Home Blog Page 628

২০০ টাকায় দেখা যাবে বাংলাদেশ-আফগানিস্তান ওয়ানডে সিরিজ

বাংলাদেশ-আফগানিস্তানের মধ্যকার তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের টিকিটের মূল্য ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।

চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে আগামী ৫, ৮ ও ১১ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে সিরিজের তিনটি ওয়ানডে।

টিকিটের সর্বনিম্ন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২০০ টাকা। সর্বোচ্চ মূল্য ঠিক করা হয়েছে ১ হাজার ৫০০ টাকা।

সাগরিকা টিকিট কাউন্টার (বিআইটিএসি সার্কেলের কাছে) এবং এমএ আজিজ স্টেডিয়ামে টিকিট কাউন্টার থেকে সকাল ৯টা ৩০মিনিট থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত টিকিট কিনতে পারবেন ক্রিকেটপ্রেমিরা।

বিসিবির পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ম্যাচের দিন এবং ম্যাচের দু’দিন আগে টিকিট পাওয়া যাবে।

আগামীকাল থেকে অনলাইনের মাধ্যমেও (http://ticket.tigercricket.com.bd/registration) টিকিট ক্রয় করতে পারবেন ক্রিকেটপ্রেমিরা।

  • বাংলাদেশ-আফগানিস্তান ওয়ানডে সিরিজের টিকিটের মূল্য
  • গ্র্যান্ড স্ট্যান্ড : ১ হাজার ৫০০ টাকা।
  • রুফটপ হসপিটালিটি : ১ হাজার ৫০০ টাকা।
  • আন্তর্জাতিক স্ট্যান্ড : ১ হাজার টাকা।
  • ক্লাব হাউস : ৫০০ টাকা।
  • ইস্টার্ন স্ট্যান্ড : ৩০০ টাকা।
  • ওয়েস্টার্ন স্ট্যান্ড : ২০০ টাকা।
  • সূত্র : বাসস

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর থেকে দেশে সারের দাম ১০৫ শতাংশ বেড়েছে

আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থা একশনএইড -এর পরিচালিত একটি নতুন সমীক্ষা অনুসারে, ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণের ফলে বিশ্বের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে খাদ্য, জ্বালানি এবং সারের দাম অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এর ফলে খাদ্য ও জ্বালানি সঙ্কট দেয়া দিয়েছে।

সমীক্ষায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশে জীবনযাত্রার ব্যয় অনেকগুলো প্যারামিটারে বেড়েছে, যা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

সমীক্ষায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে সারের দাম বেড়েছে ১০৫ শতাংশ, চিনির দাম ৬০ শতাংশ, পেট্রোলের দাম ৪৭ শতাংশ এবং স্যানিটারি প্যাডের দাম ২৩ শতাংশ।

ফলস্বরূপ, দেশের জনগণ একাধিক চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছে। বিশেষ করে নারী, মেয়ে ও শিশুরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে তাদের শিক্ষা, পুষ্টি এবং স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ে আপস করতে হচ্ছে।

এশিয়া, আফ্রিকা এবং ক্যারিবিয়ান জুড়ে মোট ১৪টি দেশে এক হাজারের বেশি মানুষের ওপর পরিচালিত এই সমীক্ষায় দেখা গেছে যে- নিরীক্ষণের সময় সারের দাম ১১৫ শতাংশ -এর বেশি বেড়েছে, পেট্রোল ও স্যানিটারি প্যাডের দাম ৮০ শতাংশ বা তার বেশি বেড়েছে।

একই সাথে বাল্যবিবাহের হার বৃদ্ধি, নারী স্বাস্থ্যের অবনতি এবং মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটেছে।

একশনএইড-এর গ্লোবাল পলিসি অ্যানালিস্ট আলবার্টা গুয়েরা বলেন, ‘এই সমীক্ষা থেকে দেখায় যে- ইউক্রেনে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে, বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে প্রান্তিক মানুষরা আকাশ ছোঁয়া খাদ্য, জ্বালানি ও সারের দামের কারণে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। বিশেষ করে নারী ও কন্যাশিশুরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তারা এই সময়ে নানান সঙ্কট দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে যা তাদের খাদ্যগ্রহণ, শিক্ষা, বাল্যবিবাহ থেকে মুক্ত থাকার অধিকার এবং তাদের মানসিক স্বাস্থ্য ও সুস্থতাকে প্রভাবিত করেছে।’

বাংলাদেশসহ ১৪টি দেশের মধ্যে ১০টি দেশে মেয়ে ও ছেলে উভয়ের ক্ষেত্রে বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়ার হার বেড়েছে। মূল্যবৃদ্ধির ফলে সৃষ্ট অর্থনৈতিক চাপও বাল্যবিবাহের হার বাড়িয়ে দিয়েছে।

১৪টি দেশের মোট ১০১০ জন মানুষের মধ্যে ১ মার্চ থেকে ২৩ এপ্রিলের মধ্যে এই সমীক্ষা পরিচালিত হয়। উত্তরদাতাদের ৬৩ শতাংশ ছিলেন নারী। অংশগ্রহণকারীদের জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে- সমীক্ষার দিনে গমের পণ্য, রান্নার তেল, পেট্রোল, রান্নার জন্য গ্যাস, সার ও স্যানিটারি প্যাডের দাম কত ছিল এবং এই পণ্যগুলো মূল্য ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের আগের মূল্যের সাথে তুলনা করা হয়েছিল (যখন রাশিয়া ইউক্রেন আক্রমণ করেছিল)।

অংশগ্রহণকারীদের তাদের জীবন জীবিকার ওপর এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব সম্পর্কেও প্রশ্ন করা হয়েছিল এবং সম্ভাব্য উত্তরগুলোর একটি সিরিজ থেকে কমপক্ষে একটি প্রতিক্রিয়া নির্বাচন করতে উৎসাহিত করা হয়।

জরিপে অংশ নেওয়া ১৪টি দেশ হলো- আফগানিস্তান, বাংলাদেশ, কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র (ডিআরসি), ইথিওপিয়া, হাইতি, কেনিয়া, মালাউই, মিয়ানমার, নেপাল, নাইজেরিয়া, সিয়েরা লিওন, সোমালিল্যান্ড, জাম্বিয়া ও জিম্বাবুয়ে।
সূত্র : ইউএনবি

কারো প্রেসক্রিপশনে নির্বাচন হবে না : কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, কারো প্রেসক্রিপশনে বাংলাদেশে নির্বাচন হবে না। নির্বাচন হবে সংবিধান অনুযায়ী।

তিনি বলেন, অন্য দেশের মতো বাংলাদেশেও নির্বাচনকালীন সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে। কথা শুনব, কথা বিনিময় হবে। কিন্তু নির্বাচন হবে সংবিধান অনুযায়ী।

রোববার বেলা সাড়ে ১১টায় সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে কর্মকর্তাদের সাথে ঈদ পরবর্তী শুভেচ্ছা বিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

নির্বাচন নিয়ে বিদেশীদের বক্তব্যের বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, কেউ হস্তক্ষেপ তো করছে না। তারা পরামর্শ তো দিচ্ছে না। যার যার চিন্তা ভাবনা জানাচ্ছে। সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে অনেকে কথা বলছেন। আমরা কথা শুনছি, কথা আমরা শুনব এবং পরামর্শও নেব। কিন্তু আমরা কারো নির্দেশ বা নিয়ন্ত্রণে থাকব, সেটি ভাবার কারণ নেই।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, মির্জা ফখরুলের কণ্ঠ বিরোধী কণ্ঠ। বাংলাদেশে বিরোধীদলের ব্যর্থতার সীমা নেই। তারা নির্বাচনে যেমন ব্যর্থ, আন্দোলনেও তেমন। ১০ ডিসেম্বর তো দখল করে ফেলেছিল যে ১১ তারিখ থেকে খালেদা জিয়ার হাতে দেশ থাকবে- এমন অনেক লাগামছাড়া কথা তারা অনেকবার বলেছেন। এটিই হলো বাস্তবতা।

তিনি বলেন, শুনেছি তারা ৩৬ দলের রূপরেখা একদফা আন্দোলন করবে। সেটি এখনো শুরু হয়নি। শুরু হতে কত দল এখান থেকে কেটে পড়ে সেটা দেখার বিষয়। কত দল শেষ পর্যন্ত থাকে সেটি দেখার বিষয়। আমরা খবর পেয়েছি, ৩৬ পার্টির মধ্যে দরকষাকষি চলছে ক্ষমতার ভাগাভাগিতে কে কী পাবে।

আমার লক্ষ্য দেশবাসীর ভাগ্য পরিবর্তন করা : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আমার লক্ষ্য বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করা।

ঈদুল আজহা উপলক্ষে রোববার টুঙ্গিপাড়ার সর্বস্তরের মানুষের সাথে শুভেচ্ছা ও মতবিনিময়কালে সূচনা বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে দেশের স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে। বঙ্গবন্ধু দেশবাসীর মুখে হাসি ফোটাতে চেয়েছিলেন যার জন্য তিনি দ্বিতীয় বিপ্লবের কর্মসূচি ঘোষণা করেছিলেন।’

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে তার পরিবারের বেশিরভাগ সদস্যসহ হত্যা এবং একই বছরের ৩ নভেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতরে জাতীয় চার নেতাকে হত্যার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, দেশের অগ্রগতি থামিয়ে দেয়ার জন্যই এই হত্যাকাণ্ড চালানো হয়।

তিনি আরো বলেন, বঙ্গবন্ধুকে এমন সময় হত্যা করা হয়েছিল যখন দেশ অর্থনৈতিক মুক্তির দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার ‘মাই হাউস, মাই ফার্ম’, কমিউনিটি ক্লিনিক, ডিজিটাল বাংলাদেশ, ‘মাই ভিলেজ, মাই টাউন’ বাস্তবায়ন এবং শতভাগ বিদ্যুৎ দিয়ে দেশের ব্যাপক উন্নয়ন করেছে।

টুঙ্গিপাড়া-কোটালীপাড়া আসনের সংসদ সদস্য শেখ হাসিনা তার নির্বাচনী এলাকার জনগণকে কৃতিত্ব দিয়ে বলেন, তারা তার দায়িত্ব কাঁধে নিয়েছেন। বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে তাকে আরো সময় দিতে হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘সাধারণত, অন্যান্য নির্বাচনী এলাকার সংসদ সদস্যরা শুধুমাত্র তাদের নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকার দেখাশোনা করেন। আমাকে ৩০০টি নির্বাচনী এলাকায় উন্নয়নের জন্য কাজ করতে হয়। কোটালীপাড়া ও টুঙ্গিপাড়ার বাসিন্দারা তার নির্বাচনী এলাকার দায়িত্ব নেয়ায় আমি তা করতে পেরেছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশবাসীর ভাগ্য পরিবর্তনে ছয় বছরের নির্বাসন থেকে দেশে ফেরার পর তিনি দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘুরেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশের এমন কোনো অঞ্চল নেই যেখানে আমি যাইনি। আমি নৌকা, সাম্পান, লঞ্চ ও রিকশা-ভ্যানে চড়ে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে গিয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘আমি এমনভাবে দেশ ভ্রমণ করেছি এবং সারাদেশে ঘুরে বেড়ানোর অভিজ্ঞতা ব্যবহার করে বাংলাদেশকে এমন একটি মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে এসেছি।’

মতবিনিময়কালে প্রধানমন্ত্রী টুঙ্গিপাড়ার উন্নয়ন নিয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী ও জনপ্রতিনিধিদের অভিজ্ঞতা শুনতে চান।

শেখ হাসিনা বার্ধক্যজনিত কারণে অবসরে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলে স্থানীয় জনগণ তাকে দেশ ও জনগণের কল্যাণে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে থাকার অনুরোধ জানান।

তারা শেখ হাসিনাকে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখার আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেন। শেখ হাসিনাই দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হবেন এ লক্ষ্যে কাজ করার এবং আগামী সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে সাহায্য করার দৃঢ়অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

মতবিনিময় সভায় অন্যান্যদের মধ্যে সংসদ সদস্য শেখ হেলাল উদ্দিন ও শেখ সালাউদ্দিন জুয়েল উপস্থিত ছিলেন। টুঙ্গিপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল খায়ের মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন এবং অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মোঃ বাবুল শেখ।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী দুই দিনের কোটালীপাড়া ও টুঙ্গিপাড়া সফরের অংশ হিসেবে তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে গাড়িতে করে তিন ঘণ্টায় পদ্মা সেতু পার হয়ে গতকাল সকাল ১১টা ২৭ মিনিটের দিকে কোটালীপাড়ায় পৌঁছান।

প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা ও একমাত্র ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় তার সঙ্গে রয়েছেন।

টুঙ্গিপাড়ায় প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে স্থানীয় জনগণের মধ্যে বাড়তি বিপুল উদ্দীপনা ও উৎসবের আমেজ যোগ করেছে। প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে পুরো গোপালগঞ্জকে রঙিন পোস্টার, ব্যানার ও প্ল্যাকার্ডে সাজানো হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী গতকাল কোটালীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয় প্রাঙ্গনে নিম, বকুল এবং আমের চারা রোপণ করেন। এছাড়াও নবনির্মিত কোটালীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয় উদ্বোধন করেন তিনি।

আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা পরে কোটালীপাড়া উপজেলার স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও কোটালীপাড়া উপজেলার জনসাধারণের সঙ্গে পবিত্র ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী শনিবার বিকেলে টুঙ্গিপাড়ায় গিয়ে ফুল দিয়ে বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং ফাতেহা পাঠ করেন। তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে মোনাজাতে যোগ দেন। শনিবার রাত টুঙ্গিপাড়ায় কাটান প্রধানমন্ত্রী। আজ বিকেলে তার টুঙ্গিপাড়া থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে।

সূত্র : বাসস

সরকারি ব্যয়ে বিদেশ ভ্রমণ বন্ধ

চলমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার কারণে সরকারি ব্যয়ে কৃচ্ছ্রসাধনের লক্ষ্যে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে পরিচালন ও উন্নয়ন বাজেটের আওতায় সব ধরনের বৈদেশিক ভ্রমণ, ওয়ার্কশপ ও সেমিনারে অংশগ্রহণ বন্ধ ঘোষণা করেছে সরকার। একইসাথে সব ধরনের গাড়ি, বিমান ও জাহাজ কেনাকাটা বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

রোববার (২ জুলাই) অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত জরুরি পরিপত্র জারি করা হয়েছে। সকল সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, রাষ্ট্রায়ত্ত, সংবিধিবদ্ধ, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কোম্পানি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পরিচালন ও উন্নয়ন বাজেটে কতিপয় খাতে বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যয়ে সরকার এসব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

তবে অত্যাবশ্যকীয় বিবেচনায় কিছু ক্ষেত্রে সীমিত আকারে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়ে বিদেশ ভ্রমণের সুযোগ দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে :

পরিচালন ও উন্নয়ন বাজেটের আওতায় সরকারি অর্থায়নে এবং বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, বিশ্ববিদ্যালয়, দেশ কর্তৃক প্রদত্ত স্কলারশিপ, ফেলোশিপের আওতায় বৈদেশিক অর্থায়নে মাস্টার্স ও পিএইচডি কোর্স অধ্যায়।

বিদেশী সরকার, প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগীর আমন্ত্রণে ও সম্পূর্ণ অর্থায়নে আয়োজিত বৈদেশিক প্রশিক্ষণ।

সরবরাহকারী, ঠিকাদার, পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাসহ কারিগরি জ্ঞানসম্পন্ন কর্মকর্তা কর্তৃক সেবা বা পণ্যের গুণগত মান নিরীক্ষা বা পরিদর্শন।

পরিচালন বাজেটের আওতায় ব্যয় কমাতে আরো যেসব সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার
বিদ্যুৎ খাতে বরাদ্দকৃত অর্থের সর্বোচ্চ ৭৫ শতাংশ ব্যয় করতে হবে।

পেট্রোল, অয়েল ও লুব্রিকেন্ট এবং গ্যাস ও জ্বালানি খাতে বরাদ্দকৃত অর্থের সর্বোচ্চ ৮০ শতাংশ ব্যয় করা যাবে।

আবাসিক ভবন এবং অন্যান্য ভবন ও স্থাপনা খাতে বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যয় বন্ধ থাকবে।

ভূমি অধিগ্রহণ খাতে বরাদ্দ করা অর্থ ব্যয় বন্ধ থাকবে।

মোটরযান, জলযান, আকাশযান খাতে বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যয় বন্ধ থাকবে। তবে ১০ বছরের অধিক পুরোনো মোটরযান প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে অর্থ বিভাগের অনুমোদন নিয়ে ব্যয় নির্বাহ করা যাবে।

উন্নয়ন বাজেটের আওতায় ব্যয় কমাতে যেসব সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার

পেট্রোল, অয়েল ও লুব্রিকেন্ট এবং গ্যাস ও জ্বালানি খাতে বরাদ্দকৃত অর্থের সর্বোচ্চ ৮০ শতাংশ ব্যয় করা যাবে।

বিদ্যুৎ খাতে বরাদ্দ কৃত অর্থের সর্বোচ্চ ৭৫ শতাংশ ব্যয় করা যাবে।


সকল প্রকার যানবাহন ক্রয় (মোটরযান, জলযান, আকাশযান) বন্ধ থাকবে।

ভূমি অধিগ্রহণ খাতে বরাদ্দ করা অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে সব আনুষ্ঠানিকতা প্রতিপালন করে অর্থ বিভাগের পূর্বানুমোদন নিতে হবে।

পরিচালন ও উন্নয়ন বাজেটের আওতায় এসব খাতের বরাদ্দ করা অর্থ অন্য কোনো খাতে এবং অন্য কোনো খাত থেকে এসব খাতে পুনঃউপযোজন করা যাবে না বলেও পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

জামায়াতের সাথে আ’লীগের কোনো যোগাযোগ নেই : তথ্যমন্ত্রী

আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এবং তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, জামায়াতে ইসলামীর সাথে আওয়ামী লীগের কোনো যোগাযোগ নেই, যোগাযোগের প্রয়োজনও নেই।

তিনি বলেন, জামায়াত ইসলামী যেহেতু একটি রাজনৈতিক দল, তাই তারা সমাবেশ করতে চেয়েছে বলে অনুমতি দেয়া হয়েছে।

রোববার (২ জুলাই) দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রণালয় সভাকক্ষে সাংবাদিকদের সাথে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়কালে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন।

এদিকে জামায়াতে ইসলামীর সাথে আওয়ামী লীগের যোগাযোগ স্পষ্ট বলে দাবি করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। যদিও জামায়াতে ইসলামী তা অস্বীকার করেছে।

এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান বলেন, জামায়াতে ইসলামী বিএনপি জোটে রয়েছে। জোটের প্রধান শরিক তারা। আর দলটি সম্পর্কে মির্জা ফখরুল যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা তো জামায়াতে ইসলামী অস্বীকার করেছে।

সরকারের পদত্যাগ ছাড়া কোনো নির্বাচন হতে দেয়া হবে না- ফখরুলের এ বক্তব্য আমেরিকার ভিসানীতির পরিপন্থী কিনা জানতে চাইলে হাছান মাহমুদ বলেন, বিএনপি কিছুদিন পরপরই কৌশল পরিবর্তন করে। কোনো কোনো সময় তারা হাঁটা কর্মসূচি, কোনো সময় বসা কর্মসূচি দেয়। তাদের মূল কৌশল দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এবং নির্বাচন ভণ্ডুলের অপচেষ্টা করা। মির্জা ফখরুলের বক্তব্যে তা স্পষ্ট। মার্কিন ভিসানীতিতে বলা হয়েছে যে- যারা নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করবে, তাদের ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য হবে। তাহলে যারা (বিএনপি) নির্বাচন ভণ্ডুল করার চেষ্টা করবে, তাদের ওপরও এটি বর্তাবে।
সূত্র : ইউএনবি

নূরের বিরুদ্ধে মামলা করার ঘোষণা রেজা কিবরিয়ার

ভুয়া স্বাক্ষর দেখিয়ে বিভ্রান্তি ও গণ অধিকার পরিষদে ভাঙন সৃষ্টি করার অভিযোগে দলটির সদস্য সচিব নূরুল হক নূরসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা করার ঘোষণা দিয়েছেন রেজা কিবরিয়া। সেই সাথে নিজেকেই গণ অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক দাবিও করেছেন তিনি।

রোববার রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসভবনে সংবাদ সম্মেলনে রেজা কিবরিয়া মামলার এ ঘোষণা দেন।

রেজা কিবরিয়া দাবি করেন, ডাকসুর সাবেক ভিপি নূর টাকার বিনিময়ে আওয়ামী লীগের অধীনেই দলকে নির্বাচনে নিতে চায়। এজন্য নূরকে সরকার ৩ কোটি টাকার প্রস্তাব দিয়েছে এবং সেই প্রস্তাবে নূর রাজি।

এসব বিষয়সহ ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থা মুসাদের সাথে যোগাযোগ এবং আর্থিক অস্বচ্ছতার জবাব চাওয়াতে নূর ক্ষিপ্ত হয় বলে দাবি করেন রেজা কিবরিয়া।

বিএনপি ভাঙার ষড়যন্ত্র করছেন রেজা কিবরিয়া- নূরের এমন বক্ত্যবের বিষয়ে রেজা বলেন, এটা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। দেশে বড় দল ভাঙার চেষ্টা করে কেউ কখনো সফল হয়নি, ভবিষ্যতেও হবে না।

আগামী নির্বাচনে নৌকায় ভোট দিন : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা আজ আগামী নির্বাচনে তার দলের নির্বাচনী প্রতীক ‘নৌকা’য় ভোট চেয়েছেন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ দেশের স্বাধীনতা এনেছে, এ দেশের অর্থনৈতিক মুক্তি, আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন এবং দেশবাসীর জন্য খাদ্য, বস্ত্র ও বাসস্থানের ব্যবস্থা করেছে। তাই আগামী সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রতীক ‘নৌকা’-কে ভোট দিন। প্রধানমন্ত্রী কোটালীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ অফিসে ঈদুল আজহা উপলক্ষে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় কালে একথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে সাধারণ মানুষের ভাগ্য বদলে যায়। এ সময়ে তিনি গত সাড়ে ১৪ বছরে দেশের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করার জন্য তাঁর সরকারের প্রচেষ্টা সংক্ষেপে তুলে ধরেন। পাশাপাশি, এসব উন্নয়ন যারা দেখতে পায়না, তাদের কঠোর সমালোচনা করে তিনি তাদেরকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘তারা এই উন্নয়নের সুফল কিন্তু ঠিকই ভোগ করছেন।’

এরপর তিনি বলেন, যারা আওয়ামী লীগকে কখনো ক্ষমতায় দেখতে চায় না এবং দেশের উনয়নও দেখতে পায় না, তাদের ব্যাপারে আমার কিছুই বলার নেই। যারা দেশের উনয়ন চায় না, তাদের চ্যালেঞ্জ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি অবশ্যই দেশের এই উন্নয়ন অব্যহত রাখবেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি নিজের বাবা-মা ও ভাই হারিয়েছি। আপনারাই (কোটালীপাড়ার মানুষ) আমার আপনজন। আপনারা সব সময়ই আমার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন।’

তিনি বলেন, তার নিজের আত্মীয়-স্বজন ও অন্যান্যের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় না করেই তিনি কোটালীপাড়ার মানুষের সাথে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করতে গোপালগঞ্জে এসেছেন।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী কোটালীপাড়া ও টুঙ্গিপাড়ায় তার দুই দিনের সফরের অংশ হিসেবে তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে তিন ঘণ্টার সড়কপথে গাড়িতে পদ্মা সেতু পার হয়ে সকাল ১১টা ২৭ মিনিটে কোটালীপাড়ায় পৌঁছান। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা ও একমাত্র ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় তাঁর সঙ্গে ছিলেন। তার সফরকে কেন্দ্র করে গোটা গোপালগঞ্জ উৎসবের আমেজে বর্ণিল পোস্টার, ব্যানার ও প্ল্যাকার্ডে সেজেছে এবং জেলাজুড়ে বিরাজ করছে আনন্দঘন পরিবেশ।

প্রধানমন্ত্রী কোটালীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে পৌঁছানোর পর নিম, বকুল এবং আম- এই তিনটি গাছের চারা রোপণ করেন। ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়কালে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের অধিকাংশ নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রীর সামনে তাদের অনুভূতি ব্যক্ত করার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান এবং তার দীর্ঘায়ু কামনা করেন। শেখ হাসিনা দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হবেন বলেও তারা আশাবাদ ব্যক্ত করে শুভেচ্ছা জানান এবং আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রতীক ‘নৌকা’কে বিজয়ী করতে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। জবাবে প্রধানমন্ত্রী সকলকে তাঁর জন্য প্রার্থনা করার আহ্বান জানান, যাতে তিনি জনগণের সেবা করতে পারেন।
পরে তিনি নবনির্মিত কোটালীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয় উদ্বোধন করেন। মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ এবং সঞ্চালনা করেন কোটালীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আয়নাল হোসেন শেখ।

অনুষ্ঠান শেষে বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর টুঙ্গিপাড়ার উদ্দেশে কোটালীপাড়া ত্যাগ করার কথা।
টুঙ্গিপাড়ায় পৌঁছানোর পর প্রধানমন্ত্রীর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন, ফাতেহা পাঠ ও মোনাজাতে অংশ নেওয়ার কর্মসূচি রয়েছে। রাতেও প্রধানমন্ত্রীর টুঙ্গিপাড়ায় থাকার কথা ।

রবিবার সকালে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও জনসাধারণের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন। রোববার (২ জুলাই) বিকেলে তার টুঙ্গিপাড়া থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে।

সূত্র : বাসস

ভোলায় বিয়ে বাড়িতে সংঘর্ষ, কনেসহ আহত ১৫

ভোলায় বিয়ে বাড়ির গেটে টাকা আদায়কে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের সংঘর্ষ হয়েছে। ঘণ্টাব্যাপী ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের কনে, কনের মা-বাবা, বরের বাবাসহ উভয়পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছে।

এতে পণ্ড হয়ে গেছে বিয়ের অনুষ্ঠান। আহতদের ১২ জনকে ভোলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

শুক্রবার (৩০ জুন) দুপুরে শহরের শহরতলী জামিরা লতা মুন্সি সরদার বাড়ির হারুন অর রশিদের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

শনিবার (১ জুলাই) ভোলা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন ফকির এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

জানা গেছে, দু’মাস আগে শহরতলী হারুন অর রশীদের মেয়ে নূপুরের সাথে একই এলাকার জাকির হোসেনের ছেলে শরীফের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। শুক্রবার বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা ছিল। এতে বরকে বরণ করার জন্য কনেপক্ষ বাড়ির দরজায় গেট নির্মাণ করে। ওই গেটের টাকা দেয়াকে কেন্দ্র করে উভয়পক্ষের মধ্যে তর্কবিতর্ক হয়। এরই জেরে বরপক্ষের লোকজন হকস্টিক ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে কনে বাড়িতে হামলা চালিয়ে বিয়ের প্যান্ডেল, চেয়ার টেবিল ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করে এবং অতিথি আপ্যায়নের জন্য রান্না করা খাবার তছনছ করে। এসময় উভয়পক্ষের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের কনে, কনের মা, বাবা, ভাই, বরের বাবা, খালুসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতাল ভর্তি করে।

কনেপক্ষের অভিযোগ, হামলাকারী বরপক্ষের লোকজন ভাঙচুরের পাশাপাশি ঘর ও বিয়ের মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে।

তবে লুটের কথা অস্বীকার করে তাদের ওপর আগে হামলা হয়েছে বলে পাল্টা অভিযোগ করে বরপক্ষ।

ভোলা সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন ফকির বলেন, শুক্রবার রাতে পুলিশ ঘটনাটি জানতে পারে। এরপর ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে থাকা আহতদের দেখতে পুলিশের একটি টিম যায়। এ ঘটনায় কনের বাবাকে থানায় অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। কিন্তু শনিবার দুপুর পর্যন্ত এ ঘটনায় কেউই থানায় কোনো অভিযোগ দেয়নি। উভয়পক্ষ স্থানীয়ভাবে এ ঘটনা সমাধান করে নিবে।

ব্রিকস বিরোধিতাই প্রমাণ করে বিএনপি দেশের উন্নয়ন চায় না : তথ্যমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, শীর্ষ উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর ‘ব্রিকস’ জোটে বাংলাদেশের যোগদানের বিরোধিতা করে বিএনপি প্রমাণ করেছে যে তারা দেশের উন্নয়ন-অগ্রগতিরও বিরোধী।

তিনি বলেন, বিএনপি মহাসচিব এই শুভ উদ্যোগকে যেভাবে সুবিধাবাদী পদক্ষেপ বলেছেন, তা অত্যন্ত নিন্দনীয়।

শনিবার দুপুরে বন্দরনগরী চট্টগ্রামের দেওয়ানজী পুকুর লেনে নিজ বাসভবনে স্থানীয় সুধীজনের সাথে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন।

শুক্রবার একটি টেলিভিশন চ্যানেলে সাক্ষাৎকারে বিএনপি মহাসচিবের বক্তব্য ‘অর্থনৈতিক জোট ব্রিকসে যোগদান আমাদের জন্য শুভকর নয়’ এ নিয়ে প্রশ্নে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, ‘ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন, সাউথ আফ্রিকার জোট ‘ব্রিকসে’র উদীয়মান অর্থনীতির শক্তিকে সবাই সমীহ করে। বাংলাদেশ এতে যোগ দেয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে তা নয়, উদীয়মান অর্থনীতির দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে তারা ব্রিকসে যোগদানের আহ্বান জানিয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘এটি বাংলাদেশের জন্য মর্যাদা ও সম্মানের এবং শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ যে এখন উদীয়মান অর্থনীতির দেশ, তার স্বীকৃতি। সেখানে যোগ দিলে বাংলাদেশের বহুমাত্রিক সুবিধা হবে। কিন্তু মির্জা ফখরুল সাহেবরা তা চান না।’

সাংবাদিকরা বিএনপি মহাসচিবের অপর এক মন্তব্য- ‘গত একবছর ধরে বিএনপি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে যুক্ত নয়’ এ বিষয়ে জানতে চাইলে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘মির্জা ফখরুল সাহেবের এ বক্তব্য রেকর্ডেড এবং তারা যে আগে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সাথে যুক্ত ছিলেন সেটি তার বক্তব্যের মাধ্যমেই স্বীকার করে নিয়েছেন।’

‘এক বছর ধরে বিএনপি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সাথে যুক্ত নয় সেটিও সঠিক নয়’ উল্লেখ করে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আপনারা দেখেছেন গত কয়েক মাসে তারা বিভিন্ন স্থানে পুলিশের সাথে সংঘর্ষে জড়িয়েছে, গাড়ি ভাঙচুর করেছে, বাসে আগুন দিয়েছে, চট্টগ্রামের জামালখানে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালসহ ইতিহাস-ঐতিহ্যমণ্ডিত ছবি ভাংচুর করেছে। অর্থাৎ মির্জা ফখরুল সাহেব যতই বলুন না কেন, উনারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মধ্যেই আছেন।’

শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক নোমান আল মাহমুদ এমপি, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এ সালাম, দক্ষিণ জেলার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরী এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র : বাসস