Home Blog Page 630

সরকার জনগণের কথার তোয়াক্কা করে না : গয়েশ্বর রায়

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, ‘ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার জাতীয়তাবাদী নয়, দেশপ্রেমিক নয়, গণতান্ত্রিকও নয়। যার কারণে এরা জনগণের কথার তোয়াক্কা করে না।’

শুক্রবার (৩ মার্চ) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনের সড়কে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া, সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ রাজবন্দীদের মুক্তির দাবি ও দলের স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা: রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে এক পেশাজীবী সমাবেশে তিনি এই মন্তব্য করেন। বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের উদ্যোগে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে গয়েশ্বর রায় বলেন, ‘এখন আমাদের মুখ্য দাবি হওয়া দরকার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা থেকে এই সরকারকে প্রত্যাহার ও সরানো। জনগণের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করে সুষ্ঠু, অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দেশে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করা এখন অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।’

তিনি বলেন, ‘একজন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বলেছেন, জনগণ থাকবে নিরাপদে ঘরে, ভোট দেবে প্রশাসন, সন্ধ্যায় ফল গণনা করবে নির্বাচন কমিশন। অর্থাৎ জনগণ ভোট কেন্দ্রে যেতে পারবেন না। ২০১৮ সালের নির্বাচন দেখেছেন, কারা ভোট দিয়েছে? প্রশাসন।’

চলমান গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সবাইকে অংশ নেয়ার আহ্বান জানিয়ে গয়েশ্বর রায় বলেন, ‘দেশের কথা চিন্তা করেন, ১৯৭১ সালের মতো গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে অবস্থানকারীদের রুখে দাঁড়ান। ১৯৭১ সালে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের স্বপ্ন নিয়ে মুক্তিযুদ্ধ করেছি। গণতন্ত্রের জন্য আমরা এখন যুদ্ধ করছি। এ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করবেন, নাকি বিরোধিতা করবেন? অংশগ্রহণ করলে ভালো, না করলে ১৯৭১ সালের মতো রাজকারের খাতায় নাম লেখাবেন।’

১৯৭১ সালে শান্তি কমিটি গঠন করা হয়েছিল উল্লেখ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘এখন আওয়ামী লীগও আরেকটি শান্তি কমিটি করছে। যেদিন আমরা কর্মসূচি করি, সেদিন ওই শান্তি কমিটিও কর্মসূচি দেয়। ওই শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান হলেন ওবায়দুল কাদের। আমি বিশ্বাস করি, তিনি শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান থেকে পদত্যাগ করবেন। কোনো কমিটি এ সরকারকে রক্ষা করতে পারবে না।’

বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব কাদের গনি চৌধুরীর পরিচালনায় সমাবেশে অধ্যাপক সিদ্দিকুর রহমান খান, অধ্যাপক গোলাম হাফিজ কেনেডি, অধ্যাপক শামসুল আলম, অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, সিনিয়র সাংবাদিক রাশেদুল হক, আমিরুল ইসলাম কাগজী, অ্যাডভোকেট আবেদ রাজা, সাংস্কৃতিক জোটের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম প্রমুখ বক্তব্য দেন।

জঙ্গি ছিনিয়ে নেয়া অবশ্যই আমাদের ব্যর্থতা : র‌্যাব ডিজি

সমন্বয়ের অভাবে আদালত প্রাঙ্গণ থেকে দুই উগ্রবাদী (জঙ্গি) ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনা ঘটছে বলে জানিয়েছেন র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) মহাপরিচালক (ডিজি) এম খুরশীদ হোসেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, দুই জঙ্গি ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনা অবশ্যই আমাদের ব্যর্থতা ছিল।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
অপর দিকে ঘরছাড়া ৩৩ জন তরুণকে শনাক্ত করেছে রথ্যাব। শনাক্ত হওয়া ৩৩ জনের মধ্যে ১২ জনকে ইতোমধ্যে রথ্যাব আটক করেছে। বাকি ২১ জন এখনো পলাতক রয়েছে বলে গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর কাওরান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে এ তথ্য জানানো হয়।
র‌্যাব মহাপরিচালক বলেন, শুধু পুলিশকে এককভাবে বলছি না। পুলিশের সাথে সবার একটা সমন্বয় থাকার কথা ছিল। সেখানে কোথাও সমন্বয়ের অভাব ছিল। সমন্বয়ের অভাব থাকার কারণে ওখানে যেভাবে লোক থাকার কথা ছিল, কিংবা জঙ্গিরা যখন পালিয়েছে, তখন যে তথ্য জানানোর কথা ছিল সেই জায়গাগুলোতে কোথাও অভাব ছিল। যে কারণে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে।
তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি, আমরা যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে প্রস্তুত। আমরা চাইব, আমাদের দেশের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখার জন্য।
ঘরছাড়া ৩৩ তরুণকে শনাক্ত করেছে র‌্যাব :
সম্প্রতি আত্মপ্রকাশ হওয়া নতুন উগ্রবাদী সংগঠন জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়ার ডাকে সাড়া দিয়ে ঘর থেকে বের হওয়া ৫৫ জন তরুণের মধ্যে ৩৩ জনকে শনাক্ত করেছে র‌্যাব সদস্যরা।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর কাওরান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, গত ২৩ জানুয়ারি গ্রেফতার নতুন জঙ্গি সংগঠনটির সামরিক শাখার প্রধান মাসুকুর রহমান ওরফে রণবীরের কাছ থেকে একটি ভিডিও উদ্ধার করা হয়। ওই ভিডিওতে মোট ২৯ জন জঙ্গিকে শনাক্ত করা হয়। ২৮ ফেব্রুয়ারি উদ্ধার হওয়া ৭ মিনিট দৈর্ঘ্যরে নতুন ভিডিওতে আরো ২৩ জন জঙ্গিকে শনাক্ত করা হয়। এই ২৩ জনের মধ্যে ১৯ জন জঙ্গি আগের ভিডিওতেও ছিলেন, আর চারজন নতুন জঙ্গির উপস্থিতি পাওয়া গেছে। নতুন চারজন হলো- শেখ আহমেদ মামুন ওরফে রমেশ, শামিম মিয়া ওরফে বাকলাই ওরফে রাজান, নিজাম উদ্দিন হিরন ও ডা: জহিরুল ইসলাম ওরফে আহমেদ। ভিডিওর তথ্য অনুযায়ী গত বছরের ৬ জুন ডা: জহিরুল মারা গেছেন।
তিনি বলেন, দুই ভিডিওতে জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে থাকা মোট ৩৩ জনকে শনাক্ত করা গেছে। তাদের মধ্যে ১২ জনকে আটক করা হয়েছে। বাকিদের আটকে অভিযান চলবে। নতুন পাওয়া ভিডিও প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মূলত অর্থ সংগ্রহ এবং সদস্য সংগ্রহের জন্য এই ভিডিওটি তৈরি করা হয়ে থাকতে পারে। অপর দিকে দেশে বড় কোনো নাশকতার পর নিজেদের অস্তিত্ব দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মহলে জানান দেয়াও এই ভিডিওর উদ্দেশ্য হতে পারে।
এক প্রশ্নের জবাবে র‌্যাবের কর্মকর্তা বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, গত নভেম্বর থেকে তাদের মোবাইল ফোনে ভিডিওটি ছিল। ভিডিওর কাজটি চলমান ছিল। কিন্তু এর মধ্যেই র‌্যাবের অভিযান শুরু হয়। এখন পর্যন্ত কোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওগুলোর অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। তারা নিজেদের গ্রুপের মধ্যেই এগুলো সরবরাহ করেছে। কোনো নাশকতার পরে নিজেদের অস্তিত্ব জানান দিতে এটি ব্যবহৃত হতে পারে।
নতুন সংগঠনের নাশকতার পরিকল্পনা রয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, সর্বশেষ যে চারজনকে আটক করা হয় তাদের সমতলে আত্মগোপনের নির্দেশনা ছিল। এ জন্য তারা চার দিন ধরে পাহাড় থেকে হেঁটে বান্দরবান শহরে আসে। তাদের বিচ্ছিন্নভাবে চট্টগ্রামে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। এখন তাদের কি শুধু আত্মগোপন নাকি অন্য কোনো নাশকতার পরিকল্পনা ছিল পরবর্তী জিজ্ঞাসাবাদে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

ইরানে মেয়েদের স্কুলে ফের ‘বিষাক্ত গ্যাস’ হামলা, বহু ছাত্রী হাসপাতালে

ইরানে নতুন করে মেয়েদের স্কুলে স্কুলে বিষাক্ত গ্যাসের হামলা হচ্ছে– এমন খবরে আতংক ছড়িয়ে পড়েছে। ২৬টি স্কুলের শত শত ছাত্রীকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

ইরানে মেয়েদের স্কুলে নতুন করে বিষাক্ত গ্যাসের হামলা হচ্ছে বলে আতংক ছড়িয়ে পড়েছে।

কমপক্ষে ২৬টি স্কুলের বহু মেয়েকে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

নভেম্বর মাস থেকে এক হাজারেরও বেশি মেয়ে বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হওয়ার উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে গেছে। তাদের মধ্যে শ্বাসকষ্ট থেকে শুরু করে ক্লান্তি, ঝিমুনির উপসর্গ দেখা গেছে।

ইরানে অনেক মানুষ সন্দেহ করছে মেয়েদের স্কুলগুলো যাতে বন্ধ করে দেয়া হয় সে লক্ষ্যে ইচ্ছা করে গ্যাস ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে।

কিন্তু সরকার এখনো এ ধরনের ষড়যন্ত্র তত্বকে গুরুত্ব দিচ্ছে না।

ইরানের ফারস সংবাদ সংস্থা খবর দিয়েছে- স্কুলে গ্যাস হামলার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

কিন্তু ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আহমাদ ভাহিদি, প্রেসিডেন্ট রাইসি যাকে এ ধরনের বিষক্রিয়ার কারণ খোঁজার দায়িত্ব দিয়েছেন– বলেছেন এমন গ্রেফতারের খবর সঠিক নয়।

মন্ত্রী বলেন, বিদেশী বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম, এবং “ভাড়াটে বিভিন্ন গ্রুপ” পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ শুরু করেছে, মানুষজনের মধ্যে আতংক ছড়াচ্ছে।“

কিছু ছাত্রী এবং অভিভাবক সন্দেহ করছে পুলিশ হেফাজতে মাসা আমিনি নামে এক নারীর মৃত্যুর ঘটনা কেন্দ্র করে সম্প্রতি সরকারবিরোধী যে ব্যাপক আন্দোলন হয় তাতে অংশ নেয়ার শাস্তি হিসাবে মেয়েদের স্কুলগুলোকে টার্গেট করা হচ্ছে।

স্থানীয় বিভিন্ন মিডিয়ার খবর অনুযায়ী পাঁচটি শহরের ২৬টি মেয়েদের স্কুলে নতুন দফা এই বিষাক্ত গ্যাসের হামলা হয়েছে।

বিবিসি ফার্সি ভাষা বিভাগের যাচাই করা বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, রাজধানী তেহরান, উত্তর-পশ্চিমের আরদাবিল এবং পশ্চিমের কেরমানমাহ শহরে মেয়েদের স্কুলের সামনে অ্যাম্বুলেন্স জড় হয়েছে, এবং হাসপাতালে হাসপাতালে ওইসব স্কুলের ছাত্রীদের চিকিৎসা চলছে।

তেহরানের একটি স্কুলের ছাত্রীদের হাসপাতালের বেডে অক্সিজেন মাস্ক পরা অবস্থায় দেখা গেছে।

আরেকটি ভিডিওতে দেখা গেছে তেহরানের পূর্বাংশে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বাইরে ফুটপাতে ছাত্রীরা বসে রয়েছে। সেসময় একজন মা স্কুলের গেটের কাছে দাঁড়িয়ে চিৎকার করছেন “আমার মেয়ে কই?” এক পুরুষ তাকে বলছেন, ”তারা ছাত্রীদের গ্যাস দিয়ে বিষাক্রান্ত করেছে।“

স্কুলে গ্যাসে বিষাক্রান্ত হওয়ার ঘটনা প্রথম তেহরানের উত্তরে শিয়াদের পবিত্র শহরে কোমে।

বিবিসি ফার্সি বিভাগের এক সমীক্ষায় দেখা গেছে রোববার পর্যন্ত ৮৩০ জন শিক্ষার্থী, যাদের অধিকাংশই মেয়ে, এমন বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়েছে।

তবে ইরানি সংসদের একজন সদস্য বলেছেন দুটো শহরেই- কোম এবং বোরুয়ার্ড- ১২০০ জন আক্রান্ত হয়েছে।

বিষ্ফোরণ, তারপর নাকে পচা মাছের গন্ধ
আক্রান্তরা প্রায় সবাই বলেছেন অসুস্থ হয়ে পড়ার আগে তারা নাকে পচা মাছের গন্ধ পেয়েছেন।

পার্লামেন্টের শিক্ষা বিষয়ক স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান আলি রেজা মোনাডি-সেফিডানকে উদ্ধৃত করে মঙ্গলবার ফার্স সংবাদ সংস্থা বলছে এক তদন্তে বিষাক্ত গ্যাসে নাইট্রোজেনের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে।

তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বুধবার এমন খবর নাকচ করে দেন।

একজন অভিভাবক বিবিসিকে বলেন তেহরানের পারদিস শহরতলীতে তার মেয়ের স্কুলে মঙ্গলবার অনেক ছাত্রী আক্রান্ত হয়েছে।

“আমার মেয়ে এবং তার দুই বন্ধু বলেছে তারা একটি বিস্ফোরণ শুনেছে এবং পরপরই খুবই বাজে গন্ধ পেয়েছে– অনেকটা পোড়া প্লাস্টিকের মত গন্ধ,” বলেন ওই অভিভাবক। নিরাপত্তার কারণে তার নাম দেওয়া হচ্ছে না।

“ছাত্রীদের ক্লাসরুম থেকে বের হয়ে বাইরের খোলা চত্বরে গিয়ে দাঁড়াতে বলা হয়। অনেক ছাত্রী সেসময় সেখানেই ঢলে পড়ে…এরপর পুলিশ আসে। অ্যাম্বুলেন্স আসে।“

রোববার ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী ইউনুস পানাহি বলেন, এটা “প্রমাণিত যে কিছু মানুষ চাইছে সব স্কুল, বিশেষ করে মেয়েদের স্কুল, বন্ধ হয়ে যাক।“ তবে পরে তিনি বলেন, তার কথা ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

বুধবার অনলাইনে প্রকাশিত এক ভিডিওতে এক নারীকে বলতে শোনা যায়- কেরমানশাহ শহরের একটি প্রাইমারি স্কুলের ছাত্রীরা তাকে বলেছে স্কুলে এক বিস্ফোরণের মতো শব্দের পর প্রধান শিক্ষক জানান, কয়েকজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। পরপরই স্কুলে অ্যাম্বুলেন্স ডাকা হয়।

ওই নারী বলেন একজন ছাত্রী তাকে বলে যে তার আশংকা বিক্ষোভে অংশ নেয়ার জন্য তাদেরকে টার্গেট করা হচ্ছে।

স্কুলে বিষাক্রান্ত হওয়ার ঘটনায় জনমনে নতুন করে সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যাচ্ছে। বুধবার প্রকাশিত আরেকটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায় তেহরানের একটি স্কুলের বাইরে একদল মেয়ে স্লোগান দিচ্ছে –“নারী, জীবন, মুক্তি।“

এই স্লোগানই সাম্প্রতিক সরকার বিরোধী বিক্ষোভে নিয়মিত শোনা গেছে।

পারদিস মহল্লার ওই অভিভাবক বিবিসিকে বলেন, “আমরা উদ্বিগ্ন এবং ক্রদ্ধ অবস্থায় স্কুলে গেছি। অনেক অভিভাবক খামেনির (শীর্ষ ধর্মীয় নেতা) বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে শুরু করে।“

“কেউই বিশ্বাস করেনা এই গ্যাস হামলার তদন্ত হবে। এই সরকারের ওপর আমার কোনো আস্থা নেই।“

সরকারি হিসাবেই ওই অভিভাবকের মেয়ের স্কুলের ৩৫ জন শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে নেয়া হয়।

“অন্যান্য অভিভাবক এবং প্রধান শিক্ষকের সাথে কথা বলে আমি বুঝতে পেরেছি স্কুলের অর্ধেক শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। কমপক্ষে ২০০ জন।“

এদের মধ্যে একজন ছাত্রী এখন মুমূর্ষু অবস্থায়। “অনেক অভিভাবক তাদের বাচ্চাদের হাসপাতালে নিতে চাইছেন না কারণ তারা ভীত, তারা সরকারি কর্মকর্তাদের বিশ্বাস করেন না।“

সূত্র : বিবিসি

ভোটকেন্দ্রে রাজনৈতিক দলগুলোকেই ভারসাম্য আনতে হবে : সিইসি

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেছেন, নির্বাচনে অংশ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ভোটকেন্দ্রগুলোতে রাজনৈতিক দলগুলোকেই ভারসাম্য আনতে হবে।

তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আমরা বারবার আবেদন জানাচ্ছি, আপনারা আসুন, নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুন। আপনাদের মধ্যে যদি মতপার্থক্য থাকে, সেটা নিরসন করার চেষ্টা করুন। কারণ, নির্বাচন কমিশন মুরুব্বিয়ানা করতে পারবে না।’

তিনি বলেন, ‘আমরা বিনীতভাবে সকল রাজনৈতিক দলকে বলবো- আপনারা যেকোনো প্রকারেই হোক, নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুন।’

কাজী হাবিবুল আউয়াল বৃহস্পতিবার (২ মার্চ) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনের সামনে ভোটার দিবসের শোভাযাত্রা শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এ কথা বলেন।

সব দলকে ভোটে আসার আহ্বানের পাশাপাশি নির্বাচনে অংশগ্রহণমূলক ও নির্বিঘ্ন পরিবেশ তৈরিতে কমিশনের সব ধরনের পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরেন কাজী হাবিবুল আউয়াল। নিজেদের মেয়াদে বিভিন্ন নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি তুলনামূলক কম হলেও সন্তোষজনক ছিল বলে উল্লেখ করেন সিইসি। তবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের মাধ্যমে সংসদ নির্বাচনে ‘যথেষ্ট’ ভোটার উপস্থিতি থাকবে বলে আশা রাখেন তিনি।

সিইসি আরো বলেন, ‘ইভিএমে ভোটে বলা হয় ধীরগতি, সেখানেও উপস্থিতি যথেষ্ট ভালো ছিল। আমরা আশা করি আগামীতে ভোট প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হবে, সেখানে উপস্থিতি যথার্থ হবে, সেই আশাবাদ আমি ব্যক্ত করছি।’

সিইসি বলেন, ‘বিভিন্ন কারণেই ভোটার উপস্থিতি কম হতে পারে। আবহাওয়াগত কারণ হতে পারে, দুর্যোগের কারণে হতে পারে, শীতের কারণে হতে পারে; বিভিন্ন কারণেই হতে পারে। কিন্তু যেটা গুরুত্বপূর্ণ, ভোটাররা এসেছেন কিনা? তাদের বাধা দেয়া হয়েছে কিনা? তারা ভোট দিতে পেরেছেন কিনা? সেটাই বিশেষভাবে প্রণিধানযোগ্য আমাদের কাছে।’

ভোটারদের অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কেন্দ্রে আসার দায়িত্ব হচ্ছে প্রথমত ভোটারের নিজের। রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল একটা ভূমিকা রয়েছে। তাদেরকে সে দায়িত্ব পালন করতে হবে। নির্বাচন কমিশন- আমরা ভোটটা আয়োজন করব। আমরা আপনাদের ব্যালট পেপার সাপ্লাই করব, বক্স সাপ্লাই করব এবং আমরা আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক সংস্থাগুলোকে স্ট্রিকলি বলে থাকি, আপনারা ভোটকেন্দ্রের চারপাশে প্রত্যাশিত পরিবেশ নিশ্চিত করার চেষ্টা করবেন। তাই দায়িত্বটি কার? দায়িত্বটি সামগ্রিক সমন্বয়ের। এটা আপনাদের অনুধাবন করতে হবে। এককভাবে এই দায়িত্ব কখনোই নির্বাচন কমিশনের নয়।’

ভোটার দিবসের এ অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনার আহসান হাবিব খান, রাশেদা সুলতানা, মো: আলমগীর, ইসি সচিব মো: জাহাংগীর আলমসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সকালে নির্বাচন ভবন থেকে শোভাযাত্রা বের হয়ে আগারগাঁওয়ের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে নির্বাচন ভবনের সামনে শেষ করা হয়। বিকেলে দিবসটি উপলক্ষে আলোচনা সভার আয়োজন করে ইসি।

সূত্র : বাসস

আওয়ামী লীগ জনগণের সাথে পরিহাস করছে : মির্জা ফখরুল

স্বাধীনতা যুদ্ধে লাখ লাখ মানুষ জীবন দিলেও তাদের নাম উল্লেখ করা হয় না মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আওয়ামী লীগ জনগণের সাথে পরিহাস করছে। এখন দাবি করা হচ্ছে, সবকিছু নাকি আওয়ামী লীগ করেছে।

২ মার্চকে জাতীয় জীবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিন উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল আক্ষেপ করে বলেন, কিন্তু ৫২ বছরেও এই দিনটি রাষ্ট্রীয়ভাবে পালিত হয়নি।

বৃহস্পতিবার (২ মার্চ) বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবে ঐতিহাসিক পতাকা উত্তোলন দিবস উপলক্ষে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘স্বাধীনতা যুদ্ধে লাখ লাখ মানুষ জীবন দিয়েছে। তাদের নাম স্মরণ করা হয় না। এ যুদ্ধের রূপকার মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী, মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল ওসমানীর অবদান, এমনকি মুক্তিযুদ্ধের সময় নেতৃত্বদানকারী তাজউদ্দীন আহমেদের অবদানও স্মরণ করা হয় না। আজকে ভিন্ন দল করার জন্য স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলক আ স ম রব, ইশতেহার পাঠক শাজাহান সিরাজ, স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমানকেও স্মরণ করা হয় না। বরং জিয়াউর রহমানকে একটা খলনায়ক হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে। তারা (আওয়ামী লীগ) বলে, জিয়াউর রহমান নাকি মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না। সবকিছুই নাকি করেছে আওয়ামী লীগ এবং একজন ব্যক্তি।’

তিনি বলেন, ‘আজ ফ্যাসিবাদী সরকার ক্ষমতায় চেপে বসেছে। দেশের সকল আশা-আকাঙ্ক্ষা, স্বপ্ন ধূলিসাৎ করে দিয়েছে। তারা আবারো বাকশাল কায়েম করতে চায়। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধ্বংস করে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা কায়েম করতে চায়। অর্থনীতিকে ধ্বংস করে লুটের রাজত্ব কায়েম করা হয়েছে।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘বিদেশে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার করা হচ্ছে। অথচ পত্রিকায় দেখলাম চট্টগ্রামের ওএমএসের চালের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে এক বৃদ্ধ অজ্ঞান হয়ে পড়ে গেছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘এ সরকার দেশের ইতিহাস-ঐতিহ্য বিনষ্ট করে দিচ্ছে। মানুষ ভোট দিতে পারছে না। ভিন্নমত পোষণ করতে পারছে না। ভিন্ন মত প্রকাশ করলেই কারাগারে যেতে হচ্ছে। গণমাধ্যম স্বাধীনভাবে লিখতে পারছে না। সৎভাবে কেউ ব্যবসা করতে পারছে না। দলীয় লোক না হলে সেই ব্যবসায়ীর প্রতি চলে দমন-নিপীড়ন।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ভারতের এক বিতর্কিত ব্যবসায়ীর সাথে সরকার বিদ্যুৎ নিয়ে একটি চুক্তি করেছে। যার ফলে ২০০ টাকার কয়লা ৪০০ টাকা দিয়ে কিনতে হবে। বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির কারণে সবকিছুর দাম আরো বেড়ে যাবে। তারা আইন করেছে, গণশুনানি না করেই আবারো বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি করতে পারবে। এ সরকার জনগণের টাকা লুটপাট করতেই বারবার বিদ্যুৎ, গ্যাস, জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি করছে।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘এ অবস্থায় বসে থাকলে চলবে না। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। এই আন্দোলন বিএনপির একার আন্দোলন নয়। এটা গোটা জাতির সংগ্রাম। স্বাধীনতা, ভোটাধিকার এবং গণতন্ত্রকে রক্ষা করতে হলে সকল গণতন্ত্রগামী মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’

জেএসডি’র সিনিয়র সহ-সভাপতি তানিয়া রবের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন স্বাধীনতার পতাকা উত্তেলক ও জেএসডি সভাপতি আ স ম রব, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, ভাসানী অনুসারী পরিষদের আহ্বায়ক শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক অ্যাডভোকের হাসনাত কাইয়ুম, জেএসডি সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন, গণঅধিকার পরিষদের সদস্য সচিব নুরুল হক নুর প্রমুখ।

জীবনের দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করলেন ক্রিকেটার সাইফুদ্দিন

বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করলেন ক্রিকেটার মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন।

বৃহস্পতিবার (২ মার্চ) দুপুরে ফেনী শহরের গ্র্যান্ড সুলতান কনভেনশন হলে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সারেন তিনি।

পরিবারের সদস্যদের পছন্দ করা পাত্রী কাজী ফাতেমাতুজ জাহরার সাথে সাইফুদ্দিন গাঁটছড়া বাঁধলেন। কনে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে অনার্স ভর্তির জন্য আবেদন করেছেন।

বিয়ে প্রসঙ্গে সাইফুদ্দিন বলেন, আমার পরিবারের মা-বোনের পছন্দই আমার পছন্দ। আমার বোন যাকে পছন্দ করেছে তাকেই বিয়ে করেছি। অতীতের পছন্দ ছিল কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে সাইফুদ্দিন বলেন, ‘প্লিজ নো কমেন্টস’।

সাইফ জীবনের দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করতে যাওয়ায় তার মা জহুরা বেগম ও বড় ভাই কফিল উদ্দিন সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন।

এর আগে বুধবার রাতে একই কনভেনশন হলে জমকালো হলুদ সন্ধ্যার আয়োজন করা হয়। পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি শহরের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে হলুদ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

জেল দিয়ে কি কোনোদিন কারো রাজনীতি বন্ধ করা যাবে, প্রশ্ন কৃষিমন্ত্রীর

বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া রাজনীতি করতে পারবেন বলে আগে যে বক্তব্য দিয়েছেন সেই বক্তব্যে অনড় কৃষিমন্ত্রী ড. মো: আব্দুর রাজ্জাক আবারো প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেছেন, জেল দিয়ে কি কোনোদিন কারো রাজনীতি বন্ধ করা যাবে?

বৃহস্পতিবার (২ মার্চ) সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

সাংবাদিকরা মন্ত্রীদের সাম্প্রতিক মন্তব্যের উল্লেখ করে প্রশ্ন করলে কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘রাজনীতির বিষয়টি বুঝতে হবে। আইনে যাই থাক। ইরানের খোমেনির রাজনীতি কি বন্ধ ছিল? বঙ্গবন্ধু জেলে থেকে রাজনীতি করেছেন না?’

‘এছাড়া কনভিকশন (দণ্ডিত) হয়নি, কনভিকশন হলেই কি বঙ্গবন্ধু রাজনীতি বন্ধ করে দিতেন? আমি সেই জায়গা থেকে বলেছি। জেলে বসেও তো রাজনীতি করা যায়। আমি তো সেই কথাটিই আপনাদের বলেছিলাম। আবারো বলছি।’

বৃহস্পতিবার নেদারল্যান্ডসের বৈদেশিক বাণিজ্য ও উন্নয়ন সহযোগিতা বিষয়ক সংসদীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ও সংসদ সদস্য পিম ভ্যান স্ট্রিয়েনের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলের সাথে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাজনীতি করা নিয়ে ফের বক্তব্য দেন।

তিনি বলেন, ‘সারা পৃথিবীতে তো বিদ্রোহী ও বিপ্লবীরা এভাবেই রাজনীতি করেছেন। খালেদা জিয়া ইলেকশনে যেতে পারবেন না, আইনের কারণে। কিন্তু তার রাজনীতির চিন্তা-চেতনা এগুলো কি তারা বন্ধ করে দেবে নাকি যে আমি রাজনীতি করবো না।’

কিন্তু আপনারা মন্ত্রিসভার সদস্যরা একমত হতে পারছেন না কেন- প্রশ্ন করলে কিছুক্ষণ চুপ করে থাকেন আব্দুর রাজ্জাক।

এরপর তিনি বলেন, ‘ক্যাবিনেট কলিগরা বলছেন কিভাবে? আমি ওনাদের সাথে কথা বলিনি, কী বলেছেন। আমাকে যদি কোনো কারণে জেল দেয়। লালু প্রসাদ কী রাজনীতি বন্ধ করেছেন?’

‘আমাদের ওবায়দুল কাদের সাহেবও তো বলেছেন, সে (খালেদা জিয়া) নির্বাচন করতে পারবেন না, আইন অনুযায়ী। সংবিধানে আছে দু’বছরের বেশি সাজা হলে নির্বাচন করা যাবে না। কিন্তু রাজনীতিটা আপনি বন্ধ করবেন কেমনে?’

সংসদে শেখ ফজলুল হক সেলিম বলেছেন, ‘খালেদা জিয়া রাজনীতি না করার জন্য মুচলেকা দিয়েছেন’- এ বিষয়ে আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘এটা আমি জানি না, কোথায় মুচলেকা দিয়েছেন খালেদা জিয়া। একটা জানি যে, তারেক জিয়া দিয়েছে। বিদেশে যাওয়ার আগে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে সে-ই দিয়ে গেছে।’

খালেদা জিয়া তো এখন নির্বাহী আদেশে মুক্ত আছেন- এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, ‘জেলে থেকেও তো একজন মানুষ যোগাযোগ রাখতে পারে। জেল দিয়ে কি কোনোদিন কারো রাজনীতি বন্ধ করা যাবে? যদি সে আদর্শবাদী রাজনীতিবিদ হয়, দেশপ্রেমিক হয়। গোপনে সে চিঠি লিখে পাঠালো-কর্মীদের নির্দেশনা দিলো। এটা করো, সেটা করো। আমি সেটা মিন করেছি। সেটা সে করতেই পারে।’

নির্বাচনের ১০ মাস আগে আওয়ামী লীগ এ ইস্যুটাকে সামনে আনলো কেন- জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের এ নেতা বলেন, ‘এটা খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু না। আমার মনে হয় এটা নিয়ে যেটুকু আলোচনা হয়েছে সেটা যথেষ্ট। আমি তো ভারতের দুটি উদাহরণ দিলামই।’

উল্লেখ্য, গত ২২ ফেব্রুয়ারি সচিবালয়ে কৃষিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের এ প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুর রাজ্জাক সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘খালেদা জিয়ার রাজনীতি করতে বাধা নেই। আইনমন্ত্রী আনিসুল হকও একই কথা বলেন। তবে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, খালেদা জিয়ার রাজনীতি করতে পারবেন না।

সূত্র : ইউএনবি

পাবনায় বাবার পিস্তল অবৈধভাবে প্রদশর্নের দায়ে মেয়রপুত্র আটক

অবৈধভাবে বাবার লাইসেন্সকৃত অস্ত্র প্রদর্শন করার অভিযোগে পাবনার ফরিদপুর পৌরসভার মেয়র ও আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি কামরুজ্জামান মাজেদের ছেলে কামরুল হাসান সুজয়কে (২৭) আটক করেছে পুলিশ। এ সময় লাইসেন্সকৃত পিস্তলটিও জব্দ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ মার্চ) দেড়টার দিকে ফরিদপুর পৌর মুক্তমঞ্চের সামনে থেকে তাকে আটক করা হয়।

আটক কামরুল হাসান সুজয় ফরিদপুর পৌর সদরের রাউত নাগদাপাড়া মহল্লার বাসিন্দা। তিনি ফরিদপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি ছিলেন।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে মেয়রের ছেলে কামরুল হাসান সুজয়ের সাথে উপজেলার পুঙ্গুলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাজেদুল ইসলামের বিরোধ চলে আসছে। বৃহস্পতিবার দুপর দেড়টার দিকে সাজেদুল উপজেলা পরিষদের পাশে এলে কামরুল লোকজন নিয়ে তার ওপর চড়াও হন। এ সময় সাজেদুল পালানোর চেষ্টা করলে কামরুল পিস্তল নিয়ে তাকে ধাওয়া করেন। এ সময় সাজেদুলের লোকজন তাকে
আটক করে পুলিশে খবর দেন। ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে কামরুলকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

জানা গেছে, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি পুঙ্গুলী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের একটি সমাবেশ হয়। সমাবেশে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও পৌর মেয়র উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশে ইউপি চেয়ারম্যান সাজেদুল ইসলামকে বক্তব্য দিতে দেয়া হয়নি। বিষয়টি নিয়ে পৌর মেয়র কামরুজ্জামানের সাথে কথা কাটাকাটি হয় তার। এ ঘটনায় সাজেদুলের ওপর
ক্ষিপ্ত হন মেয়রের ছেলে।

পুঙ্গুলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাজেদুল ইসলাম বলেন, মেয়রের ছেলে কামরুল হাসান সুজয় এলাকায় বিভিন্ন অপরাধের সাথে জড়িত। কথায় কথায় মানুষের বিরুদ্ধে অস্ত্র প্রদর্শন করে। মেয়র বাবার ক্ষমতার বলে পুরো উপজেলায় অপকর্ম করে বেড়ায়।

ফরিদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, পূর্ববিরোধের জেরে পৌর মুক্তমঞ্চের সামনে প্রতিপক্ষকে বাবার লাইসেন্সকৃত পিস্তল দিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন মেয়রপুত্র কামরুল হাসান সজয়। এ সময় তাকে আটক করে থানায় আনা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

সতীর্থদের ৩৫টি স্বর্ণের আইফোন উপহার দিলেন মেসি

আর্জেন্টিনার ৩৬ বছরের আক্ষেপ মিটিয়ে বিশ্বকাপ জিতিয়েছেন মহাতারকা লিওনেল মেসি। মিটিয়েছেন নিজের ক্যারিয়ারজোড়া আক্ষেপ। আজন্ম লালিত স্বপ্নপূরণে যাদের সাহায্য পেয়েছেন মেসি এবার তাদেরকেই উপহার দিচ্ছেন মেসি। যেনতেন উপহার নয়, একেবারে সোনায় মোড়ানো আইফোন।

আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম ‘ওলে’র এক প্রতিবেদনে জানা যায়, বিশ্বকাপজয়ী দলের খেলোয়াড় ও স্টাফ মিলিয়ে ৩৫ সদস্যের জন্য ২৪ ক্যারেটের সোনায় মোড়ানো আইফোন-১৪ অর্ডার করেছেন মেসি। বিশেষ এই আইফোনগুলোর জন্য মেসিকে গুনতে হচ্ছে ১ লাখ ৭৫ হাজার পাউন্ড, যা বাংলাদেশী টাকায় প্রায় ২ কোটি ৩০ লাখ টাকা।

আইফোনগুলোর ডিজাইনকারী সংস্থা আইডিজাইন ইতোমধ্যেই প্রকাশ করেছে বিশেষ সেই আইফোনের ছবি। ফোনগুলোর ডিজাইন করাও হয়েছে বিশেষভাবে। সোনার প্রলেপ দেয়া এই ফোনের পেছনে খোদাই করা আছে তিন তারকা সম্বলিত আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) লোগো, খেলোয়াড়ের নাম ও জার্সি নম্বর। এছাড়াও লেখা হয়েছে ‘বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন ২০২২’। সতীর্থদের উপহার দেয়ার পাশাপাশি নিজের জন্যও একই রকম আইফোন নিয়েছেন মেসি।

এছাড়া এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ পত্রিকা দ্য সান। সেখানে আইডিজাইন গোল্ডের সিইও বেন বলেছেন, ‘মেসি শুধু বড় তারকাই নন, তিনি আইডিজাইন গোল্ডের সবচেয়ে বিশ্বস্ত গ্রাহকদের একজন। বিশ্বকাপ ফাইনালের কিছুদিন পরই মেসি আমাদের সাথে যোগাযোগ করেছিলেন।’

তিনি আরো জানান, বিশ্বকাপ জয় বিশেষভাবে উদযাপন করতে চান বলে জানিয়েছিলেন মেসি। সতীর্থদের জন্য একটি বিশেষ উপহার দিতে চান তিনি। কিন্তু সাধারণ উপহার দিতে চান না। তাই আমি তাকে সোনার আইফোনের পরামর্শ দিয়েছিলাম। তিনিও এই বিষয়টি পছন্দ করেছিলেন।

‘আশা করব এবার ভারত সরকার আন্তরিক হয়ে দ্রুত আমাকে দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করবে’ সালাউদ্দিন আহমেদ

আশা করব, এবার ভারত সরকার আন্তরিক হয়ে দ্রুত আমাকে দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন আহমেদ। ভারতের একটি আদালত তাকে দেশে ফেরানোর নির্দেশ দেয়ার পর তিনি এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এর আগে মেঘালয়ের একটি নিম্ন আদালতও একই নির্দেশ দিয়েছিল। ওই নির্দেশের বিরুদ্ধে আপিল করেছিল মেঘালয় সরকার। তবে সেই আপিল খারিজ করে দিয়েছেন শিলংয়ের অ্যাডিশানাল ডেপুটি কমিশনারের আদালত।

আহমেদ বিবিসিকে বলেন, ‘আশা করব, এবার ভারত সরকার আন্তরিক হয়ে দ্রুত আমাকে দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করবে।’

মেঘালয়ের রাজধানী শিলংয়ে ২০১৫ সালের ১১ মে সকালে রহস্যজনক পরিস্থিতিতে তাকে উদ্ধার করা হয়েছিল। তার ঠিক দু’মাস আগে ২০১৫ সালের ১০ মার্চ ঢাকায় হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিলেন তিনি।

উদ্ধার হওয়ার পর কিছু দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন আহমেদ। তবে বৈধ কাগজপত্র ছাড়া ভারতে প্রবেশ করার অপরাধে তাকে গ্রেফতার করে বিদেশী আইনের ১৪ নম্বর ধারায় মামলা করে পুলিশ।

মেঘালয় সরকারের আপিল খারিজ
শিলংয়ের একটি আদালত ২০১৮ সালেই সালাউদ্দিন আহমেদকে বেকসুর খালাস ঘোষণা করে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু মেঘালয় সরকার ওই নির্দেশের বিরুদ্ধে আপিল করায় এত দিন মামলা চলছিল।

বুধবার বিবিসিকে সালাউদ্দিন আহমেদ বলছিলেন, ‘আমরা মামলার চূড়ান্ত রায় এখনো হাতে পাইনি। কিন্তু নির্দেশটা পেয়েছি। সরকারের আপিল খারিজ হয়ে গেছে। এরপরও প্রক্রিয়াগত কাজে কিছু সময় লাগবে সরকারের। কিন্তু আশা করব, ভারত সরকার এবার আন্তরিক হয়ে আমাকে দ্রুত দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করবে।’

তবে এই বিষয়ে এখনো মেঘালয় সরকারের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

দেশে ফেরার জন্য উদগ্রীব বলেও মন্তব্য করেন বিএনপির এই নেতা।

বাংলাদেশে নির্বাচন আসছে, তিনি কি আবার রাজনীতিতে ফিরে যাবেন, এমন প্রশ্নের উত্তরে আহমেদ বলেন, ‘আগে দেশে ফিরি। তারপর দেখা যাবে।’

রহস্যজনকভাবে ঢাকায় ‘নিখোঁজ’
আট বছর আগে ঢাকায় তিনি রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে যান।

আহমেদ বলছেন, ‘ডিবি পুলিশ আমাকে তুলে নিয়ে গিয়েছিল। দু’মাস আটক ছিলাম তাদের কাছেই। তারপর চোখ বেঁধে জবরদস্তি আমাকে নিয়ে আসা হয় এখানে। বাংলাদেশে তো এই সরকার আসার পরে আইনবহির্ভূত হত্যা-গুম নিয়মিতই হচ্ছে।’

মেঘালয়ের রাজধানী শিলং শহরে গল্ফ কোর্সের কাছে ২০১৫ সালের ১১ মে ভোরসকালে কে বা কারা আহমেদকে নামিয়ে দিয়ে চলে যায়।

ওখানে কর্তব্যরত এক ট্র্যাফিক পুলিশ কর্মী বিবিসিকে তখন বলেছিলেন যে ওই ব্যক্তি অচেনা জায়গায় কয়েকজনকে জিজ্ঞাসা করছিলেন যে এটা কোন জায়গা। তারপর তিনি নিজের পরিচয় দেন যে বাংলাদেশের সাবেক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য। নিজের নামও বলেন তিনি।

তারপর তাকে পুলিশ নিয়ে যায়। বেশ কিছু দিন তার চিকিৎসা চলে। অন্যদিকে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের অভিযোগে সালাউদ্দিন আহমেদকে গ্রেফতারও করা হয়।

তারপর জামিন পেয়ে শিলং শহরেই একটি বাড়িতে থাকেন সালাউদ্দিন আহমেদ। মাঝে আদালতের অনুমতি নিয়ে চিকিৎসা করাতে মেঘালয়ের বাইরেও গেছেন একাধিকবার।

বাংলাদেশ থেকে ভারতে কী করে আনা হলো?
এখন তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর নির্দেশ এলেও যে বিষয়টা এত বছর পরও রহস্যাবৃতই থেকে গেল, তা হলো, কারা ভারত বাংলাদেশ সীমান্ত পার করে আহমেদকে শিলংয়ে নিয়ে এসেছিল।

কোনো না কোনো জায়গা দিয়ে তাকে সীমান্ত পার করাতে হয়েছে। সেটা যদি শিলং থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূরের ডাউকি হয়, তাহলে বিএসএফ কেন দেখতে পেল না? আবার সীমান্ত থেকে গাড়িতে চাপিয়ে একজনকে নিয়ে আসা হলো। এতটা রাস্তাতে কি তবে কোথাও কোনো নজরদারি ছিল না?

আবার শিলংয়েই বা কেন নিয়ে আসা হয়েছিল, ওই প্রশ্নেরও জবাব পাওয়া যায়নি।

সূত্র : বিবিসি