্শকদের একাংশ। যে ঘটনার ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই তোলপাড় শুরু হয়ে যায়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির রাজ্যেই কিনা এমনভাবে অপমানিত হতে হলো ভারতের জাতীয় দলের তারকা পেসারকে! এই অনভিপ্রেত ঘটনার পর অনেক প্রশ্নই উঠেছে। তীব্র নিন্দা হচ্ছে ক্রিকেটপ্রেমীদের এই আচরণ নিয়ে।

ঘটনাটি ঘটে গত বৃহস্পতিবার আহমদাবাদ টেস্টের প্রথম দিন। ফিল্ডিং করতে নামার আগে বাউন্ডারি লাইনের ধারে দাঁড়িয়ে ছিলেন ভারতীয় দলের ক্রিকেটাররা। তাদের সাথে ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের ফাস্ট বোলার শামিও। ওই সময় গ্যালারি থেকে কয়েকজন দর্শককে ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দিতে শোনা যায়। কয়েকজন শামির নাম করেই চিৎকার করেন। বহুক্ষণই এই ঘটনা চলতে থাকে। যদিও শামি বা ভারতীয় দলের অন্য ক্রিকেটাররা এতে কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাননি।

একমাত্র সূর্যকুমার যাদবকে দেখা যায় হাত জোড় করে ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি দেয়া দর্শকদের চুপ করার অনুরোধ করতে। ভারতের বাকি ক্রিকেটাররা গ্যালারির দিকে ফিরেও তাকাননি ওই সময়ে। মজার ঘটনা হলো, ওই দিন সেই সময়ে স্টেডিয়ামে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজের সাথে উপস্থিত ছিলেন খোদ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তার সামনেই ঘটে এমন লজ্জাজনক ঘটনা।

সিরিজ শেষ হওয়ার পর রোহিত শর্মা সংবাদ সম্মেলনে এলে তাকে এই ঘটনা নিয়ে প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়। এতে রোহিত বেশ অস্বস্তিতে পড়ে যান। ভারত অধিনায়ক সাফ জানিয়ে দেন, শামির বিষয়টি নাকি এই প্রথমবার শুনলেন তিনি! তাঁর দাবি, ‘শামিকে লক্ষ্য করে জয় শ্রীরাম ধ্বনি দেয়া হয়েছে, সেটা জানতাম না। এই প্রথমবার এহেন ঘটনার কথা শুনলাম। মাঠে কী হয়েছে, সত্যিই জানতাম না।’

দর্শকদের এই আচরণের নিন্দা করেছেন ক্রিকেটপ্রেমীদের একাংশ। ভারতীয় দলেরই এক ক্রিকেটারকে খেলা শুরুর আগে কেন এভাবে অস্বস্তিতে ফেলা হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। খেলার মধ্যে অকারণে রাজনীতি আনার অভিযোগ করেছেন কেউ কেউ। যদিও ভারতীয় দল এই বিতর্কিত ঘটনা নিয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছেন। কোনো মন্তব্য করা হয়নি ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকেও।

এই প্রথম নয়। আগেও শামিকে ক্রিকেটপ্রেমীদের একাংশের বিদ্রুপের মুখে পড়তে হয়েছে। বিজয়া দশমীর শুভেচ্ছা জানিয়েও বিদ্রুপের মুখে পড়তে হয়েছিল তাকে। ২০২১ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে ভালো বল করতে পারেননি শামি। তখনো ক্রিকেটপ্রেমীদের একাংশ হারের জন্য দায়ী করেছিলেন শামিকে। দলগত ব্যর্থতার দায় চাপানো হয়েছিল তার উপর। সে সময় শচিন টেন্ডুলকর, ভিভিএস লক্ষ্মণরা প্রতিবাদ করেছিলেন। শামির পাশে দাঁড়িয়েছিল আইপিএলের ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোও।
সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস

দীর্ঘ অভিযানেও গ্রেফতার হননি ইমরান, লাহোরে তীব্র উত্তেজনা

পাকিস্তানের লাহোরে দীর্ঘ ১৪ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে পুলিশ ও তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ চললেও এখনো সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও দলটির চেয়ারম্যান ইমরান খানকে গ্রেফতার করতে পারেনি নিরাপত্তা বাহিনী। লাহোরে ইমরান খানের জামান পার্কের বাসাটি ঘিরে রেখেছে পুলিশ, ইতোমধ্যে তাদের শক্তিও বাড়ানো হয়েছে।

এদিকে ইমরান খান বুধবার ভোর ৪.২০-এ তার সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তৃতায় বলেছেন, তাকে গ্রেফতার করার চেষ্টা আরো জোরদার হয়েছে।

এক ভিডিও বার্তায় ইমরান খান মঙ্গলবারের সংঘর্ষকে ভারত অধিকৃত কাশ্মিরের পরিস্থিতির সাথে তুলনা করেন।

তিনি বলেন, পুলিশ ‘আমাদের লোকজনের ওপর যেভাবে হামলা চালাচ্ছে, তার কোনো নজির নেই। অল্প কয়েকজনের ওপর এভাকে কেন হামলা চালানো হবে?’

ইমরান বলেন, বিশৃঙ্খলা এড়াতে তিনি একটি আন্ডারটেকিং দিয়েছেন এলএইচসিবিএ সভাপতিকে। তিনি এটি তাকে গ্রেফতার করতে আসা ডিআইজিকে দেয়ার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু ডিআইজি এলএইচসিবিএর সভাপতির সাথে সাক্ষাত করেননি।

ইমরান খঅন বলেন, ফৌজদারি দণ্ডবিধি ৭৬ অনুযায়ী, এই সিকিউরিটি বন্ড গ্রেফতার করতে আসা অফিসারকে দেয়া হলে, তিনি গ্রেফতার করতে পারেন না।

এদিকে আজ বুধবার সকালেও জামান পার্কে কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করেছে পুলিশ।

ইমরানকে পুলিশ তোষাখানা মামলায় গ্রেফতার করতে চাচ্ছে। তার বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকলেও এই একটি ছাড়া বাকি সবগুলোতে তিনি উচ্চতর আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন।

সূত্র : ডন, ডিও টিভি ও অন্যান্য

আমানত ও খিয়ানত

আমানতের বিপরীত শব্দ হলো খিয়ানত। কুরআন ও হাদিসে আমানতকে ঈমানের সাথে জুড়ে দেয়া হয়েছে। রাসূলুল্লাহ সা: প্রায়ই তাঁর ভাষণে বলতেন, যার মধ্যে আমানতদারির গুণ নেই, তার মধ্যে ঈমান নেই এবং যার মধ্যে প্রতিশ্রুতি রক্ষা করার গুণ নেই তার মধ্যে দ্বীনদারি নেই। (বাইহাকি) কুরআন ও হাদিসের আলোকে আমানত যেমন ব্যাপক ও বিস্তর বিষয় তেমনি খিয়ানতও ব্যাপক ও বিস্তর। বুখারি ও মুসলিমে একযোগে বলা হয়েছে, ‘খিয়ানত; মুনাফিকের চারটি নিদর্শনের একটি। তাই কোনো ঈমানদার ব্যক্তি কখনো খিয়ানতকারী হতে পারে না। ঈমানদার হবে আমানতদার, বিশ্বস্ত, আমিন ও সৎবৃত্তি সম্পন্ন।

আমানত শব্দটি বিশ্ব-জাহানের প্রভু অথবা সমাজ কিংবা ব্যক্তি যে আমানত কাউকে সোপর্দ করেছেন তা সবগুলোর অর্থে ব্যবহৃত হয়। আর এমন যাবতীয় চুক্তি, প্রতিশ্রুতি ও অঙ্গীকারও এর অন্তর্ভুক্ত হয়, যা মানুষ ও আল্লাহর মধ্যে অথবা মানুষ ও মানুষের মধ্যে কিংবা জাতি ও জাতির মধ্যে সম্পাদিত হয়েছে। মানুষের প্রতি আল্লাহর প্রতিটি নির্দেশ তথা আদেশ ও নিষেধ আমানত। কুরআন ও রাসূলুল্লাহ সা:-এর সুন্নাহ আমানত। মানুষের শারীরিক প্রতিটি অঙ্গ আল্লাহর দান ও আমানত। মানুষের মেধা, জ্ঞান-বুদ্ধি ও যোগ্যতা আল্লাহর দান ও আমানত। তাদের জান-মাল আমানত। নেতৃত্ব ও পদ-পদবি একেকটি আমানত। এগুলোর যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা হলে আমানত রক্ষা করা হবে। অন্যথায় খিয়ানতকারী হিসেবে অপরাধী হবে।

কুরআন ও রাসূলুল্লাহ সা:-এর সুন্নাহ আমানত : আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আমি এ আমানতকে আকাশসমূহ, পৃথিবী ও পর্বতরাজির ওপর পেশ করি, তারা একে বহন করতে রাজি হয়নি এবং তা থেকে ভীত হয়ে পড়ে। কিন্তু মানুষ একে বহন করেছে, নিঃসন্দেহে সে বড় জালেম ও অজ্ঞ। এ আমানতের বোঝা উঠাবার অনিবার্য ফল হচ্ছে এই যে, আল্লাহ মুনাফিক পুরুষ ও নারী এবং মুশরিক পুরুষ ও নারীদেরকে সাজা দেবেন এবং মু’মিন পুরুষ ও নারীদের তাওবাহ কবুল করবেন, আল্লাহ ক্ষমাশীল ও করুণাময়।’ (সূরা আহযাব : ৭২-৭৩)

তাফসিরে ইবনে কাসির-এ আওফি হজরত ইবনে আব্বাস রা: থেকে বর্ণনা করেন, আমানত দ্বারা আনুগত্য বোঝানো হয়েছে। অন্য এক তাফসিরে আমানত অর্থ খিলাফত যা কুরআন মাজিদের দৃষ্টিতে মানুষকে দুনিয়ায় দান করা হয়েছে। মহান আল্লাহ মানুষকে আনুগত্য ও অবাধ্যতা উভয়ের স্বাধীনতা দান করেছেন এবং স্বাধীনতা দান করার জন্য তাকে অসংখ্য সৃষ্টির ওপর কর্তৃত্ব ক্ষমতা দিয়েছেন। যারা আল্লাহর সার্বভৌম কর্তৃত্বের মধ্যে অবস্থান করে তারা স্বেচ্ছায় ও সাগ্রহে তাঁর প্রাধান্যের স্বীকৃতি এবং তাঁর হুকুমের আনুগত্য করবে, নাফরমানির সুযোগ থাকা সত্ত্বেও আল্লাহর আনুগত্যের পথই অবলম্বন করবে; তাদের এমন উচ্চ মর্যাদা দান করা হবে যা তাঁর অন্য সৃষ্টি লাভ করেনি। পক্ষান্তরে যারা অস্বীকার করবে আর তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহের ঝাণ্ডা উত্তোলন করবে তারা সুস্পষ্ট খিয়ানতকারী হিসেবে উত্থিত হবে এবং তাকে খিয়ানতের শাস্তি ভোগ করতে হবে।

বিদায় হজের ভাষণে আল্লাহর রাসূল সা: বলে গেছেন, ‘আমি তোমাদের মধ্যে একটি জিনিস রেখে যাচ্ছি, তোমরা যদি তা দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরো, তাহলে কখনো পথভ্রষ্ট হবে না আর তা হচ্ছে আল্লাহর কিতাব তথা আল-কুরআন।’ (সহিহ মুসলিম) অন্য বর্ণনায় এসেছে, ‘আমি তোমাদের মাঝে এমন কিছু রেখে গেলাম তা যদি তোমরা মেনে চলো তাহলে আমার পরে কখনো পথভ্রষ্ট হবে না, আল্লাহর কিতাব ও আমার সুন্নাহ।’

মানুষের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ আমানত : মানুষের গুপ্তাঙ্গ আমানত। এভাবে তাদের মাথা, নাক, কান, চোখ, জিহ্বা, পেট ও পা সবই আমানত। এগুলোকে যথার্থ ব্যবহার করা না হলে ওই আমানতের খেয়ানতকারী হিসেবে চিহ্নিত হবে। আল্লাহ তায়ালা সফলকাম মু’মিনের গুণ-বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে বলেছেন, ‘নিজেদের লজ্জাস্থানের হিফাজত করে।’ (সূরা মু’মিনুন : ৫)
মেধা, জ্ঞান-বুদ্ধি ও যোগ্যতা আল্লাহর দান ও আমানত : তাই সুস্থ বিবেকের দাবি হচ্ছে আল্লাহ ও রাসূলের আনুগত্য করা। আল্লাহ প্রদত্ত ও রাসূল সা: কর্তৃক প্রদর্শিত পথে নিজেকে পরিচালিত করা।

‘আর (হে নবী)! লোকদের স্মরণ করিয়ে দাও সেই সময়ের কথা যখন তোমাদের রব বনি আদমের পৃষ্ঠদেশ থেকে তাদের বংশধরদের বের করেছিলেন এবং তাদেরকে নিজেদের ওপর সাক্ষী বানিয়ে জিজ্ঞেস করেছিলেন : আমি কি তোমাদের রব নই? তারা বলেছিল : নিশ্চয়ই তুমি আমাদের রব, আমরা এর সাক্ষ্য দিচ্ছি। এটা আমি এ জন্য করেছিলাম যাতে কিয়ামতের দিন তোমরা না বলে বসো, আমরা তো এ কথা জানতাম না। অথবা না বলে ওঠো শিরকের সূচনা তো আমাদের বাপ-দাদারা আমাদের আগেই করেছিলেন এবং পরবর্তীকালে তাদের বংশে আমাদের জন্ম হয়েছে। তবে কি ভ্রষ্টাচারী লোকেরা যে অপরাধ করেছিল সে জন্য তুমি আমাদের পাকড়াও করছো?’ (সূরা আরাফ : ১৭২-১৭৩)

সৃষ্টির প্রথম দিনের এ অঙ্গীকার কি আমাদের চেতনা ও স্মৃতিপটে সংরক্ষিত আছে ? যদি না থাকে তবে পদে পদে খিয়ানতের কাজ আমাদের দ্বারা সংঘটিত হতে থাকবে। সৃষ্টির সূচনাকালেই আল্লাহ তায়ালা হজরত আদমক আ:কে পৃথিবীতে পাঠানোর প্রাক্কালে বলেছিলেন, ‘আমরা বললাম, ‘তোমরা সবাই এখান থেকে নেমে যাও। এরপর যখন আমার পক্ষ থেকে কোনো হিদায়াত তোমাদের কাছে পৌঁছবে তখন যারা আমার সেই হিদায়াতের অনুসরণ করবে তাদের জন্য থাকবে না কোনো ভয় দুঃখ বেদনা। আর যারা একে গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানাবে এবং আমার আয়াতকে মিথ্যা বলে উড়িয়ে দেবে তারা হবে আগুনের মধ্যে প্রবেশকারী। সেখানে থাকবে চিরকাল।’ (সূরা বাকারা : ৩৮-৩৯)

সৃষ্টির সূচনায় আল্লাহর সাথে অঙ্গীকার খিয়ানত হলে, তার মধ্যে আরো অসংখ্য খিয়ানতের প্রবণতা জন্ম নেবে। কুফর, শিরক, মানুষের সাথে ওয়াদা ভঙ্গ করা, মিথ্যা বলা, অন্যায়ের পক্ষপাতিত্ব করা, অযোগ্য লোকদের হাতে গুরুদায়িত্ব দেয়া, ভুল পরামর্শ দেয়া, মানুষকে ভুল পথে পরিচালিত করা, পারিবারিক একান্ত কথা বাইরে প্রচার করা, মজলিসের আলোচনার বিষয় বাইরে প্রকাশ করা ইত্যাদি সবকিছু আমানতের খিয়ানত করার শামিল।

আমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল। আর এ দায়িত্বটুকু আমার ওপর আমানত। এই আমানতের যথাযথ দায়িত্ব পালন করতে হবে। (বুখারি ও মুসলিম) অন্যথায় তা খিয়ানতে পরিণত হবে।

খিয়ানতকারীর সাথেও খিয়ানত করা যাবে না : আবু হুরায়রা রা: থেকে বর্ণিত। রাসূল সা: বলেছেন, যে তোমার সাথে আমানত রেখেছে তার আমানত আদায় করে দাও। যে তোমার সাথে খিয়ানত করেছে তার সাথেও খিয়ানত করো না। (তিরমিজি ও আবু দাউদ) ‘কোনো বান্দাকে যদি আল্লাহ তায়ালা জনগণের নেতৃত্ব প্রদান করেন, আর সে কল্যাণকামিতার সাথে তাদের তত্ত্বাবধান না করে তাহলে সে জান্নাতের ঘ্রাণও পাবে না।’ (বুখারি : ৬৭৩১ ও মুসলিম) ‘যদি কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তি মুসলিম জনগণের দায়িত্ব লাভ করল এবং তার মৃত্যু হলো এ অবস্থায় যে, সে ছিল খিয়ানতকারী, তাহলে আল্লাহ তায়ালা তার জন্য জান্নাত হারাম করে দেবেন।’ (বুখারি : ৬৭৩২)

জাফর আহমাদ

লেখক : শিক্ষাবিদ ও কলামিস্ট

ভারত আয়োজিত প্রশিক্ষণ কোর্সে আফগানিস্তানের তালেবান প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ

ভারত সরকার আয়োজিত একটি প্রশিক্ষণ কোর্সে যোগ দিয়েছে আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের প্রতিনিধিরা। ধারণা করা হচ্ছে, এই প্রশিক্ষণে তালেবানকে শামিল করে আফগানিস্তানের সাথে যোগাযোগ বাড়াতে চাইছে ভারত। ভারতে কেরল রাজ্যের কোঝিকোড়ের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট (আইআইএম) মাধ্যমে এই প্রশিক্ষণ দিচ্ছে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বিষয় বৈচিত্র্যের মাঝে ঐক্য- দারি ভাষায় একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে আফগানিস্তানের ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোম্যাসি এই প্রশিক্ষণে যোগদানের কথা জানিয়েছে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আগেই জানিয়েছে, তালেবান প্রতিনিধিরা প্রশিক্ষণে যোগ দিলেও কাবুল নিয়ে নয়াদিল্লির নীতি একই থাকছে। তা ছাড়া এই প্রশিক্ষণ হচ্ছে অনলাইনে। সরাসরি কাবুলের প্রতিনিধিরা এ দেশে আসছেন না। আর অন্য অনেক দেশের প্রতিনিধিরাও যোগ দিচ্ছেন প্রশিক্ষণে। যদিও বিরোধী কংগ্রেস এই দাবি মানতে চায়নি। তারা কেন্দ্রীয় সরকারের দিকে আঙুল তুলেছে। অবশ্য, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েরই একটি অংশ মনে করছে, এই প্রশিক্ষণে তালেবানকে শামিল করে আফগানিস্তানের সাথে যোগাযোগ বাড়াতে চাইছে ভারত।

২০২১ সালের অগস্টে আফগানিস্তানে ক্ষমতা দখল করে তালেবান। তালেবান সরকারকে স্বীকৃতি দেয়নি ভারত। ১০ মাস পর ২০২২ সালের জুলাইয়ে কাবুলে দূতাবাস খোলে দিল্লি। তবে দূতাবাস না বলে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, কাবুলে ‘প্রযুক্তি দল’ মোতায়েন করা হয়েছে, যারা পরিস্থিতির উপর নজর রাখবে। এর পর ক্রমে তালেবানের সাথে যোগাযোগ বাড়িয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

মঙ্গলবার থেকে অনলাইনে এই প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে। তাতে যোগ দেয়ার জন্য ভারতের প্রযুক্তি এবং আর্থিক সহযোগী (ইন্ডিয়ান টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কোঅপারেশন প্রোগ্রাম) দেশগুলোকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। সর্বোচ্চ ৩০ জনকে প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন সরকারি আমলা, শিল্পপতি, উদ্যোগপতি।

ঠিক কী প্রশিক্ষণ দেয়া হবে এই চার দিনে? আয়োজকদের তরফে জানানো হয়েছে, ‘বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য রয়েছে বলেই ভারত অনন্য। তবে এই কারণে অনেক সময়ই বাইরের দেশগুলোর কাছে ভারত কিছুটা অবোধ্য হয়ে ওঠে। ভারতে আপাত বিশৃঙ্খলার মধ্যে যে শৃঙ্খলা রয়েছে, এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সেটাই বুঝতে পারবেন বিদেশী রাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা। ভারতের বাণিজ্যিক আবহের বিষয়টিও বুঝতে পারবেন তারা।’ আয়োজকরা আরো জানিয়েছেন, ভারতের অর্থনীতি, সামাজিক প্রেক্ষাপট, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের বিষয়টিও তুলে ধরা হবে প্রশিক্ষণে।

আয়োজকদের সূত্রের খবর, কাবুলের বেশ কয়েকজন প্রতিনিধি যোগ দিচ্ছেন এই প্রশিক্ষণে। তাদের মধ্যে থাকবেন আফগানিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারাও। যেহেতু অনলাইনেই নেয়া যাবে প্রশিক্ষণ, সে কারণে ভারতে না এসেই যোগ দিতে পারবেন তারা।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি অংশ বলছে, এ ভাবেই প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে আরও একটু যোগাযোগ বাড়বে ভারতের।
সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা

সেবা দিয়ে মানুষের মন জয় করলে আত্মতৃপ্তি আসবে : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের যুবসমাজকে নার্সিং শিক্ষাগ্রহণ এবং বৃহৎ পরিসরে সেবা প্রদানে নিয়োজিত থাকার আহবান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘আমি দেশের যুব সমাজকে নার্সিং শিক্ষা গ্রহণ এবং সেবায় নিয়োজিত হওয়ার আহবান জানাচ্ছি। নার্সের শিক্ষা গ্রহণ করলে শুধু দেশে নয়, বিদেশেও কর্মসংস্থান হবে।’

‘উন্নত সেবা দিয়ে মানুষের মন জয় করতে পারলে নিজেরও একটা আত্মতৃপ্তি আসবে,’ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রী আজ বুধবার সকালে গাজীপুরের কাশিমপুরে ‘শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মেমোরিয়াল কেপিজে নার্সিং কলেজ’ এর দ্বিতীয় স্নাতক সমাপনী অনুষ্ঠান-২০২৩ এ প্রধান অতিথির ভাষণে এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, সবসময় এটা মনে রাখতে হবে যারা আজকে গ্রাজুয়েট হলেন, ডিগ্রি পেলেন, তাদের জনগণকে সেবা দেয়ার কথা সবসময় মনে রাখতে হবে। একজন রোগী চিকিৎসা এবং ওষুধে যতটা না সুস্থ হবে ডাক্তারদের সহানুভূতি এবং নার্সদের সেবা পেয়েই কিন্তু তার চেয়ে বেশি তাড়াতাড়ি সুস্থ হতে পারে। তাদের মধ্যে একটা আত্মবিশ্বাস গড়ে ওঠে।

তিনি আরো বলেন, যারা চার বছর কঠোর অধ্যবসায়ের ফসল হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন, তারা নিশ্চয়ই জনগণের সেবায় নিবেদিত প্রাণ হয়ে কাজ করবেন। আপনাদের অর্জিত জ্ঞান আপনারা কর্মক্ষেত্রে প্রয়োগ করবেন। সকল ক্ষেত্রে যেমন বাংলাদেশ এগিয়ে গেছে এই ক্ষেত্রেও এগিয়ে যাবে, সেটাই আমি চাই।

তিনি এ সময় সেবাধর্মের প্রতীক বিশ্বের খ্যাতনামা নার্স ও মানবসেবী ফ্লোরেন্স নাইটিংগেলের কথা উল্লেখ করেন, যিনি মানব সেবায় নিজের জীবনকে উৎসর্গ করেছিলেন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্টের চেয়ারম্যান শেখ হাসিনা এই নার্সিং কলেজ ও হাসপাতালের সাথে ট্রাষ্টের পক্ষ থেকে একটি মেডিক্যাল কলেজ স্থাপন করবেন বলেও জানান। এজন্য জমিও নেয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মেমোরিয়াল কেপিজে স্পেশালাইজড হসপিটাল অ্যান্ড নার্সিং কলেজ বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের নামে নামকরণ করা হয়েছে এবং এটি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্ট কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মেমোরিয়াল কেপিজে স্পেশালাইজড হসপিটাল অ্যান্ড নার্সিং কলেজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ তৌফিক বিন ইসমাইল এবং দ্বিতীয় ব্যাচের স্নাতক শিক্ষার্থী আনামুল হক।

স্নাতক বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন কেপিজে হেলথকেয়ার বেরহাদের সভাপতি নরহাইজাম বিনতি মোহাম্মদ।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক এবং শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মেমোরিয়াল কেপিজে নার্সিং কলেজের গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) আব্দুল হাফিজ মল্লিক এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী কলেজের ২১০ জন স্নাতকের মধ্যে সনদপত্র বিতরণ করেন। তিনি ছয়জন স্নাতক শিক্ষার্থীকে তাদের অসামান্য অ্যাকাডেমিক রেকর্ডের জন্য ‘প্রাইমিনিস্টার্স এওয়ার্ড’ ও তুলে দেন।
অনুষ্ঠানে শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মেমোরিয়াল কেপিজে নার্সিং কলেজের ওপর একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী হাসপাতালের ওয়েবসাইট, হাসপাতাল ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার এবং মেডিক্যাল জার্নালও উদ্বোধন করেন।

স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক দ্বীন মো: নূরুল হক প্রধানমন্ত্রীর কাছে কেপিজে ঢাকা জার্নাল অব মেডিক্যাল সায়েন্সের একটি সংখ্যা হস্তান্তর করেন।

এছাড়া বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) কমিশনার শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে একটি স্লিট ল্যাম্প ও অপারেটিভ মাইক্রোস্কোপের ডামি হস্তান্তর করেন।

সূত্র : বাসস

হেযবুত তওহীদের দুই সদস্যকে নির্মমভাবে হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ

ঢাকা ডেস্ক: নোয়াখালীর সোনাইমুড়িতে মিথ্যা গুজব রটিয়ে ধর্মীয় উন্মাদনা সৃষ্টি করে হেযবুত তওহীদের দুই সদস্যকে নৃশংসভাবে হত্যা, বাড়িঘর লুটপাট ও ধ্বংসযজ্ঞের সাথে জড়িতদের বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছে নোয়াখালী জেলা হেযবুত তওহীদ। মঙ্গলবার সকাল ১০টায় নোয়াখালী জেলা প্রেসক্লাবের সামনে হেযবুত তওহীদের নেতাকর্মীরা এ বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেন। মসজিদ নির্মাণকে কেন্দ্র করে ২০১৬ সালের ১৪ মার্চ সোনাইমুড়ি উপজেলার পোরকরা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

এ সময় তারা সোনাইমুড়ির পোরকরায় অবস্থিত হেযবুত তওহীদের বিভিন্ন কৃষিভিত্তিক, শিল্পভিত্তিক ও শিক্ষামূলক উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানান।
বক্তাগণ অভিযোগ করে বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডের ৭ বছর পেরিয়ে গেলেও অপরাধীদের আজও বিচার হয়নি। হামলার ঘটনায় জড়িত থাকা বহু আসামী স্থানীয় রাজনৈতিক দলগুলোর আশ্রয়ে নির্বিঘ্নে ঘুরে বেড়াচ্ছে কিন্তু পুলিশ তাদেরকে গ্রেপ্তার করছে না। আর সেই সুযোগ নিয়ে ধর্মব্যবসায়ী গোষ্ঠী ও কুচক্রী মহল পুনরায় হেযবুত তওহীদের এমামের বাড়িতে হামলার ষড়যন্ত্র করছে।’

অনুষ্ঠানে সোনাইমুড়ীতে উগ্রবাদীদের হাতে নির্মমভাবে খুন হওয়া ইব্রাহীম রুবেলের স্ত্রী হাজেরা আক্তার এর বক্তব্যে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। মানববন্ধনে হাজেরা আক্তার বলেন, মসজিদ নির্মাণের মত পবিত্র কাজে স্বেচ্ছাশ্রম দিতে গিয়ে নির্মমভাবে খুন হয় আমার স্বামী। এই উগ্রবাদী ধর্মব্যবসায়ীরা প্রচার করতে থাকে যে, হেযবুত তওহীদ খ্রিস্টান, তারা গ্রামে একটি গির্জা নির্মাণ করছে। এসব গুজব ছড়িয়ে ঘটনার দিন বিভিন্ন কওমি মাদ্রাসা থেকে ছাত্রদের নিয়ে এসে ‘খ্রিস্টান মারো, গির্জা ভাঙো’ স্লোগান দিয়ে তারা একযোগে হামলা চালায়। তারা আমার স্বামীর হাত পায়ের রগ কাটে, দুই চোখ উপড়ে ফেলে, পরে গলাকেটে আগুনে পুড়িয়ে পৈশাচিকভাবে হত্যা করে। কি দোষ ছিল আমার স্বামীর? আমি কেন বিচার পাব না? কেন বিচারের দাবিতে আমাকে রাস্তায়-রাস্তায়, দ্বারে-দ্বারে ঘুরতে হবে? আর কতকাল ধর্মের মুখোষধারী, ধর্মব্যবসায়ী গুজব-সন্ত্রাসীদের এভাবে প্রশ্রয় দিয়ে যাওয়া হবে? আমি এর জবাব চাই, আমার স্বামীর খুনীদের বিচার চাই।
মানববন্ধন শেষে খোকন ও রুবেলের হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে এবং উগ্রতা, ধর্মব্যবসা, ধর্মান্ধতা ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

এসময় কেন্দ্রীয় সহকারী সাহিত্য সম্পাদক রাকিবুল হাসান, চট্টগ্রাম বিভাগীয় সভাপতি মো. নিজাম উদ্দিন, নোয়াখালী জেলা সভাপতি মো. গোলাম কবির প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

বাংলাওয়াস ইংল্যান্ড, সাকিবদের প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন

ঢাকা ডেস্ক: সফরকারী ইংল্যান্ডকে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে হোয়াইট ওয়াশ করায় বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
এক অভিনন্দন বার্তায় ক্রিকেটপ্রেমী প্রধানমন্ত্রী বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ডকে হোয়াইট ওয়াশ করায় জাতীয় ক্রিকেট দলের সকল খেলোয়াড়, কোচ ও কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের জয়ের ধারা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন শেখ হাসিনা।
আজ শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে তিন ম্যাচ সিরিজের তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে ১৬ রানে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে সংক্ষিপ্ত ভার্সনে প্রথমবারের মতো হোয়াইট ওয়াশ করে বাংলাদেশ।
এর আগে প্রথম দুই ম্যাচে যথাক্রমে ৬ ও ৪ উইকেটে জয় পেয়েছিল টাইগাররা।