Home Blog

জমি না দেওয়ায় ৮০ বছরের মাকে বাড়িছাড়া

জীবনের শেষ প্রান্তে এসে একটু আশ্রয়ের জন্য বুকফাটা কান্না ৮০ বছরের মমেনা বেগমের। জমি লিখে না দেওয়ায় নিজের সন্তান মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ তাঁকে বাড়িছাড়া করেছেন।
ছেলে মা-বাবার জমিতে গড়ে তোলা পাকা বাড়িতে বিলাসী জীবন কাটালেও হতভাগা মায়ের ঠিকানা হয়েছে অন্যের বাড়িতে। ঘরের চাল ও বেড়ার অসংখ্য ফুটো দিয়ে বৃষ্টি নামলেই ভিজে যায় বিছানা-বালিশ। স্বামীর মৃত্যুর পর মেয়ের আশ্রয়ে থেকে কাঁথা সেলাই করেই চলছে এই মমেনা বেগমের দিনযাপন।

১৪ বছর আগে আরও জমি লিখে দেওয়ার দাবি জানান ছেলে মোখলেছুর রহমান। তিনি কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার রাজমাল্লীরহাট সিদ্দিকীয়া ফাজিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ। কিছু জমি দিলেও তাতে তিনি সন্তুষ্ট হননি। এরপর জোর করে মা-বাবাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। বাধ্য হয়ে তারা রাজমাল্লীরহাট মিস্ত্রীপাড়া গ্রামে মেয়ে খাদিজা বেগমের বাড়িতে আশ্রয় নেন। সেখানে চার বছর আগে মারা যান মমেনা বেগমের স্বামী আবদুস সাত্তার। অধ্যক্ষ ছেলে তাঁর জানাজায়ও অংশ নেননি এবং নিজের বসতভিটায় দাফন করার শেষ ইচ্ছাও পূরণ করতে দেননি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক মোখলেছুর রহমানের বক্তব্য জানতে কর্মস্থল মাদ্রাসা ও বাড়িতে গিয়ে তাঁকে পাওয়া যায়নি। ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। পরে বক্তব্য নেওয়ার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
উমর মজিদ ইউপি চেয়ারম্যান আহসানুল কবির আদিল বলেন, বিষয়টি দুঃখজনক। অভিযোগ পেলে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া যেত।
আইনজীবী আহসান হাবিব নিলু জানান, ভরণপোষণ আইন-২০১৩ অনুযায়ী এ ধরনের অপরাধের জন্য কঠোর জেল-জরিমানার বিধান রয়েছে।

টস জিতে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ, একাদশে নেই মুশফিক

০

টস জিতে ব্যাটিং নিয়েছে বাংলাদেশ। ম্যাচের আগের দিন হালকা চোট পেয়েছিলেন মুশফিকুর রহিম। এই টেস্টে তাই খেলা হচ্ছে না তার ।

বাংলাদেশ একাদশ: নাজমুল হোসেন শান্ত, তানজিদ হাসান তামিম, সাদমান ইসলাম, মুমিনুল হক, লিটন কুমার দাস, মেহেদী হাসান মিরাজ, নাঈম হাসান, হাসান মাহমুদ, তাইজুল ইসলাম, তাওহীদ হৃদয়, শরিফুল ইসলাম।

একবার শুধু নিজেদের জন্য

০

শিক্ষক বান্ধবী কাকলি মালয়েশিয়ার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি করছে। সেই সুযোগে চল্লিশ পেরোনো আমরা চার স্কুলবন্ধু সংসার, সন্তান আর কর্মজীবনের ব্যস্ততা পেরিয়ে হঠাৎই সিদ্ধান্ত নিলাম মালয়েশিয়া বেড়াতে যাব। রিল্যাক্স ট্যুর দেব। চার বান্ধবী ঘুরব, দেখব, খাব আর শপিং করব। এক ট্যুরিস্ট স্পট থেকে আরেক ট্যুরিস্ট স্পটে যাওয়ার জন্য দৌড়ঝাঁপ করব না।

কিন্তু কারও সাথে কারও সময় মেলে না। বছরের তখনও ছয় মাস বাকি। অনেক কষ্টে সবার জন্য সুবিধাজনক এ রকম একটা মাত্র তারিখ মিলল। এক মাস পরেই ফ্লাইট! সেই দিনই এজেন্সি খোঁজাখুঁজি করে টিকেট বুক করা হলো। পরের দিন সবাই নিজ অফিসে কথা বলে রিস্ক নিয়ে একটু বেশি দামে ননরিফান্ডেবল টিকেট কেটে ফেললাম। যাওয়ার আগের দিনও শান্তি ছিল না। এক বান্ধবী শেষ মুহূর্তে অফিসের কাজে আটকে যাচ্ছিল। অনেক কষ্টে সে সব সামলে নিল। গভীর রাতে বিমানবন্দরে গিয়ে আরেক বিপত্তি। ইমিগ্রেশনের সময় তাকে আলাদা করে প্রায় এক ঘণ্টা বসিয়ে রাখা হলো। বাইরে থেকে কোনো যোগাযোগও করা যাচ্ছিল না। আমরা উদ্বেগ নিয়ে অপেক্ষা করছি, আর এদিকে বোর্ডিংয়ের ঘোষণা হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই তাকে ক্লিয়ারেন্স দেওয়া হলো। স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে আমরা যাত্রা শুরু করলাম।

travel 2 1781971572

থাইল্যান্ডে ট্রানজিট নিয়ে দীর্ঘযাত্রা শেষে আমরা যখন কুয়ালালামপুর পৌঁছি তখন সেখানে দুপুর। কুয়ালালামপুর দেখে দারুণ বিস্মিত হলাম। অল্প সময়ে মালয়েশিয়া দারুণ উন্নতি করেছে তা তো সবারই জানা। তবে এত আধুনিক শহর আমার প্রত্যাশার বাইরে ছিল। চকচকে রাস্তা, মেট্রোরেল, সুউচ্চ ভবন আর আধুনিক স্থাপত্য দেখে মনে হয়েছে এ যেন উন্নয়ন আর নান্দনিকতার এক যুগ্ম প্রদর্শনী। দালানগুলো ডিজাইনের দিক দিয়ে একে অন্যকে পাল্লা দিচ্ছে। এক বান্ধবী মজা করে বলল, ‘পৃথিবীর বড় বড় আর্কিটেক্ট এখানে এসে ইচ্ছেমতো সৃজশীলতার চর্চা করেন। উন্নত দেশে নানান নিয়মকানুনের কারণে ইচ্ছামতো ডিজাইনের দালান বানানোর সুযোগ নেই!’

আমাদের ছোট্ট অ্যাপার্টমেন্টেটা ছিল দুই বেডের, সুন্দর ছিমছাম এবং সাশ্রয়ী। এই ধরনের অ্যাপার্টমেন্টগুলোতে রান্নাসহ ঘরের সব কাজ নিজেদের করতে হয়। মালয়েশিয়ায় ৪ নম্বরটিকে অপয়া বলে মনে করা হয়। আমাদের অ্যাপার্টমেন্টটি ৩৪ তলায় হলেও তাই সেটার নম্বর ছিল ৩৩এ। আমাদের বিল্ডিংটির পাশেই কেএল টাওয়ার। এটি কুয়ালালামপুরের সবচেয়ে বড় দালানের একটি। ইউনিক ডিজাইন আর রাতের আলোকসজ্জার কারণে এখানকার অন্যতম ট্যুরিস্ট আকর্ষণও বটে। প্রতিদিন রাতে তাই ৩৪ (মালয়েশিয়ান রীতি অনুযায়ী ৩৩এ) তলা থেকে কেএল টাওয়ারের আলোকসজ্জা, ঝলমলে কুয়ালালামপুর শহর দেখতে দেখতে আমাদের অলস আড্ডা দারুণ জমে উঠত।

কুয়ালালামপুরে আমরা তিন রাত ছিলাম। চার বান্ধবীর আড্ডা, অল্প ঘুম আর সকালবেলার তাড়াহুড়ো আমাদের প্রতিদিনের রুটিন হয়ে গিয়েছিল। সকালে সেজেগুজে, আরাম করে বের হতাম। ফিরতাম গভীর রাতে। আমরা অনেক ঘুরেছি। দুই দিন দুটো হাইল্যান্ডসে গেছি। গেংটিং হাইল্যান্ডস আর ক্যামেরন হাইল্যান্ডস দুটোই কুয়ালালামপুর থেকে কয়েক ঘণ্টার পথ। আমরা যতটুকু পারি ঘুরেছি। যে স্পটগুলো কভার করতে পারিনি তা আনন্দের সাথে মেনে নিয়েছি। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১,১০০-১,৬০০ মিটার উচ্চতার অনিন্দ্য সুন্দর পাহাড়ি পর্যটন অঞ্চল ক্যামেরন হাইল্যান্ডস। এটি মালয়েশিয়ার সবচেয়ে মনোরম পাহাড়ি গন্তব্যস্থলগুলোর একটি। ওখানে যাওয়ার পথটা নিজেই একটি আকর্ষণ। পাহাড়ি আঁকাবাঁকা রাস্তা, গভীর সবুজ বনভূমি আর আকাশ ঢেকে থাকা নানান প্রজাতির গাছের সৌন্দর্য মুগ্ধ হয়ে উপভোগ করেছি। দারুণ সুন্দর ভারত টি স্টেট চা বাগানে পাখির মতো ঘুরে বেড়িয়েছি। দুর্গম আর বিপজ্জনক পথ বেয়ে পাহাড়ের চূড়ায় মনোমুগ্ধকর বোহ চা বাগানে হিমশীতল হাওয়া, কুয়াশামাখা মেঘ, পাখির কিচিরমিচির আর রঙিন ফুলের সমারোহের মাঝে বসে লাঞ্চ করেছি। দেখেছি স্ট্রবেরির খামার আর সেকুলেন্ট নার্সারি।

গেন্টিং হাইল্যান্ডস পাহাড়ি অবকাশকেন্দ্র হিসেবে বেশি জনপ্রিয়। প্রায় ১,৮০০ মিটার পাহাড়ের উপরে কী নেই! থিম পার্ক, কেবলকার, শপিংমল– সব মিলিয়ে জমজমাট ব্যাপার। যেদিন গেন্টিং গিয়েছিলাম সেদিন আকাশ ভীষণ মেঘলা ছিল। পুরোটা সময়ই মেঘের ভেতর ঘুরে বেড়িয়েছি। থেমে থেমে বৃষ্টিও পড়েছিল। এ রকম আবহাওয়া ভ্রমণকারীদের জন্য কিছুটা বিরক্তিকর হলেও আমাদের সবকিছু দেখতেই হবে– এ রকম তাড়না ছিল না। অপূর্ব সুন্দর বনভূমির প্রাকৃতিক পরিবেশ, পাহাড়ি মেঘ আর বৃষ্টি দারুণ উপভোগ করেছি। বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে ঘুরে বেড়িয়েছি ফরাসি শহরের আদলে তৈরি রিসোর্ট ভিলেজে। ইউরোপীয় গ্রামের মতো দালান দিয়ে সাজানো আর মধ্যযুগীয় স্থাপত্যশৈলীতে রঙিন নকল শহরটি ছবি তোলার জন্য আদর্শ জায়গাও বটে। তবে মালয়েশিয়া ভ্রমণের অন্যতম প্রিয় স্মৃতি হয়ে থাকবে গেন্টিং হাইল্যান্ডসে মেঘের ওপরের শপিংমলে ঘুরে বেড়ানো। এত্ত ওপরে যে এত আধুনিক শপিংমল থাকতে পারে আর সেখানে এত ব্র্যান্ডের দোকান থাকতে পারে তা আমার ধারণার বাইরে ছিল। বান্ধবীরা যখন বিভিন্ন দোকান এক্সপ্লোর করছিল, আমি শপিংমলের মাঝখানের সুন্দর বাঁধানো খোলা জায়গায় বসে মলের ভেতরে মেঘ আর বৃষ্টির লুকোচুরি খেলার অপার্থিব সৌন্দর্য উপভোগ করেছি। তার মানে শপিং করিনি সেটাও নয়। গেংটিংয়ের নাইকির শোরুমে দারুণ ছাড় পাওয়া যায়। জীবনে হাত দিয়েও ধরে দেখতাম না, এ রকম স্নিকার নিজের জন্য আর বরের জন্য অর্ধেকেরও কম দামে কিনে ‘আমি জিতেছি’ মুডে কুয়ালালামপুর ফিরেছি!

কুয়ালালামপুরে আমরা বিভিন্ন দেশের রেস্টুরেস্টে খাবার খেয়েছি। চমৎকার রান্না। পরিমাণ অনুযায়ী দামও রিজনেবল। শেষের দিন আমরা রাত ৩টা পর্যন্ত ঘুরেছি। নিজেদের একবারও অনিরাপদ মনে হয়নি। মুসলিম দেশ হওয়ায় পর্যটকদের পোশাক-আশাক, আচার-আচরণ বেশ সংযত। রাস্তায় কেউ নেশাগ্রস্ত হয়ে ঘোরে না, কোনো অসামাজিক কাজ চোখে পড়েনি। একবারই তিক্ত অভিজ্ঞতা হয়েছে। আমরা বেশ রাত করে চায়না মার্কেটে গিয়েছিলাম কম দামে কী পাওয়া যায় তা দেখতে। এটা আমাদের হকার্স মার্কেটের মতো। গিয়ে দেখি সব দোকানই বাংলাদেশিরা চালাচ্ছেন। চার বাঙালি মেয়ে দেখে তারা টিজ করে কথা বললেন। যা তা দাম চাইলেন। এই মানুষগুলোর জন্যই বিদেশে বাংলাদেশের এত দুর্নাম।

travel 3 1781971613

আবার উল্টো চিত্রও ছিল। হাইল্যান্ডসগুলোতে ঘোরার জন্য আমরা গাড়ি বুক করেছিলাম। ড্রাইভার ছিলেন বাঙালি। সজল ভাই আমাদের খুবই যত্ন নিয়েছেন। অথেনটিক মালয়েশিয়ান ব্রেকফাস্ট খেতে গ্রামের ভেতর একটি রেস্টুরেন্টে নিয়ে গেছেন। সন্ধ্যা নামার আগেই আমাদের হাইল্যান্ডসগুলো থেকে নামিয়ে এনেছেন যেন অন্ধকারে পাহাড়ি রাস্তায় মেঘবৃষ্টির কারণে দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা না থাকে।

মালয়েশিয়া থেকে ফিরেছি অনেক ছবি, কিছু কেনাকাটা আর অসংখ্য স্মৃতি নিয়ে। পাহাড়ের চূড়ায় বসে কফি খাওয়া, মেঘের ভেতর হাঁটা, গভীর রাত পর্যন্ত আড্ডা, শপিংমলে ঘুরে বেড়ানো কিংবা একসঙ্গে হাসাহাসি– সব মিলিয়ে কয়েকটা দিন যেন ব্যস্ত জীবনের বাইরে অন্য এক জগতে কাটিয়েছি। ফিরে এসে মনে হয়েছে, চল্লিশ পেরিয়েও বন্ধুত্বের জন্য সময় বের করা যায়, নিজের জন্য একটু জায়গা রাখা যায়, আর জীবনকে নতুন করে উপভোগ করাও সম্ভব।

নকলসহ বিভিন্ন অভিযোগে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৬০ শিক্ষার্থীর শাস্তি

০

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৪ সালের অনার্স চতুর্থ বর্ষের পরীক্ষায় নকলসহ বিভিন্ন ধরনের অসদুপায় অবলম্বন ও শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে ২৬০ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাদের পরীক্ষা বাতিলের পাশাপাশি এক থেকে সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত জাতীয় সব ধরনের পরীক্ষায় অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। গত মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, ২০২৪ সালের অনার্স চতুর্থ বর্ষ পরীক্ষায় বিভিন্ন কলেজ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা/ পরীক্ষক/ পর্যবেক্ষক/ প্রধান পরীক্ষক কর্তৃক বিভিন্ন অভিযোগে অভিযুক্ত অসদুপায় অবলম্বনকারী ২৬০ পরীক্ষার্থীর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ পর্যালোচনার পর গত ২০ সেপ্টেম্বরের পরীক্ষা শৃঙ্খলা কমিটির সভার সিদ্ধান্তক্রমে ও একাডেমিক কাউন্সিলের অনুমোদন সাপেক্ষে বিভিন্ন ধারা অনুযায়ী শাস্তি দেওয়া হলো।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, পরীক্ষা শৃঙ্খলা কমিটির সভায় অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের উত্তরপত্র, কৈফিয়তপত্রের জবাব এবং নকলের আলামত পর্যালোচনা করে অপরাধের ধরন ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা রেগুলেশন অনুযায়ী এসব শাস্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সৌদিকে সামরিক সহায়তা দিচ্ছে মিসর, ক্ষুব্ধ হুতি

সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবে হামলা জোরদার করেছে হুতি গোষ্ঠী। এই হামলা থেকে দেশটিকে রক্ষায় সামরিক সহায়তা দেওয়ার জন্য মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি অনুমোদন পেয়েছেন। গত সোমবার পার্লামেন্টের স্পিকার হিশাম বাদাওয়ির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে ভোটের মাধ্যমে এ অনুমোদন দেওয়া হয়।

পার্লামেন্টের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে দেশটির আত্মরক্ষায় সহায়তা করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে আল-সিসিকে।

এ সিদ্ধান্তের ফলে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে উপসাগরীয় অঞ্চল ও লোহিত সাগরজুড়ে ছড়িয়ে পড়া সংঘাতে মিসরের সরাসরি জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে মিসরের সাবেক উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী হুসেইন হারিদি বলেছেন, চলমান সংঘাতে কায়রোর সম্পৃক্ততা আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে।

এদিকে মিসরের সিদ্ধান্তকে ‘যুদ্ধ ঘোষণা’ হিসেবে অভিহিত করেছে হুতি। গতকাল মঙ্গলবার দেওয়া এক বিবৃতিতে হুতিদের রাজনৈতিক শাখার সদস্য মোহাম্মদ আলী আল-হুতি এ মন্তব্য করেন।

সম্প্রতি সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক মক্কায় ন্যাটোর আদলে একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করেছে। চুক্তি অনুযায়ী, তিন দেশের যে কোনো একটির ওপর হামলাকে বাকি দুই দেশের ওপরেও হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। তবে চলতি মাসের শুরুতে হুতিরা সৌদি আরবে হামলা জোরদার করার পরও গোষ্ঠীটির বিরুদ্ধে সামরিক হামলা চালানোর কোনো ঘোষণা দেয়নি পাকিস্তান ও তুরস্ক। আল-হুতি বলেন, এই প্রতিরক্ষা চুক্তি ইরানের বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট ও প্রকাশ্য আগ্রাসন। যে জোটই গঠন করা হোক না কেন, আমরা তাতে ভীত নই।

এদিকে সৌদি আরবের দুটি অঞ্চল লক্ষ্য করে হুতিদের ছোড়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন শনাক্ত করে সেগুলো ধ্বংস করার দাবি করেছে ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। সৌদি আরবের সঙ্গে ইয়েমেনের ইরানপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিদের লড়াই আরও তীব্র হওয়ার মধ্যে মঙ্গলবার দেশটির সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট এ খবর দিয়েছে।

জোটটি জানায়, হুতিরা সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের দিকে তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের দিকে চারটি ড্রোন ছুড়েছে। জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালকি এক্সে এক পোস্টে এ দাবি করেছেন।

হুতিদের ১০০ কোটি ডলার প্রদানের প্রস্তাব সৌদির

সৌদি আরবের তেল স্থাপনা, বিমানবন্দর ও সামরিক ঘাঁটিতে হামলা বন্ধের বিনিময়ে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ১ বিলিয়ন ডলার দেওয়ার প্রস্তাব করেছে রিয়াদ। এ প্রক্রিয়ায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে ইরান। তবে অর্থ হস্তান্তর সম্পন্ন হয়েছে কিনা, সে সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ইসরায়েল হায়োমের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে এএফপি। উপসাগরীয় অঞ্চলের একাধিক কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে ইসরায়েল হায়োম জানিয়েছে, ইরানের মাধ্যমে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ১০০ কোটি ডলারের একটি আর্থিক প্যাকেজ প্রদানের প্রস্তাব করেছে সৌদি আরব। এ প্রস্তাবের লক্ষ্য হলো একটি টেকসই যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করা এবং হুতি নিয়ন্ত্রিত এলাকায় সরকারি কর্মীদের বকেয়া বেতন পরিশোধ ও বেসামরিক অবকাঠামো পুনর্নির্মাণের মতো বিষয়গুলোর সমাধান করা। বিনিময়ে হুতিদের সৌদি আরবের তেল স্থাপনা, বিমানবন্দর ও সামরিক স্থাপনায় হামলা বন্ধ করতে হবে। খবর এএফপি, রয়টার্স ও আলজাজিরার।

বুথফেরত জরিপ নেতানিয়াহু শিবির ৫২, বিরোধী জোট ৫০, আরব লিস্ট ১৯ সরকার গঠনে দীর্ঘ দরকষাকষি হতে যাচ্ছে

ইসরায়েলের পার্লামেন্ট (নেসেট) নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি নেতৃত্বাধীন ডানপন্থি জোটের সঙ্গে বিরোধী জোটের সমানে-সমান লড়াইয়ের আভাস মিলেছে। নির্বাচনের ফলাফল এতটাই কাছাকাছি যে, এখনই চূড়ান্ত কোনো পূর্বাভাস দেওয়া যাচ্ছে না। সামান্য ব্যবধানে নেতানিয়াহু জোটের এগিয়ে থাকার ইঙ্গিত মিললেও সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসন থেকে তা বেশ দূরে।

দুটি বুথফেরত জরিপের তথ্যের বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে,গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট এবং বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর শিবিরের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা সমান-সমান। আর তৃতীয় একটি জরিপে নেতানিয়াহুর শিবির সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে।

বিবিসি বলছে, ইসরায়েলের ‘কান এলেভেন’ এবং ‘চ্যানেল থার্টিন’ নিউজ নেটওয়ার্ক তাদের বুথফেরত জরিপের যে তথ্য প্রকাশ করেছে, যেখানে প্রতিদ্বন্দ্বী জোট দুটির প্রত্যেকটিই ৫১টি করে আসন পেতে পারে বলে আভাস দেওয়া হয়েছে।

শেষ মুহূর্তে এসে চ্যানেল-টুয়েলভ তাদের বুথফেরত জরিপ সংশোধন করেছে। তাদের নতুন বুথফেরত জরিপ অনুযায়ী, আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন জোটকে সামান্য পিছিয়ে ৫০টি আসনে এবং নেতানিয়াহুর জোটকে ৫২টি আসনে দেখানো হয়েছে। এর আগে, তারা ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রীর চেয়ে নেতানিয়াহু বিরোধী জোটকে কিছুটা এগিয়ে দেখিয়েছিল। সর্বশেষ বুথফেরত জরিপ অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি নেতৃত্বাধীন জোট নেসেটে একক বৃহত্তম দল হতে যাচ্ছে।

চ্যানেল টুয়েলভের বরাত দিয়ে আল জাজিরা জানিয়েছে, নেতানিয়াহু জোট ৫২ আসনে জিতেছে। আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট ৪৯ আসনে জিতেছে। আরব লিস্ট জিতেছে ১৯ আসনে।

এরই মধ্যে ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় নির্বাচনী কমিটি থেকে আনুষ্ঠানিক ফলাফল আসতে শুরু করেছে। স্থানীয় সময় মধ্যরাত থেকে আনুষ্ঠানিক ফলাফল প্রকাশ করা শুরু হয়েছে। এখন পর্যন্ত ২.৫ শতাংশ ভোট গণনা করা হয়েছে। তবে ভোট গণনা সম্পন্ন হতে কয়েক দিন সময় লেগে যেতে পারে।

এখন পর্যন্ত কোনো জোটেরই স্পষ্ট জয়ের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে না। অর্থাৎ ১২০ আসনের পার্লামেন্টে কোনো পক্ষই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসন নিশ্চিত করতে পারেনি। যদিও নির্বাচনের ফলাফল এখন পর্যন্ত চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করা যাচ্ছে না। তবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা অত্যন্ত তীব্র রূপ নিয়েছে।

সাবেক সেনাপ্রধান আইজেনকোট নবগঠিত ‘ইয়াশার’ দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তিনিই মূলত বিরোধী শিবিবের ‘চেঞ্জ ব্লক’ এর প্রধান মুখ। এই জোটটি মূলত বিরোধী দলগুলোর সমন্বয়ে গঠিত যাদের সবার লক্ষ্য- নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরানো।

সরকার গঠনে দীর্ঘ আলোচনা-দরকষাকষি হতে যাচ্ছে
সরকার গঠনের জন্য সম্ভবত দলগুলোর মধ্যে সামনের দিনগুলোতে সপ্তাহ বা মাসব্যাপী দীর্ঘস্থায়ী আলোচনা ও দরকষাকষি হতে যাচ্ছে, যেখানে একাধিক বিকল্প পথ খোলা রয়েছে।

নেসেটের ১২০টি আসনের সবকটিতেই এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তবে দেশটির ইতিহাসে কোনো দলই এককভাবে কখনো সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। আগে থেকেই সেখানে জোটবদ্ধভাবে সরকার গঠিত হয়ে আসছে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামাস-নিয়ন্ত্রিত হামলার পর এটিই ইসরায়েলের প্রথম আইনসভা (পার্লামেন্ট) নির্বাচন।

তদন্ত কমিটি গঠন দাফনে বাধায় জামায়াতের কেউ জড়িত থাকলে শাস্তি

০

পিরোজপুরের মুক্তিযোদ্ধা মানিক পসারীর দাফনে দলের কেউ বাধা দিয়েছে কিনা তা তদন্তে কমিটি গঠন করেছে জামায়াতে ইসলামী। কমিটিকে তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। দলের কেউ জড়িত থাকলে শাস্তি দেওয়া হবে।

মঙ্গলবার রাজধানীর মগবাজারে দলীয় কার্যালয়ে নির্বাহী পরিষদের বিশেষ বৈঠকে এইসব সিদ্ধান্ত হয়েছে। বৈঠকে উপস্থিত একাধিক সদস্য সমকালকে বলেছেন, জামায়াত আমির শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে পিরোজপুরের ঘটনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। দলের কেউ জড়িত থাকলে তাদের শাস্তি দেওয়া হবে।

জামায়াতের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, দুই সদস্যের তদন্ত কমিটির সদস্য হলেন নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন এমপি এবং নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি। তদন্ত কমিটিকে সার্বিক সহযোগিতা করতে পিরোজপুর জেলা জামায়াতকে নির্দেশ দেওয়া হরেছে।

জামায়াতের নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে একাত্তরের মানবতা বিরোধী অপরাধের মামলার বাদি ছিলেন মানিক পসারী। তিনি সাঈদীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্যও দেন। এই মামলায়  আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাব্যুনাল ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি সাঈদীকে মৃত্যুদন্ড দেয়।

তবে আপিল বিভাগ সাজা কমিয়ে আমৃত্যু কারাদন্ড দেন। আপিলে তিন বিচারপতি সাঈদীর সাজা কমিয়েছিলেন। কিন্তু আরেক বিচারপিত এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক মৃত্যুদন্ড বহাল রাখেন। অপর বিচারপতি আবদুল ওয়াহাব মিঞা সব অভিযোগ থেকে সাঈদীকে খালাস দিয়েছিলেন। একজন বিচারপতির রায়ে মৃত্যুদন্ড বহাল রাখা এবং আরেক বিচারপতির রায়ে আসামিকে খালাস দেওয়ার নজির বাংলাদেশে এটিই প্রথম। সাজা ভোগ করা অবস্থায় ২০২৩ সালের আগস্টে সাঈদীর মৃত্যু হয়।

জামায়াত এবং সাঈদীর পরিবার ২০১০ সাল থেকে দাবি করছে মামলাটি মিথ্যা। মামলার বাদি মানিক পসারী মুক্তিযোদ্ধা নন। মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় তার নাম অন্তর্ভূক্ত করা এবং আর্থিক সুবিধার প্রলোভন দিয়ে তাকে দিয়ে মামলা করানো হয়েছে। সাক্ষী দেওয়ার পর পসারীকে মুক্তিযোদ্ধা তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

মৃত পসরী মুক্তিযোদ্ধা নন দাবিতে গত রোববার তার মরদেহতে গার্ড অনার দিতে বাধা দেন স্থানীয় জামায়াতের নেতাকর্মীরা। পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদীর ছেলে মাসুদ সাঈদীর দাবি, দাফনে নয় স্থানীয়রা গার্ড অব অনারে বাধা দিয়েছে।

যদিও প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, রোববার সন্ধ্যায় জামায়াতের কর্মীরা গিয়ে পসারীর দাফনের জন্য খনন করা কবর ভরাট করে ফেলে। পরে রাতে অন্যদের সঙ্গে পসারীর স্ত্রী, বোন, কন্যা ফের সেই মাটি সরান মোবাইল ফোনের আলোতে। এই ছবি ছড়িয়ে পরার সমালোচনার মুখে পড়ে জামায়াত।

এর মধ্যেই দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারনী ফোরাম নির্বাহী পরিষদে বিষয়টি উঠে। জামায়াতের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পিরোজপুরে সংঘটিত সাম্প্রতিক ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে ঘটনার তদন্ত করে এর সাথে সংগঠনের কেউ জড়িত রয়েছেন কিনা তা কমিটি তদন্ত করে দেখবে।

যিনি বা যারা অসত্য তথ্য ছড়াচ্ছেন, তাদের মানসিক সুস্থতা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে: জামায়াত

০

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের সঙ্গে ভারতীয় এক গোয়েন্দা কর্মকর্তার গোপন বৈঠকের অভিযোগ সম্পর্কে জামায়াত বলেছে, যিনি বা যারা এমন অসত্য তথ্য ছড়াচ্ছেন, তাদের মানসিক ও রাজনৈতিক সুস্থতা নিয়ে তাদের সন্দেহ রয়েছে। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে এ কথা বলেন দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।

ভারতীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তার সঙ্গে গোলাম পরওয়ারের গোপন বৈঠকের অভিযোগ এনেছেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মো. রাশেদ খাঁন। সোমবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে তিনি দাবি করেন, গত ১৬ অক্টোবর বারিধারায় ভারতীয় গোয়েন্দাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন গোলাম পরওয়ার।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে গোলাম পরওয়ার গত সোমবার সমকালকে জানান, এইসব ‘নোংরা ও গুরুত্বহীন’ কথার জবাব তিনি দেবেন না। ‘যিনি অভিযোগ করেছেন তিনি এত গুরুত্বপূর্ণ নন’ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

জামায়াতের বিবৃতিতে রাশেদ খাঁনের নাম নেওয়া হয়নি। এতে বলা হয়েছে, জামায়াত রাষ্ট্রীয় মর্যাদা সমুন্নত রেখে বিদেশি রাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখে। দুঃখজনক হলো, সম্প্রতি ষড়যন্ত্রমূলকভাবে সুনাম ক্ষুণ্ন করতে মিয়া গোলাম পরওয়ার একটি দেশের গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে বৈঠক করেছেন মর্মে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।

অ্যাডভোকেট জুবায়ের বলেন, যিনি বা যারা সেক্রেটারি জেনারেলকে জড়িয়ে অসত্য তথ্য দিয়ে সংবাদ ছড়িয়েছেন এবং তা প্রমাণের জন্য চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন, তাদের উচিত অভিযোগের সত্যতা জাতির সামনে প্রকাশ করা।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘যিনি বা যারা এমন অসত্য তথ্য ছড়াচ্ছেন, তাদের মানসিক ও রাজনৈতিক সুস্থতা নিয়ে আমার সন্দেহ রয়েছে।’

সম্মেলনে রাষ্ট্রপতি দেশে বিশ্বমানের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতের আহ্বান

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশের মধ্যেই বিশ্বমানের চিকিৎসাসেবা, আধুনিক প্রযুক্তি, দক্ষ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এবং রোগীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, উন্নত চিকিৎসার জন্য বাংলাদেশের অনেক রোগী বিদেশে যেতে বাধ্য হন। বিশেষায়িত চিকিৎসা, আধুনিক প্রযুক্তি ও দক্ষতার সীমাবদ্ধতার পাশাপাশি সেবার মান এবং আস্থার বিষয়ও এর সঙ্গে জড়িত। ফলে প্রতিবছর বিপুল অর্থ দেশের বাইরে চলে যায়। এ প্রবণতা কমাতে দেশে বিশ্বমানের চিকিৎসাসেবা, আধুনিক প্রযুক্তি, দক্ষ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এবং রোগীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
মঙ্গলবার রাজধানীর শহীদ আবু সাঈদ আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে দুদিনব্যাপী আয়োজিত ‘কোলোরেক্টাল সার্জারি সম্মেলন-২০২৬’ শীর্ষক সম্মেলনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি এ কথা বলেন। রাষ্ট্রপতি বলেন, স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়ন, দক্ষ জনবল নিয়োগ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে একটি আধুনিক, সাশ্রয়ী ও জনবান্ধব স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন, চিকিৎসা কেবল একটি পেশা নয়। এটি মানুষের জীবন, মর্যাদা ও আশার সঙ্গে সম্পর্কিত এক মহান দায়িত্ব। তিনি বলেন, বিগত ১৭ বছরে ফ্যাসিবাদী শাসন, অব্যবস্থাপনা, সীমাহীন দুর্নীতি ও অপরিকল্পিত সিদ্ধান্তের কারণে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি অর্জন করতে পারেনি। সাধারণ মানুষ সরকারি হাসপাতালে সময়মতো চিকিৎসা, ওষুধ ও প্রয়োজনীয় সেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও দক্ষ জনবল নিশ্চিত না করেই ব্যয়বহুল যন্ত্রপাতি কেনা হয়েছে।

এর আগে রাষ্ট্রপতিকে বাংলাদেশ সোসাইটি অব কোলন অ্যান্ড রেক্টাল সার্জন্সের (বিএসসিআরএস) পক্ষ থেকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। বিএসসিআরএসের সভাপতি অধ্যাপক ডা. রশিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনটির উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. সাহাদত হোসেন শেখ। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এফ এম সিদ্দিকী, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন অর রশীদ, বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ান্স ও সার্জন্সের সভাপতি অধ্যাপক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ডা. এ কে এম আজিজুল হক এবং ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক (মহাসচিব) ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিল।

বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও অবকাঠামো উন্নয়ন ঘিরে নতুন যাত্রা

বিশ্ব বাস্তবতার মধ্যে নিজেদের সক্ষমতা ও স্থিতিশীলতা বাড়াতে বিশেষ অংশীদারিত্বমূলক উদ্যোগ ‘বিগ-বি’ (বে অব বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ বেল্ট) এগিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকার করেছে জাপান ও বাংলাদেশ। গতকাল মঙ্গলবার টোকিওতে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও সানায়ে তাকাইচির মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর যৌথ ঘোষণায় এ কথা জানানো হয়।

এতে বলা হয়, দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে নতুন পর্যায়ে নিতে ‘বিগ-বি’ উদ্যোগকে ‘অভিন্ন সমৃদ্ধির লক্ষ্যে বিগ-বি’ নামে এগিয়ে নেওয়া হবে। এর আওতায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি, গভীর সমুদ্রবন্দর, শিল্প ও প্রযুক্তিগত অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য দুই দেশ সমন্বিতভাবে কাজ করবে।

বিশেষ এ উদ্যোগের মাধ্যমে শিল্পের মূল্য সংযোজন ও সরবরাহ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র গড়ে তোলা, বাণিজ্য ও পণ্য সরবরাহের প্রবেশদ্বার হিসেবে বাংলাদেশকে গড়ে তোলা এবং প্রবৃদ্ধি ও সমৃদ্ধি বাড়ানো হবে।

এ জন্য চারটি ক্ষেত্রে কাজ করা হবে বলে যৌথ ঘোষণায় জানানো হয়। সেগুলো হলো যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন; প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তাসহ বিভিন্ন ঝুঁকি মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়ানো; অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুযোগ তৈরি ও নীতিমালা প্রণয়নে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব বাড়ানো এবং শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতা জোরদার করা।

যৌথ ঘোষণায় বলা হয়, জাপানের বেসরকারি খাত আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে এক ট্রিলিয়ন ইয়েন বা ৬৩০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করতে পারে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশে দুই লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনার কথা উঠে এসেছে যৌথ ঘোষণায়।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী এই সম্ভাবনাকে স্বাগত জানিয়েছেন। এ বিনিয়োগ আকর্ষণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রচেষ্টার প্রশংসা করেছেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফরের দ্বিতীয় দিনে এ শীর্ষ বৈঠক হলো। স্থানীয় সময় বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে বৈঠক শুরু হয়। বেলা ১১টা ৩২ মিনিটে তারেক রহমান জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পৌঁছালে তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান সানায়ে তাকাইচি। এ সময় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়।

শীর্ষ বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশ ও জাপানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও যৌথ সমৃদ্ধির চালিকাশক্তিতে রূপ দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এ লক্ষ্য অর্জনে জাপানি বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুযোগ অনুসন্ধানের আহ্বান জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দুই দেশের নেতারা দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা করেছেন এবং দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

বৈঠক শেষে নিজের অফিসিয়াল ‘এক্স’ অ্যাকাউন্টে দেওয়া পোস্টে জাপানের প্রধানমন্ত্রী লেখেন, কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদার এবং অভিন্ন সমৃদ্ধি অর্জনে জাপান বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে।

পোস্টে তাকাইচি বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় তারেক রহমানকে ব্যক্তিগতভাবে অভিনন্দন জানাতে পেরে আনন্দিত। গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের মূল্যবোধে বিশ্বাসী বন্ধুপ্রতিম বাংলাদেশ। গণতান্ত্রিক সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা তারেক রহমান সরকারের রাষ্ট্রগঠন প্রচেষ্টায় জাপান দৃঢ়ভাবে সমর্থন দেবে।

অভিন্ন সমৃদ্ধির জন্য বিগ-বি
জাপান সরকারের প্রস্তাবিত বিগ-বি উদ্যোগের আওতায় দুই দেশ মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরকে কেন্দ্র করে মাতারবাড়ী-মহেশখালী এলাকাকে একটি বৃহৎ লজিস্টিকস, জ্বালানি ও শিল্পকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে একসঙ্গে কাজ করবে। দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে নিজেদের সক্ষমতা বাড়ানো এবং প্রতিটি দেশের স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার অক্ষুণ্ন রাখার গুরুত্বের ওপর জোর দেন এ দুই নেতা।

তৃতীয় টার্মিনাল, এমআরটি ও বন্দর যোগাযোগ
আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দুই প্রধানমন্ত্রী হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল দ্রুত চালুর প্রস্তুতিমূলক কাজ এগিয়ে নিতে একমত হয়েছেন। তারা ঢাকায় এমআরটি লাইনগুলোর নির্মাণকাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার এবং মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরের পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনাসহ ভবিষ্যৎ সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনার কথাও বলেছেন। তারা আঞ্চলিক যোগাযোগ জোরদার ও দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে সহযোগিতা ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

সমঝোতা স্মারক সই
বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তাকাইচি। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিনিয়োগ সহজ করতে কর, শুল্ক ছাড়করণ, অর্থ পাঠানো ও লাইসেন্স দেওয়ার মতো কার্যক্রমে নিয়মকানুন ও স্বচ্ছতা বাড়ানোর অঙ্গীকার করেছেন তারেক রহমান।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক এবং ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়নে জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে।
খাদ্য, কৃষি, মৎস্য ও পশুপালন খাতে ব্যবসা ও বিনিয়োগ বাড়াতে জাপানের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের পৃথক দুটি সমঝোতা স্মারকও সই হয়েছে।
দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও বাড়াতে জাপানের একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে পাঠানো এবং অর্থনৈতিক সংলাপ আয়োজনের পরিকল্পনা করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন দুই প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের আওতায় সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও তারা একমত হয়েছেন।

এ ছাড়া জাপান-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি সই হওয়াকে স্বাগত জানিয়ে দ্রুত তা কার্যকর করার অঙ্গীকার করেছেন দুই নেতা। এ চুক্তির মাধ্যমে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানো এবং বাংলাদেশের শিল্প খাতে বৈচিত্র্য আনার লক্ষ্য রয়েছে।

স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের টেকসই ও ঝুঁকি মোকাবিলায় সক্ষম উত্তরণে এ চুক্তি সহায়তা করবে বলে যৌথ ঘোষণায় বলা হয়েছে। আঞ্চলিক সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব (আরসিইপি) চুক্তিতে বাংলাদেশের যোগ দেওয়ার অনুরোধ নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নিতেও জাপান আগ্রহী।

বাণিজ্য চুক্তি ও শিল্পের বহুমুখীকরণ
জাপান-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (ইপিএ) স্বাক্ষরকে স্বাগত জানান দুই নেতা। দুই দেশের জনগণের পারস্পরিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে চুক্তিটি দ্রুত কার্যকর করার অঙ্গীকারও তারা পুনর্ব্যক্ত করেন।

এ চুক্তির মাধ্যমে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও শিল্পের বহুমুখীকরণে জোর দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা। এতে এলডিসি তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ প্রক্রিয়া সহজ, টেকসই ও অভিঘাত মোকাবিলায় সক্ষম হবে। তাকাইচি বলেন, আঞ্চলিক সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব (আরসিইপি) চুক্তিতে বাংলাদেশের যোগদানের অনুরোধ নিয়ে আরও আলোচনার অপেক্ষায় রয়েছে জাপান।

জ্বালানি নিরাপত্তা ও জলবায়ু সহযোগিতা
জাপানের ‘অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি ও স্থিতিশীল জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিতকরণে জরুরি সহায়তা ঋণ’ কর্মসূচির আওতায় ৫০ বিলিয়ন ইয়েন সহায়তার জন্য জাপানকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।‘পার্টনারশিপ অন ওয়াইড এনার্জি অ্যান্ড রিসোর্সেস রেজিলিয়েন্স এশিয়া’ বা ‘পাওয়ার এশিয়া’ উদ্যোগের আওতায় এটিই জাপানের প্রথম ইয়েন ঋণ প্রকল্প।

ডিজিটাল রূপান্তর ও দক্ষ জনশক্তি
দ্বিপক্ষীয় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সহযোগিতার ধারাবাহিকতায় ডিজিটাল রূপান্তর, উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন আইসিটি পেশাজীবী তৈরি এবং নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য ডিজিটাল যোগাযোগ ব্যবস্থার নতুন সম্ভাবনা অনুসন্ধানের গুরুত্ব স্বীকার করেন দুই নেতা। মানবসম্পদের উন্নয়ন, দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা এবং সামাজিক ঝুঁকি মোকাবিলায় সহযোগিতা অব্যাহত রাখতেও তারা একমত হন।

প্রতিরক্ষা ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা
ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়ানোর অভিপ্রায় পুনর্ব্যক্ত করেন দুই প্রধানমন্ত্রী। প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি হস্তান্তরসংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষর এবং কার্যকর হওয়াকে তারা স্বাগত জানান। এ ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতায় আরও অগ্রগতি হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন।

জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ অবদানকারী দেশ হিসেবে ভূমিকার স্বীকৃতি দেন তাকাইচি। তিনি প্রতিরক্ষা, সামুদ্রিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, উপকূলীয় টহল ও বন্দর নিরাপত্তায় সহযোগিতা আরও গভীর করার বিষয়ে জাপানের অঙ্গীকার জানান। জাপানের সরকারি উন্নয়ন সহায়তা (ওডিএ) কর্মসূচির আওতায় একটি টহল জাহাজ এবং সরকারি নিরাপত্তা সহায়তা কর্মসূচির আওতায় পাঁচটি টহল নৌযান দেওয়ার বিষয়টিকে দুই নেতা স্বাগত জানান।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ও মিয়ানমার সংকট
মিয়ানমারের ক্রমাবনতিশীল পরিস্থিতি, এর আঞ্চলিক নিরাপত্তাগত প্রভাব, বাস্তুচ্যুতি এবং আন্তঃদেশীয় অপরাধ বৃদ্ধিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেন দুই প্রধানমন্ত্রী। তারা অবিলম্বে সহিংসতা বন্ধ, আটক ব্যক্তিদের মুক্তি, মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর অনুকূল পরিবেশ তৈরি এবং রোহিঙ্গাসহ সব পক্ষ ও ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীকে নিয়ে সংলাপের আহ্বান জানান।

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাসহ বাস্তুচ্যুত মানুষকে সাময়িক আশ্রয় দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রশংসা করে তাকাইচি তাদের জন্য অব্যাহত মানবিক সহায়তার প্রতি জাপানের সমর্থন জানান। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের উৎপত্তি মিয়ানমারে। এর সমাধানও সেখানেই নিহিত।
রোহিঙ্গাসহ বাস্তুচ্যুত মানুষদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদে, মর্যাদার সঙ্গে এবং টেকসই উপায়ে মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের মধ্য দিয়েই এ সংকটের চূড়ান্ত সমাধান সম্ভব বলে দুই নেতা একমত হন।

মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা
মধ্যপ্রাচ্যে দ্রুত উত্তেজনা প্রশমন এবং আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে অবিলম্বে ও সম্পূর্ণভাবে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার আহ্বান জানান বাংলাদেশ ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী। অতিরিক্ত খরচ ছাড়াই সব জাহাজের নিরাপদ ও অবাধ চলাচল নিশ্চিত করার ওপরও তারা গুরুত্ব দেন। বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা ও নিরবচ্ছিন্ন বাণিজ্যের জন্য লোহিত সাগর এবং বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে শান্তি ও স্থিতিশীলতার কৌশলগত গুরুত্ব স্বীকার করেন দুই নেতা।

তারা বেসামরিক জাহাজ ও নাবিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন, একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে সামুদ্রিক কর্মীদের জীবন বিপন্ন করতে পারে এমন কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। দুই নেতা গাজা পুনর্গঠনে সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জরুরি প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানসহ ফিলিস্তিন সমস্যার ন্যায়সংগত, স্থায়ী ও পূর্ণাঙ্গ সমাধানের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন।

দুই দেশের বন্ধুত্ব হবে সমৃদ্ধির চালিকাশক্তি
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে শীর্ষ বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও যৌথ সমৃদ্ধির চালিকাশক্তিতে রূপ দিতে হবে। জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি, রেলপথ, অবকাঠামো ও গভীর সমুদ্রবন্দরসহ গুরুত্বপূর্ণ খাতে সহযোগিতা বাড়িয়ে দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিতে চায় বাংলাদেশ।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ ও জাপানের অংশীদারিত্ব কয়েক দশকের বন্ধুত্ব, আস্থা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে। আজ এই সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার সুযোগ এসেছে। বাংলাদেশে বিদ্যমান বিনিয়োগের সুযোগগুলো অনুসন্ধান করতে এবং আমাদের উন্নয়নের পরবর্তী ধাপে অংশীদার হতে আমি জাপানি বিনিয়োগকারী, ব্যবসায়ী ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আন্তরিকভাবে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।’

শীর্ষ বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, ডাক, টেলিযোগাযোগ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন (আশিক চৌধুরী), বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান, এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান, পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম, সচিব সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক বিভাগের সচিব শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী প্রমুখ।

জাপানের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যাহ্নভোজে তারেক রহমান
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর সম্মানে আয়োজিত জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির মধ্যাহ্নভোজে অংশ নিয়েছেন। দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠক ও যৌথ সংবাদ সম্মেলনের পর গতকাল স্থানীয় সময় দুপুরে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কান্তেইয়ে আয়োজিত মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন তিনি। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী জোবাইদা রহমান উপস্থিত ছিলেন।

নিটসু লজিস্টিকস হাব পরিদর্শন
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপান সফরের অংশ হিসেবে দেশটির চিবা প্রিফেকচারের ইচিকাওয়া শহরে নিটসু লজিস্টিকস হাব পরিদর্শন করেছেন। গতকাল স্থানীয় সময় বিকেলে প্রধানমন্ত্রী সেখানে যান। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীরা উপস্থিত ছিলেন।