Home Blog Page 642

সম্মিলিত বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাইয়ের বৈশাখ উদযাপন ১১ মে

জাহাঙ্গীরনগর এলামনাই এসোসিয়েশন অব আমেরিকা ‘JAAA’ আয়োজিত এবং অনান্য বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই এসোসিয়েশন এর অংশগ্রহনে সম্মিলিত বিশ্ববিদ্যালয় বৈশাখ ১৪৩১ আগামী ১১ মে জ্যামাইকার মেরী লুইস একাডেমীতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

এই উপলক্ষে রবিবার ২৪ শে মার্চ পূর্ব প্রস্তুতি সভার আয়োজন করা হয়। সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই এসোসিয়েশন, চট্ট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই এসোসিয়েশন উপস্থিত ছিলেন। প্রথমবারের মতো শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই সভায় উপস্থিত থেকে বর্ষবরণে তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেন। সভায় বৈশাখ আয়োজন বিষয়ক গ্ররুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে সবাই সহমত প্রকাশ করেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন JAAA এর প্রেসিডেন্ট শামীমআরা বেগম, সভা পরিচালনা করেন JAAA এর সাধারণ সম্পাদক তামান্না শবনম পাপড়ি। উপস্থিত ছিলেন JAAA এর পক্ষ থেকে জামান মনির, আখতার আহমেদ রাশা, খালেদ জোসেফ, মেরিএস্টেলা আহমেদ শ্যামলী, শমিত মন্ডল, মোহাম্মদ নাসিরুল্লাহ, দুররে মাকনুন নবনী এবং প্রশান্ত মল্লিক অয়ন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই এসোসিয়েশন এর সহ সভাপতি গোলাম মোস্তফা, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাইর নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট সাবিনা শারমিন নিহার, সাধারণ সম্পাদক মীর কাদের রাসেল এবং শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই এর প্রেসিডেন্ট বেলায়েত চোধুরী। ইফতারি পরিবেশনের পর সভার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

নিউইয়র্কে কিংবদন্তি ছড়াকার লুৎফর রহমান রিটনকে সংবর্ধনা দিলো ছড়াটে

নিউইর্য়ক প্রতিনিধিঃ ভালোবাসা, শুভেচ্ছা ও অভিনন্দনে সিক্ত হলেন কিংবদন্তি ছড়াকার লুৎফর রহমান রিটন। কানাডা থেকে সস্ত্রীক নিউইয়র্ক সফরে এলে গত ২৩ মার্চ স্থানীয় একটি রেস্টুরেন্টে আড়ম্ভরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে একুশে পদকপ্রাপ্ত এই কিংবদন্তি  ছড়াকারকে ছড়াটে-র পক্ষ থেকে সংবর্ধনা জানানো হয়।

3

নিউইর্য়কের কুইন্সের হিলসাইডে ছড়াটে-র নিয়মিত মাসিক ছড়াড্ডা ও ইফতারের আয়োজন থাকলেও সবকিছু ছাপিয়ে পুরো অনুষ্ঠানটি রিটনময় হয়ে উঠে। প্রিয় ও গুণী মানুষটিকে সস্ত্রীক কাছে পেয়ে উপস্থিত সকলে আনন্দে উদ্বেলিত হন। ছড়াকাররা ফুল দিয়ে তাঁকে অভিনন্দন জানান। একইসাথে ছড়াকারদের পত্নীগণ রিটন পত্নী শার্লি রহমানকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন।

লুৎফর রহমান রিটন এই আন্তরিক আয়োজনের জন‍্য ছড়াটে-কে ধন্যবাদ জানান। তিনি ছড়াটে-র সকল গঠনমূলক কার্যক্রমের প্রশংসা করে বলেন, আমি মনে করি আমিও ছড়াটে-র একজন সদস‍্য। ছড়াকারসহ বিশ্বজুড়ে অগণিত ভক্ত ও শুভাকাঙ্খী যারা তাঁকে ভালোবাসেন, পছন্দ করেন তারা তাঁর বর্ধিত পরিবার। মাতৃভূমি ও মুক্তিযুদ্ধের সাথে তাঁর আবেগ জড়িত। এই দুই বিষয়ে তিনি কারো সাথে আপোষ করেন না। তিনি যা ধারণ করেন সেটাই তাঁর কলম গলিয়ে বেরিয়ে আসে। অন‍্যায়ের বিরুদ্ধে তাঁর কলম সবসময় সোচ্চার।

তিনি তাঁর লেখালেখির দীর্ঘ সফরের কথা বর্ণনা বলেন -একটা সময় তিনি চরম অর্থ কষ্টের  মধ্যে দিন কাটিয়েছেন। সেই দুঃসময়ের শার্লি তাঁকে ছেড়ে যাননি, বরঞ্চ সামনে এগিয়ে যাওয়ার সাহস যুগিয়েছিলেন। এরপর তিনি উঠে দাঁড়ানোর গল্প বললেন। বিত্ত না থাকলেও চিত্তে কিভাবে সম্পদশালী হলেন তার গল্প বললেন। তিনি বলেন, এক জীবনে আমি শুধু ছড়াকেই ভালোবেসেছি। 

8

রিটন পত্নী শার্লি বলেন, রিটন শুধু একজন ভালো লেখক বা ছড়াকার নন, তিনি একজন পরিবারবান্ধব লোক, ভালো স্বামী এবং  ভালো বাবাও।  যেকোনো  মূল‍্যে তাঁকে  লেখালেখি চালিয়ে যাওয়ার জন‍্য তাগিদ দেন।

আন্তরিকতাপূর্ণ পারিবারিক আবহে রিটন-শার্লি দম্পতি মুগ্ধ হন। রিটন তাঁর জীবনের অনেক না বলা কথা শেয়ার করেন। ছড়াকার শাম্ স চৌধুরী রুশো-র পরিচালনায় উক্ত অনুষ্ঠানে  বক্তব্য রাখেন প্রাবন্ধিক ও গবেষক  আহমাদ মাযহার, গল্পকার নসরত শাহ, কবি মিশুক সেলিম, ছড়াকার মনজুর কাদের, ছড়াকার খালেদ সরফুদ্দীন, ছড়াকার সজল আশফাক, ছড়াকার শাহীন দিলওয়ার, ছড়াকার মানিক রহমান, ছড়াকার মিনহাজ আহমেদ, ছড়াকার আদিত্য শাহীন, ছড়াকার রিপন শওকত, ছড়াকার মৃদুল আহমেদ, লেখক-চিকিৎসক  শিমুল সিকদার, কমিউনিটি এক্টিভিস্ট লায়লা খালেদা, সাংস্কৃতিককর্মী সাঈদা উদিতা প্রমুখ।

উল্লেখ্য, একই অনুষ্ঠানে কেক কেটে রিটন-শার্লি দম্পতির ৪৩ বছর  বিবাহবার্ষিকী পালন করা হয়।

ভোলা বোরহানউদ্দিনে  বজ্রপাতে ইটভাটার শ্রমিকের মৃত্যু, আহত ০৩

ভোলা প্রতিনিধি: ভোলা বোরহানউদ্দিনে বজ্রপাতে, বাহাদুর  নামের এক ইটভাটা শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ১) মহাসিন২) রবিউল ৩)মারুফ, নামে আরও তিন ইটভাটা শ্রমিক আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার  বিকেল আনুমানিক, ০৪ ঘটিকার সময়, বোরহানউদ্দিন  উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নের পদ্মা মনসা ০৬ নং ওয়ার্ডে, রাকিব  ব্রিকসে এ ঘটনা ঘটে। 

নিহত ইটভাটার শ্রমিক “বাহাদুরের বাড়ি সাতক্ষীরা জেলার, কালিগন্জ উপজেলার, ৯নং মতিরুসপুর ইউনিয়নের, রায়পুর গ্রামের বাসিন্দা। 

১) মহাসিন২) রবিউল ৩)মারুফ একই ইটভাটার শ্রমিক এবং একই জেলার বাসিন্দা।

স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে নিহত বাহাদুর ও আহত ব্যাক্তিরা ইটভাটায় কাজ করছিলেন। বৃষ্টি শুরু হওয়ার পর হঠাৎ রাকিব ব্রিকসে বজ্র পাতের ঘটনা ঘটে। এ সময় বজ্র পাতে বাহাদুর ঘটনা স্থানে মৃত্যু বরণ করেন  ও মহাসিন রবিউল মারুফ গুরুতর আহত হয়। পরে তাদেরকে ভোলা সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

হাসপাতালের জরুরি  বিভাগের চিকিৎসক ডাক্তার দুলাল দাস জানান,হাসপাতালে আসার আগেই তার মৃত্যূ হয়েছে।

নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস-২০২৪ উদযাপন

নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষ্যে ২৬ মার্চ এক অভ্যর্থনার আয়োজন করা হয়। অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কনসাল জেনারেল, কূটনীতিক, ব্রঙ্কস বরো প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের প্রতিনিধি, গ্রেটার নিউইয়র্ক চেম্বার অব কমার্সের প্রেসিডেন্ট মার্ক জেফ ও নিউইয়র্ক সিটি মেয়র অফিসের প্রতিনিধিসহ বিদেশী অতিথিবৃন্দের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বীরমুক্তিযোদ্ধা, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং অন্যান্য রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও মিডিয়া ব্যক্তিত্বসহ কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে অভ্যর্থনা অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়। মহান স্বাধীনতা দিবস ও জাতীয় দিবস উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয়। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের সকল শহিদ সদস্য, ৭১-এর সকল শহিদ, শহিদ বীর মুক্তিযোদ্ধা, শহিদ বুদ্ধিজীবী ও জাতীয় চার নেতার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
কনসাল জেনারেল মোঃ নাজমুল হুদা তাঁর বক্তব্যে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি সশ্রদ্ধচিত্তে স্মরণ করেন ত্রিশ লক্ষ শহিদ ও দুই লক্ষাধিক নির্যাতিত মা-বোনদের অপরিসীম আত্মত্যাগের কথা। তিনি আরও স্মরণ করেন আন্তর্জাতিক বন্ধু বিশেষ করে প্রতিবেশী ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী, সোভিয়েত ইউনিয়নের তৎকালীন নেতৃত্ব, যুক্তরাষ্ট্রের বন্ধুপ্রতীম জনগণ ও অন্যান্য যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে নৈতিক, রাজনৈতিক, কূটনৈতিক সমর্থন দিয়েছেন। জাতির পিতার স্বপ্নের ‘সোনার বাংলা’ বাস্তবায়নে তাঁরই সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে বর্তমান সরকার নিরলসভাবে কাজ করে চলেছে উল্লেখ করে কনসাল জেনারেল অর্থনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অর্জন ও সাফল্যগাঁথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন সহস্রাব্দ উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করে সল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশে রূপান্তরিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্রসহ প্রবাসী সব বাংলাদেশীদের অবদানের কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশের উন্নয়নে আরো কার্যকরী ভূমিকা রাখার অনুরোধ জানান। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে অন্যতম প্রধান বিনিয়োগকারী ও বাণিজ্য অংশীদার উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন দ্বিপাক্ষক সম্পর্ক জোরদাকরণে নতুন অধ্যায় শুরু করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। কনসাল জেনারেল দু’দেশের জনগণের মধ্যকার সম্পর্ক উন্নয়নে প্রবাসী বাংলাদেশীদের অবদানের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন। তিনি বঙ্গবন্ধু প্রণীত বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতির মূল ভিত্তি “সকলের সাথে বন্ধুত্ব, কারও সাথে বৈরিতা নয়” অনুসরণে বৈশ্বিক শান্তি ও অগ্রগতি অর্জনে বাংলাদেশের অঙ্গীকারের কথা উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন মুক্তিযুদ্ধের বন্ধু সম্মাননা প্রাপ্ত যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক লিয়ার লেভিন, মেয়র অফিসের আন্তর্জাতিক বিষয়ক কমিশনার দিলীপ চৌহান ও বিচারপতি সোমা সাইদ প্রমুখ। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের মহা-হিসাব নীরিক্ষক ও নিয়ন্ত্রক মোঃ নূরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের সকল শহিদ সদস্য, জাতীয় চার নেতা, ৭১-এর সকল শহিদ, শহিদ বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ ও শহিদ বুদ্ধিজীবীদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে এবং দেশের অব্যাহত শান্তি ও অগ্রগতির জন্য বিশেষ দোয়া করা হয়।

জাতিসংঘ বিশেষজ্ঞের প্রতিবেদন, গাজায় গণহত্যা চালিয়েছে ইসরাইল

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক এক বিশেষজ্ঞ বলেছেন, তিনি মনে করেন, গাজায় গণহত্যা চালিয়েছে ইসরাইল। তিনি এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছেন, যা মঙ্গলবার উপস্থাপন করার কথা রয়েছে।
বিবিসি জানিয়েছে, ফ্রাঞ্চেস্কা আলবানিজ নামের এই বিশেষজ্ঞের জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদে এ নিয়ে প্রতিবেদন উপস্থাপন করার কথা রয়েছে।
এদিকে প্রকাশের আগেই প্রতিবেদনটি প্রত্যাখ্যান করেছে ইসরাইল। জাতিসংঘে ইসরাইলের রাষ্ট্রদূত প্রতিবেদনটিকে গণহত্যা বিষয়ক কনভেনশনের ‘আপত্তিকর বিকৃতি এবং বাস্তবতার অশ্লীল বিকার’ বলে সমালোচনা করেছেন।
গাজায় যুদ্ধ থামানোর পাশপাশি বেসামরিক নাগরিকদের আরও সুরক্ষা দেওয়ার জন্য ইসরাইলের ওপর যখন আন্তর্জাতিক চাপ আরও বাড়ছে তখন গণহত্যা নিয়ে এই প্রতিবেদন প্রকাশ হতে যাচ্ছে।
গণহত্যা সুনির্দিষ্ট একটি আইনি পরিভাষা। আলবানিজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এর কিছু বৈশিষ্ট্য পূরণ হয়েছে। অর্থাৎ গাজায় চালানো গণহত্যামূলক কার্যকলাপ ‘গণহত্যা’ নির্ধারণের মাত্রায় পৌঁছেছে এমনটি বিশ্বাস করার যৌক্তিকতা আছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, বিশেষজ্ঞ আলবানিজ তার ‘অ্যানাটমি অব এ জেনোসাইড’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলেছেন, ইসরাইল ফিলিস্তিনিদেরকে একটি গোটা গোষ্ঠী হিসেবে কিংবা আংশিকভাবে ধ্বংস করার অভিপ্রায় নিয়ে কাজ করেছে। যেটি গণহত্যা কনভেনশনের মূল বৈশিষ্ট্য।
আলবানিজ বিশেষত, জাতিসংঘ গণহত্যা কনভেনশন (জেনোসাইড কনভেনশন) আইনের তিনটি ধারা ইসরাইল লঙ্ঘন করেছে বলে উল্লেখ করেছেন।
১. গোষ্ঠীর সদস্যদেরকে হত্যা করা
২. শারীরিক ও মানসিকভাবে গোষ্ঠীর সদস্যদের গুরুতর ক্ষতি করা
৩. গোষ্ঠীর অস্তিত্ব সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ধ্বংস করতে হিসাব-নিকাশ করে ইচ্ছাকৃতভাবে তাদের জীবনাচারের ওপর আঘাত হানা।
হামাস পরিচালিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, গত বছরের ৭ অক্টোবর গাজায় হামলা শুরু করে ইসরাইল। চলমান হামলায় এখন পর্যন্ত ৩২ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। যার অধিকাংশই নারী ও শিশু।

গাজায় যুদ্ধবিরতি মানছে না ইসরাইল, যে হুমকি দিল কলম্বিয়া

টানা পাঁচ মাস গাজা উপত্যকায় অবিরাম হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরাইল। হামলায় এ পর্যন্ত নিহত হয়েছেন ৩২ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি। এ অবস্থায় গাজায় যুদ্ধবিরতির একটি প্রস্তাব পাশ হয়েছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে। এর পরই যুদ্ধবিরতি না মানলে ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার হুমকি দিয়েছেন কলম্বিয়া।
মঙ্গলবার (২৬ মার্চ) কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেট্রো এই হুমকি দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি আন্তর্জাতিক স¤প্রদায়কেও ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার আহŸান জানান।
আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাতিসংঘে ভোটের মাধ্যমে প্রস্তাব পাশের পর সামাজিকমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেট্রো বলেন, অবশেষে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে গাজায় যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব সর্বসম্মতভাবে পাশ হয়েছে। ইসরাইল এই যুদ্ধবিরতি ভঙ্গ করলে আমি বিশ্বের দেশগুলোকে (ইসরাইলের সঙ্গে) কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।
এর আগে সোমবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ ইসলামিক পবিত্র মাস রমজানে গাজায় যুদ্ধবিরতির দাবিতে একটি প্রস্তাব পাস করে। পবিত্র এই মাসটি মধ্যপ্রাচ্যে গত ১১ মার্চ থেকে শুরু হয়েছে এবং আগামী ৯ এপ্রিল শেষ হতে পারে। কাউন্সিলের ১০ নির্বাচিত সদস্যের উপস্থাপিত এই রেজ্যুলুশনের পক্ষে ১৪টি দেশ ভোট দিয়েছে। এতে একমাত্র দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ভোটদানে বিরত ছিল। এ ছাড়া প্রস্তাবটির বিপক্ষে কোনো যুক্তি উপস্থাপন বা ভেটো ক্ষমতারও প্রয়োগ করেনি পরাশক্তি এই দেশটি।
এপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাতিসংঘের এই রেজুলেশনে ‘পবিত্র রমজান মাসের জন্য সকল পক্ষকে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহŸান জানানো হয়েছে, যা পরে একটি স্থায়ী টেকসই যুদ্ধবিরতির দিকে পরিচালিত হবে।’
এই প্রস্তাবে ‘সমস্ত বন্দির অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তির পাশাপাশি তাদের চিকিৎসা এবং অন্যান্য মানবিক চাহিদা পূরণের জন্য মানবিক সহায়তার প্রবেশ নিশ্চিত করার’ দাবিও করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ভেটো না দেওয়ায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ এবারই প্রথমবারের মতো যুদ্ধবিরতির আহŸান জানালো। যার অর্থ যুক্তরাষ্ট্র তার আগের অবস্থানে পরিবর্তন এনেছে। যদিও হোয়াইট হাউস বলেছে, ভেটো না দেওয়া বা ভোটদান থেকে বিরত থাকার মানে এই নয় যে, যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে পরিবর্তন এসেছে।
তবে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু একে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বের অবস্থান থেকে সরে আসা বা প্রস্থান বলে অভিহিত করেছেন। তার কার্যালয় থেকে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রেজুলেশন পাশের অনুমতি দেওয়ার মার্কিন এই সিদ্ধান্ত ‘যুদ্ধের শুরু থেকে নিরাপত্তা পরিষদে যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক অবস্থান থেকে স্পষ্ট পশ্চাৎপসরণ।’

সন্তানদের মাদরাসায় পড়াতে পারবে না আসামের মুসলমানরা

ভারতের আসাম রাজ্যের বাসিন্দা হতে হলে মুসলিমদেরকে কয়েকটি শর্ত পালন করতে হবে বলে জানিয়েছেন সেখানকার মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। এ সবের মধ্যে রয়েছে দুয়ের বেশি সন্তান না থাকা, সন্তানদের মাদরাসায় না পড়ানো। আনন্দবাজার পত্রিকা।
চলতি মাসেই ভারতে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) চালু হয়েছে। সিএএ নিয়ে ইতিমধ্যেই বিজেপি বিরোধী দলগুলো সুর চড়াতে শুরু করেছে। পশ্চিমবঙ্গ, কর্নাটকে সিএএ চালু হতে দেবেন না, বলে দাবি করেছেন ওইসব রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা। এই আবহেই ‘বাংলাদেশী’ মুসলিমদের নিয়ে মন্তব্য করে লোকসভা ভোটের আগে নতুন বিতর্ক উস্কে দিলেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী।
দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর ২০১৯ সালের ১১ ডিসেম্বর সিএএ পাস করিয়েছিল ভারতের মোদি সরকার। ওই আইন অনুযায়ী, বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মতো মুসলিম ধর্মাবলম্বী দেশ থেকে যদি ওই দেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা ধর্মীয় উৎপীড়নের কারণে ভারতে আশ্রয় চান, তাহলে তা দেবে ভারত। কিন্তু সিএএ-তে হিন্দু, শিখ, জৈন, বৌদ্ধ, পার্সি এবং খ্রিস্টান শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেয়ার কথা বলা হলেও সেখানে মুসলিম স¤প্রদায়ভুক্তদের কথা উল্লেখ করা হয়নি। এই ‘বৈষম্য’ কেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিরোধী দলগুলো।
উল্লেখ্য, মুসলিমেরা আসামে ‘মিঞা’ নামে পরিচিত। তারা বাংলাদেশ থেকে গেছে বলে দাবি করা হয়ে থাকে। ওই ‘মিঞা’ স¤প্রদায়কে স্বীকৃতি দেয়ার প্রসঙ্গে হিমন্ত বলেন, ‘আসামিয়া সমাজের কিছু সাংস্কৃতিক নিয়ম এবং ঐতিহ্য রয়েছে। যদি আসামের অধিবাসী হতে হয় তবে সেইসব মেনে চলতে হবে।’ হিমন্ত জানান, কোনো পরিবারে যদি দুইয়ের বেশি সন্তান থাকে, তবে ‘বাংলাদেশি’ মুসলিমেরা আসামের বাসিন্দা হতে পারবেন না। এ ছাড়াও বহুবিবাহ, বাল্যবিবাহ বন্ধ করার শর্তও দিয়েছেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘যদি এ রাজ্যের বাসিন্দা হতে হয় তবে নাবালিকার বিয়ে দেয়া যাবে না।’ পাশাপাশি হিমন্ত জানান, ছেলেমেয়েদের মাদরাসায় পড়ানো যাবে না। আসামের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘মাদরাসার পরিবর্তে ডাক্তারি এবং ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মতো ক্ষেত্রে মনোযোগ দেয়া উচিত।’
আসামে হিমন্তের নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার ২০২৩ সালে রাজ্যে বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বাল্যবিবাহ করার অভিযোগে প্রায় ৯ হাজার মামলা দায়ের করা হয়েছিল। ২০২২ সালে অসম মন্ত্রিসভা আনুষ্ঠানিকভাবে ৪০ লাখ আসামিয়াভাষী মুসলিমকে ‘আদিবাসী আসামিয়া মুসলিম’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল। আসামে দাবি করা হয়ে থাকে যে, আসামের মুসলিম স¤প্রদায়ের প্রায় ৩৭ শতাংশ ‘আসামিয়া মুসলিম’, বাকিরা ‘বাংলাদেশি’ মুসলিম। তাদের ‘আদিবাসী’ স্বীকৃতি দেয়ার প্রশ্নেই মন্তব্য করে নতুন করে বিতর্কে জড়ালেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী।

‘গণতন্ত্র অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত লড়াই চলবে’ বিএনপি

মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ এবং শেরেবাংলা নগরে দলের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কবরে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেছেন বিএনপি’র নেতাকর্মীরা। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে দলটির নেতারা বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা গণতন্ত্রকে বাদ দিয়ে সরকার দেশে ‘বাকশাল-টু’ কায়েম করেছে। আর আজকে এই প্রাঙ্গণ (জিয়াউর রহমানের কবর) থেকে আমরা প্রতিশ্রæতিবদ্ধ যে, আমাদের কাক্সিক্ষত গণতন্ত্র অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত আমাদের লড়াই চলবে, লড়াই চলতে থাকবে।
গতকাল সকাল ৯টায় বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খানের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা রঙিন ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে মিছিল সহকারে জাতীয় স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে প্রবেশ করেন। আবদুল মঈন খানের নেতৃত্বে নেতৃবৃন্দ মূল বেদিতে গিয়ে দলের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে। পরে সাংবাদিকদের বিএনপি’র এই স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, আজকে দুঃখের সঙ্গে আমাদের বলতে হচ্ছে, যে আদর্শ নিয়ে এই দেশের লাখ লাখ মানুষ একাত্তরে বুকের রক্ত ঢেলে দিয়ে মুক্তিযুদ্ধ করেছিল, যে আদর্শের জন্য যুদ্ধ করেছিল তার নাম ছিল গণতন্ত্র এবং তার উদ্দেশ্য ছিল যে, বাংলাদেশের দরিদ্র মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি নিশ্চিত করতে হবে। আজকে ৫৩ বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পরে বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের একটি প্রশ্ন সেই গণতন্ত্র কোথায় গেল? সেই দরিদ্র মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি কোথায়? একটি সরকার আজকে জোর করে বসে আছে যে সরকার গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না। তারা মুখে বলে গণতন্ত্র। তারা বাস্তবে করেছে একদলীয় শাসন। তারা এবার করেছে বাকশাল-টু। এটা আমার কথা নয়।
এটা বিশ্ববাসীর কথা।
ড. মঈন খান বলেন, আজকে আপনারা দেখেছেন কীভাবে এদেশে দুর্নীতির মাধ্যমে কতো হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করে দেয়া হয়েছে, মেগা উন্নয়নের নামে কীভাবে মেগা দুর্নীতি হয়েছে। ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে রাখার জন্য যারা বিরোধী দল তাদের বিরুদ্ধে এক লাখ মামলা দেয়া হয়েছে, তাদের ৫০ লাখ নেতাকর্মীকে কারারুদ্ধ করা হয়েছে, তাদেরকে মিথ্যা অভিযোগে আসামি বানানো হয়েছে। এখানে যদি মানুষের ভিন্ন মত প্রকাশের স্বাধীনতা না থাকে, এদেশে যদি মানুষের গণতন্ত্র চর্চার সুযোগ না থাকে তাহলে আজকে যারা কবরে শায়িত মুক্তিযোদ্ধা তাদের কাছে প্রশ্ন কেন তারা এদেশ স্বাধীন করেছিলেন? সেই প্রশ্নের উত্তর সরকারকে দিতে হবে।
তিনি বলেন, যখন সেই ২৫শে মার্চের কালো রাতে পাক হানাদার বাহিনী বাংলাদেশের নিরীহ মানুষের ওপরে হায়েনার মতো ঝাঁপিয়ে পড়েছিল সেইদিন আজকের যে আওয়ামী লীগ যারা নিজেদের স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি বলে দাবি করে, যারা নিজেদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনার শক্তি বলে দাবি করে তারা সেইদিন কেন পলায়নপর ভূমিকা নিয়েছিল সেই প্রশ্নের উত্তর আওয়ামী লীগকে দিতে হবে।
এসময় বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আজম খান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি’র সদস্য সচিব আমিনুল হক, ঢাকা জেলা বিএনপি’র সভাপতি আবু আশফাক খন্দকার, সাধারণ সম্পাদক নিপুণ রায় চৌধুরী, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মোনায়েম মুন্না, স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি ইয়াসীন আলী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
পরে সকাল সাড়ে ১০টায় বিএনপি’র নেতাকর্মী-সমর্থকদের নিয়ে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও ড. আবদুল মঈন খান শেরেবাংলা নগরে বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবরে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান। তারা প্রয়াত নেতার আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন। শ্রদ্ধা নিবেদনের পর উপস্থিত সাংবাদিকদের গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, আজকে ৫৩ বছর পর দেখছি, যে কারণে আমরা স্বাধীনতা যুদ্ধ করেছি সেই কারণটি এখনো বলবৎ। অর্থাৎ এখনো গণতন্ত্র নাই, মানুষের মৌলিক অধিকার নাই, এখনো মানুষের বাকস্বাধীনতা নাই, এখনো গণমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠিত হয়নি, এখনো মানুষের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়নি। লুটতরাজ ও লুণ্ঠনের মধ্যদিয়ে জাতীয় অর্থনীতি অর্থাৎ জাতির অর্থনীতির কোষাগার আজকে খালি হয়ে গেছে এবং আকাশচুম্বী জিনিসপত্রের দামে আজকে মানুষ দিশাহারা।
তিনি বলেন, এই মহান দিনে আমরা এখানে এসেছি, বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা, বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনঃপ্রবর্তক এবং যিনি আধুনিক বাংলাদেশ, স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে কাজ করেছেন সেই শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারত করতে এবং তার আত্মার জন্য দোয়া করতে। আজকে এই প্রাঙ্গণ থেকে আমরা প্রতিশ্রæতিবদ্ধ যে, কাক্সিক্ষত গণতন্ত্র অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত আমাদের লড়াই চলবে, লড়াই চলতে থাকবে।
গয়েশ্বর চন্দ্র বলেন, আমরা সন্তান হারা মায়ের কান্না থামাতে পেরেছিলাম অর্থাৎ স্বামীহারা, বোনহারা এই স্বজনহারাদের ব্যথা আমরা একটি পর্যায়ে কাটিয়ে দেশের দিকে তাকিয়ে, এই স্বাধীনতার কথা চিন্তা করে সেই দুঃখ, কষ্ট এবং যন্ত্রণা আমরা সেদিন নিরসন করতে না পারলেও এই স্বাধীনতায় অত্যন্ত আপ্লুত ছিলাম এবং আমাদের মধ্যে স্বাধীনতা অর্জনের আনন্দ ছিল। সেটা ক্রমান্বয়ে আজকে ৫৩ বছর পর আমরা কী দেখছি? আমরা দেখছি, যে কারণে আমরা স্বাধীনতা যুদ্ধ করেছি- সেই কারণটি এখনো বলবৎ।
এসময় বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, আবদুল আউয়াল মিন্টু, ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, আহমেদ আজম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, মাসুদ আহমেদ তালুকদার, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ভালো আছে কারা?

বাজারে অস্বস্তি। সর্বত্র হাহাকার। বাজার করতে গিয়ে মানুষকে চরম হতাশা ও কষ্টের মুখোমুখি হতে হয়। প্রয়োজনীয় চাহিদা তো দূরের কথা মৌলিক চাহিদার অন্যতম প্রধান যে খাদ্য-সেটাই ঠিকমতো জুটছে না দেশের বিপুল মানুষের ভাগ্যে। খাদ্য ঘাটতি পূরণে ঋণ করতে হয় দেশের ২৫ দশমিক ৫ শতাংশ পরিবারকে। বছরে গড়ে ৪৯ হাজার টাকা ঋণ করে থাকে এসব পরিবার। আত্মীয়, মহাজন এবং ব্যাংক থেকে ঋণ নেয় পরিবারগুলো। স¤প্রতি প্রকাশিত বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) খাদ্য নিরাপত্তা-সংক্রান্ত জরিপের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের ৪ কোটি ৩৩ লাখ মানুষ ঋণ করে খাদ্য ঘাটতি মেটাতে বাধ্য হচ্ছেন।
এই চিত্র বলে দেয় দরিদ্রসীমার উপরে থাকা মানুষও খাদ্য চাহিদা পূরণ করতে হিমশিম খাচ্ছে। আর এর প্রভাব পড়েছে দেশের প্রতিটি সেক্টরে।
এবারের রমজানের বাজারে আক্ষরিক অর্থে সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রণ চোখে পড়েনি। অনেক কিছুর দাম ঠিক করে দিলেও বাজারে তার প্রভাব পড়ে নাই। মানুষ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে হিমশিম খাচ্ছে।
এর মধ্যে মানবজমিনের বিস্তারিত সরজমিন প্রতিবেদনে ঢাকা শহরের প্রধান প্রধান বাজারগুলোর চিত্র ও ঈদের বাজারে জনগণের কেনাকাটার চিত্র উঠে এসেছে। তাতে দেখা যাচ্ছে কোনো বাজারেই স্বস্তি নাই। মূল্যস্ফীতির চাপ থেকে ঈদ বাজারে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। নিউ মার্কেটে আগের চেয়ে বেচাকেনা কম, বসুন্ধরাতে প্রত্যাশিত ভিড় নেই, মৌচাকের ব্যবসায়ীরা বলছেন, আসল উঠানোই কষ্ট হবে, বঙ্গবাজার ধুঁকছে, গাউছিয়াতে বিক্রি নিয়ে হতাশ ব্যবসায়ীরা, যমুনা ফিউচার পার্কে ক্রেতারা ঘুরছেন, বেনারসি পল্লীতে হতাশা, ক্রেতার অপেক্ষায় ইসলামপুর- এই হলো এক নজরে সরজমিন চিত্র। ঢাকার প্রধান প্রধান বাজারেই যেহেতু এই অবস্থা ফলে সারা দেশের বাজারের চিত্র এরচেয়ে আরও করুণ হবে- এটাই স্বাভাবিক।
এই চিত্রই বলে দেয় দেশের মানুষ ভালো নাই। অর্থনৈতিক ভাবে ভালো না থাকলে তার প্রভাব পড়ে সর্বত্র। এর মধ্যেও কিছু কিছুু মানুষ ঠিকই কেনাকাটা করছেন; এমনকি বিলাসী পণ্যও কিনছেন। ধরে নেয়া যায় অর্থনৈতিক এই মন্দার বাজারে তারা ভালো আছেন। এখন প্রশ্ন হলো তারা কারা? কনজ্যুমার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি গোলাম রহমান বলেছেন, ‘মূল্যস্ফীতির চাপ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। তবে যাদের টাকা আছে তারা ঠিকই কেনাকাটা করছেন। তাদের ঈদ মানে বিলাসিতা। তাদের কাছে মূল্যস্ফীতি বলতে কিছু নেই।’
এবং বাস্তবচিত্র হলো বিলাসী পণ্যে বাজারে তাদেরই দেখা যাচ্ছে। সাধারণ পরিবার এমনকি মধ্যবিত্ত ও কিছু ক্ষেত্রে উচ্চবিত্তদেরও ব্যয় সংকোচন করার জন্য বিভিন্ন হিসাবনিকাশ করতে হচ্ছে। জরুরি প্রয়োজনের বাইরে ব্যয় করার সামর্থ্য যাদের আছে তাদেরও চিন্তা করতে হচ্ছে কীভাবে ব্যয় নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এমন পরিস্থিতিতে কারা আসলে ভালো থাকেন?
এমন প্রশ্নের উত্তরে রাষ্ট্র বিজ্ঞানীদের মত হলো- গণতন্ত্রহীন, ভয়ের সংস্কৃতির উপর ভর করে যে সব দেশ টিকে থাকে সেখানে বেশির ভাগ মানুষের জন্য বাস করা নরকের অভিজ্ঞতা হলেও সেটা কিন্তু সিলেক্টিভ পিপল বা কিছু মানুষের জন্য স্বর্গ। বাংলাদেশও কি এমন সিলেক্টিভ মানুষের স্বর্গে পরিণত হয়েছে? এখনকার বাজারের দিকে তাকালে যাদের সমাগম লক্ষ্য করা যায় তারাই কি সেই স্বর্গের বাসিন্দা। এই বিষয়ে, রাজনৈতিক বিশ্লেষক জাহেদুর রহমান বলেন, বাংলাদেশে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে তৈরি করা হয়েছে এক শক্তিশালী অলিগার্ক (শাসকদের অনুগত বা যাদের নিয়ে শাসক গোষ্ঠী তৈরি) শ্রেণি। এরাই এখানে ভালো আছে। বাংলাদেশে বাজার বা সার্বভৌমত্ব কোনো কিছুতেই তারা খারাপ বোধ করে না। তারা সব কিছুর পরেও ভালো আছে। এবং খুব ভালো যে আছে তা আবার তারা দেখাতেও চেষ্টা করে।
গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি বলেন, এখানে মেরুদণ্ডহীন, দুর্নীতিপরায়ণ ও ক্ষমতার উচ্ছিষ্টভোগী ছাড়া কোনো মানুষ ভালো নাই। ভালো থাকার সুযোগ নাই। শুধু যে অর্থনৈতিক ভাবে বিষয়টা সত্য তা নয়, ভোটের অধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছে। কথা বলার অধিকার নাই। যার সম্মান নাই; তারা ভালো থাকতে পারে না। সে হয়তো ভালো চাকরি করছে, প্রচুর বাড়ি ভাড়া পাচ্ছে বা ব্যবসায় করে প্রচুর টাকা বানাচ্ছে- কিন্তু ভালো থাকার সুযোগ নাই। আত্মসম্মান যাদের আছে তাদের ভালো থাকা মুশকিল। এমন সার্বিক করাপ্ট একটা রাষ্ট্রে। আর করাপশনে থেকে যারা মনে করছেন ভালো আছেন, অনেক টাকার মধ্যে আছেন- তারা আত্মপ্রতারণার মধ্যে আছেন।
ফলে বাজারে যাদের দেখা যাচ্ছে। বা সরকারদলীয় লোকজন সোশ্যাল মিডিয়াতে বাজারে মানুষ আছে, কেনাবেচা হচ্ছে বলে যে ধরনের কথা বলার চেষ্টা করছেন তা এই সিলেক্টিভ লোকদের দেখেই বলছেন। সব অস্বাভাবিকতাকে স্বাভাবিকতা হিসেবে দেখানোর যে চেষ্টা করছেন তার মূল সত্য হলো- কিছু মানুষ ভালো আছেন। যাদের অঢেল টাকা আছে। আর এটা খুব বিরল ব্যতিক্রম ছাড়া বাংলাদেশে সম্ভব ক্ষমতার সঙ্গে থাকলেই। তারাই আসলে ভালো আছেন।

বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন পূরণে কাজ করছেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা ও ঢাকা-১ আসনের সংসদ সদস্য সালমান এফ রহমান বলেছেন, বঙ্গবন্ধু সোনার বাংলার স্বপ্ন দেখেছিলেন। আর বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনা টানা ১৫ বছর প্রধানমন্ত্রী থেকে বাংলাদেশটাকে এমন এক জায়গায় নিয়ে গেছেন, এখন আমরা সবাই বিশ্বাস করি বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলার স্বপ্নটা আমরা পূরণ করতে পারবো। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
গতকাল বেলা সাড়ে ১১টায় ঢাকার নবাবগঞ্জে সরকারি নবাবগঞ্জ পাইলট হাই স্কুল মাঠে ও একই দিন দুপুর ১২টায় দোহারের জয়পাড়া বড় মাঠে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে মহান স্বাধীনতা দিবস ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সালমান এফ রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী চতুর্থবার ক্ষমতায় আসার পর ঘোষণা দিলেন আমরা এখন স্মার্ট সোনার বাংলা চাই। সে লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ইতিমধ্যে আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলেছি, এখন স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার জন্য কাজ করছি।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, দোহার-নবাবগঞ্জকে আমি মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। ইতিমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। আশা করি দ্রæত দোহার- নবাবগঞ্জ উপজেলা সারা বাংলাদেশে মডেল উপজেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। সালমান এফ রহমান এমপি আরও বলেন, আমি এবার স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে বিশেষ গুরুত্ব দেবো। নির্বাচনে কথা দিয়েছিলাম দোহার- নবাবগঞ্জবাসীকে হেল্থকার্ড দিয়ে হেল্থ ইন্স্যুরেন্স দিয়ে স্বাস্থ্য ফান্ডটা আমি বাড়াতে চাই। এব্যাপারে একটি পাইলট প্রকল্পের কথা বলেছিলাম, আপনারা খুশি হবেন খুব শিগগিরই স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে সেই পাইলট প্রকল্প আমরা শুরু করতে যাচ্ছি।
দোহার-নবাবগঞ্জে যদি সেটা সফল করতে পারি তাহলে সারা বাংলাদেশে সে প্রকল্পটা চালু করা হবে। পাশাপাশি শিক্ষা খাতেও গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। দোহার-নবাবগঞ্জে শিক্ষার উন্নয়নে কী কী কাজ করতে হবে এ ব্যাপারেও শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে আমার আলোচনা হয়েছে। আমি শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নে জোর দিতে চাই।
নবাবগঞ্জে এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য শেখ আনার কলি পুতুল, নবাবগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন আহমেদ ঝিলু, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুল হাসান সোহেল, দোহার সার্কেল এএসপি আশরাফুল আলম। এ ছাড়া দোহারে উপস্থিত ছিলেন দোহার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. আলমগীর হোসেন, দোহার পৌর মেয়র মো. আলমাছ উদ্দিন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল হক বেপারী সহ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা। এর আগে উপজেলা প্রশাসন ও আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে নবাবগঞ্জ ও দোহারে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে নেতাকর্মীদের নিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন সালমান এফ রহমান, এমপি।