Home Blog Page 643

কোটিপতিরা দলে দলে ভারত ছাড়ছে

ধনী ভারতীয়দের মধ্যে দেশ ছাড়ার প্রবণতা বাড়ছে। বাড়ছে প্রথম বিশ্বে গিয়ে স্থায়ী হওয়ায় তৎপরতা।

হেনলি প্রাইভেট ওয়েলথ মাইগ্রেশন রিপোর্ট ২০২৩ জানিয়েছে, গত এক বছরের হিসাব অনুযায়ী দেশ ছেড়েছে অন্তত সাড়ে ছয় হাজার ‘মিলিয়নেয়ার’ ভারতীয়। যাদের সম্পদের পরিমাণ অন্তত ১০ লাখ ডলার বা আট কোটি ভারতীয় রুপি।

গত ডিসেম্বরে আন্তর্জাতিক সমীক্ষা সংস্থা হেনলি এবং পার্টনার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল, রাশিয়া, চীন ও ভারতের কোটিপতিদের মধ্যে দেশ ছাড়ার প্রবণতা গত কয়েক বছর ধরে দ্রুত বেড়েছে।

সাম্প্রতিক রিপোর্ট অবশ্য জানাচ্ছে, ওই প্রবণতা গত এক বছরে সামান্য হলেও কমেছে। কারণ, তার আগের এক বছরে দেশ ছেড়েছিলেন সাড়ে সাত হাজার ভারতীয় কোটিপতি।

চলতি বছরে তা অন্তত হাজার কমতে চলেছে। ওই তালিকায় প্রথম স্থানে থাকা চীন থেকে গত এক বছরে সাড়ে ১৩ কোটিপতি ভিনদেশে পাড়ি দিতে চলছে।

সমীক্ষা সংস্থার রিপোর্ট বলছে, দেশত্যাগী ভারতীয় কোটিপতিদের মূল গন্তব্য দুবাই ও সিঙ্গাপুর। কর-সংক্রান্ত সুযোগ সুবিধার কারণেই তারা ওই দু’দেশে যাচ্ছে। তাছাড়া নতুন গন্তব্য হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে অস্ট্রেলিয়াও।

নিউ ওয়ার্ল্ড ওয়েলথের গবেষণা বিভাগের প্রধান অ্যান্ড্রু অ্যামোয়েলসের দাবি, ভারতীয় কোটিপতিদের দেশ ছাড়ার এ প্রবণতা তেমন উদ্বেগজনক নয়। কারণ, অনেক ধনী ভারতীয় দেশ ছাড়লেও তারই পাশাপাশি তৈরি হয়েছে অনেক নতুন কোটিপতি। ফলে শূন্যস্থান পূরণ হয়েছে দ্রুত।
সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা

এক দফার আন্দোলনে যাচ্ছে বিএনপি

এক দফার আন্দোলনে যাচ্ছে বিএনপি। ১০ দফা দাবিতে গত ছয় মাস নানা কর্মসূচি পালনের পর দলটির নীতিনির্ধারণী ফোরাম দ্রুত সময়ের মধ্যে এক দফার আন্দোলনে নামার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শরিক দলগুলোর সাথেও বিএনপির দায়িত্বশীল নেতারা এ বিষয়ে আলোচনা শুরু করেছেন। জানা গেছে, কোরবানির ঈদের আগে না হলে এর পররপরই ঢাকায় বিশাল সমাবেশ করে এক দফার ঘোষণা দেয়া হবে। এক দফায় থাকছে সরকারের পদত্যাগ ও নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্নুর্বহাল ।
বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার রাতে দলের স্থায়ী কমিটির সভায় এক দফার আন্দোলনে নামার পাশাপাশি রাষ্ট্র সংস্কারের ‘যৌথ রূপরেখা’ চূড়ান্তকরণ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আগের কয়েকটি বৈঠকের মতো এ বৈঠকেও রূপরেখার পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা হয়েছে। তবে বেশির ভাগ নীতিনির্ধারক বৈঠকে বলেছেন, বিএনপির সামনে সময় খুবই কম। তাই যৌথ ঘোষণাপত্র নিয়ে সময় ক্ষেপণের সুযোগ নেই। এখন সময় এসেছে এক দফার আন্দোলনে যাওয়ার। আলোচনার মাধ্যমে ‘যৌথ রূপরেখা’ ইস্যুর সমাধান হলে ভালো, না হলে যার যার অবস্থান থেকে আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে।

বৈঠকে এক দফার আন্দোলনে নামতে শীর্ষ নেতারা সুনির্দিষ্ট মতামত দিয়েছেন। কেউ কেউ ঈদের আগেই এক দফার ঘোষণা দেয়ার কথা বলেছেন। কেউ কেউ বলেছেন, ঈদের আগে এক দফা ঘোষণা করা হলে ঈদের ছুটির কারণে তা ছন্দ হারাতে পারে। এ কারণে তারা ঈদের পর ঢাকায় বড় শোডাউন দিয়ে এক দফার ঘোষণার পরামর্শ দিয়েছেন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খান এ প্রসঙ্গে বলেছেন, এখন দফা একটাই। সরকার পরিবর্তন ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার। সব দলেরই এখন সেই দফায় সরাসরি চলে যাওয়া উচিত। বিএনপি দ্রুত এক দফার আন্দোলনে নামার বিষয়ে চিন্তা করছে বলে জানান তিনি।
জানা গেছে, গতকাল শুলশান কার্যালয়ে ১২ দলীয় জোটের সাথে বৈঠক করেছে বিএনপি। এক দফার ঘোষণা নিয়ে জোট নেতাদের মতামত নিতেই এ বৈঠক ডাকা হয়। বৈঠকে জোট নেতারা ঈদের পর এক দফার ঘোষণা দেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
জানা গেছে, যুগপৎ আন্দোলনের ভিত্তি হিসেবে ‘যৌথ ঘোষণাপত্র’ দ্রুত চূড়ান্ত করে এক দফার আন্দোলনে যেতে চায় বিএনপি। তার আগে আলোচনার মাধ্যমে এ ইস্যুতে গণতন্ত্র মঞ্চের সাথে সৃষ্ট মতানৈক্য দূর করতে চান নীতিনির্ধারকরা। তবে ঘোষণাপত্র নিয়ে শেষপর্যন্ত ঐকমত্য না হলে দলটি তার নিজস্ব প্ল্যাটফর্ম থেকে এক দফার আন্দোলন শুরু করতে পারে। আর সে ক্ষেত্রে দাবি আদায়ে মিত্ররা যার যার অবস্থান থেকে আন্দোলন চালিয়ে যাবে।

বিএনপি ও গণতন্ত্র মঞ্চ সূত্রে জানা গেছে, মোটা দাগে তিনটি দফায় আটকে রয়েছে বিএনপির প্রণীত ৩১ দফা খসড়া যৌথ রূপরেখা। সেগুলো হলো : সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংস্কার, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভার উচ্চকক্ষের নির্বাচন পদ্ধতি ও এমপিদের ক্ষমতা এবং নির্বাচনকালীন সরকারের কার্যক্রম। এর আগে এটা নিয়ে একাধিক বৈঠক হলেও উভয় পক্ষ নিজ অবস্থানে অনড় থাকায় সঙ্কট কাটেনি। তবে দেশ ও জাতির স্বার্থে প্রয়োজনীয় ছাড় দিয়ে ন্যূনতম ঐকমত্যের জায়গাগুলো নির্দিষ্ট করে ‘যৌথ ঘোষণাপত্র’ চূড়ান্তকরণের ব্যাপারে একমত হন তারা। এ ব্যাপারে এখন আলোচনা চলছে।

‘যৌথ রূপরেখা’ প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য বলেন, যৌথ ঘোষণাপত্র চূড়ান্তকরণের ক্ষেত্রে যেসব দফা নিয়ে গণতন্ত্র মঞ্চের আপত্তি রয়েছে, সেগুলো সমাধানের সম্ভাব্য উপায় লিখিত আকারে বিএনপিকে জানানোর কথা রয়েছে। সেটি জানালে স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
জানা গেছে, এক দফার আন্দোলনকে সামনে রেখে কিছুদিন ধরে দলের বিভিন্ন জেলা ও মহানগরের গুরুত্বপূর্ণ নেতা, দলের সাবেক এমপি-মন্ত্রী এবং ২০১৮ সালের নির্বাচনে ধানের শীষের প্রাথমিক ও চূড়ান্ত মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থীদের সাথে বৈঠক করছেন বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব। এর বাইরে দলের বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের সাথেও কয়েক দফা সমন্বয় বৈঠক হয়েছে। এসব বৈঠকে সবাইকে দ্রুত এক দফার আন্দোলনে নামার প্রস্তুতি নেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

সরকারের পদত্যাগ, সংসদ বিলুপ্ত, নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন, বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ ১০ দফার ভিত্তিতে গত ২৪ ডিসেম্বর থেকে যুগপৎ আন্দোলন শুরু করে বিএনপি। গত ঈদুল ফিতরের আগ পর্যন্ত যুগপৎভাবে গণমিছিল, গণ-অবস্থান, মিছিল, বিক্ষোভ সমাবেশ, গণসমাবেশ, মানববন্ধন, পদযাত্রার মতো শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করা হয়। তবে ঈদের পর থেকে বিএনপি এককভাবে কর্মসূচি করছে। সর্বশেষ গত ১৭ মে থেকে ২৭ মে পর্যন্ত দেশব্যাপী পদযাত্রা ও জনসমাবেশ করে দলটি। এ ছাড়া লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে গত ৮ জুন জেলায় জেলায় বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) চেয়ারম্যান বরাবর স্মারকলিপি দেয়। আগামীকাল শুক্রবার ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ এবং চট্টগ্রাম ও খুলনা মহানগরে পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। এ দিকে বিএনপির কর্মসূচির মধ্যেই ঢাকাসহ দেশের ছয়টি বড় শহরে ১১ দফার ভিত্তিতে তারুণ্যের সমাবেশ শুরু করেছে দলটির প্রধান তিন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দল। আন্দোলনে তরুণদের সম্পৃক্ত করতে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। গতকাল বুধবার চট্টগ্রামের সমাবেশের মধ্য দিয়ে এই কর্মসূচি শুরু হয়েছে। আগামী ২২ জুলাই ঢাকায় সমাবেশের মধ্য দিয়ে তা শেষ হবে।
বিএনপির হাইকমান্ড মনে করছে, সরকারবিরোধী চলমান আন্দোলন সফল করতে হলে রাজধানী ঢাকায় বড় আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। এ কারণে তারা রাজধানীতে নিয়মিত কর্মসূচি দিয়ে যাচ্ছে।

জানা গেছে, কোরবানির ঈদের পর আন্দোলন ক্রমেই জোরালো হবে। তখন ঢাকামুখী কর্মসূচির দিকে যাবে দলটি। সে ক্ষেত্রে ‘চলো চলো ঢাকা চলো’, ঢাকা ঘেরাও কিংবা টানা অবস্থানের মতো কর্মসূচি দেয়া হতে পারে। তবে হরতাল-অবরোধের মতো কোনো কর্মসূচি দেয়ার চিন্তা দলটির এখনও নেই বলে জানা গেছে।

আইসিবি ছেড়ে দিল ইসলামী ব্যাংকের মালিকানা

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের (আইবিবিএল) সকল শেয়ার ছেড়ে দিয়েছে সরকারি প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি)।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বুধবার (১৪ জুন) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

ইসলামী ব্যাংকের মোট ২ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ শেয়ারের মালিকানা ছিল সরকারি প্রতিষ্ঠান আইসিবির। এর পুরোটাই ছেড়ে দিয়েছে আইসিবি। একই সাথে ব্যাংকটির পরিচালনা পরিষদে থাকা প্রতিনিধিকেও সরিয়ে নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

ইসলামী ব্যাংকের পরিষদে পরিচালক হিসেবে ছিলেন আইসিবির উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) আবু তাহের মো: আহমেদুর রহমান। গত ৩১ মে থেকে তিনি আর ব্যাংকটিতে পরিচালক হিসেবে নেই।

আইসিবির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, ধারাবাহিক শেয়ার বিক্রি ও ক্রয় করে থাকে আইসিবি। এরই অংশ হিসেবে ব্যাংকটির শেয়ার ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইসলামী ব্যাংকের এক কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আইসিবি তাদের পুরো শেয়ার ছেড়ে দিয়েছে। গত মে মাসে আইসিবি ৩ কোটি ৩৪ লাখ ৬৮ হাজার ৯৫৬টি শেয়ার বিক্রি করে দেয়।

রুশ হামলায় আবার লণ্ডভণ্ড বন্দর শহর ওডেসা

রাশিয়ার সমুদ্র থেকে ছোঁড়া ক্ষেপণাস্ত্র ইউক্রেনের বন্দর শহর ওডেসাতে আঘাত হেনেছে। নিহত হয়েছে তিনজন এবং আহতের সংখ্যা ১৩। হতাহতরা একটা দোকানের গুদামঘরের ভেতর ছিল, যেখানে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে আগুন ধরে যায়।

সেখান থেকে মানুষজনকে সরিয়ে নেয়া হচ্ছে এবং উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তুপ সরিয়ে জীবিতদের উদ্ধারের কাজ করছে।

রুশ মিসাইল ওডেসা শহরের কেন্দ্রে একটি ব্যবসা কেন্দ্র, একটি কলেজ, কিছু দোকানপাট, রেস্তোরাঁ ও কিছু আবাসিক ভবনে আঘাত হেনেছে বলে ইউক্রেন জানিয়েছে। ওই হামলায় আহত হয়েছে ছয়জন।

আরেকটি পৃথক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় পূর্ব দোনেৎস্ক এলাকার ইউক্রেন নিয়ন্ত্রিত অংশে তিন বেসামরিকের মৃত্যু হয়েছে।

ইউক্রেন বলছে রাতভর ১০টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ১০টি ড্রোন ব্যবহার করে হামলা চালানো হয়েছে, তবে বেশিরভাগই গুলি করে ভূপাতিত করা হয়েছে।

ওডেসা সামরিক প্রশাসনের মুখপাত্র সেরহি ব্রাটচুক টেলিগ্রাম মেসেজিং অ্যাপে একটি ভিডিও এবং কিছু ছবি পোস্ট করেছেন। যেখানে দেখা যাচ্ছে যে কয়েকটি বহুতল ভবনের দেয়াল ধসে গুঁড়িয়ে গেছে এবং জানলার কাঁচ উড়ে গেছে। একটি গুদামে লাগা আগুন আয়ত্তে আনতে হিমশিম খাচ্ছে দমকলকর্মীরা।

যেভাবে আক্রমণ হলো
দক্ষিণাঞ্চলীয় অপারেশন কমান্ডের বরাত দিয়ে কিয়েভে একটি টিভির খবরে বলা হয়েছে, কৃষ্ণ সাগরে একটি জাহাজ থেকে ওডেসা লক্ষ্য করে চারটি ক্যালিবার ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়া হয়েছে।

ওয়ান প্লাস ওয়ান নামে ওই টিভি চ্যানেল জানিয়েছে, ইউক্রেনের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুটি ক্ষেপণাস্ত্র গুলি করে ভূপাতিত করেছে। একটি ক্ষেপণাস্ত্র একটি দোকানের গুদামের ওপর গিয়ে পড়লে সেখানে আগুন ধরে যায়। তারা জানায় গুদামের তিন কর্মী নিহত ও সাতজন আহত হয়েছে।

সেনা কমান্ড থেকে জানানো হয়েছে, আরো মানুষ গুদামের ধ্বংসস্তুপের নিচে চাপা পড়ে থাকতে পারে।

সেনা কমান্ড থেকে আরো বলা হয়েছে, রাতের বেলা ছোঁড়া ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে শহর কেন্দ্রে একটি ব্যবসা কেন্দ্র, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, একটি আবাসিক ভবন, কয়েকটি কাফে ও রেস্তোরাঁ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ওডেসা বন্দর কৌশলগত দিক দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বন্দর। কৃষ্ণ সাগর দিয়ে ইউক্রেনের শস্য রফতানির জন্য ওই বন্দর খুবই গুরুত্বপূর্ণ পানিপথ। যুদ্ধ চলাকালীন ওই বন্দরের ওপর একাধিকবার হামলা হয়েছে।

ওডেসার ওপর ও হামলা হলো এমন সময় যখন ইউক্রেনও এলাকা পুনর্দখলের জন্য পাল্টা লড়াই চালাচ্ছে। ইউক্রেনের কর্মকর্তারা দাবি করছে, গত তিন দিনে তারা এক বর্গ মাইল এলাকা পুনর্দখল করেছে।

রুশ প্রতিক্রিয়া
রাশিয়া ওডেসার ওপর তাদের সর্বসাম্প্রতিক হামলা নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেনি।

তবে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন মঙ্গলবার দাবি করেছেন, ইউক্রেনের পাল্টা হামলা ব্যর্থ হয়েছে এবং ইউক্রেন সেনাবাহিনীতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

যুদ্ধ-বিষয়ক সাংবাদিকদের সাথে এক বৈঠকে পুতিন বলেছেন, কিয়েভের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ মারাত্মক পর্যায়ে পৌঁছাচ্ছে।

তিনি দাবি করেছেন, ইউক্রেনের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ রাশিয়ার তুলনায় ১০ গুণ বেশি।

তবে ইউক্রেনের পাল্টা হামলা ব্যর্থ হয়েছে এমন কথা মানতে রাজি নন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।

মঙ্গলবার রাতে এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেছেন, ‘আমাদের সৈন্যরা আগাচ্ছে।’

একই মন্তব্য করেছেন দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর কমান্ডার ইন চিফ ভ্যালেরি জালুঝনিও। টেলিগ্রাম তিনি লিখেছেন,. ‘কিছু সাফল্য এসেছে, আমরা আমাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছি, অগ্রগতি হচ্ছে।’

দু’পক্ষই প্রতিদিন শত্রু পক্ষের ক্ষয়ক্ষতির খতিয়ান দিচ্ছে, কিন্তু নিরপেক্ষভাবে ওই সব তথ্য যাচাই করা অসম্ভব।

পুতিন যুদ্ধ সংবাদদাতাদের সাথে তার বৈঠকে যেসব বিবৃতি দিয়েছেন, তাতে মূলত রাশিয়ার জয়গান থাকলেও তিনি স্বীকার করেছেন যে ইউক্রেন সম্প্রতি তাদের সীমান্তের ভেতর থেকে রাশিয়ার ওপর যে হামলা চালিয়েছে তা রাশিয়ার আগে থেকে ধরতে পারা উচিত ছিল।

তিনি বলেন, ইউক্রেনের ভূখণ্ডে এমন একটা ব্যূহ গড়ে তোলার কথা তিনি বিবেচনা করছেন, যাতে দূরত্ব থেকে ইউক্রেনের পক্ষে রাশিয়ায় ঢোকা অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে।

তিনি আরো বলেন, গত বছর অস্ত্র উৎপাদন বাড়ানোর পরেও রাশিয়ার হাতে যথেষ্ট সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যে আঘাত হানার সামরিক সরঞ্জাম, যোগাযোগের যন্ত্রপাতি, বিমান এবং ড্রোন নেই।

বিবিসির ইউরোপ-বিষয়ক ডিজিটাল সম্পাদক পল কারবি বলছেন, এই যুদ্ধের শুরু থেকেই ওডেসা রাশিয়ানদের জন্য একটা গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তু এবং মাঝেমাঝেই ওডেসার ওপর রুশরা ধ্বংসাত্মক ও প্রাণঘাতী হামলা চালিয়েছে।

তিনি বলছেন, সর্বসাম্প্রতিক এ বোমা ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা স্পষ্টতই চালানো হয়েছে আরো পূর্বদিকে ইউক্রেনের সামরিক হামলার জবাবে। রাশিয়া প্রমাণ করতে চাইছে যে ইউক্রেনের বড় বড় শহরগুলোতে আঘাত হানার সক্ষমতা তাদের এখনো রয়েছে।

এর আগে পর্যন্ত রাশিয়া শুধু ওডেসা বন্দরকেই টার্গেট করেছে।

কিন্তু মঙ্গলবার রাতে তারা আবাসিক এলাকাতেও হামলা চালিয়েছে। তবে ঐতিহাসিক শহরটির একেবারে কেন্দ্রস্থল বড়ধরনের ক্ষতির হাত থেকে বেঁচে গেছে বলে পল কারবি জানাচ্ছেন।

গত বছর সেখানে দুটি শিল্পকলা যাদুঘরে আঘাত হানা হয়েছে। কিন্তু শহরের অপেরা ও ব্যালে থিয়েটার হল অক্ষত রয়েছে এবং সেখানে পুরো গ্রীষ্ম মৌসুমে বিভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠান চলছে। ওই শহরে বাস করেন মিশ্র জাতি বর্ণের মানুষ।
সূত্র : বিবিসি

শান্তর শতকে দিনশেষে ভালো অবস্থানে বাংলাদেশ

সকালের সূর্য কি সবসময় দিনের সঠিক পূর্বাভাস দেয়? হয়তো দেয়। তবে আজ দেয়নি। সূর্যের পূর্বাভাস সত্যি হতে দেননি নাজমুল হোসেন শান্ত। তার মোড় ঘোরানো দারুণ ব্যাটিংয়ে শুরুতে হোঁচট খেয়েও পথ হারায়নি বাংলাদেশ। ৫ উইকেটে ৩৬২ রান নিয়ে প্রথম দিন শেষ করে টাইগাররা। ম্যাচের নিয়ন্ত্রণও রেখে দিয়েছে নিজেদের কাছে।

বুধবার মিরপুরে দেখা গেছে সবুজ ঘাসের নতুন পিচ। ভিন্ন অভিজ্ঞতা। পুরনো কেবল নাজমুল হোসেন শান্তের ব্যাটটা। যেই ছন্দে আছে গত কয়েক মাস ধরে, তা এবার টেনে আনলেন আজ আফগানিস্তানের বিপক্ষে। যখন যেদিকে যেভাবে চাচ্ছিলেন, সেভাবেই খেলছিলেন স্বাচ্ছন্দ্যে। কী দুরন্ত, দুর্দান্ত, অনবদ্য একটা ইনিংস! যদিও শেষটা আশানুরূপ হয়নি।

দ্বি-শতক সম্ভব ছিল, সুযোগও ছিল বেশ। অনেক অর্জনও হাতছানি দিয়ে ডাকছিল, নতুন কোনো রেকর্ড হয়তো গড়া হতো। তবে তা আর হলো কই! আমির হামজাকে তুলে মারতে গিয়ে শান্ত বাঁধা পড়লেন দেড় শ’ ছোঁয়ার আগে, ১৭৫ বলে ১৪৬ রান করে। তবে এর আগ পর্যন্ত সবকিছু ঠিক-ঠাকই ছিল। ৫৮ বলে অর্ধশতক আর ১১৮ বলে শতক। বোঝাই যাচ্ছে কতটা সাবলীল ছিলেন মাঠে।

সিরিজের একমাত্র টেস্টে টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ শুরুটা অবশ্য আশানুরূপ হয়নি। ইনিংস বড় করতে পারেননি জাকির হাসান, ফেরেন দ্বিতীয় ওভারেই; দলীয় রান তখন মোটে ৬। ফের যখন আফগানরা উইকেট উদযাপন করলো, ততক্ষণে মাঝে পেরিয়েছে ৪৩ ওভার! দলীয় রান ২১৮। বিশাল এই সময়টাজুড়ে মাহমুদুল হাসান জয়কে সাথে নিয়ে ইনিংসটা সাজান শান্ত।

শান্ত শুরু থেকেই আগ্রাসী মেজাজে খেলতে থাকলেও জয়ের শুরুটা ছিল ধীরে-সুস্থে, দেখেশুনে। মাটি কামড়েই তুলে নেন অর্ধশতক। শতকেরও সুযোগ ছিল। তবে রহমত শাহের শিকার হয়ে ১৩৭ বলে ৭৬ রানেই থামে তার ইনিংস। সুবাদে ভাঙে শান্তের সাথে তার ২১২ রানের জুটি। যা দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে বাংলাদেশের পক্ষে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।

এরপর মুমিনুলকে সাথে নিয়ে আরো ৩৮ রান যোগ করেন তিনি। দলীয় ২৫৬ রানের মাথায় ফেরেন মুমিনুল, তার ব্যাটে আসে ১৫ রান। অতঃপর মুশফিককে সাথে নিয়ে ইনিংস বড় করার চেষ্টা করছিলেন, তবে আর ১৫ রান যোগ হতেই থামতে হয় তাকে। দেশের মাটিতে প্রথম শতক টেস্ট হাঁকিয়ে শান্ত ফেরেন ১৪৬ রানে। দলীয় সংগ্রহ তখন ৪ উইকেটে ২৭১।

এরপর লিটন দাসকে সাথে নিয়ে মুশফিক চেষ্টা করেন নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছেই রাখতে, কিন্তু মোটে ৯ রান করেই লিটন আউট হওয়ায় শঙ্কা দেখা সমর্থকদের মনে। ৭২ রানের মাঝে ৪ উইকেট হারানোয় মনে হচ্ছিলো হয়তো উল্টো স্রোত হয়তো বইতে শুরু হয়েছে, তবে তা আর হতে দেননি মুশফিক-মিরাজ জুটি।

মুশফিক ও মিরাজ মিলে ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে দারুণ ব্যাট করেছেন। দিনশেষেও অবিচ্ছিন্ন ছিল তাদের জুটি। এই দুজনের ব্যাটে ভর করে শেষ ১৫ ওভারে কোনো উইকেট হারায়নি বাংলাদেশ। যদিও আফগানিস্তানের স্লো ওভার রেটের কারণে প্রথম দিনের খেলা শেষ হয় মাত্র ৭৯ ওভারে। মুশফিক ৬৯ বলে ৪১ ও মিরাজ অপরাজিত আছেন ৬৬ বলে ৪৩ রানে। দলের সংগ্রহ ৫ উইকেটে ৩৬২।

মার্কিন নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্য নিয়ে চীনের প্রতিক্রিয়া

মার্কিন নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে মন্তব্য করেছেন, সে বিষয়ে নিজেদের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে চীন। চীন বলেছে যে- মার্কিন নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে শেখ হাসিনার বক্তব্য ‘শুধু বাংলাদেশের জনগণের শক্তিশালী অবস্থান নয়, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের, বিশেষকরে উন্নয়নশীল বিশ্বের একটি বড় অংশের মনে প্রতিফলিত।’

বাংলাদেশের ওপর নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে মন্তব্য করে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ওয়াং ওয়েনবিন বলেন, ‘আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক মন্তব্যটি লক্ষ্য করেছি। প্রকৃতপক্ষে, নিজস্ব জাতিগত বৈষম্য, বন্দুক সহিংসতা এবং মাদকের বিস্তারের সমস্যাগুলোর প্রতি অন্ধ দৃষ্টি রেখে, একটি নির্দিষ্ট দেশ দীর্ঘদিন ধরে গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের অজুহাতে অনেক উন্নয়নশীল দেশ এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে আসছে।’

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও চীন ঐতিহ্যগতভাবে বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন,‘আমরা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষায়, স্বাধীন দেশীয় ও বৈদেশিক নীতিকে সমুন্নত রাখতে এবং এর জাতীয় বাস্তবতার সাথে মানানসই উন্নয়নের পথ অনুসরণে দৃঢ়ভাবে সমর্থন করি।’

তিনি বলেন, তারা সব ধরনের আধিপত্য ও ক্ষমতার রাজনীতির বিরোধিতা করতে, জাতিসঙ্ঘ-কেন্দ্রিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা, আন্তর্জাতিক আইন দ্বারা প্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলা এবং উদ্দেশ্যের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পরিচালনার মৌলিক নিয়মগুলোকে সমুন্নত রাখতে বাংলাদেশ ও অন্যান্য দেশের সাথে একত্রে কাজ করতে প্রস্তুত। এবং জাতিসঙ্ঘের সনদের নীতিগুলো এবং মানবজাতির জন্য একটি ভাগ করা ভবিষ্যতসহ একটি সম্প্রদায় গড়ে তুলুন। সূত্র : ইউএনবি

কুষ্টিয়ায় দু’গ্রামবাসীর সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ১৫

এলাকার আধিপত্ত বিস্তারকে কেন্দ্র করে কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে দু’দল গ্রামবাসীদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে শরিফুল ইসলাম এবং ফজলু মালিথা নামের দু’জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় উভপক্ষের আহত হয়েছে কমপক্ষে আরো ১৫ জন।

বুধবার (১৪ জুন) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে দৌলতপুর উপজেলার ভুড়কাপাড়া নামক গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

দৌলতপুর থানার ভারপাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবর রহমান বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানান, স্থানীয় আধিপত্ত বিস্তারকে কেন্দ্র করে ভুড়কাপাড় গ্রামের দু’পাড়ার লোকজনের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। এরই জের ধরে বিকেলে মাঠে ঘাস কাটতে গিয়ে দু’পক্ষের লোকজনের মধ্যে হাতাহাতি হয়। বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে দু’পক্ষই দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে একে অন্যের ওপর হামলা চালায়। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। সংঘর্ষে শরিফুল ইসলাম এবং ফজলু মালিথা নামের দু’জন মারা যান।
আহতদের দৌলতপুর এবং ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনা চেষ্টা চালাচ্ছে। এলাকায় থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে।

যুক্তরাষ্ট্রের যারা বন্ধু, তাদের শত্রুর প্রয়োজন নেই : মেনন

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যারা বন্ধু, তাদের শত্রুর প্রয়োজন নেই বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের ওয়াকার্স পার্টির সভাপতি ও সংসদ সদস্য রাশেদ খান মেনন।

বুধবার (১৪ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৩-২৪ অর্থ বছরের বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

আলোচনায় তিনি বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যারা বন্ধু, তাদের শত্রুর প্রয়োজন নেই। বেশ কিছু সময় আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে তার বাগে রাখতে স্যাংশন দিয়েছে। এখন নির্বাচনকে উপলক্ষ করে ভিসা নীতি ঘোষণা করেছে। এটা কেবল, দূরভিসন্ধিমূলকই নয়, তাদের ‘রেজিম চেঞ্জে’র কৌশলের অংশ। তারা সেন্টমার্টিন চায়, কোয়াডে বাংলাদেশকে চায়। আর তার জন্য শেখ হাসিনাকে সরিয়ে দেয়া প্রয়োজন। এটা তাদের পুরান নীতির ধারাবাহিকতা।

মেনন বলেন, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বিজয়কে ছিনিয়ে নিতে আমেরিকা বঙ্গোপসাগরে সপ্তম নৌ-বহর পাঠিয়েছিল। তীব্র খাদ্য সংকটের সময় বঙ্গবন্ধুর সরকারকে বিব্রত করতে মধ্যসমুদ্র থেকে গমের জাহাজ ফিরিয়ে নিয়েছিল। বঙ্গবন্ধুর হত্যার পেছনে তাদের কালো হাত ছিল।

সাবেক এ মন্ত্রী বলেন, এখন আবার বর্তমান সরকারকে হটানোর লক্ষ্যে তারা সবকিছু করছে। প্রধানমন্ত্রীর অবস্থানের প্রতি পূর্ণ সমর্থন করে আমি বলতে চাই বাইডেন সাহেব ট্রাম্পকে সামলান। আমাদের ঘর আমরা সামলাবো। নির্বাচন হবে। শেখ হাসিনার সরকারকে রেখেই হবে। বিএনপির উচিত হবে নির্বাচনে অংশ নেয়া।

তিনি বলেন, তারেক রহমান নির্বাচন না করে ২০২৯-এর জন্য অপেক্ষা করতে পারে। কিন্তু বিএনপি এর মধ্যে অস্তিত্বহীন হয়ে পড়বে। তার সেই স্বপ্নও পূরণ হবে না। বাংলাদেশ এগিয়ে চলেছে, এগিয়ে যাবে। উন্নত সমৃদ্ধ অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ পৃথিবীতে মাথা উচু করে দাঁড়িয়ে থাকবে।

রাশেদ খান মেনন আরো বলেন, জামাতের রাজনীতি নিষিদ্ধ করার জন্য আইনমন্ত্রী মাঝে মাঝেই সরকারের উদ্যোগের কথা বলেন। কিন্তু হঠাৎ করেই আমরা দেখলাম যে, সেই জামাতকে পুলিশ বেশ সমাদর করে অন্যের সভা সরিয়ে নিতে বাধ্য করে, জামাতকে ১০ বছর পর প্রকাশ্য সভা করার অনুমতি দিয়েছে। এটা কিসের আলামত আমরা জানি না। এটা স্পষ্ট করে বলা প্রয়োজন জামাত যুদ্ধাপরাধীর দল, ঘাতক দল। যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাদের রায়ে একথা বলেছে। এর জন্য নতুন করে আদালতের রায়ের প্রয়োজন নাই। জামাত কিন্তু তার অবস্থান থেকে এক চুলও সরে নাই। ওই সমাবেশ করে নির্বাচন নিয়ে বিএনপির দাবিরই পুনরাবৃত্তি করেছে। বিএনপির সাবেক নেতা নাজমুল হুদা বলেছিলেন বিএনপি-জামাত একই বৃন্তের দু’টি ফুল। যে কথাটা আমি সবসময় বলি, এখনো বলছি সাপের মুখে চুমু খেলে সাপ ছোবলই মারে। জামাত-হেফাজতের সাথে তোষামোদ-সমঝোতা সেই ফলই দেবে। আমেরিকার ক্ষেত্রে একই কথা বলা যায়।

ভিসা নীতিতে সরকারের হাঁটু কাঁপছে : মির্জা ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আওয়ামী লীগের কারণে আজকে ভিসা নীতি ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। অথচ তারা বলছে তারা নাকি ভয় পাই না। এমন ভয় পেয়েছে যে তাদের হাঁটু কাঁপতে শুরু করেছে। কারণ তাদের তো সবাই বিদেশে, টাকা পাচার করেছে বিদেশে। ভিসা নীতি এমন হয়েছে, এবার যদি তুমি আবার ভোট কারচুপি করতে যাও, এবার যদি দিনের ভোট রাতে কর, তাহলে এবার রেহাই নাই।

বুধবার (১৪ জুন) বিকেলে চট্টগ্রাম নগরের কাজির দেউরি মোড়ে বিএনপির অঙ্গসংগঠন যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের উদ্যোগে আয়োজিত তারুণ্যের সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ফখরুল ইসলাম বলেন, কী করেছে দেশটাকে দেখেন, কোথায় নিয়ে ফেলেছে! লজ্জায় আমরা মুখ দেখাতে পারি না, কি কারণে স্যাংশন এসেছে। আমেরিকা থেকে স্যাংশন, কেন? র‌্যাবকে কেন স্যাংশন দেয়া হয়েছে? র‌্যাবকে কারা আমাদের ভাইদের গুম করতে, খুন করতে বলেছে? এ সরকার এসব করতে বলেছে।

তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য লড়াই করছে না, মানুষের ভোটের অধিকারের জন্য লড়াই করছে। বেকারদের চাকরির অধিকারের জন্য লড়াই করছে। মানুষের বেঁচে থাকার অধিকারের জন্য লড়াই করছে।

জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর সভাপতিত্বে চট্টগ্রাম বিভাগীয় তারুণ্য সমাবেশে প্রধান বক্তা ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান, বরকত উল্লাহ বুলু, মোহাম্মদ শাহজাহান, মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন, গোলাম আকবর খোন্দকার, চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম, বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন, সদস্য সচিব আবুল হাশেম বক্কর, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান, স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি এস এম জিলানী, যুবদলের কেন্দ্রীয় ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম মিল্টন, স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসান, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ, সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল, যুবদলের কেন্দ্রীয় সহ সভাপতি নুরুল ইসলাম নয়ন, চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সভাপতি মোশাররফ হোসেন দীপ্তি ও সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ শাহেদ, চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এইচ এম রাশেদ খান ও সাধারণ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন বুলু, মহানগর ছাত্রদলের আহবায়ক মো: সাইফুল আলম, সদস্য সচিব শরিফুল ইসলাম তুহিনসহ চট্টগ্রাম বিভাগ, জেলা ও মহানগর প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

মির্জা ফখরুল বিএনপির অনেক নেতা-কর্মী এখনো জেলে ররেছে উল্লেখ করে বলেন, আসলাম চৌধুরী এখনো জেলে বন্দী। তারা অনেককে গুম করেছে, খুন করেছে। সারাদেশে ৬০০-র বেশি দলীয় লোককে গুম করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

আওয়ামী লীগ দেশকে এমন পর্যায়ে ঠেলে দিয়েছেন কোথাও কোনো স্বস্তি নেই, শান্তি নেই। এদেশের মানুষের গলা টিপে ধরেছে এ সরকার। এই দেশ কি আমরা চেয়েছিলাম? এই দেশ কি জিয়াউর রহমান চেয়েছিল? আমরা চেয়েছিলাম একটা গণতান্ত্রিক দেশ, যেখানে আমার ভোট আমি দেব, যাকে খুশি তাকে দেব।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী সমানে বলে বেড়ান এ দেশে নাকি গণতন্ত্র আছে, এ দেশে নাকি সবচেয়ে ভাল ভোট হয়, এ দেশে নাকি মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার আছে। আমরা খুব পরিস্কার বলতে চাই, অনেক হয়েছে ১৪ বছর আপনি আমাদের বহু কিছু কেড়ে নিয়েছেন, আমাদের ন্যায় বিচার পাওয়ার অধিকার কেড়ে নিয়েছেন। আমরা কোর্টে যেতে পারি না, কোর্টে গেলে আমদেরকে সরাসরি জেলে ঢুকিয়ে দেয়া হয়। কোন বিচার হয় না, মিথ্যা মামলা দিয়ে, গায়েবি মামলা দিয়ে আমাদেরকে আটক করে রাখা হয়। এর পরে আমরা হাইকোর্টে গিয়ে আগাম জামিন নিয়ে লোয়ার কোর্টে গেলে আবার কারাগারে পাঠানো হয়। সেখানেই শেষ না কারাগার থেকে যখন হাইকোর্টে জামিন নিতে যাই, তখন আরেকটা নতুন মামলা দিয়ে জেলে আটকে রাখা হয়।

মির্জা ফখরুল বলেন, এ সরকার কত ভীরু, কাপুরুষ, খুব লম্বা লম্বা কথা বলে। বলে ক্ষমতায় আমরা যাব, ক্ষমতায় কিভাবে যাবা? ওই পুলিশ, ওই বিডিআর, ওই রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে তোমরা ক্ষমতায় যাবা!

ফখরুল বলেন, আমরা ক্ষমতায় যেতে চাই না, আমরা ক্ষমতায় যেতে চাই না, আমরা জনগণকে ক্ষমতায় নিতে চাই। আমরা ভোটের অধিকার নিশ্চিত করতে চাই।

ফখরুল বলেন, এ সরকারকে আর সময় দেয়া যাবে না। আজকে আমার দেশের সমস্ত সম্পদ লুট করে তারা বিদেশে পাচার করেছে। বিদ্যুৎ দিতে পারে না। কেন টাকা তো নিয়েছেন সব? টাকা একবার না, তিনবার, চারবার বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে নিয়েছেন। শুধু তাই না অতিরিক্তচার্জ নিচ্ছেন। বিদ্যুতের কার্ডে ১ হাজার টাকা ঢুকালে ৩০০ টাকা নাই। এই টাকা কোথায় গেল? শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগের ঘরে গেল। এই জনগণের টাকা দিয়ে তুমি উন্নয়ন, মেগা প্রজেক্ট করছ।

চট্টগ্রামের টানেলের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এটার দরকার আছে সত্য, কিন্তু আগে তো মানুষের বাঁচার দরকার আছে। আগে ছেলে মেয়েদের লেখাপড়ার বিষয় নিশ্চিত করার ব্যাপার আছে, আগে তো আমার স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করার ব্যাপার আছে, আগে তো আমার চাকরি পাওয়ার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। কলকারখানা কোথায়? নতুন কলকারখানা তো হচ্ছে না, উপরন্তু যা ছিল তা থেকে কমে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, চট্টগ্রামের বেশিরভাগ মানুষ ব্যবসায়ী, আমদানি করেন। এখন ব্যবসায়ী ভাইয়েরা কি আমদানি করতে পারছেন? কেন পারছেন না, ডলার নাই। ডলার নাই কেন? সব তো পাচার করে দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, এ সরকার শুধু ভোট চুরি নয়, জনগণের সম্পদ চুরি করেছে। আমার বাংলাদেশ ব্যাংক চুরি করে নিয়ে গেছে। আমার ব্যাংকগুলোকে চুরি করে খালি করে দিয়েছে। এ রকম লুটেরা, এ রকম চোর যদি সরকারে আর একদিনও থাকে দেশের ক্ষতি হয়ে যাবে। এটা আমার একার কথা নয়, আজকে বিদেশী পত্রিকায়ও একই কথা বের হচ্ছে। ভারতীয় একটি পত্রিকা গতকাল লিখেছে যে বাংলাদেশকে বলা হতো উন্নয়নের রোল মডেল, সেই বাংলাদেশ নাকি এখন মরিচিকা দেখছে। কারণ উন্নয়নের নামে বাংলাদেশকে লুটপাট করা হয়েছে, উন্নয়নের নামে বাংলাদেশকে ফোকলা করে দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, আজকে আমদের সমস্ত অধিকারকে কেড়ে নেয়া হয়েছে। আমাদের ভোটের অধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছে। আজকে আমরা আদালতে গিয়ে যে ন্যায় বিচার পাব, সেই ন্যায় বিচার থেকে আমরা বঞ্চিত হচ্ছি। পার্লামেন্টকে শেষ করে দিয়েছে।

সমাবেশে আগত তরুণদের উদ্দেশ করে তিনি বলেন, এই দেশকে রক্ষা করার দায়িত্ব আপনাদের। আমাদের বয়স হয়ে গেছে। আমরা যখন যুবক ছিলাম, আমরা এই দেশটাকে স্বাধীন করেছি। আমরা স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে লড়াই করেছি। আজকে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে অন্যায়ভাবে মিথ্যা মামলা দিয়ে সাজা দিয়ে তাকে আটক করে রাখা হয়েছে। তিনি অত্যন্ত অসুস্থ। তাকে কারাগারে অনেকদিন আটক করে রাখা হয়েছিল। আমরা বারবার বলেছি তাকে মুক্তি দিন। আমরা জানি না সেখানে তাকে স্লো পয়জনিং করা হয়েছে কিনা? কারণ তিনি এখন যে অসুস্থ হয়েছেন তা হবার কথা নয়। তিনি এখন জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে লড়াই করছেন। তারেক রহমানকে মিথ্যা মামলা দিয়ে নির্বাসনে পাঠানো হয়েছে।

তিনি বলেন, যেদেশে ৪০ লাখ মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা হয়, সেদেশে গণতন্ত্র থাকতে পারে? তরুণ নেতৃত্ব তারেক রহমানের নেতৃত্বে এই বাংলাদেশকে আবার স্বাধীন করব, আবার মুক্ত করব। আবার গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করব।

তিনি বলেন, তরুণ ভাইয়েরা তোমাদের দেশ মাতৃকাকে রক্ষা করো। তোমাদের ভোটের অধিকারকে রক্ষা করো, তোমাদের মাকে মুক্ত করো। এ জন্য সকলকে ইস্পাত কঠিন ঐক্য নিয়ে দাড়াতে হবে এবং এই দেশের মানুষকে মুক্ত করতে হবে। এটাই হওয়া উচিত আজকের তারুণ্য সমাবেশের একমাত্র শপথ।

তিনি বলেন, এই মাটি থেকে জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে দেশকে স্বাধীন করেছিলেন। ইতোমধ্যে এই লুটেরা সরকার বিরোধী আন্দোলনে আমাদের ১৭ জন জীবন দিয়েছেন, তাদের রক্তের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্য আমাদের দেশকে মুক্ত করতে হবে। গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হবে।

তিনি বলেন, এদেরকে নির্বাচনে বিশ্বাস করা যায়? এদেরকে বিশ্বাস করা যায় না। সেজন্য সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে, সমস্ত মানুষকে শামিল করতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোকে এক করতে হবে। সবাইকে এক করে দেশকে রক্ষা করার জন্য, মানুষকে রক্ষ করার জন্য।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, এখন মানুষ বাজারে যেতে পারে না, বাজারে আগুন। চালের দাম বেড়ে গেছে, তেলের দাম বেড়েছে, সবজির দাম বেড়ে গেছে। লবন, চিনি, ডিম, মুরগীসহ সব পণ্যের দাম বেড়েছে। মানুষ ভাল নেই। তারা তো ভাল আছে। তারা বাংলাদেশের মানুষের পকেট কেটে সেই টাকা বাইরে পাঠিয়ে দিয়েছে। তারা গুম করেছে, খুন করেছে, সমস্ত গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিয়েছে। মামলা হামলা চালিয়েছে। রাজনৈতিক নেতৃত্বকে প্রতিদিন মামলা দিয়ে হয়রানি করছে।

সমাবেশে তিনি প্রশ্ন রাখেন এমন কেউ কি আছেন যার বিরুদ্ধে মামলা নেই? তিনি নিজের বিরুদ্ধে ৯৬টি মামলা থাকার কথাও জানান।

ভারতের সাথে বিরোধ মেটাতে বাংলাদেশ পর্যন্ত করিডোরের কথা ভাবছে নেপাল

নেপাল থেকে সরাসরি বাংলাদেশ সীমান্ত পর্যন্ত একটি করিডোরের জন্য ভারত যদি নেপালকে জমি হস্তান্তর করে, তাহলে নেপালও ভারতকে ৩১০ বর্গ কিলোমিটার এলাকা হস্তান্তর করতে পারে। নেপাল-ভারত সীমান্ত বিবাদ মেটাতে এমনই একটা বিকল্পের কথা সামনে এসেছে।

এখন ভারতের ভূখণ্ড দিয়েই নেপাল আর বাংলাদেশের মধ্যে পণ্য চলাচল করে। তবে নেপাল চাইছে, ‘চিকেন নেক’ বলে পরিচিত ভারতের ওই এলাকা যদি নেপালকে হস্তান্তর করে দেয়া হয়, তাহলে তারাও পশ্চিম নেপালের যেসব এলাকা নিয়ে তাদের সাথে ভারতের বিরোধ আছে, ওই অঞ্চল ভারতকে দিয়ে দিতে পারে।

নেপালের প্রধানমন্ত্রী পুষ্প কমল দহল প্রচন্ডার সাম্প্রতিক ভারত সফরের পরে দু’দেশের সীমান্ত বিরোধ মেটাতে এমনই একটা বিকল্পের কথা ভাবছেন নেপালি বিশেষজ্ঞরা।

তবে ভারতীয় বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পশ্চিম নেপালের কালাপানি, লিপুলেখ নদী অঞ্চল ও পশ্চিমবঙ্গের চিকেন নেক করিডোর দুটিই ভারতের কাছে সামরিকভাবে অতি গুরুত্বপূর্ণ, তাই ভারত সম্ভবত এমন বিকল্পে রাজি হবে না।

প্রচন্ডার ভারত সফরের পরেই বিকল্পের খোঁজ
সম্প্রতি ভারত সফরে আসা নেপালের প্রধানমন্ত্রী পুষ্প কমল দহল প্রচন্ডা বলেছেন, তার দেশ শুরু থেকেই বাংলাদেশে সরাসরি একটি রুট চায়।

নেপালে ফিরে যাওয়ার পর প্রচন্ডা বলেছিলেন, তিনি নেপালি সীমান্ত বিশেষজ্ঞদের সাথে বেশ কয়েকটি বিকল্প নিয়ে আলোচনা করেছেন। কিন্তু তার পক্ষ থেকে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দেননি।

নেপালের সীমান্ত বিশেষজ্ঞ বুধিনারায়ণ শ্রেষ্ঠা বলেন, কালাপানি এলাকা নিয়ে ভারত ও নেপালের মধ্যে বিরোধ গত ছয় দশক ধরে চলে আসছে।

তার কথায়, ‘যে মানচিত্র নিয়ে ভারত ও নেপালের মধ্যে বিরোধ, তার সমাধানের একটা উপায় হতে পারে আন্তর্জাতিক রীতি মেনে এলাকা বিনিময় করা। লিপুলেখকে সীমান্ত নদী হিসেবে বিবেচনা করে উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের ৩১০ বর্গকিলোমিটার জমি ভারতের জন্য ছেড়ে দেয়া যেতে পারে। আবার ভারতের কাছ থেকে পূর্বদিকের ৩১০ বর্গকিলোমিটার জমি নিয়ে একটি করিডোর করা যেতে পারে, যাতে পূর্ব নেপালের কাকরভিট্টা সীমান্ত থেকে সরাসরি বাংলাদেশের বাংলাবান্ধা সীমান্ত পর্যন্ত পৌঁছনো যায়।’

সীমান্ত বিরোধে ভারতীয় বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টিভঙ্গি
ভারতীয় বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি একটি গুরুতর সমস্যা এবং ভারত বিশ্বাস করে যে তারা এমন কোনো পদক্ষেপ নিবে না যেন চীনের সাথে ভারতের বর্তমান উত্তেজনার পরিপ্রেক্ষিতে তাদের নিজেদের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হয়।

অবসরপ্রাপ্ত ভারতীয় সেনাবাহিনীর মেজর জেনারেল এস বি আস্থানা বলেছেন, ‘এই সমস্যাটি সমাধানের জন্য সঠিক সময় নয় এটা। আমরা অন্য অনেক সমস্যার সাথে লড়াই করছি।’

ভারত ও চীনা সেনারা বেশ কিছুদিন ধরে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর মুখোমুখি অবস্থান করছে।

নেপালের প্রধানমন্ত্রী প্রচন্ডা মনে করেন, ভূমি বিনিময়ের মাধ্যমে ভারতের সাথে নেপালের সীমান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি করা সম্ভব।

তবে ভারতের সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন, তাদের মনে হয় না যে এখনই কোনো বিকল্প নিয়ে আদৌ আলোচনা করা হচ্ছে।

তা সত্ত্বেও, তাদের মতে, প্রচন্ডা ও নরেন্দ্র মোদির মধ্যে বৈঠকে দেয়া প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে যদি দু’দেশের মধ্যে সীমান্ত বিরোধ মেটানোর কোনো ব্যবস্থাপনা কাজ শুরু করে, তা হবে বিরাট সাফল্য।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রচন্ডার সাথে দেখা করার পর বলেছিলেন যে ওই বৈঠক ভারত ও নেপালের মধ্যে সম্পর্ককে হিমালয়ের উচ্চতায় নিয়ে যাবে এবং দু’দেশের মধ্যে সীমান্ত বিরোধ তাদের জনগণের অনুভূতির ভিত্তিতে সমাধান করা হবে।

ভারত, নেপাল ও কালাপানি বিরোধ
নেপালি সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময় প্রচন্ডা বলেছিলেন, ভারত ও নেপালের মধ্যে সীমান্ত বিরোধ সমাধানের জন্য অন্য বিকল্প পথ খোঁজা যেতে পারে।

কালাপানি এলাকার মালিকানা নিয়ে নেপাল ও ভারতের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে।

নেপাল ও ভারতের মধ্যে ১৮১৬ সালে সুগৌলি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। এর আওতায় মহাকালী নদীকে ভারত ও নেপালের সীমান্ত হিসেবে বিবেচনা করা হতো। দীর্ঘদিন ধরে এর উৎস নিয়ে দু’দেশের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে।

নেপালের কর্মকর্তারা বলছেন, ভারতের স্বাধীনতার পর বেশ কিছু বছর কালাপানি এলাকা নেপালের অধীনে ছিল। স্থানীয় জনগণ নেপাল সরকারকে রাজস্ব দিত, তাদের কাছে এর প্রমাণও রয়েছে।

ভারতীয় বাহিনীকে সেখানে অস্থায়ীভাবে থাকার অনুমতি দেয়া হয়েছিল।

২০১৯ সালে ভারত শাসিত কাশ্মিরের বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহার করার সময়ে যে নতুন মানচিত্র প্রকাশ করে ভারত, সেখানে কালাপানিকে ভারতীয় ভূখণ্ডে দেখানো হয়েছিল।

এর প্রতিক্রিয়ায় নেপাল তার রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মানচিত্রে কালাপানি, লিপুলেখ ও লিম্পিয়াধুরাকে তাদের নিজেদের অঞ্চল হিসেবে দেখিয়েছিল।

ভারতের জন্য সামরিক কৌশলগত এলাকা
ভারতীয় সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল এস বি আস্থানার মতে, ভারতের কাছে ওই অঞ্চলটির কৌশলগত গুরুত্ব অপরিসীম। এটি চীনের সীমান্তের কাছে অবস্থিত লিপুলেখ গিরিপথ আর কৈলাস মানস সরোবরের সংযোগকারী রাস্তার সাথে যোগাযোগের পথ।

তিনি বলেন, ‘ভারত ও নেপাল উভয়েরই নিজস্ব যুক্তি রয়েছে। আমি বিশ্বাস করি, নেপালের উদ্বেগগুলো নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ ও সেগুলো গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা উচিত। ভারতকেও অনেক ভাবতে হবে। কারণ প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখার ওপারেই চীনা সেনারা অবস্থান করছে।’

ভারতীয় সেনাবাহিনীর আরেক অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল অশোক মেহতা, যিনি নেপাল-ভারত সম্পর্কের ওপর নজর রাখেন, তিনি মনে করেন, উভয়পক্ষই সীমান্ত বিরোধ সমাধান করতে আলোচনা চালানোর যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তা খুবই ইতিবাচক। কিন্তু সম্ভাব্য দর কষাকষিটা সহজ হবে না। এ নিয়ে যথেষ্ট জটিলতা রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘নেপাল একতরফাভাবে বিতর্কিত এলাকাগুলোকে মানচিত্রে অন্তর্ভুক্ত করে সংবিধান পরিবর্তন করেছে। কিন্তু ওই জমি ভারতের দখলে রয়েছে। এখন এটি একটি নিরপেক্ষ এলাকার বদলে অনেকটা যেন কাশ্মিরের মতো পরিস্থিতি তৈরি করে দিয়েছে। তাই কোথা থেকে আলোচনাটা শুরু হবে, তা বড় প্রশ্ন।’

চিকেন নেক করিডোরের ভূমিকা
২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসার পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যখন প্রথমবারের মতো কাঠমন্ডু সফর করেছিলেন, তখনই বলা হয়েছিল যে কালাপানি ও লাদাখের আলছি এলাকা নিয়ে যেসব বিরোধ আছে, তা নিয়ে পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের আলোচনায় সমাধান বের করা হবে।

কিন্তু ওই উদ্দেশে একটি বৈঠকও হয়নি।

নেপালের কয়েক কর্মকর্তা বলছেন, মানচিত্র নিয়ে বিরোধ অব্যাহত থাকলেও সীমান্ত ব্যবস্থাপনার প্রযুক্তিগত কাজও খুবই ধীরগতিতে চলছে।

যৌথ সংবাদ সম্মেলনে সীমান্ত বিরোধ নিয়ে প্রচন্ডা ও নরেন্দ্র মোদি দুজনেই কিছুটা আলোচনা করেন। কিন্তু ভারতের দেয়া ২৪ দফা প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এর কোনো উল্লেখ ছিল না।

আবার জমি হস্তান্তর নিয়ে নেপালে যে বিতর্ক চলছে, তা নিয়েও ভারতের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মতামত দেয়া হয়নি।

আস্থানা বলেন, বাংলাদেশের সাথে নেপালের সংযোগকারী সড়কটি শিলিগুড়ি করিডোরের কাছাকাছি এবং এটি ভারতের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে ভারত কখনই এ নিয়ে আপস করবে না।

ওই করিডোরকে চিকেন নেকও বলা হয়। ওই এলাকা মাত্র ১৭ কিলোমিটার চওড়া। যা পশ্চিমবঙ্গকে উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলোর সাথে যুক্ত করেছে এবং নেপাল, বাংলাদেশ ও ভুটান- তিনটি দেশের সীমান্তেরই খুব কাছে। আবার উত্তর-পূর্ব ভারতের সাথে বাকি দেশের সংযোগ রক্ষা করে ওই অংশটিই।

তাই একে উত্তর-পূর্বের জীবন-রেখাও বলা হয়।

ওই এলাকার রেলওয়ে নেটওয়ার্ক ভারতীয় সেনাবাহিনীকে ভারত-চীন সীমান্তের কাছে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা পর্যন্ত পৌঁছাতে সাহায্য করে।

জেনারেল আস্থানা বলেছেন, কোনো সন্দেহ নেই যে শিলিগুড়ি করিডোর ভারতের জন্য ব্যাপক গুরুত্বপূর্ণ। তাই এটা নিয়ে ভারত আপস করবে না।

ভারত, নেপাল ও বাংলাদেশের সমীকরণ
আস্থানা বলেন, ‘আমরা শুধু ভারতীয় ভূখণ্ডে চীনা সেনাদের থামাইনি। আমরা ভুটানের ভূখণ্ডে পৌঁছে গিয়েছিলাম। বুঝতেই পারছেন, ভারত ওই এলাকার ভৌগোলিক অবস্থানকে কতটা গুরুত্বের সাথে দেখে।’

তিনি বলেন, ওই করিডোর নিয়ে যেকোনো ধরনের চুক্তি হলে তা হবে ভারতকে দু’ভাগে ভাগ করার মতো। কারণ উত্তর-পূর্বের সাথে ভারতের যোগাযোগের এটাই একমাত্র পথ।

কাকড়ভিট্টা-ফুলবাড়ি-বাংলাদেশ ট্রানজিট রুট সম্পর্কে নেপাল ও বাংলাদেশের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় ১৯৯৭ সালে।

এরপর বাংলাদেশ নেপালকে মংলা ও চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহারের অনুমতি দেয়।

জেনারেল মেহতা বলেছেন, শিলিগুড়ি করিডোরের কৌশলগত গুরুত্ব সম্পর্কে ভারতের সবাই জানে

তিনি আরো বলছিলেন, নেপালের প্রধানমন্ত্রী বার্তা দিয়েছেন যে তিনি সীমান্ত ইস্যুতে কোনো চাপের মুখে পড়েননি। তিনি ইঙ্গিত দিচ্ছেন, তারা ভারতের সাথে সীমান্ত বিরোধ নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে।

তিনি জানান, ‘আমার মনে হয় যে পররাষ্ট্র সচিবদের মধ্যে আলোচনা শুরু হতে পারে। অন্তত মানুষ বুঝবে যে আলাপ আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে আমার মনে হয় না যে আলোচনাটা খুব সহজ হবে।’
সূত্র : বিবিসি