Home Blog Page 630

এটি পদযাত্রা নয়, বিজয় যাত্রা : মির্জা ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আজকের পদযাত্রা শুধু পদযাত্রা নয়, এটি বিজয় যাত্রা।

মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর গাবতলীতে বিএনপির সরকার পতনের এক দফা দাবি আদায়ের পদযাত্রা কর্মসূচির পূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, এই দেশের মানুষ সরকারকে ক্ষমতায় দেখতে চায় না। তাই এখনি পদত্যাগ করতে হবে।

ফখরুল বলেন, আবারো পরিষ্কার করে বলছি, এ অবৈধ সরকারের অধীনে আর কোনো নির্বাচন নয়। কারণ গতকাল ঢাকায় একটি নির্বাচনের তামাশা দেখেছি। সেখানে আওয়ামী লীগের থিম ট্যাংকের হ্যাবি ওয়েট একজন প্রার্থী হয়েছিলেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন হিরো আলম। সেখানে দেখলাম ভোটকেন্দ্রে কোনো ভোটার নাই। হিরো আলম কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব নয় তার সাথে ভোট করতে যেয়ে তাকে মেরে ভোটকেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া হয়। পুলিশ প্রশাসন সেটি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখেছেন।

তিনি বলেন, এই সমস্ত তামাশা করে আর কোনো লাভ হবে না। ২০১৪ সালে ১৫৪ আসনে বিনা ভোটে জয়লাভ করেছেন। ২০১৮ সালের দিনের ভোট রাতে করেছেন। এই ধরনের ভোট আর হতে দেয়া হবে না।

আজকে যে আন্দোলন শুরু হয়েছে এই আন্দোলনের মাধ্যমে এক দফা দাবি আদায় করে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এ সময় বিএনপির ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবেদীন ফারুক, আব্দুস সালাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

হিরো আলমের ওপর হামলা : যা বলল মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর

বাংলাদেশে গত সোমবার জাতীয় সংসদের ঢাকা-১৭ আসনের উপনির্বাচনে ভোটের দিন স্বতন্ত্র প্রার্থী আশরাফুল হোসেন আলম ওরফে হিরো আলমের ওপর হামলার ঘটনা তদন্তের জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার রাতে ওয়াশিংটন ডিসিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের ব্রিফিংয়ে হিরো আলমের ওপর হামলা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মুখপাত্র ম্যাথু মিলার এ আহ্বান জানান।

ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ নিয়ে দুটি প্রশ্ন করা হয়। এতে বলা হয়, আন্ডার সেক্রেটারি জেয়ার সপরের পর বাংলাদেশ সরকার বিরোধী পার্টির ওপর হামলায় ফিরে গেছে। আমরা এই গতকালই দেখিছি যে বিরোধী দলের বয়কট করা একটি উপনির্বাচনে একজন স্বতন্ত্র প্রার্থীর ওপর হামলা হয়েছে। আক্রান্ত ব্যক্তি এখন হাসপাতালে আছেন। আর ভোট পড়েছে ১০ ভাগেরও কম। তাহলে আমরা কিভাবে বিশ্বাস করব যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অবাধ, নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন করবেন? কারণ ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচন অবাধ ছিল না এবং এই উপনির্বাচনও অবাধ ও নিরপেক্ষ নয়, প্রার্থীরা আক্রান্ত হচ্ছেন। এ প্রেক্ষাপটে আপনার অভিমত কী? আপনারা কি বিষয়টির ওপর নজর রাখছেন?

জবাবে ম্যাথু মিলার বলেন, আমি বলছি যে গণতান্ত্রিক নির্বাচনে এই ধরনের রাজনৈতিক সহিংসতার কোনো স্থান নেই। আমরা বাংলাদেশ সরকারকে সহিংসতার যেকোনো তথ্য পুঙ্খানুপুঙ্খ, স্বচ্ছ এবং নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে এবং সহিংসতার জন্য দায়ী অপরাধীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার জন্য উৎসাহিত করি।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র বলেন, আগেও আমরা বলেছি, আমরা আশা করি যে বাংলাদেশ সরকার অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান করবে এবং আমরা তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে থাকব।

নারায়ণগঞ্জের এমপি শামীম ওসমানকে নিয়েও একটি প্রশ্ন করা হয় ব্রিফিংয়ে। প্রশ্ন করা হয় যে সফররত ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ দলের এক এমপির সামনে বিক্ষোভকারী এক বিরোধী কর্মীর বাংলাদেশে অবস্থিত গ্রামের বাড়িতে হামলা হয়েছে, তার ভাই, তার মা ও পরিবারের সদস্যরা আক্রান্ত হয়েছে। আর ক্ষমতাসীন দল বিষয়টি তাদের ফেসবুকে লাইভ করে বলছে যে দেশের বাইরে কেউ গলা চড়ালে তারা আক্রান্ত হবে। অর্থাৱ কেউ যুক্তরাষ্ট্রে কথা বললেও বা সরকারি দলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলে কিংবা যুক্তি দিলে তাদের গ্রামের বাড়িও নিরাপদ নয়। এ ব্যাপারে আপনার দৃষ্টিভঙ্গি কী?

এর জবাবে মিলার বলেন, আমি এই মাত্র যা বললাম, তা আবারো বলছি। আপনি যেমনটি বললেন, তেমন সহিংসতার স্থান গণতান্ত্রিক নির্বাচনে নেই।

হিরো আলমের ওপর হামলার ঘটনায় জাতিসঙ্ঘের উদ্বেগ

ঢাকা-১৭ আসনের উপ-নির্বাচনে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলমের ওপর হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসঙ্ঘ।

মঙ্গলবার (১৮ জুলাই) ঢাকায় নিযুক্ত জাতিসঙ্ঘের আবাসিক সমন্বয়ক গুইন লুইস এক টুইট বার্তায় বলেন, ‘সহিংসতা ছাড়া নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য সবার মৌলিক মানবাধিকার নিশ্চিত ও সুরক্ষিত করতে হবে।’

যুক্তরাষ্ট্র সহিংসতার যেকোনো প্রতিবেদন অতি সূক্ষ্ণ, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে এবং সহিংসতায়যুক্ত অপরাধীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে বাংলাদেশ সরকারকে উৎসাহিত করেছে।

ঢাকা-১৭ আসনের উপ-নির্বাচনে বিজয়ী মোহাম্মদ আলী আরাফাত বলেন, ‘নির্বাচন শেষ হবার মাত্র ২০ মিনিট আগে যা ঘটল তা অনাকাঙ্ক্ষিত, আমি এর তীব্র নিন্দা জানাই।’

তিনি আরো বলেন, ‘যারা মারামারি করল, তারা আর যাই হোক নৌকার শুভাকাঙ্ক্ষী হতে পারে না। নির্বাচনকে বিতর্কিত করার উদ্দেশ্য নিয়েই এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে।’

তিনি দোষীদের গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান।

উল্লেখ্য, গত ১৭ জুলাই ঢাকা-১৭ আসনের উপ-নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলমকে বনানীতে ভোটকেন্দ্র থেকে বের হওয়ার সময় শারীরিকভাবে ‘লাঞ্ছিত’ করা হয়। এরপর বিকেলে বনানী বিদ্যানিকেতন স্কুল ভোটকেন্দ্র থেকে বের হওয়ার সময় হিরো আলমের ওপর হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফেরেন তিনি।

সূত্র : ইউএনবি

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষের বাংলাদেশ যুবাদের সিরিজ জয়

০

দু’বার পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত সফরকারী দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ জিতল বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল ক্রিকেট দল।

সোমবার (১৭ জুলাই) বোলার-ব্যাটারদের দুর্দান্ত নৈপুন্যে সিরিজের পঞ্চম ও শেষ ওয়ানডেতে বাংলাদেশ ৩ উইকেটে হারিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকাকে। এর মাধ্যমে ৩-২ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে বাংলাদেশের যুবারা।

সিরিজের প্রথম ওয়ানডে বৃষ্টি আইনে ১০ রানে ও তৃতীয়টি ৪ উইকেটে জিতেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। দ্বিতীয় ওয়ানডে ১৪ রানে ও চতুর্থটিতে ৪ উইকেটে জয় পায় বাংলাদেশ। ফলে পঞ্চম ও শেষ ওয়ানডেটি সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচ হয়ে দাঁড়ায়।

জিতলেই সিরিজ জয়, এমন সমীকরণকে সামনে রেখে রাজশাহীর শহীদ কামরুজ্জামান স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে বল করতে নামে বাংলাদেশ। ব্যাটিংয়ে নামা দক্ষিণ আফ্রিকার দুই ওপেনারকে ১৮ রানের মধ্যে শিকার করে বাংলাদেশকে দারুণ শুরু এনে দেন পেসার রিজান হোসেন।

শুরুর ধাক্কা সামলে ৩ উইকেটে ১০১ রান তুলে লড়াইয়ে ফিরে দক্ষিণ আফ্রিকা। কিন্তু পরে বাংলাদেশের বোলারদের তোপে ৪৯.৪ ওভারে ২১০ রানে অলআউট হয় সফরকারীরা। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৬৩ রান করেন তিন নম্বরে নামা ডেভিড টিগার।

বাংলাদেশের অধিনায়ক মাহফুজুর রহমান রাব্বি তিনটি, রিজান-রোহানাত দৌলা বর্ষন-রাফি উজ্জামান রাফি দু’টি করে এবং আরিফুল ইসলাম একটি উইকেট নেন।

জবাবে দলকে ৪০ রানের সূচনা এনে দেন বাংলাদেশের দুই ওপেনার আদিল বিন সিদ্দিক ও রিজওয়ান। জুটিতে ১৩ রান করে ফিরেন রিজওয়ান। তিন নম্বরে নেমে ৩ রান করেন রিজান।

৪৮ রানে ২ উইকেট পতনের পর দলের হাল ধরেন আদিল ও আরিফুল। তৃতীয় উইকেটে ৮৭ রান যোগ করেন তারা। হাফ-সেঞ্চুরি তুলে ৫৮ রানে আউট হন আদিল।

মিডল অর্ডার ব্যাটাররা বড় ইনিংস খেলতে না পারলেও হাফ-সেঞ্চুরি তুলে ৬৮ রানে আউট হন আরিফুল। দলীয় ১৮৯ রানে সপ্তম ব্যাটার হিসেবে আউট হন তিনি।

অষ্টম উইকেটে অবিচ্ছিন্ন ২২ রান যোগ করে ১৭ বল বাকি থাকতে বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত করেন অধিনায়ক রাব্বি এবং রাফি। রাব্বি ১৫ ও রাফি ৭ রানে অপরাজিত থাকেন। ম্যাচ সেরা হন আরিফুল ও সিরিজ সেরা হন রাফি।
সূত্র : বাসস

আ.লীগের আমলে গণমাধ্যম ও সাংবাদিকরা বেশি নির্যাতিত : রিজভী

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের আমলে গণমাধ্যম ও সাংবাদিকরা বেশি নির্যাতিত বলে সরকারের কঠোর সমালোচনা করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেন, সাংবাদিক ও গণমাধ্যম হলো গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় চালিকা শক্তি। তারাই আজ নির্যাতিত-নিপীড়িত। তাদের অনেকেই কোনো অপরাধ ছাড়াই মাসের পর জেল খাটছে।

সোমবার দুপুরে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) দিনকাল ইউনিট আয়োজিত মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, নিশিরাতের সরকার যত দিন ক্ষমতায় থাকবে, তত দিন গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ফিরবে না। ফিরবে না মত প্রকাশের স্বাধীনতা। বন্ধ হবে না সাংবাদিক হত্যা ও নির্যাতন।

এ সময় তিনি অবিলম্বে দৈনিক দিনকাল ও দিগন্ত টিভিসহ বন্ধ সকল গণমাধ্যম খুলে দেয়ার দাবি জানান।

মানববন্ধনে সাংবাদিক নেতারা বিএনপি ঘোষিত সরকার পতনের এক দফা আন্দোলন সমর্থন করেন।

উল্লেখ্য, দৈনিক দিনকালসহ বন্ধ সকল গণমাধ্যম খুলে দেয়ার দাবিতে এই মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) দিনকাল ইউনিট।

সেখানে ডিইউজের সহ-সভাপতি রাশেদুল হকের সভাপতিত্বে ও সাংগঠনিক সম্পাদক সাঈদ খানের পরিচালনায় আরো বক্তব্য দেন বিএনপির স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, সাংবাদিক নেতা রুহুল আমিন গাজী, এম এ আজিজ, এম আবদুল্লাহ, নুরুল আমিন রোকন, কাদের গণি চৌধুরী, সৈয়দ আবদাল আহমদ, আমিরুল ইসলাম কাগজী, শহীদুল ইসলাম, এম খুরশিদ আলম, এলাহী নেওয়াজ খান সাজুসহ বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের এক দফা দাবিতে সুপ্রিম কোর্টে আইনজীবীদের বিক্ষোভ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগের এক দফা এক দাবিতে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন আইনজীবীরা।

সোমবার (১৭ জুলাই) সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে সরকার বিরোধী বিভিন্ন আইনজীবী সংগঠনের সমন্বয়ে নবগঠিত মোর্চা ইউনাইটেড ল’ইয়ার্স ফ্রন্টের (ইউএলএফ) উদ্যোগে অনুষ্ঠিত সমাবেশ ও মিছিলে কয়েক শ’ আইনজীবী অংশ নেন।

ইউএলএফের আহ্বায়ক ও সুপ্রিম কোর্ট বারের সাবেক সভাপতি জয়নুল আবেদীনের সভাপতিত্বে আইনজীবী সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ফ্রন্টের কো-কনভেনর সুব্রত চৌধুরী, মোহাম্মদ মহসিন রশিদ, এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, এ কে এম. জগলুল হায়দার আফ্রিক, শেখ জুলফিকার বুলবুল, সৈয়দ মামুন মাহবুব, ড. গোলাম রহমান ভুইয়া প্রমুখ। সভা সঞ্চালনা করেন ইউএলএফের সমন্বয়ক গাজী কামরুল ইসলাম সজল।

সভায় উপস্থিত ছিলেন এসসিবিএ এডহক কমিটির সদস্য সচিব শাহ আহমেদ বাদল, বারের সাবেক সম্পাদক বদরুদ্দোজা বাদল, সাবেক সম্পাদক ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় নেতা ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, আইনজীবী আবেদ রাজা, মনির হোসেন, মোহাম্মদ আলী, মো: আক্তারুজ্জামান, কামরুজ্জামান মামুন, সগীর হোসেন লিওন, সুপ্রিম কোর্ট বারের সাবেক ট্রেজারার মো: কামাল হোসেন, সাবেক সহ-সম্পাদক মাহবুবুর রহমান খান, রেজাউল করীম রেজা, মাহমুদ হাসান, শামীমা সুলতানা দিপ্তী, সৈয়দ মো: তাজরুল হোসেন, মো: জহিরুল ইসলাম সুমন, মো: মাসুদুল আলম দোহা, শেখ মোহাম্মদ আলী, আনিসুর রহমান রায়হান, মো: মাকসুদ উল্লাহ, মো: কাইয়ুমসহ কয়েক শ’ আইনজীবী।

সভায় সভাপতির বক্তব্যে জয়নুল আবেদীন বলেন, শেখ হাসিনার পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত আইনজীবীদের এই আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, যে সরকার সুপ্রিমকোর্ট বার সমিতির নির্বাচন ভন্ডুল করে সেই সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হতে পারে না।

ফ্রন্টের কো-কনভেনর সুব্রত চৌধুরী বলেন, দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে। চোর, মহাচোর, ভোট চোরদের দেশের মানুষ আর দেখতে চায় না।

ফ্রন্টের সিনিয়র সদস্য মোহাম্মদ মহসিন রশিদ বলেন, এই মুহূর্তে দেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকার দরকার, ঢাকা-১৭ আসনের নির্বাচন এটা আবারো প্রমাণ করেছে। এই সরকারের অধীনে কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে না। এজন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার দরকার।

এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, যারা দেশের ব্যাংক লুট করে খালি করে দিয়েছে তারই শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী চায়। জনগণ চায় না। জনগণ চায় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন।

সভায় আইনজীবী নেতারা বিএনপিসহ সকল বিরোধী দল আয়োজিত আগামী ১৮ ও ১৯ জুলাই অনুষ্ঠিতব্য পদযাত্রায় সংহতি প্রকাশ করেন এবং পদযাত্রায় যোগদান করবেন বলে জানান।

ভোটকেন্দ্রের বাইরে হিরো আলমকে মারধর : হাসপাতালে ভর্তি

ঢাকা-১৭ আসনের উপনির্বাচনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আশরাফুল হোসেন আলম ওরফে হিরো আলমকে ভোটকেন্দ্রের বাইরে কিছু দুর্বৃত্ত মারধর করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সোমবার (১৭ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে রাজধানীর বনানী বিদ্যানিকেতন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভোটকেন্দ্র পরিদর্শনে গেলে এ হামলার শিকার হন তিনি।

আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচনে হিরো আলমের প্রধান সমন্বয়ক মো: ইলিয়াস।

তিনি জানান, বিকেল ৩টা ১০ মিনিটে রাজধানীর বনানী বিদ্যানিকেতন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভোটকেন্দ্র পরিদর্শনে গেলে এ ঘটনা ঘটে। এরপর রামপুরায় বেটার লাইফ হাসপাতালে নেয়া হয় হিরো আলমকে। চিকিৎসা চলছে।

সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এ সংক্রান্ত ভিডিওতে দেখা যায়, একদল লোক হিরো আলমকে মারধর করছে এবং ‘ভুয়া, ভুয়া’ বলে তাকে ধাওয়া করা হয়। এ সময় তিনি দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, হিরো আলমের ওপর হামলার পর পুলিশ হামলাকীরদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

তবে এ ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এর আগে, সকাল ৮টায় ভোট শুরুর দু’ঘণ্টার মাথায়ই হিরো আলম অভিযোগ করেন, কেন্দ্রগুলো থেকে তার এজেন্টদের বের করে দেয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, এই নির্বাচন সুষ্ঠু হবে কি না জানি না। তবে এখন পর্যন্ত আমাদের এজেন্টদের বের করে দেয়া হচ্ছে। আমার সাথে কয়েকজন এজেন্ট আছে, তাদেরও বের করে দেয়া হয়েছে। তাদের মোবাইল কেড়ে নেয়া হয়েছে।

মানি লন্ডারিং মামলায় জি কে শামীমের ১০ বছরের কারাদণ্ড

মানিলন্ডারিং আইনে ঠিকাদার এস এম গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জি কে শামীমের ১০ বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

বাকি সাত আসামির প্রত্যেকে চার বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন। তারা হলেন মো: দেলোয়ার হোসেন, মো: মোরাদ হোসেন, মো: জাহিদুল ইসলাম, মো: শহীদুল ইসলাম, মো: কামাল হোসেন, মো: সামসাদ হোসেন ও মো: আনিছুল ইসলাম।

সোমবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-১০ এর বিচারক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন।

সংশ্লিষ্ট আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজাদ রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে ১৫ জুন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-১০ এর বিচারক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে রায় ঘোষণার জন্য ২৫ জুন দিন ধার্য করেন। গত ২৫ জুন মামলার রায় ঘোষণা ও অধিকতর যুক্তি উপস্থাপনের জন্য দিন ধার্য ছিল। এদিন আসামিপক্ষের আইনজীবী অধিকতর যুক্তি উপস্থাপন করেন।

এরপর ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-১০ এর বিচারক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম মামলার রায় ঘোষণা ১৭ জুলাই নতুন দিন ধার্য করেন।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ২০ সেপ্টেম্বর সাত সশস্ত্র দেহরক্ষীসহ জি কে শামীমকে তার কার্যালয় থেকে আটক করে র‍্যাব। সেখান থেকে এক কোটি ৮০ লাখ টাকা, নয় হাজার ইউএস ডলার, ৭৫২ সিঙ্গাপুরের ডলার, ১৬৫ কোটি টাকার এফডিআর, অস্ত্র, বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় পরদিন ২১ সেপ্টেম্বর গুলশান থানায় মামলাটি দায়ের করে র‌্যাব।

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টিতে সর্বকালের সেরা কূটনীতিবিদ হনুমান!

থাইল্যান্ড সফরে গিয়ে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর চমকে দিয়েছেনই বলা যায়। সেখানে গিয়ে তিনি জানালেন তার কাছে সর্বকালের সেরা কূটনীতিবিদ হলেন ভগবান বীর হনুমান। কিন্তু কেন বীর হনুমানকে সর্বকালের সেরা কূটনীতিবিদ হিসাবে উল্লেখ করলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী তার ব্যাখাও তিনি দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, ভগমান হনুমান এমন একটা দেশে গিয়েছিলেন যার সম্পর্কে তার কাছে আগে থেকে কোনো তথ্য ছিল না। এরপর তিনি সীতাকে খুঁজে বের করেন।

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আপনারা যদি আমায় প্রশ্ন করেন যে কাকে আমি সেরা কূটনীতিবিদ হিসেবে গণ্য করি? আমার উত্তর একটাই হবে লর্ড হনুমান। যে দেশে তিনি গিয়েছিলেন তার সম্পর্কে তিনি কিছুই জানতেন না। এরপর গোপন সূত্রে তিনি সীতাকে খুঁজে বের করেন।

মূলত রামায়ণের কাহিনিকে বর্ণনা করেছেন তিনি। সেইসাথেই সর্বকালের সেরা কূটনীতিবিদ হিসেবে রামভক্ত হনুমানের প্রসঙ্গ এনেছেন। আসিয়ান-ইন্ডিয়ান পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সভায় অংশ নিয়েছিলেন তিনি। বুধবার থেকে তার এই সফর শুরু হয়েছে। ওই কর্মসূচির নানা দিক তিনি টুইটের মাধ্যমে তুলে ধরেছেন।

অন্যদিকে বিদেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি। তাকে মহান দূরদৃষ্টিসম্পন্ন বলে তিনি উল্লেখ করেছেন। জয়শঙ্কর বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উল্লেখযোগ্য দিকগুলো হলো তিনি একেবারে তৃণমূলস্তরে থাকা মানুষের পালসটা খুব ভালো করে বোঝেন। এরপর সেগুলো তিনি তার পলিসির মাধ্যমে তুলে আনেন।

জয়শঙ্কর বলেন, মোদির মতো কাউকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পাওয়া এটা আমাদের দেশের বিরাট ভাগ্যের ব্যাপার। তিনি আমাদের প্রধানমন্ত্রী আর আমি তার মন্ত্রিসভার একজন সদস্য এই জন্য আমি এই কথা বলছি এমনটা নয়। বাস্তবিকই তিনি দূরদৃষ্টিসম্পন্ন ও মাটিতে পা রেখে চলেন। এই ধরনের মানুষ জীবনে একবারই আসেন। আমাদের কাছে এটা শুধু একটা সম্পর্কের ব্যাপার নয়,এটা আসলে সংস্কার ও তার সাথে জড়িয়ে থাকা দেশের পরিবর্তনের বিষয়। …তিনি জানিয়েছেন, ২০১৪ সালের পর থেকে আমাদের যোগাযোগ ব্যবস্থা, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তাবিষয়ক সম্পর্ক, অর্থনৈতিক সম্পর্ক সবগুলোই বৃদ্ধি পেয়েছে।

সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস

মুসলমানদের নিয়ে চরম সাম্প্রদায়িক মন্তব্য আসামের মুখ্যমন্ত্রীর

ভারতের উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামে আরো একবার চরম সাম্প্রদায়িক মন্তব্য করে তরিতরকারি বা ফলমূলের মূল্যবৃদ্ধির জন্য ‘মিয়াঁ মুসলিমদের’ দায়ী করেছেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা।

রাজধানী গুয়াহাটিতে সব্জির দাম কেন আকাশ ছুঁয়েছে, সাংবাদিকদের এই প্রশ্নের জবাবে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘কারা এই তরিতরকারির দাম বাড়িয়েছে, সেটা তো দেখুন! এরা সবাই হলো মিঁয়া সব্জিওয়ালা, যারা এত বেশি বেশি দাম নিচ্ছে।’

আসামের বাংলা ভাষাভাষী মুসলিম সম্প্রদায়কে বোঝাতেই এই ‘মিঁয়া’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়।

যদিও ‘মিঁয়া’ শব্দটি বেশ অবমাননামূচক অর্থেই প্রয়োগ করা হয়ে থাকে, তবে রাজ্যের বাঙালি মুসলিমরা ইদানীং নিজেদের পরিচয় ব্যক্ত করতে তাদের প্রতিবাদের ভাষা হিসেবেই এই শব্দটিকে গ্রহণ করে নিয়েছেন।

গত কয়েক বছরের মধ্যে এ কারণেই আসামের বাঙালি মুসলিমরা ‘মিঁয়াকাব্য’ নাম দিয়ে সাহিত্যচর্চা শুরু করেছেন, এমনকি তাদের নিজস্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তুলে ধরতে একটি ‘মিঁয়া মিউজিয়াম’ খোলারও চেষ্টা হয়েছে।

কিন্তু আসামে ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার যে এই ‘মিঁয়া’দের আসামের অংশ হিসেবে মনে করে না, মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা সেটা বারবারেই বুঝিয়ে দিয়েছেন।

তরিতরকারির দাম নিয়ে তার সাম্প্রতিক মন্তব্য এই তালিকাতেই সর্বশেষ সংযোজন। বিবিসি হিন্দি বিভাগই মুখ্যমন্ত্রীর এই বিতর্কিত মন্তব্য সর্বপ্রথম রিপোর্ট করেছে।

মুখ্যমন্ত্রী ওই দিন আরো দাবি করেছেন, গুয়াহাটিতে সব্জিওলারা ‘মিঁয়া’ বলেই তারা অসমিয়াঁদের থেকে এত বেশি দাম নিচ্ছেন, অসমিয়াঁরাও যদি সব্জি বেঁচতেন, তাহলে কখনোই এত দাম নিতেন না।

ঠিক কী বলেছেন হিমন্ত?
দিন কয়েক আগে অল ইন্ডিয়া ইউনাইটেড ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্টের নেতা ও ধুবড়ি থেকে নির্বাচিত লোকসভা এমপি বদরুদ্দিন আজমল বলেছিলেন, ‘মিঁয়া সম্প্রদায়কে ছাড়া আসাম অসম্পূর্ণ।’

সংবাদমাধ্যমের কাছে ওই প্রসঙ্গ টেনে এনে আসামের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এই ধরনের মন্তব্য করে বদরুদ্দিন আজমল আসলে অসমিয়া সম্প্রদায়কেই অপমান করেছেন।’

বস্তুত মিঁয়া মুসলিমদের তিনি যে আসামের অংশই মনে করেন না, সেটা বোঝাতে হিমন্ত বিশ্বশর্মা কোনো রাখঢাকই করেননি।

এরপরই যখন তার কাছে তরিতরকারির অগ্নিমূল্য নিয়ে জানতে চাওয়া হয়, তিনি সরাসরি তার দায় চাপিয়ে দেন ‘মিঁয়া’ সব্জিওলাদের ওপর। বলেন, এই মিঁয়া মুসলিমরাই বেশি বেশি দাম নিচ্ছেন।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘গ্রামের দিকে তরিতরকারির দাম বেশ কম। অথচ গুয়াহাটিতে এই মিঁয়ারা অসমিয়াদের থেকে চড়া দাম হাঁকছেন। আজ যদি অসমিয়ারা সব্জি বেঁচতেন, তাহলে সহ-নাগরিক অসমিয়াদের থেকে কখনোই বেশি দাম নিতেন না।’

গুয়াহাটি শহরে বিভিন্ন ফ্লাইওভারের নিচে অস্থায়ী সব দোকান থেকে মিঁয়ারা যে সব্জি ও ফলমূল বেঁচেন, তিনি নিজে তদারকি করে সেগুলো উচ্ছেদের ব্যবস্থা করবেন বলেও জানান হিমন্ত বিশ্বশর্মা।

তিনি বলেন, ‘এতে করে আমাদের ‘অসমিদেয়া ছেলে’দের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে।’

গত মাসে বকরি ঈদের সময় গুয়াহাটিতে গণপরিবহন ব্যবস্থা যে ভেঙে পড়েছিল, তার জন্যও তিনি মুসলিম গাড়ি-চালকদের দায়ী করেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই দেখেছি ঈদের সময় গুয়াহাটিতে বাস চলাচল কিভাবে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। রাস্তায় ভিড়ভাট্টাও একদম ছিল না।’

এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, আশি শতাংশ বাস-চালক ও সত্তর শতাংশ উবার-ওলার মতো ক্যাব ড্রাইভাররা সবাই ‘মিঁয়া’ বলেই ওই অবস্থা হয়েছিল।

মুখ্যমন্ত্রী বুঝিয়ে দেন, সরকার চায়, ‘অসমিয়া যুবক’রাই এই ধরনের কাজে আরো বেশি করে এগিয়ে আসুক, যেন মুসলিমদের ধর্মীয় উৎসবের সময় রাজধানী আবার অচল না-হয়ে পড়ে।

ওয়াইসি, আজমলের প্রতিবাদ
হিমন্ত বিশ্বশর্মার ওই বিতর্কিত মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় মুসলিম রাজনীতিবিদরা। তারা অভিযোগ করছেন, মুখ্যমন্ত্রী আসলে আসামে বিভাজনের রাজনীতি করছেন।

হায়দ্রাবাদের এমপি তথা এআইএমআইএম নেতা আসাদউদ্দিন ওয়াইসি টুইট করেছেন, ‘ভারতে একদল লোক আছেন, যারা তাদের বাড়িতে মোষ দুধ না-দিলে বা মুরগি ডিম না-পাড়লেও মিঁয়াদের দায়ী করে থাকেন।’

সেই সাথেই মিশরে বা সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রধানমন্ত্রী মোদির সাম্প্রতিক সফরের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি পরামর্শ দিয়েছেন, ‘আজকাল তো মোদিজির সাথে বিদেশী মুসলিমদের খুব দোস্তি, তো ওদেরকেই বলুন না টমেটো, আলু, পালংশাক পাঠাতে!’

এআইইউডিএফ নেতা বদরুদ্দিন আজমল আবার প্রশ্ন তুলেছেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী গুয়াহাটিকে মিঁয়া-মুক্ত করার কথা বলছেন, ওখানে তাদের শাকসব্জি বেঁচতে দেবেন না বলে ঘোষণা করছেন। একটি রাজ্য সরকারের প্রধান কিভাবে এ ধরনের কথা বলতে পারেন?’

মুখ্যমন্ত্রীর এই ‘বিভেদমূলক বক্তব্যে’র কারণে যদি ‘অসমিয়া ভাই’ আর মুসলিমদের মধ্যে ‘কোনো ঘটনা ঘটে যায়’, তাহলে হিমন্ত বিশ্বশর্মাই সরাসরি তার জন্য দায়ী থাকবেন বলেও হুঁশিয়ারি দেন আজমল।

শাকসব্জির দাম মিঁয়ারা বাড়াননি বলেও দাবি করেন তিনি। একইসাথে বলেন, ‘অসমিয়া যুবকরা এই পেশায় আসুক, এটা তো খুব ভালো প্রস্তাব।’

বদরুদ্দিন আজমল মন্তব্য করেন, ‘কিন্তু তারা কি চাষবাস করতে পারবে? যে ধরনের কঠিন পরিশ্রম এতে লাগে, আমার তো মনে হয় না অসমিয়ারা তা পারবে বলে!’

বরপেটার কংগ্রেস এমপি আবদুল খালেক এ প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘আসামে সাম্প্রতিক ও জাতিগত দাঙ্গা বাঁধানোর জন্য মুখ্যমন্ত্রী নিজেই ক্রমাগত উসকানি দিয়ে চলেছেন!’

মিঁয়া মুসলিমদের বিরুদ্ধে হিমন্ত বিশ্বশর্মার এ ধরনের প্রকাশ্য আক্রমণ অবশ্য কোনো নতুন ঘটনা নয়।

গত বছর রাজ্যের গোয়ালপাড়া জেলায় মিঁয়াদের একটি নিজস্ব সংগ্রহশালা উদ্বোধনের দু’দিনের ভেতরেই আসাম সরকার সেটি সিল করে দেয় এবং তার প্রধান উদ্যোক্তা, অল আসাম মিঁয়া পরিষদের প্রেসিডেন্ট মোহর আলিকে গ্রেফতার করে।

হিমন্ত বিশ্বশর্মা তখন বলেছিলেন, ‘চাষের লাঙলকে কিভাবে মিঁয়ারা নিজেদের আইডেন্টিটি হিসেবে দাবি করতে পারে? এক লুঙ্গি ছাড়া আর কোনওটাই তাদের নিজেদের জিনিস নয়!’

সূত্র : বিবিসি