Home Blog Page 638

গুরুতর অসুস্থ ম্যাডোনা, বাতিল ওয়ার্ল্ড ট্যুর

গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বিশ্বখ্যাত পপ তারকা ম্যাডোনা। খবর, জীবাণু সংক্রমণে ভুগছেন তিনি। গত শনিবার হঠাৎ করেই সংজ্ঞা হারান পপ কুইন। সংজ্ঞাহীন অবস্থায় পাওয়া যাওয়ার পরেই তড়িঘড়ি তাকে ভর্তি করা হয় নিউ ইয়র্ক সিটি হাসপাতালে। অবস্থা এতটাই গুরুতর হয়ে গিয়েছিল যে, তাকে আইসিইউতেও স্থানান্তর করতে হয়। সম্প্রতি ম্যাডোনার ম্যানেজার গাই ওজারি সমাজমাধ্যমের পাতায় জানিয়েছেন পপ তারকার স্বাস্থ্যের এই খবর। তিনি আরো জানান, অসুস্থতার জন্য নিজের অনুষ্ঠানও বাতিল করতে বাধ্য হয়েছেন পপ তারকা।

সমাজমাধ্যমের পাতায় একটি পোস্ট করে ম্যাডোনার ম্যানেজার জানান, গত ২৪ জুন শনিবার পপ তারকার গুরুতর এক জীবাণু সংক্রমণ হয়। নিউ ইয়র্কের হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসা চলার পর আপাতত স্থিতিশীল আছেন গায়িকা। চিকিৎসার সাড়াও দিচ্ছেন। তবে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠতে এখনো বেশ খানিকটা সময় লাগবে ষাটোর্ধ্ব পপ তারকার। শারীরিক অবস্থার কথা মাথায় রেখেই আগামী ট্যুরও বাতিল করা হয়েছে ম্যাডোনার টিমের তরফে। তবে গায়িকা সুস্থ হয়ে উঠলেই ট্যুরের নতুন তারিখ ও টিকিট সংক্রান্ত তথ্য জানানোর আশ্বাসও দিয়েছেন গাই ওজারি।

আগামী জুলাই মাস থেকে ‘ওয়ার্ল্ড ট্যুর’-এ যাওয়ার কথা ম্যাডোনার। আমেরিকা, ব্রিটেনের একাধিক শহর হয়ে আমস্টারডামে শেষ হওয়ার কথা ‘সেলিব্রেশন ট্যুর’-এর। ট্যুরের প্রস্তুতিও শুরু করে দিয়েছিলেন পপ তারকা। একাধিক ছবিও সমাজমাধ্যমের পাতায় পোস্ট করেছিলেন তিনি। তবে সম্পূর্ণ সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত মঞ্চে ফেরা হবে না গায়িকার। আপাতত হাসপাতালই ঠিকানা তার। চিকিৎসকরা ছাড়াও পপ তারকার দেখাশোনা করার জন্য তার সঙ্গে রয়েছেন তার ম্যানেজার ও তার মেয়ে লর্ডস লিওন।
সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা

বিশ্বকাপে পাকিস্তান খেলবে না!

বিশ্বকাপের সূচি ঘোষণার পরেই আপত্তি জানিয়েছে পাকিস্তান। তিনটি ম্যাচের কেন্দ্র নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট পরিচালনা সংস্থা আইসিসির কাছে তারা যে আবেদন করেছিল তা মানেনি ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা। তাই বিশ্বকাপ খেলতে পাকিস্তান আসবে কি না তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। বল পাকিস্তান সরকারের কোর্টে। তারা অনুমতি না দিলে ভারতে আসবেন না বাবর আজমরা। যদি পাকিস্তান বিশ্বকাপে না খেলে তা হলে কী সিদ্ধান্ত নেবে আইসিসি?


একটি সংবাদপত্রে প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী, পাকিস্তান খেলতে না এলে বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জন পর্ব থেকে আরো একটি দল মূল পর্বে খেলবে। এমনিতেই যোগ্যতা অর্জন পর্ব থেকে প্রথম দুই দল সরাসরি বিশ্বকাপে খেলবে। পাকিস্তান না খেললে পয়েন্ট তালিকায় থাকা তৃতীয় দলও বিশ্বকাপে খেলবে। সে ক্ষেত্রে পাকিস্তানের সূচিই নতুন দলের সূচি হিসেবে ধরা হবে। অর্থাৎ, পাকিস্তানের যে দিন যার বিরুদ্ধে খেলার কথা, সে দিন তার বিরুদ্ধে খেলবে সেই নতুন দল।

এখন জিম্বাবোয়েতে বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জন পর্ব চলছে। সেখানে সুপার সিক্স পর্বে যে ছ’টি দল উঠেছে তারা হলো : শ্রীলঙ্কা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, জিম্বাবুয়ে, নেদারল্যান্ডস, স্কটল্যান্ড এবং ওমান। এখন যা অবস্থা, তাতে বিশ্বকাপের মূল পর্বে যাওয়ার সুযোগ সব থেকে বেশি জিম্বাবোয়ে ও শ্রীলঙ্কার। কারণ, তাদের কাছে চার পয়েন্ট করে আছে। অন্য দিকে দু’বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজের পয়েন্ট শূন্য। ফলে বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলার সম্ভাবনা তাদের প্রায় নেই বললেই চলে। তবে পাকিস্তান না খেললে একটা সুযোগ আসতে পারে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে।

বিশ্বকাপের খসড়া সূচিতে ছিল, ভারতের বিরুদ্ধে আমদাবাদে, অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে বেঙ্গালুরুতে ও আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে চেন্নাইয়ে খেলতে হবে পাকিস্তানকে। তাতে রাজি ছিলেন না বাবররা। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড দাবি করেছিল, নিরাপত্তার কারণে আহমদাবাদে খেলবে না তারা। চেন্নাইয়ের ঘূর্ণি উইকেটে আফগানিস্তান ও বেঙ্গালুরুর ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে খেলতেও আপত্তি জানায় তারা। চেন্নাই ও বেঙ্গালুরুর ম্যাচ অদল-বদল করার দাবি জানায় তারা। আহমদাবাদের ম্যাচ পারলে কলকাতায় স্থানান্তরিত করার প্রস্তাবও দেয় পাকিস্তান। কিন্তু সেই দাবি মানা হয়নি।

যদিও পাকিস্তানের আরো একটি অনুরোধ মেনে নিয়েছে আইসিসি। প্রস্তুতি ম্যাচে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে খেলতে চায়নি পাকিস্তান। তাদের দাবি ছিল, এর আগে এশিয়া কাপে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে খেলেছে তারা। তাই এশিয়ার বাইরের কোো দেশের বিরুদ্ধে প্রস্তুতি ম্যাচ দেওয়া হোক তাদের। আইসিসির কাছে অনুরোধ করেছিল পাক বোর্ড। সেই অনুরোধ মেনে নিয়েছে আইসিসি। ২৯ সেপ্টেম্বর নিউ জিল্যান্ড ও ৩ অক্টোবর অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার কথা বাবরদের। দু’টি ম্যাচই হবে হায়দরাবাদে।
সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা

এবার দিল্লি থেকে মোছা হলো আওরঙ্গজেব লেনের নাম

ফের রাস্তার নাম বদল দিল্লিতে। আবার উঠল নরেন্দ্র মোদির জমানায় মোগল ইতিহাস মুছে ফেলার চেষ্টার অভিযোগ। দিল্লির আওরঙ্গজেব রোডের নাম পাল্টে ড. এ পি জে আব্দুল কালাম রোড করা হয়েছিল ২০১৫ সালের অগস্টে। আপত্তিও উঠেছিল তা নিয়ে। তবু লাটিয়েন্স দিল্লিতে ওই আব্দুল কালাম রোড এবং পৃথ্বীরাজ রোডের সংযোগকারী রাস্তাটির নাম এত দিন আওরঙ্গজেব লেন ছিল। এবার তার নামও পাল্টে ড. এ পি জে আব্দুল কালাম লেন করা হলো। বুধবার নয়াদিল্লি পুর পরিষদ (এনডিএমসি)-এর এক বৈঠকে এই নাম বদল সংক্রান্ত প্রস্তাবটিতে সিলমোহর দেয়া হয়েছে বলে সংস্থার ভাইস চেয়ারম্যান সতীশ উপাধ্যায় জানিয়েছেন।

এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ ওয়েলফেয়ার পার্টি অব ইন্ডিয়ার সভাপতি এস কিউ আর ইলিয়াস বলছেন, ‘তাদের কাছে ঐতিহাসিক চরিত্র বা মোগল সম্রাটদের নামের লম্বা তালিকা আছে, যে নামগুলো তারা মুছে ফেলতে চান।’

ইতিহাসবিদদের একাংশও অসন্তুষ্ট। ইতিহাসবিদ নারায়ণী গুপ্তের মন্তব্য, ‘নয়াদিল্লিতে নতুন রাজধানী তৈরির সময়ে ঔরঙ্গজেব রোডের মতো একগুচ্ছ নাম দিয়েছিল ব্রিটিশ শাসক। সেন্ট স্টিফেন’স কলেজে পার্সিভাল স্পিয়ার তখন ইতিহাস পড়াতেন। তিনি এমন নাম বাতলে দিয়েছিলেন। কাজেই নামকরণেরও ইতিহাস আছে। নিছক একটা নাম-লেখা পোস্টের বদলে কালামের উদ্দেশে সত্যিকারের শ্রদ্ধার্ঘ্য হতে পারত ছোটদের জন্য তৈরি করা একটা বিজ্ঞান প্রদর্শশালা।’
সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা

পাখিদের মেলা

সুফিয়ান আহমদ চৌধুরী

পাখি ডাকে সুরে সুরে

গান গায় পাখি

ঘুম ভাঙ্গে পাখি ডাকে

খুলে খুকু আঁখি।

পাখিদের ডাকডাকি

খুকু ওঠে সুখে

মন খুলে হাসে রাঙা

হাসি মিষ্টি মুখে।

ওড়ে পাখি নীলাকাশে

দূর থেকে দূরে

মিলে কী যে থাকে পাখি

সুখে কতো ঘুরে।

পাখিদের ছড়াছড়ি

সবুজের গাঁয়

পাখি মেলা দেখে মন

রঙে জুড়ে যায়।

পরিবেশ ভালো আহা

দূর হয় কালো

পাখিদের মেলা ওই

চারদিকে আলো।

পদ্মা সেতুতে এক বছরে আয় ৭৯৮ কোটি ২৪ লাখ টাকা : কাদের

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, পদ্মা সেতুতে দৈনিক গড়ে সাড়ে ১৫ হাজার গাড়ি চলাচল করে। এতে প্রতিদিন গড়ে প্রায় দুই কোটি ১৮ লাখ টাকা আয় হয়।

এক বছরে গাড়ি চলাচল ও আয় সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘২০২২ সালের ২৫ জুন থেকে গতকাল ২৪ জুন পর্যন্ত ৫৬ লাখ ৭৫ হাজার যানবাহন চলাচল করে পদ্মা সেতুতে। এক বছরে প্রায় ৭৯৮ কোটি ২৩ লাখ ৯৬ হাজার টাকা আয় হয়েছে।’

রোববার সেতু ভবনের সম্মেলন কক্ষে পদ্মা সেতু উদ্বোধনের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘এক বছর আগে ঠিক এইদিনে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের রূপকার, সময়ের সাহসী নেতৃত্ব, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্মাণ কাজ শেষে পদ্মা সেতু যানবাহন চলাচলের জন্য আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।’

‘এর পরদিন ২৬ জুন সকাল থেকে যানবাহন চলাচল শুরু করে আমাদের স্বপ্ন ও সম্ভাবনার প্রতীক পদ্মাসেতুর ওপর দিয়ে। বাংলাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় উন্মোচিত হয় নবদিগন্ত। শেখ হাসিনা সরকারের সাফল্যের মুকুট যোগ হয় আরেকটি হিরন্ময় পালক’ বলেন তিনি।

সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘২৫ জুন ২০২২ থেকে গতকাল অর্থাৎ ২৪ জুন রাত ১২টা পর্যন্ত এ সেতু দিয়ে পারাপার হয়েছে সর্বমোট ৫৬ লাখ ৭৫ হাজার যানবাহন। দৈনিক গড়ে সাড়ে ১৫ হাজার যানবাহন পারাপার হচ্ছে এ সেতু দিয়ে, যা আমাদের পূর্বানুমানের চেয়েও বেশি। এ থেকে বোঝা যায়, পদ্মা সেতু যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে অসামান্য অবদান রেখে চলেছে। শেখ হাসিনা সরকারের উন্নয়ন জনগণের জন্য। এর সুফল ভোগ করছে।’

টোল বিষয়ক পরিসংখ্যান দিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রতিদিন গড়ে টোল আদায় হচ্ছে প্রায় দুই কোটি ১৮ লাখ টাকা করে। গতকাল রাত পর্যন্ত পদ্মা সেতুর টোল-রাজস্ব আদায় হয়েছে ৭৯৮ কোটি ২৩ লাখ ১৬ হাজার টাকা। যা আজ বিকাল নাগাদ ৮০০ কোটিতে উন্নীত হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘পদ্মা সেতুর টোল নিয়ে একটি বিষয় স্পষ্ট করতে চাই, পদ্মা সেতু পারাপারে একমাত্র রাষ্ট্রপতি ছাড়া রাষ্ট্রের সব নাগরিকের টোল প্রদানে বাধ্যবাধকতা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীও সেতু পারাপারে টোল প্রদান করেছেন। তিনি উদ্বোধনের দিনেই ৫৯ হাজার ৬০০ টাকা টোল দিয়েছেন। এছাড়া বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও অন্যান্য সংস্থা তাদের যানবাহনের বিপরীতে ৯১ লাখ ৭০ হাজার টাকা টোল দিয়েছে।’

সেতু নির্মাণ ব্যয়ের অর্থ বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ (বিবিএ) সরকারের কাছ হতে ঋণ হিসেবে নিয়েছে উল্লেখ করে সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘এ ঋণের টাকা ধাপে ধাপে সরকারি কোষাগারে ফেরত দেবে বিবিএ। এরই মধ্যে সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে চারটি কিস্তি পরিশোধ করা হয়েছে। প্রথম দুটি কিস্তি বাবদ প্রায় ৩১৬ কোটি ৯১ লাখ এবং তৃতীয় ও চতুর্থ কিস্তি বাবদ প্রায় ৩১৬ কোটি তিন লাখ টাকাসহ সর্বমোট প্রায় ৬৩২ কোটি ৯৪ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দিয়েছে।’

চুক্তি অনুযায়ী ৩৫ বছরের মধ্যেই বিবিএ সম্পূর্ণ অর্থ সরকারকে ফেরত দেয়ার কথা রয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন সেতু বিভাগের সচিব মো: মনজুর হোসেন এবং পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) প্রকৌশলী মো: শফিকুল ইসলাম।

নেইমার আসার পর থেকেই বার্সেলোনায় সব সমস্যা শুরু হয়েছে!

নেইমারকে ক্লাবে আনার পর থেকে সব ধরনের সমস্যা শুরু হয়েছে বলে দাবী করেছেন বার্সেলোনার অর্থনীতি বিষয়ক সহ-সভাপতি এডুয়ার্ড রোমেয়ু।

নেইমারকে চড়া মূলে কিনে নেবার পর থেকেই বার্সেলোনার আর্থিক দৈন্যদশা শুরু হয়েছে বলে রোমেয়ু জানিয়েছেন।

ব্রাজিলিয়ান এই সুপারস্টার ২০১৩ সালে সান্তোস থেকে কাতালান জায়ান্টে যোগ দেন। মাত্রই ইউরোপে পা রাখা একজন খেলোয়াড়ের জন্য ওই সময় যে বেতন বার্সেলোনা দিয়েছিল তা অনেকটাই বড় ছিল। যদিও ওই মুহূর্তে নেইমারকে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সম্ভাবনাময় খেলোয়াড় হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল। ২০১৭ সালে ২২২ মিলিয়ন রিলিজ ক্লজে বার্সেলোনা থেকে নেইমারকে কিনে নেয় পিএসজি। তার এই ক্লাব ছেড়ে যাওয়া আর্থিকভাবে বার্সেলোনাকে সহযোগিতা করার চেয়ে ক্ষতিই করেছে বেশি।

রোমেয়ু বলেন, ‘তিনি চলে যাবার পর আমরা পাগলামি শুরু করি। পথ হারিয়ে ফেলি।’
ওই সময় চড়া মূল্যে বার্সেলোনা ফিলিপ কুটিনহো ও ওসমানে ডেম্বেলেকে দলে ভেড়ালেও তারা তাদের নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেনি। আগামী মৌসুমের শুরুতে বার্সেলোনা সব কিছুকে পিছনে ফেলে আবারো আর্থিকভাবে নিজেদের সাবলম্বী করে তুলবে বলে আশা করছেন রোমেয়ু।

কোভিড পরবর্তী আর্থিক যে সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছিল বার্সেলোনাকে তা এখন অনেকটাই কাটিয়ে উঠেছে তারা।

সূত্র : বাসস

মোংলায় রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের কয়লাবাহী জাহাজ ভিড়বে আজ

রামপাল তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের কয়লা নিয়ে ইন্দোনেশিয়া থেকে আসা বাংলাদেশী পতাকাবাহী জাহাজ এম ভি বসুন্ধরা আজ রোববার বিকেলে মোংলা বন্দরের হাড়বাড়ীয়ার ১১ নম্বর এ্যাংকোরেজে ভিড়বে।

সন্ধ্যা ৬টা থেকে কয়লা খালাস ও পরিবহনের কাজ শুরু করা হবে।

গত ৩১ মে ইন্দোনেশিয়া থেকে ৩২ হাজার ১২১ টন কয়লা নিয়ে মোংলা বন্দরের উদ্দেশে নৌযানটি ছেড়ে আসে।

দেশীয় এ জাহাজের স্থানীয় শিপিং অ্যাজেন্ট টগি শিপিং অ্যান্ড লজিস্টিক লিমিটেডের খুলনার সহকারী ব্যবস্থাপক খন্দকার রিয়াজুল হক শনিবার (২৪ জুন) রাতে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, ‘কয়লাবাহী জাহাজটি রোববার বিকেল ৫টায় বন্দরের পশুর চ্যানেলের হাড়বাড়ীয়ার-১১ নম্বর এ্যাংকোরেজে ভিড়বে। এর ঘণ্টাখানেক পর জাহাজটি হতে কয়লা খালাসের কাজ শুরু হবে। পরে রামপাল তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিজস্ব জেটিতে নেয়া হবে। এরপর জেটির নিজস্ব গ্রাস্পের (কামরিকল) মাধ্যমে লাইটারেজের কয়লা উত্তোলন করে স্বয়ংক্রিয় বেল্টের মাধ্যমে তা সংরক্ষণ করা হবে কেন্দ্রটির কয়লার গোডাউনে।’

এর আগে চলতি মাসের ১০ জুন ইন্দোনেশিয়া থেকে রামপাল তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য ২৬ হাজার ৬২০ টন কয়লা নিয়ে মোংলা বন্দরে এসেছিল চীনের পতাকাবাহী জাহাজ এম ভি জে হ্যায়। আর গত ১৬ মে বাংলাদেশী পতাকাবাহী জাহাজ এম ভি বসুন্ধরা ইমপ্রেসে করে ৩০ হাজার টন ও ২৯ মে একই জাহাজে করে ৩০ হাজার ৫০০ টন কয়লা এসেছিল মোংলা বন্দরে।

সাগরতলে আবিষ্কারের অপেক্ষায় ৩০ লাখ জাহাজের ধ্বংসাবশেষ!

এলিয়াস স্টাডিয়াটিস যখন সাগরের বেগুনি-নীল পানির নিচে ডুব দিলেন, তখন ভাবছিলেন ডুবুরি হিসেবে হয়ত তাকে আরেকটি গড়পড়তা দিনের মতোই নানা কিছু খুঁজে ফিরতে হবে। তার পরনে ভারী ডাইভিং স্যুট, নিঃশ্বাস নেয়ার জন্য মুখে লাগানো রাবারের নল।

সাগরের তলায় এসে পৌঁছানোর পর চোখ মিট মিট করে তিনি যা দেখলেন, তাতে ভয়ে আঁতকে উঠলেন। তার চারপাশে মনে হচ্ছে ছড়িয়ে আছে বহু খণ্ড-বিখণ্ড মানবদেহ, পানির নিচে সেসবের ঝাপসা আকার বেশ বোঝা যাচ্ছে। এলিয়াস যখন বুদবুদ ছড়িয়ে পানির উপরে ভেসে উঠলেন। হন্তদন্ত হয়ে জাহাজের ক্যাপ্টেনকে জানালেন, সাগরের নিচে তিনি লাশের স্তূপ খুঁজে পেয়েছেন।

এটা ১৯০০ সালের বসন্তকালের ঘটনা। এলিয়াস আসলে সেদিন ঘটনাচক্রে আনটিকিথেরা জাহাজডুবির সন্ধান পেয়েছিলেন। এই মালবাহী রোমান জাহাজটি সাগরে ডুবে গিয়েছিল দুই হাজার বছরেরও বেশি আগে। তবে শিগগিরই বোঝা গেল, এ জাহাজটির ধ্বংসাবশেষে এলিয়াস লাশের স্তূপ বলে ভেবেছিলেন যেগুলোকে, সেগুলো আসলে শিল্পকর্ম। মার্বেল পাথর এবং ব্রোঞ্জের ভাস্কর্য। কিন্তু হাজার বছর ধরে সাগর তলে শ্যাওলা আর নানা সামুদ্রিক প্রাণীর মাঝখানে সেগুলোর ওপর এক অদ্ভুত প্রলেপ পড়েছে।

এজিয়ান সাগরে গ্রিসের একটি দ্বীপের উপকূলে আনিটিকিথেরা থেকে উদ্ধার করা সেসব ভাস্কর্য এক শ’ বছরেরও বেশি সময় পরে এখনো মানুষকে মুগ্ধ করে চলেছে। কিন্তু সাগরতলে এরকম বহু জাহাজে আরো অনেক বিস্ময়কর নিদর্শন এখনো আবিষ্কারের অপেক্ষায় পড়ে আছে।

ইউনেস্কোর একটি সাম্প্রতিক অভিযানের কথা ধরা যাক। এটি চালানো হয় স্কার্কি ব্যাংক বলে একটি জায়গায়। পূর্ব এবং পশ্চিম ভূমধ্যসাগরকে যুক্ত করেছে সাগরের এ অগভীর অংশটি, যেটি জাহাজ চলাচলের জন্য খুবই বিপদজনক। কারণ সেখানে পানির নিচে অনেক প্রবাল পাথর। হাজার হাজার বছর ধরে এই পথে বহু জাহাজ ডুবি হয়েছে।

শব্দতরঙ্গ ব্যবহার করে এবং পানির নিচে রোবট পাঠিয়ে এই এলাকার সাগরতলের একটি মানচিত্র তৈরির কাজ করেছিলেন আটটি দেশের একদল বিজ্ঞানী। এ সপ্তাহে তারা ঘোষণা করলেন, সেখানে তিনটি ডুবে যাওয়া জাহাজের সন্ধান পাওয়া গেছে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে খ্রিষ্টপূর্ব প্রথম শতাব্দীর, একটি দ্বিতীয় শতাব্দীর, আর শেষেরটি হয়তো উনিশ বা বিশ শতকের।

ইউনেস্কোর ধারণা, বিশ্বের সাগরগুলোর ঢেউয়ের নিচে হয়ত আর বহু ডুবে যাওয়া জাহাজ আবিষ্কার হওয়া বাকি।

চাপা পড়া ইতিহাস
বিশ্বে এযাবতকালের সবচেয়ে পুরনো নৌকাটি খুঁজে পাওয়া গিয়েছিল নেদারল্যান্ডসে একটি মহাসড়ক তৈরির সময় ঘটনাচক্রে। কাঠের নৌকাটি দশ হাজার বছরের পুরনো বলে ধারণা করা হয়। তবে এরকম অনেক প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে যে মানুষ হয়ত তারও বহু আগে সাগর পাড়ি দিতে শিখেছিল। হঠাৎ করেই মানুষের দেখা পাওয়া যেতে শুরু করেছিল বিশাল সাগরের অপর তীরে।

প্রায় ৫০ হাজার বছর আগে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একদল শিকারি মানব একের পর এক দ্বীপ ডিঙ্গিয়ে শত শত মাইল পথ পাড়ি দিয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। কারণ এরপরই অস্ট্রেলিয়ার আদিবাসীদের দেখা মিলেছিল নিউ সাউথ ওয়েলসের লেক মাঙ্গুতে।

আর যেখানেই এরকম সাগর পাড়ি দেয়ার ব্যাপার থাকবে, সেখানেই জাহাজডুবিও ঘটবে। বিশ্বে হাজার হাজার বছর ধরে যে বাণিজ্য হয়েছে, যুদ্ধ হয়েছে, নানা অভিযান চলেছে- বিশ্বের সাগরতলে আসলে সেসবের ধ্বংসাবশেষ লুকিয়ে আছে। সেখানে হয়ত আছে রূপা বোঝাই দস্যু জাহাজ, মালামাল বোঝাই নৌকা, বিলাসবহুল রাজকীয় তরী, যা হয়ত অদৃশ্য হয়ে গেছে কোনো ভবিষ্যতের রাজাকে নিয়ে। প্রাচীন মাছধরা নৌকা, আধুনিক যুদ্ধজাহাজ, সাবমেরিন, অথবা টাইটানিকের মতো বিশাল যাত্রীবাহী জাহাজ- কী নেই সাগরতলে।

এই ডুবে যাওয়া জাহাজগুলো যেন একেকটা টাইম-ক্যাপসুল। প্রত্নতত্ত্ববিদরা এগুলো খুঁজে পাওয়ার জন্য পাগল। এগুলোতে পাওয়া গেছে প্রাচীনকালের বিস্ময়কর যেসব নিদর্শন, সেগুলোতে ভর্তি বিশ্বের নামকরা মিউজিয়ামগুলো। যেমন আনটিকিথেরা থেকে পাওয়া গিয়েছিল এক রহস্যময় মহাজাগতিক ঘড়ি, যেটি কোনো কোনো বিশেষজ্ঞের মতে আসলে বিশ্বের প্রাচীনতম কম্পিউটার।

তাহলে এরকম কত জাহাজ পড়ে আছে সাগরের তলে- পানির গভীরে কত জাহাজ এখনো আবিষ্কারের অপেক্ষায়?

বিশ্বের জাহাজডুবির ঘটনাগুলোর বেশ কয়েকটি তথ্যপঞ্জি আছে। এ পর্যন্ত কত ডুবে যাওয়া জাহাজ খুঁজে পাওয়া গেছে, সেটির আনুমানিক হিসেব একেকটি তথ্যপঞ্জিতে একেক রকম।

একটি অনলাইন সাইট, রেক-সাইটে দুই লাখ নয় হাজার ৬৪০টি জাহাজডুবির তালিকা আছে। এর মধ্যে এক লাখ ৭৯ হাজার ১১০ টি জাহাজ কোথায় ডুবেছে, সেই স্থানের কথাও উল্লেখ আছে। অন্যদিকে গ্লোবাল মেরিটাইম রিক ডেটাবেজে (জিএমডাব্লিউডি) আছে আড়াই লাখের বেশি ডুবে যাওয়া জাহাজের তালিকা, যদিও এর মধ্যে অনেকগুলো এখনো খুঁজে পাওয়া যায়নি।

একটি আনুমানিক হিসেবে বলা হচ্ছে, কেবল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়েই ১৫ হাজার জাহাজ ডুবেছে- আটলান্টিক আর প্রশান্ত মহাসাগরের নানা জায়গায় অনেক যুদ্ধজাহাজ আর ট্যাংকার ডুবে আছে। এসব জাহাজ থেকে সাগরে নিঃসৃত হয়েছে তেল, রাসায়নিক থেকে শুরু করে ভারী ধাতু।

আসলে যত জাহাজডুবির ঘটনা এ পর্যন্ত জানা গেছে এবং তালিকাভুক্ত হয়েছে, তা বাস্তবে ঘটা জাহাজডুবির একেবারেই একটা ক্ষুদ্র অংশ বলে মনে করা হয়। ইউনেস্কোর একটি বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বিশ্বের সাগরতলে হয়ত ৩০ লাখের বেশি জাহাজডুবির ঘটনা আবিষ্কারের অপেক্ষায় আছে।

তবে এসবের ধ্বংসাবশেষ যে সাগরের সব জায়গায় সমানভাবে ছড়িয়ে আছে, ব্যাপারটা তা নয়। সাগরে এমন কিছু অঞ্চল আছে, সেখানে ঘন ঘন জাহাজডুবি হয়। বিশেষ করে সাগরের যেসব পথ দিয়ে বেশি জাহাজ চলাচল করে, বা যেই পথ বেশি বিপদসঙ্কুল। এরকম এলাকাগুলো অতীতে ডুবে যাওয়া জাহাজের সন্ধানের জন্য ভালো জায়গা বলে প্রমাণিত হয়েছে।

স্কার্কি ব্যাংক এরকম একটি জায়গা। কিংবা ভূমধ্যসাগরের ফোর্নি আর্কিপেলাগোর কথাও বলা যেতে পারে। এসব জায়গায় এ পর্যন্ত ৫৮টি ডুবে যাওয়া জাহাজ খুঁজে পাওয়া গেছে। এর মধ্যে কেবল ২০১৫ সালে মাত্র ২২ দিনেই খুঁজে পাওয়া যায় ২৩টি জাহাজ।

ফোর্নি আর্কিপেলাগো যদিও সেরকম বিপদজনক এলাকা নয়, সেখানে বহু জাহাজ আসতো নোঙর করতে। সেখানে যেহেতু অনেক বেশি জাহাজ আসা-যাওয়া করতো, সেকারণেই সেখানকার সাগরতলে এত বেশি জাহাজডুবির নিদর্শন পাওয়া গেছে বলে মনে করা হয়।

মূল্যবান নিদর্শন
আগের যুগে মানুষ কিভাবে জীবন-যাপন করতো, তার নানা চিত্তাকর্ষক নিদর্শন আছে সাগরের তলায় লুকিয়ে থাকা এই অনাবিস্কৃত ডুবে যাওয়া জাহাজগুলোতে। তবে এগুলোতে হয়ত মাথা ঘুরিয়ে দেয়ার মতো বিপুল মূল্যবান সম্পদও আছে। এটা আবার একটা সমস্যা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

১৭০৮ সালের ৮ জুন সন্ধ্যা ৭টার দিকে কলম্বিয়ার উপকূলে ক্যারিবীয় সাগরে এক বিকট বিস্ফোরণের প্রতিধ্বনি শোনা গিয়েছিল। এটি ছিল আসলে স্যান হোসে নামের এক স্প্যানিশ পালতোলা জাহাজে বিস্ফোরণের শব্দ। জাহাজটি স্পেন থেকে রওনা হয়েছিল দুই বছর আগে। এটি ছিল একটি স্প্যানিশ নৌবহরের অংশ। এই বহরে ছিল আরো অনেক জাহাজ এবং নৌকা। সেগুলোতে বোঝাই ছিল চিনি, মশলা, মূল্যবান ধাতু এবং অন্যান্য পণ্য। স্পেন এবং তার আমেরিকান উপনিবেশগুলোর মধ্যে এগুলোতে করে পণ্য পরিবহন করা হত।

এই নৌবহরের প্রধান জাহাজ ছিল স্যান হোসে। সেটিতে বোঝাই ছিল রূপা, পান্না, সোনা- এরকম সব মূল্যবান ধাতু। কিন্তু একটি ব্রিটিশ জাহাজের সঙ্গে সহিংস সঙ্ঘাতে জড়িয়ে পড়েছিল এটি। কয়েক ঘণ্টা ধরে লড়াইয়ের পর স্যান হোসে জাহাজের গান পাউডারের গুদাম বিস্ফোরিত হয় এবং সাথে সাথে জাহাজটি ডুবে যায়। ছয় শ’ নাবিক সহ জাহাজটি সাগরের পানির নিচে অদৃশ্য হয়ে যায়।

এর প্রায় তিন শ’ বছর পর ২০১৫ সালে কলম্বিয়ান নৌবাহিনী শেষ পর্যন্ত এই জাহাজের ধ্বংসাবশেষ খুঁজে বের করতে সক্ষম হয়। জাহাজের ধ্বংসাবশেষের মধ্যে কামান, সিরামিক, মূদ্রা এরকম অনেক কিছু পাওয়া গিয়েছিল। ধারণা করা হয়, এই জাহাজে ছিল প্রায় ১৭ বিলিয়ন ডলারের মালামাল। কিন্তু জাহাজটি আবিস্কৃত হওয়ার পরপরই এর মালিক কে তা নিয়ে তিক্ত বিবাদ শুরু হয়। এই প্রত্মতাত্ত্বিক স্থানটি থেকে এখন সম্পদ লুন্ঠন করা হবে বলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

স্যান হোসে আবিস্কৃত হওয়ার পর গবেষকরা আরো দু’টি শতাব্দী প্রাচীন ডুবে যাওয়া জাহাজ খুঁজে পেয়েছেন কলম্বিয়ার উপকূলে।

এক সোনালী যুগ
এ ধরণের বিতর্ক সামনের দিনগুলিতে বারে বারে সামনে আসবে।

অতীতে অনেক ডুবে যাওয়া জাহাজ খুঁজে পাওয়া যেত তুলনামূলকভাবে অগভীর পানিতে। জেলেরা, বিজ্ঞানীরা কিংবা যারা লুকায়িত সম্পদের খোঁজে থাকে- তারা হয়ত ঘটনাচক্রে সাগর উপকূলে এরকম জাহাজ খুঁজে পেত। কিন্তু এখন অত্যাধুনিক সাবমরিন, ক্যামেরা এবং শব্দতরঙ্গ প্রযুক্তির কল্যাণে গভীর সাগরের তলদেশেও ডুবে যাওয়া জাহাজের সন্ধান করা অনেক সহজ হয়ে গেছে।

সাগরের সবচেয়ে গভীর অংশের মানচিত্র তৈরি করাও এখন সম্ভব। ২০১৯ সালে গবেষকরা মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস জনস্টোন খুঁজে পান ফিলিপাইনের কাছে সাগরের ছয় কিলোমিটার গভীরে।

আর এবছরের শুরুতে বিজ্ঞানীরা টাইটানিক জাহাজের এক অবিকল ত্রিমাত্রিক ডিজিটাল প্রতিকৃতি তৈরি করেন আটলান্টিকের নিচে ডুবে থাকা জাহাজটি জরিপ করে।

প্রযুক্তির এই উন্নতির ফলে সাগরের নিচে লুকিয়ে থাকা অনেক কিছু এখন অভূতপূর্ব হারে প্রকাশ পাচ্ছে। যেভাবে শব্দতরঙ্গে এবং জিপিএস প্রযুক্তি মাছ ধরার ব্যাপারটি পুরো বদলে দিয়েছে। টিউনা মাছের ঝাঁককে এখন গভীর সমুদ্রে পর্যন্ত খুঁজে বের করা যাচ্ছে। সেই একই প্রযুক্তি ব্যবহার করে এখন যে কেউ অনেক ডুবে যাওয়া জাহাজ খুঁজে বের করতে পারবে, যেটা আগে সম্ভব ছিল না।

তবে এখনো অনেক ডুবে যাওয়া জাহাজ খুঁজে পাওয়ার অপেক্ষায়। এর মধ্যে অনেক বিখ্যাত জাহাজডুবির ঘটনা আছে। যেমন- ধরা যাক ওয়ারাটাহর কথা। এই বিশাল যাত্রীবাহী জাহাজটিকে টাইটানিকের সঙ্গে তুলনা করা হয়। এটি ১৯০৯ সালের ২৬ জুলাই ডারবান থেকে কেপটাউনের উদ্দেশে যাত্রা করেছিল। জাহাজটিতে ছিল ২১১ জন যাত্রী। কিন্তু তারপর এটি অদৃশ্য হয়ে যায়। আজ পর্যন্ত কেউ জানে না কী ঘটেছিল, কোথায় জাহাজটি ডুবে গিয়েছিল। এটি খুঁজে বের করার জন্য এ পর্যন্ত নয়টি অভিযান চালানো হয়েছে। কিন্তু কিছুই পাওয়া যায়নি।

কে জানে, এরপর আবার কী খুঁজে পাওয়া যাবে। একটা বিষয়েই কেবল সুনিশ্চিত, খুঁজে পাওয়ার জন্য আমাদের খুব বেশি সময় অপেক্ষা করতে হবে না।

সূত্র : বিবিসি

টাইটানের দুর্ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে কানাডা

কানাডিয়ান কর্তৃপক্ষ শনিবার টাইটান সাবমার্সিবলের বিস্ফোরণের বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে। টাইটানিকের ধ্বংসস্তুপের কাছে পাঁচজন লোক নিয়ে সাবমার্সিবলটি নিখোঁজ হওয়ার পর বহুজাতিক অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান চালানো হয়েছিল।

ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ডের (টিএসবি) সভাপতি ক্যাথি ফক্স বলেছেন, ‘আমাদের দায়িত্ব হলো কী ঘটেছে এবং কেন ঘটেছে এবং ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনার সম্ভাবনা বা ঝুঁকি কমাতে কী পরিবর্তন করতে হবে তা খুঁজে বের করা।’

তিনি নিউফাউন্ডল্যান্ডের সেন্ট জনস-এ সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা জানি সবাই উত্তর চায়, বিশেষ করে পরিবার এবং জনসাধারণ।’

সম্পূর্ণ তদন্তে ১৮ মাস থেকে দুই বছর সময় লাগতে পারে।

টিএসবি তদন্তকারীরা শনিবার কানাডিয়ান-পতাকাযুক্ত পোলার প্রাইস কার্গো জাহাজে উঠেছেন, যেটি উত্তর আটলান্টিকের দুর্ভাগ্যজনক টাইটান সাবমার্সিবলটি তার লঞ্চ পয়েন্টে নিয়ে আসার জন্য সেন্ট জন’স থেকে গত সপ্তাহান্তে যাত্রা করেছিল।

পরিবহন নিরাপত্তার উন্নতির লক্ষ্যে এই নিরাপত্তা বোর্ড নিয়মিতভাবে বিমান, রেল, সামুদ্রিক এবং পাইপলাইন দুর্ঘটনার তদন্ত করে আসছে। এটি দুর্ঘটনার ফৌজদারি দায় নির্ধারণ করে না।

ইউএস কোস্ট গার্ড বৃহস্পতিবার বলেছে, সাবমার্সিবলটির ‘বিপর্যয়কর বিস্ফোরণের’ পরে এতে থাকা পাঁচজনের সবাই মারা গেছে।

টাইটানিকের ধ্বংসাবশেষ থেকে ১৬০০ ফুট (৫০০ মিটার) দূরে সমুদ্রতলে সাবমার্সিবলটির ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেছে।

ইতোমধ্যে রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ (আরসিএমপি) টাইটানের দুঃসাহসিক যাত্রীদের মৃত্যুর ঘটনায় কোনো ফৌজদারি আইন ভঙ্গ হয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখছিল।

নিউফাউন্ডল্যান্ড এবং ল্যাব্রাডরের সুপারিনটেনডেন্ট কেন্ট ওসমন্ড বলেন, তদন্তকারীদের কাজ হলো ‘আরসিএমপি দ্বারা সম্পূর্ণ তদন্তের প্রয়োজন আছে কি না’ তা নির্ধারণ করা।

‘এই ধরনের তদন্ত কেবল তখনই এগিয়ে যাবে যখন আমাদের পরিস্থিতির পর্যবেক্ষণে এমন ইঙ্গিত দেয় যে, ফৌজদারি ফেডারেল বা প্রাদেশিক আইন সম্ভবত ভঙ্গ করা হয়েছে।’

আনকাট ছাড়পত্র পেল শাকিবের ‘প্রিয়তমা’

ঈদে সিনেমা মুক্তির সংখ্যা বেড়েছে। এ প্রতিযোগিতায় বরাবরই আলোচনার শীর্ষে থাকেন শাকিব খান। আর ধারাবাহিকতা থাকছে আসন্ন কুরবানির ঈদেও।

সবার জানা, ঈদুল আজহায় মুক্তি পেতে যাচ্ছে শাকিব খানের সিনেমা ‘প্রিয়তমা’। ইতোমধ্যে ঢালিউড কিংয়ের ফার্স্টলুক প্রকাশের পর ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

তবে এতদিন পর্যন্ত সেন্সরবোর্ডের কাছে জমা ছিল ‘প্রিয়তমা’। অবশেষে আনকাট ছাড়পত্র পেল সিনেমাটি।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিনেমার পরিচালক হিমেল আশরাফ।

প্রিয়তমার ফার্স্টলুক প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তা ভাইরাল হয়ে যায়। সিনেমা সংশ্লিষ্ট অনেকেই শাকিবের প্রশংসায় মেতে উঠে।

প্রশংসায় ছিলেন শাকিবের সাবেক স্ত্রী ও চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাস।

হিমেল আশরাফের পরিচালনায় আরশাদ আদনানের প্রযোজনায় নির্মিত ‘প্রিয়তমা’ রোমান্টিক অ্যাকশন ধাঁচের গল্প লিখেছেন পরলোকগত ফারুক হোসেন।

ঈদুল আজহায় মুক্তি পেতে যাওয়া ‘প্রিয়তমা’ সিনেমায় আরো অভিনয় করছেন ইধিকা পাল, কাজী হায়াত, শহীদুজ্জামান সেলিম, এলিনা শাম্মী, ডন, সহীদ নবী প্রমুখ।