Home Blog Page 635

একেন বাবু’র স্রষ্টা সুজনের মরদেহ উদ্ধার

ঢাকা ডেস্ক: কলকাতার একটি ফ্ল্যাট থেকে ‘একেন বাবু’ সিরিজের লেখক সুজন দাশগুপ্তের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, আজ বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সার্ভে পার্কের বাড়িতে গিয়েছিলেন তাঁর গৃহপরিচারিকা সুনিতা দাস। অনেকবার ধাক্কা দিয়েও দরজা না খোলায় তিনি বাড়ির নিরাপত্তারক্ষীদের খবর দেন। তাঁরাও দরজা ভাঙতে না পেরে পুলিশকে খবর দেন। তবে পুলিশ আসার আগেই প্রতিবেশীদের সঙ্গে নিয়ে বাড়ির নিরাপত্তারক্ষীরা দরজা ভেঙে সুজনের মরদেহ মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন।
পুলিশকে উদ্ধৃত করে কলকাতার সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, সুজনের স্ত্রী শান্তিনিকেতন ঘুরতে গিয়েছিলেন, তাঁর মেয়ে যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী। বাসায় লেখক একাই ছিলেন।
পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে লেখকের মৃত্যুর ঘটনা তাদের কাছে সন্দেহজনক মনে হয়নি। তাদের ধারণা, বাথরুমে যাওয়ার সময় পড়ে গিয়ে সুজনের মৃত্যু হয়েছে।
২ জানুয়ারি সর্বশেষ ফেসবুকে ছবি পোস্ট করেছিলেন সুজন। যুক্তরাষ্ট্র থেকে নাতি-নাতনিরা যে কলকাতায় আসছে, সে খবর দিয়ে।
সুজন দাশগুপ্ত নিজেও যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী ছিলেন। ৫০ বছর নিউ জার্সির মন্টিভিলে ছিলেন। কিছুদিন আগেই কলকাতায় ফিরেছিলেন।
২০১৮ সালে স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম হইচইতে প্রথম সিজন প্রচারের পর ‘একেন বাবু’ ব্যাপক জনপ্রিয় হয়। পরে সিরিজটির ৬টি সিজনে ৩৯টি পর্ব প্রচার হয়। পরে গত বছর মুক্তি পায় ‘একেন বাবু’কে নিয়ে সিনেমাও। সিরিজ ও সিনেমায় একেন বাবুর চরিত্রে অভিনয় করেন অনির্বাণ চক্রবর্তী।

পক্ষে থাকলে সাধু, বিপক্ষে গেলে শয়তান

বাংলাদেশকে এ অঞ্চলের বাইরে অনেকেই চেনে না। তারপরও অনেকেই বাংলাদেশ নিয়ে ভাবেন, মাথা ঘামান যাঁরা এ দেশের মানুষের ভালো চান বা এ অঞ্চলে যাঁদের কূটনৈতিক স্বার্থ আছে। গত ৫২ বছরে এই প্রবণতা পাল্টায়নি।
বিদেশিরা সাধারণত দুটো বিষয় আমলে নেন। এ দেশে কোনো কারণে কোনো অস্থিরতা তৈরি হলে কিংবা দুর্যোগ দেখা দিলে তাঁরা সহমর্মিতা দেখান, সাহায্য করতে এগিয়ে আসেন। এটা আমরা দেখেছি ১৯৭০ সাল থেকে নানান দুর্বিপাকে, ঘূর্ণিঝড় ও বন্যার সময়।
আবার রাজনৈতিক দুর্যোগে তাঁদেরকে দেখি মুখ খুলতে। প্রশ্ন হলো, বিদেশিদের এই ভূমিকাকে আমরা কীভাবে দেখব? এটা ভালো না মন্দ? এটা কি সহানুভূতি, না হস্তক্ষেপ? এটা নির্ভর করে আমরা টেবিলের কোন পাশে বসে দেখছি। আমরা কি তাদের এহেন ভূমিকার সুবিধা নিচ্ছি, নাকি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি? সুবিধাভোগীর কাছে তাদের ‘হস্তক্ষেপ’ ইতিবাচক, ভিকটিম বা ক্ষতিগ্রস্তের কাছে তা নেতিবাচক বা অনভিপ্রেত।
একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে আমরা ভারত ও সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রত্যক্ষ সহযোগিতা পেয়েছি। এমনও বলা হয়, তারা সাহায্য না করলে বাংলাদেশ ওই সময় স্বাধীন হতো না। আমরা আমাদের সহযোগীদের মিত্র মনে করি। কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করি তাদের। একাত্তরে পাকিস্তান পরাজিত হয়েছে। তারা নিজেদের মনে করে ভিকটিম। তারা বলে, ভারত ও সোভিয়েত ইউনিয়নের হস্তক্ষেপ ও ষড়যন্ত্রের ফলে পাকিস্তান ভেঙে গেছে। কোনটা সত্য? এটা নির্ভর করে আপনি কোন পক্ষের চোখ দিয়ে দেখছেন।
জন্মলগ্ন থেকেই বাংলাদেশ রাজনৈতিক অস্থিরতায় ভুগছে। শান্তিপূর্ণভাবে ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় ক্ষমতার হাতবদল হয় না। ১৯৭৩ সালে স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম সাধারণ নির্বাচন হয়েছিল। বেশ কিছু জায়গায় কারচুপি ও কারসাজি করে আওয়ামী লীগ একচেটিয়া জয় পায়। স্বাভাবিকভাবেই পরবর্তী নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল ১৯৭৮ সালে। ১৯৭৫ সালে সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর পর নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তনের সম্ভাবনা অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। এর ফল হয়েছিল ভয়াবহ।
এরপর দেশে চালু হয় দ্বিদলীয় রাজনীতি। রাজনীতির মেরুকরণ এমন হয় যে তাদের মধ্যে সমঝোতার সব পথ রুদ্ধ হয়ে যায়। তখন থেকেই চলে আসছে রাজনৈতিক সংকট। নব্বইয়ের দশকজুড়ে বিদেশ থেকে রেফারি এনে দুই পক্ষের মধ্যে আপসের নানান চেষ্টা হয়েছে। জাতিসংঘও উদ্যোগ নিয়েছে। দুই পক্ষের মধ্যকার দূরত্ব দূর হয়নি।
বছরখানেক পর নির্বাচন হবে। দলীয় রাজনীতির ধর্মই হলো ক্ষমতায় যাওয়া। ১৯৭০ সালে আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ মুজিবুর রহমান পরিষ্কার বলেছিলেন, তাঁর দল আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলাম বা রামকৃষ্ণ মিশন নয়। তিনি ক্ষমতায় যেতে চান। ক্ষমতায় গিয়ে মানুষের সেবা করতে চান। এখন অনেককে তাদের প্রতিপক্ষ সম্পর্কে বলতে শুনি আরে, ওরা তো মানুষের কথা ভাবে না, ক্ষমতার রাজনীতি করে! এটা বলে এ জন্য যে তারা শুধু ক্ষমতাটাই দেখে ও উপভোগ করে, আর নিজেদের সেবা করে বেড়ায়।
আশির দশকে এইচ এম এরশাদের শাসনের বিরুদ্ধে দুই পক্ষ এককাট্টা হয়েছিল। দুই পক্ষই অন্তর্র্বতী নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দাবি করেছিল। ১৯৯১ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত আমরা এভাবে চারটি নির্বাচন হতে দেখেছি। প্রতিবার দেখা গেছে, ভোটাররা ক্ষমতাসীনদের হটিয়ে বিরোধী দলকে ক্ষমতায় বসিয়েছে। ক্ষমতাসীন দল নানাভাবে অন্তর্র্বতী সরকারব্যবস্থাকে বিকৃত ও প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করে আজীবন ক্ষমতায় থাকতে চেয়েছে। কিন্তু নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন হওয়ায় ভোটাররা তাদের শক্তি দেখাতে পেরেছে। ২০০৮ সালের পর এই শক্তি কেড়ে নেওয়া হয়েছে।
১৯৯৬ সালের নির্বাচনের ফলাফল বিএনপি মেনে নিতে চায়নি। ঢাকার হোটেল সোনারগাঁয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি চেয়ারপারসন বিদেশি পর্যবেক্ষকদের নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করে বলেছিলেন এঁরা কী জানেন। আওয়ামী লীগ নেতৃত্ব বিদেশিদের পর্যবেক্ষণকে স্বাগত জানিয়েছিল। ২০০১ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ হেরে যায়। আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রকাশ্যে বলেছেন, ভারতকে গ্যাস দিতে রাজি না হওয়ায় তাদেরকে জোর করে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এক-এগারোর সময় বিদেশিদের দৌড়ঝাঁপ ছিল চোখে পড়ার মতো। বিএনপি এতে খুব নাখোশ ছিল। কারণ, তাদের সাজানো বাগান তছনছ হয়ে গেছে। আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্ব এক-এগারোর সরকারকে তাদের আন্দোলনের ফসল বলে দায়মুক্তি দিয়েছিল। এ সবই নিকট অতীতের কথা, আমাদের সবার জানা। একটা বিষয় খুব পরিষ্কার। বিদেশিদের কথা আমার পক্ষে গেলে জায়েজ, বিপক্ষে গেলে নাজায়েজ।
বিদেশিদের কোনো জরিপে বা সংবাদমাধ্যমে যখন আমাদের প্রশংসা করা হয়, আমরা আহ্লাদে আটখানা হই। তখন এসব খবর খুব জোরেশোরে প্রচার করা হয়। একই সূত্র থেকে যদি বলে এখানে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে, তখন আমাদের গার্জেনরা বলেন, ‘আমরা এই রিপোর্ট প্রত্যাখ্যান করি।’ মুহূর্তেই বিদেশি ফেরেশতারা শয়তান হয়ে যায়।
ফুটবল খেলায় রেফারির দরকার হয়। তিনি দরকারমতো সিদ্ধান্ত বা শাস্তি দেন। তারপরও হেরে যাওয়া দল রেফারির খুঁত ধরে। সেখানে প্রতিকারের একটা সুযোগ থাকে, আপিল করা যায়। ফিফা হচ্ছে শেষ ভরসা।
আমাদের রাজনৈতিক খেলায় রেফারি হচ্ছে নির্বাচন কমিশন। আমরা দেখেছি, অন্তর্র্বতী সরকারের অধীনে কমিশন যেভাবে কাজ করে, দলীয় সরকারের অধীনে সে রকম পারে না বা করতে দেওয়া হয় না। মনে আছে, ১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনে ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগের ভরাডুবি হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী নূরুল আমিন শান্তিপূর্ণভাবে জয়ীদের হাতে ক্ষমতা ছেড়ে দিয়ে একটা দৃষ্টান্ত তৈরি করেছিলেন। সেটাই প্রথম, সেটাই শেষ। তখন বিদেশি পর্যবেক্ষকের দরকার হয়নি।
এখন পশ্চাৎপদ অনেক দেশেই নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য বিদেশি পর্যবেক্ষক আনা হয়। আমি নিজে নেপালের তিনিটি সাধারণ নির্বাচনে পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব পালন করার সময় অনেক কিছু দেখেছি ও শিখেছি। রাজতন্ত্র উৎখাতের পর সেখানে যতবার ক্ষমতার পালাবদল হয়েছে, প্রতিবারই হয়েছে শান্তিপূর্ণভাবে। আমাদের নির্বাচন কমিশনের কর্তারা অন্য দেশে নির্বাচন দেখতে যান। নেপালেও যান। তাঁরা কী দেখেন কী শেখেন, তাঁরাই ভালো বলতে পারবেন।
ঘরের ঝগড়া নিজেরা মেটাতে না পারলে কোনো প্রতিবেশী বা মুরব্বির পরামর্শ নেওয়ার চল আছে আমাদের সমাজে। এই সালিস প্রথা টিকে আছে যুগ যুগ ধরে। এরপরও অনেক গোঁয়ার-গোবিন্দ জেদ ধরেÑসালিস মানি, কিন্তু তালগাছটা আমার। বিদেশিরা ১৯৯৬ থেকে অনেকবার এ দেশে এসেছে সালিস করতে। কিন্তু আমরা মানিনি। শেষমেশ আমরা সমাধান খুঁজে পেয়েছিলাম তত্ত¡াবধায়ক সরকারব্যবস্থায়। এই ব্যবস্থায় কোনো দল পরপর দুই মেয়াদে ক্ষমতায় থাকতে পারেনি। এটাই ছিল এই ব্যবস্থার ইতিবাচক দিক। ওই দিন ভোটাররাই রাজা। তাঁরা গণেশ উল্টে দেন।
দীর্ঘ মেয়াদে কর্তৃত্ববাদী সরকারব্যবস্থার থেকে মুক্ত হতে ফিলিপাইন ও কোরিয়া প্রজাতন্ত্র সংবিধানে একটি ধারা ঢুকিয়েছে কেউ এক মেয়াদের বেশি সরকারপ্রধান থাকতে পারবেন না। আমি ক্ষমতায় না থাকলে দেশের সর্বনাশ হবে, জনগণ এতিম হয়ে পড়বে, আমি ছাড়া দেশকে কেউ ভালোবাসে না ওই দেশের রাজনীতিবিদেরা এখন আর এটা মনে করেন না।
বছরখানেক পর নির্বাচন হবে। দলীয় রাজনীতির ধর্মই হলো ক্ষমতায় যাওয়া। ১৯৭০ সালে আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ মুজিবুর রহমান পরিষ্কার বলেছিলেন, তাঁর দল আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলাম বা রামকৃষ্ণ মিশন নয়। তিনি ক্ষমতায় যেতে চান। ক্ষমতায় গিয়ে মানুষের সেবা করতে চান। এখন অনেককে তাদের প্রতিপক্ষ সম্পর্কে বলতে শুনি আরে, ওরা তো মানুষের কথা ভাবে না, ক্ষমতার রাজনীতি করে! এটা বলে এ জন্য যে তারা শুধু ক্ষমতাটাই দেখে ও উপভোগ করে, আর নিজেদের সেবা করে বেড়ায়।
নির্বাচন ঘনিয়ে আসছে। বিদেশিরা বেশ নড়াচড়া করছেন। তাঁরা বলেছেন, উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে তাঁরা দেশে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন দেখতে চান। কথা হলো, এটা বিদেশিদের বলতে হয় কেন? আমরা কি পারি না একটা ভালো নির্বাচন করতে, যেমনটি করছে নেপাল?
বিদেশিদের কথা কানে মধুবর্ষণ করে যখন তা পক্ষে যায়, আর বিষ ঢেলে দেয়, যখন তা বিপক্ষে যায়। এ হলো ‘বিদেশি হস্তক্ষেপের’ শানে নজুল। তবে যত দিন গড়াবে, এই প্রবণতা আরও বাড়বে।


মহিউদ্দিন আহমদ, লেখক ও গবেষক

ক্যাটরিনা সত্যিই কি গর্ভবতী?

ঢাকা ডেস্ক : বলিউড বাজার মন্দা সময় পার করলেও তারকারা নিজেদের প্রেম-বিয়ে, সন্তান নিয়ে বেশ ব্যস্ত সময় পার করছেন। এবার সেই তালিকায় নিজের নামটি যুক্ত করতে যাচ্ছেন দীর্ঘদিন বিয়ে নিয়ে শিরোনাম হওয়া ক্যাটরিনা কাইফ ও ভিকি কৌশল দম্পতি। তবে এবার বিয়ে নয়, মা হওয়ার খবরের শিরোনামে নাম এলো ক্যাটরিনার।
বেশ কিছু দিন ধরেই গুঞ্জন রয়েছে প্রথম সন্তানের অপেক্ষায় আছেন এই অভিনেত্রী। এবার ক্যাটরিনার নতুন কিছু ছবি প্রকাশের পর থেকে নতুন করে সেই গুঞ্জন ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠল!
সম্প্রতি লোহরি উৎসব উদযাপন করে ফেরার সময় বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের ক্যামেরায় ধরা পড়েন ক্যাটরিনা। এ সময় তার পরিহিত ঢিলেঢালা হলুদ কুর্তা এবং ম্যাচিং পায়জামা বরাবরের মতোই নজর কেড়েছেন। তবে আলোচনাটা ক্যাটরিনার পোশাককে ঘিরেই। নিজের স্বভাবসুলভ পোশাক থেকে বিরত রয়েছেন অভিনেত্রী। নিয়মিত পরছেন ঢিলেঢালা-আরামদায়ক পোশাক। আর এ ছবিগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই ভক্ত-অনুরাগীদের লাইক-কমেন্টে ভরে গেছে কমেন্ট বক্স।
কেউ মন্তব্য করেছেন ‘ক্যাটরিনাকে অন্তঃসত্তা বলে মনে হচ্ছে।’ অপর একজন প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে লিখেছেন ‘ক্যাটরিনা সত্যিই গর্ভবতী?’ কারও কারও মতে, ‘নিজের গর্ভাবস্থা আড়াল রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন অভিনেত্রী।’
উল্লেখ্য, কিছু দিন ধরেই ক্যাটরিনাকে ঢিলেঢালা পোশাকে দেখা যাচ্ছে। তার স্বাভাবিক চেহারা ও সাজসজ্জা থেকে আলাদা দেখা যাচ্ছে অভিনেত্রীকে। তবে বিষয়টি নিয়ে এখনো মুখ খোলেননি ভিকি-ক্যাটরিনা। এমনকি এই গুঞ্জনকে অস্বীকার করেও কোনো বক্তব্য দেননি। তাদের নীরবতায় তাই গুঞ্জনকে সত্য বলেই মেনে নিচ্ছেন অনেকে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লুর ঢাকা সফর নিয়ে সরকার মিথ্যাচার করেছে’: মির্জা ফখরুল

ঢাকা ডেস্ক : ‘মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লুর ঢাকা সফর নিয়ে সরকার মিথ্যাচার করেছে’ এমন অভিযোগ করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, র‌্যাবের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্য নিয়ে মিথ্যাচার করেছে সরকার, যা মার্কিন দূতাবাসের বিবৃতিতে প্রমাণিত হয়েছে।
তিনি বলেন, নিষেধাজ্ঞা নিয়ে আমরা আনন্দিত নই, এটি আমাদের জন্য লজ্জার। নিষেধাজ্ঞা আসা উচিত সরকারের বিরুদ্ধে। জনগণ সরকারের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।
বুধবার দুপুরে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। মঙ্গলবার রাতে দলটির স্থায়ী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার সিদ্ধান্ত জানাতেই এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির কর্মসূচির সময় আওয়ামী লীগের কর্মসূচি ঘোষণা করার তীব্র সমালোচনা করেন মির্জা ফখরুল।
বিএনপির কর্মসূচির দিনে আওয়ামী লীগকে কর্মসূচি না দেওয়ার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, একই দিনে কর্মসূচি দিলে কোনো পরিস্থিতির তৈরি হলে এর দায় আওয়ামী লীগকে নিতে হবে।
বিরোধী দলকে দমন করতে ইসরাইল থেকে নজরদারির প্রযুক্তি কেনা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, মুঠোফোন ও ইন্টারনেট যোগাযোগের ওপর নজরদারি করার জন্য ইসরাইলি এক কোম্পানির কাছ থেকে প্রযুক্তি ক্রয় করা হয়েছে বলে দেশ-বিদেশের গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে, যেটি গভীর উদ্বেগের। একই সঙ্গে সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর টেলিফোনে আড়িপাতার বিষয়ে আইন প্রণয়নের ঘোষণায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
মির্জা ফখরুল বলেন, অনির্বাচিত সরকার তাদের অবৈধ উপায়ে দখল করা ক্ষমতা চিরস্থায়ী করার লক্ষ্যে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের নজরদারিতে রাখতে সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি ক্রয় ও আড়িপাতার আইন প্রণয়ন করতে চলেছে। এ ভয়াবহ নিবর্তনমূলক আইন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর অগণতান্ত্রিক আচরণ জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার ও সাংবিধানিক অধিকার কেড়ে নিতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে। অবিলম্বে এসব প্রযুক্তি ক্রয় করা ও আইনপ্রণয়নের অপচেষ্টা থেকে বিরত থাকার জন্য আহবান জানান তিনি।
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপপ্রয়োগ হচ্ছে অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, স্থায়ী কমিটির সভায় গত চার বছরে এক হাজার ২০৯টি মামলা হওয়াতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। সভা মনে করে এই চরম নির্বতনমূলক আইনের মাধ্যমে ভিন্নমত পোষণকারী ব্যক্তি, সংবাদকর্মী, বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার ও আটকের মাধ্যমে জনগণের গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক অধিকারের ওপর চরম আঘাত করা হচ্ছে ও মানবাধিকার লঙ্ঘন করা হচ্ছে। নিরপরাধ ব্যক্তিদের ওপর এই আইনের অপপ্রয়োগের ফলে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হরণ করা হচ্ছে। অবিলম্বে এই আইনের আওতায় বন্দি ব্যক্তিদের মুক্তি ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবি জানান।
বিএনপির মহাসচিব আরও বলেন, সম্প্রতি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তা রাজনৈতিক দলগুলোর নেতৃত্ব, দলের গঠনতন্ত্র ও কর্মসূচি নিয়ে যে এখতিয়ারবহির্ভূত, শিষ্টাচার বিবর্জিত অপ্রয়োজনীয় মন্তব্য করেছেন তার তীব্র নিন্দা জানাই ।

শক্তিশালী ভূমিকম্প এর কবলে ইন্দোনেশিয়া

ঢাকা ডেস্ক : ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় মালুকু দ্বীপের কাছে বুধবার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৭.০। এর ফলে সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
মার্কিন ভূতাত্তিক জরিপ সংস্থা এ কথা জানিয়েছে। খবর এএফপি’র।
খবরে বলা হয়, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় হলমাহারা দ্বীপের ১৫০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে ভূপৃষ্ঠের ৪৮ কিলোমিটার গভীরে।
ভূমিকম্পের পর হাওয়াইয়ে অবস্থিত এনডবিøউএস প্যাসিফিক সুনামি ওয়ার্নিং সেন্টার তাদের সতর্ক বার্তায় বলেছে, ‘ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থলের ৩শ’ কিলোমিটারের মধ্যে উপকূলীয় অঞ্চলে বিপজ্জনক সুনামির সম্ভাবনা রয়েছে।’
স্থানীয় সময় বেলা ১টা ৬মিনিটের দিকে ভূমিকম্প আঘাত হানে। ইউএসজিএস প্রাথমিকভাবে ভূমিকম্পটির মাত্রা ৭.২ বলে উল্লেখ করলেও পরবর্তীতে তা সংশোধন করে ৭.০ বলে জানায়।
এদিকে ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া ও ভূতাত্তি¡ক সংস্থা ভূমিকম্প পরবর্তী সম্ভাব্য ভূমিকম্পের ব্যাপারে সতর্কতা জারি করেছে।
ইন্দোনেশিয়ার ভৌগলিক অবস্থান প্যাসিফিক ‘রিং অব ফায়ারে’ হওয়ায় দেশটিতে প্রায় ভূমিকম্পের ঘটনা ঘটে থাকে।

সরকারি চাকরিতে সাড়ে তিন লাখের বেশি পদ খালি: জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী

ঢাকা ডেস্ক : জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেছেন, সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর, পরিদপ্তর ও অফিসে বেসামরিক জনবলের ৩ লাখ ৫৮ হাজার ১২৫টি পদ শূন্য রয়েছে।
বুধবার সংসদে প্রশ্নোত্তরে এ তথ্য জানান তিনি। স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে চলমান অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উপস্থাপিত হয়।
কাজিম উদ্দিন আহম্মেদ এমপির প্রশ্নের জবাবে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী জানান, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে সর্বশেষ প্রকাশিত স্ট্যাটিসটিকস অব সিভিল অফিসার্স অ্যান্ড স্টাফস-২০২১ এর (২০২২ সালের জুনে প্রকাশিত) তথ্য অনুযায়ী- সরকারের অধীনে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/বিভাগ/অধিদপ্তর/পরিদপ্তর ও সরকারি কার্যলয় সমূহে বেসামরিক জনবলের মোট শূন্য পদ ৩ লাখ ৫৮ হাজার ১২৫টি।
এর মধ্যে প্রথম শ্রেণির ৪৩ হাজার ৩৩৬টি, দ্বিতীয় শ্রেণির ৪০ হাজার ৫৬১, তৃতীয় শ্রেণির ১ লাখ ৫১ হাজার ৫৪৮ এবং চতুর্থ শ্রেণি পদে শূন্য পদ ১ লাখ ২২ হাজার ৬৮০টি।
তিনি আরও জানান, সরকারি অফিসগুলোর শূন্য পদের নিয়োগ চলমান প্রক্রিয়া।
জাতীয় পার্টির এমপি মুজিবুল হক চুন্নুর প্রশ্নের জবাবে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী জানান, ৪০তম বিসিএসের নন-ক্যাডার পদে ৫ হাজার ৪৩৬টি শূন্য পদের চাহিদাপত্র পাওয়া গেছে। এগুলো যাচাই-বাছাই শেষে প্রকৃত সুপারিশযোগ্য শূন্য পদের সংখ্যা জানানো সম্ভব হবে।
সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি শামসুন নাহারের প্রশ্নের জবাবে ফরহাদ হোসেন বলেন, স্ট্যাটিসটিকস অব সিভিল অফিসার্স অ্যান্ড স্টাফস-২০২১ প্রতিবেদন অনুযায়ী দেশের সরকারি চাকরিজীবীর সংখ্যা ১৫ লাখ ৫৪ হাজার ৯২৭ জন। এর মধ্যে নারী ৪ লাখ ৪ হাজার ৫৯১ জন, যা মোট চাকরিজীবীর প্রায় ২৬ শতাংশ। ২০১০ সালে এ হার ছিল ২১ শতাংশ।
তিনি আরও জানান, প্রথম শ্রেণির পদে নারীদের জন্য আলাদা কোটা না থাকলেও ১৩ থেকে ২০তম গ্রেডে নিয়োগে নারীদের জন্য ১৫ শতাংশ কোটা সংরক্ষণ করা আছে।

গ্যাস যে দামে কিনব সেই দামই গ্রাহককে দিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, গ্যাস যে দামে কেনা হবে সেই দামই গ্রাহককে দিতে হবে, সেক্ষেত্রে দাম বাড়তে পারে। তিনি বলেন, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়লেও মূল্যস্ফীতি আমরা নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছি। তাতে আমরা সফলও হয়েছি।
বুধবার জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য এম আব্দুল লতিফের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
সরকারপ্রধান বলেন, ২০৪১ সালের মধ্যে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশকে উন্নত-সমৃদ্ধিশীল রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে। আর্থসামাজিক ক্ষেত্রে সরকার জোর দেওয়ার কারণে দক্ষিণ এশিয়ায় উন্নয়নে সবচেয়ে এগিয়ে আছে বাংলাদেশ। ২০৪১ সালের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন ৬০ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত হবে বলেও জানান তিনি।
জাতীয় পার্টির এমপি মুজিবুল হক চুন্নু পয়েন্ট অব অর্ডারে ফ্লোর নিয়ে আইএমএফের ঋণের শর্তে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বাড়ানো হচ্ছে অভিযোগ উত্থাপন করে বলেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বৃদ্ধির ফলে মূল্যস্ফীতির চাপ সরকার কিভাবে সামলাবে।
জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আইএমএফ তখনই ঋণ দেয় যখন ওই দেশ ঋণ দেওয়ার যোগ্যতা থাকে। এখানে আমরা তেমন কোনো শর্ত দিয়ে ঋণ নিইনি।
সরকারপ্রধান আরও বলেন, আমরা বিদ্যুৎ ও গ্যাসে এখনো ভর্তুকি দিচ্ছি। কিন্তু জনগণকে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে হবে। আর দ্রব্যমূল্যের দাম সারা বিশ্বব্যাপী যুদ্ধের কারণে বেড়ে গেছে। তারপরও সব মানুষ যাতে খাদ্য কম দামে পায় সে ব্যবস্থা করেছি। যারা কিছুই করতে পারে না তাদের জন্য বিনামূল্যে খাদ্য দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। কৃষিতেও ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে।

নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি এখনো অনুকূল নয়, সিইসি ।

ঢাকা ডেস্ক : দেশের সংবিধান অনুযায়ী চলতি বছরে ডিসেম্বর বা আগামী জানুয়ারি মাসে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে। তবে ওই কিছু বিষয় নিয়ে এখনো রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য থাকায় নির্বাচনের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়নি। এ মতপার্থক্যের কারণে অতীতে নির্বাচন কমিশন চেষ্টা করেও অবাধ ও সুষ্ঠু ভোট করতে পারেনি।
বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) হেড অব ডেলিগেশন চার্লস হোয়াইটলির নেতৃত্বে ১১ সদস্যের প্রতিনিধি দলকে এসব তথ্য জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
বুধবার প্রতিনিধি দলটি নির্বাচন ভবনে গিয়ে কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করে।
বৈঠকের পর চার্লস হোয়াইটলি বলেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনে পর্যবেক্ষক পাঠাতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন আগ্রহী। এ বিষয়ে বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের ইতিবাচক মন্তব্যে তারা খুশি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সবাই একটি অংশগ্রহণমূলক, শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু নির্বাচন চায়।
ইসির সঙ্গে ইইউ প্রতিনিধি দলের বৈঠক দুপুর সাড়ে ১২টায় শুরু হয়ে চলে দেড় ঘণ্টা। বৈঠকে নির্বাচন কমিশনের পক্ষে সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়াল, নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর ও মো. আনিছুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও নির্বাচন কমিশন সচিব মো. জাহাঙ্গীর আলম, অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথও সেখানে ছিলেন।
অপরদিকে চার্লস হোয়াইটলির নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলে ছিলেন ডেনমার্ক, সুইডেন, জার্মান, নেদারল্যান্ড, সুইজারল্যান্ড ও নরওয়ের রাষ্ট্রদূতসহ ১১ জন। বৈঠকের পর সিইসি ও চার্লস হোয়াইটলি সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। এর আগে গত জুলাই মাসে ইসির সঙ্গে বসেছিল ইইউ দল।
সূত্র জানায়, ওই বৈঠকে সিইসি বর্তমান কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পর জাতীয় সংসদের দুটি উপনির্বাচন, দুটি সিটি করপোরেশন, ১৯ পৌরসভা, ২১৯টি ইউনিয়ন পরিষদসহ অন্যান্য নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে শেষ করেছেন বলে প্রতিনিধি দলকে জানিয়েছেন। তাদের বলেছেন, চলতি বছরের ডিসেম্বর বা আগামী জানুয়ারি মাসে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন করাই বড় চ্যালেঞ্জ।
এর কারণ ব্যাখ্যা করে তাদের তিনি বলেন, বেশিরভাগ রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এখনো মতৈক্য হয়নি। নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি এখনো অনুকূল নয়। কয়েকটি রাজনৈতিক দল নির্দলীয় তত্ত¡াবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দাবি করছে। যদিও এসব বিষয় নির্বাচনের কমিশনের এখতিয়ারভুক্ত নয়। আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে সংবিধান ও আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ে নির্বাচন আয়োজন করা। নির্বাচনের সময়ে বর্তমান রাজনৈতিক সরকার আমাদের কাজে সহায়তা করবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।
প্রতিনিধি দলকে সিইসি আরও বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক, অবাধ, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে। রাজনৈতিক দলসহ অংশীজনেরা সহযোগিতা না করলে ওই নির্বাচন অর্থবহ হবে না। তিনি বলেন, অতীতে দেখা গেছে- নির্বাচন কমিশন এককভাবে চেষ্টা করা সত্তে¡ও অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে পারেনি।
বৈঠকের পর সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, আমাদের যে রোডম্যাপ আছে, সে রোডম্যাপ অনুযায়ী আমরা নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। আমাদের প্রস্তুতি রয়েছে এবং আমরা যথাসময়ে নির্বাচন করব। আমরা এটাও উনাদেরকে পরিষ্কার করে বলেছি। কিছু কিছু বিষয় এখনো রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এখনো মতপাথর্ক্য রয়েছে। এই মতপার্থক্য থাকার কারণে এখনো নির্বাচনি পরিবেশটা অনুকূলে (কনজেনিয়াল) নয়।
অচিরেই মতপার্থক্যটা দূর হয়ে যাবে- এ আশা প্রকাশ করে সিইসি বলেন, শেষমেশ দলগুলো নির্বাচনে আসবে সেই বিষয়ে আমরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছি। আমরা বলেছি যদি নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হয় তাহলে চমৎকার প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। সেই লক্ষ্যে আমাদের পুরো প্রস্তুতি রয়েছে।
রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংলাপের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে কিনা- এমন প্রশ্নে কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, আমরা নির্বাচন কমিশন থেকে একাধিকবার বলেছি যে, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আলোচনার প্রয়োজন এবং ব্যাপক অর্থে তাদের মধ্যে সমঝোতা প্রয়োজন, যাতে নির্বাচন সুষ্ঠু পরিবেশে সম্পন্ন হয়। প্রথম থেকেই আমরা এ আবেদন করে আসছি, এখনো করে যাচ্ছি।
তিনি বলেন, মতপার্থক্যগুলো রাজনৈতিক ইস্যু, আমাদের জন্য ইস্যু নয়। কাজেই রাজনৈতিক ইস্যুগুলো, যেগুলো নির্বাচনের জন্য অন্তরায় হতে পারে, সেগুলোর সুরাহা রাজনৈতিক নেতাদের করতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোকে সেটা অনুধাবন করতে হবে এবং বুঝতে হবে। তাহলেই নির্বাচনটা প্রত্যাশিত মাত্রায় অংশগ্রহণমূলক হবে। সুন্দর, সুষ্ঠু হবে এবং গণতান্ত্রিক চেতনায় যে নির্বাচন প্রত্যাশিত সে নির্বাচনটা ওভাবেই অনুষ্ঠিত হবে।

বিএনপি-জামায়াতের ‘ভোটব্যাংকে’ মশাল হাতে চ্যালেঞ্জের মুখে সাবেক সংসদ সদস্য তানসেন

বগুড়া ডেস্ক : বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনে উপনির্বাচনে মহাজোটের শরিক জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলকে (জাসদ) সমর্থন দেওয়ায় প্রার্থী দেয়নি আওয়ামী লীগ। জাসদের প্রার্থী এ কে এম রেজাউল করিম তানসেন এবার মশাল প্রতীক নিয়ে লড়ছেন। অন্যদিকে লাঙ্গল নিয়ে লড়ছেন জাপার প্রার্থী শাহীন মোস্তফা কামাল।
ভোটাররা বলছেন, বিএনপির সাবেক নেতা কামরুল হাসান সিদ্দিকী প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ায় ভোটের সমীকরণ পাল্টে যেতে পারে। কারণ, এই নির্বাচনী এলাকায় বিএনপি-জামায়াতের ভোটার অনেক বেশি। অতীতের নির্বাচনগুলোতে জাসদ ও জাপার পাওয়া ভোটের সংখ্যা খুবই কম। আওয়ামী লীগ-বিএনপির দলীয় প্রার্থীবিহীন এই নির্বাচন নিয়ে এখন পর্যন্ত ভোটারদের আগ্রহ নেই। তবে শেষ পর্যন্ত ভোটার উপস্থিতি বাড়লে সুবিধা বেশি পাবেন কুড়াল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী কামরুল হাসান। তিনি নন্দীগ্রাম পৌরসভার সাবেক মেয়র এবং পৌর বিএনপির সাবেক সহসভাপতি। যদিও দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে পৌরসভায় প্রার্থী হওয়ায় তাঁকে আগেই দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
এই তিনজন ছাড়াও বগুড়া-৪ আসনে মাঠে আছেন জাকের পার্টির আবদুর রশিদ সরদার (গোলাপ ফুল) এবং তাজ উদ্দিন মণ্ডল (ডাব)। সোমবার প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই জোড় প্রচারণা শুরু করেছেন প্রার্থীরা।
কাহালু উপজেলার মানুষ উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নানাভাবে বঞ্চিত। এবার এখানকার ভোটারদের মুখে এক সুর, সংসদ সদস্যের পদ কোনোভাবেই নন্দীগ্রামে যেতে দেবেন না।
কাহালু ও নন্দীগ্রাম উপজেলা নিয়ে গঠিত বগুড়া-৪ আসনটি বিএনপি-জামায়াতের ‘ভোটব্যাংক’ হিসেবে পরিচিত। দুই উপজেলার অন্তত ২০ জন ভোটারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে মোশারফ হোসেন ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ২৬ হাজার ৭২২ ভোট পেয়ে জয়ী হন। অন্যদিকে মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে জাসদের এ কে এম রেজাউল করিম নৌকা প্রতীক নিয়ে ৮৪ হাজার ৬৭৯ ভোট পান। ২০১৪ সালের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দুই উপজেলাতেই জামায়াত প্রার্থীদের কাছে বড় ব্যবধানে হারে আওয়ামী লীগ-প্রার্থীরা। অতীতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনী ফলাফলেও এগিয়ে বিএনপি ও জামায়াত। এ কারণে ভোটের রাজনীতিতে এ আসনটি বিএনপি-জামায়াতকে শক্ত প্রতিদ্বন্দি ধরা হয়।
২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন বর্জন করে বিএনপি। সংসদীয় আসনটির ২ লাখ ৮৩ হাজার ২৪০ ভোটারের মধ্যে ৩৫ হাজার ৬৯২ জন সেবার ভোট দেন। মহাজোট প্রার্থী রেজাউল করিম ২২ হাজার ২০৩ ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দি জাতীয় পার্টির নুরুল ইসলাম পেয়েছিলেন ১৩ হাজার ৪৮৯ ভোট।
ভোটাররা বলছেন, বিএনপির ছেড়ে দেওয়া এই আসনে উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলেন কাহালু ও নন্দীগ্রাম উপজেলা আওয়ামী লীগের অন্তত ছয়জন নেতা। তবে দলীয় সিদ্ধান্তে জাসদকে আসনটি ছেড়ে দেওয়ায় মশাল প্রতীকে ভোট চাওয়ায় আগ্রহ নেই আওয়ামী লীগ নেতাদের।
জাসদ প্রার্থী রেজাউল করিম ১৯৯১ সালের নির্বাচনে মশাল প্রতীকে ১ হাজার ৬৩৯ ভোট, ১৯৯৬ সালে ৮৮৮ ভোট, ২০০১ সালের নির্বাচনে ২ হাজার ৭৭৮ ভোট পেয়ে জামানত হারান। তবে ২০০৮ সালের নির্বাচনে মহাজোট থেকে নৌকা প্রতীকে ৭৫ হাজার ৯৯১ ভোট এবং ২০১৮ সালের নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে ৮৪ হাজার ৬৭৯ এবং ভোট পান। মশাল প্রতীক নেওয়ায় এবারও তিনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারেন বলে মনে করছেন আওয়ামী লীগ নেতারা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে নন্দীগ্রাম ও কাহালু উপজেলা আওয়ামী লীগের চারজন নেতা বলেন, আওয়ামী লীগের প্রতীক নৌকা। দলীয় প্রতীকের বদলে অন্য প্রতীকে ভোট চাওয়া সম্ভব নয়।
কাহালু উপজেলা আওয়ামী লীগের দুজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী কামরুল হাসান সিদ্দিকী মাঠে ফেরায় হিসাব-নিকাশ পাল্টেছে। এখন কামরুল হাসানের সঙ্গেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। অতীতে সংসদ সদস্য পদ পেয়েছেন নন্দীগ্রাম উপজেলার প্রার্থী। এতে কাহালু উপজেলার মানুষ উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নানাভাবে বঞ্চিত। এবার এখানকার ভোটারদের মুখে এক সুর, সংসদ সদস্যের পদ কোনোভাবেই নন্দীগ্রামে যেতে দেবেন না। এ সুযোগ নিতে পারেন লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী শাহীন মোস্তফা।
নন্দীগ্রাম উপজেলা আওয়ামী লীগের দুজন নেতা বলেন, এ কে এম রেজাউল করিম ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে মশাল প্রতীকে অল্প ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তখন হাটবাজার ইজারা, কাবিখা-টিআর কর্মসূচিতে অনিয়ম কেলেঙ্কারিতে জড়ানোর অভিযোগ উঠেছিল। এবারও প্রার্থী হওয়ায় তাঁকে ভোটারদের নানা প্রশ্নের মুখে পড়তে হবে।
নন্দীগ্রাম উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন বলেন, আওয়ামী লীগের প্রতীক নৌকা। অন্য প্রতীকে ভোট চাওয়া বিব্রতকর। মহাজোট প্রার্থী রেজাউল করিম কখনো মশাল, কখনো নৌকা প্রতীকে ভোট করায় ভোটাররাও বিভ্রান্ত। তবুও মহাজোটের পক্ষে নির্বাচনী সভা ডাকলে সেখানে যেতে হবে।
জাসদ বগুড়া জেলা শাখার সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য এ কে এম রেজাউল করিম বলেন, ‘মহাজোট থেকে এ আসনে আমাকে প্রার্থী করা হয়েছে। মশাল প্রতীক হলেও আওয়ামী লীগ থেকে সমর্থন দেওয়া হয়েছে। এই আসনে অন্যদের তেমন ভোট নেই। মহাজোট ঐক্যবদ্ধ। শরিক দল একজোট হয়ে এখানে মশালের পক্ষে কাজ করছেন। নির্বাচিত হলে অসমাপ্ত উন্নয়নকাজ সম্পন্ন করতে পারব।’
আগামী ১ ফেব্রয়ারি এই আসন ইভিএমে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

বিপিএলঃ হ্যাটট্রিক পরাজয়ের পর জয়ের দেখা পেল কুমিল্লা

ঢাকা ডেস্ক : হ্যাটট্রিক পরাজয়ের পর জয়ের দেখা পেল বর্তমান চ্যাম্পিয়ন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। সোমবার চট্টগ্রামকে তাদের ঘরের মাঠেই হারায় কুমিল্লা।
চট্টগ্রাম জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করে স্বাগতিকরা। আগে ব্যাটিংয়ে নেমে ২ উইকেটে ৭৩ রান করা চট্টগ্রাম এরপর সময়ের ব্যবধানে উইকেট হারিয়ে ১৩৫/৮ রানে ইনিংস গুটায়।
দলের হয়ে ২৩ বলে সর্বোচ্চ ৩৭ রানে অপরাজিত থাকেন অধিনায়ক শুভাগত হোম। ২১ বলে ২৯ রান করেন আফিফ হোসেন। কুমিল্লার হয়ে দুটি করে উইকেট নেন তানভির ইসলাম, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত ও খুশদিল শাহ।
টার্গেট তাড়া করতে নেমেই ব্যাটিং তাণ্ডব চালান ওপেনার লিটন কুমার দাস। ২২ বলে চার বাউন্ডারি আর ৩টি ছক্কার সাহায্যে ৪০ রান করে ফেরেন লিটন।
উইকেটের একপ্রান্তে লিটন তাণ্ডব চালিয়ে ফেরার পর একে একে আউট হন ইমরুল কায়েস (১৫), জেচন চার্লস (০), জাকের আলি (২২)। তবে অন্যপ্রান্ত আগলে রেখে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দিয়ে মাঠ ছাড়েন কুমিল্লার পাকিস্তানি তারকা ওপেনার মোহাম্মদ রিজওয়ান। তিনি ৩৫ বলে ৩৬ রানে অপরাজিত থাকেন।