Home Blog Page 660

যে সিনেমা টানা ২৭ বছর ধরে হলে চলছে

ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে যে ছবিটি সিনেমা হলে একটানা প্রদর্শিত হয়েছে তার নাম দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে, সিনেমা-প্রেমীদের কাছে যা সংক্ষেপে ডিডিএলজে নামে পরিচিত।

বলিউড কাঁপানো এই ছবি মুক্তি পাওয়ার পর ২৭ বছর ধরে মুম্বাইয়ের একটি সিনেমা হলে প্রতিদিন সকালে প্রদর্শিত হয়েছে।

এই ছবিতে অভিনয় করে রাতারাতি সুপারস্টার হয়েছেন শাহরুখ খান, কাজল এবং পরিচালক আদিত্য চোপড়া।

হাসতে হাসতে কাজল বিবিসিকে বলেছেন, এই ছবি যে একদিন এত বড় ঘটনা হয়ে উঠবে এবং দর্শকদের কাছে এত বছর ধরে আদৃত হবে সে বিষয়ে তাদের কোনো ধারণা ছিল না।

‘আমরা কয়েকজন তরুণ-তরুণী মিলে শুধু একটা জনপ্রিয় ছবি তৈরি করতে চেয়েছিলাম। এটাই ছিল আমাদের জীবনের প্রধান লক্ষ্য। তবে ছবিটি নিয়ে পরে যা হয়েছে তা এক বিশাল ঘটনা! আমরা যা করেছি সেটা সত্যিই যাদুকরী এবং এর পুনরাবৃত্ত সম্ভব নয়,’ বলেন তিনি।

হিন্দি সিনেমার জগতে কাজল অত্যন্ত জনপ্রিয় এক তারকা। দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গের সাফল্যের পেছনেও তিনি ছিলেন অন্যতম।

ছবিতে ভারতের কিং খান শাহরুখের নায়িকা হিসেবে অভিনয় করেছেন কাজল।

‘কখনো বুঝতে পারিনি’

ডিডিএলজে মুক্তি পায় ১৯৯৫ সালের অক্টোবর মাসে।

এই সিনেমার প্রিমিয়ার হয়েছিল মুম্বায়ের মারাঠা মন্দির সিনেমা হলে। তার পর থেকেই ছবিটি সেখানে ২৭ বছর ধরে প্রতিদিন দেখানো হয়েছে। শুধু কোভিড মহামারির সময় এর প্রদর্শনী অল্প কিছু সময়ের জন্যে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।

এখনো সেই এতিহ্য অব্যাহত রয়েছে।

কাজল বলছেন, ‘ছবিটির জন্য আমরা যখন শুটিং করতে শুরু করলাম তারপরে কোনো একদিন এবং পরে যখন মুক্তি দেয়া হলো, আমরা কখনো ভাবিনি যে এটি এত বড় ঘটনা হয়ে উঠবে।’

‘ছবিটি তৈরির জন্য আমরা কৃতিত্ব দাবি করতে পারি। কিন্তু পরে এত জনপ্রিয় হয়ে ওঠা এবং এত দীর্ঘ সময় ধরে হলে দেখানো- আমি মনে করি এটা তাদের কারণেই সম্ভব হয়েছে যারা ছবিটিকে গ্রহণ করেছে, তাদের পরিবারের ঐতিহ্যের অংশ করে নিয়েছে, নিজেদের ছেলে-মেয়ে ও নাতি পুতিদের সিনেমাটি দেখিয়েছে, এমনকি বিয়ের প্রস্তাব দিতেও ছবিটিকে ব্যবহার করছে।’

ছবির কাহিনী

দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে ছবিতে দেখা যায়, ভারতীয় একদল তরুণ তরুণী ছুটিতে ইউরোপে বেড়াতে আসে। এসময় অপূর্ব এক নৈসর্গিক পরিবেশে সিমরান ও রাজ পরস্পরের প্রেমে পড়ে যায়।

সিমরান চরিত্রে কাজল এবং রাজের চরিত্রে অভিনয় করেছেন শাহরুখ খান।

সিমরানের বাবা যখন বুঝতে পারেন যে তার মেয়ে রাজের প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছে তখন তিনি তার পুরো পরিবার নিয়ে লন্ডন থেকে ভারতে চলে যান তার পছন্দের এক পাত্রের সাথে কন্যার বিয়ে দেয়ার জন্যে।

কিন্তু রাজ সিমরানকে এতটাই ভালোবেসে ফেলে যে সেও ভারতে চলে যায়।

পরে সিমরানকে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে নায়ক রাজ সিমরানের বাবা মায়ের মন জয় করার চেষ্টা করে।

‘দিন শেষে প্রত্যেক সন্তানই চায় তাদের পিতামাতা তাদের দিকে তাকিয়ে বলুক, তুমি বেশ ভালো করেছ, আমি তোমার সাথেই আছি। আমার মনে হয় এই বিষয়টাই সবাইকে নাড়া দিয়েছে এবং সবাই এর মধ্যে নিজেকে খুঁজে পেয়েছে,’ বলেন কাজল।

প্রতিদিন সকালে

ডিডিএলজে মুক্তি পাওয়ার পর প্রতিদিন সকাল সাড়ে ১১টায় মারাঠা মন্দির সিনেমা হলে ছবিটি দেখানো হতো। টিকেটের দাম ছিল মাত্র ৩০ রুপি।

সিনেমা হলের বাইরের দেয়াল ছিল উজ্জ্বল কমলা রঙের। সেখানে টাঙ্গানো বিশাল এক বিলবোর্ড যাতে শাহরুখ খান ও কাজলের ছবি।

এসআরকের পরনে সেই হার্লি ডেভিডসন চামড়ার জ্যাকেট। সিমরানকে সে তার কাঁধের উপরে তুলে নিয়েছে। বিলবোর্ডে লেখা- ‘আসুন, আবার প্রেমে পড়ুন।’

দর্শকরা যখন থিয়েটারের ভেতরে প্রবেশ করে, স্পিকার থেকে তাদের কানে ভেসে আসে এই ছবির জনপ্রিয় সব গান। হলের মাঝখানে একটি হিন্দু মন্দির। তার চারপাশ ঘিরে উজ্জ্বল হয়ে জ্বলছে লাল সবুজ বাতি।

‘সেখানে গেলে মনে হবে যে আপনি অতীতে ফিরে গেছেন। আসনগুলো একই রঙের। মঞ্চটাও একই ধরনের। সিনেমাটি মুক্তি পাওয়ার কুড়িতম বার্ষিকীতে আমরা দুজনেই মারাঠা মন্দিরে গিয়েছিলাম।’

‘ওই থিয়েটারে ফিরে যাওয়া দারুণ এক অনুভূতির জন্ম দিয়েছিল। সেখানে আমরা প্রথমবারের মতো সিনেমাটি দেখি এবং দেখতে দেখতে আমরা আমাদের অভিনয়ের সমালোচনা করি- এই কাজটা আমরা আরো ভালো করতে পারতাম, ওই কাজটা আরো ভালো হতে পারতো,’ বলেন কাজল।

কাজল বলেন, লোকজন এখনো সিনেমাটি দেখতে যাচ্ছে। দিনের পর দিন। বিশেষ করে মারাঠা মন্দিরে। সারা দেশ থেকেই লোকজন এখানে আসছে হলে বসে এই সিনেমা দেখতে।

এক দম্পতি দর্শকের কথা

এই ছবি দেখতে যেমন এসেছিলেন ভিজে এবং তার স্ত্রী প্রীতি।

তারা ৫৬০ কিলোমিটার দূর থেকে এসেছেন এই সিনেমা দেখতে। তাদের বিয়ের সপ্তম বার্ষিকী উপলক্ষে। একটা রোমান্টিক ছবি দেখার মাধ্যমে তারা তাদের বিবাহ বার্ষিকী উদযাপন করতে চেয়েছেন।

প্রীতি এই ছবিতে তার সবচেয়ে প্রিয় দৃশ্যটির কথা বর্ণনা করছিলেন। সেটি হচ্ছে বিখ্যাত সেই ট্রেনের দৃশ্য যখন সিমরানের পিতা তার মেয়েকে উদ্দেশ্য করে বলতে থাকেন- ‘সিমরান যাও, সিমরান যাও।’

কাজল একটা মজার ঘটনার কথা উল্লেখ করেন। তারা তখন জয়পুরে শুটিং করছিলেন।

‘আমরা যে হোটেলে উঠেছি তার একজন শেফ আমার কাছে এসে বললো- ম্যাম, আপনাকে একটা কথা আমার বলতেই হবে- আমি আমার স্ত্রীকে ডিডিএলজে দেখাতে ২৩বার সিনেমা হলে নিয়ে গেছি। এবং তার পরেই তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেই।’

‘আমার তখন মনে হলো, ও মাই গড, এটা তো একটা দারুণ ঘটনা। এই সিনেমা দেখতে যাওয়া নিয়ে লোকজনের নানা ধরনের গল্প আছে। এটা তাদের জীবনের অংশ হয়ে গেছে। মারাঠা মন্দিরে সিনেমাটি দেখতে গেলে দারুণ অনুভূতি হবে, মনে হবে আরে…আমি তো এটা দেখেছি, এটা তো সেই একই পপকর্ন, একই পোশাক এবং এটা তো গরুর সেই ঘণ্টাটা।’

গরুর এই ঘণ্টা সিমরান সুইজারল্যান্ড থেকে সুভ্যেনির হিসেবে সংগ্রহ করেছিল। মারাঠা মন্দিরে একটি কাঁচের বাক্সর ভেতরে ঘণ্টাটা রাখা এবং তার পাশেই রাখা সোনার এক ট্রফি।

আদিত্য চোপরার অভিষেক

বলিউড জগতে পরিচালক আদিত্য চোপরার অভিষেক হয় এই দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে ছবি নির্মাণের মধ্য দিয়ে। সে সময় তার বয়স ছিল মাত্র ২৩ বছর। এর আগে ১৮ বছর বয়স থেকেই তিনি তার বাবা বিখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা ইয়াশ চোপরার সহকারী হিসেবে কাজ করছিলেন।

কাজল বলেন, ‘নতুন পরিচালক আদির সাথে কাজ করা আমার জন্য খুব সহজ ছিল। কারণ তাকে আমি অনেক আগে থেকেই চিনতাম। আমরা আসলেই খুব ভালো বন্ধু। ফলে আমরা যখন কাজ শুরু করি কাজটা খুব স্বাভাবিকভাবেই এগিয়েছে।’

‘আমরা সবাই খুব আনন্দ করেছি। একজন আরেকজনকে নিয়ে মজা করেছি। আমার জন্য সবচেয়ে মজার ছিল ইউরো রেলে চড়া। আমরা সবাই বাসে করে সারা সুইজারল্যান্ডে ঘুরে বেড়িয়েছি। এই ছবির শুটিং করতে গিয়ে আমরা সবাই দারুণ সময় কাটিয়েছি,’ বলেন তিনি।

মজার অভিজ্ঞতা

‘কাপড় বদলাতে হবে। কৃষকের একটি গরুর শেডে গিয়ে আমাকে শাড়ি পরতে হয়েছিল। আমার পাশেই ছিল একটি গরু। আমি বিশ্বাস করতে পারছিলাম না যে আমি আসলেই সেখানে কাপড় বদলাচ্ছি। খুব দ্রুত শাড়ি পরে ফেললাম। বললাম আমি রেডি, শট দেয়ার জন্য আমি রেডি।’

এই ছবিতে কাজলসহ আরো অনেকেরেই বয়স ছিল কুড়ির ঘরে।

কাজল জানান, ইয়াশ চোপড়া এবং তার স্ত্রী শুটিংয়ের সময় তাদের ওপর সবসময় কড়া নজর রাখছিলেন। কারণ এই ছবির জন্য তিনি তার ছেলেকে সব অর্থ দিয়েছিলেন।

ডিডিএলজে ছবির গান, যেগুলোতে কাজল ঠোঁট মিলিয়েছেন, তাতে কণ্ঠ দিয়েছেন প্লে ব্যাক কুইন হিসেবে পরিচিত প্রয়াত লতা মঙ্গেশকার।

“এই ছবির সবগুলো গান আমার খুব প্রিয়। এই গানগুলো সর্বকালের। আজকের দিনেও এগুলো আমার প্রিয় গান। তার পরেও আমি বলব ‘মেন্দি লাগাকে রাখ না’ আমার সবচেয়ে প্রিয়।”

গানটি পরে ভারতে বিয়ের অনুষ্ঠানে খুবই পরিচিত একটি গান হয়ে উঠেছে।

ডিডিএলজে ১০টি ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ড জয় করেছে। এই ছবি দিয়েই রাতারাতি সুপারস্টার হয়ে ওঠেন কাজল, এসআরকে এবং আদিত্য চোপরা।

কাজল বলেন, ‘আমি আশা করব লোকজন এখনো এই ছবি উপভোগ করুক, দেখুক এবং তাদের পারিবারিক ঐতিহ্যের অংশ করে তুলুক। ছবিটির প্রতি তাদের ভালোবাসা অব্যাহত থাকুক।’

সারা বিশ্বে মুক্তিপ্রাপ্ত ডিডিএলজে সে সময় প্রায় দুই কোটি ডলার আয় করেছে, যা ছিল ১৯৯৫ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ছবিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ব্যবসা-সফল সিনেমা।

সূত্র : বিবিসি

রাশিয়ার ‘ব্যাপক’ ড্রোন হামলায় কিয়েভে একজন নিহত

ইউক্রেনের রাজধানীতে ‘ব্যাপক’ রাশিয়ান ড্রোন হামলার পর কিয়েভে একজন বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। শহরের মেয়র ভিটালি ক্লিটসকো রোববার এ কথা বলেছেন।

মেয়র এবং সাবেক বক্সার টেলিগ্রামে বলেছেন, ‘৩৫ বছর বয়সী এক মহিলাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং ৪১ বছর বয়সী এক লোক মারা গেছে।’ একটি পেট্রোল স্টেশনের কাছে ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ বিধ্বস্ত হয়েছে।

তিনি বলেন, কিয়েভের বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী শহরের দিকে যাওয়া ‘২০টিরও বেশি ড্রোন’ গুলি করে ভূপাতিত করেছে এবং শহরের বাসিন্দাদের অনুরোধ জানিয়ে বলেছেন, ‘আশ্রয়স্থলে থাকুন। আক্রমণটি ব্যাপক!’

তিনি বলেন, হলোসিভস্কি জেলার একটি কোম্পানির চত্বরেও আগুন লেগেছে। রুশ বাহিনী মে মাসজুড়ে কিয়েভকে টার্গেট করেছে।

স্থানীয় বেসামরিক ও সামরিক প্রশাসনের প্রধান সের্হি পপকো শুক্রবার বলেছেন, চলতি মাসে ১৩টি হামলা হয়েছে।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে, ইউক্রেন সীমান্তবর্তী অঞ্চলে রাশিয়ার ড্রোন হামলার রিপোর্টও বহুগুণ বেড়েছে।

শনিবার ওইসব এলাকায় গোলাবর্ষণে দু’জন নিহত হয়েছে বলে আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
ক্রেমলিনসহ ক্রমবর্ধমান সংখ্যক হামলা ও নাশকতা অভিযানের জন্য মস্কো কিয়েভ এবং তার পশ্চিমা সমর্থকদের দায়ী করেছে, তবে ইউক্রেন এ সব হামলায় জড়িত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেছে।
সূত্র : বাসস

ট্রেইলারেই বিতর্কের জন্ম দিলো ‘দ্য ডায়েরি অব ওয়েস্ট বেঙ্গল’

ভারতে ‘দ্য ডায়েরি অফ ওয়েস্ট বেঙ্গল’ নামে একটি হিন্দি সিনেমার ট্রেলার নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। কারণ সেখানে বলা হয়েছে, ‘অসংগঠিত হিন্দুদের কাছে পশ্চিমবঙ্গ এখন দ্বিতীয় কাশ্মীর হয়ে গেছে!’ আরো বলা হয়েছে, ‘সরকারি মদদে সেখানে রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশীদের বসবাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে।’

পশ্চিমবঙ্গের ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য এই সিনেমা তৈরি করা হয়েছে বলে ইতোমধ্যে কলকাতা পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ৩০ মে’র মধ্যে পরিচালক সানোজ মিশ্রকে কলকাতার আমহার্স্ট স্ট্রিট থানায় হাজির হতে বলা হয়েছে।

তবে ওই পরিচালকের দাবি, তিনি সত্য ঘটনা অবলম্বনে যথেষ্ট গবেষণা করেই সিনেমাটি বানাচ্ছেন।

ছবিটি প্রযোজনা করেছেন জিতেন্দ্র নারায়ণ সিং ত্যাগী, যিনি ২০২১ সালের ৬ ডিসেম্বর খুব ধূমধাম করে ইসলাম ধর্ম পরিবর্তন করে হিন্দু হয়েছেন।

তার ইসলামি নাম ছিল ওয়াসিম রিজভি। দীর্ঘ সময় তিনি উত্তরপ্রদেশের শিয়া সেন্ট্রাল ওয়াকফ বোর্ডের চেয়ারম্যান ছিলেন।

এক সময়ে তিনি সমাজবাদী পার্টির নেতা ছিলেন। তবে দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর থেকে তিনি বিজেপি ঘনিষ্ঠ।

সিনেমার ট্রেলারের শুরুর দিকে বলা হয়েছে, ‘গণতন্ত্রের অর্থ হলো জনগণের দ্বারা নির্বাচিত সরকার। কিন্তু এর একটা দ্বিতীয় দিকও আছে: জনমত যদি মুসলমানদের হয়, তাহলে সেখানে শরিয়তি আইন চলে।’

এর কিছুটা পরেই বলা হয়েছে, ‘একসময়ে যে পশ্চিমবঙ্গকে ভারতের ম্যাঞ্চেস্টার বলা হত, তা এখন গণতন্ত্রের ওই দ্বিতীয় পথেই হাঁটছে।’ যার অর্থ করা যেতেই পারে যে পশ্চিমবঙ্গে শরিয়তি আইন চলে।

‘সীমান্তবর্তী এলাকাগুলো পুরোপুরি হিন্দুহীন হয়ে গেছে এবং সেখান দিয়ে লাখ লাখ রোহিঙ্গা আর কট্টরপন্থী বাংলাদেশীরা ভারতে প্রবেশ করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ছে’, এমনটা বলা হয়েছে ওই সিনেমাটির ট্রেলারের নেপথ্য ভাষণে।

আবার আরেকটি দৃশ্যে দেখানো হয়েছে, এক অভিনেতাকে যিনি কোনো এক গুরুত্বপূর্ণ হিন্দুত্ববাদী নেতার চরিত্রে অভিনয় করছেন বলে স্পষ্টই মনে হচ্ছে। তার মুখ দিয়ে এরকম সংলাপ বলানো হয়েছে, ‘মমতার এই রোহিঙ্গাদের প্রতি প্রেম হিন্দুদের বাধ্য করছে ঘর ছেড়ে চলে যেতে।’

যদিও ছবিটির পরিচালক সানোজ মিশ্র সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে বলেছেন যে ছবিটি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর সম্বন্ধে নয়।

ওই একই অভিনেতার আরেকটি দৃশ্যে তাকে এক নারীর সামনে বসে থাকতে দেখা যাচ্ছে আর তাকে দিয়ে এরকম সংলাপ বলানো হয়েছে যে ‘আপনি মেয়েকে নিয়ে দ্রুত ওখান থেকে বেরিয়ে যান। পশ্চিমবঙ্গে এখন কাশ্মীরের থেকেও খারাপ পরিস্থিতি।’

ট্রেলার শুরুর আগে লেখা হয়েছে যে সিনেমাটিতে দেখানো প্রতিটা ঘটনা এবং তথ্য সত্য ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত।

পুলিশের তলব পরিচালককে
দুই মিনিট ১২ সেকেন্ড দীর্ঘ ট্রেলারটি মাসখানেক আগে ইউটিউবে দেয়া হয়েছে। কিন্তু কলকাতা পুলিশের কাছে এক ব্যক্তি ওই সিনেমার পরিচালক-প্রযোজকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করায় বিষয়টি জানাজানি হয়েছে।

ছবিটির পরিচালক সানোজ মিশ্র বলিউডে খুব পরিচিত নাম নয়।

তিনি সংবাদ সংস্থা এএনআইকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে বলেছেন, ‘আমাদের ছবিটার ভিত্তিই হলো তোষণের রাজনীতি। যে রাজনীতির ফলে ভোট ব্যাঙ্কের জন্য যা কিছু দরকার সেসবই করা হয় ওখানে। প্রতিটা ঘটনাই সত্য, গবেষণা করেই ছবিটা বানিয়েছি আমি। সব তথ্য আমার কাছে রাখা আছে।’

‘১১ মে আমার বিরুদ্ধে এফআইআর করা হয়। এরকম সব ধারা দেয়া হয়েছে, যেন আমি একজন বড় ক্রিমিনাল।’

কলকাতায় পুলিশের সামনে এলে তাকে গ্রেফতার করে জেলে পাঠানো হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন মিশ্র।

জেলে গেলে সেখান থেকে হয়তো তিনি নাও ফিরে আসতে পারেন, এমন মন্তব্যও করেছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তিনি।

হিন্দুরা কি সত্যিই পশ্চিমবঙ্গ ছেড়ে পালাচ্ছে?
সিনেমার ট্রেলারে যেমনভাবে বলা হয়েছে যে পশ্চিমবঙ্গ দ্বিতীয় কাশ্মীর হয়ে গেছে, সেখান থেকে হিন্দুরা পালিয়ে যাচ্ছে, রোহিঙ্গা আর ‘কট্টরপন্থী বাংলাদেশী’দের সরকারী সহায়তায় বসবাসের ব্যবস্থা করা হচ্ছে, সীমান্ত অঞ্চল পুরোপুরি হিন্দু শূন্য হয়ে গেছে বা হিন্দু উৎসব বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে– এর সঙ্গে বাস্তবের কোনো মিল খুঁজে পাওয়া যায় না।

লেখক ও প্রাবন্ধিক রন্তিদেব সেনগুপ্ত বলছিলেন, এটা সম্পূর্ণভাবেই একটা প্রচারমূলক ছবি।

তার কথায়, ‘হিন্দুরা যদি পশ্চিমবঙ্গে এতটাই অসুরক্ষিত থাকত, তাদের এখান থেকে বিতারণ করা হয়, তাহলে প্রতিবছর হাজার হাজার রামনবমীর মিছিল কী করে করছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ বা বজরং দল? কিভাবে হিন্দুরা তলোয়ারসহ নানা অস্ত্র নিয়ে মিছিল করছে এই রাজ্যে?

‘ওই উদগ্র মিছিলগুলো দেখলেই বোঝা যায় যে হিন্দুরা এখানে অসুরক্ষিত নয়, যেমনটা ওই সিনেমার ট্রেলারে বলা হয়েছে,’ বলেন সেনগুপ্ত।

তিনি আরো বলেন, ‘ট্রেলারে দেখলাম বলা হয়েছে যে এখানে নাকি দুর্গা পুজাঢ বাধা দেয়া হচ্ছে। সারা রাজ্যে যত দুর্গা পুজা হয়, তত সংখ্যায় উত্তরপ্রদেশ বা গুজরাত বা মহারাষ্ট্রে কোনো ধর্মীয় উৎসব হয় না। এখানকার দুর্গা পুজো ইউনেস্কোর হেরিটেজ তকমা পেয়েছে। এধরনের ছবি সামাজিক হিংসা ছড়াতে পারে। নিষিদ্ধ করা উচিত এসব সিনেমা। মতপ্রকাশের স্বাধীনতার নাম করে জাতিগত দাঙ্গা বাধিয়ে দেয়ার অধিকার কারো নেই।’

সিনেমার ছাড়পত্র এখনো নেই, তবুও বিদ্বেষমূলক ট্রেলার?
সিনেমাটির পরিচালক সানোজ মিশ্র বলছেন যে তার ছবির ৬০ শতাংশ শুটিংয়ের কাজ শেষ হয়েছে। তাই সেটি এখনো কেন্দ্রীয় ফিল্ম সেন্সর বোর্ডের ছাড়পত্র পাওয়ার পর্যায়ে যায়নি।

সবকিছু ঠিকঠাক চললে আগামী মাসে সেন্সর বোর্ডে ছবিটি যেতে পারে বলে তার আশা।

তবে সিনেমার ট্রেলারের জন্য তিনি বেছে নিয়েছেন একটি ওটিটি প্ল্যাটফর্ম। পুলিশ ওই প্ল্যাটফর্মের মালিককেও ডেকে পাঠিয়েছে।

সানোজ মিশ্র বলছেন, ‘ওটিটি প্ল্যাটফর্মে ট্রেলার প্রকাশের জন্য কোনো অনুমতির প্রয়োজন হয় না। কত মৌলানাদের উস্কানিমূলক ভাষণের ভিডিও-তো পাওয়া যায় অনলাইনে। কই তাদের বিরুদ্ধে তো এই পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেয় না!’

২০২৪ এর নির্বাচনকে মাথায় রেখেই এই ছবির পরিকল্পনা?
তৃণমূল কংগ্রেস ছবিটি নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছে।

দলের অন্যতম মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী বলছেন, ‘ছবির পরিচালক গবেষণা করে পাওয়া তথ্যের কথা বলছেন। কিন্তু এখন তো হোয়াটসঅ্যাপ ইউনিভার্সিটির গবেষণাটাই বেশি চলে!’

ভারতে হিন্দুত্ববাদী ‘ইকো সিস্টেম’ হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে বিকৃত তথ্য ছড়িয়ে দেয়, এই অভিযোগ করে সেই ব্যবস্থাকেই ‘হোয়াটস্অ্যাপ ইউনিভার্সিটির তথ্য’ বলে ব্যঙ্গ করে থাকে বিরোধীরা।

অরূপ চক্রবর্তী আরো বলছিলেন, ‘একটা জনপ্রিয় বাংলা কবিতার লাইন মনে পড়ছে, যখনই জনতা চায় বস্ত্র ও খাদ্য, সীমান্তে বেজে ওঠে যুদ্ধের বাদ্য। আসলে ভারতের মানুষ সিনেমা তো দেখছেন সেই ২০১৪ সাল থেকেই।
সবথেকে প্রান্তিক মানুষরা, যাদের ভরসা কেরোসিন তেল, তার দাম ১৪ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১০০ টাকারও বেশি। প্রান্তিক মানুষের না আছে খাদ্য, না আছে বস্ত্র, না আছে কর্মসংস্থান। তাই যত লোকসভা নির্বাচন এগিয়ে আসবে, ততই মানুষের দৃষ্টি অর্থনৈতিক বিষয়গুলো থেকে ঘুরিয়ে দেয়ার চেষ্টা হবে।’

বিজেপি যদিও বলছে যে তারা এই ছবির নির্মাণের সাথে কোনোভাবেই যুক্ত নয়। তবে দলের পক্ষ থেকে মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্য এটাও বলছেন যে বিভিন্ন সন্ত্রাসী কাজের সাথে পশ্চিমবঙ্গের নাম জড়িয়ে গেছে।

এখান থেকে জঙ্গি ধরা পড়েছে। সেটা কতটা সত্য, কতটা আংশিক সত্য, তা নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে। কিন্তু সিনেমাটিকে নিষিদ্ধ করে দেয়ার প্রসঙ্গ চরম অগণতান্ত্রিক এবং স্বৈরতান্ত্রিক মানসিকতার প্রকাশ।

বিজেপি একথা বললেও ইউটিউব এবং টুইটারে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, তাহলে গুজরাত দাঙ্গা নিয়ে বিবিসির তথ্যচিত্রটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল কেন?

সূত্র : বিবিসি

ভারতের নতুন সংসদ ভবনের আকৃতিকে কফিনের সাথে তুলনা

ভারতে আজ নতুন সংসদ ভবনের উদ্বোধন করেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এরই মধ্যে একটি ছবির ডান দিকে নতুন সংসদ ভবন, বাঁ দিকে একটি কফিনের ছবি দিয়ে বিতর্ক উস্কে দিয়েছে ভারতের লালুপ্রসাদ যাদবের দল আরজেডি (ন্যাশনাল পিপলস পার্টি)।

ভারতের নতুন সংসদ ভবনের উদ্বোধন নিয়ে বিতর্ক চলছিলই, তার মধ্যেই সংসদ ভবনকে কফিনের সাথে তুলনা করে সেই বিতর্কে ঘি ঢাললেন আরজেডি নেতা লালুপ্রসাদ। ঘটনাচক্রে, নতুন সংসদ ভবনের উদ্বোধন বয়কট করেছে ২০টি দল। তাদের মধ্যে রয়েছে আরজেডিও। দলগুলোর প্রশ্ন, কেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নতুন সংসদ ভবন উদ্বোধন করবেন?

বোরবার সকালেই আরজেডির পক্ষে একটি টুইট করা হয়। ওই টুইটের সাথে ছবিটি জুড়ে দেয়া হয়েছে। ছবির ক্যাপশনে লেখা হয়েছে, এটা কি?’

এদিকে আরজেডিওর আরেক নেতা শক্তি সিংহ বলেন, গণতন্ত্রকে কবর দেয়া হচ্ছে সেটা বুঝাতেই টুইটে কফিনের ছবি দেয়া হয়েছে। দেশ এই সংসদ ভবনকে মেনে নেবে না। সংসদ হলো গণতন্ত্রের প্রতীক এবং আলোচনার কেন্দ্রস্থান। সেই সংসদ ভবনকে এমন আদল দেয়া হয়েছে, তা দেখতে ঠিক কফিনের মতোই লাগছে।

আরজেডির এই টুইটের পরই কড়া জবাব দিয়েছে বিজেপিও। সুশিল মোদি পাল্টা টুইট করে হুঁশিয়ারি দেন, যারা নতুন সংসদ ভবনকে কফিনের সাথে তুলনা করছেন, তাদের বিরুদ্ধে বিশ্বাসঘাতকতার মামলা দায়ের করা হবে। কফিন প্রসঙ্গে বিজেপি মুখপাত্র গৌরব ভাটিয়া আবার এক ধাপ এগিয়ে বলেন, ’২০২৪ সালে দেশের মানুষ আপনাদের ওই কফিনেই কবর দেবে।’
সূত্র : আনন্দবাজার

সরকারের পতন না হওয়া পর্যন্ত লড়াই চলবে : মান্না

সরকারের পতন না হওয়া পর্যন্ত লড়াই চলবে জানিয়ে গণতন্ত্র মঞ্চের নেতা ও নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, যতদিন পর্যন্ত আমাদের যে দাবি- এই নির্বাচন ব্যবস্থা, গণতন্ত্রের ব্যবস্থা, রাষ্ট্র ব্যবস্থা, সংবিধান পরিবর্তন করে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে না পারবো ততদিন পর্যন্ত আমাদের লড়াই অব্যাহত থাকবে। আমরা অন্য কারো সাথে হাত মিলিয়ে আপস করে সমঝোতা করার চেষ্টা করছি না। আমরা এই লড়াই চালাবো এবং বিশ্বাস করি, এই লড়াইয়ে আমরা জিতব।

রোববার (২৮ মে) দুপুরে রাজধানীর মালিবাগ রেলগেটে গণতন্ত্র মঞ্চের ঢাকা উত্তরের পদযাত্রা পূর্ব বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সংক্ষিপ্ত সমাবেশের পর পদযাত্রাটি মালিবাগ থেকে শুরু হয়ে বাড্ডা গিয়ে শেষ হয়।

মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, বুঝা যাচ্ছে আজকে বাংলাদেশের মান বিশ্বের বুকে লুণ্ঠিত। আমেরিকা আমাদের স্যাংশন দেয়নি, কিন্তু বলেছে তোমরা ভোট চুরি করো। তোমরা মানুষকে কথা বলতে দাও না, মত প্রকাশ করতে দাও না, নির্যাতন করো। এই সমস্ত কাজ সামনে নির্বাচনে যদি করা হয় তাহলে তাদেরকে আমরা আর ভিসা দেবো না। এটা শুধু রাজনৈতিক নেতাদের জন্য নয়। পুলিশ বলেন, র‌্যাব বলেন, আর্মি বলেন সকলের ব্যাপারে এই কথা বলা হয়েছে।

সরকারের উদ্দেশে গণতন্ত্র মঞ্চের এই নেতা বলেন, আপনি বিদ্যুৎ উৎসব করেছেন, উন্নয়নের কথা বলেন অথচ পায়রা কেন্দ্র বন্ধ হতে চলেছে। একটি-দুটি লাইন বন্ধ, কয়লা নেই, কয়লা আনতে পারেন না, কয়লার টাকা দিতে পারেন না। টাকা নেই, ডলার নেই জিনিসপত্রের দাম বাড়ে, কিন্তু দাম কমাতে পারেন না। সারা দুনিয়াতে দাম কমে কিন্তু বাংলাদেশ সরকার দাম কমাতে পারে না। এরকম ব্যর্থ, লুটেরা সরকারকে আমরা চাই না।

মান্না বলেন, আমরা আন্দোলন শুরু করেছি আন্দোলন থামাচ্ছি না। আমরা বহুবার বলেছি, কোনো ভয়ের কাছে মাথানত করবো না। কোনো লোভের কাছে আত্মসমর্পণ করি না। কোনো জেল-জুলুমকে ভয় পাই না। যদি ভয় পেতাম তাহলে আজকে এই নেতা এভাবে আপনাদের সামনে দাঁড়াতেন না।

বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হকের সভাপতিত্বে এ সময় জেএসডির সহ-সভাপতি তানিয়া রব, ভাসানী অনুসারী পরিষদের সভাপতি শেখ রফিকুল ইসলাম, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের হাসনাত কাউয়ুম, নাগরিক ঐক্যের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল্লাহ্ কায়সার প্রমুখ বক্তব্য দেন।

এরদোগানের আরো ৫ বছর, না কি ক্ষমতার বদল

তুরস্কে রজব তাইয়েব এরদোগানের ২০ বছরের ক্ষমতার দৌড় আরো দীর্ঘায়িত হবে কি না, তা নির্ধারিত হবে আজ দ্বিতীয় দফা ভোটে।

তার প্রতিদ্বন্দ্বী কেমাল কিলিচদারুলু, যিনি বেশ কয়েকটি বিরোধী দলের জোটের সমর্থনপুষ্ট, এই ভোটকে তুরস্কের ভবিষ্যতের নির্ধারক বলে মন্তব্য করেছেন।

এখনো পর্যন্ত এই নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট এরদোগানই ফেভারিট, মানে এগিয়ে আছেন বলে মনে হচ্ছে। তার সমর্থকদের ‘নতুন যুগ’এর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ২০ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা বতর্মান প্রেসিডেন্ট।

তবে এ দফায়ও নির্বাচনের আগে সবচেয়ে বেশি আলোচনার বিষয় মূল্যস্ফীতি ও জীবন যাপনের ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টি।

রোববার স্থানীয় সময় সকাল ৮টা (বাংলাদেশ সময় সকাল ১০টা) থেকে ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে, যা চলবে স্থানীয় সময় বিকাল ৫টা পর্যন্ত। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থাকা তুর্কি নাগরিকদের ভোট নেয়া এরই মধ্যে শেষ হয়েছে।

নির্বাচনের প্রথম ধাপে বিপুল সংখ্যক ভোটার ভোট দিয়েছিলেন, যা শতকরা হিসেবে মোট ভোটারের ৮৮.৮ শতাংশ।

দুই প্রার্থীর নজরই এবার ৮০ লাখ ভোটারের দিকে, যারা আগেরবার ভোট দেননি কিন্তু এবার ভোট দিতে পারেন।

দ্বিতীয় ধাপের ভোটের আগে কিলিচদারুলু তার প্রতিদ্বন্দ্বীর বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ এনেছেন।

তার অভিযোগ, ভোটারদের কাছে তার পাঠানো টেক্সট মেসেজ ব্লক করা হয়েছে আর এরদোগানের পাঠানো টেক্সট মেসেজ স্বাভাবিকভাবেই পৌঁছেছে।

কোনো জায়গায় যেন ভোট জালিয়াতি না হয়, তা নিশ্চিত করতে বিরোধী জোট রীতিমতো স্বেচ্ছাসেবকদের বাহিনী মাঠে নামিয়েছে।

আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, প্রথম ধাপের নির্বাচনে এরদোগান তার প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে বেশি সুবিধা পেয়েছেন।

তবে কিছুটা সুবিধা পেলেও তা ভোটিংয়ের ফলাফল পরিবর্তনে কোনো ভূমিকা রেখেছে বলে তারা দাবি করছেন না।

প্রচারণার শেষ দিনে বিরোধী জোটের নেতা কিলিচদারুলু বেশ অভিনব ধরনের প্রেসিডেন্সির প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

তিনি বলেন, আমার প্রাসাদে থাকার কোনো ইচ্ছা নেই। আমি আপনাদের মতো সাধারণভাবে থাকতে চাই…আর আপনাদের সমস্যা সমাধান করতে চাই।

এই মন্তব্য আসলে এরদোগানের বর্তমান বাসভবনকে কটাক্ষ করেই করা হয়েছে।

২০১৪ সালে এরদোগান যখন প্রধানমন্ত্রী থেকে প্রেসিডেন্ট হন, তখন আঙ্কারার ঠিক বাইরে বিশাল এক প্রাসাদে তার বাসভবন স্থানান্তর করেন।

তুরস্কের মানুষের মতামত এই মুহূর্তে দুই মেরুতে রয়েছে। প্রেসিডেন্ট এরদোগান তার ধর্মীয়ভাবে রক্ষণশীল ও জাতীয়তাবাদী সমর্থকদের ওপর নির্ভরশীল।

অন্যদিকে, বিরোধী নেতা কিলিচদারুলুর সমর্থকরা মূলত ধর্ম নিরপেক্ষ- তবে তাদের মধ্যে অনেক জাতীয়তাবাদী মনোভাবের সমর্থকও রয়েছেন।

দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনের আগে টানা কয়েক দিন ধরে দুই ব্যক্তিই একে অপরকে খোঁচা দিয়ে মন্তব্য করেছেন।

কিলিচদারুলু প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন যে তিনি ভীতু, তাই নিরপেক্ষ নির্বাচন থেকে দূরে পালাচ্ছেন।

অন্যদিকে, এরদোগান তার প্রতিদ্বন্দ্বীর সাথে কুর্দি বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সম্পর্ক রয়েছে উল্লেখ করে তাকে ‘সন্ত্রাসবাদী’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।

তবে এমন অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ থাকলেও শেষ পর্যন্ত নির্বাচনকে ঘিরে প্রধান ইস্যু ছিল জিনিসপত্রের লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধি। তুরস্কে মূল্যস্ফীতির হার উঠেছে ৪৪ শতাংশে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এরদোগানের সুদের হার কমানোর নীতি পরিস্থিতিকে আরো খারাপ করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে তুরস্কের মুদ্রা লিরার দর ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি পরিমাণ কমেছে এবং বিদেশী মুদ্রার চাহিদা বেড়েছে।

সেই সাথে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিদেশী মুদ্রার রিজার্ভ ২০০২ সালের পর থেকে প্রথমবার নেতিবাচক হয়েছে। এরদোগানের সময়কালে অর্থনীতির এই অবস্থা হওয়ার কারণে অনেকেই তার প্রশাসনের ওপর ক্ষুব্ধ।

কিন্তু এই জনসংখ্যারই একটা বড় অংশ আবার এরদোগানের ওপরই আস্থা রাখছেন। অনেকেই মনে করেন বিরোধী জোটের সাথে সন্ত্রাসবাদীদের সম্পর্ক রয়েছে, যেমনটা এরদোগান অভিযোগ করেছেন।

তবে তুরস্কের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিরোধী দল এইচডিডি পার্টি সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠী পিকেকে’র সাথে কোনো ধরনের সম্পর্ক থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেছে।

এই বিরোধী জোটেরই প্রধান দলের সাথে সন্ত্রাসবাদীদের সম্পর্ক রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

তবে, রোববারের নির্বাচনে যে দল বা জোটই জিতুক, তুরস্কের সংসদের দখল এরই মধ্যে এরদোগানের ইসলামপন্থী একে পার্টি এবং দক্ষিণপন্থী এমএইচপি পার্টির কাছে রয়েছে।

প্রথম ধাপের ভোটে এরদোগানের জোট ৪৯ দিশমিক ৫ শতাংশ ভোট পেয়েছিল। যদিও বিরোধী জোটের সাথে তার ভোটের ব্যবধান ছিল খুবই কম।

কিলিচদারুলু প্রথম ধাপে ভোট পেয়েছিলেন ৪৪ দশমিক ৯ শতাংশ, অর্থাৎ এরদোগানের সাথে তার ব্যবধান ছিল খুবই কম।

কিলিচদারুলুর প্রতি সমর্থন রয়েছে ছয়-দলীয় বিরোধী জোটের। তুর্কি জনগণকে তিনি আশার বাণী শুনিয়েছেন এবং স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

এরদোগান আবার নির্বাচিত হলে একটি নতুন ‘তুর্কি শতকের’ প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। তার সমর্থকরা বলছেন, তিনি আরো উন্নয়ন, আরো শক্তিশালী এক তুরস্ক উপহার দেবেন।
সূত্র : বিবিসি

নির্বাচনে যারা বাধা দেবে তাদের প্রতিহত করব : কাদের

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতির বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, তারা বলেছে নির্বাচনে বাধা দিলে ভিসা নয়। আমাদেরও কথা এটা, এই নির্বাচনে যারা বাধা দেবে তাদের অবশ্যই প্রতিহত করব।

বৃহস্পতিবার (২৫ মে) জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৪তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে তার সমাধিতে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, স্পষ্ট করে আমরা একটা বলতে চাই, যারা আন্দোলনের নামে নির্বাচনকে সামনে রেখে বাসে আগুন দেয়, বাস ভাঙচুর করে, তারা পলিটিক্যাল ভায়োলেন্সে আছে। কাজেই তাদের খবর আছে।

তিনি বলেন, আমরা একটা কথা বারবার বলে আসছি। আমরা আগামী জাতীয় নির্বাচন শান্তিপূর্ণ পরিবেশে, অবাধ সুষ্ঠুভাবে করব। একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনে নির্বাচন কমিশনকে আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করব।

কবি নজরুলের চেতনা সম্পর্কে সেতুমন্ত্রী বলেন, কবি কাজী নজরুল ইসলামের অসাম্প্রদায়িক মানবতাবাদী চেতনায় আমরা উজ্জীবিত হতে চাই। আজ অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশে গড়ে তোলার পথে অন্তরায় সৃষ্টিকারী সাম্প্রদায়িক বিশ্বাস, সাম্প্রদায়িকতার বিষবৃক্ষ এখনো বাংলাদেশে শাখা প্রশাখা বিস্তার করে আছে। আজকের এই দিনে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গঠন করব।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, এস এম কামাল হোসেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সবুর, দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়াসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।

ফিলিস্তিনে ইসরাইলের হামলা : গুলিবিদ্ধ ১৩, গ্রেফতার ১৪

ফিলিস্তিনে ইসরাইলি সেনাবাহিনীর হামলায় ১৩ ফিলিস্তিনি গুলিবিদ্ধ হয়েছে। গ্রেফতার হয়েছে আরো ১৪ জন। আজ বৃহস্পতিবার আরিহার আকাবায়ে জাবের ক্যাম্পে এ অভিযান চালানো হয়। কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরাইলি সেনাবাহিনী ভারী অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আকাবায়ে জাবের ক্যাম্পে হামলা চালায়। এ সময় তারা ক্যাম্পের প্রবেশপথ নিয়ন্ত্রণে নিয়ে মাটির ঢিবি দিয়ে বন্ধ করে দেয়। নাগরিকদের ক্যাম্প থেকে বের হতে দেয়নি। বাইরে থেকে মানবাধিকারকর্মীদেরকেও প্রবেশের অনুমতি দেয়নি।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, এরপর তারা অন্তত ৫০টি ঘরে তল্লাশি চালায়। এ সময় তারা আরিহার গভর্নরের বাসভবনও বাদ রাখেনি। তারা স্থানীয় সিসি ক্যামেরাগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেয়। সেখান থেকে ধারণকৃত অনেক ভিডিও ডিলেট করে দেয়।

ফিলিস্তিনি সংবাদমাধ্যম ওয়াফা প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে বর্ণনা করেছে, ইসরাইলি সেনাবাহিনী ক্যাম্পে প্রবেশ করে নাগরিকদের উদ্দেশ করে গুলি ও বিষাক্ত গ্যাস নিক্ষেপ করতে শুরু করে। এতে ১৩ ফিলিস্তিনি গুলিবিদ্ধ হন। তাদের একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, এ পর্যন্ত ক্যাম্পটিতে কয়েকবার অভিযান চালানো হয়েছে। এতে বেশ কয়েকজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরো অনেক।

জাতিসঙ্ঘে ফিলিস্তিনি প্রতিনিধি রিয়াজ মানসুর ইসরাইলী আগ্রাসন বন্ধে যাবতীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে। এ পর্যন্ত তিনি সংস্থাটির মহাসচিত অ্যান্তনি গুতরেস, নিরাপত্তা পরিষদ সভাপতি ও সাধারণ পরিষদ সভাপতি বরাবর তিনটি চিঠি লিখেছেন।

এসব চিঠিতে তিনি ইসরাইলিদের অভিবাসন তৎপরতা ও বেসামরিক নাগরিকদের জোরপূর্বক উচ্ছেদসহ পূর্ণ পরিস্থিতি অবহিত করেছেন। তুলে ধরেছেন আন্তর্জাতিক নীতি ভঙ্গন করে কিভাবে ইসরাইল আকসা মসজিদের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করেছে।

তিনি উল্লেখ করেন, ইসরাইলের চরমপন্থী মন্ত্রী ইতিমার বিন গাফির গত রোববার ইসরাইলি পুলিশের কঠোর নিরাপত্তায় আকসা মসজিদে অনুপ্রবেশ করেন। এরপর থেকেই সেখানে পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে থাকে।

এ সময় তিনি অধিকৃত ফিলিস্তিন ও আকসা মসজিদে ইসরাইলের যেকোনো পদক্ষেপ প্রত্যাখ্যানের দাবি জানিয়ে নিরাপত্তা পরিষদকে বিবৃত দেয়ার অনুরোধ জানান। একইসাথে ইসরাইলকে আন্তর্জাতিক আইন ও আকসা মসজিদের ঐতিহাসিক সম্মান রক্ষার প্রতি আহ্বান জানান।

সূত্র : ওয়াফা/আল জাজিরা মুবাশ্বির ও অন্যান্য

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নীতি নিয়ে যা বললেন আমীর খসরু

বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বাংলাদেশের নির্বাচনকে সামনে রেখে যে উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা তার প্রতিফলন হিসেবে এগুলো হচ্ছে। অন্যদের বা অন্য দেশের নির্বাচনগুলো নিয়ে এত উদ্বেগ ও আলোচনা হচ্ছে না। আমাদের প্রতিবেশী চার পাঁচটি দেশের নির্বাচনে নিয়ে তো আলোচনা হচ্ছে না। এই স্টেটমেন্টটা কিন্তু শুধু বাংলাদেশের জন্য দেয়া হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে গুলশান বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

আমীর খসরু বলেন, বাংলাদেশের মানুষ তাদের জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করতে পারবে কিনা- এই শঙ্কা থেকেই তো বিষয়গুলো উঠে আসছে। এবং তার মধ্যে এটা একটা পদক্ষেপ। যেটা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আসছে। সেটা হচ্ছে, আগামী দিনে এ দেশের জনগণ নির্বাচনে ভোট দিতে পারবে কিনা? নাকি তারা আবারো বঞ্চিত হবে ভোট থেকে?

তিনি বলেন, এই স্টেটমেন্টটা তারা (যুক্তরাষ্ট্র) কিন্তু শুধু বাংলাদেশের জন্য দিয়েছে। শুধুমাত্র বাংলাদেশের সংগঠনগুলোকে ও ব্যক্তিবর্গ, যারা নির্বাচনকে বাঞ্চল করার জন্য, ভোট কেন্দ্র দখল করার জন্য, ভোট চুরির মাধ্যমে নির্বাচনে জয়ী হওয়ার সাথে সরাসরি জড়িত থাকবে তাদের এড্রেস করা হয়েছে। এখানে সংবাদ মাধ্যমের কথা বলেছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কথা বলেছে, রাজনৈতিক ব্যক্তির কথা বলেছে, সরকারি কর্মকর্তাদের কথা বলেছে, যারা নির্বাচনের ভোট চুরি সাথে সরাসরি অথবা ইনডাইরেক্টলি জড়িত থাকবে- এটা তাদের জন্য। তাদের ভিসা বাতিল হবে এবং আমেরিকাতে তাদের কোনো ভিসা দেয়া হবে না। বিষয়টা নির্বাচনের দিন শুধু ভোট চুরির জন্য নয় কিন্তু। এখনো ভোট চুরি চলছে। প্রতিনিয়ত মিথ্যা মামলা, গ্রেফতার, হয়রানি এগুলোও তো ভোট চুরি। গুলি করে হত্যা করাটাও তো ভোট চুরি। তারা (যুক্তরাষ্ট্র) জিনিসটাকে ওইভাবেও এড্রেস করেছে। আগামী নির্বাচনে সম্পৃক্ততা জড়িত যে সংগঠন, ব্যক্তি হিসেবে সবাইকে এড্রেস করেছে। এটা ইঙ্গিত দিয়েছে যারা যারা জড়িত থাকবে। যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, তারা এখন থেকে বিষয়টা এপ্লাই করেছে।

এটা আপনাদের সফলতা কি না এমন প্রশ্নে খসরু বলেন, এখানে আমাদের সফলতা বলতে কিছু নেই। বাংলাদেশের মানুষ যেদিন ভোট দিতে পারবে। ভোট দিয়ে তাদের জনপ্রতিনিধি ও তাদের সরকার নির্বাচিত করতে পারবে। সেটা হবে বাংলাদেশের মানুষের সফলতা। সেই উদ্দেশ্যে অনেকগুলো পদক্ষেপের মধ্যে এটা হয়ত একটা ভালো পদক্ষেপ। এবং দেশবাসী এটাকে সাদরে গ্রহণ করেছে। এদের মাধ্যমে তারা আশা করছে, যারা ভোট চুরি সম্পৃক্ত থাকে সেটা আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতে হোক, বিচার বিভাগে হোক, মিডিয়াতে বা গণমাধ্যমে হোক, সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে হোক সকলের প্রতি একটা পরিষ্কার বার্তা। এর থেকে পরিষ্কার বার্তা কিন্তু আর হতে পারে না। তারা নাম ধরে ধরে বলছে।

তিনি বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন বাংলাদেশের মানুষকে অর্জন করতে হবে। এটা আমাদের মুক্তির দাবি। আগামী দিনে বাংলাদেশের গণতন্ত্র থাকবে কি না? মানবাধিকার থাকবে কি না? গণমাধ্যমে স্বাধীনতা, জীবনের নিরাপত্তা, মুক্তির সংগ্রামের পথে এটা একটা পদক্ষেপ। অনেকগুলো পদক্ষেপ দিতে হবে, যাতে তারা আগামীতে ভোট চুরি করে জোর করে ক্ষমতায় না থাকতে পারে।

তিনি আরো বলেন, আগামী নির্বাচনে যারা ভোট চুরি করবে বা নির্দেশ দেবে, শুধু তারাই নয়। তার পরিবারের সদস্যরাও কিন্তু এ ভিসা থেকে বঞ্চিত হবে। এবং বাতিল করা হবে।

আমীর খসরু বলেন, যেহেতু এই মুহূর্তে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশ নেই। নির্বাচন তো পরের কথা। নির্বাচনের পরিবেশ থাকতে হবে লেবেল প্লেয়িং করতে হবে। মানবাধিকার, আইনের শাসন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা থাকতে হবে। আমাদের জনসভায়, রেলিতে মানববন্ধনে বাধা দেয়ার কারণেই তো এই প্রশ্নগুলো আসছে বার বার। যেহেতু এই মুহূর্তে বাংলাদেশের জনগণ তাদের কথা বলতে পারছে না। বাক স্বাধীনতা নেই। জীবনে নিরাপত্তা নেই। আইনের শাসন নেই। সভা মিছিল করতে পারছে না। আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকার ভয়ভীতি পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। ভোটের আগে থেকে ভোট শুরুর প্রক্রিয়া চলতেছে। ভোট চুরি অলরেডি বাংলাদেশে চলছে।

বাংলাদেশে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের এমন সিদ্ধান্তে সরকার উদ্বিগ্ন নয়, ক্ষমতাসীনদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে- এ ব্যাপারে জানতে চাইলে খসরু বলেন, ভালো কথা। আইনের শাসন, বাক স্বাধীনতা, ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে। উদ্বিগ্ন হতে হবে, উদ্বিগ্ন নয় বললে তো আর হবে না।

খসরু মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের এমন পদক্ষেপ আগামী দিনের নির্বাচনে সহায়ক পদক্ষেপ হিসেবে ভূমিকা পালন করবে। কিন্তু এটা একটা সিগনাল, একটা বার্তা।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শ্যামা ওবায়েদ, মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান।

মামুনুল হক ৫ মামলায় জামিন পেলেন

রাজধানীর পল্টন ও চট্টগ্রামের হাটহাজারী থানায় দায়ের করা নাশকতার পাঁচ মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়েছেন হেফাজতে ইসলামের সাবেক যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক।
আজ বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি আমিনুল ইসলামের হাইকোর্ট বেঞ্চ তার জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন।

মামনুল হকের আইনজীবী অ্যাডভোকেট হেলাল উদ্দিন মোল্লা এ তথ্য জানিয়েছেন।

আদালতে জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট হেলাল উদ্দিন মোল্লা। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শাহীন আহমেদ খান।

উল্লেখ্য, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের প্রতিবাদকে ঘিরে আন্দোলনের জেরে ২০২১ সালের ২৬ মার্চ বায়তুল মোকাররমে সংঘর্ষ হয়। ওই ঘটনার জেরে চট্টগ্রামের হাটহাজারী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সহিংসতায় কমপক্ষে ১৭ জনের মৃত্যু হয়। এসব ঘটনায় ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে মামুনুল হকের বিরুদ্ধে তিন ডজন মামলা হয়।

একই বছরের ৩ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও রয়েল রিসোর্টে এক নারীর সাথে অবস্থান করায় স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মামুনুল হককে ঘেরাও করেন। পরে হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা এসে রিসোর্টে ভাঙচুর চালিয়ে তাকে নিয়ে যান। ৩০ এপ্রিল সোনারগাঁ থানায় মামুনুল হকের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা করেন তার সাথে থাকা ওই নারী। কিন্তু মামুনুল হকের দাবি, ওই নারী তার দ্বিতীয় স্ত্রী।