পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, শান্তিতে নোবেলজয়ী হয়েও ড. ইউনূস ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলি হত্যাযজ্ঞে নিশ্চুপ রয়েছেন। আর একজন ইসরায়েলির দেওয়া পুরস্কার নিয়েছেন। এটা করে তিনি প্রকারান্তরে গণহত্যায় সমর্থন দিয়েছেন। ইউনূস সেন্টার এটিকে ইউনেস্কোর পুরস্কার বলে মিথ্যাচার করছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, আমি ড. ইউনূসের প্রতি যথাযথ সম্মান ও শ্রদ্ধা রেখেই বলছি, ইউনূস সেন্টারের মিথ্যাচারে আমি বিস্ময়ে হতবাক। স¤প্রতি আজারবাইজানের বাকুতে একটি সম্মেলনে মিজ হেদভা সের নামে একজন ভাস্কর, যিনি ইসরায়েলি নাগরিক, তিনি ড. ইউনূসকে একটি পুরস্কার দিয়েছেন। এই পুরস্কার ইউনেস্কোর পক্ষ থেকে তো নয়ই, একজন ব্যক্তির পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে। ইউনূস সেন্টার যেটিকে ইউনেস্কোর পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে বলে মিথ্যা ও অপপ্রচার করেছে। তবে এটি প্রথম নয়, এর আগেও এ ধরনের মিথ্যাচার ইউনূস সেন্টারের পক্ষ থেকে করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘ড. ইউনূস শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন। কিন্তু গাজায় আজ নির্বিচারে মানুষ হত্যা করা হয়েছে, নারী ও শিশুদের হত্যা করা হয়েছে। এটি নিয়ে তিনি একটি শব্দও উচ্চারণ করেননি বা প্রতিবাদ করেননি। বরং এই সময়ে তিনি একজন ইসরায়েলির কাছ থেকে পুরস্কার গ্রহণ করেছেন।
সীমান্ত হত্যার প্রতিবাদ : এ সময় ২৫ মার্চ মধ্যরাতে লালমনিরহাট ও ২৬ মার্চ ভোরে নওগাঁ সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের গুলিতে দুই বাংলাদেশি নিহতের ঘটনায় বিজিবির মাধ্যমে প্রতিবাদ জানানো এবং সীমান্তে ফ্ল্যাগ মিটিংও হয়েছে বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান।
তিনি বলেন, আপনারা জানেন অনেকদিন ধরেই আমরা ভারতের সঙ্গে এ বিষয়টি আলোচনা করে আসছি। স¤প্রতি ভারত সফরের সময়ও দ্বিপাক্ষিক বৈঠকগুলোতে এ বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি। সেই প্রেক্ষিতে সীমান্তে এখন বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নন-লেথাল বা প্রাণঘাতী নয় এমন অস্ত্র ব্যবহার করা হয়। রাবার বুলেটে অনেকে আহত হন, কিন্তু প্রাণহানি কমে এসেছে। তবে আমাদের লক্ষ্য প্রাণহানিকে শূন্যের কোঠায় নিয়ে আসা।
নাবিক ও জাহাজ উদ্ধারে নানামুখী তৎপরতা ও যোগাযোগ অব্যাহত : সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, সোমালি জলদস্যুদের কবল থেকে বাংলাদেশি জাহাজ এমভি আব্দুল্লাহর নাবিকদের নিরাপদে উদ্ধার ও জাহজকে মুক্ত করাই আমাদের মূল উদ্দেশ্য। তিনি বলেন, জাহাজ সম্পর্কে শুধু এটুকু বলতে চাই, নাবিকদের মুক্ত করার জন্য আমরা তাদের সঙ্গে যোগাযোগে আছি। নানামুখী তৎপরতা চালাচ্ছি এবং আমাদের উদ্দেশ্য হলো নাবিকদের নিরাপদে উদ্ধার করা। জাহাজ উদ্ধার করা। আমরা অনেক দূর এগিয়েছি।
এক ইসরাইলির পুরস্কার গ্রহণ করে ড. ইউনূস গণহত্যার পক্ষ নিয়েছেন: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তৎপরতার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
এলডিসি থেকে উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তৎপর হওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই সঙ্গে এ প্রক্রিয়ায় কী কী সুবিধা পাওয়া যাবে সেগুলো নিয়েও তৎপরতার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। এ ছাড়া যেসব প্রকল্প শেষ পর্যায়ে আছে, দ্রæত অর্থ ছাড় করে সেগুলো সমাপ্ত করার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
গতকাল শেরেবাংলানগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে তিনি এ নির্দেশনা দেন। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা। সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী মেজর জেনারেল (অব.) আবদুস সালাম ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. শহীদুজ্জামান সরকার সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানান। এ সময় পরিকল্পনা বিভাগের সচিব সত্যজিৎ কর্মকার ও পরিকল্পনা কমিশনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
একনেক সভায় ১১টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সেগুলো বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হবে ৮ হাজার ৪২৫ কোটি ৫১ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ৭ হাজার ৯৩৯ কোটি ৮৭ লাখ এবং প্রকল্প ঋণ থেকে পাওয়া যাবে ৪৮৫ কোটি ৬৪ লাখ টাকা।
প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়ে বলেন, ২০২৬ সালে বাংলাদেশ এলডিসি তালিকা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর কী সুবিধা মিলবে আর কী চ্যালেঞ্জ আসবে সেগুলো নিয়ে এখন থেকেই তৎপর থাকতে হবে। এ ছাড়া যেসব প্রকল্প শেষ পর্যায়ে আছে, দ্রæত অর্থ ছাড় করে সেগুলো সমাপ্ত করার নির্দেশনা দেন তিনি।
একনেক সভায় মিসরে চ্যান্সারি হাউস নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সেখানে প্রবাসীদের সেবাদানের জন্য বুথ ও অপেক্ষার জায়গা রাখার জন্য বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া দেশের সব জেলায় ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স নির্মাণ প্রকল্পও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ প্রকল্পের কাজ দ্রæত শেষ করার পাশাপাশি সেখানে বৃষ্টির পানি ধরে রাখার ব্যবস্থা রাখার নির্দেশ দেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, তাঁত বোর্ডের নতুন কমপ্লেক্সে নারীদের প্রশিক্ষণের বিশেষ ব্যবস্থা রাখতে হবে। সেই সঙ্গে কুড়িগ্রামের সব উপজেলার নদী ভাঙন রোধ, রাস্তাঘাট নির্মাণে ভাঙনের ঝুঁকি মাথায় রেখে কাজ করতে নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।
একনেক সভায় অনুমোদিত অন্য প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে : বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য ২০টি মিটারগেজ ডিজেল ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ এবং ১৫০টি মিটারগেজ যাত্রীবাহী ক্যারেজ সংগ্রহ (প্রথম সংশোধিত), কাশিনাথপুর-দাশুরিয়া-নাটোর-রাজশাহী-নবাবগঞ্জ-কানসাট-সোনামসজিদ-বালিয়াদিঘী বর্ডার (এন-০৬) জাতীয় মহাসড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ (নবাবগঞ্জ অংশ), বিদ্যমান সরকারি মৎস্য খামারগুলোর সক্ষমতা ও মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় অবকাঠামো উন্নয়ন (প্রথম পর্যায়), ইমপ্রুভমেন্ট অব ফিশ ল্যান্ডিং সেন্টার অব বাংলাদেশ ফিশারিজ ডেভেলপমেন্ট করপোরেশন ইন কক্সবাজার ডিস্ট্রিক্ট প্রকল্প, বৃহত্তর রংপুর অঞ্চলের জেলাগুলোর পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প, আট বিভাগীয় শহরে পূর্ণাঙ্গ ক্যান্সার, হৃদরোগ এবং কিডনি চিকিৎসা কেন্দ্র স্থাপন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ (প্রথম সংশোধিত) ইত্যাদি।
১৮ মাস পর বিএনপি-জামায়াত একসঙ্গে ইফতার
দীর্ঘ ১৮ মাস পর একসঙ্গে দেখা গেল বিএনপি ও তাদের এক সময়ের জোটসঙ্গী জামায়াতে ইসলামীকে। গতকাল রাজধানীর ইস্কাটন লেডিস ক্লাবে বিএনপি আয়োজিত ইফতারে এক টেবিলে বসেন দুই দলের নেতারা। তার আগে একই মঞ্চে ভাষণ দেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
এ ছাড়া সংসদের বিরোধী দল- জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা খলিলুর রহমান ও পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন ভূঁইয়াসহ ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, গণতন্ত্র মঞ্চ, ১২-দলীয় জোট, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট নেতারা অংশ নেন।
রাজনৈতিক নেতা ও বিশিষ্টজনদের সম্মানে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমরা অত্যন্ত কঠিন সময় অতিক্রম করছি। আমাদের সব রাজনৈতিক দলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়া দরকার। আমরা যারা গণতন্ত্র চাই, যারা চাই কল্যাণমূলক দেশ, তাদের অবশ্যই ৩১ দফা সামনে রেখে আন্দোলন করতে হবে। এক দফা আন্দোলন যে শুরু করেছিলাম, ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে তা শেষ করতে হবে। জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এই সংগ্রামে ভেদাভেদ বা বিরোধ নয়, মানুষের মুক্তির জন্য আসুন ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন চালিয়ে যাই; বিজয় আমাদের হবেই। নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, রাজনৈতিকভাবে মানুষ সংঘবদ্ধ। আরও বেশি ঐক্য করে, আরও বেশি আন্দোলনে যাব। বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান বলেন, আমাদের আন্দোলনের একটি পর্যায় অতিক্রম করেছি। আমরা ঐক্যে বিশ্বাস করি। ঐক্যবদ্ধভাবে আমরা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করব। স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান বলেন, আমরা গভীর সংকটে আছি। কৌশল ও নীতিগত পরিবর্তনের মাধ্যমে আমরা আন্দোলন গড়ে তুলে এই সরকার হটাব। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন চৌধুরী, শামসুজ্জামান দুদু, অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, আহমেদ আযম খান, কেন্দ্রীয় নেতা ডা. শাহেদা রফিক, বিজন কান্তি সরকার, শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, মাহবুব উদ্দিন খোকন, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, জহির উদ্দিন স্বপন, আবদুস সালাম আজাদ, সেলিম ভুইয়াসহ গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, জেএসডি সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) আহসান হাবিব লিংকন, এবি পার্টির আহŸায়ক এ বি এম সোলায়মান চৌধুরী, বিকল্প ধারার আহŸায়ক অধ্যাপক নুরুল আমিন বেপারী, এনডিএমের ববি হাজ্জাজ, সমমনা জোটের নেতা খন্দকার লুৎফুর রহমান, ইসলামী আন্দোলনের অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন্দ, গণতান্ত্রিক বাম ঐক্যের সমন্বয়ক হারুন চৌধুরী, জাগপার একাংশের সভাপতি খন্দকার লুৎফর রহমান, বিএফইউজে (একাংশ) সভাপতি রুহুল আমিন গাজী, জাতীয় দলের সৈয়দ এহসানুল হুদা, জমিয়তের মহিউদ্দিন ইকরাম, গণঅধিকার পরিষদের একাংশের ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব ফারুক হাসান, অপরাংশের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান, লেবার পার্টির মোস্তাফিজুর রহমান ইরান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। ইফতারের আগে দোয়া পরিচালনা করেন ওলামা দলের মাওলানা শাহ মো. নেছারুল হক।
শুভ জন্মদিন বাংলাদেশ জয় বাংলা, বললেন লু
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ভিত্তি স্থাপনে বাংলাদেশি আমেরিকানদের অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লু। বাংলাদেশের ৫৪তম স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে ২৬ মার্চ সন্ধ্যায় ওয়াশিংটন ডিসিতে বাংলাদেশ দূতাবাস আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে ডোনাল্ড লু এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ ইমরান।
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি আমেরিকানের কথা উল্লেখ করে ডোনাল্ড লু বলেন, তাদের শক্তি এবং কঠোর পরিশ্রম আমাদের দুটি মহান জাতির মধ্যে সম্পর্কের ভিত্তি তৈরি করেছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশি আমেরিকানরা দুই দেশের সম্পর্ক জোরদারে যেভাবে কাজ করে যাচ্ছেন তার জন্য আমরা গর্বিত। এ প্রসঙ্গে ডোনাল্ড লু বাংলাদেশি আমেরিকান উদ্যোক্তাদের কথা উল্লেখ করেন যারা তাদের অনন্য উদ্ভাবনী শক্তি ও ধারণার মাধ্যমে বিভিন্ন ক্ষেত্রে দক্ষতা অর্জন করেছেন। ‘শুভ জন্মদিন বাংলাদেশ, জয় বাংলা’ বলে বক্তব্য শেষ করেন মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী। রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ ইমরান তার স্বাগত বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়। সবার সমৃদ্ধির জন্য একটি মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে। পরে মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত যৌথভাবে অতিথিদের উপস্থিতিতে কেক কাটেন। অনুষ্ঠানে ইউএস স্টেট ডিপার্টমেন্টের ফরেন মিশন অফিস ডিরেক্টর রেবেকা গঞ্জালেস, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিকবৃন্দ, মার্কিন সরকার, ইউএসএআইডিসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত মুহাম্মদ জিয়াউদ্দিন, প্রধানমন্ত্রীর সাবেক মুখ্যসচিব ড. আহমদ কায়কাউসসহ উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশিরা অনুষ্ঠানে ছিলেন। এ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বাণী পাঠ করে শোনানো হয়। পরে বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
চলে গেলেন নোবেলজয়ী কাহনেম্যান
নোবেল পুরস্কার বিজয়ী মনোবিজ্ঞানী ড্যানিয়েল কাহনেম্যান ৯০ বছর বয়সে মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বিবিসি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটি ড্যানিয়েল কাহনেম্যানের মৃত্যুর কথা ঘোষণা করেছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি ১৯৯৩ সাল থেকে কাজ করছিলেন।
কাহনেম্যান ১৯৩৪ সালে ফিলিস্তিনের (বর্তমান ইসরাইলের) তেল আবিবে জন্মগ্রহণ করেন। জীবনের বেশিরভাগ সময় তিনি নাৎসি-অধিকৃত ফ্রান্সে কাটিয়েছেন। সেখানে তার বাবা একটি রাসায়নিক কারখানায় গবেষণার প্রধান হিসাবে কাজ করতেন। ইসরাইল রাষ্ট্র সৃষ্টির ঠিক আগে ১৯৪৮ সালে কাহনেম্যানের পরিবার ব্রিটিশ শাসিত ফিলিস্তিনে ফিরে আসে।
১৯৫৪ সালে ইসরাইলের জেরুজালেমে হিব্রæ ইউনিভার্সিটি থেকে কাহনেম্যান মনস্তত্ত¡বিদ্যায় স্নাতক সম্পন্ন করেন। পরে তিনি ইসরাইলের প্রতিরক্ষা বাহিনীতে যোগ দেন। সেখানে সেনা নিয়োগে মানসিকতা যাচাই করতে তিনি বিশেষ ব্যবস্থা তৈরি করেন।
পরে আমেরিকার বার্কলেতে ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফর্নিয়া থেকে পিএইচডি করার পরে ফের হিব্রæ ইউনিভার্টিসিতে যোগ দেন অধ্যাপক হিসাবে। ২০১১ সালে কাহনেম্যানের বিখ্যাত বই ‘থিংকিং ফাস্ট অ্যান্ড স্লো’ প্রকাশিত হয়।
মানুষের অভ্যাস, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ধরন কীভাবে ব্যয় এবং তার হাত ধরে অর্থনীতিকে প্রভাবিত করে (বিহেভেরিয়াল ইকনমিক্স) তা নিয়ে গবেষণা করেছেন কাহনেম্যান। বিশেষত অনেক কিছুই না জেনে কীভাবে একজন সিদ্ধান্ত নেন বা নেন না, কেমন আয়ের মানুষ বেশি খুশি থাকেন-এসব ঘিরেই আবর্তিত ছিল তার কাজ। আর এটিই পাল্টে দিয়েছে অর্থনীতি সম্পর্কে বহু চিরাচরিত ধ্যান-ধারণাকে। ‘প্রসপেক্ট থিয়োরি’ (অনিশ্চয়তার মধ্যে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া) নিয়ে গবেষণার জন্য ২০০২ সালে তিনি নোবেল পান।
ফিলিস্তিনিদের জন্য জাতিসংঘে পুনরায় অর্থায়ন শুরু করবে জাপান
ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য জাতিসংঘের ত্রাণ ও শরণার্থীবিষয়ক সংস্থায় (ইউএনআরডবিøউএ) পুনরায় অর্থায়ন চালু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে জাপান।
বৃহস্পতিবার টোকিওতে ইউএনআরডবিøউএপ্রধান ফিলিপ লাজারিনীর সঙ্গে জাপানের মন্ত্রী ইয়োকো কামিকাওয়ার সাক্ষাতের পর দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে। খবর আল জাজিরার।
বিবৃতিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘জাপান এবং ইউএনআরডবিøউএ নিশ্চিত করেছে, ফিলিস্তিনিদের জন্য জাতিসংঘের সাহায্য সংস্থাতে জাপানের অবদান পুনরায় শুরু করার প্রয়োজনীয় প্রচেষ্টার বিষয়ে চূড়ান্ত সমন্বয়ের বিষয়টি এগিয়ে নেবে।’
জাপানি মিডিয়া রিপোর্টে বলা হয়েছে, গত জানুয়ারিতে স্থগিত করা তহবিল পুনরায় চালু করা হবে। এপ্রিলের প্রথমার্ধে অর্থায়ন শুরু করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
চলতি মাসে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, সুইডেন এবং অন্যান্য দেশ জাতিসংঘে ফিলিস্তিনিদের জন্য আবার তাদের সাহায্য শুরু করছে।
এর আগে ইসরাইল অভিযোগ জানিয়েছিল, গত ৭ অক্টোবর ইসরাইলে হামাসের অভিযানে ইউএনআরডবিøউএর কয়েকজন কর্মী জড়িত ছিল। ইসরাইলের এই অভিযোগের পর ব্রিটেন, জার্মানি, ইতালি, নেদারল্যান্ডস, সুইজারল্যান্ড, ফিনল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, কানাডাসহ ইউরোপের অনেক দেশ ইউএনআরডবিøউএতে তাদের সাহায্য স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছিল।
কেজরিওয়াল ইস্যুতে এবার জড়াল জাতিসংঘ
জার্মানি, যুক্তরাষ্ট্রের পর এবার দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের গ্রেফতারের বিষয়ে কথা বলেছেন জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র।
বৃহস্পতিবার রাতে জাতিসংঘের সেক্রেটারি জেনারেল অ্যান্তোনিও গুতেরেসের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিকও জানান, তাদের আশা, ভোটের সময় অন্য দেশের মতো ভারতেও রাজনৈতিক ও নাগরিক সমাজের প্রত্যেকের অধিকার রক্ষিত হবে, যাতে সবাই সুষ্ঠুভাবে, মুক্ত মনে ভোট দিতে পারেন।
ভারতের লোকসভা নির্বাচন আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। এরই মধ্যে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল গ্রেফতার হয়েছেন। ভারতেও চলছে নির্বাচন নিয়ে নানা সমালোচনা।
কেজরিওয়ালকে গ্রেফতার এবং তাকে হেফাজতে রাখা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে যে প্রতিক্রিয়া দেখা দিচ্ছে, ভারতকে তা বিব্রত করলেও কূটনৈতিক পর্যায়ে তার জবাব দেওয়া হচ্ছে।
দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দিল্লিতে নিযুক্ত জার্মানি ও যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের শীর্ষ কূটনীতিকদের ডেকে এ ধরনের মন্তব্যে তীব্র আপত্তি জানিয়েছে। কিন্তু তা সত্তে¡ও যুক্তরাষ্ট্র থেমে থাকেনি। দ্বিতীয়বারও তারা এ বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে, মন্তব্য করেছে। তাদের সঙ্গে এবার যুক্ত হলো জাতিসংঘও।
এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন ভারতের জাতীয় নির্বাচনের ঠিক আগে, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীকে গ্রেফতার এবং বিরোধী কংগ্রেস পার্টির ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ করা নিয়ে দেশটির রাজনৈতিক অস্থিরতা আপনি কীভাবে উপলব্ধি করেন?
মানবাধিকার সংস্থাগুলো পরিস্থিতিটিকে বিরোধীদের বিরুদ্ধে ক্র্যাকডাউন হিসাবে বর্ণনা করছেন। এর ফলে জাতীয় নির্বাচনের আগে একটি সংকট পর্যায়ে পৌঁছেছে। এ বিষয়ে আপনি কি মনে করেন।
জবাবে জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক বলেন, আমরা খুব আশাবাদী যে ভারত নির্বাচনে রাজনৈতিক ও নাগরিক অধিকারসহ সবার অধিকার সুরক্ষিত থাকবে এবং ভোটাররা অবাধ ও সুষ্ঠু পরিবেশে ভোট দিতে সক্ষম হবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র প্রশ্নটির উত্তর না দিয়ে এড়িয়ে যেতে পারতেন। এটা ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে মন্তব্য করতে পারতেন। এ বিষয়ে কোনো বিদেশি মন্তব্য ভারতের কাছে ‘অনভিপ্রেত ও অবাঞ্ছিত’, তা জেনে প্রশ্নটি তিনি অগ্রাহ্য করতে পারতেন।
কিন্তু তা না করে তিনি মুক্ত মনে ভোট দেওয়া এবং রাজনৈতিক ও নাগরিক সমাজের অধিকার রক্ষিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। ভারতের পক্ষে অবশ্যই তা বিব্রতকর।
এর আগে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের গ্রেফতারি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মন্তব্যে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ভারত। এ বিষয়ে প্রতিবাদ জানাতে ভারতে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কূটনীতিককে তলব করেছে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
এনডিটিভি জানিয়েছে, বুধবার বিকালে ভারতে নিযুক্ত মার্কিন মিশনের ভারপ্রাপ্ত উপপ্রধান গেøারিয়া বারবেনাকে তলব করেছিল ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এ সময় মন্ত্রণালয়ের দিল্লি কার্যালয়ে দুপক্ষের মধ্যে প্রায় ৪০ মিনিট বৈঠক হয়।
এর আগে গত মঙ্গলবার মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেছিলেন তারা কেজরিওয়ালের গ্রেফতারির প্রতিবেদনগুলো পর্যবেক্ষণ করছেন এবং কারাবন্দি আম আদমি পার্টির নেতার জন্য ‘একটি ন্যায্য ও সময়োপযোগী আইনি প্রক্রিয়া’ নিশ্চিত করতে নয়াদিল্লির প্রতি আহŸান জানাচ্ছেন।
এর পরই দিল্লিতে নিযুক্ত মার্কিন কূটনীতিককে তলব করে পাঠানো হয়েছিল ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে। এবার সেই তলবের পর ফের একবার মুখ খুলল ওয়াশিংটন।
কেজরিকাণ্ডে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার বুধবার বলেন, এই গোটা ইস্যুর ওপর নজর রেখে চলেছে আমেরিকা। এদিকে তিনি এও বুঝিয়ে দেন, দিল্লিতে নিযুক্ত মার্কিন ডেপুটি রাষ্ট্রদূতকে তলবের বিষয়টিও তাদের নজরে আছে।
২৪ বছর পর আঁখি-ইমনের পুনর্মিলন
জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী আঁখি আলমগীরের সঙ্গে সঙ্গীত পরিচালক শওকত আলী ইমনের বন্ধুত্ব প্রায় ত্রিশ বছরের। ইমনের সুরে বহু গানে কণ্ঠ দিয়েছেন আঁখি। কালজয়ী সেই গানগুলো এখনও শ্রোতাদের ঠোঁটে ঠোঁটে।
আঁখির ‘জল পড়ে পাতা নড়ে’, ‘বাবুজি’, ‘শ্যাম পিরিতি’ থেকে সর্বশেষ ‘রাজকুমারী’; এমন অনেক গান প্রাণ পেয়েছে ইমনের সুরে। সংগীতাঙ্গনে এমন মজবুত জুটি সচরাচর আর মেলে না।
তবে গত ২৪ বছর সরাসরি একসঙ্গে কাজ করেন না আঁখি-ইমন। সূত্র বলছে, এই দুজন নিয়মিত একসঙ্গে গান করলেও সহশিল্পী হিসেবে ‘এই চোখে চোখ রাখো’ নামের গানে কণ্ঠ দিয়েছেন ২৪ বছর আগে। সেটি ছিল ২০০০ সালে মুক্তি পাওয়া এনায়েত করিমের ‘বস্তির শাহেনশাহ’ সিনেমায়। গানটি লিখেছিলেন দুই বিখ্যাত গীতিকবি মনিরুজ্জামান মনির ও কবির বকুল।
এরপর দুজনে মিলে একসঙ্গে সিনেমা, নাটক, অডিও, ভিডিওতে অনেক গান করলেও সেসবে নিজেদের পরিচয়টা রেখেছেন আলাদা- সংগীত পরিচালক ও কণ্ঠশিল্পী। দুটি পরিচয়ে নিজ নিজ গুণের জন্য পেয়েছেন জাতীয় পুরস্কারও।
টানা ২৪ বছরের বিরতি ভেঙে আবারও তারা এক হলেন, একই গানে; কণ্ঠে। ঈদ উৎসবে নতুন রঙ ছড়াতে দুজনে গাইলেন নতুন গান ‘কফির পেয়ালা’।
তাদের এক করেছে দেশের শীর্ষস্থানীয় অডিও ভিডিও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ধ্রুব মিউজিক স্টেশন (ডিএমএস)। গানের শিরোনাম ‘কফির পেয়ালা’। এটি লিখেছেন আশিক মাহমুদ, সুর করেছেন আকাশ মাহমুদ, সংগীতায়োজন করেছেন শওকত আলী ইমন। গানটিতে আঁখির সঙ্গে কণ্ঠও দিয়েছেন ইমন। এরই মধ্যে মিউজিক ভিডিও নির্মাণের কাজও শেষ।
এ গান প্রসঙ্গে আঁখি আলমগীর বলেন, ‘বেশ কিছুদিন আগের কথা। ইমন হঠাৎ আমাকে একটি গান পাঠায় এবং প্রশ্ন রাখে-গানটা গাইবি? আমি গানটি শুনে এত মুগ্ধ হয়েছি যা সত্যিই বলার মতো নয়। এত সুন্দর টিউন, এত মেলোডিয়াস, এত রোমান্টিক গান-যা আমার ভীষণ ভালোলেগে যায়। সঙ্গে সঙ্গে বলে দেই, গানটি আমি গাইব। কদিন পর ভয়েজ দিলাম। তৈরি হলো ভিডিও। দর্শক ভিডিওটি দেখলেই বুঝতে পারবেন এর নির্মাতা সিথিল কতটা দুর্দান্ত কাজ করেছে। সবকিছু মিলিয়ে দারুণ একটি কাজ হয়েছে।’ শওকত আলী ইমন বলেন, ‘আমার কাছে শুরুতেই মনে হয়েছিল এ গানের জন্য আঁখিই পারফেক্ট। যে কারণে গানটি তাকেই পাঠিয়েছিলাম। চূড়ান্তভাবে আমরা গানটি গেয়েছি। এ গানের প্রতি আমার প্রত্যাশা একটু নয়, অনেকখানি বেশি। কারণ সব মিলিয়ে গানটা খুব ভালো হয়েছে। তাই এ গানের প্রতি আবেগ, ভালোবাসা, ভালোলাগা এবং গানকে ঘিরে প্রত্যাশা বেড়ে গেছে।’
ধ্রুব মিউজিক স্টেশন জানায়, আগামী ৩১ মার্চ তাদের ইউটিউব চ্যানেলে অবমুক্ত করা হবে ‘কফির পেয়ালা’ গানটির ভিডিও। পাশাপাশি গানটি শুনতে পাওয়া যাবে দেশি ও আন্তর্জাতিক একাধিক অ্যাপে।
জাকাত দারিদ্র্য বিমোচনের প্রধান মাধ্যম
ইসলামের অন্যতম ফরজ ইবাদত জাকাত। সমাজের অর্থনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে জাকাতের বিকল্প নেই। ধনীদের উদ্বৃত্ত সম্পদ থেকে অভাবীদের জন্য একটি অংশ আল্লাহতায়ালাই নির্ধারণ করে দিয়েছেন। তবে অপরিকল্পিতভাবে জাকাত দেওয়ার কারণে বাংলাদেশে এখনো জাকাতের প্রকৃত সুফল মিলছে না।
জাকাতের মাহাত্ম্য সম্পর্কে
ইসলাম ধর্ম যে পাঁচটি খুঁটির ওপর দাঁড়িয়ে আছে তার তৃতীয়টি হলো জাকাত। নামাজের পরই কুরআনে জাকাতের কথা বলেছেন আল্লাহতায়ালা। এ ক্রমবিন্যাসের একটি তাৎপর্য এ রকম হতে পারে-ইমানদার নামাজি ব্যক্তির অলস বসে থাকার সুযোগ নেই। আগামী এক বছরে সে নিজে স্বাবলম্বী হবে এবং সমাজের দুস্থ-অসহায় মানুষকে স্বাবলম্বী করার ব্রত গ্রহণ করবে। সংক্ষেপে এই হলো জাকাতের মর্মকথা। মুজামুল ওয়াসিত প্রণেতার মতে, জাকাত শব্দের অর্থ ক্রমশ বাড়তে থাকা ও পরিমাণে বেশি হওয়া, প্রবৃদ্ধি লাভ করা, পরিচ্ছন্ন হওয়া, পবিত্র ও শুদ্ধ হওয়া। বিখ্যাত আরবি অভিধান লিসানুল আরবের লেখক বলেন, ‘জাকাত অর্থ পবিত্রতা, ক্রমবৃদ্ধি, আধিক্য ও প্রশংসা। এ চারটি অর্থেই কুরআন ও হাদিসে জাকাত শব্দের ব্যবহার পাওয়া যায়।’ জাকাত শব্দের ভেতর দুটি অর্থ পাওয়া যায়। একটি হচ্ছে, অনবরত বাড়তে থাকা। আরেকটি হচ্ছে শুদ্ধ ও পবিত্র হওয়া। আরবি ভাষা বিজ্ঞানীরা বলছেন, যে জিনিস ক্রমশ বাড়তে থাকে সে জিনিস অবশ্যই শুদ্ধ ও পবিত্র হবে এতে কোনো সন্দেহ নেই। জাকাতের এত অর্থ থাকা সত্তে¡ও শরিয়তের দৃষ্টিতে শব্দটি ধন-সম্পদে আল্লাহ কর্তৃক নির্দিষ্ট ফরজ অংশ বোঝানোর জন্য ব্যবহার হয়েছে। আর হকদারকে সে সম্পদ দেওয়ার প্রক্রিয়াকে জাকাত বলা হয়। ইমান নববি (রহ.) বলেন, ‘ধন-সম্পদ থেকে আল্লাহর নির্ধারিত সম্পদ বের করে দেওয়াকে জাকাত বলার কারণ হলো-এর বিনিময়ে সম্পদ ক্রমশ বাড়তে থাকে আর জাকাতদাতা অনেক বিপদ আপদ থেকে পবিত্র থাকে।’
জাকাত কীভাবে মানুষকে পরিশুদ্ধ করে
জাকাত মানুষকে দুই ধরনের বিপদ থেকে সুরক্ষা দেয়। প্রথমত আখেরাতের জবাবদিহি থেকে। দ্বিতীয়ত দুনিয়ার বালামুসিবত থেকে। এ কারণেই জাকাতের দ্বিতীয় অর্থ হলো পবিত্রতা বা শুদ্ধতা। অন্য একজন ইসলামিক স্কলার লিখেছেন, ‘জাকাতের মাধ্যমে ব্যক্তি দুই ধরনের পবিত্রতা অর্জন করে। প্রথমত সে তার সম্পদ পবিত্র করে। দ্বিতীয়ত তার মন-মনন কৃপণতা, স্বার্থপরতা, হিংসা বিদ্বেষ মুক্ত হয়ে যায়।’ বিষয়টি ইমাম ইবনে তাইমিয়া আরও চমৎকার করে বলেছেন-‘জাকাত দেওয়ার ফলে দাতার মন-আত্মা নির্মল-পবিত্র হওয়ার কারণে তার ধন-সম্পদে আল্লাহ বরকত দেন এবং তা দিন দিন বাড়তে থাকে।’ কারজাভি বলেন, ‘এই বৃদ্ধি কেবল ধন-সম্পদে নয়, ব্যক্তির মন-মানসিকতা, ধ্যান-ধারণায়ও প্রভাবিত হয়। ফলে জাকাতদাতা দিন দিন উন্নত রুচিবোধ সম্পন্ন মানুষ হয়ে ওঠেন।’)
দারিদ্র্যমুক্ত অর্থনীতি গড়তে জাকাতের ভূমিকা
জাকাতের মাধ্যমে ধনী ও দরিদ্রের মধ্যে অর্থনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখা হয়। ইসলামে সম্পদ বণ্টন ব্যবস্থায় ধনীরা তাদের সম্পদের কিছু অংশ জাকাত দিলে গরিবদের সম্পদ কিছুটা বেড়ে যায় এবং অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর হয়। জাকাতভিত্তিক অর্থ ব্যবস্থা মহানবি (সা.)-এর আদর্শ মদিনা রাষ্ট্র, খোলাফায়ে রাশেদিনের শাসনামলে অর্থনৈতিক বৈষম্য ও দারিদ্র্য বিমোচন করে মুসলিম উম্মাহকে সমকালীন বিশ্বে একটি সমৃদ্ধ ও উন্নত জাতিতে পরিণত করেছিল। রাসূলুল্লাহ (সা.) সব সময় আল্লাহর কাছে দারিদ্র্য থেকে মুক্তির প্রার্থনা করতেন এবং বরকতের জন্য দোয়া করতেন।
জাকাতের মাধ্যমে ইসলাম সমাজকে দারিদ্র্য থেকে উদ্ধার করতে চায়। কিন্তু দেশে যেভাবে জাকাত আদায় ও বণ্টন করা হয়, এতে জাকাতগ্রহীতা স্থায়ীভাবে পুনর্বাসনের উদ্দেশ্যে কোনো ধরনের পেশা বা কার্যক্রম গ্রহণ করতে পারে না। দেশের আদায়যোগ্য জাকাতের পরিমাণ এক হাজার কোটি টাকারও বেশি হতে পারে; যা দিয়ে প্রতি বছর পাঁচ লাখ লোকের পুনর্বাসন সম্ভব। পরিকল্পিতভাবে কাজ করলে এভাবে ১০ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে সম্পূর্ণরূপে দেশের দারিদ্র্য বিমোচন সম্ভব। তাই সমবেত প্রচেষ্টার মাধ্যমে সুপরিকল্পিতভাবে ইসলামের বিধান অনুযায়ী জাকাত আদায় ও তার যথাযথ বণ্টন করা প্রয়োজন। সা¤প্রতিক সময়ে আমাদের দেশে বিভিন্ন দুর্ঘটনার কারণে অনেক স্বাবলম্বী মানুষও পথে বসে যায়।
ব্যক্তি উদ্যোগের পাশাপাশি সরকারি উদ্যোগেও জাকাত সংগ্রহ করে এমন মানুষদের পুনর্বাসনের জন্য ব্যয় করা যেতে পারে। এর ফলে অল্প সময়েই তারা আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন। একজন মানুষ অর্থনৈতিকভাবে ঘুরে দাঁড়ানো মানে জাতীয় অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধি অর্জন করা। তাই ইসলাম বলে, অন্য ভাইকে সহযোগিতা করা আসলে নিজেকেই সহযোগিতা করার সমান। বিষয়টি বোঝার তাওফিক আল্লাহ আমাদের দিন।
ইসলামি শরিয়ত মতে কার কার ওপর জাকাত ফরজ?
জাকাতের নেসাব হলো সাড়ে সাত ভরি স্বর্ণ বা সাড়ে বায়ান্ন ভরি রুপা বা সমমূল্যের নগদ অর্থ, বন্ড, সঞ্চয়পত্র, শেয়ার, ব্যাংকে জমাকৃত যে কোনো ধরনের টাকা, ফিক্সড ডিপোজিট হলে মূল জমা টাকা অথবা সমমূল্যের ব্যবসার পণ্য থাকলে জাকাত আদায় করতে হবে। স্বাধীন, প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ ও বুদ্ধিসম্পন্ন মুসলিম নর-নারী যার কাছে ঋণ, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ও প্রয়োজনীয় খাদ্যবস্ত্রের অতিরিক্ত সোনা, রুপা, নগদ টাকা, প্রাইজবন্ড, সঞ্চয়পত্র, ডিপিএস, শেয়ার ও ব্যবসায়িক সম্পত্তির কোনো একটি বা সবকটি রয়েছে, যার সমষ্টির মূল্য উল্লিখিত নেসাব পরিমাণ হয়, তিনিই সম্পদশালী। এ পরিমাণ সম্পদ এক বছর স্থায়ী হলে বা বছরের শুরু ও শেষে থাকলে বছর শেষে জাকাত দিতে হবে।
কাকে জাকাত দিতে হবে?
পবিত্র কুরআনের সূরা তাওবার ৬০ নম্বর আয়াতে জাকাতের খাত হিসাবে আট শ্রেণির লোকের কথা বলা হয়েছে। যথা : ফকির-যার মালিকানায় জাকাতের নেসাব পরিমাণ সম্পদ নেই, যদিও সে কর্মক্ষম বা কর্মরত হয়। মিসকিন-যার মালিকানায় কোনো ধরনের সম্পদই নেই। আমিল বা জাকাত উসুলকারী-ইসলামি রাষ্ট্রের বায়তুল মাল কর্তৃক জাকাত সংগ্রহে নিয়োজিত কর্মকর্তা। নওমুসলিমদের পুনর্বাসনের জন্য জাকাত দেওয়া যায়। ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি যার এ পরিমাণ ঋণ রয়েছে যে, ঋণ আদায় করার পর তার কাছে নেসাব পরিমাণ সম্পদ অবশিষ্ট থাকে না।
আল্লাহর রাস্তায় থাকা ব্যক্তি। যেসব মুসলমান যুদ্ধে, জ্ঞানার্জনে কিংবা হজের পথে রয়েছেন এবং তাদের কাছে প্রয়োজনীয় অর্থ সম্পদ নেই। মুসাফির-কোনো ব্যক্তি নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হওয়া সত্তে¡ও কোথাও সফরে এসে সম্পদশূন্য হয়ে পড়লে, সে বাড়িতে পৌঁছাতে পারে-এমন পরিমাণ জাকাত প্রদান করা যাবে। এ আট খাতের সব খাতে অথবা যে কোনো একটি খাতে জাকাত প্রদান করলে জাকাত আদায় হয়ে যাবে।
কাকে জাকাত দেওয়া যাবে না?
নির্ধারিত আটটি খাতের বাইরে অন্য কোনো খাতে জাকাত দেওয়া যাবে না। কেউ যদি দিয়েও ফেলে তবুও জাকাত আদায় হবে না। নিকটাত্মীয়দের জাকাত দেওয়া উত্তম। তবে সন্তান বা তার অধস্তনকে, মা-বাবা বা তাদের ঊর্ধ্বতনকে এবং স্বামী-স্ত্রীকে জাকাত দেওয়া যায় না। মহানবি (সা.)-এর বংশের কাউকে জাকাত দেওয়া যায় না। জাকাত আদায়ের ক্ষেত্রে টাকা বা সম্পদের পূর্ণ মালিকানা জাকাত গ্রহীতাকে দিতে হবে। তাই যেসব ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তিমালিকানা হয় না, যেমন-মসজিদ, রাস্তাঘাট, মাদ্রাসার স্থাপনা, কবরস্থান, এতিমখানার বিল্ডিং-এসব তৈরির কাজে জাকাতের টাকা ব্যয় করা যাবে না। আমরা সব সময় বলি, জাকাতের মাধ্যমে ব্যক্তিকে স্বাবলম্বী করে দিন। যেন কয়েক বছর পর সে আর অভাবী না থাকে। বরং সে নিজে জাকাতদাতা হয়ে যায়। এভাবে জাকাত দিলে জাকাতের সুফল দ্রত দৃশ্যমান হবে।
‘যখন সময় হবে সরে দাঁড়াব’ : মেসি
‘একজন ফুটবলার হিসাবে আমি সত্যি ভাগ্যবান। আমার সব স্বপ্ন সত্যি হয়েছে। আর কিছু চাওয়ার নেই আমার। এটাই সত্য।’ বক্তা লিওনেল মেসি। স¤প্রতি বিগ টাইম পদকাস্টের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনায় মেসির কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, এমন কোনো স্বপ্ন কী আছে তার, যা এখনও পূরণ হয়নি? তারই উত্তরে উপরের কথাগুলো বলেন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক।
মেসি বলেন, ‘ঈশ্বরকে ধন্যবাদ। তিনি আমাকে এতকিছু দিয়েছেন। খেলোয়াড় ও মানুষ হিসাবে অনেক কিছু পেয়েছি আমি। আমার পরিবার ও বন্ধুবান্ধবরাও আমাকে আনন্দে ভরিয়ে দিয়েছে। ঈশ্বর আমাকে যা দিয়েছেন, অনেক দিয়েছেন। আমি তার দেওয়া সবকিছু উপভোগ করি।’ আর কতদিন খেলবেন? তার উত্তর, ‘যখন মনে হবে আমি আর পারফর্ম করতে পারছি না, উপভোগ করছি না খেলাটা, সতীর্থদের সহায়তা করতে পারছি না, তখন বয়সের কথা চিন্তা না করে সরে দাঁড়াব।’ তবে অবসর নেওয়ার ভাবনা এই মুহূর্তে তার মাথায় নেই, জানিয়ে দিলেন ইন্টার মিয়ামির এই ফরোয়ার্ড। ‘এখনো এ নিয়ে ভাবিনি। ছবিটা আমার কাছে পরিষ্কার নয়। আরও কিছুদিন খেলা চালিয়ে যেতে চাই। আশা করি, পারব। যখন সময় আসবে, তখন সরে দাঁড়াব। নতুন কিছু খুঁজে নেব।’


