Home Blog Page 634

রোজার আধ্যাত্মিক উপকারিতা

রোজার ফজিলত ও উপকারিতা অনেক। হাদিসে এ সম্বন্ধে বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে। বুখারি শরিফে বর্ণিত এক হাদিসে আছে। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত প্রিয় নবী মুহাম্মাদুর রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, রোজা ঢালস্বরূপ। সুতরাং রোজা অবস্থায় যেন অশ্লীলতা থেকে বিরত থাকে এবং অজ্ঞ মূর্খের মতো কোনো কাজ না করে। কেউ যদি তার সঙ্গে ঝগড়া-ফ্যাসাদ করতে চায়, অথবা গালি দেয়, তবে সে যেন দুবার বলে, আমি রোজাদার। ওই সত্তার শপথ যার নিয়ন্ত্রণে আমার প্রাণ, অবশ্যই রোজাদারের মুখের দুর্গন্ধ আল্লাহর কাছে মেশাকের ঘ্রাণের চেয়েও অধিক উৎকৃষ্ট। সে আমারই জন্য পানাহার এবং কাম প্রবৃত্তি পরিত্যাগ করে। রোজা আমারই জন্য, তাই এর পুরস্কার আমি নিজেই দান করব। আর প্রত্যেক নেক কাজের বিনিময়ে ১০ গুণ। অপর হাদিসে আছে। হজরত সাহল (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) বলেন, জান্নাতের মধ্যে রাইয়ান নামক একটি দরজা আছে, এ দরজা দিয়ে কেবলমাত্র কেয়ামতের দিন রোজাদার লোকেরা প্রবেশ করবে। তাদের ছাড়া আর কেউ এ দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না। ঘোষণা দেওয়া হবে, রোজাদার লোকেরা কোথায়? তখন তারা দাঁড়াবে, সামনে অগ্রসর হবে, তাদের ছাড়া আর কেউ এ দরজা দিয়ে প্রবেশ করবে না। তাদের প্রবেশের পরেই দরজা বন্ধ করে দেওয়া হবে। যাতে এ দরজা দিয়ে আর কেউ প্রবেশ করতে না পারে। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, রোজা এবং কোরআন বান্দার জন্য সুপারিশ করবে। রোজা বলবে, হে আমার রব! আমি তাকে দিনের বেলা পানাহার ও যৌনক্রিয়া থেকে বিরত রেখেছি। তার সম্পর্কে আমার সুপারিশ কবুল করুন। কোরআন বলবে, আমি তাকে রাতে নিদ্রা থেকে বিরত রেখেছি। তার সম্পর্কে আমার সুপারিশ কবুল করুন। তখন এদের সুপারিশ কবুল করা হবে, (মিশকাত) রোজার মধ্যে অনেক উপকারিতা নিহিত আছে। এগুলো সম্বন্ধে হাকিমুল উম্মত হজরত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী (রহ.) ‘আহকামে ইসলাম আকল কি নজর মে’ নামক গ্রন্থে দীর্ঘ আলোকপাত করেছেন। তার মধ্য থেকে কতিপয় বিষয় নিম্নে উল্লেখ করা হলো। ১. রোজা দ্বারা প্রবৃত্তির ওপর আকলের পরিপূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়। অর্থাৎ এর দ্বারা মানুষের পাশবিক শক্তি অবদমিত হয় এবং রুহানি শক্তি বৃদ্ধি পায়। কেননা ক্ষুধা ও পিপাসার কারণে মানুষের জৈবিক ও পাশবিক ইচ্ছা হ্রাস পায়। এতে মনুষত্ব জাগ্রত হয় এবং অন্তর বিগলিত হয় মহান আল্লাহ রব্বুল আলামিনের প্রতি কৃতজ্ঞতায়। ২. রোজার দ্বারা মানুষের অন্তরে আল্লাহতায়ালার ভয়ভীতি এবং তাকওয়ার গুণ সৃষ্টি হয়। এ কারণে আল্লাহতায়ালা বলেছেন : যাতে তোমরা তাকওয়ার গুণ অর্জন করতে সক্ষম হও। ৩. রোজার দ্বারা মানুষের স্বভাবে নম্রতা ও বিনয় সৃষ্টি হয় এবং মানব মনে আল্লাহর আজমত ও মহানত্বের ধারণা জাগ্রত হয়। ৪. মানুষের চিন্তা-চেতনা ও দূরদর্শিতা আরও প্রখর হয়। ৫. রোজার দ্বারা মানব মনে এমন এক নুরানি শক্তি সৃষ্টি হয়, যার দ্বারা মানুষ সৃষ্টির এবং বস্তুর গূঢ় রহস্য সম্বন্ধে অবগত হতে সক্ষম হয়। ৬. রোজার বরকতে মানুষ ফিরিস্তা চরিত্রের কাছাকাছি পৌঁছতে সক্ষম হয়। ৭. রোজার বরকতে মানুষের মধ্যে পরস্পরের ভ্রাতৃত্ব ও মমত্ববোধ এবং পরস্পরের প্রতি ভালোবাসা সৃষ্টি হয়। কেননা যে ব্যক্তি কোনো দিনও ক্ষুধার্ত ও পিপাসিত থাকেনি, সে কখনো ক্ষুধার্ত মানুষের দুঃখ-কষ্ট বুঝতে পারে না। অন্যদিকে কোনো ব্যক্তি যখন রোজা রাখে এবং উপবাস থাকে, তখন সে যথাযথভাবে উপলব্ধি করতে পারে যে, যারা অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছে, তারা যে কত দুঃখ-কষ্টে দিনাতিপাত করছে, আর তখনই অনাহারকৃষ্ট মানুষের প্রতি তার অন্তরে সহানুভূতির উদ্রেক হয়। ৮. রোজা পালন করা আল্লাহর প্রতি গভীর মহব্বতের অন্যতম নিদর্শন। কেননা কারও প্রতি মহব্বত জন্মালে, তাকে লাভ করার জন্য প্রয়োজনে প্রেমিক পানাহার বর্জন করে এবং সবকিছুকে ভুলে যায়। ঠিক তেমনিভাবে রোজাদার ব্যক্তি ও আল্লাহর মহব্বতে দিওয়ানা হয়ে সবকিছু ছেড়ে দেয়, এমনকি পানাহার পর্যন্ত ভুলে যায়। তাই রোজা হলো আল্লাহর মহব্বতের অন্যতম নিদর্শন। ৯. রোজা মানুষের জন্য ঢালস্বরূপ। কেননা একজন রোজাদার ব্যক্তিকে শয়তান কখনোই পরাস্ত করতে পারে না। মানুষের ভিতরে প্রবেশ করার সব কুপ্রবৃত্তির যেসব দরজা রয়েছে, সেগুলো সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে যায়, তথা নিস্তেজ হয়ে যায়। কোনো প্রকারের চাহিদা থাকে না।
যার ফলে শয়তান প্রবেশের কোনো সুযোগ পায় না। যেন সে মানুষটি শয়তানের কাছে দুর্ভেদ্য প্রাচীরে রক্ষিত। যেমন ফেরেশতার কোনো চাহিদা নেই, তাকে ধোঁকা দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তাই রোজা প্রতিটি মানুষকে সফল অন্যায়, অশ্লীল ও গুনাহর কাজ থেকে রক্ষা করে। ১০. রোজার দ্বারা মানুষের শারীরিক সুস্থতা হাসিল হয়। স্বাস্থ্যবিজ্ঞানীদের মতে, প্রত্যেক মানুষের জন্য বছরে কয়েকদিন উপবাস থাকা আবশ্যক। তাদের মধ্যে স্বল্প খাদ্য গ্রহণ স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী। সুফি-সাধকদের মতে, হৃদয়ের স্বচ্ছতা হাসিলে স্বল্প খাদ্য গ্রহণের বিরাট ভূমিকা রয়েছে। রোজা দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। এর কারণে শরীরে চর্বি জমতে পারে না। পক্ষান্তরে মাত্রাতিরিক্ত পানাহারের ফলে শরীরে অধিকাংশ রোগব্যাধি সৃষ্টি হয়ে থাকে। আল্লাহপাক আমাদের পবিত্র রমজানুল মোবারকের সবগুলো রোজা সুস্থভাবে সুন্দরভাবে রাখার তৌফিক দান করুন, আমিন।
লেখক : মুফতি রুহুল আমিন কাসেমী, ইমাম ও খতিব, কাওলার বাজার জামে মসজিদ, দক্ষিণখান, ঢাকা

হে মহান স্বাধীনতা শুধু তোমারই জন্য

দেখতে দেখতে আমরা ৫৪তম স্বাধীনতা দিবসে পা দিলাম। স্বাধীনতা এক আরাধ্য সম্পদ; মানবসন্তানের জন্মের মতো। যাদের আত্মমর্যাদাবোধ আছে, যারা মাথা উঁচু করে বাঁচতে চায়, তাদের কাছে স্বাধীনতার চাইতে বড় কোনো সম্পদ নেই। তাই বলা হয়, স্বাধীনতাহীনতায় কে বাঁচিতে চায়, কে বাঁচিতে চায়? পৃথিবীর বহু দেশ আলোচনার টেবিলে কথাবার্তা বলে স্বাধীন হয়েছে, অনেক উপনিবেশ একটা সময় পাততাড়ি গুটিয়ে নিজ দেশে চলে গেছে। ২০০ বছরের ব্রিটিশ শাসনেও অনেকটা তেমনই হয়েছিল। ভারতবর্ষ যে ব্রিটিশকে নির্বিবাদে থাকতে দেবে না, সেজন্য হিন্দু-মুসলমান-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান অনেকেই ব্রিটিশের বিরুদ্ধে মরণপণ লড়াই করেছে, জীবন দিয়েছে। কিন্তু সর্বশেষ ব্রিটিশ বেনিয়ারা একটা সময় বিনা রক্তপাতে পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে। এটাই নিয়ম। এমনই হয়। পৃথিবীর খুব একটা বেশি দেশ নেই যারা সশস্ত্র যুদ্ধের মধ্য দিয়ে তাদের মুক্তির সূর্য ছিনিয়ে এনেছে। আর আমাদের মতো এত অল্প সময়ে অত রক্ত খুব কম দেশই বিসর্জন দিতে পেরেছে। তাই আমাদের স্বাধীনতা কোনো ছেলের হাতের মোয়া নয়, বুকের রক্তের দামে কেনা। এ দেশের আপামর জনসাধারণ বড় বেশি কষ্ট করেছে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে বাংলাদেশের মাটি থেকে বিতাড়িত করতে।
স্বাধীনতার এই ৫৩ বছরে আমাদের শান্তি সুস্থিতি অগ্রগতি যতটা হওয়ার ছিল হয়তো ততটা অর্জন করতে পারিনি। কিন্তু জাতীয় উন্নয়ন তেমন হয়নি এমনটা কোনোভাবেই বলা বা ভাবার সুযোগ নেই। আমাদের ১ কোটির ওপর মানুষ বিদেশবিভুঁইয়ে বাস করে, যার ৩৬ থেকে ৪০ লাখই সৌদি আরবে। তারা গঙ্গার পানির স্রোতের চাইতেও দ্রæতগতিতে অর্থ-সম্পদ পাঠিয়ে দেশ বিনির্মাণে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। যদিও তাদের এই ভূমিকার যথাযথ মূল্যায়ন কখনো কোনো সময়ই হয়নি। আমরা স্বাধীন না হলে আজও পাকিস্তানের পদানত থাকলে ১ কোটি বা তার ঊর্ধ্বে কর্মসংস্থানে বিদেশে যাওয়া তো দূরের কথা, পাকিস্তানের কাঠামোয় আমরা ১ লাখ পাসপোর্ট পেতাম কি না তা নিয়ে এক বিরাট সন্দেহ। তাই স্বাধীনতা স্বাধীনতাই। এর কোনো বিকল্প নেই। স্বাধীনতার প্রাণপুরুষ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব আরও কিছুদিন বেঁচে থাকলে স্বাভাবিক নেতৃত্বের বিকাশ ঘটলে দেশ আরও অনেক উন্নত হতো এতে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই। কোনো চারাগাছ একবার বুনে তা তুলে ফেললে যেমন হয় আমরা তেমনি আঘাত পেয়েছি। দেশটার গতি একেবারে রহিত হয়ে পড়েছিল অনেক বছর। যারা স্বাধীনতা চায়নি অথবা স্বাধীনতা নিয়ে যাদের কোনো আগ্রহ ছিল না, যারা জুতজাত মতো পাকিস্তানি হিসেবেই থাকতে চেয়েছে তারা দেশটাকে চালাতে গিয়ে ক্ষতি ছাড়া তেমন লাভ করেনি। এ কথা স্বীকার করতেই হবে, প্রায় ২১-২২ বছর পর বঙ্গবন্ধুকন্যা বোন শেখ হাসিনার হাতে নেতৃত্ব কর্তৃত্ব এসে অবশ্য অবশ্যই একটা জাতীয় গতি পেয়েছে। এটা না বলে উপায় নেই যে, নেত্রীর আশপাশে খুব বেশি দক্ষ যোগ্য নেতা-কর্মী নেই। তার চারদিকে অনেক বেশি অদক্ষ লোকজনের সমাহার। জানি না তার শ্বাস নিতে কেমন লাগে, কোনো কষ্ট হয় কি না? তারপরও দেশ আশাতীত সাফল্যের দিকে এগিয়ে চলেছে। তবে একটা দুর্ভাগ্যের বিষয়, মুক্তিযুদ্ধের সময় আমরা যে পরিমাণ চারিত্রিক গুণে আত্মমর্যাদায় দুর্নীতির বিরুদ্ধে যতটা ঊর্ধ্বে উঠেছিলাম, এখন সেখান থেকে প্রায় একেবারে নিচে পড়ে গেছি। এখন মানুষজনের তেমন আত্মমর্যাদাবোধ নেই বা কমে গেছে। সামাজিকতা হারিয়ে গেছে, সাধারণ মানুষের মর্যাদা নেই। সরকারি কর্মচারী বা প্রশাসন সেবক না হয়ে মালিকের স্থান দখল করেছে। আমরা পাকিস্তানি ধনী ২২ পরিবারের হাত থেকে মুক্তির জন্য জীবন দিয়ে, রক্ত দিয়ে স্বাধীনতা এনে নতুন ২২ হাজার বা আরও বেশি পরিবারের হাতে দেশটাকে তুলে দিয়েছি। ১৬ বা ১৮ কোটি মানুষ দেশের ১০ ভাগ সম্পদের মালিক। আর এই ২২ হাজার বা তারও বেশি পরিবার পুরো দেশীয় সম্পদের ৯০ ভাগের মালিক। দেশের শাসনব্যবস্থাও সত্যিকার অর্থে অতটা স্বচ্ছ নয়। নির্বাচনি ব্যবস্থা বলতে গেলে একেবারেই ভেঙে পড়েছে। মানুষের সম্মতির মূল্য অনেক কমে গেছে। যে যাই বলুন, দালানকোঠা, রাস্তাঘাট, বড় বড় ব্যবসা-বাণিজ্য যতই হোক সাধারণ মানুষের জীবন ওষ্ঠাগত। বাংলাদেশ কৃষিনির্ভর। এখনো বাংলাদেশের কৃষি জাতীয় উৎপাদনের শতকরা ৬০-৭০ ভাগ। কিন্তু সে কৃষির খুব একটা মর্যাদা নেই। কৃষির সঙ্গে জড়িতরা মারাত্মক অস্বস্তিতে। কোনো কিছু উৎপাদন করে কারও পর্তা পড়ে না। যা লাভ অনেকটাই মধ্যস্বত্বভোগীদের। প্রকৃত কৃষকের মাথায় হাত। ধান উৎপন্ন করতে যে খরচ পড়ে কারও খরচ ওঠে না। আগে ধানের খড়ের কোনো মূল্য ছিল না। এখন সেটা অমূল্য হওয়ায় যারা ধান উৎপন্ন করে, তাদের কিছুটা পুষিয়ে যায়। তা না হলে কত জমি পতিত থাকত বলে-কয়ে শেষ করা যাবে না। আর বিপণনব্যবস্থাও যুগোপযোগী নয়। রাস্তাঘাট অনেক হয়েছে, যেখানে সেখানে যাওয়া যায়। কিন্তু সেখানেও ঘ্যাগের ওপর বিষফোড়ার মতো নতুন রাস্তা বানালে তার রক্ষণাবেক্ষণের কোনো ব্যবস্থা নেই। নতুন রাস্তা বানাতে সবারই আগ্রহ। কারণ সেখানে ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত সবারই কমিশন বেশি। রক্ষণাবেক্ষণের তেমন কমিশন নেই। এসব কিছু নিয়ন্ত্রণে আনতে পারলে আমরা সুইজারল্যান্ডের চেয়েও শান্তির স্বস্তির দেশে পরিণত হতাম।
এত রক্ত দিয়ে যে দেশ স্বাধীন হয়েছে সে দেশের প্রতি দেশবাসীর আরও দেশপ্রেম থাকার কথা। বিশেষ করে যারা দেশের কর্মে নিয়োজিত তাদের দেশপ্রেম কেন যেন অনেকটাই শূন্যের কোঠায়। এমনটা হওয়ার কথা ছিল না। প্রায় ক্ষেত্রেই দেখা যায়, কেমন যেন আমি বাঁচলেই হলো, অন্যের মান-মর্যাদা, অন্যের জীবিকা এসব নিয়ে কারও কোনো চেতনা নেই, আগ্রহ নেই। অন্যের ভালোকে ভালো বলার লোকের বড় বেশি অভাব, সত্যকে স্বীকার করতে কেন যেন সবার মধ্যে একটা অনীহা, দুর্বলতা। এসব থেকে বেরিয়ে আসতে পারলে আমাদের দেশ সত্যিই সোনার দেশ হতো।
স্বাধীনতার এই মহান দিনে কত কথা মনে পড়ে। মনে পড়ে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কথা, গ্রামে গ্রামে শত সহস্র সাধারণ মানুষের ত্যাগ-তিতিক্ষার কথা। কত মা তার আদরের সন্তান যুদ্ধে পাঠিয়ে আর ফিরে পায়নি, কত নববধূ তার স্বামী হারিয়েছে, কত সোনার সংসার ভেঙে খানখান হয়ে গেছে। যেহেতু এখনো বেঁচে আছি তাই কত মানুষ কত অভিযোগ নিয়ে আসে। একসময় যে মানুষটা আশ্রয় দিয়েছে আজ তারই আশ্রয় নেই। চেষ্টা করি পাশে দাঁড়াবার। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে তেমন কিছু করতে পারি না। তখন বুকটা ভারী হয়ে আসে। এটাই বোধহয় বেঁচে থাকার জ্বালা। বেঁচে থাকায় আনন্দ যেমন আছে, জ্বালাও তো আছে। তাই সব সময় মনে হয় যদি আরেকটু ভালো থাকতে পারতাম। যে কজন মুক্তিযোদ্ধা এখনো বেঁচে আছে তারা যদি সম্মানে থাকতে পারত, দেশের সাধারণ মানুষ যদি আরেকটু ভালো থাকত তাহলে কতই না ভালো হতো।
বহুদিন ভাবছিলাম কাদেরিয়া বাহিনীর একটা জাদুঘর করা যায় কি না। কাদেরিয়া বাহিনী জাদুঘর করতে কারও আগ্রহের কোনো অভাব নেই। একসময় টাঙ্গাইল কোর্ট বিল্ডিংয়ের পাশে ছোট্ট জায়গাটির কথা চিন্তা করেছিলাম। চার-পাঁচ বছর এমন কেউ নেই যে যাকে চিঠিপত্র দিইনি। নির্বাসিত জীবনে সদরঘাটে বাস করলেও আমি তেমন হাটঘাট চিনি না জানি না। শেষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বোন শেখ হাসিনাকে চিঠি দিয়েছিলাম। চিঠির সাত দিনের মাথায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বোন হাসিনা কাদেরিয়া বাহিনীর বঙ্গবন্ধুর কাছে অস্ত্র সমর্পণের ঐতিহাসিক ঘটনা এবং মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণের জন্য কাদেরিয়া বাহিনী জাদুঘর নির্মাণের লক্ষ্যে জমি বরাদ্দের নির্দেশ দিয়েছেন। মাননীয় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী দারুণ আগ্রহী হওয়ার পরও মন্ত্রণালয়কে তেমন নাড়াতে চাড়াতে পারেননি। তবু ৩০ মার্চ জায়গাটি দেখতে মাননীয় মন্ত্রী আসবেন। সেজন্য যাকে যাকে বলা দরকার বলার চেষ্টা করছি। যদি সম্ভব হয় সেই যুব বয়সে মুক্তিযুদ্ধ শেষে বঙ্গবন্ধুর এক কথায় সব অস্ত্র পিতার পায়ের কাছে বিছিয়ে দিয়েছিলাম, যে কোনোভাবেই হোক তাঁর কন্যা, বোন দেশের প্রধানমন্ত্রী। তিনি যদি কাদেরিয়া বাহিনী জাদুঘরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তাহলে এই বয়সে কাদেরিয়া বাহিনীর জন্য সেটা হবে এক পরম সৌভাগ্য ও সম্মানের। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বোনের সঙ্গে এ নিয়ে কদিনের মধ্যেই কথা বলব, তিনি যদি সময় দিতে পারেন।
মুক্তিযুদ্ধে একমাত্র টাঙ্গাইলেই ছত্রী বাহিনী অবতরণ করেছিল। তাও কাদেরিয়া বাহিনীর নির্বাচিত জায়গায়। যে ছত্রী বাহিনী ঢাকা দখলে ব্যাপক ভূমিকা রেখে ছিল সেই ছত্রী বাহিনী অবতরণ স্থান চিহ্নিত করা বা কোনো স্মৃতিচিহ্ন করা হয়েছে। সে জায়গা দেখতে মাননীয় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক আসবেন। ব্যাপারটা হঠাৎই শুনলাম। এখন কোথায় কী হয় অনেক কিছুই জানি না। ছত্রীসেনা অবতরণের স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে ভুক্তার কোনো জায়গা। আসলে ভুক্তায় ছত্রীসেনা অবতরণ করেনি। ছত্রীসেনা অবতরণের প্রথম স্থান নির্ধারণ করা হয়েছিল ঘাটাইলের গৌরাঙ্গীর চক। প্রায় তিন-চার মাইল লম্বা-পাশে দিঘলকান্দির উত্তর-পশ্চিম গৌরাঙ্গীর দক্ষিণে বিশাল খোলা মাঠ। শুধু অসুবিধা ছিল সেখান থেকে গাড়িঘোড়া, ভারী যানবাহন সড়কে আনার কতটা কী হবে। ৬-৭ ডিসেম্বর জায়গাটা চিহ্নিত করা হয়েছিল। পরে ৯ তারিখ টাঙ্গাইলের দিকে এগিয়ে শোলাকুড়া-বাংড়ার উত্তরে চকসহ ইছাপুর, রাজাবাড়ি নির্দিষ্ট করা হয়েছিল। কিন্তু বাতাসের কারণে শোলাকুড়া, ইছাপুর থেকে কিছুটা সরে সহদেবপুর ইউনিয়নের পাঠন্দ, মহেলা, চিনামুড়া, চামুরিয়া, পুংলীর বিস্তীর্ণ এলাকায় ছত্রীসেনা ছড়িয়ে পড়েছিল। কেন্দ্রবিন্দু কোথাও ধরা হলে পুংলী, মহেলা, চিনামুড়া, চামুরিয়া এসব জায়গা হয়। কিন্তু কোনোমতেই ভুক্তা নয়। ভুক্তা তো বিচ্ছিন্নভাবে ১-২টা গাড়ি ছিটকে পড়েছিল। সেখানে এক বা দুজন সৈন্যও মারা গিয়েছিল। শুনেছি, দুই-তিন বছর আগে কে একজন কর্নেল বা মেজর এসেছিল। তিনি তো মুক্তিযুদ্ধের সময় শিশু ছিলেন। তিনি তেমন কী জানবেন। আর এও শুনেছি, ওইসব এলাকায় গিয়ে দু-চারজনকে জিজ্ঞেস করে কারও মুখে যা শুনেছিল তাই তিনি চিহ্নিত করেছেন বা তার মনে হয়েছে এ জায়গাই গুরুত্বপূর্ণ। আসলে কেন যেন ইদানীং সত্যিকার ইতিহাস রক্ষার চেষ্টা হচ্ছে না। যে কোনোভাবেই হোক ১৬ ডিসেম্বর নিয়াজির গুহায় একমাত্র বাঙালি হিসেবে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে যাওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করেছিলাম। কিন্তু নানাভাবে শুধু আমাকে এড়িয়ে যাওয়ার জন্য সে ঘটনাকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা ভালো। কিন্তু এতে যদি ইতিহাস বিকৃত হয়, দেশ ও জাতির গৌরব মুছে যায় তেমন কাজ করা মোটেই উচিত নয়। আমাকে বাদ দিলে আমাকে মুছে ফেললে সে তো শুধু ভারতীয় বাহিনীর ঢাকা বিজয় হবে। সেখানে বাঙালির, বাংলাদেশের ভূমিকা কী হবে? এজন্যই বলছি, ছত্রীসেনা অবতরণের জায়গা চিহ্নিতকরণে কোনো কিছুই জানতাম না। সেদিন ২০ মার্চ হঠাৎই এক ভদ্রলোক সখীপুরে গিয়ে হাজির, ‘ছত্রীসেনা অবতরণের জায়গা চিহ্নিত হবে। আপনাকে যেতে হবে। আপনি না গেলে আমরা কষ্ট পাব। মাননীয় মন্ত্রী আসবেন তাই আপনি যাবেন।’ তিনি কে তাও বুঝলাম না, তিনি কীভাবে বলছেন তাও জানলাম না। মাঝে একবার কালিহাতীর ইউএনও ফোন করেছিলেন। ওই একই কথা। কীভাবে কী হলো কিছুই জানি না। সে ভদ্রলোকও বললেন, ‘আমার আগেই স্থান নির্ধারণ হয়েছে। আমিও এর কিছুই জানি না।’ জানেন না ভালো কথা। যেহেতু এখনো বেঁচে আছি যাইহোক মুক্তিযুদ্ধে আগাগোড়া ছিলাম। তাই এখনকার তরুণ-তুর্কিরা এখনকার নেতারা সামান্য হলেও কিছুটা তো জিজ্ঞেস করতে পারতেন। সেটাই ভালো ছিল।
লেখক : বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, বীরউত্তম, রাজনীতিক

মৃতদেহের ওপর চলছে ইসরাইলি ট্যাংক

ইসরাইলের অমানবীয় অত্যাচারে দিন দিন ভয়াবহ হয়ে উঠেছে গাজা পরিস্থিতি। এতদিন চুপ থেকে গাজার ধ্বংসযজ্ঞ দেখেছে বিশ্ব। অবশেষে অবরুদ্ধ অঞ্চলটির সমর্থনে এগিয়ে এলো ইউরোপের চার দেশ।
ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্মীকৃতি দিয়ে সম্মত হয়েছে মাল্টা, আয়ারল্যান্ড, স্পেন এবং স্লোভানিয়া। কিন্তু ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোর এমন সমর্থনকে মেনে নিতে পারছে না ইসরাইল। এবার ইউরোপের এই চার দেশকে হুঁশিয়ারি দিলেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসরাইল কার্টজ। তার মতে, যে দেশগুলো ফিলিস্তিনিদের রাষ্ট্র হিসেবে স্মীকৃতি দেবে তারা সন্ত্রাসবাদের পক্ষে। সোমবার নিজের এক্স অ্যাকাউন্টে ক্ষিপ্ত হয়ে এ বার্তা লিখেন তিনি। রয়টার্স।
ইইউ’র শীর্ষ সম্মেলনে গত শুক্রবার ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্মীকৃতি দেওয়ার কথা জানায় চার দেশ। তাদের মতে, ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিলেই ‘শান্তি ও নিরাপত্তা অর্জন’ সম্ভব হবে। সম্মেলনে যৌথ বিবৃতিতে চার দেশ জানায়, ‘আমরা একসঙ্গে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য আমাদের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা করেছি। পরিস্থিতি যখন ঠিক হবে তখন এ বিষয়ে আমরা ইতিবাচক অবদান রাখব।’ তাদের সেই বার্তার প্রতিক্রিয়ার অংশ হিসেবেই কার্টজ লিখেছেন, ‘৭ অক্টোবরের গণহত্যার পর একটি ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের স্বীকৃতি হামাস এবং অন্যান্য ফিলিস্তিনি সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর কাছে এই বার্তাই পাঠায় যে, ইসরাইলিদের উপর হত্যাকারী সন্ত্রাসী হামলা ফিলিস্তিনিদের প্রতি রাজনৈতিক মাধ্যমে প্রতিশোধ নেওয়া হবে।’ অন্যদিকে গাজায় তাৎক্ষণিত যুদ্ধবিরতি নিয়ে ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হবে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে।
রাশিয়া এবং চীন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত একটি পূর্ববর্তী পাঠ্য ভেটো করার পরে এ প্রস্তাবটি সামনে আসে। রাফাহ এবং গাজা উপত্যকার অন্যান্য অংশে ইসরাইলি বিমান হামলায় কয়েকডজন লোক নিহত হওয়ার পরে যুদ্ধবিরতির বিষয়ে ভেটোর আলোচনা হয়। নতুন পাঠ্যটিতে বলা হয়, পবিত্র রমজান মাসের জন্য ‘অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির দাবি করে এবং একটি স্থায়ী টেকসই যুদ্ধবিরতির দিকে নিয়ে যায়।’
এর আগে রোববার উত্তর গাজায় ত্রাণের সাহায্য পৌঁছাতে বাধা দেয় ইসরাইল বাহিনী। এমন পরিস্থিতি গাজার শিশুদের আরও মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেবে বলে সতর্ক করেছে সাহায্য সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেন। সংস্থাটির কান্ট্রি ডিরেক্টর জেভিয়ের জুবার্ট বলেন, ‘শিশুরা ইতোমধ্যেই অনাহারে এবং রোগে মারা যাচ্ছে বিশ্বের সর্বোচ্চ গতিতে, যা রেকর্ড। আন্তর্জাতিক স¤প্রদায়ের কাছ থেকে দৃঢ় এবং অবিলম্বে কূটনীতির মাধ্যমে এমন প্রস্তাবকে পালটে দিতে হবে। সেটি হবে আইনি বাধ্যবাধকতার মাধ্যমে।’
এদিকে আল শিফা থেকে পালিয়ে আসা ফিলিস্তিনিদের দাবি, ইসরাইলি ট্যাংক এবং সাঁজোয়া বুলডোজার কমপক্ষে চারটি মৃতদেহ এবং অ্যাম্বুলেন্সের ওপর দিয়ে চালানো হয়েছে। ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, তীব্র গোলাগুলির কারণে তাদের মেডিকেল টিমের সদস্যরা সেখানে আটকা পড়েছেন। অন্যদিকে গাজা উপত্যকার দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত আল-আমাল এবং নাসের হাসপাতাল ঘিরে রেখেছে ইসরাইলি বাহিনী। হাসপাতালগুলোর আশপাশে আক্রমণের মাত্রা বাড়িয়েছে তারা।
গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় খান ইউনিসে তীব্র গোলাগুলি এবং বোমা হামলার মধ্যেই আল-আমাল এবং নাসের হাসপাতালের তাদের এক কর্মী নিহত এবং একজন বাস্তুচ্যুত ব্যক্তি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্ট। সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, আল-আমাল হাসপাতাল সম্পূর্ণ খালি করে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে ইসরাইল। কিন্তু সেখানে হাসপাতাল কর্মী ও রোগীদের পাশাপাশি বাস্তুচ্যুত লোকজনও আশ্রয় নিয়েছে। এমনকি লোকজনকে সেখান থেকে সরে যেতে বাধ্য করতে ইসরাইল স্মোক বোমা ছুড়ছে।
এদিকে হামাস পরিচালিত মিডিয়া অফিস বলছে, আল শিফা হাসপাতালে গত সাত দিন ধরে চলা অভিযানে পাঁচ ফিলিস্তিনি চিকিৎসককে হত্যা করেছে ইসরাইলি বাহিনী। ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরাইলি হামলায় কমপক্ষে ৩২,৩৩৩ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৭৪,৬৯৪ জন আহত হয়েছে।

শ্বাসকষ্টের রোগীরা যেভাবে রোজা রাখবেন

রোগ নিয়ন্ত্রণে থাকলে শ্বাসকষ্টের রোগীদের রোজা রাখতে কোনো বাধা নেই। ইনহেলার শ্বাসকষ্টের রোগীর জন্য এমন এক চিকিৎসা পদ্ধতি, যা রোগী শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে টেনে নেয় এবং ওষুধ শ্বাসনালিতে পৌঁছায়। অনেকে মনে করেন, ইনহেলার হাঁপানির সর্বশেষ চিকিৎসা। ইনহেলার একবার ব্যবহার করলে পরে শ্বাসকষ্টের পরিমাণ কমানোর জন্য আর অন্য কোনো ওষুধ কাজে আসে না। তাদের জেনে রাখা ভালো, শ্বাসকষ্টের প্রথম চিকিৎসাই হচ্ছে ইনহেলার, শেষ চিকিৎসা নয়।
এখন অবশ্য অনেক ডিভাইস পাওয়া যায়। তা ব্যবহার করে হাঁপানি রোগী রোজা রাখতে পারেন। সালবিউটামল ইনহেলার ইফতারের সময় দুই পাফ, সেহরির সময় দুই পাফ নিতে পারেন। এটা নিলে লম্বা সময় ধরে ভালো থাকা যায়।
রোজা রাখা অবস্থায় কেউ যদি ইনহেলার নেয়, তবে রোজা ভাঙবে না। কারণ ইনহেলার খাদ্যের পরিপূরক নয়। ইসলামিক স্কলাররা এ বিষয়ে স্পষ্ট বলেছেন, এটা সহজেই রোজা রেখে নেওয়া যাবে। তারপরও যদি কেউ না নিতে চান তবে সেহরি এবং ইফতারের সময় দুই পাফ করে নিতে হবে। এখন বিভিন্ন জেনথিন গ্রæপের ওষুধ আছে, যেমন-ইউনিকনটেন, কনটেন (একটা ২০০ মিলিগ্রামের ওষুধ), ইফতার করে একটা, সেহেরির পর একটা খাওয়া যায়। তাহলে পুরো সময়টাই শ্বাসকষ্ট মুক্ত থাকা যায়। রাতে শোয়ার সময় মন্টিলুকাস ১০ মিলিগ্রাম ওষুধ খেলে খুব সহজেই রোজা রাখা যায়।
কিছু কিছু খাবার আছে যেগুলো অ্যালার্জিতে ভরা। যেমন-গরুর মাংস, চিংড়ি মাছ। অনেক হাঁপানি রোগী আছেন, যাদের এসবের প্রতি অ্যালার্জি আছে। এগুলো তাকে এড়িয়ে চলতে হবে। শ্বাসকষ্টের রোগী যদি খুব পেট ভরে খায়, তবে দম নিতে সমস্যা হয়। সুস্থভাবে রোজা যেন রাখতে পারেন, সে জন্য কিছু নিয়মকানুন অবশ্যই মেনে চলতে হবে। মূল লক্ষ্য, সব কিছুর মধ্যে ভারসাম্য করে চলতে হবে, পরিমিতি বোধ থাকতে হবে। রোজা পরিমিতি বোধের শিক্ষা দেয়। সেটাকে কাজে লাগাতে হবে।
লেখক :অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আজিজুর রহমান, মেডিসিন ও বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ, হেলথকেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টার লি., শ্যামলী, ঢাকা।

অন্তঃসত্তা নারী কোন অবস্থায় রোজা রাখবেন, কোন অবস্থায় পারবেন না

একটি শিশুর স্বাস্থ্য, তার ওজন, শারীরিক ও মানসিক বিকাশ অধিকাংশই বেড়ে ওঠে শিশুটি যখন মাতৃগর্ভে থাকে।
অন্তঃসত্ত¡া নারী যদি খাবার না খায় তা হলে গর্ভের শিশুটি পুষ্টি ঠিকভাবে পায় না, তখন সেই শিশুটির বিভিন্ন ধরনের জটিলতা দেখা দিতে পারে।
গর্ভের সময় একজন নারীর দ্বিগুণ পরিমাণে খাবার ও ক্যালরি দরকার পড়ে। কারণ গর্ভের শিশুটি মায়ের থেকেই পুষ্টি পেয়ে থাকে এবং তার বেড়ে ওঠা নির্ভর করে মায়ের ভালো থাকার ওপর।
ইসলামী বিধানে অন্তঃসত্ত¡া মায়েদের রোজা রাখার ব্যাপারে শিথিলতা রয়েছে। কারণ গর্ভবতী অবস্থায় একজন মা যদি রোজা রাখেন, তা হলে দীর্ঘক্ষণ তাকে না খেয়ে থাকতে হয়, তখন তার প্রভাব শিশুটির ওপর পড়তে পারে।
তবুও মায়ের শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে তিনি রোজা রাখতে পারবেন কী পারবেন না।
যদি অন্তঃসত্ত¡া নারী ও গর্ভস্থ শিশু স্বাভাবিক অবস্থায় থাকে, তাহলে মা রোজা রাখতে পারবেন প্রথম তিন মাস। তবে অনেকের বিভিন্ন ধরনের জটিলতা দেখা যায়। যেমন বেশি বমি হয়। এ সময় রোজা না রাখাই ভালো। যদি রোজা রাখেন অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ মতো রাখতে হবে।
অন্তঃসত্ত¡া অবস্থায় শেষ তিন মাস খুবই গুরুত্বপূর্ণ, যেমনভাবে প্রথম তিন মাস গুরুত্বপূর্ণ। তাই এ সময় অবশ্যই স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খেতে হবে এবং যত্ন নিতে হবে। শিশু যেন গর্ভে ঠিকভাবে বেড়ে ওঠে সে ব্যাপারে পরিবারের সবাইকে সহায়তা করতে হবে। যদি অন্তঃসত্তা নারী রোজা রাখতেই চান, তা হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে রোজা রাখবেন।
গর্ভকালীন সময়ে দুশ্চিন্তামুক্ত থাকতে হবে, বিশ্রাম নিতে হবে বেশি করে এবং অতিরিক্ত পরিশ্রম করা যাবে না। ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত সময়টুকুতে পানি খেতে হবে, সঙ্গে স্বাস্থ্যসম্মত পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে। ভাজাপোড়া খাবার এড়িয়ে চলতে হবে।
রোজা রাখার সময় বিভিন্ন ধরনের শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। যেমন- তলপেট ব্যথা করে অথবা গর্ভের শিশুটি কম নাড়াচাড়া করে। মাথাব্যথা অথবা মাথা ঝিমঝিম করা এসব সমস্যা হলে দ্রæত চিকিৎসক এর পরামর্শ নিতে হবে। একজন অন্তঃসত্তা তার নিজের শরীরে অন্য একটি জীবনকে ধারণ করছেন। তাই সেই জীবনের দায়িত্ব মায়ের ওপর চলে আসে এবং সে জন্য মাকে সহায়তা করতে হবে পরিবারের সবাইকে সামাজিকভাবে মানসিকভাবে সবাইকে সহায়তা করতে হবে।
উচ্চরক্তচাপ, ডায়াবেটিস, কিডনি জটিলতা, হৃদযন্ত্রের সমস্যার মতো স্বাস্থ্য জটিলতা থাকলে এ সময় গর্ভবতী নারীদের রোজা না রাখাই ভালো।
পরিশেষে বলতে চাই একটি শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তাই সেই শিশুর সঠিকভাবে বেড়ে ওঠার দায়িত্ব অবশ্যই সমাজের এবং পরিবারের দায়বদ্ধতা আছে সবার,তাই গর্ভকালীন মা ও শিশুর যতœ নেওয়া সবারই প্রয়োজন।
লেখক: আয়েশা আক্তার, উপ পরিচালক, ২৫০ শয্যার টিবি হাসপাতাল।

ইফতারে বা ঈদের দিন অতিথি আপ্যায়নে মটরশুঁটির পরোটা ও সেমাই রাবরি

ইফতারে বা ঈদের দিন অতিথি আপ্যায়ন বা নিজেদের খাবার জন্যই বানানো হয় নানা রকমের নাশতা। ঝাল ও মিষ্টি দুই রকমের পদই থাকতে পারে সে আয়োজনে।
মটরশুঁটির পরোটা
মটরশুঁটি পুরের উপকরণ: মটরশুঁটি ২ কাপ, কাঁচা মরিচ নিজের স্বাদমতো, আদা সামান্য, কালিজিরা ১ চা-চামচ, টালা জিরা সিকি চা-চামচ, তেল ৩ টেবিল চামচ।
প্রণালি: মটরশুঁটি, আদা ও কাঁচা মরিচ একসঙ্গে বেন্ড করে নিতে হবে। প্যানে তেল গরম করে নিন। কালিজিরার ফোড়ন দিয়ে দিন। এবার বেন্ড করা মটরশুঁটি দিয়ে নাড়তে থাকুন। নাড়তে নাড়তে পানি টেনে এলে টালা জিরা দিন। সামান্য নেড়েচেড়ে ভালো করে মিশিয়ে নামিয়ে নিন।
পরোটার ডোয়ের উপকরণ: ময়দা ৩ কাপ, তেল ৩ টেবিল চামচ, পানি ১ কাপ, লবণ স্বাদমতো, তেল ভাজার জন্য সামান্য।
প্রণালি: ময়দায় লবণ ও তেল দিয়ে শুকনা করে মাখিয়ে ঝুরঝুরে করে নিন। এবার একটু একটু করে পানি দিয়ে খুব ভালো করে ময়দা মাখিয়ে নিন। শক্ত খামির হবে। ৩০ মিনিট ঢেকে রাখুন। এবার এই ময়দা ১০ ভাগ করুন। মটরশুঁটির পুরও সমান ১০ ভাগ করুন। একেকটি ময়দার গোলায় একেকটি মটরশুঁটির পুর ভরে নিন। হালকা হাতে গোল করে পরোটার মতো করে বেলে নিন। ফ্রাইংপ্যানে সামান্য তেল দিয়ে পরোটা ভেজে নিন। রায়তা বা সালাদ দিয়ে গরম-গরম পরিবেশন করুন।
সেমাই রাবরি
উপকরণ: সেমাই ১ প্যাকেট, চিনি ১ কাপ, ঘি সিকি কাপ, ফুটন্ত গরম পানি ১ কাপ, এলাচি ২-৩টি, দারুচিনি ছোট ২ টুকরা, বাদামকুচি স্বাদমতো, লবণ সিকি চা-চামচ।
প্রণালি: প্রথমে সেমাই ভেঙে ছোট ছোট করে ঝুরঝুরে করে নিন। এবার চুলায় প্যান বসিয়ে তাতে ঘি গরম করে নিন। এরপর এলাচি, দারুচিনি দিয়ে নাড়ুন। ভাজা গন্ধ বের হলে সেমাই দিয়ে ভালো করে ভেজে নিন। তারপর এতে ফোটানো গরম পানি অল্প অল্প করে মেশান। পানি টেনে এলে চিনি দিয়ে বারবার নাড়তে হবে। সেমাইয়ের পানি শুকিয়ে গেলে নামিয়ে নিন। সেমাই ঠান্ডা না হওয়া পর্যন্ত কয়েকবার নাড়ুন যেন ঝরঝরে হয়।
রাবড়ির উপকরণ: দুধ ২ লিটার, গুঁড়া দুধ ১ কাপ, পোলাও চালের গুঁড়া ২ চা-চামচ, চিনি ২ টেবিল চামচ, এলাচিগুঁড়া সিকি চা-চামচ।
প্রণালি: হাঁড়িতে দুধ নিয়ে চুলায় বসান। দুধে ফুটে উঠলে নেড়েচেড়ে জ্বাল দিন। দুধ ঘন হয়ে অর্ধেক হয়ে এলে গুঁড়া দুধ ও চিনি দিয়ে নাড়তে থাকুন। থেমে থেমে নাড়ুন, যেন দুধে সর পড়ে, এই সর কিছুক্ষণ পরপর হাঁড়ি থেকে সরিয়ে রাখুন। কাজটি অনেকবার করতে হবে। দুধ শুকিয়ে আরও অর্ধেক হয়ে এলে চালের গুঁড়া পানিতে গুলিয়ে দিন এবং এলাচিগুঁড়া দিন। রাবরি থকথকে হয়ে এলে নামিয়ে নিন। এবার পরিবেশন পাত্রে রান্না করে রাখা সেমাই একটু চেপে চেপে বসিয়ে দিন। এর ওপর রাবরি ঢেলে ছড়িয়ে দিন। ওপরে বাদামকুচি দিয়ে বা নিজের পছন্দমতো উপকরণ সাজিয়ে পরিবেশন করুন।

ইফতারের শুরুতে দুটি পানীয় আপনাকে দেবে প্রশান্তি

গরম এসে গেছে, ঈদও দোরগোড়ায়। ঈদের দিন বা ইফতারের সময় বাড়িতে অতিথি এলে শুরুতেই দিতে পারেন এক গ্লাস ঠান্ডা পানীয়।
ভার্জিন মোহিতো
উপকরণ: স্বচ্ছ কোমল পানীয় বা সোডা ওয়াটার ২৫০ মিলিগ্রাম, লেবু পাতলা গোল করে কেটে নেওয়া অর্ধেক, পুদিনাপাতা ১০-১২টি, চিনি ২ টেবিল চামচ, বরফকুচি ২ কাপ ও বিট লবণ এক চিমটি।
প্রণালি: ১ টেবিল চামচ পানিতে ২ টেবিল চামচ চিনি দিয়ে চুলায় জ্বাল দিন। মোটামুটি ঘন করে সিরাপ বানিয়ে ঠান্ডা হতে দিন। লম্বা ধাঁচের গ্লাসে লেবু, পুদিনা ও বিট লবণ নিয়ে নিন। হালকাভাবে থেঁতলে নিন, যেন তেতো না হয়ে যায়। এরপর এতে চিনির সিরাপ ও বরফ দিয়ে দিন। ওপর থেকে স্বচ্ছ কোমল পানীয় বা সোডা ওয়াটার ঢেলে একটু নেড়ে নিন। এখন আপনার পছন্দমতো সাজিয়ে পরিবেশন করুন।
বোরহানি
উপকরণ: দই ২ কাপ, পানি ১ কাপ, শর্ষেবাটা ২ চা-চামচ, পুদিনাপাতা বাটা ১ টেবিল চামচ, কাঁচা মরিচবাটা ১ চা-চামচ, টালা জিরাগুঁড়া ১ চা-চামচ, ধনেগুঁড়া ১ চা-চামচ, মরিচগুঁড়া আধা চা-চামচ, সাদা গোলমরিচের গুঁড়া আধা চা-চামচ, চিনি ১ টেবিল চামচ, লবণ আধা চা-চামচ, বিট লবণ ১ চা-চামচ ও চিলি সস ১ টেবিল চামচ।
প্রণালি: দইসহ সব উপকরণ একসঙ্গে বেন্ডারে বেন্ড করে নিন। রেফ্রিজারেটরে রেখে ঠান্ডা করে নিন। পরিবেশনের আগে বের করে গ্লাসে ঢেলে দিন।

ইফতারে চিয়া সিড দিয়ে তৈরি ৩ খাবার

চিয়া বীজ দিয়ে তৈরি স্মুদি
সারাদিন রোজা রাখার কারণে শরীরে পানির ঘাটতি দেখা দিতে পারে। আবার দীর্ঘ সময় খাবার না খাওয়ার কারণে পর্যাপ্ত পুষ্টির অভাবে শরীরে নানা রকম সমস্যাও দেখা দেয়। এ কারণে রোজা ভাঙার সময় শুধু পানি না খেয়ে তার বদলে চিয়া বীজ ভেজানো পানি খেতে পারেন। পুষ্টিবিদরা বলছেন, পানির ঘাটতি পূরণ করার পাশাপাশি রক্তে শর্করার মাত্রা স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে চিয়া। এই বীজে ফাইবারের পরিমাণও বেশি। অনেক ক্ষণ পর্যন্ত পেট ভর্তি রাখতে পারে চিয়া। এ ছাড়াও নানা রকম ভিটামিন, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, ক্যালশিয়াম, ফসফরাস, ম্যাগনেশিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ়, জ়িঙ্ক, আয়রনের মতো প্রয়োজনীয় বেশ কিছু খনিজ রয়েছে চিয়া বীজে।
ইফতারে চিয়া বীজ দিয়ে বানাতে পারেন কয়েক ধরনের খাবার। যেমন-
চিয়া পুডিং: গরুর দুধ বা যে কোনও ধরনের দুধের মধ্যে ভেজানো চিয়া বীজ, মধু বা মেপ্ল সিরাপ মিশিয়ে সারা রাত ফ্রিজে রেখে দিন। পরের দিন সকালে বিভিন্ন রকম ফল,বাদাম কিংবা বীজ মিশিয়ে খেতে পারেন।
স্মুদি বা ফলের রস : ফলের রস বা স্মুদির পুষ্টিগুণ আরও বেড়ে যেতে পারে চিয়া মেশালে। চিয়ার মধ্যে থাকা ফাইবার এবং ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড শরীরে প্রয়োজনীয় খনিজের জোগান দেয়। আলাদা করে খেতে ভাল না লাগলে এভাবে খেতে পারেন চিয়া বীজ।
বেকিং : বাড়িতে তৈরি কেক, মাফিন, পাউরুটির মধ্যে ব্যবহার করাই যায় চিয়া। যারা ‘এগলেস’ কেক খান, তারা কেকের মিশ্রণে ডিমের বদলে পানিতে ভিজিয়ে রাখা চিয়া ব্যবহার করতেই পারেন।

স্বাধীনতা আন্দোলনে বুদ্ধিজীবীদের ভূমিকা

বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের, বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের, একটা বড় ভূমিকা ছিল। এ বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই একদিন রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের সূত্রপাত হয়েছে, পরবর্তী পর্যায়ে এখানেই স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা প্রথম উত্তোলন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়কে নানাভাবে বাঁধার চেষ্টা করা হয়েছে। কালাকানুন চালু করে এর যে স্বাধীনতাটুকু, এমনকি ইংরেজ আমলে চালু ছিল সেটাও কেড়ে নেওয়া হয়েছে। অধ্যাপকদের লেখা ও মতামত প্রকাশের অধিকার অস্বীকার করা হয়েছে। অন্যদিকে আবার চেষ্টা করা হয়েছে, তাদের প্রলুব্ধ করার। শুধু দেশি সরকার নয়, বিদেশি সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলোও বিশেষ তৎপরতা দেখিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ে। বিশ্ববিদ্যালয় এ দেশে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল একটি সুবিধাভোগী শ্রেণি সৃষ্টির জন্য; সেই শ্রেণি এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরও গড়ে উঠছিল। দুর্বলচিত্ত ও লোভী মানুষ বিশ্ববিদ্যালয়ে নিশ্চয়ই ছিলেন। কিন্তু তবু, বিচ্যুতি সত্তে¡ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক ভূমিকা ছিল জনসাধারণের, অর্থাৎ বাংলাদেশের পক্ষে। বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা পাকিস্তানবাদী ছিলেন তারা চুপ করে ছিলেন না, তাদের পেছনে সরকারের সমর্থন ও সহায়তা ছিল, কিন্তু তবু তাদের কাজ দেশের ওপর বড় কোনো প্রভাব সৃষ্টি করতে পারেনি, বরং বিরূপ প্রতিক্রিয়ারই সৃষ্টি করেছে। ইংরেজরা বিশ্ববিদ্যালয়কে অবিশ্বাস করত, পাকিস্তানিরা আরও বেশি করত-সংগত কারণেই। অবিশ্বাস করত বলে নতুন বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের ব্যাপারে তাদের কোনো উৎসাহ ছিল না। চট্টগ্রামে বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি করা হলো শহর থেকে অনেক দূরে পাহাড়ের মধ্যে। সাভারে বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি করার পরিকল্পনা করল, নাম দিল মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়। জায়গা করল ঢাকা শহর থেকে দূরে লোকবসতিহীন এক প্রান্তরে। এক সময় চেষ্টা করা হয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে ঢাকা থেকে অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য। উদ্দেশ্যটার মধ্যে কোনো লুকোচুরি ছিল না। বিশ্ববিদ্যালয়কে গড়ে উঠতে দেওয়া হবে না পরিপূর্ণভাবে, তাকে রাখতে হতো জনজীবন থেকে দূরে, কেননা বিশ্ববিদ্যালয় যদি বড় হয়, অনেক হয় এবং বিশ্ববিদ্যালয় যদি শহরের মাঝখানে থাকে, তবে ছাত্র ও অধ্যাপকরা রাজনীতি করবে, অর্থাৎ অধিকারের কথা বলবে, অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সভা-শোভাযাত্রা-বিক্ষোভ শুরু করে দেবে। অবিশ্বাস শুধু নয়, ভেতরে ভেতরে প্রচণ্ড একটা ক্রোধ ছিল শাসকদের। যার প্রমাণ পাওয়া গেল তখন, যখন গণহত্যার সূচনাতেই মিলিটারিরা ছুটে এলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে, এসে ছাত্র-শিক্ষক যাকে পেল হাতের কাছে গুলি করে হত্যা করল, দালান-কোঠাও রক্ষা পেল না। আত্মসমর্পণের আগে আবার তারা অনুচরদের পাঠিয়েছে বেছে বেছে বাংলাদেশের আন্দোলন সমর্থনকারী শিক্ষকদের হত্যা করার জন্য।
শুধু শিক্ষক বলে নয়, গোটা বুদ্ধিজীবী স¤প্রদায়ের প্রতিই আক্রোশ ছিল। হানাদারদের পরিকল্পনা ছিল প্রত্যেক শহরে তারা ঠান্ডা মাথায় বুদ্ধিজীবী নিধন করে যাবে আত্মসমর্পণের আগে। এবং কাজ তারা শুরুও করেছিল, শেষ করে যেতে পারেনি এটাই যা রক্ষা। এর কারণ বুদ্ধিজীবীদের উসকানিতেই বাংলাদেশ স্বাধীন হতে চেয়েছে বলে তাদের ধারণা। বাংলাদেশে বুদ্ধিজীবী বলে কেউ না থাকুক, থাকুক শুধু সাধারণ মানুষ এটাই তাদের কল্পনার স্বর্গ ছিল, কেননা তাহলে তাদের ধারণা তারা অনাদিকাল ধরে এ দেশে শোষণকার্য অব্যাহত রাখতে পারত। সন্দেহ নেই বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রশ্নে বুদ্ধিজীবী সমাজের অধিকাংশ মানুষ সাধারণ মানুষের সঙ্গে একাত্ম ছিলেন, অনেক সময় ছিলেন অগ্রবর্তীও।
বাংলার অর্থনীতিবিদদের একটি অংশ সাধারণ মানুষের সচেতনতাকে অনেকটা অগ্রসর করে দিয়েছেন। বাংলাদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ সম্পদ যে পশ্চিম পাকিস্তানে চলে যাচ্ছে এটা সবারই জানা ছিল। অর্থনীতিবিদরা সেই সত্যটা আরও স্পষ্ট করে তুলে ধরেছেন। বিশেষ করে ১৯৫৪-এর সাধারণ নির্বাচনের পর থেকে তারা দেখিয়েছেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি পশ্চিমাদের ষড়যন্ত্রে ক্রমশ পঙ্গু হয়ে পড়েছে। সরকার তথ্য বিকৃত করত, অনেক তথ্য বাঙালি অর্থনীতিবিদদের হাতে আসত না, কেন্দ্রীয় অর্থ দপ্তরের উচ্চপদে বাঙালিদের নিয়োগ করা হতো না, তবুও অর্থনীতিবিদরা এটা বুঝেছিলেন, পশ্চিম ও পূর্ব পাকিস্তানে দুটি স্বতন্ত্র অর্থনীতি চালু করা প্রয়োজন। শেষ দিকে দুই অঞ্চলের অর্থনীতিকদের মধ্যে মতবিরোধ এত প্রবল হতো, তারা কোনো কোনো ব্যাপারে ভিন্ন ভিন্ন রিপোর্ট প্রদান করতেন। আইয়ুব খান চতুর লোক ছিলেন, দুই অর্থনীতির দাবি তার সময়ই জোরেশোরে উঠেছিল এবং তিনি দেখতে পেয়েছিলেন, দুই অর্থনীতির পরিণাম দুই পাকিস্তান। আইয়ুব খান এ দাবি স্তব্ধ করে দিতে চেয়েছিলেন ধমক দিয়ে, অস্ত্রের ভাষা প্রয়োগ করার হুমকি দিয়ে। কিন্তু তাতে সত্য-অসত্য হয়ে যায়নি, ফাটল জোড়া লাগেনি। ফাটল শুরু হয়েছিল ভাষাকে কেন্দ্র করে, অর্থনীতি সেই ফাটলকে ক্রমশ বাড়িয়ে দিয়েছে, পরিণতিতে শুধু দুই অর্থনীতি বা দুই পাকিস্তান নয়, দুই স্বতন্ত্র রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ভাষার ফাটলের কথাও আইয়ুব খান জানতেন। পতনের আগে তিনি একবার দুই অঞ্চলের জন্য একটি সাধারণ ভাষা সৃষ্টি করার কথা বলেছিলেন। সন্দেহ নেই, সে কাজ করতে গেলে ফাটল তো বন্ধ হতোই না, বরং আরও বৃদ্ধি পেত।
প্রত্যক্ষ ভূমিকার বাইরে বুদ্ধিজীবীদের অপ্রত্যক্ষ ভূমিকাটাও কম গুরুত্বের নয়। বাংলাদেশে শিক্ষিত মানুষের সংখ্যা কম, তাই শিক্ষিতের মর্যাদা বেশি। সম্মান প্রদর্শনের অভ্যাসও এ দেশে পুরোনো। বুদ্ধিজীবীদের তাই এ দেশে বিশেষ মর্যাদা ও সম্মান আছে। সেজন্যই দেখা যায়, বুদ্ধিজীবীদের ওপর যখন আক্রমণ এসেছে, তখন আহত হয়েছে সমগ্র দেশ, বিক্ষোভ প্রকাশ করেছে দেশের সাধারণ মানুষ। রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন শুরুতে ছিল মূলত ছাত্রদের আন্দোলন, কিন্তু যে মুহূর্তে গুলি চলল ছাত্রদের ওপর, গ্রেফতারি পরোয়ানা নেমে এলো শিক্ষকদের ওপর, তখনই অবিশ্বাস্য অল্প সময়ের মধ্যে ছাত্র আন্দোলন লেলিহান গণআন্দোলনে পর্যবসিত হলো। তেমনিভাবে উনসত্তরের আন্দোলন তার চরমরূপ পরিগ্রহ করল সেই মুহূর্ত থেকে, যেই মুহূর্তে খবর প্রচার হলো, মিলিটারিরা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. জোহাকে গুলি করে হত্যা করেছে। ঢাকায় তখন কার্ফু ছিল, কিন্তু ওই খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে হাজার হাজার মানুষ বের হয়ে এসেছিল রাস্তায়। কেউ তাদের বলেনি বের হয়ে আসতে, ড. জোহাকে তারা জানে না, বিশ্ববিদ্যালয় দূরে থাকুক, কোনো বিদ্যালয়েই যায়নি তাদের অধিকাংশ মানুষ, কিন্তু তবু ড. জোহার হত্যাকাণ্ডের মধ্যে তারা তাদের নিজেদের অপমানকে দেখল-দেখল তাদের নিজেদের অস্তিত্বের ওপর নৃশংস এক আক্রমণকে। ফলে আন্দোলন এমন প্রবল হয়ে উঠল, তার স্রোতে আইয়ুব খান-মোনেম খান ভেসে চলে গেল কোথায়।
উনসত্তরের আন্দোলনের সময় যারা প্রেস ট্রাস্টের সংবাদপত্র দুটির অফিস পুড়িয়েছে, তাদের অনেকেই হয়তো সংবাদপত্র পড়ে না, কিন্তু তারা জানত সংবাদপত্র দুটি তাদের স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করছিল। অন্যদিকে সরকার যখন যে পত্রিকার ওপর ক্ষুব্ধ হয়েছে, তখন সেই পত্রিকাকে জনসাধারণ আদর করে বুকে তুলে নিয়েছে। দৈনিক ইত্তেফাক সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় ছিল সেই সময়ে, যখন তার প্রকাশ নিষিদ্ধ ছিল, যখন তার সম্পাদক কারারুদ্ধ ছিলেন। পুস্তক নিষিদ্ধ করার কাজে সরকারের উৎসাহ ছিল, কিন্তু শেষের দিকে সরকার আর নিষেধাজ্ঞা প্রচার করতে সাহস পায়নি, প্রচার করলেও সে নিষেধাজ্ঞা মান্য করা হয়নি।
১৯৭১-এর গণহত্যা যখন শুরু হয়, তখন বাংলাদেশের মানুষের মনে সবচেয়ে বেশি মর্মান্তিকভাবে বেজেছে যে ঘটনা, সে হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের হত্যাকাণ্ড। দেশে-বিদেশে বাংলাদেশের মানুষ যে যেখানে ছিল এ ঘটনার পর নিশ্চিত জেনেছে, পূর্ণ স্বাধীনতা ভিন্ন অন্য কোনো পথে বাঙালির বাঁচার উপায় নেই।
বুদ্ধিজীবীদের যে অংশ জনতা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে সরকারের তাঁবেদার হিসাবে কাজ করেছে, তাদের প্রতি সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা মানুষকে বিক্ষুব্ধ করেছে। আটষট্টি সালে অগ্রগতির দশ বছরের গুণকীর্তন করে যখন প্রায় প্রতিদিন সংবাদপত্রে একটি করে বিশেষ সংখ্যা প্রকাশিত হচ্ছিল, যখন প্রতিদিন মস্ত মস্ত ছবি ছাপা হচ্ছিল আইয়ুব খানের, তখন সেই সমারোহ যেমন করে বিদ্বিষ্ট করে তুলছিল পাঠকদের, তেমনিভাবে প্রলুব্ধ ও স্তাবক বুদ্ধিজীবীদের প্রতি পৃষ্ঠপোষকতার বর্ধিষ্ণু সমারোহও ঘৃণার সৃষ্টি করেছিল মানুষের মনে। বিশেষ করে আইয়ুব রাজত্বকালে, কেননা সেই কালেই উদ্যোগ-আয়োজনটা বেড়েছিল সবচেয়ে বেশি। বাংলাদেশ মীরজাফরদের জন্ম যেমন দিয়েছে, তেমনি তাদের ঘৃণা করতেও কার্পণ্য করেনি।
তারচেয়েও বড় কথা এ সুবিধাভোগী ও ক্ষেত্র বিশেষে
নির্বোধ, বুদ্ধিজীবীদের লেখায়-বক্তৃতায় ফল হয়েছে হিতে বিপরীত। তারা যা ভালো বলেছেন, জনসাধারণ নিশ্চিত জেনেছে, তা মন্দ না হয়ে যায় না। তারা যার পক্ষে থেকেছেন, জনসাধারণ তার বিপক্ষে গেছে। অবশ্য এরা পক্ষে যত না বলেছেন, বিপক্ষে বলেছেন তার চেয়ে বেশি; কেননা এদের প্রধান চরিত্র হচ্ছে বর্জনবাদীর। এরা বলেছেন, ইকবাল অতি মহৎ কবি, বাংলাদেশের মানুষ সেই মহত্ত¡ দেখতে পায়নি। এরা বলেছেন, রবীন্দ্রনাথকে বর্জন কর। যত বলেছেন এই কথা, তত জনপ্রিয়তা বেড়েছে রবীন্দ্রনাথের, তত বেশি দৃঢ়ভাবে বাংলাদেশের মানুষ আঁকড়ে ধরেছে রবীন্দ্রনাথকে। রবীন্দ্রনাথ কবি থাকেননি, তিনি জাতীয় বীরে পরিণত হয়েছেন, তার গান বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত হিসাবে গৃহীত হয়েছে। এরা বলেছেন, বাংলা ভাষাকে ইসলামি কর। যত বলেছেন, তত বেড়েছে সমগ্র বাংলা ভাষার প্রতি মানুষের প্রীতি ও আকর্ষণ। হরফ বদলানোর পরামর্শ সবাই ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে। এরা বলেছেন, নজরুল ইসলামের সংস্কার আবশ্যক, সাধারণ মানুষ বলেছে, নজরুল ইসলাম আমাদের একান্ত আপনজন। এরা বলেছে, পুঁথি সাহিত্যই আসল সাহিত্য, সাধারণ পাঠক বুঝে নিয়েছে পুঁথি সাহিত্যের পক্ষে ওই প্রচারে ফাঁকি আছে। মোটকথা, এদের কাজ সম্পূর্ণ বিপরীত ফল উৎপাদন করেছে। তার কারণ এই যে, সাধারণ মানুষ জানত এরা তাদের স্বার্থের শত্রু, এরা তাদের বন্ধু নন, এদের উদ্দেশ্য পশ্চিমাদের শোষণব্যবস্থাটাকে কায়েমি করে রাখা।
এভাবে জনতা থেকে বিচ্ছিন্ন ছিলেন যেসব বুদ্ধিজীবী, তারাও নিজেদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে, পরোক্ষে জনতার উপকারই করেছেন। জনতার দৃষ্টি খুলে দিতে তারাও সাহায্য করেছেন, এ করে জনতার আন্দোলনকে তারাও এগিয়ে দিয়েছেন।
বুদ্ধিজীবী সমাজের যে অংশ সাধারণ মানুষের সঙ্গে ছিলেন, তারা বিবেকবান ছিলেন সত্য, কিন্তু তারাও আসলে নিজেদের স্বার্থেই কাজ করেছেন, তবে তফাত এই যে, তাদের স্বার্থকে তারা জনসাধারণের স্বার্থ থেকে ভিন্ন করে দেখেননি। এবং উভয়ের স্বার্থ যেহেতু ছিল এক ও অভিন্ন, তাই তাদের কাজের ফলে জনসাধারণের আন্দোলনের উপকার হয়েছে।
পাকিস্তান আন্দোলনের পেছনে কোনো দার্শনিক প্রস্তুতি ছিল না, যদিও পরবর্তীকালে প্রচার করা হয়েছিল, বিশিষ্ট জীবনদর্শনের প্রয়োজনেই স্বতন্ত্র রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশের আন্দোলনও কোনো গ্রন্থপাঠ থেকে শুরু হয়নি; কিন্তু বুদ্ধিজীবীরা এ আন্দোলনে ছিলেন, এ আন্দোলনে তারা সরাসরি নেতৃত্ব দেননি, আন্দোলন যখন এগিয়ে গেছে, তখন তার গতির সঙ্গে সমতা রক্ষা করতেও হয়তো তারা পারেননি, পিছিয়ে পড়েছেন, তবু তারা সঙ্গেই ছিলেন, তাদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ উভয় ভূমিকাই ছিল গুরুত্বপূর্ণ। বায়ান্নর রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা সভা করে গুলিবর্ষণের নিন্দা করেছেন, ফলে তাদের ভেতর থেকে কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়। উনসত্তরের এবং একাত্তরের আন্দোলনের সময় শিক্ষকরা রাজপথে শোভাযাত্রা করেছেন।
এসব ঘটনা ছোট ঘটনা; কিন্তু এগুলোর তাৎপর্য আছে। তাৎপর্য এই যে, বোঝা গেছে বিক্ষোভ সর্বজনীন হয়ে উঠেছে, তারচেয়ে বড় কথা, বোঝা গেছে শিক্ষিত-অশিক্ষিত সব মানুষ এক হয়ে গেছে। সেই একতার দরুনই বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে।
জনতার সঙ্গে চলা বুদ্ধিজীবী সমাজ জনতার অগ্রবর্তী অংশ হিসাবেই কাজ করেছে। পাকিস্তানের ব্যর্থতার লক্ষণ প্রথম ধরা পড়েছে তাদের কাছেই, পরে তারাই প্রমাণ পেয়েছেন সেই ব্যর্থতার। তারাই বুঝেছেন ভাষার ওপর আক্রমণের অর্থ কী, অর্থনীতির গতি কোন দিকে। সেই জ্ঞানকে তারা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। বাকি কাজটা সাধারণ মানুষ নিজেরাই করেছে। বাংলাদেশকে তারা স্বাধীন করে নিয়েছে নিজের হাতে।
লেখক :সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, ইমেরিটাস অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

রোহিতের স্ত্রীকে জড়িয়ে ধরে রঙ মাখালেন হার্দিক

০

মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের দোলে এবার জমিয়ে মজা করতে দেখা গেল হার্দিক পান্ডে, রোহিত শর্মাদের। সোমবার গোটা ভারত হোলির রঙে মেতে উঠেছিল যেন। আর সেই রঙের উৎসবের ছোঁয়া লাগে আইপিএলের সমস্ত দলেও।
এখন টানা আইপিএলের ম্যাচ চলছে, প্র্যাকটিস, ম্যাচসহ নানা চাপের মধ্যেও এদিন মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স টিমকে দোল খেলতে দেখা যায়। এই দলের সমস্ত খেলোয়াড়দের আনন্দ, রঙে মেতে উঠতে দেখা যায় এদিন।
মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স টিমের আয়োজিত হোলিতে এদিন রোহিত শর্মাসহ অন্যান্য খেলোয়াড়দের দারুণ মজা করতে দেখা যায়। খেলোয়াড়দের সঙ্গে ছিল তাদের পরিবারও। এদিন হার্দিক পান্ডেকে রোহিতের স্ত্রী রিতিকা সাজদেহর সঙ্গে জমিয়ে রঙ খেলতে দেখা যায়।
এমনকি তাদের রঙ খেলা হয়ে গেলে শেষে সাধারণ প্লেন জল দিয়েও হোলি খেলেন তারা। দিল্লি ক্যাপিটালসের তরফেও হোলির আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে ঋষভ পন্ত, ডেভিড ওয়ার্নার, প্রমুখকে রঙ খেলতে দেখা যায়। ধর্ম, দেশ, ইত্যাদির বিভেদ ভুলে তারা একসঙ্গে রঙের খেলায় রঙিন হয়ে উঠেছিলেন।
কেকেআরের টিমের তরফেও এদিন দোলের আয়োজন করা হয়। সেখানে শ্রেয়স আইয়ার, হর্ষিত রানা, গৌতম গম্ভীর, প্রমুখকে এদিন রঙের খেলায় মেতে উঠতে দেখা যায়। রাজস্থান রয়্যালসের শিবিরেও আয়োজন করা হয়েছিল হোলির। যুবেন্দ্র চাহাল, ধ্রুব জুরেল, স্টিভ স্মিথ প্রমুখও অংশ নেন দোলের উদযাপন।
এদিনের একাধিক ছবি এবং ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় দারুণ ভাইরাল হয়েছে। সব থেকে বেশি নজর কেড়েছে হার্দিক এবং রোহিতের স্ত্রীর দোল খেলা।
প্রসঙ্গত আগামী ২৭ মার্চ মুম্বই ইন্ডিয়ান্স মুখোমুখি হবে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের।