Home Blog Page 631

ত্রিপুরার ক্ষমতায় ফের বিজেপি, বিরোধীদের ভোট ভাগেই এই সাফল্য

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে যে তিনটি রাজ্যে আজ বিধানসভার ভোট গণনা হয়েছে, তার সবগুলোতেই কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন বিজেপি ভোটের আগে বা পরে করা জোটের সঙ্গীদের নিয়ে ক্ষমতায় আসতে চলেছে। এই রাজ্যগুলো হলো- ত্রিপুরা, নাগাল্যান্ড ও মেঘালয়।

৬০ আসনের ত্রিপুরা বিধানসভায় বিজেপি ও তাদের জোটসঙ্গী আইপিএফটি ৩৩টি আসন পেয়ে গরিষ্ঠতা অর্জন করেছে, যদিও তা গতবারের ৪৪ আসনের চেয়ে অনেকটাই কম।

ত্রিপুরার রাজপরিবারের সদস্য প্রদ্যোত দেববর্মার নতুন দল তিপ্রা মোথা পেয়েছে ১৩টি আসন, আর বামপন্থী ও কংগ্রেসদের জোট মোট ১৪টি আসনে জিতেছে।

নাগাল্যান্ডে বিজেপি ১২টি ও তাদের পুরনো শরিক দল এনডিপিপি ২৫টি আসন পেয়েছে, ফলে ৬০ আসনের বিধানসভায় তারা সরকার গড়ছে অনায়াসেই। এনডিপিপি নেতা নেইফিউ রিও পঞ্চমবারের মতো রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন।

মেঘালয়ে ক্ষমতাসীন ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) সাথে বিজেপির জোট ভেঙে গিয়েছিল ভোটের আগেই, কিন্তু ভোটে একক গরিষ্ঠতা না-পাওয়ার পর এনপিপি নেতা ও মুখ্যমন্ত্রী কনরাড সাংমা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে ফোন করেন।

বিজেপি ও অন্য কিছু ছোট দলের সমর্থন নিয়ে কনরাড সাংমাই যে আবার মেঘালয়ে সরকার গড়বেন, সেটাও তখনই চূড়ান্ত হয়ে যায়।

ভারতে এই ২০২৩ সাল জুড়ে মোট ১০টি রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন হবে, এরপর আগামী বছরের প্রথমার্ধেই হবে দেশব্যাপী লোকসভা নির্বাচন।

বলা যেতে পারে, চলতি বছরে দেশে ভোটের মৌসুম শুরুই হলো এই তিনটি রাজ্য দিয়ে, আর তার ফলাফল অবশ্যই বিজেপির মনোবল বাড়াবে। অন্য দিকে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস এই তিনটি রাজ্যেই খুবই খারাপ ফল করেছে।

দিল্লিতে রাজনৈতিক বিশ্লেষক আমন শর্মার মতে, আজকের তিনটির রাজ্যের ফলাফলের মধ্যে ত্রিপুরার ফলাফল বিজেপির কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ – কারণ “তারা প্রমাণ করতে পেরেছে ২০১৮-তে বামপন্থীদের হারিয়ে তাদের ত্রিপুরায় জেতাটা কোনো ফ্লুক ছিল না!”

শর্মা বিবিসিকে আরো বলছিলেন, অতীতে বিভিন্ন রাজ্যে বহু বারই দেখা গেছে- যখনই রাজ্যে বিরোধী শক্তিগুলো জোট বেঁধে বিজেপির মোকাবিলা করেছে তখনই বিজেপি বেশ বেকায়দায় পড়েছে। ২০১৫ সালের বিহারের নির্বাচন ছিল এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ।

“ত্রিপুরাতেও এবার বিরোধী বামপন্থী ও কংগ্রেস জোট বেঁধে লড়েছিল, পাশাপাশি ছিল উপজাতীয়দের নতুন দল তিপ্রা মোথা। এই ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণেই সে রাজ্যে বিজেপির জেতা সম্ভব হয়েছে, গতবারের তুলনায় আসন কম পেলেও তারা রাজ্যে ক্ষমতা ধরে রাখতে পেরেছে”, বলছিলেন তিনি।

ভারতে যেসব রাজ্যে নির্বাচন আসন্ন, সেখানে বিজেপি-বিরোধী শক্তিগুলো যদি জোট বেঁধে লড়তে পারে তাহলে তারা বিজেপিকে বেগ দিতে পারবে – ত্রিপুরার ফলাফল সেটাই আরো একবার প্রমাণ করে দিল বলে পর্যবেক্ষকরা অনেকেই মনে করছেন।

সামনে এপ্রিল-মে মাসেই ভারতের আরেকটি বড় রাজ্য কর্নাটকে নির্বাচন, সেখানেও বিরোধী কংগ্রেস ও জনতা দল (সেকুলার) যাতে জোট বেঁধে ক্ষমতাসীন বিজেপির বিরুদ্ধে লড়তে পারে উভয় দলের পক্ষ থেকেই সে চেষ্টা চলছে।

আজকের ফলাফল প্রকাশের পর কংগ্রেসের একাধিক প্রথম সারির নেতা কর্নাটকেও জোট গড়ে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়ার কথা বলেছেন।

তাৎপর্যপূর্ণভাবে, পশ্চিমবঙ্গের সাগরদীঘি বিধানসভা আসনের নির্বাচনের উপনির্বাচনেও আজ বামপন্থী-সমর্থিত কংগ্রেস প্রার্থী বায়রন বিশ্বাস ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থীকে হারিয়ে আসনটি জিতে নিয়েছেন। সাগরদীঘিতে বিজেপি এসেছে তৃতীয় স্থানে।

বছরদুয়েক আগের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস বা বামপন্থী দলগুলোর একজন প্রার্থীও জিততে পারেননি – স্বাধীনতার পর রাজ্য বিধানসভায় কোনও কংগ্রেস বা বাম সদস্য নেই, সে ঘটনাও ঘটেছিল প্রথমবারের মতো।

বামপন্থীদের সঙ্গে জোট ধরে রেখে সেই শূন্যতা অবশেষে কাটানোর পর পশ্চিমবঙ্গে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী মন্তব্য করেছেন, “আজ প্রমাণ হয়ে গেল মমতা ব্যানার্জিও অপরাজেয় নন।”

অর্থাৎ শুধু ত্রিপুরাই নয়, পশ্চিমবঙ্গের সাগরদীঘিও এটাই প্রমাণ করল যে যেখানেই বিরোধী শক্তিগুলো একজোট হয়ে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে পারছে এবং বিরোধীদের মধ্যে ভোট ভাগ ঠেকাতে পারছে – সেখানেই শাসক দল সমস্যায় পড়ছে।

বিজেপির জন্য কিছুটা দু:সংবাদ বয়ে এনেছে মহারাষ্ট্রের কসবা পেঠ আসনের উপনির্বাচনও, যেখানে তাদের বিধায়ক মুক্তা তিরকের মৃত্যুতে আসনটি শূন্য হয়েছিল।

গত ২৮ বছর ধরে রাজ্যের এই আসনটি ছিল বিজেপির দখলে, কিন্তু আজ কংগ্রেসের প্রার্থী রবীন্দ্র ধাঙ্গেকর ১২ হাজার ভোটের ব্যবধানে বিজেপিকে হারিয়ে কসবা পেঠ জিতে নিয়েছেন।

মাসকয়েক আগেই একনাথ সিন্ধে শিবসেনায় ভাঙন ধরিয়ে বিজেপিকে সাথে নিয়ে ওই রাজ্যে নতুন সরকার গড়েছেন, ফলে কসবা পেঠ আসনের ফলাফল মহারাষ্ট্রের ক্ষমতাসীন জোটের কাছেও একটা বড় ধাক্কা।

সূত্র : বিবিসি

চিকিৎসা বিজ্ঞান গবেষণায় বিশেষ মনোযোগ দিতে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চিকিৎসা বিজ্ঞান গবেষণায় বিশেষ মনোযোগ দেয়ার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা চাই আমাদের গবেষণা সবসময়ই চলবে। কিন্তু একটা দুঃখের কথা না বলে পারি না, সেটা হলো আমাদের কৃষি গবেষণা চলছে, বিজ্ঞানের চলছে। কিন্তু আমাদের স্বাস্থ্য খাতে গবেষণা খুবই সীমিত। তাই চিকিৎসা বিজ্ঞানের গবেষণায় বিশেষ মনোযোগ দিন।’

আজ বৃহস্পতিবার সকালে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, বিজ্ঞানী, গবেষক ও ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে ‘বঙ্গবন্ধু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফেলোশিপ’, ‘এনএসটি ফেলোশিপ’ ও ‘বিশেষ গবেষণা অনুদান’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।

সরকার আধুনিক প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে শ্রমঘন শিল্প গড়ে তোলার মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিতে চায় বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

শেখ হাসিনা হতাশা ব্যক্ত করে বলেন, ডাক্তারদের একটি মহল এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জনের পর চিকিৎসা চর্চা ও গবেষণা বাদ দিয়ে সরকারি চাকরি অথবা রাজনীতিতে চলে যান। আর এক শ্রেণী আছেন তারা শুধু টাকা কামাতেই ব্যস্ত। একই সাথে সরকারি চাকরি এবং প্রাইভেটে প্র্যাকটিসও করেন। সরকারি চাকরি আর প্রাইভেট প্র্যাকটিসের পর সেখানে কিন্তু আর গবেষণা হয় না।

আমাদের স্বাস্থ্য বিষয়ক গবেষণা খুব দরকার। স্বাস্থ্য বিজ্ঞানের গবেষণা খুবই সীমিত কয়েকজন করেন। তবে তার বার বার বলার ফলে কিছুটা অগ্রগতি হয়েছে, আরো বেশি দরকার বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

পরিবর্তিত বিশ্বে প্রযুক্তির সাথে খাপ খাওয়ানোর বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে সরকার প্রধান বলেন, প্রযুক্তির প্রতিনিয়ত পরিবর্তন হচ্ছে এবং নতুন থিওরি চতুর্থ শিল্প বিপ্লব এসে গেছে। এর ফলে আমাদের লোকবল হয়তো কম লাগবে। কিন্তু প্রযুক্তিকে যথাযথভাবে ব্যবহার করতে হবে। তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে এবং সেজন্য আমাদের দক্ষ জনশক্তি দরকার।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আবার আমরা সম্পূর্ণ সেদিকেও যেতে চাই না। আমরা শ্রমঘন শিল্পও করতে চাই। কারণ আমাদের বিশাল জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও করতে হবে। এই দুটি মিলিয়ে আমাদের দেশকে কিভাবে এগিয়ে নিতে পারি সেই চিন্তাই সবার মাথার মধ্যে থাকতে হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, সরকারের দক্ষ বিজ্ঞানী দরকার। আর সেদিকে লক্ষ্য রেখেই তারা গবেষণার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। দক্ষ বিজ্ঞানী ও প্রযুক্তিবিদ সৃষ্টির লক্ষ্যে দেশে বিদেশে বিজ্ঞান ও প্রযুক্ত গবেষণা এবং অধ্যয়নের জন্য এমএস, এমফিল, পিএইডডি উত্তর প্রোগ্রামে বঙ্গবন্ধু ফেলোশিপ দিচ্ছেন। ২০১০ থেকে ২০২২-২৩ অর্থবছর পর্যন্ত ৬৮২ জনকে প্রায় ২৬৮ কোটি ৭০ লাখ টাকার ফেলোশিপ দেয়া হয়েছে। এছাড়া এমফিল, পিএইচডি ও পিএইচডি উত্তর পর্যায়ে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফেলোশিপ দেয়া হচ্ছে। এই ফেলোশিপের আওতায় ২০০৯-১০ থেকে এ পর্যন্ত ২৫ হাজার ৭০১ জন গবেষককে প্রায় ১৫৭ কোটি ৫১ লাখ টাকার বৃত্তি বা অনুদান দেয়া হয়েছে। এটা শুধু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় থেকে। পাশপাশি প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট থেকেও ফেলোশিপ-বৃত্তি-উপবৃত্তি দেয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, ফেলোশিপের পাশাপাশি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি গবেষণা উন্নয়ন কাজে উৎসাহ প্রদানে বিজ্ঞানী ও গবেষকদের মাঝে বিশেষ অনুদান দেয়া হচ্ছে। ২০০৯-১০ থেকে চলতি অর্থবছর পর্যন্ত পাঁচ হাজার ৫২১টি প্রকল্পের অনুকূলে ১৭৭ কোটি ৫৪ লাখ টাকা গবেষণা অনুদান দেয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি আশা করি যারা এই গবেষণা বা ফেলোশিপের জন্য অনুদান পেয়েছেন আপনারা একটু আন্তরিকতার সঙ্গে গবেষণা করবেন। আমি জানতেও চাই আপনারা কী কী উদ্ভাবন করলেন বা তা আমাদের দেশে কতটুকু কাজে লাগবে। আসলে গবেষণার কোনো শেষ নেই।

অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব জিয়াউল হাসান।

সূত্র : বাসস

বিশ্ব উষ্ণায়ন কমাতে জি-২০ দেশগুলোকে যেসব পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান ঢাকার

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বিশ্ব উষ্ণায়নের প্রবণতা কমাতে এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় অর্থায়ন ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের বৈশ্বিক প্রতিশ্রুতি পূরণের জন্য জি-২০ দেশগুলোকে সংশোধনমূলক পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি ২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজি অর্জনের জন্য পর্যাপ্ত তহবিল বরাদ্দ এবং বাস্তবায়নের উপায় বের করার জন্য জি-২০ নেতৃত্বের প্রতি আহ্বান জানান।

বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লিতে জি-২০ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে (জি-২০এফএমএম) এ কথা বলেন মোমেন।

তিনি বলেন, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘জিরো-টলারেন্স’ নীতি এই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে অবদান রাখছে।

বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের দীর্ঘস্থায়ী উপস্থিতির কারণে ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা হুমকি এড়াতে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে দ্রুত প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান মোমেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী সমসাময়িক মুদ্রাস্ফীতি, খাদ্য ও জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি, বাণিজ্য ও সরবরাহ শৃঙ্খলে ব্যাঘাত এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক কাঠামোতে অস্থিতিশীলতা বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের প্রভাব নিয়েও আলোচনা করেন।

সাইডলাইনে মিটিং 
এর আগে সকালে, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর জি-২০এফএমএম এর আগে রাষ্ট্রপতি ভবনের সাংস্কৃতিক কেন্দ্র প্রাঙ্গণে মোমেনকে স্বাগত জানান।

বিকেলে মোমেন জি-২০এফএমএম -এর সাইডলাইনে ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্যাথরিন কোলোনা, স্পেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোসে ম্যানুয়েল আলবারেস এবং দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্র বিষয়ক উপমন্ত্রী লি দো-হুনের সঙ্গে দেখা করেন।

বৈঠকের সময়, তারা দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতাকে আরো গভীর করার এবং চলমান ভূ-রাজনৈতিক সমস্যা মোকাবিলার উপায় ও ধরন নিয়ে আলোচনা করেন।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অন্যান্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাথে একটি গ্রুপ কলে যোগ দেন।

এছাড়াও, তিনি মিসর, রাশিয়া, সৌদি আরব, সিঙ্গাপুর, তুর্কিয়ে, যুক্তরাজ্য, জাপান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সাথেও অনানুষ্ঠানিক আলাপচারিতা করেছিলেন।

মোমেনের ভূরাজনীতি এবং ভূ-কৌশলের উপর রাইসিনা সংলাপের অষ্টম আসরের উদ্বোধনী অধিবেশনে যোগ দেয়ার আশা করা হচ্ছে, ভারতের প্রধান সম্মেলন, যা প্রধানমন্ত্রী মোদি উদ্বোধন করবেন।

সংলাপের উদ্বোধনের পর তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রীর দেয়া নৈশভোজে যোগ দেবেন।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তার ভারতীয় প্রতিপক্ষের আমন্ত্রণে জি-২০ এফএমএম-এ যোগ দিতে নয়াদিল্লিতে রয়েছেন।

বৈঠকে জি-২০ সদস্য ও অতিথি দেশগুলোর প্রায় সব পররাষ্ট্রমন্ত্রী অংশ নেন।

সূত্র : ইউএনবি

রমজানে নিত্যপণ্য : বাজারে সরবরাহ কতটুকু

রমজান উপলক্ষে দেশে যেসব পণ্যের চাহিদা বাড়ে সেসব পণ্যের সরবরাহে আর কোনো ঘাটতি নেই বলে জানিয়েছে জাতীয় ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদফতর।

সংস্থাটির মহাপরিচালক এ এইচ এম সফিকুজ্জামান বিবিসিকে বলেছেন, রমজান মাসের পরেও এসব পণ্যের কোনো ঘাটতি হবে না।

পাইকারি বাজারের ব্যবসায়ীরাও জানিয়েছেন, রোজায় চাহিদা বাড়ে এমন পণ্যের ব্যাপক সরবরাহ রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে কিছু পণ্যের দামও কমেছে।

আমদানিকারকরা অবশ্য বলছেন, পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে ডলার সংকট এবং এলসি খোলার বিষয়ে এখনো কিছু কিছু সমস্যার মুখে পড়ছেন তারা।

রমজান মাসে বাংলাদেশে যেসব পণ্যের চাহিদা বাড়ে তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে- খেজুর, ছোলা, ডাল, তেল, চিনি, পেঁয়াজ ইত্যাদি।

এর মধ্যে পেঁয়াজ ও ডাল কিছু পরিমাণে দেশে উৎপাদিত হলেও বাকি পণ্যগুলোর বেশিরভাগই বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা হয়।

ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের জের ধরে গত বছরের শুরু থেকে বাংলাদেশের বাজারে এসব পণ্য বিশেষ করে ভোজ্যতেলের দাম ব্যাপকভাবে বেড়ে গিয়েছিল।

ডলারের বাজার স্থিতিশীল রাখতে গত বছরের এপ্রিল থেকে জ্বালানি, শিশুখাদ্য, ওষুধের মতো অত্যাবশ্যকীয় পণ্য ছাড়া বাকি সব পণ্যের আমদানিতে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছিল। এরপর আরো কয়েক দফায় বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানিও কঠোর করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

এর জের ধরে ফেব্রুয়ারির শুরুর দিকেও বাজারে রমজান উপলক্ষে চাহিদা বাড়ে এমন বেশিরভাগ পণ্যেরই ঘাটতি থাকার কথা জানা যায়। যদিও সরকার তখনো এই ঘাটতির কথা অস্বীকার করেছিল।

‘ঘাটতি নেই’
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের মহাপরিচালক এ এইচ এম সফিকুজ্জামান বলেন, রমজান মাসের সব পণ্যের সরবরাহ ঠিক রয়েছে এবং এগুলোর পর্যাপ্ত মজুদও রয়েছে।

এর আগে পণ্য ঘাটতির যেসব বিষয় ছিল সেগুলোর সমাধান করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পণ্য আমদানির বিষয়ে কোনো বাধা নেই।

তিনি বলেন, এর আগে পণ্য পরিবহনের জন্য জাহাজের সংকট, এলসি খোলা নিয়ে সমস্যা- এগুলো এরইমধ্যে সমাধান হয়ে গেছে।

এ কারণেই ভোজ্যতেলের দাম কমেছে বলে জানান তিনি। উদাহরণ হিসেবে বলেন, এক লিটার তেলের যে বোতলের দাম ২৫০ টাকা ছিল সেটি এখন ১৭৮ টাকায় নেমে এসেছে।

অবশ্য বাংলাদেশ ট্রেডিং করপোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি বোতলজাত সয়াবিন তেল প্রতি কেজি ১৮০ থেকে ১৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক বছর আগে দাম ছিল কেজিপ্রতি ১৬৫ থেকে ১৭০ টাকা।

আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কিছুটা কমার কারণেই স্থানীয় বাজারেও দাম কমেছে বলে জানান তিনি।

এছাড়া তেলের যে মজুদ আছে তা দিয়ে প্রায় আড়াই মাসের মতো চলবে বলেও জানানো হয়।

চিনির বাজার বেশ কিছুদিন ধরে গরম থাকলেও সফিকুজ্জামান বলেন, ২৬ ফেব্রুয়ারি সরকার চিনি আমদানির উপর থেকে শুল্ক পাঁচ শতাংশ কমানোর কারণে চিনির দামও কেজিপ্রতি কিছুটা কমবে। প্যাকেটজাত চিনি কেজিপ্রতি ১১২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে বলেও জানা যায়।

‘আমাদের যেটা ফিক্সড ডিউটি ছিল রিফাইন্ড সুগারের ক্ষেত্রে প্রতি পাঁচ টনে ৬ হাজার টাকা এবং র সুগারের ক্ষেত্রে ৩ হাজার টাকা, আর এসডি (নিয়ন্ত্রণ শুল্ক) ছিল ৩০ শতাংশ ওখানে ২৫ শতাংশ করা হয়েছে।’

‘আমার ধারণা, চিনি নিয়ে যে একটু শঙ্কা ছিল সেটিও কেটে যাবে,’ বলেন তিনি।

টিসিবির তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার ঢাকার বাজারে চিনি প্রতিকেজি ১১০ টাকা থেকে ১২০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশে চিনির চাহিদা বছরে ১৮ থেকে ২০ লাখ টন। রোজায় এই চাহিদা তিন লাখ টনের মতো। দেশে উৎপাদিত হয় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টন চিনি।

ছোলা ও খেজুরের বিষয়ে ভোক্তা অধিদফতর বলছে, রোজার জন্য যে চাহিদা রয়েছে তার পুরোটাই দেশে রয়েছে। তবে গত বছরের তুলনায় এগুলোর দাম কিছুটা বাড়তি থাকার কারণ হিসেবে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধি এবং ডলারের দাম বৃদ্ধিকে তুলে ধরা হয়।

টিসিবির তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার ঢাকার বাজারে ছোলা মানভেদে ৮৫ টাকা থেকে ৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। গত বছরের তুলনায় এই দাম কমপক্ষে ১০ শতাংশ বেশি।

‘ভারত থেকে পণ্য আসছে’
চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে চিনি, তেল আর গমের পাইকারি ব্যবসা করেন এমন একজন ব্যবসায়ী জানান, চিনি আর তেলের পর্যাপ্ত পরিমাণ সরবরাহ রয়েছে।

সয়াবিন তেল মণপ্রতি পাইকারি বাজারে ৬ হাজার ৫০০ টাকা এবং খুচরা বাজারে ৬ হাজার ৭০০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। আর পাম ওয়েল খুচরা বাজারে মণপ্রতি ৫ হাজার টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বাজারে পামওয়েল কেজিপ্রতি ১৩৪ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে।

চিনিও পর্যাপ্ত আছে উল্লেখ করে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এই ব্যবসায়ী জানান, পাইকারি বাজারে চিনি প্রতি মণ ৩ হাজার ৯২০ টাকা থেকে শুরু করে ৩ হাজার ৯৪০টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। আর খুচরা বাজারে ৪ হাজার ১০০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে।

দেশে এরইমধ্যে নতুন চিনি উৎপাদিত হওয়ার পর সেগুলো বাজারে এসেছে। এ বছর ৪০ থেকে ৫০ হাজার টন চিনি উৎপাদিত হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।

এছাড়া ভারত থেকে চিনি আসার কারণেও চিনির দাম কিছুটা কমেছে বলে জানান এই ব্যবসায়ী। গত ১৫-২০ দিন আগে থেকে তারা ভারতীয় চিনি বাজারে বিক্রি করছেন বলে তিনি জানিয়েছেন।

তবে এখনো আন্তর্জাতিক বাজার থেকে পণ্য কিনতে ঝামেলা পোহাতে হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ডলার সংকটের কারণে এলসি খুলতে অনেক সময় ঝামেলা হচ্ছে।

খাতুনগঞ্জে ছোলা এবং বিভিন্ন ধরনের ডাল ও মশলার পাইকারি ব্যবসা করেন আজিজুল হক। তিনি বলেন, বেশ কিছু দিন ধরে বাজারে ছোলার ঘাটতি থাকলেও এখন কোনো ঘাটতি নেই।

ভারতীয় ছোলায় বাজার ছেয়ে গেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মানভেদে বিভিন্ন ছোলা মণপ্রতি অন্তত ২০০ টাকা করে কমেছে।

দেশে তেমন কোনো ছোলা উৎপাদিত হয় না উল্লেখ করে আজিজুল হক বলেন, বেশিরভাগ ছোলাই অস্ট্রেলিয়া থেকে আমদানি করা হয়। আর কিছু আসে বার্মা বা মিয়ানমার থেকে। তবে মিয়ানমার থেকে আনা ছোলার দাম বেশি বলে জানান তিনি।

এর আগে ভারত থেকে কখনো ছোলা আসেনি উল্লেখ করে তিনি জানান, ‘তানজানিয়া থেকে কম দামে কিনে এনে ভারত আমাদের কাছে বেশি দামে বিক্রি করছে।’

এই ছোলা বিক্রি হচ্ছে মণপ্রতি ২ হাজার ৯০০ টাকা করে।

এলসি সমস্যা শেষ?
যদিও সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে আমদানির জন্য এলসি খোলার বিষয়গুলো সমাধানে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আমদানিকারকরা বলছেন, এলসি খোলা নিয়ে এখনো বিভিন্ন ব্যাংকে নানা জটিলতার মুখে পড়ছেন তারা।

পাইকারি ব্যবসায়ীরাও জানিয়েছেন, ডলার সংকটের কারণে এলসি খোলা ব্যাহত হচ্ছে।

বিভিন্ন ধরনের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানি করে এমন একটি প্রতিষ্ঠান বিএসএম গ্রুপের চেয়ারম্যান আবুল বশর চৌধুরী বলেন, ডাল, সরিষা, গম আমদানি করলেও পর্যাপ্ত পরিমাণ আমদানি করতে পারেননি তারা।

ডলারের দুষ্প্রাপ্যতার কারণে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে বলা হচ্ছে এক বছর বা ১৮০ দিন আগে এলসি খোলার কথা। এছাড়া এলসি খুলতে গেলে ১০০ ভাগ মার্জিন চাওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

আবুল বশর চৌধুরী বলেন, ১০০ ভাগ মার্জিন দিয়ে আসলে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস আনা সম্ভব নয়।

এলসি মার্জিন হচ্ছে, কোনো পণ্য আমদানি করতে হলে গ্রাহককে পণ্যমূল্যের একটি অংশ ব্যাংকে জমা দিতে হয় যাকে এলসি মার্জিন বলে। এটা ব্যাংকের সাথে গ্রাহকের ব্যবসায়িক সম্পর্কের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়।

তবে এর আগে ২০২২ সালের ডিসেম্বরে রমজান উপলক্ষে ভোজ্যতেল, ছোলা, ডাল, মটর, পেঁয়াজ, মশলা, চিনি ও খেজুরের মতো আটটি পণ্যের আমদানিতে এলসি খোলার ক্ষেত্রে নগদ মার্জিনের হার ব্যাংক-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে ন্যূনতম রাখার নির্দেশ দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক।

তবে ডালের মতো পণ্যের দাম আন্তর্জাতিক বাজারে তুলনামূলক কমেছে বলে জানিয়েছেন এই আমদানিকারক। তবে সেটি এখনো ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ-পূর্ববর্তী অবস্থায় ফিরে যায়নি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তার মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলেও তার মাত্রা এতই নগণ্য যে এর প্রভাব দেশীয় বাজার পর্যন্ত আসবে না। এ পেছনে রয়েছে নানা কারণ। একদিকে ডলারের দাম উঠানামার বিষয় যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে ব্যাংকের নানা ধরনের নতুন চার্জ আরোপের বিষয়।

সূত্র : বিবিসি

বঙ্গবন্ধুর সময়ে চালু হওয়া বাংলাদেশ-ভারত নৌপথ বাণিজ্য কার্যকর রয়েছে : নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী

নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সময়ে (১৯৭২ সালে) প্রটোকল অন ইনল্যান্ড ওয়াটার ট্রানজিট অ্যান্ড ট্রেড (পিআইডব্লিউটিটি)-এর অধীনে বাংলাদেশ-ভারত নৌপথে বাণিজ্য শুরু হয়েছিল; যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সময়েও কার্যকর রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ‘এমভি গঙ্গা বিলাস’ ভারত থেকে যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশ হয়ে নৌপ্রটোকল রুট ব্যবহার করে আসামে পৌছেছে।

প্রতিমন্ত্রী মঙ্গলবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) আসামের দিব্রুগড়ে ভারতীয় পর্যটন জাহাজ ‘এমভি গঙ্গা বিলাস’-এর রিভার ক্রুজ সমাপ্তি উপলক্ষে আয়োজিত অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন।

ভারতের পোর্টস, শিপিং ও ওয়াটারওয়েজ এবং আয়ুষ বিষয়ক মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল সেখানে প্রতিমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ে রক্ত দিয়ে তৈরি। ৫০ বছর ধরে এ সম্পর্ক বিদ্যমান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সময়ে এ সম্পর্ক অন্যরকম উচ্চতায় চলে গেছে। স্থল পথেও স্থলবন্দরগুলোর মাধ্যমে দু‘দেশের যাত্রী ও পণ্য পরিবহন অব্যাহত আছে।

উল্লেখ্য, ভারতের পর্যটকবাহী নৌযান ‘এমভি গঙ্গা বিলাস’ গত ৩ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের জলসীমানায় প্রবেশ করে এবং ১৭ ফেব্রুয়ারি ‘গঙ্গা বিলাস’ বাংলাদেশের সীমানা অতিক্রম করে। প্রতিমন্ত্রী ৪ ফেব্রুয়ারি মোংলা বন্দরে ‘এমভি গঙ্গা বিলাস’ এর যাত্রিদের অভ্যর্থনা জানান। ওই দিন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার উপস্থিত ছিলেন। বিলাসবহুল ‘গঙ্গা বিলাস’ ভারতের উত্তর প্রদেশের বারাণসী থেকে ১৩ জানুয়ারি যাত্রা শুরু করেছে। ওই দিন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ভার্চুয়ালি ‘গঙ্গা বিলাস’ এর যাত্রা উদ্বোধন করেন। ‘এমভি গঙ্গা বিলাস‘ বাংলাদেশে আগমন উপলক্ষে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) বাংলাদেশের জলসীমায় সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে। স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) অনুযায়ি প্রটোকল রুটের নাব্যতা রক্ষা, বার্দিং সুবিধা নিশ্চিতকরণ ও নৌপথ ব্যবহারের জন্য ভয়াজ পারমিশন প্রদান এবং ভয়াজ পারমিশনের সার্বিক মনিটরিংয়ের দায়িত্বে ছিল বিআইডব্লিউটিএ। প্রটোকলের সাথে সামঞ্জস্য রেখে যাত্রী ও পর্যটকবাহী নৌযান চলাচলের লক্ষ্যে ২০১৫ সালে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে কোস্টাল এবং প্রটোকল রুটে যাত্রি ও ক্রুজ সার্ভিস চালুর লক্ষ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।

সূত্র : বাসস

আজ থেকে মেঘনায় মাছ ধরা নিষেধ

মেঘনা নদীতে আজ ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত দু’মাস সব ধরনের মাছ শিকার নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। একই সময় ওই এলাকায় নদীর মাছ কেনা-বেচা, মজুত ও পরিবহনের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

মৎস্য সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী মৎস্য অধিদফতর এ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এ উপলক্ষে লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে সম্প্রতি জেলা মৎস্য অধিদফতরের আয়োজনে জেলা টাস্কফোর্স কমিটির সভায় ইলিশ সম্পদ রক্ষায় বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

সভায় জানানো হয়, ইলিশ সম্পদ উন্নয়নে জাটকা সংরক্ষণ ও ইলিশ মাছের বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২০০৬ সাল থেকে জেলার রামগতি উপজেলার চর আলেকজান্ডার থেকে চাঁদপুরের ষাটনল পর্যন্ত মেঘনার নদীর ১০০ কিলোমিটার ইলিশের অভয়াশ্রম হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

জেলা মৎস্য অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, মেঘনার অভয়াশ্রমে মাছ ধরা বন্ধ রাখার জন্য জেলেপল্লীসহ মাছঘাট এবং নদীর তীরবর্তী এলাকায় বিভিন্ন হাটবাজারে সচেতনতামূলক সভা, লিফলেট, পোস্টার, ব্যানার ও মাইকিং করার মাধ্যমে এলাকায় প্রচার-প্রচারণাও চালানো হচ্ছে। এছাড়া মাছ ধরা প্রতিরোধের জন্য মোবাইল কোর্টও পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, প্রতিবছর মার্চ ও এপ্রিল দু’মাস উল্লেখিত অভয়াশ্রমে ইলিশসহ সব ধরনের মাছ আহরণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকে। এ সময় ইলিশের অভয়াশ্রমসমূহে ইলিশসহ সকল প্রকার মাছ ধরা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। মৎস্য সুরক্ষা ও আইন ১৯৫০-এর ধারা ৩-এর উপধারা ৫ আইন অমান্যকারীকে কমপক্ষে এক বছর থেকে সর্বোচ্চ দু’বছরের সশ্রম কারাদণ্ড অথবা পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

নদীতে মাছ ধরা থেকে বিরত থাকতে ফেব্রুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত ৪ মাস জেলে পরিবারগুলোকে ৪০ কেজি করে চাল দেয়া হবে। জেলার নিবন্ধিত ২৮ হাজার ৩৪৪ জেলে পরিবারের জন্য চার হাজার ৫৩৫ টন চাল বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। এছাড়া নিষিদ্ধকালীন বিকল্প কর্মসংস্থান হিসেবে ২০টি আদর্শ গ্রামে জেলেদের ২০টি গ্রুপ করে গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগিসহ বিভিন্ন বিষয়ের উপর প্রশিক্ষণ দিয়ে প্রত্যেক গ্রুপকে ১০ লাখ টাকা করে সুদ মুক্ত ক্ষুদ্র ঋণ দেয়া হয়েছে।

ইলিশ জেলেদের প্রশিক্ষণ দিয়ে ইতোমধ্যে ১৬০টি বকনা গরু বিতরণ করা হয়েছে এবং আরো পাঁচ শতাধিক বকনা গরু বিতরণ করা হবে বলে জানান এ কর্মকর্তা।

তিনি আরো বলেন, প্রশাসন ও কোস্টগার্ড, নৌপুলিশ ও মৎস্য বিভাগ যৌথভাবে নদীতে অভিযান পরিচালনা করবে।

জেলা প্রশাসক মো: আনোয়ার হোছাইন আকন্দ বলেন, আগামী দু’মাস লক্ষ্মীপুরের মেঘনা নদীতে সকল ধরনের মাছ ধরা বন্ধ রাখার ব্যাপারে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। আইন ভঙ্গ করে নদীতে মাছ শিকার করলে অভিযান করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এছাড়া জেলেদের মাঝে চাল বিতরণ করার সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের উপস্থিতিতে বিতরণ করার জন্য তিনি সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

সূত্র : বাসস

‘মোগলরা যদি এতই শয়তান, ভেঙে ফেলুন তাজমহল-লালকেল্লা’

অভিনয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন মন্তব্যের জেরে প্রায়ই আলোচনায় আসেন বলিউড অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ। স্বামীকে সারাক্ষণ আগলে রাখেন রত্না পাঠক শাহ। মুসলিম-বিদ্বেষের জেরে প্রাণ সংশয় হতে পারে, এমন আশঙ্কাও প্রকাশ করেছিলেন অভিনেত্রী। তবুও আটকে রাখা গেল না নাসিরুদ্দিন শাহকে। মনের ভাবনা জোর গলায় বলেই ফেললেন তিনি।

সামনেই মুক্তি পেতে চলেছে নাসিরুদ্দিন শাহ অভিনীত ‘তাজ – ডিভাইডেড বাই ব্লাড (Taj – Divided by Blood)।’ জি ফাইভের এই সিরিজে মোগল সম্রাট আকবের চরিত্রে রয়েছেন নাসিরুদ্দিন শাহ। সিরিজ মুক্তির আগে বোমা ফাটালেন বর্ষীয়ান এ অভিনেতা। তার সাফ কথা- ‘মোগলরা যদি এতই শয়তানের মতো কাজ করে থাকেন, তাহলে তাদের তৈরি লালকেল্লা, তাজমহল ভেঙে ফেলুন।’

এ অভিনেতার মতে, মোগলদের মহিমান্বিত করার দরকার নেই, কিন্তু তাদের অপমান করাও উচিত নয়।

ঠিক কী বলেছেন নাসিরুদ্দিন শাহ?
নাসিরুদ্দিন শাহ বলেন, ‘ইদানীংকালে বেশিরভাগ সময়ই ভারতের ইতিহাসকে ভুলভাবে ব্যাখা করা হচ্ছে। বহুদিন ধরেই এই প্রবণতা বেশ স্পষ্ট। ভারতীয় ইতিহাসে মোগলদের খলনায়ক হিসেবে দেখানো হচ্ছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমার অবাক লাগে, এটা একদম হাস্যকর যে মানুষ আকবর এবং হত্যাকারী নাদির শাহ অথবা তৈমুরের ফারাক বোঝে না। ওরা ভারতকে লুট করতে এসেছিল কিন্তু মোগলরা তো তা করেননি। মোগলরা ভারতে এসে সেখানে নিজেদের বসতি গড়ে তুলেছেন। আর তাদের যা অবদান সেটা আপনি অস্বীকার করতে পারবেন?’

নাসিরুদ্দিন শাহ বলেন, ‘ইতিহাস চেতনার অভাব দেশে বাড়ছে। অতীতকে নিন্দার চোখে দেখছে দেশবাসীর একটা অংশ, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।’

বিরক্তিকর কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘যদি মোগলদের সবই খারাপ, তাহলে তাজমহল, লাল কেল্লা, কুতুব মিনার- সব ভেঙে দিন। আমরা কেন লাল কেল্লাকে পবিত্র বলি? সেটা তো মোগলদের তৈরি।’

এই প্রথম নয়, এর আগেও মোগল সম্রাটদের নানা গুণগান করেছেন নাসিরুদ্দিন শাহ। বছর দেড়েক আগে তাকে বলতে শোনা গিয়েছিল, ‘মোগলদের নৃশংসতা নিয়ে প্রায়শয়ই চর্চা করা হয়। কিন্তু আমরা ভুলে যাই মোগলরা সেই মানুষ, যাদের অবদান অনস্বীকার্য এই দেশের উন্নয়নে। মোগলরাই ভারতের চারিদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা প্রসিদ্ধ স্থাপত্যগুলো গড়ে তুলেছে। নাচ, গান, আঁকা, সাহিত্য- সব ক্ষেত্রে মোগলদের অবদান রয়েছে। এটাকে তারা নিজেদের মাতৃভূমি হিসাবে গড়ে তুলেছে, চাইলে আপনারা তাদের উদ্বাস্তু বলতেই পারেন।’

‘তাজ – ডিভাইডেড বাই ব্লাড’ সিরিজে নাসিরুদ্দিন শাহ ছাড়াও শেহজাদা সেলিমের চরিত্রে রয়েছেন আসিম গুলাটি, তাহা শাহ রয়েছেন শেহজাদা মুরাদের ভূমিকায়। অদিতি রাও হায়দারিকে দেখা যাবে আনারকলি হিসেবে, ধর্মেন্দ্র থাকছেন সেলিম চিস্তির ভূমিকায়।

জি-ফাইভে আগামী ৩ মার্চ মুক্তি পাবে এই সিরিজ।

সূত্র : ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, হিন্দুস্তান টাইমস

মস্কোর কাছে গুলি করে নামালো ইউক্রেনের ড্রোন

মঙ্গলবার রাশিয়ার মস্কো থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরে একটি ড্রোনকে গুলি করে নামিয়েছে রাশিয়ার সেনা। যে অঞ্চলে ড্রোনটিকে গুলি করে নামানো হয়েছে, তার পাশেই রাশিয়ার তেল ও গ্যাস সরবরাহকারী সংস্থা গ্যাসপ্রমের একটি ডিপো। তবে রাশিয়ার সংবাদসংস্থাকে গ্যাসপ্রম জানিয়েছে, তাদের ডিপোয় কোনো ক্ষতি হয়নি।

মস্কোর গভর্নর আন্দ্রেই ভরোবাইঅভ জানিয়েছেন, ড্রোনটি ইউক্রেনের। কোলামনা অঞ্চলে গ্যাসপ্রমের ডিপো ও একটি বেসামরিক কাঠামো ধ্বংস করার জন্যই ড্রোনটি পাঠানো হয়েছিল বলে তার দাবি। তবে তার আগেই রাশিয়ার সেনা ড্রোনটিকে গুলি করে নামিয়ে নেয়।

রাশিয়ার ভিতর কোনো আক্রমণই এখন পর্যন্ত স্বীকার করেনি ইউক্রেন। এর আগে সীমান্ত অঞ্চলে সেনাঘাঁটিতে ড্রোন আক্রমণ হয়েছে। তার দায়ও ইউক্রেন স্বীকার করেনি। স্বাভাবিকভাবেই এই ঘটনা নিয়েও ইউক্রেন কোনো মন্তব্য করেনি।

রাশিয়া অবশ্য ড্রোনটির মডেল ও নম্বর প্রকাশ করেছে। ইউজে-২২ এয়ারবর্ন মেকের ড্রোনটি মূলত ইউক্রেনই ব্যবহার করছে বলে রাশিয়ার দাবি। ইউক্রেনের ‘উকারজেট সংস্থা’ ওই ড্রোনগুলো তৈরি করে।

ইউক্রেন প্রশাসনের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, ‘রাশিয়ার ভিতর প্রায় ৫০০ কিলোমিটার দূর পৌঁছে গেছিল ড্রোনটি। এরপর রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন নিশ্চই ঘর থেকে বার হতে ভয় পাবেন। যেকোনো সময় তার সামনে ড্রোন পৌঁছে যেতে পারে।’

মঙ্গলবার রাতে রাশিয়ার সেনা দাবি করেছে যে একটি নয়, দুটি ড্রোনকে দক্ষিণ রাশিয়ায় গুলি করে নামিয়েছে। অন্য ড্রোনটির তথ্য অবশ্য এখনো দেয়া হয়নি। প্রথম ড্রোনটির একটি ছবি প্রকাশ করেছে রাশিয়া। সেখানে দেখা যাচ্ছে, বরফ ঢাকা রাস্তায় ড্রোনটি পড়ে আছে।

ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়া ও ইউক্রেন দু’পক্ষই ড্রোন ব্যবহার করছে। এর আগে রাশিয়ার একাধিক ড্রোন গুলি করে নামিয়েছে ইউক্রেন।

সূত্র : ডয়চে ভেলে

বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় ঢাকা শীর্ষে

বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় বুধবার সকালে ঢাকার অবস্থান আবারো শীর্ষে। সকাল ১০টায় এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) স্কোর ১৯৮ নিয়ে রাজধানীর বাতাসের মান ‘অস্বাস্থ্যকর’।

১০১ থেকে ২০০ এর মধ্যে একিউআই স্কোরকে সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য ‘অস্বাস্থ্যকর’ বলে মনে করা হয়। ২০১ থেকে ৩০০ এর মধ্যে থাকা একিউআই স্কোরকে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ বলা হয়। আর ৩০১ থেকে ৪০০ এর এর মধ্যে থাকা একিউআইকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ বলে বিবেচিত হয়, যা বাসিন্দাদের জন্য গুরুতর স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি করে।

চীনের উহান ও নেপালের কাঠমান্ডু যথাক্রমে ১৯৪ ও ১৯১ এর স্কোর নিয়ে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে রয়েছে।

বাংলাদেশে একিউআই নির্ধারণ করা হয় দূষণের পাঁচটি বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে, সেগুলো হলো- বস্তুকণা (পিএম১০ ও পিএম২.৫), এনও২, সিও, এসও২ এবং ওজোন (ও৩)।

দীর্ঘদিন ধরে বায়ু দূষণে ভুগছে ঢাকা। এর বাতাসের গুণমান সাধারণত শীতকালে অস্বাস্থ্যকর হয়ে যায় এবং বর্ষাকালে কিছুটা উন্নত হয়।

২০১৯ সালের মার্চ মাসে পরিবেশ অধিদফতর ও বিশ্বব্যাংকের একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে- ঢাকার বায়ু দূষণের তিনটি প্রধান উৎস হলো ইটভাটা, যানবাহনের ধোঁয়া ও নির্মাণ সাইটের ধুলো।

প্রথমবারের মতো ইরাক সফরে জাতিসঙ্ঘ প্রধান

জাতিসঙ্ঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস বিগত ছয় বছরের মধ্যে তার প্রথম সফরে মঙ্গলবার ইরাকে পৌঁছেছেন। দেশটিতে টানা রাজনৈতিক সঙ্কটের পর ‘সংহতি’ প্রকাশ করতে তিনি এ সফরে গেলেন।

গুতেরেস বলেন, তিনি ইরাকের জনগণ এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে সংহতি প্রকাশ করতে চান। এ সংহতির অর্থ জাতিসঙ্ঘ এই দেশের প্রতিষ্ঠানগুলোর একত্রীকরণকে সমর্থন দিতে সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ

তিনি বলেন, তিনি দৃঢ়তার সাথে বলতে চান যে- ইরাকিরা এখনো যে অসুবিধা এবং চ্যালেঞ্জগুলোর সম্মুখীন হবে তা একটি উন্মুক্ত এবং অন্তর্ভূক্তিমূলক সংলাপের মাধ্যমে কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবে

সফরে গুতেরেসের বুধবার প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মাদ শিয়া আল-সুদানির পাশাপাশি নারী ও যুব অধীকার গ্রুপের প্রতিনিধিদের সাথে দেখা করার কথা রয়েছে।

বৃহস্পতিবার তিনি ইরাকি কুর্দিস্তানের আঞ্চলিক সরকারের প্রতিনিধিদের সাথে দেখা করতে ইরবিলে যাওয়ার আগে দেশটির উত্তরে বাস্তুচ্যুতদের একটি ক্যাম্প পরিদর্শন করবেন। সর্বশেষ তিনি ২০১৭ সালে ইরাক সফর করেন।

এরপর তিনি কাতারে যাবেন। সেখানে তিনি স্বল্পোন্নত দেশগুলোর শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেবেন।
সূত্র : বাসস