Home Blog Page 644

সরকার কোনো চাপের কাছে মাথা নত করবে না: কাদের

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, সরকার কোনো চাপের কাছে মাথা নত করেনি, এখনো করবে না।

বুধবার (১৪ জুন) রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে সড়ক নিরাপত্তা প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে না।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অন্য দেশের হস্তক্ষেপ যৌক্তিক বলে বিবেচিত হয় না। এছাড়া খালেদা জিয়ার বিষয়টি আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়।

যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্র প্রসঙ্গে মন্ত্রী প্রশ্ন রেখে বলেন, ৬ জানুয়ারি সেখানে গণতন্ত্রের নামে ৬ জানুয়ারি কী হলো? ৬ জন প্রাণ হারালেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো নির্বাচনে পরাজয় স্বীকার করেননি।

বাংলাদেশে বিদ্যমান গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় কিছু ত্রুটির কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, তারা গণতন্ত্রকে ত্রুটিমুক্ত করার চেষ্টা করছেন, আর নির্বাচন কমিশন স্বাধীন।

আগামী জাতীয় নির্বাচনে বিএনপিকে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিএনপির কতটা জনপ্রিয়তা আছে তা খতিয়ে দেখতে নির্বাচনে অংশ নিতে হবে।

তিনি দাবি করেন, আওয়ামী লীগ খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখেছে এবং তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা বাদ দিয়েছে, বিএনপির এই অভিযোগ দু’টি মিথ্যা।

জামায়াতে ইসলামীর বিষয়ে সরকারের অবস্থান সম্পর্কে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ইসি এই দলের নিবন্ধন বাতিল করলেও বিষয়টি হাইকোর্টে বিচারাধীন।

জাতিসঙ্ঘ মানবাধিকার কমিশনের চিঠির বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে কাদের পাল্টা প্রশ্ন রেখে বলেন, আমরা কি জাতিসঙ্ঘ মানবাধিকার কমিশনের নির্দেশ ও প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী কাজ করি?

সড়ক ও জনপথ বিভাগের সচিব এ বি এম আমিন উল্লাহ নূরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন এর অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আবদুল্লাহ আল মামুন, পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (অপরাধ ও অপারেশন) আতিকুল ইসলাম এবং বিআরটিএ চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ মজুমদার প্রমুখ।

সূত্র : ইউএনবি

মার্কিন কংগ্রেসম্যান ও ইইউ এমপিদের চিঠি সরকারের জন্য কতটা উদ্বেগের?

বাংলাদেশের আগামী নির্বাচন ‘নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু এবং পক্ষপাতহীন অনুষ্ঠানের জন্য ভূমিকা রাখতে’ ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ভাইস প্রেসিডেন্টের কাছে সোমবার চিঠি পাঠিয়েছেন ছয়জন এমইপি।

একই দিন আরেক চিঠিতে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জাতিসঙ্ঘের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যেন জাতিসঙ্ঘের শান্তি রক্ষা মিশনে বাংলাদেশের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের নিয়োগের ক্ষেত্রে তাদের মানবাধিকার রেকর্ড যাচাই-বাছাই করা হয়।

এ মাসের শুরুতেই যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের কয়েকজন সদস্যও এরকম দাবি তুলে প্রেসিডেন্টের কাছে একটি চিঠি দিয়েছেন। সেখানে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক ‘মানবাধিকার লঙ্ঘন বন্ধে’ এবং ‘জনগণকে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে অংশ নেয়ার সুযোগ করে দিতে’ উদ্যোগ নেয়ার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্টকে আহ্বান জানানো হয়েছে।

এসব বক্তব্য আসছে এমন সময়, যখন বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন ঘনিয়ে আসছে। কিন্তু গত দুইটি সাধারণ নির্বাচনের অভিজ্ঞতার আলোকে ওই নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে কিনা, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে বিভিন্ন মহলে।

এই বছরের শেষ নাগাদ বা সামনের বছরের শুরুতে বাংলাদেশের যে জাতীয় নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে, সেই সময়ের সরকারব্যবস্থা নিয়ে মতবিরোধ রয়েছে ক্ষমতাসীন দল এবং বিরোধীদের মধ্যে। নিরপেক্ষ সরকার ছাড়া নির্বাচনে না যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন, মার্কিন কংগ্রেসম্যান বা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের চিঠি সরকারের জন্য কতটা উদ্বেগের?

উদ্বেগের কারণ কতটা?
বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন ঘিরে বিভিন্ন সময়ে বিদেশী আইন প্রণেতারা বা কূটনৈতিকরা মন্তব্য করলেও সম্প্রতি সেই প্রবণতা অনেক তীব্র হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, জাপানসহ একাধিক দেশের কূটনীতিকরা বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে তাদের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্র পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিয়েছে, বাংলাদেশের নির্বাচনের দিকে সারা বিশ্ব তাকিয়ে রয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন বলেছেন, ‘’বাংলাদেশের পরবর্তী নির্বাচন যাতে অবাধ ও সুষ্ঠু হয়, সেজন্য আমরা তো অবশ্যই, সারা বিশ্ব তাকিয়ে আছে।”

এর একমাস পরেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের কাছে চিঠি পাঠিয়েছিলেন ছয় কংগ্রেসম্যান।

কূটনীতি বিশ্লেষকরা বলছেন, কংগ্রেসম্যান বা পার্লামেন্ট সদস্যদের এ ধরনের চিঠিতে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ফলাফল দেখা না গেলেও এসব চিঠি খতিয়ে দেখার জন্য সেসব দেশের সরকারের ওপর চাপ তৈরি হয়। ফলে তারা নানারকম ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয়।

সাবেক পররাষ্ট্র সচিব তৌহিদ হোসেন বিবিসি বাংলাকে বলছেন, ‘’বাংলাদেশের সরকারের নিঃসন্দেহে উদ্বিগ্ন হওয়ার মতো বিষয় আছে। যদিও তারা ভাব দেখাচ্ছেন যে, এতে তাদের কিছু আসে যায় না, এরকম চিঠিই আসে। কিন্তু উদ্বেগ না থাকলে যে দৌড়ঝাঁপ আমরা দেখেছি, তা দেখা যেতো না।‘’

তিনি মনে করেন, ছয়জন মার্কিন কংগ্রেস সদস্য বা ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ছয় এমপি হয়তো সেখানকার সরকারের কেউ নন। কিন্তু ওসব দেশের সরকারব্যবস্থা এমন যে, পার্লামেন্ট সদস্যরা কোনো বিষয়ে প্রশ্ন তুললে বা উদ্বেগ জানালে সরকার বা সংস্থা সরাসরি এড়িয়ে যেতে পারে না। ফলে তাদের ওপরেও একটা চাপ তৈরি হয়।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবির বলছেন, ‘’ইউরোপীয় সমাজ বলেন বা মার্কিনীদের সমাজ বলেন, সেখানে গর্ভন্যান্সকে নীতির সাথে সম্পৃক্ত রাখে। সেখানে একটা ভয়েজও যদি যুক্তিসঙ্গত হয়, তাহলে সেটা শোনা হয়। সুতরাং বিষয়টা কতটা বস্তুনিষ্ঠ, তার ওপরে নির্ভর করে তাদের কথাগুলো রাষ্ট্রের শীর্ষ পর্যায়ে কতটা শোনা হবে।‘’

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ কতটা আমলে নিচ্ছে?
ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার বা নেতারা দৃশ্যত এসব চিঠি বা উদ্বেগ প্রকাশকে খুব একটা আমলে নিচ্ছেন না বলে বক্তব্য দিয়েছেন।

মার্কিন কংগ্র্যাসম্যানদের চিঠির এক প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেছেন, চিঠিতে অতিরঞ্জন ও অসঙ্গতি রয়েছে।

তিনি বলেছেন, ‘’এরকম চিঠি অতীতেও এসেছে, ভবিষ্যতে আরো বড় আকারে আসতে পারে। নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসবে এই ধরনের কার্যক্রম তত বাড়তে থাকবে।‘’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ’’বিদেশে কারো কাছে ধর্না দিয়ে বা কারো চাপে পড়ে বা কারো সাথে সম্পর্ক শেষ পর্যন্ত ধরে রাখতেই হবে- এরকম কোনো নীতির প্রতি অগ্রসর হয়ে বাংলাদেশের মানুষকে পেছনে ফেলে দেয়ার নীতিতে আওয়ামী লীগ বিশ্বাস করে না।‘’

তবে যে মার্কিন সদস্যরা এই চিঠি পাঠিয়েছেন, তাদের সাথে বাংলাদেশের কর্মকর্তারা কথা বলবেন বলেও তিনি জানিয়েছেন। তাদের বাংলাদেশের অবস্থান সম্পর্কে নিয়মিত জানানো হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

আওয়ামী লীগের নেতারা মনে করেন, বাংলাদেশের বিরোধী দলগুলোর তদবিরের কারণেই বিদেশে বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে এসব আলোচনা বা চিঠি পাঠানো হচ্ছে। ফলে এসব বক্তব্য তারা আমলে নিতে চান না।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বিবিসি বাংলাকে বলেন, ‘’বিএনপি-জামায়াত এই সরকারের বিরুদ্ধে ২০১৩ সালের যুদ্ধাপরাধীদের রায় হওয়ার পর থেকেই লবিস্ট নিয়োগ করে সরকারের বিরুদ্ধে নানান ধরনের মিথ্যাচার করে আসছে। যদি অর্থের বিনিময়ে কোথাও কোনো ব্যক্তি বিবৃতি দেয়, সেটা নিয়ে আমাদের কি এখানে আমলে নেয়ার কোনো প্রয়োজন আছে?’’

আওয়ামী লীগের নেতারা যাই বলুক, এসব বক্তব্য যে তাদের মধ্যে একটা উদ্বেগ তৈরি করছে। এ কারণেই কর্মকর্তাদের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে নানারকম তদবির বা চেষ্টা করা হয়েছে। ভিসা কড়াকড়ি নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কোনো কোনো নেতা।

বাংলাদেশের গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, নির্বাচন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ নিরসনে বাংলাদেশের তরফ থেকে একাধিকবার আশ্বস্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে।

সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবির বলছেন, ‘’বিষয়গুলো নিশ্চয়ই আমাদের জন্য চিন্তার কারণ, কারণ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আমাদের যে ভাবমূর্তি আছে, এগুলো তার সাথে সম্পর্কিত, অর্থনীতির সাথেও সম্পর্কিত।‘’

যদিও নির্বাচনের এখনো ছয় থেকে সাত মাস বাকি আছে। কিন্তু তার আগে বিভিন্ন দেশ থেকে একটার পর একটা উদ্বেগ জানানো হচ্ছে, কর্মকর্তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞার পর ভিসা নিয়ে কড়াকড়ির মতো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে।

সাবেক পররাষ্ট্র সচিব তৌহিদ হোসেন বলছেন, ‘’এসব উদ্বেগের ফলে অনেকেই ব্যক্তিগতভাবে উদ্বিগ্ন হয়ে উঠতে পারেন। কারণ বেশিরভাগ নিষেধাজ্ঞা আসবে ব্যক্তির ওপরে। ফলে যারাই নির্বাচন সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থাপনায় জড়িত থাকবে, তারা খানিকটা চিন্তায় থাকবেন যে, সেখানে কোনো উল্টাপাল্টা কিছু হলে তাদের সমস্যা হবে কিনা।‘’

এর আগে ২০০৭ সালের নির্বাচনের আগে, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির এবং ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগেও বিভিন্ন দেশের তরফ থেকে বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছিল।

কিন্তু এবার নির্বাচনের প্রায় একবছর আগে থেকেই বিভিন্ন দেশ থেকে বাংলাদেশে সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করা হয়েছে। বিশেষকরে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে বৈঠকে নির্বাচনের ওপর নজর থাকার কথা পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

এসব কারণে বাংলাদেশের সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ক্ষোভের প্রকাশও করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত এপ্রিল মাসে বাংলাদেশের পার্লামেন্টে বলেছেন, ‘’যুক্তরাষ্ট্র চাইলে যেকোনো দেশের ক্ষমতা উল্টাতে-পাল্টাতে পারে। তারা দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলে, আবার দুর্নীতিতে সাজাপ্রাপ্তদের পক্ষ হয়েই ওকালতি করে যাচ্ছে। গণতন্ত্রকে বাদ দিয়ে এখানে এমন একটা সরকার আনতে চাচ্ছে যাতে গণতান্ত্রিক কোনো অস্তিত্ব থাকবে না। অগণতান্ত্রিক ধারা।‘’

আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক শাম্মী আহমেদ বিবিসি বাংলাকে বলছেন, ‘’বাংলাদেশে সংবিধান আছে। সংবিধান অনুযায়ী সরকার চলছে, দেশ পরিচালিত হচ্ছে। এখানে কে কী চাইলো, কোথায় আপত্তি করলো, তা তো আমাদের দেখার বিষয় না। আর আমাদের দেশের বিষয়ে বাইরের লোকজন কেন কথা বলবে? তারা যদি কিছু বলেও, সেটা নিয়ে আমাদের চিন্তা করার কোনো দরকার দেখি না।‘’

ফের শান্তিরক্ষী বাহিনী ইস্যু?
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ সোমবার জাতিসঙ্ঘের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়ে আহ্বান জানিয়েছে, বাংলাদেশে থেকে যাদের জাতিসঙ্ঘের শান্তিরক্ষী বাহিনীতে নেয়া হয়, তাদের নিয়োগের পূর্বে যেন মানবাধিকারের বিষয়গুলো যাচাই করা হয়।

বিরোধী দলগুলোর আপত্তি সত্ত্বেও রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টা ইয়াজউদ্দিন আহমেদ যখন ২০০৭ সালের ২২ জানুয়ারি নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে একরোখা ছিলেন, সেই সময়েও এমন একটি বক্তব্য ছড়িয়ে পড়েছিল যে, জাতিসঙ্ঘে শান্তিরক্ষী নিয়োগ ব্যবস্থা পুনর্বিবেচনা করছে জাতিসঙ্ঘ।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, ২০০৭ সালের সেই ঘটনাকে মনে রেখেই হয়তো শান্তিরক্ষী বাহিনীর বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হচ্ছে।

সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবির বলছেন, এই ক্ষেত্রে অবশ্য কোনো বিবৃতি খুব বেশি ভূমিকা রাখতে পারে না।

‘’জাতিসঙ্ঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে যারা অংশগ্রহণ করে, এমনিতেই তাদের ক্ষেত্রে জাতিসঙ্ঘ একটা স্ট্যান্ডার্ড রক্ষা করে। যেমন মানবাধিকার ইস্যু, নারী বিদ্বেষী হলে বা যৌন নির্যাতনের অভিযোগ আছে কিনা, সেটার এক ধরনের যাচাই করা হয়। হয়তো বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এই কথাটা আমরা আগে শুনিনি বলে আমাদের কাছে নতুন বলে মনে হচ্ছে,’’ তিনি বলেন।

কূটনীতিকরা বলছেন, ২০০৭ সালের তুলনায় এবারের পরিস্থিতি কিছুটা আলাদা বলে তাদের মনে হচ্ছে। কারণ যেভাবে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে, ভিসা নিষেধাজ্ঞা দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে, এটা বাংলাদেশের জন্য নতুন। ফলে সরকার স্বীকার না করলেও তাদের ওপর এক ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে।

কিন্তু এবার আর সেই রকম কোনো সম্ভাবনা নেই বলে মনে করেন আওয়ামী লীগ নেতা মাহবুব উল আলম হানিফ।

‘’২০০৭ সালের প্রেক্ষাপট আর এখনকার প্রেক্ষাপট ভিন্ন। ওই সময় বিএনপি জামাত জোট সরকার ক্ষমতা আটকে রেখে সংবিধান লঙ্ঘন করে অসাংবিধানিক পন্থায় গিয়েছিল, ফলে একটা সাংবিধানিক সংকটের তৈরি হয়েছিল। সেই কারণেই আমরা দেখেছিলাম, সামরিক সমর্থিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন হয়েছিল, কিন্তু তাদের কর্মকাণ্ডে খুব বেশি সুফল আসেনি, অনেক বিতর্ক সৃষ্ট হয়েছিল।‘’

‘’এটা একবার এই বাংলাদেশে ঘটে গেছে, দ্বিতীয়বার এই বাংলাদেশে ঘটার কোনো সম্ভাবনা আছে বলে আমরা মনে করি না। কারণ বাংলাদেশের মানুষ আর সেই ধরনের সরকার দেখতে চায় না। বাংলাদেশের মানুষ যেটা চায় না, সেটা অন্য কেউ জোর করে চাপিয়ে দিয়ে খুব একটা সুবিধা করতে পারবে না বা কোনো ফল আসবে না,’’ তিনি বলেন।

মঙ্গলবার ঢাকায় একটি অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘’এখন আবার বিদেশী শক্তিকে দিয়ে ওয়ান-ইলেভেনের মতো দুই বছরের জন্য নিজেদের ইচ্ছে অনুযায়ী তত্ত্বাবধায়ক একটা বসাবে। আর আমরা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ললিপপ খাব? কেমনে এটা মনে করলেন? সব খবর আমরা রাখি। কোথায় কোথায় ষড়যন্ত্র হচ্ছে? ওয়ান-ইলেভেনের দুঃস্বপ্ন দেখে আর লাভ নেই।‘’

লবিংয়ের দাবি কতটা যৌক্তিক?
সরকারি দলের নেতারা দাবি করছেন, লবিং করার মাধ্যমে বা অর্থের বিনিময়ে তদবির করার কারণেই মার্কিন বা ইউরোপীয় পার্লামেন্ট থেকে এসব বিবৃতি দেয়া হয়েছে।

আওয়ামী লীগ নেতা মাহবুব উল আলম হানিফ বলেছেন, ‘’এটা প্রচলিত আছে, পশ্চিমা দেশের অনেক দেশের পার্লামেন্ট মেম্বারদের অনেককেই অর্থ দিলে, যে অর্থ দেয় তার পক্ষে কথা বলে। লবিস্ট নিয়োগ করে। লবিস্টদের মাধ্যমে অর্থের বিনিময়ে অনেকে কথা বলে।‘’

তবে সাবেক পররাষ্ট্র সচিব তৌহিদ হোসেন বলছেন, এসব বিবৃতির পেছনে লবিং করা হয়েছে কিনা তার জানা নেই। যদিও পশ্চিমা দেশগুলোয় লবিং নতুন কিছু নয়।

‘’আমি যতটুকু জানি, যুক্তরাষ্ট্রে লবিং খুব সাধারণ একটা বিষয়। সেখানে লবিংয়ের মাধ্যমেই অনেক সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। কিন্তু কোনো কারণে যদি লবিংয়ের কারণেও এসব চিঠি লেখা হয়ে থাকে, সেটারও কিন্তু একটা প্রভাব থাকবে। কারণ যুক্তরাষ্ট্রে অনেক সিদ্ধান্তই লবিংয়ের কারণে নেয়া হয়ে থাকে।‘’

সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবির অবশ্য বলছেন, অনেক ক্ষেত্রে যেমন লবিং করা হয়ে থাকে, অনেক সময় কংগ্রেসের সদস্যরা নিজে থেকেই বক্তব্য দিয়ে থাকেন।

‘’তাদের নিজস্ব গবেষণা থাকে। বিভিন্ন দেশ সম্পর্কিত স্বার্থের ব্যাপার থাকে। লবিং যেমন হয়, অনেক সময় নিজেদের গবেষণা থেকেও তারা বক্তব্য বা চিঠি দিতে পারেন,’’ তিনি বলেন।

বাংলাদেশের নির্বাচন বা রাজনীতি ঘিরে বিদেশী পার্লামেন্ট বা সংসদীয় কমিটির উদ্বেগ প্রকাশ এবারই প্রথম নয়।

একাদশ সংসদ নির্বাচনে অনিয়মের বিষয়ে কী ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে, তা জানতে চেয়ে ২০১৯ সালে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছিল মার্কিন কংগ্রেসের ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটি।

ওয়াশিংটনে সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবির বলছেন, এখানে লবিং হয়েছে কিনা, কারা লবিং করেছে, তার চেয়ে বড় বিষয় হলো, সেখানে যেসব বক্তব্য তোলা হয়েছে, সেসবের বাস্তবতা কতটা রয়েছে।

হুমায়ুন কবির বলছেন, ‘’আমি জানি না, এখানে কী হয়েছে। কিন্তু আমরা বাংলাদেশের ভালো কাজের জন্য যেমন বাহবা পাই, তেমনি তারা কেন এসব অভিযোগ তুলছে, আমাদের কোনো ঘাটতি আছে কিনা, সেটাও আমাদের ভেবে দেখা দরকার। সেসব কারণ যদি আমরা মিটিয়ে ফেলতে পারি, তাহলে এখানেও কিন্তু বাহবা পেতে পারি।‘’

‘’লবিংয়ের কারণেই তারা বড় ব্যবস্থা নেবে, সেটা মনে করা হলে সরলীকরণ করা হয়ে যাবে। আবার তারা ব্যবস্থা নিলে কিছু হবে না, সেটা ভাবাও ভুল। আমি বলবো, বিষয়গুলোর বস্তুনিষ্ঠতার দিকে মনোযোগী হলে এ ধরনের জটিলতার বাইরে থাকা যাবে। আর আমরা যদি অন্যের ঘাড়ে দোষ চাপাই, অন্যরা করেছে উস্কানি দিয়ে, তাহলে যে কারণে সমস্যাটা হয়েছে, সেটাকে যথাযথভাবে অ্যাড্রেস করতে পারবো না, ‘’তিনি বলেন। সূত্র : বিবিসি

আ’লীগ সরকারের আমলে কোনো নির্বাচন নিয়েই প্রশ্ন ওঠেনি : সংসদে প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় সংসদে বলেছেন, তার সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে দেশে একটি উচ্চ মান স্থাপনে সক্ষম হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের সরকারের আমলে কোনো নির্বাচন নিয়েই প্রশ্ন ওঠেনি। নির্বাচন অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে আমরা একটি উচ্চ মান স্থাপন করতে পেরেছি। বিএনপি সরকারের আমলে ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির বিতর্কিত নির্বাচনের মতো কখনো হয়নি এবং আওয়ামী লীগের আমলে সেটা হবেও না।

বুধবার (১৪ জুন) আওয়ামী লীগ সংসদ সদস্য কাজিম উদ্দিন আহমেদের (ময়মনসিংহ-১১) এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে বর্তমানে সুইজারল্যান্ডে অবস্থানরত প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। এর আগে সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্ব উত্থাপন করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সব সংসদ নির্বাচন উপ-নির্বাচনের পাশাপাশি স্থানীয় সরকারের নির্বাচর ও উপ-নির্বাচন নিরপেক্ষ, অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচন কমিশন তার নিরঙ্কুশ ক্ষমতা বলে এ সকল নির্বাচন আয়োজন করেছে।

তিনি আরো বলেন,‘আওয়ামী লীগ কখনো জোড় করে ক্ষমতায় আসেনি। বরং জনগণকে তাদের অধিকার ফিরিয়ে দিতে এসেছে, যাতে জনগণ তাদের পছন্দমতো সরকার নির্বাচন করতে পারে।’

শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে বাংলাদেশের মানুষ গণতন্ত্র, মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও ভোটাধিকার অর্জন করেছে।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ যখনই সরকার গঠন করেছে সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালনে সকল প্রকার সহায়তা দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে স্বচ্ছ, অবাধ, নির্ভীক, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও সবার কাছে গ্রহণযোগ্য করতে নির্বাচন কমিশনকে সার্বিক সহায়তা দেয়াসহ প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

আওয়ামী লীগ জনগণের ম্যান্ডেটে বিশ্বাস করে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কে দেশ চালাবে তা জনগণই ঠিক করবে।

তিনি আরো বলেন, এটাই জনগণের শক্তি। আমাদের সরকার জনগণের ক্ষমতা নিশ্চিত করতে অঙ্গীকারবদ্ধ।

তিনি বলেন, তার সরকার ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ আইন ২০২২’ প্রণয়ন করেছে এবং আইন অনুযায়ী ছয় সদস্যের সার্চ কমিটি গঠন করে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে সিইসি ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন যেকোনো সময়ের চেয়ে শক্তিশালী, নিরপেক্ষ এবং প্রশাসনিক ও আর্থিকভাবে স্বাধীন।

সরকার প্রধান বলেন, নির্বাচন সংক্রান্ত সব সরকারি কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠান নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নির্বাচন কমিশনের অধীনে থাকবে।

তিনি বলেন,‘নির্বাচন কমিশন তার সাংবিধানিক ক্ষমতাবলে স্বাধীনভাবে কাজ করবে এবং একটি সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছু করবে।’

আওয়ামী লীগ প্রধান বলেন, নির্বাচন পর্যবেক্ষণে তারা দেশী-বিদেশী পর্যবেক্ষকদের আমন্ত্রণ জানাবেন।
তিনি বলেন,‘যে কেউ পর্যক্ষেক পাঠাতে চাইলে পাঠাতে পারে। আমাদের সরকার জাতীয় নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

সূত্র : বাসস

‘আল্লাহ আকবর’ ধ্বনিতে মুখরিত ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিরোধ, আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমানসহ জাতীয় নেতা ও আলেম-ওলামাদের মুক্তি এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার দাবিতে সমাবেশে ডেকেছে বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী।

শনিবার এ সমাবেশে অংশ নিতে রাজধানী রমনা এলাকায় ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউশনে আসছেন দলটির নেতা-কর্মীরা।

ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউশনে ভেতরে স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠছে। নেতাকর্মীরা ‘লিল্লাহি তাকবীর, আল্লাহ আকবর,’ ‘বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী, জিন্দাবাদ, জিন্দাবাদ,’ ‘এই মুহূর্তে দরকার, তত্ত্বাবধায়ক সরকার’ নানা স্লোগান দিয়ে যাচ্ছে। নেতাদের মুক্তির দাবিতেও স্লোগান দিচ্ছে।

এর আগে ৫ জুন সমাবেশ করার জন্য অনুমতি চেয়ে ডিএমপিতে যান জামায়াত ইসলামীর সমর্থিত আইনজীবীরা। ডিএমপিতে প্রবেশ করার আগে তাদেরকে আটক করে নিয়ে যায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ২ ঘণ্টা পর তাদেরকে ছেড়ে দেয় পুলিশ।

৫ জুন কর্মদিবস থাকার কারণে তাদের সমাবেশ করার অনুমতি দেয়নি বলে জানায় পুলিশ। তাই এবার ছুটির দিন শনিবার দেখে তারা অনুমতির আবেদন করে। পরে এখানে করার অনুমতি মেলে।

আজকের সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর নায়েবে আমীর আব্দুলাহ মোহাম্মদ তাহের। সভাপতিত্ব করবেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমীর নুরুল ইসলাম বুলবুল।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি মতিঝিলের শাপলা চত্বরে সমাবেশ করার অনুমতি পায় দলটি। এরপর থেকে দলটিকে কোনো বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের অনুমতি দেয়নি পুলিশ।

দেশে সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ১০ টাকা কমলো

সরকার ভোজ্যতেলের দাম লিটারে ১০ টাকা কমিয়েছে। লিটার প্রতি বোতলজাত সয়াবিন তেলের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ১৯৯ টাকা থেকে ১৮৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এদিকে খোলা তেলের দাম কমিয়ে লিটার ১৬৭ টাকা করা হয়েছে। পাম তেলের দাম ২ টাকা কমিয়ে ১৩৩ টাকা করা হয়েছে।

রোববার (১১ জুন) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষ এ কথা জানান।

এ সময় বাণিজ্য সচিব আরো বলেন, পাঁচ লাখ টন পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দেয়া হয়েছে। এসব পেঁয়াজ এলে দাম আরো কমবে।

এর আগে গত ৪ মে বোতলজাত সয়াবিনের দাম প্রতি লিটারে ১২ টাকা বাড়িয়ে ১৯৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

এ সময় ৫ লিটারের বোতলের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ৯৬০ টাকা। পাশাপাশি প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেলের দাম ৯ টাকা বাড়িয়ে ১৭৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এছাড়া প্রতি লিটার পামতেলের দাম ১৩৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

বিচার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত জামায়াতকে দোষী বলা যাবে না : আইনমন্ত্রী

বিচার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে দোষী বলা যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর বিচারের বিষয়টি এখন আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। প্রচলিত আইন ও বিধান অনুযায়ী বিচার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা যায় না।’

আজ রোববার ল’ রিপোর্টার্স ফোরাম (এলআরএফ) আয়োজিত মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এলআরএফ সভাপতি আশুতোষ সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সরোয়ার হোসেন ভূঁঞা। এ সময় আইনমন্ত্রী সমসাময়িক রাজনৈতিক বিষয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।

জামায়াতে ইসলামীকে দীর্ঘ ১০ বছর পর সমাবেশের অনুমতি দেয়া কতটা আইনসঙ্গত হয়েছে- এমন প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আইন সংশোধনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এছাড়াও বিচার নিষ্পত্তি হয়নি। এমন অবস্থায় জামায়াতকে সভা-সমাবেশের অনুমতি দেয়াটা আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয়।’

উগান্ডা ও নাইজেরিয়ার পর বাংলাদেশের বিরুদ্ধে মার্কিন সরকারের নতুন ভিসা নীতি ঘোষণায় জাতিকে বিব্রত ও হেয় করেছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘বিষয়টি একজন নাগরিক হিসেবে আমাদের কারো জন্যই মর্যাদার নয়। এ নীতি আমাকে হেয় করেছে।’

‘সর্বোচ্চ আদালত তত্ত্বাবধায়ক সরকার অসাংবিধানিক ও অবৈধ ঘোষণা করায় সংবিধান থেকে বাতিল হয়ে যায়’ উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আওয়ামী লীগ জনগণের কাছে যে অঙ্গীকার করেছিল, সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সে প্রতিশ্রুতি পূরণ করবে।’

সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে হয়রানির কোনো মামলা নয় : সংসদে আইনমন্ত্রী

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বৃহস্পতিবার (৮ জুন) সংসদে বলেছেন, আসন্ন সাধারণ নির্বাচন স্বচ্ছ, অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠানের জন্য নির্বাচন কমিশন চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করায় কোনো সরকারি সংস্থা হয়রানির জন্য মামলা করবে না।

গণফোরামের সংসদ সদস্য (সিলেট-২) মোকাব্বির খানের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন স্বচ্ছ, অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠানকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছে। চ্যালেঞ্জ কাটিয়ে উঠতে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।’

১১ দফা সিদ্ধান্তের মধ্যে রয়েছে কোনো সরকারি সংস্থার দ্বারা হয়রানির জন্য মামলা দায়ের না করা; প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী, সমর্থক, তাদের বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও সমর্থকদের হামলা প্রতিরোধ করা এবং এ ধরনের হামলা হলে আইন অনুযায়ী দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ; এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং নির্বাচনের আগে বৈধ অস্ত্র জমা নিশ্চিত করা।

অন্যান্য সিদ্ধান্তের মধ্যে রয়েছে সরকারের কাছে প্রস্তাবনা যাতে সব রাজনৈতিক দল অবাধে নির্বাচনী কার্যক্রম চালাতে পারে; বিশিষ্ট নাগরিক ও রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে মতবিনিময় বৈঠকে সংবিধান ও নির্বাচনী আইন অনুযায়ী সংখ্যাগরিষ্ঠদের সুপারিশ বাস্তবায়ন করা; যোগ্য ও নিরপেক্ষ ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা নিয়োগ; এবং দেশী-বিদেশী নির্বাচন পর্যবেক্ষক নিয়োগসহ আইনানুগ প্রয়োজনীয় সব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী।

তিনি আরো বলেন, বাকি সিদ্ধান্তগুলো হলো নির্বাচনের সাথে জড়িত সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদফতর ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রধানদের সাথে বৈঠক করে এবং তারা যাতে নিষ্ঠার সাথে ও নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারে সেজন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশনা দেয়া। নির্বাচন; ভোটকেন্দ্র এবং নির্বাচনী এলাকায় অনুকূল পরিবেশ বজায় রাখার জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক আইন প্রয়োগকারী সংস্থা মোতায়েন করা; নির্বাচনী আচরণবিধি কঠোরভাবে কার্যকর করার জন্য নির্বাহী ও বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ এবং নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনকারীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ; এবং গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ এবং নির্বাচনী আচরণ বিধিতে প্রয়োজনীয় সংশোধন আনা হচ্ছে।

আইনমন্ত্রী বলেন, যেহেতু আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৪ সালের ২৯ জানুয়ারির মধ্যে করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে, তাই এ লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন একটি কর্মপরিকল্পনা নিয়েছে।

তিনি বলেন, আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য করার লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন দৃঢ়ভাবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে।

তিনি বলেন, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্বচ্ছ রাখতে নির্বাচন সংক্রান্ত যাবতীয় কার্যক্রম সবার জন্য ওয়েবসাইটে প্রকাশ, পর্যাপ্ত সংখ্যক দেশী-বিদেশী পর্যবেক্ষক নিয়োগের পাশাপাশি সংবাদ তথ্য অবাধে নিতে ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়াকে সুযোগ-সুবিধা প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি।

আইনমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের ফলাফল যেন সব ভোটার এবং অধিকাংশ রাজনৈতিক দলের কাছে গ্রহণযোগ্য হয় সে বিষয়ে নির্বাচন কমিশন বদ্ধপরিকর।

তিনি বলেন, আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচন নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন সকল প্রার্থীর সাথে সমান আচরণ করবে, নির্বাচন কমিশনের আরো যোগ্য কর্মকর্তাকে রিটার্নিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ দেবে, নিরপেক্ষ প্রিজাইডিং অফিসার ও সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার নিয়োগ করবে যারা পক্ষপাতমূলক নির্বাচন থেকে মুক্তি দেবে এবং কর্মকর্তারা নির্বাচনী আইন ও বিধি লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেবেন।

সূত্র : ইউএনবি

নিরপেক্ষ সরকারের শর্তে বিএনপির সাথে কোনো আলোচনা হবে না : ওবায়দুল কাদের

নিরপেক্ষ সরকারের শর্ত নিয়ে বিএনপির সাথে কোনো আলোচনা হবে না বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘গতবারের নির্বাচনের আগের কথা আমাদের মনে আছে; একবার নয়, দুইবার তাদের সাথে সংলাপে বসেছি। রেজাল্ট কী? কোনো লাভ হয়নি। নিরপেক্ষ সরকারের শর্ত নিয়ে দলটির সাথে কোনো সংলাপ হবে না।’

বৃহস্পতিবার বিকেলে বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন। ঐতিহাসিক ছয় দফা দিবস উপলক্ষে এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞার জন্য নালিশ করতে করতে বিএনপি এখন নিজেরাই ফাঁদে পড়েছে। তারা নিজেরাই ‘ফাঁদে পড়ে কান্দে’। এখন তারা নালিশ করে নিষেধাজ্ঞার পরিবর্তে পেয়েছে ভিসানীতি।’

তিনি বলেন, এই ভিসানীতি নিয়ে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। কাকে ভিসা দেবে, কাকে দেবে না, সেটা সেই দেশের ব্যাপার। আমরাও আমাদের দেশে কাকে ভিসা দেব, কাকে দেব না, সেটাও আমাদের ব্যাপার। এ নিয়ে ভয় পাওয়ার কী আছে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, নির্বাচনে যারা বিশৃঙ্খলা করবে তাদের বিরুদ্ধে ভিসা নীতি প্রয়োগ হবে। বিশৃঙ্খলা করতে চায় কারা? তারা হলো বিএনপি। তাদের সাথে পূর্বে দুদফা সংলাপ হয়েছিল, কোনো লাভ হয়নি। নমিনেশন বাণিজ্য করার জন্যই কি তারা সংলাপ চায়? তাই তাদের সাথে সংলাপের কথা আমরা ভাবছি না।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমদ মন্নাফির সভাপতিত্বে সভায় আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীর বিক্রম ও অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সহসভাপতি নুরুল আমিন রুহুল, যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

বিএনপি মহাসচিব ফখরুল ইসলাম আলমগীগের উদ্দেশে ওবায়দুল কাদের বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা আওয়ামী লীগ নয়, তা বাতিল করেছে সর্বোচ্চ আদালত।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, সংবিধান আছে, স্বাধীন নির্বাচন কমিশন আছে, তাই নির্বাচন নিয়ে চিন্তার কারণ নেই। বিদেশি বন্ধুরা চায় সুষ্ঠু নির্বাচন, আমরা সেটাই করব। বিএনপি চায় সংসদ ভেঙে দিতে, পৃথিবীর কোথাও যা হয় না, তারা সেটাই চায়। তারা চায় সরকারের পতন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, আমাদের শপথ আবার নিতে হবে। বিএনপি ক্ষমতায় গিয়ে গণতন্ত্র গিলে খেয়েছে, নির্বাচন গিলে খেয়েছে, মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধ গিলে খেয়েছে। এদের হাতে দেশ নিরাপদ নয়। বিএনপি ক্ষমতা ফিরে পেলে গোটা দেশ গিলে খাবে।

মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেন, সুষ্ঠু অবাধ নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনে রক্ত দেব। এ দেশে সংবিধান মেনেই নির্বাচন হবে, কেউ তা বানচাল করতে পারবে না।

কামরুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের শিখরে। দেশের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্থ করতে চায় ৭১ এর ঘাতকরা। নির্বাচন বানচাল করতে চায় বিএনপি ও তার দোসররা। এই অপশক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। এরা গণতন্ত্রকে হত্যা করতে চায়।

মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, বিএনপির লজ্জা থাকলে তারা বিদ্যুতের জন্য ঘেরাও কর্মসূচি দিত না। তারা ক্ষমতায় থাকাকালে ৩০ শতাংশ মানুষকেও বিদ্যুৎ দিতে পারেনি। সাড়ে ৩ হাজার মেগাওয়াট উৎপাদন করতে পারত বিএনপি। সেখানে এখন ২৫ হাজার মেগাওয়াট উৎপাদনের সক্ষমতা আছে আমাদের। বৈশ্বিক কারণে এখন সমস্যা হচ্ছে। এটা সাময়িক সমস্যা। সমাধান হয়ে যাবে। সূত্র : বাসস

সমাবেশ ঠেকাতে গণগ্রেফতার শুরু করেছে সরকার : জামায়াত

নাগরিকদের গণতান্ত্রিক অধিকারকে পরিপূর্ণভাবে হরণে রাজধানীজুড়ে পুলিশের গণগ্রেফতারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ এবং অবিলম্বে গ্রেফতারদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

বুধবার গণমাধ্যমে প্রেরিত ওই বিবৃতিতে দলটির কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের ভারপ্রাপ্ত আমির আব্দুর রহমান মূসা এবং ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম বলেছেন, সরকার জামায়াতের জনপ্রিয়তায় ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে আগামী ১০ জুনের সমাবেশ ঠেকানোর জন্যই রাজধানীতে নতুন করে গণগ্রেফতার শুরু করেছে।

মহানগরীতে অন্যায়ভাবে গ্রেফতারের নিন্দা জানিয়ে নেতৃদ্বয় বলেন, গত রাত ৯টায় মহাখালী ওয়্যারলেস গেট কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ থেকে এশার নামাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে বনানী থানার সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুর রাফঈসহ ১০ জন এবং রাত ২টা ৩০ মিনিটে আদাবর থানার কর্মী তারিফ হাসানকে নিজ বাসা থেকে পুলিশ তুলে নেয়। যা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, আইনের শাসন ও রাষ্ট্রীয় সংবিধানের গুরুতর লঙ্ঘন।

বিবৃতিতে জামায়াত নেতৃদ্বয় বলেন, রাতের ভোটের সরকার অবৈধ ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করার জন্য জামায়াতসহ দেশপ্রেমী শক্তিকে বিশেষভাবে টার্গেট করেছে। দেশের প্রত্যেক নাগরিকের সভা-সমাবেশ করা ও রাজপথে যেকোনো কর্মসূচি পালন গণতান্ত্রিক এবং সাংবিধানিক অধিকারকে ক্ষুন্ন করেছে বাকশালী আওয়ামী লীগ। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৫ জুন জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী (উত্তর-দক্ষিণ) জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেইটে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনের অনুমতি চাইলে ডিএমপির পক্ষ থেকে ঠুনকো অজুহাতে সমাবেশের অনুমতি দেয়া হয়নি। জামায়াত একটি দেশপ্রেমী ও দায়িত্বশীল রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে তা স্থগিত করে ১০ জুন সে সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছে। আবারো কর্মসূচি পালনে পুলিশের সহযোগিতা চেয়ে ডিএমপি কমিশনার বরাবর পত্র পাঠিয়েছে।

তারা বলেন, আওয়ামী বাকশালীরা দেশের গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ধ্বংস করে দিয়েছে। তাদের অবৈধ ক্ষমতা লিপ্সার কারণে দেশ এখন মার্কিন ভিসা নিষেধাজ্ঞায় পড়েছে। বিষয়টি দেশ ও জাতির জন্য লজ্জাজনক। নেতৃবৃন্দ সরকারকে জনমতের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে অবিলম্বে পদত্যাগ ও কেয়ারটেকার সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তরের আহ্বান জানান।

উল্লেখ্য, কিছুদিন আগেই মাওলানা আব্দুর রাফঈকে তার কর্মস্থল থেকে তুলে নিয়ে ৫ দিন গুম করে রেখে তার বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন মামলা এবং আদালত থেকে জামিন লাভের পর জেল গেইট থেকে পুনরায় গ্রেফতার করা হয়েছিল।

সংলাপের কোনো বিকল্প নেই : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সংলাপের কোনো বিকল্প নেই বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

তিনি বলেছেন, সংলাপ চলমান থাকবে। সংলাপের বিকল্প নেই। আমরা মনে করি, সবকিছুই সংলাপ ও আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে।

বুধবার দুপুরে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতরের সদরদফতরে স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৩ উদযাপন অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

এর আগে গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে ১৪ দলের সমাবেশে গণতন্ত্রের স্বার্থে প্রয়োজনে জাতিসঙ্ঘের প্রতিনিধির মধ্যস্থতায় বিএনপির সঙ্গে আলোচনা হতে পারে বলে জানান আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এবং ১৪ দলের সমন্বয়ক আমির হোসেন আমু।

এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ একটি পপুলার পার্টি। আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন ক্ষমতায়। আওয়ামী লীগ বিশ্বাস করে জনগণের ক্ষমতায় চলতে হবে। জনগণের ক্ষমতা অব্যাহত রাখতে হলে সবার সাথে আলোচনা করতে হবে। তাই সংলাপ বা আলোচনার বিকল্প কিছু নেই।

জামায়াতে ইসলামীকে বিক্ষোভ সমাবেশের অনুমতি দেয়া হবে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যারা রাজনীতি করেন তাদের সভা-সমাবেশ করার রাজনৈতিক অধিকার রয়েছে। তারা তাদের মতামত প্রদর্শন করবে, জানাবে, এটাই তো স্বাভাবিক।

মন্ত্রী আরো বলেন, আমি যতদূর জানি, জামায়াতে ইসলামী এখন নির্বাচন কমিশনের স্বীকৃত রাজনৈতিক দল নয়। কাজেই এ বিষয়ে আমাদের ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার সিদ্ধান্ত জানাবেন। ঢাকায় (বায়তুল মোকাররম এলাকায়) সমাবেশ করতে দিলে কোনো নাশকতা বা বিশৃঙ্খলার সম্ভাবনা রয়েছে কি না, তা যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত দেয়া হবে।