Home Blog Page 629

নির্বাচন প্রক্রিয়া ক্ষুণ্ণ করলেই মার্কিন ভিসা নিষেধাজ্ঞা

‘আমরা মানবাধিকারের ওপর যে কোনো বিধিনিষেধের বিরোধিতা করি’ বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার।

মঙ্গলবার নিয়মিত মিডিয়া ব্রিফিংয়ের সময় সাংবাদিকদের তিনি একথা বলেন।

যুক্তরাষ্ট্র পুনর্ব্যক্ত করেছে যে গণতান্ত্রিক সমাজে অবাধে নিজেদের ভূমিকা পালনে সকলের অধিকারকে সমর্থন করে তারা।

তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক নির্বাচন প্রক্রিয়াকে ক্ষুণ্ণ করে এমন যে কোনো ব্যক্তির ক্ষেত্রে ভিসা নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে।’

মার্কিন এ মুখপাত্র বলেন, ‘গণতান্ত্রিক নির্বাচন প্রক্রিয়াকে ক্ষুণ্ণ করে এমন পদক্ষেপগুলোর মধ্যে রয়েছে ভোট কারচুপি, ভোটারদের ভীতি প্রদর্শন, জনগণকে সংগঠন ও শান্তিপূর্ণ সমাবেশের স্বাধীনতার অধিকার প্রয়োগ থেকে বিরত রাখার জন্য সহিংসতার ব্যবহার এবং রাজনৈতিক দল, ভোটার, নাগরিক সমাজ বা গণমাধ্যমকে তাদের মতামত প্রচার থেকে বিরত রাখার জন্য পরিকল্পিত ব্যবস্থার ব্যবহার।’

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন যে, তারা বাংলাদেশ বা অন্য কোনো দেশের কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষে অবস্থান নেয় না।

মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার বলেন, ‘কিন্তু আমরা বিশ্বাস করি যে বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব দেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হওয়া উচিত।’ সূত্র : ডয়চে ভেলে

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে আনা সংশোধনে সাংবাদিকরা খুশি হবেন : আইনমন্ত্রী

সরকার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের যে সংশোধন আনছে, তাতে সাংবাদিকরা খুশি হবেন বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক।

মঙ্গলবার (২৫ জুলাই) সচিবালয়ে নিজ দফতরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মানবাধিকার বিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি ইমন গিলমোরের সাথে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে মন্ত্রী এ মন্তব্য করেন।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে কী ধরনের সংশোধনী আনা হচ্ছে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘এটার জন্য আপনারদের একটু অপেক্ষা করতে হবে। আমি মনে করি, আপনাদের পরামর্শ সরকারের কাছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আমি এটুকু বলতে পারি, ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনের যে সংশোধন হচ্ছে তাতে আপনারা সকলে খুশি হবেন।’

তিনি বলেন, ‘ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও বাংলাদেশের মধ্যে সম্পর্ক খুবই বন্ধুত্বপূর্ণ। তার সফরে এই সম্পর্ক আরো জোরদার হবে। নতুন আঙ্গিকে আমাদের এই অংশীদারত্ব কাজে লাগাব ও শক্ত করবো।’

তিনি আরো বলেন, ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে আলাপ হয়েছে। তাকে বলেছি আমরা এই আইন সংশোধন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আগামী সেপ্টেম্বরে এই সংশোধনী পার্লামেন্টে তোলা হবে এবং পাস করা হবে বলে আশা রাখি।’

বৈঠকে উপাত্ত সুরক্ষা আইন নিয়েও কথা হয়েছে জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, সেখানে বলেছি এটি নিয়ে অংশীজনদের সাথে একবার বৈঠক করার পরে আবার একটা খসড়া তৈরি করা হয়েছে। সেটি নিয়েও অংশীজনদের সাথে বসা হবে বলে আমি আইসিটি প্রতিমন্ত্রীর কাছ থেকে শুনেছি। ইমন গিলমোরকেও সে কথা বলেছি।’

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘শ্রম আইন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বলেছি, বাংলাদেশে শ্রমিকদের অধিকার জোরদার হয়েছে। এটি নিয়ে অনেক কাজ করেছি এবং করে যাচ্ছি। যে সব সমস্যা আছে, সেগুলো দূর হবে বলে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে আশা ব্যক্ত করেছি। সেখানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহযোগিতা চেয়েছি।’

আসন্ন জাতীয় নির্বাচন নিয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে আনিসুল হক বলেন, ‘তাদের সাথে নির্বাচন নিয়ে বিশেষ কোনো আলাপ হয়নি। নির্বাচন নিয়ে তাকে কেবল বলেছি, প্রধান নির্বাচন কমিশন এবং নির্বাচন কমিশন নিয়োগে যে আইনটি আমরা করেছি, এটি এই উপমহাদেশে প্রথম। গেল অর্ধশত বছরে এমন আর কোনো আইন হয়নি। আমরা আইন করেছি অবাধ, সুষ্ঠু এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য।’

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে অনেক বিদেশী প্রতিনিধি আসছেন, এ নিয়ে সরকার কোনো চাপ অনুভব করছে কিনা এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘পৃথিবীটা এখন বিশ্বগ্রাম। এখানে বিভিন্ন দেশ পারস্পরিক সম্পর্ক ধরে রাখতে বিভিন্ন আলোচনায় যুক্ত হয়। আমি সে আলোকেই দেখছি। আমরা একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ।‍’

তিনি বলেন, আমাদের যেসব বন্ধুদেশ আছে, তারা আমাদের অবশ্যই অনেক কিছু জিজ্ঞেস করতে পারেন। আবার অনেক কথা তাদেরকে জিজ্ঞেস করতে পারি। কোথাও ভুল বোঝাবুঝি হয়ে থাকলে এই আলোচনার মাধ্যমে তা দূর হয়। অনেক ক্ষেত্রে সেগুলো দূর হচ্ছে বলে মনে করি।

সূত্র : ইউএনবি

প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষ থাকতে মির্জা ফখরুলের আহ্বান

প্রশাসনে কর্মরত কর্মকর্তা-কার্মচারীদের কোনো দল বা গোষ্ঠীর স্বার্থে কাজ না করে সততা ও নিরপেক্ষতা বজায় রেখে দেশ ও জনগণের স্বার্থে দায়িত্ব পালন করার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মঙ্গলবার (২৫ জুলাই) এক বিবৃতি তিনি এ কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছি যে সিভিল ও পুলিশ প্রশাসনের অতি নগণ্য সংখ্যক দুর্নীতিপরায়ণ ও দলবাজ কর্মকর্তা অপপ্রচার চালাচ্ছে, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে আওয়ামী শাসনামলে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরিচ্যুতি, এমনকি জেল-জরিমানার মতো পরিস্থিতির শিকার হতে হবে। এতে বুঝা যায়, অনির্বাচিত ও অবৈধ সরকার জোর করে ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য যে সব ষড়যন্ত্র করছে- এমন অপপ্রচার ওই ষড়যন্ত্রেরই একটি অংশ। বিএনপির পক্ষ থেকে আমরা সুস্পষ্টভাবে বলতে চাই, জনগণের সমর্থনে যদি বিএনপি দেশ পরিচালনার সুযোগ পায়, তাহলে প্রজাতন্ত্রের সকল কর্মকর্তা-কার্মচারীদের চাকরির সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে। কোনো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে দলীয় বিবেচনায় কিংবা আক্রোশমূলক কোনো ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে না এবং কাউকেই তা করতে দেয়াও হবে না। বিগত ১৫ বছর যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত, বাধ্যতামূলক অবসরপ্রদান, দীর্ঘদিন ওএসডি করে রাখা এবং পদোন্নতি বঞ্চিত করা হয়েছে, তাদের প্রতিও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যেসব কর্তৃপক্ষের বেআইনি আদেশে কিংবা চাপে পড়ে বিতর্কিত কাজ করতে বাধ্য হয়েছেন, যা প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী পরে অন্যায়, অবৈধ ও বেআইনি বলে পরিগণিত হবে, ওই সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে বিএনপির আহ্বান হলো- এখন থেকে তারা যদি আর অন্যায়, অবৈধ ও বেআইনি কোনো কাজ না করেন, তাহলে তাদের আগের ভূমিকা সহানুভূতি ও ইতিবাচক দৃষ্টিতে বিবেচনা করা হবে।’

১৯৭৯ বিধান অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কেবলমাত্র আইনানুগ আদেশ ও নির্দেশ মেনে চলতে বাধ্য এমনটা জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘বে-আইনি আদেশ মানা বা বাস্তবায়নে বাধ্য নন। এ দেশের সন্তান হিসেবেও দেশে আইনের শাসন সমুন্নত রাখা আমাদের সকলের কর্তব্য। বিএনপি একান্তভাবেই প্রত্যাশা করে যে সরকারি কর্মকর্তা-কার্মচারীরা কোনো দল বা গোষ্ঠীর স্বার্থে কাজ না করে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হিসেবে সততা ও নিরপেক্ষতা বজায় রেখে দেশ ও জনগণের স্বার্থে দায়িত্ব পালন করবেন।’

ভারতের সাথে রুপিতে বাণিজ্য : প্রথম চালানে এলো ৩০টি পিকআপ ভ্যান

ভারত থেকে রুপিতে কেনা ৩০টি পিকআপ ভ্যান মঙ্গলবার (২৫ জুলাই) বেনাপোল বন্দর দিয়ে দেশে প্রবেশ করেছে।

বেনাপোল বন্দরের পরিচালক আ: জলিল এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, বাংলাদেশের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ঢাকার নিতা কোম্পানি ভারতীয় প্রতিষ্ঠান টাটা মোটরসের কাছ থেকে ১ কোটি ২৪ লাখ রুপিতে এ পিকআপ ভ্যানগুলো কিনেছে।

তিনি বলেন, ভারতীয় রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান টাটা মোটরস লি. পিকআপ ভ্যানগুলো রফতানি করে।

তিনি আরো বলেন, আমদানির পর পিকআপ ভ্যানগুলো বেনাপোল বন্দরের ট্রান্সশিপমেন্ট ইয়ার্ডে রাখা হয়েছে।

এর আগে গত ১১ জুলাই মঙ্গলবার ঢাকার লা মেরিডিয়ান হোটেলে এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংক ও ভারতীয় হাইকমিশন দু’দেশের বাণিজ্যে রুপি ব্যবহারের ঘোষণা দেয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আবদুর রউফ তালুকদার, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব তপন কান্তি ঘোষ, ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় কুমার ভার্মা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের গর্ভনর আবদুর রউফ তালুকদার ভারতে বাংলাদেশ ভ্রমণকারীদের সুবিধার্থে আগামী সেপ্টেম্বরে ‘টাকা-রুপি কার্ড’ চালুর সম্ভাবনার কথা জানান।

এই কার্ড দিয়ে দেশে ও প্রতিবেশী ভারতে বিল পরিশোধ করা যাবে।

দেশের আমদানিকারকদের কিছুটা স্বস্তি দেবে। তারা প্রতিবেশী দেশ থেকে পণ্য কিনতে রুপিতে এলসি খুলতে শুরু করেছেন। ফলে ডলারের ব্যবহার কিছুটা কমবে।

ডলারের ঘাটতির কারণে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরো কমে যাওয়া রোধ করতে সরকার আমদানিবিধি কঠোর করেছে। এক বছর আগের তুলনায় রিজার্ভ কমেছে প্রায় ২৩ শতাংশ।

দুই দেশের মধ্যে প্রায় ১৬ বিলিয়ন ডলারের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের একটি অংশের মূল্য পরিশোধের সুবিধার্থে ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোকে ভারতে অ্যাকাউন্ট খোলার অনুমতি দিয়েছে।

রফতানি ও রেমিট্যান্স থেকে আসা অর্থের তুলনায় আমদানি মূল্যের পরিমাণ বেশি হওয়ায় দেশের রিজার্ভ কমে যাচ্ছে।

বেনাপোল কাস্টমস হাউসের ডেপুটি কমিশনার তানভীর আহমেদ বলেন, মঙ্গলবার রুপির মাধ্যমে ভারত থেকে প্রথম চালান আমদানি হয়েছে বেনাপোল বন্দর দিয়ে।

তিনি আরো বলেন, রুপিতে পণ্য আমদানি হলে ডলারের ওপর চাপ কমে যাবে।

সূত্র : ইউএনবি

কম্বোডিয়ায় বিতর্কিত নির্বাচনের পর মার্কিন ভিসা নিষেধাজ্ঞা, কী চায় বাইডেন প্রশাসন?

কম্বোডিয়ায় রোববার নির্বাচনের পর ওই নির্বাচনকে ‘মুক্ত বা নিরপেক্ষ, কোনোটাই নয়’ হিসেবে চিহ্নিত করে ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বাইডেন প্রশাসন।

নির্বাচনে ৩৮ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা হুন সেনের দল কম্বোডিয়ান পিপল’স পার্টি (সিপিপি) প্রায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় পায়। নির্বাচনের আগে সিপিপি’র একমাত্র শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী ক্যান্ডললাইট পার্টিকে নিষিদ্ধ করায় কার্যত একপক্ষীয় নির্বাচনই হয়।

নির্বাচনের রাতেই যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের পক্ষ থেকে মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার এক বিবৃতিতে জানান যে নির্বাচনের জের ধরে কম্বোডিয়ায় যারা ‘গণতন্ত্রকে অবমূল্যায়ন’ করেছে তাদের বিরুদ্ধে ভিসা নিষেধাজ্ঞা জারি করার জন্য পদক্ষেপ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

নির্বাচনের আগে কম্বোডিয়ার কর্তৃপক্ষ ‘রাজনৈতিক বিরোধী, মিডিয়া ও সুশীল সমাজের সদস্যদের হুমকি ও হয়রানিমূলক আচরণ করে’ দেশের সংবিধানের চেতনা ক্ষুণ্ণ করেছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি কম্বোডিয়ার দায়িত্ববোধকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে বিবৃতিতে।

কী বলছে স্টেট ডিপার্টমেন্ট?
স্টেট ডিপার্টমেন্টের পক্ষ থেকে ভিসা নিষেধাজ্ঞা জারি করার পর সংবাদ সম্মেলনে মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলারকে জিজ্ঞাসা করা হয় যে এই ভিসা নিষেধাজ্ঞার আওতায় কারা থাকবেন এবং কম্বোডিয়ার সরকারের কেউ থাকবেন কিনা।

এই প্রশ্নের জবাবে মিলার বলেন, ‘নীতিগত অবস্থানের কারণে নিষেধাজ্ঞার অধীনে থাকা কারো নাম আমরা উল্লেখ করি না। আমরা শুধু জানাই যে নির্দিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তাকে আমরা চিহ্নিত করেছি।’

কম্বোডিয়ায় ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগেও ‘গণতন্ত্রের অবমূল্যায়নে জড়িত থাকা’ এবং ‘কম্বোডিয়া সরকারের গণতন্ত্র বিরোধী কার্যকলাপের সরাসরি প্রতিক্রিয়া’ হিসেবে ভিসা নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে সেবার ভিসা নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা এসেছিল সে সময়কার একমাত্র কার্যকর বিরোধী দল সিএনআরপিকে নিষেধাজ্ঞা দেয়ার পর।

কম্বোডিয়ায় ভিসা নিষেধাজ্ঞার ইতিহাস
কম্বোডিয়ায় ২০১৩ সালের নির্বাচন-পরবর্তী ঘটনাবলীকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ২০১৭ সালে প্রথমবার ভিসা নিষেধাজ্ঞা জারি করে দেশটির ওপর।

ওই নির্বাচনে ক্ষমতাসীন সিপিপি’র ৬৮টি আসনের বিপরীতে বিরোধী দল সিএনআরপি ৫৫টি আসন পায়। নির্বাচনের পর বিরোধী দল ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ তোলে।

বিরোধী দল সিএনআরপি সংসদে আসন গ্রহণ করতে অস্বীকার করে এবং ২০১৪ সালের শুরু পর্যন্ত এক বছর ধরে সরকার বিরোধী বিক্ষোভ চালায়।

ক্ষমতাসীন দল কঠোরভাবে এই বিক্ষোভ দমন করে এবং সিএনআরপি শেষ পর্যন্ত এই শর্তে সংসদে যোগ দেয় যে পরবর্তী নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সরকার সংশোধন আনবে।

কিন্তু এর পরের বছরগুলোয় সরকার বিরোধীদের ওপর আরো কঠোরভাবে দমন করে। ২০১৭ সালে সুপ্রিম কোর্ট সিএনআরপি’কে নিষিদ্ধ করে এবং দলের সদস্যদের সংসদ সদস্যপদ বাতিল করে।

এর পরই প্রথমবারের মতো কম্বোডিয়ার দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের ওপর এবং বিভিন্ন বাণিজ্য সহায়তার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে যুক্তরাষ্ট্র।

এরপর ২০১৯ সালে চীনের সহায়তায় কম্বোডিয়ার একটি নৌবাহিনীর ঘাঁটি তৈরির খবর প্রকাশিত হলে আবার নিষেধাজ্ঞা আসে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে।

আর ২০২১ সালে কম্বোডিয়ায় কাজ করা চীনা একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্র – যেই প্রতিষ্ঠানটি থাইল্যান্ডের উপসাগরের কাছে দারা সাকোর অঞ্চলে চীনা বিমান বাহিনীর ব্যবহারের জন্য এয়ারস্ট্রিপ তৈরি করছিল।

সবশেষ রোববারের নির্বাচনের পর কম্বোডিয়ার বিরুদ্ধে আরেক দফা ভিসা নিষেধাজ্ঞা দিলো যুক্তরাষ্ট্র।

বিভ্রান্তিকর ভিসানীতি?
কম্বোডিয়ার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে ২০২২ সালে একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের সিনিয়র ফেলো গ্রেগরি পোলিং, সহকারী ফেলো চার্লস ডুন্সট ও সহকারী গবেষক সিমোন ট্রান হিউডস।

তাদের গবেষণা অনুযায়ী, কম্বোডিয়ার প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের মনোভাব স্ববিরোধী। কম্বোডিয়াকে তাদের অগণতান্ত্রিক চর্চার জন্য শাস্তির আওতায় আনা উচিৎ নাকি ভূ-রাজনৈতিক শক্তি অর্জনের মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করা উচিৎ – এই দোটানায় কম্বোডিয়ার প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের নীতি দোদুল্যমান রয়েছে বলে মনে করেন গবেষকরা।

২০২২ সালের জুন মাস পর্যন্ত কম্বোডিয়ার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে মোট ২৮টি, যার মধ্যে ২৬টিই একটি নির্দিষ্ট আইনের অধীনে। গ্লোবাল ম্যাগনিটস্কি হিউম্যান রাইটস অ্যাকাউন্টেবিলিটি অ্যাক্টের (জিএমএ) আওতায় বিশ্বের যেকোনো জায়গায় মানবাধিকার লঙ্ঘন বা দুর্নীতির সাথে জড়িত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিতে পারে তারা।

গবেষকদের মতে, স্বাভাবিক দৃষ্টিতে মনে হতে পারে কম্বোডিয়ার মানবাধিকার লঙ্ঘন বন্ধ করা ও দুর্নীতি প্রতিরোধই যুক্তরাষ্ট্রের দেয়া নিষেধাজ্ঞার মূল উদ্দেশ্য।

কিন্তু ২০২১ সালে চীনা বিমান বাহিনীর জন্য এয়ারস্ট্রিপ তৈরি করা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে জিএমএ’র অধীনে নিষেধাজ্ঞা দেয়ায় বোঝা যায় যে মানবাধিকার লঙ্ঘন বা দুর্নীতির চেয়ে ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থকেই বেশি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।

এই নিষেধাজ্ঞার আগে ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট ‘কম্বোডিয়ায় ক্ষতিকর চীনা বিনিয়োগ’ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে একটি বিবৃতিও প্রকাশ করে।

আবার ২০১৯ সালে চীনের সহায়তায় নৌঘাঁটি তৈরির জের ধরে কম্বোডিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়ার পরই আবার দেশটির সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করতে পদক্ষেপ নেয়।

আর বিভিন্ন ধরনের নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই ২০২২ সালের মে মাসে ‘ইউএস-আসিয়ান স্পেশাল সামিটে’ অংশ নিতে গিয়ে কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন সেন তিন দশকে প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্র সফর করেন ও প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সাথে দেখা করেন। প্রেসিডেন্ট বাইডেনও গত নভেম্বরে আসিয়ান-ইউএস বৈঠকে অংশ নিতে কম্বোডিয়া সফর করেন।

গবেষকদের মতে, কম্বোডিয়া সম্পর্কে কৌশল নির্ধারণে ওয়াশিংটনকে আরো দূরদর্শিতা অবলম্বন করতে হবে। এখনকার মতো নিষেধাজ্ঞাভিত্তিক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক অব্যাহত থাকলে কম্বোডিয়ায় গণতন্ত্র ফিরিয়ে না এনে হুন সেনের স্বৈরশাসনকেই অন্যভাবে দীর্ঘায়িত করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন গবেষকরা।

সূত্র : বিবিসি

রাষ্ট্রবিরোধী অপপ্রচারের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদূতদের সতর্ক থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাষ্ট্রবিরোধী অপপ্রচারের বিরুদ্ধে বাংলাদেশী কূটনীতিকদের সতর্ক থাকতে বলেছেন, যাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বিভ্রান্ত এবং ভুল তথ্যের শিকার না হয়।

তিনি বলেন, ‘আমি বলতে চাই যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উচিত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতদের কাছে অপপ্রচার সংক্রান্ত তথ্য সরবরাহ করা। যদি এটা করা হয়, তাহলে মিথ্যা রটনাকারীরা বিভ্রান্তি সৃষ্টির কোনো সুযোগ পাবে না।’

তিনি আরো বলেন, ‘যেসব জায়গায় আন্তর্জাতিক সংস্থা রয়েছে, সেই জায়গাগুলোতে আমাদের আরো সক্রিয় হওয়া উচিত, যাতে তারাও অপপ্রচার এবং ভুল তথ্যের শিকার হয়ে বিভ্রান্ত না হয়।’

মঙ্গলবার (২৫ জুলাই) রোমে প্রধানমন্ত্রী তার আবাসস্থলে ইউরোপে বাংলাদেশী রাষ্ট্রদূতদের সম্মেলনে ভাষণ দিতে গিয়ে এসব নির্দেশনা দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কিছু লোক আছে যারা অপরাধ করে বিদেশে আশ্রয় নিয়েছে, তারা দেশের বিরুদ্ধে ভুল তথ্য ছড়াচ্ছে। যারা কখনোই দেশকে মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে যেতে পারেনি, এমন কিছু লোক এবং কিছু অপরাধী যারা অপরাধ করে বিদেশে আশ্রয় নিয়েছে, তারা দেশের বিরুদ্ধে ভুল তথ্য ছড়াচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে সবাইকে সচেতন হতে হবে।’

এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন এবং প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান ফজলুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র : বাসস

বাংলাদেশে শাখা খুলতে চায় রুশ ব্যাংক

বাংলাদেশে শাখা ব্যাংক খোলার আগ্রহ প্রকাশ করেছে রাশিয়ার সর্ববৃহৎ ব্যাংক এসবার ব্যাংক। ইতোমধ্যে দু’বার বাংলাদেশ ব্যাংকের সাথে এসবার ব্যাংকের প্রতিনিধিরা বৈঠক করেছে।

এসবার ব্যাংক জানিয়েছে, বাংলাদেশী প্রতিষ্ঠানের সাথে কাজ করা রুশ প্রতিষ্ঠান বা ক্লায়েন্টদের সেবা দিতে তারা ঢাকায় নিজেদের শাখা খোলার বিষয়টি নিয়ে ভাবছে।

২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে হামলা চালায় রাশিয়া। এর পরপরই এসবারব্যাংকের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে পশ্চিমা দেশগুলো। গত মাসে ব্যাংকটি অস্ট্রিয়ায় থাকা তাদের সম্পূরক প্রতিষ্ঠানটি করে দিয়েছে। এর মাধ্যমে ইউরোপিয়ান বাজার থেকে নিজেদের পুরোপুরি গুটিয়ে নিয়েছে এসবারব্যাংক।

অন্যান্য রাশিয়ান প্রতিষ্ঠানের মতো এসবারব্যাংকও এশিয়ার দিকে মনোযোগ দিয়েছে। কারণ পশ্চিমাদের আরোপিত নিষেধাজ্ঞায় যোগ দেয়নি এই অঞ্চলের বেশিরভাগ দেশ। ফলে রুশ প্রতিষ্ঠানগুলো এখন এশিয়ায় নতুন ব্যবসায়িক অংশীদার খোঁজার চেষ্টা করছে।

এসবারব্যাংকের নির্বাহী বোর্ডের ডেপুটি চেয়ারম্যান আনাতোলি পোপোভ বলেছেন, ‘বাংলাদেশী প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে ব্যবসা করা রুশ ক্লায়েন্টদের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে এসবারব্যাংক বাংলাদেশে শাখা খোলার সব বিষয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে।’

পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার পর রাশিয়া ডলারের বিকল্প হিসেবে অন্য কোনো মুদ্রায় ব্যবসা-বাণিজ্যের উপায় খুঁজছে। বাংলাদেশে শাখা খুলতে এসবারব্যাংকের একটি প্রতিনিধি দল ইতোমধ্যে ঢাকা সফর করেছে বলে জানিয়েছে একটি সূত্র।

সূত্র : রয়টার্স

রাশিয়ার বিরুদ্ধে কার্যকরভাবে ক্লাস্টার বোমা ব্যবহার করছে ইউক্রেন : হোয়াইট হাউস

রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউক্রেন কার্যকরভাবে ক্লাস্টার বোমা ব্যবহার করছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন জ্যেষ্ঠ প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা জন কিরবি।

তিনি বলেন, আমরা ইউক্রেনীয়দের থেকে ক্লাস্টার বোমা ব্যবহারের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া জানতে পেরেছি। তারা জানিয়েছে, রাশিয়ার প্রতিরক্ষামূলক অবস্থান ও অপারেশনে বেশ কার্যকরভাবে বোমাটি ব্যবহার করতে পারছে তারা।

বৃহস্পতিবার (২০ জুলাই) গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন হোয়াইট হাউজের এই জাতীয় নিরাপত্তা মুখপাত্র।

জন কিরবি বলেন, প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় জানতে পেরেছি, অস্ত্রগুলো তারা যথাযথ ও কার্যকরভাবে ব্যবহার করছে। এগুলো রাশিয়ার প্রতিরক্ষামূলক গঠন ও সেনাদের কৌশলের ওপর প্রভাব ফেলছে। এ বিষয়ে ইউক্রেন থেকে বিস্তারিত তথ্য পরে পাওয়া যাবে বলে।

ওয়াশিংটন পোস্ট এক সূত্রে জানিয়েছে, কিয়েভের বাহিনী সুরক্ষিত রুশ অবস্থানের বিরুদ্ধে ক্লাস্টার অস্ত্র ব্যবহার করছে।

এর আগে শুক্রবার (৭ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তারা ইউক্রেনকে ক্লাস্টার বা গুচ্ছবোমা দেবে। তবে অন্য দেশের ভূখণ্ডে এ বোমা ব্যবহার করতে পারবে না কিয়েভ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেন, ইউক্রেনকে ক্লাস্টার বোমা দেয়া খুবই কঠিন একটি সিদ্ধান্ত। এ বিষয়ে তিনি মিত্রদেশগুলোর সাথে কথা বলেছেন।

এর প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাজ্য, কানাডা ও স্পেন ইউক্রেনকে ক্লাস্টার বোমা দিতে অসম্মতি জানায়। মার্কিন প্রশাসনের এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালও।

শনিবার (৮ জুলাই) যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক বলেন, ক্লাস্টার বোমার উৎপাদন, মজুত ও ব্যবহার বন্ধে ১২৩টি দেশ একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি সই করেছে। এসব দেশের তালিকায় যুক্তরাজ্যও রয়েছে। যুক্তরাজ্য এ অস্ত্রের ব্যবহার উৎসাহিত করতে পারে না।

সূত্র : বিবিসি, ওয়াশিংটন পোস্ট ও অন্যান্য

রাজধানীতে যুবলীগ কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা

রাজধানীর শাহজাহানপুরের গুলবাগে এক যুবলীগ কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। নিহত অলিউল্লাহ রুবেল (৩৬) রাজনীতির পাশাপাশি তিনি এলাকাতে ইন্টারনেট ও ডিম সাপ্লাইয়ারের ব্যবসা করতেন।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত পৌনে ১টার দিকে গুলবাগ জোয়ারদার লেনে বাসার পাশে রাস্তায় এই ঘটনা ঘটে।

স্ত্রী ও একমাত্র মেয়েকে নিয়ে জোয়ারদার লেনের ১৫৩/এ নম্বর ভাড়া বাসায় থাকতেন। তার বাবার নাম শেখ নবী উল্লাহ খোকন। শান্তিবাগে তাদের নিজেদের বাড়ি রয়েছে।

হাসপাতালে নিহতের ভগ্নিপতি মো: মামুন আহমেদ সিদ্দিকী জানান, রাতে রাজারবাগ এলাকা থেকে জোয়ারদার লেনে নিজের ভাড়া বাসায় ফিরছিলেন রুবেল। পথে বাসার অদূরে চার থেকে পাঁচজন ধারাল অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে আহত করে রাস্তায় ফেলে রেখে যায়।

খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে তাকে পঙ্গু হাসপাতাল ও সবশেষ ঢাকা মেডিক্যালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। তার মাথায়, ডান হাতে, কাধে, ডান পায়েসহ সারা শরীরেই ধারাল অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। পাম পায়ের পাতা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।

তিনি আরো জানান, রুবেল শাহজাহানপুর থানা ছাত্রলীগের সাবেক দফতর সম্পাদক পদে ছিলেন। তবে বর্তমানে যুবলীগের রাজনীতি করতেন। কিন্তু কোনো পদে ছিলেন না। এলাকাতে তার ইন্টারনেটর ব্যবসা রয়েছে। এছাড়া তেজগাঁও থেকে ডিম এনে শান্তিনগর, সিদ্ধেশ্বরী এলাকায় সাপ্লাই দিতেন তিনি। তার স্ত্রী তানজিনা দেওয়ান কেন্দ্রীয় মহিলা আওয়ামী লীগের সদস্য।

তবে কারা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে তা জানাতে পারেনি স্বজনরা।

এদিকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে শাহজাহানপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: ফারুকুল আলম জানান, তার সারা শরীরেই ধারাল অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। লাশটি মর্গে রাখা হয়েছে। কারা, কী জন্য এই ঘটনা ঘটিয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। খুব দ্রুতই ঘাতকদের আইনের আওতায় আনা হবে। সূত্র : ইউএনবি

রাজপথে ছাড় না দেয়ার চিন্তা আ’লীগের

জাতীয় নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে রাজনীতির মাঠ ততই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠানে মাঠের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি ও তার মিত্রদের দাবিটি দীর্ঘ দিনের। দাবি আদায়ে বর্তমানে সরকার পতনের এক দফার আন্দোলন নিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে সরকারবিরোধীরা। তবে বিএনপি ও তার মিত্রদের রাজপথে কোনোভাবেই ছাড় না দেয়ার চিন্তা রয়েছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের। এ জন্য সরকারি দলও পাল্টা এক দফা ঘোষণা করেছে। ‘শান্তি ও উন্নয়ন’ শিরোনামে বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে ক্ষমতাসীনরা রাজধানীর রাজপথে সক্রিয় থাকবে। এ ছাড়াও তৃণমূল পর্যায়ে সতর্ক থাকতে বিশেষ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

দলটির নেতারা মনে করেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা সরকার বাতিল করেনি, আদালতের রায়ে বাতিল হয়েছে। বিএনপি তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহালের যে দাবি নিয়ে রাজপথে এক দফা আন্দোলন করছে, সেটি অযৌক্তিক। ইতোমধ্যে সংশোধিত সংবিধানের আলোকে দশম জাতীয় সংসদ ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। একটিতে বিএনপি ও তার মিত্ররা অংশ নেয়নি, আরেকটিতে বিএনপি ও তার মিত্ররা অংশ নিয়েও নির্বাচনকে বিতর্কিত করার জন্য মাঝপথে বর্জন করেছে। আগামী নির্বাচনও সংবিধান অনুযায়ী যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে। ওই নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেবে কি নেবে না, এটা তাদের দলীয় সিদ্ধান্ত। প্রথমত, বিএনপির কোনো অযৌক্তিক দাবি আওয়ামী লীগ এবং সরকার মানবে না। দ্বিতীয়ত, আন্দোলন-সংগ্রাম করা তাদের রাজনৈতিক অধিকার। তারা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করতেই পারে। তবে অযৌক্তিক কোনো দাবি নিয়ে আন্দোলনের নামে রাজপথ গরম করলে তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেয়া হবে না।

গতকাল রাজধানীর সেতুভবনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি যে কোন পথে যাচ্ছে তা পরিষ্কার। এখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আছে, তাদের যা করার তাই করবে। একটা দেশে এক দল সন্ত্রাস করবে, অফিস ভাঙবে, পুলিশকে মারতে যাবে, যেখানে সেখানে মারামারি করতে যাবে- সেখানে কি সরকার চুপ করে বসে থাকবে?

এ দিকে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে গতকাল সচিবালয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, মির্জা ফখরুল সাহেবের বক্তব্যে তো এটি স্পষ্ট যে, উনারা সহিংসতা করতে চায়, সহিংসতা শুরু করেছে। সহিংসতা শুরু করলে সরকার বসে থাকবে না। যারা সহিংসতা করবে, দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরি করবে তাদেরকে কঠোর হস্তে দমন করা হবে এবং একইসাথে তাদের বিরুদ্ধে আমাদের দলও জনগণকে সাথে নিয়ে মাঠে থাকবে।

দলটির নীতি নির্ধারণী পর্যায়ের নেতাদের সাথে আলাপকালে জানা গেছে, জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপিকে সরকারবিরোধী আন্দোলন করে রাজনীতির মাঠ দখলের সুযোগ দেবে না আওয়ামী লীগ। সর্বশেষ গত ১০ ডিসেম্বরও বিএনপি রাজধানীতে সমাবেশের মাধ্যমে বড় ধরনের আন্দোলন গড়ে তুলতে চেয়েছিল। সরকারের কাছে এমনও তথ্য ছিল ওইদিন সরকার পতনের ডাক দিয়ে রাজপথে বসে পড়বে বিএনপি ও তার মিত্ররা। এ জন্য সারা দেশ থেকে বিএনপি তাদের নেতাকর্মীদের কয়েকদিন আগে থেকেই জড়ো করেছিল। কিন্তু সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে আগেভাগেই সরকার সতর্ক হয়ে গিয়েছিল এবং শেষমেশ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্রিয় ভূমিকায় তাদের আন্দোলন দমন করতে সরকার সফল হয়েছিল। এবারও একটি বিশেষ পরিস্থিতি তৈরি করার জন্য ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। এ বিষয়ে সরকার ও দলের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে তৃণমূল পর্যায়েও সেভাবেই নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। অবশ্য আন্দোলনের নামে কেউ বা কোনো দল যদি সহিংসতা করে তাহলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দেখবে। পাশাপাশি বাড়তি সতর্কতা হিসেবে নেতাকর্মীরা সতর্ক অবস্থান নিয়ে তাদের এলাকায় অবস্থান করবেন।

সূত্র আরো বলছে, সরকারবিরোধী রাজপথের যেকোনো কর্মসূচি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং সেভাবেই নেতাকর্মীদের দিকনির্দেশনা দেয়া হচ্ছে। এক দিকে রাজপথে যেকোনো সহিংসতা মোকাবেলায় কঠোর অবস্থানে থাকবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পাশাপাশি রাজনৈতিকভাবেও আওয়ামী লীগ পাল্টা কর্মসূচি নিয়ে মাঠে সক্রিয় থাকবে। আন্দোলনের নামে কেউ সহিংসতা তৈরির চেষ্ট করলে তা কঠোরভাবে মোকাবেলা করা হবে। ইতোমধ্যে বিএনপির আন্দোলনের বিপরীতে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগ রাজধানীতে বড় ধরনের দু’টি সমাবেশ ও শোভাযাত্রা করে শক্তির মহড়া দেয়া হয়েছে। সারা দেশেও ‘শান্তি ও উন্নয়ন’ শিরোনামে নেতাকর্মীদের সভা-সমাবেশ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তৃণমূল পর্যায়েও নেতাকর্মীরা সক্রিয় অবস্থানে রয়েছে। এরই মাধ্যমে বিএনপিকে একটি বার্তা দেয়া হয়েছে তাহলো- সংবিধান থেকে আওয়ামী লীগ এবং সরকার একচুলও নড়বে না। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সংবিধান অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনেই অনুষ্ঠানের জন্য আওয়ামী লীগ নির্বাচন পর্যন্ত রাজপথে থাকবে। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় আওয়ামী লীগ মাঠে থাকবে।

এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের অন্যতম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম নয়া দিগন্তকে বলেন, বিএনপি শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করলে আমাদের কোনো মাথাব্যথা নেই। কিন্তু আন্দোলনের নামে সহিংসতা করলে, সাধারণ মানুষের শান্তি বিনষ্ট করলে তা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দেখবে। তিনি আরো বলেন, দেশ ও দেশের জনগণের স্বার্থে এগুলো প্রতিহত করা সরকারি দল হিসেবে আমাদেরও দায়িত্ব। আওয়ামী লীগ সেই দায়িত্ব পালন করবে। বিএনপি আন্দোলনের নামে অতীতের মতো পেট্রল বোমা মেরে ও অগ্নিসন্ত্রাস করে দেশকে অস্থিতিশীল করতে চাইলে তাদের সে সুযোগ দেয়া হবে না। কারণ রাজপথ কাউকে ইজারা দেয়া হয়নি। তারা যেখানেই আগুন সন্ত্রাস চালাবে, নৈরাজ্য কর্মকাণ্ড সৃষ্টি করবে সেখানেই প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।

এ ছাড়া আওয়ামী লীগের অন্যতম সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন নয়া দিগন্তকে বলেন, আমি মনে করি, আন্দোলন দেয়ার দরকার তাই বিএনপি দিচ্ছে। নির্বাচনের আগে নেতাকর্মীদের চাঙ্গা রাখা দরকার তাই আন্দোলনের ধোয়া তুলছে। দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির সাথে দেশের জনগণ আছে। শেখ হাসিনার প্রতি জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস আছে। তিনি বলেন, জনগণ বিএনপির ডাকে অতীতেও সাড়া দেয়নি, ভবিষ্যতেও দেবে না। তার পরও বিএনপি সরকার পতনের এক দফার আন্দোলনের নামে কোনো বিশৃঙ্খলা করলে, সহিংসতা করলে জনগণকে সাথে নিয়েই তা প্রতিহত করা হবে।