মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের দোলে এবার জমিয়ে মজা করতে দেখা গেল হার্দিক পান্ডে, রোহিত শর্মাদের। সোমবার গোটা ভারত হোলির রঙে মেতে উঠেছিল যেন। আর সেই রঙের উৎসবের ছোঁয়া লাগে আইপিএলের সমস্ত দলেও।
এখন টানা আইপিএলের ম্যাচ চলছে, প্র্যাকটিস, ম্যাচসহ নানা চাপের মধ্যেও এদিন মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স টিমকে দোল খেলতে দেখা যায়। এই দলের সমস্ত খেলোয়াড়দের আনন্দ, রঙে মেতে উঠতে দেখা যায় এদিন।
মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স টিমের আয়োজিত হোলিতে এদিন রোহিত শর্মাসহ অন্যান্য খেলোয়াড়দের দারুণ মজা করতে দেখা যায়। খেলোয়াড়দের সঙ্গে ছিল তাদের পরিবারও। এদিন হার্দিক পান্ডেকে রোহিতের স্ত্রী রিতিকা সাজদেহর সঙ্গে জমিয়ে রঙ খেলতে দেখা যায়।
এমনকি তাদের রঙ খেলা হয়ে গেলে শেষে সাধারণ প্লেন জল দিয়েও হোলি খেলেন তারা। দিল্লি ক্যাপিটালসের তরফেও হোলির আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে ঋষভ পন্ত, ডেভিড ওয়ার্নার, প্রমুখকে রঙ খেলতে দেখা যায়। ধর্ম, দেশ, ইত্যাদির বিভেদ ভুলে তারা একসঙ্গে রঙের খেলায় রঙিন হয়ে উঠেছিলেন।
কেকেআরের টিমের তরফেও এদিন দোলের আয়োজন করা হয়। সেখানে শ্রেয়স আইয়ার, হর্ষিত রানা, গৌতম গম্ভীর, প্রমুখকে এদিন রঙের খেলায় মেতে উঠতে দেখা যায়। রাজস্থান রয়্যালসের শিবিরেও আয়োজন করা হয়েছিল হোলির। যুবেন্দ্র চাহাল, ধ্রুব জুরেল, স্টিভ স্মিথ প্রমুখও অংশ নেন দোলের উদযাপন।
এদিনের একাধিক ছবি এবং ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় দারুণ ভাইরাল হয়েছে। সব থেকে বেশি নজর কেড়েছে হার্দিক এবং রোহিতের স্ত্রীর দোল খেলা।
প্রসঙ্গত আগামী ২৭ মার্চ মুম্বই ইন্ডিয়ান্স মুখোমুখি হবে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের।
রোহিতের স্ত্রীকে জড়িয়ে ধরে রঙ মাখালেন হার্দিক
মেসির পর ডি মারিয়াও পেলেন মৃত্যুর হুমকি
গত বছর স্ত্রী আন্তোনেল্লা রোকুজ্জোকে লক্ষ্য বানিয়ে মেসিকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল তার জন্মস্থল রোসারিওতে। ব্যাপারটা যে কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা না সেটাই যেন মনে করিয়ে দেওয়া হলো এক বছর পর। মেসির জাতীয় দল সতীর্থ আনহেল ডি মারিয়ার পরিবারকে হুমকি দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে বর্তমানে বেনফিকায় খেলা এই উইঙ্গার যেন তার অঞ্চলে ফেরার চিন্তা না করেন। করলেই তার আত্মীয়দের প্রাণহানি হবে!
মেসির মতোই রোসারিওতে জন্ম ও বেড়ে ওঠা ডি মারিয়ার। ওই শহরেই তার নিকটাত্মীয়রা বাস করেন। জানা গেছে, মিরাফ্লোরেস অঞ্চলের একটি বিল্ডিং কমপ্লেক্সের সামনে স্থানীয় সময় সোমবার রাত ২টা ৩০ মিনিটে একটি ধূসর-রঙা গাড়ি থেকে একটি হুমকি বার্তা ছুড়ে মারা হয়েছে।
বুয়েনেস এইরেস টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই কমপ্লেক্সে ডি মারিয়ার মাসহ আরও বেশ কয়েকজন আত্মীয় থাকেন। হুমকি বার্তায় সান্তা ফে অঞ্চলের শহরে ডি মারিয়াকে না ফেরার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
কালো প্লাস্টিক ব্যাগে মোড়ানো সে কাগজে লেখা ছিল- ‘আপনার ছেলে আনহেলকে বলে দিয়েন যেন সে রোসারিওতে আর না ফেরে। না হলে পরিবারের কোনো সদস্যকে খুন করেই এর বদলা নিব। এমনকি (মাসিমিলিয়ানো) পুয়ারো-ও (সান্তা ফে অঞ্চলের গভর্নর) আপনাদের বাঁচাতে পারবে না। আমরা (শুধু) কাগজ ছুড়ে মারি না। আমরা সিসা (বুলেট) ও মৃত ব্যক্তি ছুড়ে মারি।’
দেশটি বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যম বলছে, এমন হুমকির পেছনের কোনো কারণ এখনো জানা যায়নি। কী কারণে স্থানীয় অন্ধকার জগতকে আনহেল ডি মারিয়া খেপিয়ে তুলেছেন, তা বোঝা যাচ্ছে না। গত বছর মেসির স্ত্রী রোকুজ্জোর পরিবারের মালিকানাধীন একটি দোকানে গুলি ছোড়া হয়েছিল। সঙ্গে বার্তা দেওয়া হয়েছিল, ‘মেসি, তোমার জন্য আমরা অপেক্ষা করছি।’
নতুন এই বার্তা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। আর্জেন্টিনাকে ৩৬ বছর পর বিশ্বকাপ জেতানোর নায়ক ডি মারিয়াকে কেন লক্ষ্য বানানো হয়েছে, সেটা বুঝে উঠতে পারছে না কেউ।
সংবাদমাধ্যম বিএ টাইমস বলছে, এই হুমকির সঙ্গে জড়িত গ্যাংটি মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত।
মৌলভীবাজারে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে একই পরিবারের ৫ জনের মৃত্যু
মৌলভীবাজারে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে তাতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একই পরিবারের পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার ভোরে জেলার জুড়ি উপজেলার পূর্ব গোয়ালবাড়ি গ্রামে মখলিছ মিয়ার বাড়িতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় গুরুতর দগ্ধ এক শিশুকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
নিহতরা হলেন- উপজেলার পূর্ব জুড়ী ইউনিয়নের পূর্ব গোয়ালবাড়ী গ্রামের বাক প্রতিবন্ধী ফয়জুর রহমান (৫০), তার স্ত্রী শিরিন বেগম (৪৫), মেয়ে সামিয়া (১৬), সাবিনা (১৩) ও ছেলে সায়েম (৮)। দগ্ধ অবস্থায় আরেক মেয়ে সোনিয়া বেগমকে (১২) সিলেটের এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয়রা জানায়, সোমবার দিবাগত রাত ২টার দিকে ওই এলাকায় প্রচণ্ড ঝড় হয়। এসময় বিদ্যুৎ ছিল না। কিন্তু ফয়জুর রহমানের বাড়ির টিনের ওপর ৩৩০০ কেভির হাই ভোল্টের পল্লী বিদ্যুতের একটি তার ছিঁড়ে পড়ে ছিল। সেহেরীর পর সাড়ে ৪টার দিকে বিদ্যুৎ আসলে তাদের ঘরে বিদ্যুতায়িত হয়ে সবাই পুড়ে মারা যায়। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করে। এছাড়া দগ্ধ অবস্থায় আরেক শিশুকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।
স্থানীয় ইউপি সদস্য এমদাদুল ইসলাম চৌধুরী মাছুম বলেন, দিনমজুর ফয়জুল রহমান বাক প্রতিবন্ধী হলেও সহজ সরল মানুষ ছিলেন। তাদের পরিবারের ৫ জনের মৃত্যুতে গ্রামের সবাই শোকাহত।
অবশেষে বচ্চন পরিবারে স্বস্তি, শাশুড়ির সঙ্গে হোলি খেললেন ঐশ্বরিয়া
অবশেষে বচ্চন পরিবারে চূড়ান্ত স্বস্তির নিশ্বাস। পরিবারে সঙ্গে রঙের উৎসব পালন করলেন ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন। বচ্চন পরিবারের নাতনি নভ্যা নাভেলি নন্দার শেয়ার করা ছবিতে পরিবারের সঙ্গে দোল উদযাপন করতে দেখা গেছে ‘রাইসুন্দরী’কে।
কিন্তু হঠাৎ কেন এত আলোচনায় নভ্যার শেয়ার করা ঐশ্বরিয়ার ছবি? উত্তর খুঁজতে ফিরতে হবে পেছনে। শোনা গিয়েছিল, বচ্চন পরিবারের সঙ্গে বনিবনা হচ্ছে না। আর সে কারণেই নাকি বাড়ি ছেড়েছেন ঐশ্বরিয়া। তার জন্মদিনে বচ্চন পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো শুভেচ্ছা আসেনি। পারিবারিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তাদের একসঙ্গে দেখা গেলেও দূরত্ব যেন কমছিল না। তবে এরপর দুজনের একসঙ্গে ছবি শেয়ার করেছিলেন অভিষেক বচ্চন। তবে পরিবারের সঙ্গে দেখা যায়নি ঐশ্বরিয়াকে। গুঞ্জনের পর এই প্রথম পরিবারের সঙ্গে দেখা গেল ঐশ্বরিয়াকে।
সামাজিকমাধ্যমে হোলির আগের রাতে হোলিকা দহন পালনের ছবি শেয়ার করেছিলেন নভ্যা। বাড়ির উঠানে আগুন জ্বেলে পালন হয় হোলিকা দহন উৎসব। একে অপরকে আবিরের টিপ পরিয়ে দেন সবাই। এরপর দোলের দিন সকালেও একগুচ্ছ ছবি শেয়ার করেন নভ্যা। আদরের নাতনি জড়িয়ে ধরে রয়েছেন অমিতাভ বচ্চন ও জয়া বচ্চনকে। কখনো আবার সেই ছবিতেই ধরা পড়ল ছোটদের মতোই দোল খেলছেন জয়া। একেবারে অন্য মেজাজে দেখা গেল বর্ষীয়ান অভিনেত্রীকে।
সেইসঙ্গে খাওয়া-দাওয়ার ছবিরও শেয়ার করেছেন নভ্যা। বচ্চন পরিবারে এদিন বাড়তি আয়োজন ছিল খাওয়া-দাওয়ারও। আর নভ্যার শেয়ার করে সেই ছবিতে দেখা মিলল ঐশ্বরিয়ারও। সেখানেই দেখা যায়, মেয়ে আরাধ্যাকে নিয়ে বচ্চন পরিবারের সঙ্গেই বিশেষ দিনটি কাটাচ্ছেন ঐশ্বরিয়া। তবে তিনি নিজে বা অভিষেকও সামাজিকমাধ্যমে নিজেদের কোনো ছবি শেয়ার করে দোলের শুভেচ্ছা জানাননি অনুরাগীদের।
২০০৭ সালে বচ্চন পরিবারের বউ হন ঐশ্বরিয়া। তারপর থেকে শ্বশুর-শাশুড়ির সঙ্গেই সংসার করেছেন সাবেক এই বিশ্বসুন্দরী। তবে মাস খানেক ধরেই কানাঘুষো পরিবারে নিত্য-অশান্তি লেগেই রয়েছে। তবে সেই সব ভুলে আনন্দ উৎসবে একজোট হয়েছেন সবাই। যা দেখে খানিক স্বস্তিতে অভিষেক-ঐশ্বরিয়া জুটির ভক্তরা।
জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে ‘গণহত্যা দিবস’ পালন
নিউইয়র্ক : নিউইয়র্কস্থ জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে আজ যথাযথ মর্যাদা ও বিনম্র শ্রদ্ধার সাথে ‘জাতীয় গণহত্যা দিবস’ পালন করা হয়। দিবসটি উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানের আলোচনা পর্বে জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ আব্দুল মুহিত ১৯৭১ সালে গনহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ে, ইতিহাসের এই ভয়াবহ ঘটনার নথিসমূহ আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে তুলে ধরার উপর গুরুত্বারোপ করেন। এর পাশাপাশি, জাতীয়ভাবে এই নথিসমূহ স্থায়ীভাবে সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। এসময় রাষ্ট্রদূত মুহিত, ১৯৭১ সালে গনহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ে জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন কাজ করে যাচ্ছে এবং এই গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এ প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলে উল্লেখ করেন।
এছাড়াও রাষ্ট্রদূত মুহিত ১৯৭১ সালের গণহত্যার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধের ত্রিশ লাখ শহীদ, ২ লাখ নির্যাতিত মা-বোন এবং ১ কোটি মানুষকে বাস্তুচ্যুত করার ইতিহাস উল্লেখ করে বলেন, এর সূচনা হয়েছিল ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ ‘অপারেশন সার্চলাইট’ এর মাধ্যমে। তিনি আরও বলেন, ২৫ মার্চ গণহত্যা, যার উদ্দেশ্য ছিল আমাদের রাজনৈতিক স্বাধীনতা ও স্বাধীনতার আকাঙ্খাকে চিরতরে চূর্ণ-বিচূর্ণ করা এবং জাতি হিসেবে আমাদের মেরুদন্ড ভেঙ্গে দেয়া। কিন্তু হানাদার বাহিনীর সে উদ্দেশ্য পূর্ণ হয়নি। এর বদলে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উদাত্ত্ব আহ্বানে সাড়া দিয়ে নয় মাস ব্যাপী রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল বাঙালি জাতি। যার পরিসমাপ্তি ঘটেছিল স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের জন্মের মধ্য দিয়ে।
‘জাতীয় গণহত্যা দিবস’ উপলক্ষে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে মিশনের সকল স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারিগণের উপস্থিতিতে দিবসটি পালন করা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতেই দিবসটির স্মরণে একমিনিট নিরবতা পালন ও গণহত্যার শিকার শহীদদের স্মরণে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন করা হয়। এর পর রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী পাঠ এবং শহীদদের স্মরণে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। এছাড়াও অনুষ্ঠানে ৭১ এর গণহত্যার উপর একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
বাংলাদেশ কোনো দেশের প্রভুত্ব মানবে না: মির্জা ফখরুল
রক্তের দামে কেনা বাংলাদেশ কোনো দেশের প্রভুত্ব মানবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘কোনো দেশ যদি মনে করে, আমাদের ওপরে প্রভুত্ব করবে, তাদের জেনে রাখতে হবে, বাংলাদেশের মানুষ কোনো দিন সেই প্রভুত্ব স্বীকার করেনি। মোগল আমলে করেনি, ব্রিটিশ আমলে করেনি, পাকিস্তান আমলে করেনি, এখনো করবে না।’
আজ সোমবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশে মির্জা ফখরুল ইসলাম এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা রক্তের দাম দিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন করেছি। কারও দয়ায় বাংলাদেশ স্বাধীন হয়নি।’ এ প্রসঙ্গে তিনি প্রয়াত গণসংগীতশিল্পী ফকির আলমগীরের ‘দাম দিয়ে কিনেছি বাংলা, কারও দানে নয়’, গানটি উদ্ধৃত করেন।
ছাত্র ও যুবসমাজকে সেই বোধ নিয়ে রুখে দাঁড়ানোর আহŸান জানিয়ে ফখরুল বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বিশ্ব নিশ্চয়ই বিষয়গুলো দেখবে, অতীতেও দেখেছে। আমরা বিশ্বাস করি, এই দেশকে পরাধীন করার ক্ষমতা কারও নেই। এই ভয়াবহ শাসকগোষ্ঠী, যারা নানা নাটক করে, জোর করে ক্ষমতা দখল করে আছে, তাদের একদিন চলে যেতেই হবে।’
এ জন্য জনগণকে নিয়ে অসীম সাহসিকতার সঙ্গে ছাত্র-শ্রমিক, যুবকÑসবাইকে মাঠে নামার আহŸান জানান বিএনপির মহাসচিব। তিনি বলেন, যারা পুলিশের একটি হুইসেল (বাঁশি), একটি সাউন্ড গ্রেনেডের আওয়াজ শুনে পালাবে নাÑসেই ধরনের মানসিকতা তৈরি করতে হবে, সেই ধরনের সাহস তৈরি করে দাঁড়াতে হবে।
এ প্রসঙ্গে পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী কারাবন্দী ইমরান খানের কথা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘পাকিস্তানের দিকে তাকিয়ে দেখুন। আমরা পাকিস্তানের নাম শুনলেই সবাই ফুসকে উঠি, অন্যভাবে চিন্তা করি। ইমরান খান দেখিয়ে দিয়েছেন কীভাবে তরুণদের মাঠে নিয়ে আসতে হয়। তিনি দেখিয়ে দিয়েছেন, কীভাবে নারীদের মাঠে আনতে হয়।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমাদের চেয়ে কম অত্যাচার তাদের ওপরে হয়নি। তারা সেনানিবাসে আক্রমণ করেছিল, তারা মার্কিনদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে, তারা সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।
পাকিস্তানে এই অবস্থান নিয়ে কেউ কোনো দিন রাজনীতিতে টিকতে পারে না। ইমরান খান জেলে গেছেন, ৩৪ বছর সাজা হয়েছে। তাঁর দুই হাজারের বেশি নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জোর করে দল বদল করা হয়েছে, তার দলের প্রতীক নিয়ে গেছে। তখন তিনি নির্দেশ দিয়েছেন, নির্বাচনে যাও এবং সেই নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ঝাঁপিয়ে পেড়েছে সেই তরুণেরা।’
বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রী নিপীড়নের ঘটনার উল্লেখ করে বিএনপির মহাসচিব এর প্রতিবাদ না হওয়ায় ছাত্র ও নারীদের প্রতি হতাশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘এই যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকেরা ছাত্রীদের শ্লীলতাহানি করেছে, আপনারা কী করছেন, আপনারা কী করেছেন। একটা প্রতিবাদ পর্যন্ত করেননি। কোথায় গেল সেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, কোথায় গেল সেই ছাত্ররাÑযারা স্বাধীনতাযুদ্ধ করেছে, ভাষা আন্দোলন করেছে, নব্বইয়ে গণ-অভ্যুত্থান করেছে। কোথায় গেছে তারা।’
আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, লক্ষ্য, আকাঙ্ক্ষা, স্বপ্নÑসব ধ্বংস করে দিয়েছে বলে অভিযোগ করেন বিএনপির মহাসচিব। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের আকাঙ্ক্ষা, ভোট দিয়ে প্রতিনিধি নির্বাচন করা, গণতান্ত্রিক পরিবেশে বাস করা, স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারা, লিখতে পারা, ভিন্নমত পোষণ করতে পারা, রাষ্ট্রে জনগণের মালিকানাÑসব তারা কেড়ে নিয়েছে।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘তারা সংবিধানও কাটাছেঁড়া করে শেষ করেছে। এই সংবিধানে এখন তিনটি অনুচ্ছেদ আছে। যে অনুচ্ছেদ আপনি কোনো দিন পরিবর্তন করতে পারবেন না। সেখানে একজন ব্যক্তি, একটি পরিবার ছাড়া আর কিছু নেই। সর্বজন গ্রহণযোগ্য নির্দলীয় তত্ত¡াবধায়ক সরকারের অধীন নির্বাচনী ব্যবস্থা তুলে নিয়ে আবার এক দলীয় সরকারের অধীন নির্বাচন ফিরিয়ে এনেছে। সেটা করতে গিয়ে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভেঙে তছনছ করে দিয়েছে।’
আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে ফখরুল বলেন, ২০১৪ সালের নির্বাচনে তারা বিরোধী দলকে আসতে দেয়নি। অত্যন্ত সুকৌশলে ২০১৮ সালে দিনের ভোট রাতে করেছে। এবার আরও চমৎকার নাটক করে নিজেরা নিজেরা ডামি প্রার্থী খাড়া করে নির্বাচন করেছে। যারা বিরোধী দল (জাতীয় পার্টি) বলে দাবি করে, তাদের আসন বণ্টন করে নির্বাচন করেছে। সেই নির্বাচনকে কেউ গ্রহণ করেনি। বাংলাদেশে মানুষ গ্রহণ করেনি, আন্তর্জাতিক বিশ্বও গ্রহণ করেনি।
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, তাঁর ঘোষণার মধ্য দিয়ে জনগণ স্বাধীনতাযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। তিনি কারও নাম উল্লেখ করে বলেন, ‘আজ ২৫ মার্চ কালরাত। আওয়ামী লীগ অস্বীকার করতে পারে, এই দিন সন্ধ্যা পর্যন্ত চেষ্টা করেছে পাকিস্তানের সঙ্গে একটা দফারফা করার জন্য। যখন ব্যর্থ হয়েছে, তখন আমাদের তৎকালীন রাজনীতিক নেতৃবৃন্দ যাঁরা ছিলেন, তাঁরা কেউ দেশে থাকেননি। ভারতে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন। আর মূল নেতা আত্মসমর্পণ করে পাকিস্তানে চলে গেছেন। পরে জিয়াউর রহমানের ঘোষণার মধ্য দিয়ে মানুষ যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল বলেই ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন হয়েছে।’
২৯ অক্টোবর গ্রেপ্তার হওয়ার পর সাড়ে তিন মাস কারাবন্দী ছিলেন মির্জা ফখরুল। মুক্তির পর এই প্রথম তিনি সমাবেশে বক্তব্য দিলেন। ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল এই সমাবেশের আয়োজন করে। এতে সভাপতিত্ব করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম)।
হাফিজ উদ্দিন বলেন, স্বাধীনতাযুদ্ধ করেছে এ দেশের সাধারণ মানুষ, কৃতিত্ব নিতে চায় আওয়ামী লীগ।
যে গণতন্ত্রের জন্য যুদ্ধ হয়েছিল, সেই গণতন্ত্রকে ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগ প্রথম সুযোগেই বিলুপ্ত করে দিয়ে একদলীয় বাকশাল প্রতিষ্ঠা করেছে। তিনি বলেন, ‘পাকিস্তানি আমলে কোনো ভোট কারচুপি ছিল না। ১৯৭৩ সালে মানুষ অবাক হয়ে দেখল, জাতীয় সংসদে কীভাবে ভোট কারচুপি হচ্ছে, কীভাবে প্রার্থী, ব্যালট বাক্স হাইজ্যাক (ছিনতাই) হচ্ছে। সুতরাং বোঝা যাচ্ছে, রাষ্ট্রক্ষমতায় আসীন সেই দল আওয়ামী লীগÑতাদের মধ্যে গণতন্ত্রের চেতনা তখনো ছিল না, আজও নেই।’
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, এখনো দেশে নির্বাচনের নামে প্রহসন হয়। গত ৭ জানুয়ারি যে নির্বাচন হয়েছে, সেই নির্বাচনকে যুক্তরাষ্ট্রসহ পৃথিবীর উন্নত কোনো দেশ স্বীকৃতি দেয়নি। জাতিসংঘ পর্যন্ত বলেছে, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে এটি কোনো নির্বাচনই না। যেহেতু অবৈধভাবে কারচুপির মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছে, তাই এই সরকার নিজেদের বৈধ সরকার দাবি করতে পারে না।
বিএনপির নেতৃত্বে যে আন্দোলন গড়ে উঠবে, সে আন্দোলনে সবাইকে রাজপথে যোগদান করার আহŸান জানান হাফিজ।
মুক্তিযোদ্ধা দলের সাধারণ সম্পাদক সাদেক আহমেদ খানের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তৃতা করেন মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান, জয়নাল আবেদীন, বিএনপির ঢাকা মহানগর নেতা ইশরাক হোসেন, রফিকুল আলম প্রমুখ।
সমাবেশ উদ্বোধন করেন বিএনপির স্বাধীনতা দিবস উদযাপন কমিটির সদস্যসচিব ও দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, যুবদলের সুলতান সালাহউদ্দিনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।
বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়কে পেছনে রেখে, ফুটপাতে চেয়ার পেতে এ সমাবেশ করা হয়। সমাবেশের পেছনে একটি কাপড়ের ওপর বাংলা ও ইংরেজিতে লেখা ছিল ‘ভারতীয় পণ্য বর্জন করুন’। তবে বক্তাদের কেউ কেউ ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে কথা বললেও পণ্য বর্জনের বিষয়ে কোনো কথা বলেননি।
জিয়া-এরশাদের উদ্দ্যোগহীনতার কারণে বাংলাদেশ গণহত্যার স্বীকৃতি পায়নি: মেনন
ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এমপি বলেছেন, জিয়া-এরশাদের উদ্দ্যোগহীনতার কারণেই এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পায়নি। এখন সেই একই রাজনীতির পথে তারা ভারতীয় পণ্য বর্জনের নামে প্রতিবেশী দুই দেশের সম্পর্ক নষ্ট করার চেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে।
সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবসের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির দাবিতে ওয়ার্কার্স পার্টি আয়োজিত সমাবেশে রাশেদ খান মেনন এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের গণহত্যার স্বীকৃতি না দেওয়ার কারণে ফিলিস্তিনে ইসরাইলি গণহত্যাকে উপেক্ষা করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। সরকারকে বাংলাদেশের গণহত্যা দিবসের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ নিতে হবে।
ওয়ার্কার্স পার্টি ঢাকা মহানগর উত্তর কমিটির আহবায়ক সাদাকাত হোসেন খান বাবুলের সভাপতিত্বে ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহŸায়ক কিশোর রায়ের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন দলের পলিটব্যুরোর সদস্য কামরূল আহসান, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আবুল হোসাইন, আমিরুল হক আমিন, মোস্তফা আলমগীর রতন, সাব্বাহ আলী খান কলিন্স, যুবমৈত্রী সভাপতি তৌহিদুর রহমান, নারী মুক্তি সংসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শিউলী শিকদার, জাতীয় গার্হস্থ্য নারী শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মুর্শিদা আখতার নাহার, ছাত্রমৈত্রীর সভাপতি অতুলন দাস আলো প্রমুখ।
ভারতীয় পণ্য বর্জন আন্দোলনের নিন্দা: ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরোর এক বিবৃতিতে বিএনপি ও তার সহযোগীদের তথাকথিত ‘বয়কট ইন্ডিয়া’ ও ভারতীয় পণ্য বর্জন আন্দোলনের ব্যাপারে তীব্র ক্ষোভ, ঘৃণা ও নিন্দা জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, স্বাধীনতার মাসে তারা বক্তৃতা, বিবৃতি ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই প্রচার তীব্র করেছে। বিএনপি-জামায়াতের এই রাজনীতি নতুন নয়। অতীতে পাকিস্তানি শাসকদের মত গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে বিভ্রান্ত করতে ও সা¤প্রদায়িক সুবিধা নিতে ভারতবিরোধিতার একই রাজনীতি করেছে। এবারও বিগত নির্বাচনী রাজনীতিতে পরাজিত হয়ে তারা তাদের পুরাতন সা¤প্রদায়িক রাজনীতি শুরু করেছে।
বিবৃতিতে বিএনপি-জামায়াত ও সহযোগীদের এই ভ্রান্ত প্রচারে বিভ্রান্ত না হতে ও তাকে প্রতিহত করে দেশে শান্তি স্থিতিশীলতা অব্যাহত রাখতে জনগণের প্রতি আহŸান জানানো হয়।
বড় ভাইকে খুন , শেষরক্ষা হলো না
ফেনীর সোনাগাজীতে বাগানের ঝরা পাতা কুড়ানোকে কেন্দ্র করে ঝগড়ার একপর্যায়ে কাঠ দিয়ে মাথায় আঘাত করে বড় ভাই ইব্রাহিম খলিলকে (৩৯) খুন করেছিলেন মো. মোশারফ হোসেন ওরফে সবুজ (৩৭) নামের এক তরুণ। ১০ মার্চ ইব্রাহিমকে মাথায় আঘাতের পর ১৩ মার্চ চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। ঘটনার পরপরই সোনাগাজী থেকে পালিয়ে চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় চলে যান মোশারফ। সেখানে একটি ইটভাটায় কাজও নেন। তবে পালিয়ে থেকেও শেষরক্ষা হয়নি। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে সোনাগাজীর পুলিশ আজ সোমবার সকালে তাঁকে সাতকানিয়ার কেরানীহাটের একটি ইটভাটা থেকে গ্রেপ্তার করে।
নিহত ইব্রাহিম খলিল ও তাঁর হত্যায় অভিযুক্ত মোশারফ হোসেন উপজেলার চর চান্দিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম চর চান্দিয়া এলাকার সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে। সোনাগাজী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুদ্বীপ রায় বলেন, হত্যাকাণ্ডের পর মোশারফ হোসেন এলাকা ছেড়ে পালিয়ে চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার কেরানীহাট এলাকায় গিয়ে চট্টগ্রাম ব্রিকফিল্ড নামে একটি ব্রিকফিল্ডে কাজ নেন। তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে তাঁর অবস্থান নিশ্চিত হয়ে সোনাগাজী মডেল থানা-পুলিশের দুটি দল আজ সকালে সেখানে অভিযান চালিয়ে মোশারফকে গ্রেপ্তার করে।
ওসি সুদ্বীপ রায় আরও বলেন, গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মোশারফ হোসেন তাঁর বড় ভাইকে মাথায় আঘাত করে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। আজ দুপুরে তাঁকে আদালতের মাধ্যমে ফেনীর কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ৯ মার্চ বিকেলে উপজেলার পশ্চিম চর চান্দিয়ায় বাড়ির পাশের একটি বাগানে গাছ থেকে ঝরে পড়া পাতা কুড়ানোকে কেন্দ্র করে ইব্রাহিম খলিলের সঙ্গে তাঁর ভাই মোশারফের কথা-কাটাকাটি হয়। পরদিন আবারও একই বাগানে পাতা কুড়ানোকে কেন্দ্র করে ঝগড়ার একপর্যায়ে মোশারফ হোসেন ও তাঁর স্ত্রী সুলাতানা আক্তার ইব্রাহিম খলিলকে লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করলে তিনি অজ্ঞান হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে ইব্রাহিম খলিলকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে ফেনী জেনারেল হাসপাতাল নেন। সেখান থেকে তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৩ মার্চ সন্ধ্যায় তিনি মারা যান।
এ ঘটনায় ১৫ মার্চ শুক্রবার রাতে নিহত ব্যক্তির স্ত্রী নাছিমা আক্তার বাদী হয়ে দেবর মোশারফ হোসেন ও তাঁর স্ত্রী সুলতানা আক্তারকে আসামি করে সোনাগাজী মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
চাকরির প্রলোভনে দুবাই পাচার : দুই নারী গ্রেফতার
জান্নাত আক্তার (১৭), ভালো চাকরি দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তাকে পাচার করা হয় দুবাই। সেখানে তার কাজ হয় যৌনকর্মী হিসেবে। ইচ্ছের বিরুদ্ধে দিনের পর দিন তাকে বন্দী থাকতে হয় দুবাইয়ের অন্ধকার ঘরে। এক সময় সেখানেই তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ফারজানা (৩৫) ও সোহাগী ওরফে রিয়াকে (৩০) গ্রেফতার করেছে র্যাব।
র্যাব জানায় ২০২৩ সালের ১৬ আগস্ট রাজধানীর দক্ষিণ যাত্রাবাড়ী এলাকার বাসিন্দা ভিকটিম জান্নাত আক্তারকে (১৭) ফারজানা ও তার বোন সোহাগী মিলে দুবাইতে যৌনকর্মী হিসেবে পাচার করে দেয়। পরবর্তীতে সেখানে অবস্থানকালীন ওই বছরেরই ৮ সেপ্টেম্বর জান্নাত মারা যায়। দুবাইতে অবস্থিত বাংলাদেশ অ্যাম্বাসি হতে অন্য একজন প্রবাসী বাঙালী ভিকটিমের লাশ পরিবারের কাছে পৌঁছে দেয়ার জন্য ২৪ নভেম্বর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেন। ২৬ নভেম্বর জান্নাতের পরিবার বিষয়টি জানতে পারে। পরবর্তীতে লাশ দেশে নিয়ে আসার ব্যবস্থা করা হয় এবং জান্নাত এর পিতা জাহাঙ্গীর বাদি হয়ে ২৮ নভেম্বর মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন ট্রাইব্যুনালে মানবপাচার ও হত্যার অভিযোগে একটি মামলা করেন। মামলায় ফারজানা ও সোহাগীসহ অজ্ঞাত আরো ২-৩ জনকে আসামি করা হয়।
আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ঘটনার প্রধান দুই আসামি সোহাগী ওরফে রিয়া (৩০), স্বামী-আ: হালিম, দক্ষিণ যাত্রাবাড়ী, ঢাকা এবং তার দুবাই প্রবাসী বোন ফারজানা (৩৫), দক্ষিণ যাত্রাবাড়ী, ঢাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।
র্যাব জানায়, জান্নাত আক্তার (১৭) দীর্ঘদিন যাবৎ তার পরিবারের সাথে রাজধানীর দক্ষিণ যাত্রাবাড়ী এলাকায় আসামিদের পাশাপাশি বাড়িতে বসবাস করে আসছিল। জান্নাত এর পিতা জাহাঙ্গীর সিএনজি চালিত অটোরিকশা চালিয়ে এবং তার মা অন্যের বাড়িতে কাজ করে সংসার চালাতেন। এভাবে টানাপড়েনের সংসারে অর্থকষ্টে জর্জরিত থাকা অবস্থায় ভিকটিম জান্নাতকে তাদের প্রতিবেশী সোহাগী ও তার দুবাই প্রবাসী বোন ফারজানা দুবাই নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রলোভন দেখাতে শুরু করে। দুবাই প্রবাসী ফারজানা ভিকটিমকে জানায় যে, তাকে দুবাই নিয়ে একটি হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কাজ পাইয়ে দিবে। যার মাধ্যমে অনেক ভালো বেতন এবং ভাতাসহ অন্যান্য অনেক সুবিধা পাবে যাতে করে জান্নাতের পরিবারের সচ্ছলতা ফিরে আসবে। দুবাই নিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়ার খরচের কথা বলে ফারজানা ও সোহাগী জান্নাতের পরিবারকে তিন লাখ টাকা জোগাড় করে দিতে বলে। বিষয়টি নিয়ে ভিকটিম জান্নাত তার পরিবারের সাথে আলোচনা করে এবং লোনের মাধ্যমে তিন লাখ টাকা জোগাড় করে সোহাগীর হাতে তুলে দেয়।
পরবর্তীতে ফারজানার দিকনির্দেশনা অনুযায়ী সোহাগী তাদের চক্রের দালালের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জের একটি ভুয়া ঠিকানা সংবলিত পাসপোর্ট ও টুরিস্ট ভিসা প্রস্তুত করে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ আগস্ট জান্নাতিকে দুবাই পাঠানো হয়। দুবাই পৌঁছানোর ২ দিন পর ভিকটিম তার পিতা জাহাঙ্গীরকে মোবাইলফোনের মাধ্যমে জানায় যে, আসামিরা দুবাইতে উচ্চ বেতনের চাকরির মিথ্যা প্রলোভন ও আশ্বাস দিয়ে তাকে যৌনকর্মী হিসেবে পাচারপূর্বক বিক্রি করে দিয়েছে এবং সেখানে তাকে অমানুষিক নির্যাতনের মাধ্যমে যৌনকর্মী হিসেবে কাজ করতে বাধ্য করা হচ্ছে। একপর্যায়ে নির্যাতনে গুরুতর অসুস্থ হয়ে ৮ সেপ্টেম্বর সে মারা যায়। এরপর ভিকটিম এর সাথে তার পরিবার আর কোনো যোগাযোগ করতে না পারায় তারা গ্রেফতারকৃত সোহাগীর দ্বারস্থ হয়। সোহাগী ও ফারজানা মিলে ভিকটিমের পরিবারকে বিভিন্ন হুমকি ধামকি দিতে থাকে এবং তাদেরকে জানায় যে, তাদের মেয়ে দুবাইতে খুব ভালো আছে, সময় পেলেই তাদের সাথে যোগাযোগ করবে।
গাজায় হত্যাকাণ্ড বন্ধে কোনো পদক্ষেপ না নেয়া দুঃখজনক :প্রধানমন্ত্রী
গাজায় হত্যাকাণ্ড বন্ধে কোনো পদক্ষেপ না নেয়া দুঃখজনক
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুঃখ প্রকাশ করে বলেছেন, বিশ্ব গাজায় হত্যাকাণ্ড প্রত্যক্ষ করছে, কিন্তু তা বন্ধে কেউ কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না। ফিলিস্তিনের ফতেহ আন্দোলনের (শাসক দল) মহাসচিব লেফটেন্যান্ট জেনারেল জেবরেল আলরজউব গতকাল গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি একথা বলেন। বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার মো. নজরুল ইসলাম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। বলেন, গাজায় ইসরাইলি হামলার বিষয়ে নীরব অবস্থানের জন্য মানবাধিকার সংস্থাগুলোর কঠোর সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটি এক ধরনের ভণ্ডামি। শেখ হাসিনা মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুসলমানদের ঐক্যবদ্ধ থাকা উচিত এবং এটি করা উচিত মুসলিম উম্মাহর নিরাপত্তা এবং ফিলিস্তিনিদের দুর্দশা লাঘবের জন্য। এই প্রসঙ্গে তিনি ১৯৬৭ সালে গৃহীত প্রস্তাব অনুসরণ করতে বলেন, যাতে বলা হয়েছিল যে, পূর্ব জেরুজালেম ফিলিস্তিনের রাজধানী হবে। প্রধানমন্ত্রী ফিলিস্তিনিদের প্রতি তার দ্ব্যর্থহীন সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে গাজায় নারী ও শিশুসহ হাজার হাজার মানুষ হত্যাসহ ইসরাইলি বাহিনীর হাসপাতালে হামলার নিন্দা করেন। তিনি গাজায় মৃত্যুর জন্য শোক প্রকাশ করেন এবং গাজায় অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির দাবি জানান। শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ ইতিমধ্যে মিশরের মাধ্যমে ফিলিস্তিনি জনগণের জন্য দুই দফা ত্রাণ সহায়তা পাঠিয়েছে।
তিনি বলেন, আমি যেখানেই সুযোগ পেয়েছি ফিলিস্তিনি জনগণের জন্য আন্তর্জাতিক ফোরামে সব সময় আওয়াজ তুলেছি। আওয়ামী লীগ শাসনামলে ১৯৯৭ সালে ইয়াসির আরাফাতের বাংলাদেশ সফরের কথাও স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। ফিলিস্তিনের ফতেহ আন্দোলনের মহাসচিব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে তার নিঃশর্ত সমর্থন এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে ফিলিস্তিনিদের পক্ষে আওয়াজ তোলার জন্য ধন্যবাদ জানান। লেফটেন্যান্ট জেনারেল জেবরেল আলরজউব বলেন, অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ করা দরকার এবং আন্তর্জাতিক সমপ্রদায়ের উচিত এই উদ্দেশ্যে দ্রæত পদক্ষেপ নেয়া। সেখানে খাদ্যের তীব্র সংকট বিরাজ করছে এবং মানুষ অনাহারে রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জরুরিভিত্তিতে খাদ্য সহায়তা প্রয়োজন। লেফটেন্যান্ট জেনারেল জেবরেল আলরজউব বলেন, ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতিই এই সংকট সমাধানের একমাত্র পথ। আরব দেশগুলোতে ৪০০ মিলিয়ন মানুষ বসবাস করলেও তারা ঐক্যবদ্ধ নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা ঐক্যবদ্ধ হলে ফিলিস্তিনিদের ওপর নির্যাতন-নিপীড়ন সহজেই বন্ধ হয়ে যাবে। আরব বিশ্বের শক্তি ও সম্পদ আছে, শুধু ঐক্যই ইসরাইলি আগ্রাসন বন্ধ করতে পারে। তিনি আরও বলেন, এই যুদ্ধ বন্ধ না হলে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও বৈশ্বিক শান্তি কখনোই প্রতিষ্ঠিত হবে না। তিনি দক্ষিণ আফ্রিকায় আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে দৃঢ় ভূমিকার জন্য বাংলাদেশকে ধন্যবাদ জানান। ফিলিস্তিনের ফতেহ আন্দোলনের মহাসচিব প্রধানমন্ত্রীর কাছে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের একটি চিঠিও হস্তান্তর করেন। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া এবং ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত এ সময় উপস্থিত ছিলেন।


