Home Blog Page 639

প্রার্থিতা ফিরে পেলেন হিরো আলম

ঢাকা-১৭ আসনের উপনির্বাচনে প্রার্থিতা ফিরে পেলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলম।

আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে আপিল শুনানি শেষে এ তথ্য জানান ইসির অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ।

এর আগে গত রোববার বাছাইয়ে হিরো আলমের মনোনয়ন বাতিল করা হয়। পরে গত মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে নির্বাচন কমিশনে সশরীর হাজির হয়ে আপিল করেন তিনি। বৃহস্পতিবার (২২ জুন) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে এ নিয়ে শুনানি হয়। এতে প্রার্থিতা ফিরে পান হিরো আলম। আপিল শুনানিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিরো আলমের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়। ফলে ঢাকা-১৭ আসনের উপনির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন তিনি। আগামী রোববার এ নিয়ে আদেশ জারি হবে।

যেকোনো সংসদীয় আসনে নির্বাচন করতে হলে এক শতাংশ ভোটারের নাম ও স্বাক্ষর প্রয়োজন হয়। কিন্তু এই এক শতাংশ ভোটার ও তাদের স্বাক্ষর নিতে পারেননি । রিটার্নিং কর্মকর্তার প্রতিনিধি দল সরেজমিন ঘুরে হিরো আলমের দেয়া এক শতাংশ ভোটারের হদিস পায়নি। এজন্যই হিরো আলমের মনোনয়ন বাতিল হয়েছিল বলে গত রোববার আগারগাঁওয়ের নির্বাচনি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে (ইটিআই) মনোনয়ন বাছাই শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তা মো: মুনীর হোসাইন খান জানান।

তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ সময় ২৫ জুন। পরদিন হবে প্রতীক বরাদ্দ। ১৭ জুলাই সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ব্যালট পেপারে ভোট নেয়া হবে।

গত ১৫ মে এই আসনের সংসদ সদস্য চিত্রনায়ক আকবর হোসেন পাঠানের (ফারুক) মৃত্যু হলে আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়।

একে অপরকে কী উপহার দিলেন বাইডেন-মোদি

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র সফরে রয়েছেন। সেখানে তিনি প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সাথেও সাক্ষাৎ করেছেন। আর মার্কিন ফার্স্টলেডি জিল বাইডেনের জন্য ভারত থেকে নিয়ে গিয়েছেন বাছাই করা উপহার।

স্থানীয় সময় বুধবার (২১ জুন) ওয়াশিংটনে অতিথি মোদিকে নানা উপহার দিয়ে সম্মাননা জানিয়েছেন জো বাইডেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে ২০ শতকের গোড়ার দিকের একটি মার্কিন সাহিত্যের বইয়ের গ্যালারি উপহার দিয়েছেন তিনি।

এছাড়াও ব্যক্তিগতভাবে প্রধানমন্ত্রীকে একটি ভিনটেজ ক্যামেরা উপহার দিয়েছেন বাইডেন। যার সাথে রয়েছে জর্জ ইস্টম্যানের মুদ্রিত প্রথম কোডাক ক্যামেরার ফ্যাসিমাইল প্রিন্ট। তার সাথে মার্কিন বন্যপ্রাণবিষয়ক একটি বিশেষ বই।

নরেন্দ্র মোদিকে বিশেষ উপহার দিয়েছেন মার্কিন ফার্স্টলেডি জিল বাইডেনও। ইংরেজি সাহিত্যের কবি রবার্ট ফ্রস্টের সই করা কবিতার বই ‘কালেক্টেড পোয়েমস অব রবার্ট ফ্রস্ট’ এর প্রথম এডিশনের একটি বই।

অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এবং তার স্ত্রী জিল বাইডেনের জন্যও ভারত থেকে বাছাই করা উপহার নিয়ে গেছেন মোদি। তার মধ্যে প্রথমেই রয়েছে জিল বাইডেনের জন্য একটি সবুজ হিরা।

বিশেষ চন্দন বক্স- এই বিশেষ চন্দন কাঠের বক্সটি তৈরি করেছেন রাজস্থানের জয়পুরের এক দক্ষ কারিগর। কর্ণাটকের মহীশুরে চন্দনকাঠ দিয়ে তৈরি এই বক্সে সুনিপুণভাবে খোদাই করা রয়েছে ভারতীয় প্রাণী ও উদ্ভিদের বিভিন্ন প্রতিকৃতি।

এই চন্দনকাঠের বক্সের মধ্যে দেয়া হয়েছে, একটি রুপার গণেশ মূর্তি। বক্সে রাখা হয়েছে, একটি প্রদীপ, তামার পাত্র এবং হাতে তৈরি রুপার বাক্স, যাতে দেয়া হয়েছে ‘দশ দানম’।

বাক্সের মধ্যে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের শিল্পীর তৈরি জিনিসও। বাংলার শিল্পীর তৈরি রুপার ডাব। সাথে কর্ণাটকের মাইসুরুর সুগন্ধি চন্দনকাঠ। রাজস্থানের শিল্পীর তৈরি ২৪ ক্যারেট একটি স্বর্ণ মুদ্রা।

বাক্সে দেয়া হয়েছে পাঞ্জাবের তৈরি মাখন। ঝাড়খণ্ডের শিল্পীর হাতে বোনা তসর সিল্কের খণ্ড। উত্তরাখণ্ডের চাল। মহারাষ্ট্রের গুড়।

৫০০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে সিইসিকে ফয়জুল করিমের লিগ্যাল নোটিশ

৫০০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়ালকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেন মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করিম।

বৃহস্পতিবার তার পক্ষে সিইসিকে নোটিশটি পাঠান আইনজীবী মোহাম্মদ আব্দুল বাসেত।

নোটিশে বলা হয়, ভোট কারচুপিতে বাধা দেয়ার কারণে ফয়জুল করিমকে হত্যার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে হামলার বিষয়ে আপনার (সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়াল) বক্তব্য দায়িত্বজ্ঞানহীন। এর ফলে ফয়জুল করিমের মর্যাদা ও সুনামের অবর্ণনীয় ক্ষতি হয়েছে। তার আনুমানিক ক্ষতির পরিমাণ ৫০০ কোটি টাকা। সাত দিনের মধ্যে বক্তব্য প্রত্যাহার করে ক্ষমা প্রার্থনা না করলে ক্ষতিপূরণ বাবদ ৫০০ কোটি টাকা প্রদান করে আপনি পদত্যাগ করবেন। অন্যথায় দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী উপযুক্ত আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচন চলাকালে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মেয়র প্রার্থী মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করিমের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেছিলেন, ‘তিনি কি ইন্তেকাল করেছেন। আমরা দেখেছি- না? উনি কতটা রক্তাক্ত হয়েছেন। উনার রক্তক্ষরণটা দেখিনি। যতটা শুনেছি, উনাকে কেউ পেছন থেকে ঘুষি মেরেছে।’

ভারতের মণিপুরে হিন্দু-খ্রিস্টান দাঙ্গা থামেনি ৫০ দিনেও

ভারতের মণিপুর জ্বলছে ৫০ দিন ধরে। তার সাথেই জ্বলছে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের এই রাজ্যটির শত শত বছরের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য।

জ্বলে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে একটা স্বপ্ন, যেখানে মেইতেই, কুকি আর নাগা সম্প্রদায়ের মানুষরা পুরনো দ্বন্দ্ব মুছে ফেলে একসাথে থাকতে পারত।

পারস্পরিক বিশ্বাস ঠেকেছে একদম তলানিতে, বেড়েছে হতাশা।

তারই ফল হল মণিপুরে জাতিগত সহিংসতা শুরু হওয়ার দেড় মাসেরও বেশি সময় হয়ে গেছে, কিন্তু পরিস্থিতি এখনো উত্তেজনাপূর্ণ।

মেইতেই ও কুকি সম্প্রদায়ের মধ্যে চলমান এই সহিংসতায় এখন পর্যন্ত ১০০ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং ৩৯০ জন আহত হয়েছেন।

তবুও সহিংসতা থামছে না, বাঁধ ভাঙ্গছে স্থানীয় মানুষের ধৈর্যের।

‘সরকারের সাথে গৃহযুদ্ধ’
মণিপুরের মেইতেই সম্প্রদায় দীর্ঘদিন ধরেই তফসিলি উপজাতি হিসাবে স্বীকৃতি পাওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে।

আর এই দাবিটাই কুকি সম্প্রদায়ের সাথে তাদের চলমান বিবাদের মূল উৎস।

মে মাসের ৩ থেকে ৬ তারিখ পর্যন্ত পুরো রাজ্যে ভয়াবহ সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছিল, মেইতেই আর কুকি সম্প্রদায়ের মানুষ একে অপরকে টার্গেট করেছিল।

রাজধানী ইম্ফল থেকে ঘণ্টা দুয়েক দূরের পথ কুকি-অধ্যুষিত চুড়াচাঁদপুর জেলা। সেখানে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে যে সংঘর্ষ চলছিল সেই সময়ে, তখন সেখানেই ছিলেন ২৩ বছর বয়সী অ্যালেক্স জামকোথাং।

হঠাৎই ওপরের একটি ভবন থেকে একটি গুলি এসে তার বুক চিরে চলে যায়। সাথে সাথে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, কিন্তু ততক্ষণে তার মৃত্যু হয়েছে।

তখন থেকে অ্যালেক্স জামকোথাংয়ের মা ঘুমোতে পারছেন না, মাঝে মাঝেই কেঁদে উঠছেন।

অ্যালেক্সের বাবা সেনাবাহিনীতে ছিলেন এবং ভাই এখনো ভারত-তিব্বত সীমা পুলিশে কর্মরত।

বাড়ির ছেলের শেষকৃত্য এখনো করেননি জামকোথাং পরিবার।

অ্যালেক্সের ভাই বলছিলেন, ‘এখানে আমাদের জীবন বিপন্ন। কখন কি হবে, কে মরবে, কেউ জানে না। কেন্দ্রীয় সরকার যদি আদিবাসীদের জন্য সুযোগ-সুবিধা না দেয়, তাহলে যেমন আমরা মানব না, আবার মেইতেইরাও রাজি হবে না। এখন যা চলছে, তা সরকারের সাথে গৃহযুদ্ধ। সরকার আমাদের দাবি না মানলে মর্গ থেকে ভাইয়ের লাশ বের করব না আমরা।’

বিভাজন রেখাটা খুব স্পষ্ট
মণিপুর এখন আসলে দু’টুকরো হয়ে গেছে, যার একটা অংশে আছেন মেইতেই সম্প্রদায়ের মানুষ, অন্য অংশে রয়েছেন কুকিরা।

এই সহিংসতা এক, দুই বা চার দিনের নয়, টানা কয়েক সপ্তাহ ধরে চলছে। পরিবার ধ্বংস হয়েছে, বাড়িঘর জ্বলে পুড়ে গেছে, উজাড় হয়ে গেছে গ্রাম-গঞ্জ।

যে ধরনের ফাটল দেখা যাচ্ছে মণিপুরী সমাজে, তা দীর্ঘমেয়াদের জন্যই থেকে যাবে বলেই মনে হচ্ছে।

স্বাধীনতার পর থেকে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী কুকি সম্প্রদায় তফসিলি উপজাতির মর্যাদা পেয়েছে, অন্যদিকে মেইতেইরা হিন্দু ধর্মাবলম্বী। তাদের একটা অংশ যেমন সংরক্ষণের সুযোগ-সুবিধা পাননি, তেমনই আরেকটি অংশ আবার তফসিলি জাতিভুক্ত হয়েছেন কেউ আবার অন্যান্য পিছিয়েপড়া শ্রেণিতে নাম তুলেছেন।

মেইতেই সম্প্রদায়ের মানুষ কুকিদের এলাকায় জমি কিনতে পারেন না, তাই তারা উপজাতির মর্যাদা চাইছেন।

স্পষ্টতই, সমস্যাটা জমির অধিকারের।

২৮ লাখ জনসংখ্যার অধিকাংশই মেইতেই, যারা উপত্যকা অঞ্চলে বাস করেন। আর কুকি সম্প্রদায়ের আদি বাসস্থান ছিল চারটি পার্বত্য জেলায়।

আবার মেইতেদের মধ্যে কিছু মুসলমানও আছেন আর রয়েছেন নাগা সম্প্রদায়ের মানুষ, যাদের ওপরে অবশ্য এই চলমান সহিংসতার আঁচ লাগেনি।

ত্রাণ শিবিরে ৫০ হাজার মানুষ
মণিপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক প্রিয়রঞ্জন সিং বলেন, তাদের রাজ্যে এই ধরনের সহিংসতার ইতিহাস নেই।

তিনি বলেন, ‘ইতিহাস হলো মেইতেইরাই নাগা ও কুকি সম্প্রদায়কে রাজার প্রশাসনিক কাজে জায়গা করে দিয়েছিল। এখানকার মানুষের হিন্দু হওয়ার ইতিহাসটাও আলাদা।

‘মণিপুরের মানুষের মধ্যে কখনোই ধর্মীয় উগ্রতা ছিল না। তবে উনবিংশ শতকে যখন এখানে রাজার শাসন ছিল, সেইসময়ে হিন্দুধর্ম চাপিয়ে দেয়া হয়েছিল। কিন্তু সেটাও খুব বেশিদিন স্থায়ী হয়নি,’ বলেন তিনি।

কিন্তু বাস্তবতা হলো, সাম্প্রতিক এই সহিংসতায় দুই ধর্মাবলম্বীদেরই মৃত্যু আর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

এখনো ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ ঘর ছেড়ে পালিয়ে ত্রাণ শিবিরগুলোতে আশ্রয় নিয়েছেন। তাদের মধ্যেও কুকি আর মেইতেই- দুই সম্প্রদায়ের মানুষই আছেন।

রাজধানী ইম্ফলের স্টেডিয়ামের পাশে একটি যুব হোস্টেল রয়েছে, যা এখন ত্রাণশিবিরে রূপান্তরিত হয়েছে।

এই শিবিরে ৪০ জন এমন নারী আছেন, যারা সহিংসতা শুরু হওয়ার সময় গর্ভবতী ছিলেন।

গত এক মাসে এখানে চারটি শিশুর জন্ম হয়েছে এবং এই মায়েরা কখনো স্বপ্নেও ভাবেননি যে ‘কনফ্লিক্ট চিলড্রেন’ নামে একটি ত্রাণশিবিরে জন্ম হবে তাদের সন্তানদের।

এখানেই আমার সাথে কথা হয়েছিল ২৭ বছর বয়সী মেরিনা সোরামের, যিনি শিবিরেই কন্যাশিশুর জন্ম দিয়েছেন। তার স্বামীর কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছেন তিনি।

মেরিনা তার মেয়ের নাম রেখেছেন ‘জিত’।

কাংপোকপির বাসিন্দা মেরিনা সোরাম বলছিলেন, ‘গ্রামে যখন হামলা শুরু হলো, তখন আমরা রাতের খাবার খেতে শুরু করতে যাচ্ছিলাম। হামলা হতেই বাড়ি থেকে বেরিয়ে নদীর দিকে ছুটে যাই। সেখানে দেখি অনেকগুলো শিশু নদীর প্রবল স্রোতের সাথে লড়াই করছে। পরের দিন আমরা তাদের মৃতদেহ খুঁজে পাই।’

সাবেক মেইতেই হিন্দু রাজপরিবার
গত কয়েক বছর ধরেই রাজ্যের রাজনীতিতে সাবেক মেইতেই হিন্দু রাজপরিবারের সদস্যদের জনপ্রিয়তা বাড়ছে।

সাবেক রাজপরিবারের বর্তমান কর্ণধার, মহারাজা লিশেম্বা সানজাওবা বর্তমানে বিজেপির রাজ্যসভার সংসদ সদস্য।

অনেক চেষ্টা করেও বিবিসি তাকে সাক্ষাতকারের জন্য রাজি করাতে পারেনি।

তবে তিনি একটি বিবৃতি জারি করে বলেছিলেন যে, ‘সহিংসতা অত্যন্ত নিন্দনীয় এবং আলোচনাই প্রতিটি সমস্যার একমাত্র সমাধান।’

মণিপুরের ইতিহাসে এই প্রথম ধর্মীয় স্থানগুলো জাতিগত সহিংসতার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।

ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) রাজ্য সভাপতি শারদা দেবীও মেনে নিচ্ছেন যে মেইতেই ও কুকি সম্প্রদায়ের মধ্যে ব্যাপক সহিংসতায় চার্চ পুড়েছে, মন্দির ভাঙ্গা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘চার্চ আর মন্দির দুই-ই পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। কুকি সম্প্রদায়ের প্রার্থনা করার স্থল গির্জাঘর এবং মেইতেই সম্প্রদায়ের মানুষ তাদের বাড়িতে যে উপাসনাস্থল বানায়, উভয়েরই ক্ষতি করা হয়েছে। এটা আমাদের সকলের জন্যই দুঃখের বিষয়।’

বিবিসির হাতে থাকা সরকারি তথ্য অনুসারে, জুনের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত রাজ্যে ২৫০টিরও বেশি চার্চ এবং প্রায় ২০০০ কুকি সম্প্রদায়ের ঘরবাড়িতে হামলা হয়েছে।

‘সরকারের ওপরে আস্থা হারিয়ে ফেলেছি’
চুড়াচাঁদপুরে আমরা কুকি খ্রিস্টান লিডারস ফেলোশিপের প্রধান যাজক হাওকিপ থংখোসের সাথে দেখা করেছিলাম।

তিনি রাজ্যের গির্জাগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছিলেন।

হাওকিপ থংখোস বলেছিলেন, ‘কুকি সম্প্রদায় গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। গির্জাঘর, মানুষ এবং তাদের সম্পত্তিতে হামলাকারী জনতাকে থামায়নি সরকার, তাই এই সরকারের ওপরে আমরা আস্থা হারিয়ে ফেলেছি। খুবই কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যেতে হচ্ছে আমাদের।’

‘এটা জাতিগত সহিংসতা তো বটেই, একই সাথে ভারতীয় হিন্দুদের খুশি করার জন্য গির্জার ওপরে এই হামলাগুলো চালানো হয়েছে,’ বলেন তিনি।

ইম্ফলের গির্জাগুলোর ছবি তোলা বা সেগুলোর সামনে দাঁড়িয়ে কাজ করা সংবাদমাধ্যমকর্মীদের কাছে সবচেয়ে বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে।

স্থানীয় লোকেরা এসে বিভিন্ন ধরনের প্রশ্ন করতে থাকে সংবাদকর্মীদের।

যদি ভাঙ্গা গির্জা বা ধ্বংস হয়ে যাওয়া মন্দিরের ছবি তোলা হয়, তাহলে স্থানীয়রা বিরক্তি প্রকাশ করে।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১০০টি মন্দির আর হাজার দুয়েক মেইতেই বাড়িতে হামলা হয়েছে।

মেইতেই সম্প্রদায়ের একটি গোষ্ঠী ‘কোকোমি’র মুখপাত্র কে ওথাবে জোর দিয়ে বলেন, ‘মণিপুরের কোনো সমস্যাই ধর্মীয় রূপ নেয় না, এবারেও বিষয়টি আরো বড় হয়ে ওঠার আগেই আটকানো গেছে।’

তার মতে, ‘২০০টি চার্চ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কিন্তু আপনার জানা উচিত যে আরো ৪০০টি চার্চ এখনো অক্ষত রয়েছে। ধর্মীয় সহিংসতা হলে সেগুলো কি অক্ষত থাকত?’

‘কিন্তু পাহাড়ি এলাকায় একটাও মন্দির পাবেন না,’ বলেন তিনি।

এই সহিংসতার জন্য প্রতিবেশী মিয়ানমারের চিন প্রদেশ থেকে পালিয়ে আসা কুকি উগ্রবাদীদেরও দায়ী করা হচ্ছে, যাদের কাছে রয়েছে প্রচুর আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র।

অধিকারের লড়াই ধর্মীয় সহিংসতার রূপ নিয়েছে
কুকি স্টুডেন্টস অর্গানাইজেশনের হোম সেক্রেটারি মাং খনসাইয়ের ক্ষোভ যে, ‘কেন্দ্র বা রাজ্য সরকার, কেউই তাদের দাবিগুলো নিয়ে মাথা ঘামায়নি।’

তিনি বলেন, ‘সবাই তো কোথাও না কোথাও সংখ্যালঘু। আজ শুধুমাত্র মণিপুরে থাকার কারণে আপনি সংখ্যাগরিষ্ঠ হলে, আপনি কি শুধু মণিপুরেই সীমাবদ্ধ থাকবেন? আরো অনেক জায়গা আছে যেখানে তারাও আমাদের মতো একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে পারে।’

এই সহিংসতায় ধর্মীয় স্থানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে কুকি সম্প্রদায় বা তিনি অনুতপ্ত কিনা জানতে চাইলে মাং খনসাই বলেন, ‘আমাদের লড়াইটা আসলে কিসের জন্য, সেটা ভেবে আমি নিজেও মাঝে মাঝে বিভ্রান্ত হয়ে পড়ি। এই সহিংসতা শুরু হয়েছিল একটা অধিকারের আন্দোলন দিয়ে, কিন্তু তারপরে সেটা ধর্মীয় সহিংসতার রূপ নিয়ে নেয়।’

‘এখন কেন্দ্রীয় সরকারকে এর অবসান ঘটাতে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে, তা না হলে পরিস্থিতি আরো খারাপ হবে,’ বলেন তিনি।

পরিস্থিতি এখন এমনই যে রাজধানী ইম্ফল থেকে পাহাড়ী কুকি অধ্যুষিত এলাকায় যেতে প্রশাসনের নয়, কুকি রক্ষীদের কাছ থেকে অনুমতি নিতে হবে।

দিনের বেলা নারীরা সীমান্ত পাহারা দেয় এবং রাতে পুরুষরা।

দুই সম্প্রদায়ের গ্রামের মধ্যে পারস্পরিক আক্রমণও চলছে।

একটি কুকি গ্রামের বাসিন্দারা আরপিজি থেকে ছোঁড়া গ্রেনেড এবং গোলাবারুদ আমাদের দেখাচ্ছিলেন।

অনেক গ্রামের রক্ষীদের কাছে ওয়াকিটকি আছে, যার মাধ্যমে তারা একে অপরের সাথে কথা বলে।

কয়েকদিন আগে পর্যন্ত তাদের কাছে লাইসেন্সকৃত বন্দুকও ছিল, কিন্তু এখন ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী চারদিকে ঘাঁটি তৈরি করেছে এবং তারা গ্রামবাসীদের অস্ত্র ব্যবহার না করার জন্য কঠোরভাবে নির্দেশ দিয়েছে।

এই প্রথম ধর্মীয় সহিংসতা
আমরা রাজধানী ইম্ফলের বাইরে একটি গোপন ডেরায় দেখা করেছিলাম বিচ্ছিন্নতাবাদী উগ্রবাদী গোষ্ঠী ইউনাইটেড ন্যাশনাল লিবারেশন ফ্রন্ট বা ইউএনএলএফের সাবেক চেয়ারম্যান প্রিন্স মেগানের সাথে।

তিনি কয়েক দশক ধরে আন্ডারগ্রাউন্ড ছিলেন।

তিনি বলেন, ‘আমি মর্মাহত, দুঃখিত। অতীতে কখনো এরকম ঘটনা হয়নি। আমি গির্জা বা ধর্মীয় স্থান পোড়ানো কখনোই সমর্থন করি না। পক্ষপাতমূলক দলীয় রাজনীতির ফলেই মেইতেই ও কুকি সম্প্রদায়ের সাধারণ মানুষকে এই পরিস্থিতিতে পড়তে হলো।’

এত দীর্ঘ সময়ের সহিংসতার পরের দৃশ্যপট দেখে ভয়ই হয়।

যারা শত শত বছর ধরে একসাথে বসবাস করে আসছেন তাদের মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাসের ছিটেফোঁটাও আর অবশিষ্ট নেই।

মণিপুর কংগ্রেস পার্টির কার্যনির্বাহী সভাপতি দেবব্রত সিং পরিস্থিতির সারসংক্ষেপ করে বলেন, ‘এখানে কখনো ধর্মের নামে কোনো দাঙ্গা হয়নি। এই প্রথমবার সেটা দেখলাম আমরা। কোনো মহল থেকে বোধহয় এই সহিংসতাকে ধর্মীয় দাঙ্গার রূপ দেয়ার চেষ্টা হয়েছে।’

সূত্র : বিবিসি

আ’লীগকে ভোট চুরি করে জিততে হয় না : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জনগণের আস্থা থাকায় আওয়ামী লীগের কোনো নির্বাচনে জেতার জন্য ভোট চুরির প্রয়োজন নেই। বরং আওয়ামী লীগ জনগণের জন্য কাজ করে, দেশবাসীর আস্থা ও বিশ্বাস অর্জনের মাধ্যমে জনগণের ভোট পায়।’

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন যে যখনই তার দল কোনো নির্বাচনে হেরেছে, তখনই তা ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তার সরকারি বাসভবন গণভবনে বৃহস্পতিবার আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় সূচনা বক্তব্যে এ কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘ভোট ডাকাতির মাধ্যমে (ষড়যন্ত্রকারীরা) আওয়ামী লীগকে তার প্রকৃত ভোট বা আসন পেতে বঞ্চিত করেছে অথবা আওয়ামী লীগকে পরাজিত করার চেষ্টা করেছে।’

তিনি বলেন, দেশের মানুষ যখনই অবাধে ভোট দেয়ার সুযোগ পেয়েছে, তখনই তারা আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়েছে।

এ প্রসঙ্গে তিনি ২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের কথা উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটকে পরাজিত করে জয়লাভ করেছিল।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘তারা মাত্র ২৯টি আসন পেয়েছিল এবং একটি উপ-নির্বাচন থেকে আরেকটি আসন পেয়েছিল অর্থাৎ মোট ৩০টি আসন। সবাইকে মনে রাখতে হবে যে জনগণ সন্ত্রাসী দল বিএনপিকে ভোট দেয়নি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, হতাশাজনক ফলাফলের কারণে বিএনপি ২০১৪ সালের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেনি।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার দীর্ঘ সংগ্রামের মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করেছে।

সূত্র : ইউএনবি

‘যুক্তরাষ্ট্র স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করবে না’

যুক্তরাষ্ট্র তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় ও ক্ষেত্রসমূহে যুক্ত হতে ও পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করবে না বলে জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের মুখ্য উপমুখপাত্র বেদান্ত প্যাটেল।

গতকাল বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতরের নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্যাটেল এ কথা বলেন।

প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রশ্ন করা হয়, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এখন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে আছেন। তার যুক্তরাষ্ট্র সফরের আগে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাক সুলিভানের বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে অজিত দোভাল বলেছিলেন, প্রতিবেশীদের ব্যাপারে অন্য দেশের এমন কোনো উদ্যোগ নেয়া উচিত হবে না, যা ভারতের জাতীয় স্বার্থে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

শীর্ষস্থানীয় ভারতীয় দৈনিক তাকে উদ্ধৃত করে বলেছে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলে ভারসাম্য ও স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত করে, এমন কিছু করা যুক্তরাষ্ট্রের উচিত নয়। উদাহরণস্বরূপ, বাংলাদেশে খালেদা জিয়ার শাসনামল, তখন ১০ ট্রাক অস্ত্র ভারতের আসামের সন্ত্রাসী সংগঠন উলফার কাছে পাচার হওয়ার পথে ছিল। এটা ছিল নিরাপত্তা নিয়ে মুখ্য বিষয়। এ ব্যাপারে প্যাটেলের মন্তব্য জানতে চাওয়া হয়।

জবাবে প্যাটেল বলেন, এ বিষয়ে তিনি দুটি কথা বলবেন। প্রথমত, যুক্তরাষ্ট্র তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় ও ক্ষেত্রসমূহে যুক্ত হতে এবং পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করবে না। তবে তিনি এ কথাও বলেন যে বিষয়টি যেহেতু ওই অঞ্চলের সাথে সম্পর্কিত, সেক্ষেত্রে ভারত যুক্তরাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। একটি উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক এলাকা বজায় রাখতে ভারতীয় অংশীদারদের সাথে যুক্তরাষ্ট্র সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করে।

এ প্রসঙ্গে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখ্য উপমুখপাত্র আরো বলেন, ‘আমরা সম্মিলিতভাবে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করি এবং উন্মুক্ত, সমৃদ্ধ, নিরাপদ, স্থিতিশীল ও অভিঘাত সহনশীল বিশ্ব ও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল (দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াসহ) প্রতিষ্ঠায় কার্যক্রম অব্যাহত রাখার জন্য আমাদের ভারতীয় অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করতে চাই আমরা।’

প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রশ্ন করা হয়, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মানবাধিকার লঙ্ঘন বিষয়ে ৭৫ কংগ্রেস সদস্য প্রেসিডেন্ট বাইডেনের কাছে একটি চিঠি লিখেছেন। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী মোদির বিষয়ে এই মার্কিন আইনপ্রণেতারা চিঠি লিখেছেন। তারা মানবাধিকার লঙ্ঘন বিষয়ে লিখেছেন। তিনি (মোদি) মুসলমানদের সাথে যে আচরণ করেন, বিশেষ করে সাংবাদিকদের সাথে যে আচরণ করেন, সে বিষয়ে তারা লিখেছেন। কিন্তু মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরকে এ নিয়ে কখনো নিন্দা জানাতে তিনি (প্রশ্নকারী) শোনেননি।

জবাবে প্যাটেল বলেন, তারা বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশের মানবাধিকার নিয়ে কথা বলে আসছেন। তারা বিশ্বের অন্যান্য দেশের সাথেও এ নিয়ে কথা বলেন। তারা নিয়মিতভাবে ধর্মীয় স্বাধীনতা, বিশ্বাসের স্বাধীনতাসহ যুক্তরাষ্ট্রের মানবাধিকার-সংক্রান্ত উদ্বেগের বিষয়ে উচ্চপর্যায়ে কথা বলে থাকেন। তারা যুক্তরাষ্ট্রের স্বাভাবিক অংশীদার হিসেবে একটি সুরক্ষিত, সমৃদ্ধ, গণতান্ত্রিক ও বহুত্ববাদী ভারতের কথা ভাবনায় রাখেন। ভারতীয় অংশীদারদের দৃষ্টিভঙ্গিও এমনটাই বলে মনে করে যুক্তরাষ্ট্র।

মোসাদের সাথে ৩ দফা বৈঠক করেছেন নুর : দাবি ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রদূতের

ইসরাইলের গুপ্তচর সংস্থা মোসাদের স‌াথে গণঅধিকার পরিষদ নেতা নুরুল হক নুর তিন দেশে তিন দফা বৈঠক করেছেন বলে দাবি করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত ইউসুফ এস ওয়াই রামাদান।

বৃহস্প‌তিবার (২২ জুন) ঢাকার ফিলিস্তিনি দূতাবাসে সাংবা‌দিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ দা‌বি করেন তিনি।

রাষ্ট্রদূত জানান, নুরের সাথে কাতার, দুবাই ও ভারতে তিন দফা বৈঠক হয়েছে মোসাদের। আমাদের গোয়েন্দা সংস্থা থে‌কে আমরা বৈঠ‌কের ছ‌বি পে‌য়ে‌ছি। কাতার বিশ্বকাপের সময় (২০২২ সালের নভেম্বর-ডিসেম্বর) বিষয়‌টি আমাদের নজরে আসে।

রাষ্ট্রদূত ইউসুফ রামাদান বলেন, মোসাদের সাথে তার (নুর) বৈঠকের বিষয়ে তি‌নি য‌দি অস্বীকার করে থাকেন, তা ফিলিস্তিনের জন্য ভালো। ত‌বে বিষয়‌টি সত্য হ‌লে এটি বাংলা‌দে‌শের নিরাপত্তার জন্য হুম‌কি।

রাষ্ট্রদূত বলেন, ইসরাইল থেকে টাকা নেয়া মানুষ কখনো নেতা হতে পারে না। এ ধরনের নেতা দে‌শের জন্য কল্যাণ বয়ে আনতে পারে না।

সেন্টমার্টিন দ্বীপ বিক্রি করে ক্ষমতায় যাবো না : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সেন্ট মার্টিন দ্বীপ কাউকে লিজ দিলে ক্ষমতায় থাকতে কোনো অসুবিধা নেই। কিন্তু সেটা আমার দ্বারা হবে না। এ দেশের কোনো সম্পদ কারো কাছে বিক্রি করে আমি ক্ষমতায় আসতে চাই না।
গতকাল বুধবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। সুইজারল্যান্ড ও কাতার সফর নিয়ে সরকারি বাসভবন গণভবনে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় এসেছিল, কীভাবে? তখন তো গ্যাস বিক্রি করার মুচলেকা দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল। তাহলে এখন তারা দেশ বিক্রি করবে, নাকি সেন্টমার্টিন বিক্রি করার মুচলেকা দিয়ে আসতে চায়? তিনি বলেন, ‘আমি এতটুকু বলতে পারি, আমি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের কন্যা, আমার হাত থেকে এই দেশের কোনো সম্পদ কারো কাছে বিক্রি করে ক্ষমতায় আসতে চাই না। ওই গ্যাস বিক্রির মুচলেকা দিলে আমিও ক্ষমতায় থাকতে পারতাম। আর এখনো যদি আমি বলি, ওই সেন্টমার্টিন দ্বীপ বা আমাদের দেশ কাউকে লিজ দেব, তাহলে আমাদের ক্ষমতায় থাকতে কোনো অসুবিধা নেই। আমি জানি সেটা। কিন্তু আমার দ্বারা সেটি হবে না।’

কাকে লিজ দিলে ক্ষমতায় থাকতে অসুবিধা নেই, সে বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত কিছু বলেননি প্রধানমন্ত্রী। তবে তিনি এও বলেছেন, ‘আমাদের দেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে আমি কাউকে খেলতে দেব না, আমার দেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলার অধিকার কারো নেই। আমার দেশের মাটি ব্যবহার করে কোনো জায়গায় কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাবে, কাউকে অ্যাটাক করবে বা এই ধরনের কাজ আমরা হতে দেব না। আমরা শান্তিতে বিশ্বাস করি, শান্তিপূর্ণ সহযোগিতায় বিশ্বাস করি।’ বাসস জানায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংবিধান অনুযায়ী যথাসময়ে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে পুনর্ব্যক্ত করে বলেছেন, ‘অনির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের কোনো সুযোগ নেই। তাহলে তারা কেন সাংবিধানিক সঙ্কট সৃষ্টির চেষ্টা করছে?’ তিনি আরো বলেন, ‘সবাই এটা জানে (উচ্চ আদালতের রায় এবং সংবিধান সংশোধন)। এটা জানার পরও তারা কেন সাংবিধানিক সঙ্কট তৈরির চেষ্টা করছে? এর উদ্দেশ্যটা কী? এর অর্থ গণতান্ত্রিক ধারাকে ধ্বংস করা।’ শেখ হাসিনা বলেন, কোনো অনির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের কোনো সুযোগ নেই। উচ্চ আদালতের একটি রায় আছে যে- একজন নির্বাচিত সরকার প্রধানের স্থলাভিষিক্ত হবেন অন্য নির্বাচিত সরকারপ্রধান এবং সেই অনুযায়ী সংবিধানও সংশোধন করা হয়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, গত সাড়ে ১৪ বছর ধরে চলমান গণতান্ত্রিক ধারা ও আর্থ-সামাজিক অগ্রগতিকে ধ্বংস করে সাংবিধানিক সঙ্কট সৃষ্টি করাই এদের উদ্দেশ্য। তিনি বলেন, এখন এটা দেশের জনগণের ওপর নির্ভর করছে যে- তারা গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখতে, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণ চায়, নাকি বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে বাংলাদেশ যে পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিল- আবার তা চায়।

বিএনপিসহ আরো কয়েকটি দল রাজপথে নেমেছে- উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন যে, তাদের সমস্যা কী ও তাদের অর্থের উৎস কোথায়? তিনি আরো বলেন, সংবিধান ও নির্বাচনী আইন অনুযায়ী আগামী সাধারণ নির্বাচন যথাসময়েই অনুষ্ঠিত হবে। এ সময় সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সংসদ উপনেতা ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পদক হাছান মাহমুদ, আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী ড. আনিসুল হক এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বেগম মুন্নুজান সুফিয়ান মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলন সঞ্চালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘তারা আমাকে ভোট না দিলে আমি এখানে (ক্ষমতায়) থাকব না, কিন্তু কখনোই ভোট কারচুপি করব না।’ তিনি বলেন, যারা ভোট ডাকাত এবং যারা খুন ও কারচুপির মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছে, তারাই এখন আওয়ামী লীগকে ভোট কারচুপির অপবাদ দিচ্ছে। তিনি বলেন, সরকার নির্বাচন কমিশন আইন প্রণয়ন করেছে এবং সেই আইন অনুযায়ী কমিশন গঠন করেছে। ছবি, স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স ও ইভিএমসহ ভোটার তালিকা তৈরি করেছে ইসি তাই নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই। তিনি বলেন, যারা জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন পছন্দ করে না, তারাই নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। এক প্রশ্নের জবাবে সরকার প্রধান বলেন, তিনি (সবাইকে) বারবার বলেছেন যে নির্বাচন কমিশন যখন ঘোষণা করবে, নির্বাচন সেই নির্ধারিত সময়েই হবে। প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন ঘোষণা দেবে এবং নির্বাচন হবে, জনগণ তাদের ভোট দেবে। তারা যদি আমাকে ভোট দেয়, তবে আমি এখানে থাকব, অন্যথায় নয়।’

ফের রাজশাহী সিটির মেয়র লিটন

রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) নির্বাচনে আবারো মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন আ’লীগ মনোনীত প্রার্থী ও দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। এ নিয়ে টানা দ্বিতীয়বার ও এবার দিয়ে তৃতীয়বারের মতো মেয়র নির্বাচিত হলেন তিনি।

বুধবার (২১ জুন) রাতে রিটার্নিং কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন এ ফলাফল ঘোষণা করেন। এ দিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ইভিএমে ভোটগ্রহণের পর জেলা শিল্পকলা অ্যাকাডেমি মিলনায়তন থেকে ফল ঘোষণা করা হয়।

রাজশাহী সিটিতে মোট ভোটার ৩ লাখ ৫১ হাজার ৯৮২ জন। এদের মধ্যে ১ লাখ ৭১ হাজার ১৬৭ জন পুরুষ ভোটার। নারী ভোটার ১ লাখ ৮০ হাজার ৮০৯ জন। আর ছয়জন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন।

নির্বাচনে মেয়র পদে চারজন, ৩০টি সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে ১১১ জন এবং ১০টি সংরক্ষিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে ৪৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

নগরীর ১৫৫টির মধ্যে সবকটি কেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত ফলাফলে ১ লাখ ৬০ হাজার ২৯০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। আর নির্বাচন বয়কট করা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মুরশিদ আলমের হাতপাখা প্রতীকে পড়েছে ১৩ হাজার ৪৮৩ ভোট। জাকের পার্টির মেয়রপ্রার্থী লতিফ আনোয়ার গোলাপ ফুল প্রতীকে ১১ হাজার ৭১৩ ভোট পেয়েছেন। এছাড়া জাতীয় পার্টির প্রার্থী সাইফুল ইসলাম স্বপন লাঙ্গল প্রতীকে পেয়েছেন ১০ হাজার ২৭২ভোট।

উল্লেখ্য, বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনের পর রাজশাহী সিটিতে ইসলামী আন্দোলনের মেয়র প্রার্থী মুরশিদ আলম (হাতপাখা) নির্বাচন বয়কটের ঘোষণা দেন।

এর আগে ২০০৮ সালের নির্বাচনে প্রথমবারের মতো রাসিকের মেয়র নির্বাচিত হন আ’লীগের প্রার্থী খায়রুজ্জামান লিটন। এরপর ২০১৩ সালে রাসিকের মেয়র নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের কাছে পরাজিত হন লিটন। তবে ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী বুলবুলকে পরাজিত করে আবারো লিটন মেয়র নির্বাচিত হন।

তবে এবার রাসিক নির্বাচনে এমনিতেই কোনো শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল না। তার ওপর মাঠের প্রধান বিরোধী দল বিএনপিসহ বেশ কিছু রাজনৈতিক দল অংশ নেয়নি। এ অবস্থায় লিটন আবারো মেয়র নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন, আগে থেকে এমনটিই ধারণা করা হচ্ছিল।

পাকিস্তানকে হারিয়ে ইমার্জিং এশিয়া কাপের ফাইনালে বাংলাদেশ

ইমার্জিং এশিয়া কাপের ফাইনালে বাংলাদেশ নারী দল। সেমিফাইনালে পাকিস্তানের বিপক্ষে রোমাঞ্চকর এক জয় পেয়েছে টাইগ্রিসরা। বৃষ্টি বিঘ্নিত ম্যাচে বাংলাদেশের জয় ৬ রানে।

বৃষ্টিতে আগেরদিন খেলা মাঠে গড়ায়নি। আজ মঙ্গলবার রিজার্ভ ডেতেও যথা সময়ে খেলা শুরু করা যায়নি। আজও ছিল খেলা মাঠে না গড়ানোর শঙ্কা। শেষ পর্যন্ত খেলা মাঠে গড়ায়, তবে তা নেমে আসে ৯ ওভারে।

হংকংয়ের মিশন রোড গ্রাউন্ডে আগে ব্যাট করে যেখানে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৭ উইকেটে ৫৯ রান। ইনিংসের শুরুটা একেবারেই ভালো ছিল না টাইগ্রিসদের, মোটে ১৬ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে বসে তারা। তাদের কেউই দুই অঙ্ক ছুঁতে পারেননি।

সাথী রানি, দিলারা আক্তার ও স্বর্না আক্তার আউট হন সমান ৪ রান করেন। সোবহানা মোস্তারি ও অধিনায়ক লতা মন্ডল ফিরেছেন রানের খাতা খোলার আগেই। আর ১ রানেই থামতে হয় মুর্শিদা খাতুনকে।

এরপর দলের হাল ধরেন নাহিদা আক্তার ও রাবেয়া খান। দুজনে মিলে ৭ম উইকেট জুটিতে যোগ করেন ৩৭ রান। ১৬ বলে সর্বোচ্চ ২১ রান আসে নাহিদার ব্যাটে। রাবেয়া অপরাজিত ছিলেন ১০ রানে। সালমা খাতুনকে নিয়ে বাকি রান যোগ করেন রাবেয়া। ফাতিমা সানা ২ ওভারে ১০ রান খরচায় নেন ৩ উইকেট।

রান তাড়া করতে নেমে দারুণ শুরু পায় পাকিস্তানের মেয়েরা। প্রথম ৪ ওভারে বিনা উইকেটে আসে ২৬ রান। কিন্তু এরপরই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়া বোলিং নাহিদা আক্তার ও রাবেয়া খানের। দুই ওপেনার শাওয়াল জুলফিকার (১১) ও এইমান ফাতিমার (১৮) সাথে সাদাফ শামাসও (৮) ফিরে যান।

৩৯ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলা পাকিস্তানের শেষ ২ ওভারে প্রয়োজন পড়ে ২০ রান। মারুফা আক্তারের করা ৮ম ওভারে আসে ৭ রান। এই সময়ে ফেরান ০ রানে ফেরান আরেক পাকিস্তানি ব্যাটাট নাতালিয়া পারভেজকে (০)।

ফলে শেষ ওভারে পাকিস্তানের সমীকরণ দাঁড়ায় ১৩ রান, হাতে ৬ উইকেট। কিন্তু এই সমীকরণ মেলাতে দেননি বাঁহাতি স্পিনার সানজিদা আক্তার মেঘলা। দারুণ বোলিংয়ে আটকে দেন পাক কন্যাদের। খরচ করেন মোটে ৬ রান। ফলে ৬ রানের জয় পায় বাংলাদেশ ইমার্জিং নারী দল।

পাকিস্তান ইনিংসের সর্বোচ্চ রান করেন ওপেনার ফাতিমা। ১৫ বলে ১৮ রান করেন তিনি। বাংলাদেশের হয়ে দুটি উইকেট শিকার করেন রাবেয়া খান, একটি করে উইকেট নেন পেসার মারুফা আক্তার ও নাহিদা আক্তার।