Home Blog Page 653

পাকিস্তানকে হারিয়ে ইমার্জিং এশিয়া কাপের ফাইনালে বাংলাদেশ

ইমার্জিং এশিয়া কাপের ফাইনালে বাংলাদেশ নারী দল। সেমিফাইনালে পাকিস্তানের বিপক্ষে রোমাঞ্চকর এক জয় পেয়েছে টাইগ্রিসরা। বৃষ্টি বিঘ্নিত ম্যাচে বাংলাদেশের জয় ৬ রানে।

বৃষ্টিতে আগেরদিন খেলা মাঠে গড়ায়নি। আজ মঙ্গলবার রিজার্ভ ডেতেও যথা সময়ে খেলা শুরু করা যায়নি। আজও ছিল খেলা মাঠে না গড়ানোর শঙ্কা। শেষ পর্যন্ত খেলা মাঠে গড়ায়, তবে তা নেমে আসে ৯ ওভারে।

হংকংয়ের মিশন রোড গ্রাউন্ডে আগে ব্যাট করে যেখানে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৭ উইকেটে ৫৯ রান। ইনিংসের শুরুটা একেবারেই ভালো ছিল না টাইগ্রিসদের, মোটে ১৬ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে বসে তারা। তাদের কেউই দুই অঙ্ক ছুঁতে পারেননি।

সাথী রানি, দিলারা আক্তার ও স্বর্না আক্তার আউট হন সমান ৪ রান করেন। সোবহানা মোস্তারি ও অধিনায়ক লতা মন্ডল ফিরেছেন রানের খাতা খোলার আগেই। আর ১ রানেই থামতে হয় মুর্শিদা খাতুনকে।

এরপর দলের হাল ধরেন নাহিদা আক্তার ও রাবেয়া খান। দুজনে মিলে ৭ম উইকেট জুটিতে যোগ করেন ৩৭ রান। ১৬ বলে সর্বোচ্চ ২১ রান আসে নাহিদার ব্যাটে। রাবেয়া অপরাজিত ছিলেন ১০ রানে। সালমা খাতুনকে নিয়ে বাকি রান যোগ করেন রাবেয়া। ফাতিমা সানা ২ ওভারে ১০ রান খরচায় নেন ৩ উইকেট।

রান তাড়া করতে নেমে দারুণ শুরু পায় পাকিস্তানের মেয়েরা। প্রথম ৪ ওভারে বিনা উইকেটে আসে ২৬ রান। কিন্তু এরপরই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়া বোলিং নাহিদা আক্তার ও রাবেয়া খানের। দুই ওপেনার শাওয়াল জুলফিকার (১১) ও এইমান ফাতিমার (১৮) সাথে সাদাফ শামাসও (৮) ফিরে যান।

৩৯ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলা পাকিস্তানের শেষ ২ ওভারে প্রয়োজন পড়ে ২০ রান। মারুফা আক্তারের করা ৮ম ওভারে আসে ৭ রান। এই সময়ে ফেরান ০ রানে ফেরান আরেক পাকিস্তানি ব্যাটাট নাতালিয়া পারভেজকে (০)।

ফলে শেষ ওভারে পাকিস্তানের সমীকরণ দাঁড়ায় ১৩ রান, হাতে ৬ উইকেট। কিন্তু এই সমীকরণ মেলাতে দেননি বাঁহাতি স্পিনার সানজিদা আক্তার মেঘলা। দারুণ বোলিংয়ে আটকে দেন পাক কন্যাদের। খরচ করেন মোটে ৬ রান। ফলে ৬ রানের জয় পায় বাংলাদেশ ইমার্জিং নারী দল।

পাকিস্তান ইনিংসের সর্বোচ্চ রান করেন ওপেনার ফাতিমা। ১৫ বলে ১৮ রান করেন তিনি। বাংলাদেশের হয়ে দুটি উইকেট শিকার করেন রাবেয়া খান, একটি করে উইকেট নেন পেসার মারুফা আক্তার ও নাহিদা আক্তার।

প্রতারণার মামলায় ফেঁসে যাচ্ছেন আমিশা প্যাটেল!

‘গদর ২’ মুক্তির আগে নতুন বিতর্কে আমিশা প্যাটেল। তিন কোটি রুপির চেক বাউন্সের মামলায় শনিবার আদালতে আত্মসমর্পণ করলেন বলি নায়িকা। তার বিরুদ্ধে আড়াই কোটি রুপি জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে। জালিয়াতি ও চেক বাউন্সের মামলায় (২০১৮) আমিশা প্যাটেল ও তার বিজনেস পার্টনার ক্রুনালের বিরুদ্ধে গত এপ্রিল মাসেই গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিল রাঁচির সিভিল কোর্ট, সেইমতো এদিন আত্মসমর্পণ অভিনেত্রী।

ওড়না দিয়ে মুখ ঢেকে এদিন আদালত চত্বরে পৌঁছান আমিশা। আদালতে আত্মসমপর্ণের পর অভিনেত্রীর শর্তসাপেক্ষ জামিন মঞ্জুর করে আদালত, জানিয়েছে সংবাদ সংস্থা এএনআই। আগামী ২১ জুন মামলার শুনানিতে আমিশাকে সশরীরে কোর্টে হাজির থাকার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। আপতত রুপোলি পর্দায় কামব্যাকের অপেক্ষায় আমিশা, তার মাঝেই কোর্টের চক্কর কাটছেন অভিনেত্রী।

এদিন গোলাপি রঙের কামিজ এবং প্রিন্টেট সালোয়ারে দেখা মিলল আমিশার, প্রচণ্ড গরমেও গায়ে জড়ানো নীল রঙা চাদর আর গোটা মুখ ওড়না দিয়ে ঢেকে রেখেছিলেন নায়িকা।

চেক বাউন্স ও প্রতারণার মামলা
আমিশা ও সহকর্মী কুণালের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন প্রযোজক অজয় কুমার সিং। তার অভিযোগ ২০১৮ সালে আমিশার সাথে আলাপ তার, তখন একটি ছবি তৈরির ব্যপারে আলোচনা হয় তাদের। অভিনেত্রীকে ২.৫ কোটি রুপিও দেন প্রযোজক। তবে সময় পার হলেও ওই প্রোজেক্টের কোনও কাজ এগোয়নি। এরপর টাকা ফেরত চান অজয় কুমার সিং। তখন আড়াই কোটির বদলে অভিনেত্রী প্রযোজককে তিন কোটির একটি চেক লিখে দেন, যদিও সেই চেক বাউন্স করে। এরপরই পুলিশের দ্বারস্থ হন প্রযোজক। আমিশা ও ক্রুনালের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪২০ এবং ১২০ ধারায় মামলা দায়ের করেন। এর আগে ২০২১ সালে আমিশা প্যাটেল সংবাদ শিরোনামে এসেছিলেন ৩২.২৫ লক্ষ রুপর একটি চেক বাউন্সের মামলায়।

গত ৯ জুন ৪৭-এ পা দিয়েছেন ‘কহো না প্যায়ার হ্যায়’ খ্যাত নায়িকা। আইনি ঝামেলা ভুলে পুরোদমে জন্মদিনের জশন-এ মেতে থাকতে দেখা গিয়েছে আমিশাকে।

আগামী ১১ অগস্ট মুক্তি পেতে চলেছে ‘গদর ২’। এই ছবির সাথে প্রায় পাঁচ বছর পর রুপালি পর্দায় ফিরছেন আমিশা। ‘গদর’ ছবির এই সিকুয়েলে ফের একসাথে দেখা যাবে সানি দেওল ও আমিশাকে। শাকিনার অবতারে আমিশাকে দেখতে মুখিয়ে রয়েছে তার অনুরাগীরা।
সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস

যে কারণে ভারতীয় হিন্দুত্ববাদীরা ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’টি পালন করছে?

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের ‘প্রতিষ্ঠা দিবস’ হিসেবে ২০ জুন তারিখটিকে তুলে ধরা হচ্ছে। ১৯৪৭ সালের এই দিনে বঙ্গীয় প্রাদেশিক আইনসভায় এক ভোটাভুটির মাধ্যমে অবিভক্ত বাংলা প্রদেশকে ভাগ করার সিদ্ধান্তে সিলমোহর পড়েছিল।

ইতিহাসবিদদের একটা অংশ মনে করেন ২০ জুন বাংলার মানুষের কাছে গৌরবের দিন নয়, এটা ‘লজ্জার দিন’।

আবার আরেকটি অংশ, যারা হিন্দু পুণরুত্থানবাদী আরএসএসের ঘনিষ্ঠ, তারা মনে করেন ৪৬-এর কলকাতার দাঙ্গা বা নোয়াখালীর দাঙ্গা থেকে পরিত্রাণ পেতেই ‘পশ্চিমবঙ্গ সৃষ্টির’ এবং পশ্চিমবঙ্গের ভারত-ভুক্তির সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তখনকার রাজনীতিবিদরা।

সেই দিনটিকেই পশ্চিমবঙ্গ দিবস হিসেবে পালন করার জন্য কেন্দ্রীয় সরকার দেশের সব রাজ্যকে নির্দেশ দিয়েছে। উদযাপনের ছবিসহ রাষ্ট্রপতির কাছে বিস্তারিত জানাতে বলা হয়েছে ওই নির্দেশে। বিজেপি এবং হিন্দুত্ববাদী নেতানেত্রীরা ব্যাপক হারে পশ্চিমবঙ্গ দিবসের শুভেচ্ছা পোস্ট করছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

কলকাতায় রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধান, গভর্নর সিভি আনন্দ বোস রাজভবনে এই দিনটি উদযাপনের আয়োজন করেছিলেন।

তবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী ২০জুন তারিখে পশ্চিমবঙ্গ প্রতিষ্ঠা দিবস পালনের বিরোধিতা করেছেন।

তার যুক্তি, এই দিনটি উদযাপনের নয়, ১৯৪৭ সালে বেদনাদায়ক পরিস্থিতিতে অবিভক্ত বাংলাকে টুকরো করে পশ্চিমবঙ্গ তৈরি হয়েছিল।

‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ পালনের বিরোধিতা মমতা ব্যানার্জীর
রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসকে পাঠানো এক দীর্ঘ চিঠিতে মিজ ব্যানার্জী লিখেছেন, “আমি হতবাক ও বিস্মিত হয়েছি এটা জেনে যে আপনি ২০ জুন রাজভবনে ‘পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য প্রতিষ্ঠা দিবস’-এর মতো একটা অদ্ভুত দিবস উদযাপন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।“

“অথচ দুপুরেই যখন আপনার সাথে টেলিফোনে কথা হয়েছিল, তখন আপনিও মেনে নিয়েছিলেন যে একতরফাভাবে পশ্চিমবঙ্গের প্রতিষ্ঠা দিবস ঘোষণা করার সিদ্ধান্তটা অনভিপ্রেত ছিল। অনুষ্ঠানটি না করার কথাও বলেছিলেন আপনি,” লিখেছেন মমতা ব্যানার্জী।

ব্যানার্জী এও লিখেছেন যে পশ্চিমবঙ্গ কোনো একটা বিশেষ দিনে প্রতিষ্ঠিত হয়নি, বিশেষ করে ২০ জুন তো নয়ই। স্বাধীনতার পর থেকে কোনও দিন উৎসাহ-উদ্দীপনার সাথে এরকম কোনো দিবস পালন করা হয়নি।

মমতা ব্যানার্জীর কথায় বাংলাভাগ করা হয়েছিল সেই সময়ের একটা ঐতিহাসিক প্রয়োজনে, একইসাথে সেটি ছিল বাংলার মানুষের কাছে এক দুঃখজনক নিয়তি।

বস্তুতঃ, সাম্প্রদায়িক শক্তির উত্থানকে সেই সময়ে প্রতিরোধ করতে না পারার কারণেই দেশভাগ হয়েছিল, মন্তব্য করেছেন মমতা ব্যানার্জী।

‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ পালনের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের যে নির্দেশ এসেছে, সেটির কোনও ঐতিহাসিক ভিত্তি নেই বলেও লিখেছেন মমতা ব্যানার্জী।

কী হয়েছিল ২০ জুন?
১৯৪৭ সালের ২০ জুন বঙ্গীয় প্রাদেশিক আইনসভায় বাংলা ভাগ করা হবে কিনা- সেই সিদ্ধান্তের ওপরে ভোটাভুটি হয়।

মুসলমান সংখ্যাগুরু পূর্ব বঙ্গ অঞ্চলের জনপ্রতিনিধিদের ভোটে বাংলা ভাগ করার বিপক্ষে রায় যায়। ১০৬টি ভোট বাংলা ভাগের বিপক্ষে আর মাত্র ৩৫টি ভোট পড়েছিল বাংলা ভাগ করার পক্ষে।

আর হিন্দু সংখ্যাগুরু পশ্চিমবাংলা অংশের জনপ্রতিনিধিদের ভোটে ৫৮-২১ ভোটে বাংলা ভাগ করার পক্ষে রায় যায়।

ঐতিহাসিক ও হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিহাসের গার্ডিনার অধ্যাপক সুগত বসু বলছেন, প্রাদেশিক আইনসভার বেশিরভাগ সদস্য দেশভাগ না চাইলেও মাউন্টব্যাটেন পরিকল্পনার মাধ্যমে ৩ জুনই ঘোষণা হয়ে গিয়েছিল যে পাঞ্জাব আর বাংলা ভাগ করা হবে।

তার কথায়, ২০ জুনের ভোটাভুটির মাধ্যমে দেশভাগের সিদ্ধান্তে সিলমোহর পড়েছিল মাত্র।

“তাই এটা কোনো গুরুত্বপূর্ণ একটা দিন নয় যে আলাদা করে উদযাপন করতে হবে। এটা গৌরবেরও দিন নয়। এটা আত্মঘাতী বাঙালির লজ্জার দিন,” বলছিলেন অধ্যাপক বসু।

২০ জুন ভোটের পরে সোহরাওয়ার্দীর মন্তব্য
প্রাদেশিক আইনসভা বাংলা ভাগের সিদ্ধান্তে সিলমোহর দেয়ার পরে সেদিনই বাংলার তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী সংবাদমাধ্যমে একটি বিবৃতি দিয়েছিলেন।

সোহরাওয়ার্দী গবেষক আলিমুজ্জামান জানাচ্ছেন, “সেই বিবৃতিতে সোহরাওর্দী সাহেব বলেছিলেন যে আশা-নিরাশার যন্ত্রণার ইতি হলো অবশেষে। স্বাধীন সার্বভৌম বাংলা রাষ্ট্রের আদর্শের পৃষ্ঠে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। বাংলাকে দ্বিধাবিভক্ত করা হবে অচিরেই, মুসলিম বাংলার ক্ষোভের বিশেষ কারণ নেই। “

“ওই বিবৃতিতেই সোহরাওয়ার্দী সাহেব আরো বলেছিলেন যে আমাদের পথ আলাদা হয়ে গেছে। চলুন আমরা পরস্পরের প্রতি বন্ধুত্বের ভাব বজায় রেখেই পৃথক পথে এগিয়ে যাই,” বলেন আলিমুজ্জামান।

‘এইদিনে পশ্চিমবঙ্গ সৃষ্টি হয়েছিল’
আরএসএসের ইতিহাসবিদদের সংগঠন, ভারতীয় ইতিহাস সংকলন সমিতির পশ্চিমবঙ্গ শাখার সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক রবি রঞ্জন সেন বলছেন, “এটাকে আমরা যদি বাংলা ভাগের সিদ্ধান্ত হওয়ার দিন হিসাবে না দেখে যদি বিপরীতভাবে দেখি যে এই দিনে পশ্চিমবঙ্গ সৃষ্টির এবং তার ভারত-ভুক্তির সিদ্ধান্ত হয়েছিল?”

তার কথায়, “সেদিন যদি দেশভাগের সিদ্ধান্ত না নেয়া হত, তাহলে তো পুরো বাংলাটাই ভারত থেকে বেরিয়ে যেত।“

সেন বলছিলেন, “যে ২০ জুন বা দেশভাগকে অন্ধকার সময়কাল বলে বর্ণনা করছেন মুখ্যমন্ত্রী, সেই অন্ধকার সময়টা শুরু হয়েছিল আরো আগে থেকে। ৪০-এর দশকের প্রথম থেকে যে দাঙ্গা পরিস্থিতি এবং হিন্দুদের ওপরে অত্যাচার চলেছিল, ১৬ অগাস্ট ১৯৪৬ সালে যে ডিরেক্ট অ্যাকশন ডে-র পরে দ্যা গ্রেট ক্যালকাটা কিলিংস চলেছিল, বা নোয়াখালির দাঙ্গায় তা চূড়ান্ত রূপ পেয়েছিল। সেই অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতেই মানুষ বাংলা ভাগ মেনে নেয় এবং পশ্চিমবঙ্গের সৃষ্টি হয়।“

হিন্দু মহাসভার নেতা শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীকে আরএসএস এবং হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো পশ্চিমবঙ্গের জনক হিসাবে সম্মান দেখিয়ে থাকে।

“শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী উদ্যোগটা নিয়েছিলেন ঠিকই কিন্তু তিনি একা ছিলেন না। দলমত নির্বিশেষে, পশ্চিমবাংলার বুদ্ধিজীবী সবাই বাংলাভাগকে সমর্থন করেছিলেন। এমনকি কংগ্রেসও সমর্থন করেছিল, কেবলমাত্র শরৎ চন্দ্র বসু ও কিরণ শঙ্কর রায় সোহরাবর্দীর যুক্তবঙ্গ পরিকল্পনার ফাঁদে পা দিয়েছিলেন,” বলছিলেন অধ্যাপক রবি রঞ্জন সেন।

কী ছিল যুক্ত বঙ্গ পরিকল্পনা?
ভারতের স্বাধীনতার বেশ কয়েক মাস আগে বাংলার তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওর্দী, আবুল হাশিমদের মতো বেশ কয়েকজন মুসলিম লিগ নেতা এবং কংগ্রেস নেতা ও সুভাষ চন্দ্র বসুর দাদা শরৎ চন্দ্র বসু ও কিরণ শঙ্কর রায়রা বাংলাকে ভাগ না করে একটি যুক্ত বঙ্গ প্রদেশের পরিকল্পনা করেছিলেন। সেই পরিকল্পনাকে ‘ইউনাইটেড বেঙ্গল প্ল্যান’ বলা হয়।

ওই পরিকল্পনা একটা সময়ে মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী এবং মুহম্মদ আলি জিন্নারও সমর্থন পেয়েছিল।

কলকাতা লাগোয়া সোদপুরের খাদি আশ্রমে বেশ কয়েক দফায় গান্ধী এসে যুক্ত বঙ্গ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেছিলেন।

যুক্তবঙ্গ প্রস্তাবের প্রবল বিরোধিতা হিন্দু মহাসভার
পরিকল্পনাটির ঘোর বিরোধিতা করেছিলেন হিন্দু মহাসভা নেতা শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি এবং কংগ্রেস হাইকমাণ্ডের জওহরলাল নেহরু ও বল্লভভাই প্যাটেল।

হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো পশ্চিমবঙ্গের সৃষ্টিকর্তা বলে যে শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীকে সম্মান জানিয়ে থাকে, দেশভাগ নিয়ে তার যুক্তি ছিল, যদি বাংলাকে ভাগ না করা হয় এবং যদি ‘যুক্তবঙ্গ’ নামে একটি তৃতীয় সার্বভৌম রাষ্ট্র গঠিত হয়, তাহলে সেই যুক্তবঙ্গ একসময়ে পাকিস্তানে চলে যাবে।

অধ্যাপক সুগত বসুর কথায়, “লর্ড মাউন্টব্যাটেন ৩ জুন, ১৯৪৭, যে পরিকল্পনা ঘোষণা করেন রেডিওতে, তার দুটো ভার্সান লণ্ডনে গিয়ে রেকর্ড করে এসেছিলেন। ‘ব্রডকাস্ট এ’ – তে ছিল পাঞ্জাব ও বাংলাকে ভাগ করে ভারতের স্বাধীনতা দেয়ার ঘোষণা আর ‘ব্রডকাস্ট বি’-তে ছিল যে বাংলার হিন্দু এবং মুসলমান নেতারা একটা রফা করেছেন এবং তারা অবিভক্ত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন,” বলছিলেন অধ্যাপক সুগত বসু।

সেক্ষেত্রে ভারত ভাগ হয়ে তিনটি সার্বভৌম রাষ্ট্র গড়ার পরিকল্পনা ছিল যুক্ত বঙ্গ পরিকল্পনায় : একটি ভারত, অন্যটি পাকিস্তান এবং তৃতীয়টি যুক্ত বঙ্গ প্রদেশ।

অধ্যাপক বসুর কথায়, “লণ্ডন থেকে ফিরে আসার পরে কংগ্রেস হাইকমাণ্ড, অর্থাৎ জওহরলাল নেহরু এবং বল্লভভাই প্যাটেল যুক্তবঙ্গ পরিকল্পনাকে নস্যাৎ করে দিলেন। সেখানেই শেষ হয়ে যায় ওই পরিকল্পনা।“

“শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী ১৯৪৭ সালে ঠিক যেভাবে হিন্দু মুসলমান ভেদাভেদ ঘটিয়ে বাংলা ভাগ করেছিলেন, এখনো আবার সেই একই উদ্দেশ্য নিয়ে একটি দিন বেছে নিয়ে উদযাপন করা হচ্ছে,” বলছিলেন অধ্যাপক সুগত বসু। সূত্র : বিবিসি

মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দেয়াই বিএনপির লক্ষ্য : মির্জা ফখরুল

দেশে ভয়াবহ এক পরিস্থিতি চলছে উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করে দেশের মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দেয়াই বিএনপির লক্ষ্য।

মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর গুলশানে একটি হোটেলে বিএনপির মিডিয়া সেলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, দেশের প্রধান সঙ্কট হলো গণতন্ত্র না থাকা। এই সরকার সব প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে দিয়েছে। একদলীয় শাসন কায়েম করেছে। ফের তারা ভোট চুরির নির্বাচন করার পাঁয়তারা করছে।

তিনি বলেন, জনগণ ভোট দিয়ে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করতে চায়। আমরা দেখেছি বিশেষ করে বর্তমান শাসকগোষ্ঠী আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে এটা সম্ভব নয়। সে কারণে আমরা পরিষ্কার করে বলেছি একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন চাই। যেন সেই নির্বাচনে জনগণ তাদের ভোট দিতে পারে এবং প্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারে। এ কথাগুলো আমাদের দলের পক্ষ থেকে খুব পরিষ্কার করে বলা হয়েছে।

ফখরুল বলেন, আমাদের সহস্রাধিক নেতাকর্মীকে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যা করা হয়েছে। ৬ শ’র অধিক নেতাকর্মীকে গুম করা হয়েছে। ৪০ লাখ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেয়া হয়েছে। অর্থাৎ একটি ভয়াবহ অবস্থা, ভিন্নমত পোষণ করার কোনো সুযোগ নেই। এই অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা খুব পরিষ্কার করে বলেছি একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন চাই। সে কারণে আমাদের দলের পক্ষ থেকে ১০ দফা দাবি জানিয়েছি।

তিনি বলেন, যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে বিশ্বাস করে, বাংলাদেশকে সত্যিকার অর্থে যারা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে চায়। সেই সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলো আজকে একসাথে হয়ে যুগপৎ আন্দোলন করছি। আমাদের লক্ষ্য গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা। এখানে বিএনপিকে ক্ষমতায় নিতে চাই- এ কথাটি মুখ্য নয়, মুখ্য হচ্ছে মানুষের অধিকারকে আমরা প্রতিষ্ঠা করতে চাই। যে স্বপ্ন নিয়ে ১৯৭১ সালে আমরা যুদ্ধ করেছিলাম। যে প্রতিশ্রুতি আমরা দিয়েছিলাম জনগণের সামনে।

বিএনপি মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন স্বপনের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এনীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মিডিয়া সেলের সদস্য শাম্মী আক্তার, অধ্যাপক মোর্শেদ হাসান খান, রুমিন ফারহানা, কাদের গণি চৌধুরী, শায়রুল কবির খান, ওলামা দলের আহ্বায়ক অধ্যক্ষ মাওলানা শাহ মো: নেছারুল হক প্রমুখ।

ভারত সময়ের পরীক্ষিত বন্ধু : ওবায়দুল কাদের

ভারতকে সময়ের পরীক্ষিত বন্ধু উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র সফরের সাথে বাংলাদেশের রাজনীতির কোনো সম্পর্ক নেই।

এ সময় তিনি বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে দেশের সংবিধান অনুযায়ী, কোনো বহিঃশক্তির পরামর্শে নয়।

ওবায়দুল কাদের মঙ্গলবার (২০ জুন) বিকেলে রাজধানীর স্বামীবাগে শ্রী শ্রী জগন্নাথদেবের রথযাত্রা মহোৎসব উপলক্ষে ইসকন স্বামীবাগ আশ্রমে আয়োজিত আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপির কাছে সুষ্ঠু নির্বাচন মানে হচ্ছে আওয়ামী লীগ পরাজিত হলে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে। নির্বাচনে হেরে আওয়ামী লীগকে প্রমাণ দিতে হবে নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হয়েছে। যত সংশয় থাকুক না কেন, এদেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হবে। কারো কথায়, দেখানো রূপরেখা ও অন্য কোনো শক্তি নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে পারবে না। নির্বাচন হবে সংবিধান ও সময় অনুযায়ী।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, আগামী জাতীয় নির্বাচন সংবিধান অনুযায়ী হবে। কাজেই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কারো কারো মধ্যে আশঙ্কা কাজ করে। আমি একটা কথা বলতে চাই… আমাদের দেশে নির্বাচন অতীতে দেখেছি, যতবারই নির্বাচনকে সামনে রেখে আশঙ্কা ছিল, ততোই আলো ঝলমল সকাল ঘনিয়ে এসেছে।
তিনি বলেন, আমরা কারো ভিসানীতি, নিষেধাজ্ঞা এসব বিবেচনা করে নির্বাচনে যাচ্ছি না। আমাদের নজর সংবিধানের দিকে, দেশের জনগণের দিকে।

ভারতকে সময়ের পরীক্ষিত বন্ধু উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন। এর সাথে বাংলাদেশের রাজনীতির কোনো সম্পর্ক নেই। আজকে বিশ্বে অনেক বিষয় যুদ্ধ, মুদ্রাস্ফীতি, জ্বালানি সংকট। এখানে বাংলাদেশ বিষয়ে কোনো কথা হবে কিনা, এটা নিয়ে তো ভারতের সাথে আমাদের আলোচনা হয়নি। কিংবা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আমরা কোনো প্রস্তাব পাঠাইনি, আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে বোঝানোর জন্য।

তিনি বলেন, আজকে বাংলাদেশে নির্বাচন অবাধ সুষ্ঠু করতে ভিসানীতি প্রয়োগ করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর কিছু করণীয় আছে কিনা, সেটা তার দৃষ্টিকোণ থেকে তার নিজস্ব ব্যাপার। বাংলাদেশের কোনো নির্বাচন নিয়ে ভারত কোনো প্রশ্ন বা হস্তক্ষেপ করেছে- এমন জানা নেই।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক জানান, শ্রী শ্রী জগন্নাথদেবের রথযাত্রা উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সনাতন ধর্মালম্বীদের শুভেচ্ছা ও শুভ কামনা জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, দুঃসময়ে, দুঃখ-কষ্টে, দুর্যোগে আওয়ামী লীগ সনাতন ধর্মালম্বীদের পাশে ছিল, ভবিষ্যতেও থাকবে।

সনাতন ধর্মালম্বীদের উদ্দশ্য করে ওবায়দুল কাদের বলেন, আপনাদের নিজেদের কখনো সংখ্যালঘু মনে করা উচিত না। অন্যান্য ধর্মের মতো আপনারাও দেশের প্রথম শ্রেণির নাগরিক। আপনাদের আর মুসলিম ভোটারের অধিকার সমান। বাংলাদেশের সব মানুষই প্রথম শ্রেণির নাগরিক। সবাই মিলে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে দেশ স্বাধীন করেছি।

ইসকন বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক চারু চন্দ্র দাস ব্রহ্মচারীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য নির্মল চ্যাটার্জি, বাংলাদেশে ভারতের ইন্দিরা গান্ধী কালচারাল সেন্টারের পরিচালক মৃন্ময় চক্রবর্তী, মহানগর পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি মনিন্দ্র কুমার নাথ প্রমুখ।

আলোচনা সভা শেষে রথযাত্রা উপলক্ষে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় কুমার ভার্মা শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন। পরে সেখান থেকে বর্ণাঢ্য সাজে তিনটি বিশাল রথে জগন্নাথ দেব, শুভদ্রা ও বলরামের প্রতিকৃতিসহ শোভাযাত্রা বের হয়।

শোভাযাত্রাটি জয়কালি মন্দির, মতিঝিল শাপলা চত্বর, দৈনিক বাংলার মোড়, বঙ্গভবন মোড়, গুলিস্থান, জিপিও, সচিবালয়ের সামনে দিয়ে হাইকোর্ট মোড়, দোয়েল চত্বর, জগন্নাথ হল ও পলাশী হয়ে ঢাকেশ্বরী মন্দিরে গিয়ে শেষ হয়।

সূত্র : বাসস

এবার গণ অধিকার পরিষদ থেকে নুর-রাশেদকে অব্যাহতি

গণ অধিকার পরিষদে রেজা কিবরিয়া ও নুরুল হক নুরের রেষারেষি আরো জটিল আকার ধারণ করেছে। এবার সংগঠনের সদস্য সচিব নুরুল হক নুর ও কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির ১ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক মো: রাশেদ খানকে অব্যাহতি দিয়েছেন রেজা কিবরিয়াপন্থী নেতারা।

মঙ্গলবার (২০ জুন) রাতে গণ অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক রেজা কিবরিয়ার সই করা এবং পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যকরী সদস্য শাহাবুদ্দিন ‍শুভর পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ অব্যাহতির কথা জানানো হয়।

এতে বলা হয়, গণ অধিকার পরিষদের গঠনতন্ত্র, ২১ দফা কর্মসূচি, লক্ষ্য-উদ্দেশ্য এবং মূলনীতি বিরোধী কাজ করা, সরকারের সংবিধান, মানি লন্ডারিং আইন ও সন্ত্রাসবিরোধী আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠা, ইসরাইলসহ বিদেশী গোয়েন্দা সংস্থার সাথে যোগাযোগ, অনৈতিক আর্থিক লেনদেন, গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন করে সভা আয়োজন, অবৈধভাবে ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মনোনয়ন করা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরিষদের নেতাদের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক পোস্ট দিয়ে দলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির দায়ে সদস্য সচিব মো: নুরুল হককে কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির পদ থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেয়া হলো।

একইসাথে এই প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করায় কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির ১ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক মো: রাশেদ খানকে সাময়িক অব্যাহতি দেয়া হলো। তাদের দুজনকেই দলের দফতর বরাবর আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেয়া হলো।

বিজ্ঞপ্তিতে রেজা কিবরিয়া বলেন, একইসাথে আমি ড. রেজা কিবরিয়া, গণ অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক হিসেবে সাংগঠনিক ক্ষমতাবলে পরবর্তী নির্বাহী সংসদের সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার আগ পর্যন্ত সদস্য সচিব হিসেবে কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক ও অধিকার পরিষদের অন্যতম প্রধান উদ্যোক্তা হাসান আল মামুনকে (মো: আল মামুন) ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব হিসেবে মনোনীত করছি। দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি এবং নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের আন্দোলন বেগবান করার জন্য এসব নির্দেশনা দেয়া হলো।

এদিকে, গণঅধিকার পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, নুরুল হক নুরের সাথে ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের যোগাযোগ, আর্থিক কেলেঙ্কারিসহ নানা কারণে বিরক্ত সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নেতারা। সর্বশেষ মোসাদের সাথে নুরুল হক নুরের টাকা লেনদেনের বিষয়টি সামনে এলে দলের অভ্যন্তরে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। তবে বিষয়টি নিয়ে নুরের স্পষ্ট কোনো বক্তব্য না থাকায় ভালোভাবে নেননি দলের কেন্দ্রীয় নেতারা।

পরে মঙ্গলবার (২০ জুন) দিনভর দফায় দফায় বৈঠক করেন গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতারা। সভায় সংগঠনটির বেশিরভাগ যুগ্ম আহ্বায়ক, যুগ্ম সদস্য সচিব এবং কেন্দ্রীয় কমিটির নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অংশ নেন চিকিৎসার জন্য বিদেশে অবস্থান করা ড. রেজা কিবরিয়া।

এর আগে, গত রোববার সন্ধ্যায় গুলশান ২ নম্বর সেক্টরের ৫৫ নম্বর রোডের ২০ নম্বর বাড়িতে দলের আহ্বায়ক রেজা কিবরিয়ার বাসার ছাদে গণ অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সংসদের বৈঠক বসে। সন্ধ্যা ৭টা থেকে শুরু হয়ে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত আড়াই ঘণ্টাব্যাপী ওই বৈঠকে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়।

দলের সদস্য সচিব নুরুল হক নুর বৈঠকে আসেন সাড়ে ৮টার দিকে। এ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন রেজা কিবরিয়া। তিনি বলেন, ৭টার বৈঠকে কেন সদস্য সচিব সাড়ে ৮টায় উপস্থিত হবেন? এর পর থেকেই উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় চলতে থাকে। যার রেশ থাকে শেষ পর্যন্ত। রাত ৯টা নাগাদ এক পর্যায়ে রাগ করে উঠে বাসায় চলে যান রেজা কিবরিয়া।

এ ঘটনায় সোমবার (১৯ জুন) রাতে পাল্টাপাল্টি বিবৃতি দেন ড. রেজা কিবরিয়া ও নুরুল হক নুর।

গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ : রাষ্ট্রপতি

নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক করতে নির্বাচন কমিশনের পাশাপাশি রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো: সাহাবুদ্দিন।

সোমবার (১৯ জুন) বঙ্গভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়ালের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল রাষ্ট্রপতির সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ আহ্বান জানান।

পরে রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব জয়নাল আবেদিন সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।

রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন বলেন, ‘গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে ভোটের সময় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে আইন-শৃঙ্খলাসহ সার্বিক সহযোগিতা দেয়া হবে।’

তিনি ভোট গ্রহণ নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক করতে ভোটের তারিখের পূর্ব থেকেই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেন।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, বর্তমান নির্বাচন কমিশন দেশের সকল নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে সক্ষম হবে।

সাক্ষাৎকালে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতিকে অভিনন্দন জানানো হয়।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার হাবিবুল আউয়াল জানান, তিনি দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে স্থানীয় সরকারসহ সকল নির্বাচন নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে করতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

তিনি বলেন, কিছু কারিগরি ত্রুটি ছাড়া নির্বাচনে সফলভাবে ইভিএম ব্যবহার করা যাচ্ছে। এছাড়া নির্বাহী বিভাগের সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে।

ইতোমধ্যে সীমানা চূড়ান্ত করা হয়েছে উল্লেখ করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার আরো জানান, ভোটকেন্দ্র চূড়ান্তকরণের প্রক্রিয়া চলমান আছে।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে রাষ্ট্রপতির সহযোগিতা ও দিকনির্দেশনা কামনা করেন তিনি।

এ সময় তিন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো: আহসান হাবিব খান (অব.), বেগম রাশেদা সুলতানা, মো: আলমগীর ও নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিব জাহাঙ্গীর আলম উপস্থিত ছিলেন।

রাষ্ট্রপতির সচিবরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র : বাসস

সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন করতে হবে, এর কোনো অর্থ নেই : জিএম কাদের

জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান ও বিরোধীদলীয় উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ কাদের এমপি বলেছেন, সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন করতে হবে, এর কোনো অর্থ নেই। কারণ ১৯৯১ সালে ও ২০০৮ সালে সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হয়নি। শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়া সব সময় সংবিধান মানেননি। তত্ত্বাবধায়ক সরকার যে ব্যবস্থা ছিল তাও এখন বাতিল হয়েছে। তাই, এখন একটি নতুন ব্যবস্থা করা জরুরি, কোনো সরকার যাতে নির্বাচন ব্যবস্থা প্রভাবিত করতে না পারে। সরকার যদি আগ্রহ দেখায় অথবা সবাই যদি একটি ফর্মুলায় আসতে চায় তবে আমরাও একটি প্রস্তাব দেবো। আমরা যে প্রস্তাব দেবো তা হয়তো শতভাগ গ্রহণযোগ্য হতে নাও পারে। তবে, সবার আলোচনার মাধ্যমে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য একটি চিরস্থায়ী ব্যবস্থা হতে পারে। সেজন্য সরকারকে আন্তরিকভাবে এগিয়ে আসতে হবে।

সোমবার (১৯ জুন) দুপুরে রাজধানীর বনানীস্থ কার্যালয় মিলনায়তনে গণমাধ্যম কর্মীদের সাথে আলোচনাকালে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান এসব কথা বলেন।

জি এম কাদের বলেন, দেশের বর্তমান শাসন পদ্ধতিতে শতকরা একশো ভাগ ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর হাতে। মন্ত্রিসভা ও সংসদ পরিবর্তন করে কোনো লাভ নেই। নিজের অধিনে নির্বাচনে কেউ পরাজিত হতে চাইবে এটা আশা করা পাগলামি। বর্তমান পদ্ধতিতে কোনোভাবেই সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। নির্বাচন ব্যবস্থা সরকারের ক্ষমতার বাইরে আনতে হবে।

অন্য এক প্রশ্নের জবাবে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান বলেন, বাংলাদেশে এখন গণতন্ত্র নেই। যদি গণতন্ত্র সংজ্ঞায়িত করি গভর্নমেন্ট অফ দ্যা পিপল, বাই দ্যা পিপল, ফর দ্যা পিপল। আর রাজতন্ত্র যদি হয় গভর্নমেন্ট অফ দ্যা কিং, বাই দ্যা কিং, ফর দ্যা কিং। তাহলে এখন আমাদের দেশে গভর্নমেন্ট অফ দ্যা আওয়ামী লীগ প্লাস, বাই দ্যা আওয়ামী লীগ প্লাস, ফর দ্যা আওয়ামী লীগ প্লাস।

একটাই দাবি শেখ হাসিনার পদত্যাগ : মির্জা ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমাদের ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য এ লড়াই নয়। তোমরা যারা নতুন প্রজন্ম আছো তাদেরকে রাজপথে নামতে হবে। তাহলে এই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করা সম্ভব। এ সময় উপস্থিত নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করতে স্লোগান ধরেন,‘এক দফা, এক দাবি এক শেখ হাসিনার পদত্যাগ’।

সোমবার (১৯ জুন) বগুড়া সেন্ট্রাল স্কুল মাঠে এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির মহাসচিব এ কথা বলেন।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের পদত্যাগের দাবিতে চলমান আন্দোলনে তরুণ প্রজন্মকেও জাগ্রত করতে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের ১৬ জেলার তারুণদের নিয়ে এ সমাবেশের আয়োজন করে জাতীয়াতাবাদী যুবদল, স্বেচ্চাসেবক ও ছাত্রদল।

আমাদের স্বাধীনতা বিপন্ন, কোনো মানবাধিকার নেই, সেই স্বাধীনতা আজ তোমরা যারা নতুন প্রজন্ম আছো তাদেরকেই উদ্ধার করতে হবে এমন আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, গণতন্ত্র ছিল না, সেই গণতন্ত্রকে উদ্ধার করেছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। আজ আবার সেই গণতন্ত্রকে খেয়ে ফেলেছে এই আওয়ামী লীগ। আজ ফের তোমাদের দায়িত্ব নিতে হবে এই গণতন্ত্রকে উদ্ধারে। যেমন নেতৃত্ব দিয়ে উদ্ধার করেছিলেন দুলু সাহেবরা।

সমাবেশে আসা এক মেয়ের কথা তুলে ধরে তিনি বলে, তারা আমার মেয়ে, ছেলের মতো। তাদেরকে এই সরকার চাকরি দেয়নি। কারণ তারা আওয়ামী লীগ করে না বলে। পরিবার বিএনপি হওয়ার কারণে। যে সরকার রাজনৈতিক কারনে চাকরি দেয় না। যে সরকার বেকারদের চাকরি দিতে পারে না। দেশের মেধাবীদের একটা কর্মসংস্থান করে দিতে পারে না। এরা আবার উন্নয়নের কথা বলে।

‘আওয়ামী লীগ বলে উন্নয়ন নাকি দেখতেই পারি না আমরা, এমন মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এক-দু’টি উড়াল সেতু করাই কি উন্নয়ন। যে দেশের মানুষ দু’মুঠো ভাত খেতে পারে না। তারা তাদের ছেলে-মেয়েদের ভালো ভাবে পড়াতে পারে না। এটাকে কি উন্নয়ন বলা যায়?

আওয়ামী লীগের প্রশংসা পত্র না থাকলে চাকরি হয় না অভিযোগ করে তিনি বলেন, তাদের লোক বলেছে, দেশটা প্রায় ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে, গিলে খেয়েছে এই আওয়ামী লীগ। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদেরের কথা তুলে ধরেন তিনি। উনি তো তাদের লোক।

হীরক রাজার কথা বলে তিনি বলেন, ‘দড়ি ধরে মারো টান, রাজা হবে খান খান’। এই সরকার এত কাপুরুষ, এত ভীতু, তারা এ সমাবেশের কারণে গাড়ি চলতে দেয়নি। গাড়ি চললে বগুড়াতে এত লোক হতো যাদের জায়গা দেয়া সম্ভব হতো না।

‘আমরা লুট বন্ধ করতে চাই, মানুষের অধিকার ফিরে দিতে চাই। আপনি (প্রধানমন্ত্রী) বলেন,‘অনেক করছেন দেশের মানুষের জন্য’। কী করেছেন? তিস্তার পানি বণ্টন আনতে পারেন নাই, সীমান্ত হত্যা বন্ধ করতে পারেন নাই। কি করলেন তাহলে!’

মির্জা ফখরুল বলেন, কিছু দিন আগে বললেন বিদ্যুৎ ফেরি করে বিক্রি করবেন, কিন্তু এখন সেই বিদ্যুৎ কই গেল? সব লুট করে, পাচার করেছে এই আওয়ামী লীগ সরকার। এরা সব খেয়ে শেষ করে দিয়েছে।

আমরা মানুষের অধিকার, ভাতের, ভোটের লড়াই করছি। এটা আমাদের ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য এ লড়াই নয় জানিয়ে তিনি বলেন, তোমরা যারা নতুন প্রজন্ম আছো তাদেরকে রাজপথে নামতে হবে। তাহলে এই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করা সম্ভব। এ সময় মির্জা ফখরুল স্লোগান ধরেন, ‘দফা এক, দাবি এক শেখ হাসিনার পদত্যাগ’।

‘আজ পরিষ্কার কথা, নির্বাচন অবশ্যই এ দেশে হবে, নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে। বেগম খালেদা জিয়া মুক্তি দিতে হবে। আমাদের নেতা তারেক রহমানকে দেশে আসতে দিতে হবে। আমাদের নেতাকর্মীদের সব মামলা থেকে মুক্তি দিতে হবে। তারপর নির্বাচন হবে এ দেশে।’

মির্জা ফখরুল বলেন, আজকে মোবাইলে ১০০ টাকা ভরলে ৩০ টাকা আওয়ামী লীগের পকেটে চলে যায়। বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটারে ১ হাজার টাকা রিচার্জ করলে ৩০০ টাকা কেটে নেয়।

তিনি বলেন, আজকে সরকার বিদ্যুৎ নাকি তারা খুবই উত্পাদন করেছে। তাহলে বিদ্যুৎ গেল কোথায়? আসলে এরা পুরো দেশটাকে খেয়ে ফেলেছে। তাই বলবো আজকে সময় হলো তরুণদের। তরুণ প্রজন্মকে আবারো ভোটাধিকার, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও ভাতের অধিকার আন্দোলন সংগ্রামে ঐক্যবদ্ধভাবে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। যার নেতৃত্ব দিচ্ছেন আমাদের বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারুণ্যের অহংকার তারেক রহমান।

মির্জা ফখরুল বলেন, নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনের মাধ্যমে নির্বাচনের আয়োজন করতে হবে। এর ফয়সালা হবে রাজপথে। আমরা এই ফ্যাসিস্ট সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনে যাবো না। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই আগামী নির্বাচন হবে এবং ওই নির্বাচনে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা হবে। তার আগে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও ৪০ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে।

সমাবেশে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু, আব্দুল খালেক, শাহিন শওকত, আবু বকর সিদ্দিক, আব্দুল মতিন, আমিনুল ইসলাম, ফজলুর রহমান খোকনসহ স্থানীয় ও বিভিন্ন জেলা থেকে আগত নেতাকর্মী ছাড়াও মুক্তিযোদ্ধা দলের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা ইমরানুল হক চাকলাদারের পক্ষ থেকে দু’শতাধিক মানুষের একটি প্রতিনিধিদলও উপস্থিত হন।

উল্লেখ্য, স্কুলের শিক্ষার্থীদের অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা থাকায় সমাবেশস্থলে নেতাকর্মীরা দুপুর আড়াইটা থেকে মাঠে প্রবেশ করেন। রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের ১৬টি জেলার প্রায় সব জেলার নেতাকর্মীরা এই সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন।

তরুণ সমাবেশের আয়োজকেরা জানান, রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের বেশ কয়েকটি জেলার বেশকিছু উপজেলা থেকে রিজার্ভ করা গাড়ি সমাবেশে আসতে দেয়া হয়নি। বগুড়ায় এই তারুণ্যের সমাবেশের জন্য প্রথমে বগুড়া শহরের আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে আয়োজনের অনুমতি চাওয়া হয়েছিল। একইদিনে জেলা যুবলীগ শহরের সাতমাথায় শান্তি সমাবেশের ঘোষণা দিলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। যুবলীগ আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে গাড়ি পার্কিংয়ে সমাবেশের সিদ্ধান্ত নেয়। পরে তারুণ্যের সমাবেশ সেন্ট্রাল হাইস্কুল মাঠে আয়োজনের অনুমতি দেয়া হয়। যুবলীগও সোমবারের বদলে রোববার শান্তি সমাবেশ করেছে।

যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে প্রায় ৪ কোটি ৭০ লাখ নতুন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি। আওয়ামী লীগ না করার কারণে অনেক মেধাবীদের চাকরি হচ্ছে না। তাদের বিরুদ্ধে কথা বললে গুম-খুন করা হচ্ছে। জামালপুরে একজন সাংবাদিককে হত্যা করা হয়েছে। কারণ তিনি আওয়ামী লীগের সত্য ঘটনা প্রকাশ করেছেন। আওয়ামী লীগ দিনের ভোট রাতেই করে। খালেদা জিয়ার মুক্তি ও সরকারের পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত কেউ ঘরে ফিরবো না মর্মে উপস্থিত সব নেতাকর্মীকে শপথবাক্য পাঠ করান টুকু।

স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসান বলেন, আমাদের তরুণ সমাবেশ ঘিরে সারাদেশে তরুণ প্রজন্মের মাঝে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। কোনো বাধা বিপত্তি তরুণদেরকে দমাতে পারেনি। ইনশাআল্লাহ তরুণ প্রজন্মের হাত ধরেই বর্তমান অবৈধ সরকারের পতন ঘটাবে।

স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি এস এম জিলানীর সভাপতিত্বে সমাবেশ পরিচালনা করেন যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম মিল্টন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহসান ও ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল।

আজ সোমবার বিকেলে বগুড়া শহরের সেন্ট্রাল হাইস্কুল মাঠে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের এই ‘তারুণ্যের সমাবেশ’ হয়। তরুণ সমাবেশে বক্তব্য দেন বিএনপির রাজশাহী বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, রংপুর বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব দুলু, বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা, যুবদল সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, সিনিয়র সহ-সভাপতি মামুন হাসান, স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হাসান, ছাত্রদলের সভাপতি কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ, বগুড়া জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নূরে আলম সিদ্দিকী রিগ্যান, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসান, জেলা যুবদলের সাবেক নেতা মাহফুজুর রহমান রিটন, জাহাঙ্গীর হোসেন, রাকিবুল ইসলাম শুভ প্রমুখ। এছাড়াও তরুণ সমাজের কয়েকজন প্রতিনিধি তথা চাকরি থেকে বঞ্চিত ছাত্র মওদুদ আহমেদ, এইচ এম ফজলে রাব্বি, জাতীয় ফুটবল দলের খেলোয়াড় মাকসুদুল আলম, গত তিনটি নির্বাচনে ভোট দিতে না পারা ফারজানা ইয়াসমিন তুলি, নির্বাচন কমিশন থেকে চাকরি হারানো উপজেলা নির্বাচনী অফিসার নাজমুল ইসলাম সুমন, বক্তব্য রাখেন।

মুশফিক উপহার পাচ্ছেন ১০ লাখ টাকা

বিসিবি থেকে ১০ লাখ টাকা উপহার পাচ্ছেন মুশফিকুর রহিম। মাঠের ক্রিকেটে দীর্ঘ দেড়যুগ ধরে অসামান্য অবদান রাখায় কৃতজ্ঞতা স্বরূপ মুশফিককে বিশেষ এই সম্মাননা দিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড।

২০০৫ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লর্ডস টেস্ট দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয় মুশফিকুর রহিমের। সময়ের আবর্তে মুশফিক এখন জাতীয় দলের ব্যাটিং ভরসার নাম। নামের সামে আছে ১৪ হাজারেরও বেশি রান। বাংলাদেশ দলের উত্থান-পতনের সঙ্গীও তিনি।

দেশের ক্রিকেটে তার অনস্বীকার্য অবদানের জন্য সম্মাননা স্বরূপ এই ক্রিকেটারকে ১০ লাখ টাকা দিয়েছেন বিসিবি সভাপতি। এর আগে বাংলাদেশের কোনো ক্রিকেটার এই সম্মাননা পাননি। ভবিষ্যতেও যে সহজে পাচ্ছেন না কেউ, তাও পরিষ্কার বলে দিয়েছেন পাপন।

সোমবার (১৯ জুন) একটি গণমাধ্যমের সাথে আলাপকালে নাজমুল হাসান বলেন,‘একদিন মুশফিক খেলা শেষ করে আমাকে বলছিল, আপনি আমাকে কোনোদিন কিছু দেননি। এটা শুনে আমিও চিন্তা করে দেখলাম আসলে ওকে তো আমি কোনোদিন আলাদা করে কিছু দেইনি। সে জন্য ওকে দেয়া হয়েছে।’

তবে সহসাই যে এমন মোটা অঙ্কের পুরস্কার কেউ যে পাচ্ছেন না তাও স্পষ্ট বিসিবি সভাপতির পরের মন্তব্যে। যেখানে তিনি বলেন,‘মুশফিককে দেয়া হয়েছে, কিন্তু এটা তো এখন মিডিয়াতে আসবে। তাহলে হয়ত সবাই চাইবে। তাই এবারই শেষ আর কাউকে দেবো না।’

তাছাড়া দেশের স্বার্থে প্রায়শই বিশ্বের বড় বড় লিগ থেকে আসা বিভিন্ন ফ্রাঞ্চাইজির মোটা অঙ্কের অফার পেয়েও দেশকে প্রাধান্য দেয়ায় ক্রিকেটারদের আর্থিক অনুদান দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিসিবি। যার পরিমাণ ৭০ লাখ ৫১ হাজার ২৮২ টাকা।

যদিও কবে নাগাদ তা দেয়া হবে এ নিয়ে নিশ্চিত কিছু জানা যায়নি। তবে এ প্রসঙ্গে গণমাধ্যমকে বোর্ড সভাপতি বলেন, ‘তামিম, সাকিব, মুশফিক, মাহমুদউল্লাহ, মাশরাফি এরা হচ্ছে বাংলাদেশের ক্রিকেটের প্রাণ। এর আগেও অনেকে ছিল, এখনো আছে। কিন্তু এদের একটা বিশেষ ব্যাপার আছে। তাই মনে হয়েছে ওদের জন্য কিছু করা উচিত।’