Home Blog Page 629

কমলা হ্যারিসকে বাদ দিতে বাইডেনকে অনুরোধ হলিউড তারকাদের

জন্মভূমি ডেস্ক : কমলা হ্যারিসকে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট পদ থেকে সরিয়ে দেয়ার জন্য হলিউডের ডেমোক্র্যাটপন্থী তারকারা প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে অনুরোধ করেছে বলে জানা গেছে। ফাইভ থার্টি এইট পোলিং সাইট অনুসারে, কমলার জনপ্রিয়তা কমে গিযেছে। ৪৯ দশমিক ৫ শতাংশ ভোটার তার বিরোধিতা করেছেন এবং মাত্র ৪১ দশমিক ৯ শতাংশ তাকে সমর্থন করেছেন।

বার্তা সংস্থা সিএনএন বলেছে যে, হলিউডের বেশ কয়েকজন তারকা ক্যালিফোর্নিয়ার সাবেক সিনেটর বারবারা বক্সারের সাথে একটি জুম কলে ভাইস-প্রেসিডেন্টকে নিয়ে আপত্তি প্রকাশ করেছেন। অস্কার বিজয়ী অভিনেত্রী হেলেন হান্ট, অভিনেতা রন লিভিংস্টন এবং বেভারলি হিলস, ৯০২১০ তারকা গ্যাব্রিয়েল কার্টেরিসের মতো তারকারাও ওই কলে ছিলেন। সিএনএন-এর মতে, তারাকারা সিনেটে কমলার পূর্বসূরি বক্সারের কাছে অভিযোগ করেছেন যে, ভাইস-প্রেসিডেন্ট একটি রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা, যা কমলা ঠিকমতো পালন করতে পারছেন না। তবে শুধু হলিউডই কমলার বিরোধিতা করেনি, জানুয়ারিতে ম্যাসাচুসেটস সিনেটর এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট প্রার্থী এলিজাবেথ ওয়ারেনও কমলার বিরোধিতা করেছেন। এসব ঘটনায় ডেমোক্র্যাট কৌশলবিদদের মধ্যে শঙ্কার ঘণ্টা বাজছে৷ কমলার সাথে হলিউডের মোহভঙ্গের ঘটনা বিনোদন শিল্প এবং পার্টির মধ্যে দীর্ঘ সম্পর্ককে বিবেচনা করে ডেমোক্র্যাট কৌশলবিদদের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।

হলিউড তারকারা পার্টির জনপ্রিয়তা বাড়ানোর পাশাপাশি অর্থনৈতিক সমর্থনও দিয়ে থাকে। উদাহরণস্বরূপ, বাইডেন ২০২০ সালের প্রচারাভিযানে এক রাতে ৭ লাখ ৫০ হাজার ডলার সংগ্রহ করেছিলেন। হলিউড কমলা হ্যারিসকে স্বাগত জানিয়েছিল যখন তিনি প্রথম মহিলা এবং প্রথম আমেরিকান এবং দক্ষিণ-এশীয় আমেরিকান ভাইস-প্রেসিডেন্ট হন। যুক্তরাষ্ট্র এবং বিশ্বের মহিলাদের জন্য এ অসাধারণ মুহূর্তটি দেখে চোখে পানি চলে এসেছে,’ অপরাহ উইনফ্রে সেই সময়ে টুইট করেছিলেন। সমালোচকরা বলছেন যে, মেক্সিকান সীমান্তে অভিবাসন সঙ্কট মোকাবেলা করতে ব্যর্থ হওয়ায় কমলার সমর্থকরা হতাশাগ্রস্থ হয়েছেন।

উল্রেখ্য যে, বাইডেন যদি ২০২৪ সালের নির্বাচনে আবারও অংশ নেন, তখন তার বয়স হবে ৮১ বছর। সে সময় তার রানিং মেট বা ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রার্থী কে হবে সেটিও বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হবে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে, কমলার অবস্থানকে শক্তিশালী করার জন্য একটি সমন্বিত প্রচেষ্টা করা হয়েছে, বিশেষত মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে তার হাই-প্রোফাইল উপস্থিতি, ইউক্রেনের প্রতি  যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী সমর্থনকে নির্দেশ করে। ডেমোক্র্যাটরা বিশ্বাস করেন যে, গর্ভপাতের বিষয়ে তার অবস্থান আগামী বছর নারী ভোটারদের সমর্থন জয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। ক্যাপিটল হিলেও কমলার শক্তিশালী মিত্র রয়েছে। নিউ জার্সির সিনেটর কোরি বুকার তাকে একটি অমূল্য সম্পদ হিসাবে বর্ণনা করে বলেছেন, ‘কিছু কঠিন যুদ্ধক্ষেত্রে স্পষ্টভাবে তিনি খুব শক্তিশালী হতে চলেছেন।’ সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ।

নিউইয়র্কে মসজিদ আবু হুরায়রা’র গ্র্যান্ড ওপেনিং ১৮ মার্চ শনিবার

নিউইয়র্ক প্রতিনিধি : নিউইয়র্ক সিটির ইস্ট এলমহার্স্টে প্রতিষ্ঠিত ইসলামিক সেন্টার অব জ্যাকসন হাইটস ইনক’র ‘মসজিদ আবু হুরায়রা’র গ্র্যান্ড ওপেনিং আগামী ১৮ মার্চ শনিবার। ৭৮-০৪ ৩১ এভিনিউ ইস্ট এলহার্স্ট, নিউইয়র্ক ১১৩৭০ ঠিকানায় প্রতিষ্ঠিত মসজিদ ভবনটির গ্র্যান্ড ওপেনিং উপলক্ষ্যে ঐদিন বেলা ১২টায় এক দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।

Screenshot 1 2
মসজিদ আবু হুরায়রা

সংশ্লিস্টরা জানান, দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন নিউইয়র্ক সিটি মেয়র এরিক অ্যাডামস। আলোচক থাকবেন কানাডার বিশিষ্ট ইসলাসিক স্কলার মোহাম্মদ আসলামউদ্দিন আল আজহারী ও নিউইয়র্কের দারুস সালাম মসজিদের খতিব মওলানা আব্দুল মুকিত। এতে সভাপতিত্ব করবেন ‘মসজিদ আবু হুরায়রা’র খতিব মোহাম্মদ ফায়েক উদ্দিন।

মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ এ রউফ, বোর্ড অব ট্রাষ্টির সদস্য এটর্নী মঈন চৌধুরী এবং জেনারেল সেক্রেটারী নবি হোসাইন অনুষ্ঠানটি সফল করার জন্য সকলের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন।

তারেক রহমানের নির্দেশে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র কমিটি গঠন।

নিউইয়র্ক প্রতিনিধি: অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন ও আখতার হোসেন বাদল নেতৃত্বাধীন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সভায় যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র কমিটি গঠনে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উদ্যোগকে স্বাগত জানানো হয়েছে। সভায় নেতৃবৃন্দ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র কমটি এখন সময়ের দাবী। এক যুগ পড়ে হলেও তিন নেতাকে কেন্দ্রীয় কমিটিতে অন্তর্ভূক্ত করার মধ্য দিয়ে কমিটি গঠনের যে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে তাতে প্রবাসের যোগ্য ও ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন করা হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

নিউইয়র্ক সিটির জ্যাকসন হাইটসের একটি রেষ্টুরেন্টে রোববার (১২ মার্চ) সন্ধ্যায় আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র সাবেক যুগ্ম সম্পাদক, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও মূলধারার রাজনীতিক আখতার হোসেন বাদল। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপি নেতা মহিন উদ্দিন আহমেদ এবং সভা পরিচালনা করেন নিউইয়র্ক ষ্টেট বিএনপি’র সভাপতি সালেহ আহমেদ মানিক। সভায় অন্যান্যের মধ্যে ষ্টেট বিএনপি’র সিনিয়র সহ সভাপতি মোস্তফা কামাল মুকুল, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন শিপন, প্রচার সম্পাদক তাইবুর রহমান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

সভায় আখতার হোসেন বাদল বলেন, এক যুগ হয়ে গেলো যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র কমিটি নেই। যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র কমটি এখন সময়ের দাবী। আমাদের নেতা বেগম খালেদা জিয়া আর তারেক রহমান। তাদের সিদ্ধান্তই চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত। আমরা তাদের সকল সিদ্ধান্ত আর যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র কমিটি গঠনের উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। তিনি বলেন, আমরা কমিটিতে পদ পেলেও বিএনপি করি, করবো, পদ না পেলেও বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ জিয়া রাজনীতি করবো। তবে দলে যোগ্য ও ত্যাগী নেতার মূল্যায়ন হবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

সভায় দলীয় নেতা-কর্মীরা যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র সাবেক সিনিয়র সহ সভাপতি অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন এবং সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও প্রতিষ্ঠাতা সাংগঠনিক সম্পাদক আখতার হোসেন বাদল-কে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির নেতৃত্বে দেখতে চান বলে কেন্দ্রের প্রতি দাবী জানান। সভায় বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের সুস্থ্যতা কামনায় বিশেষ দোয়া মোনাজাত করা হয়। এছাড়াও ষ্টেট বিএনপি’র প্রচার সম্পাদক মোহাম্মদ তায়েবুর রহমানের শশুর কুমিল্লা জেলার হোমনা থানার শীতারাপুরবাসী আব্দুল বারী মাস্টারের ইন্তেকালে তার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করা হয়। দোয়া পরিচালনা করেন মোহাম্মদ সোহেল।

সভায় আগামী ২৬ মার্চ রোববার বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপন এবং পবিত্র রমজান উপলক্ষ্যে ইফতার ও দোয়া মাহফিল আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। স্বাধীনতা দিবস ও ইফতার ও মাহফিল সফল করতে সালেহ আহমেদ মানিক-কে আহ্ববায়ক, মহিন উদ্দিন আহমেদ-কে প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও দেলোয়ার হোসেন শিপন-কে সদস্য সচিব করে একটি কমিটি গঠন করা হয়।

সভায় উল্লেখ নেতা-কর্মীদের মধ্যে মোহাম্মদ টি রহমান, নাজমুল হাসান, মোহাম্মদ ইব্রাহীম, কামরুল হাসান, নূর আমীন, মোহাম্মদ ইউনুস প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সিলেট – চট্টগ্রাম ফ্রেন্ডশিপ ফাউন্ডেশন এর উদ্যেগে চট্টগ্রামে সীমা অক্সিজেন কারখানার দূর্ঘটনায় আহতদের মাঝে  ফল সামগ্রী বিতরণ

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে সীমা অক্সিজেন কারখানা দূর্ঘটনায় আহতদের মাঝে বিভিন্ন ফল সামগ্রী বিতরণ করলেন সিলেট – চট্টগ্রাম ফ্রেন্ডশিপ ফাউন্ডেশনের নেতৃবৃন্দ । আজ বিকেলে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে কয়েকটি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন আহতদের ছাড়াও অন্যান্য  রোগীদের মাঝে এইসব ফল সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

f 2

এসময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের উপদেষ্টা, করোনাকালীন ফিল্ড হাসপাতালের প্রধান উদ্যোক্তা, চট্টগ্রাম মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-পরিচালক ডা: বিদ্যুৎ বড়ুয়া। তিনি আহত  রোগীদের সাথে কুশল বিনিময়কালে তাদের  চিকিৎসা কার্যক্রমের খোঁজ খবর নেন। এসময়  উপস্থিত সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বলেন, সিলেট – চট্টগ্রাম ফ্রেন্ডশিপ ফাউন্ডেশনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। গত বছর সিলেটের ভয়াবহ বন্যা দুর্গত মানুষের মাঝে  সিলেট – চট্টগ্রাম ফ্রেন্ডশিপ ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে সীমা স্টিলের কয়েক ট্রাক ত্রাণ সহায়তার কথা স্মরণ করে তাঁরা বলেন, বন্যা, অগ্নিকাণ্ড সহ যে কোন প্রাকৃতিক দূর্যোগে অসহায় মানুষের পাশে থাকে সেবা  সংগঠনটি। এসময় আরো  উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা আহবায়ক মো: শহীদুল ইসলাম, সদস্য সচিব উৎফল বড়ুয়া, সংগঠনের উপদেষ্টা বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডিজিএম মো: আকরাম হোসেন, সাংবাদিক সরোয়ার আমিন বাবু, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া উপকমিটির সাবেক সদস্য মামুন চৌধুরী, রানা বড়ুয়া, ডা: বিজয় বড়ুয়া, জামাল উদ্দিন। 

f 1

উল্লেখ্য, সিলেট ও চট্টগ্রাম দুই জেলার মানুষের মাঝে সম্প্রীতি ও বন্ধুত্ব বৃদ্ধি এবং পর্যটন,  ইতিহাস ঐতিহ্য, শিক্ষা,  সাহিত্য, সংস্কৃতি  বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরার পাশাপাশি ২০১৭ সাল থেকে  মানবিক সব কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে সিলেট – চট্টগ্রাম ফ্রেন্ড‌শীপ ফাউ‌ন্ডেশন।

রোহিঙ্গা সঙ্কট ভুলে যাওয়ার নয় : ইইউ উচ্চ প্রতিনিধি

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তা নীতিবিষয়ক উচ্চ প্রতিনিধি জোসেপ বোরেল বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের চাহিদা মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সংস্থার মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দিয়েছেন।

শুক্রবার নয়াদিল্লিতে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো: শাহরিয়ার আলমের সাথে বৈঠকের পর তিনি বলেন, ‘এই সঙ্কট ভুলে যাওয়ার নয়। ইইউ ২০১৭ সাল থেকে ২৮৭ মিলিয়ন ইউরোসহ বৃহত্তম মানবিক সহায়তাদানকারীদের মধ্যে একটি।

তারা বর্তমান সময়ে বৈশ্বিক সঙ্কট- জলবায়ু পরিবর্তন ও স্বল্পোন্নত দেশগুলোর দুর্বলতা এবং একইসাথে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিয়ে আলোচনা করেছেন।

শাহরিয়ার বলেন, ‘রোহিঙ্গা সঙ্কটসহ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও বিশ্ব-সংক্রান্ত বিষয়ে কথা বলতে ইইউ-এর পররাষ্ট্রবিষয়ক উচ্চ প্রতিনিধি জোসেপ বোরেলের সাথে দেখা করে ভালো লাগছে।’

সূত্র : ইউএনবি

ভারতে হিজাব মামলাগুলোর শুনানি জরুরি করার আবেদন খারিজ

ভারতে হিজাব ইস্যুতে করা মামলার আবেদনগুলোর জরুরি ভিত্তিতে শুনানির আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড়।

যে আবেদনগুলোর শুনানি আপৎকালীন ভিত্তিতে করার আবেদন ছিল, সেখানে কর্নাটক সরকারের তরফে জারি করা এক নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করা হয়। মামলায় আবেদন ছিল, যাতে কর্নাটকের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নারীদের হিজাব পরার অনুমতি দেয়া হয়। সে আবেদনসাপেক্ষে একগুচ্ছ মামলার আবেদনের জরুরিকালীন শুনানির আবেদনকে শুক্রবার খারিজ করেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি।

শরিয়ত কমিটির পক্ষ থেকে করা হয়েছিল মামলাটি। সেই মামলার শুনানির সময় সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আমি এগুলোর (মামলাগুলো) তালিকা করব হোলির ছুটির পর। আমি একটি বেঞ্চ গঠন করব।’

উল্লেখ্য, ৬ থেকে ১৩ মার্চ পর্যন্ত চলবে সুপ্রিম কোর্টের হোলি উৎসবের ছুটি।

এদিকে, কর্নাটকে পরীক্ষা শুরু হচ্ছে ৯ মার্চ থেকে। সেই পরীক্ষা চলাকালীন যাতে হিজাব পরা নিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ওপর থেকে কর্নাটক সরকারের নিষেধাজ্ঞা উঠে যায়, তার আবেদন জানানো হয়েছিল।

আবেদনকারীর পক্ষের আইনজীবী বলেন, গত দুই মাসে দুই বার এই বিষয়ে আবেদন জানানো হয়েছে। যার প্রত্যুত্তরে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি বলেছেন, ‘আমি কি করতে পারি, আমি যদি শেষ দিনে আসি?’ এরপর আইনজীবী প্রশ্ন তোলেন, ‘তাহলে পরীক্ষা নিয়ে কী বলবেন?’ উত্তরে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আমি এই প্রশ্নের উত্তর দিতে পারব না।’

এর আগে ২২ ফেব্রুয়ারি এই ইস্যুতে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি বলেন, তিনি এই বিষয়ে খুব শিগগিরই একটি তিন বিচারপতির বেঞ্চ গঠন করবেন। সেই সময় উঠেছিল এই হিজাব প্রসঙ্গে আগের একটি মামলার কথা। যে মামলার রায় ২০২২ সালের অক্টোবরে দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। সেই মামলায় দুই বিচারপতির বেঞ্চ ছিল। আর দুই বিচারপতি একে অপরের থেকে পৃথক রায় দিয়েছিলেন। কয়েকজন শিক্ষার্থীর করা সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২২ সালের অক্টোবরে সুপ্রিম কোর্টের দ্বিধাবিভক্ত রায় আসে। তাই ফের আবেদন যায় সুপ্রিম কোর্টে। তখনই দেশের শীর্ষ আদালত নতুন তিন বিচারপতির বেঞ্চ গঠনের কথা বলে।

সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস

পঞ্চগড়ে আহমদিয়াদের জলসা নিয়ে স্থানীয় জনতা-পুলিশ সংঘর্ষ

পঞ্চগড়ে আহমদিয়া মুসলিম জামাতের সালানা জলসা বন্ধের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ, আহমদিয়াদের বাড়িঘর ও দোকানে ভাংচুর করে আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পুলিশের সাথে বিক্ষুব্ধ জনতার ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। এতে একজন নিহত এবং পুলিশ, সাংবাদিকসহ অন্তত ৫০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

শুক্রবার (৩ মার্চ) এ ঘটনা ঘটে।

তৌহিদী জনতার ব্যানারে উচ্ছৃংখল জনতা আহমদনগরে আহমদিয়াদের কয়েকটি বাড়িঘর ভাংচুর করে আগুন দিয়েছে। 

শুক্রবার জুমার নামাজের পর পঞ্চগড় পৌরসভা এলাকার কয়েকটি মসজিদ থেকে মুসুল্লিরা পঞ্চগড় সিনেমা হল রোডসহ চৌরঙ্গী এলাকায় একত্রিত হয়ে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে। তাদের সাথে অচেনা অনেক মানুষ যোগ দেয়। এক সময় তারা পঞ্চগড়-ঢাকা সহাসড়ক অবরোধ করে।

পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ার সেল নিক্ষেপ করে লাঠিচার্জ শুরু করলে বিক্ষুব্ধ জনতা পুলিশকে ধাওয়া দেয়। এ সময় পুলিশ পিছু হটে। পরে সিনেমা রোডের আহমদিয়াদের মালিকানাধীন দুটি দোকানে ভাংচুর করে মালামাল বের করে সড়কে ফেলে আগুন জ্বালিয়ে দেয় জনতা। করতোয়া নদীর পাড়ে ট্রাফিক পুলিশ অফিস ভাংচুর করে আগুন লাগিয়ে দেয় তারা। এ সময় সাতটি মোটরসাইকেল পুড়ে যায়।

একই সময় ধাক্কামারা গোল চক্করে পুলিশ বক্স ভাংচুর করে আগুন লাগিয়ে দেয়া হয়। এ সময় সেখানে কয়েকটি দোকানে ভাংচুর করা হয়।

পঞ্চগড়-ঢাকা মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে ব্যারিকেড সৃষ্টি করে যান চলাচল বন্ধ করে দেয় তারা। এ সময় পুলিশের সাথে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় জেলা শহরের মসজিদ পাড়া গ্রামের আরিফ (২৭) নামের এক যুবক মারা যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

ভাংচুর ও আগুনের ছবি তুলতে গেলে এসএ টিভির প্রতিনিধি কামরুজ্জামান টুটুলকে বেধড়ক মারপিট করে বিক্ষুব্ধ লোকজন। আরো কয়েকজন সাংবাদিক ছবি তুলতে গেলে তাদের লাঞ্ছিত করা হয়।

এক পর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জনতা জেলা শহরের অদূরে আহাম্মদনগর গ্রামে আহমদিয়াদের জলসা অভিমুখে মিছিল নিয়ে রওয়ানা দিলে চৌরঙ্গি মোড় এলাকায় পুলিশ মিছিলটিকে আটকে দেয়। সেখান থেকে মুসুল্লিরা জেলা শহরে সিনেমা হল সড়কে পিছু হটে।

বিকেলে করতোয়া নদী হেঁটে ও নৌকায় পার হয়ে উচ্ছৃংখল লোকজন আহমদনগরে প্রবেশ করে আহমদিয়াদের ১২-১৫টি বাড়িঘর ভাংচুর করে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। এ সময় তাদের হামলায় কয়েকজন আহমদিয়া আহত হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

রাতে এ রিপোর্ট লেখার সময় পর্যন্ত বিক্ষুব্ধ জনতার সাথে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলছিল।

আইনি মারপ্যাঁচে আটকে গেছে খালেদা জিয়ার রাজনীতি ও নির্বাচন

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বর্তমান অবস্থায় রাজনীতি করতে পারবেন কিনা, তা নিয়ে সম্প্রতি সরকারি দলের উচ্চ পর্যায়ের কয়েকজন নেতা ও মন্ত্রী ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন।

বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন সরকারের আইনমন্ত্রীও। ক্ষমতাসীন দলের নেতারা খালেদা জিয়ার রাজনীতি নিয়ে যেসব বক্তব্য দিচ্ছেন, তা নিয়ে ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ হচ্ছে রাজনীতিতে। খালেদা জিয়া বর্তমানে সরকারের নির্বাহী আদেশে কারাগারের বাইরে থাকলেও তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় নন।

এমন অবস্থায় খালেদা জিয়ার রাজনীতি করা এবং আগামী জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেয়ার ব্যাপারে আইনগত ব্যাখ্য কী আছে?

আওয়ামী লীগ নেতাদের বক্তব্য
সম্প্রতি খালেদা জিয়ার রাজনীতি নিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ছাড়াও কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব-উল-আলম হানিফ, তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ ও আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বক্তব্য দিয়েছেন।

বর্তমান অবস্থায় খালেদা জিয়ার রাজনীতি করার সুযোগ কতটা আছে, সেটি নিয়ে নানা প্রশ্ন তুলেছেন আওয়ামী লীগ নেতারা। এর ফলে এক ধরনের অস্পষ্টতা তৈরি করেছে বলেই অনেকে মনে করছেন।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের প্রথম বক্তব্যে বলেন, শেখ হাসিনার ‘উদারতার’ জন্য খালেদা জিয়া কারাগারের বাইরে আছেন।

তিনি আরো বলেন, ‘তিনি (খালেদা জিয়া) তো দণ্ডিত। তিনি কি মুক্তি পেয়েছেন? যেটুকু পেয়েছেন, সেটুকু মানবিক কারণে ও শেখ হাসিনার উদারতার জন্য পেয়েছেন। অসুস্থ না হলে তিনি থাকতেন কোথায়? কারাগারে। ঠিক আছে? তাহলে রাজনীতির সুযোগ কোথায়? দণ্ডিত ব্যক্তির রাজনীতি করার সুযোগ কোথায়?’

বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী দণ্ডিত ব্যক্তি কারাগারে থাকলে তার প্রকাশ্যে রাজনীতি করার সুযোগ নেই। কিন্তু খালেদা জিয়া তো এখন কারাগারের বাইরে আছেন।

একই বিষয়ে আরেক বক্তব্যে ওবায়দুল কাদের বলেছেন, মুক্তির শর্ত মেনে তাকে রাজনীতি করতে হবে।

মুক্তির শর্ত
বাংলাদেশ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারা অনুযায়ী বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দণ্ড স্থগিত করা হয়। এ সময় সরকারের পক্ষ থেকে দু’টি শর্ত দেয়া হয়েছিল। খালেদা জিয়ার দণ্ড স্থগিত করার সময় রাজনীতি করতে পারবেন না এমন কোনো শর্ত আরোপ করা হয়নি বলে স্পষ্ট করেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

আইনমন্ত্রী এ বিষয়ে গণমাধ্যমে বলেছেন, ‘শর্তগুলী কী? সেটা তখনো ছিল। এখনো আছে। (ক)- তিনি ঢাকায় নিজ বাসায় থেকে চিকিৎসা গ্রহণ করবেন। (খ)- উক্ত সময়ে তিনি বিদেশ গমন করতে পারবেন না।’

রাজনীতি করার সুযোগ নিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আইনি দিক থেকে যদি বলেন, তাহলে তিনি রাজনীতি করতে পারবেন। বাস্তব অবস্থা হচ্ছে, এটাকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে আপনাদেরকে দেখতে হবে। বাস্তব অবস্থা হচ্ছে, তিনি তার দণ্ডাদেশ স্থগিত করার আবেদন করেছিলেন। কারণ, তিনি অসুস্থ। এটাকে মনে রাখতে হবে।’

আইনের ব্যাখ্যা
নির্বাহী আদেশে দণ্ড স্থগিত করার সময় দেয়া শর্ত ও বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে বর্তমান অবস্থায় খালেদা জিয়ার রাজনীতি করতে কোনো বাধা নেই। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শাহদীন মালিক বিবিসিকে বলেন, সরকার যেকোনো সময় শর্তযুক্ত বা বিনা শর্তে সাজা স্থগিত করতে পারে।

মালিক বলেন, ‘সাজা তো সাসপেন্ড করে রেখেছে। তাকে যদি ঘরবাড়ি থেকে বের হবার অনুমতি দেয়, তাহলে বের হয়ে তিনি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করতে পারবেন। বর্তমানে যে শর্ত দেয়া আছে ওই শর্ত অনুযায়ী বেগম খালেদা জিয়ার রাজনীতি করতে আমি কোনো আইনগত বাধা দেখছি না।’

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ১৭ বছর কারাদণ্ড হয় খালেদা জিয়ার। ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে বিশেষ কারাগারে থাকার পর ২০২০ সালের মার্চে তার দণ্ড স্থগিত করে সরকার।

কোনো দণ্ডিত ব্যক্তি নির্বাচন করতে পারবেন কি না এ বিষয়ে সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদে ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে।

সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদের ধারা ‘ঘ’তে বলা হয়েছে ‘তিনি নৈতিক স্খলনজনিত কোনো ফৌজদারী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হইয়া অনূন দুই বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন। তার মুক্তিলাভের পর পাঁচ বছরকাল অতিবাহিত না হয়ে থাকে, তাহলে নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে অযোগ্য হবেন।

সংবিধানের ধারা ও গণপ্রতিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী বর্তমান অবস্থায় দলের চেয়ারপারসন হিসেবে খালেদা জিয়া রাজনীতি করতে পারলেও সংসদ নির্বাচন করতে পারবেন না।

এ বিষয়ে আইনজীবী শাহদীন মালিক বলেন, ‘দু’বছরের বেশি দণ্ডিত হলে কারাবাসের সময়টা পার হওয়ার পরের পাঁচ বছর প্রার্থী হতে পারবেন না। প্রার্থীদের যোগ্যতা অযোগ্যতার তালিকায় সংবিধানেও বলা আছে। রিপ্রেজেন্টেশন অফ দ্যা পিপলস অর্ডারেও (গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ) বলা আছে।

‘এটা হুসেইন মোহাম্মাদ এরশাদের বেলায়ও হয়েছিল। ওনার সাড়ে তিন বছরের মতো জেল হয়েছিল। বেরিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু ২০০১-এ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারেননি। কারণ পাঁচ বছর পেরোয়নি। কিন্তু ২০০১-এর নির্বাচনে তো তিনি প্রচার-প্রচারণায় অংশ নিয়েছিলেন।’

দুই মামলায় সাজাপ্রাপ্ত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দু’বছরের কিছু বেশি সময় কারাভোগ করেছেন। সরকারের নির্বাহী আদেশে খালেদা জিয়ার দণ্ড স্থগিতের মেয়াদ এ পর্যন্ত ছয়দফা বৃদ্ধি করা হয়েছে। আগামী ২৪ মার্চ তার দণ্ড স্থগিতের চলতি মেয়াদ শেষ হবে।

সূত্র : বিবিসি

আগামী সংসদ নির্বাচনে এককভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে জাপা : জি এম কাদের

জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ কাদের (জি এম কাদের) বলেছেন, তার দল আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এককভাবে সব আসনে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

তিনি বলেন, জাতীয় পার্টি জাতীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক দল। সব জায়গায় আমাদের লোক আছে এবং আমরা প্রার্থী দেয়ার চেষ্টা করছি। আমাদের রাজনীতি এবং সংগঠন এই দু’টিকে আমরা গড়ে তোলার চেষ্টা করছি একক নির্বাচন করার জন্য।

শুক্রবার (৩ মার্চ) দুপুরে তিন দিনের সফরে তিনি লালমনিরহাট এসে লালমনিরহাট ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে পরিদর্শন উপলক্ষে ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় উন্মুক্ত বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বাস্থ্য বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জি এম কাদের বলেন, আমাদের দেশের মানুষের জন্য ডাক্তার নেই। সাধারণ মানুষের বাঁচার যে একটা অধিকার সেটিও তারা হারিয়ে ফেলেছে। যে চিকিৎসা সুবিধা উন্নতি করেছে বাংলাদেশ, এটি উচ্চ শ্রেণির জন্য। সাধারণ মানুষের জন্য অতিরিক্ত ব্যয়বহুল। সাধারণ মানুষের জন্য যে হসপিটাল সুবিধা, সেগুলো সাধারণ মানুষকে চিকিৎসার নামে অপচিকিৎসা দিচ্ছে, এটি দুর্ভাগ্যজনক।

লালমনিরহাট সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাক্তার রমজান আলীর সভাপতিত্বে এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন সিভিল সার্জন ডা: নির্মলেন্দু রায়, ডা: জাহাঙ্গীর আলম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আতিকুল হক, জেলা জাতীয় পার্টির সদস্য সচিব জাহিদ হাসান লিমন, সদর উপজেলা সভাপতি অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মাহাতাব আলী, পৌর জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক আলমগীর চৌধুরীসহ অন্যরা।

সভায় সদর হাসপাতালের মেডিক্যাল অফিসার বিভিন্ন সমস্যার বিষয়ে তুলে ধরেন। প্রায় ৪০ শতাংশ ডাক্তার, সিনিয়র স্টাফ নার্স, চিকিৎসা কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জাম সংকটের কথা উল্লেখ ধরেন তিনি।

উন্মুক্ত বক্তব্যে আরো অংশ নেন জেলার সচেতন নাগরিক, চিকিৎসক, সাংবাদিক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

চারদিক থেকে বাখমুট শহর ‘ঘিরে ফেলেছে’ ওয়াগনার বাহিনী

রাশিয়ার পক্ষে যুদ্ধরত ওয়াগনার গ্রুপের প্রধান বলেছেন, তার বাহিনী ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বাখমুট শহরের বেশিরভাগ জায়গাই ঘিরে ফেলেছে।

এই শহর দখলকে কেন্দ্র করে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইউক্রেনীয় বাহিনীর সাথে তাদের তীব্র লড়াই চলছে যাতে উভয়পক্ষেই ব্যাপক প্রাণহানি ঘটছে।

ওয়াগনার গ্রুপের প্রধান ইয়েভগেনি প্রিগোঝিন বলেছেন এখন এই শহর থেকে বের হয়ে যাওয়ার জন্য একটাই পথ খোলা আছে।

বাখমুট থেকে ইউক্রেনীয় সৈন্যদের প্রত্যাহার করে নেয়ার জন্য তিনি প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, একটি বাড়ির ছাদের ওপর ধারণ করা ভিডিওতে প্রিগোঝিন প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির উদ্দেশে বলেন, ইউক্রেনীয় সৈন্যদের জীবন বাঁচাতে হলে তাদেরকে সরিয়ে নিন।

কী বলছে কিয়েভ
ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী স্বীকার করে নিয়েছে তাদের সৈন্যরা বাখমুট শহরে প্রচণ্ড চাপের মধ্যে রয়েছে। সেখান থেকে ইউক্রেনীয় সৈন্যদের সরিয়ে নেয়া হতে পারে বলেও তারা ইঙ্গিত দিয়েছে। এর আগে এই শহরের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার জন্য সেখানে অতিরিক্ত সৈন্য পাঠানো হয়েছিল।

কিয়েভ বলছে, তাদের সৈন্যরা এখনও সেখানে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। তবে তারা স্বীকার করেছে এ সপ্তাহে বাখমুটে তাদের অবস্থার অবনতি হয়েছে।

ন্যাশনাল গার্ড অব ইউক্রেনের একজন ডেপুটি কমান্ডার ভলোদিমির নাজারেঙ্কো ইউক্রেনীয় একটি টিভি চ্যানেলকে বলেছেন, বাখমুটের পরিস্থিতি ‘গুরুতর’ এবং ‘সারাক্ষণই সেখানে যুদ্ধ’ হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘তাদের কত প্রাণহানি ঘটছে সেটা তারা বিবেচনা করছে না। তারা এখন এই শহর দখল করতে চাইছে। আমাদের সৈন্যদের কাজ হচ্ছে শত্রুর যতো বেশি ক্ষতি করা যায়।’

ওয়াগনার গ্রুপের প্রধান ইয়েভগেনি প্রিগোঝিনও বলেছিলেন, ‘বাখমুট নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য ইউক্রেনীয় সৈন্যরা ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে।’

এই শহরে যুদ্ধে উভয়পক্ষের বেশ ক্ষয়ক্ষতি ও বহু সৈন্যের প্রাণহানি হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।

বলা হচ্ছে, এই শহরটি দখল করে নিতে পারলে ইউক্রেন যুদ্ধের গত ছয় মাসে রাশিয়ার জন্য এটা হবে বড় ধরনের বিজয়।

একটি পথ খোলা
বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে ওয়াগনার গ্রুপের প্রধান জানিয়েছেন, প্রায় ধ্বংস হয়ে যাওয়া বাখমুট শহরটিকে তারা চারদিক দিকে ঘিরে ফেলেছেন। ইউক্রেনীয় সৈন্যদের বের হয়ে যাওয়ার জন্য শুধুমাত্র একটা পথ খোলা রাখা হয়েছে।

এই শহরের পশ্চিমাঞ্চলে রয়টার্সের সাংবাদিকরা দেখেছেন ইউক্রেনীয় সৈন্যরা প্রতিরক্ষার জন্য সেখানে নতুন করে পরিখা খনন করছে।

ওই শহরে গত কয়েকমাস ধরে যুদ্ধ করছে ইউক্রেনের এরকম একটি ড্রোন ইউনিটের কমান্ডার সাংবাদিকদের জানিয়েছেন তাদেরকে সেখান থেকে চলে যেতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

তিনি জানিয়েছেন, ১১০ দিন ধরে তিনি সেখানে যুদ্ধ করছেন। তবে কেন তাদেরকে সরে যেতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে ওই বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না।

বাখমুট কেন গুরুত্বপূর্ণ
পূর্ব ইউক্রেনের ডনবাস অঞ্চলের দোনেৎস্ক ও লুহানস্কে রসদপত্র সরবরাহের জন্য একটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ পথের ওপর এই বাখমুট শহরের অবস্থান। এই শহরের নিয়ন্ত্রণ দখল করতে পারলে রাশিয়া এই এলাকাটিকে ক্রামাটরস্ক ও স্লোভিয়ানস্কের মতো দুটি বড় শহরের দিকে এগিয়ে যাবার জন্য ভিত্তি তৈরি করতে পারবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাখমুট শহরে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারলে রাশিয়ার পক্ষে পুরো ডনবাস অঞ্চল দখল করে নেয়া আরো সহজ হয়ে উঠবে।

বাখমুট দখল করার জন্য লড়ছে রাশিয়ার পক্ষে ওয়াগনার গ্রুপ।

এই গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের ঘনিষ্ঠ মিত্র ইয়েভগেনি প্রিগোঝিন। বহু রুশ কারাবন্দিকে এই বাহিনীতে সৈনিক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে এবং তারা সহিংস যুদ্ধের জন্য সুপরিচিত। ইউক্রেনের যুদ্ধ ছাড়াও আফ্রিকার কিছু সংঘাতে তারা জড়িত।

সূত্র : বিবিসি